
Prabhasa Kshetra Mahatmya
This section is centered on Prabhāsa-kṣetra, a coastal pilgrimage region in western India traditionally associated with Somnātha/Someśvara worship and a dense network of tīrthas. The text treats the landscape as a ritual field where travel (yātrā), bathing, and recitation function analogously to Vedic rites, while also embedding the site in a broader purāṇic memory-map through genealogies of teachers and narrators.
366 chapters to explore.

प्रभासक्षेत्रमाहात्म्ये प्रस्तावना (Prologue: Invocation, Authority, and Eligibility)
এই অধ্যায়ে প্রভাসখণ্ডের কথার প্রেক্ষাপট ও প্রামাণ্য-পরম্পরা স্থাপিত হয়। পুরাণার্থের মূল জ্ঞাতা ও আচার্য হিসেবে ব্যাসের উল্লেখ আছে। নৈমিষারণ্যের ঋষিগণ সূত (রোমহর্ষণ)-কে প্রভাসক্ষেত্র-মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে অনুরোধ করেন; পূর্বপ্রচলিত ব্রাহ্মী-যাত্রার কথা স্মরণ করে তাঁরা বিশেষভাবে বৈষ্ণবী ও রৌদ্রী যাত্রার বিবরণ চান। আরম্ভে সোমেশ্বরের স্তব, চৈতন্য-স্বরূপ (চিন্মাত্র)কে নমস্কার, এবং অমৃত- বিষের বৈপরীত্যে রক্ষার ভাব প্রকাশ পায়। এরপর সূত হরিকে ওঙ্কার-স্বরূপ, পরম ও সর্বব্যাপী বলে স্তব করেন এবং আসন্ন কথাকে সুসংবদ্ধ, অলংকৃত ও পবিত্রকারী বলে বর্ণনা করেন। নৈতিক নির্দেশ দেওয়া হয়—নাস্তিককে এই উপদেশ দেওয়া উচিত নয়; শ্রদ্ধাবান, শান্ত ও যোগ্য অধিকারীদের জন্যই পাঠ। ব্রাহ্মণ-অধিকারকে সংস্কার, নিত্যকর্ম ও সদাচারের যোগ্যতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। শেষে কৈলাসে শিব থেকে শুরু করে পরম্পরায় সূত পর্যন্ত বাণীর সংক্রমণ-শৃঙ্খল বলা হয়, যাতে এই অংশের প্রামাণ্যতা ও ঐতিহ্য-রক্ষণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

Purāṇa-lakṣaṇa, Purāṇa-anuक्रम, and Upapurāṇa Enumeration (पुराणलक्षण–पुराणानुक्रम–उपपुराणनिर्देश)
এই অধ্যায়ে ঋষিগণ কাথা/বৃত্তান্ত-প্রবচনের বিচার-মানদণ্ড জানতে চান—তার লক্ষণ, গুণ-দোষ এবং কীভাবে প্রামাণ্য রচনা নির্ণয় করা যায়। সূত বলেন—বেদ ও পুরাণের আদ্য উদ্ভব, প্রাচীনকালে পুরাণ-সাহিত্যের বিপুল বিস্তার, এবং পরবর্তীকালে ব্যাসদেব কর্তৃক সংক্ষেপ ও অষ্টাদশ মহাপুরাণে বিভাজনের কথা। এরপর মহাপুরাণ ও উপপুরাণের নাম-তালিকা দেওয়া হয়; বহু ক্ষেত্রে আনুমানিক শ্লোকসংখ্যা এবং দান-সংক্রান্ত বিধানও যুক্ত থাকে—গ্রন্থলিপি করা, দান করা ও সংশ্লিষ্ট আচারসহ পুণ্যলাভের নির্দেশ। পুরাণের প্রসিদ্ধ পঞ্চলক্ষণ (সর্গ, প্রতিসর্গ, বংশ, মন্বন্তর, বংশানুচরিত) ব্যাখ্যা করা হয়; গুণভেদে সাত্ত্বিক-রাজস-তামস শ্রেণিবিভাগ এবং তদনুসারে দেবতা-প্রাধান্যও উল্লেখিত। শেষে ইতি্হাস–পুরাণ পরম্পরাকে বেদার্থের স্থিতিশীল সহায় বলা হয় এবং স্কন্দপুরাণের অন্তর্গত সপ্তবিভাগে প্রাভাসিক খণ্ডের অবস্থান নির্দিষ্ট করে, স্থানভিত্তিক পবিত্র ভূগোলের আলোচনার ভূমিকা রচিত হয়।

तीर्थविस्तरप्रश्नः प्रभासरहस्यप्रकाशश्च (Inquiry into the Spread of Tīrthas and the Revelation of Prabhāsa’s Secret)
এই অধ্যায়ে ঋষিগণ পূর্ববর্তী সৃষ্টিতত্ত্বের আলোচনার পর সূতকে তীর্থসমূহের সুশৃঙ্খল বিবরণ দিতে অনুরোধ করেন। সূত কৈলাসে সংঘটিত এক প্রাচীন সংলাপ স্মরণ করান—যেখানে দেবী মহাদিব্য সভা দর্শন করে শিবের দীর্ঘ স্তোত্রে প্রশংসা করেন। শিব উত্তরে শিব-শক্তির পরম অভেদ ঘোষণা করে এক বিস্তৃত তাদাত্ম্য-বচনমালা উচ্চারণ করেন—যজ্ঞকর্ম, বিশ্বকার্য, কালপরিমাপ ও প্রকৃতিশক্তিতে উভয়ের পারস্পরিক ব্যাপ্তি প্রকাশ করেন। এরপর দেবী কলিযুগে ক্লিষ্ট জীবদের জন্য ব্যবহারিক উপদেশ চান—এমন এক তীর্থ, যার দর্শনে সকল তীর্থের ফল লাভ হয়। শিব ভারতের প্রধান তীর্থগুলির নাম করে শেষে প্রভাসকে গূঢ় ও সর্বোচ্চ ক্ষেত্ররূপে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নীতিবচনে জানান—কপট, হিংস্র বা নাস্তিক যাত্রী প্রতিশ্রুত ফল পায় না; ক্ষেত্রের মহিমা ইচ্ছাকৃতভাবে রক্ষিত। শেষে সোমেশ্বর লিঙ্গের প্রকাশ, তার সৃষ্টিতত্ত্বগত ভূমিকা এবং ইচ্ছা-জ্ঞান-ক্রিয়া—এই তিন শক্তির জগত্কার্যার্থ উদ্ভব বর্ণিত হয়; শ্রদ্ধায় শ্রবণকারীদের পবিত্রতা ও স্বর্গলাভের ফলশ্রুতি ঘোষিত।

प्रभासक्षेत्रप्रमाण-त्रिविधविभाग-श्रीसोमेश्वरमाहात्म्य (Prabhāsa: Measurements, Threefold Division, and the Somēśvara Discourse)
এই অধ্যায়ে দেবী প্রভাস-তীর্থের সর্বোচ্চ মাহাত্ম্য এবং সেখানে সম্পাদিত কর্ম কেন অক্ষয় পুণ্য দেয়—তা বিস্তারে জানতে চান। ঈশ্বর বলেন, প্রভাস তাঁর অতি প্রিয় ক্ষেত্র, যেখানে তিনি সদা বিরাজমান; তাই সেখানে ভক্তিভরে দান, তপ, জপ ও যজ্ঞ করলে তার ফল কখনও ক্ষয় হয় না। এরপর প্রভাসের ত্রিস্তরীয় বিন্যাস ব্যাখ্যা করা হয়—ক্ষেত্র, পীঠ ও গর্ভগৃহ; স্তরভেদে ফল ক্রমে বৃদ্ধি পায়। সীমানা ও দিকচিহ্ন, অন্তর্গত রুদ্র-বিষ্ণু-ব্রহ্মা বিভাজন, তীর্থসংখ্যা এবং রৌদ্রী, বৈষ্ণবী, ব্রাহ্মী যাত্রার বিধান বলা হয়েছে; এগুলি ইচ্ছাশক্তি, ক্রিয়াশক্তি ও জ্ঞানশক্তির সঙ্গে যুক্ত। পরে সোমেশ্বর ও কালভৈরব/কালাগ্নিরুদ্রের রক্ষাকর্ম, শুদ্ধির যুক্তি এবং শতারুদ্রীয়কে আদর্শ শৈব লিটুর্জি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিনায়ক, দণ্ডপাণি ও গণাদি রক্ষকদের উল্লেখ এবং তীর্থযাত্রার শিষ্টাচার—দ্বারদেবতার পূজা, ঘৃত-কম্বল প্রভৃতি অর্ঘ্য, ও বিশেষ তিথির রাত্রিতে নির্দিষ্ট আচার—বর্ণিত হয়েছে।

प्रभासक्षेत्रस्य अतिविशेषमहिमा — The Supreme Eminence of Prabhāsa-kṣetra
এই অধ্যায়ে সূতের ভূমিকার পর দেবী প্রভাসক্ষেত্রের মহিমা বিস্তারে জানতে চান। ঈশ্বর প্রভাসকে নিজের প্রিয় ক্ষেত্র বলে ঘোষণা করে বলেন—এটি যোগী ও বৈরাগ্যবানদের পরম গতি; যে এখানে দেহত্যাগ করে, সে শিবলোক লাভ করে। এরপর মার্কণ্ডেয়, দুর্বাসা, ভরদ্বাজ, বসিষ্ঠ, কশ্যপ, নারদ, বিশ্বামিত্র প্রমুখ ঋষিদের উল্লেখ আছে—তাঁরা ক্ষেত্র ত্যাগ করেন না এবং নিরন্তর লিঙ্গপূজা করেন। অগ্নিতীর্থ, রুদ্রেশ্বর, কম্পর্দীশ, রত্নেশ্বর, অর্কস্থল, সিদ্ধেশ্বর, মার্কণ্ডেয়-স্থান ও সরস্বতী/ব্রহ্মকুণ্ডে জপ-উপাসনায় রত বৃহৎ সমাবেশের সংখ্যা-সহ বর্ণনা করে সাধনার ঘনত্ব ও পবিত্রতা প্রকাশ করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বলা হয়—চন্দ্রশেখর প্রভুর দর্শনে বেদান্তে প্রশংসিত সমগ্র ফল লাভ হয়; স্নান ও পূজায় যজ্ঞফল মেলে; পিণ্ড-শ্রাদ্ধে পিতৃউদ্ধার বহুগুণ বৃদ্ধি পায়; এমনকি জলের সামান্য স্পর্শও পুণ্যদায়ক। বিভ্রম ও সম্ভ্রম নামে গণ, বিনায়ক-ধর্মী উপসর্গ এবং ‘দশ দোষ’ উল্লেখ করে বাধা নিবারণে দণ্ডপাণির ভক্তিপূর্বক দর্শন নির্দেশিত। শেষে সকল বর্ণের কামী-নিষ্কামী যে কেউ প্রভাসে মৃত্যুবরণ করলে শিবের দিব্যধাম প্রাপ্ত হয়—এ কথা বলে মহাদেবের গুণের অনির্বচনীয়তা প্রতিপাদিত।

सोमेश्वरलिङ्गस्य परमार्थवर्णनम् (Theological Description of the Someshvara Liṅga at Prabhāsa)
এই অধ্যায়ে দেবী পূর্বোক্ত কাহিনির অসাধারণতা স্বীকার করে জিজ্ঞাসা করেন—অন্যান্য বিশ্বখ্যাত লিঙ্গের তুলনায় সোমেশ্বরের ফলদায়ক শক্তি কেন শ্রেষ্ঠ, এবং প্রভাস-ক্ষেত্রের বিশেষ মাহাত্ম্য কী। ঈশ্বর উত্তর দেন—এ উপদেশ পরম ‘রহস্য’; তীর্থ, ব্রত, জপ, ধ্যান ও যোগ—সব কিছুর মধ্যে প্রভাস-মাহাত্ম্য সর্বোচ্চ। এরপর সোমেশ্বর-লিঙ্গের পরমার্থ-রূপ বর্ণিত হয়—তিনি ধ্রুব, অক্ষয়, অব্যয়; ভয়, কলুষ, পরাধীনতা ও ধারণা-বিস্তারের ঊর্ধ্বে; সাধারণ প্রশংসা ও বাক্যের অতীত। তবু সাধকের উপলব্ধির জন্য তিনি জ্ঞান-প্রদীপের ন্যায় প্রকাশিত; প্রণব/শব্দ-ব্রহ্মের তত্ত্ব, হৃদয়-পদ্ম ও দ্বাদশান্তের অন্তঃস্থিতি, এবং ‘কেবল’, ‘দ্বৈত-রহিত’ অদ্বৈত লক্ষণ একত্রে গাঁথা। বেদসদৃশ উক্তিতে ‘অন্ধকারের পরের মহান পুরুষ’কে জানার কথা ইঙ্গিত করা হয়, এবং বলা হয়—সহস্র বছরেও সোমেশ্বরের পূর্ণ মহিমা অবর্ণনীয়। ফলশ্রুতিতে যে কোনো বর্ণের মানুষ পাঠ/শ্রবণ করলে পাপমুক্ত হয়ে ইষ্টসিদ্ধি লাভ করে।

सोमेश्वरनाम-प्रभाव-वर्णनम् | Someshvara: Names Across Kalpas, Boon of Soma, and the Sacred Topography of Prabhāsa
এই অধ্যায়ে দেবী পূর্বের স্তব শুনে শঙ্করকে জিজ্ঞাসা করেন—“সোমেশ্বর/সোমনাথ” নামের উৎপত্তি কী, নামটি কীভাবে স্থির থাকে, আর কেন কল্পে কল্পে নামের রূপান্তর ঘটে। তিনি লিঙ্গের পূর্বতন ও ভবিষ্যৎ নামও জানতে চান। ঈশ্বর উত্তর দেন যে ব্রহ্মার যুগচক্রে লিঙ্গ বিভিন্ন ব্রহ্মা-পর্বে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত হয়; তিনি ধারাবাহিকভাবে সেই নামপরম্পরা বলেন এবং বর্তমান নাম “সোমনাথ/সোমেশ্বর” ও ভবিষ্যৎ নাম “প্রাণনাথ” নির্দেশ করেন। দেবীর স্মৃতিভ্রংশকে তিনি বহু কল্পে পুনঃপুন অবতারগ্রহণ ও প্রকৃতির কার্য-নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত রূপপরিবর্তনের ফল বলে ব্যাখ্যা করেন, এবং নানা কল্পে দেবীর নাম-রূপের বিবরণ দেন। এরপর সোম/চন্দ্রের তপস্যা ও এক উগ্র উপাধিতে চিহ্নিত লিঙ্গের পূজার কাহিনি দিয়ে “সোমনাথ” নামের স্থায়ী খ্যাতি প্রতিষ্ঠিত হয়—বর হয় যে ব্রহ্মা-চক্র জুড়ে পরবর্তী সকল চন্দ্রাধিকারীর মধ্যে এই নাম প্রসিদ্ধ থাকবে। তারপর প্রভাসক্ষেত্রের পরিমাপ, কেন্দ্রীয় পবিত্র পরিসর, দিকনির্দেশিত সীমানা এবং সমুদ্রের নিকটে লিঙ্গের অবস্থান মানচিত্রের মতো করে বর্ণিত হয়। পবিত্র বৃত্তে দেহত্যাগকারীদের মুক্তিফল, ক্ষেত্রের মধ্যে পাপাচার থেকে কঠোর বিরত থাকার উপদেশ, এবং গুরুতর অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে বিঘ্ননায়কের রক্ষাব্যবস্থা বলা হয়েছে। শেষে সোমেশ্বরলিঙ্গের অনন্য প্রিয়তা, তীর্থ-লিঙ্গসমাগমস্থল হওয়া, এবং ভক্তি-স্মরণ-নিয়মিত জপে মুক্তিদানকারী মহিমা পুনরায় স্তবিত হয়।

श्रीसोमेश्वरैश्वर्यवर्णनम् (Description of the Sovereign Powers of Śrī Someśvara)
এই অধ্যায়ে দেবী–ঈশ্বর সংলাপ। দেবী সোমেশ্বরের পুনরায় পবিত্রীকরণকারী মহিমা এবং ব্রহ্মা–বিষ্ণু–ঈশ ত্রয়ী-তত্ত্বের ব্যাখ্যা জানতে চান। ঈশ্বর বলেন, প্রভাসে অবস্থিত সোমেশ্বর-লিঙ্গকে কেন্দ্র করে অলৌকিক ঘটনা ঘটে—অগণিত তপস্বী ঋষি লিঙ্গে প্রবেশ করে তাতে লীন হয়েছেন, এবং সেখান থেকেই সিদ্ধি, বৃদ্ধি, তুষ্টি, ঋদ্ধি, পুষ্টি, কীর্তি, শান্তি, লক্ষ্মী প্রভৃতি কল্যাণশক্তি ব্যক্ত হয়ে উদ্ভূত হয়। এরপর মন্ত্রসিদ্ধি, যোগ-রসায়ন ও ঔষধি-রস, গরুড়বিদ্যা, ভূততন্ত্র, খেচরী/অন্তরী প্রভৃতি বিশেষ সাধনা-পরম্পরাকে এই তীর্থের বিকিরণরূপে বর্ণনা করা হয়। যুগে যুগে প্রভাসের সোমেশ্বরে সিদ্ধিলাভকারী সিদ্ধগণের (পাশুপত-সম্পর্কিত সাধকসহ) নাম উল্লেখ করা হয়; এবং বলা হয়, অশুভ কর্মের কারণে সাধারণ মানুষ এই স্থানের মূল্য বুঝতে পারে না। গ্রহদোষ, ভূত-প্রেতাদি উপদ্রব ও নানা রোগ—এসব সোমেশ্বর-দর্শনে প্রশমিত হয় বলে বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হয়েছে। শেষে সোমেশ্বরকে ‘পশ্চিমো ভৈরব’ ও ‘কালাগ্নিরুদ্র’ ইত্যাদি নামে অভিন্ন করে বলা হয়—তাঁর মাহাত্ম্য ‘সর্বপাপক-নাশক’, অর্থাৎ তীর্থতত্ত্বে সর্বাঙ্গীণ পাপক্ষয়ের উপদেশ।

मुण्डमालारहस्यं तथा प्रभासक्षेत्रतत्त्वनिर्णयः (The Secret of the Skull-Garland and the Tattva-Doctrine of Prabhāsa)
এই অধ্যায়ে দেবী প্রভাসক্ষেত্রে শঙ্করকে সোমেশ্বর নামে প্রণাম করে কালাগ্নি-কেন্দ্রিক দিব্য রূপের স্মরণ করেন। তিনি এক তাত্ত্বিক সংশয় তোলেন—যিনি অনাদি এবং প্রলয়াতীত, সেই প্রভু কীভাবে মুণ্ডমালাধারী হন? ঈশ্বর উত্তর দেন, অনন্ত কল্পচক্রে অসংখ্য ব্রহ্মা ও বিষ্ণু জন্ম নিয়ে লয়প্রাপ্ত হন; মুণ্ডমালা বারংবার সৃষ্টিলয়-চক্রের উপর প্রভুত্বের চিহ্ন। এরপর প্রভাসে শিবের শান্ত, জ্যোতির্ময়, আদিমধ্যান্ত-অতীত মূর্তির বর্ণনা—বামে বিষ্ণু, ডানে ব্রহ্মা, অন্তরে বেদ, আর চোখরূপে বিশ্বলোকের দীপ্তি; এতে দেবীর সংশয় নিবারিত হয় এবং তিনি দীর্ঘ স্তব করেন। পরে দেবী প্রভাসের মহিমা আরও শুনতে চান এবং প্রশ্ন করেন—বিষ্ণু কেন দ্বারকা ত্যাগ করে প্রভাসেই দেহত্যাগ করেন? তিনি বিষ্ণুর বিশ্বকার্য, অবতারধর্ম ও নিয়তি নিয়ে বহু প্রশ্ন উত্থাপন করেন। সূত প্রসঙ্গ স্থাপন করেন, আর ঈশ্বর ‘রহস্য’ প্রকাশ করেন—প্রভাস অন্য তীর্থের তুলনায় ফলদানে শ্রেষ্ঠ; এখানে ব্রহ্ম-তত্ত্ব, বিষ্ণু-তত্ত্ব ও রৌদ্র-তত্ত্বের অনন্য সংযোগ। ২৪/২৫/৩৬ তত্ত্বসংখ্যা ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শিবের সান্নিধ্যের সঙ্গে যুক্ত করে বলা হয়েছে। শেষে ফলশ্রুতিতে বলা হয়, প্রভাসে মৃত্যু সকল বর্ণ-আশ্রম ও সকল যোনির প্রাণীকেও—এমনকি গুরুতর পাপভারাক্রান্তদেরও—উচ্চ গতি ও পরিশুদ্ধি দান করে।

तत्त्वतीर्थ-निरूपणम् (Mapping of Tattva-Tīrthas and the Sanctity of Prabhāsa)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে উপদেশ দিতে দিতে তত্ত্ববিদ্যাকে তীর্থযাত্রার মানচিত্রে রূপ দেন। পৃথিবী, জল, তেজ, বায়ু ও আকাশ—এই তত্ত্বক্ষেত্রগুলির অধিষ্ঠাতা হিসেবে যথাক্রমে ব্রহ্মা, জনার্দন, রুদ্র, ঈশ্বর ও সদাশিবের কথা বলা হয়েছে; এবং বলা হয়েছে, প্রতিটি তত্ত্বক্ষেত্রে অবস্থিত তীর্থে সেই দেবতার সান্নিধ্য বিরাজ করে। পরে জল, তেজ, বায়ু ও আকাশ-সংলগ্ন তীর্থসমূহকে দলবদ্ধভাবে (বিশেষত অষ্টক-রূপে) গণনা করা হয় এবং সিদ্ধান্তরূপে জলতত্ত্বকে নারায়ণের অতি প্রিয় বলে, তাঁকে ‘জলশায়ী’ নামে স্মরণ করা হয়। এরপর ভল্লুকা-তীর্থের কথা আসে—এটি সূক্ষ্ম, শাস্ত্র না জানলে চেনা কঠিন, কিন্তু কেবল দর্শনেই বহু লিঙ্গপূজার সমান ফল দেয় বলে বর্ণিত। মাসিক আচরণ, অষ্টমী-চতুর্দশী, গ্রহণকাল ও কার্ত্তিকী প্রভৃতি সময়ে প্রভাসের লিঙ্গগুলির বিশেষ পূজাবিধান বলা হয়েছে; এবং সরস্বতী-সমুদ্র সঙ্গমে বহু তীর্থের মিলনও বর্ণিত। অধ্যায়ে বিভিন্ন কল্পে ক্ষেত্রের নানা নামের দীর্ঘ তালিকা দেওয়া হয়েছে এবং নানা আকার-পরিমাপের অসংখ্য উপক্ষেত্রের প্রাচুর্য দেখানো হয়েছে। শেষে প্রলয়ের পরেও প্রভাসক্ষেত্রের স্থায়ী পবিত্রতা পুনরুক্ত হয়; শ্রবণ-পাঠকে পাপশোধক বলা হয় এবং এই ‘রৌদ্র’ দিব্য কাহিনি শুনলে উত্তম পরলোকগতি লাভ হয়—এমন ফলশ্রুতি ঘোষিত।

प्रभासक्षेत्रनिर्णयः — Cosmography of Bhārata and the Etiology of Prabhāsa
এই অধ্যায়ে দেবীর প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তত্ত্বব্যাখ্যা প্রসারিত হয়। আনন্দিত হয়েও জিজ্ঞাসু দেবী প্রভাস-ক্ষেত্রের বিস্তৃত বিবরণ চান। ঈশ্বর প্রথমে জম্বুদ্বীপ ও ভারতবর্ষের পরিমাপ ও সীমা বর্ণনা করে ভারতকে প্রধান কর্মভূমি বলেন, যেখানে পুণ্য-পাপের ফল কার্যত প্রকাশ পায়। এরপর কূর্ম-রূপক ধরে ভারতের ‘দেহে’ নক্ষত্রগুচ্ছ, রাশিস্থান ও গ্রহাধিপত্য স্থাপন করে দেখান—গ্রহ/নক্ষত্রের পীড়া হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলেও পীড়া দেখা দেয়, আর শান্তির জন্য তীর্থকর্ম ও তীর্থসেবাই উপায়। এই মানচিত্রিত ভূখণ্ডে সৌরাষ্ট্রের অবস্থান নির্দিষ্ট করে সমুদ্রসন্নিহিত প্রভাসকে বিশেষ অংশ বলা হয়েছে, যেখানে মধ্য পীঠিকায় ঈশ্বর লিঙ্গরূপে অধিষ্ঠান করেন—কৈলাসের চেয়েও প্রিয় এবং গোপনে রক্ষিত। “প্রভাস” নামের নানা ব্যুৎপত্তি দেওয়া হয়—প্রভা/আলোক, জ্যোতি ও তীর্থের মধ্যে প্রধানতা, সূর্যসন্নিধি, এবং পুনরুদ্ধারিত দীপ্তি। পরে দেবী বর্তমান কল্পে এর উৎপত্তিকথা জানতে চান। ঈশ্বর সূর্যের বিবাহ (দ্যৌঃ/প্রভা ও পৃথিবী/নিক্ষুভা), সংজ্ঞার অসহ্য তেজে কষ্ট, ছায়ার প্রতিস্থাপন, যম-যমুনা প্রভৃতির জন্ম, সত্য প্রকাশে সূর্যের অবগত হওয়া, এবং বিশ্বকর্মার দ্বারা সূর্যতেজের ক্ষৌর/শমন বর্ণনা করেন। শেষে বলা হয়—সূর্যের ঋক্ময় তেজের এক অংশ প্রভাসে পতিত হয়; তাই এই ক্ষেত্রের অতুল পবিত্রতা ও নামের যুক্তি প্রতিষ্ঠিত।

Yameśvarotpatti-varṇanam (Origin Account of Yameśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর শব্দব্যুৎপত্তি ও তীর্থ-প্রমাণ্য একত্রে ব্যাখ্যা করেন। প্রথমে ‘রাজা/রাণী’ এবং ‘ছায়া’ শব্দের ধাতু-নির্ভর অর্থ বিশ্লেষণ করে দেখানো হয় যে নাম ও পরিচয়ও ধর্মতত্ত্বের তাৎপর্য বহন করে। পরে বর্তমান মনুকে বংশপরম্পরার প্রেক্ষিতে স্থাপন করে শঙ্খ-চক্র-গদাধারী বৈষ্ণব-লক্ষণযুক্ত এক পুরুষের উল্লেখ আসে, আর যমকে ‘হীন-পাদ’ দোষে আক্রান্ত বলে দেখিয়ে তার প্রতিকারার্থে সাধনার প্রয়োজন তুলে ধরা হয়। যম প্রভাসক্ষেত্রে গিয়ে দীর্ঘকাল তপস্যা করেন এবং অতি দীর্ঘ সময় ধরে লিঙ্গের পূজা করেন। তাতে প্রসন্ন হয়ে ঈশ্বর বহু বর দান করেন এবং সেই স্থানের স্থায়ী নাম স্থাপন করেন—‘যমেশ্বর’। শেষে ফলশ্রুতিতে বলা হয়, যম-দ্বিতীয়ার দিনে যমেশ্বর দর্শনে যমলোক দর্শন/অনুভব নিবারিত হয়; প্রভাস তীর্থযাত্রায় এই তিথির মুক্তিদায়ক গুরুত্ব এভাবেই ঘোষিত হয়।

Arka-sthala-prādurbhāva and Prabhāsa-kṣetra-tejas (Origin of Arkāsthala and the Radiant Sanctification of Prabhāsa)
এই অধ্যায়ে দেবী–ঈশ্বর সংলাপ। দেবী জিজ্ঞাসা করেন—শাকদ্বীপে গমনরত সূর্য কীভাবে ক্ষুরধারার ন্যায় এক ‘কর্তন’-ঘটনার শিকার হলেন এবং প্রভাসে পতিত বিপুল তেজের পরিণতি কী। ঈশ্বর ‘উত্তম সূর্য-মাহাত্ম্য’ বর্ণনা করেন, যার শ্রবণে পাপক্ষয় হয়। বলা হয়, সূর্যের আদ্য তেজাংশ প্রভাসে পতিত হয়ে স্থলাকার ধারণ করে—প্রথমে জাম্বূনদ (সোনালি) বর্ণ, পরে মাহাত্ম্যবলে পর্বতসদৃশ; এবং জীবকল্যাণে সেখানে সূর্য অর্করূপ প্রতিমায় প্রকাশিত হন। যুগভেদে নাম নির্দিষ্ট—কৃতে হিরণ্যগর্ভ, ত্রেতায় সূর্য, দ্বাপরে সবিতা, কলিতে অর্কস্থল; অবতরণকাল স্বারোচিষ (দ্বিতীয়) মনুর যুগ। তেজ-রেণুর বিস্তারে ক্ষেত্রসীমা, যোজনামাপ, নদী ও সমুদ্রসহ সীমারেখা বর্ণিত হয়; বৃহত্তর সূক্ষ্ম তেজোমণ্ডল পৃথকভাবে নির্দেশিত। ঈশ্বর বলেন, তাঁর নিবাস এই তেজোমণ্ডলের কেন্দ্রে, চক্ষুর মণির ন্যায়; সূর্যতেজে তাঁর গৃহ দীপ্ত হওয়ায়ই নাম ‘প্রভাস’। ফলশ্রুতিতে—অর্করূপ সূর্যদর্শনে পাপনাশ ও সূর্যলোকে উৎকর্ষ; এমন তীর্থযাত্রী যেন সর্বতীর্থস্নান, মহাযজ্ঞ ও দান সম্পন্ন করেছে। নীতিনিয়মে বলা—অর্কপাতায় ভোজন নিন্দিত, মহাঅশৌচফলদায়ী; তাই বর্জনীয়। অর্কভাস্করের প্রথম দর্শনে বিদ্বান ব্রাহ্মণকে মহিষদান, তাম্রবর্ণ/লাল বস্ত্রের উল্লেখ ও নিকটবর্তী অগ্নিকোণের প্রসঙ্গ আছে। শেষে সিদ্ধেশ্বর লিঙ্গ (কলিতে প্রসিদ্ধ, পূর্বে জৈগীষব্যেশ্বর) দর্শনে সিদ্ধিলাভের কথা। নিকটে ভূগর্ভস্থ দ্বার—যেখানে সূর্যতেজে রাক্ষস দগ্ধ হয়েছিল; কলিতে তা যোগিনী ও মাতৃদেবীগণ রক্ষিত ‘দ্বার’ রূপে থাকে। মাঘ কৃষ্ণ চতুর্দশীর রাত্রে বলি, পুষ্প, উপহার দিয়ে পূজা করলে সিদ্ধি হয়। উপসংহারে—এই উপদেশ শ্রবণ ও আচরণকারী দেহান্তে সূর্যলোকে গমন করে।

जैगीषव्यतपः–सिद्धेश्वरलिङ्गमाहात्म्य (Jaigīṣavya’s Austerities and the Glory of the Siddheśvara Liṅga)
এই অধ্যায়ে দেবী–ঈশ্বর সংলাপের মাধ্যমে প্রভাসক্ষেত্রের সূর্য-সম্পর্কিত পবিত্রতা, অর্কস্থলের আদ্য-মর্যাদা ও অঞ্চল-ভূষণত্ব, এবং পূজার যথার্থ মানদণ্ড—মন্ত্র, বিধি ও উৎসব-সময়—বিস্তারে জিজ্ঞাসা করা হয়। ঈশ্বর উত্তরে কৃতযুগের এক প্রাচীন দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন। শতকলাকের পুত্র ঋষি জৈগীষব্য প্রভাসে এসে দীর্ঘকাল ধরে ধাপে ধাপে কঠোর তপস্যা করেন—বায়ু-আহার, জল-আহার, পত্র-আহার এবং চন্দ্রায়ণ-ব্রতের চক্র; শেষে তীব্র সংযমে লিঙ্গের ভক্তিপূর্ণ আরাধনা করেন। তখন শিব প্রকাশিত হয়ে সংসারচ্ছেদকারী জ্ঞানযোগ দান করেন, অহংকারহীনতা, ক্ষমা ও আত্মসংযমের মতো নৈতিক স্থিতিদায়ক গুণ উপদেশ দেন, যোগৈশ্বর্য এবং ভবিষ্যতে দিব্যদর্শনের সুলভতা প্রদান করেন। অধ্যায়ে আরও বলা হয়, যুগে যুগে এই স্থানের ফল অক্ষুণ্ণ; কলিযুগে সেই লিঙ্গ ‘সিদ্ধেশ্বর’ নামে প্রসিদ্ধ। জৈগীষব্যের গুহায় পূজা ও যোগসাধনা দ্রুত ফলদায়ী, শুদ্ধিকারী এবং পিতৃকল্যাণকর বলে ঘোষিত। শেষে ফলশ্রুতিতে সিদ্ধ-লিঙ্গপূজার অতুল পুণ্যকে বিশ্বতুলনামূলক ভাষায় মহিমা করা হয়েছে।

पापनाशनोत्पत्तिवर्णनम् | Origin Account of the Pāpa-nāśana Liṅga
এই অধ্যায়ে ‘পাপহর/পাপনাশন’ নামে খ্যাত লিঙ্গের সংক্ষিপ্ত তত্ত্ব ও আচারবিধি বর্ণিত হয়েছে। ঈশ্বরের বাণীতে প্রভাসক্ষেত্রের দিকনির্দেশিত সূক্ষ্ম ভূ-পরিসরে এর অবস্থান নির্দিষ্ট করা হয়—সিদ্ধলিঙ্গের নিকটে অরুণ (উষারূপ, সূর্য-সম্পর্কিত) সহিত যুক্ত পাপনাশন লিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত। আরেক স্থানে বলা হয়, সূর্যের সারথি এই লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন—এতে সৌর-সম্পর্ক দৃঢ় হয়, তবু পূজার কেন্দ্র শৈব প্রতীক লিঙ্গই। এরপর স্পষ্ট কালবিধান দেওয়া হয়েছে—চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশীতে বিধিমতো ভক্তিসহকারে পূজা করতে হবে। এর ফল ‘পুণ্ডরীক’ ফলের সমতুল্য বলে প্রতিশ্রুত, যা তীর্থ-মাহাত্ম্যে পুণ্য-পরিমাপের নির্দেশক। শেষে কলফনে একে প্রভাসখণ্ডের প্রভাসক্ষেত্র-মাহাত্ম্য (প্রথম ভাগ)-এর পঞ্চদশ অধ্যায় বলা হয়েছে।

पातालविवरमाहात्म्यं (Glory of the Pātāla Fissure near Arkasthala)
ঈশ্বর দেবীকে প্রভাসে অর্কস্থলের নিকটে অবস্থিত মহৎ পাতাল-বিবরের মাহাত্ম্য বলেন। আদিতে অন্ধকারাবস্থায় সূর্যবিরোধী অসংখ্য শক্তিশালী রাক্ষস জন্মায় এবং উদীয়মান দিবাকরকে বিদ্রূপ করে। তখন সূর্য ধর্মসম্মত ক্রোধে তেজ বৃদ্ধি করেন; তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তারা ক্ষীণ গ্রহের মতো, ঝরে-পড়া ফল বা যন্ত্র থেকে ছুটে যাওয়া পাথরের ন্যায় আকাশ থেকে পতিত হয়—অধর্মের পতনই তার পরিণতি। বায়ুর ধাক্কা ও আঘাতে তারা পৃথিবী বিদীর্ণ করে রসাতলে নেমে যায় এবং শেষে প্রভাসে এসে পৌঁছায়; তাদের পতনের সঙ্গে পাতাল-বিবরের প্রকাশ/দর্শন যুক্ত বলে বলা হয়েছে। অর্কস্থলকে সর্বসিদ্ধিদায়ক দেবস্থান বলা হয়েছে এবং তার সন্নিকটে এই বিবর প্রধান; বহু অন্য বিবর কালের প্রবাহে গুপ্ত হয়েছে, কিন্তু এটি প্রকাশিতই আছে। এ স্থান সূর্যতেজের মধ্যাংশের মতো স্বর্ণপ্রভ, সিদ্ধেশ দ্বারা রক্ষিত এবং বিশেষত সূর্য-পর্বে মহাফলদায়ক। ব্রাহ্মী, হিরণ্য়া ও সমুদ্রের ত্রিসঙ্গম কোটি-তীর্থসম ফল প্রদান করে। শ্রীমুখ-দ্বারে চতুর্দশীতে এক বছর ধরে সুনন্দা প্রভৃতি মাতৃগণের পূজা, পুষ্প-ধূপ-দীপ-নৈবেদ্য ও ব্রাহ্মণভোজনের বিধান আছে; এতে সিদ্ধি লাভ হয়, আর এই মাহাত্ম্য শ্রবণে উত্তম ব্যক্তি বিপদ থেকে মুক্ত হয়।

Arkasthala-Sūryapūjāvidhi: Dantakāṣṭha, Snāna, Arghya, Mantra-nyāsa, and Phalaśruti (अर्कस्थल-सूर्यपूजाविधिः)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে প্রভাসক্ষেত্রের অর্কস্থলে ভাস্কর/সূর্যদেবের পূজাবিধি উপদেশ দেন। প্রথমে আদিত্যের মহিমা ও বিশ্বতত্ত্ব স্থাপন করা হয়—তিনি দেবগণের আদ্য, চল-অচল জগতের ধারণ, সৃষ্টি ও লয়ের কর্তা; তাই সূর্যোপাসনা মহাজাগতিক শৃঙ্খলার সঙ্গে যুক্ত। এরপর ধাপে ধাপে শুদ্ধাচার বর্ণিত—মুখ, বস্ত্র ও দেহশুদ্ধি; দন্তকাষ্ঠের নিয়ম (অনুমোদিত বৃক্ষ, তাদের ফল, নিষেধ, আসন, দাঁত পরিষ্কারের মন্ত্র ও কাষ্ঠ ত্যাগের বিধি); এবং পবিত্র মাটি/জল দ্বারা মন্ত্রসহ স্নান। তर्पণ, সন্ধ্যা ও সূর্যকে অর্ঘ্যদানের বিস্তারিত নির্দেশ আছে, সঙ্গে পাপনাশ ও পুণ্যবৃদ্ধির ফলশ্রুতি। যাঁরা বিস্তৃত দীক্ষাবিধি করতে অক্ষম, তাঁদের জন্য বেদমার্গের বিকল্প দিয়ে আহ্বান ও পূজার বৈদিক মন্ত্রও বলা হয়েছে। মণ্ডল-প্রতিষ্ঠা, অঙ্গন্যাস, গ্রহ ও দিক্পালদের স্থাপন-আরাধনা, এবং আদিত্যের ধ্যান ও মূর্তিরূপ বর্ণনা করা হয়েছে। মূর্তিপূজায় অভিষেকদ্রব্য, উপবীত, বস্ত্র, ধূপ, গন্ধ, দীপ, আরাত্রিক প্রভৃতির ক্রম, প্রিয় পুষ্প-সুগন্ধ-প্রদীপ এবং অযোগ্য নিবেদনের নিষেধ উল্লেখিত; লোভ ও প্রসাদ-ব্যবহারে অসতর্কতা থেকে বিরত থাকার উপদেশও আছে। শেষে রাহুর ‘গ্রহণ’ ব্যাখ্যা—এটি গ্রাস নয়, আচ্ছাদন; গোপনীয়তা-নীতি এবং শ্রবণ-পাঠের ফল—সমৃদ্ধি, রক্ষা ও সামাজিক কল্যাণ—বিভিন্ন জনসমাজের জন্য ঘোষিত।

चन्द्रोत्पत्तिवर्णनम् — Origin of the Moon and Śiva as Śaśibhūṣaṇa (Moon-adorned)
অধ্যায় ১৮-এ সূতপ্রসূত বর্ণনা এগিয়ে যায়। প্রভাস-ক্ষেত্রের মহিমা বিস্তারে শুনে দেবী জানান, শঙ্করের উপদেশে তাঁর ভ্রম ও সংশয় নিবারিত হয়েছে, মন প্রভাসে স্থির হয়েছে এবং তপস্যার ফল সিদ্ধ হয়েছে। এরপর তিনি শিবের শিরে বিরাজমান চন্দ্রের উৎপত্তি ও সময় সম্পর্কে কারণ-প্রশ্ন করেন। ঈশ্বর বরাহ-कल्पের প্রারম্ভিক সৃষ্টিকাল নির্দেশ করে উত্তর দেন। ক্ষীরসাগর মন্থনে চৌদ্দ রত্ন উদ্ভূত হয়; তাদের মধ্যে দীপ্তিময় চন্দ্রও প্রকাশিত হয়। শিব বলেন, তিনি চন্দ্রকে ধারণ করেন এবং বিষপানের প্রসঙ্গ টেনে বোঝান—এই চন্দ্রভূষণ মুক্তিমুখী প্রতীক। শেষে প্রভাসে স্বয়ম্ভূ লিঙ্গরূপে শিবের নিত্যস্থিতি, সর্বসিদ্ধিদাতা স্বভাব এবং কল্পপর্যন্ত স্থায়িত্ব প্রতিপাদিত হয়।

कला-मान, सृष्टि-प्रलय-क्रम, तथा चन्द्र-लाञ्छन-कारण (Measures of Time, Creation–Dissolution Sequence, and the Cause of the Moon’s Mark)
এই অধ্যায়ে দেবী প্রশ্ন করেন—চন্দ্র কেন সর্বদা পূর্ণ থাকে না। তখন ঈশ্বর অমাবস্যা থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত চন্দ্রকলার ষোড়শ ভাগ তথা তিথির বিন্যাস ব্যাখ্যা করেন এবং সময়ের পরিমাপকে সূক্ষ্ম থেকে মহৎ ক্রমে স্থাপন করেন—ত্রুটি, লব, নিমেষ, কাষ্ঠা, কলা, মুহূর্ত, দিন-রাত্রি, পক্ষ, মাস, অয়ন, বর্ষ, যুগ, মন্বন্তর ও কল্প পর্যন্ত। এতে যাগ-যজ্ঞের কালগণনা ও মহাজাগতিক সময়চক্রের যোগসূত্র স্পষ্ট হয়। ঈশ্বর মায়া/শক্তিকে সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয়ের কার্যকর তত্ত্ব বলে প্রতিষ্ঠা করেন এবং বলেন—যা উৎপন্ন হয় তা অবশেষে নিজের উৎসে প্রত্যাবর্তন করে। পরে দেবী সোমের অমৃতোদ্ভব ও ভক্তিপ্রিয়তা সত্ত্বেও তার লাঞ্ছনের কারণ জানতে চান; ঈশ্বর জানান, তা দক্ষের শাপজনিত। অসংখ্য চন্দ্র, ব্রহ্মাণ্ড ও কল্প বারংবার উদ্ভব ও লয়ে যায়; সৃষ্টি-সংহারের একমাত্র নিয়ন্তা পরম ঈশ্বরই। শেষে কল্প-মন্বন্তরের কালবিন্যাস, পূর্বপ্রকাশের উল্লেখ এবং ধর্মস্থাপনার জন্য বিষ্ণুর অবতারধারা—ভবিষ্যৎ কল্কি অবতারসহ—সংক্ষেপে বর্ণিত।

दैत्यावतारक्रमः—सोमोत्पत्तिः—ओषधिनिर्माणं च (Order of Asura Incarnations, Soma’s Emergence, and the Origin of Plants)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে দীর্ঘ কালচক্রে দানব ও রাক্ষস-সম্পর্কিত রাজত্বগুলির ধারাবাহিকতা বর্ণনা করেন। হিরণ্যকশিপু ও বলি প্রভৃতি শক্তিশালী শাসককে উদাহরণ করে দেখানো হয়—যুগসদৃশ সময়ে কখনও অধর্মের প্রাবল্য বাড়ে, আবার ধর্মের দ্বারা লোকব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর বংশানুক্রম ও রাজবৃত্তান্ত আসে—পুলস্ত্যবংশ, কুবের ও রাবণ প্রমুখের জন্ম, এবং নামকরণ ও পরিচয়ের লক্ষণসমূহের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। তারপর প্রধান মোড়: অত্রির তপস্যা থেকে সোম (চন্দ্র)-এর আবির্ভাব, সোমের ‘পতন’ ঘিরে বিশ্বে আলোড়ন, ব্রহ্মার হস্তক্ষেপ, এবং সোমের রাজত্ব ও যজ্ঞমর্যাদায় প্রতিষ্ঠা—রাজসূয় প্রসঙ্গ ও দক্ষিণা-দানের উল্লেখসহ—বর্ণিত হয়। শেষে ওষধি-উৎপত্তির কারণকথা তালিকাভাবে দেওয়া হয়—উদ্ভিদ, শস্য, ডাল ইত্যাদি। সোমকে জ্যোৎস্নার দ্বারা জগতের ধারক ও উদ্ভিদের অধিপতি বলে প্রতিপাদন করে, বিশ্বতত্ত্বকে কৃষিজীবন ও যাগযজ্ঞের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

Dakṣa-śāpa, Soma-kṣaya, and Prabhāsa-liṅga Upadeśa (दक्षशाप–सोमक्षय–प्रभासलिङ्गोपदेशः)
একবিংশ অধ্যায়ে দেবী ঈশ্বরকে সোমের বিশেষ চিহ্ন/অবস্থা ও তার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। ঈশ্বর দক্ষের বংশধারা ও বিবাহ-বণ্টন বর্ণনা করেন—দক্ষের কন্যারা ধর্ম, কশ্যপ, সোম প্রভৃতির সঙ্গে বিবাহিত হন; এরপর ধর্মের পত্নী ও সন্তান, বসু ও তাঁদের বংশ, সাধ্যগণ, দ্বাদশ আদিত্য, একাদশ রুদ্র এবং হিরণ্যকশিপু প্রভৃতি অসুরবংশের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেওয়া হয়। তারপর সোমের সাতাশ নক্ষত্র-পত্নীর সঙ্গে বিবাহের কাহিনি আসে; রোহিণী সোমের সর্বাধিক প্রিয় হন। অবহেলিত অন্য নক্ষত্র-পত্নীরা দক্ষের শরণ নেন। দক্ষ সোমকে সমদৃষ্টিতে আচরণ করতে সতর্ক করেন; সোম প্রতিশ্রুতি দিয়েও আবার রোহিণীতেই একান্ত আসক্ত হন। তখন দক্ষ শাপ দেন—সোমকে যক্ষ্মা (ক্ষয়রোগ) গ্রাস করবে এবং তাঁর তেজ ক্রমে ক্ষীণ হবে। তেজহীন সোম রোহিণীর উপদেশে শাপদাতার নিকট গিয়ে এবং শেষে মহাদেবের শরণ গ্রহণের পথ নেন। সোম মুক্তি চাইলে দক্ষ বলেন—সাধারণ উপায়ে শাপ নিবারণ হয় না; শঙ্করকে প্রসন্ন কর। তিনি স্থান-নির্দেশও দেন—বরুণদিশায় সমুদ্রের নিকট অনূপ (জলাভূমি) অঞ্চলে এক স্বয়ম্ভূ, মহাপ্রভাবশালী লিঙ্গ আছে; তার দীপ্ত লক্ষণসমূহ স্মরণ করে ভক্তিভরে পূজা করলে শুদ্ধি ও পুনরুদ্ধার লাভ হয়। এভাবে নীতি, বংশতালিকা ও প্রভাস-ক্ষেত্রের লিঙ্গোপাসনা একসূত্রে গাঁথা হয়।

कृतस्मरपर्वत-वर्णनम् तथा सोमशापानुग्रहः (Description of Mount Kṛtasmar(a) and Soma’s Curse–Boon Resolution)
অধ্যায় ২২-এ প্রভাসক্ষেত্রের পবিত্র যজ্ঞভূগোলের মধ্যে সোমের দুঃখ থেকে পুনরুদ্ধারের কাহিনি বর্ণিত। দক্ষের অনুমতি পেলেও শোকাকুল সোম প্রভাসে এসে খ্যাত কৃতস্মর পর্বত দর্শন করে—শুভ বৃক্ষলতা, নানা পাখি, গন্ধর্ব-গীত, এবং তপস্বী ও বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণদের সমাবেশে পর্বতটি মহিমামণ্ডিত। এরপর সোম সমুদ্রতটে ‘স্পর্শ’ নামে সংশ্লিষ্ট লিঙ্গরূপের কাছে বারবার প্রদক্ষিণ ও একাগ্র পূজা করে। ফল-মূলাহার বিধানে দীর্ঘ তপস্যা করে সে শিবের পরাত্পর স্বরূপের স্তব রচনা করে, যেখানে বহু উপাধি ও যুগানুক্রমে দেবনামসমূহের ধারাবাহিকতা আছে। শিব প্রসন্ন হয়ে বর দেন—সোমের ক্ষয় ও বৃদ্ধি কৃষ্ণ ও শুক্ল পক্ষের পালাক্রমে চলবে; দক্ষের বাক্যও সত্য থাকবে, আবার তার কঠোরতাও প্রশমিত হবে। অধ্যায়ে ব্রাহ্মণ্য কর্তৃত্বকে বিশ্বস্থিতি ও যজ্ঞসিদ্ধির অপরিহার্য ভিত্তি বলে নীতিপর আলোচনা আছে। শেষে সমুদ্রে গোপন লিঙ্গের কথা ও তার প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়—যেখানে নিস্তেজ সোমের ‘প্রভা’ পুনরায় ফিরে আসে, সেই স্থানই ‘প্রভাস’ নামে প্রসিদ্ধ।

Somēśa-liṅga Pratiṣṭhā at Prabhāsa: Soma’s Yajña Preparations and Brahmā’s Consecration
এই অধ্যায়ে সোম (চন্দ্র) শম্ভুর কৃপায় প্রাপ্ত পরম লিঙ্গ নিয়ে ভক্তি ও বিস্ময়ে প্রভাস-ক্ষেত্রে অবস্থান করেন। তিনি বিশ্বকর্মা (ত্বষ্টা)-কে লিঙ্গের রক্ষা ও যথাযথ স্থানে স্থাপনের দায়িত্ব দিয়ে নিজে চন্দ্রলোকে ফিরে যান, মহাযজ্ঞের বিপুল সামগ্রী সংগ্রহ করতে। মন্ত্রী হেমগর্ভ আয়োজন পরিচালনা করেন—অগ্নিসহ ব্রাহ্মণদের আহ্বান, যানবাহন ও প্রচুর দান-দ্রব্যের ব্যবস্থা, এবং দেব-দানব-যক্ষ-গন্ধর্ব-রাক্ষস, সপ্তদ্বীপের রাজা ও পাতালবাসী সকলকে যজ্ঞে আমন্ত্রণ জানান। প্রভাসে দ্রুত মণ্ডপ, যূপ ও বহু কুণ্ড নির্মিত হয়; সমিধা, কুশ, ফুল, ঘৃত, দুধ ও স্বর্ণপাত্রাদি বিধিমতো প্রস্তুত হয়ে উৎসবের মতো সমৃদ্ধি দেখা দেয়। হেমগর্ভ প্রস্তুতির সংবাদ সোম ও ব্রহ্মাকে জানান। ব্রহ্মা ঋষিসমেত, বৃহস্পতিকে পুরোহিত করে আগমন করেন; প্রভাসে তাঁর পুনঃপুন আগমন ও কল্পভেদে নামভেদের কথা বলেন এবং পূর্বদোষ-পরিহার ও প্রতিষ্ঠা-পুনর্সংস্কারের প্রয়োজন বোঝান। এরপর বহু মণ্ডপের বিন্যাস, ঋত্বিজদের দায়বণ্টন, রোহিণীকে পত্নী করে সোমের দীক্ষা, বেদশাখা অনুযায়ী মন্ত্রজপের বিভাগ, দিকনির্দেশে নির্দিষ্ট আকৃতিতে কুণ্ড নির্মাণ, ধ্বজা ও পবিত্র বৃক্ষ স্থাপন সম্পন্ন হয়। শেষে ব্রহ্মা ভূমিতে প্রবেশ করে লিঙ্গ প্রকাশ করেন, ব্রহ্মশিলায় স্থাপন করে মন্ত্রন্যাসসহ সোমেশের প্রতিষ্ঠা সম্পূর্ণ করেন। ধোঁয়াহীন অগ্নি, দিব্য দুন্দুভি ও পুষ্পবৃষ্টি শুভ লক্ষণরূপে প্রকাশ পায়; পরে বিপুল দক্ষিণা, রাজদান এবং সোমের ত্রিকাল পূজার ধারাবাহিকতা বর্ণিত হয়েছে।

सोमनाथलिङ्गप्रतिष्ठा, दर्शनफलप्रशंसा, पुष्पविधान, तथा सोमवारव्रतप्रस्तावना (Somnātha Liṅga स्थापना, merits of darśana, floral regulations, and the prelude to the Monday-vrata)
এই অধ্যায়ে দেবী–ঈশ্বর সংলাপের মাধ্যমে ত্রেতাযুগীয় পবিত্র কালক্রমে সোমনাথ লিঙ্গের প্রতিষ্ঠা ও মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। সোম নিজের তপস্যা ও অবিরত উপাসনার দ্বারা শিবকে বহু উপাধিতে স্তব করেন—জ্ঞানস্বরূপ, যোগস্বরূপ, তীর্থস্বরূপ ও যজ্ঞস্বরূপ। শিব প্রসন্ন হয়ে লিঙ্গে চিরসান্নিধ্যের বর দেন এবং ক্ষেত্রের নাম ‘প্রভাস’ ও দেবতার নাম ‘সোমনাথ’ নির্ধারণ করেন। এরপর ফলশ্রুতিতে বলা হয়, সোমনাথ-দর্শন মহাতপ, দান, তীর্থযাত্রা ও মহাযজ্ঞের সমান বা তদপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ফল প্রদান করে—ক্ষেত্রে ভক্তিসাক্ষাৎকারকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। পূজায় গ্রহণীয় ও বর্জনীয় ফুল-পাতার তালিকা, তাজা হওয়ার বিধি, রাত্রি-দিনের নিয়ম এবং নিষেধও উল্লেখিত। সুস্থতার পর সোমের মন্দির-নগর ও প্রাসাদসমূহ নির্মাণ এবং দান-ব্যবস্থার বিবরণ আসে। শিবের নির্মাল্য স্পর্শে অশৌচের আশঙ্কায় ব্রাহ্মণদের প্রশ্ন এবং নারদের স্মৃতিতে গৌরী–শঙ্কর সংলাপের তত্ত্ব—ভক্তির মাহাত্ম্য, গুণানুসারী প্রবৃত্তি, এবং শিব-হরির পরমার্থে অদ্বৈত সম্পর্ক—প্রকাশিত হয়। শেষে সোমবার-ব্রত (সোমবার ব্রত) প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয় এবং এক গন্ধর্ব পরিবারের কাহিনির মাধ্যমে সোমনাথ-উপাসনায় রোগনিবারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

सोमवारव्रतविधानम् — The Ordinance of the Monday Vow (Somavāra-vrata)
এই অধ্যায়ে সংলাপের ভেতর দিয়ে সোমবার-ব্রত (সোমব্রত) এর বিধান বর্ণিত। ঈশ্বর এক গন্ধর্বের কথা বলেন—সে ভবা (শিব) কে প্রসন্ন করতে চায় এবং সোমব্রতের নিয়ম জানতে চায়। গোশৃঙ্গ ঋষি ব্রতটির সর্বজনীন কল্যাণকারিতা প্রশংসা করে পূর্বকথা শোনান: দক্ষের শাপে পীড়িত সোম দীর্ঘ ধ্যান ও উপাসনায় শিবকে আরাধনা করলে শিব প্রসন্ন হয়ে সূর্য-চন্দ্র ও পর্বত যতদিন স্থির থাকে ততদিন স্থায়ী এক লিঙ্গ প্রতিষ্ঠার বর দেন; সোম রোগমুক্ত হয়ে পুনরায় দীপ্তিমান হয়। এরপর ব্রতের পদ্ধতি বলা হয়—শুক্লপক্ষের সোমবার শুদ্ধি করে সজ্জিত কলস ও পূজাস্থান স্থাপন, উমাসহ সোমেশ্বর ও দিক্-রূপগুলির পূজা, শ্বেত ফুল এবং নির্দিষ্ট অন্ন-ফলাদি নিবেদন। উমাযুক্ত বহুমুখ-বহুবাহু শিবকে উদ্দেশ করে নির্দিষ্ট মন্ত্রে জপ ও অর্চনা করা হয়। ক্রমে সোমবারগুলির সাধনা (বিভিন্ন দন্তকাষ্ঠ, নিবেদন, রাত্রিনিয়ম—দর্ভে শয়ন ও কখনও জাগরণ) বিস্তারিত। নবম দিনে উদ্যাপন—মণ্ডপ, কুণ্ড, পদ্ম-মণ্ডল, আট দিকের কলস, স্বর্ণমূর্তি, হোম, গুরুদক্ষিণা, ব্রাহ্মণভোজন ও বস্ত্র-গোদান। ফলশ্রুতি রোগনাশ, সমৃদ্ধি, বংশকল্যাণ ও শিবলোকে গমন প্রতিশ্রুত করে; শেষে গন্ধর্ব প্রভাসে সোমেশ্বরে ব্রত পালন করে বর লাভ করে।

गन्धर्वेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Gandharveśvara Māhātmya (Description of the Glory of Gandharveśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর শৈব উপদেশধারায় গন্ধর্বেশ্বরের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। ঘনবাহন নামক এক গন্ধর্ব বর লাভ করে কৃতার্থ হয়ে ভক্তিভাবে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। সেই লিঙ্গই “গন্ধর্বেশ্বর” নামে খ্যাত, এবং তাকে স্পষ্টভাবে “গান্ধর্ব-ফলদায়ক”—গন্ধর্ব-সম্পর্কিত ফল প্রদানকারী—বলা হয়েছে। এর অবস্থান সোমেশের উত্তরে ও দণ্ডপাণির নিকটে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এরপর পূজার ব্যবহারিক নির্দেশ দেওয়া হয়—বরুণ-সম্পর্কিত ভাগে (বরদা-বারুণ-ভাগে), ধনুকের “পঞ্চক”-এর মধ্যে অবস্থিত স্থানে, পঞ্চমী তিথিতে পূজা করলে উপাসকের দুঃখ-ক্লেশ নিবারিত হয়। শেষে কলফনে একে স্কন্দ মহাপুরাণের ৮১,০০০ শ্লোকসমষ্টির অন্তর্গত, প্রভাস খণ্ডের সপ্তম অংশ ও প্রভাস-ক্ষেত্র-মাহাত্ম্যের প্রথম বিভাগের অধ্যায় বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

गन्धर्वसेनेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Gandharvasenīśvara: Account of the Shrine’s Greatness
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে বলেন—গৌরীর নিকটে গন্ধর্বসেনা যে লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা ‘বিমলেশ্বর’ নামে প্রসিদ্ধ এবং সর্বরোগ-বিনাশক। স্থাননির্দেশে ‘তিন ধনুক’ দূরত্ব ও ‘পূর্ব বিভাগ’ দিকচিহ্ন দেওয়া হয়েছে, যাতে পবিত্র তীর্থভূমিতে পথনির্ণয় সহজ হয়। ভক্তিভরে পূজার ইঙ্গিত আছে; বিশেষ করে তৃতীয়া তিথিতে ব্রতরূপে পূজা করলে ফলপ্রদ বলা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে নারী সাধিকার দুর্ভাগ্য-নাশ, ইষ্টসিদ্ধি, পুত্র-পৌত্র লাভ ও সামাজিক-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠা প্রাপ্তির কথা বলা হয়। শেষে এটিকে পাপ-নাশক ব্রতকথা হিসেবে ঘোষণা করে ত্রেতাযুগের প্রেক্ষিতে স্থাপন করে অধ্যায় সমাপ্ত করা হয়েছে।

Somnātha-yātrāvidhi, Tīrthānugamana-nyāya, and Dāna–Upavāsa Regulations (सौमनाथयात्राविधिः)
এই অধ্যায়ে দেবী সোমনাথ-যাত্রার যথাযথ সময়, পদ্ধতি ও নিয়মাবলি জানতে চান। ঈশ্বর বলেন—অন্তরের সংকল্প/ভাব জাগলেই যে কোনো ঋতুতে যাত্রা করা যায়; মূল কারণ হলো ভাব। এরপর প্রস্তুতি-আচরণ নির্দিষ্ট করা হয়েছে—রুদ্রকে মানসিক প্রণাম, যথাযোগ্য শ্রাদ্ধ, প্রদক্ষিণা, মৌন বা বাক্-সংযম, নিয়ত আহার, এবং ক্রোধ-লোভ-মোহ-মৎসর প্রভৃতি দোষ ত্যাগ। তারপর সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় যে কলিযুগে তীর্থানুগমন, বিশেষত পদযাত্রা, কিছু যজ্ঞ-পদ্ধতির চেয়েও শ্রেষ্ঠ ফলদায়ক; এবং প্রভাস তীর্থসমূহের মধ্যে অতুলনীয়। পদযাত্রা বনাম যানবাহন, ভিক্ষা-নির্ভর সংযম, ও নৈতিক শুদ্ধতার ভিত্তিতে ফলের তারতম্য বলা হয়েছে; অনুচিত প্রতিগ্রহ, এবং বৈদিক বিদ্যার বাণিজ্যিকীকরণ ইত্যাদি থেকে সতর্ক করা হয়েছে। বর্ণ-আশ্রমভেদে উপবাসের বিধান, ভণ্ড তীর্থযাত্রার নিন্দা, এবং প্রভাসে তিথি-ক্রমে দানের একটি সুশৃঙ্খল ক্যালেন্ডার দেওয়া হয়েছে। শেষে বলা হয়—মন্ত্রহীন বা দরিদ্র তীর্থযাত্রীও প্রভাসে দেহত্যাগ করলে শিবলোক লাভ করে; সঙ্গে তীর্থস্নানের সাধারণ মন্ত্র-ক্রম দিয়ে পরবর্তী প্রসঙ্গ—আগমনে প্রথম কোন তীর্থে স্নান—এর ভূমিকা রচিত হয়েছে।

Agnitīrtha–Padmaka Tīrtha Vidhi and the Ocean’s Curse–Boon Narrative (अग्नितीर्थ–पद्मकतीर्थविधिः सागरशापवरकथा)
এই অধ্যায়ে দুইটি সংযুক্ত প্রবাহ আছে। প্রথম ভাগে তীর্থবিধি—ঈশ্বর শুভ সমুদ্রতটে অগ্নিতীর্থে গমন নির্দেশ করেন এবং সোমনাথের দক্ষিণে পদ্মক তীর্থকে বিশ্বখ্যাত পাপহর স্থান বলে জানান। শঙ্করের মানস ধ্যান করে স্নান, বপন/কেশচ্ছেদন-পরবর্তী কেশ নির্দিষ্ট স্থানে অর্পণ, পুনরায় স্নান ও শ্রদ্ধায় তর্পণ—এই নিয়ম বলা হয়েছে। স্ত্রী ও গৃহস্থের সীমা-নিয়ম, মন্ত্র ছাড়া সমুদ্রস্পর্শে দোষ, পার্বণকালে ও নির্দিষ্ট আচারে সমুদ্রগমন, সমুদ্রাভিগমন-মন্ত্র এবং সমুদ্রে স্বর্ণ-কঙ্কণ অর্পণের বিধিও উল্লেখিত। দ্বিতীয় ভাগে দেবী প্রশ্ন করেন—নদীর আশ্রয় ও বিষ্ণু-লক্ষ্মীর সঙ্গে সম্পর্কিত সমুদ্রে দোষ কীভাবে আসে। ঈশ্বর পুরাকথা বলেন—প্রভাসে দীর্ঘ যজ্ঞশেষে দক্ষিণা-প্রার্থী ব্রাহ্মণদের ভয়ে দেবতারা সমুদ্রে লুকাল; দেবতাদের রক্ষায় সমুদ্র ব্রাহ্মণদের গোপনে মাংস ভক্ষণ করায়, ফলে ব্রাহ্মণশাপে সমুদ্র সাধারণত অস্পৃশ্য/অপেয় হয়। ব্রহ্মা প্রতিকার স্থির করেন—পার্বণকাল, নদীসঙ্গম, সেতুবন্ধ ও কিছু নির্বাচিত তীর্থে বিধিপূর্বক সমুদ্রস্পর্শ পবিত্রতা ও মহাপুণ্য দেয়; সমুদ্র রত্নাদি দিয়ে প্রতিদানও করে। শেষে বাডবানল (সমুদ্রগর্ভ অগ্নি) ও তার ভূগোল বর্ণিত হয় এবং অগ্নিতীর্থকে রক্ষিত, গূঢ় ও মহাফলদায়ক বলা হয়—এর শ্রবণমাত্রেও মহাপাপীর শুদ্ধি ঘটে।

सोमेश्वरपूजामाहात्म्यवर्णनम् | Someshvara Worship: Procedure and Merits
দেবীর প্রশ্নের উত্তরে ঈশ্বর বলেন—অগ্নিতীর্থে স্নান করার পর যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কী করণীয়। বিধিমতে স্নান করে মহোদধিকে অর্ঘ্য দিতে হবে, তারপর গন্ধ‑পুষ্প‑বস্ত্র‑লেপনে পূজা করতে হবে। সামর্থ্য অনুযায়ী স্বর্ণের কঙ্কণ/অলংকার পবিত্র জলে নিক্ষেপ, পিতৃদের তর্পণ, এবং কপর্দিন শিবের কাছে গিয়ে গণ‑সম্পর্কিত মন্ত্রে অর্ঘ্য অর্পণের নির্দেশ আছে। মন্ত্রাধিকার প্রসঙ্গেও বলা হয়েছে; শূদ্রদের জন্য অষ্টাক্ষর মন্ত্রস্মরণ প্রভৃতি উল্লেখিত। এরপর সোমেশ্বর দর্শন করে অভিষেক, শতারুদ্রিয় প্রভৃতি রুদ্রপাঠ/জপ করতে হবে। দুধ‑দই‑ঘি‑মধু‑শর্করা/আখের রসে স্নাপন, কুঙ্কুম‑কর্পূর‑উশীর‑কস্তুরী‑চন্দনে সুগন্ধি লেপন, ধূপ‑দীপ‑নৈবেদ্য‑আরতি, এবং গান‑নৃত্যসহ ধর্মমুখী দর্শন‑পাঠের বিধান আছে। দ্বিজ তপস্বী, দীন‑দরিদ্র, অন্ধ ও অনাথদের দান দিতে হবে এবং সোমেশ্বর দর্শনের তিথিতে উপবাস পালন করতে হবে। ফলশ্রুতি—জীবনের নানা পর্যায়ের পাপক্ষয়, বংশোদ্ধার, দারিদ্র্য‑অমঙ্গল নাশ ও ভক্তিবৃদ্ধি; বিশেষত কলিযুগের নৈতিক কঠিনতাতেও সোমেশ্বরসেবায় মহাপুণ্য লাভ হয়।

वडवानलोत्पत्तिवृत्तान्ते दधीचिमहर्षये सर्वदेवकृतस्वस्वशस्त्रसमर्पणवर्णनम् (Origin Account of the Vādavānala and the Devas’ Deposition of Weapons with Maharṣi Dadhīci)
এই অধ্যায়ে দেবী–ঈশ্বর সংলাপে তিনটি বিষয়ে কারণ জিজ্ঞাসা করা হয়—(১) পূর্বে কথিত ‘স-কার-পঞ্চক’-এর তাৎপর্য, (২) প্রভাসক্ষেত্রে সরস্বতীর অবস্থান ও আবির্ভাব, এবং (৩) বডবানল (সমুদ্রাগ্নি)-এর উৎপত্তি ও সময়। ঈশ্বর বলেন, প্রভাসে সরস্বতী পবিত্রকারী শক্তি রূপে প্রকাশিত; তিনি পাঁচ নামে—হিরণ্য়া, বজ্রিণী, ন্যঙ্কু, কপিলা ও সরস্বতী—পরিচিত। এরপর কাহিনি কারণ-উপাখ্যানে প্রবেশ করে। সোম-সম্পর্কিত কারণে দেব–অসুর সংঘর্ষ প্রশমিত হলে ব্রহ্মার আদেশে চন্দ্র তাড়াকে ফিরিয়ে দেন। দেবগণ পৃথিবীর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দধীচি মহর্ষির স্বর্গসম আশ্রম দর্শন করেন—ঋতুপুষ্প ও সুগন্ধি উদ্ভিদে ভরা। সংযত, মানবসদৃশ ভঙ্গিতে তাঁরা কাছে যান; ঋষি অর্ঘ্য-পাদ্য দিয়ে সম্মান করে আসনে বসান। ইন্দ্র অনুরোধ করেন দেবতাদের অস্ত্র নিরাপদে রাখার জন্য ঋষি যেন গ্রহণ করেন। দধীচি প্রথমে তাঁদের স্বর্গে ফিরে যেতে বলেন, কিন্তু ইন্দ্র জোর দেন—প্রয়োজনে অস্ত্র পুনরুদ্ধারযোগ্য হতে হবে। তখন ঋষি সত্যপ্রতিজ্ঞা করেন যে যুদ্ধকালে ফিরিয়ে দেবেন; ইন্দ্র তাঁর সত্যবাদিতায় আস্থা রেখে অস্ত্র সমর্পণ করে প্রস্থান করেন। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—যে নিয়মিত মনোযোগে এই বৃত্তান্ত শ্রবণ করে, সে যুদ্ধে বিজয়, সৎ সন্তান, এবং ধর্ম-অর্থ-যশ লাভ করে।

दधीच्यस्थि-शस्त्रनिर्माणम्, पिप्पलादोत्पत्तिः, वाडवाग्नि-प्रसंगः (Dadhīci’s Bones and the Making of Divine Weapons; Birth of Pippalāda; The Vāḍava Fire Episode)
এই অধ্যায়ে দেবতারা প্রস্থান করলে ব্রাহ্মণঋষি দধীচি তপস্যায় স্থিত থেকে উত্তরদিকে নদীতীরে আশ্রম স্থাপন করেন। তাঁর পরিচারিকা সুভদ্রা স্নানের সময় অজান্তে পরিত্যক্ত কৌপীনস্পর্শে গর্ভবতী হন; লজ্জিত হয়ে অশ্বত্থ-বনে সন্তান প্রসব করে অজ্ঞাত কারণকারীর প্রতি শর্তযুক্ত শাপ উচ্চারণ করেন। এরপর লোকপালগণ ও ইন্দ্র দধীচির কাছে গচ্ছিত অস্ত্র ফেরত চান। দধীচি জানান, অস্ত্রগুলির তেজ তিনি দেহে ধারণ করেছেন; তাই তাঁর অস্থি থেকে দেবাস্ত্র নির্মাণের প্রস্তাব দেন এবং লোকরক্ষার জন্য স্বেচ্ছায় দেহত্যাগ করেন। দেবতারা পাঁচটি দিব্য সুরভী গাভী দিয়ে অস্থিশোধন করান; বিবাদ থেকে সরস্বতীর শাপের প্রসঙ্গ উঠে, যা আচার-শৌচাশৌচ বিধির কারণ ব্যাখ্যা করে। বিশ্বকর্মা দধীচির অস্থি থেকে বজ্র, চক্র, শূল প্রভৃতি লোকপালদের অস্ত্র নির্মাণ করেন। পরে সুভদ্রা শিশুটিকে জীবিত পান; সে কর্মনিয়তির কথা বলে এবং অশ্বত্থরসে পুষ্ট হওয়ায় ‘পিপ্পলাদ’ নামে পরিচিত হয়। পিতাকে অস্ত্রের জন্য হত্যা করা হয়েছে শুনে সে প্রতিশোধে দৃঢ় হয় ও তপস্যায় ভয়ংকর কৃত্যা সৃষ্টি করে; তার উরু থেকে অগ্নিরূপ সত্তা প্রকাশ পায়, যা বাডবাগ্নির সঙ্গে সম্পর্কিত। দেবতারা আশ্রয় চাইলে বিষ্ণু একে একে ভক্ষণ-প্রক্রিয়ার বিধান দিয়ে উগ্রতাকে নিয়ন্ত্রিত করে বিশ্বব্যবস্থা স্থাপন করেন। শেষে শ্রবণফল বলা হয়েছে—ভক্তিভরে শুনলে পাপভয় নাশ হয় এবং জ্ঞান ও মুক্তির সহায়তা লাভ হয়।

वाडवानल-नयनम् तथा पञ्चस्रोता-सरस्वती-प्रादुर्भावः (Transport of the Vāḍava Fire and the Manifestation of Five-Stream Sarasvatī)
এই অধ্যায়ে দেবী পূর্বঘটনার ধারাবাহিকতা জানতে চান। ঈশ্বর বলেন—ভয়ংকর বাডবানল অগ্নি বিশ্বব্যবস্থাকে বিপন্ন করায় দেবতাদের তাকে নিয়ন্ত্রণ করে অন্যত্র স্থানান্তর করতে হয়। বিষ্ণু সরস্বতীকে ‘যান’ রূপে নিযুক্ত করেন; গঙ্গা প্রভৃতি নদীদেবীরা অগ্নির দাহশক্তিতে অক্ষমতা প্রকাশ করে। পিতার আদেশ ব্যতীত কর্ম না করার নিয়মে আবদ্ধ সরস্বতী ব্রহ্মার অনুমতি লাভ করেন; ব্রহ্মা তাঁকে ভূগর্ভপথে চলতে বলেন এবং জানান—অগ্নিবহনকালে ক্লান্ত হলে তিনি ‘প্রাচী’ রূপে পৃথিবীতে প্রকাশিত হয়ে তীর্থের দ্বার উন্মুক্ত করবেন। এরপর সরস্বতীর মঙ্গলযাত্রা, হিমালয়ভূমি থেকে নদীরূপে উদ্ভব, এবং বারবার ভূগর্ভে অদৃশ্য ও ভূমিতে দৃশ্য প্রবাহের বর্ণনা আসে। প্রভাসে হরিণ, বজ্র, ন্যঙ্কু ও কপিল—এই চার ঋষির কল্যাণে সরস্বতী পঞ্চস্রোতা হন এবং পাঁচ নাম ধারণ করেন—হরিণী, বজ্রিণী, ন্যঙ্কু, কপিলা ও সরস্বতী। নির্দিষ্ট স্নান-পান বিধানে মহাপাপ নাশ ও বিশেষ দোষশুদ্ধির ক্রমও বলা হয়েছে। পরে কৃতস্মরা নামক পর্বত বিবাহে বাধা দিলে সরস্বতী কৌশলে তাকে বাডবানল ধারণ করতে বলেন; অগ্নিস্পর্শে পর্বত বিনষ্ট হয় এবং তার নরম পাথর গৃহদেবালয় নির্মাণে উপযোগী—এমন কারণকথা প্রতিষ্ঠিত হয়। শেষে সমুদ্রে বাডবানল বর দিতে চাইলে বিষ্ণুর উপদেশে সরস্বতী ‘সূচীমুখ’ হওয়ার বর চান, যাতে অগ্নি জল পান করলেও দেবতাদের গ্রাস না করে। শ্রবণ-পাঠের ফলশ্রুতি দিয়ে অধ্যায় সমাপ্ত।

वडवानल-निबन्धनम् (Containment of the Vaḍavānala) — Sarasvatī, the Ocean, and Prabhāsa’s Tīrtha-Order
ঈশ্বর দেবীকে প্রভাস-ক্ষেত্রনিবদ্ধ এক দিব্য উপাখ্যান শোনান। সরস্বতী বডবানল (সমুদ্রগর্ভের প্রলয়ংকর অগ্নি) সম্পর্কিত বর লাভ করে দেবাজ্ঞায় প্রভাসে গিয়ে সমুদ্রকে আহ্বান করেন। দেবসৌন্দর্যে বিভূষিত ও অনুচরসহ সমুদ্র আবির্ভূত হলে সরস্বতী তাঁকে জীবসমূহের আদ্য আশ্রয় বলে সম্বোধন করে দেবকার্যের জন্য বডবা-অগ্নি গ্রহণ করতে অনুরোধ করেন। সমুদ্র চিন্তা করে সম্মতি দেন ও অগ্নি গ্রহণ করেন; তীব্র দাহে জলচররা ভয়ে কাঁপতে থাকে। তখন দৈত্যসूदন অচ্যুত বিষ্ণু এসে জলচরদের আশ্বস্ত করেন এবং বরুণ/সমুদ্রকে আদেশ দেন—বডবানলকে গভীর জলে নিক্ষেপ করে নিয়ন্ত্রিতভাবে ধারণ করো, যেখানে সে সমুদ্রকে পান করছে যেন, তবু আবদ্ধ থাকে। সমুদ্র জলক্ষয়ের আশঙ্কা করলে বিষ্ণু সমুদ্রজলকে অক্ষয় করে দেন এবং বিশ্বসমতা স্থিত হয়। এরপর সরস্বতী এক নামিত পথে সমুদ্রে প্রবেশ করে অর্ঘ্য প্রদান করেন, অর্ঘ্যেশ্বর প্রতিষ্ঠা করেন এবং বলা হয় তিনি দক্ষিণ-পূর্বে সোমেশের নিকটে অবস্থান করেন, বডবানল-সম্পর্ক বহন করে। শেষে অগ্নিতীর্থে তীর্থবিধি—স্নান, পূজা, দম্পতিকে বস্ত্র-অন্নদান ও মহাদেব আরাধনা—বর্ণিত হয়। চাক্ষুষ ও বৈবস্বত মন্বন্তরের উল্লেখসহ ফলশ্রুতি আছে: এই কাহিনি শ্রবণে পাপ নাশ হয়, পুণ্য ও খ্যাতি বৃদ্ধি পায়।

Ādhyāya 35 — Oūrva, Vāḍavāgni, and Sarasvatī’s Tīrtha-Route to Prabhāsa (और्व-वाडवाग्नि-सरस्वतीतीर्थमार्गः)
এই অধ্যায়ে দেবী বর্তমান মন্বন্তরে ভৃগুবংশীয় ঔর্বের উৎপত্তি জানতে চান। ঈশ্বর বলেন—ধনলোভে ক্ষত্রিয়রা ব্রাহ্মণদের হত্যা করে; তখন এক নারী গর্ভকে উরু (জঙ্ঘা)-তে গোপন করে রক্ষা করেন, সেখান থেকেই ঔর্বের আবির্ভাব। ঔর্ব তপস্যাজাত ভয়ংকর রৌদ্র অগ্নি—ঔর্ব/বাডবাগ্নি—উৎপন্ন করেন, যা পৃথিবী দগ্ধ করতে উদ্যত; দেবতারা ব্রহ্মার শরণ নেন। ব্রহ্মা ঔর্বকে শান্ত করে আদেশ দেন—এই অগ্নি জগৎ না পোড়াক, সমুদ্রে প্রবাহিত হোক। তখন সরস্বতী স্বর্ণকলসে প্রতিষ্ঠিত অগ্নি বহন করে হিমালয় থেকে পশ্চিমভূমি পর্যন্ত তীর্থপথে যাত্রা করেন; তিনি বারবার অন্তর্ধান করে নামোল্লিখিত কূপ ও তীর্থে পুনরাবির্ভূত হন—গন্ধর্ব-কূপ, নানা ঈশ্বরস্থান, সঙ্গম, বট, বন ও ক্রিয়াস্থল মিলিয়ে এক পবিত্র ভূগোল গড়ে ওঠে। শেষে সমুদ্রতীরে সরস্বতী লবণজলে বাডবাগ্নি নিক্ষেপ করেন; অগ্নি বর দেন, কিন্তু মুদ্রিকার আদেশে সমুদ্র শুষ্ক করতে নিষেধিত থাকেন। অধ্যায়ে প্রাচী সরস্বতীর দুর্লভতা ও মহিমা, অগ্নিতীর্থের পুণ্য, এবং ‘রৌদ্রী যাত্রা’র পূজাক্রম—সরস্বতী, কপর্দিন/শিব, কেদার, ভীমেশ্বর, ভৈরবেশ্বর, চণ্ডীশ্বর, সোমেশ্বর, নবগ্রহ, রুদ্র-একাদশ ও বালব্রহ্মা—পাপহর ফলশ্রুতি সহ বর্ণিত।

Prācī Sarasvatī Māhātmya and Prāyaścitta of Arjuna at Prabhāsa (प्राचीसरस्वतीमाहात्म्यं तथा पार्थस्य प्रायश्चित्तकथा)
এই অধ্যায়ে দেবী প্রাচী সরস্বতীর দুর্লভতা ও বিশেষ করে প্রভাসে তার শ্রেষ্ঠ শুদ্ধিকর শক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। ঈশ্বর (শিব) প্রভাস-তীর্থের অতুল মহিমা বর্ণনা করে বলেন—এই নদী দোষনাশিনী; পান ও স্নানের জন্য কঠোর সময়-নিয়ম নেই, এবং যে এতে স্নান-পান করে, এমনকি পশুরাও, পুণ্যলাভ করে। কুরুক্ষেত্র ও পুষ্করের তুলনায় প্রভাসে এর প্রভাব অধিক বলে প্রতিপন্ন করা হয়। এরপর সূত একটি দৃষ্টান্ত বলেন—ভারতযুদ্ধের পরে আত্মীয়বধের ভারে অর্জুন (কিরীটী, নর-নারায়ণ-সম্পর্কিত) সমাজে নিন্দিত ও বর্জিত হন। শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে গয়া, গঙ্গা বা পুষ্করে নয়, প্রাচী সরস্বতীর তীর্থে যেতে নির্দেশ দেন। অর্জুন ত্রিরাত্র উপবাস করেন এবং দিনে তিনবার স্নান করেন; ফলে সঞ্চিত পাপ ক্ষয় হয় এবং যুধিষ্ঠির প্রমুখ তাঁকে পুনরায় গ্রহণ করেন। অধ্যায়ে আরও ধর্মাচার-নীতি বলা হয়েছে—উত্তর তটে মৃত্যুকে পুনর্জন্ম-নিবারক ফলদায়ক বলা, তপস্যার প্রশংসা, এবং তীর্থে দান-শ্রাদ্ধ করলে দাতা ও পিতৃপুরুষদের বহু গুণ ফল, এমনকি বহু প্রজন্মের উন্নতি, উল্লেখ করা হয়েছে। শেষে সরস্বতীকে নদীগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, ইহলোকে শান্তি ও পরলোকে কল্যাণদাত্রী বলা হয়েছে।

कंकणमाहात्म्यवर्णनम् / Theological Account of the Bracelet Rite
এই অধ্যায়ে প্রভাসক্ষেত্রে সোমেশ্বরের সন্নিধানে সমুদ্রে কঙ্কণ (বালা/কড়া) নিক্ষেপের কারণ, বিধি ও মহাফল সংলাপরূপে বর্ণিত। দেবী মন্ত্র, নিয়ম, সময় ও পূর্বকথা জানতে চান; ঈশ্বর পুরাণীয় রীতিতে একটি দৃষ্টান্ত বলেন। ধর্মপরায়ণ রাজা বৃহদ্রথ ও তাঁর পতিব্রতা রানি ইন্দুমতী ঋষি কণ্বকে সাদরে আতিথ্য দেন। ধর্মোপদেশের পর কণ্ব ইন্দুমতীর পূর্বজন্মকথা প্রকাশ করেন—তিনি আগে দরিদ্র এক আভীরী নারী ছিলেন, পাঁচ স্বামীসহ সোমেশ্বরে এসেছিলেন। সমুদ্রে স্নানকালে ঢেউয়ের আঘাতে তাঁর স্বর্ণকঙ্কণ হারিয়ে যায়; পরে মৃত্যু হলে তিনি পুনর্জন্মে রাজকুলে রানি হন। কণ্ব জানান, এই সৌভাগ্য কোনো বৃহৎ ব্রত-তপস্যা-দানের ফল নয়; প্রভাসে কঙ্কণপতনের স্থানবিশেষ-ফলই এর কারণ। এরপর কঙ্কণ-রীতির ফল—পাপনাশ ও সর্বকামপ্রদতা—শুনে সোমেশ্বরের লবণজলে স্নানের পর প্রতি বছর এই আচরণ প্রচলিত হয়; তীর্থমাহাত্ম্যে ক্ষুদ্র কর্মেও মহাপুণ্য লাভ হয়।

Kaparddī-Vināyaka as Prabhāsa-kṣetra Protector and the Vighnamardana Stotra (कपर्द्दी-विनायकः प्रभासक्षेत्ररक्षकः तथा विघ्नमर्दनस्तोत्रम्)
এই অধ্যায়ে দেবী–ঈশ্বর সংলাপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে কেন প্রভাস-ক্ষেত্রে সোমেশ্বরের দর্শনের আগে কাপর্দ্দী-বিনায়ক (গণেশের এক রূপ) পূজ্য। ঈশ্বর বলেন, সোমেশ্বর প্রভাসদেশে প্রতিষ্ঠিত সদাশিবের লিঙ্গরূপ, আর কাপর্দ্দী হলেন বিঘ্ন-নিয়ন্ত্রক (বিঘ্নেশ্বর), তাই তাঁর অগ্রপূজা আবশ্যক। যুগভেদে বিনায়কের অবতারক্রমও বলা হয়েছে—কৃতযুগে হেরম্ব, ত্রেতায় বিঘ্নমর্দন, দ্বাপরে লম্বোদর, কলিতে কাপর্দ্দী। কাহিনিতে দেবতারা উদ্বিগ্ন হন, কারণ মানুষ প্রচলিত বিধি-আচার ছাড়াই কেবল সোমেশ্বর-দর্শনে স্বর্গসুখ লাভ করতে থাকে, ফলে দেবলোকের মর্যাদা ও কর্মক্রমে ব্যাঘাত ঘটে। দেবতারা দেবীর শরণ নিলে, দেবী দেহসংকোচে উৎপন্ন ‘মল’ থেকে চতুর্ভুজ গজমুখ বিনায়ককে প্রকাশ করেন এবং আদেশ দেন—মোহবশ যারা সোমেশ্বরের দিকে যায়, তাদের পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে যেন সংকল্পশুদ্ধি ও নৈতিক প্রস্তুতি রক্ষা পায়। দেবী তাঁকে প্রভাস-ক্ষেত্ররক্ষক নিযুক্ত করে বলেন, পরিবার-ধনাসক্তি বা রোগ ইত্যাদি ঘটিয়ে অস্থিরদের ফিরিয়ে দাও, যাতে কেবল দৃঢ়চিত্তরাই অগ্রসর হয়। পরিশেষে কাপর্দ্দীর উদ্দেশে বিঘ্নমর্দন স্তোত্র, লাল উপচারে পূজা ও চতুর্থী-ব্রতের বিধান দেওয়া হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বিঘ্নের উপর অধিকার, নির্দিষ্ট সময়ে সিদ্ধি এবং কাপর্দ্দীর কৃপায় শেষ পর্যন্ত সোমেশ্বর-দর্শনের কথা বলা হয়েছে; ‘কাপর্দ্দী’ নামটি তাঁর কাপর্দ-সদৃশ আকৃতির সঙ্গে যুক্ত।

Kedāra (Vṛddhi/Kalpa) Liṅga Māhātmya and Śivarātri Jāgaraṇa: The Narrative of King Śaśabindu
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে প্রভাসক্ষেত্রে কেদার-সম্পর্কিত লিঙ্গের মাহাত্ম্য বলেন। লিঙ্গটি স্বয়ম্ভূ, শিবপ্রিয় এবং ভীমেশ্বরের নিকটে অবস্থিত; পূর্বযুগে এর নাম ছিল রুদ্রেশ্বর। ম্লেচ্ছ-সংস্পর্শের ভয়ে এটি লীন/গুপ্ত হয়ে যায় এবং পরে পৃথিবীতে ‘কেদার’ নামে প্রসিদ্ধ হয়। বিধান হলো—লবণসমুদ্রে ও পদ্মক তীর্থ/কুণ্ডে স্নান করে রুদ্রেশ ও কেদারের পূজা করা। বিশেষত শুক্লপক্ষের চতুর্দশীতে একরাত্রি জাগরণসহ শিবরাত্রি-ব্রতকে মহাপুণ্যদায়ক বলা হয়েছে। এরপর রাজা শশবিন্দু চতুর্দশীতে প্রভাসে এসে জপ-হোমরত ঋষিদের দেখে সোমনাথের পূজা করেন এবং কেদারে গিয়ে জাগরণ পালন করেন। চ্যবন, যাজ্ঞবল্ক্য, নারদ, জৈমিনি প্রমুখের প্রশ্নে তিনি পূর্বজন্মের কথা বলেন—দুর্ভিক্ষে তিনি শূদ্র ছিলেন; রামসরসে পদ্ম তুলেও বিক্রি করতে পারেননি। তখন অনঙ্গবতী নামের গণিকা বৃদ্ধ/রুদ্রেশ্বর লিঙ্গে শিবরাত্রি জাগরণ আয়োজন করেন; খাদ্যাভাবজনিত অনিচ্ছাকৃত উপবাস, স্নান, পদ্মার্পণ ও জাগরণের ফলে তিনি পরজন্মে রাজত্ব লাভ করেন এবং কারণ স্মরণে থাকে। শেষে বলা হয়—এই লিঙ্গপূজা মহাপাপ নাশ করে ও সকল পুরুষার্থ দেয়; অনঙ্গবতীও একই ব্রতে অপ্সরা হন।

भीमेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् / Chapter 40: The Māhātmya (Sacred Account) of Bhīmeśvara
এই অধ্যায়ে শিব–দেবীর সংলাপে ভীমেশ্বর লিঙ্গের উৎপত্তি, নামকরণ ও মহিমা বর্ণিত হয়েছে। ঈশ্বর দেবীকে প্রভাসক্ষেত্রে কেদারেশ্বরের নিকটে অবস্থিত এক অত্যন্ত ফলদায়ক লিঙ্গের কথা জানান—যা শ্বেতকেতু প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং পূর্বে ভীমও পূজা করেছিলেন। তীর্থফল ও শুভ পরলোকগতি কামনাকারীদের জন্য সেখানে বিধিবদ্ধ পূজা, দুধাভিষেক প্রভৃতি ক্রমের গুরুত্ব বলা হয়েছে। দেবী জানতে চান—শ্বেতকেতুর লিঙ্গ কীভাবে প্রসিদ্ধ হল এবং কেন তা ভীমেশ্বর নামে পরিচিত। ঈশ্বর বলেন, ত্রেতাযুগে রাজর্ষি শ্বেতকেতু প্রভাসের পবিত্র সমুদ্রতটে বহু বছর ঋতু-ঋতুতে কঠোর তপস্যা করেন। শিব প্রসন্ন হয়ে বর দেন; শ্বেতকেতু অচঞ্চল ভক্তি ও সেই স্থানে শিবের স্থায়ী অধিষ্ঠান প্রার্থনা করলে শিব সম্মতি দেন, ফলে লিঙ্গ ‘শ্বেতকেত্বীশ্বর’ নামে খ্যাত হয়। কলিযুগে তীর্থযাত্রায় ভীমসেন ভ্রাতৃসহ এসে সেই লিঙ্গ পূজা করলে তা পুনরায় ‘ভীমেশ/ভীমেশ্বর’ নামে প্রসিদ্ধ হয়। শেষে বলা হয়েছে—মাত্র দর্শন ও একবার ভক্তিপূর্ণ প্রণামেই বহু জন্মের পাপ নাশ হয়।

भैरवेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् / The Māhātmya of Bhairaveśvara
অধ্যায় ৪১-এ ঈশ্বর পূর্বদিকের এক মহাশক্তিশালী লিঙ্গের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন, যা সরস্বতীর সঙ্গে যুক্ত এবং সমুদ্রের নিকটে অবস্থিত। কাহিনিতে ধ্বংসকারী “বডবানল” (সমুদ্রগর্ভের অগ্নি) থেকে মহাসঙ্কট দেখা দেয়। তখন দেবী লিঙ্গকে সমুদ্রতীরে এনে বিধিপূর্বক পূজা করেন, বডবানলকে ধারণ করে দেবকল্যাণের জন্য সমুদ্রে নিক্ষেপ করেন। দেবগণ শঙ্খধ্বনি, দুন্দুভি-নাদ ও পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে আনন্দোৎসব করেন এবং দেবীকে “দেবমাতা” উপাধিতে ভূষিত করেন—কারণ এ কর্ম দেব-দানবের পক্ষেও দুরূহ। ঈশ্বর ব্যাখ্যা করেন, দেবীর শুভ লিঙ্গপ্রতিষ্ঠা এবং নদীশ্রেষ্ঠ, পাপনাশিনী সরস্বতীর প্রশংসার ফলে এই লিঙ্গ “ভৈরব” নামে খ্যাত হয়ে “ভৈরবেশ্বর” রূপে প্রসিদ্ধ হয়। শেষে বিধান দেওয়া হয়—সরস্বতী ও ভৈরবেশ্বরের পূজা, বিশেষত মহা-নবমীতে যথাবিধি স্নানসহ করলে, বাক্দোষ দূর হয়। দুধে অভিষেক করে অঘোর মন্ত্রে লিঙ্গপূজা করলে তীর্থযাত্রার পূর্ণ ফল লাভ হয়।

चण्डीशमाहात्म्यवर्णनम् (Chandīśa Shrine-Glory and Ritual Protocols)
অধ্যায় ৪২-এ ঈশ্বর দেবীকে প্রভাস-ক্ষেত্রে চণ্ডীশ দেবতার নিকট গমন ও পূজার বিধান শিক্ষা দেন। তীর্থের অবস্থান দিক-চিহ্নে নির্দিষ্ট—সোমেশ/ঈশের দিগ্ভাগের কাছে এবং দণ্ডপাণির আবাসের খুব দূরে দক্ষিণে নয়। পূর্বে চণ্ডা ও কঠোর তপস্যাকারী এক গণ এখানে প্রতিষ্ঠা ও পূজা করেছিলেন—এই সূত্রে প্রসিদ্ধ চণ্ডেশ্বর লিঙ্গের মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর শৃঙ্খলাবদ্ধ পূজা-ক্রম বলা হয়েছে—দুধ, দই ও ঘিয়ে অভিষেক; মধু, আখের রস ও কেশর লেপন; কর্পূর, উশীরা, কস্তুরীসার প্রভৃতি সুগন্ধি দ্রব্য ও চন্দন; পুষ্পার্চনা; ধূপ ও অগুরু; সামর্থ্য অনুযায়ী বস্ত্রার্পণ; দীপসহ নৈবেদ্য, বিশেষত পরমান্ন; এবং দ্বিজাতিদের দান-দক্ষিণা। স্থানবিশেষ ফলও ঘোষিত—দক্ষিণমুখে দান করলে তা চণ্ডীশের জন্য অক্ষয় হয়; চণ্ডীশের দক্ষিণে শ্রাদ্ধ করলে পিতৃগণ দীর্ঘকাল তৃপ্ত থাকেন; উত্তরায়ণে ঘৃত-কম্বল ব্রত/দান কঠোর পুনর্জন্ম এড়ায়। শেষে শূলিনের তীর্থভক্তিকে প্রায়শ্চিত্তরূপে বলা হয়েছে—নির্মাল্য-অপরাধ, অজান্তে ভক্ষণ ও অন্যান্য কর্মজনিত দোষ থেকে জীবকে মুক্ত করে।

आदित्येश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Adityeśvara Māhātmya (Chapter on the Glory of Adityeśvara)
অধ্যায় ৪৩-এ ঈশ্বর দেবীকে দিকনির্দেশসহ তীর্থযাত্রার উপদেশ দেন। সোমেশের পশ্চিমে ‘সাত ধনুক’ পরিমিত দূরত্বের মধ্যে সূর্য-প্রতিষ্ঠিত এক লিঙ্গের কথা বলা হয়েছে। সেই লিঙ্গের নাম আদিত্যেশ্বর, যিনি সর্বপাপ-নাশক। ত্রেতাযুগের স্মৃতি যোগ হয়—সমুদ্র দীর্ঘকাল রত্ন দিয়ে এই লিঙ্গের পূজা করেছিল—এতে স্থানের প্রাচীন মহিমা প্রতিষ্ঠিত হয়। রত্নপূজার কারণে দেবতার আরেক নাম ‘রত্নেশ্বর’। বিধান হলো—পঞ্চামৃতস্নান করিয়ে পাঁচটি রত্ন দিয়ে পূজা, তারপর রাজোপচারে বিধিমতো আরাধনা। ফলশ্রুতিতে মেরুদানের তুল্য ফল, যজ্ঞ-দানসমূহের সমষ্টিগত পুণ্য, এবং পিতৃ-মাতৃ বংশের উন্নতি/উদ্ধার বলা হয়েছে; শৈশব, যৌবন, প্রৌঢ় ও বার্ধক্যের পাপ রত্নেশ্বর দর্শনে ধুয়ে যায়। এখানে ধেনুদান (গোদান) প্রশংসিত; দশ পূর্ব ও দশ পরবর্তী প্রজন্মের মুক্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। যথাবিধি লিঙ্গপূজার পরে দেবতার ডানদিকে শতারুদ্রিয় পাঠ করলে পুনর্জন্ম হয় না। শেষে বলা হয়েছে—শ্রদ্ধাসহকারে শ্রবণও কর্মবন্ধন মোচন করে।

Someshvara-māhātmya-varṇanam (Glorification and Ritual Protocol of Someshvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর ক্রমানুসারে উপাসনার বিধান বলেন। আদিত্যেশের যথাবিধি পূজা সম্পন্ন করে সাধক সোমেশ্বরে গমন করবে এবং সেখানে পঞ্চাঙ্গ-ভক্তিসহ বিশেষ যত্নে আরাধনা করবে। সাষ্টাঙ্গ প্রণাম, প্রদক্ষিণা ও বারংবার দর্শন—এই দেহগত শ্রদ্ধার আচরণকে প্রধান বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমেশ্বর-লিঙ্গে সূর্য ও চন্দ্র তত্ত্বের ঐক্য প্রতিপাদিত; তাই এই পূজা অগ্নীষোম-ভাবনায় যজ্ঞের উদ্দেশ্যকে মন্দির-উপাসনার মাধ্যমে প্রতীকীভাবে সম্পূর্ণ করে। এরপর নিকটবর্তী উমাদেবীর পূজা এবং পরে দৈত্যসূদন তীর্থে অগ্রসর হওয়ার কথা বলে প্রভাসক্ষেত্রের সংযুক্ত পবিত্র পরিক্রমার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। শেষে এটিকে প্রভাসখণ্ডের প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যে সোমেশ্বর-মাহাত্ম্যবর্ণনার ৪৪তম অধ্যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

अङ्गारेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Aṅgāreśvara Māhātmya: The Glory of the Aṅgāreśvara Shrine)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর প্রভাস-ক্ষেত্রে অঙ্গারেশ্বরের উৎপত্তি ও পূজার মহিমা বর্ণনা করেন। ত্রিপুর দগ্ধ করার সংকল্পকালে শিবের তীব্র ক্রোধে তাঁর ত্রিনেত্র থেকে অশ্রুধারা নির্গত হয়; সেই দিব্য তত্ত্ব পৃথিবীতে পতিত হয়ে ভূসূত জন্মায়, যিনি ভোম/মঙ্গল (মঙ্গলগ্রহ) নামে প্রসিদ্ধ। শৈশব থেকেই ভোম প্রভাসে এসে শঙ্করের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ তপস্যা করেন; শিব প্রসন্ন হয়ে তাঁকে বর প্রদান করেন। ভোম গ্রহত্ব প্রার্থনা করলে শিব তা অনুমোদন করেন এবং ভক্তদের জন্য রক্ষাপ্রতিজ্ঞা করেন—যারা ভক্তিভরে সেখানে অঙ্গারেশ্বরের পূজা করবে তারা বিপদ থেকে রক্ষা পাবে। লাল ফুলে অর্চনা, মধু-ঘৃত মিশ্রিত আহুতি সহ লক্ষসংখ্যক হোম এবং পঞ্চোপচার পূজার বিধান উল্লেখ আছে। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে, এই সংক্ষিপ্ত মাহাত্ম্য শ্রবণে পাপক্ষয় ও আরোগ্যলাভ হয়; বিদ্রুম (মূঙ্গা) প্রভৃতি দানে ইষ্টফল মেলে, এবং ভোমকে গ্রহসমূহের মধ্যে দিব্য বিমানে দীপ্তিমান বলা হয়েছে।

बुधेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Budheśvara Māhātmya (The Glory of Budheśvara Liṅga)
ঈশ্বর দেবীকে নির্দেশ দেন—উত্তরদিকে অবস্থিত অত্যন্ত শক্তিশালী ‘বুধেশ্বর’ নামক লিঙ্গে গমন করো। বলা হয়েছে, কেবল দর্শনমাত্রেই এই লিঙ্গ সর্বপাপহর; তাই এটি পরম পবিত্র তীর্থ। এই তীর্থের প্রতিষ্ঠা বুধ (গ্রহ) করেছেন—এমনই কাহিনি। বুধ সদাশিবের আরাধনায় দীর্ঘকাল তপস্যা ও পূজা করেন, “দশ-দশ হাজার বছরের চার বছর” সদৃশ চার পর্ব ধরে, এবং শেষে শিবের প্রত্যক্ষ দর্শন লাভ করেন। প্রসন্ন শিব তাঁকে গ্রহরূপে অধিষ্ঠান দেন এবং বিশেষত সৌম্যাষ্টমীতে এই লিঙ্গের যথাবিধি পূজাকে রাজসূয় যজ্ঞসম ফলদায়ক বলেন। ফলশ্রুতিতে দুর্ভাগ্য, বংশগত অমঙ্গল, প্রিয়বস্তুর বিচ্ছেদ এবং শত্রুভয় থেকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি আছে। ভক্তিভরে এই মাহাত্ম্য শ্রবণ করলে সাধক পরম পদে অগ্রসর হয়।

वृहस्पतीश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Bṛhaspatīśvara (Guru-associated Liṅga)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে উপদেশ দেন—তীর্থযাত্রী যেন পূর্বভাগে, উমা-সম্পর্কিত আগ্নেয় অঞ্চলের অন্তর্গত এক বিশেষ লিঙ্গের দিকে মনোযোগ দেয়। দেবাচার্য প্রতিষ্ঠিত এই মহালিঙ্গ গুরু বृहস্পতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, তাই এর নাম বृहস্পতীশ্বর। দীর্ঘকাল শ্রদ্ধাভরে লিঙ্গ-সেবা করলে সাধক দুর্লভ কামনাও লাভ করে; পরে দেবগণের মধ্যে সম্মান এবং ঈশ্বর-জ্ঞান প্রাপ্ত হয়। বृहস্পতি-নির্মিত লিঙ্গের কেবল দর্শনমাত্রই অমঙ্গল নিবারণ করে এবং বিশেষত বृहস্পতি-জনিত দুঃখকষ্টের প্রতিকার বলে বর্ণিত। শুক্ল চতুর্দশী যদি বৃহস্পতিবারে পড়ে, সেই সময় পূজা বিশেষ প্রশস্ত; বিধিপূর্বক রাজোপচারসহ বা নির্মল ভক্তিভাবে পূজা করা যায়। বৃহৎ পরিমাণে পঞ্চামৃতস্নান করলে মাতৃঋণ, পিতৃঋণ ও গুরুঋণ—এই ঋণত্রয় থেকে মুক্তি, শুদ্ধি, নির্বন্দ্ব মন এবং শেষ পর্যন্ত মোক্ষ লাভ হয়। শেষে ফলশ্রুতি—শ্রদ্ধায় শ্রবণ করলে গুরু প্রসন্ন হন।

Śukreśvara-māhātmya (Glory of the Liṅga Established by Śukra)
এই অধ্যায়ে প্রভাস-ক্ষেত্রের এক স্থানীয় তীর্থের মাহাত্ম্য বলা হয়েছে। ঈশ্বর দেবীকে জানান, পশ্চিমদিকে বিভূতীশ্বরের নিকটে ভৃগুবংশীয় শুক্র স্থাপিত এক শিবলিঙ্গ আছে; তার দর্শন ও স্পর্শে পাপক্ষয় হয় এবং নৈতিক কলুষ দূর হয়। কথায় স্মরণ করা হয়—রুদ্রের প্রভাবে ও কঠোর তপস্যায় শুক্র সংজীবনী-বিদ্যা লাভ করেন। দেবকার্যসিদ্ধির জন্য শম্ভু তাঁকে গিলে নেন; দেবদেহের অন্তরেও শুক্র তপস্যা অব্যাহত রাখেন, মহাদেব প্রসন্ন হয়ে তাঁকে মুক্ত করেন—এটাই লিঙ্গের নাম ও পবিত্রতার কারণকথা। পরে বিধান—স্থিরচিত্তে লিঙ্গপূজা, মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র এক লক্ষ জপ, পঞ্চামৃতাভিষেক ও সুগন্ধি-পুষ্পার্চনা। ফল—মৃত্যুভয় থেকে রক্ষা, পাপনাশ, ইষ্টসিদ্ধি এবং ঐশ্বর্যাদি সিদ্ধিলাভ; সবই অচঞ্চল ভক্তির উপর নির্ভরশীল।

Śanaiścaraiśvara (Saurīśvara) Māhātmya and Daśaratha’s Śani-stotra | शनैश्चरैश्वरमाहात्म्यं तथा दशरथकृतशनीस्तोत्रम्
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর–দেবী সংলাপের মাধ্যমে প্রভাস-ক্ষেত্রে অবস্থিত ‘শনৈশ্চরৈশ্বর/সৌরীশ্বর’ নামক মহালিঙ্গ-তীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। লিঙ্গটিকে ‘মহাপ্রভ’ শক্তিকেন্দ্র বলা হয়েছে, যা মহাপাপ, ভয় ও বিপদ প্রশমিত করে; শনি-দেবের উচ্চ মর্যাদা শম্ভু-ভক্তির সঙ্গে যুক্ত করে দেখানো হয়েছে। শনিবার-ব্রতের নিয়মও বলা হয়েছে—শমীপাতা সহ তিল, মাষ, গুড়, ওদন প্রভৃতি নিবেদন এবং যোগ্য পাত্রকে কালো ষাঁড় দান। কাহিনির কেন্দ্রে রাজা দশরথের সংকট: জ্যোতিষে বলা হয় শনি রোহিণীর দিকে অগ্রসর হলে ‘শকট-ভেদ’ দোষে অনাবৃষ্টি ও দুর্ভিক্ষ হতে পারে। অন্য উপায় নেই জেনে দশরথ সাহস ও তপস্যায় নক্ষত্রলোক গিয়ে শনি-দেবের মুখোমুখি হন এবং বর চান—রোহিণীকে কষ্ট না দেওয়া, শকট-ভেদ না ঘটানো, এবং বারো বছরের দুর্ভিক্ষ না আনা; শনি তা মঞ্জুর করেন। অধ্যায়ে দশরথকৃত শনি-স্তোত্র সংরক্ষিত আছে—শনি-দেবের ভয়ংকর রূপ ও রাজ্য দান-হরণের ক্ষমতার প্রশংসা করা হয়েছে। শনি প্রতিশ্রুতি দেন, যে ভক্ত পূজা করে অঞ্জলি বেঁধে এই স্তোত্র পাঠ করবে, সে শনি-দোষ ও অন্যান্য গ্রহ-উপদ্রব থেকেও জন্মনক্ষত্র, লগ্ন, দশা-অন্তর্দশা প্রভৃতি সময়ে রক্ষা পাবে। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে, শনিবার ভোরে পাঠ ও স্মরণে গ্রহজনিত দুঃখ নাশ হয় এবং অভীষ্ট সিদ্ধি লাভ হয়।

राह्वीश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Rāhvīśvara Māhātmya (The Glory of Rāhu-established Īśvara)
প্রভাসখণ্ডের পঞ্চাশতম অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে এক বিশেষ তীর্থের তত্ত্ব ও মাহাত্ম্য বলেন। এখানে রাহু (স্বভানু/সৈংহিকেয়) প্রতিষ্ঠিত এক মহাশক্তিশালী শিবলিঙ্গের কথা আছে। তার অবস্থান বায়ব্য দিকের দিকে—মঙ্গলার নিকটে, আজাদেবীর উত্তরে, এবং সাতটি ‘ধনু’ চিহ্নিত স্থানের সন্নিধানে বলে নির্দেশ করা হয়েছে। উৎপত্তিকথায় ভয়ংকর অসুর স্বভানু সহস্র বছর কঠোর তপস্যা করে মহাদেবকে প্রসন্ন করে। প্রসন্ন হয়ে মহাদেব ‘জগদ্দীপ’—জগতের প্রদীপের মতো দীপ্ত হয়ে সেখানে লিঙ্গরূপে প্রকাশিত/প্রতিষ্ঠিত হন। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—শ্রদ্ধাভরে পূজা ও যথাযথ দর্শনে ব্রহ্মহত্যাসদৃশ মহাপাপও ক্ষয় হয়। অন্ধত্ব, বধিরতা, বাক্হীনতা, রোগ ও দারিদ্র্য দূর হয়ে সমৃদ্ধি, সৌন্দর্য, অভীষ্টসিদ্ধি এবং দেবতুল্য ভোগ লাভ হয়। শেষে এটিকে স্কন্দপুরাণের প্রভাসখণ্ডের প্রভাসক্ষেত্র-মাহাত্ম্যের অন্তর্গত অধ্যায় বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

केत्वीश्वरमाहात्म्यवर्णन (Ketu-linga / Ketvīśvara Māhātmya Description)
এই অধ্যায়ে প্রভাস-ক্ষেত্রের মধ্যে কেতুলিঙ্গ (কেত্বীশ্বর)-এর স্থানবর্ণনা ও পূজাবিধি ঈশ্বরের বচনে প্রকাশিত হয়েছে। তীর্থটি রাহ্বীশানের উত্তরে ও মঙ্গলার দক্ষিণে, ধনুকের তীর-ছোঁড়া দূরত্বে—এভাবে সম্পর্কিত ভূগোল দিয়ে যাত্রীদের পথনির্দেশ করা হয়। পরে কেতু-গ্রহের ভীষণ রূপ ও লক্ষণ বর্ণিত হয় এবং বলা হয় যে তিনি শত দিব্যবর্ষ তপস্যা করে শিবের অনুগ্রহ লাভ করে বহু গ্রহের অধিপত্য প্রাপ্ত হন। কেতুর অশুভ উদয়কালে ও প্রবল গ্রহপীড়ায় কেতুলিঙ্গের ভক্তিপূর্বক আরাধনা বিধেয়—পুষ্প, গন্ধ, ধূপ এবং নানাবিধ নৈবেদ্য যথাবিধি নিবেদন করতে বলা হয়েছে। ফলশ্রুতি স্পষ্ট: এই তীর্থ গ্রহদোষ শান্ত করে ও পাপ বিনাশ করে। শেষে কেতুলিঙ্গকে নবগ্রহ-লিঙ্গ ও মোট চৌদ্দ আয়তনের বৃহত্তর ব্যবস্থার মধ্যে স্থাপন করে বলা হয়েছে—নিয়মিত দর্শনে পীড়াভয় দূর হয় এবং গৃহস্থের মঙ্গল বৃদ্ধি পায়।

सिद्धेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् / The Glorification of Siddheśvara
ঈশ্বর দেবীকে “পাঁচ সিদ্ধ-লিঙ্গ”-এর মাহাত্ম্য বোঝান এবং বলেন—এগুলির দর্শনেই মানুষের তীর্থযাত্রা সফল (যাত্রা-সিদ্ধি) হয়। পরে সিদ্ধেশ্বরের অবস্থান নির্দেশ করা হয়—সোমেশের নিকটে নির্দিষ্ট দিকভাগে, এবং এক প্রসিদ্ধ স্থানের পূর্ব অংশে সিদ্ধেশ্বর প্রতিষ্ঠিত। ভক্তিভরে অভিগমন ও পূজা অত্যন্ত ফলপ্রদ; অণিমা প্রভৃতি সিদ্ধি, পাপক্ষয় এবং সিদ্ধলোক-প্রাপ্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অধ্যায়ে অন্তর্গত “বিঘ্ন”গুলিও তালিকাভুক্ত—কাম, ক্রোধ, ভয়, লোভ, আসক্তি, ঈর্ষা, দম্ভ, আলস্য, নিদ্রা, মোহ ও অহংকার—যা সিদ্ধির প্রতিবন্ধক। সিদ্ধেশ্বর-আরাধনায় ক্ষেত্রবাসী ও তীর্থযাত্রীদের এই বিঘ্ন নাশ হয়; তাই নিয়মিত তীর্থযাত্রা ও স্থায়ী অর্চনার প্রেরণা দেওয়া হয়েছে। শেষে বলা হয়—এই কাহিনি শ্রবণমাত্রেই পাপনাশক এবং ভক্তির দ্বারা ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ প্রভৃতি যথোচিত পুরুষার্থ প্রদানকারী।

कपिलेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Kapileśvara Māhātmya—Account of the Glory of Kapileśvara)
শিব–দেবীর সংলাপরূপে এই অধ্যায়ে তীর্থযাত্রীকে কপিলেশ্বর তীর্থের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রাপথে উল্লিখিত স্থানের সামান্য পূর্বদিকে অবস্থিত কপিলেশ্বর লিঙ্গকে ‘মহাপ্রভাব’ বলা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে দর্শনমাত্রেই পাপক্ষয় হয়। এই তীর্থের পবিত্রতার কারণ রাজর্ষি কপিলের তপস্যা—তিনি সেখানে মহাদেবকে প্রতিষ্ঠা করে পরম সিদ্ধি লাভ করেন; আরও বলা হয়েছে যে এই লিঙ্গে সর্বদা দেবসান্নিধ্য বিরাজ করে। এরপর কালবিধান—শুক্লপক্ষের চতুর্দশীতে নিয়মশীল ভক্ত যদি সর্বলোককল্যাণের জন্য কপিলেশ্বররূপে সোম/সোমেশের সাতবার দর্শন করে, তবে গোধনের দানের সমান ফল লাভ করে। শেষে দানবিধি—যে ব্যক্তি সেই তীর্থে একাগ্রচিত্তে ‘তিল-ধেনু’ দান করে, সে তিলদানা যত, তত যুগ স্বর্গে বাসের প্রতিশ্রুতি পায়—এটাই ফলশ্রুতির নৈতিক প্রেরণা।

गन्धर्वेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Gandharveśvara (Ghanavāheśvara Liṅga)
ঈশ্বর দেবীকে প্রভাস-ক্ষেত্রের এক বিশেষ তীর্থের মাহাত্ম্য শোনান। দণ্ডপাণির নিবাসের উত্তরে অবস্থিত ‘উত্তম গন্ধর্বেশ্বর’ লিঙ্গের দর্শন-पूজার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাহিনির কেন্দ্রে গন্ধর্বরাজ ঘনবাহ ও তাঁর কন্যা গন্ধর্বসেনা। রূপগর্বে গন্ধর্বসেনা শিখণ্ডিন ও তাঁর গণদের দ্বারা অভিশপ্ত হন; পরে গোশৃঙ্গ ঋষি সোম/শিবভক্তি এবং সোমবার-ব্রত (সোমবার-ব্রত) অবলম্বনে অনুগ্রহ দিয়ে শাপশমন ও মুক্তির পথ দেখান। ঘনবাহ কঠোর তপস্যা করে সেখানে একটি লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন, কন্যাও সেখানে লিঙ্গ স্থাপন করেন; সেই পূজ্য লিঙ্গ ‘ঘনবাহেশ্বর’ নামে প্রসিদ্ধ। দণ্ডপাণির নিকটে সতর্ক ও ভক্তিপূর্ণ পূজায় শুদ্ধ ও সংযমী ভক্তের গন্ধর্বলোকপ্রাপ্তি বলা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে এটিকে ‘তৃতীয়’ পাপনাশক ও পুণ্যবর্ধক শক্তিস্থান বলা হয়; অগ্নিতীর্থে স্নান ও গন্ধর্ববন্দিত লিঙ্গের আরাধনা প্রশংসিত, এবং উত্তরায়ণ আগমনে নির্বাণলাভের বিশেষ উল্লেখ আছে। এই মাহাত্ম্য শ্রবণ ও সম্মান করলে মহাভয় থেকে মুক্তি ঘটে।

Vimaleśvara-māhātmya (विमलेश्वरमाहात्म्य) — The Glory of Vimaleśvara
ঈশ্বর দেবীকে নির্দেশ দেন—গৌরীর নিকটে, নৈঋত্য দিকের দিকে অল্প দূরে অবস্থিত বিমলেশ্বরে গমন করতে। এই তীর্থকে ‘পাপ-প্রণাশন’ বলা হয়েছে; নারী-পুরুষ সকলের, এমনকি দেহক্ষয়ে কাতর লোকেরও পাপ নাশ করে দুঃখের অবসান ঘটায়। এখানে ভক্তিযুক্ত অর্চনাই প্রধান উপায়; তার ফলে ক্লেশ দূর হয় এবং সাধক ‘নির্মল’ অবস্থান/পদ লাভ করে। গন্ধর্বসেনা ও বিমলা-সংক্রান্ত কারণকথা দ্বারা পৃথিবীতে লিঙ্গের ‘বিমলেশ্বর’ নামে খ্যাতির উৎস ব্যাখ্যা করা হয়েছে। শেষে একে মাহাত্ম্য-ক্রমের চতুর্থ অংশ বলে, সর্বপাপ-নাশক মহিমা পুনরায় ঘোষণা করা হয়েছে।

धनदेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Dhanadeśvara Māhātmya (Glory of Dhanadeśvara)
ঈশ্বর প্রভাসক্ষেত্রে ধনদেশ্বর নামে এক প্রসিদ্ধ সিদ্ধ-লিঙ্গের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। এটি ব্রহ্মার নৈঋত্য (দক্ষিণ-পশ্চিম) দিকের অংশে, ‘ধনুষ’ পরিমাপের ষোড়শ স্থানে, রাহুলিঙ্গের নিকটে অবস্থিত বলে বলা হয়েছে। ধনদ (কুবের) পূর্বাবস্থার স্মৃতি ও শিবরাত্রি এবং প্রভাসের মহিমা উপলব্ধি করে সেখানে প্রত্যাবর্তন করেন এবং সেই স্থানের অসাধারণ শক্তি প্রত্যক্ষ করেন। তিনি বিধিপূর্বক দীর্ঘকাল কঠোর তপস্যা করে লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা ও পূজা করেন। শিবের কৃপায় ধনদ আলকার অধিপতি হন এবং উচ্চ মর্যাদা লাভ করেন; তপস্যা ও ভক্তির দ্বারা তিনি সেখানে শংকরের প্রকাশিত সান্নিধ্য আরও নিশ্চিত করেন। অধ্যায়ের শেষে বলা হয়েছে—পঞ্চোপচার ও সুগন্ধি দ্রব্যে পূজা করলে বংশে স্থায়ী সমৃদ্ধি, অজেয়তা, শত্রুর অহং দমন এবং দারিদ্র্যের উদ্ভব রোধ হয়। যে শ্রদ্ধায় এই মাহাত্ম্য শ্রবণ ও সম্মান করে, তার মঙ্গল স্থির থাকে।

वरारोहामाहात्म्यवर्णनम् / The Māhātmya of Varārohā (Umā as Icchā-Śakti) at Somēśvara
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে ত্রিশক্তির তত্ত্ব বোঝান—ইচ্ছা, ক্রিয়া ও জ্ঞান। পূর্বে বর্ণিত পবিত্র লিঙ্গসমূহের প্রসঙ্গ প্রসারিত করে বলা হয়েছে, সাধক নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট লিঙ্গপূজা সম্পন্ন করে পরে এই তিন শক্তির পূজা করবে। প্রভাসক্ষেত্রের সোমেশ্বর অঞ্চলে ইচ্ছাশক্তি “বরারোহা” নামে প্রতিষ্ঠিত—এ কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছে। কাহিনিতে সোম কর্তৃক পরিত্যক্ত ছাব্বিশ পত্নী শুভ প্রভাসভূমিতে তপস্যা করেন; তখন গৌরী/পার্বতী আবির্ভূত হয়ে বরদান করেন এবং নারীদের দুর্ভাগ্য-নিবারণের জন্য এক প্রতিকারমূলক ধর্মাচার স্থাপন করেন। মাঘ মাসের শুক্ল তৃতীয়ায় “গৌরী-ব্রত”—দর্শন ও পূজাসহ পালনের বিধান, সঙ্গে “ষোলো” প্রকার দান/নৈবেদ্য (ফল, ভোজ্য, পাকান্ন ইত্যাদি) এবং দম্পতিদের সম্মান। ফলশ্রুতিতে অশুভ নাশ, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি, ইষ্টসিদ্ধি, এবং সোমেশ্বরে বরারোহা পূজায় পাপ ও দারিদ্র্য বিনাশের কথা ঘোষিত।

अजापालेश्वरीमाहात्म्यवर्णनम् | Ajāpāleśvarī Māhātmya (Glorification of Ajāpāleśvarī)
ঈশ্বর প্রভাসক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ক্রিয়াত্মিকা শক্তির দ্বিতীয় রূপের কথা বলেন, যা দেবতাদের প্রীতিকর। সোমেশ ও বায়ুর মধ্যবর্তী অঞ্চলে যোগিনীগণ পূজিত এক পীঠের উল্লেখ আছে, পাটাল-বিবরের নিকটে; ভক্তদের জন্য সেখানে নিধি, দিব্য ঔষধ ও রসায়নের গুপ্ত ভাণ্ডার প্রাপ্তিযোগ্য বলা হয়েছে। দেবীকে ভৈরবী রূপে চিহ্নিত করা হয়। এরপর ত্রেতাযুগের রাজা অজাপাল রোগাক্রান্ত হয়ে পাঁচশো বছর ভৈরবীর আরাধনা করেন। দেবী প্রসন্ন হয়ে তাঁর দেহের সব রোগ দূর করেন; রোগগুলি ছাগলের রূপে দেহ থেকে বেরিয়ে যায়, এবং রাজাকে সেগুলি রক্ষা করতে আদেশ দেন—তাই তিনি ‘অজাপাল’ নামে খ্যাত হন, আর দেবী চার যুগ ধরে ‘অজাপালেশ্বরী’ নামে প্রতিষ্ঠা পান। অষ্টমী ও চতুর্দশীতে পূজা করলে বিশেষ সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। আশ্বযুজ শুক্ল অষ্টমীতে সোমেশ্বরকে কেন্দ্র করে তিনবার প্রদক্ষিণা, তারপর স্নান করে পৃথকভাবে দেবীপূজা করলে তিন বছর ভয় ও শোক নাশ হয়। নারীদের বন্ধ্যাত্ব, রোগ বা দুর্ভাগ্যে দেবীর সামনে নবমী-ব্রত পালনের বিধান দেওয়া হয়েছে। পরে রাজবংশ ও রাজনৈতিক কাহিনিতে রাবণের প্রসঙ্গ আসে—রাবণ দেবতাদের অধীন করতে চাইলে অজাপাল ‘জ্বর’কে প্রেরণ করে তাকে পীড়িত করেন, ফলে রাবণ প্রত্যাবর্তনে বাধ্য হয়। শেষে অজাপালেশ্বরীর রোগশমন ও বিঘ্ননাশিনী শক্তি প্রশংসিত; গন্ধ, ধূপ, অলংকার ও বস্ত্রাদি নিবেদনসহ পূজাকে পাপ-দুঃখ নিবারক বলা হয়েছে।

अजादेवीमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Ajā Devī (Chapter 59)
এই অধ্যায়ে শিব–দেবীর তাত্ত্বিক সংলাপের মাধ্যমে তীর্থভূগোল ও কর্মফলের যোগ স্থাপিত হয়েছে। ঈশ্বর প্রভাসে অধিষ্ঠিত ‘তৃতীয়’ জ্ঞানশক্তির কথা বলেন—যা শিবময় এবং দারিদ্র্যনাশিনী। দেবী শিবের মুখতত্ত্ব জিজ্ঞাসা করেন—ষষ্ঠ মুখের নাম কী এবং সেখান থেকে অজা দেবীর আবির্ভাব কীভাবে। ঈশ্বর গূঢ় রহস্য প্রকাশ করেন—পূর্বে সাতটি মুখ ছিল; ‘অজা’ মুখ ব্রহ্মার সঙ্গে এবং ‘পিচু’ মুখ বিষ্ণুর সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই বর্তমান কালে শিব পঞ্চবক্ত্র। অজা-মুখ থেকে অন্ধাসুরের সঙ্গে ভয়ংকর যুদ্ধে অজা দেবী প্রকাশিত হন—খড়্গ-ঢালধারিণী, সিংহবাহিনী, অসংখ্য দেবশক্তিতে পরিবৃতা। পালিয়ে যাওয়া দানবরা দক্ষিণ সমুদ্রের দিকে প্রভাসক্ষেত্রে এসে বিনষ্ট হয়; পরে দেবী ক্ষেত্রের পবিত্রতা জেনে সোমেশের নিকটে, সৌরীশের সম্পর্কিত নির্দিষ্ট দিশায় স্থিত হন। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—দর্শনে সাত জন্ম পর্যন্ত শুভগুণলাভ; গান-নৃত্য করলে বংশের অমঙ্গল দূর হয়; লাল সলতে-যুক্ত ঘৃতপ্রদীপ দানে প্রদীপের সুতোর সংখ্যামতো দীর্ঘকাল মঙ্গল; এবং পাঠ/শ্রবণ, বিশেষত তৃতীয়া তিথিতে, ইষ্টসিদ্ধি দেয়। শেষে নির্দেশ—এই শক্তিগুলির পূজা করে সোমেশের আরাধনা করলে তীর্থযাত্রার পূর্ণ ফল লাভ হয়।

मङ्गलामाहात्म्यवर्णनम् (Mangalā Devī Māhātmya: Account of the Glory of Mangalā)
এই অধ্যায়ে দেবী ও ঈশ্বরের মধ্যে প্রশ্নোত্তররূপে তত্ত্ববিচার উপস্থাপিত হয়েছে। ঈশ্বর প্রথমে প্রভাস-ক্ষেত্রযাত্রার ফলদায়িনী তিন “দূতী” (রক্ষিকা শক্তি)—মঙ্গলা, বিশালাক্ষী ও চত্বরা-দেবী—এর নাম বলেন। দেবী তাঁদের অবস্থান ও পূজাবিধির নির্দিষ্ট বিবরণ জানতে চান। ঈশ্বর তাঁদের শক্তিস্বরূপ ব্যাখ্যা করেন—মঙ্গলা ব্রাহ্মী, বিশালাক্ষী বৈষ্ণবী এবং চত্বরা-দেবী রৌদ্রী-শক্তি। মঙ্গলার স্থান আজাদেবীর উত্তরে এবং রাহ্বীশের খুব দূরে নয়, দক্ষিণদিকে বলা হয়েছে। সোমদেবের সোমেশ্বরে কৃত অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গে মঙ্গলা নামের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়—তিনি ব্রহ্মা প্রভৃতি দেবগণকে মঙ্গল প্রদান করেছিলেন, তাই তিনি “সর্ব-মাঙ্গল্য-দায়িনী”। তৃতীয়ার পূজায় অমঙ্গল ও শোক-দুঃখ নাশ হয়—এমন ফলশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। দম্পতীভোজন, বস্ত্রসহ ফলদান, এবং পৃষদসহ ঘৃতসেবনকে শুদ্ধি ও পুণ্যসঞ্চয়ের উপায় হিসেবে প্রশংসা করা হয়েছে। শেষে মঙ্গলা-মাহাত্ম্যকে সর্বপাপ-নাশক বলা হয়েছে।

ललितोमाविशालाक्षी-माहात्म्यवर्णनम् (Lalitā-Umā and Viśālākṣī: Account of the Sacred Greatness)
ঈশ্বর প্রভাসক্ষেত্রের পূর্বভাগে শ্রীদৈত্যসূদন মন্দিরের নিকটে অবস্থানকারী এক দেবীর কথা বলেন—তিনি বৈষ্ণবী স্বভাবের ক্ষেত্রদূতী, অর্থাৎ ক্ষেত্ররক্ষিণী। বিষ্ণুর চাপে প্রবল দৈত্যরা দক্ষিণদিকে সরে গিয়ে নানা দিব্য অস্ত্রশস্ত্রে দীর্ঘ যুদ্ধ করে। তাদের দমন কঠিন দেখে বিষ্ণু মহামায়া, তেজোময়ী ভৈরবী-শক্তিকে আহ্বান করেন; তিনি তৎক্ষণাৎ প্রকাশিত হন। বিষ্ণুকে দর্শনমাত্র দেবীর নয়ন বিস্তৃত ও দীপ্ত হয়ে ওঠে; তাই তিনি ‘বিশালাক্ষী’ নামে প্রসিদ্ধ হন এবং সেখানেই শত্রুনাশিনী রূপে প্রতিষ্ঠিত থাকেন। পরে সোমেশ্বর ও দৈত্যসূদনের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘উমা-দ্বয়’ যুগল-উপাসনা এবং তীর্থযাত্রার ক্রম বলা হয়—প্রথমে সোমেশ্বর, তারপর শ্রীদৈত্যসূদন দর্শন। মাঘ মাসের তৃতীয়া তিথিতে বিশেষ পূজার বিধান আছে। এর ফলে বংশপরম্পরায় সন্তানহীনতা দূর হয়, স্বাস্থ্য-সুখ বজায় থাকে এবং নিত্যভক্তের মঙ্গল-সমৃদ্ধি স্থায়ী হয়। শেষে ফলশ্রুতি—এই মাহাত্ম্য শ্রবণে পাপক্ষয় হয় ও ধর্মবৃদ্ধি ঘটে।

चत्वरादेवी-माहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Catvarā Devī (the Crossroads Goddess)
অধ্যায় ৬২-এ ঈশ্বর ললিতার তুলনায় পূর্বদিকে নির্দিষ্ট দূরত্বে (দশ-ধন্বন্তর) অবস্থিত দেবপ্রিয় তৃতীয় পবিত্র ‘চত্বরা’ স্থানের কথা বলেন। ক্ষেত্ররক্ষার জন্য ঈশ্বর যে শক্তিশালী দেবীকে প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাঁকে ক্ষেত্র-দূতী, মহারৌদ্রী ও রুদ্রশক্তি নামে অভিহিত করা হয়েছে। দেবী ভূতগণের সঙ্গে জীর্ণ গৃহ, উদ্যান, প্রাসাদ, অট্টালিকা, পথ ও সকল চৌমাথায় বিচরণ করেন এবং রাত্রিতে ক্ষেত্রের মধ্যভাগে প্রহরা দেন। মহানবমীতে নারী বা পুরুষকে বিধিপূর্বক নানা উপচারে তাঁর পূজা করতে বলা হয়েছে। এই মাহাত্ম্য পাপনাশক ও সমৃদ্ধিদায়ক; দেবী প্রসন্ন হলে ইষ্টফল প্রদান করেন। তীর্থযাত্রার ফল কামনাকারীদের জন্য সেখানে দম্পতিকে ভোজন করানোর নির্দেশও আছে।

भैरवेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Bhairaveśvara (Chapter 63)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে নির্দেশ দেন—যোগেশ্বরীর দক্ষিণে অল্প দূরে অবস্থিত ভৈরবেশ্বরের তীর্থে গমন করতে। সেখানে প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গকে সর্বপাপহর ও দিব্য ঐশ্বর্যদাতা বলে বর্ণনা করা হয়েছে। পূর্বকথা দ্বারা তীর্থের মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠিত—দৈত্যবিনাশের উদ্দেশ্যে দেবী যখন কার্য আরম্ভ করেন, তখন তিনি ভৈরবকে আহ্বান করে নিজের দূতরূপে নিয়োগ করেন। এই কারণে দেবী ‘শিবদূতী’ এবং পরে ‘যোগেশ্বরী’ নামে প্রসিদ্ধ হন; দেবীনামের সঙ্গে স্থান-পরিচয়ের যোগও প্রকাশ পায়। যেখানে ভৈরব দূতকার্যে নিযুক্ত হন, সেই স্থানে লিঙ্গ ‘ভৈরবেশ্বর’ নামে খ্যাত হয়; ভৈরবই তা প্রতিষ্ঠা করেন এবং দেব ও দৈত্য উভয়েই এর পূজা করে—এ কথা বলা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বলা হয়, কার্ত্তিক মাসে বিধিপূর্বক ভক্তিভরে পূজা করলে, অথবা ছয় মাস নিরন্তর আরাধনা করলে, ভক্ত ইষ্টফল লাভ করে।

लक्ष्मीश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Lakṣmīśvara Māhātmya (Account of the Glory of Lakṣmīśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর প্রভাসক্ষেত্রের পূর্বদিকে পাঁচ ধনু দূরে অবস্থিত এক বিশেষ তীর্থের বর্ণনা দেন। সেই স্থান ‘লক্ষ্মীশ্বর’ নামে প্রসিদ্ধ, যা দারিদ্র্য ও অমঙ্গল নাশকারী বলে কীর্তিত। কাহিনিতে বলা হয়, দৈত্যবধের পর দেবী লক্ষ্মীকে সেখানে আনা হয় এবং দেবী নিজেই প্রতিষ্ঠাকর্ম সম্পন্ন করে দেবতার নাম ‘লক্ষ্মীশ্বর’ স্থাপন করেন। এরপর শ্রীপঞ্চমীর দিনে বিধিপূর্বক ভক্তিসহকারে লক্ষ্মীশ্বরের পূজা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—উপাসকের উপর লক্ষ্মীর অনুগ্রহ অবিচ্ছিন্ন থাকে; সে লক্ষ্মী থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না এবং মন্বন্তর-পর্যন্ত দীর্ঘকাল সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি লাভ করে। এটি স্কন্দমহাপুরাণের প্রভাসখণ্ড, প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যের চৌষট্টিতম অধ্যায়।

वाडवेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Vāḍaveśvara Liṅga — Description of its Māhātmya
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে নির্দেশ দেন যে প্রভাসক্ষেত্রে ভাডবেশ্বর-লিঙ্গে গমন করতে হবে। পবিত্র ভূ-মানচিত্রের সূত্রে স্থান নির্দিষ্ট করা হয়েছে—লক্ষ্মীশের উত্তরে এবং বিশালাক্ষীর দক্ষিণে—যাতে তীর্থযাত্রী সহজে পথ চিনতে পারে। তারপর উৎপত্তিকথা বলা হয়: কাম (কৃতস্মর) দগ্ধ হলে ভাডবা-অগ্নিতে এক পর্বত সমতল হয়ে যায়; সেই প্রসঙ্গে ভাডব সেখানে লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন, তাই স্থানটি মহাশক্তিসম্পন্ন। ভক্তকে বিধিমতো পূজা করে শঙ্করের দশবার স্নান/অভিষেক করতে হবে। সেখানে বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণকে দধি (দই) দান করলে অগ্নিলোকপ্রাপ্তি ও তীর্থযাত্রার পূর্ণ ফল লাভ হয়।

अर्घ्येश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Arghyeśvara Māhātmya—Account of the Glory of Arghyeśvara)
ঈশ্বর প্রভাসক্ষেত্রে বিশালাক্ষীর উত্তরে নিকটবর্তী এক মহাশক্তিশালী লিঙ্গ ‘অর্ঘ্যেশ্বর’-এর মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। এই লিঙ্গ দেবতা ও গন্ধর্বদের দ্বারা পূজিত এবং অত্যন্ত ফলদায়ক বলে কথিত। কাহিনিতে বাডবানল (সমুদ্রাগ্নি) ধারণকারী দেবীর আগমন স্মরণ করা হয়। তিনি প্রভাসে এসে মহোদধি দর্শন করে বিধি অনুসারে প্রথমে সমুদ্রকে অর্ঘ্য অর্পণ করেন; তারপর এক মহালিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে যথাবিধি পূজা সম্পন্ন করেন এবং স্নানার্থে সমুদ্রে প্রবেশ করেন। ব্যুৎপত্তিগত ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে—প্রথমে অর্ঘ্য দেওয়া হয়েছিল, পরে প্রভুর প্রতিষ্ঠা; তাই এই লিঙ্গ ‘অর্ঘ্যেশ/অর্ঘ্যেশ্বর’ নামে প্রসিদ্ধ এবং পাপপ্রণাশক। যে ভক্ত পঞ্চামৃত দিয়ে লিঙ্গস্নান করিয়ে নিয়মমাফিক পূজা করে, সে সাত জন্ম ধরে বিদ্যা লাভ করে, শাস্ত্রের যোগ্য আচার্য হয় এবং সংশয়নিবারক জ্ঞানী হয়ে ওঠে। এটি প্রভাসখণ্ডের এই অংশের ৬৬তম অধ্যায়।

कामेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Kāmeśvara Liṅga Māhātmya (Description of the Glory of Kāmeśvara)
এই অধ্যায়ে শিব দেবীকে উপদেশ দেন যে প্রভাস-ক্ষেত্রে ‘কামেশ্বর’ নামে এক বিশেষ মহালিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত আছে। দৈত্যসূদনের পশ্চিমদিকে, সাত ধনু-পরিমিত দূরত্বের মধ্যে এর অবস্থান নির্দেশ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে পূর্বে কামদেব এই লিঙ্গের পূজা করেছিলেন; তাই তীর্থযাত্রীকে সেখানে গমন করতে বলা হয়। কথায় স্মরণ করানো হয়—শিবের তৃতীয় নয়নের অগ্নিতে কামদেব দগ্ধ হন। পরে ‘অনঙ্গ’ (দেহহীন) অবস্থার স্মৃতি ধারণ করে তিনি সহস্র বছর মহেশ্বরের আরাধনা করেন এবং কামনা-সৃষ্টির সামর্থ্য পুনরায় লাভ করেন। অধ্যায়ে লিঙ্গের ফলশ্রুতি বর্ণিত—এটি পৃথিবীতে প্রসিদ্ধ, সর্বপাপহর এবং সকল অভীষ্ট ফলদায়ক। মাধব (বৈশাখ) মাসের শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশীতে বিধিপূর্বক কামেশ্বর পূজার বিধান আছে; এতে সর্বকামসিদ্ধি, সমৃদ্ধি এবং নারীদের সৌভাগ্য/আকর্ষণ বৃদ্ধি প্রভৃতি ফল পুরাণীয় ভাষায় বলা হয়েছে।

गौरीतपोवनमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Gaurī’s Forest of Austerity
অধ্যায় ৬৮ শিব–দেবী সংলাপরূপে রচিত। ঈশ্বর প্রভাসে সোমেশের পূর্বদিকে অবস্থিত এক মহাশক্তিসম্পন্ন তপোবনের কথা জানান। দেবী পূর্বজন্মে শ্যামবর্ণা ছিলেন এবং গোপনে “কালী” নামে পরিচিতা; তিনি তপস্যার দ্বারা “গৌরী” হওয়ার সংকল্প গ্রহণ করেন। প্রভাসে এসে তিনি একটি লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে পূজা করেন—যা পরে “গৌরীশ্বর” নামে প্রসিদ্ধ হয়। একপদে স্থিতি, গ্রীষ্মে পঞ্চাগ্নি, বর্ষায় ভিজে থাকা, শীতে জলশয়ন ইত্যাদি কঠোর তপস্যায় তাঁর দেহ গৌরবর্ণ হয়—শৃঙ্খলাবদ্ধ ভক্তির ফল হিসেবে এই রূপান্তর বর্ণিত। এরপর শিব বর প্রদান করেন এবং দেবী ফলশ্রুতি বলেন: সেখানে দর্শনে শুভ সন্তান, দাম্পত্যসৌভাগ্য ও বংশবৃদ্ধি লাভ হয়; সঙ্গীত-নৃত্য নিবেদন করলে দুর্ভাগ্য দূর হয়; প্রথমে লিঙ্গপূজা করে পরে দেবীপূজা করলে পরম গতি/সিদ্ধি মেলে। ব্রাহ্মণদের দান, নিঃসন্তানতার জন্য নারকেল দান, দীর্ঘ সৌভাগ্যের জন্য লাল সলতে সহ ঘৃতপ্রদীপ দানের বিধান আছে। নিকটবর্তী তীর্থে স্নান পাপহর, শ্রাদ্ধে পিতৃকল্যাণ হয়, এবং রাত্রিজাগরণ ভজন-কীর্তন/নৃত্যসহ পালনের কথা বলা হয়েছে। শেষে ঋতুসন্ধিতেও দেবীর নিত্য সান্নিধ্য এবং বিশেষত তৃতীয়া তিথিতে ও দেবীর উপস্থিতিতে এই অধ্যায় পাঠ-শ্রবণের চিরমঙ্গলদায়িনী মহিমা প্রশংসিত।

गौरीश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (The Glory of Gaurīśvara Liṅga)
এই অধ্যায়ে দেবী–ঈশ্বরের ধর্মসংলাপে ‘গৌরীশ্বর’ লিঙ্গের অবস্থান ও পূজার ফল পাপনাশক মাহাত্ম্যরূপে বর্ণিত। দেবী জিজ্ঞাসা করেন—প্রসিদ্ধ গৌরীশ্বর লিঙ্গ কোথায় প্রতিষ্ঠিত এবং তার আরাধনায় কী ফল লাভ হয়। ঈশ্বর গৌরী-সম্পর্কিত এক খ্যাত তপোবনের কথা বলেন, যা ধনু এককে পরিমিত পরিধি/বৃত্তাকার পবিত্র ক্ষেত্র হিসেবে নির্দেশিত। সেই পুণ্যভূমিতে দেবীকে একপদে তপস্যারত দেখানো হয়েছে, এবং লিঙ্গের স্থান দিকনির্দেশসহ—অল্প উত্তরে, ঈশান কোণে, নির্দিষ্ট দূরত্বচিহ্নসহ—উল্লেখ করা হয়। এরপর বলা হয়, ভক্তিভরে এই লিঙ্গের পূজা, বিশেষত কৃষ্ণাষ্টমীতে, পাপমোচন করে। দানধর্মও উপাসনার অঙ্গ—গোদান, যোগ্য ব্রাহ্মণকে স্বর্ণদান, এবং বিশেষভাবে অন্নদান, যা অপরাধ-দোষ প্রশমিত করে। ফলশ্রুতিতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি—ঘোর পাপীও এই লিঙ্গের দর্শনমাত্রে পাপ থেকে মুক্ত হয়।

वरुणेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Varuṇeśvara Māhātmya—Account of the Glory of Varuṇeśvara)
এই অধ্যায়ে দেবসংবাদে ঈশ্বর দেবীকে নির্দেশ দেন—আগ্নেয় দিকের গৌরীর তপোবনে বিশ ধনু দূরে অবস্থিত মহাপুণ্য বরুণেশ্বর-লিঙ্গ দর্শন করতে। তীর্থের উৎপত্তিকথা বলা হয়েছে—পূর্বে কুম্ভজ (অগস্ত্য) সমুদ্রের জল পান করলে জলাধিপতি বরুণ ক্রোধ ও তাপে দগ্ধ হন। তিনি প্রভাসক্ষেত্রকে কঠোর তপস্যার উপযুক্ত জেনে দুরূহ তপ করেন, মহালিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে যুত বছর ধরে ভক্তিভরে পূজা করেন। শিব প্রসন্ন হয়ে নিজের গঙ্গাজল দ্বারা শূন্য সমুদ্রকে পুনরায় পূর্ণ করেন এবং বরুণকে বর প্রদান করেন; তাই সমুদ্রসমূহ চিরকাল পরিপূর্ণ থাকে এবং সেই লিঙ্গ ‘বরুণেশ্বর’ নামে প্রসিদ্ধ হয়। পরে ফলশ্রুতি ও বিধান—বরুণেশ্বরের মাত্র দর্শনে সকল তীর্থফল লাভ হয়; অষ্টমী ও চতুর্দশীতে দধি দ্বারা লিঙ্গাভিষেক করলে বৈদিক উৎকর্ষ ও বিদ্যাবৃদ্ধি হয়। সেখানে স্নান, জপ, বলি, হোম, পূজা, স্তোত্র ও নৃত্যাদি অক্ষয় ফলদায়ক; নানা শ্রেণি ও দেহাবস্থার মানুষের জন্যও এটি মুক্তিদায়ক বলা হয়েছে। তীর্থফল ও স্বর্গকামীরা স্বর্ণপদ্ম, মুক্তা প্রভৃতি দান করলে প্রশংসিত হয়।

उषेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Uṣeśvara Liṅga
এই অধ্যায়ে প্রভাস-ক্ষেত্রের এক পবিত্র লিঙ্গের পরিচয় দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বরুণেশ্বরের দক্ষিণে তিন ধনুক-দূরত্বে এই লিঙ্গ অবস্থিত। বরুণের পত্নী উষা স্বামীর দুঃখজনিত ব্যথায় কাতর হয়ে মহাঘোর তপস্যা করেন এবং সেখানে লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন; সেই লিঙ্গই ‘উষেশ্বর’ নামে প্রসিদ্ধ। উষেশ্বর-লিঙ্গকে সর্বসিদ্ধি প্রদানকারী ও সর্বসিদ্ধিতে পূজিত বলা হয়েছে। ভক্তিভরে পূজা করলে পাপ নাশ হয় এবং মহাপাপের ভারে দগ্ধ ব্যক্তিও পরম গতি লাভ করতে পারে—এমন ফলশ্রুতি আছে। বিশেষত নারীদের জন্য এটি সৌভাগ্যদায়ক এবং দুঃখ ও দুর্ভাগ্য নাশকারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

Jalavāsa Gaṇapati Māhātmya (The Glory of Gaṇeśa ‘Dwelling in Water’)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর সংক্ষিপ্তভাবে ধর্মসম্মত আচার-নির্দেশ দেন। একই তীর্থে ‘জলবাস’ নামে প্রসিদ্ধ বিঘ্নেশ গণেশের দর্শন করতে বলা হয়েছে; এই দর্শন বাধা নাশ করে এবং সকল কর্মে সাফল্য প্রদান করে। উৎপত্তি-কথায় বলা হয়—তপস্যা নির্বিঘ্ন হোক এই উদ্দেশ্যে বরুণ জলজাত উপচারে ভক্তিভরে গণপতির পূজা করেছিলেন। চতুর্থী তিথিতে তর্পণ করে গন্ধ, পুষ্প ও মোদক নিবেদনসহ পূজার বিধান আছে; ভক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী অর্ঘ্য দিলে গণাধিপ সন্তুষ্ট হন—এটাই মূল শিক্ষা।

कुमारेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Kumāreśvara Māhātmya (Account of the Glory of Kumāreśvara)
এই অধ্যায়ে শিব–দেবীর তত্ত্বসংলাপের মাধ্যমে প্রভাস-ক্ষেত্রের এক ক্ষুদ্র তীর্থ-পরিক্রমা তুলে ধরা হয়েছে। ঈশ্বর দেবীকে কুমারেশ্বর মন্দিরে যেতে নির্দেশ দেন; সেখানে অবস্থিত লিঙ্গকে মহাপাতক-নাশক ও অতিশয় শক্তিশালী বলা হয়েছে। বরুণ ও নৈঋত দিক এবং গৌরী-তপোবনের নিকটতার উল্লেখ করে মন্দিরের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে, যাতে পবিত্র ভূগোলটি পথনির্দেশক হয়ে ওঠে। উৎপত্তিকথায় বলা হয়, মহান তপস্যার পর ষণ্মুখ (কুমার/স্কন্দ) এই লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন—এ থেকেই নাম ও মহিমার প্রামাণ্য ব্যাখ্যা পায়। এরপর পুণ্যফলের তুলনা দেওয়া হয়েছে: অন্যত্র বহু মাসের উপাসনার যে ফল, তা এখানে বিধিপূর্বক এক দিনের কুমারেশ্বর পূজাতেই লাভ হয়। কাম, ক্রোধ, লোভ, রাগ ও মাত্সর্য ত্যাগ এবং একবারের পূজাতেও ব্রহ্মচর্য/সংযম গ্রহণকে নৈতিক শর্ত বলা হয়েছে। শেষে বলা হয়, যথাবিধি পূজাই যাত্রার যথার্থ ফল প্রদান করে।

Śākalyeśvara-liṅga Māhātmya (शाकल्येश्वरलिङ्गमाहात्म्य) — The Glory of Śākalyeśvara and Its Four Yuga-Names
ঈশ্বর মহাদেবীকে প্রভাসক্ষেত্রে অবস্থিত পরম পবিত্র শাকল্যেশ্বর-তীর্থে গমন করতে নির্দেশ দেন, দিক ও দূরত্বের চিহ্নও জানান। এই লিঙ্গকে “সর্বকামদ” বলা হয়েছে। রাজর্ষি শাকল্য মহাতপস্যা করে মহাদেবকে প্রসন্ন করেন; প্রসন্ন দেবতা সেখানে লিঙ্গরূপে প্রকাশিত/প্রতিষ্ঠিত হন। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—শুধু দর্শনেই সাত জন্মের পাপ সূর্যোদয়ে অন্ধকার নাশের মতো বিলীন হয়। অষ্টমী ও চতুর্দশীতে দুধ দিয়ে শিবাভিষেক, এবং গন্ধ-পুষ্পাদি ক্রমান্বয়ে উপচারে পূজার বিধান আছে; পূর্ণ তীর্থফল কামনাকারীদের জন্য স্বর্ণদানও প্রশস্ত। চার যুগে চার নাম নির্দিষ্ট—কৃতে ভৈরবেশ্বর, ত্রেতায় সাবর্ণিকেশ্বর (সাবর্ণি মনুর সঙ্গে সম্পর্কিত), দ্বাপরে গালবেশ্বর (ঋষি গালবের সঙ্গে সম্পর্কিত), এবং কলিতে শাকল্যেশ্বর (মুনি শাকল্য অণিমাদি সিদ্ধি লাভ করেন)। ক্ষেত্রের পবিত্র পরিধি অষ্টাদশ ধনু পর্যন্ত; তার মধ্যে ক্ষুদ্র প্রাণীরও মোক্ষযোগ্যতা বলা হয়েছে। সেখানকার জল সরস্বতীসদৃশ পবিত্র, এবং দর্শনকে মহাযজ্ঞের ফলতুল্য বলা হয়। সোম-পর্বে লিঙ্গের নিকটে এক মাস অঘোর-জপ ও ঘৃত-হোম করলে, মহাপাপীও “উত্তম সিদ্ধি” লাভ করে—এমন প্রতিশ্রুতি আছে। লিঙ্গকে “কামিক” বলা হয়েছে; অঘোর তার মুখ এবং ভৈরব-প্রাধান্যের কারণে পূর্বে ভৈরবেশ্বর নাম প্রসিদ্ধ ছিল, কলিযুগে শাকল্যেশ্বর নাম প্রতিষ্ঠিত।

कलकलेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Kalakaleśvara (Origin, Worship, and Merits)
এই অধ্যায়ে প্রভাস-ক্ষেত্রে অবস্থিত শাকলকলেশ্বর/কলকলেশ্বর লিঙ্গের মাহাত্ম্য শিব দেবীকে উপদেশ করেন। লিঙ্গটির অবস্থান, পাপহরণ-ক্ষমতা এবং যুগভেদে নামচতুষ্টয় বলা হয়েছে—কৃতযুগে কামেশ্বর, ত্রেতায় পুলহেশ্বর, দ্বাপরে সিদ্ধিনাথ, কলিতে নারদেশ; ‘কলকল’ ধ্বনি থেকে ‘কলকলেশ্বর’ নামের শব্দব্যুৎপত্তিও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রথম নামকথায় সরস্বতী সমুদ্রে পৌঁছালে দেবগণের আনন্দোচ্ছ্বাসে যে ‘কলকল’ কোলাহল ওঠে, সেটিকেই নামের কারণ বলা হয়। দ্বিতীয় কাহিনিতে নারদের কঠোর তপস্যা, লিঙ্গের নিকটে পৌণ্ডরীক যজ্ঞ ও বহু ঋষিকে আহ্বান, এবং দক্ষিণার জন্য আগত স্থানীয় ব্রাহ্মণদের মধ্যে নারদের ধন নিক্ষেপে বিবাদ সৃষ্টি—দরিদ্র বিদ্বান ব্রাহ্মণদের নিন্দাসহ—এই কলহ/কোলাহল থেকেই ‘কলকলেশ্বর’ নাম প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে, লিঙ্গস্নান করিয়ে ত্রিবার প্রদক্ষিণ করলে রুদ্রলোক লাভ হয়; সুগন্ধ-ফুলে পূজা ও যোগ্য পাত্রে স্বর্ণদান করলে পরম পদ প্রাপ্তি ঘটে।

Lakuleśvara-nāma Liṅgadvaya Māhātmya (near Kalakaleśvara) — Glory of the Twin Liṅgas established by Lakulīśa
অধ্যায় ৭৬ ঈশ্বরের উপদেশরূপে সংক্ষিপ্ত ধর্ম-আচার নির্দেশ করে। দেবদেবের নিকটে, সোমেশ্বর-ক্ষেত্রের পবিত্র অঞ্চলে অবস্থিত দুইটি অতিশয় পুণ্যদায়ক লিঙ্গের কথা বলা হয়েছে, যা লাকুলীশ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত। এই যুগ্ম-ধাম ‘লাকুলেশ্বর’ নামে খ্যাত এবং দর্শনের জন্য ‘অনুত্তম’ বলে ঘোষিত। শাস্ত্রে বলা হয়, কেবল দর্শনমাত্রেই জন্ম-মৃত্যুর সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত পাপ ক্ষয় হয়। ভাদ্রপদ মাসের শুক্ল চতুর্দশীতে উপবাস ও রাত্রিজাগরণ পালনের বিধান আছে। ক্রম এই—প্রথমে মূর্তিমন্ত লাকুলীশের পূজা, তারপর দুই লিঙ্গকে পৃথক পৃথকভাবে যথাবিধি অর্চনা এবং ধারাবাহিক স্তোত্র-মন্ত্র পাঠ। ফলশ্রুতি হিসেবে মহেশ্বরের পরম ধাম লাভের কথা বলা হয়েছে।

उत्तंकेश्वरमाहात्म्य वर्णनम् | The Māhātmya of Uttankeśvara (Description of Uttankeśvara’s Sanctity)
ঈশ্বর মহাদেবীকে বলেন যে প্রভাস-ক্ষেত্রে পূর্বোক্ত স্থানের দক্ষিণ দিকে, খুব দূরে নয়, উত্তঙ্কেশ্বর নামে এক উৎকৃষ্ট পুণ্যতীর্থ আছে। তিনি সেই দিকে তীর্থযাত্রার নির্দেশ দেন, যাতে প্রভাস-ক্ষেত্রের যাত্রাপথ ও ক্রম স্পষ্ট হয়। এই শিবস্থান মহাত্মা ভক্ত উত্তঙ্ক নিজে ভক্তিভরে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে বলা হয়েছে। যে তীর্থযাত্রী স্থিরচিত্তে সেখানে দর্শন করে, স্পর্শ করে এবং বিধিপূর্বক ভক্তিসহ পূজা করে, সে সকল কলুষ/পাপ থেকে মুক্ত হয়—এটাই ফলশ্রুতি। এটি স্কন্দ মহাপুরাণের প্রভাস খণ্ডে উত্তঙ্কেশ্বর-মাহাত্ম্য বিষয়ক ৭৭তম অধ্যায়।

वैश्वानरेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Glory of Vaiśvānareśvara)
ঈশ্বর মহাদেবীকে নির্দেশ দেন—আগ্নেয় দিকের মধ্যে, ‘পাঁচ ধনুক’ পরিমিত সীমার ভিতরে অবস্থিত বৈশ্বানরেশ্বর দেবতার কাছে গমন করো। এই দেব দর্শন ও স্পর্শ—উভয় দ্বারাই পাপঘ্ন, অশুচি-নাশক বলে বর্ণিত। এরপর উপদেশমূলক কাহিনি—একবার এক শূক (টিয়া) রাজপ্রাসাদে বাসা বেঁধে সঙ্গিনীর সঙ্গে দীর্ঘকাল বাস করত। ভক্তির জন্য নয়, বাসাস্থানের আসক্তিতে তারা নিয়মিত প্রদক্ষিণা করত; কালে উভয়ের মৃত্যু হয়। সেই ক্ষেত্রের প্রভাবে তারা জাতিস্মর হয়ে পুনর্জন্মে লোপামুদ্রা ও অগস্ত্য রূপে খ্যাতি লাভ করে। পূর্বদেহ স্মরণ করে অগস্ত্য একটি গাথা উচ্চারণ করেন—যে যথাবিধি প্রদক্ষিণা করে বহ্নীশ (অগ্নিপতি) দর্শন করে, সে যশ পায়, যেমন আমি পূর্বে পেয়েছিলাম। শেষে বিধান—ঘৃতস্নানে দেবকে স্নান করাও, নিয়মমাফিক পূজা করো এবং শ্রদ্ধায় যোগ্য ব্রাহ্মণকে স্বর্ণ দান করো। এতে তীর্থফল সম্পূর্ণ হয়; ভক্ত বহ্নিলোকে গিয়ে অক্ষয় কালের আনন্দ ভোগ করে।

लकुलीश्वरमाहात्म्य (The Māhātmya of Lakulīśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর প্রভাস-ক্ষেত্রের অন্তর্গত পূজ্য লকুলীশ/লকুলীশ্বরের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। দেবতার অবস্থান পশ্চিমদিকে, ‘ধনুষের সপ্তক’ পরিমিত দূরত্বে বলা হয়েছে। তাঁর রূপ শান্ত ও মঙ্গলময়, সকল জীবের পাপ-নাশক; মহাপুণ্যক্ষেত্রে তাঁর অবতরণ/প্রকাশের ভাবও যুক্ত করা হয়েছে। এরপর লকুলীশের তপস্বী ও আচার্য-রূপ প্রকাশ পায়—তিনি তীব্র তপস্যা করেন, শিষ্যদের দীক্ষা দেন এবং বারংবার নানা শাস্ত্র, বিশেষত ন্যায় ও বৈশেষিক, শিক্ষা দিয়ে পরম সিদ্ধি লাভ করেন। শেষে ভক্তদের জন্য বিধিপূর্বক পূজার নির্দেশ আছে; কার্ত্তিক মাসে ও উত্তরায়ণে এর বিশেষ ফলপ্রদতা বলা হয়েছে। যোগ্য ব্রাহ্মণকে বিদ্যা-দান/বিদ্যা-প্রদান করার উপদেশও দেওয়া হয়েছে। ফলশ্রুতিতে সমৃদ্ধ ব্রাহ্মণ বংশে বারবার শুভ জন্ম, বুদ্ধি ও ঐশ্বর্য লাভের কথা বলা হয়েছে।

Gautameśvara-māhātmya (गौतमेश्वरमाहात्म्य) — The Glory of the Gautameśvara Liṅga
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে সংক্ষেপে গৌতমেশ্বর লিঙ্গের মাহাত্ম্য উপদেশরূপে জানান। পূর্বদিকে অবস্থিত এই পাপনাশক লিঙ্গকে দৈত্যসূদন-সম্পর্কিত পশ্চিমদিকের এক চিহ্নের প্রসঙ্গে নির্দেশ করা হয়েছে; ‘পাঁচ ধনু’ পরিসরের মধ্যে এর অবস্থান বলা হয়। তীর্থটি সর্বকামদ—সকল কামনা পূরণকারী বলে বর্ণিত। কারণকথায় বলা হয়েছে, মদ্ররাজ শল্য কঠোর তপস্যা করে মহেশ্বরকে প্রসন্ন করেছিলেন এবং তাঁরই দ্বারা এখানে পূজার প্রবর্তন ঘটে। যে কোনো ভক্ত একইভাবে বিধিপূর্বক আরাধনা করলে পরম সিদ্ধি লাভ করে—এমন সাধারণ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। চৈত্র শুক্ল চতুর্দশীতে লিঙ্গকে দুধে স্নাপন করে, পরে সুগন্ধি জলে ও উৎকৃষ্ট পুষ্পে নিয়মমাফিক ভক্তিসহ পূজা করতে বলা হয়েছে; এতে অশ্বমেধের সমান পুণ্য হয়। শেষে বলা হয়—বাক্য, মন ও কর্মে কৃত পাপ কেবল এই লিঙ্গ দর্শনমাত্রেই নাশ হয়।

श्रीदैत्यसूदनमाहात्म्यवर्णनम् (Glorification of Śrī Daityasūdana)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে প্রভাস-ক্ষেত্রের অনন্য পবিত্রতা ব্যাখ্যা করেন। এটি বৈষ্ণব ‘যবাকার’ (যবের আকৃতির) তীর্থভূমি, যার চার দিকের সীমানা স্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট। বলা হয়েছে, এখানে সম্পাদিত কর্ম—ক্ষেত্রের মধ্যে দেহত্যাগ, দান, হোম, মন্ত্রজপ, তপস্যা, ব্রাহ্মণভোজন—সাত কল্প পর্যন্ত অক্ষয় পুণ্য প্রদান করে। এরপর সাধনার রীতি বলা হয়: ভক্তিসহ উপবাস, চক্রতীর্থে স্নান, কার্ত্তিক দ্বাদশীতে স্বর্ণদান, দীপদান, পঞ্চামৃতাভিষেক, একাদশীতে জাগরণ ও ভক্তিগীত-নৃত্যাদি, এবং চাতুর্মাস্য ব্রত পালন। পরে কাহিনিতে দেবতাদের স্তবে প্রসন্ন বিষ্ণু দানববধের প্রতিজ্ঞা করে প্রভাসে তাদের অনুসরণ করেন এবং চক্র দ্বারা সংহার করে ‘দৈত্যসূদন’ নাম প্রতিষ্ঠা করেন। শেষে এই ক্ষেত্রে দর্শন-पूজা করলে পাপনাশ ও মঙ্গলময় জীবনের ফল লাভ হয়—এমন ফলশ্রুতি উচ্চারিত।

चक्रतीर्थोत्पत्तिवृत्तान्तमाहात्म्यवर्णनम् (Origin and Glory of Cakratīrtha)
এই অধ্যায়ে দেবী ঈশ্বরকে জিজ্ঞাসা করেন—“চক্রতীর্থ” নামের অর্থ, অবস্থান ও ফল কী। ঈশ্বর দেব–অসুর সংঘর্ষের পুরাকথা বলেন—হরি (বিষ্ণু) দানবদের বধ করে রক্তলিপ্ত সুদর্শনচক্র যে স্থানে ধৌত করেছিলেন, সেই স্থানই পবিত্র হয়ে চক্রতীর্থরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে অগণিত উপতীর্থের নিবাস আছে বলা হয়েছে, এবং একাদশী ও সূর্য/চন্দ্রগ্রহণকালে বিশেষ মহিমা প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে স্নান করলে সর্বতীর্থস্নানের সমষ্টিগত ফল লাভ হয়, আর এখানে দান করলে অপরিমেয় ফল হয়—এমনই বর্ণনা। নির্দিষ্ট পরিমাপসহ অঞ্চলটিকে বিষ্ণুক্ষেত্র বলা হয়েছে, এবং কল্পভেদে এর নাম—কোটিতীর্থ, শ্রীনিধান, শতধারা, চক্রতীর্থ ইত্যাদি—উল্লেখ করা হয়েছে। তপস্যা, বেদাধ্যয়ন, হোম, শ্রাদ্ধ ও প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ ব্রত এখানে করলে অন্য স্থানের তুলনায় বহু গুণ পুণ্য বৃদ্ধি পায়। শেষে ফলশ্রুতিতে তীর্থকে পাপনাশক, ইচ্ছাপূরক ও কঠিন জন্মপরিস্থিতিতেও উদ্ধারকারী বলা হয়েছে; এবং এখানে মৃত্যু হলে উচ্চ গতি প্রাপ্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

योगेश्वरीमाहात्म्यवर्णनम् (Yogeśvarī Māhātmya—Account of Yogeśvarī’s Glory)
ঈশ্বর মহাদেবীকে প্রভাস-ক্ষেত্রের পূর্বদিকে প্রতিষ্ঠিতা দেবী যোগেশ্বরীর উৎপত্তি ও পূজাবিধির মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। রূপান্তর-ক্ষম মহিষাসুর তিন লোককে আতঙ্কিত করে। তখন ব্রহ্মা এক অতুলনীয়া কন্যা সৃষ্টি করেন; তিনি কঠোর তপস্যায় রত হন। নারদ তাঁর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হলেও কুমারী-ব্রত রক্ষার কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়ে মহিষাসুরের কাছে গিয়ে তাঁর কথা বলে দেন। মহিষাসুর তপস্বিনী কন্যাকে বিবাহে বাধ্য করতে চায়; দেবী হাসেন, আর তাঁর নিঃশ্বাস থেকে অস্ত্রধারিণী নারীমূর্তি উৎপন্ন হয়ে অসুরসেনা ধ্বংস করে। শেষে দেবী মহিষাসুরকে যুদ্ধে দমন করে শিরচ্ছেদসহ বধ করেন; দেবতারা স্তব করে তাঁকে বিদ্যা-অবিদ্যা, জয়, রক্ষা ও সর্বশক্তিরূপে স্বীকার করেন। দেবগণ প্রার্থনা করেন—দেবী যেন এই ক্ষেত্রেই চিরস্থায়ীভাবে বাস করেন এবং ভক্তদের বর দান করেন। এরপর আশ্বিন শুক্লপক্ষে উৎসববিধি নির্দিষ্ট হয়: নবমীতে উপবাস ও দর্শনে পাপক্ষয়, প্রাতে পাঠে নির্ভয়তা লাভ। রাত্রে প্রতিষ্ঠিত খড়্গের বিস্তৃত পূজা—মণ্ডপ, হোম, শোভাযাত্রা, জাগরণ, নৈবেদ্য, বলি, দিকপাল ও ভূতপ্রেতাদি উদ্দেশে অর্ঘ্য, এবং রাজরথে যোগেশ্বরীর প্রদক্ষিণ—বর্ণিত। শেষে সাধক, বিশেষত ক্ষেত্রবাসী ব্রাহ্মণদের, রক্ষার আশ্বাস দিয়ে এই উৎসবকে বিঘ্ননাশক, মঙ্গলময় ও সামূহিক ধর্মানুষ্ঠান বলা হয়েছে।

आदिनारायणमाहात्म्यवर्णनम् (Glorification and Narrative Account of Ādinārāyaṇa)
ঈশ্বর দেবীকে নির্দেশ দেন যে তিনি পূর্বদিকস্থিত আদিনারায়ণ হরির কাছে গমন করুন—যিনি ‘পাদুকা-আসন’-এ অধিষ্ঠিত সর্বপাপহর ও জগত্পাবন। এরপর কৃতযুগের কাহিনি: মেঘবাহন নামক প্রবল দানব এমন বর পেয়েছিল যে যুদ্ধে কেবল বিষ্ণুর পাদুকার আঘাতেই তার মৃত্যু হবে; সেই বরবলে সে দীর্ঘকাল বিশ্বকে পীড়িত করে এবং ঋষিদের আশ্রম ধ্বংস করতে থাকে। বিতাড়িত ঋষিগণ গরুড়ধ্বজ কেশবের শরণ নেন এবং বিস্তৃত স্তব করেন—বিষ্ণুর জগত্কারণত্ব, উদ্ধারশক্তি ও নাম-স্মরণের পবিত্রকারী মহিমা কীর্তন করে। ভগবান বিষ্ণু প্রকাশ হয়ে তাদের প্রয়োজন জিজ্ঞাসা করেন; ঋষিরা দানবনাশ প্রার্থনা করেন যাতে লোক নির্ভয় হয়। বিষ্ণু মেঘবাহনকে আহ্বান করে শুভ পাদুকা দিয়ে তার হৃদয়ে আঘাত করেন; দানব নিহত হয় এবং ভগবান সেই স্থানে পাদুকা-আসনে প্রতিষ্ঠিত থাকেন। পরে ব্রতফল বলা হয়েছে—একাদশীতে এই রূপের পূজা অশ্বমেধ-সম যজ্ঞফল দেয়, আর দর্শন মহাদান, বিশেষত বৃহৎ গোদানসম বলে তুলনা করা হয়েছে। কলিযুগে আশ্বাস: যাদের হৃদয়ে আদিনারায়ণ প্রতিষ্ঠিত, তাদের দুঃখ হ্রাস ও পুণ্যবৃদ্ধি হয়; একাদশীতে, বিশেষ করে রবিবার-সংযোগে, স্নান ও পূজা ‘ভববন্ধন’ থেকে মুক্তি দেয়। শ্রবণফল পাপনাশক ও দারিদ্র্যহর।

सांनिहित्य-माहात्म्य-वर्णन (Glorification of the Sānnidhya Tīrtha)
এই অধ্যায়ে দেবী–ঈশ্বর সংলাপে সান্নিধ্য তীর্থের উৎপত্তি, অবস্থান ও স্নানাদি ক্রিয়ার ফল বর্ণিত হয়েছে। দেবী জিজ্ঞাসা করেন—কুরুক্ষেত্র-সম্পর্কিত পূজ্য মহানদী কীভাবে এখানে প্রভাসে উপস্থিত হল, এবং দর্শন, স্পর্শ ও স্নানে কী ফল লাভ হয়। ঈশ্বর বলেন—এই তীর্থ অতি মঙ্গলময় ও পাপনাশক; কেবল দর্শন-স্পর্শেও কল্যাণ হয়, এবং আদিনারায়ণের পশ্চিম দিকে নির্দিষ্ট দূরত্বে এর অবস্থান। এরপর কাহিনি—জরাসন্ধের ভয়ে বিষ্ণু যাদবদের প্রভাসে এনে সমুদ্রের কাছে বাসস্থানের প্রার্থনা করেন। পর্বকালে রাহু সূর্যকে গ্রাস করলে (গ্রহণে) বিষ্ণু যাদবদের আশ্বস্ত করে ধ্যানে প্রবেশ করেন এবং ভূমি ভেদ করে এক শুভ জলধারা প্রকাশ করেন, যা মহাপ্রবাহরূপে স্নানের জন্য প্রবাহিত হয়। গ্রহণকালে সেখানে স্নান করলে যাদবরা কুরুক্ষেত্র-তীর্থযাত্রার পূর্ণ ফল লাভ করে। পরে বিধিবৃদ্ধি বলা হয়েছে—গ্রহণকালে স্নান করলে অগ্নিষ্টোম যজ্ঞের সম্পূর্ণ ফল; ষড়রসযুক্ত ব্রাহ্মণভোজন করলে পুণ্য বহুগুণ বৃদ্ধি; হোম ও মন্ত্রজপে প্রতিটি আহুতি/প্রতিটি জপে ‘কোটি-গুণ’ ফল; স্বর্ণদান ও আদিদেব জনার্দনের পূজা প্রশস্ত। শেষে ফলশ্রুতি—শ্রদ্ধায় এই মাহাত্ম্য শ্রবণমাত্রেই পাপ নাশ হয়।

पाण्डवेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Pāṇḍaveśvara Māhātmya (Account of the Glory of Pāṇḍaveśvara)
এই অধ্যায়ে প্রভাসক্ষেত্রের দক্ষিণ ভাগে অবস্থিত প্রসিদ্ধ লিঙ্গ ‘পাণ্ডবেশ্বর’-এর মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। পাণ্ডবদের অজ্ঞাতবাস ও বনবাসের সময়ে তীর্থযাত্রার উপলক্ষে তাঁরা প্রভাসে আগমন করেন। সোমপর্বণের দিনে তটভূমিতে পাঁচ পাণ্ডব ক্রমান্বয়ে বিধিপূর্বক লিঙ্গপ্রতিষ্ঠা করেন; মার্কণ্ডেয় প্রমুখ শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ ঋত্বিজ নিযুক্ত হন, বেদমন্ত্রোচ্চারণে অভিষেক সম্পন্ন হয় এবং গোদানাদি দান প্রদান করা হয়। ঋষিগণ সন্তুষ্ট হয়ে ফলশ্রুতি ঘোষণা করেন—যে ভক্তিভরে পাণ্ডবপ্রতিষ্ঠিত পাণ্ডবেশ্বরের পূজা করে, সে দেবতা ও অন্যান্য দিব্য/অমানুষ শ্রেণির মধ্যেও সম্মানিত হয়; তার পুণ্য অশ্বমেধযজ্ঞসম। সন্নিহিতা-কুণ্ডে স্নান করে বিশেষত মাঘমাস জুড়ে পাণ্ডবেশ্বর পূজা করলে মহাফল লাভ হয় এবং শেষে পুরুষোত্তমের সঙ্গে তাদাত্ম্য কথিত; কেবল দর্শনেও পাপক্ষয় বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। লিঙ্গকে বৈষ্ণব-রূপে উল্লেখ করে শৈব তীর্থে বৈষ্ণব সমন্বয়ও নির্দেশিত।

Bhūteśvara Māhātmya and the Sequential Worship of the Eleven Rudras (एकादशरुद्र-यात्रा)
এই অধ্যায়ে প্রভাস-ক্ষেত্রে একাদশ রুদ্র-যাত্রার একটি বিধিবদ্ধ, লৌকিক-ধর্মীয় রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। ঈশ্বর বলেন—যে তীর্থযাত্রী শ্রদ্ধায় যাত্রা সম্পন্ন করে, সে সংক্রান্তি, অয়ন-পরিবর্তন, গ্রহণ এবং অন্যান্য শুভ তিথিতে বিশেষভাবে নির্দিষ্ট ক্রমে একাদশ রুদ্রের পূজা করবে। এখানে রুদ্র-নামের দুটি সম্পর্কিত তালিকা আছে—একটি প্রাচীন নামাবলি (অজৈকপাদ, অহির্বুধ্ন্য প্রভৃতি) এবং অন্যটি কলিযুগীয় নামাবলি (ভূতেশ, নীলরুদ্র, কপালী, বৃষবাহন, ত্র্যম্বক, ঘোর, মহাকাল, ভৈরব, মৃত্যুঞ্জয়, কামেশ, যোগেশ)। দেবী একাদশ লিঙ্গের ক্রম, মন্ত্র, সময় ও স্থানভেদসহ বিস্তারিত প্রক্রিয়া জানতে চান। ঈশ্বর ব্যাখ্যা করেন—দশ রুদ্র দশ বায়ুর (প্রাণ, অপান, সমান, উদান, ব্যান, নাগ, কূর্ম, কৃকল, দেবদত্ত, ধনঞ্জয়) সঙ্গে যুক্ত, আর একাদশ আত্মা-স্বরূপ; ফলে বাহ্য পূজা অন্তর্দেহ-তত্ত্বের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। ব্যবহারিক যাত্রাপথ সোমনাথ থেকে শুরু; প্রথম স্থান ভূতেশ্বর (সোমেশ্বর আদিদেব রূপে) বলে নির্দিষ্ট। রাজোপচার, পঞ্চামৃত-অভিষেক, সদ্যোজাত মন্ত্রে অর্চনা, তারপর প্রদক্ষিণা ও প্রণাম বিধেয়। “ভূতেশ্বর” নামের তাত্ত্বিক ব্যাখ্যায় ২৫ তত্ত্বের কাঠামোতে ভূতজাল-অধিপত্য বোঝানো হয়েছে; তত্ত্বজ্ঞানকে মুক্তির কারণ এবং ভূতেশরুদ্র-উপাসনাকে অক্ষয় মুক্তিদায়ক বলা হয়েছে।

नीलरुद्रमाहात्म्यवर्णनम् | Nīlarudra Māhātmya (Glory of Nīlarudra)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে তীর্থ-নির্দেশ দেন—ভূতেশের উত্তরে অবস্থিত ‘দ্বিতীয়’ নীলরুদ্রের পবিত্র স্থান, যার দূরত্ব ধনুষের ‘ষোড়শ’ মাপে নির্দিষ্ট। সেখানে তীর্থযাত্রী মহালিঙ্গকে স্নান করিয়ে, ঈশ-মন্ত্রে পূজা করে, কুমুদ ও উৎপল ফুল অর্পণ করবে; তারপর প্রদক্ষিণা ও নমস্কার সম্পন্ন করবে। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে, এই আচরণ রাজসূয় যজ্ঞসম পুণ্য প্রদান করে; আর পূর্ণ যাত্রাফল কামনা করলে বৃষ (ষাঁড়) দান আবশ্যক। শেষে ‘নীলরুদ্র’ নামের কারণ বলা হয়—অঞ্জনবর্ণ অন্ধকার দানব ‘আন্তক’কে বধ করার স্মৃতিতে এবং নারীদের রোদনের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে দেবতা নীলরুদ্র নামে খ্যাত হন। এই মাহাত্ম্য পাপনাশক; দর্শনকামী ভক্তদের শ্রদ্ধায় শ্রবণ ও গ্রহণযোগ্য।

कपालीश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Kapālīśvara (Kāpālika Rudra Shrine)
এই অধ্যায়ে দেবীর প্রতি ঈশ্বরের তত্ত্বোপদেশ রূপে প্রভাস-ক্ষেত্রের রুদ্র-ক্রমে কপালীশ্বরকে “তৃতীয় রুদ্র” বলে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। শিব ব্রহ্মার পঞ্চম মস্তক ছেদন করার কাহিনি বলেন; তারপর সেই কপাল তাঁর হাতে লেগে থাকে—এ থেকেই কপালিক পরিচয়ের কারণ ব্যাখ্যাত। শিব সেই কপালসহ প্রভাসে এসে ক্ষেত্রের মধ্যভাগে দীর্ঘকাল অবস্থান করে অতি দীর্ঘ সময় ধরে লিঙ্গের পূজা করেন, ফলে স্থান ও লিঙ্গ উভয়ের পবিত্রতা প্রতিষ্ঠিত হয়। তীর্থের অবস্থানও নির্দেশিত—বুধেশ্বরের পশ্চিমে এবং “ধনুষের সপ্তক” পরিমাপের সূত্রে, যা তীর্থযাত্রীদের অভ্যন্তরীণ দিকনির্দেশ। শিব ত্রিশূলধারী রক্ষক ও বহু গণকে নিয়োগ করে অশুভ প্রবৃত্তি থেকে তীর্থ রক্ষার বিধান দেন। একাগ্র শ্রদ্ধায় পূজা, বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণকে স্বর্ণদান, এবং তৎপুরুষ-সম্পর্কিত মন্ত্রবিধি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বলা হয়—লিঙ্গ দর্শনমাত্রেই জন্মসঞ্চিত পাপ নাশ হয়; স্পর্শ ও দর্শনের বিশেষ মাহাত্ম্যও ঘোষিত। শেষে প্রভাসে কপালী (তৃতীয় রুদ্র)-এর পাপনাশক মাহাত্ম্য সংক্ষেপে উপসংহৃত হয়েছে।

वृषभेश्वर-माहात्म्यवर्णनम् (Narration of the Māhātmya of Vṛṣabheśvara Liṅga)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে প্রভাসক্ষেত্রে অবস্থিত এক পরম পুণ্যময় রুদ্র-ধাম—বৃষভেশ্বর কল্প-লিঙ্গের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। দেবতাদের প্রিয় ও মঙ্গলদায়ক এই লিঙ্গ বিভিন্ন কল্পে বিভিন্ন নামে প্রসিদ্ধ—প্রথম কল্পে ব্রহ্মার দীর্ঘ আরাধনা ও সৃষ্টির উদ্ভবের কারণে ‘ব্রহ্মেশ্বর’; পরবর্তী কল্পে রাজা রৈবতের জয় ও সমৃদ্ধির হেতু হয়ে ‘রৈবতেশ্বর’; তৃতীয় কল্পে ধর্ম বৃষভ-রূপে (শিববাহনরূপে) পূজা করে সান্নিধ্য/সায়ুজ্যের বর লাভ করায় ‘বৃষভেশ্বর’; আর বরাহ-কল্পে রাজা ইক্ষ্বাকুর ত্রিকাল নিয়মিত পূজায় রাজ্য ও বংশবৃদ্ধি হওয়ায় ‘ইক্ষ্বাক্বীশ্বর’ নামে খ্যাত। ক্ষেত্রের দিকনির্দেশসহ ধনু-পরিমাপে বিস্তার বলা হয়েছে এবং সেখানে স্নান, জপ, বলি, হোম, পূজা, স্তোত্র—সবই অক্ষয় ফলদায়ক বলা হয়েছে। এরপর শক্তিশালী ফলশ্রুতি—লিঙ্গের নিকটে ব্রহ্মচর্যসহ রাত্রিজাগরণ, ভক্তিভরে নৃত্য-গীতাদি সেবা, ব্রাহ্মণভোজন, বিশেষত মাঘ কৃষ্ণ চতুর্দশীর রাত্রি এবং অষ্টমী/চতুর্দশীতে পূজা মহাপুণ্যদায়ক। এখানে প্রাপ্ত ফলকে ‘তীর্থ-অষ্টক’—ভৈরব, কেদার, পুষ্কর, দ্রুতিজঙ্গম, বারাণসী, কুরুক্ষেত্র, মহাকাল, নৈমিষ—এর সমতুল্য বলা হয়েছে। অমাবস্যায় পিণ্ডদান পিতৃতৃপ্তিকারক, আর দধি, ক্ষীর, ঘৃত, পঞ্চগব্য, কুশজল ও সুগন্ধি দ্রব্যে লিঙ্গাভিষেক মহাপাপশোধক ও বৈদিক মর্যাদা প্রদানকারী বলা হয়েছে। শেষে বলা হয়, এই মাহাত্ম্য শ্রবণ বিদ্বান-অবিদ্বান সকলেরই কল্যাণ সাধন করে।

त्र्यंबकेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Trimbakeśvara: Account of the Shrine’s Glory
ঈশ্বর দেবীকে নির্দেশ দেন অবিনশ্বর ত্র্যম্বকেশ্বরে গমন করতে—যিনি রুদ্রদের মধ্যে পঞ্চম এবং আদ্য দিব্য স্বরূপ। অধ্যায়ে তীর্থের পবিত্র ভূগোল নির্দিষ্ট করা হয়েছে: সাম্বপুরের নিকটে, পূর্বযুগ-সম্পর্কিত শিখাণ্ডীশ্বরের উল্লেখ, এবং পাশেই কপালিকা-স্থানে লিঙ্গরূপ কপালেশ্বর, যাঁর দর্শন ও স্পর্শে দোষ-পাপ নাশ হয়। সেখান থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে উত্তর-পূর্ব দিকে ত্র্যম্বকেশ্বর অবস্থান করেন—সর্বহিতকারী ও ইষ্টফলদাতা রূপে বর্ণিত। গুরু নামক ঋষি কঠোর তপস্যা করেন, দিব্য নিয়মে ত্র্যম্বক মন্ত্র জপ করেন এবং দিনে তিনবার শঙ্করের পূজা করেন। শিবের কৃপায় তিনি দিব্য ঐশ্বর্য লাভ করে তীর্থের নাম প্রতিষ্ঠা করেন। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—সান্নিধ্য, পূজা ও মন্ত্রজপে পাপক্ষয়; বামদেব মন্ত্রসহ ভক্তিতে দোষমুক্তি; এবং চৈত্র শুক্ল চতুর্দশীর রাত্রিতে জাগরণ, পূজা, স্তব ও পাঠে বিশেষ ফল। শেষে পূর্ণ তীর্থফল কামনাকারীদের জন্য গোদান বিধান এবং এই মাহাত্ম্যকে পুণ্যপ্রদ ও পাপনাশক বলে উপসংহার।

अघोरेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Aghoreśvara Liṅga Māhātmya (Glorification of Aghoreśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর অঘোরেশ্বরের সংক্ষিপ্ত মাহাত্ম্য ও উপাসনা-বিধি বলেন। অঘোরেশ্বরকে “ষষ্ঠ লিঙ্গ” রূপে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁর ‘বক্ত্র’ হিসেবে ভৈরবের সম্পর্ক উল্লেখ আছে। তীর্থটি ত্র্যম্বকেশ্বরের নিকটে অবস্থিত, কলিযুগের কলুষ-দোষ নাশকারী ও মহাপুণ্যদায়ক বলে বর্ণিত। ভক্তিসহ স্নান ও পূজার ক্রমবিধান জানিয়ে বলা হয়েছে—এখানে আরাধনা করলে মেরুদান প্রভৃতি মহাদানের তুল্য ফল লাভ হয়। দক্ষিণামূর্তি-ভাব নিয়ে এখানে যে অর্ঘ্য বা দান দেওয়া হয়, তা অক্ষয় ফলদায়ক হয়। অঘোরেশ্বরের দক্ষিণে সম্পন্ন শ্রাদ্ধ পিতৃগণকে দীর্ঘকাল তৃপ্ত করে; এর প্রশংসা গয়া-শ্রাদ্ধ ও অশ্বমেধেরও ঊর্ধ্বে করা হয়েছে। যাত্রাদানে অল্প স্বর্ণদানও মহাফলদায়ক, এবং সোমাষ্টমীর নিকটে ব্রহ্মকূর্চ ব্রতকে মহান প্রায়শ্চিত্ত বলা হয়েছে। শেষে বলা হয়—এই মাহাত্ম্য শ্রবণে পাপ নাশ হয় ও অভীষ্ট সিদ্ধি ঘটে।

महाकालेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Narration of the Māhātmya of Mahākāleśvara)
ঈশ্বর দেবীকে নির্দেশ দেন—অঘোরেশের সামান্য উত্তরে, বায়ব্য (উত্তর-পশ্চিম) দিকে অবস্থিত মহাকালেশ্বর লিঙ্গে গমন করতে; এ স্থান পাপ-নাশক তীর্থ। অধ্যায়ে যুগভিত্তিক নাম-ইতিহাস বলা হয়েছে—কৃতযুগে এটি ‘চিত্রাঙ্গদেশ্বর’ নামে স্মরণীয়, আর কলিযুগে ‘মহাকালেশ্বর’ নামে প্রশংসিত। রুদ্রকে কাল-রূপ এবং সূর্যগ্রাসী মহাতত্ত্ব হিসেবে বর্ণনা করে মন্দির-মাহাত্ম্যকে বিশ্বতত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। প্রভাতে ষড়াক্ষর মন্ত্রে পূজার বিধান আছে। কৃষ্ণাষ্টমীতে ঘৃতমিশ্রিত গুগ্গুলু নিবেদন করে যথাবিধি রাত্রিকর্ম পালন করলে বিশেষ ফল হয়; ভৈরব অপরাধের জন্য বিস্তর ক্ষমা প্রদান করেন। দানে ধেনুদানকে প্রধান বলা হয়েছে—এতে পূর্বপুরুষের বংশোন্নতি ঘটে; এবং দেবতার দক্ষিণ পাশে শতরুদ্রিয় পাঠ পিতৃ ও মাতৃ—উভয় বংশের উদ্ধারের জন্য নির্দেশিত। উত্তরায়ণে ঘৃত-কম্বল দান করলে কঠোর পুনর্জন্মের দুঃখ প্রশমিত হয়। ফলশ্রুতিতে সমৃদ্ধি, অমঙ্গল-নিবারণ ও জন্মে জন্মে ভক্তি-দৃঢ়তা লাভ হয়; শেষে চিত্রাঙ্গদের পূর্বপূজার কারণে ক্ষেত্রের খ্যাতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলা হয়েছে।

भैरवेश्वरमाहात्म्य (Bhairaveśvara—Glory of the Shrine)
অধ্যায় ৯৪-এ প্রভাসক্ষেত্রে ভৈরবেশ্বরের সংক্ষিপ্ত তত্ত্ব ও আচারবিধি বর্ণিত। ঈশ্বর দেবীকে নির্দেশ দেন—অগ্নিকোণের নিকটে, দিক-চিহ্ন ও দূরত্বের নির্দিষ্ট ইঙ্গিতসহ যে মহিমান্বিত ভৈরবেশ্বর মন্দির, সেখানে গমন করতে। সেখানে স্থিত লিঙ্গ সর্বকাম-প্রদ, দারিদ্র্য ও দুর্ভাগ্যনাশক বলে কীর্তিত। পূর্বযুগে এটি ‘চণ্ডেশ্বর’ নামে পরিচিত ছিল; চণ্ড নামক এক গণ দীর্ঘকাল পূজা করায় সেই নাম স্মৃতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। শান্তচিত্তে দর্শন ও স্পর্শ করলে পাপক্ষয় হয় এবং জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি লাভ হয়—এ কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছে। ভাদ্রপদ কৃষ্ণ চতুর্দশীতে উপবাস ও রাত্রিজাগরণ করলে মহেশ্বরের পরম ধাম প্রাপ্তি হয়। বাক্য, মন ও কর্মজনিত দোষ লিঙ্গদর্শনে বিনষ্ট হয়; আর তিল, স্বর্ণ ও বস্ত্র দান বিদ্বানকে দিলে অশুচিতা দূর হয় ও তীর্থযাত্রার ফল সিদ্ধ হয়। শেষে ভৈরবের বিশ্বতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে—প্রলয়ের সময় রুদ্র ভৈরবরূপ ধারণ করে জগতকে সংহৃত/সংকুচিত করেন; তাই তীর্থের নামের ভিত্তি মহাজাগতিক কর্মে প্রতিষ্ঠিত। এই মাহাত্ম্য শ্রবণে ঘোর পাপ থেকেও মুক্তি ও মঙ্গলফল প্রাপ্তির কথা বলা হয়েছে।

मृत्युञ्जयमाहात्म्यवर्णनम् / The Glory of Mṛtyuñjayeśvara (Mṛtyuñjaya Liṅga)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর প্রভাস-ক্ষেত্রে অবস্থিত বিশেষ লিঙ্গ ‘মৃত্যুঞ্জয়েশ্বর’-এর মাহাত্ম্য উপদেশরূপে বর্ণনা করেন। দিকনির্দেশ ও ধনু-পরিমাপ দ্বারা মন্দিরের অবস্থান নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে—দর্শন ও স্পর্শমাত্রেই এটি পাপঘ্ন। পূর্বযুগে এই স্থান ‘নন্দীশ্বর’ নামে খ্যাত ছিল; সেখানে নন্দিন নামক এক গণ কঠোর তপস্যা করে মহালিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে নিয়মিত পূজা করতেন। মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের অবিরত জপে দেবতা প্রসন্ন হয়ে তাঁকে গণেশত্ব, সামীপ্য এবং মুক্তিসদৃশ ফল প্রদান করেন। এরপর লিঙ্গপূজার বিধি বলা হয়েছে—দুধ, দই, ঘি, মধু ও আখের রসে অভিষেক; কুঙ্কুমলেপন; কর্পূর, উশীর, কস্তুরীরস, চন্দন ও পুষ্পার্পণ; ধূপ ও অগুরু; সামর্থ্য অনুযায়ী বস্ত্র; দীপসহ নৈবেদ্য এবং শেষে প্রণাম। শেষে বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণকে স্বর্ণদান নির্দেশিত; ফলশ্রুতিতে জন্মফল, সর্বপাপক্ষয় ও ইষ্টসিদ্ধির কথা ঘোষিত।

कामेश्वर–रतीश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Kameśvara and Ratīśvara: Etiology and Merits of Worship
এই অধ্যায়ে দেবী ও ঈশ্বরের প্রশ্নোত্তরধর্মী ধর্মতাত্ত্বিক সংলাপ বর্ণিত। ঈশ্বর প্রথমে কামেশ্বরের উত্তরে রতীশ্বরের অবস্থান দিক‑দূরত্বের চিহ্নে নির্দেশ করেন এবং বলেন—শুধু দর্শন ও পূজায় সাত জন্মের পাপ ক্ষয় হয়, গৃহভঙ্গ ও অশান্তি দূর হয়। এরপর দেবী তীর্থের উৎপত্তি ও “রতীশ্বর” নামের কারণ জানতে চান। ঈশ্বর কাহিনি বলেন—ত্রিপুরারী শিব মনসিজ কামকে দগ্ধ করলে রতী সেই স্থানে দীর্ঘ তপস্যা করেন; অঙ্গুষ্ঠাগ্রে দাঁড়িয়ে বহু কাল তপস্যার ফলে ভূমি থেকে এক মাহেশ্বর লিঙ্গ প্রকাশিত হয়। আকাশবাণী রতীকে লিঙ্গপূজার নির্দেশ দেয় এবং কামের সঙ্গে পুনর্মিলনের বর প্রদান করে। রতীর তীব্র পূজায় কাম পুনরুদ্ধার হন এবং সেই লিঙ্গ “কামেশ্বর” নামে প্রসিদ্ধ হয়; রতী বলেন, ভবিষ্যতে যে ভক্তিভরে পূজা করবে সে ইষ্টসিদ্ধি ও শুভগতি লাভ করবে। শেষে চৈত্র শুক্ল ত্রয়োদশীতে পূজাকে বিশেষ মঙ্গলদায়ক ও কামনা‑পূরণকারী বলা হয়েছে।

योगेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Glorification of Yogeśvara Liṅga)
ঈশ্বর মহাদেবীকে প্রভাসক্ষেত্রের বায়ু-ভাগে, কামেশের নিকটে “সাত ধনুক” পরিমিত সীমার মধ্যে অবস্থিত মহাপ্রভাবশালী যোগেশ্বর লিঙ্গের মাহাত্ম্য বলেন। এর দর্শনমাত্রেই পাপ নাশ হয়; পূর্বযুগে এর নাম ছিল ‘গণেশ্বর’। কাহিনিতে বলা হয়—অগণিত শক্তিমান গণ প্রভাসকে মাহেশ্বর ক্ষেত্র জেনে সেখানে এসে যোগনিয়মসহ সহস্র দিব্যবর্ষ কঠোর তপস্যা করেন। তাঁদের ষড়ঙ্গ-যোগে প্রসন্ন হয়ে বৃষধ্বজ শিব লিঙ্গটির নাম ‘যোগেশ্বর’ রাখেন এবং একে যোগফলদাতা ঘোষণা করেন। যে ব্যক্তি বিধিপূর্বক ভক্তিসহ যোগেশ্বরের পূজা করে, সে যোগসিদ্ধি ও স্বর্গীয় আনন্দ লাভ করে; এই পূজা স্বর্ণমেরু ও সমগ্র পৃথিবী দানের থেকেও শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। ফলসম্পূর্ণতার জন্য বৃষভ-দান (বৃষভ দান) বিধেয়। পরে প্রভাসে নিবাসকারী ‘একাদশ রুদ্র’-এর নিত্য পূজা ও বন্দনার নির্দেশ আছে; তাঁদের কাহিনি শ্রবণে ক্ষেত্রের পূর্ণ পুণ্য লাভ হয়, আর তাঁদের অজ্ঞতা নিন্দিত। শেষে বলা হয়—সোমেশ্বর পূজার পর শতরুদ্রিয় পাঠ করলে সকল রুদ্রের পুণ্য প্রাপ্ত হয়। এই উপদেশকে রহস্য, পাপনাশক ও পুণ্যবর্ধক বলা হয়েছে।

पृथ्वीश्वर-माहात्म्यवर्णनम् (Glorification of Pṛthvīśvara and the Origin of Candreśvara)
এই অধ্যায়ে দেবী জিজ্ঞাসা করেন—কেন সেই লিঙ্গ ‘পৃথ্বীশ্বর’ নামে পরিচিত এবং পরে কীভাবে ‘চন্দ্রেশ্বর’ নামে প্রসিদ্ধ হল। ঈশ্বর পাপ-প্রণাশিনী কাহিনি বলে জানান যে লিঙ্গটি পূর্বযুগ/মন্বন্তর থেকেই খ্যাত এবং প্রভাস-ক্ষেত্রে দিক ও দূরত্বের নির্দেশসহ প্রতিষ্ঠিত। দৈত্যভার-পীড়িত পৃথিবী গোরূপ ধারণ করে ঘুরতে ঘুরতে প্রভাসে এসে লিঙ্গ-প্রতিষ্ঠার সংকল্প করে। সে শতবর্ষ কঠোর তপস্যা করে; রুদ্র প্রসন্ন হয়ে আশ্বাস দেন যে বিষ্ণু দৈত্যদের অপসারণ করবেন এবং এই লিঙ্গ ‘ধারিত্রী/পৃথ্বীশ্বর’ নামে বিখ্যাত হবে। ফলশ্রুতিতে বলা হয়—ভাদ্রপদ কৃষ্ণ তৃতীয়ায় পূজা মহাযজ্ঞফলসম; আশেপাশের অঞ্চল মুক্তিদায়ক, এবং সেখানে অনিচ্ছাকৃত মৃত্যুও পরম গতি দেয়। এরপর বরাহ-কল্পের প্রসঙ্গ: দক্ষের শাপে চন্দ্র রোগগ্রস্ত হয়ে পৃথিবীতে পতিত হয়, সমুদ্রসন্নিহিত প্রভাসে এসে পৃথিবীশ্বরের সহস্রবর্ষ আরাধনা করে। তাতে তার দীপ্তি ও শুদ্ধি ফিরে আসে এবং লিঙ্গটি ‘চন্দ্রেশ্বর’ নামে পরিচিত হয়। এই মাহাত্ম্য শ্রবণে অশুচিতা দূর হয় ও স্বাস্থ্য বৃদ্ধি পায়—এ কথা অধ্যায়ে উপসংহৃত।

Cakradhara–Daṇḍapāṇi Māhātmya (Establishment of Cakradhara near Somēśa and the Pacification of Kṛtyā)
ঈশ্বর দেবীকে প্রভাসক্ষেত্রে সোমেশের নিকটে কেন চক্রধর (সুদর্শনধারী বিষ্ণু) ও দণ্ডপাণি (শৈব গণেশ্বর/রক্ষক) একসঙ্গে প্রতিষ্ঠিত—তার তীর্থমাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। কাহিনি শুরু হয় পৌণ্ড্রক বাসুদেব নামে এক মোহগ্রস্ত রাজার দ্বারা, যে বিষ্ণুর চিহ্ন ধারণ করে কৃষ্ণকে চ্যালেঞ্জ করে চক্রাদি ত্যাগ করতে বলে। ভগবান হরি তার ভণ্ডামি প্রকাশ করতে কাশীতেই সुदর্শন প্রয়োগ করে পৌণ্ড্রক ও কাশীরাজকে বধ করেন। কাশীরাজের পুত্র শঙ্করের আরাধনা করে ভয়ংকর কৃত্যা লাভ করে, যা দ্বারকার দিকে ধেয়ে আসে। বিষ্ণু সुदর্শন ছেড়ে তাকে নিস্তেজ করেন; কৃত্যা পালিয়ে কাশীতে শঙ্করের শরণ চায়। দেবাস্ত্রের সংঘাতে লোকক্ষয়ের আশঙ্কা দেখা দিলে বিষ্ণু প্রভাসে কালভৈরব/সোমেশের সন্নিধিতে আসেন। দণ্ডপাণি সংযমের উপদেশ দেন—চক্র পুনরায় নিক্ষেপ করলে সর্বত্র অনর্থ হতে পারে; হরি তা মেনে দণ্ডপাণির পাশে চক্রধর রূপে সেখানে অবস্থান করেন। শেষে পূজাবিধি ও ফলশ্রুতি বলা হয়েছে—ক্রমে প্রথমে দণ্ডপাণি, পরে হরির পূজা করলে ভক্ত পাপরূপী কবচ থেকে মুক্ত হয়ে শুভ গতি লাভ করে। বিশেষ চন্দ্রতিথি, উপবাস ও ব্রতকে বিঘ্ননাশ ও মুক্তিমুখী পুণ্যের জন্য উল্লেখ করা হয়েছে।

सांबाय दुर्वाससा शापप्रदानवर्णनम् — Durvāsas’ Curse upon Sāmba and the Origin-Frame of Sāmbāditya
এই অধ্যায়ে শিব–দেবীর সংলাপের মাধ্যমে প্রভাসখণ্ডে ‘সাম্বাদিত্য-মাহাত্ম্য’ প্রসঙ্গের সূচনা হয়। ঈশ্বর দেবীকে উত্তর ও বায়ব্য (উত্তর-পশ্চিম) দিকের কথা জানিয়ে বলেন—সাম্ব কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সূর্যরূপ ‘সাম্বাদিত্য’ প্রসিদ্ধ। তিনি সেই অঞ্চলের তিন প্রধান সূর্যস্থান—মিত্রবন, মুণ্ডীর এবং তৃতীয় প্রভাসক্ষেত্র—উল্লেখ করেন। এরপর দেবী জিজ্ঞাসা করেন, সাম্ব কে এবং কেন একটি নগর তার নামে পরিচিত। ঈশ্বর বলেন—সাম্ব বাসুদেবের পরাক্রমশালী পুত্র, জাম্ববতীর সন্তান; পিতৃশাপে তার কুষ্ঠরোগ হয়। কারণকথায় বলা হয়—দুর্বাসা ঋষি দ্বারাবতীতে এলে, যৌবন ও রূপের অহংকারে সাম্ব তাঁর তপস্বী রূপকে অঙ্গভঙ্গি ও আচরণে উপহাস করে অবমাননা করে। এতে ক্রুদ্ধ দুর্বাসা শাপ দেন—শীঘ্রই সাম্ব কুষ্ঠে আক্রান্ত হবে। এই অধ্যায় তপস্বীদের প্রতি বিনয় ও শ্রদ্ধার নীতি স্থাপন করে এবং পরবর্তীতে সাম্বের সূর্যোপাসনা ও জনকল্যাণার্থে সূর্যপ্রতিষ্ঠার পটভূমি রচনা করে।

सांबादित्यमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Sāmba-Āditya (Sun Worship at Prabhāsa)
এই অধ্যায়ে আচরণ, ফল ও প্রায়শ্চিত্ত-ভক্তির ধর্মশিক্ষামূলক কাহিনি বর্ণিত। নারদ দ্বারাবতীতে এসে যাদবদের রাজসভা ও অন্তঃপুরের পরিবেশ লক্ষ্য করেন; সাম্বের ঔদ্ধত্যই ঘটনার সূত্রপাত। মদ্য ও সামাজিক পরিস্থিতিতে মনোযোগের অস্থিরতা প্রসঙ্গে নারদ প্রশ্ন তোলেন, আর শ্রীকৃষ্ণ তা উপলক্ষ করে এক পরীক্ষাসদৃশ ঘটনা ঘটতে দেন। ভ্রমণ-উৎসবের সময়ে নারদ সাম্বকে কৃষ্ণ ও অন্তঃপুরের নারীদের সামনে আনেন; মত্ততা ও উত্তেজনায় সংযম ভেঙে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। শ্রীকৃষ্ণের শাপ এখানে নীতিবাণী—অবধানচ্যুতি, সামাজিক দুর্বলতা ও অবহেলার কর্মফল সম্পর্কে সতর্কতা। কিছু নারী প্রতিশ্রুত গতি থেকে পতিত হন এবং পরে দস্যুদের দ্বারা অপহৃত হন; তবে প্রধান রাণীরা স্থৈর্য ও শালীনতায় রক্ষিত থাকেন। সাম্বও কুষ্ঠরোগে শপ্ত হন, ফলে প্রায়শ্চিত্তের পথ উন্মুক্ত হয়। তিনি প্রভাসে কঠোর তপস্যা করে সূর্যদেবকে প্রতিষ্ঠা ও নির্দিষ্ট স্তোত্রে পূজা করেন; আরোগ্যের বর ও আচরণ-নিয়ম লাভ করেন। এরপর সূর্যের দ্বাদশ নাম, মাসানুসারী দ্বাদশ আদিত্য, এবং মাঘ শুক্ল পঞ্চমী থেকে সপ্তমী পর্যন্ত ব্রতবিধি বলা হয়েছে—করবীর পুষ্প ও রক্তচন্দনে অর্চনা, পূজাপদ্ধতি, ব্রাহ্মণভোজন ও ফলপ্রাপ্তির প্রতিশ্রুতি সহ। শেষে ফলশ্রুতি—এই মাহাত্ম্য শ্রবণে পাপক্ষয় ও স্বাস্থ্যলাভ হয়।

कंटकशोधिनीदेवीमाहात्म्य (Glory of the Goddess Kaṇṭakaśodhinī)
এই অধ্যায়ে কণ্টকশোধিনী দেবীর তীর্থ-সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত উপদেশ দেওয়া হয়েছে। ভক্তকে উত্তর দিকের অংশে “দুই ধনু” দূরত্বে অবস্থিত দেবীমন্দিরে গমন করতে বলা হয়। দেবীকে মহিষঘ্নী, মহাকায়া, ব্রহ্মা ও দেবর্ষিগণের পূজিতা, এবং রক্ষাকারী-যোদ্ধা রূপে বর্ণনা করা হয়েছে। কারণকথায় বলা হয়—যুগে যুগে দেবতাদের পীড়নকারী দানবসমূহ, যাদের ‘দেবকণ্টক’ বলা হয়, তাদেরই ‘কাঁটা’ রূপে অপসারণ করে দেবী শুদ্ধি সাধন করেন। আশ্বযুজ মাসের শুক্লপক্ষের নবমীতে পশু-নৈবেদ্য, পুষ্পার্ঘ্য, উৎকৃষ্ট প্রদীপ ও ধূপ দ্বারা বিশেষ পূজার বিধান আছে। ফলশ্রুতিতে উপাসকের এক বছর শত্রুহীনতা এবং আন্তরিক ভক্তিতে দর্শন করলে দেবীর পুত্রবৎ রক্ষা প্রতিশ্রুত। বিশেষ তীর্থযাত্রা হোক বা নিয়মিত দর্শন—উভয় ক্ষেত্রেই রক্ষা লাভ হয়। শেষে বলা হয়েছে, এই সংক্ষিপ্ত পাপনাশক মাহাত্ম্য শ্রবণমাত্রেই পরম রক্ষাকারী।

कपालेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Kapāleśvara (Origin and Merit of the Shrine)
অধ্যায় ১০৩ প্রভাস-ক্ষেত্রে কপালেশ্বরের পবিত্রতা ও নামকরণের কারণকথা বর্ণনা করে। ঈশ্বর দেবীকে বলেন—উত্তরদিকে অবস্থিত, দেবগণের পূজিত মহিমান্বিত কপালেশ্বরে গমন করা উচিত। এরপর কাহিনি দাক্ষযজ্ঞে প্রবেশ করে: ধূলিধূসর এক কপালধারী তপস্বী সেখানে আসে। ব্রাহ্মণরা তাকে যজ্ঞভূমির অযোগ্য মনে করে ক্রুদ্ধ হয়ে তাড়িয়ে দেয়। সে হাসতে হাসতে কপালটি যজ্ঞমণ্ডপে নিক্ষেপ করে অদৃশ্য হয়ে যায়। কপালটি বারবার ফিরে আসে; ফেলে দিলেও দূর হয় না। ঋষিরা বিস্মিত হয়ে স্থির করেন—এমন অলৌকিক ঘটনা কেবল মহাদেবই ঘটাতে পারেন। তারা স্তোত্র, হোম ও শতরুদ্রিয় পাঠের দ্বারা শিবকে প্রসন্ন করেন; তখন শিব প্রত্যক্ষ হন। বর চাইলে ব্রাহ্মণরা প্রার্থনা করেন—সেই স্থানে লিঙ্গরূপে ‘কপালেশ্বর’ নামে শিব স্থায়ীভাবে বিরাজ করুন, কারণ সেখানে অসংখ্য কপালের পুনরাবির্ভাব ঘটে। শিব বরদান দেন, যজ্ঞ পুনরায় সম্পন্ন হয়। কপালেশ্বর দর্শনের ফল অশ্বমেধের সমতুল্য এবং পূর্বজন্মসহ সকল পাপ থেকে মুক্তি দায়ক বলা হয়েছে। মন্বন্তরভেদে নামান্তর (কপালেশ্বর, পরে তত্ত্বেশ্বর) উল্লেখিত, এবং শিবের ছদ্মবেশ/জাল্মরূপ ধারণই এই তীর্থ-মাহাত্ম্যের মূল উপায় হিসেবে দেখানো হয়েছে।

कोटीश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Kotīśvara Liṅga: Account of its Sacred Greatness
ঈশ্বর দেবীকে দিক-অনুসারে তীর্থযাত্রার বিধান বলেন—সাধককে প্রথমে মহিমান্বিত কোটীশ্বরে গমন করতে হবে এবং তার উত্তরে অবস্থিত কোটীশা (কোটীশ) দর্শন করতে হবে। এই স্থানের পবিত্রতা কাপালেশ্বরের নিকটে সংঘটিত এক প্রাচীন ঘটনার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। সেখানে পাশুপত তপস্বীরা—ভস্মলিপ্ত, জটাধারী, মুঞ্জ-মেখলা পরিধানকারী, সংযত ও ক্রোধজয়ী ব্রাহ্মণ শিবযোগী—চার দিক জুড়ে ক্ষেত্র পরিভ্রমণ করে দীর্ঘ তপস্যা করেন। তারা ‘কোটি’ সংখ্যায়, মন্ত্রজপে নিবিষ্ট হয়ে, কাপালেশ্বরের কাছে বিধিপূর্বক একটি লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে ভক্তিভরে পূজা করেন। মহাদেব প্রসন্ন হয়ে তাদের মুক্তি দান করেন; কারণ সেখানে কোটি ঋষি সিদ্ধি লাভ করেছিলেন, তাই সেই লিঙ্গ পৃথিবীতে ‘কোটীশ্বর’ নামে প্রসিদ্ধ হয়। বলা হয়েছে, কোটীশ্বরের ভক্তিপূর্বক পূজায় কোটি মন্ত্রজপের ফল লাভ হয়; আর এই স্থানে বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণকে স্বর্ণদান করলে কোটি হোমের তুল্য ফল হয়—এ তীর্থযাত্রা যথার্থই ফলপ্রদ বলে ঘোষিত।

ब्रह्ममाहात्म्यवर्णनम् (Brahmā-Māhātmya: Theological Discourse on Brahmā’s Sanctity at Prabhāsa)
ঈশ্বর প্রভাসক্ষেত্রের অন্তর্গত এক “গুপ্ত, শ্রেষ্ঠ স্থান”-এর কথা বলেন, যা সর্বজন-পবিত্রকারী ও সর্বদোষনাশক। তিনি সেখানে দেবসন্নিধির মহিমা বর্ণনা করে জানান—শুধু দর্শনমাত্রেই জন্মজাত গুরু পাপমল ক্ষয় হয় এবং মুক্তির পথ উন্মুক্ত হয়। দেবী প্রশ্ন করেন—অন্যত্র ব্রহ্মা বৃদ্ধরূপে বর্ণিত হলেও এখানে কেন তাঁকে “বালরূপী” বলা হয়েছে? তিনি স্থান, সময়, পূজাবিধি ও তীর্থযাত্রার ক্রমও জানতে চান। ঈশ্বর বলেন—সোমনাথের ঈশান্য দিকে ব্রহ্মার পরম আসন; ব্রহ্মা আট বছর বয়সে সেখানে এসে কঠোর তপস্যা করেন এবং বৃহৎ আচার-অনুষ্ঠানসহ সোমনাথলিঙ্গের প্রতিষ্ঠা/প্রতিষ্ঠানে অংশ নেন। এরপর অধ্যায়ে কালগণনার বিশদ বিবরণ আসে—ত্রুটি থেকে মুহূর্ত পর্যন্ত একক, মাস-বর্ষের বিন্যাস, যুগ ও মন্বন্তরের পরিমাপ, মনু ও ইন্দ্রদের নাম, এবং ব্রহ্মার মাসে অন্তর্গত কল্পসমূহের তালিকা; বর্তমান কল্পকে “বরাহ কল্প” বলা হয়েছে। শেষে ব্রহ্মা–বিষ্ণু–রুদ্রের ত্রয়ীর ঐক্য ও অদ্বৈতভাব প্রতিষ্ঠিত—কার্যভেদে শক্তি পৃথক মনে হলেও তত্ত্বে এক; তাই যাত্রাফলপ্রার্থী প্রথমে ব্রহ্মাকে সম্মান করবে এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ পরিহার করবে।

ब्राह्मणप्रशंसा-वर्णनम् (Praise of Brahmins and Conduct in Prabhāsa-kṣetra)
এই অধ্যায়ে দেবী জিজ্ঞাসা করেন—প্রভাসক্ষেত্রে শিশুরূপে প্রকাশিত পিতামহ (ব্রহ্মা), যিনি অদ্বৈত ব্রহ্মস্বরূপ, তাঁকে কীভাবে পূজা করতে হয়; কোন মন্ত্র ও বিধিনিয়ম প্রযোজ্য; এবং ক্ষেত্রবাসী ব্রাহ্মণরা কেমন, তাঁদের বাস কীভাবে ক্ষেত্রফল প্রদান করে। ঈশ্বর উত্তরে বলেন—ব্রাহ্মণরা পৃথিবীতে দেবতার প্রত্যক্ষ প্রকাশ; তাঁদের সম্মান করা দেবমূর্তি-আরাধনার সমান, কোথাও কোথাও তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষিত। তিনি সতর্ক করেন—ব্রাহ্মণকে পরীক্ষা করা, অপমান করা বা আঘাত করা নিষিদ্ধ; দরিদ্র, রোগী বা অঙ্গহীন ব্রাহ্মণকেও তুচ্ছ করা উচিত নয়। হিংসা ও লাঞ্ছনার ভয়ংকর কুফল বর্ণিত হয়েছে, আর অন্ন-জল দান ও আতিথ্যকে ব্রাহ্মণ-সম্মানের প্রধান উপায় বলা হয়েছে। এরপর প্রভাসে বসবাসকারী ব্রাহ্মণদের নানা জীবনবৃত্তি/আচরণধারার শ্রেণিবিভাগ দেওয়া হয়—ব্রত, তপস্যা, নিয়ম, ভিক্ষা বা জীবিকার ধরন ইত্যাদির সংক্ষিপ্ত লক্ষণসহ। উপসংহারে বলা হয়—শৃঙ্খলাবদ্ধ, বেদ-নিষ্ঠ ব্রাহ্মণরাই শিশুরূপ পিতামহের যথার্থ উপাসক; গুরুতর অপরাধে কলুষিতরা সেই পূজার নিকটে যাবে না।

बालरूपी-ब्रह्मपूजाविधानम्, रथयात्रा-विधिः, नामशत-स्तोत्र-माहात्म्यम् (Bālarūpī Brahmā Worship Procedure, Chariot-Festival Protocol, and the Merit of the Hundred Names)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর বিধি ও তত্ত্বসহ উপদেশ প্রদান করেন। ভক্তিকে মানসী, বাচিকী ও কায়িকী—এই তিন রূপে ভাগ করে, তার প্রবণতা লৌকিকী, বৈদিকী ও আধ্যাত্মিকী বলেও পৃথকভাবে নির্দেশ করা হয়েছে। এরপর প্রভাস-ক্ষেত্রে বালরূপী ব্রহ্মার বিশেষ পূজা-বিধান বর্ণিত—তীর্থস্নান, মন্ত্রোচ্চারণসহ পঞ্চগব্য ও পঞ্চামৃতাভিষেক, দেহে ন্যাস-ক্রম, উপকরণের শুদ্ধিকরণ, পুষ্প-ধূপ-দীপ-নৈবেদ্যাদি উপচার, এবং বেদসমূহ ও সদ্গুণকে পূজ্যরূপে সম্মান। কার্ত্তিক মাসে, বিশেষত পূর্ণিমার নিকটে, রথযাত্রার বিধি বলা হয়েছে—নগরবাসীর দায়িত্ব, আচার-সতর্কতা, এবং অংশগ্রহণকারী ও দর্শকের ফল। পরে ব্রহ্মার স্থান-সংযুক্ত নাম/রূপের দীর্ঘ তালিকা দেওয়া হয়েছে, যা তীর্থ-ভূগোলের সূচির মতো। ফলশ্রুতিতে বলা হয়, নামশত-স্তোত্র পাঠ ও যথাবিধি আচরণ পাপক্ষয় করে মহাপুণ্য দান করে; প্রভাসে পদ্মক-যোগ প্রভৃতি দুর্লভ কাল-যোগের বিশেষ মাহাত্ম্যও উল্লেখিত। শেষে মহোৎসবে অবস্থানকারী ব্রাহ্মণদের জন্য জপ-পাঠের অনুশাসন এবং ভূমিদানসহ নির্দিষ্ট দ্রব্যদানের বিধান সুপারিশ করা হয়েছে।

प्रत्यूषेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् / The Māhātmya of Pratyūṣeśvara
ঈশ্বর দেবীকে বলেন—সোমনাথক্ষেত্রের ঈশান দিকে নির্দিষ্ট দূরত্বে বসুদের এক পরম লিঙ্গ আছে, চতুর্মুখ ও দেবতাদের প্রিয়। তার নাম প্রত্যূষেশ্বর; এটি মহাপাপ-নাশক, এবং কেবল দর্শনেই সাত জন্মের সঞ্চিত পাপ বিনষ্ট হয় বলা হয়েছে। দেবী জিজ্ঞাসা করেন—প্রত্যূষ কে, আর এই লিঙ্গ কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হল? ঈশ্বর বংশকথা বলেন—ব্রহ্মার পুত্র দক্ষ তাঁর কন্যাদের ধর্মের সঙ্গে বিবাহ দেন; তাঁদের মধ্যে বিশ্বা আট পুত্র প্রসব করেন—এই আটজনই অষ্টবসু: আপ, ধ্রুব, সোম, ধর, অনল, অনিল, প্রত্যূষ ও প্রভাস। পুত্রলাভের কামনায় প্রত্যূষ প্রভাসক্ষেত্রে এসে একে কামদ তীর্থ জেনে মহাদেবকে প্রতিষ্ঠা করে শত দিব্যবর্ষ একাগ্র তপস্যা করেন। মহাদেব প্রসন্ন হয়ে দেবল নামে পুত্র দেন, যিনি শ্রেষ্ঠ যোগী বলে প্রশংসিত; তাই লিঙ্গের নাম প্রত্যূষেশ্বর। এখানে পূজা করলে নিঃসন্তানও স্থায়ী বংশধারা লাভ করে। প্রত্যূষকালে (ভোরে) স্থির ভক্তিতে আরাধনা করলে ব্রহ্মহত্যাজনিতসহ ঘোর পাপও নাশ হয়। পূর্ণ তীর্থফলের জন্য বৃষদান বিধেয়, আর মাঘ কৃষ্ণ চতুর্দশীর রাত্রি জাগরণকে সকল দান-যজ্ঞের ফলদায়ক বলা হয়েছে।

अनिलेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Anileśvara Māhātmya—Description of the Glory of Anileśvara)
ঈশ্বর মহাদেবীকে মহিমান্বিত অনিলেশ্বর তীর্থে অগ্রসর হতে নির্দেশ দেন। স্থানটি উত্তর দিকের তিন ধনুক দূরত্বে অবস্থিত বলে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সেখানে প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গ ‘মহাপ্রভাব’ এবং তার দর্শনমাত্রেই পাপনাশ হয়। কথায় অনিলকে বসুদের মধ্যে পঞ্চম বলা হয়েছে। তিনি শ্রদ্ধাভরে মহাদেবের উপাসনা করে শিবকে প্রত্যক্ষ করান এবং বিধিপূর্বক লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। ঈশের কৃপায় তাঁর পুত্র মনোজব অসাধারণ বল ও বেগ লাভ করে; তার গতি অনুসরণ করা যায় না—এটি দেবানুগ্রহের দৃষ্টান্ত। যে ব্যক্তি সেই মূর্তি/স্থান দর্শন করে, সে ক্লেশমুক্ত থাকে; অঙ্গবৈকল্য ও দারিদ্র্যের অভাব এবং মঙ্গলপ্রাপ্তি বলা হয়েছে। লিঙ্গের উপর একটি মাত্র ফুল অর্পণ করলেও সুখ, সৌভাগ্য ও সৌন্দর্য লাভ হয়। এই পাপনাশক মাহাত্ম্য শ্রবণ ও অনুমোদন করলে অভীষ্ট সিদ্ধি হয়—এমন ফলশ্রুতি।

प्रभासेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Prabhāseśvara (Installation, Austerity, and Pilgrimage Observance)
ঈশ্বর দেবীকে গৌরী-তপোবন থেকে পশ্চিমদিকে অগ্রসর হয়ে মহিমান্বিত প্রভাসেশ্বর তীর্থে যেতে নির্দেশ দেন। তিনি জানান, সাত ধনুক-পরিমিত পরিধির মধ্যে এই ক্ষেত্র প্রসিদ্ধ এবং সেখানে মহালিঙ্গ অষ্টম বসু ‘প্রভাস’ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত। এরপর প্রভাসের সন্তানলাভের আকাঙ্ক্ষা, মহালিঙ্গ-প্রতিষ্ঠা এবং ‘আগ্নেয়ী’ নামে কঠোর তপস্যার বর্ণনা আসে—যা শত দিব্যবর্ষ ধরে চলেছিল। রুদ্র প্রসন্ন হয়ে কাম্য বর প্রদান করেন। প্রসঙ্গক্রমে ভুবনা (বৃহস্পতির ভগিনী) প্রভাসের পত্নী বলে উল্লিখিত; তাঁদের বংশধারাকে বিশ্বকর্মা—জগতের মহাশিল্পী-স্রষ্টা—এবং অতিশয় শক্তিধর তক্ষকের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। শেষে তীর্থযাত্রীদের বিধান বলা হয়—মাঘ মাসের চতুর্দশীতে সমুদ্র-সঙ্গমে স্নান, শতরুদ্রিয় জপ, সংযম (ভূমিশয্যা ও উপবাস), পঞ্চামৃত দিয়ে লিঙ্গাভিষেক, বিধিমতে পূজা এবং ইচ্ছানুসারে বৃষদান। এর ফলে পাপশুদ্ধি ও সর্বপ্রকার সমৃদ্ধি লাভ হয়।

रामेश्वरक्षेत्रमाहात्म्यवर्णन — Rāmeśvara Kṣetra Māhātmya (at Puṣkara)
ঈশ্বর দেবীকে পুষ্করের নিকটে ‘অষ্টপুষ্কর’ নামক কুণ্ডের স্থানীয় মাহাত্ম্য বলেন—অসংযমীদের পক্ষে তা দুর্লভ, পাপহর ও মহাপুণ্যদায়ক। সেখানে রাম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘রামেশ্বর’ লিঙ্গের কথা বলা হয়েছে; কেবল দর্শন-पूজনেই প্রায়শ্চিত্ত হয় এবং ব্রহ্মহত্যার মতো মহাপাপ থেকেও মুক্তি লাভ হয়। দেবী বিস্তারিত জানতে চান—সীতা ও লক্ষ্মণসহ রাম কীভাবে সেখানে এলেন এবং লিঙ্গপ্রতিষ্ঠা কীভাবে ঘটল। ঈশ্বর রামের জীবনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন—রাবণবধের উদ্দেশ্যে অবতার, পরে ঋষিশাপজনিত বনবাস; যাত্রাপথে প্রভাসদেশে আগমন। বিশ্রামের পর রাম স্বপ্নে দশরথকে দেখেন; ব্রাহ্মণদের পরামর্শ নেন। ব্রাহ্মণরা এটিকে পিতৃসংকেত বলে ধরে পুষ্করতীর্থে শ্রাদ্ধের বিধান দেন। রাম যোগ্য ব্রাহ্মণদের আমন্ত্রণ করেন, লক্ষ্মণকে ফল আনতে পাঠান, সীতা অর্ঘ্য-উপকরণ প্রস্তুত করেন। শ্রাদ্ধকালে ব্রাহ্মণদের মধ্যে নিজের পিতৃকুলের উপস্থিতি অনুভব করে সীতা লজ্জায় সরে যান; তাঁকে না দেখে রাম ক্ষণিক ক্রুদ্ধ হন, পরে সীতা কারণ জানান—এ ঘটনাই পুষ্করের নিকটে রামেশ্বর লিঙ্গপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত। শেষে ফলশ্রুতি—ভক্তিভরে পূজা করলে পরম গতি লাভ হয়। বিশেষত দ্বাদশী তিথি এবং চতুর্থী/ষষ্ঠীর বিশেষ সংযোগে শ্রাদ্ধ অমিত ফলদায়ক; পিতৃতৃপ্তি বারো বছর স্থায়ী হয়। অশ্বদানকে অশ্বমেধযজ্ঞসম পুণ্য বলা হয়েছে। এটি প্রভাস খণ্ডের এই অংশের ১১১তম অধ্যায় বলে নির্দেশিত।

लक्ष्मणेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Lakṣmaṇeśvara Māhātmya—Account of the Glory of Lakṣmaṇeśvara)
অধ্যায় ১১২-এ ঈশ্বর দেবীকে যাত্রাপথের নির্দেশের ভঙ্গিতে উপদেশ দেন এবং রামেশের পূর্বদিকে ত্রিশ ধনু দূরে অবস্থিত প্রসিদ্ধ লক্ষ্মণেশ্বর তীর্থের কথা বলেন। সেখানে স্থাপিত লিঙ্গটি তীর্থযাত্রাকালে লক্ষ্মণ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত—এ কথা বলা হয়েছে; এটি মহাপাপ নাশকারী এবং দেবগণের পূজিত। ভক্তির বিধান হিসেবে নৃত্য, গান, বাদ্যসহ পূজা, হোম ও জপ, এবং ধ্যান-সমাধিতে স্থিত হয়ে আরাধনার কথা বলা হয়েছে; এর ফল ‘পরমা গতি’। দানের নিয়মও নির্দিষ্ট—গন্ধ, পুষ্প প্রভৃতি ক্রমান্বয়ে অর্পণ করে দেবতাকে সম্মান জানিয়ে যোগ্য দ্বিজকে অন্ন, জল ও স্বর্ণ দান করতে হবে। মাঘ মাসের কৃষ্ণ চতুর্দশী বিশেষভাবে উল্লেখিত; সেদিন স্নান, দান ও জপকে অক্ষয় ফলদায়ক বলা হয়েছে। শেষে প্রভাস খণ্ড ও প্রভাসক্ষেত্র-মাহাত্ম্যের অন্তর্গত অধ্যায় হিসেবে এর অবস্থান নির্দেশ করা হয়েছে।

जानकीश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Jānakīśvara Māhātmya: Account of the Glory of Jānakīśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে বলেন—প্রভাসক্ষেত্রের নৈঋত্য দিকে, রামেশ/রামেশানের নিকটে ‘জানকীশ্বর’ নামে এক মহিমান্বিত লিঙ্গ আছে। তা সকল জীবের পাপহর, এবং একদা জানকী (সীতা) বিশেষভাবে যার পূজা করেছিলেন। লিঙ্গের নামপরম্পরাও বর্ণিত—প্রথমে ‘বসিষ্ঠেশ’, ত্রেতাযুগে ‘জানকীশ’ নামে প্রসিদ্ধ, পরে ষাট হাজার বালখিল্য ঋষির সিদ্ধিলাভের ফলে ‘সিদ্ধেশ্বর’ উপাধি লাভ করে। কলিযুগে একে শক্তিশালী ‘যুগলিঙ্গ’ বলা হয়েছে; এর দর্শনমাত্রেই ভক্তরা দুর্ভাগ্যজাত দুঃখ থেকে মুক্ত হয়। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য সমানভাবে পূজাবিধান নির্দিষ্ট—লিঙ্গস্নান/অভিষেক প্রভৃতি। বিশেষ সাধনায় পুষ্করতীর্থে স্নান করে নিয়মাচার ও সংযত আহারসহ এক মাস অবিচ্ছিন্ন পূজা করলে প্রতিদিনের পুণ্য অশ্বমেধেরও অধিক বলা হয়েছে। মাঘ মাসের তৃতীয় তিথিতে কোনো নারীর পূজা তার বংশপর্যন্ত শোক ও দুর্ভাগ্য নাশ করে। শেষে বলা হয়েছে—এই মাহাত্ম্য শ্রবণ করলে পাপ নষ্ট হয় এবং মঙ্গল লাভ হয়।

वामनस्वामिमाहात्म्यवर्णनम् | Vāmana-Svāmin Māhātmya (Glorification of Vāmana Svāmin)
ঈশ্বর দেবীকে বিষ্ণু-তীর্থ ‘বামন-স্বামিন’-এ গমন করতে নির্দেশ দেন। এই তীর্থকে পাপপ্রণাশক ও সর্বপাতকনাশক বলা হয়েছে এবং এটি পুষ্করের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের নিকটে অবস্থিত বলে বর্ণিত। এখানে বলিকে বেঁধে রাখার পৌরাণিক কাহিনি বলা হয়—ত্রিবিক্রম বিষ্ণুর তিন পদক্ষেপের প্রথমটি এই স্থানে ডান পায়ে, দ্বিতীয়টি মেরু-শিখরে, তৃতীয়টি আকাশে; তৃতীয় পদক্ষেপে বিশ্বসীমা ভেদ হয় এবং সেখান থেকে জলধারা নির্গত হয়ে ‘বিষ্ণুপদী’ গঙ্গা নামে পরিচিত হয়। ‘পুষ্কর’ শব্দের ব্যুৎপত্তি ‘আকাশ’ ও ‘জল’—এই অর্থদ্বয়ের দ্বারা ব্যাখ্যা করে একে প্রজাপতি-সম্পর্কিত পবিত্র সঙ্গমরূপে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানে স্নান করে হরির পদচিহ্ন দর্শনে হরির পরম ধামলাভ, পিণ্ডদানে পিতৃগণের দীর্ঘ তৃপ্তি, এবং নিয়মপরায়ণ ব্রাহ্মণকে পাদুকা দানে বিষ্ণুলোকে সম্মানিত বাহনপ্রাপ্তির পুণ্য প্রশংসিত হয়েছে। বশিষ্ঠপ্রদত্ত গাথা উদ্ধৃত করে তীর্থের শুদ্ধিদায়ক মহিমা দৃঢ় করা হয়েছে।

Puṣkareśvaramāhātmya-varṇana (Glorification of Puṣkareśvara)
ঈশ্বর মহাদেবীকে প্রভাস-ক্ষেত্রে তীর্থযাত্রার ক্রম নির্দেশ করেন—প্রথমে পরম প্রসিদ্ধ পুষ্করেশ্বরে গমন, তারপর তার দক্ষিণে অবস্থিত জানকীশ্বরে দর্শন-আরাধনা। পুষ্করেশ্বর-লিঙ্গকে মহাশক্তিসম্পন্ন বলা হয়েছে; এর মহিমা আদর্শ পূজায় প্রমাণিত—ব্রহ্মপুত্র (ব্রহ্মার পুত্র) এবং ঋষি সনৎকুমার স্বর্ণ-পুষ্কর-পুষ্পে বিধিপূর্বক পূজা করেছিলেন, তাই নাম ও খ্যাতি প্রতিষ্ঠিত। এখানে আচার-ফলের নীতি বলা হয়—গন্ধ, পুষ্প প্রভৃতি নিবেদন করে ভক্তিসহকারে, ক্রমানুসারে ও যথাবিধি পূজা করলে তা ‘পুষ্করী-যাত্রা’ সম্পন্নের সমান গণ্য। এই তীর্থ ‘সর্ব-পাপক-নাশন’ নামে প্রসিদ্ধ; যাত্রা নৈতিক শুদ্ধি ও শৃঙ্খলিত ভক্তির পথরূপে প্রতিপন্ন।

शंखोदककुण्डेश्वरीगौरीमाहात्म्य (Glory of Śaṅkhodaka Kuṇḍa and Kuṇḍeśvarī/Gaurī)
ঈশ্বর দেবীকে জানান যে প্রভাসক্ষেত্রে ‘কুণ্ডেশ্বরী’ নামে এক দেবীস্থান আছে, যিনি সৌভাগ্যদাত্রী এবং পাপ ও দারিদ্র্য নাশিনী। দিকনির্দেশ ও দূরত্বের উল্লেখসহ তীর্থস্থানের অবস্থান বর্ণিত হয়েছে। তার নিকটে ‘শঙ্খোদক কুণ্ড’ নামে এক জলাশয় আছে, যা সর্বপাপ বিনাশকারী তীর্থরূপে খ্যাত। কথায় বলা হয়, বিষ্ণু শঙ্খ নামক এক দানবকে বধ করে তার বৃহৎ শঙ্খসদৃশ দেহ প্রভাসে এনে ধৌত করেন; সেই ঘটনাতেই এই মহাতীর্থ প্রতিষ্ঠিত হয়। শঙ্খধ্বনি শুনে দেবী সেখানে এসে কারণ জিজ্ঞাসা করেন; এই সাক্ষাৎ থেকেই ‘কুণ্ডেশ্বরী’ ও ‘শঙ্খোদক’ নামের উৎপত্তি। মাঘ মাসের তৃতীয়া তিথিতে এখানে পূজা করলে নারী-পুরুষ উভয়েই গৌরীর পদ/ধাম লাভ করে—এমন বিধান দেওয়া হয়েছে। তীর্থফল কামনাকারীদের জন্য দানধর্মও বলা হয়েছে: দম্পতিকে ভোজন করানো, কঞ্চুক/বস্ত্র দান, এবং গৌরীরূপিণী নারীদের ভোজন করানো।

भूतनाथेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Glorification of Bhūtanātheśvara)
এই অধ্যায়ে প্রভাসখণ্ডে ঈশ্বর মহাদেবীকে ভূতনাথেশ্বরের মাহাত্ম্য শোনান। ভক্তকে কুণ্ডেশ্বরীর ঈশ-ভাগের নিকটে, ‘বিশ ধনুক’ দূরত্বে অবস্থিত ভূতনাথেশ্বর-হরের কাছে গিয়ে দর্শন-উপাসনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লিঙ্গকে অনাদি-নিধন ‘কল্প-লিঙ্গ’ বলা হয়েছে এবং যুগভেদে নামের কথা বলা হয়েছে—ত্রেতায় এটি ‘বীরভদ্রেশ্বরী’ নামে স্মরণীয়, আর কলিতে ‘ভূতেশ্বর/ভূতনাথেশ্বর’ নামে প্রসিদ্ধ। দ্বাপর-সন্ধিক্ষণে অসংখ্য ভূত এই লিঙ্গের প্রভাবে পরম সিদ্ধি লাভ করেছিল—এই কারণেই পৃথিবীতে তীর্থের নাম প্রতিষ্ঠিত। কৃষ্ণচতুর্দশীর রাত্রিতে বিশেষ আচরণ বিধেয়: শঙ্করের পূজা করে দক্ষিণমুখে স্থিত হয়ে অঘোরের উপাসনা করতে হবে; সংযম, নির্ভয়তা ও ধ্যান-একাগ্রতা বজায় রাখলে জগতে উপলব্ধ যে-কোনো সিদ্ধি লাভ হয়। তিল ও স্বর্ণ দান এবং পিতৃদের উদ্দেশে পিণ্ডদান প্রেতত্বমোচনের জন্য প্রশস্ত। শেষে ফলশ্রুতি—শ্রদ্ধায় পাঠ বা শ্রবণে পাপসঞ্চয় নষ্ট হয় এবং শুদ্ধি বৃদ্ধি পায়।

गोप्यादित्यमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Gopyāditya (Sun consecrated by the Gopīs)
ঈশ্বর দেবীকে প্রভাসক্ষেত্রে দিক ও দূরত্বের চিহ্নে নির্দেশিত অত্যন্ত প্রশংসিত সূর্যতীর্থ ‘গোপ্যাদিত্য’-তে গমন করতে বলেন; এটিকে মহাপাপ-নাশক স্থান বলা হয়েছে। এরপর তিনি তীর্থের উৎপত্তি বর্ণনা করেন—কৃষ্ণ যাদবদের সঙ্গে প্রভাসে আসেন; গোপীরা ও কৃষ্ণের পুত্ররাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ অবস্থানে বহু নামে বহু শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত হয়; ধ্বজা, প্রাসাদ ও নানা চিহ্নে শোভিত এক লিঙ্গ-ঘন পবিত্র ক্ষেত্র গড়ে ওঠে। কথায় ষোলো জন ‘প্রধান’ গোপীর নাম উল্লেখ করে তাঁদের চন্দ্রকলার সঙ্গে সম্পর্কিত শক্তি/কলা রূপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কৃষ্ণকে জনার্দন/পরমাত্মা এবং গোপীদের তাঁর শক্তি হিসেবে প্রতিপাদিত করা হয়। নারদ প্রমুখ ঋষি ও স্থানীয় জনদের সঙ্গে গোপীরা বিধিপূর্বক প্রতিষ্টা করে সূর্যপ্রতিমা স্থাপন করেন; দানও সম্পন্ন হয়। তখন দেবতা ‘গোপ্যাদিত্য’ নামে খ্যাত হয়ে মঙ্গলদাতা ও পাপনাশক রূপে প্রতিষ্ঠিত হন। শেষে আচরণবিধি দেওয়া হয়েছে—গোপ্যাদিত্যভক্তিকে তপস্যা ও সমৃদ্ধ যজ্ঞের সমতুল্য ফলদায়ক বলা হয়েছে; মাঘ শুক্ল সপ্তমীর প্রাতঃপূজা বিশেষভাবে প্রশংসিত, যা পিতৃকল্যাণও সাধন করে। তদুপরি শুচিতা-নিয়ম, বিশেষত তেল-স্পর্শ ও নীল/লাল বস্ত্রের নিষেধ এবং সংশ্লিষ্ট প্রায়শ্চিত্ত, সাধকদের নৈতিক-আচারগত রক্ষাকবচ হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

बलातिबलदैत्यघ्नीमाहात्म्यवर्णनम् (Māhātmya of the Goddess who Slays Bala and Atibala)
এই অধ্যায়ে দেবী জিজ্ঞাসা করেন—স্থানীয় দেবী কেন “বালাতিবল-দৈত্যঘ্নী” নামে প্রসিদ্ধ? ঈশ্বর শুদ্ধিদায়ক কাহিনি বলেন: রক্তাসুরের পুত্র বল ও অতিবল প্রবল শক্তিতে দেবতাদের পরাজিত করে, নামধারী সেনাপতি ও বিপুল বাহিনী নিয়ে অত্যাচারী শাসন কায়েম করে। দেবতা ও দেবর্ষিরা একত্রে মহাদেবীর শরণ নেন এবং দীর্ঘ স্তোত্রে তাঁকে শক্তি-শৈব- বৈষ্ণব নানা উপাধিতে বন্দনা করেন—জগতের আশ্রয়, পরাশক্তি, সর্বশরণ্যা রূপে। তখন দেবী সিংহবাহিনী, বহু-ভুজা, অস্ত্রধারিণী ভয়ংকর যোদ্ধা-মূর্তিতে প্রকাশিত হয়ে মহাযুদ্ধে দৈত্যসেনাকে সহজেই বিনাশ করেন এবং ধর্ম-শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপন করেন। এরপর বিজয়কে প্রভাস-ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করা হয়: অম্বিকা সেখানে অধিষ্ঠান করেন এবং বল-অতিবলের বিনাশকারিণী হিসেবে খ্যাত হন; তাঁর সঙ্গে চৌষট্টি যোগিনীর পরিকরও বর্ণিত। দেবীর অনুরোধে ঈশ্বর যোগিনীদের নাম বলেন এবং সাধনার বিধান দেন—ভক্তিভরে চণ্ডিকার স্তব, চতুর্দশী, অষ্টমী, নবমী তিথিতে উপবাস ও নিয়মিত পূজা, এবং উৎসব আয়োজন, যা সমৃদ্ধি ও রক্ষার কারণ। শেষে বলা হয়, এই মাহাত্ম্য পাপ-নাশক এবং প্রভাসস্থিত দেবীর ভক্তদের জন্য সর্বার্থসাধক।

गोपीश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Gopīśvara Māhātmya (Account of the Glory of Gopīśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে শৈব তত্ত্বের উপদেশ দেন এবং তীর্থযাত্রীকে উত্তরদিকে অবস্থিত, ‘তিন ধনুক’ দূরত্বে নির্দেশিত অতুলনীয় গোপীশ্বর-ধামে গমন করতে বলেন। এই তীর্থ পাপ-শমনকারী, এবং গোপীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত—এই প্রতিষ্ঠা-কথা দেবতার স্থানীয় মহিমা ও কর্তৃত্বকে দৃঢ় করে। এরপর সংক্ষিপ্ত পূজা-বিধান বলা হয়—পুত্রলাভের জন্য মহাদেব/মহেশ্বরের আরাধনা করতে হবে; তিনি মানুষের সকল অভীষ্ট পূর্ণ করেন এবং বিশেষত সন্ততি-প্রদাতা। চৈত্র শুক্ল তৃতীয়ায় গন্ধ, পুষ্প ও নৈবেদ্যসহ পূজা করলে কাম্য ফল লাভ হয়—এমন কাল-নিয়মও উল্লেখিত। শেষে প্রভাস-ক্ষেত্রে গোপীশ্বরের শুদ্ধিকারী মাহাত্ম্যের সংক্ষিপ্ত ফলশ্রুতি প্রদান করা হয়েছে।

जामदग्न्येश्वरमाहात्म्य (Glory of Jāmadagnyēśvara Liṅga)
এই অধ্যায়ে প্রভাসক্ষেত্রে জামদগ্ন্যেশ্বর লিঙ্গের উৎপত্তি ও মহিমা শৈব স্থান-পুরাণরূপে বর্ণিত। ঈশ্বর তীর্থযাত্রার ক্রম বলেন, যেখানে রামজামদগ্ন্য (পরশুরাম) প্রতিষ্ঠিত রামেশ্বরের উল্লেখ আছে; গোপীশ্বরের নিকটে দূরত্ব-চিহ্নসহ এক মহাশক্তিশালী পাপহর লিঙ্গের অবস্থান নির্দেশ করা হয়েছে। কাহিনিতে পরশুরামের গভীর নৈতিক সংকট স্মরণ করা হয়—পিতার আদেশে মাতৃহত্যা, তারপর অনুতাপ, জমদগ্নির প্রসাদন এবং বরদানে রেণুকার পুনর্জীবন। বরলাভের পরও তিনি প্রভাসে অসাধারণ তপস্যা করেন, মহাদেব শঙ্করকে প্রতিষ্ঠা করেন এবং ঈশ্বরের সন্তোষ ও অভীষ্ট ফল লাভ করেন; মহেশ্বর সেখানে সদা সন্নিহিত থাকেন। পরবর্তীতে ক্ষত্রিয়দের বিরুদ্ধে পরশুরামের যুদ্ধাভিযান, কুরুক্ষেত্র ও পঞ্চনদে সম্পাদিত ক্রিয়া, পিতৃঋণ-নিরসন এবং ব্রাহ্মণদের কাছে পৃথিবী দান সংক্ষেপে বলা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বলা হয়—এই লিঙ্গের পূজায় মহাপাপীও সকল দোষ থেকে মুক্ত হয়ে উমাপতির লোক প্রাপ্ত হয়; কৃষ্ণপক্ষ চতুর্দশীতে জাগরণ করলে অশ্বমেধসম ফল ও স্বর্গীয় আনন্দ লাভ হয়।

चित्राङ्गदेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Citrāṅgadeśvara
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে প্রভাস-ক্ষেত্রের ‘চিত্রাঙ্গদেশ্বর’ নামক এক বিশেষ লিঙ্গের মাহাত্ম্য সংক্ষেপে জানান। পথনির্দেশও দেওয়া হয়েছে—দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রায় বিশ ধনুক দূরত্বে এই লিঙ্গ অবস্থিত। এই তীর্থের প্রতিষ্ঠাতা গন্ধর্বরাজ চিত্রাঙ্গদ। স্থানটির পবিত্রতা উপলব্ধি করে তিনি কঠোর তপস্যা করেন, মহেশ্বরকে প্রসন্ন করেন এবং সেখানে লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। ভক্তিভাবসহ যে পূজা করে, সে গন্ধর্বলোক লাভ করে এবং গন্ধর্বদের সান্নিধ্য পায়। শুক্ল ত্রয়োদশীতে বিধিমতে শিবস্নান করিয়ে, ক্রমান্বয়ে নানা ফুল, সুগন্ধি ও ধূপ দ্বারা পূজার বিধান বলা হয়েছে। বিধি ও ভাব—উভয়ই ঠিক থাকলে সকল কাম্য ফল সম্পূর্ণরূপে সিদ্ধ হয়—এটাই এই অধ্যায়ের প্রতিশ্রুত ফল।

रावणेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Rāvaṇeśvara (Foundation Narrative of the Rāvaṇeśvara Liṅga)
ঈশ্বর দেবীকে প্রভাসক্ষেত্রে রাবণেশ্বরের মাহাত্ম্য শোনান। ত্রিলোকজয়ের বাসনায় রাবণ পুষ্পক বিমানে চলতে গিয়ে হঠাৎ আকাশেই স্থির হয়ে যায়—ক্ষেত্র-নিয়মে শিবের অতিক্রম অযোগ্য উপস্থিতির ইঙ্গিত। রাবণ প্রহস্তকে অনুসন্ধানে পাঠায়; সে দেখে সোমেশ্বর (শিব) দেবগণের স্তবে বন্দিত এবং বালখিল্যাদি তপস্বীসমাজের সেবায় পরিবৃত। প্রহস্ত জানায়—শিবের অনতিক্রম্য তেজের কারণে বিমান আর এগোতে পারে না। রাবণ নেমে ভক্তিভরে পূজা করে; ভয়ে স্থানীয় লোকজন পালিয়ে যায়, দেবালয়-প্রাঙ্গণ শূন্যপ্রায় হয়। তখন এক অশরীরী বাণী নীতিবিধান দেয়—দেবের যাত্রাকালে বাধা দিও না; দূরদেশ থেকে দ্বিজাতি তীর্থযাত্রী আসে, তাদের বিপদে ফেলো না। বাণী আরও বলে, সোমেশ্বরের কেবল দর্শনেই শৈশব-যৌবন-বার্ধক্যে সঞ্চিত দোষ ধুয়ে যায়। এরপর রাবণ সেখানে একটি লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে ‘রাবণেশ্বর’ নামে পূজা করে, উপবাস ও রাত্রিজাগরণ করে এবং গীত-বাদ্যে আরাধনা সম্পন্ন করে। শিব বর দেন—এখানে তাঁর স্থায়ী সান্নিধ্য থাকবে, রাবণের পার্থিব উন্নতি হবে, আর এই লিঙ্গের উপাসকরা দুর্জয় হয়ে সিদ্ধি লাভ করবে। রাবণ পুনরায় নিজের অভিলাষিত অভিযানে বেরিয়ে যায়; অধ্যায়টি মূলত তীর্থের পবিত্রতা ও পূজা-ফলবিধি প্রতিষ্ঠা করে।

सौभाग्येश्वरीमाहात्म्यवर्णनम् (Glory of Saubhāgyeśvarī / The Saubhāgya-Granting Gaurī Shrine)
এই অধ্যায়ে শিব–দেবী সংলাপের মাধ্যমে পশ্চিমদিকে অবস্থিত গৌরীর এক বিশেষ তীর্থের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে দেবী ‘সৌভাগ্যেশ্বরী’ রূপে দাম্পত্য-মঙ্গল ও কল্যাণ প্রদান করেন। স্থানটি ‘রাবণেশ’ নামে রাবণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখিত, এবং ‘পাঁচ ধনুকের সমষ্টি’—এমন স্থানচিহ্নও লোকনাম হিসেবে দেওয়া হয়েছে। কারণকথায় বলা হয়েছে, অরুন্ধতী দেবী সৌভাগ্যের আকাঙ্ক্ষায় সেখানে গৌরীপূজায় নিবিষ্ট হয়ে কঠোর তপস্যা করেন এবং দেবীর শক্তিতে পরম সিদ্ধি লাভ করেন। মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া বিশেষ পুণ্যকাল। ফলশ্রুতি অনুযায়ী, ভক্তিভরে যে এই দেবীর পূজা করে, সে এই জন্মে ও ভবিষ্যৎ জন্মেও সৌভাগ্য লাভ করে।

पौलोमीश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Paulomīśvara Māhātmya (Glorification of the Paulomīśvara Liṅga)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর ক্ষেত্রের দিক‑অবস্থান ও নির্দিষ্ট দূরত্ব নির্দেশ করে দেবপ্রিয় ‘মহালিঙ্গ’-এর কথা বলেন। এই লিঙ্গ কামপ্রদ ও সর্বপাপ‑নাশক, এবং পৌলোমী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ‘পৌলোমীশ্বর’ নামে খ্যাত। তারকের সঙ্গে সংঘর্ষে দেবতারা পরাজিত হলে ইন্দ্র শোক ও ভয়ে কাতর হন। ইন্দ্রাণী ইন্দ্রের বিজয়ের জন্য শম্ভুর আরাধনা করেন; মহাদেব প্রসন্ন হয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেন—ষাণ্মুখ (ছয়মুখী) মহাশক্তিমান পুত্র জন্ম নেবে এবং সে-ই তারককে বধ করবে। যে ভক্ত পৌলোমীশ্বর লিঙ্গের পূজা করে, সে শিবের গণ হয়ে তাঁর সান্নিধ্য লাভ করে। শেষে ইন্দ্র সেখানে আশ্রয় নিয়ে দুঃখ‑ভয়মুক্ত হন; ফলে এই তীর্থ আশ্রয় ও পুণ্যক্ষেত্ররূপে প্রতিষ্ঠিত হয়।

Śāṇḍilyeśvara-māhātmya (Glory of Śāṇḍilyeśvara)
ঈশ্বর দেবীকে নির্দেশ দেন—ব্রহ্মার পশ্চিম দিকের অঞ্চলে নির্দিষ্ট চিহ্ন ও দূরত্ব-নির্দেশ অনুসারে অবস্থিত পরম শাণ্ডিল্যেশ্বর লিঙ্গের কাছে গমন করতে। এই লিঙ্গ অত্যন্ত ফলদায়ক; কেবল দর্শনমাত্রেই পাপ-নাশ ও অশুচি-ক্ষয় হয়—এ কথা অধ্যায়ে ঘোষিত। এরপর ব্রহ্মর্ষি শাণ্ডিল্যের পরিচয় দেওয়া হয়—তিনি ব্রহ্মার সারথি, তপস্বী, তেজস্বী, জ্ঞাননিষ্ঠ ও সংযতেন্দ্রিয়। তিনি প্রভাসে এসে কঠোর তপস্যা করেন, সোমেশের উত্তরে এক মহালিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন এবং শত দিব্যবর্ষ ধরে নিজে পূজা করেন। শেষে তিনি অভীষ্ট লাভ করে কৃতার্থ হন; নন্দীশ্বরের কৃপায় অণিমা প্রভৃতি যোগসিদ্ধিও লাভ করেন। ফলশ্রুতি হিসেবে বলা হয়েছে—যে কেউ শাণ্ডিল্যেশ্বর দর্শন করে, সে তৎক্ষণাৎ শুদ্ধ হয়; শৈশব, যৌবন বা বার্ধক্যে জেনে বা না জেনে করা পাপও এই দর্শনে বিনষ্ট হয়।

Kṣemakareśvara-liṅga Māhātmya (क्षेमंकरॆश्वरलिङ्गमाहात्म्य) — Glory of Kṣemeśvara/Kṣemakareśvara
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে ক্ষেমেশ্বর (ক্ষেমংকরেশ্বর) নামক এক মহাপ্রভাবশালী লিঙ্গের মাহাত্ম্য জানান। এটি কাপালেশের উত্তর কোণে, কাপালেশ-ক্ষেত্রের দর্শন-উপাসনার পরিসরের মধ্যে, “পনেরো ধনুক” দূরত্বে অবস্থিত বলে বর্ণিত। লিঙ্গটি মহাপ্রভাবী এবং সর্বপাপ-নাশক। এরপর কারণকথা—ক্ষেমমূর্তি নামে এক পরাক্রান্ত রাজা সেখানে দীর্ঘ তপস্যা করে ভক্তি ও একাগ্র সংকল্পে লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। এই লিঙ্গের দর্শনে ‘ক্ষেম’ (কল্যাণ ও স্থিত মঙ্গল), কর্মসিদ্ধি, জন্মে জন্মে ইষ্টফল-সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য লাভ হয়। কেবল দর্শনফলকে শত গাভী দানের সমান বলা হয়েছে এবং ক্ষেত্রফলপ্রার্থীকে নিত্য এই লিঙ্গে শরণ নিতে উপদেশ দেওয়া হয়েছে।

सागरादित्यमाहात्म्यवर्णनम् | Sāgarāditya Māhātmya (Glory of Sāgara’s Solar Shrine)
ঈশ্বর দেবীকে প্রভাসক্ষেত্রে অবস্থিত ‘সাগরাদিত্য’ নামক বিশেষ সূর্য-প্রতিমাস্থানের মাহাত্ম্য বলেন। ভৈরবেশের পশ্চিমে এবং দক্ষিণ/আগ্নেয় দিকে কামেশের নিকটে ইত্যাদি দিক-নির্দেশে তীর্থের অবস্থান নিরূপিত হয়। পুরাণখ্যাত রাজা সগর এখানে সূর্যের আরাধনা করেছিলেন—এই রাজ-পরম্পরার দ্বারা স্থানের প্রামাণ্য প্রতিষ্ঠিত হয়; সমুদ্রের বিশালতা ও ‘সাগর’ নামের প্রসঙ্গ তীর্থের পৌরাণিক-ঐতিহাসিক গৌরব বাড়ায়। এরপর মাঘ শুক্লপক্ষে ব্রতবিধি বলা হয়—সংযম, ষষ্ঠীতে উপবাস, দেবতার নিকটে শয়ন, সপ্তমীতে প্রাতে উঠে ভক্তিভরে পূজা, এবং দানে কপট না রেখে ব্রাহ্মণভোজন করানো। সূর্যকে ত্রিলোকের ভিত্তি ও পরম দেবতত্ত্ব বলা হয়েছে; ঋতুভেদে সূর্যের বর্ণ-রূপ ধ্যানের নির্দেশও দেওয়া হয়। শেষে সহস্রনামের পরিবর্তে ২১টি গুহ্য/শুদ্ধ নামের সংক্ষিপ্ত স্তব শেখানো হয়; প্রভাত ও সন্ধ্যায় জপ করলে পাপনাশ, সমৃদ্ধি এবং সূর্যলোকে গতি লাভ হয়। এই মাহাত্ম্য শ্রবণে দুঃখনিবারণ ও মহাপাপ বিনাশ ঘটে।

उग्रसेनेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् / The Māhātmya of Ugraseneśvara (formerly Akṣamāleśvara)
অধ্যায় ১২৯ প্রভাসক্ষেত্রে সমুদ্র ও সূর্যের দিকসংলগ্ন এক লিঙ্গের উৎপত্তি, নামান্তর ও মোক্ষদায়িনী মহিমা বর্ণনা করে। ঈশ্বর স্থান নির্দেশ করে বলেন—এটি পাপশমনকারী “যুগলিঙ্গ”; পূর্বে এর নাম ছিল অক্ষমালেশ্বর, পরে উগ্রসেনেশ্বর নামে প্রসিদ্ধ হয়। দেবী পূর্বনামের কারণ জানতে চান। ঈশ্বর আপদ্ধর্মের কাহিনি বলেন—দুর্ভিক্ষে ক্ষুধার্ত ঋষিরা ধান্যসঞ্চিত এক চাণ্ডাল (অন্ত্যজ) গৃহে যান। গৃহস্বামী শৌচ-নিষেধ ও অশুভ ফলের কথা স্মরণ করায়; কিন্তু ঋষিরা অজীগর্ত, ভরদ্বাজ, বিশ্বামিত্র, বামদেব প্রভৃতির দৃষ্টান্ত দিয়ে সংকটে প্রাণরক্ষার্থ গ্রহণকে ন্যায্য বলেন। শর্তসাপেক্ষে বশিষ্ঠ অন্ত্যজকন্যা অক্ষমালাকে বিবাহ করেন; সে সদাচার ও ঋষিসঙ্গের ফলে অরুন্ধতী রূপে পরিচিত হয়। প্রভাসে সে এক উপবনে লিঙ্গ আবিষ্কার করে স্মরণসহ দীর্ঘকাল পূজা করে, ফলে লিঙ্গের পাপহর খ্যাতি প্রকাশ পায়। দ্বাপর-কলি সন্ধিক্ষণে অন্ধাসুরপুত্র উগ্রসেন চৌদ্দ বছর সেই লিঙ্গ আরাধনা করে কংস নামে পুত্র লাভ করেন; তখন থেকেই তীর্থ উগ্রসেনেশ্বর নামে লোকপ্রসিদ্ধ হয়। ফলশ্রুতিতে দর্শন-স্পর্শে মহাপাপ ক্ষয়, ভাদ্রপদ ঋষি-পঞ্চমীতে পূজায় নরকভয়মুক্তি, এবং গোধন, অন্ন ও জলদান শুদ্ধি ও পরলোককল্যাণের জন্য প্রশংসিত।

पाशुपतेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Pāśupateśvara (and Anādīśa) at Prabhāsa
এই অধ্যায়ে প্রভাসক্ষেত্রের পাশুপত-সম্পর্কিত তীর্থসমূহ ও সন্তোষেশ্বর/অনাদীশ/পাশুপতেশ্বর নামে খ্যাত লিঙ্গের মাহাত্ম্য সংলাপরূপে বর্ণিত। ঈশ্বর অন্যান্য প্রভাস-স্থানের তুলনায় এর অবস্থান নির্দেশ করে বলেন—দর্শনমাত্রেই পাপক্ষয় হয়, মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়; এটি সিদ্ধিস্থান এবং নৈতিক-আধ্যাত্মিক রোগে পীড়িতদের জন্য ঔষধিস্বরূপ। এখানে সিদ্ধ ঋষিদের সমাবেশের কথা বলা হয়েছে এবং নিকটবর্তী শ্রীমুখ বনকে লক্ষ্মীনিবাস ও যোগীদের সাধনাভূমি বলা হয়েছে। দেবী পাশুপত যোগ-ব্রত, দেবতার নামভেদ, পূজার মর্যাদা এবং যোগীদের দেহসহ স্বর্গপ্রাপ্তির কাহিনি জানতে চান। এরপর নন্দিকেশ্বরের কৈলাসে তপস্বীদের আহ্বানের প্রসঙ্গ ও পদ্মনাল (পদ্মদণ্ড) ঘটনার বর্ণনা আসে—যোগীরা যোগবলেই সূক্ষ্মরূপে নালের ভিতর প্রবেশ করে তার মধ্যে ভ্রমণ করেন, যা সিদ্ধি ও স্বচ্ছন্দগতি প্রকাশ করে। দেবীর প্রতিক্রিয়ায় শাপের ইঙ্গিত, পরে প্রশমন ও কারণকথা: পতিত নাল ‘মহানাল’ লিঙ্গরূপে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কলিযুগে ধ্রুবেশ্বরের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়; তবে প্রধান দেবতা হিসেবে অনাদীশ/পাশুপতেশ্বরই নিশ্চিত। শেষে ফলশ্রুতি—বিশেষত মাঘমাসে অবিচ্ছিন্ন ভক্তিতে পূজা করলে যজ্ঞ-দানসম ফল, সিদ্ধি ও মোক্ষ লাভ হয়; ভস্মধারণ প্রভৃতি পাশুপত-চিহ্ন ও আচারের নীতিনির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ध्रुवेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Dhruveśvara Māhātmya (The Glory and Origin Account of Dhruveśvara)
এই অধ্যায়ে শ্রীদেবী জিজ্ঞাসা করেন—যে লিঙ্গ “নালেশ্বর” নামে পরিচিত, তা কীভাবে “ধ্রুবেশ্বর” বলেও প্রসিদ্ধ হল। তখন ঈশ্বর তার মাহাত্ম্য ও উৎপত্তিকথা বলেন। রাজা উত্তানপাদের পুত্র ধ্রুব প্রভাসক্ষেত্রে এসে কঠোর তপস্যা করেন, মহাদেবকে প্রতিষ্ঠা করেন এবং সহস্র দিব্যবর্ষ ধরে অবিচল ভক্তিতে পূজা করেন। ঈশ্বর ধ্রুবের স্তোত্রও উচ্চারণ করেন, যা বারবার শরণাগতির বাক্যে গঠিত—“তং শংকরং শরণদং শরণং ব্রজামি”; এতে শিবের বিশ্বাধিপত্য ও পুরাণখ্যাত কীর্তির স্তব আছে। ফলশ্রুতিতে বলা হয়—শুদ্ধচিত্ত ও সংযমসহ পাঠ করলে শিবলোক লাভ হয়। শিব প্রসন্ন হয়ে ধ্রুবকে দিব্যদর্শন দেন এবং নানা বর প্রস্তাব করেন; ধ্রুব পদ-মর্যাদা ইত্যাদি না চেয়ে কেবল নির্মল ভক্তি ও প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গে শিবের নিত্য সান্নিধ্য প্রার্থনা করেন। ঈশ্বর তা অনুমোদন করে ধ্রুবের “স্থির” অবস্থানকে পরম আবাসের সঙ্গে যুক্ত করেন এবং শ্রাবণ অমাবস্যা বা আশ্বযুজ পূর্ণিমায় লিঙ্গপূজার বিধান দেন—যাতে অশ্বমেধসম পুণ্য ও উপাসক-শ্রোতাদের নানাবিধ ইহলোক-পরলোক ফল লাভ হয়।

सिद्धलक्ष्मीमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Siddhalakṣmī (Prabhāsa)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে বলেন যে প্রভাসের নিকটে সোমেশ/ঈশ-দিক্ভাগে এক পরম বৈষ্ণবী শক্তি বিরাজমান। সেই পীঠের অধিষ্ঠাত্রী ‘সিদ্ধলক্ষ্মী’; প্রভাসকে বিশ্বব্যবস্থায় ‘প্রথম পীঠ’ রূপে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে ভৈরবের সঙ্গে ভূচর ও আকাশচারী যোগিনীরা স্বচ্ছন্দে বিচরণ করে। জালন্ধর, কামরূপ, শ্রীমদ্-রুদ্র-নৃসিংহ, রত্নবীর্য, কাশ্মীর প্রভৃতি মহাপীঠের তালিকা দেওয়া হয় এবং এই পীঠজ্ঞানকে মন্ত্রবিদ্যার যোগ্যতা (মন্ত্রবিত্) সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এরপর সৌরাষ্ট্রে ‘মহোদয়’ নামে এক ভিত্তি/আধার-পীঠের কথা বলা হয়, যেখানে কামরূপসদৃশ জ্ঞানধারা কার্যকর থাকে। সেখানে দেবী ‘মহালক্ষ্মী’ রূপে স্তূত—পাপশমনকারী ও শুভসিদ্ধিদাত্রী। শ্রীপঞ্চমীতে সুগন্ধ ও পুষ্প দিয়ে পূজা করলে অলক্ষ্মী (দুর্ভাগ্য)-ভয় দূর হয়। মহালক্ষ্মীর সন্নিধানে উত্তরাভিমুখে মন্ত্রসাধনা নির্দিষ্ট—দীক্ষা ও স্নানের পর লক্ষজপ, এবং তার দশাংশ অনুযায়ী ত্রিমধু ও শ্রীফল দিয়ে হোম। ফলশ্রুতিতে লক্ষ্মী প্রকাশিত হয়ে ইহলোকে ও পরলোকে ইষ্টসিদ্ধি প্রদান করেন; তৃতীয়া, অষ্টমী ও চতুর্দশীতেও পূজা বিশেষ ফলদায়ক বলা হয়েছে।

महाकालीमाहात्म्यवर्णनम् | Mahākālī Māhātmya (Glorification of Mahākālī)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে মহাকালীর মাহাত্ম্য শোনান। বলা হয়েছে, মহাকালী পাতাল-বিবরযুক্ত এক মহাপীঠে প্রতিষ্ঠিতা; তিনি দুঃখ প্রশমক ও বৈর-বিদ্বেষ বিনাশিনী। কৃষ্ণাষ্টমীর রাত্রিতে গন্ধ, পুষ্প, ধূপ প্রভৃতি এবং নৈবেদ্য ও বলি সহ বিধিপূর্বক তাঁর পূজা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নারীকেন্দ্রিক একটি ব্রতও উল্লেখিত—শুক্লপক্ষে এক বছর নিয়মিত আরাধনা, এবং বিধি অনুসারে ব্রাহ্মণকে ফল দান। গৌরী-ব্রত পালনের সময়ে রাত্রে কিছু ডাল-শস্যাদি বর্জনের মতো আহার-নিয়মও বলা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে গৃহস্থের ধন-ধান্যের অক্ষয়তা, অমঙ্গল-দুর্যোগ থেকে রক্ষা এবং বহু জন্মের দুর্ভাগ্য নিবারণের কথা বলা হয়। শেষে এই পীঠকে মন্ত্রসিদ্ধিদায়ক বলে জানিয়ে, আশ্বিন শুক্ল নবমীতে জাগরণ করে শান্তচিত্তে রাত্রিজপের মাধ্যমে ইষ্টসিদ্ধি লাভের উপদেশ দেওয়া হয়েছে।

पुष्करावर्तकानदीमाहात्म्यवर्णनम् (Māhātmya of the Puṣkarāvartakā River)
ঈশ্বর দেবীকে প্রভাস-ক্ষেত্রে ব্রহ্মকুণ্ডের উত্তরে নিকটে অবস্থিত পুষ্করাবর্তকা নামে এক পবিত্র নদীর মাহাত্ম্য বলেন এবং তাকে মহাতীর্থরূপে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রসঙ্গে এক পুরাকথা আসে—সোমযজ্ঞের সময় সোমের প্রসঙ্গে ব্রহ্মা প্রভাসে আগমন করেন, সোমনাথ প্রতিষ্ঠা ও পূর্ব প্রতিশ্রুতির সম্পর্ক স্মরণ করেন। সন্ধ্যাকালের যথাযথ সময় নিয়ে ভাবনা ওঠে: ব্রহ্মা পুষ্করে সন্ধ্যা-আচরণে যেতে উদ্যত, কিন্তু দैবজ্ঞ/কালবিদেরা বলেন—এই মুহূর্ত অতি শুভ, একে হারানো উচিত নয়। তখন ব্রহ্মা একাগ্রচিত্তে নদীতীরে পুষ্করের বহু প্রকাশ ঘটান; জ্যেষ্ঠ, মধ্য ও কনিষ্ঠ—এই তিন আবর্ত সৃষ্টি হয়, ফলে ত্রিবিধ পবিত্র তীর্থভূমি গঠিত হয়। ব্রহ্মা নদীর নাম ‘পুষ্করাবর্তকা’ ঘোষণা করে নিজের অনুগ্রহে তার খ্যাতি জগতে প্রসারিত করেন। এখানে স্নান ও ভক্তিসহ পিতৃতর্পণ করলে ‘ত্রি-পুষ্কর’-সম পুণ্য লাভ হয়; বিশেষত শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয় তিথিতে তর্পণ করলে পিতৃগণ দীর্ঘকাল তৃপ্ত থাকেন—এমন কালবিধান বলা হয়েছে।

दुःखान्तकारिणी–लागौरीमाहात्म्य (Duhkhāntakāriṇī / Lāgaurī Māhātmya) — Śītalā as the Ender of Afflictions
এই অধ্যায়ে প্রভাস-ক্ষেত্রে অধিষ্ঠিত এক রক্ষাদেবীর মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। দ্বাপরযুগে তিনি ‘শীতলা’ নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন, আর কলিযুগে তাঁকেই ‘কলিদুঃখান্তকারিণী’—অর্থাৎ কলিযুগের দুঃখের অবসানকারিণী—রূপে পুনরায় পরিচিত করা হয়েছে। ঈশ্বর তাঁর সান্নিধ্য ও কৃপা ব্যাখ্যা করে শিশুদের রোগ, বিশেষত বিস্ফোট/ফুসকুড়ি-জাতীয় উৎক্ষিপ্ত ব্যাধি এবং সংশ্লিষ্ট উপদ্রব প্রশমনের জন্য ভক্তিমূলক আচারের ক্রম নির্দেশ করেন। প্রথমে দেবীর মন্দিরে গিয়ে দর্শন করতে হবে; তারপর মসুর ডাল গুঁড়ো করে নির্দিষ্ট পরিমাণে শান্তির নিবেদন প্রস্তুত করে শিশুদের মঙ্গলার্থে শীতলার সম্মুখে অর্পণ করতে হবে। সহায়ক কর্ম হিসেবে শ্রাদ্ধ এবং ব্রাহ্মণভোজনের কথাও বলা হয়েছে। কর্পূর, ফুল, কস্তুরী, চন্দন প্রভৃতি সুগন্ধি দ্রব্য ও ঘৃত-পায়স নিবেদন করে, শেষে দম্পতিকে অর্পিত বস্তু/বস্ত্র পরিধান (পরিধাপন) করতে বলা হয়েছে। শুক্ল নবমীতে পবিত্র বিল্বমালা অর্পণ করলে ‘সর্বসিদ্ধি’ লাভ হয়—এটাই অধ্যায়ের প্রধান ফলশ্রুতি।

लोमशेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Lomaśeśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে নির্দেশ দেন—দুঃখান্তকারিণী তীর্থের পূর্বদিকে ‘ধনুষের সপ্তক’ পরিসরের মধ্যে অবস্থিত পরম পীঠ লোমশেশ্বরে গমন করতে। সেখানে গুহার মধ্যে এক মহালিঙ্গ ঋষি লোমশ অত্যন্ত কঠোর তপস্যা করে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এরপর দীর্ঘায়ুর তত্ত্ব বলা হয়—দেহে যত লোম, তত ইন্দ্রের সংখ্যা; ইন্দ্রেরা একে একে লয়প্রাপ্ত হলে তদনুসারে লোমঝরা ঘটে। ঈশ্বরের কৃপায় লোমশ মুনি বহু বহু ব্রহ্মার আয়ু অতিক্রম করে জীবিত থাকেন। যে ভক্তিভরে লোমশ-আরাধিত সেই লিঙ্গের পূজা করে, সে দীর্ঘায়ু, রোগমুক্ত, নীরোগ ও সুখে থাকে—এটাই অধ্যায়ের ফলশ্রুতি।

कंकालभैरवक्षेत्रपालमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Kaṅkāla Bhairava as Kṣetrapāla
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর-অনুমোদিত বাণীতে পবিত্র ক্ষেত্রের প্রধান ক্ষেত্রপাল কঙ্কাল ভৈরবের মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। ভৈরব তাঁকে ক্ষেত্ররক্ষার জন্য নিয়োজিত করেছেন, যাতে বিকৃত স্বভাবের প্রাণীদের অকল্যাণকর অভিপ্রায় দমন ও প্রতিহত করা যায়। শ্রাবণ মাসের শুক্ল পঞ্চমী এবং আশ্বিন মাসের শুক্ল অষ্টমীতে তাঁর পূজার বিশেষ সময় নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ভক্তিভরে বলি ও পুষ্প অর্পণ করে যে ভক্ত ক্ষেত্রের মধ্যে বাস করে পূজা করে, তার সকল কাজে নির্বিঘ্নতা আসে এবং কঙ্কাল ভৈরব তাকে নিজের সন্তানের মতো রক্ষা করেন।

Tṛṇabindvīśvara Māhātmya (तृणबिन्द्वीश्वरमाहात्म्य) — Glory of the Shrine of Tṛṇabindvīśvara
এই অধ্যায়ে ‘ঈশ্বর উবাচ’ শৈব প্রকাশভঙ্গিতে প্রভাস-ক্ষেত্রের পশ্চিম ভাগে তৃণবিন্দ্বীশ্বর তীর্থের অবস্থান নির্দেশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এটি ‘পাঁচ ধনু’ পরিমিত সীমার মধ্যে অবস্থিত এক পবিত্র স্থান, যেখানে শিবলিঙ্গের মাহাত্ম্য বিশেষভাবে প্রকাশিত। তীর্থের পবিত্রতার কারণ হিসেবে ঋষি তৃণবিন্দুর তপস্যার কাহিনি বলা হয়। তিনি বহু বছর কঠোর তপ করেন এবং মাসে মাসে কুশাঘাসের অগ্রভাগ থেকে মাত্র এক ফোঁটা জল পান করার নিয়ম পালন করে সংযম ও ভক্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ঈশ্বরের নিরন্তর আরাধনায় তিনি ‘শুভ প্রাভাসিক ক্ষেত্রে’ পরম সিদ্ধি লাভ করেন; এই তপস্যাই তৃণবিন্দ্বীশ্বর ধামের প্রতিষ্ঠা ও আধ্যাত্মিক প্রভাবের ভিত্তি হিসেবে বর্ণিত।

चित्रादित्यमाहात्म्यवर्णनम् / The Māhātmya of Citrāditya (and the Stotra of the 68 Names of Sūrya)
ঈশ্বর নির্দেশ দেন যে ব্রহ্মকুণ্ডের নিকটে অবস্থিত দারিদ্র্যনাশক চিত্রাদিত্য তীর্থে গমন করা উচিত। পূর্বকথায় ধর্মপরায়ণ কায়স্থ মিত্রের কথা বলা হয়েছে—তিনি সর্বভূতহিতৈষী। তাঁর দুই সন্তান—পুত্র চিত্র ও কন্যা চিত্রা। মিত্রের মৃত্যুর পর স্ত্রী সহগমন/সতী হন; দুই শিশুকে ঋষিরা রক্ষা করেন এবং পরে তারা প্রভাস অঞ্চলে তপস্যায় প্রবৃত্ত হয়। চিত্র ভাস্কর (সূর্য) প্রতিষ্ঠা করে বিধিপূর্বক পূজা করেন এবং পরম্পরাগত স্তোত্র পাঠ করেন, যেখানে সূর্যের আটষট্টি গূঢ় নাম বর্ণিত—যে নামগুলি তাঁকে ভারতের নানা তীর্থক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করে। এই নাম শ্রবণ ও জপে পাপক্ষয়, ইষ্টসিদ্ধি (রাজ্য, ধন, সন্তান, সুখ), রোগনাশ ও বন্ধনমুক্তি লাভ হয় বলা হয়েছে। সূর্য প্রসন্ন হয়ে চিত্রকে কর্ম ও জ্ঞানে পরিপক্বতা দেন; পরে ধর্মরাজ তাঁকে চিত্রগুপ্ত পদে নিয়োগ করেন—বিশ্বের কর্মলেখক। শেষে বিশেষত সপ্তমী তিথিতে পূজাবিধান এবং দান—ঘোড়া, খাপে-সহ তলোয়ার, ও ব্রাহ্মণকে স্বর্ণ—যাত্রাপুণ্য লাভের জন্য নির্দেশিত।

चित्रपथानदीमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of the Citrāpathā River
এই অধ্যায়ে প্রভাসক্ষেত্রে চিত্রপথা নদীর মাহাত্ম্য ও তার আচারগত ফলপ্রদ ক্ষমতা বর্ণিত হয়েছে। দেবীকে ব্রহ্মকুণ্ডের নিকটে, চিত্রাদিত্য-সম্পর্কিত স্থানে অবস্থিত এই নদীর কাছে গমন করতে বলা হয়। কাহিনিতে আছে—যমের আদেশে যমদূতেরা ‘চিত্র’ নামক ব্যক্তিকে নিয়ে যায়; সংবাদ শুনে তার বোন শোকে বিহ্বল হয়ে ‘চিত্রা’ নদীরূপ ধারণ করে, ভাইকে খুঁজতে সমুদ্রে প্রবেশ করে; পরে দ্বিজগণ নদীর নাম ‘চিত্রপথা’ স্থির করেন। ফলশ্রুতি অনুযায়ী, যে ব্যক্তি চিত্রপথায় স্নান করে চিত্রাদিত্যের দর্শন করে, সে দিবাকর-সম্পর্কিত পরম পদ লাভ করে। কলিযুগে নদীটি প্রায় গোপন হয়ে গেছে; খুব কম দেখা যায়, বিশেষত বর্ষাকালে। তবে যখনই দেখা যায়, কেবল দর্শনই প্রমাণ—পঞ্জিকা-নির্ভর সময়বিধি বাধ্যতামূলক নয়। এ স্থান পিতৃলোকের সঙ্গেও যুক্ত: নদীর দর্শনে স্বর্গস্থ পিতৃগণ আনন্দিত হন এবং বংশধরদের শ্রাদ্ধের প্রত্যাশা করেন; তাতে তাঁদের দীর্ঘ তৃপ্তি হয়। তাই পাপক্ষয় ও পিতৃপ্রীতির জন্য সেখানে স্নান ও শ্রাদ্ধ করার উপদেশ দেওয়া হয়েছে, এবং চিত্রপথাকে প্রভাসের পুণ্য-উৎপাদক তীর্থধারা বলা হয়েছে।

कपर्दिचिन्तामणिमाहात्म्यवर्णनम् (Kapardī–Chintāmaṇi Māhātmya: Description of the Sacred Efficacy)
অধ্যায় ১৪১-এ ঈশ্বরপ্রদত্ত সংক্ষিপ্ত তত্ত্ব ও আচারবিধি বর্ণিত। প্রথমে তীর্থযাত্রীকে কাপর্দী প্রতিষ্ঠিত স্থানে গিয়ে, সেখান থেকে উত্তরদিকে নিকটবর্তী যে দেবস্থান ‘চিন্তিতার্থপ্রদ’ নামে খ্যাত—অর্থাৎ মনঃকামিত ফলদাতা, যেন দ্বিতীয় চিন্তামণি—সেখানে গমন করতে বলা হয়েছে। তারপর সময় ও পদ্ধতি নির্দিষ্ট করা হয়েছে: চতুর্থী তিথিতে, বিশেষত অঙ্গারকবার (মঙ্গলবার) মিলিত হলে, দেবতার স্নান/অভিষেক করে সম্পূর্ণ পূজা করতে হবে এবং শুভ নানা প্রকার নৈবেদ্য অর্পণ করতে হবে। এই সাধনা বিঘ্নরাজ (গণেশ)-কে সন্তুষ্ট করে; নিয়মসহকারে পালন করলে সকল কামনা পূর্ণ হয়—এমন ফলশ্রুতি ঘোষিত।

चित्रेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Citreśvara Māhātmya—Account of the Glory of Citreśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে বলেন—প্রভাসক্ষেত্রে আগ্নেয় (দক্ষিণ-পূর্ব) দিকে, সাত ধনু-পরিমিত দূরত্বে ‘চিত্রেশ্বর’ নামে এক মহাপ্রভাবশালী লিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত আছে। তাকে স্পষ্টভাবে ‘সর্ব-পাপক-নাশক’ বলা হয়েছে; তার দর্শন ও পূজায় ভক্তের নরকভয় দূর হয়। এখানে পাপকে মলিনতার মতো ধরে বলা হয়—চিত্রেশ্বর তা ‘মার্জনা’ করে, অর্থাৎ অবিরত ভক্তি-আরাধনায় শুদ্ধি লাভ হয়। তাই সর্বশক্তি দিয়ে চিত্রেশের পূজা করতে উপদেশ দেওয়া হয়েছে; ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে, পাপভারাক্রান্ত ব্যক্তিও নরক দর্শন করে না। এটি স্কন্দমহাপুরাণের প্রভাসখণ্ড, প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্য (প্রথম ভাগ), অধ্যায় ১৪২।

विचित्रेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Vicitreśvara
ঈশ্বর মহাদেবীকে বিচিত্রেশ্বর তীর্থযাত্রার বিধান জানান। প্রভাসক্ষেত্রের সেই অঞ্চলে পূর্বদিকে, সামান্য আগ্নেয় (দক্ষিণ-পূর্ব) সীমার ভেতরে, দশ ধনুর দূরত্বে এই শ্রেষ্ঠ লিঙ্গ অবস্থিত—এভাবে স্থাননির্দেশ করা হয়েছে। উৎপত্তিকথায় বলা হয়, যমের লেখক ‘বিচিত্র’ কঠোর তপস্যা করে এই মহালিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। এই লিঙ্গের দর্শন ও সঙ্গে পূজা করলে সর্বপাপ নাশ হয়; আর বিধিপূর্বক আরাধনা করলে ভক্ত দুঃখে আক্রান্ত হয় না—এই ফলশ্রুতি অধ্যায়ে ঘোষিত।

पुष्करकुण्डमाहात्म्य (Puṣkara-kuṇḍa Māhātmya) — The Glory of Puṣkara Pond
ঈশ্বর মহাদেবীকে “তৃতীয় মহৎ পুষ্কর”-এ গমন করতে নির্দেশ দেন। তার পূর্বভাগে, ঈশান দিকের নিকটে, ‘পুষ্কর’ নামে স্মরণীয় এক ক্ষুদ্র কুণ্ডের পরিচয় দেওয়া হয়। মধ্যাহ্নে সেখানে ব্রহ্মা পূজা করেছিলেন—এই আদর্শ-প্রসঙ্গ দ্বারা তীর্থের প্রামাণ্য স্থাপিত হয়; এবং ত্রিলোক-মাতা সন্ধ্যার সঙ্গে ‘প্রতিষ্ঠা’ (স্থাপন) সম্পর্কিত বলা হয়। পূর্ণিমার দিনে স্থিরচিত্তে সেখানে স্নান করলে ‘আদি-পুষ্কর’-এ বিধিপূর্বক স্নানের ফল লাভ হয়—এমন বিধান আছে। সকল পাপ অপসারণের জন্য হিরণ্য-দান (স্বর্ণদান) করাও আবশ্যক বলা হয়েছে। শেষে ফলশ্রুতি জানায়—এই সংক্ষিপ্ত মাহাত্ম্য শ্রবণে পাপ ক্ষয় হয় এবং অভীষ্ট সিদ্ধি লাভ হয়।

गजकुंभोदरमाहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Gajakumbhodara: Vighneśa at the Kuṇḍa)
অধ্যায় ১৪৫ প্রভাস-ক্ষেত্রে বিঘ্নেশ (গণেশ)-এর একটি স্থানীয় রূপের সংক্ষিপ্ত মাহাত্ম্য বর্ণনা করে। ঈশ্বর ‘গজকুম্ভোদর’ নামে এক বিশেষ বিগ্রহের পরিচয় দেন—হস্তিমুখাদি লক্ষণযুক্ত, বিঘ্ননাশক এবং দুষ্কর্ম-ধ্বংসকারী দেবতা। এরপর নির্দিষ্ট আচারের বিধান আছে: সংযতচিত্ত তীর্থযাত্রী চতুর্থীর দিনে সংশ্লিষ্ট কুণ্ডে স্নান করে ভক্তিভরে দেবের পূজা করবে। যথাযথ সময়ে শুদ্ধ ভক্তি ও নৈতিক আচরণে দেব প্রসন্ন হন; ফলে বাধা দূর হয় এবং মঙ্গলফল পরিপক্ব হয়। শেষে এটি স্কন্দপুরাণের অন্তর্গত ‘গজকুম্ভোদর-মাহাত্ম্যবর্ণন’ অধ্যায় বলে উল্লেখিত।

यमेश्वर-प्रतिष्ठा तथा पापविमोचन-उपदेशः (Yameśvara Installation and Guidance on Release from Demerit)
এই অধ্যায়ে ধর্মরাজ যম ছায়া-সম্পর্কিত শাপের ফলে দুঃখভোগ করেন; তাঁর এক পা খসে পড়ে এবং তিনি তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করেন। তিনি প্রভাসক্ষেত্রে তপস্যা করেন ও শূলধারী শিবের লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। শিব স্বয়ং প্রকাশ হয়ে বর চাইতে বলেন; যম পতিত পা পুনঃস্থাপনের প্রার্থনা করেন। এরপর যম নিবেদন করেন—যে কেউ ভক্তিভরে যমেশ্বর-লিঙ্গ দর্শন করবে, তার পাপবিমোচন হোক। শিব বরদান দিয়ে অন্তর্ধান করেন; যম সুস্থ হয়ে স্বর্গে প্রত্যাবর্তন করেন। তীর্থবিধি হিসেবে বলা হয়েছে—ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার সংযোগকালে সরোবরে স্নান করে মন্দিরের নিকটে যমেশ্বর দর্শন করতে হবে। তিলপাত্র, দীপ, গাভী ও কাঞ্চন যমের উদ্দেশ্যে দান করলে সর্বপাপ নাশ হয়; নৈতিক কারণ অস্বীকার নয়, বরং ভক্তি-তপস্যা ও বিধিবদ্ধ কর্মে ভয় প্রশমিত হয়।

ब्रह्मकुण्डमाहात्म्य (Brahmakuṇḍa Māhātmya) — The Glory of Brahmakuṇḍa at Prabhāsa
এই অধ্যায়টি শিব–দেবীর সংলাপরূপে বিন্যস্ত। ঈশ্বর দেবীকে প্রভাসে অবস্থিত ব্রহ্মকুণ্ডের মহিমা জানান—ব্রহ্মা-নির্মিত অতুলনীয় তীর্থ। সোম/শশাঙ্ক যখন সোমনাথের প্রতিষ্ঠা করেন এবং দেবসমাবেশে অভিষেক-অনুষ্ঠান হয়, তখন ব্রহ্মাকে দেবতার প্রতিষ্ঠার স্বয়ম্ভূ-চিহ্ন প্রদানের অনুরোধ করা হয়। ব্রহ্মা তপস্যা ও ধ্যানের দ্বারা স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতালের সকল তীর্থকে একত্র আকর্ষণ করে এই কুণ্ডে সংহত করেন; তাই এর নাম “ব্রহ্মকুণ্ড”। এখানে স্নান ও পিতৃতর্পণে অগ্নিষ্টোম যজ্ঞসম পুণ্য এবং স্বর্গগমনের ফল বলা হয়েছে। পাপনাশের জন্য বিদ্বান ব্রাহ্মণকে দান প্রশস্ত। পূর্ণিমা ও প্রতিপদ তিথিতে সরস্বতীর স্নানের উল্লেখ করে ক্যালেন্ডার-নির্ভর পবিত্রতাও নির্দেশিত। কুণ্ডজলকে সিদ্ধ-রসায়ন বলা হয়েছে—বহুবর্ণ ও সুবাসযুক্ত, বিস্ময়কর; তবে তার কার্যকারিতা মহাদেবের প্রসন্নতার অধীন। পাত্র-প্রস্তুতি, উত্তাপন, বারংবার সংযোজন প্রভৃতি বিধি এবং বহু-বছরের স্নান, মন্ত্রজপ ও হিরণ্যেশ, ক্ষেত্রপাল ও ভৈরবেশ্বরের পূজায় স্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, বাক্পটুতা ও বিদ্যা লাভের কথা বলা হয়েছে। শেষে প্রদক্ষিণা ও পূজায় পুণ্যসঞ্চয়, নানা পাপক্ষয় এবং শ্রদ্ধাভরে শ্রবণে ব্রহ্মলোকে গমনের ফলশ্রুতি ঘোষিত।

Kūpa–Kuṇḍala-janma-kathā and Śivarātri-phala (The Well of Kundala and the Fruit of Śivarātri)
এই অধ্যায়ে শিব–দেবীর ধর্মতাত্ত্বিক সংলাপে ব্রহ্মতীর্থের নিকটে ব্রহ্মকুণ্ডের উত্তরে অবস্থিত ‘কুণ্ডল’ নামক এক কূপের কথা বলা হয়েছে। সেখানে স্নান করলে চৌর্যদোষের পাপ নাশ হয় এবং স্থানটি অত্যন্ত পবিত্র—এমনই ঘোষণা। বিশেষ করে শিবরাত্রিতে পিণ্ডদান প্রভৃতি ক্রিয়া হিংসায় নিহত ও নৈতিক দোষে কলুষিত বলে গণ্য ব্যক্তিদের মঙ্গলার্থে শ্রেষ্ঠ বলে নির্দেশিত। দেবীর প্রশ্নে ঈশ্বর সেই স্থানের খ্যাতির কারণকথা বলেন। রাজা সুদর্শন পূর্বজন্ম স্মরণ করেন—পূর্বজন্মে তিনি এক চোর ছিলেন; শিবরাত্রির জাগরণ-রাত্রিতে দুষ্কর্ম করতে গিয়ে রাজরক্ষীদের হাতে নিহত হন এবং তাঁর দেহাবশেষ ব্রহ্মতীর্থের উত্তরে সমাহিত হয়। অনিচ্ছাকৃতভাবে শিবরাত্রি-জাগরণের সংযোগ ও ক্ষেত্রের মহিমায় তিনি রূপান্তরকারী ফল লাভ করে ধর্মপরায়ণ রাজা সুদর্শনরূপে পুনর্জন্ম নেন। পরবর্তীতে সোনা পাওয়ার দৃশ্যচিহ্নে জনসমক্ষে সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়; ‘চিত্রাপথা’ নদীর উদ্ভব ও নামকরণ ঘটে। শ্রাবণ মাসে ওই কূপে স্নান করে বিধিমতো শ্রাদ্ধ এবং চিত্রাদিত্য পূজা করলে শিবলোকে সম্মান লাভ হয় বলা হয়েছে। শেষে পাঠ বা শ্রবণের ফলশ্রুতিতে রুদ্রলোকে পবিত্রতা ও মর্যাদার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

Bhairaveśvara at Brahmakuṇḍa (भैरवेश्वर-ब्रह्मकुण्ड-माहात्म्यम्)
ঈশ্বর দেবীকে বলেন যে ব্রহ্মকুণ্ডের ঈশান (উত্তর-পূর্ব) দিকে অবস্থিত ভৈরবেশ্বর এক পরম মহিমান্বিত প্রকাশ—তিনি তীর্থের রক্ষক ও পাপনাশক। তাঁর চতুর্বক্ত্র রূপ পবিত্র ক্ষেত্রের মধ্যে সুরক্ষা ও আচার-অধিকারকে বিশেষভাবে প্রকাশ করে। এখানে তীর্থযাত্রার সহজ বিধি বলা হয়েছে—মহাকুণ্ডে স্নান করে, ইন্দ্রিয়সংযমসহ ভক্তিভরে পঞ্চোপচার দ্বারা পূজা করতে হবে। ফলশ্রুতিতে বলা হয়, উপাসক পূর্ব ও ভবিষ্যৎ বংশধারাকে ‘তারায়’—উদ্ধার করে, এবং ভক্তের কোনো ক্ষয় বা বিনাশ ঘটে না। দীপ্তিমান বিমান, সূর্যসম জ্যোতিতে অবিরাম গতি ও দিব্য ভোগের কথা বলা হয়েছে; এমনকি এই চতুর্বক্ত্র লিঙ্গ দর্শনমাত্রেই সর্বপাপ থেকে মুক্তি লাভ হয়।

ब्रह्मकुण्डसमीपस्थ-ब्रह्मेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Glory of Brahmeśvara near Brahma-kuṇḍa)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর ব্রহ্মকুণ্ডের দক্ষিণে অবস্থিত ‘ব্রহ্মেশ্বর’ নামক শৈব তীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। বলা হয়েছে, এই মন্দির ত্রিলোকে প্রসিদ্ধ এবং শিবের গণেরা এর রক্ষা করেন—ফলে প্রভাস তীর্থপরিসরে এর কর্তৃত্ব ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়। তীর্থযাত্রীর জন্য নির্দিষ্ট ক্রম নির্দেশিত—প্রথমে ব্রহ্মেশ্বরের নিকটে গমন করে সেখানে স্নান করতে হবে; বিশেষত চতুর্দশীতে, আর আরও বিশেষভাবে অমাবস্যায়। তারপর বিধিমতো শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করে ব্রহ্মেশ্বরের পূজা করতে হবে। পরিশেষে দানের বিধান—ব্রাহ্মণদের স্বর্ণদান শঙ্করের সন্তোষসাধক বলে প্রশংসিত। এই আচরণে জন্মফল লাভ, বিপুল কীর্তি এবং ব্রহ্মার অনুগ্রহজনিত আনন্দপ্রাপ্তির ফলশ্রুতি বলা হয়েছে।

Sāvitrīśvara-bhairava-māhātmya (सावित्रीश्वरभैरवमाहात्म्य)
অধ্যায় ১৫১ প্রভাসক্ষেত্রে ব্রহ্ম-কুণ্ডের নিকটে অবস্থিত তীর্থ-মাহাত্ম্য সংক্ষেপে বর্ণনা করে। ঈশ্বর সেখানে দক্ষিণ ভাগে ব্রহ্ম-কুণ্ডের কাছে অবস্থিত তৃতীয় ভৈরবের কথা বলেন, যেখানে সাবিত্রী এক শৈব-প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত। সাবিত্রী সংযম ও কঠোর নিয়মে ভক্তিভরে তপস্যা করে শঙ্করকে প্রসন্ন করেন। প্রসন্ন শিব বররূপে এক বিধান দেন—যে ব্যক্তি ব্রহ্ম-কুণ্ডে স্নান করে পূর্ণিমার দিনে “আমার লিঙ্গ”-এর গন্ধ, পুষ্প প্রভৃতি যথাক্রমে বিধিপূর্বক পূজা করে, সে ইষ্ট মঙ্গলফল লাভ করে। মহাপাপের ভারে দগ্ধ হলেও সে দোষমুক্ত হয় এবং বৃষভধ্বজ শিবের আশ্রয়ে পুরুষার্থসিদ্ধি পায়। শেষে শিব অন্তর্ধান করেন, সাবিত্রী শৈবভাব প্রতিষ্ঠা করে ব্রহ্মলোকে গমন করেন; আর এই মাহাত্ম্য শ্রবণকারী বিবেকী শ্রোতাও দোষমুক্ত হয়—এমন ফলশ্রুতি বলা হয়েছে।

नारदेश्वरभैरवप्रादुर्भावः (Naradeśvara Bhairava: Origin and Merit)
ঈশ্বর ভৈরব-প্রকাশের ক্রম ব্যাখ্যা করেন এবং ব্রহ্মেশের পশ্চিমে ধনুর্মাপে নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থিত চতুর্থ ভৈরব-তীর্থের কথা বলেন। সেখানে নারদ মুনির প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গ ‘নারদেশ্বর’ নামে খ্যাত, যা সর্বপাপহর ও অভীষ্টসিদ্ধিদায়ক। কাহিনিতে বলা হয়, নারদ পূর্বে ব্রহ্মলোকে ছিলেন। তিনি সরস্বতীর সঙ্গে সম্পর্কিত দীপ্তিমান দিব্য বীণা দেখে কৌতূহলে বিধিবিরুদ্ধভাবে বাজান। তখন উৎপন্ন সাত স্বরকে ‘পতিত ব্রাহ্মণ’ রূপে বর্ণনা করা হয়; ব্রহ্মা এটিকে অজ্ঞতাজনিত দোষ বলে গণ্য করে সাত ব্রাহ্মণকে আঘাতের সমতুল্য মহাপাতক বলেন এবং শুদ্ধির জন্য প্রভাসে ভৈরব-আরাধনার নির্দেশ দেন। নারদ প্রভাসে এসে ব্রহ্মকুণ্ডে শত দিব্যবর্ষ ভৈরবের পূজা করেন, পবিত্র হন এবং গীতবিদ্যায় পারদর্শিতা লাভ করেন। শেষে ‘নারদেশ্বর ভৈরব’ লিঙ্গের মহিমা ঘোষিত—এটি মহাদোষনাশক; অজ্ঞতায় বীণা/স্বরচর্চাকারীদের শুদ্ধির জন্য এখানে গমনীয়। মাঘ মাসে সংযত আহারে দিনে তিনবার পূজা করলে ভক্ত আনন্দময় শুভ স্বর্গীয় গতি লাভ করে।

Hiraṇyeśvara-māhātmya (हिरण्येश्वरमाहात्म्य) — The Glory of Hiraṇyeśvara near Brahmakuṇḍa
ঈশ্বর দেবীকে ব্রহ্মকুণ্ডের নিকটে অবস্থিত হিরণ্যেশ্বর লিঙ্গের স্থান ও মোক্ষদায়ক মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। ব্রহ্মকুণ্ডের উত্তর-পশ্চিম দিকে এই শ্রেষ্ঠ লিঙ্গ, কৃতস্মরা, অগ্নিতীর্থ, যমেশ্বর এবং উত্তর সমুদ্রাঞ্চলের পবিত্র সীমার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত; ব্রহ্মকুণ্ডের আশেপাশে প্রসিদ্ধ ‘পাঁচ ভৈরব’-এর কথাও এই তীর্থসমূহের সঙ্গে উল্লেখিত। ব্রহ্মা লিঙ্গের পূর্বদিকে কঠোর তপস্যা করে এক উৎকৃষ্ট যজ্ঞ আরম্ভ করেন। দেবতা ও ঋষিরা নিজেদের নির্ধারিত ভাগ নিতে উপস্থিত হলে যজ্ঞে এক সংকট দেখা দেয়—দক্ষিণা অপর্যাপ্ত হওয়ায় যজ্ঞ সম্পূর্ণ করা যায় না। তখন ব্রহ্মা মহাদেবের শরণ নেন; তাঁর প্রেরণায় দেবকল্যাণার্থে সরস্বতীর আহ্বান করা হয় এবং তিনি ‘কাঞ্চন-বাহিনী’ (স্বর্ণবাহী) হয়ে ওঠেন। তাঁর পশ্চিমমুখী স্রোত থেকে অগণিত স্বর্ণপদ্ম উৎপন্ন হয়ে অগ্নিতীর্থ পর্যন্ত অঞ্চল পূর্ণ করে দেয়। ব্রহ্মা সেই স্বর্ণপদ্মগুলি পুরোহিতদের দক্ষিণা হিসেবে বিতরণ করে যজ্ঞ সম্পন্ন করেন; অবশিষ্ট পদ্মগুলি ভূমির নীচে স্থাপন করে তার উপর লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন—এই কারণেই নাম ‘হিরণ্যেশ্বর’, যাঁর পূজা দিব্য স্বর্ণপদ্মে করা হয়। ব্রহ্মকুণ্ডের জল নানা বর্ণের দেখা যায় এবং নিমজ্জিত পদ্মের প্রভাবে ক্ষণিক স্বর্ণসম হয়ে ওঠে বলে বলা হয়েছে। হিরণ্যেশ্বর দর্শন-অর্চনে পাপক্ষয় ও দারিদ্র্যনাশ হয়; মাঘ চতুর্দশীতে পূজা সমগ্র জগতের পূজার সমতুল্য, আর ভক্তিভরে শ্রবণ-পাঠ করলে দেবলোকে গমন ও পাপমুক্তির ফল লাভ হয়।

गायत्रीश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Glory of Gayatrīśvara Liṅga)
ঈশ্বর দেবীকে বলেন—হিরণ্যেশ্বরের বায়ব্য কোণে ‘তিন ধনুক’ দূরত্বে এক পাপ-বিমোচন লিঙ্গ আছে। তার দর্শন ও স্পর্শে সকল জীবের পাপ নাশ হয়। এটি গায়ত্রী-মন্ত্র/পরম্পরার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ‘আদি-লিঙ্গ’ বলে বর্ণিত। যে ব্রাহ্মণ শুচি হয়ে সেখানে গিয়ে গায়ত্রী-জপ করে, সে দুষ্প্রতিগ্রহ (অযথা দান গ্রহণ)-দোষ থেকে মুক্ত হয়। জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় যে সামর্থ্য অনুযায়ী দম্পতিকে ভোজন করিয়ে বস্ত্র দান করে, তার দুর্ভাগ্য দূর হয়। পূর্ণিমায় গন্ধ, পুষ্প ও নৈবেদ্য দিয়ে পূজা করলে সাত জন্ম পর্যন্ত ব্রাহ্মণ্য লাভ হয়। শেষে বলা হয়েছে—ব্রহ্মকুণ্ডের কৃপায় প্রাপ্ত এই বর্ণনা ‘সারেরও সার’।

Ratneśvara-māhātmya (रतनॆश्वरमाहात्म्य) — Sudarśana Kṣetra and the Merit of Ratnakuṇḍa Worship
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীর সঙ্গে সংলাপে রত্নেশ্বরকে অতুলনীয় তীর্থরূপে নির্দেশ করেন। বলা হয়েছে, পরাক্রমশালী ও শ্রেষ্ঠ বিষ্ণু এখানে তপস্যা করে সর্বকামনা-প্রদ লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রত্নকুণ্ডে স্নান করে পূর্ণ উপচারে অবিরত ভক্তিসহ দেবপূজা করলে সাধক অভীষ্ট ফল লাভ করে। তীর্থের মাহাত্ম্য আরও প্রতিষ্ঠিত হয় এই কথায় যে অপরিমেয় তেজস্বী শ্রীকৃষ্ণ এখানে কঠোর তপস্যা করে সকল দৈত্যবিনাশী সুদর্শনচক্র লাভ করেন। ঈশ্বর ঘোষণা করেন—এই ক্ষেত্র তাঁর নিত্য প্রিয়, প্রলয়কালেও এখানে তাঁর সান্নিধ্য থাকে। ক্ষেত্রটির নাম “সুদর্শন”, এর পরিধি ছত্রিশ ধন্বন্তর পরিমিত। এই সীমার মধ্যে যাঁরা ‘নীচ’ বলে গণ্য, তাঁরাও এখানে দেহত্যাগ করলে পরম পদ লাভ করেন; আর বিষ্ণুকে স্বর্ণগরুড় ও পীতবস্ত্র দান করলে তীর্থযাত্রার ফল প্রাপ্ত হয়।

गरुडेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Garudeśvara Māhātmya—Account of the Glory of Garudeśvara)
এই অধ্যায়ে রত্নেশ্বর-মাহাত্ম্যের ধারায় একটি সংক্ষিপ্ত তীর্থ-নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈশ্বর দেবীকে বলেন—রত্নেশ্বরের উত্তরে ধনুর্মিত দূরত্বে বৈনতেয় (গরুড়) প্রতিষ্ঠিত এক শিবলিঙ্গ আছে, যা “বৈনতেয়-প্রতিষ্ঠিত” নামে প্রসিদ্ধ। গরুড় স্থানটিকে বৈষ্ণব-স্বভাবসম্পন্ন জেনে পাপক্ষয়ের জন্য সেখানে লিঙ্গ স্থাপন করেন। পঞ্চমী তিথিতে বিধানমতো পূজা করার নির্দেশ আছে; পঞ্চামৃত দিয়ে অভিষেক করে নিয়মমাফিক আরাধনা করলে সর্বপুণ্যলাভ ও স্বর্গভোগের ফল বলা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে সাত জন্ম পর্যন্ত সর্পজাত বিষের ভয় থেকে রক্ষা এবং সর্বপুণ্যের প্রাপ্তি ঘোষিত। এভাবে শৈব লিঙ্গভক্তি গরুড়/বৈষ্ণব প্রতীকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তীর্থনীতিতে শুদ্ধি ও রক্ষার মাহাত্ম্য প্রকাশ করে।

सत्यभामेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Satyabhāmeśvara Māhātmya (Account of the Glory of Satyabhāmeśvara)
ঈশ্বর মহাদেবীকে সম্বোধন করে শুভ সত্যভামেশ্বর তীর্থে যাত্রার নির্দেশ দেন। রত্নেশ্বরের দক্ষিণে এক ধনুর্মাত্র দূরত্বে এই মন্দির অবস্থিত—এবং একে সর্বপাপ-প্রশমনকারী বলা হয়েছে। এর প্রতিষ্ঠা শ্রীকৃষ্ণের রূপ-ঔদার্যসম্পন্ন পত্নী সত্যভামা করেছিলেন—এ কথা বর্ণিত। এই বৈষ্ণব-সম্পর্কিত স্থানে স্নানকে পাপ-নাশক বলা হয়েছে। মাঘ মাসের তৃতীয়া তিথিতে নারী-পুরুষ সকলের জন্য ভক্তিসহ পূজার বিধান আছে; এতে পাপমোচন লাভ হয়। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—দুর্ভাগ্য, শোক, দুঃখ ও বিঘ্নে পীড়িতরা এখানকার প্রভাবে মুক্ত হয় এবং ‘সত্যভামান্বিতা’ হয়ে সত্যভামার পবিত্র প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হয়।

अनंगेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Māhātmya of Anangeśvara: Narrative of the Shrine’s Glory)
অধ্যায় ১৫৮-এ ঈশ্বর যাত্রাপথের নির্দেশের মতো করে শ্রোতাকে অনঙ্গেশ্বর দর্শনে প্রেরণা দেন। বলা হয়েছে, রত্নেশ্বরের সম্মুখে ধনুক-নিক্ষেপ দূরত্বে অনঙ্গেশ্বর অবস্থিত। সেখানে স্থাপিত লিঙ্গ কামদেব কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত—তাঁকে বিষ্ণুর পুত্র বলেও উল্লেখ করা হয়েছে; ক্ষেত্রটি বৈষ্ণব-সম্পর্কিত এবং কলিযুগে পাপ-মল দূর করতে বিশেষ ফলদায়ক। ফলশ্রুতি স্পষ্ট—অনঙ্গেশ্বর দর্শন ও পূজায় ভক্ত কামদেবসদৃশ আকর্ষণ, সৌন্দর্য ও সামাজিক প্রভাব লাভ করে; বংশপরম্পরায়ও দুর্ভাগ্য বা অশুভতার প্রশমন হয়। অনঙ্গ-ত্রয়োদশীতে ব্রতসহ বিশেষ পূজাকে ‘জন্ম-সার্থকতা’র কারণ বলা হয়েছে। তীর্থধর্ম সম্পূর্ণ করতে সদাচারী ব্রাহ্মণকে শয্যা-দান বিধেয়; বিশেষত বিষ্ণুভক্তকে দান করলে পুণ্য অধিক বৃদ্ধি পায়।

रत्नकुण्ड-माहात्म्य (Ratnakuṇḍa Māhātmya) / The Glory of Ratna-Kuṇḍa near Ratneśvara
ঈশ্বর মহাদেবীকে রত্নেশ্বরের দক্ষিণে, সাত ধনুক দূরে অবস্থিত রত্নকুণ্ড নামক শ্রেষ্ঠ জলতীর্থের কথা বলেন। এই কুণ্ড মহাপাপ ও গুরু দোষ নাশ করে এবং বিষ্ণু এর প্রতিষ্ঠাতা—এমনই বর্ণনা। শ্রীকৃষ্ণ ভূলোকে ও স্বর্গলোকে বিদ্যমান অসংখ্য তীর্থ একত্র করে এখানে স্থাপন করেছেন; দেবগণ এর রক্ষা করেন, তাই কলিযুগে অশৃঙ্খল ও অশ্রদ্ধালুদের পক্ষে এর গৌরব লাভ কঠিন বলা হয়েছে। বিধিপূর্বক স্নান করলে যজ্ঞফল বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং অশ্বমেধ যজ্ঞের ফলও বহু গুণে প্রাপ্ত হয়। একাদশীতে পিতৃদের উদ্দেশে পিণ্ডদান করলে অক্ষয় তৃপ্তি হয়; দৃঢ় বিশ্বাসসহ রাত্রিজাগরণ করলে ইষ্টফল সিদ্ধি লাভ হয়। দানে হলুদ বস্ত্র ও দুগ্ধবতী গাভী বিষ্ণুর উদ্দেশে অর্পণ করলে সম্পূর্ণ তীর্থযাত্রার ফল মেলে। যুগভেদে নাম—কৃতযুগে হেমকুণ্ড, ত্রেতায় রৌপ্য, দ্বাপরে চক্রকুণ্ড, কলিতে রত্নকুণ্ড; পাতালগঙ্গার স্রোতও এখানে আছে, তাই এ স্নান সর্বতীর্থস্নানের সমান।

रैवंतकराजभट्टारकमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Raivanta Rājabhaṭṭāraka
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে প্রভাস-ক্ষেত্রে রৈবন্ত রাজভট্টারকের দর্শন ও পূজার ক্রম নির্দেশ করেন। তিনি সূর্যপুত্র, অশ্বারূঢ় ও মহাবলী; ক্ষেত্রের মধ্যে সাবিত্রীদেবীর নিকটে, নৈঋত্য দিকে তাঁর অবস্থান বলা হয়েছে। তাঁর কেবল দর্শনেই ভক্ত সকল বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত হয়—এমন ফলশ্রুতি উচ্চারিত। বিশেষ বিধান হলো—রবিবারে সপ্তমী তিথির সংযোগে তাঁর পূজা করা। এতে পূজকের বংশেও দারিদ্র্যের উদ্ভব হয় না—এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। শেষে বলা হয়, ক্ষেত্রবাসে নির্বিঘ্নতা এবং রাজকীয়/লৌকিক কামনা, বিশেষত অশ্ববৃদ্ধির জন্য, সর্বশক্তি দিয়ে তাঁর আরাধনা করা কর্তব্য।

अनन्तेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Ananteśvara Māhātmya (Glorification of Ananteśvara)
এই অধ্যায়ে প্রভাস-ক্ষেত্রের মধ্যে ঈশ্বর দিকনির্দেশ প্রদান করেন। উল্লেখিত এক তীর্থ/মন্দিরের দক্ষিণে, ধনুর্মাত্রা হিসেবে অল্প দূরত্বে যে লিঙ্গ অবস্থিত, তাকে “অনন্তেশ্বর” বলা হয়েছে। এটি অনন্ত কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এবং নাগরাজের সঙ্গে সম্পর্কিত—ফলে স্থানের পবিত্রতায় নাগ-রক্ষার ভাব যুক্ত হয়। ফাল্গুন শুক্লপক্ষের পঞ্চমীতে আহার ও ইন্দ্রিয়সংযমী সাধককে পঞ্চোপচার পদ্ধতিতে পূজা করতে বলা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে সাপের কামড় থেকে রক্ষা এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিষের অগ্রগতি না হওয়ার কথা বলা হয়। পরে “অনন্ত-ব্রত”-এর বিধান দিয়ে মধু ও মধুপায়স নিবেদন, এবং মধুমিশ্রিত পায়স দিয়ে ব্রাহ্মণভোজন করানোকে পূজার অঙ্গ হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে—দান ও অতিথিসেবাকে এখানে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

Aṣṭakuleśvara-māhātmya (अष्टकुलेश्वरमाहात्म्य) — The Glory of Aṣṭakuleśvara Liṅga
অধ্যায় ১৬২-এ শিব দেবীকে উপদেশ দেন এবং প্রভাসক্ষেত্রের পবিত্র মানচিত্রে অষ্টকুলেশ্বর লিঙ্গের অবস্থান নির্দিষ্ট করেন—এক নির্দিষ্ট স্থান থেকে দক্ষিণদিকে এবং লক্ষ্মণেশের পূর্বদিকে। এরপর তীর্থের ধর্মতত্ত্ব বলা হয়েছে: এটি সর্বপাপ প্রশমনকারী এবং ভয়ংকর দুঃখ-কষ্ট নাশক; ‘মহাবিষ’ নামে চিহ্নিত মহাসংকট-রূপ দোষও প্রশমিত করে। সিদ্ধ ও গন্ধর্ব প্রভৃতি দিব্য সত্তারা এখানে পূজা করেন—এতে মন্দিরের মহিমা প্রতিষ্ঠিত হয়। অষ্টকুলেশ্বরকে বাঞ্ছিতার্থ প্রদানকারী বলা হয়েছে। বিশেষ বিধান হলো কৃষ্ণাষ্টমীতে বিধিপূর্বক পূজা করা। ফলশ্রুতিতে মহাপাপ থেকে মুক্তি এবং নাগলোকে সম্মান লাভের কথা ঘোষিত হয়েছে।

नासत्येश्वराश्विनेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Nāsatyeśvara and Aśvineśvara)
এই অধ্যায়ে “ঈশ্বর উবাচ” রূপে ভগবানের উপদেশ বর্ণিত। তিনি সাধককে নির্দেশ দেন যে নির্দিষ্ট স্থানের পূর্বদিকে অবস্থিত তীর্থে গমন করতে হবে, যেখানে “নাসত্যেশ্বর” নামে এক মহিমান্বিত শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত। এই লিঙ্গকে কল্মষ—ধর্মাচরণে ও কর্মে সঞ্চিত অপবিত্রতা—নাশকারী প্রধান বলে ঘোষণা করা হয়েছে; দর্শন, স্পর্শ ও পূজার দ্বারা শুদ্ধি ও পুণ্যলাভের ফল প্রতিশ্রুত। শেষে কলোফনে অধ্যায়ের অবস্থান নির্দিষ্ট করা হয়েছে—৮১,০০০ শ্লোকসম্বলিত স্কন্দপুরাণের সপ্তম বিভাগ প্রভাসখণ্ডে, প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যের প্রথম উপখণ্ডে এটি “নাসত্যেশ্বর ও অশ্বিনেশ্বরের মাহাত্ম্য” বিষয়ক বর্ণনা। দিকনির্দেশ, তীর্থনাম ও শুদ্ধিফলকে একত্র করে এটি স্থল-মাহাত্ম্য সাহিত্যের সংক্ষিপ্ত তীর্থ-সূচক অধ্যায়রূপে প্রতিষ্ঠিত।

अश्विनेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Aśvineśvara)
ঈশ্বর দেবীকে নির্দেশ দেন—পূর্বদিকে অগ্রসর হও, যেখানে ‘অশ্বিনেশ্বর’ নামে প্রসিদ্ধ পুণ্যক্ষেত্রটি ‘পাঁচ ধনুকের মধ্যে’ অবস্থিত। সেখানে পূজা করলে মহাপাপসমূহ প্রশমিত হয় এবং সকল কামনা পূর্ণ হয়। সেই লিঙ্গের দর্শনমাত্রেই সর্বরোগ নিবারণ হয়; রোগাক্রান্তদের জন্য এই তীর্থকে মহৌষধির ন্যায় বলা হয়েছে। মাঘ মাসের দ্বিতীয়া তিথিতে সেখানে দর্শন দুর্লভ—এই কারণে সেই দিনের মাহাত্ম্য বিশেষ। সূর্যপুত্র কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দুইটি লিঙ্গ সেখানে বিদ্যমান; অতএব সংযতচিত্ত সাধককে সেই দ্বিতীয়াতেই ভক্তিভরে দর্শন-সেবা করতে বলা হয়েছে, যাতে ভক্তি, শুভকাল ও আত্মসংযম একত্র হয়।

Savitrī’s Departure to Prabhāsa and the Ritual-Political Crisis of Brahmā’s Yajña (सावित्री-गायत्री-विवादः प्रभासप्रवेशश्च)
এই অধ্যায়টি শিব–দেবী সংলাপরূপে ব্যাখ্যা করে কেন সাবিত্রী প্রভাসক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত হলেন এবং যজ্ঞের তাড়না কীভাবে নৈতিক ও তাত্ত্বিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করে। শিব বলেন, ব্রহ্মা পুষ্করে মহাযজ্ঞ স্থির করেন; কিন্তু দীক্ষা ও হোমের জন্য পত্নীর উপস্থিতি আবশ্যক। গৃহকার্যে বিলম্বিত হওয়ায় সাবিত্রী অনুপস্থিত থাকেন; তখন ইন্দ্র এক গোপালকন্যাকে এনে গায়ত্রী রূপে পত্নীস্থান দেন এবং যজ্ঞ চলতে থাকে। পরে সাবিত্রী অন্যান্য দেবীদের সঙ্গে সভায় এসে ব্রহ্মাকে সম্মুখীন করে ধারাবাহিক শাপ দেন—ব্রহ্মার পূজা বছরে কেবল কার্তিকীতে সীমিত হবে, ইন্দ্র ভবিষ্যতে অপমান ও বন্ধনে পতিত হবেন, বিষ্ণু মর্ত্যাবতারে পত্নীবিয়োগের দুঃখ ভোগ করবেন, রুদ্র দারুবন-প্রসঙ্গে সংঘাতে জড়াবেন, অগ্নি ও নানা ঋত্বিকও দোষভাগী হবেন। এতে কামনাপ্রসূত কর্ম ও প্রক্রিয়াগত তাড়াহুড়োর সমালোচনা প্রকাশ পায়। এরপর বিষ্ণু সাবিত্রীকে স্তব করেন; সাবিত্রী প্রতিশাপ-শমনকারী বর দিয়ে যজ্ঞ সম্পূর্ণ করতে অনুমতি দেন। গায়ত্রী জপ, প্রাণায়াম, দান এবং যজ্ঞদোষ-নিবারণের আশ্বাস দেন, বিশেষত প্রভাস ও পুষ্কর প্রসঙ্গে। অধ্যায়শেষে বলা হয়, সোমেশ্বরের নিকটে প্রভাসে সাবিত্রী প্রতিষ্ঠিতা। পনেরো দিন পূজা, পাণ্ডুকূপে স্নান, পাণ্ডব-প্রতিষ্ঠিত পাঁচ লিঙ্গ দর্শন, এবং জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় সাবিত্রীস্থানে ব্রহ্মসূক্ত পাঠের বিধান আছে। ফল—পাপমোচন ও পরম পদলাভ।

सावित्रीव्रतविधि–पूजनप्रकार–उद्यापनादिकथनम् (Sāvitrī-vrata: procedure, worship method, and concluding observances)
এই অধ্যায়ে দেবী–ঈশ্বর সংলাপের মাধ্যমে প্রথমে প্রভাস-ক্ষেত্রে সাবিত্রী-পরম্পরার কাহিনি বলা হয়েছে, পরে সেই কাহিনিকেই বিধিবদ্ধ ব্রত-নির্দেশে রূপান্তর করা হয়েছে। দেবী প্রভাসে সাবিত্রী-মাহাত্ম্য, ব্রতের ইতিহাস ও ফল জানতে চান। ঈশ্বর বলেন—প্রভাস-যাত্রাকালে রাজা অশ্বপতি সাবিত্রী-স্থলে সাবিত্রী-ব্রত পালন করে দেবীর কৃপা লাভ করেন; ফলে তাঁর কন্যা জন্মায় এবং তার নাম হয় সাবিত্রী। এরপর সাবিত্রী–সত্যবান উপাখ্যান সংক্ষেপে—নারদের সতর্কবাণী সত্ত্বেও সাবিত্রী সত্যবানকে বরণ করে, অরণ্যে অনুসরণ করে, যমের সম্মুখীন হয়ে বর লাভ করে: দ্যুমৎসেনের দৃষ্টি ও রাজ্যফেরত, পিতার ও নিজের সন্তানলাভ, এবং স্বামীর প্রাণপ্রত্যাবর্তন। পরবর্তী অংশে জ্যৈষ্ঠ মাসের ত্রয়োদশী থেকে তিন রাত্রি নিয়ম-উপবাস, স্নানবিধি (পাণ্ডুকূপে স্নানের বিশেষ পুণ্য, পূর্ণিমায় সর্ষে-মিশ্রিত জলে স্নান), এবং স্বর্ণ/মাটি/কাঠের সাবিত্রী-মূর্তি নির্মাণ করে লাল বস্ত্রসহ দান করার কথা বলা হয়েছে। মন্ত্রসহ পূজা (বীণা–পুস্তকধারিণী সাবিত্রীকে সম্বোধন করে অবৈধব্য প্রার্থনা), রাত্রিজাগরণ, পাঠ-গান-বাদ্য, এবং ব্রহ্মার সঙ্গে সাবিত্রী-‘বিবাহ-পূজা’ও নির্দিষ্ট। একাধিক দম্পতি/ব্রাহ্মণকে ক্রমান্বয়ে ভোজন, টক ও ক্ষারজাত বর্জন, মিষ্টান্নপ্রধান আহার, দান-সম্মান ও বিদায়, এবং গৃহ্য শ্রাদ্ধের সূক্ষ্ম সংযোজন আছে। শেষে উদ্যাপনরূপে বলা হয়েছে—এই ব্রত শুদ্ধিদায়ক, পুণ্যবর্ধক, নারীর সৌভাগ্যরক্ষক; এবং যে পালন করে বা বিধি শ্রবণ করে, সে বিস্তৃত পার্থিব কল্যাণ লাভ করে।

भूतमातृकामाहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Bhūtamātṛkā: Origin, Residence, and Worship Protocols)
অধ্যায় ১৬৭-এ ঈশ্বর ও দেবীর মধ্যে তত্ত্বসংলাপ বর্ণিত। দেবী ‘ভূতমাতা’ নামে জনসমক্ষে যে উন্মাদ/সমাধি-সদৃশ আচরণ দেখা যায় তা দেখে প্রশ্ন করেন—এটি কি শাস্ত্রসম্মত, প্রভাসবাসীরা কীভাবে তাঁর পূজা করবে, তিনি কেন সেখানে এলেন এবং তাঁর প্রধান উৎসব কবে। ঈশ্বর উৎপত্তিকথা বলেন—দেবীর দেহনিঃসরণ থেকে কপালমালা-ধারিণী, অস্ত্রচিহ্নযুক্ত ভয়ংকর দেবী প্রকাশিত হন; তাঁর সঙ্গে ব্রহ্মরাক্ষসী-প্রকৃতির সঙ্গিনী ও বিশাল অনুচরবর্গও আসে। ঈশ্বর তাঁর কার্যসীমা নির্ধারণ করে রাত্রিকালীন প্রাধান্য দেন এবং সৌরাষ্ট্রের প্রভাসকে দীর্ঘকালীন নিবাসরূপে নির্দেশ করেন, স্থান-লক্ষণসহ। এরপর গৃহধর্মের ফলাফল বলা হয়—লিঙ্গার্চনা, জপ, হোম, শৌচ ও নিত্যকর্ম অবহেলা, ঘরের কলহ-অশান্তি ইত্যাদিতে ভূত-পিশাচের আকর্ষণ ঘটে; আর যেখানে দেবনাম-স্মরণ, বিধিবদ্ধ আচার ও শুদ্ধ শৃঙ্খলা থাকে সেখানে রক্ষা হয়। বৈশাখ শুক্ল প্রতিপদা থেকে চতুর্দশী পর্যন্ত পূজা, অমাবস্যা/চতুর্দশী-সংযুক্ত প্রধান ব্রত, পুষ্প-ধূপ-সিঁদুর ও কণ্ঠসূত্র নিবেদন, সিদ্ধবটতলে জলার্পণ/অভিষেক, ভোজন-দান এবং প্রেরণী–প্রেক্ষণী নামে হাস্য-উপদেশময় লোকপ্রদর্শনের বিধান আছে। ফলশ্রুতিতে সন্তানরক্ষা, গৃহকল্যাণ, উপদ্রবনাশ ও সর্বমঙ্গল লাভের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

Śālakaṭaṅkaṭā Devī Māhātmya (शालकटंकटा देवी माहात्म्यम्) — Glory of the Goddess Śālakaṭaṅkaṭā
অধ্যায় ১৬৮ ঈশ্বরবাণীরূপে প্রাভাসক্ষেত্রে অবস্থিত দেবী শালকটঙ্কটার তীর্থ-মাহাত্ম্য বর্ণনা করে। দেবীর অবস্থান সাবিত্রী-দেবীর দক্ষিণে ও রৈবতা-তীর্থের পূর্বে বলা হয়েছে—এভাবে তীর্থযাত্রার মানচিত্রে তাঁর পূজাকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। তিনি মহাপাপহরিণী, সর্বদুঃখনাশিনী, গন্ধর্বদের দ্বারা বন্দিতা এবং স্ফুরিত দংশট্রাযুক্ত ভয়ংকর রূপে কীর্তিতা; পৌলস্ত্য তাঁর প্রতিষ্ঠা করেন এবং ‘মহিষঘ্নী’ রূপে দুর্দমনীয় শত্রু-নিধনকারিণী বলে প্রশংসিত। মাঘ মাসের চতুর্দশীতে তাঁর আরাধনা করলে সমৃদ্ধি, বুদ্ধি ও বংশধারা-স্থিতি লাভ হয়—এটাই ফলশ্রুতি। আরও বলা হয়েছে, বলি, পূজা, উপহার ও ‘পশু-প্রদান’ দ্বারা দেবীকে তুষ্ট করলে শত্রুভয় থেকে মুক্তি মেলে—এই দাননির্ভর বিধিই অধ্যায়ের মূল উপদেশ।

Vaivasvateśvara-māhātmya (Glorification of Vaivasvateśvara)
এই অধ্যায়ে প্রভাসক্ষেত্রের মধ্যে এক পবিত্র তীর্থ-পরিক্রমার বর্ণনা ঈশ্বর–দেবী সংলাপরূপে উপস্থাপিত। ঈশ্বর দেবীকে দক্ষিণ দিকের অংশে, দেবীর দিগ্বিভাগে, ধনু-পরিমিত দূরত্বে অবস্থিত ‘বৈবস্বতেশ্বর’ নামক লিঙ্গের কাছে যেতে নির্দেশ দেন। বলা হয়েছে, এই লিঙ্গের প্রতিষ্ঠা বৈবস্বত মনু করেছিলেন এবং এটি সর্বকামদ—সকল কাম্য ফল প্রদানকারী। মন্দিরের নিকটে এক বিস্ময়কর ‘দেবখাত’ (দিব্য খনিত জলস্থান) রয়েছে; সেখানে স্নান করে শুদ্ধি লাভের কথা বলা হয়েছে। এরপর বিধি অনুসারে ভক্তিসহ, ইন্দ্রিয়সংযমে, পঞ্চোপচার পূজা এবং অঘোর-বিধিতে স্তোত্রপাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই সাধনা সম্পন্ন করলে সিদ্ধি লাভ হয়—এমন ফলশ্রুতি দিয়ে অধ্যায়টি প্রভাসখণ্ডের প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যের অন্তর্গত বলে উপসংহার টানা হয়েছে।

Mātṛgaṇa–Balādevī Māhātmya (Glorification of the Mother-Hosts and Balādevī)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে নির্দেশ দেন যে বিচক্ষণ সাধক মাতৃগণের স্থানে গমন করে, তার নিকটে অবস্থিত বলাদেবীর ভক্তিভরে আরাধনা করবে। প্রভাসক্ষেত্রের মানচিত্রে এই স্থান-নির্দেশ ও উপাসনার সংক্ষিপ্ত বিধান এখানে বলা হয়েছে। শ্রাবণ মাসে, বিশেষত শ্রাবণী ব্রত/অনুষ্ঠানের দিনে, বলাদেবীর পূজা করাই শ্রেয়। পায়স, মধু ও দিব্য পুষ্প নিবেদন করে দেবীর অনুগ্রহ প্রার্থনা করা হয়। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—যে ভক্ত এভাবে পূজা করে, তার সমগ্র বছর সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও মঙ্গলময়ভাবে অতিবাহিত হয়।

दशरथेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Daśaratheśvara Māhātmya—Account of the Glory of Daśaratheśvara)
ঈশ্বর দেবীকে বলেন যে নিকটেই ‘একল্লবীরিকা’ নামে এক দেবীস্থান আছে; তারপর তিনি প্রভাস-ক্ষেত্রের এক কারণকথা বর্ণনা করেন। সূর্যবংশীয় রাজা দশরথ প্রভাসে এসে কঠোর তপস্যা করেন। শঙ্করকে সন্তুষ্ট করতে তিনি একটি লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে বিধিপূর্বক পূজা করেন এবং পরাক্রমশালী পুত্র প্রার্থনা করেন। ভগবান তাঁকে ‘রাম’ নামে এক পুত্র দান করেন, যিনি ত্রিলোকে খ্যাত। দেবতা, গন্ধর্ব, দৈত্য-অসুর ও ঋষিগণ (বাল্মীকিসহ) তাঁর যশগান করেন। অধ্যায়ের শেষে বিধান ও ফলশ্রুতি—সেই লিঙ্গের প্রভাবে দশরথ মহাকীর্তি লাভ করেন; আর যে কার্ত্তিক মাসে, বিশেষত কার্ত্তিকী ব্রতে, দীপপূজা ও নিবেদ্যসহ যথাবিধি আরাধনা করে, সেও খ্যাতি অর্জন করে।

भरतेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (The Glory of Bharateśvara Liṅga)
ঈশ্বর দেবীকে বলেন—উত্তরদিকে সামান্য দূরে অবস্থিত ‘ভরতেশ্বর’ নামে লিঙ্গের কাছে গমন করো। এরপর কারণকথা বর্ণিত—অগ্নীধ্রের পুত্র প্রসিদ্ধ রাজা ভরত এই ক্ষেত্রে কঠোর তপস্যা করে সন্তানের জন্য মহাদেবের প্রতিষ্ঠা করেন। শঙ্কর প্রসন্ন হয়ে তাঁকে আট পুত্র ও এক যশস্বিনী কন্যা দান করেন। ভরত রাজ্যকে নয় ভাগে বিভক্ত করে সন্তানদের মধ্যে বণ্টন করেন; সেই অনুসারে দ্বীপগুলির নাম প্রচলিত হয়—ইন্দ্রদ্বীপ, কশেরু, তাম্রবর্ণ, গভস্তিমান, নাগদ্বীপ, সৌম্য, গান্ধর্ব, চারুণ; নবমটি কন্যার অংশ ‘কুমার্যা’ নামে খ্যাত। গ্রন্থে বলা হয়েছে—আটটি দ্বীপ সমুদ্রে প্লাবিত হয়েছে, কেবল কুমার্যা-নামক দ্বীপ অবশিষ্ট; দক্ষিণ-উত্তর বিস্তার ও প্রস্থের পরিমাপ যোজনায় উল্লেখিত। অসংখ্য অশ্বমেধ যজ্ঞে ভরতের যশ গঙ্গা-যমুনা অঞ্চলে প্রসিদ্ধ; ঈশ্বরের কৃপায় তিনি স্বর্গে আনন্দ করেন। ফলশ্রুতিতে বলা—ভরত-প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গের পূজা সকল যজ্ঞ-দানফল প্রদান করে; কার্ত্তিক মাসে কৃত্তিকা-যোগে দর্শন করলে ভয়ংকর নরকের স্বপ্নদর্শনও হয় না।

कुशकादिलिङ्गचतुष्टयमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of the Four Liṅgas beginning with Kuśakeśvara
শৈব তত্ত্বকথনে ঈশ্বর দেবীকে প্রভাসক্ষেত্রে এক স্থানে অবস্থিত চারটি লিঙ্গের সংক্ষিপ্ত তীর্থযাত্রার নির্দেশ দেন। সাবিত্রী-দেবীর পশ্চিমে, দিকনির্দেশসহ বর্ণিত স্থানে, পূর্বদিকে দুটি ও পশ্চিমদিকে দুটি লিঙ্গ নিজ নিজ মুখাভিমুখে প্রতিষ্ঠিত। ক্রমানুসারে তাদের নাম—কুশকেশ্বর (প্রথম), গর্গেশ্বর (দ্বিতীয়), পুষ্করেশ্বর (তৃতীয়) এবং মৈত্রেয়েশ্বর (চতুর্থ)। ভক্তি ও সংযমসহ যে ভক্ত এই লিঙ্গগুলির দর্শন করে, সে পাপমুক্ত হয়ে শিবের পরম ধাম লাভ করে—এমন ফলশ্রুতি বলা হয়েছে। এরপর আচরণগত বিধান যোগ করে বলা হয়, শুক্লপক্ষের চতুর্দশীতে—বিশেষত বৈশাখ মাসে—যত্নসহ স্নান করে ব্রাহ্মণদের ভোজন করাতে হবে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী স্বর্ণ ও বস্ত্রাদি দান করতে হবে। এই কর্তব্যগুলি সম্পন্ন হলে তবেই যাত্রা ‘সম্পূর্ণ’ গণ্য হয়, অর্থাৎ দর্শনের সঙ্গে তিথি-অনুষ্ঠান ও সামাজিক ধর্ম একত্রিত হয়।

कुन्तीश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Kuntīśvara Liṅga: The Glory of the Shrine
ঈশ্বর দেবীকে প্রভাস-ক্ষেত্রের পূর্ব ভাগে ‘খাত’ (খননকৃত/অবনমিত স্থানে) প্রতিষ্ঠিত এক বিশেষ লিঙ্গ ‘কুন্তীশ্বর’-এর মাহাত্ম্য জানান। তীর্থের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠা-স্মৃতির মাধ্যমে—কথিত আছে, কুন্তী নিজে এই লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, এবং কুন্তীসহ পাণ্ডবরা তীর্থযাত্রার প্রসঙ্গে পূর্বে প্রভাসে এসেছিলেন। ফলশ্রুতিতে এই লিঙ্গকে সর্বপাপভয়ের নাশক বলা হয়েছে, বিশেষত কার্ত্তিক মাসে পূজার মহিমা অধিক। সেই সময়ে পূজা করলে ভক্ত ইষ্টসিদ্ধি লাভ করে এবং রুদ্রলোকে সম্মানিত হয়। আরও বলা হয়, কেবল দর্শনমাত্রেই বাক্, মন ও কর্মজাত পাপ বিনষ্ট হয়—অতএব দর্শন ও পূজা, উভয়ই তীর্থধর্মে শুদ্ধি ও মুক্তির সহায়ক উপায়।

अर्कस्थलमाहात्म्यवर्णनम् (Glorification of Arkasthala / the Sun-site)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে ‘অর্কস্থল’ নামে এক পুণ্যতীর্থের মাহাত্ম্য সংক্ষেপে বলেন। পূর্বোক্ত স্থান থেকে আগ্নেয় (দক্ষিণ-পূর্ব) দিকে অবস্থিত এই স্থানকে অত্যন্ত শুভ ও ‘সর্ব-পাপক-নাশক’ বলা হয়েছে। কেবল দর্শনেই শোক দূর হয়, সাত জন্ম পর্যন্ত দারিদ্র্য আসে না; কুষ্ঠসহ নানা রোগেরও বিশেষভাবে বিনাশের কথা বলা হয়েছে। দর্শনফলকে কুরুক্ষেত্রে শত গাভী দানের ফলের সমতুল্য ধরা হয়েছে। আচার হিসেবে নির্দেশ আছে—ত্রিসঙ্গম তীর্থে সাতটি রবিবার স্নান, ব্রাহ্মণভোজন এবং মহিষী (মহিষ/ভেঁস) দান। ফলশ্রুতিতে সহস্র দিব্যবর্ষ স্বর্গে বাস ও সম্মান লাভের কথা বলে তীর্থদর্শন, স্নানব্রত ও দানধর্মকে একত্রে তীর্থযাত্রার বিধি হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে।

सिद्धेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Siddheśvara Māhātmya—Description of the Glory of Siddheśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে বলেন যে অর্কস্থলের নিকটে আগ্নেয় (দক্ষিণ-পূর্ব) দিকে ‘সিদ্ধেশ্বর’ নামে এক শিবলিঙ্গ আছে। নামের কারণও ব্যাখ্যা করা হয়েছে—অষ্টাদশ সহস্র ঊর্ধ্বরেতা (ব্রহ্মচারী) ঋষি এই লিঙ্গের সঙ্গে সম্পর্কিত সাধনায় সিদ্ধি লাভ করেছিলেন, তাই এর নাম সিদ্ধেশ্বর। শেষে সাধকের করণীয় বলা হয়েছে—স্নান করে ভক্তিভরে পূজা, উপবাস পালন, ইন্দ্রিয়সংযম, বিধিমতো পূজা সম্পন্ন করা এবং ব্রাহ্মণদের দক্ষিণা প্রদান। ফলশ্রুতিতে সর্বকাম-সমৃদ্ধি ও পরম পদলাভের কথা ঘোষিত।

Lakulīśa-māhātmya (लकुलीशमाहात्म्य) — Glory of Lakulīśa in the Eastern Quarter of Prabhāsa
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে সংক্ষিপ্তভাবে শৈব তত্ত্বের কথা জানান। তিনি প্রভাসক্ষেত্রের পূর্বদিকে, পূর্বতন ঘোর তপস্যায় সিদ্ধ হয়ে উঁচু স্থানে প্রতিষ্ঠিত মূর্তিমান লকুলীশের অবস্থান নির্দেশ করেন এবং বলেন—এই তীর্থ বিশেষভাবে পাপশমন ও শুদ্ধির জন্য প্রসিদ্ধ। এরপর কালনির্দেশ দেওয়া হয়েছে—কার্ত্তিকী মাসে, বিশেষত কৃত্তিকা-যোগে যে ভক্তিভরে পূজা করে, সে অসাধারণ স্বীকৃতি লাভ করে। সেই উপাসক দেব-অসুরসহ সকল জীবশ্রেণির মধ্যে সম্মানযোগ্য হয়। শেষে স্কন্দপুরাণের প্রভাসখণ্ড ও প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্য অংশে অধ্যায়সমাপ্তির কলফন উল্লেখিত।

Bhārgaveśvara Māhātmya (Glorification of Bhārgaveśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে প্রভাস-ক্ষেত্রে তীর্থযাত্রীর গমনপথ নির্দেশ করেন। ভক্তকে দক্ষিণদিকে অবস্থিত ‘ভার্গবেশ্বর’ নামক শিবধামে যেতে বলা হয় এবং এই স্থানকে সর্বপাপ-প্রণাশক পুণ্যতীর্থ হিসেবে মহিমান্বিত করা হয়। সেখানে দিব্য পুষ্প ও নানাবিধ উপহার-অর্ঘ্য নিবেদন করে দেবতার পূজা করাই প্রধান বিধান। এই পূজায় উপাসক ‘কৃতকৃত্য’ হয় এবং সকল কামনার সিদ্ধি ও সমৃদ্ধি লাভ করে—এভাবেই স্থান, উপাসনা ও ফলশ্রুতি সংক্ষেপে বর্ণিত।

माण्डव्येश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Māṇḍavyeśvara Māhātmya (Glorification of Māṇḍavyeśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে সংক্ষিপ্ত তত্ত্বোপদেশ দেন। তিনি বলেন, সিদ্ধেশের দক্ষিণ-পূর্ব (আগ্নেয়) কোণে তিন ধনুক দূরত্বে মাণ্ডব্যেশ্বর লিঙ্গ অবস্থিত, যা পাপ ও মহাপাতক বিনাশকারী; তীর্থযাত্রীদের জন্য এটি পথনির্দেশও বটে। মাঘ মাসের চতুর্দশীতে ভক্তকে সেখানে পূজা করে রাত্রিজাগরণ করতে বলা হয়েছে। যে ব্যক্তি সংযত ভক্তিতে এই ব্রত পালন করে, সে আর মর্ত্যজীবনে প্রত্যাবর্তন করে না—এই ফলশ্রুতির মাধ্যমে অধ্যায়টি সমাপ্ত হয় এবং প্রভাসখণ্ডের প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যে এর অবস্থান নির্দেশিত।

Puṣpadanteśvara Māhātmya (पुष्पदन्तेश्वर-माहात्म्यम्) — The Glory of Puṣpadanteśvara
এই অধ্যায়ে ‘ঈশ্বর উবাচ’ রূপে তীর্থযাত্রীকে প্রভাসক্ষেত্রে অবস্থিত ‘পুষ্পদন্তেশ্বর’ নামক শুভ দেবস্থান দর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখানে পুষ্পদন্তেশ্বরকে শঙ্করের সান্নিধ্য-সংযুক্ত গণেশরূপে চিহ্নিত করা হয়েছে, ফলে ক্ষেত্রটির শৈব মাহাত্ম্য ও প্রামাণ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্ণিত আছে যে এই স্থানে কঠোর তপস্যা সম্পন্ন হয়েছিল এবং তার পরিণতিতে সেখানে লিঙ্গের প্রতিষ্ঠা ঘটে। এই পবিত্র প্রতিষ্ঠার কেবল দর্শনমাত্রেই জন্ম-সংসারবন্ধন থেকে মুক্তি লাভ হয়—এ কথা স্পষ্টভাবে ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ইহলোকে ইষ্টসিদ্ধি এবং পরলোকে মঙ্গলফল প্রাপ্তির কথাও উল্লেখিত।

Kṣetrapāleśvara-māhātmya (The Glory of Kṣetrapāleśvara)
ঈশ্বর মহাদেবীকে ক్షেত্রপালেশ্বর নামে এক শ্রেষ্ঠ তীর্থের কথা জানান। তিনি বলেন, এটি সিদ্ধেশ্বরের নিকটে, পূর্বদিকে অল্প দূরে অবস্থিত—এবং সেখানে গমন করার নির্দেশ দেন। শুক্ল-পঞ্চমীর দিনে সেখানে দর্শন করে সুগন্ধি দ্রব্য ও পুষ্পাদি দ্বারা ক্রমানুসারে বিধিপূর্বক পূজা করতে হবে। এরপর নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নানা প্রকার অন্ন দিয়ে ব্রাহ্মণদের ভোজন করানোই দানধর্ম—এভাবে ব্যক্তিগত ভক্তি ও সামাজিক ধর্ম একত্রিত হয়। শেষে কলফনে একে প্রভাসখণ্ডের প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যের ১৮১তম অধ্যায় বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা স্কন্দমহাপুরাণের তীর্থ-ভূগোলবর্ণনার সুসংবদ্ধ ধারাকে নির্দেশ করে।

वसुनन्दा-मातृगण-श्रीमुख-विवर-माहात्म्य (Vasunandā Mothers and the Śrīmukha Cleft: Sacred Significance)
অধ্যায় ১৮২ প্রভাসক্ষেত্রের মধ্যে এক ক্ষুদ্র তীর্থ-নির্দেশ প্রদান করে। এতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ দিকে অর্ক-স্থলের নিকটে ‘বসুনন্দা’ নামকে অগ্রে রেখে এক মাতৃগণ অবস্থান করেন—যাত্রীকে তাঁদের দর্শন করতে বলা হয়েছে। আশ্বযুজ মাসের শুক্লপক্ষের নবমীতে সংযমী ভক্ত যথাবিধি শান্ত ও একাগ্রচিত্তে সেই মাতৃগণের পূজা করলে ‘সমৃদ্ধি’ লাভ হয়, যা অসংযমীদের পক্ষে দুর্লভ। এরপর নিকটবর্তী ‘শ্রীমুখ’ সংযুক্ত পবিত্র বিবর (ফাটল/গুহামুখ) উল্লেখ করে বলা হয়েছে—সিদ্ধিকামীদের সেই একই দিনে তারও পূজা করা উচিত।

त्रिसंगममाहात्म्यवर्णनम् | The Glory of Trisaṅgama (Threefold Confluence)
অধ্যায় ১৮৩-এ ঈশ্বর দেবীকে ‘মিশ্র-তীর্থ’ নামে খ্যাত পরম তীর্থ ‘ত্রিসঙ্গম’-এর মাহাত্ম্য বলেন—যেখানে সরস্বতী, হিরণ্য়া ও সমুদ্রের ত্রিবিধ সঙ্গম। এ স্থান দেবতাদের পক্ষেও দুর্লভ, সকল তীর্থের মধ্যে শ্রেষ্ঠ; বিশেষত সূর্য-পর্বে এখানে স্নান, দান ও জপ করলে ফল ‘কোটি-গুণ’ বৃদ্ধি পায়, এবং এর কার্যকারিতা কুরুক্ষেত্রের চেয়েও অধিক বলা হয়েছে। মঙ্কীশ্বর-লিঙ্গের নিকটতার তত্ত্ব তুলে ধরে বলা হয়, সেই সীমা পর্যন্ত অসংখ্য তীর্থ বিদ্যমান। আরও বলা হয়েছে—সমাজে অবহেলিত বা প্রান্তিক সত্তারাও এই তীর্থের প্রভাবে স্বর্গফল লাভ করে; এতে তীর্থের রূপান্তরকারী শক্তি প্রকাশ পায়। যাত্রা-ফল কামনাকারীদের জন্য বিধান আছে—ব্যবহৃত বস্ত্র, স্বর্ণ ও গরু ব্রাহ্মণকে দান করা উচিত, এবং কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে পিতৃতর্পণ করা কর্তব্য। শেষে ত্রিসঙ্গমকে মহাপাপ-নাশক, বিশেষত বৈশাখে অতিশয় ফলদায়ক বলা হয়েছে; পাপক্ষয় ও পিতৃপ্রসন্নতার জন্য বৃষোৎসর্গ (বৃষ মুক্তি/দান) করার প্রশংসা করা হয়েছে।

मंकीश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Mankīśvara Māhātmya (Account of the Glory of Mankīśvara)
ঈশ্বর দেবীকে বলেন—ত্রিসঙ্গমের নিকটে ‘মঙ্কীশ্বর’ নামে এক মহাপাপহর তীর্থ আছে। সেখানে মঙ্কী ঋষি, তপস্বীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, প্রভাসকে শঙ্করের প্রিয় মহাক্ষেত্র জেনে মূল‑কন্দ‑ফল আহারে দীর্ঘকাল কঠোর তপস্যা করেন। দীর্ঘ তপস্যার পর তিনি মহাদেবকে লিঙ্গরূপে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রসন্ন শিব বর দিতে চাইলে ঋষি প্রার্থনা করেন—আমার নামে চিহ্নিত হয়ে আপনি এই স্থানে যুগযুগান্তর লিঙ্গরূপে বিরাজ করুন। শিব সম্মতি দিয়ে সেখানে অন্তর্হিতভাবে অবস্থান করেন; তখন থেকেই সেই লিঙ্গ ‘মঙ্কীশ্বর’ নামে প্রসিদ্ধ। মাঘ মাসের ত্রয়োদশী বা চতুর্দশীতে পাঁচ উপচারে পূজা করলে ইষ্টফল লাভ হয়। পূর্ণ তীর্থযাত্রার ফল কামনাকারীদের জন্য সেখানে গো‑দান করার বিধানও বলা হয়েছে।

Devamātā Sarasvatī in Gaurī-Form at the Nairṛta Quarter (Worship, Feeding, and Golden Sandal Dāna)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে প্রভাসক্ষেত্রে দেবমাতা সরস্বতীর এক বিশেষ স্থানীয় প্রকাশের কথা জানান। তিনি ‘দেবমাতা’ নামে খ্যাত এবং জগতে সরস্বতী নামে পূজিতা; নৈঋত (দক্ষিণ-পশ্চিম) দিশায় গৌরীরূপে অবস্থান করেন এবং পাদুকাসনে উপবিষ্ট বলে বর্ণিত। তাঁর রূপে ‘বডবা’ (বডবানল) প্রতীকের ইঙ্গিত আছে; ব্যাখ্যা করা হয়—মাতা যেমন ভয় থেকে রক্ষা করেন, তেমনি দেবগণ বডবানল-ভয় থেকে রক্ষিত হন, তাই পণ্ডিতেরা তাঁকে দেবমাতা বলেন। মাঘ মাসের তৃতীয় তিথিতে সংযমী পুরুষ বা শীলবতী সংযত নারী তাঁর পূজা করলে ইষ্টসিদ্ধি লাভ করে। এরপর অতিথিসেবার মাহাত্ম্য বলা হয়েছে—পায়স, চিনি ইত্যাদি মিষ্টান্নসহ এক দম্পতিকে ভোজন করালে বৃহৎ গৌরী-ভোজনব্রতের সমান ফল হয়। শেষে ওই স্থানে সদাচারী ব্রাহ্মণকে স্বর্ণপাদুকা দানের বিধান দেওয়া হয়েছে।

Nāgasthāna-māhātmya (Glory of the Nāga Station at Tri-saṅgama)
ঈশ্বর দেবীকে নির্দেশ দেন—মঙ্কীশের পশ্চিমে ত্রিসঙ্গম-সংযুক্ত এক মহিমান্বিত নাগস্থান আছে; তা মহাপাপ-নাশক ও অত্যন্ত শক্তিশালী, সেখানে গমন করো। এই অধ্যায়ে বলভদ্রের উপাখ্যানও আছে—কৃষ্ণের দেহত্যাগের সংবাদ শুনে তিনি প্রভাসে আসেন, ক্ষেত্রের অসাধারণ মাহাত্ম্য ও যাদবদের বিনাশ দেখে বৈরাগ্য গ্রহণ করেন। তিনি শेषনাগ-রূপে দেহ ত্যাগ করে পরম ত্রিসঙ্গম তীর্থে পৌঁছান, সেখানে পাতালের এক বৃহৎ ‘দ্বার’-সদৃশ মুখ দেখেন এবং দ্রুত প্রবেশ করে অনন্তের ধামে গমন করেন। নাগ-রূপে প্রবেশ করার কারণে স্থানটির নাম হয় ‘নাগস্থান’; আর যেখানে দেহত্যাগ হয়, তা ‘শেষস্থান’ নামে খ্যাত—নাগরাদিত্যের পূর্বদিকে। বিধান বলা হয়েছে—ত্রিসঙ্গমে স্নান, নাগস্থানের পূজা, পঞ্চমীতে সংযত আহারসহ উপবাস, শ্রাদ্ধকর্ম এবং সামর্থ্য অনুযায়ী ব্রাহ্মণকে দক্ষিণা দান। ফলশ্রুতি—দুঃখমোচন ও রুদ্রলোকে প্রাপ্তি; শেষনাগকে নিবেদিত মধুমিশ্রিত ক্ষীরান্ন প্রভৃতি দিয়ে ব্রাহ্মণভোজন করালে ‘কোটি’ জনকে ভোজন করানোর সমান পুণ্য লাভ হয়—দানধর্মের মহিমা এতে প্রতিষ্ঠিত।

प्रभासपञ्चकमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of the Five Prabhāsas
অধ্যায় ১৮৭ শিব–দেবীর তত্ত্বসংলাপরূপ। ঈশ্বর ‘প্রভাস-পঞ্চক’ নামে তীর্থপরিক্রমার কথা বলেন—প্রধান প্রভাস, বৃদ্ধ-প্রভাস, জল-প্রভাস এবং কৃতস্মর-প্রভাস (শ্মশান/ভৈরব-পরিবেশ-সংযুক্ত) প্রভৃতি পাঁচ প্রভাস-স্থান। ভক্তিভরে এই তীর্থগুলির দর্শন করলে জরা-মৃত্যুর অতীত, পুনরাগমনহীন অবস্থা লাভ হয় বলা হয়েছে। তীর্থবিধিও নির্দেশিত—প্রভাসে সমুদ্রস্নান, বিশেষত অমাবস্যা ও চতুর্দশী/পঞ্চদশীতে, রাত্রিজাগরণ, সামর্থ্য অনুযায়ী ব্রাহ্মণভোজন এবং দান (বিশেষ করে গোধন ও স্বর্ণ), যাতে তীর্থফল ধর্মসম্মত হয়। দেবী প্রশ্ন করেন—একটি প্রভাসই প্রসিদ্ধ, তবে পাঁচ কেন? তখন কারণকথা বলা হয়। শিব দিব্যরূপে দারুকবনে প্রবেশ করলে ঋষিরা গৃহস্থালির বিঘ্ন মনে করে ক্রুদ্ধ হয়ে শাপ দেন; ফলে শিবলিঙ্গ পতিত হয়। লিঙ্গপতনে ভূকম্প, সমুদ্রের উচ্ছ্বাস, পর্বতবিদারণ ইত্যাদি বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা দেখা দেয়। দেবতারা ব্রহ্মা, পরে বিষ্ণু, শেষে শিবের শরণ নেন। শিব বলেন—শাপ প্রতিহত নয়, পতিত লিঙ্গেরই পূজা করো। দেবতারা লিঙ্গকে প্রভাসে এনে প্রতিষ্ঠা করে পূজা করেন এবং তার তারকশক্তি ঘোষণা করেন। শেষে ইন্দ্রের আচ্ছাদন/বাধায় মানুষের স্বর্গগমন কমে যায় বলা হয়ে, প্রভাসের মহোদয়কে সর্বপাপনাশক ও সর্বকামফলদায়ক বলে সংক্ষেপে উপসংহার করা হয়।

Rudreśvaramāhātmya (Glorification of Rudreśvara)
এই অধ্যায়ে প্রভাস-ক্ষেত্রের মধ্যে সংক্ষিপ্ত তীর্থযাত্রার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈশ্বর দেবীকে বলেন—আদি-প্রভাস থেকে তিন ধনুর পরিমিত দূরত্বে পৃথিবীতে ‘রুদ্রেশ্বর’ নামে এক স্বয়ম্ভূ লিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত আছে; সেখানে গিয়ে দর্শন ও পূজা করতে হবে। এর মাহাত্ম্যের কারণও বলা হয়েছে—রুদ্র ধ্যানস্থ হয়ে নিজের তেজ সেখানে স্থাপন/নিবেশ করেছিলেন; তাই এটি মানবনির্মিত নয়, দেবসান্নিধ্যে পবিত্র। শেষে ফলশ্রুতি—রুদ্রেশ্বরের দর্শন ও পূজা সর্বপাপ নাশ করে এবং ভক্তকে অভীষ্ট কামনা লাভ করায়।

कर्ममोटीमाहात्म्यवर्णनम् — Karmamoṭī Māhātmya (Glorification of Karmamoṭī)
অধ্যায় ১৮৯ প্রভাসক্ষেত্রের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট তীর্থের সংক্ষিপ্ত, স্থাননির্ভর তত্ত্ববর্ণনা প্রদান করে। ঈশ্বর পশ্চিমদিকে “অতিদূরে নয়” এমন এক দেবালয়সমষ্টির কথা বলেন, যেখানে চণ্ডিকা ও কর্মমোটী দেবী একত্রে বিরাজমান এবং কোটি-সংযুক্ত যোগিনীদের বিরাট সমাবেশে সেই স্থান পরিবৃত। এই তীর্থকে পীঠত্রয় রূপে বর্ণনা করা হয়েছে—আদি, ত্রিলোকে পূজিত, তাই স্থানীয় হলেও সর্বলোক-স্বীকৃত মহিমাসম্পন্ন। বিধান হলো—নবমী তিথিতে দেবীপীঠ ও যোগিনীসমূহের সম্পূর্ণ পূজা করা উচিত। ফলশ্রুতি স্পষ্ট—সাধক সকল অভীষ্ট লাভ করে এবং স্বর্গে দিব্য নারীদের প্রিয় হয়; অর্থাৎ যথাযথ কাল-দেশে কৃত উপাসনা স্বর্গীয় পুণ্য ও মঙ্গলফল বৃদ্ধি করে।

मोक्षस्वामिमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Mokṣasvāmin (Liberation-Granting Hari)
ঈশ্বর দেবীকে প্রভাসক্ষেত্রে নৈঋত (দক্ষিণ-পশ্চিম) দিকে, প্রধান পুণ্যাঞ্চল থেকে অল্প দূরে অবস্থিত হরির মোক্ষদায়ক রূপ ‘মোক্ষস্বামী’-র কথা বলেন। একাদশীতে জিতাহার (সংযত আহার) পালন করে বিধিপূর্বক পূজা করতে বলা হয়, বিশেষত মাঘ মাসে এই ব্রত অধিক ফলপ্রদ। এই উপাসনার ফল অগ্নিষ্টোম যজ্ঞের ফলের সমতুল্য বলা হয়েছে। একই স্থানে অনশন ও চন্দ্রায়ণ প্রভৃতি ব্রত পালন করলে অন্যান্য তীর্থের তুলনায় কোটি-গুণ ফল লাভ হয় এবং অভীষ্ট সিদ্ধি প্রদান করে—এমনই বর্ণনা আছে। শেষে স্কন্দপুরাণের প্রভাসখণ্ডের প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যে এই অধ্যায়ের অবস্থান নির্দেশ করে কলফোন দেওয়া হয়েছে।

अजीगर्तेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Ajeegarteśvara Māhātmya (Glorification of Ajeegarteśvara)
এই অধ্যায়ে প্রভাস-খণ্ডের তীর্থযাত্রা-ক্রমে সংক্ষিপ্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈশ্বর দেবীকে বলেন—চন্দ্রবাপী নামক পবিত্র জলাধারের নিকটে এবং আরেকটি প্রসিদ্ধ স্থানের সন্নিধানে অবস্থিত হর-স্বরূপ অজীগর্তেশ্বরের কাছে অগ্রসর হতে। সেখানে গিয়ে সংশ্লিষ্ট জলে স্নান করে পরে শিবলিঙ্গের পূজা করার সহজ বিধান বলা হয়েছে। স্নানান্তে লিঙ্গপূজায় ঘোর পাপক্ষয় হয় এবং শেষে ভক্ত শিবপদ লাভ করে—এই ফলশ্রুতির মাধ্যমে তীর্থের মাহাত্ম্য প্রকাশিত।

Viśvakarmeśvara-māhātmya (विश्वकर्मेश्वरमाहात्म्य) — The Glory of Viśvakarmeśvara
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে তত্ত্বোপদেশ দিতে দিতে বিশ্বকর্মা-প্রতিষ্ঠিত এক বিশেষ লিঙ্গের দর্শনের নির্দেশ দেন। লিঙ্গটি মোক্ষস্বামিনের উত্তরে অবস্থিত এবং ‘পাঁচ ধনুষ’ পরিমাপের মধ্যে তার অবস্থান নির্দিষ্ট করে তীর্থযাত্রার পথ-ক্রম স্পষ্ট করা হয়েছে; এটিকে মহাপ্রভাবশালী বলা হয়েছে। দর্শনকেন্দ্রিক ফলশ্রুতি ঘোষণা করা হয়—যে মানুষ শ্রদ্ধায় সেই লিঙ্গের যথাযথ দর্শন করে, সে তীর্থযাত্রার ফল লাভ করে; এবং দর্শনমাত্রেই বাক্জনিত ও মানসিক পাপ নাশ হয়। শেষে কোলফনে স্কন্দমহাপুরাণের ৮১,০০০ শ্লোকসমষ্টির অন্তর্গত প্রভাসখণ্ডে, প্রথম প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যে, এই অধ্যায়ের নাম ‘বিশ্বকর্মেশ্বর-মাহাত্ম্য’ বলে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

Yameśvara-māhātmya-varṇanam (Glorification of Yameśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর স্বয়ং মহাদেবীর কাছে প্রত্যক্ষ তত্ত্বোপদেশরূপে কথা বলেন। প্রভাস-ক্ষেত্রে তীর্থযাত্রীর গমনপথ নির্দেশ করে তিনি যমেশ্বরের কাছে যেতে বলেন এবং যমেশ্বরকে “অনুত্তম” অর্থাৎ অতুল শ্রেষ্ঠ বলে মহিমা করেন। মন্দিরের অবস্থানও স্পষ্ট করা হয়েছে—নৈঋত্য (দক্ষিণ-পশ্চিম) দিকে, খুব দূরে নয়—ফলে বর্ণনাটি পথনির্দেশ ও আচারসূচক হয়ে ওঠে। ফলশ্রুতি সংক্ষিপ্ত ও নির্দিষ্ট: কেবল যমেশ্বর দর্শনেই পাপ-শমন হয় এবং তিনি সর্ব কামনার ফল প্রদানকারী (সর্বকাম-ফল-প্রদ) বলে ঘোষিত। উপসংহারে এটি স্কন্দ মহাপুরাণের প্রভাসখণ্ড, প্রভাস-ক্ষেত্র-মাহাত্ম্যের অন্তর্গত “যমেশ্বর-মাহাত্ম্য-বর্ণন” অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।

अमरेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Amareśvara Māhātmya—Description of the Glory of Amareśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে সেই লিঙ্গের বিষয়ে উপদেশ দেন, যা “দেবগণ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত” বলে বর্ণিত। তীর্থক্ষেত্রের “প্রভাব” জানা মানেই সর্বপাপ বিনাশ—এই নৈতিক-আচারগত দৃষ্টিতে অমরেশ্বরের মাহাত্ম্য প্রকাশিত হয়েছে। লিঙ্গকে কেন্দ্র করে উগ্র তপস্যা করার বিধান আছে; তার দর্শনমাত্রেই তীর্থযাত্রী কৃতকৃত্য, অর্থাৎ ধর্মসাধনায় পরিপূর্ণ, হয় বলে ফলশ্রুতি। পরে বেদপারগ ব্রাহ্মণকে গোদান করার প্রশংসা করা হয়েছে, কারণ যথাযথ পাত্রে দান করলে যাত্রার ফল আরও দৃঢ় ও উজ্জীবিত হয়।

वृद्धप्रभासमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Vṛddha Prabhāsa (Origin and Merit)
এই অধ্যায়টি শৈব ব্যাখ্যামূলক সংলাপরূপে রচিত। ঈশ্বর বলেন—নিয়ম-সংযমে চলা তীর্থযাত্রী আদি প্রভাসের দক্ষিণে অবস্থিত বৃদ্ধ প্রভাসে গমন করবে। সেখানে “চতুর্মুখ” নামে খ্যাত লিঙ্গ কেবল দর্শনমাত্রেই পাপহর বলে প্রশংসিত। শ্রীদেবী নামের উৎপত্তি এবং দর্শন, স্তব ও পূজার ফল জানতে চান। ঈশ্বর প্রাচীন মন্বন্তর ও ত্রেতাযুগের কাহিনি বলেন। উত্তরদিক থেকে আগত ঋষিরা প্রভাস দর্শনে এসে দেখেন শৈব লিঙ্গ ইন্দ্রের বজ্র-সম্পর্কে গোপন। দর্শন ছাড়া ফিরবেন না বলে তারা ঋতু-পর্যন্ত দীর্ঘ তপস্যা করেন—ব্রহ্মচর্য, কঠোর নিয়ম, শীত-উষ্ণ সহ্য ইত্যাদি—এবং বার্ধক্যে উপনীত হন। তাদের অটল সংকল্প দেখে শঙ্কর করুণায় পৃথিবী বিদীর্ণ করে স্বলিঙ্গ প্রকাশ করেন; দর্শনলাভে ঋষিরা স্বর্গলোকে গমন করেন। ইন্দ্র আবার গোপন করতে চাইলেও বার্ধক্যাবস্থায় দর্শনপ্রাপ্তির কারণে স্থানটি “বৃদ্ধ প্রভাস” নামে প্রসিদ্ধ হয়। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—ভক্তিভাবে এই তীর্থ দর্শন রাজসূয় ও অশ্বমেধ যজ্ঞসম পুণ্য প্রদান করে; পূর্ণ ফল কামনায় ব্রাহ্মণকে উক্ষা (বৃষ/বैल) দান শ্রেয়।

जलप्रभासमाहात्म्यवर्णनम् | Jala-Prabhāsa: The Māhātmya of the Water-Prabhāsa Tīrtha
ঈশ্বর দেবীকে বৃদ্ধ-প্রভাসের দক্ষিণে অবস্থিত জল-আধিষ্ঠিত প্রভাস-তীর্থের দিকে নির্দেশ করেন এবং তার ‘উত্তম’ মাহাত্ম্য প্রকাশ করেন। কাহিনির কেন্দ্রে আছেন জামদগ্ন্য রাম (পরশুরাম); ক্ষত্রিয়-সংহারের মহাকর্মের পর তিনি অন্তরে ঘৃণা ও গ্লানিতে দগ্ধ হয়ে বহু বছর মহাদেবের কঠোর তপস্যা ও উপাসনা করেন। শিব প্রসন্ন হয়ে প্রকাশিত হন ও বর দেন। রাম শিবের নিজ লিঙ্গদর্শন প্রার্থনা করেন—বর্ণিত আছে, ইন্দ্র ভয়ে বারবার বজ্র দিয়ে তা আচ্ছাদিত করেন। শিব সেই রূপে প্রত্যক্ষ লিঙ্গদর্শন দেন না; তবে উপায় বলেন—তীর্থস্পর্শে এবং পবিত্র জলের মধ্য থেকে উদ্ভূত হতে থাকা লিঙ্গের নিকটে গিয়ে রামের দুঃখ ও পাপ নাশ হবে। তখন জল থেকে এক মহালিঙ্গ প্রकट হয় এবং স্থানটি ‘জল-প্রভাস’ নামে প্রসিদ্ধ হয়। শেষে ফলশ্রুতি—মাত্র তীর্থস্পর্শেই শিবলোক লাভ হয়, এবং সেখানে এক জন সদাচারী ব্রাহ্মণকে ভোজন করানো উমাসহ শিবকে ভোজন করানোর সমান। এই আখ্যান পাপ-উপশমকারী ও সর্বকাম-ফলপ্রদ বলে ঘোষিত।

जमदग्नीश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Jamadagniśvara: Account of the Sacred Merit
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে বৃদ্ধ-প্রভাসের নিকটে অবস্থিত জমদগ্নীশ্বর শিবের তীর্থযাত্রার কথা বলেন। ঋষি জমদগ্নি প্রতিষ্ঠিত এই ক্ষেত্রকে সর্বপাপ-উপশমকারী বলা হয়েছে; এবং দেবতার কেবল দর্শনেই পুরাণোক্ত ‘ঋণত্রয়’ থেকে মুক্তি লাভ হয়—এ কথা প্রতিপাদিত। এরপর ‘নিধানা-ৱাপী’ নামে এক জলতীর্থের উল্লেখ আছে। সেখানে স্নান ও পূজা করলে ধন-সমৃদ্ধি এবং কাম্য ফলসিদ্ধি হয় বলে বিধান দেওয়া হয়েছে। প্রাচীনকালে পাণ্ডবদের দ্বারা ধনভাণ্ডার (নিধান) উদ্ধার হওয়ায় এই কূপ/পুকুরের নাম ও খ্যাতি প্রসারিত হয় এবং একে ‘ত্রিলোক-পূজিত’ বলা হয়েছে। শেষে ফলশ্রুতিতে স্নান করলে দুর্ভাগ্য দূর হয়ে সৌভাগ্য ও মনোবাঞ্ছিত ফল প্রাপ্তির কথা বলা হয়েছে।

Pañcama-prabhāsa-kṣetra-māhātmya: Mahāprabhāsa, Tejas-udbhava, and the Spārśa-liṅga Tradition
ঈশ্বর মহাদেবীর সঙ্গে কথোপকথনে মহাপ্রভাস নামে এক মহাপবিত্র ক্ষেত্রের কথা বলেন। এটি জলপ্রভাসের দক্ষিণে অবস্থিত এবং যমের পথ রোধকারী—অর্থাৎ রক্ষাকারী ও মোক্ষদায়ক—বলে বর্ণিত। ত্রেতাযুগে এখানে দিব্য তেজোময় স্পার্শ-লিঙ্গের স্মৃতি আছে, যার স্পর্শমাত্রেই মুক্তি লাভ হয়। পরবর্তীকালে ভীত ইন্দ্র সেখানে এসে বজ্রসদৃশ আবরণ/অবরোধ দিয়ে লিঙ্গকে ঢেকে বা দমন করে; তখনই অনিয়ন্ত্রিত উষ্মা-তেজ উদ্গত হয়ে জ্বালামুখ-শিখাযুক্ত বিশাল লিঙ্গরূপে প্রসারিত হয় এবং ধোঁয়া-আগুনে ত্রিলোককে অস্থির করে তোলে। দেবগণ ও বেদজ্ঞ ঋষিরা শশিশেখর শিবের স্তব করে প্রার্থনা করেন—এই স্বদাহক তেজ সংযত হোক, যাতে সৃষ্টি প্রলয়ে না গিয়ে পড়ে। তখন তেজ পাঁচ ধারায় বিভক্ত হয়ে পৃথিবী ভেদ করে পঞ্চপ্রভাস রূপে প্রকাশ পায়; নির্গমনপথে শিলাদ্বার স্থাপন করে ফাটল বন্ধ করলে ধোঁয়া প্রশমিত হয়, লোকসমূহ স্থিতি ফিরে পায়, আর তেজ সেখানে সীমাবদ্ধ থাকে। শিবের প্রেরণায় দেবতারা সেখানে লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন; স্থানটি মহাপ্রভাস নামে খ্যাত হয়। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—বিভিন্ন ফুলে ভক্তিভরে পূজা করলে অক্ষয় পরম পদ লাভ হয়; কেবল দর্শনেই পাপ নাশ হয় ও ইষ্টসিদ্ধি ঘটে। দানে—সংযমী ব্রাহ্মণকে স্বর্ণদান এবং বিধিপূর্বক দ্বিজকে গোদান—জন্মফল প্রদান করে এবং রাজসূয় ও অশ্বমেধ যজ্ঞসম পুণ্য দেয়।

दक्षयज्ञविध्वंसनम् (Destruction/Disruption of Dakṣa’s Sacrifice) and the Etiology of Kṛtasmaradeva
এই অধ্যায়ে তীর্থ-নির্দেশনার আবরণে শিব–দেবীর তত্ত্বসংলাপ বর্ণিত। ঈশ্বর দেবীকে দক্ষিণদিকে সরস্বতীর মনোরম তীরে অবস্থিত এক স্বয়ম্ভূ মন্দিরের কথা জানান, যেখানে ‘কৃতস্মরদেব’ নামে প্রসিদ্ধ দেবতা পাপশোধক রূপে পূজিত। এরপর কামদহন-পরবর্তী রতির শোক ও শিবের সান্ত্বনা—দৈব অনুগ্রহে ভবিষ্যতে কাম পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে—এই কারণকথা শুরু হয়। দেবী জিজ্ঞাসা করেন কেন কাম দগ্ধ হল এবং পুনর্জন্ম কীভাবে ঘটল। শিব তখন দক্ষযজ্ঞের প্রসঙ্গ, বংশপরম্পরা ও ঘটনাক্রম বলেন—দক্ষের কন্যাদের বিবাহ-বণ্টন, মহাযজ্ঞে দেব-ঋষিদের সমাবেশ, এবং কপাল-ভস্মাদি তপস্বীচিহ্নের কারণে শিবকে অপমান করে বর্জন। এতে সতী ক্রুদ্ধ হয়ে যোগতপস্যায় দেহত্যাগ করেন। এরপর শিব বীরভদ্র-প্রধান উগ্র গণদের যজ্ঞভঙ্গের জন্য প্রেরণ করেন। দেবতাদের সঙ্গে যুদ্ধ হয়; বিষ্ণুর সুদর্শনও গিলে ফেলা হয়, আর রুদ্রের বরদানে বীরভদ্র অজেয় থাকেন। শিব ত্রিশূল হাতে অগ্রসর হলে দেবগণ সরে যায়; ব্রাহ্মণরা রুদ্রমন্ত্রে রক্ষাহোম করে, তবু যজ্ঞ বিধ্বস্ত হয়। শেষে যজ্ঞ মৃগরূপে পলায়ন করে এবং আকাশে তারকার মতো দৃশ্যমান চিরচিহ্ন হিসেবে কথিত।

कामकुण्डमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Kāma Kuṇḍa
শিব–দেবীর তত্ত্বসংলাপে এই অধ্যায়ে যজ্ঞবিঘ্নের পরবর্তী ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তারকাসুর দেবতাদের পরাজিত করে স্বর্গচ্যুত করে এবং জগতে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। দেবগণ ব্রহ্মার শরণ নিলে ব্রহ্মা বলেন—এই সংকটের সমাধান কেবল শঙ্করের শক্তিতেই সম্ভব; হিমালয়কন্যার সঙ্গে শিবের ভবিষ্যৎ মিলন থেকেই তারকবধকারী জন্ম নেবে। সেই মিলন ত্বরান্বিত করতে বসন্তসহ কামদেবকে প্রেরণ করা হয়; কিন্তু শিবের নিকটে পৌঁছতেই শিবের তৃতীয় নয়নের অগ্নিতে কাম দগ্ধ হয়ে যায়। পরে শিব পুণ্য প্রাভাসিক-ক্ষেত্রে অধিষ্ঠান করেন এবং স্থানটি ঘটনাটির পবিত্র স্মারক হয়ে ওঠে। রতি শোকে কাতর; আকাশবাণী তাকে সান্ত্বনা দেয়—কাম দেহহীন ‘অনঙ্গ’ রূপে পুনরায় কার্য করবে। দেবগণ কামবিহীন সৃষ্টিব্যবস্থার বিঘ্নের কথা জানালে শিব বলেন—কাম শরীর ছাড়াই সৃষ্টিকর্ম পরিচালনা করবে; পৃথিবীতে একটি লিঙ্গ আবির্ভূত হয়ে এই প্রসঙ্গের চিহ্ন হয়। ‘কৃতস্মরা’ উপাধি ও পরবর্তীতে স্কন্দের জন্ম ও তারকবধের সূত্রও এখানে যুক্ত। শেষে কৃতস্মরার দক্ষিণে ‘কামকুণ্ড’ নামে কুণ্ডে স্নান এবং বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণদের আখ, স্বর্ণ, গাভী ও বস্ত্র দানের বিধান বলা হয়েছে; এর ফলে অমঙ্গল নাশ ও শুভফল লাভ হয়।

कालभैरवस्मशानमाहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Kālabhairava’s Great Cremation-Ground)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর (শিব) প্রভাসক্ষেত্রের এক বিশেষ তীর্থস্থানকে নির্দেশ করেন—কালভৈরব-সম্পর্কিত মহাশ্মশান এবং তার নিকটে অবস্থিত ব্রহ্মকুণ্ড। তিনি মঙ্কীশ্বরের সান্নিধ্যও স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই স্থানের শৈব মাহাত্ম্য প্রকাশ করেন। অধ্যায়ের মূল বক্তব্য স্থাননির্ভর মোক্ষপ্রতিশ্রুতি: যারা সেখানে মৃত্যুবরণ করে বা যাদের দাহকর্ম সেখানে সম্পন্ন হয়, তারা কালবিপর্যয় বা অকালে মৃত্যুর মতো প্রতিকূল অবস্থাতেও মুক্তি লাভ করে। এমনকি গ্রন্থে ‘মহাপাতকী’ বলে চিহ্নিত গুরুতর অপরাধীরাও এই ক্ষেত্রের প্রভাবে উদ্ধার পায়। শিব ‘কৃতস্মরতা’—স্মরণে প্রতিষ্ঠিত থাকা—কে ফলপ্রাপ্তির সহায়ক বলে জানান এবং শ্মশানকে ‘অপুনর্ভবদায়ক’ (পুনর্জন্মনাশক) অঞ্চলরূপে বর্ণনা করেন। বিষুবকালকে বিশেষ পুণ্যসময় হিসেবে উল্লেখ করে শেষে শিব এই প্রিয় ক্ষেত্রের প্রতি চিরআসক্তি ঘোষণা করেন, এই প্রসঙ্গে অবিমুক্তের চেয়েও অধিক প্রিয় বলে প্রতিপাদন করেন।

रामेश्वरमाहात्म्य — Rāmeśvara at Prabhāsa and the Pratiloma Sarasvatī Purification
ঈশ্বর দেবীকে প্রভাসক্ষেত্রে সরস্বতীর নিকটে অবস্থিত রামেশ্বরের স্থান ও মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করেন। কাহিনিতে বলভদ্র (রাম/হলায়ুধ) পাণ্ডব–কৌরব সংঘাতে পক্ষ না নিয়ে দ্বারকায় ফিরে আসেন; মদ্যপ্রভাবে তিনি এক বনবিহার-উদ্যানে প্রবেশ করেন। সেখানে পণ্ডিত ব্রাহ্মণদের সামনে সূতের পাঠ শুনে ক্রোধে তিনি সূতকে বধ করেন; পরে এটিকে ব্রহ্মহত্যাসদৃশ পাপ বলে মনে করে অনুতাপ করেন এবং ধর্ম ও দেহগত দোষের ফল নিয়ে বিলাপ করেন। এরপর প্রায়শ্চিত্তের নীতি বলা হয়—ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত হিংসার পার্থক্য, প্রায়শ্চিত্তের স্তরভেদ, এবং ব্রতের গুরুত্ব। এক অশরীরী বাণী তাঁকে প্রভাসে যেতে নির্দেশ দেয়, যেখানে পাঁচ ধারাবিশিষ্ট প্রতিলোমা সরস্বতী পাঁচ মহাপাতকনাশিনী বলে প্রশংসিত; অন্য তীর্থসমূহ তুলনায় অক্ষম বলা হয়। বলভদ্র তীর্থযাত্রা, দান, সরস্বতী–সমুদ্র সঙ্গমে স্নান করে মহালিঙ্গ স্থাপন ও রামেশ্বর পূজা করেন এবং শুদ্ধ হন। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—রামেশ্বর লিঙ্গপূজায় পাপক্ষয় হয়; অষ্টমীতে ব্রহ্মকূর্চ বিধিসহ ব্রত করলে অশ্বমেধসম পুণ্য লাভ; এবং স্নান, পূজা ও গোদান পূর্ণ যাত্রাফলপ্রার্থীদের জন্য শ্রেষ্ঠ।

मंकीश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Mankīśvara Māhātmya (Glory of the Mankīśvara Liṅga)
ঈশ্বর দেবীকে মংকীশ্বর তীর্থের যাত্রাপথ বর্ণনা করেন। এটি রামেশের উত্তরে, দেবমাতৃ-স্থলের নিকটে; অর্ক-স্থল ও কৃত-স্মর থেকে দিকনির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রাচীনকালে কুব্জ (বাঁকা দেহ) ব্রাহ্মণ মংকী দীর্ঘ তপস্যা ও নিত্য পূজার দ্বারা এই শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। বহু বছর আরাধনার পরও সন্তোষ না পেয়ে তিনি ব্যথিত হন এবং জপ-ধ্যানে আরও কঠোর সাধনা বার্ধক্য পর্যন্ত চালিয়ে যান। শেষে শিব প্রকাশ হয়ে বলেন—মংকীর পক্ষে গাছের ডালে উঠে প্রচুর ফুল সংগ্রহ করা সহজ নয়; কিন্তু ভক্তিভরে নিবেদিত একটি মাত্র ফুলও সর্বযজ্ঞফলদায়ক। এরপর লিঙ্গপূজার ত্রিমূর্তি-সমন্বয় ব্যাখ্যা করা হয়—লিঙ্গের ডানদিকে ব্রহ্মা, বাঁদিকে বিষ্ণু, মধ্যস্থানে শিব; তাই লিঙ্গার্চনেই ত্রিদেবের সম্মিলিত পূজা সম্পন্ন হয়। বিল্ব, শমী, করবীর, মালতী, উন্মত্তক, চম্পক, অশোক, কহ্লার প্রভৃতি সুগন্ধি পুষ্প প্রিয় নিবেদন বলে উল্লেখিত। মংকী বর চান—যে কেউ এখানে স্নান করে এই লিঙ্গে জলমাত্রও অর্পণ করবে, সে যেন সকল উপাসনার ফল লাভ করে; এবং নিকটে দিব্য ও পার্থিব বৃক্ষসমূহ থাকুক। শিব বরদান দিয়ে বলেন, সকল নাগের সান্নিধ্যে এ স্থান ‘নাগস্থান’ নামে খ্যাত হবে, তারপর অন্তর্ধান করেন। মংকী দেহত্যাগ করে শিবলোকে গমন করেন। অধ্যায়ের ফলশ্রুতি—শ্রদ্ধায় এই মাহাত্ম্য শ্রবণে পাপ নাশ হয়।

Sarasvatī-māhātmya and the Ritual Order of Dāna–Śrāddha at Prabhāsa (सरस्वतीमाहात्म्यं दानश्राद्धविधिक्रमश्च)
এই অধ্যায়টি প্রশ্ন–উত্তরধর্মী তাত্ত্বিক সংলাপ। দেবী সরস্বতীর মাহাত্ম্য বিস্তারে শুনতে চান এবং তীর্থাচরণের নানা সূক্ষ্ম প্রশ্ন করেন—‘মুখ-দ্বার’ দিয়ে প্রবেশের পুণ্য, স্নান ও দানের ফল, অন্যত্র নিমজ্জনের পরিণাম, এবং শ্রাদ্ধের সঠিক বিধি: নিয়ম, মন্ত্র, যোগ্য পুরোহিত, উপযুক্ত খাদ্য ও প্রস্তাবিত দান। ঈশ্বর দান–শ্রাদ্ধের ক্রমবদ্ধ বিধান ব্যাখ্যা করার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর ঈশ্বর স্তবের মাধ্যমে সরস্বতীর পবিত্রতা উচ্চকিত করেন। সরস্বতী-জলকে অতিশয় পুণ্যদায়ক বলা হয়েছে; বিশেষত সমুদ্র-সঙ্গমে তা দেবতাদের কাছেও দুর্লভ বলে বর্ণিত। তিনি দুঃখনাশিনী ও লোকসুখদাত্রী রূপে প্রতিপন্ন, এবং বৈশাখ মাস ও সোম-সম্পর্কিত আচারের বিরলতা উল্লেখ করে বলা হয়—প্রভাসে সরস্বতী-প্রাপ্তি অন্য তপস্যা ও প্রায়শ্চিত্তের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। ফলশ্রুতিতে বলা হয়, যারা সরস্বতী-জলে অবস্থান/নিষ্ঠা রাখে তারা দীর্ঘকাল বিষ্ণুলোকে বাস লাভ করে; আর প্রভাসে সরস্বতীকে দেখতে না পারা ব্যক্তিকে আধ্যাত্মিক দৃষ্টিহীনতার সঙ্গে তুলনা করা হয়। সরস্বতীকে বিস্তৃত জ্ঞান ও নির্মল বিবেকের উপমায় প্রশংসা করে, তাঁর অন্যান্য নদী ও সমুদ্রের সঙ্গমকে পরম তীর্থ বলা হয়েছে; সেখানে স্নান ও দান মহাযজ্ঞসম ফলদায়ক, এবং সরস্বতী-জলে স্নাতরা ভাগ্যবান ও সম্মানযোগ্য বলে ঘোষিত।

श्राद्धविधि-काल- पात्र- ब्राह्मणपरीक्षा (Śrāddha: timing, requisites, and examination of eligible Brāhmaṇas)
অধ্যায় ২০৫-এ দেবী ঈশ্বরকে শ্রাদ্ধের পুণ্যবিধি জিজ্ঞাসা করেন—বিশেষত দিনের কোন সময়ে শ্রাদ্ধ করা উচিত এবং প্রভাস/সরস্বতী তীর্থে তার বিধান কী। ঈশ্বর দিনের মুহূর্তসমূহ ব্যাখ্যা করে মধ্যাহ্নের নিকট ‘কুটপ-কালে’ শ্রাদ্ধকে সর্বাধিক ফলপ্রদ বলেন এবং সন্ধ্যাবেলায় শ্রাদ্ধ করতে নিষেধ করেন। তিনি কুশ/দর্ভ ও কালো তিলকে রক্ষাকারী ও পবিত্রকারী উপকরণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ‘স্বধা-ভবন’ সময়ের ধারণা জানান। শ্রাদ্ধের তিন প্রশংসিত ‘পাবন’—দৌহিত্র, কুটপ ও তিল—এবং শুচিতা, ক্রোধহীনতা, তাড়াহুড়ো না করা ইত্যাদি গুণের কথা বলা হয়েছে। ধনের শুদ্ধতা অনুযায়ী শ্বেত/শম্বল/কৃষ্ণ ভেদ করে বলা হয়, অন্যায়ভাবে অর্জিত ধনে করা শ্রাদ্ধ পিতৃদের তৃপ্তি দেয় না; বরং অশুভ সত্তাদের দিকে ফল সরে যায়। পরে যোগ্য ব্রাহ্মণ-নির্বাচনের বিস্তৃত বিধান আসে—বিদ্বান, শীলবান, সংযমী ব্রাহ্মণদের গ্রহণযোগ্য বলা হয় এবং নানা আচরণ, পেশা ও নৈতিক দোষে দুষ্ট ‘অপাঙ্ক্তেয়’দের দীর্ঘ তালিকা দিয়ে বর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়; শেষে ভুল পাত্র নির্বাচনে শ্রাদ্ধফল নষ্ট হয় বলে পুনরুচ্চারিত।

Śrāddha-vidhi-varṇana (श्राद्धविधिवर्णन) — Procedural Discourse on Śrāddha
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর শ্রাদ্ধের, বিশেষত পার্বণ-পদ্ধতির, সূক্ষ্ম ও বিধিবদ্ধ ব্যাখ্যা প্রদান করেন। নিমন্ত্রণ-রীতি, যোগ্যতা ও আসনবিন্যাস, শৌচ-শুদ্ধির বিধান, মুহূর্তভেদে সময়নির্ণয়, এবং পাত্র, সমিধ, কুশ, ফুল, খাদ্য ইত্যাদির নির্বাচন বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে। অযথা সহভোজন, বিধিভ্রষ্টতা ও অশুদ্ধির মতো দোষে পিতৃগ্রহণ নষ্ট হয়—এমন নৈতিক সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। জপ, ভোজন, পিতৃকার্য প্রভৃতিতে মৌনাচরণ, দেবকর্ম ও পিতৃকর্মের দিকনিয়ম, এবং কিছু ত্রুটির ব্যবহারিক প্রতিকারও উল্লেখিত। শুভ-অশুভ কাঠ, ফুল ও খাদ্যবস্তুর তালিকা, কিছু অঞ্চলে শ্রাদ্ধবর্জন, এবং মলমাস/অধিমাস সংক্রান্ত নিষেধ ও মাসগণনার স্পষ্টীকরণও আছে। শেষে ‘সপ্তার্চিস্’ স্তবসহ মন্ত্রসমূহ ও ফলশ্রুতি—প্রভাসে সরস্বতী–সাগর সঙ্গমে বিধিপূর্বক পাঠ ও শ্রাদ্ধ করলে শুদ্ধি, সামাজিক-ধর্মীয় স্বীকৃতি, সমৃদ্ধি, স্মৃতিশক্তি ও আরোগ্য লাভ হয়—এ কথা বলা হয়েছে।

पात्रापात्रविचारवर्णनम् | Discernment of Worthy and Unworthy Recipients (Pātra–Apātra Vicāra)
এই অধ্যায়ে প্রভাস-ক্ষেত্রের প্রেক্ষিতে ঈশ্বর শ্রাদ্ধ-সম্পর্কিত দানের ক্রম ও তার ফল ব্যাখ্যা করেন। পিতৃদের উদ্দেশে দান এবং সরস্বতীর পবিত্র সান্নিধ্যে এক জন দ্বিজকে অন্নদান করাকেও অতিশয় মহাপুণ্য বলা হয়েছে। এরপর নীতি-ধর্মশাস্ত্রীয় আলোচনা বিস্তৃত হয়—নিত্যকর্ম অবহেলার দোষ, ভূমি-চুরি/ভূমিহরণে কঠোর নিন্দা, এবং নিষিদ্ধ উপায়ে অর্জিত ধনের কুফল। বিশেষ করে ‘বেদ-বিক্রয়’ (বেদশিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত করা)-এর নানা রূপ ও তার কর্মফল বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে। শুচিতা-অশুচিতার সীমা, অনুচিত জীবিকা, এবং নিন্দিত উৎসের অন্ন-ধন গ্রহণ বা ভক্ষণে বিপদের কথাও নির্দেশিত। দানধর্মে যোগ্য পাত্র (শ্রোত্রিয়, গুণবান, শীলবান) নির্বাচন অপরিহার্য—অপাত্রে দান করলে পুণ্য নষ্ট হয়—এই নীতি প্রতিষ্ঠিত। শেষে সত্য, অহিংসা, সেবা, সংযমিত ভোগ ইত্যাদি গুণের স্তরবিন্যাস এবং অন্ন, দীপ, সুগন্ধ, বস্ত্র, শয্যা প্রভৃতি দানের নির্দিষ্ট ফল উল্লেখ করে আচারকে নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

दानपात्रब्राह्मणमाहात्म्यवर्णनम् (Glorification of Proper Giving, Worthy Recipients, and Brāhmaṇa Eligibility)
এই অধ্যায়ে দেবী দানের সুস্পষ্ট বিভাগ জানতে চান—কী দান করা উচিত, কাকে, কখন, কোথায় এবং কোন যোগ্য পাত্রকে। ঈশ্বর নিষ্ফল জন্ম ও নিষ্ফল দানের লক্ষণ দেখিয়ে সৎজন্ম ও শাস্ত্রসম্মত দানের মহিমা বলেন এবং ষোড়শ মহাদানের বিধান উল্লেখ করেন—গোদান, স্বর্ণদান, ভূমিদান, বস্ত্র-ধান্যদান, আসবাবসহ গৃহদান ইত্যাদি। এরপর দানের অন্তঃপ্রেরণা ও দানের দ্রব্যের শুদ্ধতা ব্যাখ্যা করা হয়—অহংকার, ভয়, ক্রোধ বা প্রদর্শনের জন্য দান করলে ফল বিলম্বিত বা ক্ষীণ হয়; শুদ্ধচিত্তে ও ধর্মসম্মত উপার্জিত দ্রব্যে দান করলে দ্রুত কল্যাণফল মেলে। পাত্রলক্ষণ হিসেবে বিদ্যা, যোগসাধনা, শান্তভাব, পুরাণজ্ঞান, দয়া, সত্য, শৌচ ও সংযমের কথা বলা হয়েছে। গোদানে গাভীর উত্তম গুণ নির্দিষ্ট করে ত্রুটিযুক্ত বা অবৈধভাবে প্রাপ্ত গাভী দান নিষিদ্ধ, এবং অনুচিত দানের অশুভ ফলও বর্ণিত। উপবাস, পারণ ও শ্রাদ্ধের সময়নিয়মে সতর্কতা এবং সামর্থ্য বা যোগ্য পাত্রের অভাবে শ্রাদ্ধের উপযোগী বিকল্প পদ্ধতিও দেওয়া হয়েছে। শেষে পাঠক-আচার্যের সম্মান, বিদ্বেষী বা অশ্রদ্ধালু শ্রোতাকে গ্রন্থ না দেওয়ার বিধি, এবং যথাযথ শ্রবণ-দানকে ক্রিয়াসিদ্ধির অঙ্গ বলে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

मार्कण्डेयेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Māhātmya of Mārkaṇḍeyeśvara (Foundation and Merit Narrative)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে উদ্দেশ করে দুই ভাগে ধর্মতত্ত্ব ব্যাখ্যা করেন। প্রথমে তিনি তীর্থযাত্রার নির্দেশ দেন—সাবিত্রীক্ষেত্রের পূর্বাংশের নিকটে, উত্তরদিকে অবস্থিত মহিমান্বিত মার্কণ্ডেয়েশ্বর দর্শনে যেতে বলেন। পদ্মযোনি ব্রহ্মার কৃপায় ঋষি মার্কণ্ডেয় পুরাণীয় অর্থে অজরা-অমর হন; ক্ষেত্রের শ্রেষ্ঠত্ব জেনে তিনি শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে পদ্মাসনে দীর্ঘ ধ্যানসমাধিতে নিমগ্ন থাকেন। যুগযুগ ধরে বাতাসে উড়ে আসা ধূলায় মন্দির আচ্ছন্ন হয়ে যায়; জাগ্রত হয়ে ঋষি খনন করে মহাদ্বার পুনরায় উন্মুক্ত করে পূজার পথ প্রকাশ করেন। যে ভক্তিভরে প্রবেশ করে বৃষভধ্বজ শিবের পূজা করে, সে মহেশ্বরের পরম ধামে গমন করে। পরে দেবীর প্রশ্ন—সবারই মৃত্যু থাকলে মার্কণ্ডেয়কে ‘অমর’ বলা হয় কেন? ঈশ্বর পূর্বকল্পের কাহিনি বলেন—ভৃগুপুত্র মৃকণ্ডুর এক পুণ্যবান পুত্র জন্মায়, যার আয়ু মাত্র ছয় মাস নির্ধারিত। পিতা উপনয়ন করে তাকে নিত্য প্রণাম-সম্মানাচরণ শেখান। তীর্থযাত্রায় সপ্তর্ষি বাল ব্রহ্মচারীকে ‘দীর্ঘায়ু’ আশীর্বাদ দেন, কিন্তু তার স্বল্পায়ু দেখে শঙ্কিত হয়ে তাকে ব্রহ্মার কাছে নিয়ে যান। ব্রহ্মা বিধান জানান—এই বালকই মার্কণ্ডেয় হবে, ব্রহ্মার সমান আয়ুপ্রাপ্ত, কল্পের আদিতে ও অন্তে সহচর। পিতার দুঃখ দূর হয়, কৃতজ্ঞ ভক্তি জাগে; শৃঙ্খলা, দैব অনুমোদন ও ক্ষেত্রের চিরস্থায়ী উপাস্যতা এই অধ্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।

Pulastyēśvaramāhātmya (The Glory of Pulastyēśvara) | पुलस्त्येश्वरमाहात्म्यम्
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে সংক্ষিপ্ত তীর্থ-উপদেশ দেন। প্রভাসক্ষেত্রের পবিত্র মানচিত্রে নির্দেশিত দিক ও পরিমাপ-চিহ্ন অনুযায়ী অবস্থিত ‘উত্তম’ তীর্থ পুলস্ত্যেশ্বরে গমন করতে বলা হয়েছে। সেখানে প্রথমে দর্শন, তারপর বিধানমতে (যথাবিধি) পূজা—এই ভক্তিক্রম নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে নিশ্চিতভাবে বলা হয়, উপাসক সাত জন্মের সঞ্চিত পাপ থেকে মুক্ত হয়—এতে কোনো সন্দেহ নেই। এই অধ্যায় তীর্থ-স্থাননির্দেশ, আচারবিধি ও পাপক্ষয়-ফলকে একত্রে সংযুক্ত করে।

पुलहेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Pulahēśvara Māhātmya (Glorification of Pulahēśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে প্রভাসক্ষেত্রে অবস্থিত পুলহেশ্বর তীর্থের কথা উপদেশ দেন। তিনি জানান, নৈঋত (দক্ষিণ-পশ্চিম) দিকের দিকে ধনুষ-পরিমিত দূরত্বে পুলহেশ্বর নামে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত; সেখানে ভক্তিভরে দর্শন ও পূজা করা কর্তব্য। পুলহেশ্বরের ভক্তিমূলক আরাধনায় তীর্থযাত্রার ফল লাভ হয়—এ কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছে। যাত্রাফল সম্পূর্ণ করতে হিরণ্যদান (স্বর্ণ/ধন দান)কে আবশ্যক পূরণ-ক্রিয়া হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে। শেষে কলফনে এটি স্কন্দপুরাণের প্রভাসখণ্ডের প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যের ২১১তম অধ্যায় বলে চিহ্নিত।

Kratvīśvaramāhātmya (क्रत्वीश्वरमाहात्म्यम्) — The Glory of Kratvīśvara
এই অধ্যায়ে (২১২) ঈশ্বর দেবীকে বলেন—পুলহীশ্বর থেকে নৈঋত্য দিকে আট ধনু দূরে ‘ক্রত্বীশ্বর’ নামে এক পবিত্র শিবক্ষেত্র আছে। এখানে দর্শনমাত্রেই ‘মহাক্রতু-ফল’ লাভ হয়, অর্থাৎ বৃহৎ বৈদিক যজ্ঞের মর্যাদা তীর্থদর্শনের মাধ্যমে সহজে প্রাপ্ত হয়। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—যে মানুষ ক্রত্বীশ্বরকে দর্শন করে, সে পৌণ্ডরীক যজ্ঞের ফল পায় এবং সাত জন্ম পর্যন্ত দারিদ্র্য থেকে রক্ষা পায়; তদুপরি সেখানে দুঃখের উদ্ভব হয় না। অধ্যায়টি স্থান-নির্দেশ, নাম-মাহাত্ম্য ও দর্শনফল—এই তিনটি বিষয়কে সংক্ষিপ্তভাবে মানচিত্রের মতো উপস্থাপন করে।

Kaśyapeśvara Māhātmya (काश्यपेश्वरमाहात्म्य) — Glory of the Kaśyapeśvara Shrine
এই অধ্যায়ে সংলাপরূপে ঈশ্বর দেবীকে কাশ্যপেশ্বর তীর্থের সংক্ষিপ্ত মাহাত্ম্য বলেন। তীর্থের দিকনির্দেশও দেওয়া হয়েছে—পূর্বদিগ্ভাগে “ষোলো ধনুক” দূরত্বে কাশ্যপেশ্বর অবস্থান করে। বলা হয়েছে, এই স্থানের দর্শনে মানুষ সমৃদ্ধি ও সন্তানলাভ করে; আর যে সর্বপাপে ভারাক্রান্ত, সেও পাপমুক্ত হয়—এটি নিশ্চিত ফলশ্রুতি হিসেবে ঘোষিত। শেষে স্কন্দপুরাণের প্রভাসখণ্ড ও প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যের অন্তর্গত এই অধ্যায়ের অবস্থান কলোফনে নির্দেশিত।

कौशिकेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Narrative of the Glory of Kauśikeśvara
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর নিজে উপদেশরূপে প্রভাসক্ষেত্রে কৌশিকেশ্বর শিবস্থানের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। কাশ্যপেশ্বরের ঈশান (উত্তর-পূর্ব) দিকে আট ধনু দূরে এর অবস্থান বলা হয়েছে, এবং এটিকে মহাপাতক-নাশক ও পরম পবিত্র তীর্থ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নামকরণের কাহিনিতে কৌশিকের দ্বারা বশিষ্ঠের পুত্রবধের ফলে সৃষ্ট দোষের কথা আসে; সে ওই স্থানে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে পূজা করে পাপমুক্ত হয়। শেষে ফলশ্রুতি—যে লিঙ্গের দর্শন ও পূজা করে, সে ইচ্ছিত ফল লাভ করে।

कुमारेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् / The Māhātmya of Kumāreśvara
ঈশ্বর দেবীকে মārkaṇḍeśvara-র দক্ষিণে অল্প দূরে অবস্থিত কুমারেশ্বর তীর্থে যেতে নির্দেশ দেন। সেখানে স্বামী নামক ভক্তের প্রতিষ্ঠিত শিবলিঙ্গের মাহাত্ম্য বলা হয়েছে, যা পবিত্র ভূমিতে প্রায়শ্চিত্তের কেন্দ্ররূপে গণ্য। কার্ত্তিকেয়-সম্পর্কিত কঠোর তপস্যাকে পরস্ত্রী/পরপুরুষ-সংক্রান্ত অতিক্রমজনিত পাপ নাশের উপায় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এক আদর্শ ভক্ত লিঙ্গ স্থাপন করে অপবিত্রতা থেকে মুক্ত হয় এবং ত্যাগের দ্বারা পুনরায় ‘কৌমার’—যৌবনসদৃশ নির্মল পবিত্রতা—লাভ করে। দ্বিতীয় দৃষ্টান্তে সুমালী, যে পিতৃ/পূর্বপুরুষ-হত্যার মতো ভয়ংকর পাপ করেও সেখানে পূজা করে সেই পাপ থেকে মুক্তি পায়। দেবতার সম্মুখে এক কূপের উল্লেখ আছে; সেখানে স্নান করে স্বামী-প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গ পূজা করলে দোষমুক্তি ও স্বামীপুর নামক মহান দিব্য নগরীতে গমনলাভ হয়। শেষে দানবিধি—স্বামীর নামে কোনো দ্বিজকে শাতকুম্ভ-স্বর্ণের ‘তাম্রচূড়া’ দান করলে তীর্থযাত্রার ফল প্রাপ্ত হয়।

Gautameśvara-māhātmya (गौतमेश्वरमाहात्म्य) — The Glory of Gautameśvara Liṅga
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে সংক্ষেপে এক শৈব তীর্থের মাহাত্ম্য বলেন। তিনি জানান, মার্কণ্ডেশ্বরের উত্তরে পনেরো ধনু দূরে ‘গৌতমেশ্বর’ নামে এক শ্রেষ্ঠ লিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত আছে। কথায় বলা হয়, গুরুহত্যার পাপ ও শোকে দগ্ধ গৌতম ঋষি সেখানে লিঙ্গের প্রতিষ্ঠা করেন এবং তপস্যা ও পূজার দ্বারা সেই পাপভার থেকে মুক্ত হন। তাই এই স্থানকে প্রায়শ্চিত্ত ও পবিত্রীকরণের বিশেষ ক্ষেত্র বলা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য বিধান—নদীতে শাস্ত্রসম্মত স্নান, লিঙ্গের যথাবিধি পূজা, এবং কপিলা গাভীর দান। এর ফলে পঞ্চ মহাপাতক নাশ হয় এবং শুদ্ধি লাভ করে পরম গতি, মোক্ষ, প্রাপ্ত হয়।

Devarājeśvara-māhātmya (Glorification of Devarājeśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীর কাছে দেবরাজেশ্বরের সংক্ষিপ্ত মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। তিনি জানান, গৌতমেশ্বরের পশ্চিম দিকে খুব দূরে নয়—ষোলো ধনু দূরত্বে—দেবরাজেশ্বর লিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত। এখানে লিঙ্গ স্থাপন করলে স্থাপনকারী পাপমুক্ত হয়—এই কারণ-ফল ক্রম বলা হয়েছে। ভবিষ্যৎ সাধকদের জন্য বিধান দেওয়া হয় যে, যে মানুষ সমাহিত ও একাগ্রচিত্তে সেই লিঙ্গের পূজা করে, সে মানবদেহজাত পাপসমূহ থেকেও মুক্তি লাভ করে। শেষে কলফনে একে স্কন্দ মহাপুরাণের (৮১,০০০ শ্লোক), প্রভাস খণ্ড, প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্য অংশের অন্তর্গত ‘দেবরাজেশ্বর-মাহাত্ম্য’ নামে ২১৭তম অধ্যায় বলা হয়েছে।

Mānaveśvara Māhātmya (The Glory of Mānaveśvara) | मानवेश्वरमाहात्म्य
এই অধ্যায়ে ঈশ্বরপ্রদত্ত সংক্ষিপ্ত তত্ত্বোপদেশরূপে প্রভাস-ক্ষেত্রের এক বিশেষ লিঙ্গের কথা বলা হয়েছে, যা মনু প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং “মানব-লিঙ্গ” নামে প্রসিদ্ধ। নিজ পুত্রবধজনিত পাপভার বহন করে মনু এই স্থানকে পাপহর জেনে বিধিপূর্বক অভিষেক ও প্রতিষ্ঠার দ্বারা সেখানে ঈশ্বরকে স্থাপন করেন। এর ফলে তিনি সেই দোষভার থেকে মুক্ত হন। পরে সাধারণ ফলও বলা হয়েছে—যে কোনো মানবভক্ত ভক্তিভরে এই মানব-লিঙ্গের পূজা করলে সে পাপমুক্ত হয়। শেষে কলোফনে একে স্কন্দমহাপুরাণের প্রভাসখণ্ড, প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যের অন্তর্গত “মানবেশ্বর-মাহাত্ম্য” নামে ২১৮তম অধ্যায় বলা হয়েছে।

मार्कण्डेयेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Glorification of Mārkaṇḍeyeśvara and associated liṅgas near Mārkaṇḍeya’s āśrama)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে উপদেশ দিয়ে মার্কণ্ডেয়ের আশ্রমের আগ্নেয় (দক্ষিণ-পূর্ব) দিকে অবস্থিত পবিত্র তীর্থসমূহ ও লিঙ্গসমষ্টির মানচিত্র তুলে ধরেন। সেখানে প্রসিদ্ধ গুহালিঙ্গ—নীলকণ্ঠ নামেও খ্যাত—এর মাহাত্ম্য বলা হয়েছে; পূর্বে বিষ্ণু যাঁকে পূজা করেছিলেন এবং যিনি ‘সমস্ত পাপ-অবশেষ নাশকারী’ বলে বর্ণিত। ভক্তিভরে পূজা করলে ঐশ্বর্য, সন্তান, গবাদি পশু ও সন্তোষ লাভ হয়—এমন ফলশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী অংশে তপস্বীদের দৃশ্য আশ্রম, গুহা এবং বহু লিঙ্গ-সম্পর্কিত স্থান উল্লেখিত হয়। বিশেষ বিধান হিসেবে বলা হয়—মার্কণ্ডেয়ের নিকটে লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করলে বিস্তৃত বংশপরম্পরাও উন্নীত হয়; এটি সমাজব্যাপী কল্যাণসাধক ধর্মকর্ম। তত্ত্ববাক্যে ঘোষণা করা হয়—সব লোকই শিবময়, সবই শিবে প্রতিষ্ঠিত; তাই সমৃদ্ধি কামনা করলে বিদ্বান শিবপূজা করুক। দেবতা, রাজা ও মানুষের দৃষ্টান্ত দিয়ে লিঙ্গপূজা ও প্রতিষ্ঠাকে সর্বজনীন সাধনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে; শিবের তেজে মহাপাপও প্রশমিত হয়। ইন্দ্রের বৃত্রবধোত্তর শুদ্ধি, সঙ্গমস্থলে সূর্যের পূজা, অহল্যার পুনরুদ্ধার প্রভৃতি কাহিনি প্রমাণরূপে এনে শেষে প্রভাসক্ষেত্রের সার মার্কণ্ডেয়াশ্রম-সম্পর্কে পুনরুক্ত হয়েছে।

वृषध्वजेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Vṛṣadhvajeśvara Māhātmya (Glorification of Vṛṣadhvajeśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে উপদেশ দিয়ে প্রভাসক্ষেত্রের দক্ষিণদিকে অবস্থিত ‘ত্রিলোক-পূজিত’ বৃষধ্বজেশ্বরের নির্দেশ দেন, যাতে তীর্থযাত্রী নির্দিষ্ট স্থানের সংকেত পায়। এরপর শিবতত্ত্ব ব্যাখ্যাত হয়—তিনি অক্ষর ও অব্যক্ত, তাঁর ঊর্ধ্বে আর কোনো পরম তত্ত্ব নেই; যোগসাধনায় তিনি উপলব্ধ, এবং সর্বব্যাপী মহাসত্তা—যাঁর হাত-পা, চোখ, শির ও মুখ সর্বত্র বিরাজমান বলে বর্ণিত। পৃথু, মরুত্ত, ভরত, শশবিন্দু, গয়, শিবি, রাম, অম্বরীষ, মন্ধাতা, দিলীপ, ভাগীরথ, সুহোত্র, রন্তিদেব, যযাতি, সগর প্রভৃতি রাজাদের দৃষ্টান্ত দিয়ে বলা হয়—তাঁরা প্রভাসে এসে যজ্ঞসহ বৃষধ্বজেশ্বরের পূজা করে স্বর্গলাভ করেছেন। জন্ম-মৃত্যু, জরা-ব্যাধি ও ক্লেশময় সংসারের পুনরুক্ত স্মরণ করিয়ে অসার জগতে শিবার্চনাকেই ‘সার’ বলা হয়েছে। ভক্তির ফলে ঐশ্বর্য ও কল্যাণ লাভের কথা বলা হয়—ভক্তের কাছে চিন্তামণি ও কল্পদ্রুমের ন্যায় প্রাপ্তি, এমনকি কুবেরও সেবকসদৃশ। অল্প উপচারের মাহাত্ম্যও ঘোষিত: মাত্র পাঁচটি ফুলে পূজা করলেও দশ অশ্বমেধের ফল। বৃষধ্বজের নিকটে বৃষ-দান পাপক্ষয় ও তীর্থফল সম্পূর্ণ করার বিধান হিসেবে নির্দিষ্ট।

ऋणमोचनमाहात्म्यवर्णनम् (R̥ṇamocana Māhātmya—Theological Account of Debt-Release at Prabhāsa)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর প্রভাস-ক্ষেত্রে অবস্থিত “ঋণমোচন” নামক লিঙ্গ-তীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। বলা হয়—এর দর্শনমাত্রেই মাতৃ-পিতৃ-পরম্পরা থেকে উদ্ভূত পিতৃঋণ নাশ হয়। কথায় পিতৃগণ প্রভাসে দীর্ঘ তপস্যা করে ভক্তিভরে একটি লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। তপস্যায় সন্তুষ্ট মহাদেব আবির্ভূত হয়ে বর চাইতে বলেন। পিতৃগণ প্রার্থনা করেন—দেব, ঋষি ও মানব—যে-ই শ্রদ্ধা নিয়ে এখানে আসবে, সে যেন পিতৃঋণ ও পাপমল থেকে মুক্ত হয়; আর যাদের মৃত্যু সাপ, আগুন, বিষ ইত্যাদিতে অকাল হয়েছে, কিংবা যাদের জন্য সপিণ্ডীকরণ, একোদ্দিষ্ট/ষোড়শ-অর্ঘ্য, বৃষোৎসর্গ, শৌচাদি ক্রিয়া অসম্পূর্ণ—তাঁরাও এখানে তर्पণে উত্তম গতি লাভ করুন। ঈশ্বর বলেন—পিতৃভক্ত মানুষ পবিত্র জলে স্নান করে পিতৃতর্পণ করলে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার পায়; মহাপাপী হলেও মহেশ্বর বরদাতা। স্নান ও পিতৃ-প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গের পূজায় পিতৃঋণমোচন হয়; ঋণ থেকে মুক্ত করে বলেই নাম “ঋণমোচন”। মাথায় স্বর্ণ রেখে স্নান করলে শত গোধনের দানের সমান পুণ্য বলা হয়েছে। শেষে সেখানে যথাসাধ্য শ্রাদ্ধ করা ও দেবপ্রিয় পিতৃ-লিঙ্গের পূজা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

रुक्मवतीश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Rukmavatīśvara Māhātmya (Account of the Glory of Rukmavatīśvara)
এই অধ্যায়ে “ঈশ্বর উবাচ” রূপে রুক্মবতী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রুক্মবতীশ্বর লিঙ্গের সংক্ষিপ্ত মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। একে সর্বশান্তিদায়ক, পাপনাশক এবং ইষ্টফলপ্রদ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর তীর্থাচরণের ক্রম বলা হয়—সংশ্লিষ্ট মহাতীর্থে স্নান করে, সতর্কভাবে লিঙ্গের সমপ্লাবন/অভিষেক বিধিপূর্বক করতে হবে। তারপর ব্রাহ্মণদের ধন-দান করলে পুণ্য বৃদ্ধি পায়। তীর্থ, লিঙ্গ, স্নান-অভিষেক ও দান—এই সমন্বিত সাধনায় পাপশুদ্ধি ও কাম্যসিদ্ধি লাভ হয়।

Puruṣottama-tīrtha and Pretatīrtha (Gātrotsarga) Māhātmya — पुरुषोत्तमतीर्थ-प्रेततीर्थ(गात्रोत्सर्ग)माहात्म्य
ঈশ্বর দেবীকে ত্রিলোকে পূজিত এক লিঙ্গ এবং তার সন্নিহিত তীর্থের কথা বলেন—যা কৃতযুগে ‘প্রেততীর্থ’ নামে পরিচিত ছিল এবং পরে ‘গাত্রোৎসর্গ’ নামে প্রসিদ্ধ হয়। ঋণমোচন ও পাপমোচনের নিকটে এই স্থানের অন্তর্গত ভূগোল বর্ণনা করে বলা হয়েছে, সেখানে দেহত্যাগ বা স্নান করলে পাপক্ষয় ও দোষমোচন ঘটে। সেখানে পুরুষোত্তমের অধিষ্ঠান বলা হয়েছে; নারায়ণ, বলভদ্র ও রুক্মিণীর পূজা ত্রিবিধ পাপ থেকে মুক্তি দেয়, আর শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদানে পিতৃগণ প্রেতভাব থেকে মুক্ত হয়ে দীর্ঘকাল তৃপ্তি লাভ করেন। এরপর গৌতম ঋষির উপাখ্যান। পাঁচ ভয়ংকর প্রেত পুণ্যক্ষেত্রে প্রবেশে বাধাপ্রাপ্ত; তারা জানায়, তাদের নাম পূর্বকৃত দুষ্কর্মের নৈতিক চিহ্ন—প্রার্থনা প্রত্যাখ্যান, বিশ্বাসঘাত, ক্ষতিকর নালিশ/সংবাদদাতা হওয়া, দানে অবহেলা ইত্যাদি। তারা প্রেতদের অশুচি আহার-উৎস এবং প্রেতজন্মের কারণ কর্ম—মিথ্যা, চুরি, গোর/ব্রাহ্মণহিংসা, নিন্দা, জলদূষণ, আচার-অনুষ্ঠান অবহেলা—গণনা করে; আর তীর্থযাত্রা, দেবপূজা, ব্রাহ্মণভক্তি, শাস্ত্রশ্রবণ, বিদ্বৎ-সেবা প্রেতত্ব নিবারক বলে। গৌতম পৃথক পৃথক শ্রাদ্ধ করে তাদের মুক্ত করেন; পঞ্চম ‘পর্যুষিত’-এর জন্য উত্তরায়ণের সময় অতিরিক্ত শ্রাদ্ধ আবশ্যক হয়। মুক্ত প্রেত বর দেয়—স্থানটি ‘প্রেততীর্থ’ নামে খ্যাত হবে এবং এখানে শ্রাদ্ধকারীদের বংশধর প্রেতভাবে পতিত হবে না; শ্রবণ ও দর্শনে মহাযজ্ঞসম পুণ্য লাভ হয়।

इन्द्रेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Indreśvara Māhātmya: The Glory of Indra’s Liṅga)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে বলেন—পুরুষোত্তমের দক্ষিণে ইন্দ্র যে লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা “পাপমোচন” নামে প্রসিদ্ধ। বৃত্রবধের পর ইন্দ্রের উপর ব্রহ্মহত্যা-সদৃশ অশৌচের ভার নেমে আসে; দেহে বর্ণবিকার ও দুর্গন্ধ দেখা দেয়, ফলে তেজ, বল ও প্রাণশক্তি ক্ষীণ হতে থাকে। নারদ প্রমুখ ঋষি ও দেবগণ তাঁকে পাপহার ক্ষেত্র প্রভাসে যেতে উপদেশ দেন। ইন্দ্র প্রভাসে ত্রিশূলধারী প্রভুর লিঙ্গ স্থাপন করে ধূপ, সুগন্ধি, চন্দন-লেপ প্রভৃতি দ্বারা বিধিপূর্বক পূজা করেন। পূজার ফলে তাঁর দুর্গন্ধ ও বিবর্ণতা দূর হয় এবং দেহ পুনরায় উৎকৃষ্ট ও দীপ্তিময় হয়। এরপর ইন্দ্র ঘোষণা করেন—যে ভক্তিভরে এই লিঙ্গের আরাধনা করবে, তার ব্রহ্মহত্যা প্রভৃতি মহাপাপও নাশ হবে। অধ্যায়ের শেষে বলা হয়েছে, বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণকে গোদান করা এবং সেই স্থানে শ্রাদ্ধ সম্পাদন করা ব্রহ্মহত্যা-সম্পর্কিত দুঃখ নিবারণে সহায়ক।

Narakeśvara-darśana and the Catalogue of Narakas (Ethical-Theological Discourse)
ঈশ্বর উত্তরদিকে নরকেশ্বর-সম্পর্কিত এক পবিত্র তীর্থের কথা বলেন, যা পাপ বিনাশ করে। এরপর মথুরার একটি দৃষ্টান্ত—অগস্ত্য-গোত্রের ব্রাহ্মণ দেবশর্মা দারিদ্র্যে কাতর; যমের দূত অন্য এক ‘দেবশর্মা’কে আনতে গিয়ে নথিভুলে এই দেবশর্মার কাছে এসে পড়ে। যম ভুল সংশোধন করে ধর্মরাজরূপে জানান—নির্ধারিত সময়ের আগে মৃত্যু হয় না; আঘাত-ক্ষত হলেও কেউ ‘অকাল’ মরে না। তারপর ব্রাহ্মণ দৃশ্য নরকলোকগুলির সংখ্যা ও কর্মফল-কারণ জানতে চান। যম একুশটি নরকের নাম-ধর্ম বর্ণনা করে বলেন—বিশ্বাসঘাত, মিথ্যা সাক্ষ্য, কঠোর ও প্রতারণামূলক বাক্য, পরস্ত্রীগমন, চুরি, ব্রতধারীদের কষ্ট দেওয়া, গোহত্যা, দেব ও ব্রাহ্মণবিদ্বেষ, মন্দির/ব্রাহ্মণ-সম্পত্তি আত্মসাৎ ইত্যাদি অধর্ম নরকপ্রাপ্তির কারণ। উপসংহারে প্রতিরোধমূলক মুক্তিবাণী—যে প্রভাসে এসে ভক্তিভরে নরকেশ্বর দর্শন করে, সে নরক দর্শন করে না; এই লিঙ্গ যম শিবভক্তিতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং এ শিক্ষা গোপনীয়ভাবে রক্ষা করা উচিত। শেষে বিধি ও ফলশ্রুতি—আজীবন পূজায় পরম গতি; আশ্বযুজ কৃষ্ণ চতুর্দশীতে শ্রাদ্ধে অশ্বমেধসম পুণ্য; বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণকে কালো হরিণচর্ম দানে তিলসংখ্যা অনুযায়ী স্বর্গীয় সম্মান লাভ হয়।

मेघेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Meghēśvara Māhātmya (Glorification of Meghēśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর প্রভাসক্ষেত্রের পূর্বভাগে নৈঋত (দক্ষিণ-পশ্চিম) দিকে অবস্থিত ‘মেঘেশ্বর’ নামক শিবতীর্থের মহিমা বর্ণনা করেন। স্থানটিকে পাপমোচনকারী ও সর্বপাপকর্ম-নাশক বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর অনাবৃষ্টি-ভয়ে সমাজে যে সংকট দেখা দেয়, তার প্রতিকার বলা হয়—সেখানে বিদ্বান ব্রাহ্মণরা শান্তিকর্ম করবেন এবং বারুণী বিধিতে জল দ্বারা ভূমির সংস্কার/অভিষেক করা হবে, যা বর্ষা আহ্বান ও শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উপায়। যেখানে মেঘ-প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গের নিত্য পূজা হয়, সেখানে অনাবৃষ্টির ভয় জন্মায় না—এইভাবে তীর্থটি ভক্তিনিয়মে প্রকৃতি ও সমাজের স্থিতির আশ্বাসরূপে প্রতিষ্ঠিত।

बलभद्रेश्वरमाहात्म्य (Glory of Balabhadreśvara Liṅga)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে বলভদ্র কর্তৃক বিধিপূর্বক প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গের কাছে গমন করতে নির্দেশ দেন। সেই লিঙ্গকে মহাপাপ-হর, ‘মহালিঙ্গ’ এবং মহাসিদ্ধি-ফলদাতা বলে বর্ণনা করা হয়েছে; বলভদ্রই শুদ্ধির উদ্দেশ্যে যথাবিধি এই প্রতিষ্ঠা করেছেন—এ কথা স্পষ্ট করা হয়। এরপর ভক্তির আচরণবিধি বলা হয়েছে—গন্ধ, পুষ্প প্রভৃতি ক্রমান্বয়ে নিবেদন করে যথাযথ পূজা করতে হবে। তৃতীয় রেবতী-যোগে এই আরাধনা করলে ভক্ত ‘যোগেশ-পদ’ লাভ করে—এমন ফলশ্রুতি আছে। শেষে এটিকে স্কন্দমহাপুরাণের প্রভাসখণ্ডে প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যের প্রথম অংশের ২২৭তম অধ্যায় বলা হয়েছে।

भैरवेश-मातृस्थान-विधानम् | Rite of Bhairaveśa at the Supreme Mothers’ Shrine
অধ্যায় ২২৮-এ ঈশ্বর মহাদেবীকে উপদেশ দেন এবং ‘ভৈরবেশ’ নামে প্রসিদ্ধ এক শ্রেষ্ঠ ‘মাতৃস্থান’-এর পরিচয় দেন, যা ‘সর্বভয়-বিনাশক’ বলে বর্ণিত। এই ক্ষেত্র মাতৃশক্তি ও যোগিনীদের আশ্রয়ে ভক্তের ভয় দূর করার পবিত্র স্থান। কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে সংযমী সাধককে গন্ধ, পুষ্প এবং উৎকৃষ্ট বলি-নৈবেদ্যসহ বিধিপূর্বক পূজা করতে বলা হয়েছে। শেষে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে যোগিনী ও মাতৃগণ পৃথিবীতে ভক্তকে পুত্রের মতো রক্ষা করেন; ফলে ক্ষেত্র-নির্দিষ্ট আচার, ভয়নাশ এবং আত্মসংযমের আদর্শ একত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়।

गंगामाहात्म्यवर्णनम् (Gaṅgā-māhātmya: Discourse on the Glory of the Gaṅgā at Prabhāsa)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে নির্দেশ দেন—ঈশান্য দিকস্থিত ত্রিপথগামিনী গঙ্গার মহিমা স্মরণ করতে। গঙ্গা স্বয়ম্ভূ পবিত্র ধারা; বিষ্ণু পূর্বকালে পৃথিবীর অন্তঃস্থল থেকে তাঁকে প্রকাশ করেছিলেন, যাদবদের মঙ্গল ও সর্বপাপ-শমন এই উদ্দেশ্যে। এখানে স্নান—যা পূর্বসঞ্চিত পুণ্যের ফলেও লাভ হয়—এবং বিধিপূর্বক শ্রাদ্ধ করলে কৃত ও অকৃত কর্ম বিষয়ে অনুতাপহীন অবস্থা লাভ হয়। কার্ত্তিক মাসে জাহ্নবীর জলে স্নানের পুণ্যকে সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড দানের সমতুল্য বলা হয়েছে। কলিযুগে এমন দর্শন দুর্লভ—এই কথা জানিয়ে প্রভাসে গঙ্গা/জাহ্নবী তীরে স্নান-দান-এর মূল্য আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

गणपतिमाहात्म्यवर्णनम् | Gaṇapati-Māhātmya (Account of Gaṇeśa’s Glory in Prabhāsa)
ঈশ্বর দেবীকে প্রভাসক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত সেই গণপতির মাহাত্ম্য বলেন, যিনি দেবতাদের অতি প্রিয় এবং স্বয়ং ঈশ্বরের নিযুক্তিতে সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি গঙ্গার দক্ষিণ তীরে বিরাজমান এবং ক্ষেত্ররক্ষায় সদা সক্রিয় বলে বর্ণিত। মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে তাঁর বিশেষ পূজাবিধান আছে। দিব্য মোদক নৈবেদ্যরূপে, সঙ্গে পুষ্প, ধূপ প্রভৃতি উপচার যথাক্রমে নিবেদন করে ভক্তিভরে আরাধনা করতে বলা হয়েছে। এই পূজার ফল রক্ষামূলক—উপাসকের জীবনে বিঘ্ন উপস্থিত হয় না; বিশেষত ক্ষেত্রের মধ্যে অবস্থানকারী/বাসকারী ভক্তের জন্যই এই নিশ্চয়তা। শেষে কলফনে একে প্রভাসখণ্ডের প্রথম বিভাগ ‘প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্য’-এর ২৩০তম অধ্যায়, ‘গণপতিমাহাত্ম্যবর্ণন’ নামে নির্দেশ করা হয়েছে।

जांबवतीतीर्थमाहात्म्यम् / The Māhātmya of the Jāmbavatī Tīrtha
ঈশ্বর দেবীকে প্রভাসক্ষেত্রে জাম্ববতী নদীর সঙ্গে যুক্ত এক পুণ্যস্থানের কথা জানান। পুরাণ-পরম্পরায় জাম্ববতী বিষ্ণুর প্রিয় পত্নী হিসেবে স্মৃত। সংলাপে জাম্ববতী অর্জুনকে বর্তমান ঘটনার কথা জিজ্ঞাসা করেন; শোকাকুল অর্জুন যাদববংশে ঘটে যাওয়া মহাবিপর্যয়ের সংবাদ দেন—বলদেব, সাত্যকি প্রমুখ প্রধান যাদবদের পতন এবং সমগ্র যাদবসমাজের ভাঙনকে তিনি নৈতিক ও ঐতিহাসিক বিচ্ছেদরূপে বর্ণনা করেন। স্বামীর মৃত্যুসংবাদ শুনে জাম্ববতী গঙ্গাতীরে আত্মদাহ করেন, চিতাভস্ম সংগ্রহ করেন এবং পরে অলৌকিক রূপান্তরে নদীরূপ ধারণ করে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হন। এইভাবে সেই জলধারা তীর্থরূপে পবিত্রতা লাভ করে। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—যে নারীরা ভক্তিভরে সেখানে স্নান করেন, তাঁদের এবং তাঁদের বংশের নারীদের বৈধব্যদুঃখ হয় না; আর যে কোনো পুরুষ বা নারী পূর্ণ প্রয়াসে সেখানে স্নান করলে পরম গতি লাভ করে।

Pāṇḍava-kūpa-pratiṣṭhā and Vaiṣṇava-sānnidhya at Prabhāsa (पाण्डवकूप-प्रसङ्गः)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বরের বর্ণনায় প্রভাস-ক্ষেত্রের মাহাত্ম্য ও পাণ্ডব-কূপ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। বনবাসকালে পাণ্ডবরা প্রভাসে এসে শান্তচিত্তে কিছুদিন অবস্থান করেন। বহু ব্রাহ্মণকে আতিথ্য দিতে জল দূরে থাকায় অসুবিধা হয়; তখন দ্রৌপদীর প্রেরণায় আশ্রমের নিকটে একটি কূপ খনন করে জলস্রোত স্থাপন করা হয়। এরপর দ্বারকা থেকে শ্রীকৃষ্ণ যাদবসঙ্গসহ (প্রদ্যুম্ন, সাম্ব প্রভৃতি) সেখানে আগমন করেন। আনুষ্ঠানিক কথোপকথনে কৃষ্ণ যুধিষ্ঠিরকে বর চাইতে বলেন; যুধিষ্ঠির কূপস্থলে কৃষ্ণের নিত্য সান্নিধ্য প্রার্থনা করেন এবং ঘোষণা করেন—ভক্তিভরে সেখানে স্নান করলে কৃষ্ণকৃপায় বৈষ্ণব গতি লাভ হয়। ঈশ্বর বর অনুমোদন করেন, এবং কৃষ্ণ প্রস্থান করেন। শেষে ফলশ্রুতি—সেই স্থানে শ্রাদ্ধ করলে অশ্বমেধসম পুণ্য হয়; তর্পণ ও স্নানে যথাযোগ্য ফল বৃদ্ধি পায়। জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় সাবিত্রী-পূজাসহ কর্ম করলে ‘পরম পদ’ লাভ হয়; পূর্ণ তীর্থফল কামনায় গোধনের প্রশংসা করা হয়েছে।

पाण्डवेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Pandaveśvara Māhātmya—Account of the Glory of Pāṇḍaveśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে প্রভাস-ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত পাঁচটি লিঙ্গের কথা সংক্ষেপে উপদেশ দেন। বলা হয়েছে, মহাত্মা পাণ্ডবরাই এই লিঙ্গগুলির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন; ফলে তীর্থটির মহাভারতীয় স্মৃতি ও উপাসনা-পরম্পরার প্রামাণ্যতা সুদৃঢ় হয়। এরপর ফলশ্রুতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়—যে ভক্তিভরে এই লিঙ্গগুলির পূজা করে, সে পাপ থেকে মুক্ত হয়। এইভাবে প্রমাণিত পবিত্র স্থানে ভক্তিসংযুক্ত লিঙ্গপূজার মোক্ষদায়ী মহিমা প্রতিপাদিত হয়েছে।

दशाश्वमेधिकतीर्थमाहात्म्य (Māhātmya of the Daśāśvamedhika Tīrtha)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে ‘দশাশ্বমেধিকা’ নামে প্রসিদ্ধ তীর্থের উদ্ভব ও মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। তিনি ত্রিলোকখ্যাত, মহাপাপবিনাশী এক স্থানের দিকে তীর্থযাত্রীকে নির্দেশ দেন। সেখানে রাজা ভরত দশটি অশ্বমেধ যজ্ঞ সম্পন্ন করেন এবং সেই ভূমিকে অতুলনীয় জেনে যজ্ঞাহুতি দ্বারা দেবতাদের তৃপ্ত করেন। তুষ্ট দেবগণ বর দিতে চাইলে ভরত প্রার্থনা করেন—যে ভক্ত এখানে স্নান করবে, সে যেন দশ অশ্বমেধের পুণ্যফল লাভ করে। দেবতারা তীর্থের নাম ও খ্যাতি পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করেন; তখন থেকে তা ‘দশাশ্বমেধিকা’ নামে পাপক্ষয়কারী তীর্থরূপে প্রসিদ্ধ হয়। তীর্থটি ঐন্দ্র ও বারুণ চিহ্নের মধ্যবর্তী, শিবক্ষেত্র এবং বৃহৎ তীর্থসমূহের এক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান বলে কথিত। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—এখানে দেহত্যাগ করলে শিবলোকে আনন্দ লাভ হয়; মানবেতর জন্মের প্রাণীরাও উচ্চ গতি পায়। তিল-উদক দ্বারা পিতৃতর্পণ করলে প্রলয় পর্যন্ত পিতৃগণ তৃপ্ত থাকেন। ব্রহ্মার পূর্বযজ্ঞ, ইন্দ্রের এখানে উপাসনা করে দেবরাজত্ব লাভ, এবং কার্তবীর্যের শত যজ্ঞ স্মরণ করা হয়েছে; এখানে মৃত্যুতে অপুনর্ভব এবং বৃষোৎসর্গে ষাঁড়ের রোমসংখ্যা অনুযায়ী স্বর্গোন্নতির কথাও বলা হয়েছে।

Śatamedhādi Liṅgatraya Māhātmya (Glory of the Three Liṅgas: Śatamedha, Sahasramedha, Koṭimedha)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে প্রভাস-ক্ষেত্রে অবস্থিত “অতুল ত্রিলিঙ্গ” দর্শনের নির্দেশ দেন। দক্ষিণদিকে শতমেধ নামের লিঙ্গ, যা শত যজ্ঞের ফল প্রদান করে; কার্তবীর্য পূর্বে শত যজ্ঞ সম্পাদন করেছিলেন—এই স্মৃতির সঙ্গে এর মাহাত্ম্য যুক্ত, এবং এর প্রতিষ্ঠা সর্ব পাপভার নাশ করে বলা হয়েছে। মধ্যভাগে প্রসিদ্ধ কোটিমেধ, যেখানে ব্রহ্মা অসংখ্য (কোটি) উৎকৃষ্ট যজ্ঞ করে মহাদেবকে “শঙ্কর, জগতের উপকারক” রূপে প্রতিষ্ঠা করেন। উত্তরদিকে সহস্রক্রতু (সহস্রমেধ) লিঙ্গ, শক্র/ইন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্কিত; বলা হয়েছে ইন্দ্র সহস্র কর্মানুষ্ঠান করে দেবতাদের আদিদেবতা হিসেবে মহালিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। গন্ধ-পুষ্পে পূজা এবং পঞ্চামৃত ও জলে অভিষেকের বিধান আছে; ভক্তরা লিঙ্গ-নাম অনুসারে ফল লাভ করেন—এ কথা ঘোষিত। পূর্ণ তীর্থফল কামনাকারীদের জন্য গো-দানের প্রশংসা করা হয়েছে। শেষে বলা হয়, সেখানে “দশ কোটি তীর্থ” বিরাজমান এবং মধ্যস্থিত এই ত্রিলিঙ্গ-সমষ্টি সর্বতোভাবে পাপনাশক।

दुर्वासादित्यमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Durvāsā-Āditya (Sūrya) at Prabhāsa
অধ্যায় ২৩৬-এ প্রভাস-ক্ষেত্রের অন্তর্গত ‘দুর্বাসা-আদিত্য’ (সূর্য) তীর্থের প্রতিষ্ঠা ও মহিমা বর্ণিত। তীর্থযাত্রীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেই স্থানে গমন করতে, যেখানে মহর্ষি দুর্বাসা নিয়ম-সংযমসহ সহস্রবর্ষ তপস্যা করে সূর্যোপাসনা করেছিলেন। তপস্যায় প্রসন্ন সূর্য দেব প্রকাশিত হয়ে বর দেন; দুর্বাসা প্রার্থনা করেন—পৃথিবী যতদিন থাকবে ততদিন ওই স্থানে সূর্যের নিত্য অধিষ্ঠান, তীর্থের খ্যাতি এবং প্রতিষ্ঠিত মূর্তির সান্নিধ্য। সূর্য সম্মতি দিয়ে যমুনাকে নদীরূপে এবং ধর্মরাজ যমকে আহ্বান করে ক্ষেত্রের রক্ষা ও নিয়ম-রক্ষণে নিয়োজিত করেন, বিশেষত ভক্ত ও গৃহস্থ ব্রাহ্মণদের নিরাপত্তার জন্য। এরপর পবিত্র ভূ-প্রকৃতির উল্লেখ আছে—যমুনার ভূগর্ভপথে আবির্ভাব, একটি কুণ্ডের কথা, এবং ‘দুন্দুভি’/ক্ষেত্রপাল-সম্পর্ক। সেখানে স্নান ও পিতৃতর্পণের ফল বলা হয়েছে। পরবর্তী অংশে কালানুষ্ঠান নির্ধারিত—মাঘ শুক্ল সপ্তমীতে দুর্বাসা-অর্ক পূজা, মাধব মাসে স্নান ও সূর্যপূজা, এবং মন্দিরের নিকটে সূর্যের সহস্রনাম পাঠ। ফলশ্রুতিতে পুণ্যবৃদ্ধি, মহাদোষনাশ, ইষ্টসিদ্ধি, রক্ষা, আরোগ্য ও সমৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে; শেষে অর্ধ গব্যূতি পরিসীমা এবং সূর্যভক্তিহীনদের অনধিকার উল্লেখিত।

यादवस्थलोत्पत्तौ वज्रेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Origin of Yādava-sthala and the Māhātmya of Vajreśvara
এই অধ্যায়ে শিব–দেবীর সংলাপে প্রভাসখণ্ডে ‘যাদব-স্থল’-এর উৎপত্তি ও বজ্রেশ্বরের মাহাত্ম্য বর্ণিত। ঈশ্বর দেবীকে সেই স্থানের কথা জানান, যেখানে বিপুল যাদব-সেনা বিনষ্ট হয়। দেবী কারণ জানতে চান—বাসুদেবের চোখের সামনে কেন বৃষ্ণি, অন্ধক ও ভোজদের ধ্বংস ঘটল। শিব শাপের ক্রম বলেন—সাম্ব নারী-বেশে বিশ্বামিত্র, কণ্ব, নারদ প্রভৃতি ঋষিদের উপহাস করে; ক্রুদ্ধ ঋষিরা শাপ দেন যে সাম্বের দ্বারা কুলনাশকারী লৌহ ‘মুষল’ উৎপন্ন হবে। বাক্যে রাম ও জনার্দনের নাম পৃথকভাবে উচ্চারিত হলেও, কাল-নিয়তির অনিবার্যতা স্পষ্ট থাকে। মুষল জন্মে গুঁড়ো হয়ে সমুদ্রে নিক্ষিপ্ত হয়; এরপর দ্বারকায় কালের প্রভাবে অশুভ লক্ষণ ছড়ায়—সমাজ-বিপর্যয়, অদ্ভুত শব্দ, পশু-বিকার, যজ্ঞ-বিঘ্ন ও ভয়ংকর স্বপ্ন—ধর্মসতর্কতার মতো। কৃষ্ণ প্রভাস-তীর্থযাত্রার আদেশ দেন। সেখানে মদ্যপানে যাদবদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব বাড়ে; সাত্যকি ও কৃতবর্মা প্রমুখকে কেন্দ্র করে হিংসা জ্বলে ওঠে এবং তারা পরস্পরকে নিধন করে। তটের নলখাগড়া বজ্রসম মুষলে রূপান্তরিত হয়ে ঋষিশাপ (ব্রহ্মদণ্ড) ও কালের কার্যশক্তি হিসেবে কাজ করে। দাহভূমি ও অস্থিসঞ্চয়ে সেই অঞ্চল ‘যাদব-স্থল’ নামে খ্যাত হয়। শেষে বেঁচে থাকা উত্তরাধিকারী বজ্র প্রভাসে এসে নারদের উপদেশে তপস্যা করে সিদ্ধি লাভ করে এবং বজ্রেশ্বর-লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে। জাম্ববতী-জলে স্নান, বজ্রেশ্বর পূজা, ব্রাহ্মণভোজন ও ষট্কোণ-উপহারের বিধান বলা হয়েছে; এর ফল মহাতীর্থপুণ্য, গোহস্র-দানের তুল্য বলে ঘোষিত।

Hiraṇyā-nadī-māhātmya (हिरण्यानदीमाहात्म्य) — The Glory of the Hiraṇyā River
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর হিরণ্য নদীর মাহাত্ম্য উপদেশ দেন। নদীকে পাপনাশিনী, পুণ্যদায়িনী, সর্বকামপ্রদা এবং দারিদ্র্যনাশিনী বলা হয়েছে। তীর্থাচরণের সংক্ষিপ্ত বিধানও আছে—নদীর নিকট গমন, বিধিপূর্বক স্নান, পিতৃদের উদ্দেশ্যে পিণ্ড-উদকাদি কর্ম, এবং নিয়মমাফিক দান ও অতিথিসেবা। যথাবিধি পালন করলে তীর্থযাত্রী অক্ষয় লোক লাভ করে এবং পিতৃগণ পাপ থেকে উদ্ধার পান। বিশেষভাবে বলা হয়েছে—একজন যোগ্য ব্রাহ্মণকে ভোজন করানো, উদ্দেশ্য-শুদ্ধি ও পাত্রতার কারণে, অসংখ্য দ্বিজকে ভোজন করানোর সমতুল্য ফল দেয়। শেষে শিবকে নিবেদন করে বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণকে ‘স্বর্ণরথ’ (হেমরথ) দান করার বিধান আছে; এর ফল বহু তীর্থযাত্রার পুণ্যের সদৃশ বলে ঘোষিত।

नागरादित्यमाहात्म्यम् | The Māhātmya of Nāgarāditya (Nagarabhāskara)
ঈশ্বর দেবীকে হিরণ্যাতীর্থের নিকটে প্রতিষ্ঠিত সূর্যপ্রতিমা ‘নাগরাদিত্য/নাগরভাস্কর’-এর মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। প্রথমে উৎপত্তিকথা—যাদব রাজা সত্রাজিৎ ভাস্করকে তুষ্ট করতে মহাব্রত ও তপস্যা করেন। সূর্যদেব তাঁকে স্যমন্তক মণি দেন, যা প্রতিদিন স্বর্ণ উৎপন্ন করে। বর চাইলে সত্রাজিৎ আশ্রমাঞ্চলে সূর্যের নিত্য সান্নিধ্য প্রার্থনা করেন; সেখানে দীপ্ত প্রতিমা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ব্রাহ্মণ ও নগরবাসীদের রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়—এই কারণে ক্ষেত্রটির নাম হয় ‘নাগরাদিত্য’। এরপর ফলশ্রুতি—নাগরার্কের কেবল দর্শনই প্রয়াগে মহাদানের সমতুল্য ফলদায়ক বলা হয়েছে। তিনি দারিদ্র্য, শোক ও রোগনাশক, এবং সকল ব্যাধির সত্য ‘চিকিৎসক’ রূপে প্রশংসিত। বিধিতে হিরণ্যাজলে স্নান, প্রতিমাপূজা এবং শুক্লপক্ষের সপ্তমী—বিশেষত সংক্রান্তিযুক্ত—পালনের কথা আছে; এ সময় সম্পন্ন সব কর্ম বহুগুণ ফল দেয়। শেষে সূর্যের ২১ নামের সংক্ষিপ্ত স্তোত্র (বিকর্তন, বিবস্বান, মার্তণ্ড, ভাস্কর, রবি প্রভৃতি) ‘স্তবরাজ’ নামে কথিত, যা দেহস্বাস্থ্য বৃদ্ধি করে। প্রভাত ও সায়ং জপে অভীষ্ট সিদ্ধি হয় এবং শেষে ভাস্করলোক প্রাপ্তি ঘটে।

बलभद्र-सुभद्रा-कृष्ण-माहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Balabhadra, Subhadrā, and Kṛṣṇa)
এই অধ্যায়ে ‘ঈশ্বর উবাচ’ রূপে বলভদ্র, সুভদ্রা ও শ্রীকৃষ্ণ—এই ত্রয়ীর মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। তাঁদের দর্শন-স্মরণ ও আরাধনা মহাপুণ্যদায়ক; বিশেষত শ্রীকৃষ্ণকে ‘সর্ব-পাতক-নাশন’—সমস্ত পাপ বিনাশকারী—রূপে ঘোষণা করা হয়েছে। কল্প-স্মৃতির দ্বারা এই মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠিত: পূর্ব কল্পে হরি এই স্থানে দেহত্যাগ (গাত্রোৎসর্গ) করেছিলেন, এবং বর্তমান কল্পেও অনুরূপ গাত্রোৎসর্গের স্মৃতি কথিত। নাগরাদিত্যর সান্নিধ্যে যে ভক্ত বলভদ্র-সুভদ্রা-কৃষ্ণের পূজা করেন, তিনি স্বর্গগামী হন—এটাই এই অধ্যায়ের ফলশ্রুতি।

शेषमाहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Śeṣa at Mitra-vana)
অধ্যায় ২৪১-এ ঈশ্বর প্রভাস-ক্ষেত্রের এক তীর্থ-শ্রাইনের বর্ণনা দেন, যা বলভদ্রের সঙ্গে যুক্ত এবং শেষ (সর্পরূপ) হিসেবে পরিচিত। স্থানটি মিত্রবনে অবস্থিত, যার বিস্তার দুই গব্যূতি বলা হয়েছে; এখানে ত্রিসঙ্গম-তীর্থও আছে, যা পৌরাণিক ‘পাতাল-পথ’ দিয়ে পৌঁছানো যায়। দেবালয়ের রূপ লিঙ্গাকার ও মহাপ্রভ, এবং রেবতীর সঙ্গে এটি “শেষ” নামে প্রসিদ্ধ। এরপর স্থানীয় কাহিনি—জরা নামের এক সিদ্ধ, যিনি কৌলিক (তাঁতি) এবং কাহিনির ভাষায় ‘বিষ্ণুঘাতক’ বলে উল্লিখিত, এই স্থানে লয়প্রাপ্ত হন; তারপর থেকেই তীর্থটি শেষ-নামে সর্বত্র খ্যাত হয়। চৈত্র শুক্ল ত্রয়োদশীতে পূজার বিধান আছে; এতে গৃহকল্যাণ, সন্তান-নাতি, গবাদি পশু এবং এক বছরের মঙ্গল লাভের কথা বলা হয়েছে। শিশুদের বসন্ত/ফোস্কাজাতীয় রোগ (মসুরিকা, বিস্ফোটক) থেকে রক্ষার ফলও উল্লেখিত। নানা সমাজগোষ্ঠীর মধ্যে এই স্থান জনপ্রিয়; পশু, পুষ্প ও নানা বলি-নৈবেদ্যে শেষ দ্রুত প্রসন্ন হন এবং সঞ্চিত পাপ নাশ করেন।

कुमारीमाहात्म्यवर्णनम् (Kumārī Māhātmya—The Glory of the Maiden Goddess)
ঈশ্বর মহাদেবীকে দেবী কুমারিকার নিকটে, পূর্বদিকস্থিত এক রক্ষাকর কাহিনি শোনান। রথন্তর কল্পে রুরু নামক মহাসুর দেব-গন্ধর্বদের উৎপীড়ন করে, তপস্বী ও ধর্মাচারীদের হত্যা করে বৈদিক আচারের ধারাকে ভেঙে দেয়; পৃথিবীতে স্বাধ্যায়, বষট্কার ও যজ্ঞোৎসবের ধ্বনি স্তব্ধ হয়ে যায়। তখন দেবতা ও মহর্ষিরা তার বধের উপায় ভাবতে ভাবতে নিজেদের দেহনিঃসৃত স্বেদ থেকে পদ্মলোচনা এক দিব্য কুমারীকে প্রকাশ করেন; তিনি উদ্দেশ্য জিজ্ঞাসা করলে তাঁকে সংকটনাশে নিয়োজিত করা হয়। দেবীর হাসি থেকে পাশ ও অঙ্কুশধারিণী সহচরী কুমারীরা জন্ম নেয়; তাদের সঙ্গে যুদ্ধে রুরুর সেনা পরাভূত হয়। রুরু তামসী মায়া প্রয়োগ করলেও দেবী বিভ্রান্ত হন না; শক্তি দ্বারা তাকে বিদ্ধ করেন। রুরু সমুদ্রের দিকে পালালে দেবী অনুসরণ করে সমুদ্রে প্রবেশ করে খড়্গে তার শিরচ্ছেদ করেন এবং চর্ম-মুণ্ডধারিণী রূপে প্রকাশিত হন। প্রভাসক্ষেত্রে ফিরে তিনি বহুরূপিণী দীপ্ত পরিকরসহ বিরাজ করেন। বিস্মিত দেবগণ তাঁকে চামুণ্ডা, কালরাত্রি, মহামায়া, মহাকালী/কালিকা প্রভৃতি উগ্র-রক্ষাকারী নামে স্তব করেন। দেবী বর প্রদান করলে দেবরা প্রার্থনা করেন—তিনি যেন এই ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠিতা থাকেন, তাঁর স্তোত্র পাঠকদের বরদায়ক হয়, এবং ভক্তিভরে তাঁর উৎপত্তিকথা শ্রবণে শুদ্ধি ও পরাগতি লাভ হয়। শुक্লপক্ষে, বিশেষত আশ্বিন মাসের নবমীতে পূজা শুভ বলা হয়েছে। শেষে দেবী সেখানে অবস্থান করেন এবং দেবগণ শত্রুনাশ করে স্বর্গে প্রত্যাবর্তন করেন।

मंत्रावलिक्षेत्रपालमाहात्म्यवर्णनम् / The Māhātmya of the Mantrāvalī Kṣetrapāla
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে নির্দেশ দেন—ঈশান (উত্তর-পূর্ব) দিকে অবস্থিত এক মহাশক্তিশালী ক্ষেত্রপালের কাছে কীভাবে গমন ও প্রার্থনা করতে হবে। তিনি মন্ত্রমালায় (মন্ত্রাবলী) ভূষিত, হিরণ্য-তটের নিকটে রক্ষার্থে প্রতিষ্ঠিত, এবং ‘হীরক-ক্ষেত্র’ নামে রত্নসম উপক্ষেত্রকে বিশেষভাবে সংরক্ষণ করেন বলে বর্ণিত। এরপর কালবিধি বলা হয়—কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশীতে ভক্ত সুগন্ধি, পুষ্প, নৈবেদ্য ও বলি নিবেদন করে ক্ষেত্রপালের পূজা করবে। বিধিপূর্বক পূজিত হলে তিনি সর্বকামপ্রদ হন; তীর্থাচারের নীতিমালার মধ্যে এই উপাসনা রক্ষা ও অভীষ্ট সিদ্ধি—উভয়ই দান করে।

Vicitreśvaramāhātmya (विचित्रेश्वरमाहात्म्य) — The Glory of Vicitreśvara
ঈশ্বর দেবীকে নির্দেশ দেন—হিরণ্যাতীরে অবস্থিত ‘বিচিত্রেশ্বর’ নামক শ্রেষ্ঠ শিবধামে গমন করো। এই তীর্থ মহাপাতকনাশক এবং প্রভাসক্ষেত্রে বিশেষ পুণ্যদায়ক বলে বর্ণিত। এই মন্দিরের উৎপত্তি ‘বিচিত্র’ নামে যমের লেখকের তপস্যার সঙ্গে যুক্ত। তিনি কঠোর তপস্যা করলে সেখানে এক মহারৌদ্র লিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলশ্রুতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে—যে এই লিঙ্গ দর্শন করে, সে যমলোক দর্শন করে না; তাই প্রভাসে দর্শন পাপহরণ ও মুক্তির পথরূপে গণ্য।

ब्रह्मेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Brahmeśvara Māhātmya (Account of the Glory of Brahmeśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে দিব্য উপদেশ দেন এবং তীর্থযাত্রীদেরও একই পবিত্র অঞ্চলের এক নির্দিষ্ট তীর্থে যেতে নির্দেশ করেন। স্থানটি সরস্বতী নদীর তীরে, পার্ণাদিত্য-সম্পর্কিত এক চিহ্নের পশ্চিমদিকে, নিকট/উচ্চভাগের দিকনির্দেশসহ বর্ণিত। সেখানে প্রাচীন কালে ব্রহ্মা প্রতিষ্ঠিত এক প্রসিদ্ধ লিঙ্গ ‘ব্রহ্মেশ্বর’ নামে খ্যাত, যা সর্বপাপ-নাশক বলে মহিমাকীর্তিত। বিধান অনুযায়ী দ্বিতীয়া তিথিতে সেখানে স্নান করে উপবাস পালন করতে হবে, ইন্দ্রিয়সংযমী হয়ে ‘ব্রহ্মেশ্বর’ নামে দেবাধিদেবের পূজা করতে হবে। পিতৃদের উদ্দেশে তর্পণ ও শ্রাদ্ধ করলে শাশ্বত পদ/ধাম লাভ হয়—এমন ফলশ্রুতি বলা হয়েছে।

Piṅgā-nadī-māhātmya (Glorification of the Piṅgā River)
ঈশ্বর দেবীকে নির্দেশ দেন ঋষি-তীর্থের পশ্চিমে অবস্থিত, পাপবিনাশিনী ও সমুদ্রে প্রবাহিত পিঙ্গলী/পিঙ্গা নদীর কাছে যেতে। নদীর মাহাত্ম্য ধাপে ধাপে বলা হয়েছে—শুধু দর্শনেই মহৎ পিতৃকর্মের সমান পুণ্য; স্নানে তার দ্বিগুণ; তর্পণে চতুর্গুণ; আর শ্রাদ্ধ করলে অমেয় ফল লাভ হয়। পুরাকথায় সোমেশ্বর দর্শনে আগত কয়েকজন ঋষি—দক্ষিণদেশীয়, শ্যামবর্ণ ও বিকৃতাকৃতি বলে বর্ণিত—নদীতীরে উৎকৃষ্ট আশ্রমে স্নান করে অপূর্ব সৌন্দর্য লাভ করেন এবং কাম-সদৃশ (আদর্শ আকর্ষণের ন্যায়) হয়ে ওঠেন। বিস্ময়ে তারা বলেন, আমরা ‘পিঙ্গত্ব’ প্রাপ্ত হয়েছি, তাই এই নদী ভবিষ্যতে ‘পিঙ্গা’ নামে প্রসিদ্ধ হবে। আরও বলা হয়, পরম ভক্তিতে যে এখানে স্নান করে তার বংশে কুরূপ সন্তান জন্মায় না। শেষে ঋষিরা নদীতীরে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে, কেবল যজ্ঞোপবীতধারী তপস্বীরূপে নানা তীর্থ প্রতিষ্ঠা ও নামকরণ করেন।

पिंगलादित्य–पिंगादेवी–शुक्रेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Māhātmya of Piṅgalāditya, Piṅgā Devī, and Śukreśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীর কাছে প্রভাস-ক্ষেত্রের দর্শনযোগ্য তীর্থ ও দেবস্থানসমূহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্রতফল ক্রমান্বয়ে বর্ণনা করেন। প্রথমে পাপহর সূর্য-স্বরূপ পিঙ্গলাদিত্যের দর্শনকে শুদ্ধিদায়ক ও পুণ্যপ্রদ বলা হয়েছে। পরে পিঙ্গা দেবীকে পার্বতীর রূপ হিসেবে নির্দেশ করে একই তীর্থপরিক্রমায় দেবীপূজার মাহাত্ম্য স্থাপন করা হয়। এরপর তৃতীয়া তিথিতে বিশেষ উপবাসের বিধান দেওয়া হয়েছে; তা পালন করলে ইষ্টসিদ্ধি এবং ধন-সন্তানাদি শুভ ফল লাভ হয়। শেষে শুক্রেশ্বর নামক লিঙ্গ/ধামের দর্শনে সর্বপাপকর্ম থেকে মুক্তি ঘটে—এ কথা বলা হয়েছে। এভাবে দর্শন, উপবাস ও ভক্তিকে ক্ষেত্রের নৈতিক-আধ্যাত্মিক শুদ্ধির উপায় হিসেবে প্রতিপাদিত করা হয়েছে।

Brahmeśvara-māhātmya (ब्रह्मेश्वरमाहात्म्य) — Origin and Merit of the Brahmeśvara Liṅga
ঈশ্বর মহাদেবীকে নির্দেশ দেন—পূর্বে উল্লিখিত, ব্রহ্মা-আরাধিত সেই পবিত্র স্থানে যেতে, যা সরস্বতীর তীরে এবং পর্ণাদিত্যের পশ্চিমে অবস্থিত। তারপর তিনি কারণকথা বলেন—ব্রহ্মার চতুর্বিধ সৃষ্টির পূর্বে এক আশ্চর্য, অবর্ণনীয় শ্রেণির নারী পুরাণোক্ত সৌন্দর্যলক্ষণে ভূষিতা হয়ে আবির্ভূত হন। তাঁকে দেখে ব্রহ্মা কামাবিষ্ট হয়ে মিলনের প্রার্থনা করেন; ফলস্বরূপ তৎক্ষণাৎ তাঁর পঞ্চম মস্তক পতিত হয় এবং গর্দভসদৃশ হয়ে যায়—এটি তৎক্ষণাৎ ধর্মদোষরূপে বর্ণিত। নিজ ‘কন্যা’র প্রতি উদ্ভূত নিষিদ্ধ কামনার গুরুতা উপলব্ধি করে ব্রহ্মা শুদ্ধির জন্য প্রভাসে আসেন, কারণ তীর্থস্নান ব্যতীত দেহ-ধর্মশুদ্ধি অসম্ভব বলা হয়েছে। সরস্বতীতে স্নান করে তিনি দেবদেব শূলিন শিবের লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন এবং কলুষমুক্ত হয়ে নিজ ধামে প্রত্যাবর্তন করেন। ফলশ্রুতিতে বলা হয়—যে সরস্বতীতে স্নান করে সেই ব্রহ্মেশ্বর লিঙ্গ দর্শন করে, সে সর্বপাপমুক্ত হয়ে ব্রহ্মলোকে সম্মান লাভ করে; আর চৈত্র শুক্ল চতুর্দশীতে দর্শনে মহেশ্বর-সম্পর্কিত পরম পদ প্রাপ্ত হয়।

संगमेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Sangameśvara Māhātmya (Glory of the Lord of the Confluence)
ঈশ্বর দেবীকে নির্দেশ দেন যে তিনি ‘সঙ্গমেশ্বর’ নামে পরিচিত দেবতার কাছে গমন করুন। এই দেবতা ‘গোলক’ নামেও খ্যাত এবং পাপনাশক রূপে বর্ণিত। কাহিনিতে সরস্বতী ও পিঙ্গা নদীর সঙ্গমস্থলকে চিহ্নিত করা হয় এবং সেখানে তপস্যায় সিদ্ধ ঋষি উদ্দালকের পরিচয় দেওয়া হয়। উদ্দালকের কঠোর তপস্যার সময় তাঁর সম্মুখে শিবলিঙ্গ প্রকাশিত হয়—ভক্তির অলৌকিক স্বীকৃতিস্বরূপ। তখন এক অশরীরী বাণী ঘোষণা করে যে ঐ স্থানে চিরস্থায়ী দেবসান্নিধ্য থাকবে এবং সঙ্গমে লিঙ্গের আবির্ভাবের কারণে তীর্থের নাম ‘সঙ্গমেশ্বর’ স্থাপিত হয়। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—যে ব্যক্তি প্রসিদ্ধ সঙ্গমে স্নান করে সঙ্গমেশ্বরের দর্শন করে, সে পরম গতি লাভ করে। উদ্দালক নিত্য লিঙ্গপূজা করে জীবনের শেষে মহেশ্বরের ধামে গমন করেন; এই অধ্যায় তীর্থভক্তি ও মুক্তির যোগসূত্রকে আদর্শরূপে স্থাপন করে।

Gaṅgeśvara Māhātmya (गंगेश्वरमाहात्म्य) — The Glory of Gaṅgeśvara Liṅga
ঈশ্বর দেবীকে বলেন—সঙ্গমেশ্বরের পশ্চিমদিকে ত্রিলোকে প্রসিদ্ধ গঙ্গেশ্বর নামে এক লিঙ্গ বিরাজমান। তিনি তার মাহাত্ম্য বলতে গিয়ে স্মরণ করান, এক সংকটময় সময়ে প্রভুবিষ্ণু অভিষেককার্যের জন্য গঙ্গাকে আহ্বান করেছিলেন। গঙ্গা সেখানে এসে এক অতিপুণ্য ক্ষেত্র দর্শন করেন—যেখানে ঋষিদের গমনাগমন, অসংখ্য লিঙ্গের সমাবেশ এবং তপস্বীদের আশ্রমে অঞ্চলটি পরিপূর্ণ। শিবভক্তিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে গঙ্গা সেই স্থানে লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন—এটাই গঙ্গেশ্বর। অধ্যায়ে বলা হয়েছে, এই তীর্থের কেবল দর্শনেই গঙ্গাস্নানের ফল লাভ হয়, এবং মানুষ সহস্র অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান পুণ্য অর্জন করে। স্থাননির্দেশ, প্রতিষ্ঠাকথা ও ফলশ্রুতি—এই তিনে ভক্তি ও তীর্থযাত্রার নির্দেশ স্পষ্ট হয়।

Śaṅkarāditya-māhātmya (The Glory of Śaṅkarāditya)
ঈশ্বর–দেবীর সংক্ষিপ্ত সংলাপে এই অধ্যায় তীর্থযাত্রীকে নির্দেশ দেয়—গঙ্গেশ্বরের পূর্বদিকে অবস্থিত, শঙ্কর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘শঙ্করাদিত্য’ নামক মন্দিরে ভক্তিভরে পূজা করতে। বিশেষত শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথি এই উপাসনার জন্য অতি মঙ্গলময় বলে বলা হয়েছে। বিধান অনুযায়ী তাম্রপাত্রে রক্তচন্দন ও লাল পুষ্প মিশিয়ে অর্ঘ্য প্রস্তুত করে সমাহিতচিত্তে অর্পণ করতে হবে। এর ফলে উপাসক দিবাকর-সম্পর্কিত পরম লোক লাভ করে, পরা সিদ্ধি অর্জন করে এবং দারিদ্র্যে পতিত হয় না। শেষে বলা হয়েছে—সেই ক্ষেত্রে সর্বপ্রয়াসে শঙ্করাদিত্যকে পূজা করো, কারণ তিনি সর্বকাম-ফল-প্রদাতা।

शङ्करनाथमाहात्म्यवर्णनम् (Śaṅkaranātha Māhātmya—Account of the Glory of Śaṅkaranātha)
ঈশ্বর দেবীকে বলেন যে তীর্থযাত্রার ক্রম তিন লোকেই প্রসিদ্ধ, পাপহরণকারী শঙ্করনাথ নামক লিঙ্গের দিকে পরিচালিত করা উচিত। তিনি জানান, ভানু (সূর্য) মহাতপস্যা করে এই লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেখানে মন্দির স্থাপন করেছিলেন। এরপর সংক্ষেপে নীতি-আচার নির্ধারিত হয়—উপবাসসহ মহাদেবের পূজা, ব্রাহ্মণদের ভোজন করানো, ইন্দ্রিয়সংযম রেখে শ্রাদ্ধকর্ম করা, এবং সামর্থ্য অনুযায়ী স্বর্ণ ও বস্ত্র দান। শেষে ফলশ্রুতি স্পষ্ট—এভাবে আচরণকারী পরম ধাম লাভ করে।

गुफेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Gufeśvara Shrine-Māhātmya (Description of the Glory of Gufeśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে দিব্য উপদেশ দিয়ে তীর্থযাত্রার পথ নির্দেশ করেন এবং ‘গুফেশ্বর’ নামে এক শ্রেষ্ঠ তীর্থের কথা বলেন। স্থানটি হিরণ্যার উত্তর ভাগে অবস্থিত; একে অতুলনীয় ও ‘সর্বপাপ-নাশক’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। গুফেশ্বরে দেবতার দর্শনই পরিশুদ্ধির প্রধান উপায়—শুধু দর্শনমাত্রেই মহাপাপ ক্ষয় হয়। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে, ‘কোটি হত্যার’ মতো ভয়ংকর দোষও দূর হয়ে যায়; ফলে প্রভাসক্ষেত্রের পবিত্র ভূগোলে এই তীর্থ মুক্তিদায়ী শুদ্ধিস্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

घण्टेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Ghanteśvara Shrine-Māhātmya (Description of the Glory of Ghanteśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বরের উপদেশরূপে প্রভাসক্ষেত্রে ‘ঘণ্টেশ্বর’ নামক পবিত্র সন্নিধির মাহাত্ম্য বলা হয়েছে। তাঁকে ‘সর্ব-পাপক-নাশক’ বলা হয়; দেব ও দানব উভয়েই যাঁর পূজা করে, এবং ঋষি ও সিদ্ধগণও যাঁর আরাধনায় রত ছিলেন। এই তীর্থকে কাম্য ফল প্রদানকারী (বাঞ্ছিতার্থ-ফলপ্রদ) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এরপর একটি বিশেষ কালবিধান দেওয়া হয়—সোমবারে পতিত অষ্টমী তিথিতে যে মানবভক্ত বিধিপূর্বক ঘণ্টেশ্বরের পূজা করে, সে ইচ্ছিত বস্তু লাভ করে এবং পাপমুক্ত হয়। শেষে কলোফনে স্কন্দপুরাণের প্রভাস খণ্ড, প্রভাসক্ষেত্র-মাহাত্ম্যের অন্তর্গত ২৫৪তম অধ্যায় হিসেবে এর উল্লেখ আছে।

ऋषितीर्थमाहात्म्य (The Māhātmya of Ṛṣi-tīrtha / Rishi Tirtha)
ঈশ্বর প্রভাসের নিকটে প্রসিদ্ধ ঋষিতীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন, বিশেষত তার পশ্চিম অংশ, যেখানে বহু মহর্ষির আশ্রম ছিল। অঙ্গিরা, গৌতম, অগস্ত্য, বিশ্বামিত্র, অরুন্ধতীসহ বশিষ্ঠ, ভৃগু, কশ্যপ, নারদ, পর্বত প্রমুখ ঋষি সংযম ও একাগ্রতায় কঠোর তপস্যা করে চিরন্তন ব্রহ্মলোকে গমন কামনা করেন। তখন ভয়ংকর অনাবৃষ্টি ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। উপরিচর নামে এক রাজা শস্য ও ধনরত্ন দান করতে এসে বলেন—ব্রাহ্মণদের জন্য দান গ্রহণ নির্দোষ জীবিকা। ঋষিরা রাজদানের নৈতিক বিপদ, লোভজনিত পতন, সঞ্চয় ও তৃষ্ণার বন্ধন ব্যাখ্যা করে দান গ্রহণ অস্বীকার করেন; সন্তোষ ও নির্লোভতাকেই শ্রেষ্ঠ বলেন। রাজার লোকেরা উদুম্বর গাছের কাছে ‘হিরণ্যগর্ভ’ ধন ছড়িয়ে দিলেও ঋষিরা তা ত্যাগ করে এগিয়ে যান। পরে পদ্মভরা এক মহান হ্রদে স্নান করে জীবিকার জন্য পদ্মনাল (বীসা) সংগ্রহ করেন। শুনোমুখ নামে এক পরিব্রাজক সেই বীসা নিয়ে ধর্মজিজ্ঞাসা উত্থাপন করে; তখন ঋষিরা শপথ/শাপের মাধ্যমে চোরের নৈতিক অধঃপতনের লক্ষণ নির্ধারণ করেন। শুনোমুখ পরে নিজেকে পুরন্দর ইন্দ্র বলে প্রকাশ করে ঋষিদের নিরাসক্তির প্রশংসা করেন—এটাই অবিনশ্বর লোকলাভের মূল। শেষে ঋষিরা তীর্থের বিশেষ বিধি চান: যে ব্যক্তি এখানে এসে শুচি থেকে তিন রাত্রি উপবাস করে, স্নান করে, পিতৃদের তर्पণ ও শ্রাদ্ধ করে, সে সর্বতীর্থসম পুণ্য পায়, অধোগতি এড়ায় এবং দিব্য সান্নিধ্য লাভ করে।

नन्दादित्यमाहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Nandāditya)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে জানান যে প্রভাস-ক্ষেত্রে রাজা নন্দ প্রতিষ্ঠিত সূর্যরূপ ‘নন্দাদিত্য’-এর মন্দির ও পূজা শাস্ত্রসম্মত। নন্দকে আদর্শ রাজা বলা হয়েছে; তাঁর শাসনে সমাজকল্যাণ ছিল, কিন্তু কর্মফলে তিনি ভয়ংকর কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হন। কারণ অনুসন্ধানে পূর্বকথা আসে—বিষ্ণুপ্রদত্ত দিব্য বিমানে তিনি মানসসরোবর পৌঁছে এক বিরল ‘ব্রহ্মজ পদ্ম’ দেখেন, যার ভিতরে অঙ্গুষ্ঠমাত্র দীপ্তিমান পুরুষ বিরাজমান। খ্যাতির লোভে পদ্মটি ধরিয়ে নিতে আদেশ দিতেই স্পর্শমাত্রে ভয়ানক শব্দ ওঠে এবং নন্দ তৎক্ষণাৎ রোগগ্রস্ত হন। বসিষ্ঠ মুনি ব্যাখ্যা করেন—পদ্মটি অতিশয় পবিত্র; লোকদর্শনের জন্য নিয়ে যাওয়ার অভিপ্রায়ই দোষ, এবং অন্তর্নিহিত দেবতা প্রদ্যোতন/সূর্য। তিনি প্রভাসে ভাস্করের প্রায়শ্চিত্ত-আরাধনার বিধান দেন। নন্দ ‘নন্দাদিত্য’ স্থাপন করে অর্ঘ্যাদি নিবেদনসহ পূজা করলে সূর্য সঙ্গে সঙ্গে আরোগ্য দেন ও সেখানে স্থায়ী উপস্থিতির বর দেন; রবিবারে সপ্তমী পড়লে দর্শনকারী পরম গতি লাভ করে। শেষে ফলশ্রুতি—এই তীর্থে স্নান, শ্রাদ্ধ ও দান, বিশেষত কপিলা গাভী বা ঘৃতধেনু দান, অপরিমেয় পুণ্য ও মুক্তিসহায়ক বলে ঘোষিত।

त्रितकूपमाहात्म्य (Glory of the Trita Well)
ঈশ্বর দেবীকে সৌরাষ্ট্রের বিদ্বান আত্রেয় (রাজা/ব্রাহ্মণ) ও তাঁর তিন পুত্র—একত, দ্বিত এবং কনিষ্ঠ ত্রিত—এর কাহিনি শোনান। ত্রিত ছিলেন বেদজ্ঞ, সদাচারী ও ধর্মপরায়ণ; কিন্তু জ্যেষ্ঠ দুই ভাই নীতিভ্রষ্ট। আত্রেয়ের মৃত্যুর পর ত্রিত নেতৃত্ব গ্রহণ করে যজ্ঞের সংকল্প করেন, ঋত্বিকদের আহ্বান ও দেবতাদের আরাধনা করেন। দক্ষিণার জন্য তিনি ভাইদের সঙ্গে প্রভাসের দিকে গবাদি পশু সংগ্রহে যান; বিদ্যার কারণে পথে তিনি আতিথ্য ও দান লাভ করেন, আর তাতেই ভাইদের ঈর্ষা জাগে। পথে এক ভয়ংকর বাঘ দেখা দিলে গরুগুলি ছত্রভঙ্গ হয়। কাছে এক ভীতিকর শুকনো কূপ দেখে ভাইরা সুযোগ নিয়ে ত্রিতকে জলশূন্য কূপে ফেলে দিয়ে গরুর পাল নিয়ে চলে যায়। কূপের ভিতর ত্রিত হতাশ না হয়ে ‘মানস-যজ্ঞ’ করেন—সূক্তপাঠ ও বালু দিয়ে প্রতীকী হোম। তাঁর শ্রদ্ধায় দেবতারা সন্তুষ্ট হয়ে সরস্বতীকে প্রেরণ করেন; তিনি কূপে জল পূর্ণ করেন, ফলে ত্রিত উদ্ধার পান। সেই স্থান ‘ত্রিতকূপ’ নামে প্রসিদ্ধ হয়। শেষে বিধান বলা হয়েছে—শুচি হয়ে সেখানে স্নান, পিতৃতর্পণ এবং স্বর্ণসহ তিলদান মহাপুণ্য। এই তীর্থ অগ্নিষ্বাত্ত ও বর্হিষদ প্রভৃতি পিতৃগণের প্রিয়; এর দর্শনমাত্রেই জীবনের শেষ পর্যন্ত পাপক্ষয় হয়—অতএব কল্যাণার্থীরা সেখানে স্নান করুক।

शशापानतीर्थप्रादुर्भावः (Origin of the Śaśāpāna Tīrtha) / The Emergence of Shashapana Tirtha
ঈশ্বর দেবীকে শশাপান-স্মৃতিস্থানের দক্ষিণে অবস্থিত পাপনাশক তীর্থ ‘শশাপান’-এর উৎপত্তি বর্ণনা করেন। সমুদ্রমন্থনে দেবতারা অমৃত লাভ করলে তার অসংখ্য বিন্দু পৃথিবীতে পতিত হয়। সেখানে তৃষ্ণার্ত এক শশক (খরগোশ) জলে প্রবেশ করে অমৃতমিশ্রিত জলাশয়ের সংস্পর্শে এসে আশ্চর্য অবস্থাপ্রাপ্ত হয় এবং অমৃত-স্পর্শের চিহ্নরূপে দৃশ্যমান থাকে। দেবতারা আশঙ্কা করেন—মানুষ যদি পতিত অমৃত পান করে অমর হয়ে যায়। তখন ব্যাধের আঘাতে কাতর ও অচল চন্দ্র (নিশানাথ) অমৃত প্রার্থনা করেন। দেবতারা জানান, ঐ জলাশয়ে বহু অমৃত পড়েছে; সেখানকার জল পান করতে বলেন। চন্দ্র শশকের সঙ্গে/শশক-সংযুক্ত জল পান করে পুষ্ট ও দীপ্তিমান হন, আর শশকটি প্রত्यक्ष নিদর্শন হয়ে থেকে যায়। পরবর্তীতে দেবতারা শুকিয়ে যাওয়া কুণ্ড খনন করলে পুনরায় জল উদ্ভূত হয়। শশক-সংযুক্ত জল চন্দ্র পান করেছিলেন বলে তীর্থের নাম ‘শশাপান’ প্রসিদ্ধ হয়। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—যে ভক্ত সেখানে স্নান করে সে মহেশ্বর-সম্বন্ধীয় পরম গতি লাভ করে; ব্রাহ্মণদের অন্নদান করলে সর্বযজ্ঞের ফল মেলে; পরে সরস্বতী বডবাগ্নিসহ এসে তীর্থকে আরও পবিত্র করেন—অতএব সর্বপ্রযত্নে সেখানে স্নানের বিধান পুনরুচ্চারিত।

पर्णादित्यमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Parnāditya (Sun Shrine) on the Prācī Sarasvatī
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে নির্দেশ দেন—প্রাচী সরস্বতীর উত্তর তীরে অবস্থিত সূর্যদেবতার তীর্থ ‘পর্ণাদিত্য’-তে তীর্থযাত্রী যেন গমন করে। এরপর অতীতকথা বলা হয়—ত্রেতাযুগে পর্ণাদ নামে এক ব্রাহ্মণ প্রভাসক্ষেত্রে এসে কঠোর তপস্যা করেন এবং দিন-রাত অবিচ্ছিন্ন ভক্তিতে ধূপ, মালা, চন্দন প্রভৃতি নিবেদন ও বেদসম্মত স্তোত্রে সূর্যকে পূজা করেন। প্রসন্ন হয়ে সূর্যদেব প্রত্যক্ষ হন ও বর দিতে চান। ভক্ত প্রথমে দুর্লভ দর্শন-অনুগ্রহ প্রার্থনা করেন, পরে চান যে সূর্যদেব সেখানে চিরস্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকুন। সূর্যদেব সম্মতি দিয়ে তাঁকে সূর্যলোক-প্রাপ্তির বর দেন এবং অন্তর্ধান করেন। শেষে তীর্থবিধি ও ফলশ্রুতি—ভাদ্রপদ মাসের ষষ্ঠীতে স্নান করে পর্ণাদিত্য দর্শন করলে দুঃখ নিবারিত হয়; এই দর্শনের পুণ্য প্রয়াগে বিধিপূর্বক একশো গাভী দানের ফলের সমান বলা হয়েছে। গুরুতর রোগে কাতর হয়েও যারা পর্ণাদিত্যকে চিনতে পারে না, তাদের অবিবেচক বলা হয়েছে—জ্ঞানসহ ভক্তিপূর্ণ তীর্থযাত্রার গুরুত্ব এতে প্রতিষ্ঠিত হয়।

Siddheśvara-māhātmya (Glorification of Siddheśvara)
ঈশ্বর দেবীকে বলেন যে প্রভাসক্ষেত্রের পশ্চিমভাগে অবস্থিত সিদ্ধেশ্বরের কাছে যেতে, যিনি সিদ্ধদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পরম দেবরূপ। দিব্য সিদ্ধগণ সেখানে এসে সকল উদ্যোগে সিদ্ধি লাভের উদ্দেশ্যে লিঙ্গকে বিধিপূর্বক অভিষেক করে প্রতিষ্ঠা করেন; তাঁদের তীব্র তপস্যা দেখে শিব প্রসন্ন হন। শিব তাঁদের অণিমা প্রভৃতি নানা অলৌকিক সিদ্ধি ও ঐশ্বর্য দান করেন এবং সেই স্থানে নিজের নিত্য সান্নিধ্য ঘোষণা করেন। পরে বিধান বলা হয়—চৈত্র মাসের শুক্ল চতুর্দশীতে সেখানে শিবপূজা করলে শিবকৃপায় পরম পদ লাভ হয়। শেষে শিব অন্তর্ধান করেন, সিদ্ধরা পূজা অব্যাহত রাখেন; এবং নির্দেশ দেওয়া হয় যে সিদ্ধেশ্বরের ভক্তিতে মহাসিদ্ধি ও ইষ্টফল মেলে, তাই নিত্য আরাধনা করা উচিত।

न्यंकुमतीमाहात्म्यवर्णनम् | Nyankumatī River Māhātmya (Glorification of the Nyankumatī)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে তত্ত্বোপদেশ দিয়ে ন্যঙ্কুমতী নদীর মহিমা বর্ণনা করেন। শম্ভু ক্ষেত্র-শান্তির জন্য এই নদীকে পবিত্র ‘মর্যাদা’র মধ্যে স্থাপন করেছেন, এবং নদীর দক্ষিণভাগে এমন এক তীর্থের কথা বলা হয়েছে যা সর্বপাপ বিনাশকারী। সেখানে বিধিপূর্বক স্নান করে পরে শ্রাদ্ধ করলে পিতৃগণ নরকাদি দুঃখময় অবস্থান থেকে মুক্তি লাভ করেন—এমন ফলশ্রুতি আছে। আরও বলা হয়, বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে স্নান করে তিল, দুর্বা/দর্ভ ও জল দিয়ে তর্পণসহ শ্রাদ্ধ করলে তা গঙ্গাতীরে কৃত শ্রাদ্ধের সমান ফল প্রদান করে।

वराहस्वामिमाहात्म्यवर्णनम् (Varāha Svāmī Māhātmya—Account of the Glory of Varāha Svāmī)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে সংক্ষিপ্ত তত্ত্বোপদেশ দেন। তিনি নির্দেশ করেন—গোষ্পদের দক্ষিণে অবস্থিত বরাহস্বামীর পবিত্র মন্দিরে গমন করতে, যা ‘পাপ-প্রণাশন’ নামে প্রসিদ্ধ; সেখানে দোষ ও পাপের ক্ষয় ঘটে। শুক্লপক্ষের একাদশীতে বিশেষভাবে পূজা করলে তা অত্যন্ত ফলদায়ক বলা হয়েছে। ভক্তি সহকারে সেই পূজায় সাধক সকল পাপ থেকে মুক্ত হয়ে শেষে ‘বিষ্ণুপদ’ লাভ করে। স্থান-কাল-কর্ম-ফলকে একসূত্রে বেঁধে প্রভাসক্ষেত্রের সাধনাপথ এখানে সংক্ষেপে দেখানো হয়েছে।

छायालिङ्गमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Chāyā-liṅga (Shadow Liṅga)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে প্রভাসক্ষেত্রে অবস্থিত বিশেষ লিঙ্গ ‘ছায়ালিঙ্গ’-এর মাহাত্ম্য সংক্ষেপে জানান। তিনি দিকনির্দেশসহ স্থান নির্ধারণ করেন—ন্যঙ্কুমতী তীর্থের উত্তরে এই লিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত—যাতে পবিত্রতা মানচিত্রযোগ্য ভূভাগের সঙ্গে যুক্ত হয়। এরপর ছায়ালিঙ্গ দর্শনের অসাধারণ ফল ও মহাশক্তির কথা বলা হয়। ভক্তিভরে যে এর দর্শন করে, সে পাপশুদ্ধ হয়; কিন্তু অতিমাত্রায় পাপাচারী লোকেরা নাকি এটিকে দেখতে পায় না—এভাবে দর্শনকে আচারগত কর্মের পাশাপাশি নৈতিক-আধ্যাত্মিক যোগ্যতার বিষয় হিসেবে দেখানো হয়েছে। শেষে স্কন্দপুরাণের প্রভাসখণ্ড, প্রভাসক্ষেত্র-মাহাত্ম্য পর্বে এই ‘ছায়ালিঙ্গ মাহাত্ম্য’ অধ্যায়ের স্থান নির্দেশ করা হয়েছে।

नंदिनीगुफामाहात्म्यवर्णनम् / The Māhātmya (Sacred Account) of Nandinī Cave
এই অধ্যায়ে শৈব–দেবী সংলাপ সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে। ঈশ্বর প্রভাস-ক্ষেত্রে অবস্থিত নন্দিনী-গুহাকে স্বভাবতই পাপ-নাশিনী ও পরম পবিত্র বলে জানান। তিনি বলেন, এই গুহা পুণ্যশীল ঋষি ও সিদ্ধদের নিবাস ও সমাবেশস্থল—এই সম্পর্কই স্থানটির পবিত্রতা প্রতিষ্ঠা করে। মূল নির্দেশ দর্শন-ভিত্তিক—যে ব্যক্তি সেখানে গিয়ে নন্দিনী-গুহার দর্শন করে, সে সকল পাপ থেকে মুক্ত হয় এবং চন্দ্রায়ণ ব্রতের সমতুল্য ফল লাভ করে। ফলে অধ্যায়টি স্থান-পরিচয়, সিদ্ধ-ঋষি-সংযোগে মাহাত্ম্য, এবং তীর্থদর্শনকে প্রায়শ্চিত্ত-ব্রতের সমান ফলদায়ক বলে ঘোষণা করে।

कनकनन्दामाहात्म्यवर्णनम् (Glorification of Goddess Kanakanandā)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে সংক্ষিপ্ত শৈব-শাক্ত উপদেশ দেন এবং ঈশান্য (উত্তর-পূর্ব) দিকে অবস্থিত দেবী কানকনন্দার তীর্থস্থানকে নির্দেশ করেন। দেবীকে ‘সর্বকামফলপ্রদা’ বলা হয়েছে—যিনি ভক্তের সকল কামনা পূর্ণ করেন। এখানে যাত্রা ও পূজার বিধান বলা হয়েছে—চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে বিধিমতে যাত্রা করে দেবীর পূজা করতে হবে। স্থান-কাল-নিয়মবদ্ধ ভক্তির এই সমন্বয় অনুসারে যে তীর্থযাত্রী শুদ্ধভাবে আচরণ করে, সে ইষ্টলাভ ও সর্বকাম-প্রাপ্তি লাভ করে—এটাই ফলশ্রুতি।

Kumbhīśvara Māhātmya (कुम्भीश्वरमाहात्म्य) — The Glory of Kumbhīśvara
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে উপদেশ দেন—শরভস্থান থেকে পূর্বদিকে অল্প দূরে অবস্থিত ‘অনুত্তর’ কুম্ভীশ্বর তীর্থের দর্শন করতে। প্রভাসক্ষেত্রের তীর্থ-মানচিত্রে এই শিবালয়ের অবস্থান নির্দিষ্ট করে পবিত্র ভূগোলের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে। মূল ফলশ্রুতি সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর—কুম্ভীশ্বরের কেবল দর্শনমাত্রেই মানুষ সর্ব পাপ (সর্বপাতক) থেকে মুক্ত হয়। অর্থাৎ তীর্থদর্শনকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শুদ্ধির কার্যকর উপায় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শেষে কলফনে স্কন্দমহাপুরাণের (৮১,০০০ শ্লোক) প্রভাসখণ্ডের প্রথম প্রভাসক্ষেত্র-মাহাত্ম্যের অন্তর্গত ‘কুম্ভীশ্বর-মাহাত্ম্য’ নামে ২৬৬তম অধ্যায় বলে উল্লেখ আছে।

गङ्गापथ-गङ्गेश्वर-माहात्म्यवर्णनम् | Glory of Gaṅgāpatha and Gaṅgeśvara
এই অধ্যায়ে শৈব সংলাপে ঈশ্বর দেবীকে গঙ্গাপথ নামে এক পবিত্র তীর্থের কথা বলেন, যেখানে মহাবেগবতী গঙ্গা প্রবাহিত এবং গঙ্গেশ্বর নামে শিবের প্রকাশ বিরাজমান। গঙ্গাকে সমুদ্রগামিনী, পাপনাশিনী, পৃথিবীতে ‘উত্তানা’ নামে প্রসিদ্ধ এবং ত্রিলোকের ভূষণ বলা হয়েছে। বিধান হলো—সেখানে স্নান করে গঙ্গেশ্বরের পূজা করতে হবে। ফলশ্রুতিতে ভক্ত ঘোর পাপ থেকে মুক্ত হয় এবং বহু অশ্বমেধ যজ্ঞের সমতুল্য পুণ্য লাভ করে। এটি স্কন্দ মহাপুরাণের প্রভাসখণ্ড, প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যে গঙ্গাপথ–গঙ্গেশ্বর মাহাত্ম্যের সংক্ষিপ্ত নির্দেশ।

चमसोद्भेदमाहात्म्य (Camasodbheda Māhātmya: The Glory of the Camasodbheda Tīrtha)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে সম্বোধন করে তীর্থযাত্রীকে প্রভাসখণ্ডের প্রসিদ্ধ ‘চমসোদ্ভেদ’ তীর্থে গমন করতে নির্দেশ দেন। নামের কারণ বলা হয়েছে—ব্রহ্মা সেখানে দীর্ঘকাল সত্রযজ্ঞ সম্পন্ন করেন, আর দেবতা ও মহর্ষিরা যজ্ঞের ‘চমস’ (পাত্র) দিয়ে সোমপান করেন; তাই পৃথিবীতে স্থানটির নাম হয় ‘চমসোদ্ভেদ’। এরপর বিধান—সেই তীর্থসংলগ্ন সরস্বতীতে স্নান করে পিণ্ডদান করা উচিত। এতে ‘গয়া-কোটি-সম’ পুণ্য লাভ হয় বলে ফলশ্রুতি, বিশেষত বৈশাখ মাসকে সর্বাধিক ফলদায়ক বলা হয়েছে। শেষে প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যের অন্তর্গত প্রভাসখণ্ডের অধ্যায়রূপে কলফনে সমাপ্তি নির্দেশিত।

विदुराश्रम-माहात्म्यवर्णनम् (Glorification of Vidura’s Hermitage)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে এক মহাতীর্থের কথা জানান—বিদুরের মহান আশ্রম। এখানে ধর্মমূর্তি বিদুর ‘রৌদ্র’ প্রকৃতির কঠোর তপস্যা করেছিলেন বলে বর্ণিত। এই ক্ষেত্রের পবিত্রতার মূল কারণ হিসেবে শৈব কৃত্য উল্লেখিত—এখানে মহাদেব-লিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ‘ত্রিভুবনেশ্বর’ নামে খ্যাত, সর্বজগতের অধিপতির স্থানীয় প্রকাশরূপে। বলা হয়েছে, এই লিঙ্গের দর্শনে ভক্ত মানব ইচ্ছিত ফল লাভ করে এবং পাপের প্রশমন ঘটে। স্থানটির নাম ‘বিদুরাট্টালক’; গণ ও গন্ধর্বদের সেবিত, এবং ‘দ্বাদশস্থানক’ সমন্বিত এক পুণ্যক্ষেত্র—মহাপুণ্য ছাড়া যার প্রাপ্তি দুর্লভ। এখানে বৃষ্টির অনুপস্থিতিও ক্ষেত্রের অলৌকিক স্বভাবের চিহ্ন; শেষে বলা হয়, সেখানকার দিব্য লিঙ্গদর্শন পাপশান্তির সহায়ক।

Prācī Sarasvatī–Maṅkīśvara Māhātmya (प्राचीसरस्वतीमंकीश्वरमाहात्म्य)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর (শিব) দেবীকে বলেন যে প্রাচী সরস্বতীর প্রবাহস্থলে মঙ্কীশ্বর নামে এক লিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত। সেখানে তপস্বী ঋষি মঙ্কণক দীর্ঘকাল নিয়মিত আহার, অধ্যয়ন ও কঠোর তপস্যায় রত ছিলেন। একদিন তাঁর হাতে উদ্ভিদরসের মতো স্রাব বেরোলে তিনি তা অলৌকিক সিদ্ধি ভেবে উল্লাসে নৃত্য করতে থাকেন। সেই নৃত্যে বিশ্বে মহাবিক্ষোভ ঘটে—পর্বত সরে যায়, সমুদ্র মন্থিত হয়, নদী পথ বদলায়, গ্রহ-নক্ষত্রের গতি ব্যাহত হয়। তখন ইন্দ্রাদি দেবতা ব্রহ্মা-বিষ্ণুসহ ত্রিপুরান্তক শিবের শরণ নেন। শিব ব্রাহ্মণবেশে এসে কারণ জিজ্ঞাসা করেন এবং অঙ্গুষ্ঠ থেকে ভস্ম উৎপন্ন করে ঋষির ভ্রান্তি দূর করে জগতের সাম্য ফিরিয়ে দেন। মঙ্কণক শিবের মাহাত্ম্য বুঝে বর চান—তাঁর তপস্যা যেন ক্ষয় না হয়; শিব তপস্যা বৃদ্ধি করেন এবং সেই স্থানে স্থায়ী সান্নিধ্য স্থাপন করেন। পরবর্তী অংশে তীর্থবিধি ও ফলশ্রুতি বর্ণিত। প্রাচী সরস্বতী, বিশেষত প্রভাসে, অতিশয় পুণ্যদায়িনী; উত্তর তীরে মৃত্যু হলে পুনর্জন্ম নিবারিত হয় এবং অশ্বমেধসম পুণ্য লাভ হয় বলা হয়েছে। নিয়মস্নানে পরম সিদ্ধি ও ব্রহ্মপদপ্রাপ্তি, যোগ্য ব্রাহ্মণকে সামান্য স্বর্ণদানেও মেরুসম ফল, শ্রাদ্ধে বহু প্রজন্মের কল্যাণ, এক পিণ্ড ও তর্পণে পিতৃউদ্ধার, অন্নদানে মোক্ষপথের সহায়তা, দধি ও উলের আবরণ দানে বিশেষ লোকপ্রাপ্তি, এবং অশৌচনাশক স্নানকে গোদানের সমফল বলা হয়েছে। কৃষ্ণপক্ষ চতুর্দশীর স্নানের বিশেষ গুরুত্ব, অল্পপুণ্যদের কাছে নদীর দুর্লভতা, কুরুক্ষেত্র-প্রভাস-পুষ্করের উল্লেখ, এবং শেষে বিষ্ণুর উপদেশ—ধর্মপুত্র যেন অন্যান্য তীর্থের চেয়ে প্রাচী সরস্বতীকেই শ্রেষ্ঠ মানে—এভাবে অধ্যায়টি সমাপ্ত।

Jvāleśvara Māhātmya (ज्वालेश्वरमाहात्म्य) — The Glory of the Jvāleśvara Liṅga
এই অধ্যায়ে প্রভাসের প্রধান পবিত্র অঞ্চলের নিকটে অবস্থিত “জ্বালেশ্বর” লিঙ্গের উৎপত্তি-কথা বর্ণিত হয়েছে। ঈশ্বর বলেন—ত্রিপুরারি শিবের সঙ্গে যুক্ত পাশুপত অস্ত্র/শরের তেজ যে স্থানে পতিত হয়েছিল, সেখানে জ্বালার মতো দীপ্তি প্রকাশ পায়; তাই সেই লিঙ্গ “জ্বালেশ্বর” নামে স্মরণীয়। এভাবে এক পৌরাণিক যুদ্ধ-ঘটনাকে স্থায়ী তীর্থচিহ্নে রূপ দিয়ে কাহিনিকে ভূগোলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত উপদেশ এই যে—এই লিঙ্গের কেবল দর্শনমাত্রেই ভক্তের শুদ্ধি হয় এবং সে সর্বপাপ থেকে মুক্তি লাভ করে। অধ্যায়ের শুরু-শেষে একে স্কন্দমহাপুরাণের প্রভাসখণ্ড, প্রথম প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যের অন্তর্গত ২৭১তম অধ্যায় বলে নির্দেশ করা হয়েছে।

त्रिपुरलिंगत्रयमाहात्म्यम् | The Māhātmya of the Three Tripura Liṅgas
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর তত্ত্বোপদেশরূপে তীর্থযাত্রীকে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এই পবিত্র অঞ্চলের মধ্যেই পূর্বদিকে (প্রাচী), দেবীর সান্নিধ্যের কাছে এক বিশেষ স্থান দর্শনীয়। সেখানে ত্রিপুর-সম্পর্কিত তিনটি প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গ আছে, যেগুলি মহাত্মা ত্রিপুর-পুরুষদের নামে পরিচিত—বিদ্যুন্মালী, তারক ও কপোল। অধ্যায়ের মূল কথা হলো দিকনির্দেশ, মন্দির-পরিচয় এবং দর্শনফলের যোগ। বলা হয়েছে, ঐ লিঙ্গত্রয়ের কেবল দর্শনমাত্রেই ভক্ত পাপ থেকে মুক্ত হয়। শেষে স্কন্দমহাপুরাণের প্রভাসখণ্ড, প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যের অন্তর্গত ‘ত্রিপুরলিঙ্গত্রয়মাহাত্ম্য’ হিসেবে এই অধ্যায়কে চিহ্নিত করা হয়েছে।

शंडतीर्थ-उत्पत्ति तथा कपालमोचन-लिङ्गमाहात्म्य (Origin of Śaṇḍa-tīrtha and the Kapālamocana Liṅga)
ঈশ্বর দেবীকে শণ্ডতীর্থের মাহাত্ম্য জানান—এটি অতুলনীয় তীর্থ, সর্বপাপশমনকারী এবং কাম্য ফলদায়ক। পূর্বকথায় ব্রহ্মা পঞ্চশিরা ছিলেন; এক বিশেষ প্রসঙ্গে ঈশ্বর তাঁর একটি মস্তক ছেদন করেন। সেই রক্তপ্রবাহ ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার ফলে স্থানটি পবিত্র হয় এবং সেখানে মহাতালবৃক্ষ জন্মায়; তাই তা তালবনরূপে স্মৃত। ঈশ্বরের হাতে কপাল (খুলি) লেগে থাকে; ফলে তিনি ও তাঁর বৃষ কালবর্ণ ধারণ করেন। অপরাধভয়ে তীর্থযাত্রা করেও কোথাও ভার মোচন হয় না। শেষে প্রভাসে পূর্বমুখী সরস্বতী (প্রাচী দেবী) দর্শনে বৃষ স্নানমাত্রেই শ্বেত হয়ে যায় এবং একই সঙ্গে ঈশ্বর হত্যাদোষ থেকে মুক্ত হন। তখনই কপাল হাত থেকে পড়ে যায় এবং সেখানে কপালমোচন-লিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর প্রাচী দেবীর নিকটে শ্রাদ্ধের বিধান বলা হয়েছে—পিতৃগণের মহাতৃপ্তি হয়, বিশেষত আশ্বযুজ মাসের কৃষ্ণপক্ষ চতুর্দশীতে যথাবিধি, যোগ্য পাত্রে অন্ন, স্বর্ণ, দধি, কম্বল প্রভৃতি দানসহ। বৃষের শ্বেতত্বপ্রাপ্তির কারণেই শণ্ডতীর্থ নামের ব্যুৎপত্তি ব্যাখ্যাত।

Sūryaprācī-māhātmya (Glory of Sūryaprācī)
এই অধ্যায়ে প্রভাস-ক্ষেত্রের অন্তর্গত একটি সংক্ষিপ্ত তীর্থ-উপদেশ বর্ণিত হয়েছে। ঈশ্বর মহাদেবীকে নির্দেশ দেন যে তিনি (এবং তীর্থযাত্রীরাও) দীপ্তিময় ও মহাশক্তিসম্পন্ন সূর্যপ্রাচী তীর্থে গমন করুন। তীর্থটির মাহাত্ম্য শুদ্ধিকরণমূলক—এটি সর্বপাপ-শমনকারী এবং পুরাণোক্ত সংযমিত তীর্থযাত্রার নীতিতে ধর্মসম্মত কামনার ফলও প্রদানকারী। এখানে প্রধান আচার হলো তীর্থস্নান। সূর্যপ্রাচীতে স্নান করলে পঞ্চ-পাতক—ধর্মশাস্ত্রে উল্লিখিত পাঁচ মহাপাপ—থেকে মুক্তি লাভ হয় বলে ফলশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা মাহাত্ম্য সাহিত্যের প্রায়শ্চিত্ত-প্রধান ভাষাকে আরও তীব্র করে। উপসংহারে একে স্কন্দ মহাপুরাণের ৮১,০০০ শ্লোকসংহিতার সপ্তম খণ্ড প্রভাসখণ্ডের প্রভাসক্ষেত্র-মাহাত্ম্যের অন্তর্গত ‘সূর্যপ্রাচী-মাহাত্ম্য’ অধ্যায় বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

त्रिनेत्रेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Trinetreśvara (Three-Eyed Śiva)
অধ্যায় ২৭৫-এ ঋষি-তীর্থের নিকটে ত্রিনেত্রেশ্বর শিবের তীর্থ-মাহাত্ম্য ও আচারবিধি সংক্ষেপে বলা হয়েছে। ঈশ্বর মহাদেবীকে নির্দেশ দেন—ন্যঙ্কুমতী নদীর তটের উত্তর দিকে, ঋষিদের দ্বারা পূজিত স্থানে ত্রিনেত্র দেব শিবের কাছে গিয়ে দর্শন-উপাসনা করতে। সেখানে জল স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ, এবং তীর্থের পরিচয়বাহী এক বিশেষ জলচর/মৎস্য-চিহ্নের উল্লেখ আছে। এই তীর্থে স্নান করলে ব্রহ্মহত্যা প্রভৃতি মহাপাপ-শ্রেণি থেকেও মুক্তি হয়—এমন শুদ্ধির কথা বলা হয়েছে। এরপর ভাদ্রপদ মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে ব্রত নির্ধারিত—উপবাস ও রাত্রিজাগরণ। প্রভাতে শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করে বিধিমতো শিবপূজা করতে বলা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে দীর্ঘকাল রুদ্রলোকে বাসের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা তীর্থসেবা, ব্রতাচরণ ও শৈব সাধনার পরলোকফলকে যুক্ত করে।

Devikā-tīra Umāpati-māhātmya (देविकायामुमापतिमाहात्म्यवर्णनम्) — The Glory of Umāpati at the Devikā Riverbank
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে ঋষি-তীর্থের দিকে তীর্থযাত্রার নির্দেশ দেন এবং দেবিকা নদীতট-সংলগ্ন এক পরম পুণ্যক্ষেত্রের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। সেখানে ‘মহাসিদ্ধিবন’ নামে সিদ্ধ-অরণ্যের মনোরম, প্রকৃতি-ও-জাগতিক চিত্র আছে—বহুবিধ ফুল-ফলবাহী বৃক্ষ, পাখির মধুর কলরব, পশু, গুহা ও পর্বত; আর দেব, অসুর, সিদ্ধ, যক্ষ, গন্ধর্ব, নাগ ও অপ্সরারা সমবেত হয়ে স্তব, নৃত্য, সঙ্গীত, পুষ্পবৃষ্টি, ধ্যান ও ভাবোচ্ছ্বাসপূর্ণ ভক্তিকর্মে লীন থাকে—ফলে স্থানটি এক পবিত্র উপাসনা-ভূমিতে পরিণত হয়। এরপর ঈশ্বর সেখানে এক নিত্য দিব্য আসন ‘উমাপতীশ্বর’-এর কথা ঘোষণা করেন—যুগ, কল্প ও মন্বন্তর জুড়ে তাঁর অবিচ্ছিন্ন সান্নিধ্য থাকবে, বিশেষত দেবিকার শুভ তটে তাঁর বিশেষ অনুরাগ। পুষ্য মাসের অমাবস্যায় শ্রাদ্ধ করার বিধান দেওয়া হয়েছে; ফলশ্রুতিতে দানের পুণ্য অক্ষয় থাকে এবং দর্শনমাত্রেই মহাপাপ নাশ হয়—‘সহস্র ব্রহ্মহত্যা’সম পাপও ক্ষয়প্রাপ্ত হয় বলে বলা হয়েছে। গাভী, ভূমি, স্বর্ণ ও বস্ত্রাদি দানের প্রশংসা করে জানানো হয়েছে যে সেখানে পিতৃকর্ম সম্পাদনকারী অতুল পুণ্য লাভ করে। শেষে বলা হয়, দেবতারা স্নানের জন্য সমবেত হয়েছিলেন বলেই নদীর নাম ‘দেবিকা’; তাই সে ‘পাপনাশিনী’।

Bhūdhara–Yajñavarāha Māhātmya (भूधरयज्ञवराहमाहात्म्य)
এই অধ্যায়ে দেবিকা নদীর তীরে এক পবিত্র তীর্থের পরিচয় দেওয়া হয়েছে, যেখানে ‘ভূধর’ দর্শনীয়। নামের ব্যাখ্যা পুরাণকথা ও যজ্ঞ-রূপকের মাধ্যমে করা হয়েছে—পৃথিবীকে উদ্ধারের বরাহকে স্মরণ করে তীর্থটির তাৎপর্য বোঝানো হয়। বরাহের দেহকে যজ্ঞের অঙ্গরূপে বর্ণনা করা হয়েছে: বেদ তার পদ, যূপ তার দন্ত, স্রুব-স্রুচ মুখ/বদন, অগ্নি জিহ্বা, দর্ভ কেশ, ব্রহ্ম শির—এভাবে বিশ্বতত্ত্ব ও যজ্ঞ-গঠন একত্রে প্রতিপন্ন হয়। পরবর্তী অংশে শ্রাদ্ধবিধি নির্দিষ্ট করা হয়েছে—পুষ্য মাস, অমাবস্যা, একাদশী, ঋতু-প্রসঙ্গ এবং সূর্যের কন্যা রাশিতে প্রবেশকালে করণীয় কর্ম। গুড়যুক্ত পায়স ও গুড়যুক্ত হবিষ্য অর্পণ, পিতৃদের আহ্বান-সংস্কার, ঘি-দই-দুধ প্রভৃতির পৃথক মন্ত্র, তারপর বিদ্বান বিপ্রভোজন ও পিণ্ডদান বলা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বলা হয়, এখানে বিধিপূর্বক শ্রাদ্ধ করলে পিতৃগণ দীর্ঘকাল তৃপ্ত হন এবং গয়া না গিয়েও গয়া-শ্রাদ্ধসম ফল লাভ হয়—এতে এই তীর্থের মুক্তিদায়িনী মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

देविकामाहात्म्य–मूलस्थानमाहात्म्यवर्णनम् (Devikā Māhātmya and the Glory of Mūlasthāna/Sūryakṣetra)
এই অধ্যায়ে শিব–দেবীর সংলাপ বর্ণিত। ঈশ্বর দেবিকা নদীর মনোরম তীরের কাছে ভাস্কর (সূর্য)‑সম্পর্কিত এক প্রসিদ্ধ স্থানের মাহাত্ম্য নির্দেশ করেন। দেবী জিজ্ঞাসা করেন—বাল্মীকি কীভাবে “সিদ্ধ” হলেন এবং কেন সপ্তর্ষিদের লুণ্ঠন করা হয়েছিল? তখন ঈশ্বর পূর্বকথা বলেন: ব্রাহ্মণ বংশে জন্ম নেওয়া এক পুত্র (কথায় বৈশাখ/বিশাখ) বৃদ্ধ পিতা‑মাতাকে ও সংসারকে রক্ষা করতে চুরির পথে যায়। তীর্থযাত্রায় সে সপ্তর্ষিদের দেখে ভয় দেখায়; কিন্তু ঋষিরা সমচিত্ত থাকেন। অঙ্গিরা নীতিপ্রশ্ন তোলেন—অধর্মে অর্জিত ধনের পাপভার কে ভাগ করে নেবে? চোর পিতা‑মাতা ও পরে স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলে তারা বলে, কর্মফল ভোগ করে কেবল কর্তা; পাপ ভাগ করা যায় না। এতে তার বৈরাগ্য জন্মায়। সে অপরাধ স্বীকার করে হিংসা/চৌর্যবৃত্তি ত্যাগের উপায় চায়। ঋষিরা চার অক্ষরের মন্ত্র “ঝাটঘোট” প্রদান করেন—গুরু‑আশ্রয়ে একাগ্রচিত্তে জপ করলে তা পাপনাশক ও মুক্তিদায়ক। দীর্ঘ জপ ও সমাধিতে সে স্থির হয়; কালক্রমে তার দেহ উইপোকার ঢিবি (ভাল্মীক) দ্বারা আবৃত হয়। পরে ঋষিরা ফিরে এসে ঢিবি খুঁড়ে তাকে উদ্ধার করেন, সিদ্ধি দেখে “বাল্মীকি” নাম দেন এবং রামায়ণ রচনার প্রেরণাময় বাক্শক্তির ভবিষ্যদ্বাণী করেন। এরপর তীর্থভূগোল স্থির হয়—নিম গাছের মূলদেশে সূর্য ক্ষেত্রদেবতা রূপে অধিষ্ঠিত; স্থানটির নাম সূর্যক্ষেত্র ও মূলস্থান। এখানে স্নান, তিলজল তर्पণ ও শ্রাদ্ধে পিতৃউদ্ধার হয়; জলস্পর্শে পশুরও কল্যাণ বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট তিথিতে কৃত কর্মে কিছু চর্মরোগ উপশমের কথাও আছে। শেষে দেবদর্শন ও এই কাহিনি শ্রবণ মহাদোষনাশক বলে প্রশংসিত।

च्यवनादित्यमाहात्म्य—सूर्याष्टोत्तरशतनाम-माहात्म्यवर्णनम् (Cāvanāditya Māhātmya—The Glory of Sūrya’s 108 Names)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে বলেন যে প্রভাসখণ্ডে হিরণ্যার পূর্বদিকে ঋষি চ্যবন প্রতিষ্ঠিত চ্যবনার্ক নামে প্রসিদ্ধ শ্রেষ্ঠ সূর্যস্থানকে আশ্রয় করতে হবে। সপ্তমী তিথিতে ভক্ত শুচি হয়ে বিধিনিয়ম মেনে সূর্যের স্তব করবে এবং একাগ্রচিত্তে সূর্যের অষ্টোত্তরশত নাম (১০৮ নাম) পাঠ করবে—এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর দীর্ঘ নামমালা আসে, যেখানে সূর্যকে কালের নানা একক—কলা, কাষ্ঠা, মুহূর্ত, পক্ষ, মাস, অহোরাত্র, সংবৎসর—রূপে এবং ইন্দ্র, বরুণ, ব্রহ্মা, রুদ্র, বিষ্ণু, স্কন্দ, যম প্রভৃতি দেবতার সমতুল্য রূপে বর্ণনা করা হয়েছে; ধাতা, প্রভাকর, তমোনুদ, লোকাধ্যক্ষ ইত্যাদি বিশ্বকার্য-নিয়ন্তা রূপও প্রকাশিত। স্তোত্রের পরম্পরাও বলা হয়—শক্র উপদেশ দেন, নারদ গ্রহণ করেন, ধৌম্য যুধিষ্ঠিরকে প্রদান করেন, এবং যুধিষ্ঠির ইষ্টসিদ্ধি লাভ করেন। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে, নিত্য পাঠ—বিশেষত সূর্যোদয়ের সময়ে—ধনরত্ন-সমৃদ্ধি, সন্তানলাভ, স্মৃতি ও বুদ্ধির বৃদ্ধি, শোকনাশ এবং মনোবাসনা_toggle পূরণ করে; শাস্ত্রসম্মত নিয়মভক্তির ফল হিসেবে এগুলি প্রতিপাদিত।

च्यवनेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Cyavaneśvara
এই অধ্যায়ে শিব–দেবীর সংলাপে প্রভাসক্ষেত্রে অবস্থিত চ্যবনেশ্বর লিঙ্গের মাহাত্ম্য বলা হয়েছে; একে ‘সর্বপাপক-নাশক’ রূপে বর্ণনা করা হয়। এরপর ভৃগুবংশীয় ঋষি চ্যবনের পূর্বকথা আসে—তিনি প্রভাসে এসে কঠোর তপস্যা করতে করতে স্থাণুর মতো নিশ্চল হয়ে যান এবং ঢিবি, লতা ও পিঁপড়ায় আচ্ছাদিত হন। রাজা শর্যাতি বৃহৎ অনুচরবর্গসহ তীর্থযাত্রায় কন্যা সুকন্যাকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। সুকন্যা সখীদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে ঢিবির কাছে এসে ঋষির চোখকে দীপ্ত বস্তু ভেবে কাঁটা দিয়ে বিদ্ধ করে। ঋষির ক্রোধে রাজসেনায় দণ্ডরূপ বাধা নেমে আসে—মল-মূত্র ত্যাগে রুদ্ধতা-জাতীয় কষ্ট। অনুসন্ধানে সুকন্যা নিজের দোষ স্বীকার করে; শর্যাতি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। চ্যবন ক্ষমা দেন, তবে শর্ত রাখেন—সুকন্যাকে তাঁর সঙ্গে বিবাহ দিতে হবে; রাজা সম্মত হন। শেষে সুকন্যার আদর্শ সেবা বর্ণিত—তিনি নিয়ম, অতিথিসেবা ও ভক্তিতে তপস্বী স্বামীর পরিচর্যা করেন; তীর্থমাহাত্ম্যের সঙ্গে দায়বদ্ধতা, প্রায়শ্চিত্ত ও নিষ্ঠাসেবার নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

च्यवनेश्वर-माहात्म्यवर्णनम् (Chyavaneśvara Māhātmya—Narration of the Glory of Chyavana’s Lord/Shrine)
ঈশ্বর শুকন্যার কাহিনি বর্ণনা করেন। শুকন্যা শর্যাতির কন্যা এবং ঋষি চ্যবনের পত্নী। অরণ্যে দেবচিকিৎসক অশ্বিনীকুমারদ্বয় তাঁকে দেখে তাঁর রূপের প্রশংসা করে এবং বৃদ্ধ চ্যবনের অক্ষমতা দেখিয়ে স্বামীকে ত্যাগ করতে প্রলুব্ধ করতে চায়। কিন্তু শুকন্যা পতিব্রতা ধর্মে অটল থেকে স্বামীনিষ্ঠা ঘোষণা করে তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তখন অশ্বিনেরা বলে—তারা চ্যবনকে পুনরায় যুবক ও সুদর্শন করে দেবে; এরপর শুকন্যা তিনজনের মধ্যে যাকে ইচ্ছা স্বামী হিসেবে বেছে নিতে পারবেন। শুকন্যা এ কথা চ্যবনকে জানালে তিনি সম্মতি দেন। চ্যবন ও অশ্বিনেরা সরোবরের জলে প্রবেশ করে স্নান করে অল্পক্ষণে সমানভাবে দীপ্তিমান, যুবক রূপে বেরিয়ে আসে। শুকন্যা বিচক্ষণতায় নিজের প্রকৃত স্বামী চ্যবনকেই চিনে নিয়ে তাঁকেই বরণ করেন। চ্যবন সন্তুষ্ট হয়ে অশ্বিনদের বর চাইতে বলেন। তারা যজ্ঞে ভাগ ও সোমপানের অধিকার প্রার্থনা করে, যা ইন্দ্র নাকি তাদের দেননি। চ্যবন ঋষিশক্তিতে তাদের যজ্ঞাংশ ও সোমপানের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রুতি দেন। অশ্বিনেরা তৃপ্ত হয়ে প্রস্থান করে, আর চ্যবন-শুকন্যার গার্হস্থ্য জীবন পুনরায় সুস্থির ও সমৃদ্ধ হয়। অধ্যায়টি পতিব্রতা নীতি, ধর্মসম্মত চিকিৎসা এবং ঋষি-প্রাধান্যে আচারাধিকারের প্রতিষ্ঠা তুলে ধরে।

Chyavanena Nāsatyayajñabhāga-pratirodhaka-vajra-mocanodyata-śakra-nāśāya Kṛtyodbhava-Madonāma-mahāsurotpatti-varṇanam (Chyavaneśvara Māhātmya)
এই অধ্যায়ে ভৃগুবংশীয় ঋষি চ্যবনের আশ্রমে যজ্ঞকালে এক গুরুতর ধর্ম-তাত্ত্বিক সংঘাতের বর্ণনা আছে। চ্যবনের পুনরুজ্জীবিত তেজ ও সমৃদ্ধির কথা শুনে রাজা শর্যাতি পরিবার-পরিজনসহ সেখানে এসে সম্মানিত হন। চ্যবন রাজাকে উদ্দেশ করে যজ্ঞ সম্পাদনের প্রস্তাব দেন এবং আদর্শ যজ্ঞমণ্ডপ প্রস্তুত হয়। সোমবণ্টনের সময় চ্যবন অশ্বিনীকুমার (নাসত্য) দু’জনের জন্য সোমগ্রহ গ্রহণ করেন। ইন্দ্র আপত্তি তুলে বলেন—অশ্বিনরা চিকিৎসক এবং মর্ত্যলোকের মধ্যে বিচরণকারী, তাই অন্যান্য দেবতার মতো সোমভাগের অধিকারী নয়। চ্যবন ইন্দ্রকে তিরস্কার করে অশ্বিনদের দেবত্ব ও লোকহিতকারিতা প্রতিষ্ঠা করেন এবং সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেও আহুতি প্রদান করেন। তখন ক্রুদ্ধ ইন্দ্র বজ্র দিয়ে চ্যবনকে আঘাত করতে উদ্যত হলে চ্যবন তপোবলে ইন্দ্রের বাহু স্তব্ধ করে দেন। সংঘাত তীব্র করে চ্যবন মন্ত্রযুক্ত আহুতিতে কৃত্যা সৃষ্টি করেন; তাঁর তপস্যা থেকে ‘মদ’ নামে এক ভয়ংকর মহাসত্তা আবির্ভূত হয়—অতিবিশাল, জগৎ-আচ্ছাদিত গর্জনকারী, ইন্দ্রকে গ্রাস করতে ধাবমান। এই কাহিনি যজ্ঞে অধিকার, ঋত্বিকের কর্তৃত্ব এবং দেবীয় বলপ্রয়োগের নৈতিক সীমা নির্দেশ করে।

च्यवनेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Chyavaneśvara (Glory of the Chyavana-installed Liṅga)
এই অধ্যায়ে প্রভাস-ক্ষেত্রে চ্যবনেশ্বর নামে এক লিঙ্গের স্থান-মাহাত্ম্য ও পূজা-বিধান বর্ণিত। ঈশ্বরবাণীতে কাহিনি প্রবাহিত—ভয়ংকর শক্তির সম্মুখে শক্র (ইন্দ্র) ভীত, আর ভৃগুবংশীয় ঋষি চ্যবন দৃঢ় তপস্বী-প্রাধিকাররূপে সিদ্ধান্তদাতা। চ্যবনের কর্মের ফলেই অশ্বিনীকুমারদের সোমপানের অধিকার স্থির হয়; এটি আকস্মিক নয়, ঋষির প্রভাব প্রকাশ এবং সুকন্যা ও তাঁর বংশের স্থায়ী খ্যাতি প্রতিষ্ঠার জন্যই বিধৃত বলে বলা হয়েছে। এরপর বলা হয়, সুকন্যাসহ চ্যবন এই বনময় পুণ্যক্ষেত্রে বিহার করেন এবং পাপনাশক লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন—যা চ্যবনেশ্বর নামে প্রসিদ্ধ। এই লিঙ্গের যথাবিধি পূজায় অশ্বমেধযজ্ঞসম ফল লাভ হয়। অধ্যায়ে চন্দ্রমস-তীর্থের কথাও আছে, যেখানে বৈখানস ও বালখিল্য মুনিগণ সেবা করেন। পূর্ণিমায়, বিশেষত আশ্বিন মাসে, নিয়মমাফিক শ্রাদ্ধ করে ব্রাহ্মণদের পৃথকভাবে ভোজন করালে ‘কোটি-তীর্থ’ ফল প্রাপ্তি হয়। শেষে ফলশ্রুতি—এই পাপনাশিনী কাহিনি শ্রবণ করলে জন্মজন্মান্তরের সঞ্চিত পাপ থেকে মুক্তি লাভ হয়।

सुकन्यासरोमाहात्म्यवर्णनम् (Glorification of Sukanyā-saras)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে প্রভাস-ক্ষেত্রের অন্তর্গত শ্রেষ্ঠ তীর্থ ‘সুকন্যা-সরস’-এর কথা জানান। এখানে সুকন্যা, ঋষি চ্যবন ও অশ্বিনীকুমারদের প্রসিদ্ধ উপাখ্যানকে এই সরোবরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে—অশ্বিনদ্বয় চ্যবনের সঙ্গে এখানে অবগাহন করলে স্নানের প্রভাবে চ্যবনের রূপান্তর ঘটে এবং তিনি অশ্বিনদের ন্যায় দীপ্তিময় রূপ লাভ করেন। স্নান-প্রভাবেই সুকন্যার অভিলাষ সিদ্ধ হওয়ায় এই সরোবর ‘কন্যা-সরস’ নামেও স্মরণীয়—এভাবে নামের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পরে ফলশ্রুতির মতো করে বিশেষত নারীদের জন্য এখানে স্নানের মাহাত্ম্য বলা হয়েছে, বিশেষ করে তৃতীয়া তিথিতে; বহু জন্ম ধরে গৃহভঙ্গ/গৃহকলহ থেকে রক্ষা এবং দারিদ্র্য, অক্ষমতা বা অন্ধত্বযুক্ত স্বামী এড়ানোর মতো পুণ্যফল তীর্থসেবার বিধানরূপে উল্লেখিত।

अगस्त्याश्रम-गंगेश्वर-माहात्म्यवर्णनम् (Agastya’s Āśrama and the Glory of Gaṅgeśvara)
এই অধ্যায়ে শিব–দেবীর ধর্মসংলাপ তীর্থযাত্রার ধারায় বর্ণিত। ঈশ্বর দেবীকে ন্যাঙ্কুমতী নদীর পবিত্র স্থানে যেতে বলেন—গোষ্পদ নামক শ্রেষ্ঠ তীর্থে গয়া-শ্রাদ্ধ, বরাহ-দর্শন, তারপর হরির ধাম দর্শন, মাতৃগণের পূজা, এবং নদী–সমুদ্র সঙ্গমে স্নান। এরপর পূর্বদিকে ন্যাঙ্কুমতীর মনোরম তীরে দেবঋষি অগস্ত্যের আশ্রমের মাহাত্ম্য বলা হয়, যা ‘ক্ষুধা-হর’ ও পাপ-নাশক। দেবী জিজ্ঞাসা করেন—বাতাপি কেন দমন হল, অগস্ত্যের ক্রোধের কারণ কী। ঈশ্বর ইল্বল–বাতাপির কপট আতিথ্যের কাহিনি বলেন—তারা ব্রাহ্মণদের বারবার হত্যা করত এবং পুনর্জীবনের কৌশলে প্রতারণা চালাত; তখন ব্রাহ্মণরা অগস্ত্যের শরণ নেয়। প্রভাসে অগস্ত্য মেষরূপে প্রস্তুত বাতাপিকে ভক্ষণ করে তার পুনরুত্থান-যন্ত্রণা নষ্ট করেন এবং ইল্বলকে ভস্ম করেন; পরে ধনসমৃদ্ধ স্থান ব্রাহ্মণদের দান করেন—তাই সেই ক্ষেত্র ‘ক্ষুধা-হর’ নামে খ্যাত। দানব-ভক্ষণজনিত অশৌচ দূর করতে গঙ্গাকে আহ্বান করা হয়; গঙ্গা সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়ে অগস্ত্যকে পবিত্র করেন এবং সেই কারণে ‘গঙ্গেশ্বর’ লিঙ্গের নাম ও প্রতিষ্ঠা হয়। শেষে বলা হয়—গঙ্গেশ্বর দর্শন করে স্নান, দান ও জপ করলে নিষিদ্ধ ভক্ষণজনিত পাপ মোচন হয়; তীর্থ, বিধি ও স্মরণে প্রায়শ্চিত্ত সম্পন্ন হয়।

बालार्कमाहात्म्यवर्णन (Bālārka Māhātmya — Account of the Glory of Bālārka)
এই অধ্যায়ে প্রভাস-ক্ষেত্রের তীর্থযাত্রার প্রসঙ্গে দেবীকে উদ্দেশ করে ঈশ্বর উপদেশ প্রদান করেন। তিনি তীর্থযাত্রীকে ‘পাপ-নাশন’ বালার্ক তীর্থে যেতে বলেন এবং জানান যে এটি অগস্ত্য-আশ্রমের উত্তরে, খুব দূরে নয়। এরপর নামের কারণ বলা হয়—প্রাচীন কালে সূর্য (অর্ক) বালক-রূপ ধারণ করে সেখানে তপস্যা করেছিলেন, তাই স্থানটির নাম ‘বালার্ক’। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে, রবিবার সেখানে দর্শন করলে কুষ্ঠ প্রভৃতি রোগে ভোগ হয় না এবং শিশুদের রোগজনিত দুঃখও জন্মায় না। এভাবে পবিত্র ভূগোল, নাম-উৎপত্তি ও কালনির্ভর ভক্তির সঙ্গে যুক্ত আরোগ্যফল একত্রে বর্ণিত হয়েছে।

अजापालेश्वरीमाहात्म्यम् | Ajāpāleśvarī Māhātmya (Glory of Ajāpāleśvarī)
ঈশ্বর দেবীকে বলেন যে অগস্ত্য-স্থানের নিকটে ‘অজাপালেশ্বরী’ নামে এক অতি পুণ্য তীর্থ আছে। রঘুবংশের মহিমান্বিত রাজা অজাপাল সেখানে পাপ ও রোগনাশিনী দেবীর ভক্তিপূর্বক আরাধনা করেন। কাহিনিতে ‘অজা-রূপ’ (ছাগল-রূপ) বলে রূপকভাবে বর্ণিত ব্যাধির উপশম ও পাপক্ষয়ের প্রসঙ্গ উঠে আসে, এবং রাজা নিজের নামেই দেবীর প্রতিষ্ঠা করেন। এই অধ্যায়ে তীর্থের অবস্থান, রাজপৃষ্ঠপোষকতা ও দেবীমাহাত্ম্য একত্রে প্রকাশিত। শেষে ফলশ্রুতি—তৃতীয়া তিথিতে বিধিমতো ভক্তিসহ পূজা করলে বল, বুদ্ধি, যশ, বিদ্যা ও সৌভাগ্য লাভ হয়।

बालार्कमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Bālārka (the ‘Child-Sun’ Shrine)
ঈশ্বর দেবীকে পথনির্দেশের ভঙ্গিতে বলেন—অগস্ত্য-আশ্রমের পূর্বদিকে গব্যূতি-পরিমিত দূরত্বে বালাদিত্য/বালার্ক নামে প্রসিদ্ধ এক তীর্থস্থান আছে। অধ্যায়ে নিকটবর্তী স্থানচিহ্নগুলির উল্লেখ করা হয়, সপাটিকা-সম্পর্কিত অঞ্চলের কথাও আসে, এবং এই মন্দিরের খ্যাতি প্রকাশ পায়। এরপর কারণকথা—ঋষি বিশ্বামিত্র এই স্থানে বিদ্যা (পবিত্র জ্ঞানশক্তি)-র আরাধনা করেন, তিনটি লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন এবং রবি-রূপ দেবতাকে স্থাপন করেন। কঠোর সাধনায় তিনি সূর্যদেবের কাছ থেকে সিদ্ধি লাভ করেন; তখন থেকেই দেবতা বালাদিত্য/বালার্ক নামে প্রসিদ্ধ হন। ফলশ্রুতি বলে—যে ব্যক্তি এই ভাস্করকে, ‘পাপহরণকারী’ রূপে, দর্শন করে, সে জীবদ্দশায় দারিদ্র্যে কষ্ট পায় না; প্রভাস-তীর্থে দর্শনকেই বিশেষ পুণ্যকর্ম বলা হয়েছে।

पातालगंगेश्वर–विश्वामित्रेश्वर–बालेश्वर लिङ्गत्रयमाहात्म्य (Glory of the Three Liṅgas: Pātāla-Gaṅgeśvara, Viśvāmitreśvara, and Bāleśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে বলেন যে দক্ষিণ দিকে অল্প দূরে (গব্যূতি পরিমাপে) এক মহাপবিত্র তীর্থ আছে। সেখানে গঙ্গার ‘পাতালগামিনী’ প্রকাশ বিরাজমান, যা স্পষ্টভাবে পাপনাশিনী বলে বর্ণিত। এরপর বিশ্বামিত্র ঋষির কাহিনি বলা হয়—স্নানের উদ্দেশ্যে তিনি গঙ্গাকে আহ্বান করেছিলেন। সেই তীর্থে স্নান করলে সর্বপাপ থেকে মুক্তি লাভ হয়। পরে গঙ্গেশ্বর, বিশ্বামিত্রেশ্বর ও বালেশ্বর—এই তিন লিঙ্গের মাহাত্ম্য ঘোষিত; তাদের দর্শনে ইষ্টসিদ্ধি, পাপক্ষয় ও কামপ্রাপ্তি ফলরূপে প্রাপ্ত হয়।

Kuberanagarotpatti and Kubera-sthāpita Somanātha Māhātmya (Origin of Kuberanagara and the Glory of the Somanātha Liṅga Installed by Kubera)
এই অধ্যায়টি শিব–দেবীর সংলাপরূপ। শিব প্রভাসে ন্যঙ্কুমতী নদীতীরে এক উৎকৃষ্ট ক্ষেত্রের কথা বলেন, যেখানে পূর্বে কুবের ‘ধনদ’ পদ লাভ করেছিলেন। দেবী জিজ্ঞাসা করেন—এক ব্রাহ্মণ কীভাবে চোরসদৃশ কর্মে পতিত হয়েও পরে কুবের হতে পারে? তখন শিব দেবশর্মা নামক এক ব্রাহ্মণের পূর্বজীবনের কাহিনি বলেন—গৃহকর্মে আসক্ত হয়ে সে লোভে ধনসন্ধানে গৃহত্যাগ করে; তার স্ত্রীকে অস্থির নীতিরূপে দেখানো হয়েছে। তাদের পুত্র দুঃসহ প্রতিকূল অবস্থায় জন্ম নিয়ে পরে দুষ্কর্মে জড়িয়ে সমাজচ্যুত হয়। দুঃসহ শিবমন্দিরে চুরি করতে গিয়ে নিভু নিভু প্রদীপ ও সলতের প্রসঙ্গে অজান্তেই প্রদীপ-সেবার মতো পুণ্য করে ফেলে। মন্দির-সেবক তাকে দেখে ফেলে; সে ভয়ে পালায় এবং শেষে প্রহরীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়। পরে সে গন্ধারে সুদুর্মুখ নামে কুখ্যাত রাজা হয়ে জন্মায়; নীতিহীন হলেও বংশপরম্পরাগত লিঙ্গের অমন্ত্রক অভ্যাসগত পূজা করে এবং ঘনঘন প্রদীপদান করে। শিকারে বেরিয়ে পূর্বসংস্কারে প্রভাসে আসে, ন্যঙ্কুমতীতীরে যুদ্ধে নিহত হয়; শিবপূজার প্রভাবে তার পাপক্ষয় ঘটে বলে বলা হয়েছে। এরপর সে দীপ্তিমান বৈশ্রবণ (কুবের) রূপে জন্ম নিয়ে ন্যঙ্কুমতীর কাছে একটি লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে মহাদেবের বিস্তৃত স্তোত্র পাঠ করে। শিব প্রকাশ হয়ে তাকে সখ্য, দিকপাল পদ ও ধনাধিপত্যের বর দেন এবং স্থানটি ‘কুবেরনগর’ নামে খ্যাত হবে বলে ঘোষণা করেন। পশ্চিমে প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গটি ‘সোমনাথ’ (এখানে উমানাথ-সম্পর্কিত) নামে স্মরণীয়। ফলশ্রুতিতে বলা হয়—শ্রীপঞ্চমীতে বিধিমতো পূজা করলে সাত পুরুষ পর্যন্ত স্থায়ী লক্ষ্মী লাভ হয়।

भद्रकालीमाहात्म्यवर्णनम् (Bhadrakālī Māhātmya Description)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর ‘কৌবের-সঞ্জ্ঞক’ নামে পরিচিত স্থানের উত্তরে অবস্থিত ভদ্রকালী দেবীর তীর্থ/মন্দিরের পরিচয় দেন। দেবীকে বাঞ্ছিতার্থ-প্রদায়িনী বলা হয়েছে এবং তাঁকে বীরভদ্রসহ দক্ষযজ্ঞ-বিধ্বংসের কাহিনির সঙ্গে স্পষ্টভাবে যুক্ত করা হয়েছে—দক্ষের যজ্ঞভঙ্গের কার্য্যে তিনি প্রধান শক্তি। এরপর বিধান দেওয়া হয়—চৈত্র মাসের তৃতীয়া তিথিতে দেবীপূজা বিশেষভাবে করণীয়। চামুণ্ডা-রূপসমূহের বিস্তৃত আরাধনায় ভক্ত সৌভাগ্য, বিজয় এবং লক্ষ্মীর অধিষ্ঠান (সমৃদ্ধি) লাভ করে—এই ফলশ্রুতি দ্বারা অধ্যায়টি স্থান-চিহ্ন ও নির্দিষ্ট তিথিকে মিলিয়ে উপাসনার ব্যবহারিক নির্দেশ দেয়।

भद्रकालीबालार्कमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Bhadrakālī and Bālārka (Solar Installation)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর কৌরব-সঞ্জ্ঞক স্থানের পর উত্তর দিকের এক তীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। সেখানে দেবী ভদ্রকালী কঠোর তপস্যা করে পরম ভক্তিতে রবি/সূর্যের প্রতিষ্ঠা করেন। রবিবারে সপ্তমী তিথি মিললে বিশেষ পূজাকাল বলা হয়েছে। লাল ফুল ও লাল চন্দনাদি লেপ/অনুলেপনে অর্চনা প্রশস্ত। ভক্তিসহকারে পূজা করলে ‘কোটি-যজ্ঞফল’ লাভ হয় এবং বাত-পিত্তজনিত রোগসহ নানা ব্যাধি থেকে মুক্তি মেলে—এমন ফলশ্রুতি আছে। শেষে তীর্থফল সম্পূর্ণ করতে ইচ্ছুকদের সেই স্থানে অশ্বদান করার বিধান দেওয়া হয়েছে। এভাবে স্থান-উপাসনা, কাল-নিয়ম ও দানকে একত্রে ধর্মাচরণের পথ হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে।

कुबेरस्थानोत्पत्तौ कुबेरमाहात्म्यवर्णनम् (Origin of Kubera’s Station and its Māhātmya)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর কুবের-সম্পর্কিত এক বিশেষ পবিত্র স্থানের তত্ত্ববর্ণনা করেন। পবিত্র ক্ষেত্রের মানচিত্রে নৈঋত্য (দক্ষিণ-পশ্চিম) দিকে কুবেরস্থান নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যেখানে কুবেরের স্বয়ম্ভূ উপস্থিতি সর্বদারিদ্র্যনাশক বলে ঘোষিত। পঞ্চমী তিথিতে গন্ধ, পুষ্প ও অনুলেপন প্রভৃতি দ্বারা সেখানে বিশেষ পূজার বিধান আছে। স্থানটি আটটি মকর-সম্পর্কিত “নিধান” দ্বারা অলংকৃত বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট কাল, দ্রব্য ও স্থানের দেবতার সঙ্গে ভক্তিপূর্বক পূজা করলে নির্বিঘ্নে নিধি-প্রাপ্তি ও অতুল ধনসমৃদ্ধির ফল লাভ হয়।

Ajogandheśvara-māhātmya (अजोगन्धेश्वरमाहात्म्य) — The Glory of Ajogandheśvara at Puṣkara
এই অধ্যায়টি শিব–দেবীর সংলাপরূপ। ঈশ্বর দেবীকে কুবেরের অবস্থানের পূর্বদিকে অবস্থিত পবিত্র পুষ্কর-তীর্থের কথা বলেন। দেবী জানতে চান—একজন কৈবর্ত (জেলে), যে পাপাচারী ও মাছ-হত্যাকারী ছিল, সে কীভাবে সিদ্ধি লাভ করল। ঈশ্বর পূর্বকথা বলেন—মাঘ মাসে শীতে কষ্ট পেয়ে সে ভেজা জাল কাঁধে নিয়ে পুষ্করক্ষেত্রে প্রবেশ করে লতা-গাছে আচ্ছাদিত এক শৈব প্রাসাদ দেখে। উষ্ণতার জন্য সে প্রাসাদে উঠে ধ্বজস্তম্ভের শীর্ষে জাল মেলে রোদে শুকোতে দেয়; অসাবধানতা/মূর্ছায় পড়ে গিয়ে শিবক্ষেত্রেই হঠাৎ মৃত্যু হয়। কালের প্রবাহে সেই জাল ধ্বজকে বেঁধে শুভলক্ষণ হয়ে থাকে; ‘ধ্বজ-মাহাত্ম্য’ দ্বারা সে অবন্তীতে ঋতধ্বজ নামে রাজা হয়ে জন্মায়, রাজ্য করে, নানা দেশে ভ্রমণ করে ও রাজভোগ উপভোগ করে। পরে জাতিস্মর হয়ে সে প্রভাসক্ষেত্রে ফিরে এসে অজোগন্ধ-সম্পর্কিত মন্দিরসমূহ নির্মাণ/সংস্কার করে, এক কুণ্ডের নিকটে ‘অজোগন্ধেশ্বর’ নামে মহালিঙ্গ প্রতিষ্ঠা/সম্মান করে দীর্ঘকাল ভক্তিভরে পূজা করে। এখানে তীর্থবিধি বলা হয়েছে—পুষ্করের পশ্চিম কুণ্ড ‘পাপতস্কর’-এ স্নান, সেখানে ব্রহ্মার প্রাচীন যজ্ঞস্মরণ, তীর্থাবাহন, অজোগন্ধেশ্বর-লিঙ্গের প্রতিষ্ঠা/পূজা এবং শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণকে স্বর্ণপদ্ম দান। ফলশ্রুতি অনুযায়ী গন্ধ, ফুল ও অক্ষত দিয়ে যথাবিধি পূজা করলে সাত জন্মের সঞ্চিত পাপও নাশ হয়।

चन्द्रोदकतीर्थमाहात्म्य–इन्द्रेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Glory of Candrodaka Tīrtha and the Indreśvara Shrine)
ঈশ্বর দেবীকে ঈশান (উত্তর-পূর্ব) দিকে অবস্থিত এক পবিত্র ক্ষেত্রের কথা বলেন—গব্যূতি-পরিমিত দূরত্বে শ্রেষ্ঠ ইন্দ্রস্থান, যা চন্দ্রসরস ও চন্দ্রোদক জলের সঙ্গে যুক্ত। এই জলের মাহাত্ম্য হিসেবে জরা (ক্ষয়/বার্ধক্য) ও দারিদ্র্য নিবারণের কথা বলা হয়েছে। তীর্থটি শুক্লপক্ষে বৃদ্ধি পায় ও কৃষ্ণপক্ষে হ্রাস পায়, তবু পাপযুগেও এর দর্শন সম্ভব। সেখানে স্নানকে বহু পাপভারাক্রান্তের জন্যও অল্প চিন্তায় নিশ্চিত প্রায়শ্চিত্ত বলা হয়েছে। এরপর অহল্যা-প্রসঙ্গ ও গৌতমের শাপজনিত ইন্দ্রের গুরুতর দোষের স্মৃতি আসে। ইন্দ্র প্রচুর দানসহ পূজা করে সহস্র বছর শিবকে প্রতিষ্ঠা করেন; সেই প্রতিষ্ঠিত রূপ ‘ইন্দ্রেশ্বর’, সর্বাপরাধনাশক। শেষে তীর্থযাত্রার বিধি—চন্দ্রতীর্থে স্নান, পিতৃ ও দেবতাদের তৃপ্তির জন্য তर्पণ-অর্ঘ্য, তারপর ইন্দ্রেশ্বর পূজা; এতে নিঃসন্দেহে পাপমুক্তি লাভ হয়।

ऋषितोयानदीमाहात्म्यवर्णन (Māhātmya of the Ṛṣitoyā River)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর প্রভাসখণ্ডের এক পবিত্র তীর্থ ‘দেবকুল’-এর তত্ত্ববর্ণনা করেন। এটি আগ্নেয় দিকের গব্যূতি-পরিমিত দূরত্বে অবস্থিত; প্রাচীনকালে দেব ও ঋষিদের সমাবেশে এর মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পূর্বে প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গের প্রভাবে স্থানটি ‘দেবকুল’ নামে প্রসিদ্ধ ও প্রামাণ্য হয়। এরপর পশ্চিমদিকে ‘ঋষিদের প্রিয়া’ ঋষিতোয়া নদীর মাহাত্ম্য বলা হয়েছে—সে সর্বপাপহরিণী। বিধিপূর্বক স্নান করে পিতৃদের উদ্দেশ্যে তর্পণ-আদি করলে দীর্ঘকাল পিতৃসন্তোষ লাভ হয়—এমন বিধান দেওয়া হয়েছে। দানধর্মেও নির্দেশ আছে: আষাঢ় অমাবস্যায় স্বর্ণ, অজিন ও কম্বল দান করলে তার পুণ্য পূর্ণিমা পর্যন্ত ক্রমে বৃদ্ধি পেয়ে ষোলো গুণ হয়। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—এই তীর্থভূমিতে স্নান, তর্পণ ও দানে সাত জন্মের সঞ্চিত পাপও নাশ হয়ে মুক্তি লাভ হয়।

ऋषितोयामाहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Ṛṣitoyā at Mahodaya)
দেবী ঈশ্বরকে জিজ্ঞাসা করেন—‘ঋষিতোয়া’ নামে পবিত্র জলের উৎপত্তি ও মহিমা কী, এবং তা কীভাবে শুভ দেবদারুবনে এল। ঈশ্বর বলেন, বহু তপস্বী ঋষি স্থানীয় জলে মহা নদীগুলির মতো যজ্ঞ‑কর্মের আনন্দ না পেয়ে ব্রহ্মলোকে গিয়ে ব্রহ্মাকে স্রষ্টা‑পালক‑সংহারক রূপে স্তব করেন এবং অভিষেকের উপযোগী পাপনাশিনী নদী প্রার্থনা করেন। করুণাবশ ব্রহ্মা গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতী প্রভৃতি নদীদেবীদের একত্র করে কমণ্ডলুতে ধারণ করেন এবং পৃথিবীর দিকে প্রবাহিত করেন। সেই জলই ‘ঋষিতোয়া’ নামে খ্যাত—ঋষিপ্রিয় ও সর্বপাপহর—যা দেবদারুবনে এসে বেদজ্ঞ ঋষিদের নির্দেশে সমুদ্রাভিমুখে গমন করে। অধ্যায়ে বলা হয়েছে, ঋষিতোয়া সাধারণভাবে সুলভ হলেও মহোদয়, মহাতীর্থ এবং মূলচাণ্ডীশের নিকটে—এই তিন স্থানে তার বিশেষ দুর্লভ লাভ নির্দেশিত। স্নান ও শ্রাদ্ধের জন্য সময়ভেদে প্রবাহ‑সমতা দেওয়া হয়েছে—প্রাতে গঙ্গা, সায়ং যমুনা, মধ্যাহ্নে সরস্বতী ইত্যাদি; ফলশ্রুতি—পাপক্ষয় ও ইষ্টসিদ্ধি।

गुप्तप्रयागमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Gupta-Prayāga (Hidden Prayāga)
এই অধ্যায়ে পার্বতী প্রভাসক্ষেত্রে সঙ্গালেশ্বরের নিকটে তীর্থরাজ প্রয়াগ এবং গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতীর উপস্থিতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা চান। ঈশ্বর বলেন, পূর্বে লিঙ্গ-সম্পর্কিত এক দিব্য সভায় অসংখ্য তীর্থ সমবেত হয়েছিল; তাদের মধ্যে প্রয়াগ নিজেকে গোপন করে রাখে, তাই সে ‘গুপ্ত-প্রয়াগ’ নামে প্রসিদ্ধ হয়। এরপর পবিত্র ভূ-রচনার বর্ণনা দেওয়া হয়—পশ্চিমে ব্রহ্ম-কুণ্ড, পূর্বে বৈষ্ণব-কুণ্ড, মধ্যভাগে রুদ্র/শিব-কুণ্ড; এবং ‘ত্রি-সঙ্গম’ স্থানে গঙ্গা-যমুনার মিলনের মধ্যে সরস্বতীকে সূক্ষ্ম ও গোপন স্রোতরূপে বলা হয়েছে। গ্রন্থে নির্দিষ্ট কাল-নিয়মসহ স্নানের ক্রমশ শুদ্ধিতত্ত্ব বলা হয়েছে—মানসিক, বাক্যগত, শারীরিক, সম্পর্কগত, গোপন ও উপদোষ পর্যায়ক্রমে স্নানে ক্ষয় হয়; পুনঃপুন স্নান ও কুণ্ডাভিষেক মহাদোষও দূর করে। মাতৃগণের পূজা-অর্ঘ্য, বিশেষত কৃষ্ণপক্ষ চতুর্দশীতে, তাঁদের বহু অনুচরজনিত ভয় প্রশমনের জন্য বিধেয়। শ্রাদ্ধকে পিতৃ ও মাতৃ উভয় বংশের উন্নতির উপায় বলা হয়েছে, এবং তীর্থযাত্রার পূর্ণ ফল কামনাকারীদের জন্য বৃষদান সুপারিশ করা হয়েছে। শেষে ফলশ্রুতি—এই মাহাত্ম্য শ্রবণ ও শ্রদ্ধায় অনুমোদন করলে শঙ্করের ধামে গমনসাধনা হয়।

माधवमाहात्म्यवर्णनम् | Mādhava Māhātmya (Glorification of Mādhava at Prabhāsa)
ঈশ্বর প্রভাস-ক্ষেত্রের মধ্যে দক্ষিণদিকে সামান্য দূরে অবস্থিত মাধব-ধাম/মন্দিরের বর্ণনা দেন। সেখানে দেবতাকে শঙ্খ-চক্র-গদাধারী বিষ্ণুরূপে প্রতিপন্ন করা হয়েছে। শুক্লপক্ষের একাদশীতে জিতেন্দ্রিয় ভক্ত উপবাস করে চন্দন-গন্ধ, পুষ্প ও অনুলেপন দ্বারা বিধিপূর্বক পূজা করলে ‘পরম পদ’ লাভ হয়—যা পুনর্জন্মহীন অবস্থা (আপুনর্ভব) বলে কথিত। ব্রহ্মার গাথা আরও নিশ্চিত করে যে বিষ্ণুকুণ্ডে স্নান করে মাধবের আরাধনা করলে সরাসরি সেই ধামে গমন হয়, যেখানে হরি স্বয়ং পরম আশ্রয়। শেষে ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—এই বৈষ্ণব মাহাত্ম্য সকল পুরুষার্থ প্রদান করে এবং সর্বপাপ বিনাশ করে; এটি স্তোত্রস্বরূপ যেমন, তেমনি সংক্ষিপ্ত আচরণবিধিও।

संगालेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Sangāleśvara Māhātmya—Account of the Glory of Sangāleśvara)
এই অধ্যায়ে প্রভাস-ক্ষেত্রের উত্তরাংশে, বায়ব্য দিকসংলগ্ন স্থানে অবস্থিত সঙ্গালেশ্বর লিঙ্গের মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে, যা “সর্ব-পাপক-নাশক” বলে ঘোষিত। ঈশ্বর বলেন—ব্রহ্মা, বিষ্ণু, ইন্দ্র (শক্র) ও অন্যান্য লোকপাল, আদিত্য ও বসুগণ সেখানে লিঙ্গপূজা করেন। দেবসমাবেশের সংঘ ও প্রতিষ্ঠার কারণে পৃথিবীতে এই তীর্থ “সঙ্গালেশ্বর” নামে প্রসিদ্ধ হবে—এই নামকরণের কারণও বলা হয়েছে। মানুষের সঙ্গালেশ্বর পূজায় বংশে সমৃদ্ধি ও দারিদ্র্যহীনতা লাভ হয়। কেবল দর্শনই কুরুক্ষেত্রে সহস্র গোধন দানের সমফল বলে উল্লেখিত। অমাবস্যায় স্নান করে ক্রোধবর্জিতভাবে শ্রাদ্ধ করার বিধান আছে; তাতে পিতৃগণ দীর্ঘকাল তৃপ্ত থাকেন। ক্ষেত্রের পরিসীমা অর্ধ-ক্রোশ পরিক্রমা পর্যন্ত, যা কামনা-সিদ্ধি ও পাপ-ক্ষয়কারী। এখানে মৃত্যুবরণকারী জীব—উত্তম বা মধ্যম—উচ্চ গতি লাভ করে; উপবাস করে দেহত্যাগকারী পরমেশ্বরে লীন হয়। হিংসামৃত্যু, আকস্মিক মৃত্যু, আত্মহত্যা, সাপের দংশন, অশৌচ অবস্থায় মৃত্যু—এসবও এই মহাপুণ্য তীর্থে অপুনর্ভব (পুনর্জন্ম-নিবারণ) দান করতে সক্ষম বলা হয়েছে। শেষে ষোড়শ শ্রাদ্ধ, বৃষোৎসর্গ ও ব্রাহ্মণভোজনের দ্বারা মোক্ষের কথা এবং এই মাহাত্ম্য শ্রবণে পাপ, শোক ও দুঃখ নাশের ফলশ্রুতি প্রদান করা হয়েছে।

Siddheśvara-māhātmya (Glory of Siddheśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর–দেবীর সংক্ষিপ্ত তত্ত্বসংলাপ বর্ণিত। প্রভাসক্ষেত্রের তীর্থসমূহের মধ্যে সিদ্ধেশ্বরকে শ্রেষ্ঠ লিঙ্গস্থান বলে তার নিকটতা ও দিকনির্দেশসহ অবস্থান নির্দিষ্ট করা হয়েছে। দেবগণ দ্রুত ‘সঙ্গালেশ্বর’ নামে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন; পরে সিদ্ধগণ ‘সিদ্ধেশ্বর’কে সর্বসিদ্ধিদাতা রূপে প্রতিষ্ঠা করে স্তব করেন। শিবের বর—যে সাধক বিধিমতে সেখানে এসে স্নান করে, সিদ্ধনাথের পূজা করে এবং জপ করে, বিশেষত শতরুদ্রীয়, অঘোর মন্ত্র ও মহেশ্বর-গায়ত্রী—সে ছয় মাসের মধ্যে সিদ্ধি ও অণিমা প্রভৃতি শক্তি লাভ করে। আশ্বযুজ মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীর মহারাত্রিতে নির্ভয় ও স্থিরচিত্ত সাধকের বিশেষ সাফল্য বলা হয়েছে। শেষে ফলশ্রুতিতে একে পাপনাশক ও সর্বকামফলপ্রদ ঘোষণা করা হয়েছে।

गन्धर्वेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Gandharveśvara—Account of the Shrine’s Glory
ঈশ্বর দেবীকে বলেন যে প্রভাস-ক্ষেত্রে গন্ধর্বেশ্বর নামে এক মহিমান্বিত শিবতীর্থে গমন করতে হবে। সেখানে লিঙ্গটি উত্তর দিকের অংশে পাঁচ ধনুক দূরত্বে অবস্থিত—অধ্যায়টি তীর্থযাত্রীর জন্য পথনির্দেশও দেয়। এই স্থানের দর্শনে দর্শক ‘রূপবান’ হয়—দেহে সৌন্দর্য ও আকর্ষণ বৃদ্ধি পায় বলে বলা হয়েছে। লিঙ্গটি গন্ধর্বদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত, তাই এর পবিত্র উৎস বিশেষভাবে ঘোষিত। স্নান করে একবার যথাবিধি পূজা করলেই পূর্ণ ফল লাভ হয়—সকল কামনা পূর্ণ হয় এবং ‘রক্তকণ্ঠ’ নামে শুভ লক্ষণ প্রাপ্ত হয়।

Sangāleśvara–Uttareśvara Māhātmya (संगालेश्वरमाहात्म्य–उत्तरेश्वरमाहात्म्यवर्णनम्)
অধ্যায় ৩০৩-এ ঈশ্বর দেবীকে নির্দেশ দেন—উত্তরদিকে এক ‘উত্তম দেবতা’র কাছে গমন করতে, যার পূজা মহাপাতক-নাশিনী বলে বর্ণিত। সেই দেবতার পশ্চিমে এক শ্রেষ্ঠ লিঙ্গের কথা বলা হয়েছে, যা শेषনাগের নেতৃত্বে নাগগণ কঠোর তপস্যা করে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই নাগ-আরাধিত দেবতার উপাসনায় জীবদ্দশায় বিষের দোষ লাগে না এবং সাপেরা প্রসন্ন হয়ে ক্ষতি করে না—রক্ষামূলক ধর্মভাবই এখানে মুখ্য। তাই মানুষকে সর্বশক্তি দিয়ে সেই লিঙ্গের পূজা করতে বলা হয়েছে। পশ্চিম ভাগের পুণ্যময় গঙ্গাতীরে ঋষিরা বহু লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেছেন—এ কথাও উল্লেখ আছে। তাদের দর্শন ও পূজায় সর্বপাপ নাশ হয় এবং সহস্র অশ্বমেধ যজ্ঞসম পুণ্য লাভ হয়—এটাই অধ্যায়ের ফলশ্রুতি।

गंगामाहात्म्यवर्णनम् (Gaṅgā-Māhātmya near Saṅgāleśvara)
এই অধ্যায়ে সূত সংলাপের ভূমিকা রচনা করেন, আর ঈশ্বর পার্বতীকে প্রভাসক্ষেত্রে সঙ্গালেশ্বরের নিকটে ত্রিপথগামিনী গঙ্গার স্থানীয় প্রাকট্যের কথা জানান। পার্বতী দুটি বিস্ময় জিজ্ঞাসা করেন—গঙ্গা সেখানে কীভাবে এলেন এবং সেখানে ত্রিনেত্র মাছ কীভাবে আছে। ঈশ্বর কারণকথা বলেন: মহাদেব-সম্পর্কিত এক শাপপ্রসঙ্গে জড়িত কয়েকজন ঋষি পরে অনুতপ্ত হয়ে সঙ্গালেশ্বরে কঠোর তপস্যা ও পূজা করেন। তাঁদের ভক্তিতে প্রসন্ন শিব লোকের জন্য নিদর্শনস্বরূপ ত্রিনেত্র-চিহ্ন দান করেন এবং অভিষেকের জন্য গঙ্গাকে সেখানে প্রকাশিত হওয়ার বর দেন। সঙ্গে সঙ্গে গঙ্গা মাছসহ প্রकट হন; ঋষিদের দর্শনে সেই মাছগুলিও শিবানুগ্রহে ত্রিনেত্র হয়ে যায়। এরপর সাধনা ও ফল বলা হয়েছে: কুণ্ডে স্নান করলে পঞ্চপাতক থেকে মুক্তি মেলে। অমাবস্যায় স্নান করে ব্রাহ্মণকে স্বর্ণ, গাভী, বস্ত্র ও তিল দান করলে শিবকৃপাচিহ্নরূপ ‘ত্রিনেত্রত্ব’ লাভ হয়। শেষে বলা হয়, এই মাহাত্ম্য শ্রবণ করাও পুণ্যদায়ক ও ইষ্টফলপ্রদ।

Nārada-Āditya Māhātmya (Glory of Nāradaāditya)
এই অধ্যায়ে শিব–দেবীর তাত্ত্বিক সংলাপে প্রভাস অঞ্চলে অবস্থিত ‘নারদাদিত্য’ নামক সূর্যমন্দিরের মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়, এখানে সূর্যদর্শনে জরা (বার্ধক্য) ও দারিদ্র্য দূর হয়। দেবী প্রশ্ন করেন—নারদ মুনি কীভাবে জরাগ্রস্ত হলেন? শিব দ্বারাবতীর ঘটনা বলেন—কৃষ্ণপুত্র সাম্ব নারদকে যথোচিত সম্মান না করায় নারদ উপদেশ দেন; সাম্ব তপস্বীজীবনের নিন্দা করে ক্রোধে নারদকে জরার অধীন হওয়ার শাপ দেয়। জরায় কাতর নারদ এক পবিত্র নির্জন স্থানে গিয়ে মনোহর সূর্যপ্রতিমা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ‘সর্ব দারিদ্র্যনাশক’ সূর্যের স্তোত্র পাঠ করেন—তাঁকে ঋক্-সামরূপ, নির্মল জ্যোতি, সর্বব্যাপী কারণ ও তমোনাশক বলে বন্দনা করেন। সূর্য প্রসন্ন হয়ে প্রকাশিত হন এবং বর দেন—নারদ পুনরায় যৌবন লাভ করেন। আরও বলা হয়, রবিবারে সপ্তমী তিথি মিললে সেই দিনে সূর্যদর্শনে রোগভয় থেকে মুক্তি হয়। শেষে তীর্থের পাপনাশিনী শক্তি ফলশ্রুতিতে ঘোষিত।

सांबादित्यमाहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Sāmbāditya: Sāmba’s Sun-Worship at Prabhāsa)
ঈশ্বর প্রভাসক্ষেত্রের উত্তরভাগে অবস্থিত পাপনাশক তীর্থ ‘সাম্বাদিত্য’-র মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। জাম্ববতীর পুত্র সাম্ব পিতার ক্রোধজনিত শাপে কষ্ট পেয়ে বিষ্ণুর শরণ নেন। বিষ্ণু তাঁকে প্রভাসে ঋষিতোয়া নদীর মনোরম তীরে ব্রাহ্মণশোভিত ‘ব্রহ্মভাগ’-এ যেতে বলেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে সেখানে তিনি সূর্যরূপে বর প্রদান করবেন। সাম্ব সেখানে পৌঁছে ভাস্করকে বহু স্তোত্রে স্তব করেন এবং ঋষিতোয়া-তটে নারদের তপস্যাস্থান দর্শন করেন। স্থানীয় ব্রাহ্মণেরা ব্রহ্মভাগের পবিত্রতা নিশ্চিত করে তাঁর সংকল্প অনুমোদন করেন; তখন সাম্ব নিয়মিত পূজা ও তপস্যা করেন। বিষ্ণু দেবকার্যের ভেদ স্মরণ করান—রুদ্র ঐশ্বর্য দেন, বিষ্ণু মোক্ষ, ইন্দ্র স্বর্গ; জল-পৃথিবী-ভস্ম শোধক, অগ্নি রূপান্তরকারী, গণেশ বিঘ্নহর্তা—কিন্তু দিবাকরই বিশেষভাবে আরোগ্যদাতা। শাপের বাধায় সাধারণ বর সিদ্ধ না হওয়ায় বিষ্ণু সূর্যরূপে প্রকাশিত হয়ে সাম্বকে কুষ্ঠরোগ থেকে মুক্ত করে শুদ্ধি দেন। সাম্ব তীর্থে নিত্য সন্নিধি প্রার্থনা করলে সূর্য দেহশুদ্ধির আশ্বাস দিয়ে ব্রত নির্দেশ করেন—রবিবারে পতিত সপ্তমীতে উপবাস ও রাত্রিজাগরণ। ভক্তিভরে স্নান, রবিবারে সাম্বাদিত্য পূজা, এবং নিকটস্থ পাপনাশক কুণ্ডে শ্রাদ্ধ ও ব্রাহ্মণভোজন করলে আরোগ্য, ধন, সন্তান, মনোবাঞ্ছা পূরণ ও সূর্যলোকে সম্মান লাভ হয়; বংশে কুষ্ঠ ও পাপজনিত ব্যাধি জন্মায় না।

अपरनारायणमाहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Apara-Nārāyaṇa)
অধ্যায় ৩০৭-এ ঈশ্বর বলেন—পূর্বোক্ত সাম্বাদিত্য থেকে কিছুটা পূর্বদিকে ‘অপর-নারায়ণ’ নামে এক দিব্য তীর্থ/আধার আছে। সেখানে সূর্যকে বিষ্ণু-স্বরূপ বলা হয়েছে; ভক্তদের বরদান করতে ভগবান ‘অপর’ অর্থাৎ অন্য/অতিরিক্ত রূপ ধারণ করেন—এইভাবেই ‘অপর’ নামের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়। এরপর বিধান দেওয়া হয়—সেই স্থানে পুণ্ডরীকাক্ষের বিধিপূর্বক পূজা করতে হবে, বিশেষত ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীতে। ফলশ্রুতি স্পষ্ট: পাপক্ষয় হয় এবং সকল কাম্য ফল লাভ হয়; স্থান-দেবতা-তিথি-কর্ম-ফল—এই সংক্ষিপ্ত তীর্থাচরণ নির্দেশিত।

मूलचण्डीशोत्पत्तिमाहात्म्यवर्णनम् (Origin-Glory of Mūla-Caṇḍīśa and the Taptodaka Kuṇḍa)
ঈশ্বর দেবীকে জানান, কীভাবে ত্রিলোকে ‘মূলচণ্ডীশ’ লিঙ্গের মাহাত্ম্য প্রসিদ্ধ হল। দেবদারুবনে তিনি Ḍiṇḍি নামক ভিক্ষুক-তপস্বীর উসকানিমূলক রূপ ধারণ করলে ঋষিরা ক্ষুব্ধ হয়ে শাপ দেন; তার ফলে প্রধান লিঙ্গ পতিত হয়। শুভলক্ষণ নষ্ট হওয়ায় ব্যথিত ঋষিরা ব্রহ্মার শরণ নেন। ব্রহ্মা নির্দেশ দেন—কুবেরের আশ্রমের নিকটে গজরূপে অবস্থানরত রুদ্রের কাছে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে। পথে গৌরী করুণাবশে গোরস (দুধ) প্রদান করেন এবং ক্লান্তি নিবারণের জন্য এক উৎকৃষ্ট স্নানস্থান সৃষ্টি করেন; উষ্ণ জলের কারণে তা ‘তপ্তোদক কুণ্ড’ নামে খ্যাত হয়। শেষে ঋষিরা রুদ্রকে স্তব করে অপরাধ স্বীকার করে সকল জীবের মঙ্গল কামনা করেন। রুদ্র প্রসন্ন হয়ে লিঙ্গ পুনঃ প্রতিষ্ঠা/উন্নত করেন এবং ফলশ্রুতি বলেন—মূলচণ্ডীশ দর্শন মহৎ জলদান-কার্যের চেয়েও অধিক পুণ্যদায়ক; স্নানান্তে পূজা ও দানের বিধান আছে, যার দ্বারা শক্তি, প্রভাব ও রাজ্যসমৃদ্ধির কথা পুরাণীয় ভাষায় বলা হয়েছে। অধ্যায়ে নামের ব্যুৎপত্তি (চণ্ডীর ঈশ; পতনস্থানের ‘মূল’) এবং সঙ্গমেশ্বর, কুণ্ডিকা, তপ্তোদক প্রভৃতি তীর্থের উল্লেখও রয়েছে।

Caturmukha-Vināyaka Māhātmya (Glory of Four-Faced Vināyaka)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে সংক্ষিপ্ত তীর্থ-নির্দেশ ও পূজা-পদ্ধতি জানান। তিনি তীর্থযাত্রীকে চণ্ডীশের উত্তরে অবস্থিত ‘চতুর্মুখ’ নামক বিনায়কের মন্দিরে যেতে বলেন; ঈশান কোণের দিকে চার ধনু দূরত্বের দিক-দূরত্বও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সেখানে যত্নসহকারে ও মনোযোগ দিয়ে পূজা করতে বলা হয়েছে—গন্ধ, পুষ্প, ভক্ষ্য-ভোজ্য নিবেদন, বিশেষ করে মোদক অর্পণ। চতুর্থী তিথিতে পূজা করলে সিদ্ধি লাভ হয়; শৃঙ্খলাবদ্ধ ভক্তিতে বিঘ্ন নাশ হয় এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্য সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

कलंबेश्वरमाहात्म्य (Kalambeśvara Māhātmya) — The Glory of Kalambeśvara
অধ্যায় ৩১০-এ ঈশ্বরবাণীর মাধ্যমে প্রভাস-ক্ষেত্রে কলম্বেশ্বরের তীর্থস্থান নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এটি বায়ব্য (উত্তর-পশ্চিম) দিকে, ‘ধনুর্দ্বিতয়’ অর্থাৎ দুই ধনুক-দৈর্ঘ্য দূরত্বে অবস্থিত বলে বলা হয়। কলম্বেশ্বরের কেবল দর্শন ও পূজা করলেই সকল কিল্বিষ (নৈতিক অশুচিতা) দূর হয় এবং এটি সর্ব পাপ নাশকারী বলে ঘোষিত। সোমবারে অমাবস্যার সংযোগ সেখানে বিশেষ পুণ্যদায়ক। পুণ্যফল কামনাকারীদের সেখানে বিপ্রদের অন্নদান ও অতিথিসেবার মাধ্যমে দান করতে উপদেশ দেওয়া হয়েছে; শেষে একে প্রভাসখণ্ডের প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যের ‘কলম্বেশ্বরমাহাত্ম্য’ বলা হয়েছে।

गोपालस्वामिहरिमाहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Gopāla-svāmin Hari)
এই অধ্যায়ে সংক্ষিপ্ত তত্ত্বোপদেশমূলক ধর্মসংবাদ বর্ণিত। ঈশ্বর মহাদেবীকে গোপালস্বামী হরির মন্দিরে গমন করতে বলেন এবং স্থাননির্দেশ দেন—চণ্ডীশ থেকে পূর্বদিকে বিশ ধনু (ধনুক) দূরে সেই দেবালয় অবস্থিত। সেখানে হরির দর্শন ও পূজা সর্বপাপ প্রশমিত করে এবং দারিদ্র্যের তরঙ্গ নাশ করে—এমন পুরাণোক্ত ফল বলা হয়েছে। বিশেষত মাঘ মাসে পূজা ও জাগরণ (রাত্রিজাগরণ) করার নির্দেশ ও প্রশংসা আছে; এভাবে সাধন করলে ভক্ত পরম পদ লাভ করে।

Bakulsvāmi-Sūrya Māhātmya (बकुलस्वामिमाहात्म्यवर्णनम्) — The Glory of Bakulsvāmin as Sūrya
এই অধ্যায়ে ঈশ্বরের বচনে সংক্ষিপ্তভাবে তীর্থ-নির্দেশ ও ব্রতবিধান বলা হয়েছে। উত্তর দিকে ‘আট ধনুক’ দূরত্বে সূর্যরূপ বকুলস্বামীর মন্দির অবস্থিত; তাঁর দর্শন দুঃখ-শোক ও ক্লেশ নাশকারী বলে বর্ণিত। এরপর বিধান করা হয়েছে—রবিবারে যদি সপ্তমী তিথি পড়ে, তবে রাত্রি জাগরণ করতে হবে। এই ব্রতের ফলে সকল কামনা পূর্ণ হয় এবং সূর্যলোকে মান-সম্মান ও উচ্চপদ লাভ হয়। উপসংহারে স্কন্দমহাপুরাণের প্রভাসখণ্ড, প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্য অংশে ‘বকুলস্বামী-মাহাত্ম্য’ অধ্যায়ের উল্লেখ আছে।

उत्तरार्कमाहात्म्यवर्णनम् (Uttarārka Māhātmya—Description of the Glory of Uttarārka)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর-উবাচ রূপে প্রামাণ্য ধর্মোপদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রভাসক্ষেত্রের বায়ব্য (উত্তর-পশ্চিম) দিকে ষোলো ধনু দূরে অবস্থিত “উত্তরার্ক” নামক পবিত্র উপতীর্থের অবস্থান ও মাহাত্ম্য বর্ণিত। স্থানটিকে ‘সদ্যঃ প্রত্যয়কারক’ বলা হয়েছে—সাধকের কাছে তৎক্ষণাৎ ফলের প্রত্যক্ষ প্রমাণ দেয়। এখানে নিম্ব-সপ্তমী ব্রত/অনুষ্ঠানের বিধান উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তা পালন করলে সর্ব রোগ থেকে মুক্তি ও আরোগ্যলাভ হয়।

ऋषितीर्थसंगममाहात्म्यवर्णनम् (Glorification of the Ṛṣi-tīrtha Confluence)
ঈশ্বর-দেবী সংলাপে প্রভাস খণ্ডে সমুদ্রতটে দেবকুলাগ্নেয় গব্যূতিতে অবস্থিত ‘ঋষিতীর্থ’ নামক এক মহাপুণ্য তীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। স্থানটি অতিশয় মনোরম ও মহাপ্রভাবশালী; এখানে পাষাণাকৃতিতে অবস্থানকারী ঋষিগণকে মানুষ এখনও ‘দেখে’—এবং এই তীর্থ সর্বপাপবিনাশক বলে ঘোষিত। জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যায় শ্রদ্ধাবান ভক্তদের স্নান করা এবং বিশেষভাবে পিণ্ডদান করে পিতৃকার্য সম্পন্ন করার বিধান দেওয়া হয়েছে। ঋষিতোয়া-সঙ্গমে স্নান ও শ্রাদ্ধ দুর্লভ এবং অত্যন্ত ফলপ্রদ কর্ম বলে মান্য। এরপর গো-প্রদান প্রশংসিত হয়েছে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী ব্রাহ্মণদের ভোজন করানোর নির্দেশ আছে—যাতে তীর্থযাত্রা দানধর্ম ও অতিথিসেবার সঙ্গে যুক্ত হয়।

मरुदार्यादेवीमाहात्म्यवर्णनम् (Mārudāryā Devī Māhātmya—Glorification of the Goddess Mārudāryā)
এই অধ্যায়ে শিব–দেবী সংলাপের মধ্যে সংক্ষিপ্ত ক্ষেত্র-উপদেশ দেওয়া হয়েছে। ঈশ্বর মহাদেবীকে পশ্চিম দিকে অর্ধ-ক্রোশ দূরে অবস্থিত দীপ্তিমান তীর্থ ‘মারুদার্যা’য় গমন করতে বলেন। সেখানে দেবীকে মরুতগণ পূজা করেন এবং তাঁকে ‘সর্বকাম-ফলদাত্রী’ বলা হয়েছে। এরপর কাল ও বিধির নির্দেশ আসে—বিশেষত মহানবমীতে, এবং সপ্তমীতেও, গন্ধ-পুষ্প প্রভৃতি উপচারে যত্নসহকারে পূজা করতে বলা হয়। পুরাণ এখানে স্থান, সময় ও পদ্ধতির যোগসূত্র দেখিয়ে কাম্য ফল ও পুণ্যলাভের নিয়ন্ত্রিত ভক্তি-প্রয়োগ শিক্ষা দেয়।

क्षेमादित्यमाहात्म्यवर्णनम् / The Māhātmya of Kṣemāditya (Solar Shrine of Welfare)
এই অধ্যায়ে দেবকুলের নিকটে শম্বর-স্থানে, দেবকুল থেকে পাঁচ গব্যূতি দূরে ‘ক্ষেমাদিত্য’ নামে এক দেবপ্রতিষ্ঠার অবস্থান নির্দেশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তাঁর দর্শনমাত্রেই ভক্ত কল্যাণ ও ক্ষেম-সম্পর্কিত সিদ্ধি লাভ করে। আরও বলা হয়—যখন সপ্তমী তিথি রবিবারের সঙ্গে মিলে যায়, তখন সম্পন্ন পূজা সর্বকামদা, অর্থাৎ ইষ্টফলদায়িনী। শেষে এটিকে দেবকুল-তীর্থস্থিত উপদেশরূপ তীর্থ-মাহাত্ম্যবচন বলে নিরূপণ করা হয়েছে।

कंटकशोषिणीमाहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Goddess Kaṇṭakaśoṣiṇī)
ঈশ্বর দেবীকে প্রভাস-ক্ষেত্রের দিকনির্দেশিত এক স্থানে অধিষ্ঠিত দেবীর উৎপত্তিকথা শোনান। সেখানে পবিত্র নদীতীরে মহর্ষিদের মহাযজ্ঞ চলছিল—বেদপাঠের ধ্বনি, গান-বাদ্য, ধূপ-দীপ, হবি-আহুতি এবং বিদ্বান ঋত্বিকদের সুশৃঙ্খল আচার-অনুষ্ঠানে পরিবেশ পূত হয়ে ওঠে। এমন সময় মায়াবিদ্যায় পারদর্শী শক্তিশালী দৈত্যরা যজ্ঞভঙ্গের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হয়। ভয়ে অনেকে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে; কিন্তু অধ্বর্যু স্থিরচিত্তে রক্ষাহোম সম্পন্ন করেন। সেই পবিত্র আহুতি থেকে দীপ্তিময়ী শক্তি প্রকাশিত হন—অস্ত্রধারিণী, ভয়ংকর ও মহাতেজস্বিনী—এবং তিনি বিঘ্নকারীদের বিনাশ করে যজ্ঞের শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপন করেন। ঋষিরা দেবীর স্তব করেন; দেবী বর প্রদান করেন। তপস্বী ও যজ্ঞের কল্যাণার্থে তাঁরা দেবীর স্থায়ী নিবাস প্রার্থনা করলে দেবী সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ‘কণ্টকশোষিণী’ নামে খ্যাত হন—যিনি কণ্টকসদৃশ উপদ্রব শুষে নেন। শেষে অষ্টমী বা নবমী তিথিতে পূজাবিধান এবং ফলশ্রুতিতে রাক্ষস-পিশাচভয়নাশ ও পরম সিদ্ধিলাভের কথা বলা হয়েছে।

ब्रह्मेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Brahmeśvara Liṅga: Account of Its Sacred Efficacy
এই অধ্যায়ে প্রভাস-ক্ষেত্রের মানচিত্রসদৃশ বর্ণনার মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত তাত্ত্বিক নির্দেশ আছে। ঈশ্বর বলেন, মূল স্থানের খুব দূরে নয়—পূর্ব দিকের এক স্থানে এক মহাপ্রভাবশালী লিঙ্গ আছে, যা পাপক্ষয়কারী। সেই লিঙ্গের নাম ব্রহ্মেশ্বর, এবং তা ব্রাহ্মণদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত—এ কথা তার প্রতিষ্ঠা-পরম্পরার বৈধতা নির্দেশ করে। এখানে আচারক্রমও ইঙ্গিতিত: প্রথমে ঋষিতোয়া-জলে স্নান, তারপর ব্রহ্মেশ্বর লিঙ্গের পূজা। ফলশ্রুতিতে নৈতিক শুদ্ধির সঙ্গে জ্ঞানগত রূপান্তরও আছে—ভক্ত ‘বেদবিদ্’ হয়, যোগ্য ব্রাহ্মণত্ব লাভ করে এবং জাড্যভাব (মানসিক জড়তা/মন্দতা) থেকে মুক্ত হয়। ভূগোল, বিধি ও ফল—তিনটিই একসূত্রে গাঁথা।

उन्नतस्थानमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Unnata-Sthāna (The ‘Elevated Place’)
ঈশ্বর–দেবী সংলাপে শিব দেবীকে ঋষিতোয়া নদীতীরের নিকট উত্তরদিকে এক পুণ্যভূমি দেখান এবং সেখানে ‘উন্নত’ নামক স্থানের পরিচয় দেন। দেবী নামের ব্যুৎপত্তি, ব্রাহ্মণদের কাছে স্থানটি ‘বলপূর্বক’ দান হওয়ার কারণ, এবং সীমানা জানতে চান। শিব বলেন—‘উন্নত’ নামের বহুস্তর কারণ আছে: মহোদয়ে লিঙ্গের উত্থিত/প্রকাশিত হওয়া, প্রভাস-সম্পর্কিত ‘উন্নত দ্বার’, এবং ঋষিদের শ্রেষ্ঠ তপস্যা ও বিদ্যার ফলে স্থানের উৎকর্ষ। এরপর অসংখ্য তপস্বী ঋষি দীর্ঘকাল তপস্যা করেন। শিব ভিক্ষুকরূপে আবির্ভূত হন; চিনে ফেললেও শেষে ঋষিরা কেবল মূলচণ্ডীশ লিঙ্গেরই দর্শন পান। সেই দর্শনে অনেকে স্বর্গে গমন করে, ফলে আরও ঋষি আসতে থাকেন। তখন ইন্দ্র (শতক্রতু) বজ্র দিয়ে লিঙ্গ আচ্ছাদিত করে অন্যদের দর্শন রুদ্ধ করেন। ক্রুদ্ধ ঋষিদের শিব শান্ত করেন, স্বর্গের অনিত্যতা বোঝান এবং এমন এক সুন্দর বসতি গ্রহণ করতে বলেন যেখানে অগ্নিহোত্র, যজ্ঞ, পিতৃ-পূজা, অতিথিসেবা ও বেদাধ্যয়ন অব্যাহত থাকবে—এবং জীবনের শেষে কৃপায় মুক্তির প্রতিশ্রুতি দেন। বিশ্বকর্মাকে নির্মাণের জন্য ডাকা হয়; তিনি বলেন, গৃহস্থদের লিঙ্গ-অঞ্চলের একেবারে নিকটে স্থায়ী বাস করা উচিত নয়। তাই শিব ঋষিতোয়া তীরে উন্নতে নির্মাণের আদেশ দেন। ‘নগ্নহর’সহ দিকচিহ্ন ও আট যোজন পরিমিত পবিত্র ক্ষেত্রের বর্ণনা আসে। কলিযুগে রক্ষার জন্য মহাকালকে রক্ষক, উন্নতকে বিঘ্নরাজ/গণনাথ ও ধনদাতা, দুর্গাদিত্যকে আরোগ্যদাতা, এবং ব্রহ্মাকে পুরুষার্থ ও মুক্তিদাতা বলা হয়েছে। শেষে স্থলকেশ্বর প্রতিষ্ঠা, যুগভেদে মন্দিরের বর্ণনা, এবং মাঘ মাসের শুক্ল চতুর্দশীতে রাত্রিজাগরণসহ বিশেষ ব্রত নির্দেশিত হয়।

लिंगद्वयमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of the Pair of Liṅgas
ঈশ্বর-দেবী সংলাপে এই অধ্যায়ে পবিত্র ক্ষেত্রের অগ্নেয় দিকে অবস্থিত অতি পুণ্যদায়ক লিঙ্গদ্বয়ের মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়, বিশ্বকর্মা এই যুগল লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন; নগর নির্মাণের জন্য ত্বষ্টা আগমন করে প্রথমে মহাদেবকে প্রতিষ্ঠা করেন, তারপর নগর গড়ে ওঠে এবং লিঙ্গদ্বয় (পুনঃ) প্রতিষ্ঠিত হয়—এতে নগর-শৃঙ্খলা ও পবিত্র প্রতিমা-প্রতিষ্ঠার পারস্পরিক সম্পর্ক প্রকাশ পায়। পরবর্তীতে কাহিনি থেকে বিধান-উপদেশে গিয়ে বলা হয়েছে—কর্মের শুরুতে ও শেষে, বিশেষত যাত্রা ও বিবাহ-যাত্রা/বরযাত্রার সময়, লিঙ্গদ্বয়ের পূজা তৎক্ষণাৎ ফলদায়ক। সুগন্ধি দ্রব্য, অমৃতসদৃশ তরল এবং নানা নৈবেদ্য যথাযথভাবে অর্পণ করতে বলা হয়েছে; এটিকে নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সতর্ক ও উদ্দেশ্যপূর্ণ ভক্তির নৈতিক নির্দেশ হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে।

उन्नतस्थाने ब्रह्ममाहात्म्यवर्णनम् (The Glorification of Brahmā at Unnata-sthāna)
এই অধ্যায়ে শিব–দেবীর সংলাপ। ঈশ্বর মানুষের পাপহরণকারী এক গূঢ় ও শ্রেষ্ঠ তীর্থ ‘উন্নত-স্থান’-এর কথা বলেন এবং সেখানে ব্রহ্মার মাহাত্ম্য প্রকাশ করেন। দেবী প্রশ্ন করেন—এখানে ব্রহ্মা কেন শিশুরূপ, অন্যত্র তো তাঁকে বৃদ্ধরূপে বর্ণনা করা হয়; তিনি স্থানটির অবস্থান, ব্রহ্মার সেখানে আগমনের কারণ, এবং পূজার যথাযথ বিধি ও সময় জানতে চান। ঈশ্বর জানান—ঋষিতোয়ার নিকটে ব্রহ্মার প্রধান আসন; আর প্রভাসক্ষেত্রে ত্রিবিধ পূজাস্থানবিন্যাস আছে: শুভ নদীতটে ব্রহ্মা, অগ্নিতীর্থে রুদ্র, এবং মনোরম রৈবতক পর্বতে হরি (দামোদর)। কাহিনিতে সোমের প্রার্থনায় ব্রহ্মা উন্নত-স্থানে আট বছরের বালকরূপে আবির্ভূত হন; কেবল দর্শনেই ভক্তেরা পাপমুক্ত হয়। এরপর উপদেশমূলক স্তব—ব্রহ্মার সমান কোনো দেবতা, গুরু, জ্ঞান বা তপস্যা নেই; পিতামহের প্রতি ভক্তিতেই সংসারদুঃখ থেকে মুক্তি লাভ হয়। শেষে বলা হয়—প্রথমে ব্রহ্মকুণ্ডে স্নান করে, তারপর ফুল, ধূপ প্রভৃতি উপচারে বালব্রহ্মার পূজা করতে হবে।

दुर्गादित्यमाहात्म्यवर्णनम् (Durgāditya Māhātmya—Account of the Glory of Durgāditya)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে দক্ষিণদিকে অবস্থিত “দুর্গাদিত্য” নামে এক পবিত্র তীর্থের কথা বলেন, যা সর্বপাপহর বলে খ্যাত। এর উৎপত্তিকথায় বলা হয়েছে—দুঃখনাশিনী দেবী দুর্গা একসময় ক্লেশে আক্রান্ত হয়ে মুক্তির জন্য সূর্যদেবকে তুষ্ট করতে দীর্ঘ তপস্যা করেন। তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে দিবাকর দর্শন দেন এবং বর প্রার্থনা করতে বলেন। দেবী নিজের দুঃখনাশ প্রার্থনা করলে সূর্যদেব ভবিষ্যদ্বাণী করেন—শীঘ্রই ভগবান ত্রিপুরান্তক (শিব) এক উচ্চ ও শুভ স্থানে উৎকৃষ্ট লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করবেন, এবং সেই স্থানে আমার নাম হবে “দুর্গাদিত্য”; এ কথা বলে তিনি অন্তর্ধান করেন। শেষে বিধান দেওয়া হয়েছে—রবিবারে সপ্তমী তিথি পড়লে দুর্গাদিত্যের পূজা করলে সব দুঃখ প্রশমিত হয় এবং কুষ্ঠসহ নানা চর্মরোগ নিবারিত হয়।

Kṣemeśvara Māhātmya (क्षेमेश्वरमाहात्म्य) — The Glory of Kṣemeśvara
শিব–দেবীর উপদেশমূলক সংলাপে ঈশ্বর দেবীকে পূর্বে উল্লিখিত পুণ্যস্থানের ‘দক্ষিণে’, ঋষিতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত এক তীর্থের দিকে দৃষ্টি দিতে বলেন। সেই স্থানটি ক্ষেমেশ্বর নামে পরিচিত; নামের ধারাবাহিকতাও রক্ষিত—প্রাচীনকালে এটি ভূতীশ্বর নামে খ্যাত ছিল, আর কলিযুগে ক্ষেমেশ/ক্ষেমেশ্বর নামে ঘোষিত। অধ্যায়ের সাধনা-নির্দেশ সংক্ষিপ্ত ও তীর্থযাত্রামুখী: কেবল দর্শন (দর্শন) এবং পরে পূজা করলেই ভক্ত সকল কিল্বিষ (পাপ/অশুচি) থেকে মুক্ত হয়। উপসংহারে একে স্কন্দমহাপুরাণের ৮১,০০০ শ্লোকসংহিতার প্রভাস খণ্ডে, প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যের অন্তর্গত ‘ক্ষেমেশ্বরমাহাত্ম্য-বর্ণন’ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

गणनाथमाहात्म्यवर्णनम् (Glorification and Ritual Protocol of Gaṇanātha/Vināyaka at Prabhāsa)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে প্রভাসের উত্তরভাগে, বায়ব্য (উত্তর-পশ্চিম) দিক-উপখণ্ডে অবস্থিত গণনাথ/বিনায়ক-স্থানের মাহাত্ম্য ও পূজাবিধি জানান। এই বিনায়ককে “সর্বসিদ্ধিদাতা” বলা হয়েছে; আরও বলা হয়, তিনি পূর্বে ধনদ (কুবের)-এর সহচর ছিলেন এবং এখন গণনাথ-রূপে নিধি-রক্ষক হয়ে জীবদের সাফল্য দান করার জন্য সেখানে প্রতিষ্ঠিত। এরপর সময়নির্দিষ্ট সংক্ষিপ্ত আচার বলা হয়েছে—যখন চতুর্থী তিথি ভৌমবার (মঙ্গলবার)-এর সঙ্গে মিলে যায়, তখন ভক্ষ্য, ভোজ্য ও মোদকাদি নৈবেদ্য দিয়ে বিধিপূর্বক পূজা করতে হবে। ফলশ্রুতিতে ঘোষণা করা হয়েছে, এইরূপ যথাবিধি আরাধনায় নিশ্চিত সিদ্ধি ও অবশ্যম্ভাবী সাফল্য লাভ হয়।

उन्नतस्वामिमाहात्म्यवर्णनम् (Uṇṇatasvāmi Māhātmya—Description of the Glory of Unnatasvāmi)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে নির্দেশ দেন—ঋষিদের পবিত্র জলে সঞ্জাত, মনোরম নদীতীরে অবস্থিত বিনায়কের শ্রেষ্ঠ তীর্থে গমন করতে। সেখানে দেবতা গণেশ/গণনাথ, দেবগণের নেতা; ত্রিপুর-সংহারী মহাশক্তির সঙ্গে তাঁর ঐক্য দেখিয়ে শৈব ভাবধারায় তাঁর মহিমা বর্ণিত হয়েছে। প্রভাসের মহাক্ষেত্রে তিনি উন্নত গজরূপে বিরাজমান, অগণিত গণ দ্বারা পরিবৃত। যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ভক্তদের সর্বশক্তিতে তাঁর পূজা করা উচিত; প্রতিদিন পুষ্প, ধূপ প্রভৃতি নিবেদন করার বিধান আছে। চতুর্থী তিথিতে সমবেত আচরণের কথাও বলা হয়েছে—নগরবাসীরা বারংবার চতুর্থীতে মহোৎসব পালন করবে, যাতে রাষ্ট্রকল্যাণ (রাষ্ট্রক্ষেম) হয় এবং সকল কাজে সিদ্ধি লাভ হয়।

Mahākāla-māhātmya (महाकालमाहात्म्य) — The Glory of Mahākāleśvara
এই অধ্যায়ে প্রভাস-ক্ষেত্রের তীর্থযাত্রার পথে ঈশ্বর দিকনির্দেশ দেন। ভক্তকে উত্তরদিকে অবস্থিত মহাকালেশ্বরের স্থানে অগ্রসর হতে বলা হয়েছে; তিনি ‘সর্ব-রক্ষা-কর’ পরম রক্ষক রূপে বর্ণিত। এই তীর্থসংলগ্ন নগর/বসতির অধিষ্ঠাতা হিসেবে রুদ্ররূপ ভৈরবকে ক্ষেত্রপাল বলা হয়েছে, ফলে তীর্থের মাহাত্ম্য রক্ষণমুখী শৈব তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত হয়। দর্শ (অমাবস্যা) ও পূর্ণিমায় ‘মহাপূজা’ করার বিধান দেওয়া হয়েছে—তীর্থাচরণে ক্যালেন্ডার-শৃঙ্খলার গুরুত্ব বোঝানো হয়। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে, মহোদয় কালে স্নান করে মহাকালের দর্শন করলে ভক্ত ‘সাত হাজার জন্ম’ পর্যন্ত ধন-সমৃদ্ধি লাভ করে।

महोदयमाहात्म्यवर्णनम् | The Glorification of Mahodaya Tīrtha
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর ঈশান দিকস্থিত মহোদয় তীর্থের মাহাত্ম্য ও বিধি উপদেশ দেন। তীর্থযাত্রীকে মহোদয়ে গিয়ে শাস্ত্রবিধি অনুযায়ী স্নান করতে হবে এবং পরে পিতৃ ও দেবতাদের উদ্দেশে তর্পণ করতে হবে। বলা হয়েছে, মহোদয় বিশেষভাবে কার্যকর তাদের জন্য যারা নৈতিকভাবে সংবেদনশীল লেনদেনে জড়িয়ে ‘প্রতিগ্রহ’ (দান গ্রহণ) থেকে উৎপন্ন দোষে আক্রান্ত; এই তীর্থসেবকের মনে ভয় জন্মায় না। দ্বিজদের জন্য এটি মহা-আনন্দদায়ক, এবং ইন্দ্রিয়বিষয়ে আসক্ত বা প্রতিগ্রহজালে আবদ্ধ লোকেরও মুক্তিমুখী ফলের প্রতিশ্রুতি দেয়। মহাকালের উত্তরে স্থানরক্ষায় মাতৃগণ অবস্থান করেন; স্নানের পর তাঁদের পূজা করা উচিত। শেষে বলা হয়, অভিষেকের দ্বারা মহোদয় পাপনাশক ও মোক্ষদায়ক; তীর্থক্ষেত্র প্রায় অর্ধ-ক্রোশ বিস্তৃত, আর কেন্দ্রভাগ ঋষিদের চিরপ্রিয় পুণ্যস্থান।

संगमेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् / Description of the Glory of Saṅgameśvara
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর সংক্ষিপ্তভাবে এক ধর্মীয় আচার-বিধান বলেন। তিনি বায়ব্য দিকস্থিত সঙ্গমেশ্বরকে পাপ-নাশক শৈব তীর্থ ও ঋষিদের মিলনস্থল রূপে ঘোষণা করে তার মহিমা ও পবিত্রতা প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর নিকটবর্তী পূর্বদিকে ‘কুণ্ডিকা’ নামে এক পুণ্য সরোবরের কথা বলা হয়েছে, যা পাপহরিণী; সেখানে সরস্বতীকে বডবানল-শক্তিসংযুক্ত রূপে আগমনকারী বলা হয়। বিধান—প্রথমে কুণ্ডিকায় স্নান, তারপর সঙ্গমেশ্বরের পূজা। ফলশ্রুতিতে বহু জন্ম ধরে ঐশ্বর্য ও প্রিয় সন্তান থেকে বিচ্ছেদ না হওয়া এবং জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল পাপের সম্পূর্ণ ক্ষয় প্রতিশ্রুত।

उन्नतविनायकमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Unnata-Vināyaka (the Exalted Gaṇeśa)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর প্রভাস-ক্ষেত্রে “উত্তমস্থান” নামে প্রসিদ্ধ এক পুণ্যস্থান নির্দেশ করেন। এটি এক নির্দিষ্ট দিব্য পরিসরের উত্তরে, স্থানীয় দূরত্ব-পরিমাপে অবস্থিত বলে বর্ণিত। তারও উত্তরে বারো ধনু ব্যবধানে “উন্নত বিঘ্নরাজ” প্রতিষ্ঠিত, যিনি সর্বপ্রকার প্রতিবন্ধকতা নাশ করেন (সর্ব-প্রত্যূহ-নাশন)। চতুর্থী তিথিতে সুগন্ধি দ্রব্য, ফল এবং মধুর নৈবেদ্য (মোদক প্রভৃতি) দিয়ে তাঁর পূজার বিধান বলা হয়েছে। এই পূজার ফলে ভক্তের বাঞ্ছিত কামনা পূর্ণ হয় এবং “ত্রৈলোক্য-বিজয়” সদৃশ সর্বত্র জয়লাভের সিদ্ধি প্রাপ্ত হয়—এটি ফলশ্রুতি-রূপে নিশ্চিত করা হয়েছে।

तलस्वामिमाहात्म्यवर्णनम् | The Glory of Taptodaka-Talāsvāmin (Talāsvāmi Māhātmya)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর তত্ত্বোপদেশের মাধ্যমে এক উচ্চভূমির উত্তরে প্রায় তিন যোজন দূরে অবস্থিত এক পবিত্র তীর্থের নির্দেশ দেন। সেখানে তপ্তোদক-সম্পর্কিত তপ্তকুণ্ড এবং দেবতা তালাস্বামীর মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। পূর্বকালের স্মৃতি হিসেবে বলা হয়—দীর্ঘ সংঘর্ষের পর দানবদের নেতা তালাস্বামীকে বিষ্ণু বধ করেছিলেন। এই কাহিনি তীর্থবিধিতে পরিণত হয়—সাধককে তপ্তকুণ্ডে স্নান করে তালাস্বামীর বিধিপূর্বক পূজা করতে হবে এবং পিণ্ডদানও করতে হবে। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে, এতে কোটিযাত্রার সমতুল্য মহাপুণ্য লাভ হয়; ফলে স্থাননির্দেশ, পৌরাণিক বৈধতা ও আচারবিধি একত্রে একটি স্বতন্ত্র তীর্থরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়।

कालमेघमाहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Kāla-Megha)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে ‘কালমেঘ’ নামে এক পবিত্র তীর্থক্ষেত্রের মাহাত্ম্য উপদেশ দেন। ভক্তকে সেখানে গমন করতে বলা হয় এবং পূর্বদিকে লিঙ্গরূপে প্রকাশিত এক ক্ষেত্রপ/ক্ষেত্রপাল (রক্ষক দেবতা)-এর অবস্থান নির্দেশ করা হয়। পূজাবিধি তিথিনির্ভর—বিশেষত অষ্টমী বা চতুর্দশীতে বলি-অর্ঘ্যসহ সেই লিঙ্গের পূজা করতে বলা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে দেবতা ভক্তের বাঞ্ছিতার্থ প্রদান করেন এবং কলিযুগে তাঁকে কল্পবৃক্ষসম সহজলভ্য ফলদাতা বলা হয়েছে। উপসংহারে এটি স্কন্দমহাপুরাণের প্রভাসখণ্ডে প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যের প্রথম ভাগের ৩৩১তম অধ্যায় বলে উল্লেখিত।

रुक्मिणीमाहात्म्यवर्णनम् | Rukmiṇī Māhātmya (Glorification of Rukmiṇī and the Hot-Water Kuṇḍa)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর প্রভাস-ক্ষেত্রের দুটি পরস্পর-সংযুক্ত পবিত্র স্থানের কথা বলেন—দক্ষিণ দিকে নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থিত তপ্তোদক-কুণ্ডসমূহ এবং পূর্ব দিকে নির্ধারিত ব্যবধানে প্রতিষ্ঠিতা দেবী রুক্মিণী। তপ্তোদক-কুণ্ডকে শুদ্ধির তীর্থরূপে বর্ণনা করা হয়েছে; বলা হয়েছে, এটি ‘কোটি-হত্যা’ প্রভৃতি ঘোর পাপও বিনাশ করতে সক্ষম। আচারক্রম নির্দিষ্ট—প্রথমে তপ্ত জলে স্নান, তারপর দেবী রুক্মিণীর সম্পূর্ণ পূজা। রুক্মিণীকে সর্বপাপহারিণী, মঙ্গলদায়িনী ও ভক্তদের কল্যাণদাত্রী বলা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে গৃহস্থজীবনের স্থিতি প্রতিশ্রুত—বিশেষত নারীদের ক্ষেত্রে সাত জন্ম পর্যন্ত গৃহভঙ্গ বা দাম্পত্য-গৃহের বিচ্ছেদ ঘটে না, এমন পুণ্যফল ঘোষিত।

मधुमत्यां पिङ्गेश्वर-भद्रा-सङ्गम-माहात्म्यवर्णनम् (Glorification of Pingeshvara and the Bhadrā Confluence at Madhumatī)
ঈশ্বর প্রভাস-ক্ষেত্রে ভদ্রা নদীর তীর ও সমুদ্রসন্নিধানে অবস্থিত তীর্থগুলির ক্রম বর্ণনা করেন। সেখানে দুর্বাসেশ্বর নামে এক প্রসিদ্ধ লিঙ্গের কথা বলা হয়েছে, যা মহাপবিত্র ও সুখদায়ক ফল প্রদান করে। অমাবস্যায় স্নান করে পিতৃদের উদ্দেশে পিণ্ডদান করলে পিতৃগণ দীর্ঘকাল তৃপ্ত হন—এমনই প্রতিপাদন। ঋষিদের প্রতিষ্ঠিত বহু লিঙ্গ দর্শন, স্পর্শ ও পূজায় যাত্রীদের দোষক্ষয় হয়। এরপর ক্ষেত্রসীমার স্থানগুলি নির্দিষ্ট করা হয়েছে—পরিধিতে মধুমতী এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে খণ্ডঘট। সমুদ্রতটে পিঙ্গেশ্বর অবস্থিত; সেখানে সাতটি কূপের উল্লেখ আছে, উৎসবকালে পিতৃদের ‘হাত’ দৃশ্যমান হয় বলে কথিত, যা শ্রাদ্ধের মাহাত্ম্যকে বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠা করে। এখানে সম্পাদিত শ্রাদ্ধ গয়ার তুলনায় বহুগুণ ফলদায়ক বলা হয়েছে। শেষে ভদ্রা-সঙ্গম (পূর্ব-পশ্চিম বিন্যাসসহ) নির্দেশ করে তার পুণ্যকে গঙ্গাসাগরের সমতুল্য বলা হয়েছে।

तलस्वामिमाहात्म्यवर्णनम् (Talasvāmi Māhātmya: Origin Legend and Pilgrimage Rite)
এই অধ্যায়ে দেবী ঈশ্বরকে জিজ্ঞাসা করেন—আগে উল্লিখিত “তল”-এর পতনের কারণ কী এবং কেন তালস্বামীর মাহাত্ম্য প্রসিদ্ধ। ঈশ্বর গোপন উৎপত্তিকথা বলেন—মহেন্দ্র নামে এক ভয়ংকর দানব দীর্ঘ তপস্যায় দেবতাদের জয় করে মহাবিধ্বংসী দ্বন্দ্ব কামনা করে। তখন রুদ্রের দেহস্থিত অগ্নিশক্তি থেকে “তল” নামক সত্তা আবির্ভূত হয়; রুদ্রবীর্যে বলবান তল মহেন্দ্রকে পরাজিত করে নৃত্য করে, আর সেই নৃত্যের তাণ্ডবে তিন লোক কেঁপে ওঠে, অন্ধকার নামে, জীবেরা ভয়ে কাঁপে। দেবতারা রুদ্রের শরণ নিলে রুদ্র বলেন—তল তাঁর “পুত্র”, তাই অবধ্য; এবং তাঁদের প্রভাসক্ষেত্রে তপ্তোদক-কুণ্ডের নিকটে, স্তুতিস্বামী-সংযুক্ত স্থানে হৃষীকেশ বিষ্ণুর কাছে পাঠান। বিষ্ণু তলের সঙ্গে মল্লযুদ্ধে প্রবৃত্ত হন, ক্লান্ত হয়ে রুদ্রকে অনুরোধ করেন তপ্তোদকের উষ্ণতা ফিরিয়ে দিতে; রুদ্র তৃতীয় নয়নে কুণ্ড উত্তপ্ত করেন, বিষ্ণু স্নান করে শক্তি ফিরে পান এবং তলকে পরাজিত করেন। তল হাসতে হাসতে বলে—অশুদ্ধ অভিপ্রায় থাকলেও সে বিষ্ণুর পরম পদ লাভ করেছে; বিষ্ণু বর দেন। তল প্রার্থনা করে—তার খ্যাতি স্থায়ী হোক এবং মাৰ্গশীর্ষ শুক্ল একাদশীতে ভক্তিভরে বিষ্ণুদর্শনে পাপ নাশ হোক। শেষে তীর্থের শক্তি বলা হয়—পাপনাশ, ক্লান্তি-নিবারণ, গুরুতর পাপেরও প্রায়শ্চিত্ত; সেখানে নারায়ণের সান্নিধ্য ও শৈব ক্ষেত্রপাল “কালমেঘ”-এর উপস্থিতি উল্লেখিত। তীর্থযাত্রা-বিধি—তালস্বামী রূপে বিষ্ণুস্মরণ, সহস্রশীর্ষ মন্ত্রাদি জপ, স্নান, অর্ঘ্য, গন্ধ-পুষ্প-বস্ত্র দ্বারা পূজা, অভ্যঙ্গদ্রব্য, নৈবেদ্য, ধর্মশ্রবণ, রাত্রিজাগরণ, যোগ্য বৈদিক ব্রাহ্মণকে বৃষভ/স্বর্ণ/বস্ত্র দান, উপবাস ও রুক্মিণীকে প্রণাম। ফলশ্রুতিতে কুণ্ডস্নান ও তালস্বামীদর্শনে পিতৃউদ্ধার, বহু জন্মে পুণ্যবৃদ্ধি এবং বহু যজ্ঞসম ফলের কথা বলা হয়েছে।

शंखावर्त्ततीर्थमाहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Śaṅkhāvartta Tīrtha)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে স্থানের সূক্ষ্ম নির্দেশ দেন। তীর্থযাত্রীকে পশ্চিমদিকে ন্যঙ্কুমতী নদীর শুভ তটে গিয়ে তারপর দক্ষিণে ‘শঙ্খাবর্ত্ত’ নামে মহাতীর্থে পৌঁছতে বলা হয়েছে। সেখানে চিত্রাঙ্কিত শিলা আছে, যা স্বয়ম্ভূ ‘রক্তগর্ভা’ উপস্থিতির সঙ্গে যুক্ত; শিলা কাটা হলেও লালচিহ্ন রয়ে যায়—ভূদৃশ্যে পবিত্রতার স্থায়িত্বের নিদর্শন। এ স্থানকে বিষ্ণু-ক্ষেত্র বলা হয়েছে। প্রাচীন কাহিনিতে বিষ্ণু বেদ-অপহারী ‘শঙ্খ’কে বধ করেছিলেন; সেই ঘটনার সঙ্গে তীর্থের উৎপত্তি যুক্ত। জলাশয়কে শঙ্খাকৃতি বলা হয়েছে, ফলে নামের কারণ ও মহিমা প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলশ্রুতিতে বলা হয়—এখানে স্নান করলে ব্রহ্মহত্যার ভার মোচন হয়, এবং শূদ্রও ক্রমে ব্রাহ্মণ-জন্ম লাভ করে। এরপর পূর্বদিকে রুদ্রগয়া গমন করতে হবে; পূর্ণ তীর্থফল কামনায় সেখানে গোদান করতে বলা হয়েছে—শুদ্ধি, পুণ্য ও দান এক পথেই সম্পূর্ণ হয়।

गोष्पदतीर्थमाहात्म्यवर्णनम् (The Glory of Goṣpada Tīrtha)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর ও দেবীর সংলাপরূপে প্রভাসক্ষেত্রের এক গোপন অথচ অত্যন্ত ফলদায়ক তীর্থ—ন্যাঙ্কুমতী নদী-পরিসরে অবস্থিত গোস্পদতীর্থ এবং সংশ্লিষ্ট ‘প্রেতশিলা’র মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। এখানে শ্রাদ্ধের ফল ‘গয়ার সাতগুণ’ বলা হয়েছে এবং দৃষ্টান্ত হিসেবে রাজা পৃথুর শ্রাদ্ধে পাপী রাজা বেনের উদ্ধারকথা এসেছে। দেবী তীর্থের উৎপত্তি, বিধি, মন্ত্র ও যোগ্য পুরোহিতের লক্ষণ জানতে চান; ঈশ্বর বলেন, এ শিক্ষা রহস্য, কেবল শ্রদ্ধাবানদেরই প্রদানীয়। এরপর শুচিতা, ব্রহ্মচর্য, আস্তিক্য, নাস্তিক-সঙ্গ বর্জন, শ্রাদ্ধসামগ্রী প্রস্তুতি, ন্যাঙ্কুমতীতে স্নান, দেব-তর্পণ ও পিতৃ-তর্পণের ক্রমবিধান দেওয়া হয়েছে। অগ্নিষ্বাত্ত, বর্ষিষদ, সোমপ প্রভৃতি পিতৃদেবতার আহ্বান করে পরিচিত-অপরিচিত পূর্বপুরুষ, দুর্গতিতে পতিত আত্মা এবং অন্য যোনিতে গমনকারী পূর্বজদের জন্যও বিস্তৃত পিণ্ডদান নির্দেশিত; পায়স, মধু, সক্তু, পিষ্টক, চরু, শস্য, মূল-ফলাদি অর্ঘ্য, গোদান-দীপদান, প্রদক্ষিণা, দক্ষিণা ও পিণ্ড-বিসর্জনের কথাও আছে। ইতিহাসাংশে বেনের অধর্মশাসন, ঋষিদের দ্বারা তার নিধন, নিষাদ ও পৃথুর উদ্ভব, পৃথুর রাজত্ব এবং ‘পৃথিবী দোহন’ প্রসঙ্গ বর্ণিত। বেনের পাপের কারণে সাধারণ তীর্থসমূহ শ্রাদ্ধ গ্রহণে সংকুচিত হলে, দিব্য নির্দেশে পৃথু প্রভাসে গোস্পদতীর্থে এসে বিধিপূর্বক কর্ম সম্পন্ন করে বেনকে মুক্তি দেন। শেষে এই তীর্থের কাল-নিয়মের শৈথিল্য, শুভ তিথি-অবসরের উল্লেখ এবং এই রহস্য কেবল আন্তরিক সাধকদের নিকটেই প্রকাশের নির্দেশ পুনরুক্ত হয়েছে।

न्यंकुमतीमाहात्म्ये नारायणगृहमाहात्म्यवर्णनम् | Narāyaṇa-gṛha: Glory and Observances near Nyankumatī
ঈশ্বর দেবীকে বলেন—গোষ্পদ নামক স্থানের দক্ষিণে, পুণ্য সমুদ্রতটে, পাপহারিণী ন্যঙ্কুমতীর নিকটে ‘নারায়ণগৃহ’ নামে এক পরম তীর্থ আছে। সেখানে কেশব কল্পান্তর পর্যন্ত স্থায়ীভাবে বিরাজ করেন; দুষ্টশক্তি বিনাশ করে এবং কলিযুগে পিতৃদের উদ্ধারের জন্য তিনি এই ‘গৃহে’ বিশ্রাম নেন—এই কারণেই স্থানটি জগতে প্রসিদ্ধ। চার যুগে ভগবানের নামভেদও বলা হয়েছে—কৃতে জনার্দন, ত্রেতায় মধুসূদন, দ্বাপরে পুণ্ডরীকাক্ষ এবং কলিতে নারায়ণ। ফলে তীর্থটি চার যুগেই ধর্ম-ব্যবস্থার স্থির কেন্দ্ররূপে প্রতিষ্ঠিত। একাদশীতে নিরাহার থেকে যে ভক্ত দর্শন করে, সে হরির ‘অনন্ত’ পরম পদ লাভ করে—এমন ফলশ্রুতি আছে। তীর্থস্নান ও শ্রাদ্ধের বিধান দেওয়া হয়েছে এবং উত্তম ব্রাহ্মণকে পীতবস্ত্র দান করতে বলা হয়েছে। শেষে শ্রবণ বা পাঠ করলে শুভ সদ্গতি প্রাপ্তির কথা ঘোষিত।

Jāleśvara-liṅga-prādurbhāvaḥ (Origin and Glory of Jāleśvara at the Devikā Riverbank)
ঈশ্বর দেবিকা নদীর তীরে অবস্থিত এক দীপ্তিমান লিঙ্গের কথা বলেন, যার নাম জালেশ্বর; নাগকন্যারা তা পূজা করে এবং কেবল স্মরণ করলেই ব্রহ্মহত্যার মতো মহাপাপ নাশ হয় বলে বলা হয়েছে। দেবী নামের উৎপত্তি ও সেই তীর্থে সংযোগের ফল জানতে চান। ঈশ্বর প্রাচীন ইতিহাস বর্ণনা করেন—প্রভাসে ঋষি আপস্তম্ব জলমধ্যে তপস্যা ও ধ্যানে নিমগ্ন ছিলেন। জেলেরা বড় জাল ফেলে অজান্তে তাঁকে জল থেকে টেনে তোলে; পরে তারা অনুতাপে কাঁদতে কাঁদতে ক্ষমা প্রার্থনা করে। ঋষি করুণা ও ধর্মের কথা ভেবে বলেন, তাঁর পুণ্য যেন লোককল্যাণে লাগে এবং তাদের অপরাধ তিনি নিজে গ্রহণ করুন। রাজা নাভাগ মন্ত্রী-পুরোহিতসহ এসে জেলেদের ‘মূল্য’ দিয়ে ক্ষতিপূরণ করতে চান, কিন্তু ঋষি ধনকে মূল্য মানেন না। লোমশ ঋষি বলেন, যথার্থ মূল্য গাভী; আপস্তম্ব গোর পবিত্রতা, পঞ্চগব্যের শুদ্ধি, গো-রক্ষা ও নিত্য পূজার ধর্ম ব্যাখ্যা করেন। জেলেরা গাভী দান করলে ঋষি আশীর্বাদ দেন—তারা জল থেকে তোলা মাছগুলির সঙ্গেও স্বর্গে গমন করবে; উদ্দেশ্য ও কল্যাণই মুখ্য। নাভাগ সাধুসঙ্গের মাহাত্ম্য ও রাজদর্প ত্যাগের উপদেশ পেয়ে দুর্লভ ‘ধর্মবুদ্ধি’ বর চান ও লাভ করেন। শেষে ঈশ্বর বলেন, ঋষিই লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন; জালে পড়ার কারণে নাম হয় ‘জালেশ্বর’। জালেশ্বরে স্নান-পূজা, মাহাত্ম্য শ্রবণ, বিশেষত চৈত্র শুক্ল ত্রয়োদশীতে পিণ্ডদান এবং বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণকে গোদান মহাপুণ্যদায়ক বলে নির্দেশিত।

Huṁkāra-kūpa Māhātmya (The Glory of the Well Filled by the Huṁkāra)
ঈশ্বর মহাদেবীকে দেবিকা নদীর মনোরম তীরে অবস্থিত ‘ত্রিলোক-বিশ্রুত’ হুঙ্কার-কূপের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। সেখানে দেবিকার তীরে তণ্ডী নামে এক মুনি অটল শিবভক্তিতে তপস্যা করতেন। এক অন্ধ, বৃদ্ধ হরিণ গভীর, জলশূন্য কূপে পড়ে যায়। মুনি করুণায় বিচলিত হলেও তপোনিয়ম ভঙ্গ না করে বারবার ‘হুঁ’ ধ্বনি—হুঙ্কার উচ্চারণ করেন; সেই শব্দশক্তিতে কূপ জলপূর্ণ হয় এবং হরিণটি কষ্টে বেরিয়ে আসে। তারপর হরিণটি মানবদেহ ধারণ করে মুনিকে জিজ্ঞাসা করে—এমন কর্মফল কীভাবে প্রকাশ পেল। সে জানায়, এই তীর্থের প্রভাবে এখানেই সে হরিণযোনি লাভ করেছিল এবং এখান থেকেই আবার মানুষ হয়েছে—অন্য কোনো কারণ নেই। মুনি পুনরায় হুঙ্কার করলে কূপ আবার জলভরে ওঠে; তিনি স্নান ও পিতৃতর্পণ করে স্থানটিকে শ্রেষ্ঠ তীর্থ জেনে পরাগতি লাভ করেন। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—আজও সেখানে হুঙ্কার করলে জলধারা উদ্ভূত হয়। যে ভক্ত সেখানে যায়, পূর্বে পাপাচারী হলেও, পৃথিবীতে আর মানবজন্ম পায় না। যে স্নান করে শুদ্ধ হয়ে শ্রাদ্ধ করে, সে সর্বপাপমুক্ত হয়, পিতৃলোকে সম্মানিত হয় এবং অতীত-ভবিষ্যৎ মিলিয়ে সাত বংশকে উদ্ধার করে।

चण्डीश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Glorification of Caṇḍīśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে বলেন যে প্রভাসক্ষেত্রে চণ্ডীশ্বর নামে এক মহালিঙ্গ বিরাজমান, যা সর্ব পাপ ও অপরাধ নাশকারী। ভক্তিভরে তার দর্শন ও পূজায় মহাপুণ্য এবং অন্তঃশুদ্ধি লাভ হয়। এরপর তিনি বিধান দেন—কার্ত্তিক মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্দশীতে উপবাস করে রাত্রিতে জাগরণ করতে হবে। এই ব্রত পালন করলে সাধক পাপমুক্ত হয়ে মহেশ্বরের পরম পদ লাভ করে—এই ফলশ্রুতিতে অধ্যায়টি সমাপ্ত।

आशापूरविघ्नराजमाहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Āśāpūra Vighnarāja)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর বায়ব্য (উত্তর-পশ্চিম) দিকস্থিত ‘আশাপূর বিঘ্নরাজ’ তীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। এই স্থানকে ‘অকল্মষ’ (নিষ্কলুষ) ও ‘বিঘ্ননাশক’ বলা হয়েছে; দেবতার ‘আশাপূরক’ নামের অর্থ—ভক্তদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণকারী। তীর্থের প্রভাব উদাহরণে প্রতিষ্ঠিত—রাম, সীতা ও লক্ষ্মণ সেখানে গণেশ/বিঘ্নেশের পূজা করে অভীষ্ট লাভ করেন। চন্দ্রও গণাধিপের আরাধনা করে কাম্য বর পান; বিশেষত সকল প্রকার কুষ্ঠ (ত্বক্রোগ) নাশ হয়ে আরোগ্যলাভের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। বিধান অনুযায়ী ভাদ্রপদ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থীতে দেবপূজা করে মোদকসহ ব্রাহ্মণদের ভোজন করাতে হবে। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—বিঘ্নরাজের কৃপায় ইচ্ছিত সিদ্ধি লাভ হয়; এবং ক্ষেত্ররক্ষা ও যাত্রীদের বিঘ্ন অপসারণের জন্য ঈশ্বর তাঁকে নিয়োজিত করেছেন।

Chandreśvara–Kalākuṇḍa Tīrtha Māhātmya (चंद्रेश्वरकलाकुण्डतीर्थमाहात्म्य)
অধ্যায় ৩৪২-এ প্রভাসখণ্ডের অন্তর্গত ঈশ্বর স্থানবিশেষের উপদেশ দেন। দক্ষিণ–নৈঋত্য দিকে অল্প দূরে সোম (চন্দ্র) স্বয়ং প্রতিষ্ঠিত পাপহার লিঙ্গ ‘চন্দ্রেশ/চন্দ্রেশ্বর’ রূপে বর্ণিত। তার নিকটে পবিত্র জলাশয় ‘অমৃত-কুণ্ড’, যা ‘কলা-কুণ্ড’ নামেও প্রসিদ্ধ। এখানে আচারের ক্রম নির্দিষ্ট—প্রথমে কুণ্ডে স্নান, তারপর চন্দ্রেশ্বরের পূজা। এই বিধি পালন করলে সহস্র বছরের তপস্যার ফল লাভ হয় বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, চন্দ্র নির্মিত একটি তড়াগ আছে—ষোলো ধনু পরিমিত বিস্তৃত—এবং চন্দ্রেশের তুলনায় পূর্ব–পশ্চিম অভিমুখে অবস্থিত; ফলে অংশটি তীর্থ-মানচিত্রের মতো পথনির্দেশ করে। উপসংহারে এটিকে প্রভাসক্ষেত্র-মাহাত্ম্যের আশাপূরা-মাহাত্ম্য ধারায় স্থাপিত বলা হয়েছে।

कपिलधाराकपिलेश्वरमाहात्म्ये कपिलाषष्ठीव्रतविधानमाहात्म्यवर्णनम् (Kapiladhārā–Kapileśvara Māhātmya and the Procedure/Glory of the Kapilā-Ṣaṣṭhī Vrata)
এই অধ্যায়টি শিব–দেবী সংলাপরূপে বিন্যস্ত। প্রথমে দিকনির্দেশ ও তীর্থ-সংক্রান্ত ভূগোলের মাধ্যমে কপিলেশ্বর ও কপিলক্ষেত্রের অবস্থান নির্ণয় করা হয়; পরে ঋষি কপিলের দীর্ঘ তপস্যা ও মহেশ্বর-প্রতিষ্ঠার পুরাকথা দ্বারা ক্ষেত্রের মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। সমুদ্র-সংযুক্ত পবিত্র স্রোত ‘কপিলধারা’কে পুণ্যবানদের কাছে প্রত্যক্ষগম্য বলা হয়েছে। মূল নির্দেশ ‘কপিলা-ষষ্ঠী’ ব্রত—দুর্লভ তিথি-সংযোগে নির্ধারিত। ক্ষেত্রের মধ্যে বা সূর্য-সম্পর্কিত স্থানে স্নান, জপ, নির্দিষ্ট দ্রব্যে সূর্যকে অর্ঘ্য, প্রদক্ষিণ এবং কপিলেশ্বরের নিকটে পূজার ক্রম বর্ণিত। এরপর কুম্ভ-বিন্যাস, সূর্যচিহ্ন/প্রতিমা সহ দান এবং বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণকে প্রদান করার বিধান আছে। শেষে ফলশ্রুতিতে সঞ্চিত পাপক্ষয়, মহাযজ্ঞসম পুণ্য ও বহু তীর্থ-দানের তুল্য মহাফল ঘোষিত হয়েছে।

जरद्गवेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Jaradgaveśvara Māhātmya (Glorification of Jaradgaveśvara)
অধ্যায় ৩৪৪-এ প্রভাসক্ষেত্রের মধ্যে দেবীকে ঈশ্বর তীর্থ-নির্দেশ প্রদান করেন। পাপহর লিঙ্গ ‘জরদ্গবেশ্বর’-এর মাহাত্ম্য বলা হয়েছে—এটি জরদ্গব কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এবং কপিলেশ্বরের নিকটে দিকনির্দেশসহ অবস্থিত। এই স্থানে দর্শন ও পূজার দ্বারা ব্রহ্মহত্যা প্রভৃতি মহাপাপ এবং সংশ্লিষ্ট দোষ নাশ হয় বলে ঘোষণা করা হয়েছে। একই স্থানে নদীদেবী অংশুমতীর উপস্থিতির কথাও আছে। বিধিপূর্বক স্নান করে পিণ্ডদান (পিতৃ-অর্ঘ্য) করার বিধান দেওয়া হয়েছে; ফলে পিতৃগণের দীর্ঘকাল তৃপ্তি লাভ হয়। পাশাপাশি বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণকে বৃষভ-দান করার প্রশংসা করা হয়েছে। গন্ধ-পুষ্প অর্পণ, পঞ্চামৃতাভিষেক, গুগ্গুলু ধূপ, এবং নিত্য স্তব, প্রণাম ও প্রদক্ষিণার মাধ্যমে ভক্তিপূর্বক সাধনা বর্ণিত। নানা খাদ্যে ব্রাহ্মণভোজন করানোকে ধর্ম বলা হয়েছে এবং বহুগুণ পুণ্যফলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তীর্থটির নাম কৃতযুগে ‘সিদ্ধোদক’ এবং কলিযুগে ‘জরদ্গবেশ্বর-তীর্থ’—এই যুগভিত্তিক নামস্মৃতি সংরক্ষিত।

नलेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Naleśvara Māhātmya—Account of the Glory of Naleśvara)
এই অধ্যায়ে প্রভাসক্ষেত্রে হাটকেশ্বর নামে লিঙ্গের সংক্ষিপ্ত মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে এবং তার পূর্বদিকে নলেশ্বর নামে এক দেবালয়ের উল্লেখ আছে। ঈশ্বর দেবীকে দিকনির্দেশ ও নির্দিষ্ট দূরত্ব জানিয়ে তীর্থস্থানের অবস্থান স্পষ্ট করেন। বলা হয়েছে, নল ও দময়ন্তী একত্রে নলেশ্বর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন—আদর্শ রাজদম্পতির দ্বারা ক্ষেত্রের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকৃত হয়। ফলশ্রুতিতে বলা হয়, যে ব্যক্তি বিধিপূর্বক দর্শন ও পূজা করে, সে কলিযুগের দোষ-দুর্ভোগ থেকে মুক্ত হয় এবং দ্যূত/জুয়ায় বিজয়ের ফলও লাভ করে।

कर्कोटकार्कमाहात्म्यवर्णनम् — Karkoṭakārka Māhātmya (Account of the Glory of the ‘Karkoṭaka Sun’)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর প্রভাস-ক্ষেত্রের আগ্নেয় (দক্ষিণ-পূর্ব) দিকভাগে অবস্থিত ‘কর্কোটক-রবি’ নামে সূর্যদেবের এক পবিত্র রূপের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। বলা হয়েছে, এই রূপের কেবল দর্শনেই সকল দেবতা প্রসন্ন হন; এক স্থানীয় দিব্য প্রকাশকে সর্বদেবতার অনুগ্রহের কেন্দ্ররূপে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এরপর সংক্ষিপ্ত বিধান দেওয়া হয়—যখন সপ্তমী তিথি রবিবারের সঙ্গে মিলে যায়, তখন ধূপ, গন্ধ ও অনুলেপন প্রভৃতি উপচারে বিধিপূর্বক পূজা করতে হবে। যথাযথ সময় ও শাস্ত্রসম্মত অর্ঘ্য-উপচারে করা এই আরাধনা ‘সর্ব-কিল্বিষ’ অর্থাৎ সকল পাপ/দোষ থেকে মুক্তি দেয়—এটাই অধ্যায়ের নীতিশিক্ষা। এটি স্কন্দমহাপুরাণের প্রভাসখণ্ডে প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যের ৩৪৬তম অধ্যায়।

हाटकेश्वरमाहात्म्यम् (Hāṭakeśvara Māhātmya: The Glory of Hatakeśvara Liṅga and Agastya’s Āśrama)
ঈশ্বর দেবীকে হাটকেশ্বর-লিঙ্গের অবস্থান ও মাহাত্ম্য বলেন। এটি নলেশ্বরের নিকটে, অগস্ত্যাম্র-বনের পাশে অবস্থিত, যেখানে পূর্বে ঋষি অগস্ত্য তপস্যা করেছিলেন। এরপর কারণকথা—বিষ্ণু কালকেয় দানবদের সংহার করার পর তাদের কিছু অবশিষ্ট সমুদ্রে লুকিয়ে থাকে এবং রাতে প্রভাস অঞ্চলে এসে তপস্বীদের ভক্ষণ করে, যজ্ঞ-দান-সংস্কৃতি ভেঙে দেয়; স্বাধ্যায়, বষট্কার ও ধর্মাচরণের ধারাবাহিকতা ক্ষীণ হয়ে পড়ে। বিচলিত দেবতারা ব্রহ্মার শরণ নেন; ব্রহ্মা তাদের কালকেয় পরিচয় দিয়ে প্রভাসে অগস্ত্যের কাছে যেতে বলেন। অগস্ত্য সমুদ্রের কাছে গিয়ে গণ্ডূষে সমুদ্র পান করেন; দানবরা প্রকাশিত হয়ে পরাজিত হয়, কেউ কেউ পাতালে পালায়। সমুদ্র ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করলে অগস্ত্য বলেন জল জীর্ণ/অশুদ্ধ হয়েছে; ভবিষ্যতে ভাগীরথ গঙ্গা এনে সমুদ্র পূর্ণ করবেন। শেষে বর—অগস্ত্যাশ্রম ও হাটকেশ্বরের নিকটে স্নান-উপাসনা মহাফলদায়ী; নিত্য পূজা গোদানসম পুণ্য; ঋতু/অয়নে পূজা ও শ্রাদ্ধে বিশেষ ফল। শ্রদ্ধায় এই মাহাত্ম্য শ্রবণে দিন-রাত্রির পাপ তৎক্ষণাৎ নাশ হয়।

नारदेश्वरीमाहात्म्यवर्णनम् | Nāradeśvarī Māhātmya (Glorification of Nāradeśvarī)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বরের উপদেশরূপে সংক্ষিপ্ত তীর্থ-নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভক্তকে—মহাদেবীকে সম্বোধন করে—পশ্চিমদিকে অবস্থিত নারদেশ্বরী দেবীর মন্দিরে গমন করতে বলা হয়; দেবীর সান্নিধ্যকে সর্বদৌর্ভাগ্য-নাশিনী রূপে বর্ণনা করা হয়েছে। বিশেষ বিধান হলো—যে নারী তৃতীয়া তিথিতে শান্তচিত্তে দেবীর পূজা করে, সে এমন রক্ষাকর পুণ্য স্থাপন করে যে তার বংশে নারীরা দৌর্ভাগ্যের চিহ্নে চিহ্নিত হয় না। স্থান-নির্দেশ, কাল-নিয়ম ও ফলশ্রুতি একত্রে দেখিয়ে অধ্যায়টি প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যের অন্তর্গত ‘নারদেশ্বরী-মাহাত্ম্য’ নামে উপসংহৃত।

मन्त्रविभूषणागौरी-माहात्म्यवर्णनम् (Glorification of Mantravibhūṣaṇā Gaurī)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে উপদেশ দেন—ভীমেশ্বরের নিকটে অবস্থিত “দেবী মন্ত্রবিভূষণা” রূপের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে। বলা হয়েছে, পূর্বকালে সোম এই দেবীর যথাবিধি পূজা করেছিলেন; এতে দেবী ও তীর্থস্থানের মাহাত্ম্য প্রকাশ পায়। এরপর ব্রত-কাল ও বিধান নির্দিষ্ট করা হয়—শ্রাবণ মাসে শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে নিয়মমাফিক যে নারী দেবী মন্ত্রবিভূষণাকে পূজা করে, সে সকল দুঃখ-শোক থেকে মুক্ত হয়। তীর্থ-ভূগোল, ভক্ত-পরম্পরা ও ব্রত-সময়ের সমন্বয়ে ফলপ্রদ ধর্মশিক্ষা সংক্ষেপে বর্ণিত।

दुर्गकूटगणपतिमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Durgakūṭa Gaṇapati (Glorification Narrative)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর-বক্তৃতায় দুর্গকূটকে অবস্থিত বিশ্বেশের সূক্ষ্ম স্থাননির্দেশ দেওয়া হয়েছে—তিনি ভল্লতীর্থের পূর্বে এবং যোগিনীচক্রের দক্ষিণে বিরাজমান। এরপর দৃষ্টান্ত হিসেবে ভীমের সফল আরাধনার কথা বলা হয়, যার দ্বারা বিধিমতে পূজা করলে এই তীর্থ-দেবতা ‘সর্বকামপ্রদ’—ইচ্ছিত ফলদাতা—এ কথা প্রতিষ্ঠিত হয়। ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থীতে পূজার নির্দিষ্ট কাল উল্লেখ আছে। গন্ধ, পুষ্প ও জল—এই সরল উপচারে শাস্ত্রসম্মতভাবে পূজা করলে উপাসক নিঃসন্দেহে এক বছর নির্বিঘ্ন জীবন লাভ করে—এটাই সংক্ষিপ্ত ফলশ্রুতি।

कौरवेश्वरीमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Kauraveśvarī (Protectress of the Kṣetra)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে নির্দেশ দেন কৌরবেশ্বরী দেবীর নিকট গমন করতে। বলা হয়েছে, পূর্ব আরাধনার সূত্রে তাঁর নাম কুরুক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত, এবং তিনি পবিত্র ক্ষেত্রের রক্ষাকর্ত্রী শক্তি; স্মরণ করানো হয় যে ভীমও ক্ষেত্র-রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করে পূর্বে তাঁর পূজা করেছিলেন। মহানবমীতে পরিশ্রমসহকারে করা উপাসনা বিশেষ ফলপ্রদ বলা হয়েছে। অতিথিসেবা ও দানের নীতি হিসেবে নির্দেশ আছে—বিশেষত দম্পতিদের অন্নদান, উৎকৃষ্ট/দিব্য গুণসম্পন্ন খাদ্য ও সুপ্রস্তুত মিষ্টান্ন নিবেদন। এভাবে স্তব ও দানে তুষ্টা দেবী ভক্তকে পুত্রসম রক্ষা করেন; স্থানভিত্তিক ভক্তি, রক্ষাধর্ম ও নিয়মিত দান—এই তিনের সমন্বয়ই মূল শিক্ষা।

सुपर्णेलामाहात्म्यवर्णनम् (Supārṇelā Māhātmya—Account of the Glory of Supārṇelā)
ঈশ্বর দেবীকে দিকনির্দেশসহ জানান যে দুর্গা-কূটের দক্ষিণে নির্দিষ্ট দূরত্বে সুপর্ণেলা তীর্থ ও সংশ্লিষ্ট ভৈরবী-স্থান অবস্থিত; সেখানে গমন করে তীর্থাচরণের বিধান তিনি বলেন। এরপর তীর্থের কারণকথা—সুপর্ণ গরুড় পাতাল থেকে অমৃত এনে নাগদের উপস্থিতিতে সেখানে স্থাপন/মুক্ত করেন; নাগদের দৃষ্টিতে ও রক্ষণে সেই স্থান পৃথিবীতে ‘সুপর্ণেলা’ নামে প্রসিদ্ধ হয়। সেই ভূমিকে ‘ইলা’ বলা হয়েছে, যা সুপর্ণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন; এবং ‘সুপর্ণেলা’ নামকে পাপ-নাশক বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। আচারক্রমে আছে—সুপর্ণ-কুণ্ডে স্নান, তীর্থে পূজা, ব্রাহ্মণ-সেবা, দান ও বিশেষত অন্নদান। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—মরণান্তক বিপদ থেকে রক্ষা, গৃহে মঙ্গল, এবং নারীর ‘জীববৎসা’ হওয়া ও সন্তানসমৃদ্ধি লাভ।

भल्लतीर्थमाहात्म्यवर्णनम् | Bhallatīrtha Māhātmya (Glorification of Bhallatīrtha)
ঈশ্বর দেবীকে বলেন যে প্রভাসখণ্ডের পশ্চিম দিকে মিত্রবনের নিকটে ভল্লতীর্থ নামে এক মহাপবিত্র তীর্থ আছে। এটিকে বৈষ্ণব ‘আদি-ক্ষেত্র’ বলা হয়েছে, যেখানে বিষ্ণু যুগে যুগে বিশেষভাবে অধিষ্ঠান করেন এবং জীবকল্যাণের জন্য গঙ্গার প্রকাশিত উপস্থিতিও বর্ণিত। দ্বাদশীতে (একাদশী-ব্রতশৃঙ্খলার সঙ্গে) বিধিমতো স্নান, যোগ্য ব্রাহ্মণকে দান, ভক্তিভরে পিতৃতর্পণ/শ্রাদ্ধ, বিষ্ণুপূজা, রাত্রিজাগরণ ও দীপদান করার নির্দেশ আছে; এগুলি পবিত্রকারী ও পুণ্যদায়ক বলে প্রশংসিত। এরপর কারণকথা—যাদবদের অন্তর্ধানের পরে বাসুদেব সমুদ্রতীরে ধ্যানস্থ হন। জরা নামের এক ব্যাধ বিষ্ণুর পদকে হরিণ ভেবে ভল্ল (তীর) নিক্ষেপ করে; দিব্যরূপ চিনে সে ক্ষমা প্রার্থনা করে। বিষ্ণু বলেন, এতে পূর্বশাপের পরিসমাপ্তি সম্পন্ন হল এবং ব্যাধকে উত্তম গতি দান করেন; আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে এখানে দর্শন করে ভক্তি-আচরণ করলে বিষ্ণুলোক লাভ হয়। ভল্ল-ঘটনা থেকেই তীর্থের নাম ভল্লতীর্থ, আর পূর্বকল্পে এটি হরিক্ষেত্র নামেও পরিচিত। শেষে বৈষ্ণব আচারের অবহেলা, বিশেষত একাদশীর সংযম ত্যাগ, নিন্দিত; ভল্লতীর্থের নিকটে দ্বাদশী-পূজা গৃহরক্ষা ও পুণ্যবৃদ্ধিদায়ক বলা হয়েছে। তীর্থফল সম্পূর্ণ করতে ইচ্ছুকদের প্রধান ব্রাহ্মণকে বস্ত্র ও গাভী প্রভৃতি দান করার উপদেশ দেওয়া হয়েছে।

Kardamālā-tīrtha Māhātmya and the Varāha Uplift of Earth (कर्दमालतीर्थमाहात्म्यं तथा वाराहोद्धारकथा)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে কर्दমালা নামক তীর্থের মাহাত্ম্য বলেন—যা ত্রিলোকে প্রসিদ্ধ এবং সর্বপাপহর। প্রলয়কালে একার্ণবে পৃথিবী নিমজ্জিত হয়, জ্যোতিষ্কসমূহও লীন হয়ে যায়; তখন জনার্দন বরাহরূপ ধারণ করে দন্তে পৃথিবীকে তুলে যথাস্থানে প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর বিষ্ণু এই স্থানে নিয়মিত ও স্থায়ীভাবে অবস্থানের সংকল্প ঘোষণা করেন এবং পিতৃকর্মের সঙ্গে তীর্থের বিশেষ ফল জানান—কর্দমালায় তর্পণ করলে পিতৃগণ এক কল্পকাল তৃপ্ত থাকেন, আর শাক-মূল-ফল প্রভৃতি সহজ উপকরণে করা শ্রাদ্ধও সর্বতীর্থে করা শ্রাদ্ধের সমতুল্য। স্নান ও দর্শনের ফলশ্রুতিতে উত্তম গতি এবং নীচ যোনি থেকে মুক্তির কথা বলা হয়েছে। পরে এক অলৌকিক কাহিনি: শিকারিদের ভয়ে তাড়িত হরিণের পাল কর্দমালায় প্রবেশ করামাত্র মানবত্ব লাভ করে; তা দেখে শিকারিরা অস্ত্র ত্যাগ করে স্নান করে পাপমুক্ত হয়। দেবীর উৎপত্তি ও সীমা-প্রশ্নে ঈশ্বর গোপন বৃত্তান্ত প্রকাশ করেন—বরাহদেহকে যজ্ঞ-প্রতীকী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে (বৈদিক ও ক্রিয়াকাণ্ডীয় উপাদানে) বর্ণনা করা হয়; প্রভাসক্ষেত্রে দন্তাগ্রে কর্দমলিপ্ত হওয়ায় নাম হয় ‘কর্দমালা’। মহাকুণ্ড, গঙ্গাভিষেকসদৃশ জলস্রোত, বিষ্ণুর পবিত্র পরিসীমা এবং কলিযুগে ‘সৌকর’ ক্ষেত্রে বরাহদর্শনে বিশেষ পুণ্য ও মোক্ষের অনন্যতার ঘোষণা দিয়ে অধ্যায় শেষ হয়।

Guptēśvara-māhātmya (गुप्तेश्वरमाहात्म्य) — The Glory of Guptēśvara
ঈশ্বর দেবীকে বলেন—প্রভাসক্ষেত্রে দেবগুপ্তেশ্বরের কাছে যাও; স্থানটি পশ্চিম-উত্তর দিকে অবস্থিত। সেখানে সোম (চন্দ্র) কুষ্ঠসদৃশ ব্যাধি ও দেহক্ষয়ে লজ্জিত হয়ে গোপনে তপস্যা করতে থাকেন। হাজার দিব্যবর্ষ তপস্যার পর শিব স্বয়ং প্রকাশিত হন এবং প্রসন্ন হয়ে সোমের ক্ষয় ও রোগ দূর করেন। তখন সোম দেব-অসুর উভয়ের পূজিত এক মহালিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন; গোপন তপস্যার কারণেই নাম হয় ‘গুপ্তেশ্বর’। এই লিঙ্গের দর্শন বা স্পর্শমাত্রেই চর্মরোগ নাশ হয়—এমন মাহাত্ম্য বলা হয়েছে। বিশেষত সোমবারে পূজা করলে উপাসকের বংশে কারও কুষ্ঠসহ জন্ম হয় না—এই ফলশ্রুতি সহ অধ্যায়ের উপসংহার।

बहुसुवर्णेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Bahusuvarṇeśvara Māhātmya (Glory of Bahusuvarṇeśvara)
ঈশ্বর দেবীকে নির্দেশ দেন যে তিনি প্রভাসক্ষেত্রের হিরণ্য-পূর্ব দিকভাগে অবস্থিত বহুসুবর্ণক/বহুসুবর্ণেশ্বর নামে পরিচিত লিঙ্গের কাছে গমন করুন। এই তীর্থের মাহাত্ম্য বলা হয়েছে পূর্বকৃত এক মহাকর্মের কারণে—ধর্মপুত্র সেখানে অত্যন্ত দুরূহ যজ্ঞ সম্পন্ন করেছিলেন এবং বহুসুবর্ণ নামে এক মহাশক্তিশালী লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই লিঙ্গ ‘সর্বেশ্বর’ নামেও প্রসিদ্ধ, যা সকল যজ্ঞের ফল প্রদান করে এবং সরস্বতীর জলের সংযোগে বিধিসম্পূর্ণ বলে বর্ণিত। বিধান অনুযায়ী সেখানে স্নান করে পিণ্ডদান করলে কুল-কোটি পূর্বপুরুষের উদ্ধারে সহায় হয় এবং রুদ্রলোকে সম্মান লাভ হয়। নিয়মমাফিক গন্ধ-পুষ্পাদি দিয়ে ভক্তিভরে পূজা করলে সদাশিব ‘কোটি-পূজা’-সম ফল দান করেন। স্কন্দপুরাণের প্রভাসখণ্ড, প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যে এই অধ্যায় বহুসুবর্ণেশ্বর-মাহাত্ম্যরূপে নিবদ্ধ।

शृंगेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Śṛṅgeśvara Māhātmya (Account of the Glory of Śṛṅgeśvara)
“ঈশ্বর উবাচ” দিয়ে শুরু করে এই অধ্যায়ে দেবীকে শুকস্থান-এর নিকটে অবস্থিত অনুত্তম শৃঙ্গেশ্বর তীর্থে গমন করতে বলা হয়েছে। সেখানে গিয়ে বিধিপূর্বক স্নান করে নিয়মানুসারে শৃঙ্গেশের পূজা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষেত্রকে “সর্বপাপ-নাশক” বলা হয়েছে; যথাযথ তীর্থযাত্রা ও উপাসনার ফলে সকল পাপ থেকে মুক্তি লাভের কথা বলা হয়। দৃষ্টান্ত হিসেবে ঋষ্যশৃঙ্গের পূর্বে সেখানে শুদ্ধি ও উদ্ধারপ্রাপ্তির উল্লেখ আছে। উপসংহারে এটি স্কন্দমহাপুরাণের প্রভাসখণ্ড, প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্য অংশের “শৃঙ্গেশ্বরমাহাত্ম্যবর্ণন” অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।

कोटीश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Description of the Māhātmya of Koṭīśvara
এই অধ্যায়ে “ঈশ্বর উবাচ” প্রসঙ্গে কোটীশ্বর মহালিঙ্গের সংক্ষিপ্ত ক্ষেত্রবর্ণনা ও ফলশ্রুতি বলা হয়েছে। ঈশান (উত্তর-পূর্ব) দিকে কোটিনগর নামে এক স্থান নির্দেশ করা হয়; তার দক্ষিণ অংশে এক যোজন দূরে কোটীশ্বর লিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত—এমন বর্ণনা আছে। এখানে উপাসনার বিধিও দেওয়া হয়েছে—বিধিপূর্বক স্নান করে লিঙ্গপূজা করতে হবে। কোটীশ্বরকে ‘কোটি-যজ্ঞ’-সম ফলদাতা এবং সর্বপাপমোচক বলা হয়েছে। যে নিয়মমাফিক স্নান ও পূজা করে, সে সর্বপাতক থেকে মুক্তি পায় এবং কোটি যজ্ঞের তুল্য মহাপুণ্য লাভ করে। এটি স্কন্দপুরাণের প্রভাসখণ্ডের প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যে কোটীশ্বর-মাহাত্ম্যবর্ণন।

Nārāyaṇa-tīrtha-māhātmya (Glory of Nārāyaṇa Tīrtha)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে নির্দেশ দেন যে তীর্থযাত্রী যেন ‘নারায়ণ’ নামে তীর্থে অগ্রসর হয়। সেই তীর্থের ঈশান (উত্তর-পূর্ব) দিকে শাণ্ডিল্যা নামে একটি বাপী/পুকুর রয়েছে—এমন নির্দিষ্ট স্থান-সংকেত দেওয়া হয়েছে। বিধি অনুসারে সেখানে স্নান করে শাণ্ডিল্য ঋষির পূজা করার ক্রম বর্ণিত। ঋষি-পঞ্চমীর দিনে পতিব্রতা নারীর স্পর্শ-অস্পর্শ সংক্রান্ত আচরণ রজোদোষ (ঋতুকালীন অশৌচ) ভয়ের নিশ্চিত নাশ করে—এমন ফলশ্রুতি বলা হয়েছে। শেষে স্কন্দপুরাণের প্রভাসখণ্ডে ‘নারায়ণ-তীর্থ-মাহাত্ম্য’ নামে অধ্যায়-পরিচয় দেওয়া হয়েছে।

Śṛṅgāreśvara Māhātmya (Glory of Śṛṅgāreśvara at Śṛṅgasara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর মহাদেবীকে সম্বোধন করে ‘শৃঙ্গসার’ নামক পবিত্র তীর্থের কথা বলেন। সেখানে অধিষ্ঠিত লিঙ্গের নাম ‘শৃঙ্গারেশ্বর’। তীর্থের মাহাত্ম্য একটি প্রাচীন দিব্য ঘটনার সঙ্গে যুক্ত—হরি গোপীদের সঙ্গে সেখানে শৃঙ্গার-লীলা সম্পাদন করেছিলেন; সেই কারণেই স্থান ও দেবলিঙ্গের এই নাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এরপর বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট বিধি-বিধান অনুসারে ওই স্থানে ভব (শিব)-পূজা করলে সঞ্চিত পাপসমূহ নাশ হয়। ফলশ্রুতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে—যে ভক্ত দারিদ্র্য ও শোকে পীড়িত, সে সেখানে আরাধনা করলে ভবিষ্যতে আর এমন দুঃখ-দারিদ্র্যের সম্মুখীন হয় না; তাই এটি প্রতিকারমূলক ভক্তি ও নৈতিক-আচারানুষ্ঠানের অনুমোদিত তীর্থ।

मार्कण्डेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | The Glory of Mārkaṇḍeśvara (Narrative Description)
অধ্যায় ৩৬১-এ ঈশ্বর–দেবীর সংলাপে সংক্ষিপ্ত তীর্থ-উপদেশ দেওয়া হয়েছে। সাধককে হিরণ্যাতটে যেতে বলা হয় এবং সেখানে ‘ঘটিকাস্থান’ নামে এক বিশেষ স্থানের উল্লেখ আছে, যা পূর্বে এক সিদ্ধ-ঋষির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। এই স্থানের মাহাত্ম্য মৃকণ্ডুর যোগসিদ্ধির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। তিনি ধ্যান-যোগে—এক নাড়ী-পরিমাপে ফলসিদ্ধি লাভের কথা উল্লেখ করে—সেই স্থানেই একটি লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। সেই লিঙ্গ ‘মার্কণ্ডেশ্বর’ নামে প্রসিদ্ধ; এর দর্শন ও পূজা মাত্রেই সর্বপাপের উপশম/নাশ হয় বলে বলা হয়েছে। অধ্যায়টি অন্তর্গত তপস্যার শক্তি ও জনসাধারণের সহজ ভক্তিসাধনার যোগসূত্র দেখিয়ে প্রভাসক্ষেত্রের একটি কার্যকর তীর্থ-যাত্রাপথ নির্দেশ করে।

Koṭihrada–Maṇḍūkeśvara Māhātmya (कोटिह्रद-मण्डूकेश्वरमाहात्म्य)
ঈশ্বর দেবীকে প্রভাস-ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে তীর্থযাত্রার বিধান জানান। প্রথমে মণ্ডূকেশ্বরে গমন করতে বলেন এবং মাণ্ডূক্যায়নের সংযোগে প্রতিষ্ঠিত এক শিবলিঙ্গের কথা উল্লেখ করেন। তার নিকটে কোটিহ্রদ নামে পবিত্র জলাশয়, সেখানে অধিষ্ঠাতা রূপে কোটীশ্বর শিব বিরাজমান; আর মাতৃগণ সেখানে অবস্থান করে ইষ্টফল প্রদান করেন বলে বর্ণিত। বিধান হলো—কোটিহ্রদ-তীর্থে স্নান করে লিঙ্গপূজা করতে হবে এবং মাতৃদেরও পূজা করতে হবে; ফলে দুঃখ ও শোক থেকে মুক্তি লাভ হয়। এরপর পূর্বদিকে এক যোজন দূরে ত্রিতকূপ নামক আরেক তীর্থের কথা বলা হয়েছে—এটি নির্মল ও সর্বপাপবিনাশক, এবং বহু তীর্থের মহিমা যেন সেখানে একত্রে ‘স্থিত’ আছে বলে প্রতিপাদিত। কলফনে এটিকে প্রভাস খণ্ডের এই অংশের ৩৬২তম অধ্যায় বলা হয়েছে।

एकादशरुद्रलिङ्गमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of the Eleven Rudra-Liṅgas
এই অধ্যায়ে প্রভাসক্ষেত্রের তীর্থযাত্রার সংক্ষিপ্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈশ্বর দেবীকে বলেন—গোষ্পদ নামক স্থানের উত্তরে দুই গব্যূতি দূরে প্রসিদ্ধ বলায় তীর্থ; সেখানে গমন করা উচিত। বলায় স্থানে ‘একাদশ রুদ্র’ তাঁদের নিজ নিজ স্থান-লিঙ্গরূপে প্রতিষ্ঠিত—অজৈকপাদ ও অহির্বুধ্ন্য প্রভৃতি নাম উল্লেখিত। বিধিবৎ এই লিঙ্গসমূহের পূজা করলে সর্বপাপ নাশ হয় এবং সম্পূর্ণ শুদ্ধি লাভ হয়।

Hiraṇya-taṭa–Tuṇḍapura–Gharghara-hrada–Kandeśvara Māhātmya (हिरण्यातुण्डपुर-घर्घरह्रद-कन्देश्वर माहात्म्यम्)
ঈশ্বর মহাদেবীকে বলেন যে হিরণ্য-তটে তুণ্ডপুর নামে এক পবিত্র স্থান আছে, যেখানে ঘর্ঘর-হ্রদ নামের জলাশয় অবস্থিত। সেখানে অধিষ্ঠাতা দেবতা কন্দেশ্বর—এই তীর্থের প্রধান আরাধ্য। শিব স্মরণ করান, সেই স্থানে তাঁর জটা বাঁধা ছিল; এই অলৌকিক স্মৃতিই ক্ষেত্রের মাহাত্ম্যকে প্রতিষ্ঠা করে। ভক্তকে সেখানে গিয়ে তীর্থে স্নান করে বিধিপূর্বক কন্দেশ্বরের পূজা করতে বলা হয়েছে। এর ফল নৈতিক ও মুক্তিদায়ক—ভক্ত ভয়ংকর পাপ থেকে মুক্ত হয় এবং ‘শাসন’ লাভ করে, অর্থাৎ ঈশ্বরীয় বিধান-রক্ষা/অনুগ্রহ ও পুণ্য-স্বীকৃতি।

संवर्तेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Saṃvarteśvara Māhātmya (Glorification of Saṃvarteśvara)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দেবীকে উপদেশ দেন এবং তীর্থযাত্রী-সাধককে ‘উত্তম’ সংবর্তেশ্বর তীর্থে যাওয়ার পথনির্দেশ করেন। সংবর্তেশ্বরের অবস্থান ইন্দ্রেশ্বরের পশ্চিমে ও অর্কভাস্করের পূর্বে বলা হয়েছে, ফলে পার্শ্ববর্তী পবিত্র স্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত মানচিত্রের মতো দিকনির্দেশ স্পষ্ট হয়। এখানে ন্যূনতম আচারবিধি নির্ধারিত—প্রথমে মহাদেবের দর্শন, তারপর পুষ্করিণীর জলে স্নান; এটিকেই প্রধান ভক্তিকর্ম বলা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বলা হয়, এভাবে যে করে সে দশ অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান পুণ্যফল লাভ করে। উপসংহারে এটি স্কন্দপুরাণের প্রভাসখণ্ডে, প্রভাসক্ষেত্রমাহাত্ম্যের প্রথম বিভাগে ৩৬৫তম অধ্যায়—‘সংবর্তেশ্বর-মাহাত্ম্যবর্ণন’ বলে চিহ্নিত।

प्रकीर्णस्थानलिङ्गमाहात्म्यवर्णनम् — Discourse on the Māhātmya of Liṅgas in Dispersed Sacred Sites
ঈশ্বর মহাদেবীকে নির্দেশ দেন—হিরণ্যার উত্তরে সিদ্ধি-স্থান নামে যে অঞ্চলগুলি, সেখানে গমন করো; সেখানে সিদ্ধ মহর্ষিগণ বাস করেন। এরপর অধ্যায়টি প্রकीর্ণ তীর্থে অবস্থিত লিঙ্গসমূহের মাহাত্ম্যকে সংখ্যাসহ তুলে ধরে—লিঙ্গ অগণিত হলেও কিছু প্রধান গণনা দেওয়া হয়: এক স্থানে শতাধিক প্রসিদ্ধ লিঙ্গ, বজ্রিণীর তীরে উনিশটি, ন্যঙ্কুমতীর তীরে বারোশোরও বেশি, কপিলার তীরে ষাটটি শ্রেষ্ঠ লিঙ্গ, আর সরস্বতীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লিঙ্গের সংখ্যা গণনার অতীত। প্রভাসক্ষেত্রকে সরস্বতীর পাঁচ স্রোত (পঞ্চস্রোত) দ্বারা নির্ধারিত বলা হয়েছে; এই প্রবাহগুলি মিলিয়ে বারো যোজন বিস্তৃত পবিত্র ক্ষেত্র গঠিত। সর্বত্র কূপ-সরোবরাদিতে জল উদ্ভূত হয়; সেই জলকে ‘সারস্বত’ বলে জেনে পান করা প্রশংসিত। যথাযথ শ্রদ্ধায় যেখানে-সেখানে স্নান করলেও সারস্বত-স্নানের ফল লাভ হয়। শেষে ‘স্পর্শ-লিঙ্গ’কে শ্রী সোমেশ বলা হয়েছে এবং বলা হয়—ক্ষেত্রের মধ্যবর্তী যে কোনো লিঙ্গকে সোমেশরূপে জেনে পূজা করলে, তা প্রকৃতপক্ষে সোমেশেরই পূজা; এতে বিচ্ছিন্ন তীর্থ-শিবালয় এক শৈব তত্ত্বে একীভূত হয়।
Prabhāsa is presented as a spiritually efficacious kṣetra where tīrtha-contact, devotion, and disciplined listening to purāṇic discourse are said to remove fear of saṃsāra and confer elevated destinies.
Merits are framed in yajña-like terms: purification, removal of sins, freedom from afflictions, and attainment of higher states—often conditioned by faith (śraddhā), tranquility, and proper eligibility.
The opening chapter emphasizes transmission-legends (Śiva → Pārvatī → Nandin → Kumāra → Vyāsa → Sūta) and the Naimiṣa inquiry setting, establishing Prabhāsa’s māhātmya within an authoritative purāṇic lineage.