Adhyaya 237
Prabhasa KhandaPrabhasa Kshetra MahatmyaAdhyaya 237

Adhyaya 237

এই অধ্যায়ে শিব–দেবীর সংলাপে প্রভাসখণ্ডে ‘যাদব-স্থল’-এর উৎপত্তি ও বজ্রেশ্বরের মাহাত্ম্য বর্ণিত। ঈশ্বর দেবীকে সেই স্থানের কথা জানান, যেখানে বিপুল যাদব-সেনা বিনষ্ট হয়। দেবী কারণ জানতে চান—বাসুদেবের চোখের সামনে কেন বৃষ্ণি, অন্ধক ও ভোজদের ধ্বংস ঘটল। শিব শাপের ক্রম বলেন—সাম্ব নারী-বেশে বিশ্বামিত্র, কণ্ব, নারদ প্রভৃতি ঋষিদের উপহাস করে; ক্রুদ্ধ ঋষিরা শাপ দেন যে সাম্বের দ্বারা কুলনাশকারী লৌহ ‘মুষল’ উৎপন্ন হবে। বাক্যে রাম ও জনার্দনের নাম পৃথকভাবে উচ্চারিত হলেও, কাল-নিয়তির অনিবার্যতা স্পষ্ট থাকে। মুষল জন্মে গুঁড়ো হয়ে সমুদ্রে নিক্ষিপ্ত হয়; এরপর দ্বারকায় কালের প্রভাবে অশুভ লক্ষণ ছড়ায়—সমাজ-বিপর্যয়, অদ্ভুত শব্দ, পশু-বিকার, যজ্ঞ-বিঘ্ন ও ভয়ংকর স্বপ্ন—ধর্মসতর্কতার মতো। কৃষ্ণ প্রভাস-তীর্থযাত্রার আদেশ দেন। সেখানে মদ্যপানে যাদবদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব বাড়ে; সাত্যকি ও কৃতবর্মা প্রমুখকে কেন্দ্র করে হিংসা জ্বলে ওঠে এবং তারা পরস্পরকে নিধন করে। তটের নলখাগড়া বজ্রসম মুষলে রূপান্তরিত হয়ে ঋষিশাপ (ব্রহ্মদণ্ড) ও কালের কার্যশক্তি হিসেবে কাজ করে। দাহভূমি ও অস্থিসঞ্চয়ে সেই অঞ্চল ‘যাদব-স্থল’ নামে খ্যাত হয়। শেষে বেঁচে থাকা উত্তরাধিকারী বজ্র প্রভাসে এসে নারদের উপদেশে তপস্যা করে সিদ্ধি লাভ করে এবং বজ্রেশ্বর-লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে। জাম্ববতী-জলে স্নান, বজ্রেশ্বর পূজা, ব্রাহ্মণভোজন ও ষট্কোণ-উপহারের বিধান বলা হয়েছে; এর ফল মহাতীর্থপুণ্য, গোহস্র-দানের তুল্য বলে ঘোষিত।

Shlokas

Verse 1

ईश्वर उवाच । ततो गच्छेन्महादेवि यादवस्थलमुत्तमम् । यादवा यत्र नष्टा वै षट्पंचाशच्च कोटयः

ঈশ্বর বললেন—হে মহাদেবী! তারপর ‘যাদবস্থল’ নামে সেই পরম পবিত্র স্থানে গমন করা উচিত, যেখানে সত্যই ছাপ্পান কোটি যাদব বিনষ্ট হয়েছিল।

Verse 2

यत्र वज्रेश्वरो देवो वज्रेणाराधितः सदा । यत्राभूद्दिव्यदृष्टीनामृषीणामाश्रमं कुलम्

যেখানে বজ্রেশ্বর দেব সর্বদা বজ্র দ্বারা আরাধিত হন; এবং যেখানে দিব্যদৃষ্টিসম্পন্ন ঋষিদের কুল-আশ্রম বিদ্যমান ছিল।

Verse 3

देव्युवाच । कथं विनष्टा भगवन्नन्धका वृष्णिभिः सह । पश्यतो वासुदेवस्य भोजाश्चैव महारथाः

দেবী বললেন—হে ভগবান! বৃষ্ণিদের সঙ্গে অন্ধকরা কীভাবে বিনষ্ট হল? আর বাসুদেবের দৃষ্টির সামনেই মহারথী ভোজরাও কীভাবে নাশপ্রাপ্ত হল?

Verse 4

केन शप्तास्तु ते वीरा नष्टा वृष्ण्यन्धकादयः । भोजाश्चैव महादेव विस्तरेण वदस्व मे

কার শাপে সেই বীরেরা বিনষ্ট হল—যাতে বৃষ্ণি, অন্ধক প্রভৃতি এবং ভোজরাও ধ্বংসপ্রাপ্ত হল? হে মহাদেব, আমাকে বিস্তারে বলুন।

Verse 5

ईश्वर उवाच । षट्त्रिंशे च कलौ वर्षे संप्राप्तेऽन्धकवृष्णयः । अन्योन्यं मुशलैस्ते हि निजघ्नुः कालनोदिताः

ঈশ্বর বললেন—কলির ছত্রিশতম বর্ষ উপস্থিত হলে অন্ধক ও বৃষ্ণিরা কালের প্রেরণায় মুষল দিয়ে পরস্পরকে আঘাত করে নিধন করল।

Verse 6

विश्वामित्रं च कण्वं च नारदं च यशस्विनम् । सारणप्रमुखान्भोजान्ददृशुर्द्वारकां गतान्

তারা বিশ্বামিত্র, কণ্ব এবং যশস্বী নারদকে দেখল; আর সারণ-প্রধান ভোজদেরও দেখল, যারা দ্বারকায় এসেছিল।

Verse 7

ते वै सांबं समानिन्युर्भूषयित्वा स्त्रियं यथा । अब्रुवन्नुपसंगम्य देवदंडनिपीडिताः

তারা সাম্বকে নারীর মতো সাজিয়ে সামনে আনল; তারপর দেবদণ্ডের চাপে তাড়িত হয়ে ঋষিদের কাছে গিয়ে কথা বলল।

Verse 8

इयं स्त्री पुत्रकामस्य बभ्रोरमिततेजसः । ऋषयः साधु जानीत किमियं जनयिष्यति

এই নারী অমিত-তেজস্বী বভ্রুর, যিনি পুত্রকাম। হে ঋষিগণ, সত্য জেনে বলো—ইনি কী প্রসব করবেন?

Verse 9

इत्युक्तास्ते तदा देवि विप्रलंभप्रधर्षिताः । प्रत्यब्रुवंस्तान्मुनयस्तच्छृणुष्व यथातथम्

হে দেবী, এভাবে বলা হলে উপহাস ও অপমানে ক্ষুব্ধ মুনিগণ তাদের উত্তর দিলেন। এখন শোনো—যেমন ঘটেছিল তেমনই।

Verse 10

ऋषय ऊचुः । वृष्ण्यन्धकविनाशाय मुशलं घोरमायसम् । वासुदेवस्य दायादः सांबोऽयं जनयिष्यति

ঋষিগণ বললেন—বৃষ্ণি ও অন্ধকদের বিনাশের জন্য, বাসুদেবের বংশধর এই সাম্ব এক ভয়ংকর লৌহ-মুষল প্রসব করাবে।

Verse 11

येन यूयं सुदुर्वृत्ता नृशंसा जातमन्यवः । उच्छेत्तारः कुलं सर्वमृते रामाज्जनार्द्दनात्

যেহেতু তোমরা অতিদুর্বৃত্ত, নিষ্ঠুর এবং অহংকারে দগ্ধ হয়েছ, তাই রাম ও জনার্দন ব্যতীত তোমরা সমগ্র কুলকে উচ্ছেদ করবে।

Verse 12

त्यक्त्वा यास्यति वः श्रीमांत्यक्त्वा भूमिं हलायुधः । जरा कृष्णं महाभागं शयानं तु निवेत्स्यति

শ্রী তোমাদের ত্যাগ করে চলে যাবে। হলায়ুধ (বলরাম) পৃথিবী ত্যাগ করবেন। আর জরা, শয়নরত মহাভাগ কৃষ্ণকে আঘাত করবে।

Verse 13

इत्यब्रुवंस्ततो देवि प्रलब्धास्ते दुरात्मभिः । मुनयः क्रोधरक्ताक्षाः समीक्ष्याथ परस्परम्

হে দেবী, এই কথা বলার পর সেই মুনিগণ দুষ্টবুদ্ধিদের উপহাসে অপমানিত হলেন। ক্রোধে তাঁদের চোখ রক্তবর্ণ হয়ে উঠল, এবং তাঁরা পরস্পরের দিকে তাকালেন।

Verse 14

तथोक्ता मुनयस्ते तु ततः केशवमभ्ययुः । अथावदत्तदा वृष्णीञ्छ्रुत्वैवं मधुसूदनः

এইভাবে বলার পর সেই মুনিগণ কেশবের নিকট গেলেন। ঘটনাটি শুনে মধুসূদন তখন বৃষ্ণিদের উদ্দেশে কথা বললেন।

Verse 15

अभिज्ञो मतिमांस्तस्य भवितव्यं तथेति तत् । एवमुक्त्वा हृषीकेशः प्रविवेश पुनर्गृहान्

সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান হৃষীকেশ বুঝলেন—‘যা ঘটবার, তাই ঘটবে।’ এ কথা বলে তিনি পুনরায় নিজের গৃহে প্রবেশ করলেন।

Verse 16

कृतांतमन्यथाकर्त्तुं नैच्छत्स जगतः प्रभुः । श्वोभूते सततः सांबो मुसलं तदसूत वै

জগতের প্রভু বিধির বিধান অন্যথা করতে চাননি। পরদিনই সাম্ব সত্যই সেই লৌহমুষল উৎপন্ন করল।

Verse 17

येन वृण्ष्यन्धककुले पुरुषा भस्मसात्कृताः । वृष्ण्यन्धकविनाशाय किंकरप्रतिमं महत्

যার দ্বারা বৃষ্ণি-অন্ধক বংশের পুরুষেরা ভস্মীভূত হল—বৃষ্ণি ও অন্ধকদের বিনাশের জন্য তা ছিল মহৎ, যেন বিধির দাসস্বরূপ এক অস্ত্র।

Verse 18

असूत शापजं घोरं तच्च राज्ञे न्यवेदयत् । विषण्णोऽथ ततो राजा सूक्ष्मं चूर्णमकारयत्

সে অভিশাপজাত সেই ভয়ংকর বস্তু উৎপন্ন করে রাজাকে নিবেদন করল। তারপর রাজা বিষণ্ণ হয়ে তা অতি সূক্ষ্ম গুঁড়ো করাল।

Verse 19

प्राक्षिपत्सागरे तत्र पुरुषो राजशासितः । अथोवाच स्वनगरे वचनादाहुकस्य हि

সেখানে রাজার আদেশে এক ব্যক্তিকে সাগরে নিক্ষেপ করা হল। তারপর নিজের নগরে সে ঘোষণা করল, কারণ তা আহুকের বাক্য অনুযায়ী বলা হয়েছিল।

Verse 21

यश्च वो विदितं कुर्यादेवं कश्चित्क्वचिन्नरः । स जीवञ्छूलमारोहेत्स्वयं कृत्वा सबांधवः

যে কোনো মানুষ কোথাও তোমাদের কাছে এ কথা প্রকাশ করবে, সে নিজের কৃতকর্মের ফলে আত্মীয়স্বজনসহ জীবন্ত অবস্থায় শূলে আরূঢ় হবে।

Verse 22

ततो राजभयात्सर्वे नियमं तत्र चक्रिरे । नराः शासनमाज्ञाय रामस्याक्लिष्टकर्मणः

তখন রাজার ভয়ে সেখানে সকলেই কঠোর নিয়ম গ্রহণ করল। অক্লিষ্টকর্মা রামের আদেশ বুঝে লোকেরা তা পালন করল।

Verse 23

एवं प्रयतमानानां वृष्णीनामन्धकैः सह । कालो गृहाणि सर्वाणि परिचक्राम नित्यशः

এভাবে অন্ধকসহ বৃষ্ণিরা যত্নে রত থাকল; আর কাল প্রতিদিন তাদের সকল গৃহের চারদিকে নিরন্তর পরিক্রমা করতে লাগল।

Verse 24

करालो विकटो मुंडः पुरुषः कृष्णपिंगलः । सम्मार्जनी महाकेतुर्जपापुष्पावतंसकः

এক ব্যক্তি আবির্ভূত হল—ভয়ংকর, বিকট, মুণ্ডিত-মস্তক, কৃষ্ণ-পিঙ্গল বর্ণের। তার হাতে ঝাঁটা ও মহাধ্বজা ছিল, আর জবা ফুলের মালায় সে অলংকৃত ছিল।

Verse 25

कृकलासवाहनश्च रत्तिकाकर्णभूषणः । गृहाण्यवेक्ष्य वृष्णीनां नादृश्यत पुनः क्वचित्

তার বাহন ছিল কৃকলাস (টিকটিকি), আর কানে ছিল রত্তিকা-অলংকার। বৃষ্ণিদের গৃহসমূহ পর্যবেক্ষণ করে সে আর কোথাও পুনরায় দেখা দিল না।

Verse 26

तस्य चासन्महेष्वासाः शरैः शतसहस्रशः । न चाशक्यत वेद्धुं स सर्वभूताप्ययं सदा

তার দিকে মহাধনুর্ধররা লক্ষ লক্ষ তীর নিক্ষেপ করল; তবু তাকে বিদ্ধ করা গেল না—সে সর্বভূতের নিত্য অপ্যয় (লয়) স্বরূপ।

Verse 27

उत्पेदिरे महावाता दारुणा हि दिने दिने । वृष्ण्यन्धकविनाशाय बहवो लोमहर्षणाः

দিনে দিনে ভয়ংকর মহাবায়ু উঠতে লাগল—অনেক এমন যে রোমাঞ্চ জাগে। সেগুলি বৃষ্ণি ও অন্ধকদের বিনাশের অশুভ পূর্বলক্ষণ ছিল।

Verse 28

विवृद्ध्य मूषिका रथ्यावितुन्नमणिकास्तथा । केशान्ददंशुः सुप्तानां नृणां युवतयो निशि

ইঁদুর অত্যন্ত বেড়ে গেল, আর রথ্যাবিতুন্নমণিকা নামক কীটও তেমনি ছড়িয়ে পড়ল। রাতে যুবতীরা ঘুমন্ত পুরুষদের কেশ দংশন করতে লাগল।

Verse 29

चीचीकूचीत्यवाशंत सारिका वृष्णिवेश्मसु । नोपशाम्यति शब्दश्च स दिवारात्रमेव वा

বৃষ্ণিদের গৃহে শালিকারা “চীচীকূচী” বলে অবিরাম ডাকতে লাগল; সেই শব্দ দিনরাত থামল না।

Verse 30

अन्वकुर्वन्नुलूकाश्च वायसान्वृष्णिवेश्मसु । अजाः शिवानां च रुतमन्वकुर्वत भामिनि

বৃষ্ণিদের গৃহে কাকের ডাকে জবাবে পেঁচারা ডাকতে লাগল; আর হে সুন্দরী, শেয়ালের অশুভ রুত বকরিরাও অনুকরণ করল—এ ছিল অমঙ্গলসূচক।

Verse 31

पांडुरारक्तपादाश्च विहगाः कालप्रेरिताः । वृष्ण्यन्धकगृहेष्वेवं कपोता व्यचरंस्तदा

কালের প্রেরণায় ফ্যাকাশে-লালচে পা-ওয়ালা পাখিরা দেখা দিল; আর তখন বৃষ্ণি ও অন্ধকদের গৃহে কবুতররা সর্বত্র ঘুরে বেড়াল—এও অমঙ্গললক্ষণ।

Verse 32

व्यजायंत खरा गोषु करभाश्चाश्वतरीषु च । शुनीष्वपि बिडालाश्च मूषका नकुलीषु च

গোর মধ্যে গাধা জন্মাল, খচ্চরের মধ্যে উট; কুকুরীর মধ্যেও বিড়াল, আর বেজির মধ্যে ইঁদুর—প্রকৃতির এই উলটপালট ছিল ভয়ংকর অমঙ্গল।

Verse 33

तापत्रयांत पापानि कुर्वंतो वृष्णयस्तथा । अद्विषन्ब्राह्मणांश्चापि पितॄन्देवांस्तथैव च

ত্রিতাপদগ্ধ বৃষ্ণিরা পাপকর্মে প্রবৃত্ত হল; তবু তারা ব্রাহ্মণদের, পিতৃদের ও দেবতাদের প্রতি বিদ্বেষ করল না।

Verse 34

गुरूंश्चाप्यवमन्यंते न तु रामजनार्दनौ । भार्याः पतीन्व्युच्चरंति पत्नीश्च पुरुषास्तथा

লোকেরা গুরুজন ও আচার্যদেরও অবমাননা করতে লাগল, কিন্তু রাম ও জনার্দনকে নয়। স্ত্রীরা স্বামীদের প্রতি কঠোর বাক্য বলল, আর স্বামীরাও তেমনি স্ত্রীদের প্রতি।

Verse 35

विभावसुः प्रज्वलितो वामं विपरिवर्त्तते । नीललोहितमांजिष्ठा विसृजंश्चार्चिषः पृथक्

দগ্ধমান অগ্নিও বামদিকে ঘুরে গেল। সে নীল, লাল ও মঞ্জিষ্ঠা-রঙের পৃথক পৃথক শিখা ছড়াল—এ ছিল অশুভ লক্ষণ।

Verse 36

उदयास्तमने नित्यं पर्यस्तः स्याद्दिवाकरः । व्यदृश्यत सकृत्पुंभिः कबन्धैः परिवारितः

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তে সূর্য সর্বদাই বিকৃত মনে হতো। কখনও মানুষ দেখত, যেন তিনি মুণ্ডহীন ধড়ের (কবন্ধ) দ্বারা পরিবেষ্টিত—ভয়ংকর দর্শন।

Verse 37

महानसेषु सिद्धांते संस्कृतेऽन्ने तु भामिनि । उत्तार्यमाणे कृमयो दृश्यंते च वरानने

হে সুন্দরী! বৃহৎ রান্নাঘরে যখন অন্ন সম্পূর্ণ সিদ্ধ ও প্রস্তুত হতো, তখন পরিবেশনের সময়, হে বরাননে, তাতে কৃমি দেখা দিত—এ ছিল অশুভ সংকেত।

Verse 38

पुण्याहे वाच्यमाने च पठत्सु च महात्मसु । अभिधावंति श्रूयंते न चादृश्यत कश्चन

পুণ্যাহ-পাঠ চলছিল এবং মহাত্মারা শাস্ত্রপাঠ করছিলেন; তবু দৌড়াদৌড়ির শব্দ শোনা যেত, কিন্তু কাউকেই দেখা যেত না।

Verse 39

परस्परस्य नक्षत्रं हन्यमानं पुनःपुनः । ग्रहैरपश्यन्सर्वैस्ते नात्मनस्तु कथञ्चन

তারা বারংবার পরস্পরের জন্মনক্ষত্রকে গ্রহদের দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হতে দেখল; কিন্তু নিজেদের ভাগ্যগতি তারা কোনোভাবেই উপলব্ধি করতে পারল না।

Verse 40

न हुतं पाचयत्यग्निर्वृष्ण्यंधकपुरस्कृतम् । समंतात्प्रत्यवाशंत रासभा दारुणस्वनाः

বৃষ্ণি ও অন্ধকদের দ্বারা নিবেদিত হোমদ্রব্য অগ্নি যথাযথভাবে গ্রহণ করছিল না; আর চারিদিকে গাধারা কর্কশ ও ভয়ংকর স্বরে ডেকে উঠছিল—বিপদের অশুভ লক্ষণ।

Verse 41

एवं पश्यन्हृषीकेशः संप्राप्तान्कालपर्ययान् । त्रयोदशीं ह्यमावास्यां तां दृष्ट्वा प्राब्रवीदिदम्

এইভাবে হৃষীকেশ আগত কালপরিবর্তন প্রত্যক্ষ করলেন; আর ত্রয়োদশী তিথি অমাবস্যার ন্যায় অন্ধকারময় দেখে তিনি এই বাক্য বললেন।

Verse 42

त्रयोदशी पंचदशी कृतेयं राहुणा पुनः । तदा च भारते युद्धे प्राप्ता चाद्य क्षयाय नः

রাহুর প্রভাবে এই ত্রয়োদশী আবার পঞ্চদশীর ন্যায়, অমাবস্যার মতো অন্ধকারময় হয়েছে; যেমন তা ভারতযুদ্ধের কালে এসেছিল, তেমনি আজও আমাদের ক্ষয়ের জন্য এসেছে।

Verse 43

धिग्धिगित्येवकालं तं परिचिंत्य जनार्दनः । मेने प्राप्तं स षट्त्रिंशं वर्षं केशिनिषूदनः । पुत्रशोकाभिसंतप्ता गांधारी यदुवाच ह

সেই কাল চিন্তা করে জনার্দন ‘ধিক্ ধিক্’ বলে উঠলেন; কেশিনিষূদন বুঝলেন যে ছত্রিশতম বর্ষ এসে গেছে—যেমন পুত্রশোকে দগ্ধ গান্ধারী পূর্বে বলেছিলেন।

Verse 44

एवं पश्यन्हृषीकेशस्तदिदं समुपस्थितम् । इदं च समनुप्राप्तमब्रवीद्यद्युधिष्ठिरः

এইভাবে হৃষীকেশ সেই উপস্থিত হওয়া নিয়তিক্ষণ প্রত্যক্ষ করলেন; এবং সেই প্রসঙ্গেই তিনি যুধিষ্ঠিরের পূর্বোক্ত বাক্য স্মরণ করে বললেন।

Verse 45

पुरा व्यूढेष्वनीकेषु दृष्ट्वोत्पातान्सुदारुणान् । पुण्यग्रन्थस्य श्रवणाच्छांतिहोमाद्विशोधनात्

পূর্বে, যখন সেনাদল সাজানো ছিল এবং ভয়ংকর উৎপাত দেখা দিত, তখন পুণ্যগ্রন্থ শ্রবণ, শান্তিহোম ও শোধন-ক্রিয়ার দ্বারা শুদ্ধি লাভ হতো।

Verse 46

पूततीर्थाभिषेकांच्च नान्यच्छ्रेयो भवेदिति । इत्युक्त्वा वासुदेवस्तच्चिकीर्षन्सत्यमेव च । आज्ञापयामास तदा तीर्थयात्रामरिंदमः

“পবিত্র তীর্থে অভিষেক-স্নান ছাড়া আর কোনো শ্রেয় নেই।” এ কথা বলে, সত্যকর্মে দৃঢ় বাসুদেব তখন শত্রুদমন হয়ে তীর্থযাত্রার আদেশ দিলেন।

Verse 47

अघोषयंत पुरुषास्तत्र केशवशासनात् । तीर्थयात्रा प्रभासे वै कार्येति वरवर्णिनि

তখন কেশবের আদেশে সেখানে লোকেরা ঘোষণা করল—“হে সুন্দরী, প্রভাসে তীর্থযাত্রা অবশ্যই করতে হবে।”

Verse 48

अथारिष्टानि वक्ष्यामि पुरीं द्वारवतीं प्रति । काली स्त्री पांडुरैर्दंतैः प्रविश्य नगरीं निशि

এখন আমি দ্বারবতী নগরীর প্রতি ঘটিত অরিষ্ট-লক্ষণ বলছি—রাতে ফ্যাকাশে দাঁতওয়ালা এক কালো নারী নগরে প্রবেশ করল।

Verse 49

स्त्रियः स्वप्नेषु मुष्णन्ती द्वारकां प्रति धावति । अग्निहोत्रनिकेतं च सुमेध्येषु च वेश्मसु

নারীদের স্বপ্নে সে চুরি করতে করতে দ্বারকার দিকে ছুটে যেত; অগ্নিহোত্রের নিকেতন ও সুমেধাদের গৃহেও বেগে প্রবেশ করত—এ ছিল ভয়ংকর অশুভ লক্ষণ।

Verse 50

वृष्ण्यंधकांश्च खादंती स्वप्ने दृष्टा भयानका । कुर्वंती भीषणं नादं कुर्कुटश्वानसंयुता

স্বপ্নে এক ভয়ংকর প্রেতনারী দেখা দিত, যে বৃষ্ণি ও অন্ধকদের গ্রাস করছিল; মোরগ ও কুকুরসহ সে ভীষণ চিৎকার করত—আসন্ন বিপদের অশুভ সংকেত।

Verse 51

तथा सहस्रशो रौद्राश्चतुर्बाहव एव च । स्त्रीणां गर्भेष्वजायंत राक्षसा गुह्यकास्तथा

তদ্রূপ সহস্র সহস্র উগ্র সত্তা—কিছু চার বাহুবিশিষ্টও—নারীদের গর্ভে জন্ম নিতে লাগল; রাক্ষস ও গুহ্যক—এও ছিল ভয়ংকর অশুভ লক্ষণ।

Verse 52

अलंकाराश्च च्छत्राणि ध्वजाश्च कवचानि च । ह्रियमाणानि दृश्यंते रक्षोभिस्तु भयानकैः

অলংকার, ছত্র, ধ্বজ ও কবচ—এসব ভয়ংকর রাক্ষসদের দ্বারা হরণ হতে দেখা গেল; এ ছিল ধ্বংসের অশুভ সংকেত।

Verse 53

यच्चाग्निदत्तं कृष्णस्य वज्रनाभमयस्मयम् । दिवमाचक्रमे चक्रं वृष्णीनां पश्यतां तदा

আর অগ্নি কর্তৃক কৃষ্ণকে প্রদত্ত বজ্রনাভ, লৌহসম কঠিন সেই চক্র—তখন বৃষ্ণিদের চোখের সামনে আকাশে উঠে স্বর্গে গমন করল।

Verse 54

युक्तं रथं दिव्यमादित्यवर्णं भयावहं पश्यतो दारुकस्य । ते सागरस्योपरिष्टाद्वर्तमानान्मनोजवांश्चतुरो वाजिमुख्यान्

দারুক দেখিতে দেখিতে সূর্যবর্ণ দীপ্তিময় এক দিব্য, ভয়ংকর রথ প্রকাশ পেল। তা সাগরের উপর দিয়ে চলছিল, মনোজব চার শ্রেষ্ঠ অশ্বে যুক্ত।

Verse 55

तालः सुपर्णश्च महाध्वजौ तौ सुपूजितौ रामजनार्दनाभ्याम् । उच्चैर्जगुः स्वप्सरसो दिवानिशं वाचं चोचुर्गम्यतां तीर्थयात्राम्

সেই দুই মহাধ্বজ—তাল ও সুপর্ণ—রাম ও জনার্দন কর্তৃক সুপূজিত ছিল। তারা উচ্চস্বরে ধ্বনিত হল; আর দিব্য অপ্সরাগণ দিনরাত ঘোষণা করল—“তীর্থযাত্রায় গমন কর।”

Verse 56

ततो जिगमिषंतस्ते वृष्ण्यंधकमहारथाः । सांतःपुरास्तीर्थयात्रामीहंते स्म नरर्षभाः

তখন বৃষ্ণি ও অন্ধক বংশের সেই মহারথীরা—নরশ্রেষ্ঠ বৃষভসম—অন্তঃপুরসহ তীর্থযাত্রা করতে উদ্যত হয়ে রওনা দিল।

Verse 57

ततो मांसपरा हृष्टाः पेयं वेश्मसु वृष्णयः । बहु नानाविधं चक्रुर्मांसानि विविधानि च

তারপর বৃষ্ণিরা আনন্দিত হয়ে গৃহে মাংস ও পানীয়ে আসক্ত হল; তারা প্রচুর পরিমাণে নানা রকম পানীয় ও বিভিন্ন মাংস প্রস্তুত করল।

Verse 58

तथा सीधुषु बद्धेषु निर्ययुर्नगराद्बहिः । यानैरश्वैर्गजैश्चैव श्रीमंतस्तिग्मतेजसः

আর যখন সীধুর পাত্রগুলি বেঁধে রাখা হল, তখন সেই শ্রীসম্পন্ন, তীক্ষ্ণতেজ পুরুষেরা যান, অশ্ব ও গজসহ নগর থেকে বাইরে বেরিয়ে পড়ল।

Verse 59

ततः प्रभासे न्यवसन्यथोद्देशं यथागृहम् । प्रभूतभक्ष्यपेयास्ते सदारा यादवास्तदा

তখন প্রভাসে যাদবরা নিজ নিজ নির্দিষ্ট স্থানে, যেন নিজের গৃহেই, পত্নীসহ বাস করল। সে সময় তাদের কাছে প্রচুর ভক্ষ্য ও পানীয়ের সমারোহ ছিল।

Verse 60

निर्विष्टांस्तान्निशम्याथ समुद्रांते स योगवित् । जगामामंत्र्य तान्वीरानुद्धवोर्थविशारदः

তারা সেখানে স্থির হয়ে বসেছে শুনে, যোগবিদ্যা-নিপুণ ও বিচক্ষণ উদ্ধব সেই বীরদের বিদায় জানিয়ে সমুদ্রতটের দিকে প্রস্থান করলেন।

Verse 61

प्रस्थितं तं महात्मानमभिवाद्य कृतांजलिम् । जानन्विनाशं भोजानां नैच्छद्वारयितुं हरिः

প্রস্থানরত সেই মহাত্মাকে হরি করজোড়ে প্রণাম করলেন। ভোজদের অনিবার্য বিনাশ জেনে তিনি তা নিবৃত্ত করতে ইচ্ছা করলেন না।

Verse 62

ततः कालपरीतास्ते वृष्ण्यंधकमहारथाः । अपश्यन्नुद्धवं यांतं तेजसाऽदीप्य रोदसी

তারপর কালের প্রভাবে আচ্ছন্ন সেই বৃষ্ণি ও অন্ধক বংশের মহারথীরা, আকাশ ও পৃথিবীকে যেন দীপ্ত করে তুলছে এমন তেজস্বী উদ্ধবকে প্রস্থান করতে দেখল।

Verse 63

ब्राह्मणार्थेषु यत्क्लृप्तमन्नं तेषां वरानने । तद्वाहनेभ्यः प्रददुः सुरागंधरसान्वितम्

হে সুমুখী! ব্রাহ্মণদের জন্য যে অন্ন নির্দিষ্ট করা হয়েছিল, তা-ই তারা নিজেদের বাহনদের দিল—সুরার গন্ধ ও রসে মিশ্রিত সেই খাদ্য।

Verse 64

ततस्तूर्यशताकीर्णं नटनर्त्तकसंकुलम् । प्रावर्त्तत महापानं प्रभासे तिग्मतेजसाम्

তখন প্রভাসে শত শত বাদ্যের ধ্বনি ও নট-নর্তকদের ভিড়ের মধ্যে তীক্ষ্ণ তেজস্বীদের মহাপান শুরু হল।

Verse 65

कृष्णस्य संनिधौ रामः सहितः कृतवर्मणा । अपिबद्युयुधानश्च गदो बभ्रुस्तथैव च

কৃষ্ণের সন্নিধানে রাম কৃতবর্মার সঙ্গে পান করলেন; যুযুধান, গদ ও বভ্রুও তেমনই পান করল।

Verse 66

ततः परिषदो मध्ये युयुधानो मदोत्कटः । अब्रवीत्कृतवर्माणमवहस्यावमन्य च

তারপর সভার মাঝখানে মদোন্মত্ত যুযুধান কৃতবর্মাকে উপহাস ও অবজ্ঞা করে কথা বলল।

Verse 67

कः क्षत्रियो मन्यमानः सुप्तान्हन्यान्मृतानिव । न तन्मृष्यत हार्दिक्यस्त्वया तत्साधु यत्कृतम्

‘কোন ক্ষত্রিয় নিজেকে মহৎ মনে করে ঘুমন্ত লোকদের মৃতের মতো ভেবে হত্যা করবে? হার্দিক্য, তোমার সেই কাজ সহ্যযোগ্য নয়, আর তা ধর্মসম্মতও নয়।’

Verse 68

इत्युक्ते युयुधानेन पूजयामास तद्वचः । प्रद्युम्नो रथिनां श्रेष्ठो हार्दिक्यमथ भर्त्सयन्

যুযুধান এভাবে বললে, রথীদের শ্রেষ্ঠ প্রদ্যুম্ন সেই কথাকে সমর্থন করল এবং তারপর হার্দিক্যকে তিরস্কার করতে লাগল।

Verse 69

ततः पुनरपि क्रुद्धः कृतवर्मा तमब्रवीत् । निर्विशन्निव सावज्ञं तदा सव्येन पाणिना

তখন আবার ক্রোধে উন্মত্ত কৃতবর্মা তাকে অবজ্ঞাভরে বলল, আর সেই মুহূর্তে বাম হাতে যেন আঘাত করবে—এমন ভঙ্গি করল।

Verse 70

भूरिश्रवाश्छिन्नबाहुर्युद्धे प्रायोगतस्त्वया । व्याधेनेव नृशंसेन कथं वैरेण घातितः

যুদ্ধে তুমি অন্যায় কৌশলে ভূরিশ্রবার বাহু ছিন্ন করেছিলে; তবে পরে বৈরবশে সে কীভাবে নিহত হল—যেন নিষ্ঠুর ব্যাধ শিকারকে বধ করল?

Verse 71

इति तस्य वचः श्रुत्वा केशवः परवीरहा । तिर्यक्सरोषया दृष्ट्या वीक्षांचक्रे समः पुमान्

সে কথা শুনে পরবীরহন্তা কেশব বাহ্যত সমভাব রইলেন, কিন্তু সংযত ক্রোধভরা তির্যক দৃষ্টিতে তাকালেন।

Verse 72

मणिं स्यमंतकं चैव यः स सत्राजितोऽभवत् । स कथं स्मारयामास सात्यकिर्मधुसूदनम्

যার কাছে শ্যামন্তক মণি ছিল, সেই সত্রাজিৎ—সে কীভাবে সাত্যকির দ্বারা মধুসূদনকে সেই বিষয় স্মরণ করাল?

Verse 73

तच्छ्रुत्वा केशवस्यांकमगमद्रुदती सती । सत्यभामा प्रक्षुभिता कोपयन्ती जनार्द्दनम्

তা শুনে সती সত্যভামা ব্যাকুল হয়ে, জনার্দনকে ক্রুদ্ধ করে, কাঁদতে কাঁদতে কেশবের কোলে এসে পড়ল।

Verse 74

तत उत्थाय स क्रोधात्सात्यकिर्वाक्यमब्रवीत् । पंचानां द्रौपदेयानां धृष्टद्युम्नशिखंडिनः

তখন সাত্যকি ক্রোধভরে উঠে দাঁড়িয়ে দ্রৌপদীর পাঁচ পুত্র, ধৃষ্টদ্যুম্ন ও শিখণ্ডীর বিষয়ে এই কথা বললেন।

Verse 75

एष गच्छामि पदवीं सत्ये तव पथे सदा । सौप्तिके निहता ये च सुप्तास्तेन दुरात्मना

হে সত্যে! আমি সর্বদা তোমার পথেই চলব। সেই দুরাত্মা কর্তৃক সৌপ্তিক পর্বে যারা নিদ্রিত অবস্থায় নিহত হয়েছিল।

Verse 76

द्रोणपुत्रसहायेन पापेन कृतवर्मणा । समाप्तं चायुरस्याद्य यशश्चापि सुमध्यमे

দ্রোণপুত্র অশ্বত্থামার সহায়তাকারী পাপী কৃতবর্মা দ্বারা (ইহা কৃত)। হে সুমধ্যমে! আজ এর আয়ু এবং যশ সমাপ্ত হলো।

Verse 77

इतीदमुक्त्वा खङ्गेन केशवस्य समीपतः । अभिहत्य शिरः क्रुद्धश्चिच्छेद कृतवर्मणः

এই কথা বলে কেশবের সামনেই, ক্রুদ্ধ হয়ে তিনি তরবারির আঘাতে কৃতবর্মার মস্তক ছেদন করলেন।

Verse 78

तथान्यानपि निघ्नंतं युयुधानं समंततः । अन्वधावद्धृषीकेशो विनिवारयिषुस्तथा

এবং চারিদিকে অন্যদেরও যখন যুযুধান (সাত্যকি) হত্যা করছিলেন, তখন তাঁকে নিবৃত্ত করার জন্য হৃষীকেশ (কৃষ্ণ) তাঁর পেছনে ধাবিত হলেন।

Verse 79

एकीभूतास्ततस्तस्य कालपर्यायप्रेरिताः । भोजांधका महाराजं शैनेयं पर्यवारयन्

তখন কালের পরিণাম-প্রেরণায় ভোজ ও অন্ধকগণ একত্রিত হয়ে মহারাজ শৈনেয় (সাত্যকি)-কে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলল।

Verse 80

तान्दृष्ट्वाऽपततस्तूर्णमभिक्रुद्धाञ्जनार्द्दनः । न चुक्रोध महातेजा जानन्कालस्य पर्ययम्

তাদের দ্রুত ধেয়ে আসতে দেখে জনার্দন ক্রুদ্ধ হলেও মহাতেজস্বী তিনি ক্রোধে বশীভূত হলেন না; কারণ তিনি কালের নির্ধারিত পরিণাম জানতেন।

Verse 81

ते च पानमदाविष्टाश्चोदिताश्चैव मन्युना । युयुधानमथाजघ्नुरुच्छिष्टै र्भोजनैस्तथा

আর তারা পান-মদে মত্ত ও ক্রোধে প্ররোচিত হয়ে, তখন যুযুধানকে আঘাত করল; এমনকি তার দিকে উচ্ছিষ্ট খাদ্য ও আবর্জনাও নিক্ষেপ করল।

Verse 82

हन्यमाने तु शैनेये कुद्धो रुक्मिणिनंदनः । तदंतरमथाधावन्मोक्षयिष्यञ्छिनेः सुतम्

শৈনেয়কে আঘাত করা হচ্ছে দেখে রুক্মিণীনন্দন ক্রুদ্ধ হলেন; তিনি মাঝখানে ধেয়ে গেলেন, শিনিপুত্রকে উদ্ধার করবেন বলে।

Verse 83

स भोजैः सह संयुक्तः सात्यकिश्चांधकैः सह । बहुत्वात्तु हतौ वीरावुभौ कृष्णस्य पश्यतः

সাত্যকি ভোজদের সঙ্গে এবং অন্ধকদের সঙ্গেও যুদ্ধে আবদ্ধ ছিলেন; কিন্তু তাদের সংখ্যাধিক্যে সেই দুই বীরই কৃষ্ণের দৃষ্টিসামনেই নিহত হলেন।

Verse 84

हतं दृष्ट्वा तु शैनेयं पुत्रं च यदुनंदनः । एरकाणां तदा मुष्टिं कोपाज्जग्राह केशवः

শৈনেয়কে নিহত এবং নিজের পুত্রকেও তেমনি দেখে যদুনন্দন কেশব ক্রোধে উদ্দীপ্ত হয়ে তখন এরক-নলখাগড়ার এক মুঠো তুলে নিলেন।

Verse 86

ततोंऽधकाश्च भोजाश्च शिनयो वृष्णयस्तदा । न्यघ्नन्नन्योन्यमाक्रन्दैर्मुशलैः कालप्रेरिताः

তখন অন্ধক, ভোজ, শিনি ও বৃষ্ণিরা—কালের প্রেরণায়—আর্তচিৎকার ও কোলাহলের মধ্যে মুষলসদৃশ অস্ত্রে পরস্পরকে আঘাত করে নিধন করতে লাগল।

Verse 87

यश्चैकामेरकां कश्चिज्जग्राह रुषितो नरः । वज्रभूता च सा देवि ह्यदृश्यत तदा प्रिये

আর যে কোনো ক্রুদ্ধ মানুষ একটি মাত্র এরক-নলও তুলে নিত, হে প্রিয়ে দেবী, তা তখন বজ্ররূপ ধারণ করে দৃশ্যমান হতো।

Verse 88

तृणं च मुशलीभूतमण्वपि तत्र दृश्यते । ब्रह्मदंडकृतं सर्वमिति तद्विद्धि भामिनि

সেখানে তৃণমাত্রও মুষল হয়ে উঠতে দেখা যেত; হে ভামিনী, জেনে রেখো—সবই ব্রহ্মার দণ্ডবিধানে সম্পন্ন হয়েছিল।

Verse 89

तदभून्मुशलं घोरं वज्रकल्पमयस्मयम् । जघान तेन कृष्णोपि ये तस्य प्रमुखे स्थिताः

তা ভয়ংকর মুষল বজ্রসম, লৌহময় হয়ে উঠল; সেই মুষল দিয়েই শ্রীকৃষ্ণও তাঁর সম্মুখে দাঁড়ানোদের নিধন করলেন।

Verse 90

अवधीत्पितरं पुत्रः पिता पुत्रं च भामिनि । मत्तास्ते पर्यटंति स्म योधमानाः परस्परम्

হে ভামিনি! পুত্র পিতাকে বধ করল, পিতাও পুত্রকে। মদোন্মত্ত হয়ে তারা এদিক-ওদিক ঘুরে পরস্পর যুদ্ধ করছিল।

Verse 91

पतंगा इव चाग्नौ तु न्यपतन्यदुपुंगवाः । नासीत्पलायने बुद्धिर्वध्यमानस्य कस्यचित्

আগুনে পতঙ্গ যেমন ঝাঁপ দেয়, তেমনি শ্রেষ্ঠ যাদবেরা ধেয়ে পড়ল। যাদের বধ হচ্ছিল, তাদের কারও মনে পলায়নের বুদ্ধি জাগল না।

Verse 92

तं तु पश्यन्महाबाहुर्जानन्कालस्यपर्ययम् । मुशलं समवष्टभ्य तस्थौ स मधुसूदनः

তা দেখে, কালের পরিণাম জেনে, মহাবাহু মধুসূদন মুষল ধারণ করে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন।

Verse 93

सांबं च निहतं दृष्ट्वा चारुदेष्णं च माधवः । प्रद्युम्नमनिरुद्धं च ततश्चुक्रोध भामिनि

হে ভামিনি! সাম্ব, চারুদেষ্ণ, প্রদ্যুম্ন ও অনিরুদ্ধকে নিহত দেখে মাধব তখন ক্রোধে দগ্ধ হলেন।

Verse 94

यादवान्क्ष्माशयानांश्च भृशं कोपसमन्वितः । स निःशेषं तदा चक्रे शार्ङ्गचक्रगदाधरः

প্রচণ্ড ক্রোধে আচ্ছন্ন, শার্ঙ্গধনু, চক্র ও গদাধারী প্রভু তখন ভূমিতে শায়িত যাদবদেরও নিঃশেষে বিনাশ করলেন।

Verse 95

एवं तत्र महादेवि अभवद्यादव स्थलम् । गव्यूतिमात्रं तद्देवि यादवानां चिताः स्मृताः

এইভাবে, হে মহাদেবী, সেই স্থান ‘যাদব-স্থল’ নামে প্রসিদ্ধ হল। হে দেবী, সেখানে যাদবদের চিতাগুলি গব্যূতি-পরিমাণ বিস্তৃত বলে স্মরণ করা হয়।

Verse 96

तेषां किलास्थिनिचयैः स्थलरूपं बभूव तत् । भस्मपुंजनिभाकारं तेनाभूद्यादव स्थलम्

কথিত আছে, তাদের অস্থিসঞ্চয় থেকে সেই ভূমি এক বিশেষ রূপ ধারণ করল। ভস্মস্তূপের ন্যায় আকার হওয়ায় তা ‘যাদব-স্থল’ নামে পরিচিত হল।

Verse 97

दिव्यरत्नसमायुक्तं मणिमाणिक्यपूरितम् । यादवानां किरीटैश्च दिव्यगन्धैः सुपूरितम्

তা ছিল দিব্য রত্নে অলংকৃত, মণি-মাণিক্যে পরিপূর্ণ, এবং যাদবদের মুকুটে ছাওয়া—দিব্য সুগন্ধে সর্বত্র পরিপ্লুত।

Verse 98

तेषां रक्षानिमित्तं हि गंगा गणपतिस्तथा । यादवानां तु सर्वेषां जीवितो वज्र एव हि

তাদের রক্ষার নিমিত্তে সত্যই গঙ্গা এবং তদ্রূপ গণপতি (ছিলেন); আর সকল যাদবের জীবন-আশ্রয় নিঃসন্দেহে বজ্রই ছিল।

Verse 99

वयसोंते ततः सोऽपि प्रभासं क्षेत्रमागतः । निषिच्य स्वसुतं राज्ये नाम्ना ख्यातं महद्बलम्

তারপর জীবনের অন্তিম কালে সেও প্রভাসের পবিত্র ক্ষেত্রে এল। নিজের পুত্রকে রাজ্যে অভিষিক্ত করে—যে নামধারী ‘মহাবল’ বলে প্রসিদ্ধ ছিল।

Verse 100

तेनापि स्थापितं लिंगं यादवेन्द्रेण धीमता । वज्रेश्वरमिति ख्यातं तत्स्थितं यादवस्थले

সেই প্রজ্ঞাবান যাদবশ্রেষ্ঠও সেখানে একটি লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন; তা ‘বজ্রেশ্বর’ নামে খ্যাত এবং যাদবস্থলে প্রতিষ্ঠিত।

Verse 101

तत्रैव सुचिरं कालं तपस्तप्तं सुपुष्कलम् । नारदस्योपदेशेन प्रभासे पापनाशने

সেখানেই পাপনাশক প্রভাসে নারদের উপদেশে তিনি অতি দীর্ঘকাল প্রচুর ও কঠোর তপস্যা করেছিলেন।

Verse 102

प्राप्तवान्परमां सिद्धिं स राजा यादवोत्तमः । तत्रैव यो नरः सम्यक्स्नात्वा जांबवती जले

সেই রাজা, যাদবদের শ্রেষ্ঠ, পরম সিদ্ধি লাভ করেছিলেন। আর যে ব্যক্তি সেখানে জাম্ববতীর জলে বিধিপূর্বক স্নান করে, সেও সেই পুণ্যফলের অংশী হয়।

Verse 103

वज्रेश्वरं तु संपूज्य ब्राह्मणांस्तत्र भोजयेत् । यादवस्थलसामीप्ये गोसहस्रफलं लभेत्

বজ্রেশ্বরকে যথাবিধি পূজা করে সেখানে ব্রাহ্মণদের ভোজন করানো উচিত। যাদবস্থলের নিকটে এতে সহস্র গোদানসম পুণ্যফল লাভ হয়।

Verse 104

षट्कोणं तत्र दातव्यमंगुल्या यादवस्थले । यात्राफलमवाप्नोति सम्यक्छ्रद्धासमन्वितः

যাদবস্থলে সেখানে আঙুল দিয়ে ষট্কোণ চিহ্ন অঙ্কন (অর্পণ) করা উচিত। যথাযথ শ্রদ্ধাযুক্ত ব্যক্তি তীর্থযাত্রার পূর্ণ ফল লাভ করে।

Verse 237

इति श्रीस्कान्दे महापुराण एकाशीतिसाहस्र्यां संहितायां सप्तमे प्रभासखण्डे प्रथमेप्रभासक्षेत्रमाहात्म्ये यादवस्थलोत्पत्तौ वज्रेश्वरमाहात्म्यवर्णनंनाम सप्तत्रिंशदुत्तरद्विशततमोऽध्यायः

এইভাবে শ্রীস্কন্দ মহাপুরাণের একাশী-সহস্রী সংহিতার সপ্তম প্রভাসখণ্ডের প্রথম ‘প্রভাসক্ষেত্র-মাহাত্ম্য’ অংশে ‘যাদবস্থলের উৎপত্তি ও বজ্রেশ্বরের মাহাত্ম্যবর্ণনা’ নামক ২৩৭তম অধ্যায় সমাপ্ত হল।