Rig Veda - Mandala 1
AgniIndraCreation Hymns

Mandala 1

मण्डल 1

The Grand Opening

মণ্ডল ১ ঋগ্বেদের সূচনা করে এক প্রোগ্রামধর্মী যজ্ঞ-দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে: আহূত পুরোহিতরূপে অগ্নি, দীক্ষা/অভিষেক-সম্পাদক পানীয়রূপে সোম, এবং বিজয়ী শক্তিরূপে ইন্দ্র—যিনি আলো, জল ও ধন সুনিশ্চিত করেন। উত্তরকালীন, বিচিত্র সংকলন হিসেবে এতে বহু ঋষি-বংশের (বিশেষত মধুচ্ছন্দস্, গৌতম ও কাণ্ব) কণ্ঠ একত্রিত হয়েছে; এখানে লিটুর্জিক আহ্বান, যুগল-দেবতার উদ্দেশে অর্ঘ্য, এবং ক্রমে মহাজাগতিক প্রতিফলন ও আশীর্বাদবাণী দেখা যায়। এই মণ্ডলের স্তোত্রগুলি বারবার যজ্ঞসিদ্ধিকে ঋত (মহাজাগতিক বিধি/শৃঙ্খলা)-র সঙ্গে যুক্ত করে, এবং দেব-নিয়মের বন্ধন–মোচন শক্তি, ক্ষমা, সংযম ও সামষ্টিক কল্যাণের প্রার্থনাকে উজ্জ্বল করে।

Suktas in Mandala 1

Sukta 1

Sukta 1.1

ঋগ্বেদের এই উদ্বোধনী সূক্তে যজ্ঞের অগ্রগণ্য পুরোহিত (পুরোহিত) অগ্নিকে আহ্বান করা হয়েছে—তিনি সেই দিব্য দূত, যিনি দেবতাদের এখানে আনেন এবং সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করেন। নয়টি গায়ত্রী ছন্দের মন্ত্রে অগ্নির প্রশংসা করা হয়েছে ঋষি-প্রেরিত, সত্যবাহী এবং ‘রত্ন’ দানের শ্রেষ্ঠ দাতা হিসেবে; শেষে এক অন্তরঙ্গ প্রার্থনা—উপাসকের মঙ্গলার্থে তিনি যেন পিতার মতো সহজলভ্য ও নিকট হন।

9 mantras | Rishi: Madhucchandas Vaiśvāmitra | Devata: Agni

Chandas: Gāyatrī

Sukta 2

Sukta 1.2

ঋগ্বেদ ১.২ একটি প্রাচীন সোম-অর্ঘ্যসূচক স্তোত্র, যেখানে প্রথমে দ্রুতগামী প্রাণশ্বাস-রূপ বায়ুকে যজ্ঞে এসে প্রস্তুত সোম পান করার আহ্বান জানানো হয়। এরপর আহ্বানটি যুগল দেবতাদের দিকে প্রসারিত হয়—বায়ুর সঙ্গে ইন্দ্র, এবং শেষে মিত্র-বরুণ—প্রার্থনা করা হয় প্রেরণাজাত শক্তি, বিজয়দায়ী উদ্যম, এবং কার্যকর পবিত্র কর্মের জন্য প্রয়োজনীয় বিচক্ষণ ঋত-শৃঙ্খলা (দক্ষ) লাভের।

9 mantras | Rishi: Madhucchandas Vaiśvāmitra | Devata: Vāyu

Chandas: Gāyatrī

Sukta 3

Sukta 1.3

ঋগ্বেদ ১.৩ একটি প্রাচীন গায়ত্রী ছন্দের আহ্বান‑স্তোত্র, যেখানে প্রভাতের দ্রুতগামী যুগল দেবতা ও উদ্ধার‑রক্ষাকারী অশ্বিনদ্বয়কে যজ্ঞে আগমন করতে, নিবেদিত হবি গ্রহণ করতে এবং বল, আনন্দ ও প্রাচুর্য দান করতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পরে এই আহ্বান ‘বিশ্বে দেবাঃ’ (সমস্ত দেবতা) পর্যন্ত প্রসারিত হয় এবং শেষে সরস্বতীর দীপ্ত প্রশস্তিতে পরিণত হয়—তাঁকে প্রেরিত বুদ্ধি/প্রজ্ঞা (ধী) জাগ্রতকারিণী বলা হয়েছে—ফলে এই যজ্ঞকর্ম বাহ্য নিবেদনই নয়, অন্তরের স্বচ্ছতা ও জাগরণেরও সাধনা হয়ে ওঠে।

12 mantras | Rishi: Madhucchandas Vaiśvāmitra (traditional attribution for RV 1.1–1.11; RV 1.3 addressed to the Aśvins in this opening sequence) | Devata: Aśvinau (the Aśvins, dual divinity)

Chandas: Gāyatrī (3 pādas × 8 syllables; typical for the opening hymns of Mandala 1)

Sukta 4

Sukta 1.4

এই গায়ত্রী সূক্ত সেই দিব্য শক্তিকে আহ্বান করে যা যজ্ঞকে কার্যকর করে তোলে—অগ্নি, যিনি অর্ঘ্য ও আকাঙ্ক্ষার সুগঠিত, অবিচ্ছিন্ন শক্তি এবং অন্তর্গত ইচ্ছাশক্তিরূপে বিরাজমান—যাঁকে প্রতিদিন রক্ষা ও বৃদ্ধি লাভের জন্য ডাকা হয়। এটি ইন্দ্রের দিকেও মুখ ফেরায়—যিনি স্থিতিদায়ক শান্তি এবং সোম-নিষ্পেষকের পরাক্রমী সহায়; তাঁর কাছে সুনাম, প্রাচুর্য এবং বাধা অতিক্রম করে নিরাপদ গমন প্রার্থনা করা হয়। একত্রে, এই সূক্ত প্রারম্ভিক বৈদিক আচারকে অন্তর-বাহিরের যুগ্ম কর্ম হিসেবে স্থাপন করে: ইচ্ছাশক্তির প্রজ্বালন (অগ্নি) এবং বিজয়ী সুরক্ষার প্রাপ্তি (ইন্দ্র)।

10 mantras | Rishi: Madhucchandas Vaiśvāmitra | Devata: Agni (invoked as the integral, well-formed power of the sacrifice and inner will)

Chandas: Gāyatrī

Sukta 5

Sukta 1.5

ঋগ্বেদ ১.৫-এ ইন্দ্রকে আহ্বান করা হয়েছে—তিনি যেন যজ্ঞে এসে আসন গ্রহণ করেন এবং সঙ্গীরা স্তোম (স্তবগীতি) উচ্চারণ করতে করতে সদ্য নিষ্পেষিত সোম পান করেন। এতে ইন্দ্রের তৎক্ষণাৎ, পূর্ণবয়স্ক পরাক্রমের প্রশংসা করা হয়েছে—যে শক্তি সোমের জন্য এবং সর্বাধিপত্যের জন্য জন্মেছে—এবং শেষে রক্ষাপ্রার্থনা করা হয়েছে, যাতে শত্রুভাবাপন্ন মর্ত্য শক্তি উপাসকদের ক্ষতি না করে, আর ইন্দ্র বিনাশের আঘাত দূরে তাড়িয়ে দেন।

10 mantras | Rishi: Madhucchandas Vaiśvāmitra (traditional attribution for RV 1.1–1.11; RV 1.5 commonly within this attribution) | Devata: Indra

Chandas: Gāyatrī (3 pādas of 8 syllables typical for this Indra hymn section)

Sukta 6

Sukta 1.6

ঋগ্বেদ ১.৬ গায়ত্রী ছন্দে ইন্দ্রের স্তোত্র, যেখানে ইন্দ্রের বিজয়ী পরাক্রমকে দীপ্ত, সৌর ‘রোচনা’ (উজ্জ্বল দীপ্তি)-র সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে—যা বিশ্বকর্মের জন্য জোয়ালবদ্ধ করে গতিশীল করা হয়। কবিরা প্রেরিত বাক্‌/স্তোত্রের মাধ্যমে ইন্দ্রের নিকট গমন করে স্বর্গ, পৃথিবী ও বিস্তৃত মধ্যলোক—সকল স্তর থেকে ‘সাতি’ (জয়/লাভ) প্রার্থনা করেন, যাতে বিজয়ের শক্তি তাদের জীবন ও যজ্ঞক্রিয়ায় উপস্থিত হয়।

10 mantras | Rishi: Madhucchandas Vaiśvāmitra (traditional attribution for RV 1.1–1.11; for 1.6 commonly Vaiśvāmitra lineage) | Devata: Indra (with solar/rocanā imagery; the verse evokes the yoking of the radiant power in Indra’s cosmic action)

Chandas: Gāyatrī (3 pādas of 8 syllables; typical for early RV 1 hymns to Indra)

Sukta 7

Sukta 1.7

ঋগ্বেদ ১.৭ একটি সংক্ষিপ্ত গায়ত্রী সূক্ত, যেখানে বারবার ঘোষণা করা হয়েছে যে গায়ক ও ঋষিদের স্তবের প্রধান লক্ষ্য ইন্দ্র—দীপ্তিমান স্তোত্র ও প্রেরিত বাক্যে তিনি বলবর্ধিত হন। এখানে সদাদাতা ‘বৃষভ’ ইন্দ্রের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে, তিনি যেন অর্পিত সার-রস বৃদ্ধি করেন এবং তাঁর অবিভক্ত শক্তি উপাসকদের দিকে নিবদ্ধ করেন—বিজয়, রক্ষা ও সমৃদ্ধির জন্য।

10 mantras | Rishi: Madhucchandas Vaiśvāmitra (traditional attribution for RV 1.1–1.11; RV 1.7 commonly placed under this seer in Anukramaṇī tradition) | Devata: Indra

Chandas: Gāyatrī (dominant meter of RV 1.1–1.10; this verse conforms to the compact praise style typical of Gāyatrī)

Sukta 8

Sukta 1.8

ঋগ্বেদ ১.৮ ইন্দ্রকে উদ্দেশ করে গায়ত্রী ছন্দে রচিত এক স্তোত্র, যেখানে বিজয়দায়ী ও ক্রমবর্ধমান ‘রয়ি’ (সমৃদ্ধি/পূর্ণতার শক্তি) প্রার্থনা করা হয়েছে এবং সামূহিক যজ্ঞে ইন্দ্রের রক্ষাকবচ কামনা করা হয়েছে। সূক্তটি সমবেত হওয়া, প্রেরণাজাত চিন্তা এবং ‘সন্তান’ (তোক) অর্জনের চিত্রমালা অতিক্রম করে শেষে সোমপায়ী ইন্দ্রের প্রশংসার চূড়ান্ত ক্রিয়ায় পৌঁছায়—যার দ্বারা শক্তি ও আনন্দ নিশ্চিত হয়।

10 mantras | Rishi: Madhucchandas Vaiśvāmitra (traditional ascription for RV 1.1–1.11; applied here by continuity of the early Mandala 1 opening set) | Devata: Indra

Chandas: Gāyatrī (3 pādas of 8 syllables; RV 1.8 is classically in Gāyatrī addressing Indra)

Sukta 9

Sukta 1.9

ঋগ্বেদ ১.৯ একটি সংক্ষিপ্ত গায়ত্রী-ছন্দের স্তোত্র, যেখানে সোম-পেষণের সময় ইন্দ্রকে আহ্বান করা হয়েছে। তাঁকে অনুরোধ করা হয় উল্লাসজাগানিয়া/উদ্দীপক সোমরস পান করতে এবং উপাসকদের বিজয়ী শক্তিতে বলীয়ান করতে। কবি বারবার ইন্দ্রের উপস্থিতিকে বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করেন—বল (ওজস্), দীপ্তিমান পরাক্রম (দ্যুম্ন) ও ধন-সম্পদ (রায়স্)-এর বৃদ্ধি—যাতে যজমানরা সাফল্য ও খ্যাতির দিকে অগ্রসর হতে পারে।

10 mantras | Rishi: Medhātithi Kāṇva (traditional attribution for RV 1.9) | Devata: Indra

Chandas: Gāyatrī (3 pādas of 8 syllables; standard for many early Indra-invocations)

Sukta 10

Sukta 1.10

এই সূক্তে ইন্দ্র (শতক্রতু)-কে আহ্বান করা হয়েছে—তিনি সেই শক্তি, যিনি প্রেরণাময় স্তোত্রগানে বলবান হন এবং বিনিময়ে বিজয়শক্তি, যশ ও প্রাচুর্য দান করেন। কবি এমন প্রশংসা নিবেদন করেন যা দণ্ডের মতো ইন্দ্রকে “উত্তোলিত” করে, এবং প্রার্থনা করেন—তিনি যেন গোপন “গাভী” (আলো/ধনরত্ন) উন্মুক্ত করেন, পথ প্রশস্ত করেন, এবং উপাসকদের জন্য রাধস্ (পূর্ণতা/প্রাচুর্য) প্রকাশ্য করেন।

12 mantras | Rishi: Madhucchandas Vaiśvāmitra (traditionally for RV 1.1–1.11; RV 1.10 attributed to him in Anukramaṇī lists) | Devata: Indra (Śatakratu)

Chandas: Gāyatrī (8+8+8 syllables)

Sukta 11

Sukta 1.11

ঋগ্বেদ ১.১১ একটি সংক্ষিপ্ত ত্রিষ্টুভ্ সূক্ত, যা স্তবের মাধ্যমে ইন্দ্রের মহিমা বৃদ্ধি করে এবং তাঁর নির্ণায়ক বীরকর্ম স্মরণ করায়—বিশেষত বলার গুহা উন্মোচন ও দীপ্তিমান “গাভী” (কিরণ/সম্পদ) মুক্ত করা। এতে ইন্দ্রের বিজয়ী শক্তি, রক্ষা এবং প্রাচুর্য দানের প্রার্থনা করা হয়, এবং বলা হয় যে সত্যচিত্ত উপাসকের আহ্বানে তাঁর দানশীলতা সকল গণনার অতীত।

8 mantras | Rishi: Traditionally: Madhucchandas Vaiśvāmitra for RV 1.11 | Devata: Indra

Chandas: Triṣṭubh (RV 1.11 is predominantly Triṣṭubh)

Sukta 12

Sukta 1.12

এই গায়ত্রী ছন্দের সূক্তে অগ্নিকে দেবদূত ও হোতৃ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে—যিনি যজমানের স্তব ও আহুতি দেবতাদের কাছে পৌঁছে দেন এবং তাঁদের আশীর্বাদ ফিরিয়ে আনেন। এখানে অগ্নির সর্বজ্ঞতা, সত্যে প্রতিষ্ঠিত স্বভাব এবং অন্তর্দুঃখ-নিবারক শক্তির প্রশংসা করা হয়েছে; তাঁকে যজ্ঞকে কার্যকর ও সফল করতে এবং উজ্জ্বল শিখায় শেষ স্তোম গ্রহণ করতে প্রার্থনা করা হয়েছে।

12 mantras | Rishi: Medhātithi Kāṇva (traditional attribution for RV 1.12) | Devata: Agni

Chandas: Gāyatrī (3 x 8 syllables)

Sukta 13

Sukta 1.13

ঋগ্বেদ ১.১৩ একটি সংক্ষিপ্ত আহ্বানমূলক স্তোত্র, যেখানে অগ্নিকে হোতা ও দূতরূপে প্রজ্বালিত করে তাঁর কাছে প্রার্থনা করা হয়—যেন তিনি দেবতাদের যজ্ঞে আনেন এবং আহুতিকে কার্যকর করেন। মন্ত্রগুলি আচারগত নামডাকার মতো এগোয়—রাত্রি ও উষা-সহ প্রধান দেবশক্তিদের বরহিসে বসে অংশ নিতে আহ্বান করে—এবং শেষে ‘স্বাহা’সহ প্রস্তুত গৃহ্য যজ্ঞে দেবতাদের সমবেত হওয়া ও যজমানকে শক্তি দানের কামনায় উপনীত হয়।

12 mantras | Rishi: Medhātithi Kāṇva (traditional attribution for RV 1.13) | Devata: Agni

Chandas: Gāyatrī

Sukta 14

Sukta 1.14

ঋগ্বেদ ১.১৪ গায়ত্রী ছন্দে রচিত এক আহ্বানমূলক অগ্নিসূক্ত, যেখানে কণ্ব ঋষি অগ্নিকে প্রার্থনা করেন—তিনি যেন বিশ্বে দেবাঃ-সহ সোমপানের জন্য এখানে আসেন এবং নিষ্কলুষ হোতৃ রূপে যজ্ঞ সম্পাদন করেন। সূক্তটি বারবার অগ্নির আহ্বায়ক ও বাহক-রূপকে গুরুত্ব দেয়—দেবতাদের “এখানে” আনয়ন, ঋত (সঠিক বিধান/শৃঙ্খলা) প্রতিষ্ঠা, এবং মধুর আনন্দ (মধু/সোম) যথাবিধি গ্রহণযোগ্য করে তোলা।

12 mantras | Rishi: Kaṇva | Devata: Agni (with Viśve Devāḥ as accompanying powers)

Chandas: Gāyatrī (likely for RV 1.14.1; short 3×8 structure typical of the opening of many sūktas)

Sukta 15

Sukta 1.15

ঋগ্বেদ ১.১৫ একটি গায়ত্রী ছন্দের সূক্ত, যেখানে ইন্দ্রকে ঋত (সঠিক বিধান/নিয়ম) অনুসারে সোমপানের জন্য আহ্বান করা হয়েছে, যাতে যজমানের জন্য তাঁর শক্তি ও রক্ষা প্রকাশিত হয়। সূক্তটি সোম-নিষ্পেষণের পরিবেশ—নিষ্পেষণ-পাথর, ঋত্বিজ পুরোহিতগণ, এবং ধন-দাতা শক্তি দ্রবিণোদা—অতিক্রম করে এগোয়; এবং শেষে গার্হপত্য অগ্নিতে যজ্ঞকে প্রতিষ্ঠিত করে, যেখানে অগ্নি শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে যজ্ঞের নেতা রূপে অবস্থান করেন।

12 mantras | Rishi: Medhātithi Kāṇva (traditional for RV 1.15) | Devata: Indra (Soma-drinker)

Chandas: Gāyatrī

Sukta 16

Sukta 1.16

মেধাতিথি কাণ্বের এই গায়ত্রী সূক্তে ইন্দ্রকে তীব্র আহ্বান জানানো হয়েছে—তিনি যেন তাঁর পিঙ্গল/হরিত অশ্বদের সঙ্গে দ্রুত সোম-নিষ্পেষণের যজ্ঞে এসে সোমপান করেন। কবি স্তোত্র (স্তোম)কে দেবতার আসনরূপে নিবেদন করেন, প্রার্থনা করেন যে ইন্দ্র তৃষ্ণার্ত বৃষের ন্যায় সোমে উল্লসিত হন, এবং শেষে শতক্রতু ইন্দ্রের কাছে যজমানদের কামনা পূরণের আবেদন করেন—গো, অশ্ব ও বিজয়দায়ক শক্তি দান করুন।

9 mantras | Rishi: Medhātithi Kāṇva (traditional for RV 1.16) | Devata: Indra

Chandas: Gāyatrī

Sukta 17

Sukta 1.17

এই সূক্তে ইন্দ্র ও বরুণকে যুগল “সম্রাট” রূপে একসঙ্গে আহ্বান করা হয়েছে—যাঁরা রক্ষা করেন, আশীর্বাদ দেন এবং মানবজীবনকে ঋত/সঠিক বিধির পথে সুসংবদ্ধ করেন। এখানে প্রার্থনা করা হয় যে তাঁদের কৃপায় শক্তি (ইন্দ্র) সত্য ও নিয়ম/ধর্ম (বরুণ)-এর সঙ্গে সঙ্গত হবে, যাতে উপাসকের ক্রতু (সংকল্পশক্তি) প্রেরিত স্তোত্র ও কার্যকর যজ্ঞকর্মের উপযুক্ত হয়। শেষ মন্ত্রগুলোতে জোর দেওয়া হয়েছে যে সুগঠিত স্তুতি দুই দেবতার কাছে পৌঁছাক এবং যৌথ, সামুদায়িক স্তোত্ররূপে সমৃদ্ধ হোক।

9 mantras | Rishi: Medhātithi Kāṇva (trad.) | Devata: Indra-Varuṇa (dual)

Chandas: Gāyatrī

Sukta 18

Sukta 1.18

এই সূক্তে পবিত্র বাক্‌ ও যাজ্ঞিক শক্তির অধিপতি ব্রহ্মণস্পতিকে আহ্বান করা হয়েছে—তিনি যেন সোমকে “সোনালি” করেন এবং দ্রষ্টাকে প্রেরণাপ্রাপ্ত উচ্চারণ ও কার্যকর যজ্ঞের উপযুক্ত করে তোলেন। সোম, ইন্দ্র এবং ন্যায়দায়িনী শক্তি দক্ষিণার সঙ্গে পাপ, ভ্রান্তি ও সংকোচন থেকে রক্ষার প্রার্থনা করা হয়েছে, যাতে যজ্ঞকর্ম স্তবের এক দীপ্তিময়, স্বর্গসদৃশ আবাস হয়ে ওঠে।

9 mantras | Rishi: Kakṣīvant Dairghatamasa (traditionally for RV 1.18) | Devata: Brahmaṇaspati

Chandas: Gāyatrī (probable for RV 1.18 opening; short compact verse typical of gāyatrī)

Sukta 19

Sukta 1.19

ঋগ্বেদ ১.১৯ একটি সংক্ষিপ্ত গায়ত্রী-ছন্দের সূক্ত, যেখানে অগ্নিকে বারবার আহ্বান করা হয়েছে “মরুতদের সঙ্গে” সুন্দর, সুসংবদ্ধ যজ্ঞে আসতে—যজ্ঞের গোপীথা (রক্ষা) করতে এবং ক্রিয়াকে শক্তি দিতে। মরুতদের প্রশংসা করা হয়েছে দীপ্তিমান অথচ ভয়ংকর, ন্যায়সম্মত শাসনে দৃঢ়, এবং অনিষ্টকারীর বিনাশকারী হিসেবে; যাতে তাদের ঝড়-শক্তি ও অগ্নির শিখা একত্রে বাধা দূর করে এবং প্রেরিত কর্মকে জাগিয়ে তোলে। সূক্তের পরিণতি সোম-অর্ঘ্যের ভাবনায়: পুরোহিত মধুময় সোম ঢালে অগ্নির প্রথম পানীয়ের জন্য, এবং এভাবে অগ্নি, প্রাণ-বায়ু (মরুত), ও অর্পণের মৈত্রী সিলমোহর পায়।

9 mantras | Rishi: Kāṇva (traditional for RV 1.19, Agni with Maruts) | Devata: Agni (invoked with the Maruts)

Chandas: Gāyatrī

Sukta 20

Sukta 1.20

এই গায়ত্রী ছন্দের সূক্তটি একটি স্তোম (স্তব-সূত্র) রচনা করে যজ্ঞে এবং মানব-পাত্রে ইন্দ্রের “জন্ম” বা প্রকাশিত উপস্থিতিকে আহ্বান করে—ধন-সম্পদের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে। এরপর আহ্বানটি বিস্তৃত হয়ে দেবশক্তিদের সমন্বিত আগমনে পরিণত হয়—মরুতদের ও রাজস আদিত্যদের সঙ্গে ইন্দ্রের—এবং ঋভুদের আদর্শ “যথার্থ কারুকার্য”-এর স্মরণ করায়, যার দ্বারা তারা দেবদের মধ্যে যজ্ঞ-অংশে সম্মানিত ভাগ লাভ করেছিল।

8 mantras | Rishi: Medhātithi Kāṇva (traditional for RV 1.20, associated with the R̥bhus/Indra complex in the hymn) | Devata: Primarily Indra (opening frames the hymn-offering for divine manifestation; subsequent verses involve Indra and the R̥bhus)

Chandas: Gāyatrī

Sukta 21

Sukta 1.21

এই সংক্ষিপ্ত ইন্দ্রাগ্নী সূক্তটি দ্বৈত আহ্বান—ইন্দ্র ও অগ্নিকে সোম-নিষ্পেষণের যজ্ঞে নিকটবর্তী হতে এবং তাঁদের উদ্দেশে একত্রে নিবেদিত স্তব গ্রহণ করতে ডাকা হয়েছে। এতে তাঁদের যৌথ পরাক্রম, যজ্ঞে দ্রুত আগমনের প্রস্তুতি, এবং উপাসককে সত্যে জাগ্রত রাখা ও রক্ষাময় শান্তি (শর্ম) দান করার ক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

6 mantras | Devata: Indrāgnī (dual deity: Indra and Agni)

Chandas: Gāyatrī (likely for early RV dual-invocation hymns; not verified from input)

Sukta 22

Sukta 1.22

এই সূক্তটি প্রভাত-আহ্বানে অশ্বিনৌকে ডেকে শুরু হয়—দ্রুতগামী যুগল চিকিৎসক দেবতাকে শীঘ্র আসতে, সোম পান করতে, এবং জাগরণ, রক্ষা ও কার্যকর শক্তি দান করতে অনুরোধ করা হয়। ক্রমে প্রার্থনা বিস্তৃত হয়ে সহায়ক দেবশক্তিদের দিকে যায় (পোষণদাত্রী “রানী”রূপে দেবীদের এক দলসহ), এবং শেষে বিষ্ণুর “পরম পদ”—সর্বোচ্চ স্থানের—প্রসিদ্ধ দর্শনে উপনীত হয়, যা জাগ্রত দ্রষ্টা ঋষিরা প্রজ্বালিত করেছেন।

21 mantras | Devata: Aśvinau

Sukta 23

Sukta 1.23

ঋগ্বেদ ১.২৩ একটি সোম-আহ্বান সূক্ত, যেখানে বায়ুকে দ্রুত আসতে এবং যজ্ঞ-তৃণে স্থাপিত সদ্য-নিষ্পেষিত, শক্তিশালী সোম পান করতে আহ্বান করা হয়েছে। সূক্তটি অগ্রসর হলে তা সংশ্লিষ্ট আহ্বানগুলিতে (বিশেষত পূষণ ও অগ্নি) প্রসারিত হয়—পথনির্দেশ, হারানো বস্তু পুনরুদ্ধার, এবং তেজ, সন্তান ও দীর্ঘায়ুর সমন্বিত আশীর্বাদ প্রার্থনা করে; দেবতারা যজমানের আকাঙ্ক্ষার সাক্ষী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

24 mantras | Rishi: Medhātithi Kāṇva (opening of RV 1.23 traditionally under Kāṇva seers) | Devata: Vāyu (often paired with Indra in early soma offerings, though this verse directly addresses Vāyu)

Chandas: Gāyatrī (typical for many opening soma-invitation verses; probable here)

Sukta 24

Sukta 1.24

ঋগ্বেদ ১.২৪ শুরু হয় এক আন্তরিক প্রশ্ন দিয়ে—“কোন অমরের সুন্দর নাম আমরা ধারণ করব?”—এবং দ্রুতই আদিত্য বরুণের মহিমা ও অদিতির ব্যাপ্তিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। এই সূক্তে বরুণের ঋত-শাসন (মহাজাগতিক বিধি) প্রশংসিত, যা সূর্যকে তার পথে স্থাপন করে; এবং শেষে প্রায়শ্চিত্তময় প্রার্থনায় বলা হয়—বরুণ যেন তাঁর বন্ধনরূপ পাশ শিথিল করেন, যাতে উপাসক অদিতির সীমাহীন স্বাধীনতা ও নির্দোষতায় পুনরায় প্রত্যাবর্তন করতে পারে।

15 mantras | Rishi: Medhātithi Kāṇva (traditional for RV 1.24) | Devata: Aditi (with an open interrogative seeking the right immortal); the hymn is closely associated with Varuṇa in RV 1.24 overall

Chandas: Triṣṭubh (probable for RV 1.24 opening verses; exact meter should be confirmed against pada counts)

Sukta 25

Sukta 1.25

এই সূক্তটি বরুণের কাছে স্বীকারোক্তি ও করুণা-প্রার্থনা: মানুষ বারবার তাঁর ঋত (বিশ্ব-নৈতিক শৃঙ্খলা) রক্ষা করতে ব্যর্থ হলেও কবি ক্ষমা ও পুনঃস্থাপনের আবেদন জানায়। এতে বরুণকে সর্বদর্শী প্রহরী হিসেবে প্রশংসা করা হয়েছে—যিনি জানেন কী করা হয়েছে এবং কী বাকি আছে; এবং শেষে বিখ্যাত অনুরোধটি উচ্চারিত হয়, যেন বরুণের বাঁধনকারী “পাশ” (পাশ) থেকে মুক্তি দেওয়া হয়, যাতে জীবন স্বাধীনতা ও সত্যে অব্যাহত থাকতে পারে।

21 mantras | Rishi: Śunaḥśepa Ājīgarti (traditional for this Varuṇa sequence) | Devata: Varuṇa

Chandas: Gāyatrī (3 pādas of 8 syllables typical in RV 1.25 opening)

Sukta 26

Sukta 1.26

ঋগ্বেদ ১.২৬ একটি অগ্নিসূক্ত, যেখানে যজ্ঞাগ্নিকে আহ্বান করা হয়েছে—তিনি যেন নিজেকে বলবর্ধক শক্তিতে “আবৃত” করেন এবং অধ্বর (যজ্ঞকর্ম)কে সরল ও কার্যকর গতিতে অগ্রসর করেন। এতে অগ্নির অনন্য ভূমিকা—সর্বজনীন মুখ ও মধ্যস্থ—বিশেষভাবে উল্লিখিত: যে দেবতারই পূজা হোক, আহুতি প্রকৃতপক্ষে অগ্নিতেই প্রজ্বলিত হয়, এবং তিনিই তা সকল দেবতার কাছে পৌঁছে দেন। সূক্তের পরিণতিতে প্রার্থনা করা হয় যে অগ্নি তাঁর সকল রূপে যজ্ঞ ও প্রেরিত বাক্যকে ধারণ ও রক্ষা করুন, যাতে আহুতি বিজয়ী ও ফলপ্রসূ হয়।

10 mantras | Rishi: वसिष्ठ (Vasiṣṭha) (traditional attribution for RV 1.26) | Devata: अग्नि (Agni) (implied by miyedhya, ūrjām pate, yaja)

Chandas: गायत्री (Gāyatrī) (RV 1.26.1 is commonly Gāyatrī in the Agni hymns)

Sukta 27

Sukta 1.27

এই সূক্তে প্রধানত অগ্নির স্তব করা হয়েছে—তিনি প্রিয়, ধনদাতা অগ্নি, যিনি যজ্ঞযাত্রা (অধ্বর)-এর অধিপতি ও পথপ্রদর্শক; যজ্ঞের সঠিক গতি ও সফল আহুতি নিশ্চিত করেন। এতে প্রার্থনা করা হয় যে অগ্নি উপাসককে সংঘর্ষে এবং শক্তি অর্জনে সহায়তা করুন, যাতে স্থায়ী প্রেরণা (ইষঃ) ও সমৃদ্ধি আয়ত্ত করা যায়। শেষ মন্ত্রে শ্রদ্ধা সকল দেবতার প্রতি প্রসারিত হয় এবং প্রার্থনা করা হয় যে মানব গায়কের অতীত শক্তিগুলি যেন স্তোত্রগান ও আকাঙ্ক্ষাকে মাঝপথে ছিন্ন না করে।

13 mantras | Devata: Agni

Sukta 28

Sukta 1.28

এই সূক্তে সোম-নিষ্পেষণকে জীবন্ত, ধ্বনিময় যজ্ঞক্রিয়া হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। পেষণ-পাথর, উখল, পাত্র ও ছাঁকনি প্রভৃতি উপকরণকে আহ্বান করা হয়—তারা যেন জাগ্রত হয়ে ইন্দ্রকে জাগায় এবং নিবেদনকে কার্যকর করে তোলে। কুটে-পেষার শ্রাব্য ছন্দকে বিজয়ঘোষের মতো পবিত্র ঘোষণা করা হয়েছে; শেষে সোমকে সতর্কভাবে স্থানান্তর ও পরিশোধনের কথা বলা হয়, যাতে স্বচ্ছীকৃত পানীয়টি দেবতার উদ্দেশে যথাবিধি স্থাপন করা যায়।

9 mantras | Devata: Indra (with ritual implements personified in the frame)

Sukta 29

Sukta 1.29

এই ইন্দ্র-স্তোত্রে (পুনরাবৃত্ত ধ্রুবপদসহ) সোমপায়ী, সত্যধারী বীরের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে—তিনি যেন কবিদের স্তবকে কার্যকর করেন এবং দৃশ্যমান সমৃদ্ধি—গবাদি পশু, ঘোড়া ও ‘হাজারগুণ দীপ্ত’ প্রাচুর্য—দান করেন। আরও প্রার্থনা, ইন্দ্র যেন বাধাদানকারী শক্তি ও শত্রুতাপূর্ণ কোলাহল ভেঙে দেন, যাতে দান ও ঋতসম্মত বাক্য জাগ্রত হয়ে বিজয়ী হয়।

7 mantras | Rishi: Vasiṣṭha (traditional for RV 1.29; confirm per Anukramaṇī) | Devata: Indra

Chandas: Jagatī (refrain-like extension; verify by syllable count across pādas)

Sukta 30

Sukta 1.30

এই সূক্তটি প্রধানত ইন্দ্রের আহ্বান—তাঁকে সোম-নিষ্পেষণের যজ্ঞে দ্রুত আসতে, নিবেদিত সোম পান করতে এবং বিজয়, শক্তি ও দীপ্তিমান ঐশ্বর্য (রয়ি) দান করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এতে ইন্দ্রকে বজ্রধারী, শতশক্তিসম্পন্ন বন্ধু রূপে প্রশংসা করা হয়েছে, যিনি বাধা ভেঙে দেন ও যজমানদের সমৃদ্ধ করেন; পাশাপাশি সাহায্য, রক্ষা এবং যজ্ঞক্রিয়ার সফল সম্পাদনের প্রার্থনা ক্রমান্বয়ে উচ্চারিত।

22 mantras | Rishi: Vasiṣṭha (often for RV 1.30; verify per Anukramaṇī) | Devata: Indra

Chandas: Gāyatrī (likely; three pādas with shorter cadence—verify exact syllable counts)

Sukta 31

Sukta 1.31

ঋগ্বেদ ১.৩১ অগ্নিকে উদ্দেশ করে রচিত ত্রিষ্টুভ্ ছন্দের সূক্ত; এতে তাঁকে অঙ্গিরসদের মধ্যে প্রথম দ্রষ্টা, দেব ও মানুষের শুভ মিত্র, এবং ঋত (মহাজাগতিক বিধান)-এর অবিচল রক্ষক হিসেবে প্রশংসা করা হয়েছে। সূক্তটি অগ্নির কাছে প্রার্থনা করে—তিনি যেন সৎ কর্ম ও সৎ চিন্তা প্রজ্বলিত করেন, প্রাচুর্য সম্পদ ও বীরশক্তি দান করেন, এবং একতাবদ্ধ, সৌভাগ্যবান মন নিয়ে উপাসকদের ‘উত্তমতর’ (বস্যঃ) পথে পরিচালিত করেন।

18 mantras | Rishi: Hiraṇyastūpa Āṅgirasa (traditional attribution for RV 1.31) | Devata: Agni

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 32

Sukta 1.32

এই সূক্তে ইন্দ্রের আদিম বীরকর্মের বন্দনা করা হয়েছে—জলধারাকে রুদ্ধ করে রাখা বৃত্র (অহি)-বধ এবং তার ফলে জীবনদায়ী স্রোতগুলির মুক্তি। এতে ইন্দ্রের অপ্রতিরোধ্য বজ্র-শক্তি, পর্বত-দুর্গ ভেদ, এবং ঋত/বিশ্ব-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মানবসমৃদ্ধির কথা বর্ণিত। সূক্তটি স্তোত্র-আহ্বানরূপে ইন্দ্রের মহিমা বৃদ্ধি করে, যাতে তিনি পুনরায় বাধা অপসারণ করে বিজয়, বৃষ্টি ও স্থিতি দান করেন।

15 mantras | Rishi: Madhucchandas Vaiśvāmitra (traditional for RV 1.32) | Devata: Indra

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 33

Sukta 1.33

ঋগ্বেদ ১.৩৩ ইন্দ্রকে উদ্দেশ করে ত্রিষ্টুভ ছন্দের স্তোত্র; এতে পরাক্রমের অধিপতিকে ‘গো’ (আলো, ঐশ্বর্য ও সঠিক দিশা) খুঁজে-আনয়নকারী ও পুনঃপ্রতিষ্ঠাকারী রূপে প্রার্থনা করা হয় এবং উপাসকদের দিকে তাঁর প্রাচুর্য ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করা হয়। স্তোত্রটি ইন্দ্রের অতিক্রম-অযোগ্য শক্তির প্রশংসা করে—যা সৌর প্রহরায় সুরক্ষিত ও বেষ্টিত—এবং প্রতিযোগিতায় সহায়তা, ক্ষেত/ভূমি-জয়, ও ন্যায্য অর্জনের রক্ষার মতো নির্দিষ্ট অনুগ্রহ স্মরণ করে। এর লক্ষ্য হলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বাধার মধ্যে বিজয়, দীপ্তিময় সমৃদ্ধি এবং স্থির বিবেচনার জন্য ইন্দ্রকে আহ্বান করা।

15 mantras | Rishi: Gautama Rāhūgaṇa (traditional attribution for RV 1.33) | Devata: Indra

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 34

Sukta 1.34

এই সূক্তে অশ্বিনৌ (নাসত্য) দেবদ্বয়ের আহ্বান করা হয়েছে যেন তাঁরা বারংবার—“আজ তিনবার” এবং “প্রতিদিন”—তাঁদের দ্রুত রথে এসে সদা-নতুন প্রেরণা, রক্ষা এবং জীবনধারণকারী সহায়তা দান করেন। এতে তাঁদের সর্বত্রগামী গতি, সময়োচিত উদ্ধার-শক্তি এবং বীরবলসমৃদ্ধ ধন (সুবীর) প্রদানক্ষমতার প্রশংসা করা হয়েছে; শেষে শক্তি-লাভে বৃদ্ধি ও বিজয়ের জন্য সরাসরি প্রার্থনা নিবেদিত।

12 mantras | Rishi: Gautama Rāhūgaṇa (traditional for RV 1.34) | Devata: Aśvinau

Chandas: Jagatī

Sukta 35

Sukta 1.35

ঋগ্বেদ ১.৩৫ একটি সবিতৃ-স্তোত্র। এটি প্রথমে অগ্নি, মিত্র–বরুণ ও রাত্রিকে রক্ষাকারী সহায় শক্তি হিসেবে আহ্বান করে, তারপর সবিতৃকে সেই দিব্য প্রেরক রূপে স্মরণ করে যিনি জীবদের নিরাপদ, সুগঠিত পথে পরিচালিত করেন। স্তোত্রটি সবিতৃর বিশ্ব-ব্যবস্থাপনা নিয়ে ধ্যান করে—লোকসমূহে তাঁর অবস্থান, এমনকি যমের লোককেও স্পর্শ করে—এবং রক্ষা, সঠিক দিশা, ও অন্তরের ‘উচ্চারিত’ পথনির্দেশ প্রার্থনা করে, যা অন্ধকার/অস্পষ্টতা থেকে স্বচ্ছ দর্শনের দিকে নিয়ে যায়।

11 mantras | Rishi: Hiraṇyastūpa Āṅgirasa (traditional attribution for RV 1.35) | Devata: Savitṛ (primary); with invocations to Agni, Mitra–Varuṇa, and Rātrī as supporting powers

Chandas: Jagatī (predominant for RV 1.35; verse-length consistent with Jagatī cadence)

Sukta 36

Sukta 1.36

ঋগ্বেদ ১.৩৬ কণ্বদের অগ্নিসূক্ত, যেখানে দিব্য অগ্নিকে মহাশক্তিমান, সর্বজন-আরাধ্য পুরোহিতরূপে আহ্বান করা হয়েছে—যিনি মানুষের বাক্য ও হবি দেবতাদের কাছে বহন করে নিয়ে যান। এতে অগ্নির প্রশংসা করা হয়েছে যে তিনি ঋত (মহাজাগতিক বিধান)-এর উপর প্রজ্বলিত হন, এবং প্রার্থনা করা হয়েছে যে এই স্তোত্রের দ্বারাই তিনি আরও বলবান হন। শেষে রক্ষামূলক আবেদন—তাঁর প্রখর শিখা যেন রাক্ষস এবং সকল শত্রুভাবাপন্ন, কুটিল শক্তিকে দগ্ধ করে দূর করে।

20 mantras | Rishi: Kaṇva (Kāṇva lineage; RV 1.36 is Kaṇva-associated) | Devata: Agni

Chandas: Gāyatrī (hymn RV 1.36 is predominantly Gāyatrī)

Sukta 37

Sukta 1.37

এই সূক্তে ঝড়ের গণ মরুতদের প্রাণবন্ত স্তব করা হয়েছে—তাদের অপ্রতিরোধ্য ধাবন, দীপ্ত রথ এবং ভয়ংকর শক্তি এমন যে পৃথিবীও কেঁপে ওঠে। কণ্ব ঋষি তাদের সুশৃঙ্খল শক্তিসহ আগমনের আহ্বান জানান, যাতে উপাসকদের মধ্যে বল, আনন্দ এবং ঋত-অনুগত সঠিক গতি ও প্রেরণা জাগে। শেষে মরুতদের সঙ্গে সখ্যের ঘোষণা করা হয় এবং তাদের উল্লাসময় মহিমায় পুষ্ট হয়ে পূর্ণ আয়ু পর্যন্ত বেঁচে থাকার কামনা ব্যক্ত হয়।

15 mantras | Rishi: Kaṇva (Kaṇva lineage) | Devata: Maruts

Chandas: Gāyatrī (probable for opening of hymn; short 3-pāda structure typical)

Sukta 38

Sukta 1.38

এই সূক্তে মরুত-গণকে আহ্বান করা হয়েছে—ইন্দ্রের দ্রুতগামী, বজ্রধ্বনিসদৃশ কণ্ঠের সঙ্গী হিসেবে—এবং জিজ্ঞাসা করা হয়েছে কোন আনন্দ তাদের টেনে আনে; পাশাপাশি তাদের সুপ্রস্তুত হবি-অর্ঘ্য গ্রহণ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এতে তাদের ঝড়ো দীপ্তি—বিদ্যুৎ, বৃষ্টি ও গর্জনশক্তি—প্রশংসিত, এবং উপাসকদের জন্য রক্ষা, বৃদ্ধি ও অন্তর্গত শক্তিবৃদ্ধি প্রার্থিত। সূক্তের শেষে মরুতদের সরাসরি বন্দনা করার আহ্বান এবং প্রার্থনা—তাদের পরাক্রম “এখানেই আমাদের অন্তরে বৃদ্ধি পাক।”

15 mantras | Rishi: Kaṇva (Kaṇva lineage) | Devata: Marutaḥ

Chandas: Gāyatrī/Anuṣṭubh-like? (uncertain; requires metrical verification)

Sukta 39

Sukta 1.39

এই সূক্তে দূরদেশীয় লোক থেকে দগ্ধ জ্যোতির্ময় শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসা মরুতদের আহ্বান করা হয়েছে। কবি জিজ্ঞাসা করেন—কোন প্রেরণায় তারা গতি পায়, এবং কাকে সাহায্য করতে বা কাকে আঘাত করতে তারা উদ্যত। এতে তাদের গর্জনরত রথ, পৃথিবী কাঁপানো আগমন এবং অপ্রতিরোধ্য বলের উজ্জ্বল চিত্র অঙ্কিত হয়েছে; আর শত্রু শক্তির বিরুদ্ধে—বিশেষত ঋষির প্রেরিত দর্শন (ṛṣi)‑বিরোধীদের বিরুদ্ধে—তাদের রক্ষার প্রার্থনা করা হয়েছে।

10 mantras | Rishi: Kaṇva (Kāṇva lineage; traditional attribution) | Devata: Maruts

Chandas: Trishtubh (probable; needs verse-scan confirmation)

Sukta 40

Sukta 1.40

এই সূক্তে পবিত্র বাক্‌ ও প্রার্থনার অধিপতি ব্রহ্মণস্পতিকে আহ্বান করা হয়েছে—তিনি যেন উঠেন এবং যজ্ঞের নেতৃত্ব দেন, যাতে মন্ত্র কার্যকর ও রক্ষাকারী হয়। মরুতদের বলা হয়েছে তাদের উদার শক্তি নিয়ে অগ্রসর হতে, আর ইন্দ্রকে অনুরোধ করা হয়েছে দ্রুত প্রেরক ও অজেয় শক্তি হয়ে কাজ করতে—যিনি ভয় ও সংঘর্ষের মধ্যেও দৃঢ় মঙ্গল ও নিরাপদ কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করেন।

8 mantras | Devata: Brahmaṇaspati (with Maruts and Indra invoked)

Sukta 41

Sukta 1.41

এই সূক্তে আদিত্যগণ—বরুণ, মিত্র ও আর্যমণ—কে আহ্বান করা হয়েছে; তাঁরা ঋত (মহাজাগতিক ও নৈতিক শৃঙ্খলা)-এর দূরদর্শী রক্ষক। তাঁদের কাছে প্রার্থনা করা হয় পরাজয়, ভুলত্রুটি এবং শত্রুর কুটিল অভিসন্ধি থেকে রক্ষার জন্য। তাঁদের এমন পথপ্রদর্শক রূপে দেখানো হয়েছে, যাঁরা যজ্ঞকে “সরল পথে” পরিচালিত করেন—যাতে সঠিক চিন্তা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং বিপদের মধ্যেও নিরাপদ অতিক্রম নিশ্চিত হয়। শেষাংশে নৈতিক সুর স্পষ্ট: বাহ্যত উদার মনে হলেও মানুষের ক্ষেত্রে বিবেচনা-বুদ্ধি প্রয়োগ করতে বলা হয়েছে, এবং ক্ষতিকর বাক্যের প্রলোভনে না পড়ার উপদেশ দেওয়া হয়েছে।

9 mantras | Devata: Varuṇa, Mitra, Aryaman (Ādityas)

Sukta 42

Sukta 1.42

এই সূক্তটি পূষণের উদ্দেশে এক যাত্রা-প্রার্থনা—উপাসক চান তিনি পথের অগ্রভাগে চলুন, দুঃখ ও বিপদ দূর করুন, এবং কাম্য গন্তব্যে নিরাপদে পৌঁছে দিন। এতে পূষণের অভিভাবকত্বে সুপ্রাপ্ত সমৃদ্ধি—যা ন্যায়ভাবে অর্জিত ও ন্যায়ভাবে ভোগ্য—প্রার্থিত হয়েছে। শেষে বিবাদ নয়, শান্ত স্তবগান, এবং স্থায়ী ধন-সম্পদের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

10 mantras | Devata: Pūṣan

Sukta 43

Sukta 1.43

ঋগ্বেদ ১.৪৩ রুদ্রকে উদ্দেশ করে রচিত একটি সংক্ষিপ্ত গায়ত্রী-ছন্দের সূক্ত; এতে এমন যথার্থ, হৃদয়-প্রশান্তকারী স্তববাণী প্রার্থনা করা হয়েছে যা ভয়ংকর দেবতাকেও শান্তি, রক্ষা ও কল্যাণের উৎসে পরিণত করে। সূক্তটি রুদ্রের উপকারী, দীপ্তিময় দিক (সূর্য ও স্বর্ণের মতো জ্যোতির্ময়)কে তুলে ধরে, পাশাপাশি তাঁর বিস্ময়জাগানিয়া শক্তিকে পরোক্ষে স্বীকার করে—উপাসক ও সমাজের জন্য আরোগ্য, নিরাময় ও মঙ্গল লাভের উদ্দেশ্যে।

9 mantras | Rishi: Kutsa Āṅgirasa (traditional for RV 1.43) | Devata: Rudra

Chandas: Gāyatrī (3 pādas of 8 syllables; typical for concise invocations)

Sukta 44

Sukta 1.44

ঋগ্বেদ ১.৪৪ উষার সঙ্গে যুক্ত এক অগ্নি-সূক্ত; এতে পবিত্র অগ্নিকে দিব্য দূতরূপে প্রজ্বালিত করা হয় এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করা হয়—তিনি যেন উষার সঙ্গে জাগ্রত দেবগণকে নিয়ে আসেন এবং দানশীল যজমানকে “বহুবর্ণ” সমৃদ্ধি দান করেন। স্তবের প্রসারে অগ্নিকে প্রভাতের বিস্তৃত দেবমণ্ডলীর সঙ্গে আহ্বান করা হয়—সবিতৃ, উষা, অশ্বিনদ্বয়, ভাগ, মরুতগণ ও বরুণ—ফলে এই ক্রিয়া সোমযজ্ঞে এবং ঋত-ব্যবস্থার মধ্যে দিব্য শক্তিসমূহের সমন্বিত অভ্যর্থনায় পরিণত হয়।

14 mantras | Devata: Agni

Sukta 45

Sukta 1.45

এই সূক্তে অগ্নিকে যাজ্ঞিক পুরোহিত-আহ্বায়ক রূপে সম্বোধন করা হয়েছে—যিনি বসু, রুদ্র ও আদিত্য এই দেবগোষ্ঠীগুলিকে মানবযজ্ঞে আহ্বান করে আনেন এবং যজ্ঞকে “সুপথ” (সু-অধ্বর) করেন। বারবার প্রার্থনা করা হয়েছে যে অগ্নি হবি ও উপাসকের অভিপ্রায়কে ঊর্ধ্বে দেবলোকের দিকে বহন করুন, যাতে মনুর মানবসমাজ ঋত—বিশ্বব্যবস্থার—সঙ্গে সঙ্গত হয়। শেষাংশে অগ্নির যজনকে সোমের উপস্থিতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা হয়েছে; দেবতাদের পান করার আহ্বান জানিয়ে যজ্ঞ যেন সাধারণ সময়কে অতিক্রম করে—এই কামনা প্রকাশ পায়।

10 mantras | Rishi: Kaṇva (Kāṇva lineage) (traditional for RV 1.45) | Devata: Agni (as summoner and sacrificer); also invokes Vasus, Rudras, Ādityas

Chandas: Gāyatrī (probable; requires pada-count verification)

Sukta 46

Sukta 1.46

ঋগ্বেদ ১.৪৬ একটি প্রভাত-আহ্বান, যেখানে উষার প্রকাশের মাধ্যমে অশ্বিনদ্বয়কে আগমন করানো হয়। এই স্তোত্রে দিব্য যুগলকে দ্রুত উদ্ধারকারী ও চিকিৎসক রূপে প্রশংসা করা হয়েছে, যারা তাঁদের দীপ্ত রথে দ্রুত এসে পৌঁছান। স্তোত্রটি তাঁদের কাছে প্রার্থনা করে—তাঁরা যেন অস্তিত্বের “নদীসমূহ” অতিক্রম করেন, সোম গ্রহণ করেন, এবং উপাসক ও সম্প্রদায়কে রক্ষা, মঙ্গল ও বাধাহীন সহায়তা দান করেন।

15 mantras | Rishi: Kaṇva (Kanvas; RV 1.46 traditionally Kaṇva-pravara) | Devata: Aśvins (with Uṣas as the presenting power in the opening)

Chandas: Gāyatrī

Sukta 47

Sukta 1.47

কণ্বর এই সূক্তে অশ্বিনৌকে আহ্বান করা হয়েছে—তাঁরা যেন তাঁদের দীপ্তিমান রথে দ্রুত এসে তাঁদের জন্য নিংড়ানো অতিমধুর সোম পান করেন, ‘ঋত’ বৃদ্ধি করেন এবং কল্যাণ/সুস্থতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। বারবার যুগল চিকিৎসক দেবতার কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে যে তাঁরা উদার যজমানকে সর্বলোক থেকে—পৃথিবীর গভীরতা ও স্বর্গীয় বিস্তার থেকে—রত্ন (মণি/শক্তি) এবং রয়ি (সমৃদ্ধি, প্রাচুর্য) দান করুন। সূক্তের শেষে কণ্বর যজ্ঞ-সত্রগুলির সঙ্গে অশ্বিনদের দীর্ঘদিনের অন্তরঙ্গ সম্পর্ক পুনরায় নিশ্চিত করা হয়েছে, ফলে এই আমন্ত্রণ ব্যক্তিগতও এবং ঐতিহ্যগতও।

10 mantras | Rishi: Kaṇva | Devata: Aśvinau

Chandas: Jagati (probable for RV 1.47.1 due to longer line; requires metrical verification)

Sukta 48

Sukta 1.48

এটি উষা (প্রভাত)-কে আহ্বানকারী এক স্তোত্র, যেখানে তাঁকে মধুরতা, বিস্তৃত আলো ও উদার ঐশ্বর্যসহ উদিত হতে প্রার্থনা করা হয়েছে, যাতে মানবজীবন জেগে উঠে স্বচ্ছতা ও সৎ কর্মে প্রবৃত্ত হয়। স্তোত্রের নানা ঋচায় উষাকে সেই প্রকাশক রূপে প্রশংসা করা হয়েছে যিনি অন্ধকার দূর করেন, মঙ্গল ও শক্তি আনেন, এবং উপাসককে পরিপূর্ণতা, দীপ্তি ও পোষণের ধারক-সমর্থ শক্তির সঙ্গে সুর মিলিয়ে দেন।

16 mantras | Rishi: Kaṇva | Devata: Uṣas (Dawn)

Chandas: Gāyatrī (probable for RV 1.48; verse-level not independently verified here)

Sukta 49

Sukta 1.49

এই সংক্ষিপ্ত উষস্-সূক্তে প্রভাতকে আহ্বান করা হয়েছে—তিনি যেন দীপ্ত উচ্চলোক থেকে তাঁর মঙ্গলময় শক্তিসহ আগমন করেন, জাগরণ, শৃঙ্খলা এবং জীবনের যথার্থ ছন্দ নিয়ে আসেন। এতে চিত্রিত হয়েছে যে তাঁর রশ্মিতে সমগ্র উজ্জ্বল জগৎ আলোকিত হয় এবং সকল প্রাণী—ডানাওয়ালা, দ্বিপদ ও চতুষ্পদ—ঋত (মহাজাগতিক সত্য)-এর অনুসারে চলনে প্রবৃত্ত হয়। শেষে কাণ্বরা প্রেরিত বাক্যে তাঁকে স্পষ্টভাবে ডেকে সত্য সম্পদ ও অন্তরের নির্মল স্পষ্টতা প্রার্থনা করে।

4 mantras | Rishi: Praskaṇva Kāṇva (Kāṇva lineage) | Devata: Uṣas (Dawn)

Chandas: Gāyatrī (probable for RV 1.49; verse-level metrical confirmation recommended)

Sukta 50

Sukta 1.50

ঋগ্বেদ ১.৫০ সূর্যের এক দীপ্তিময় স্তব, যেখানে তাঁকে জাতবেদস্—সর্বজ্ঞ, সর্বপ্রকাশক শক্তি—রূপে বন্দনা করা হয়েছে; তাঁর রশ্মিই তাঁকে সকল জীবের দৃষ্টিগোচর করে তোলে। স্তোত্রটি তাঁর দৈনিক উদয় এবং দ্যুলোক ও অন্তরিক্ষে তাঁর বিস্তৃত গতি অনুসরণ করে, তাঁকে সময়ের পরিমাপক, জন্মের সাক্ষী এবং চেতনার জাগ্রতকারী হিসেবে চিত্রিত করে। শেষে রক্ষাপ্রার্থনা: আদিত্য যখন পূর্ণ তেজে উদিত হন, তিনি যেন বৈরী শক্তিকে দমন করেন এবং উপাসককে বিদ্বেষীর ক্ষমতা থেকে রক্ষা করেন।

13 mantras | Rishi: Kaṇva (Kāṇva lineage; hymn RV 1.50 traditionally ascribed to Kaṇvas) | Devata: Sūrya (Sun)

Chandas: Gāyatrī (probable for RV 1.50.1–4; verse-level metrical confirmation recommended)

Sukta 51

Sukta 1.51

ঋগ্বেদ ১.৫১ একটি তেজস্বী ইন্দ্র-স্তোত্র, যেখানে তাঁকে ধন-সম্পদের উচ্ছ্বসিত মহাসাগর এবং অজেয় বীর-চ্যাম্পিয়ন রূপে প্রশংসা করা হয়েছে—যাঁর মহিমা মানব-মাপকে অতিক্রম করে। কবি সংঘর্ষ ও সামষ্টিক প্রচেষ্টায় ইন্দ্রের সহায়তা প্রার্থনা করেন—তিনি যেন মিত্র ও প্রতিপক্ষকে পৃথক করে চিনতে পারেন, আইনহীন/অধর্মী শক্তিকে দমন করেন, এবং যজ্ঞকারীদের বীর্যবল ও রক্ষাকবচস্বরূপ আশ্রয় দান করেন।

15 mantras | Rishi: Vasiṣṭha (traditional attribution for RV 1.51) | Devata: Indra

Chandas: Triṣṭubh (typical for many Indra hymns; this verse is in longer cadence than gāyatrī)

Sukta 52

Sukta 1.52

ঋগ্বেদ ১.৫২ একটি ইন্দ্র-স্তুতি, যার কেন্দ্র বৃত্রবধের সেই বিজয়—যার ফলে জল মুক্ত হয় এবং মানুষের দৃষ্টির জন্য ও ঋত-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য সূর্য স্থাপিত হয়। এই সূক্তে ইন্দ্রকে প্রবল, দ্রুতগামী বীর-চ্যাম্পিয়ন রূপে প্রশংসা করা হয়েছে; সুগঠিত বাক্যে তাঁকে আহ্বান করা হয়, তিনি মরুতদের সহচর, এবং দেবগণ তাঁকে নিয়ে আনন্দিত। এর উদ্দেশ্য যজমানের দিকে ইন্দ্রকে অনুকূল করা—রক্ষা, গাতু (পথ/গমন), এবং তাঁর সিদ্ধান্তমূলক যুদ্ধশক্তিতে অর্জিত প্রাচুর্যের জন্য।

15 mantras | Rishi: Vasiṣṭha (traditional for RV 1.52 in many Anukramaṇī lists) | Devata: Indra

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 53

Sukta 1.53

বিশ্বামিত্রের এই ত্রিষ্টুভ্ সূক্ত ইন্দ্রের উদ্দেশে প্রশংসার “নতুন বাক্য” নিবেদন করে। যজ্ঞের দীপ্ত আসনে ইন্দ্রকে আহ্বান করে এবং ঘোষণা করে যে সত্য ধন ফাঁপা তোষামোদে নয়, আন্তরিক সাধনায় অর্জিত হয়। এতে সোমজাত ইন্দ্রশক্তির বৃত্রবধ ও বাধা-ভাঙার কীর্তি গীত হয়, এবং শেষে প্রার্থনা করা হয়—উপাসকেরা যেন ইন্দ্রের মঙ্গলময় বন্ধু হন, বীরশক্তি, দীর্ঘায়ু ও বিজয়ী অগ্রগতিতে সমৃদ্ধ।

11 mantras | Rishi: Viśvāmitra Gāthina (traditionally for RV 1.53) | Devata: Indra

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 54

Sukta 1.54

বিশ্বামিত্রের এই ইন্দ্র-স্তোত্রে যুদ্ধ ও দুর্দশার সংকটে গায়ক-যজমানদের পরিত্যাগ না করতে মঘবান ইন্দ্রের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে এবং ঘোষণা করা হয়েছে যে তাঁর শক্তির কোনো সীমা নেই। এতে ইন্দ্রের বিশ্ব-কম্পনকারী কীর্তির স্মরণ আছে—নদীর আর্তধ্বনি, অরণ্যের গর্জন, দুর্গের ভাঙন—এবং সেই স্মৃতিগুলিকেই ভিত্তি করে সম্প্রদায়ের জন্য রক্ষা, বিজয়ী শক্তি ও স্থায়ী সমৃদ্ধির বর প্রার্থিত হয়েছে।

11 mantras | Rishi: Viśvāmitra Gāthina (traditionally for RV 1.54) | Devata: Indra

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 55

Sukta 1.55

এই সূক্তে ইন্দ্রের অপরিমেয় মহিমা গীত হয়েছে—এতই বিশাল যে স্বর্গ ও পৃথিবীও তাঁকে ধারণ বা পরিমাপ করতে পারে না—এবং যুদ্ধে তাঁর ভয়ংকর, দীপ্তিমান শক্তির উদ্‌যাপন করা হয়েছে। বারবার বজ্র (বজ্রায়ুধ) গড়া ও শান দেওয়ার কথা উঠে আসে—যে নির্ণায়ক শক্তি বাধা-অবরোধ ধ্বংস করে এবং জনসাধারণের জন্য বল, রক্ষা ও অক্ষয় সম্পদ নিশ্চিত করে।

8 mantras | Devata: Indra

Chandas: Trishtubh (probable; requires metrical verification)

Sukta 56

Sukta 1.56

এই সূক্তে ইন্দ্রের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার প্রশংসা করা হয়েছে: তিনি দ্রুত অশ্বের মতো উঠে দাঁড়ান, কপিশ-যুগল রথে অগ্রসর হন এবং গর্জনময় শক্তিতে অন্ধকারকে তাড়িয়ে দেন। নিজের তবিষী (দিব্য পরাক্রম) দ্বারা বলবান ইন্দ্র দ্যৌ ও পৃথিবীকে ধারণ করেন এবং সোমের উল্লাসে বৃত্রের বন্ধন ভেঙে জলধারাকে মুক্ত করেন। রক্ষা, আলো ও প্রাচুর্যের জন্য ইন্দ্রের বিজয়ী শক্তিকে আহ্বান করাই এই সূক্তের উদ্দেশ্য।

6 mantras | Devata: Indra (high probability in this local sequence; exact assignment should be confirmed from RV Anukramaṇī)

Chandas: Trishtubh (probable; requires metrical verification)

Sukta 57

Sukta 1.57

এই ছয় ঋচাবিশিষ্ট ত্রিষ্টুভ স্তোত্রে ইন্দ্রের প্রশংসা করা হয়েছে—তিনি অপরিমেয় দাতা, যার ‘ধরে রাখা কঠিন’ দানধারা সকল জীবের জন্য প্রবাহিত হয়। এতে তাঁর নির্ণায়ক বিজয়কর্ম স্মরণ করা হয়েছে: বজ্র দিয়ে মহাপর্বত বিদীর্ণ করে তিনি আবদ্ধ জলধারা মুক্ত করেছিলেন এবং তাতে জগতকে ধারণ করেছিলেন। কবি সম্প্রদায়কে ইন্দ্রের আশ্রিত বলে স্থাপন করেন এবং তাঁকে অনুরোধ করেন—তাদের বাক্য গ্রহণ করে তাদের জীবন ও শক্তিকে বলবান করুন।

6 mantras | Rishi: Vasiṣṭha Maitrāvaruṇi | Devata: Indra

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 58

Sukta 1.58

ঋগ্বেদ ১.৫৮-এ অগ্নির স্তব করা হয়েছে—তাঁকে হোতৃ ও দিব্য দূতরূপে, যাঁকে যজ্ঞবিধি দ্বারা প্রবর্তিত করা হয় এবং যিনি অন্তরিক্ষ অতিক্রম করে দেবতাদের আহুতি-অর্ঘ্যের কাছে আহ্বান করেন। এই সূক্তে অগ্নির কল্যাণকর পুরোহিত-ভূমিকা তাঁর বিস্ময়কর, বায়ু-চালিত, অরণ্যে প্রজ্বলিত তেজের সঙ্গে মিশে গেছে; শেষে তাঁর কাছে আশ্রয়, দুঃখ-কষ্ট থেকে রক্ষা, এবং উষা-আনয়নকারী প্রেরণা ও ধনের প্রার্থনা করা হয়েছে।

9 mantras | Rishi: Viśvāmitra Gāthina (traditional for RV 1.58) | Devata: Agni (Hotar; as messenger)

Chandas: Jagatī (probable for RV 1.58; verify in critical edition)

Sukta 59

Sukta 1.59

এই সূক্তে অগ্নিকে বৈশ্বানর—সর্বজনীন অগ্নি, যাঁর মধ্যে অন্য সব অগ্নি আনন্দিত হয়—এবং মানব বসতির “নাভি” (কেন্দ্রীয় বন্ধন) রূপে প্রশংসা করা হয়েছে, যিনি মানুষকে ধর্মসম্মত সুশৃঙ্খল অবস্থায় একত্রে ধরে রাখেন। এখানে অগ্নিকে প্রেরিত হোতৃ বলা হয়েছে, যিনি প্রাচীন, মহিমান্বিত স্তোত্র ও হবি দেবতাদের কাছে বহন করেন এবং ভারদ্বাজ-বংশ ও সকল জনগণকে শক্তি, সমৃদ্ধি ও সুশৃঙ্খল জীবন দান করেন।

7 mantras | Rishi: Bharadvāja Bārhaspatya (traditional for RV 1.59) | Devata: Agni Vaiśvānara

Chandas: Triṣṭubh (11-syllable pādas, standard for many Agni hymns here)

Sukta 60

Sukta 1.60

এই সংক্ষিপ্ত ত্রিষ্টুভ্ স্তোত্রে অগ্নির প্রশংসা করা হয়েছে—তাঁকে দীপ্তিমান “সমাবেশের সংকেত” এবং দ্রুত দূত রূপে, যার কর্ম যজ্ঞে তৎক্ষণাৎ ফল আনে। এতে মাতরিশ্বন ভৃগুদের কাছে অগ্নিকে এনে দেওয়ার পৌরাণিক কাহিনি স্মরণ করা হয়েছে এবং সেই আদিম দানকে মানুষের বারংবার হৃদয় থেকে ও যজ্ঞভূমি থেকে অগ্নি প্রজ্বালনের কর্মের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। স্তোত্রের শেষে কবি অগ্নিকে ধন-সম্পদের অধিপতি ঘোষণা করেন এবং উষা-অভিমুখ প্রার্থনা করেন—তিনি যেন দ্রুত আগমন করেন ও অন্তরে আলোক জাগান।

5 mantras | Rishi: Bharadvāja Bārhaspatya (traditional for RV 1.60) | Devata: Agni (with Mātariśvan in narrative role)

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 61

Sukta 1.61

ঋগ্বেদ ১.৬১ একটি ত্রিষ্টুভ্ ছন্দের সূক্ত, যেখানে গৌতমগণ ইন্দ্রকে এক শক্তিশালী স্তোত্র নিবেদন করেন। তারা তাঁর উচ্ছ্বসিত মহিমার প্রশংসা করেন, যা স্বর্গ, পৃথিবী ও অন্তরিক্ষ জুড়ে বিস্তৃত, এবং তাঁর অপ্রতিরোধ্য যুদ্ধশক্তির, যা আলো ও বিজয় এনে দেয়। সূক্তটি বারবার প্রশংসাকে “দান” (ব্রহ্মাণি) হিসেবে চিত্রিত করে, যা ইন্দ্রকে শক্তি জোগায়; পাশাপাশি প্রার্থনা করা হয় যে তিনি কবিদের মধ্যে প্রেরিত দৃষ্টি স্থাপন করুন এবং উষা-জন্মা, দ্রুত আগত সমৃদ্ধি ও বুদ্ধি প্রদান করুন।

16 mantras | Rishi: Gautama (Gautamāsaḥ) for RV 1.61 | Devata: Indra

Chandas: Trishtubh (standard for many Indra hymns in RV 1)

Sukta 62

Sukta 1.62

এই ত্রিষ্টুভ্ স্তোত্র ইন্দ্রকে উদ্দেশ করে এক সুচারু “নব” ব্রহ্ম (পবিত্র মন্ত্র-রচনা) নিবেদন করে এবং আঙিরস-রীতিতে তাঁর প্রশংসা করে—প্রেরিত বাক্যের সর্বশ্রুত অধিপতি ও বিজয়ী শক্তির নায়ক হিসেবে। এতে আঙিরস-বংশীয় চিত্রকল্প জাগে—ঋষিসুলভ স্তব, দ্যৌ-পৃথিবীর বিশ্বধারণ, এবং ইন্দ্রের দীপ্তিমান রথ-দল—যাতে উপাসকেরা যথার্থ পথনির্দেশ, রক্ষা এবং উষা-বাহিত প্রেরণা লাভ করে।

13 mantras | Rishi: Gautama (Gotamāsaḥ) | Devata: Indra (with Angiras lineage imagery)

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 63

Sukta 1.63

এই ত্রিষ্টুভ্ সূক্তে ইন্দ্রের স্তব করা হয়েছে—তিনি সেই ‘মহান’, যার প্রবল শক্তিতে দ্যৌ‑পৃথিবী স্থিত থাকে এবং যার ভয়‑সম্মানে পর্বতও অচল হয়ে দৃঢ় দাঁড়িয়ে থাকে। এতে প্রার্থনা করা হয়েছে যে তিনি উপাসকদের শত্রুবল থেকে রক্ষা করুন, প্রতিরোধ ভেঙে দিন, এবং সুগঠিত শক্তি, বিজয় ও প্রেরণাপ্রাপ্ত ধন দান করুন—বিশেষত ঊষাকালে গোতমদের ব্রহ্মণ (পবিত্র উচ্চারণ) দ্বারা।

9 mantras | Rishi: Gotama Rāhūgaṇa (traditional attribution for RV 1.63) | Devata: Indra

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 64

Sukta 1.64

এই মরুত্-সূক্তে নোধা গৌতম ঝড়-গণদের উদ্দেশে এক “সু-রচিত” স্তব রচনা করেন। তিনি তাদের সিংহসম গর্জন, দীপ্তিমান রূপ এবং ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্রশংসা করেন—যে শক্তি বাধা ভেঙে অন্ধকারকে দূরে তাড়িয়ে দেয়। সূক্তটি যত্নবান কাব্যিক আহ্বান থেকে শুরু করে উজ্জ্বল যুদ্ধচিত্রে অগ্রসর হয় এবং শেষে ঋত (বিশ্ব-ব্যবস্থা)-এর সঙ্গে সঙ্গত প্রেরিত শক্তি ও স্থিত, বীর-উৎপাদক ধনের জন্য এক বাস্তব প্রার্থনায় সমাপ্ত হয়।

15 mantras | Rishi: Nodha Gautama (Nodhas, of the Gautama lineage) | Devata: Maruts (Rudra’s storm-host; powers of dynamic force)

Chandas: Triṣṭubh (11-syllable pādas; typical for Marut hymns)

Sukta 65

Sukta 1.65

ঋগ্বেদ ১.৬৫-এ অগ্নির প্রশংসা করা হয়েছে এক গোপন অথচ আবিষ্কারযোগ্য শিখা হিসেবে—গুহায় শিকারের মতো যার সন্ধান করা হয়—যাকে প্রার্থনা দ্বারা জোয়ালে বাঁধা হয় এবং যে দেবতাদের কাছে হবি বহন করে। স্তোত্রটি তাঁর অপ্রতিরোধ্য উচ্ছ্বাস উদ্‌যাপন করে (মুক্ত অশ্ব বা প্লাবিত নদীর ন্যায়) এবং তাঁকে দূর-দীপ্ত জ্ঞানী, “ঋত থেকে জন্ম” বলে চিত্রিত করে—যিনি উপাসনাকে অন্ধকার/অপ্রকাশ থেকে তুলে দীপ্তিমান ঋত-শৃঙ্খলার দিকে পরিচালিত করেন।

10 mantras | Rishi: Gautama Rāhūgaṇa (traditional attribution for RV 1.65) | Devata: Agni (probable; RV 1.65 is an Agni hymn in the standard Anukramaṇī tradition)

Chandas: Gāyatrī/Anuṣṭubh uncertain from single pāda excerpt; full hymn needed for secure meter

Sukta 66

Sukta 1.66

ঋগ্বেদ ১.৬৬-এ অগ্নির স্তব করা হয়েছে বহুবর্ণ দীপ্তি-সমৃদ্ধ, সর্বদর্শী উপস্থিতি হিসেবে—যিনি ধন, সূর্য, প্রাণ এবং “চিরন্তন পুত্র”—যিনি জীবন ধারণ করেন ও অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগিয়ে তোলেন। স্তোত্রটি মানুষের মধ্যে অগ্নির উজ্জ্বল আবির্ভাব, তাঁর যুদ্ধোপযোগী বল, এবং অন্ধকারের স্রোতকে এগিয়ে ঠেলে দেওয়ার ক্ষমতার কথা বলে, যাতে দীপ্ত “গাভী” (কিরণ/অন্তর্দৃষ্টি) স্বর্গের দর্শনের সঙ্গে সঙ্গত হয়।

10 mantras | Rishi: Gṛtsamada (traditional) | Devata: Agni

Chandas: Triṣṭubh (probable; requires verification)

Sukta 67

Sukta 1.67

এই সূক্তে অগ্নির প্রশংসা করা হয়েছে—অরণ্যে দ্রুত-জন্মা শিখা হিসেবে এবং মানুষের মধ্যে মিত্র-সদৃশ বন্ধু হিসেবে, যিনি যথার্থ শ্রবণ ও ঋত-এর প্রতি স্বেচ্ছা আনুগত্যের দ্বারা সমাজে সামঞ্জস্য স্থাপন করেন। এতে অগ্নিকে গুহায় গোপন দীপ্তিমান ‘গো-সমূহ’ (আলোকময় পাল)-এর অনুসন্ধানী ও রক্ষক রূপে চিত্রিত করা হয়েছে; এবং শেষে জাগ্রত বুদ্ধি (চিত্তি)-র এক দর্শন আসে, যা জলের নিবাসে প্রতিষ্ঠিত—যেখানে জ্ঞানীরা একত্রে মিলন ও ঐক্য গড়ে তোলেন।

10 mantras | Rishi: Gṛtsamada | Devata: Agni (with Mitra-quality: harmonizing friend within mortals)

Chandas: Triṣṭubh (probable for RV 1.67)

Sukta 68

Sukta 1.68

এই সূক্তে অগ্নির স্তব করা হয়েছে—সেই চিরজাগ্রত অগ্নি, যিনি স্বর্গের দিকে উত্থিত হন, চলমান ও স্থির সত্তাদের পথসমূহকে বিধিবদ্ধ করেন, এবং রাত্রিগুলিকে “উন্মুক্ত” করেন—যাতে আলো, জ্ঞান ও ঋতসম্মত কর্মের জন্য অবকাশ সৃষ্টি হয়। এখানে অগ্নির কাছে, যিনি সচেতন জ্ঞাতা ও গৃহস্বামী, প্রার্থনা করা হয়েছে যে তিনি যজ্ঞকারীদের এবং তাঁর নিকট শিক্ষা প্রার্থনাকারীদের জন্য সমৃদ্ধি (রায়স্)-এর দ্বার প্রশস্ত করুন।

10 mantras | Rishi: Parāśara (traditional for this Agni hymn cluster) | Devata: Agni

Chandas: Triṣṭubh (likely; confirm)

Sukta 69

Sukta 1.69

এই অগ্নিসূক্তে অগ্নির স্তব করা হয়েছে—তাঁকে দীপ্তিমান, স্বর্গসদৃশ আলো হিসেবে, যিনি ঋতের সঠিক পথে চলেন এবং উষার প্রেমিকের মতো যজ্ঞকে জাগ্রত করেন। এখানে অগ্নিকে একত্রিত মানবসমাজের আহ্বানে উপস্থিত দেবশক্তি বলা হয়েছে, যিনি সমৃদ্ধি, রক্ষা এবং সৌরলোক (স্বর) দর্শনের দ্বার উন্মুক্ত করেন। এই স্তোত্রের উদ্দেশ্য অগ্নিকে অন্তরে ও বাহিরে প্রজ্বালিত করা, যাতে তিনি আহুতি বহন করেন এবং সকল সিদ্ধি দান করেন।

10 mantras | Rishi: Gṛtsamada (traditional for RV 1.69, Agni-hymn) | Devata: Agni

Chandas: Triṣṭubh (probable; requires metrical verification)

Sukta 70

Sukta 1.70

ঋগ্বেদ ১.৭০ একটি অগ্নি-সূক্ত, যেখানে আর্য-মনীষা (উচ্চ, সুশৃঙ্খল অন্তর্দৃষ্টি) দ্বারা “প্রাচীন প্রাচুর্য” অর্জনের জন্য এবং অগ্নি যেন সকল লাভ-সিদ্ধি সুরক্ষিত করেন—এই প্রার্থনা করা হয়েছে। এতে অগ্নিকে যজ্ঞ ও জীবনের বিস্তৃত ভিত্তির সচেতন জ্ঞাতা ও রক্ষক রূপে চিত্রিত করা হয়েছে; তিনি দেব ও মর্ত্যের জন্মরহস্য বোঝেন এবং সাধককে অন্তর ও বহির সংঘাত অতিক্রম করিয়ে যথার্থ উদ্ভব ও বিজয়ের দিকে পরিচালিত করেন।

11 mantras | Rishi: Madhucchandas Vaiśvāmitra (traditionally for RV 1.70) | Devata: Agni

Chandas: Triṣṭubh (verse-level confirmation recommended)

Sukta 71

Sukta 1.71

এই সূক্তে অগ্নির স্তব করা হয়েছে—আকাঙ্ক্ষায় জাগ্রত ‘কাঙ্ক্ষিত শিখা’—এবং তাকে উষা, প্রভাতের সঙ্গে বোনা হয়েছে; উষার বহুবর্ণ উদয় সকল শক্তিকে অগ্রসর করে। গোপন অগ্নির উদ্দীপনা ও উষার পশ্চাতে চলা সমবেত ‘ভগিনীসদৃশ’ শক্তিগুলির কথা থেকে শুরু করে, এটি স্থায়ী প্রাণশক্তি, দেবপথে সঠিক গতি, এবং ক্ষতি ও শত্রুভাষণ থেকে বংশানুক্রমিক বন্ধনগুলির রক্ষার জন্য প্রার্থনায় উপনীত হয়।

10 mantras | Rishi: Parāśara Śāktya | Devata: Agni and Uṣas (interwoven: awakening of the desired flame and the dawning illumination)

Chandas: Triṣṭubh (with extended cadence)

Sukta 72

Sukta 1.72

এই সূক্তে অগ্নির স্তব করা হয়েছে—চিরসক্রিয় দিব্য কারিগর হিসেবে, যিনি প্রেরণাজাত কাব্যকর্ম (কাব্যানি) ধারণ করেন ও তা “স্থাপন” করেন, এবং ধনসম্পদ ও অমর শক্তির অধিপতি হন। এতে মহাজাগতিক চিত্রকল্প বোনা হয়েছে—গুপ্ত রহস্য, স্বর্গের “দুই চোখ” নির্মাণ, এবং নদীগুলির মুক্তি—যা যজ্ঞতত্ত্বে রূপ নিয়ে জানায় যে অগ্নি অমৃত (অমরত্ব) রক্ষা করেন এবং যজমানের বৃদ্ধি, স্থিতি ও অগ্রযাত্রাকে সুরক্ষা দেন।

10 mantras | Rishi: Parāśara Śāktya | Devata: Agni

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 73

Sukta 1.73

ঋগ্বেদ ১.৭৩-এ অগ্নিকে সুপথপ্রদর্শক হোতৃ রূপে আহ্বান করা হয়েছে—যিনি যজমানের “সদ্মন্” (গৃহ/আবাস)কে আশীর্বাদ, সমৃদ্ধি ও ঋত-সম্যক শৃঙ্খলার পরিসরে বিস্তার করেন। স্তোত্রটি অগ্নির প্রজ্ঞাময় নেতৃত্ব (সুপ্রণীতি) প্রশংসা করে, ঋতের প্রবাহ মুক্ত করার তাঁর শক্তির কথা বলে—যা বাধা ভেঙে বেরিয়ে আসা গাভী ও নদীর রূপকে কল্পিত—এবং শেষে প্রার্থনা করে যে কবির বাক্য প্রীতিকর হোক, আর অগ্নির সু-যোজিত শাসন ধন ও দেবনির্দিষ্ট খ্যাতি দান করুক।

10 mantras | Rishi: Madhucchandā Vaiśvāmitra (traditional for RV 1.73) | Devata: Agni

Chandas: Gāyatrī/Anuṣṭubh not applicable here; RV 1.73 is commonly Triṣṭubh (probable for this verse)

Sukta 74

Sukta 1.74

এই সূক্তটি যজ্ঞের সদা-নিকট পুরোহিত অগ্নির প্রতি এক প্রার্থনামূলক নিবেদন; এতে তাঁকে অনুরোধ করা হয়েছে—গায়ক-স্তোতাদের স্তব “দূর থেকেও” এবং “এখানেই” এই আচার-অনুষ্ঠানে শুনতে। এখানে অগ্নির প্রশংসা করা হয়েছে নানা উপাধিতে—সু-আহূত (ভালভাবে আহ্বিত), দেবসম, পরাক্রমশালী, বরহিষে সু-আসীন—এবং তাঁকেই বলা হয়েছে সেই সত্তা, যিনি হবি অর্পণকারী উপাসক ও দেবগণের জন্য দীপ্তিমান বীর্যশক্তি ও সমৃদ্ধি প্রকাশ করেন।

9 mantras | Rishi: Gopavana Ātreya (traditional for RV 1.74) | Devata: Agni

Chandas: Gāyatrī (probable; short 3-pāda structure typical of gāyatrī in this hymn style)

Sukta 75

Sukta 1.75

এই সংক্ষিপ্ত অগ্নি-সূক্তে অগ্নিদেবকে আহ্বান করা হয়েছে যেন তিনি কবির সর্বাধিক বিস্তৃত, প্রেরণাপ্রাপ্ত বাক্য গ্রহণ করেন এবং বেদীতে আসন গ্রহণ করে আহুতির গ্রহণকারী মুখ হন। এরপর এটি অগ্নির মানবীয় আত্মীয়তার প্রশ্ন তোলে—কে সত্যিই তাঁর বন্ধু, পৃষ্ঠপোষক ও যজ্ঞ-সহচর—এবং শেষে প্রার্থনা করে যে অগ্নি আমাদের পক্ষ থেকে মিত্র-বরুণ ও অন্যান্য দেবতার উদ্দেশে যজন করুন, ‘বৃহৎ ঋত’ (ṛtam bṛhat) রূপে তাঁদেরকে তাঁর নিজ ধামে আনয়ন করুন।

5 mantras | Rishi: Gotama Rāhūgaṇa (traditional; verify) | Devata: Agni

Chandas: Gāyatrī (likely for RV 1.75; confirm metrically)

Sukta 76

Sukta 1.76

গৌতমদের এই সংক্ষিপ্ত ত্রিষ্টুভ স্তোত্রে অগ্নিকে সত্য হোতৃ ও অন্তর্নিহিত পুরোহিত রূপে সম্বোধন করা হয়েছে, এবং জিজ্ঞাসা করা হয়েছে—কোন যথার্থ মানসিক ভঙ্গি ও প্রেরিত অন্তর্দৃষ্টি তাঁকে সর্বোত্তমভাবে পৌঁছায়। এতে প্রার্থনা করা হয় যে অগ্নির রক্ষাকারী ও শোধনকারী শক্তি বৈরী শক্তি (রক্ষস) দগ্ধ করুক এবং সোম-স্বামীকে (সাধারণত ইন্দ্র) আহুতির কাছে এনে যজ্ঞ পরিচালনা করুক। স্তোত্রের শেষে অগ্নির প্রাচীন ঋষিত্ব স্মরণ করে তাঁকে আজ ‘আনন্দিত স্রুচা’—অর্থাৎ স্বেচ্ছা ও প্রফুল্ল অভিপ্রায়সহ—যজন করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

5 mantras | Rishi: Gautama (Gautama Rahūgaṇa tradition for RV 1.76–1.77; family hymn context: Gautamas) | Devata: Agni (as Hotṛ, inner divine Will and priest of the sacrifice)

Chandas: Triṣṭubh (11-syllable pādas; standard for many Agni hymns in this section)

Sukta 77

Sukta 1.77

গৌতমদের এই সংক্ষিপ্ত ত্রিষ্টুভ স্তোত্রে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে—কোন উপযুক্ত, দেবগ্রাহ্য বাক্যই বা সত্যভাবে অগ্নির প্রশংসা করতে পারে, সেই দীপ্তিমান হোতৃকে, যিনি যজ্ঞে দেবতাদের উপস্থিত করেন। এরপর এতে অগ্নিকে ঋতাবা (ঋত/বিশ্ব-ব্যবস্থার ধারক), অন্তর্নিহিত সংকল্প ও যথার্থ পথনির্দেশ, এবং উপাসকের জন্য যশ, শক্তি ও পুষ্টি বৃদ্ধি-করা শক্তি হিসেবে বন্দনা করা হয়েছে।

5 mantras | Rishi: Gautama | Devata: Agni

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 78

Sukta 1.78

এই সংক্ষিপ্ত গায়ত্রী সূক্তে অগ্নি জাতবেদস্—সর্বজ্ঞ অগ্নি—কে আহ্বান করা হয়েছে, যেন তিনি প্রেরিত বাক্‌ ও ‘দ্যুতিময় শক্তি’ (দ্যুম্নৈঃ) দ্বারা প্রবলভাবে প্রজ্বলিত হন এবং অগ্রসর হন। গোতম বংশের ঋষিরা (এবং নামতঃ রাহূগণরা) তাঁকে সর্বদর্শী ও ‘বাজ’—প্রাণশক্তি ও প্রাচুর্য—অর্জনে সর্বাধিক বিজয়ী বলে ডেকে নেন, যাতে তাঁর আলো ও শক্তি উপাসকদের অন্তরে কার্যকর হয়।

5 mantras | Rishi: Gautama (Gotama lineage; ‘Gotamāḥ’ indicates the family-seers) | Devata: Agni (Jātavedas)

Chandas: Gāyatrī (3×8 syllables)

Sukta 79

Sukta 1.79

এই সূক্তে অগ্নির স্তব করা হয়েছে—উষার মতো দীপ্ত, দ্রুতগামী ও বায়ুর ন্যায় চঞ্চল শক্তি রূপে—যিনি অন্তরিক্ষে বিস্তার লাভ করে প্রেরণাময় কর্মকে জাগ্রত করেন। প্রার্থনা করা হয়, অগ্নি যেন রক্ষা ও সহায়তা নিয়ে কবিদের চিন্তা ও স্তোত্রধ্বনিতে অবতীর্ণ হন, বাধাদানকারী শক্তি (রক্ষস) দূর করেন এবং যজ্ঞকে স্বচ্ছতা ও সত্যে প্রতিষ্ঠিত করেন।

12 mantras | Rishi: Gotama (traditional attribution for RV 1.79 to Gotama Rāhūgaṇa in many indices) | Devata: Agni (depicted with dawn-like and wind-like dynamics)

Chandas: Triṣṭubh (11-syllable quarters; hymn style shifts from gāyatrī of 1.78)

Sukta 80

Sukta 1.80

ঋগ্বেদ ১.৮০ ত্রিষ্টুভ ছন্দের একটি ইন্দ্র-সূক্ত, যেখানে বলা হয়েছে যে সোম-উন্মাদনা ও প্রেরিত বাক্ (ব্রহ্মণ/উক্থ) ইন্দ্রের শক্তি বৃদ্ধি করে এবং বাধাদানকারী সর্প (অহি/বৃত্র)কে পরাজিত করতে তাকে প্রবৃত্ত করে। কবিরা এক যৌথ যজ্ঞ-লিতুর্জির ছবি আঁকেন—বহু কণ্ঠ, স্তোত্র, জপ ও স্তোভ—যা ইন্দ্রের “স্বরাজ্য” (স্ব-সার্বভৌমত্ব) অনুসরণ করে প্রবাহিত হয়; এবং এই প্রেরণাকে প্রাচীন ঋষিদের (অথর্বণ, মনু, দধ্যঞ্চ) মধ্যে প্রোথিত করেন। সূক্তটির উদ্দেশ্য প্রশংসা ও ক্ষমতায়ন—ইন্দ্রকে যজ্ঞে আহ্বান করা, গানের দ্বারা তাকে বলবান করা, এবং উপাসকদের জন্য শক্তি, বৃষ্টি ও সমৃদ্ধির মুক্তি/প্রবাহ নিশ্চিত করা।

16 mantras | Rishi: Gotama Rāhūgaṇa (Gautama) (traditional for RV 1.80) | Devata: Indra

Chandas: Triṣṭubh (predominant in Indra hymns; this verse is triṣṭubh-like in length and cadence)

Sukta 81

Sukta 1.81

ঋগ্বেদ ১.৮১ ইন্দ্রের প্রশস্তিগাথা, যেখানে তাঁকে সদা-বর্ধমান শক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে—যিনি যুদ্ধে জয় এনে দেন, লোকসমূহকে ধারণ করেন, এবং বড়-ছোট সব সংকটে তাঁর উপাসকদের রক্ষা করেন। এতে ইন্দ্রের অতুল পরাক্রমকে মহিমান্বিত করা হয়েছে—যা পৃথিবীকে পূর্ণ করে এবং স্বর্গ পর্যন্ত বিস্তৃত—এবং একই সঙ্গে ব্যবহারিক সহায়তাও প্রার্থনা করা হয়েছে: বিজয়, সুরক্ষা, এবং শত্রু বা অর্ঘ্য-না-দেওয়া লোকদের সম্পর্কে বিচক্ষণতা।

9 mantras | Rishi: Gautama Rāhūgaṇa (traditionally for RV 1.81) | Devata: Indra

Chandas: Triṣṭubh (probable)

Sukta 82

Sukta 1.82

এই ছয় ঋচাযুক্ত সূক্তে ইন্দ্রকে তীব্র আহ্বান জানানো হয়েছে—কবিদের সত্য বাক্য শুনে দ্রুত সোম-অর্ঘ্যের কাছে আসতে। ‘দুটি কপিশ অশ্বকে জোয়াল দাও’—এমন ধ্রুব-পংক্তির মতো ডাক ইন্দ্রের বৃষবল রথে আগমনকে ঘিরে রাখে; তিনি উপচে-পড়া সোমপাত্রকে চিনে নেন এবং নিংড়ানো পানীয়ে উল্লসিত হন। শেষে কবি ব্রহ্মণ (পবিত্র উচ্চারণ) দ্বারা ইন্দ্রের অশ্বদ্বয়কে জোয়াল দেন, তাঁকে আসনে বসে আনন্দ করতে প্রার্থনা করেন, এবং সহচর উপস্থিতি হিসেবে পূষণেরও উল্লেখ করেন।

6 mantras | Devata: Indra

Sukta 83

Sukta 1.83

এই সংক্ষিপ্ত ইন্দ্র-স্তোত্রে সেই মর্ত্যের প্রশংসা করা হয়েছে, যে ইন্দ্রের সহায়তায় সমৃদ্ধ হয়—অশ্ব, “গাভী” (কিরণ/ধন) এবং এমন প্রাচুর্য লাভ করে, যেমন জল নদীকে পূর্ণ করে। এতে অঙ্গিরস–পণি/বল প্রসঙ্গ স্মরণ করা হয়েছে, যেখানে যথাযথ প্রজ্বালন ও অনুপ্রাণিত প্রচেষ্টায় গোপন ধন ও আলো অর্জিত হয়; এবং শেষে বলা হয়েছে, স্তোত্র-গান, পেষণ-পাথর ও বিছানো বরহিসসহ সুসম্পন্ন সোম-যজ্ঞেই ইন্দ্রের আনন্দ নিহিত।

6 mantras | Devata: Indra

Sukta 84

Sukta 1.84

এটি সোম-নিষ্পেষণের সময় ইন্দ্রকে আহ্বানকারী এক স্তোত্র। এখানে “অত্যন্ত পরাক্রমশালী” দেবতাকে যজ্ঞে ডাকা হয়েছে এবং প্রার্থনা করা হয়েছে যে তিনি ইন্দ্রিয়—বিজয়ী শক্তি—তে পরিপূর্ণ হয়ে আসুন, যেমন সূর্য তার রশ্মিতে আকাশকে ভরে দেয়। এতে বজ্রধারী ইন্দ্রের মহিমা ও শক্তির স্তব আছে, মারুতদের সঙ্গে এবং গাভী-ও-সোম-শক্তির সঙ্গে তাঁর সখ্যের উল্লেখ আছে যারা পানীয় প্রস্তুত করে, এবং জনসমূহের জন্য অচ্যুত রক্ষা ও পরিমিতভাবে বণ্টিত ধনের প্রার্থনা করা হয়েছে।

20 mantras | Rishi: Gotama Rāhūgaṇa (traditionally for RV 1.84) | Devata: Indra

Chandas: Gāyatrī (probable for RV 1.84.1; verse-level verification recommended)

Sukta 85

Sukta 1.85

এই সূক্তে মরুতদের—রুদ্রের ঝড়-জন্মা পুত্রদের—প্রশংসা করা হয়েছে; তারা দীপ্তিমান, যুদ্ধশক্তিতে প্রবল দেবশক্তি, যারা জগতসমূহকে প্রসারিত করে এবং যজ্ঞকে উদ্দীপিত করে। এতে তাদের দ্রুত, জ্যোতির্ময় অগ্রযাত্রা, স্বর্গে তাদের বিশ্বব্যাপী মহিমা, এবং যজ্ঞাসনে তাদের অন্তরঙ্গ নিকট আগমনের কথা বলা হয়েছে। শেষে কবি প্রার্থনা করেন, তারা যেন তাদের রক্ষাকারী “আশ্রয়” দান করেন এবং উপাসকদের ধন ও বীরশক্তি প্রদান করেন।

12 mantras | Rishi: Gotama Rāhūgaṇa (traditional for RV 1.85) | Devata: Maruts (Rudra’s sons)

Chandas: Triṣṭubh (common for Marut hymns; verse-level confirmation may vary)

Sukta 86

Sukta 1.86

এই সূক্তে মরুতদের আহ্বান করা হয়েছে—তাঁরা পরাক্রমশালী, স্বর্গগামী রক্ষক; তাঁরা পথ প্রশস্ত করেন, উপাসককে রক্ষা করেন এবং সংগ্রামরত জনসমাজকে ধারণ করেন। ঋষি তাঁদের প্রতি দীর্ঘদিনের ভক্তির স্মরণ করেন এবং তাঁদের সক্রিয় সহায়তা প্রার্থনা করেন—গুপ্ত অন্ধকারকে দূর করে দীপ্তিময় স্বচ্ছতাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। সার্বিকভাবে এটি রক্ষা, সামষ্টিক শক্তি এবং বাধাদানকারী শক্তির উপর আলোর বিজয়ের প্রার্থনা।

10 mantras | Rishi: Gotama Rāhūgaṇa (traditional for RV 1.86) | Devata: Marutās

Chandas: Gāyatrī (compact 3×8 style; hymn 1.86 is commonly in Gāyatrī/related meters)

Sukta 87

Sukta 1.87

ঋগ্বেদ ১.৮৭-এ মরুতদের প্রশংসা করা হয়েছে এক অপ্রতিরোধ্য, যুবক সেনাদল হিসেবে—সোজা পথে ধাবমান, অটল, ঊষার মতো দীপ্তিমান—যাদের গতি ও গানে শ্রী ও বীর্য প্রসারিত হয়। স্তোত্রটি প্রেরিত ধী (অনুপ্রাণিত বুদ্ধি) রক্ষার জন্য তাদের আশ্রয় প্রার্থনা করে, এবং তাদের সত্য, নির্ভীকতা ও অন্তর্নিহিত ‘ধামন’ (অন্তঃস্থ নিবাস/শক্তি)-কে এমন এক বলরূপে উদযাপন করে যা উপাসককে স্থির করে ও উন্নীত করে।

6 mantras | Rishi: Gautama Rāhūgaṇa (traditional for RV 1.87) | Devata: Marutaḥ

Chandas: Jagatī (probable; RV 1.87 shows Jagatī/Triṣṭubh mixture, opening often Jagatī-like length)

Sukta 88

Sukta 1.88

এই সূক্তে মরুতদের প্রতি এক গতিশীল আহ্বান—তাঁরা যেন বিদ্যুৎ-উজ্জ্বল রথে দ্রুত এসে যজমানের যজ্ঞক্ষেত্রে প্রাচুর্য, বল ও রক্ষাশক্তি বর্ষণ করেন। এতে বলা হয়েছে, কবিরা—গৌতমগণ—কার্যকর মন্ত্রশক্তি (ব্রহ্মন্) উদ্দীপিত/উত্তোলিত করেন, যা আনন্দের উৎসকে ‘উত্তোলন’ করে; যাতে মরুতরা তা পান করতে পারেন এবং পাল্টা হিসেবে সমাজকে বৃদ্ধি ও ঋত-সমন্বিত (সুশৃঙ্খল) শক্তিতে বলীয়ান করেন।

6 mantras | Rishi: Gautama (RV 1.88 traditionally Gautama Rāhūgaṇa) | Devata: Maruts

Chandas: Triṣṭubh (probable)

Sukta 89

Sukta 1.89

এই সূক্তটি বিশ্বেদেবদের উদ্দেশে এক সর্বব্যাপী মঙ্গলাশীর্বাদ। এতে চার দিক থেকে শুভ সংকল্প (ভদ্রাঃ ক্রতবঃ) আগমনের আহ্বান করা হয়েছে এবং দেবতাদের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে যেন তারা উপাসকের প্রাণশক্তি ও সমৃদ্ধি রক্ষা করেন এবং তা স্থিরভাবে বৃদ্ধি করেন। রক্ষামূলক ‘স্বস্তি’ সূত্রগুলিকে এটি এক সার্বজনীন দৃষ্টির সঙ্গে বুনে দেয়, যেখানে অদিতিকে দেবতা, লোকসমূহ এবং জন্মেরই সর্বব্যাপী ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

10 mantras | Rishi: Gautama (traditional for RV 1.89) | Devata: Viśve Devāḥ (All the Gods)

Chandas: Jagatī (probable; RV 1.89 is commonly Jagatī)

Sukta 90

Sukta 1.90

এই সূক্তটি সমষ্টিগত “অমৃত শক্তি” (অমৃতাঃ)—যাদের প্রায়ই আদিত্যগণ ও ঋত-এর সহচর রক্ষক দেবতা হিসেবে বোঝা হয়—তাঁদের কাছে স্বস্তি (কল্যাণ), সুরক্ষা, এবং অন্তর-বাহিরে দৃঢ় শান্তি প্রার্থনা করে। এতে অনুরোধ করা হয়েছে যে শত্রু শক্তি ও অশুভ মনোভাব দূরে সরে যাক, আর অভিজ্ঞতার জগতসমূহ—রাত্রি, উষা, পৃথিবী-অঞ্চল ও স্বর্গলোক—“মধুময়” (মধু) হোক, অর্থাৎ সুরেলা, মঙ্গলময়, এবং সৎ/ঋতানুগ জীবনযাপনের সহায়ক হয়ে উঠুক।

9 mantras | Devata: Collective deities invoked for well-being (svasti) / protective powers (plural ‘te amṛtāḥ’)

Sukta 91

Sukta 1.91

এই সূক্তে সোম (ইন্দু)-এর প্রশংসা করা হয়েছে—তাঁকে আলোকিত পথপ্রদর্শক বলা হয়েছে, যিনি সাধকদের “রাজপথে” নিয়ে যান, যেমন প্রাচীন পিতৃপুরুষেরা গিয়েছিলেন; এবং তাঁকে সেই দিব্য শক্তি রূপে মানা হয়েছে, যিনি দেবগণের মধ্যে ধন-রত্ন জয় করেন। বারবার সোমের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে—তিনি যেন প্রাণশক্তি বিস্তার করেন, রোগ ও বিশৃঙ্খলা দূর করেন, ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্য বৃদ্ধি করেন, এবং উপাসকের ন্যায্য অংশের জন্য দীপ্তিময় লাভসমূহে সংগ্রাম করেন।

23 mantras | Devata: Soma (Indu)

Sukta 92

Sukta 1.92

ঋগ্বেদ ১.৯২ একটি উষা-সূক্ত, যেখানে উষসকে চিরনবীন নবীকরণশীল শক্তি হিসেবে বন্দনা করা হয়েছে—তিনি আলোর “ধ্বজা” উত্তোলন করেন, রক্তিম গাভীর মতো রশ্মিগুলিকে মুক্ত করেন এবং জগতকে গতিময় করেন। কবি তাঁর অব্যর্থ পুনরাগমন, সৌন্দর্য ও কল্যাণকারিতা প্রশংসা করেন, এবং অন্ধকার ও বৈরিতা দূর করে আয়ু দীর্ঘ করার তাঁর ক্ষমতা বর্ণনা করেন। সূক্তটি পরে যজ্ঞের কার্যকারিতার দিকে অগ্রসর হয় এবং শেষে প্রভাতে জাগ্রত সোমপান-শক্তিগুলিকে আহ্বান করে যেন তারা অর্ঘ্য-হবির জন্য দেবতাদের নিয়ে আসে।

18 mantras | Rishi: Gautama (Gautama Rahūgaṇa tradition) / Gotamas (per internal evidence in 1.92.7) | Devata: Uṣas (Dawn)

Chandas: Triṣṭubh (probable for RV 1.92; verse-length and cadence consistent)

Sukta 93

Sukta 1.93

এই সূক্তে যুগল দেবতা অগ্নি ও সোমকে যজ্ঞের এক সমন্বিত শক্তি হিসেবে আহ্বান করা হয়েছে—অগ্নি বাহক ও প্রজ্বালক, আর সোম প্রাণসঞ্চারী পানীয় ও প্রেরণাদাতা। তাঁদের কাছে প্রার্থনা করা হয় যেন তাঁরা কবির সুচারু স্তব শুনেন, সাজিয়ে রাখা আহুতি গ্রহণ করেন, এবং যজমানকে রক্ষা, শক্তি, আনন্দ ও সুশ্রুত, সফল যজ্ঞ দান করেন। সুরটি ব্যবহারিক ও আচার-কেন্দ্রিক—“এসো, আস্বাদ গ্রহণ করো, আমাদের আশ্রয় দাও, এবং উপাসকের মধ্যে শম্/য়োঃ (শান্তি ও কল্যাণ) প্রতিষ্ঠা করো।”

12 mantras | Rishi: Uncertain here from supplied data; traditionally RV 1.93 is attributed to seers of the Gotama lineage (needs external confirmation) | Devata: Agni-Soma (dual deity)

Chandas: Gāyatrī/Anuṣṭubh-like? (requires verification; verse appears in a compact form but needs metrical count)

Sukta 94

Sukta 1.94

এই সূক্তে জাতবেদস অগ্নির স্তব করা হয়েছে—সর্বজ্ঞ সেই অগ্নি, যিনি আহুতি বহন করেন এবং সু-যোজিত রথের মতো সম্প্রদায়ের সুচারু রচিত প্রশংসাবাণীকেও বহন করে এগিয়ে নিয়ে যান। এতে অগ্নির মৈত্রীর আশ্রয়ে রক্ষা, সভায় উপাসকের বাকশক্তির বৃদ্ধি, এবং সহায়ক মহাজাগতিক শক্তির সমর্থনে দীর্ঘায়ু ও সৌভাগ্যের প্রার্থনা করা হয়েছে।

15 mantras | Rishi: Gopavana Ātreya (traditionally for RV 1.94) | Devata: Agni (as Jātavedas)

Chandas: Triṣṭubh (11-syllable pādas; hymn largely Triṣṭubh)

Sukta 95

Sukta 1.95

এই সূক্তে “দুটি ভিন্ন রূপ”-এর এক বৈদিক ধাঁধা উন্মোচিত হয়—যাকে প্রায়ই উষা–রাত্রি বা দ্যৌ–পৃথিবী প্রভৃতি যুগল মহাজাগতিক মাতৃসত্তা হিসেবে বোঝা হয়—যারা এক গোপন বাছুর/শিশুকে লালন করে। গাভী, আলো এবং দীক্ষা/অভিষেকের স্তরিত চিত্রকল্পের মাধ্যমে স্তোত্রটি ঋত ও দক্ষতা (দক্ষ)-র উদীয়মান সার্বভৌম শক্তিকে ইঙ্গিত করে। শেষে এটি স্পষ্ট প্রার্থনায় পরিণত হয়—অগ্নি যেন যশসহ প্রজ্বলিত হন; এবং মিত্র–বরুণ, অদিতি, প্রবহমান সিন্ধু ও দ্যৌ–পৃথিবী তাঁর সহায় হোন।

9 mantras | Devata: Enigmatic/cosmological (often interpreted as a paired principle—e.g., two mothers/cows; dawn and night; or two worlds—supporting a hidden child)

Sukta 96

Sukta 1.96

ঋগ্বেদ ১.৯৬ একটি অগ্নি-সূক্ত, যেখানে অগ্নিকে প্রাচীন হয়েও সদা নবজন্মা রূপে প্রশংসা করা হয়েছে—দেবগণ যাঁকে ধারণ করেন এবং যাঁকে আপঃ (জল), মিত্র ও প্রেরিত প্রজ্ঞা (ধিষণা) শক্তিতে প্রতিষ্ঠিত করে। এখানে অগ্নিকে রাত্রি ও উষা যৌথভাবে লালিত “এক সন্তান” বলা হয়েছে, যিনি দ্যৌ ও পৃথিবীর মধ্যে স্বর্ণোজ্জ্বল দীপ্তি হয়ে প্রকাশিত। সূক্তের শেষে প্রার্থনা করা হয় যে প্রজ্বলনে বর্ধিত অগ্নি মিত্র–বরুণ, অদিতি, সিন্ধু, পৃথিবী ও দ্যৌ-এর সমর্থনে দীপ্তিমান খ্যাতি ও প্রাচুর্য দান করুন।

9 mantras | Rishi: Parāśara Śāktya (traditional for RV 1.96) | Devata: Agni

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 97

Sukta 1.97

এই সংক্ষিপ্ত অগ্নি-সূক্তটি একটি পুনরাবৃত্ত প্রার্থনাকে কেন্দ্র করে গঠিত—“আমাদের থেকে লেগে থাকা অঘ (অশুভতা) দগ্ধ করে দাও।” অগ্নিকে সর্বমুখী, সর্বপরিব্যাপ্ত শুদ্ধিকারক রূপে আহ্বান করা হয়েছে—যিনি অপবিত্রতা ভস্ম করেন, সমৃদ্ধি (রয়ি) জাগ্রত করেন, এবং উপাসককে বিপদের ওপার দিয়ে এমনভাবে পার করান যেমন নৌকা বন্যার জল পার করায়। এই সূক্তের উদ্দেশ্য অপদেবতা-নিবারক ও পুনঃস্থাপক—পাপ/দুর্ভাগ্য অপসারণ এবং কল্যাণ (স্বস্তি) প্রতিষ্ঠা।

6 mantras | Devata: Agni

Chandas: Gāyatrī-like refrain structure (short, repetitive; exact metrical classification may vary by recension)

Sukta 98

Sukta 1.98

এই সংক্ষিপ্ত ত্রিষ্টুভ্ স্তোত্রে অগ্নিকে বৈশ্বানর—সর্বজনীন অগ্নি—রূপে প্রশংসা করা হয়েছে; তিনি সকল লোকের উপর রাজসিক দীপ্তি হয়ে অধিষ্ঠিত এবং সূর্যের সঙ্গে মিলিত হয়ে কার্য করেন। তাঁকে দ্যৌ ও পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত, ঔষধি-লতায় প্রবিষ্ট (আরোগ্যশক্তি প্রদানকারী) বলে চিত্রিত করা হয়েছে, এবং দিন-রাত্রির রক্ষা, সত্য ও স্থায়ী সমৃদ্ধির প্রার্থনা করা হয়েছে। শেষ মন্ত্রে আশীর্বাদটি মিত্র–বরুণ, অদিতি, সিন্ধু, পৃথিবী ও দ্যৌঃ—এই সহায়ক মহাজাগতিক সমর্থকদের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত হয়, যাতে ধন ও পূর্ণতা যজমানের সঙ্গে ‘লেগে’ থাকে।

3 mantras | Devata: Agni Vaiśvānara (with solar association)

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 99

Sukta 1.99

এই এক-ঋচাবিশিষ্ট সূক্তে জাতবেদস্—সর্বজ্ঞ অগ্নি—কে আহ্বান করা হয়, এবং যজ্ঞকে শক্তি দিতে সোমকে আहुতি হিসেবে নিংড়ে প্রস্তুত করা হয়। অগ্নির কাছে প্রার্থনা করা হয় তিনি যেন বৈরী অভিপ্রায় দগ্ধ করেন এবং উপাসককে প্রতিটি কঠিন পারাপারের ওপারে—নদী পার করানো নৌকার মতো—নিরাপদে পৌঁছে দেন, বিপদ ও কুপথ থেকে দূরে।

1 mantras | Devata: Agni (Jātavedas)

Sukta 100

Sukta 1.100

এই সূক্তে ইন্দ্রের প্রশংসা করা হয়েছে—অপ্রতিরোধ্য, সূর্য-সদৃশ অগ্রসর যোদ্ধা ও বৃত্র-বধকারী হিসেবে—এবং বারবার তাঁকে “মরুতদের সহিত” আহ্বান করা হয়েছে, যাতে তিনি প্রতিটি সংঘর্ষ ও প্রতিটি উদ্যোগে সম্প্রদায়ের সক্রিয় রক্ষক হন। এতে ইন্দ্রের কাছে বিজয়, ধন, জল এবং সমৃদ্ধ সন্তানের প্রাপ্তি নিশ্চিত করার প্রার্থনা করা হয়েছে; এবং শেষে এক সর্বব্যাপী আশীর্বাদে অর্জিত মঙ্গলকে মিত্র–বরুণ, অদিতি, সিন্ধু, পৃথিবী ও দ্যৌ (স্বর্গ) পর্যন্ত বিস্তার করার কামনা করা হয়েছে।

17 mantras | Devata: Indra (with Maruts)

Sukta 101

Sukta 1.101

কুৎস আঙ্‌গিরসের এই ত্রিষ্টুভ্ স্তোত্রে ‘মরুতদের সহিত’ ইন্দ্রকে আহ্বান করা হয়েছে—আনন্দময়, যুদ্ধে বিজয়দায়ক শক্তি হিসেবে, যিনি অন্ধকার ও প্রতিবন্ধকতা ভেঙে দেন এবং বাজ (বিজয়ী প্রাচুর্য) দান করেন। কবি প্রতিটি অবস্থায়—বীরোচিত অগ্রগতি, ভয়, সাধনা ও জয়—ইন্দ্রের সখ্য/সহচর্য প্রার্থনা করেন, যাতে গায়কেরা বাহ্য প্রতিযোগিতা ও অন্তর্দ্বন্দ্ব—উভয় ক্ষেত্রেই জয়ী হয়। শেষে প্রার্থনা প্রসারিত হয়ে বিশ্বধারণকারী সহায় বৃত্তে পৌঁছায়: মিত্র-বরুণ, অদিতি, সিন্ধু, পৃথিবী ও দ্যৌ (স্বর্গ)।

11 mantras | Rishi: Kutsa Āṅgirasa (traditional attribution for RV 1.94–1.115 includes Kutsa; RV 1.101 is commonly assigned to Kutsa Āṅgirasa in Anukramaṇī) | Devata: Indra (Marutvant Indra: Indra in companionship with the Maruts)

Chandas: Triṣṭubh (11-syllable pādas; standard for many Indra hymns)

Sukta 102

Sukta 1.102

এই ত্রিষ্টুভ্ সূক্তে ইন্দ্রের প্রশংসা করা হয়েছে—তিনি অতুলনীয়, বহু-সহায়তাসম্পন্ন শক্তি; তিনি বাধা ভেঙে দেন, “দীপ্তিমান গবাদি-পশুধন” (গাভী/সম্পদ) জয় করেন এবং যজমানকে কর্মপ্রবাহের প্রতিটি উচ্ছ্বাসের পার নিয়ে যান। কবি প্রেরিত ধী (ধ্যান-প্রজ্ঞা) স্তব-রূপে নিবেদন করেন, ইন্দ্রের অপ্রতিরোধ্য শক্তিকে তাঁর পুনঃপুন কীর্তিকর্মে স্মরণ করেন, এবং শেষে বিজয় ও পূর্ণতা (বাজ) লাভের জন্য রক্ষামূলক প্রার্থনা করেন—যা মিত্র–বরুণ, অদিতি, সিন্ধু, পৃথিবী ও দ্যৌ (স্বর্গ) এর সমর্থনে আরও বিস্তৃত হয়।

11 mantras | Rishi: Kutsa Āṅgirasa (standard attribution for this Indra hymn cluster) | Devata: Indra

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 103

Sukta 1.103

এই সূক্তে ইন্দ্রের সর্বোচ্চ, সুদূরপ্রসারী শক্তির প্রশংসা করা হয়েছে—যা পৃথিবী ও স্বর্গে একীভূত এক চিহ্নরূপে কার্যকর বলে ধরা হয়েছে। গাভী, অশ্ব, উদ্ভিদ, জল ও অরণ্য—এই কল্যাণকর আবিষ্কারসমূহ এবং বাধাদানকারী শত্রুদের উপর তাঁর বিজয়ের স্মরণ করিয়ে ইন্দ্রের বীরশক্তিতে বিশ্বাস স্থাপন করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। শেষ মন্ত্রে আশীর্বাদকে বিস্তৃত করে মিত্র, বরুণ, অদিতি, সিন্ধু, পৃথিবী ও দ্যৌ (স্বর্গ)-কে আহ্বান করা হয়েছে, যাতে উপাসকদের জন্য অর্জিত বিজয় আরও মহিমান্বিত হয়।

8 mantras | Rishi: Kutsa Āṅgirasa (traditional attribution) | Devata: Indra

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 104

Sukta 1.104

এই সূক্তে ইন্দ্রকে নিকটে আসতে, যজ্ঞে আসন গ্রহণ করতে এবং সদ্য নিংড়ানো সোম পান করতে আহ্বান করা হয়েছে, যাতে তাঁর শক্তি জাগ্রত হয়ে রক্ষা ও বিজয় দান করে। এতে অন্তরঙ্গ স্বাগত—সন্ধ্যা ও ঊষার সময় দেবীয় অশ্বদের বিশ্রামের জন্য জোয়াল খুলে দেওয়া—এর সঙ্গে দস্যুদের তাড়ানো, কুটিল শত্রুতা এবং উপাসকদের ন্যায্য অংশ হরণ রোধের জরুরি প্রার্থনাও মিলিত হয়েছে।

9 mantras | Rishi: Kutsa Āṅgirasa (traditional attribution for RV 1.104) | Devata: Indra

Chandas: Triṣṭubh (probable for RV 1.104; verse-length and cadence consistent)

Sukta 105

Sukta 1.105

ঋগ্বেদ ১.১০৫ একটি অনুসন্ধানী, বহু-দেবতার স্তোত্র; যা মহাজাগতিক পর্যবেক্ষণ (চন্দ্র, বিদ্যুৎ/দ্যুতি, এবং দুই লোক—দ্যৌ ও পৃথিবী) থেকে এগিয়ে ব্যক্তিগত, প্রায় স্বীকারোক্তিমূলক আর্তিতে রূপ নেয়—উদ্ধার, স্পষ্টতা ও যথার্থ বাক্‌শক্তির জন্য। একে প্রায়ই ত্রিতার “বিলাপ” হিসেবে পড়া হয়; এখানে অন্তর্দুঃখকে এমন এক অবস্থা হিসেবে দেখানো হয়েছে যা কেবল দেবতারা—বিশেষত ইন্দ্র এবং ঋতকে ধারণকারী বিশ্ব-ব্যবস্থার শক্তিগুলি—দূর করতে পারেন। শেষে মিত্র-বরুণ, অদিতি, দ্যৌ-পৃথিবীর কাছে বিজয়, শক্তি এবং বিস্তৃত রক্ষাকবচের প্রার্থনায় স্তোত্রটি সমাপ্ত হয়।

19 mantras | Rishi: Trita Āptya (traditional attribution often given for RV 1.105; check recension-specific lists) | Devata: Various/cosmic (opening verse centers on Candramas and the two worlds; hymn often read as existential/psychological lament and seeking)

Chandas: Gāyatrī (verse appears 3 pādas of ~8 syllables; likely Gāyatrī/related)

Sukta 106

Sukta 1.106

এই সূক্তটি বিশ্বদেবগণ—ইন্দ্র, মিত্র-বরুণ, অগ্নি, মরুত, অদিতি এবং সংশ্লিষ্ট শক্তিসমূহ—এর সমষ্টিগত আহ্বান। এতে রক্ষা, বৃদ্ধি এবং দুর্দশার মধ্য দিয়ে নিরাপদে অতিক্রম করার প্রার্থনা করা হয়েছে। পুনঃপুন ধ্বনিত ধ্রুবপদে বসুগণকে উদার সহায়ক রূপে ডেকে বলা হয়েছে—তাঁরা যেন উপাসককে প্রতিটি ‘কঠিন গিরিপথ’ থেকে এমনভাবে উদ্ধার করেন, যেমন সংকীর্ণ গিরিখাতে আটকে পড়া রথকে টেনে বের করা হয়। শেষ মন্ত্রগুলিতে এই রক্ষা অদিতি, সিন্ধু, পৃথিবী ও দ্যৌ (স্বর্গ) প্রভৃতি বিশ্ব-আধার পর্যন্ত প্রসারিত হয়, যাতে যজমানের অবিচ্ছিন্ন সুরক্ষা বজায় থাকে।

7 mantras | Rishi: Likely Kutsa Āṅgirasa (traditional for RV 1.106) or associated seer-family in anukramaṇī; requires confirmation by specific śākha anukramaṇī | Devata: Viśvedevāḥ / collective invocation (Indra, Mitra, Varuṇa, Agni, Maruts, Aditi; addressed also to Vasus)

Chandas: Jagatī (probable for RV 1.106.1 by syllable length; needs metrical verification)

Sukta 107

Sukta 1.107

এই সংক্ষিপ্ত সূক্তে যজ্ঞ দেবতাদের দিকে অগ্রসর হলে আদিত্যগণ ও সংশ্লিষ্ট দেবতাদের সম্মিলিত আহ্বান করা হয়েছে, যেন তাঁরা কৃপাপূর্বক মনোযোগ দেন। এতে করুণাময় রক্ষা, সংকোচনকারী অংহস থেকে দূরে ‘প্রশস্ত অবকাশ’, এবং মহৎ বিশ্বশক্তি—ইন্দ্র, মিত্র-বরুণ, অগ্নি, আর্যমণ, সবিতৃ, অদিতি ও দ্যাবা-পৃথিবী—দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্থিত শান্তি (শর্ম) প্রার্থনা করা হয়েছে।

3 mantras | Devata: Ādityas (collective)

Sukta 108

Sukta 1.108

এই সূক্তে যুগল শক্তি ইন্দ্র ও অগ্নিকে আহ্বান করা হয়েছে—তাঁরা যেন দীপ্ত রথে একসঙ্গে এসে সদ্য নিষ্পেষিত সোম পান করেন। তাঁরা যে যে ক্ষেত্রে আনন্দ করেন—গৃহে, পবিত্র বাক্/ব্রহ্মণে, কিংবা রাজশক্তি ও বীর্যে—সেখান থেকেই তাঁদের বারবার ডাকা হয়েছে, যাতে তাঁরা বিজয়, গোধন/সম্পদ এবং সর্বাঙ্গীণ সমৃদ্ধি দান করেন। শেষের আশীর্বাদে প্রার্থনা প্রসারিত হয়ে অন্যান্য পালনকারী দেবতা ও বিশ্বধারক ভিত্তির দিকে যায়—মিত্র-বরুণ, অদিতি, সিন্ধু, পৃথিবী ও দ্যৌ (স্বর্গ)।

13 mantras | Devata: Indra-Agni (dual)

Sukta 109

Sukta 1.109

এই সূক্তে দ্বিদেবতা ইন্দ্র‑অগ্নিকে আহ্বান করা হয়েছে—অতুল যুগল, যাঁরা সঠিক অন্তর্দৃষ্টি, বিজয় এবং সম্পদের ন্যায্য অংশ দান করেন। কবি তাঁদের যজ্ঞে আমন্ত্রণ জানান, যেন তাঁরা বরহিসে আসীন হন এবং সোমরসে আনন্দ করেন; তাঁদের প্রসিদ্ধ বৃত্রবধ শক্তির কথাও স্মরণ করা হয়। শেষে বিস্তৃত আশীর্বাদে অন্যান্য ধারণকারী দেবতা—মিত্র‑বরুণ, অদিতি, সিন্ধু, পৃথিবী ও দ্যৌ (স্বর্গ)—এর কাছে উপাসককে বৃদ্ধি ও রক্ষা করার প্রার্থনা করা হয়েছে।

8 mantras | Devata: Indrāgnī

Chandas: Triṣṭubh (probable)

Sukta 110

Sukta 1.110

এই সূক্তে ঋভুদের—দিব্য কারিগর-ভ্রাতৃগণকে—স্তব করা হয়েছে। এতে তাঁদের সেই শক্তির প্রশংসা করা হয়, যার দ্বারা তাঁরা যজ্ঞকর্মকে নিখুঁত করেন, মাপজোক করে সুসংবদ্ধ করেন এবং নবীকরণ করে তাকে “মধুর” প্রেরণাময় হবি-রূপে গড়ে তোলেন। নির্মিত পাত্র, পরিমিত পরিসর এবং স্বাহা-তে তৃপ্তির চিত্রের মাধ্যমে ঋভুদের (এবং ঋভুমান ইন্দ্রকে) দীপ্তিময় দান, খ্যাতি ও প্রাচুর্য দানের প্রার্থনা করা হয়েছে। শেষে আশীর্বাদ প্রসারিত হয়ে এক বিশ্বব্যাপী সমবেত স্তবধ্বনিতে পৌঁছায়—মিত্র-বরুণ, অদিতি, সিন্ধু, পৃথিবী ও দ্যৌ—যাতে যজ্ঞ সর্বত্র সমর্থিত হয়।

9 mantras | Devata: Ṛbhavaḥ (primary); verse frames sacrificial craft and satisfaction of the artisan-deities

Chandas: Jagatī (probable; longer cadence typical of Ṛbhu hymns)

Sukta 111

Sukta 1.111

এই সংক্ষিপ্ত ত্রিষ্টুভ্ স্তোত্রে ঋভুদের প্রশংসা করা হয়েছে—তাঁরা দিব্য কারিগর-শক্তি, যারা পরিপূর্ণ রূপ “গড়ে” তোলেন: ইন্দ্রের রথ ও অশ্ব, নবযৌবনের পুনর্নবীকরণ, এবং জীবনের পুনঃস্থাপিত সামঞ্জস্য। তাঁদের পৌরাণিক কারুকার্য এখানে প্রার্থনায় রূপ নেয়—উপাসকের জন্য তাঁরা সāti (বিজয়ী অর্জন), সংঘাতে জয়, এবং স্থির রক্ষা গড়ে দিন; আর এই অনুগ্রহ মিত্র–বরুণ, অদিতি, পৃথিবী ও দ্যৌ (স্বর্গ) প্রভৃতি বৃহত্তর বিশ্ব-রক্ষকদের দ্বারাও নিশ্চিত হোক।

5 mantras | Rishi: Hymn to the Ribhus; seer attribution varies in tradition, but the hymn is within Ribhu cycle. | Devata: Ribhus (Ṛbhavaḥ).

Chandas: Trishtubh (common for this hymn).

Sukta 112

Sukta 1.112

ঋগ্বেদ ১.১১২ একটি বিস্তৃত অশ্বিন-স্তোত্র, যেখানে দেবযুগলকে বারবার আহ্বান করা হয়েছে—তাঁরা যেন “সেই সহায়তাসমূহসহ” আগমন করেন, যেগুলির দ্বারা তাঁরা প্রাচীন কালে ঋষি ও রাজাদের উদ্ধার করেছেন, আরোগ্য দান করেছেন এবং সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করেছেন। সূক্তটি শুরুতে দ্যাবা-পৃথিবী ও অগ্নিকে আহ্বান করে—যজ্ঞের জন্য বিশ্বধারণকারী ভিত্তি ও সহায়ক শক্তি হিসেবে—তারপর অশ্বিনদের উপকারের নানা দৃষ্টান্ত একত্র করে: দ্রুত যাত্রা, রক্ষা, এবং কল্যাণের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, যাতে সেই একই শক্তি বর্তমান যজ্ঞেও উপস্থিত থাকে। শেষে এটি এক ব্যাপক আশীর্বাদে সমাপ্ত হয়—দিন-রাত্রির রক্ষা এবং দানের আরও দৃঢ়ীকরণের প্রার্থনা করে—মিত্র-বরুণ, অদিতি, সিন্ধু, পৃথিবী ও দ্যৌ (স্বর্গ)-এর নিকট।

25 mantras | Rishi: Gautama Rāhūgaṇa (traditional attribution for RV 1.112) | Devata: Aśvins (with invocations to Dyāvā-Pṛthivī and Agni as preparatory supports)

Chandas: Jagatī (probable for RV 1.112; refrain-like structure suggests longer meter; confirm by syllable count in full scan)

Sukta 113

Sukta 1.113

এই সূক্তে উষা (প্রভাত)-এর প্রশংসা করা হয়েছে—তাঁকে “আলোকের আলো” বলা হয়েছে; তিনি প্রতিদিন নবজন্ম লাভ করেন, রাত্রিকে অপসারিত করেন এবং সকল প্রাণীকে গতি, কর্ম ও উপাসনার জন্য জাগিয়ে তোলেন। এতে মানবজীবনের ক্ষণস্থায়িত্বও স্মরণ করানো হয়েছে—পূর্বতন প্রজন্ম “চলে গেছে”, অথচ সেই একই উষা বারবার ফিরে আসে—এবং সময়মতো উদ্যোগ ও সৎ আকাঙ্ক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। সূক্তের শেষে প্রার্থনা করা হয় যে উষাদের বহন করে আনা মঙ্গলদায়ক দানসমূহ মিত্র-বরুণ ও সংশ্লিষ্ট বিশ্বশক্তিদের দ্বারা নিশ্চিত ও বর্ধিত হোক।

19 mantras | Rishi: Kutsa Āṅgirasa (traditional ascription for RV 1.113 in many recensions) | Devata: Uṣas (Dawn)

Chandas: Gāyatrī (RV 1.113 is predominantly Gāyatrī)

Sukta 114

Sukta 1.114

ঋগ্বেদ ১.১১৪ রুদ্রের প্রতি এক প্রার্থনা—তিনি মহাশক্তিমান, ভয়-জাগানো, তবু গভীরভাবে কল্যাণকারী—যাতে তাঁর শক্তি ক্ষতির বদলে আরোগ্য ও মঙ্গলের দিকে প্রবৃত্ত হয়। এই সূক্ত সমগ্র সম্প্রদায়ের জন্য শান্তি ও অখণ্ডতার কামনা করে: মানুষ (দুই-পদ), গবাদি পশু (চার-পদ), এবং বসতির পুষ্টি, সন্তান-সম্ভব, ও কল্যাণের জন্য। শেষে এক রক্ষামূলক আহ্বান আছে—মরুতদের সহিত রুদ্রকে ডেকে প্রার্থনা করা হয় যেন তিনি ডাক শুনেন, এবং অন্যান্য বিশ্বশক্তিকেও অনুরোধ করা হয় যেন তারা এই বরকে স্থিত রাখে।

11 mantras | Rishi: Hiraṇyastūpa Āṅgirasa (traditional for RV 1.114) | Devata: Rudra

Chandas: Jagatī

Sukta 115

Sukta 1.115

এই সূক্তে সূর্যের দৈনন্দিন উদয়কে স্তব করা হয়েছে—দেবতাদের দীপ্তিমান “মুখ” ও “চক্ষু” রূপে—যিনি স্বর্গ, পৃথিবী ও অন্তরীক্ষকে ঋত (নিয়ম) এবং দৃশ্যমানতায় পূর্ণ করেন। এতে সূর্যের রথ এবং রাত্রি থেকে দিবসে রূপান্তরকে বিধিবদ্ধ, মহাজাগতিক গমন হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে; পরে সেই মহাঘটনাকেই প্রার্থনায় রূপ দিয়ে দুঃখ-কষ্ট ও দোষ থেকে মুক্তি এবং ঋত (সত্য-শৃঙ্খলা)-এ প্রসার লাভের আরজি জানানো হয়েছে।

6 mantras | Rishi: Kutsa Āṅgirasa (traditional attribution for RV 1.115) | Devata: Sūrya

Chandas: Triṣṭubh (probable for RV 1.115.1)

Sukta 116

Sukta 1.116

এই সূক্তটি অশ্বিনৌ (নাসত্যা)-এর স্তব ও আহ্বান। এতে তাঁদের দ্রুতগামী রথ এবং তাঁদের ‘অদ্ভুত কর্ম’ (দংসস্) প্রশংসিত—যা উদ্ধার করে, আরোগ্য দেয় এবং পূর্ণতা পুনঃস্থাপন করে। স্মরণীয় উপকারগুলিকে একসূত্রে গাঁথা হয়েছে—কনে-কে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া, স্বর্ণহস্ত দান করা, এবং আরও বহু সহায়ক কার্য—যাতে এই যুগল দেবতা বর্তমানেও রক্ষা, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘায়ু প্রদান করেন, এবং অন্তর্দৃষ্টি (অন্তর্দৃষ্টি/অন্তর্চক্ষু) অম্লান থাকে।

25 mantras | Rishi: Kutsa Āṅgirasa (traditional for RV 1.116) | Devata: Aśvinau (Nāsatyā)

Chandas: Triṣṭubh (probable for RV 1.116.1)

Sukta 117

Sukta 1.117

ঋগ্বেদ ১.১১৭ হলো অশ্বিনৌ (নাসত্যা)—দ্রুতগামী দিব্য চিকিৎসক যুগল—কে সোম-অর্ঘ্যে আসার এবং তাঁদের ‘বাজ’ অর্থাৎ বৃদ্ধি ও বিজয়দায়ক শক্তি দান করার এক জোরালো আহ্বান। স্তোত্রটি তাঁদের প্রসিদ্ধ উদ্ধারকর্মগুলি পরপর স্মরণ করায় (বৃদ্ধকে নবজীবন দেওয়া, পীড়িতকে রক্ষা করা, সমৃদ্ধি ও নিরাপদ যাত্রা প্রদান), এবং সেগুলিকেই যুগল দেবতার নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ ও বর্তমান সহায়তার ভিত্তি হিসেবে স্থাপন করে। এর উদ্দেশ্য একদিকে যজ্ঞীয়—দেবতাদের যজ্ঞে আহ্বান করা—অন্যদিকে ব্যবহারিক—উপাসকদের জন্য আরোগ্য, সুরক্ষা ও সমৃদ্ধ শক্তি নিশ্চিত করা।

25 mantras | Rishi: Dīrghatamas Āucathya (traditional attribution for RV 1.117) | Devata: Aśvinau (Nāsatyā)

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 118

Sukta 1.118

এটি উষাকালে অশ্বিনৌকে ত্বরিত আহ্বানের স্তোত্র—সহায়তা, আরোগ্য ও নিরাপদ পারাপারের জন্য তাদের বাজপাখি-সদৃশ দ্রুত রথকে শীঘ্র আসতে ডাকে। এতে তাদের প্রসিদ্ধ উদ্ধার ও পুনঃস্থাপনের প্রশংসা করা হয়েছে—দুঃখিতকে তুলে ধরা, বিপদগ্রস্তকে রক্ষা করা এবং প্রাণশক্তি নবীকরণ করা—যাতে যজমান উষার দৈনিক আগমনে রক্ষা ও সমৃদ্ধি লাভ করে।

11 mantras | Rishi: Kutsa Āṅgirasa (traditional for this hymn cluster) | Devata: Aśvinau

Chandas: Triṣṭubh (common for RV 1.118)

Sukta 119

Sukta 1.119

এই সূক্তটি প্রভাতকালে অশ্বিনদ্বয়ের প্রতি এক তীব্র আহ্বান—তাদের বহুশক্তিসম্পন্ন রথকে যজ্ঞে ডেকে আনা হয়, যাতে উপাসক তাদের রক্ষা ও দানে “সত্যিই বাঁচতে” পারে। এতে তাদের প্রসিদ্ধ উদ্ধার ও পুনঃস্থাপনের কাহিনি স্মরণ করা হয়েছে (রেভাকে উদ্ধার, অত্রিকে শীতল করা, বন্দনার আয়ু বৃদ্ধি) এবং শেষে খ্যাত শ্বেত অশ্ব ‘শ্বেত’-এর মাধ্যমে পেদুকে বিজয়দায়ক শক্তি দানের পরিণতি—যাতে এই যুগল দেবতা দ্রুত আরোগ্যকারী, সহায়ক ও যুদ্ধে সাহায্যকারী হিসেবে প্রতিভাত হন।

10 mantras | Rishi: Kakṣīvān Dairghatamasa (traditional for RV 1.119) | Devata: Aśvinau

Chandas: Jagatī (probable for RV 1.119.1; longer line typical of Jagatī)

Sukta 120

Sukta 1.120

এই সূক্তটি অশ্বিন যুগল দেবতার প্রতি এক সরাসরি, অনুসন্ধানী আহ্বান—কোন নিবেদন ও কেমন অন্তর্গত প্রস্তুতি সত্যিই তাঁদের প্রীত করে এবং তাঁদের সহায়তা এনে দেয়, তা জিজ্ঞাসা করে। এতে তাঁদের প্রশংসা করা হয়েছে উদ্ধারকর্তা হিসেবে, যাঁরা সত্তাদের সংকোচন ও বিপদ থেকে টেনে বের করে আনেন; এবং তাঁদের রক্ষা ও জাগরণ-শক্তি প্রার্থনা করা হয়েছে, যাতে আলস্য, অনিষ্ট এবং কেবল আত্মতুষ্ট ভোগ-বিলাস অতিক্রান্ত হয়।

12 mantras | Rishi: Kakṣīvān Dairghatamasa (traditional for RV 1.120) | Devata: Aśvinau

Chandas: Anuṣṭubh-like/short metre (requires śākhā verification; commonly RV 1.120 uses shorter metres than the preceding triṣṭubhs)

Sukta 121

Sukta 1.121

ঋগ্বেদ ১.১২১ একটি চিন্তনময় সৃষ্টিসূক্ত, যা প্রশ্নের মাধ্যমে বিশ্বজগতের উৎপত্তির দিকে অগ্রসর হয় এবং “ক” (“কে?”) নামে সম্বোধিত সেই গোপন প্রভুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। এতে স্রষ্টার ধারণকারী শক্তির প্রশংসা করা হয়েছে—যিনি জীবন, শ্বাস-প্রশ্বাস ও ঋত/শৃঙ্খলার দাতা—এবং এই অনুসন্ধানকেই উপাসনায় রূপ দিয়ে রক্ষা ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা জানানো হয়েছে।

15 mantras | Rishi: Hiraṇyastūpa Āṅgirasa (traditional attribution for RV 1.121, subject to recensional tradition) | Devata: Ka (Prajāpati / the Unknown God; hymn framed as inquiry into the Creator)

Chandas: Triṣṭubh (dominant for RV 1.121)

Sukta 122

Sukta 1.122

এই সূক্তে মরুতদের সঙ্গে রুদ্রকে আহ্বান করা হয়েছে এবং প্রার্থনা করা হয়েছে যে সু-রক্ষিত সোম ও যজ্ঞ অগ্রসর হয়ে সেই আরোগ্যদায়ী, কৃপাময় শক্তির কাছে পৌঁছাক, যিনি ঝড়-দলের অধিপতি। স্বর্গ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থানে প্রতিষ্ঠিত দেবশক্তির মহিমা-স্তবের সঙ্গে সঙ্গে রক্ষা, প্রাণশক্তি এবং জীবনে বিজয়ময় গতি লাভের আবেদনও এতে মিশে আছে। সুরটি একদিকে বিস্ময়াভিভূত, অন্যদিকে অন্তরঙ্গ: ভয়ংকর, বন্য রুদ্রের কাছে পৌঁছানো হয় শৃঙ্খলিত আচার ও মরুতদের সম্মিলিত শক্তির আশ্রয়ে।

15 mantras | Devata: Rudra with the Maruts

Sukta 123

Sukta 1.123

এই সূক্তে উষস্ (প্রভাত)-এর স্তব করা হয়েছে—যে শক্তি অন্ধকার ভেদ করে উঠে জগতকে প্রকাশ করে এবং ঋত (মহাজাগতিক বিধান)-এর অধীনে মানবজীবনকে আবার গতিময় করে তোলে। এতে রাত্রি ও উষাকে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত দুই শক্তি হিসেবে তুলনা-প্রতিবিম্বে দেখানো হয়েছে, এবং প্রার্থনা করা হয়েছে—উষার আগমন যেন উপাসকের মধ্যে মঙ্গলময়, সঠিক-দিশানির্দেশিত সংকল্পশক্তি (ক্রতু) স্থাপন করে, সঙ্গে প্রাচুর্য ও উদার দানশীলতাও দান করে।

13 mantras | Devata: Uṣas (Dawn) / Dakṣiṇā (opening image), with dawn-emergence motif

Sukta 124

Sukta 1.124

এই উষস্-সূক্তে প্রভাতকে এমন এক শক্তি হিসেবে বন্দনা করা হয়েছে, যে অগ্নিকে প্রজ্বালিত করে, সূর্যের বিস্তৃত আলো ছড়িয়ে দেয়, এবং দুই-পদ ও চতুষ্পদ সকল প্রাণীকে যথার্থ গতি ও উদ্দেশ্যে প্রবৃত্ত করে। উজ্জ্বল নারীমূর্তির চিত্রকল্পে কবি উষাকে কল্যাণময় জাগরণদাত্রী রূপে প্রশংসা করেন—যিনি জীবন-জলধারাকে স্বচ্ছ করেন, ধন ও মঙ্গল আনেন, এবং প্রতিদিন জগতের ঋত-ব্যবস্থাকে নবীকৃত করেন। সূক্তের শেষে তাঁর রক্ষাকারী সহায়তা এবং প্রাচুর্যপূর্ণ বল ও সমৃদ্ধির জন্য আনুষ্ঠানিক প্রার্থনা নিবেদিত হয়।

13 mantras | Rishi: Kutsa Āṅgirasa (traditional attribution for RV 1.124, subject to śākhā recensional listings) | Devata: Uṣas (primary); with functional presence of Agni, Sūrya, Savitṛ as allied powers in the dawn-process

Chandas: Triṣṭubh (11-syllable lines; standard for many Uṣas hymns)

Sukta 125

Sukta 1.125

ঋগ্বেদ ১.১২৫ দক্ষিণা—দানের পবিত্র শক্তি—এর প্রশংসা করে। এতে দেখানো হয়েছে যে দান করা এবং যথাযথভাবে গ্রহণ করা সমৃদ্ধি আনে, আয়ু ও বংশবৃদ্ধি ঘটায়, এবং পোষণকারী প্রাচুর্যের স্রোতকে আকর্ষণ করে। স্তোত্রটি দানকে ঋত-এর বিধান হিসেবে স্থাপন করে: উদার ব্যক্তি রক্ষিত ও সমৃদ্ধ হয়, আর যে দান করে না সে শোকে আবদ্ধ হয় এবং সামাজিক-আধ্যাত্মিক অবক্ষয়ে পতিত হয়।

7 mantras | Rishi: Attribution varies in tradition for RV 1.125; commonly linked to themes of Dakṣiṇā and giving (check recension-specific Anukramaṇī). | Devata: Dakṣiṇā / Dāna (the power of the gift) with Indra appearing in later verses; hymn centers on the law of giving-receiving

Chandas: Triṣṭubh (probable)

Sukta 126

Sukta 1.126

ঋগ্বেদ ১.১২৬ একটি দানস্তুতি, যেখানে কক্ষীবান্ দৈর্ঘতমস সিন্ধুর তীরে বসবাসকারী এক রাজপৃষ্ঠপোষকের উদারতা ও যশ-অন্বেষী দানশীলতার প্রশংসা করেন—যিনি প্রাচুর্যে সোম-চাপা (সোম-প্রেসিং) ও ধন ‘মেপে বিলিয়ে’ দেন। স্তোত্রটি জনসমক্ষে প্রশংসা (শ্রবস্—স্থায়ী খ্যাতি—অর্জন ও প্রচারের জন্য) এবং দানের উজ্জ্বল তালিকাচিত্র—ঘোড়া, সারি/দল, প্রাচুর্য—একত্র করে; শেষে কবির কৌতুকপূর্ণ, আত্ম-উল্লেখী গর্বোক্তিতে শেষ হয় যে তাঁর প্রাপ্ত পারিতোষিক মোটেই সামান্য নয়।

7 mantras | Rishi: Kakṣīvān Dairghatamasa (traditionally associated with RV 1.126) | Devata: Dānastuti to a royal patron (human king as vehicle of divine plenitude); praised power expressed through the ‘unconquered king’ who measures out Soma-pressings

Chandas: Triṣṭubh (probable for RV 1.126.1)

Sukta 127

Sukta 1.127

এই সূক্তে অগ্নি জাতবেদসের প্রশংসা করা হয়েছে—ঊর্ধ্বগামী হোতৃ রূপে, যিনি নিজের শিখার মাধ্যমে হবি বহন করেন এবং যজ্ঞের ঋত-পথ প্রকাশ করেন। অগ্নিকে যজ্ঞের শ্রাব্য, ধ্বজা-সদৃশ চিহ্ন হিসেবে আহ্বান করা হয়েছে; তিনি দেবতাদের সমবেত করেন, বিপদে মানুষের প্রচেষ্টাকে স্থির রাখেন, এবং গায়কদের নিকটদৃষ্টি, সমৃদ্ধি ও বীরশক্তি দান করেন।

11 mantras | Rishi: Parucchēpa or related Agni hymn seer-tradition (traditional attribution for RV 1.127 varies across indices) | Devata: Agni (Jātavedas)

Chandas: Triṣṭubh (probable)

Sukta 128

Sukta 1.128

ঋগ্বেদ ১.১২৮ একটি অগ্নি-সূক্ত, যেখানে অগ্নিদেবকে নির্দোষ হোতৃ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে—মানবজাতির জন্য জন্মগ্রহণকারী, ইळা-র যজ্ঞাসনে অধিষ্ঠিত, দেব ও মানুষের মধ্যে আহুতি ও মৈত্রীর বাহক হতে প্রস্তুত। সূক্তটি ঋত-অনুগত অগ্নির (তাঁর “নিজস্ব বিধি”) প্রশংসা করে, ধন ও যশ দানের শক্তি এবং বাহ্য আক্রমণ—শত্রুভাষণ, কুটিল অনিষ্ট ও পাপ—থেকে রক্ষার ক্ষমতা বর্ণনা করে। শেষে সমবেত জনসমাজ অগ্নিকে প্রিয়, বিচক্ষণ দূত ও সর্বজ্ঞ দ্রষ্টা হিসেবে অভিষিক্ত করে; দেবতারাও পবিত্র স্তোত্রগীতে সাহায্যের জন্য তাঁকেই আহ্বান করেন।

8 mantras | Rishi: Kutsa Āṅgirasa (traditional for the section; RV 1.128 also Agni hymn in the same family transmission) | Devata: Agni

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 129

Sukta 1.129

এই ইন্দ্র-সূক্তে দেবতাকে অনুরোধ করা হয়েছে—কবির প্রেরিত ভাবনার ‘রথ’ যেন তিনি যোজনা করে পথ দেখান, যাতে স্তোত্র সত্য ঋষি-বাণীতে পরিণত হয় এবং দ্রুত সিদ্ধি আনে। বারবার ইন্দ্রকে ‘রক্ষো-হন’ (শত্রু/অন্ধকার শক্তির সংহারক) রূপে আহ্বান করা হয়েছে—তিনি কুদৃষ্টি, নিন্দা ও কুটিল প্রতিরোধ দূর করে প্রেরিত গায়ক ও তার সম্প্রদায়কে রক্ষা করেন। সূক্তটি কাব্যিক আত্মপর্যালোচনা (মন্ত্র কীভাবে কার্যকর হয়) এবং সুরক্ষা, বিজয়, ও দুষ্ট বাক্য ও দুষ্ট অভিপ্রায়ের লয়/ক্ষয় কামনার সরাসরি প্রার্থনাকে একত্র করে।

11 mantras | Devata: Indra

Chandas: Trishtubh (probable; verify)

Sukta 130

Sukta 1.130

এই সূক্তে ইন্দ্রকে দূর দেশ থেকে সোম-নিষ্পেষণ যজ্ঞে ত্বরিত আসার জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে এবং উপাসকদের মাঝে তিনি যেন নিজের গৃহের রাজাস্বরূপ আসন গ্রহণ করেন—এমন প্রার্থনা করা হয়েছে। এখানে ইন্দ্রের প্রশংসা করা হয়েছে দুর্গভেদী এবং শক্তি ও ধনের দাতা হিসেবে; আর কবিদের নির্মিত বাক্যকে এমন এক রথের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা দেবতাকে “গড়ে তুলে” যজ্ঞে বহন করে আনে। উদ্দেশ্য রক্ষা ও বিজয়—ইন্দ্রের শক্তিসম্পন্ন উপস্থিতি ও অভিভাবকত্বে গবাদি পশু, ধনরত্ন এবং বল-পরাক্রম অর্জন।

10 mantras | Devata: Indra

Sukta 131

Sukta 1.131

এই সূক্তে ইন্দ্রকে সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি রূপে মহিমান্বিত করা হয়েছে—যাঁর সামনে দ্যৌ ও পৃথিবী নত হয় এবং যাঁকে দেবগণ সকল দেবকার্যের অগ্রভাগে স্থাপন করেন। এতে তাঁর বীরোচিত কীর্তি স্মরণ করা হয়েছে—দুর্গ ভাঙা ও জলধারা মুক্ত করা—এবং প্রার্থনা করা হয়েছে যে তিনি অর্ঘ্য না-দেওয়া প্রতিপক্ষকে দণ্ড দিন, আর উপাসকের পথকে শত্রুভাব, অমঙ্গল ও দুর্ভাগ্য থেকে রক্ষা করুন।

7 mantras | Rishi: Parāśara Vāsiṣṭha (traditional for RV 1.131) | Devata: Indra

Chandas: Triṣṭubh (likely)

Sukta 132

Sukta 1.132

এই সংক্ষিপ্ত ইন্দ্র-স্তোত্রে প্রভাতে জাগ্রত, সরল গতিসম্পন্ন ইন্দ্রশক্তিকে আহ্বান করা হয়েছে, যাতে দীপ্তিময় জগতে বিজয় এবং যুদ্ধ ও প্রতিযোগিতায় সাফল্য লাভ হয়। এতে ইন্দ্রের আদর্শ কীর্তির স্মরণ আছে—অঙ্গিরসদের জন্য বল-সদৃশ আবরণ ভেদ করে উন্মুক্ত করা এবং প্রতিবন্ধকতার স্তূপীকৃত ‘মস্তক’সমূহকে আঘাতে নত করা—যাতে তাঁর দান উপাসকের কাছে সরাসরি ও মঙ্গলরূপে পৌঁছে। স্তোত্রটি যথাযথ যজ্ঞ (সোম-পেষণ)কেও গুরুত্ব দেয় এবং প্রার্থনা করে যে, যজ্ঞবিধির বিরোধী বিধিহীনদের ইন্দ্র দমন করুন।

4 mantras | Devata: Indra (primary), with supportive epithets invoking dawn-awakening and straight course

Sukta 133

Sukta 1.133

এই সূক্তটি ইন্দ্রের প্রতি এক রক্ষামূলক আহ্বান—তাঁকে অপ্রতিরোধ্য যোদ্ধা রূপে ডাকা হয়েছে, যিনি শত্রু শক্তিকে চূর্ণ করেন; বিশেষত গোপন স্থানে লুকিয়ে থাকা যātu-শক্তি (জাদুটোনা, বিকৃতকারী প্রভাব)কে। কবি ইন্দ্রকে প্রার্থনা করেন যেন তিনি অন্ধকারের এই বিন্যাসগুলিকে পদদলিত করেন, কেটে ফেলেন ও দূরে তাড়িয়ে দেন; উপাসকের “মহা রক্ষা”কে দৃঢ় করেন; এবং তাঁর ভয়ংকর অস্ত্র ও ত্রি-সপ্ত শক্তিসহ উপস্থিত হন।

7 mantras | Rishi: Gautama Rāhūgaṇa (traditional attribution for RV 1.133) | Devata: Indra

Chandas: Anuṣṭubh (probable for this short verse; exact metrical assignment may vary by recension analysis)

Sukta 134

Sukta 1.134

এই সূক্তে দ্রুতগামী বায়ুকে আহ্বান করা হয়েছে—তিনি যেন সোম-নিষ্পেষণে সবার আগে আসেন এবং প্রথম পান গ্রহণ করেন, আর যজ্ঞে উন্নত সত্যবাণী (সূনৃতা) ও স্থিত, জ্ঞানসমৃদ্ধ মন এনে দেন। এতে তাঁর প্রাণদায়ী শক্তির প্রশংসা করা হয়েছে, যা উষার দীপ্তি উন্মোচন করে, দোহনযোগ্য গাভীর মতো প্রাচুর্য মুক্ত করে, এবং তাঁকে দীপ্তিমান স্বর্গ থেকে জন্ম নেওয়া মরুতদের উৎপত্তির সঙ্গে যুক্ত করে। উদ্দেশ্য দ্বিবিধ—আচারগতভাবে প্রথম সোমে বায়ুর উপস্থিতি নিশ্চিত করা, এবং আধ্যাত্মিকভাবে প্রाण, গতি ও স্বচ্ছতাকে যজ্ঞশক্তি (মখ)–এর সঙ্গে সঙ্গত করা।

5 mantras | Rishi: Gautama Rāhūgaṇa (traditional for RV 1.134) | Devata: Vāyu

Chandas: Jagatī (probable; extended lines typical of Vāyu hymns here)

Sukta 135

Sukta 1.135

ঋগ্বেদ ১.১৩৫ একটি আহ্বানমূলক সোম-স্তোত্র, যেখানে বায়ুকে—প্রায়ই ইন্দ্র-বায়ু যুগল-উপস্থিতিসহ—দ্রুত আসতে ডাকা হয়, যাতে তিনি সু-বিস্তৃত বরহিসে এসে প্রথম সোম পান করেন। এতে উজ্জ্বল, দ্রুত-প্রবাহিত সোমধারার প্রশংসা, উলের ছাঁকনি (পবিত্র) দিয়ে তাদের গমন, এবং বায়ুর সূর্যকিরণ-সদৃশ অপ্রতিরোধ্য শক্তির স্তব আছে, যা কেউ রোধ করতে পারে না। এই স্তোত্রের উদ্দেশ্য দেবতার তৎক্ষণাৎ আগমন, প্রথম-পান, এবং যজমানদের জন্য বল, উল্লাস ও কার্যকর ক্রতু (কার্যক্ষম সংকল্প) দান নিশ্চিত করা।

8 mantras | Rishi: Gautama Rāhūgaṇa (traditional attribution for RV 1.135) | Devata: Vāyu (with Indra-Vāyu as associated dyad in the hymn)

Chandas: Jagatī (probable for RV 1.135; verse shows extended cadence typical of Jagatī)

Sukta 136

Sukta 1.136

ঋগ্বেদ ১.১৩৬ হলো ‘দুই রাজা’—প্রধানত আদিত্যরূপ মিত্র ও বরুণ—এর স্তব ও প্রার্থনার সূক্ত; তাঁদের অপ্রতিহত সার্বভৌমত্ব ঋত (মহাজাগতিক ও নৈতিক শৃঙ্খলা) রক্ষা করে। কবি নিজের চিন্তাকে হবি হিসেবে নিবেদন করেন এবং সোমকে মিত্র–বরুণের জন্য শান্তিদায়ক ভাগ বলে তুলে ধরে, রাজাদের কাছে যজমানের উদ্দেশ্যসমূহ কার্যকর/সফল করার প্রার্থনা করেন। শেষে সূক্তটি সমষ্টিগত আবেদন হয়ে ওঠে—অগ্নি, মিত্র, বরুণ (এবং সংশ্লিষ্ট শক্তিসমূহ) যজ্ঞকারীদের শর্মন্ (আশ্রয়/শান্তি) দান করুন।

7 mantras | Rishi: Gautama Rāhūgaṇa (traditional attribution for RV 1.136) | Devata: Mitra-Varuṇa (probable for RV 1.136; ‘two kings’ and later mention of Mitra, Aryaman, Varuṇa in 1.136.2 suggests Ādityas with focus on Mitra-Varuṇa)

Chandas: Triṣṭubh/Jagatī mixture (probable; requires full metrical scan; marked as uncertain)

Sukta 137

Sukta 1.137

এই সংক্ষিপ্ত সূক্তে ঋত-এর স্বর্গস্পর্শী রাজরক্ষক মিত্র ও বরুণকে নিকটে এসে সদ্য নিষ্পেষিত সোম পান করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এখানে নিষ্পেষণ-পাথর দিয়ে প্রস্তুত সোমের কথা বলা হয়েছে, যা ‘গো’ দীপ্তি (আলো/জ্ঞান) এবং দধির সঙ্গে মিশ্রিত—ফলে নিবেদনটি উষা ও সূর্যরশ্মির সঙ্গে সঙ্গত হয়। উদ্দেশ্য হলো দেবদ্বয়ের উপস্থিতি লাভ, নিবেদিত পানীয়ের প্রতি তাঁদের আনন্দময় গ্রহণ, এবং যজমানের পরিসরে সত্য-ঋত-ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা।

3 mantras | Devata: Mitra–Varuṇa

Sukta 138

Sukta 1.138

এই সংক্ষিপ্ত সূক্তে পূষণকে প্রশংসা করা হয়েছে—তিনি অক্লান্ত, মহাজাত শক্তিধর পথপ্রদর্শক; তাঁর বল এবং গায়কের স্তব কখনও ক্ষীণ হয় না। কবি সাফল্য, ধন এবং প্রতিটি প্রতিযোগিতায় নিরাপদ সঙ্গের জন্য পূষণের ‘নিকট সহায়তা’ প্রার্থনা করেন, এবং সেই দেবের সঙ্গে অটল মৈত্রীর কথা ঘোষণা করেন, যিনি সকল মনকে যজ্ঞের দিকে জোয়ালবদ্ধ করেন।

4 mantras | Devata: Pūṣan

Sukta 139

Sukta 1.139

এই সূক্তটি যজ্ঞের সূচনা করে—প্রথমে মন ও বেদীতে অগ্নিকে প্রতিষ্ঠা করে, তারপর ইন্দ্র–বায়ুকে আহ্বান করে, এবং শেষে প্রেরিত বাণী (ধীতি) দ্বারা সমগ্র দেবসমূহকে নিকটে আসতে ডেকে। এটি এক আচারগত ‘নিকট-আনয়ন’ (আবাহন) ক্রম: ইন্দ্রের জন্য সোম পেষিত হয়, স্তব অর্পিত হয়, এবং বিশ্বদেবগণ—বিশেষত তিন একাদশ (৩৩)—কে যজ্ঞ গ্রহণ করতে ও তাতে আনন্দিত হতে প্রার্থনা করা হয়।

11 mantras | Devata: Agni; Indra-Vāyu; collective Devas

Sukta 140

Sukta 1.140

ঋগ্বেদ ১.১৪০ একটি অগ্নি-সূক্ত, যেখানে বেদির অগ্নিকে সুপ্রস্তুত ‘যোনি’তে আসন গ্রহণ করতে এবং শুদ্ধ, অন্ধকার-নাশক আলোক-রথের মতো দীপ্ত হতে আহ্বান করা হয়েছে। এতে প্রজ্বালন, বস্ত্রধারণ ও হবি-অর্পণের মতো যজ্ঞ-চিত্রকল্পের সঙ্গে বিশ্ব-পুনর্জন্মের ভাব জড়িয়ে আছে; অগ্নিকে এমন জ্ঞাতা রূপে দেখানো হয়েছে, যিনি শক্তিসমূহ একত্র করেন, রূপসমূহ নবীকৃত করেন, এবং দিব্য পিতামাতা (দ্যৌ ও পৃথিবী)কে প্রবহমান নদীগুলির সঙ্গে যুক্ত করে স্তোত্রকে জাগ্রত করেন ও পুষ্টি ও বর নিশ্চিত করেন।

13 mantras | Rishi: Traditionally attributed to Kaṇva lineage for RV 1.140 (verify in anukramaṇī); hymn is Agni-centered | Devata: Agni

Chandas: Jagatī or Triṣṭubh (uncertain from provided text alone; verify in critical edition)

Sukta 141

Sukta 1.141

এই সূক্তে অগ্নির প্রশংসা করা হয়েছে—শক্তি থেকে জন্ম নেওয়া দৃশ্যমান দীপ্তি; তিনি সেই অগ্রগামী শক্তি, যিনি ঋত (মহাজাগতিক বিধান)-এর স্রোতধারায় চিন্তা ও যজ্ঞকে বহন করে এগিয়ে নিয়ে যান। অগ্নিকে বায়ু-চালিত, দ্রুতগামী, শুদ্ধজন্মা বলা হয়েছে, তবু তিনি অন্ধকার ভেদ করে পদক্ষেপ করেন এবং লোকলোকান্তরে পথ উন্মুক্ত করেন। সূক্তের পরিণতি এক সামূহিক আকাঙ্ক্ষায়: দৃঢ় স্তব ও যথাযথ অর্ঘ্যদানের দ্বারা উপাসকেরা বৃহত্তর কর্তৃত্ব লাভ করুক এবং সূর্য যেমন কুয়াশা পেরিয়ে যায়, তেমনি বাধা অতিক্রম করুক।

13 mantras | Rishi: Dīrghatamas Āucathya (traditional, subject to recension) | Devata: Agni

Chandas: Triṣṭubh (probable; confirm)

Sukta 142

Sukta 1.142

এই সূক্তটি মূলত যজ্ঞারম্ভের অগ্নি-আহ্বান। অগ্নিকে প্রজ্বালিত করে তাঁকে দেবতাদের আনতে, যজ্ঞের “প্রাচীন সূত্র/তন্তু” প্রসারিত করতে, এবং দিব্য শক্তিসমূহকে বরহিস্ (যজ্ঞ-তৃণ) উপর আসনে বসাতে প্রার্থনা করা হয়। লিতুর্জি অগ্রসর হলে রাত্রি ও উষা প্রভৃতি সহচর দেবতাদের ঋত (মহাজাগতিক বিধান)-এর রক্ষক হিসেবে স্বাগত জানানো হয়; এবং শেষে স্বাহা দ্বারা কার্যকর হওয়া হব্য ভোগ করতে প্রধান অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

13 mantras | Rishi: Dīrghatamas Āucathya (traditional for this adjoining Agni hymn cluster; attribution may vary by tradition) | Devata: Agni

Chandas: Gāyatrī (probable for RV 1.142.1; verify by syllable count)

Sukta 143

Sukta 1.143

এই আট-ঋচাবিশিষ্ট সূক্তে যজ্ঞের চির-নবীকৃত শক্তি অগ্নির স্তব করা হয়েছে—যিনি পৃথিবীতে ঋত্বিজ্ রূপে আসীন, বসুগণের দ্বারা ধারণকৃত, এবং যিনি বিধি ও ঋত (ঋতা) প্রতিষ্ঠা করেন। অগ্নিকে তাঁর জলময় রহস্যরূপ অপাম্ নপাত্ হিসেবেও আহ্বান করা হয়; তিনি বাধা-বিপত্তির উগ্র অপসারক, যিনি ‘অরণ্য পরিষ্কার করেন’; এবং শেষে তাঁকে অনিমেষ প্রহরী রূপে প্রার্থনা করা হয়—যেন তিনি অব্যর্থ, অচ্যুত প্রতিরক্ষায় জনসমাজকে রক্ষা করেন।

8 mantras | Devata: Agni (including the form Apām Napāt)

Chandas: Triṣṭubh (probable for RV 1.143; verse length supports triṣṭubh cadence)

Sukta 144

Sukta 1.144

এই সূক্তে অগ্নির প্রশংসা করা হয়েছে হোতৃ (Hotṛ) রূপে—সেই দিব্য পুরোহিত, যিনি যজ্ঞকর্মে সর্বাগ্রে অগ্রসর হন এবং শুদ্ধ, দীপ্ত ধী (উজ্জ্বল সংকল্প/বুদ্ধি) উত্তোলন করে যজ্ঞকে প্রতিষ্ঠা করেন। অগ্নিকে কালাতীত ও চির-যুবা রূপে দেখানো হয়েছে, যিনি যুগল শক্তির দ্বারা সেবিত; তিনি দৃশ্যমান উপস্থিতি হয়ে নিবেদিত বাক্যের দিকে মুখ ফেরান এবং আহুতিকে ফলপ্রসূ করেন। এই সূক্তের উদ্দেশ্য বাহ্যও (প্রজ্বালন ও যথাযথ আচার-সম্পাদন) এবং অন্তরঙ্গও (ইচ্ছাশক্তি, স্বচ্ছতা এবং ঋত-এর প্রতি যথার্থ অভিমুখতার জাগরণ)।

7 mantras | Rishi: Dīrghatamas Aucathya (traditional attribution for RV 1.144–1.145; Agni hymns of the Dīrghatamas cycle) | Devata: Agni (as Hotṛ; the divine Will and priest of the inner sacrifice)

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 145

Sukta 1.145

এই সংক্ষিপ্ত ত্রিষ্টুভ্ সূক্তে অগ্নির স্তব করা হয়েছে—তিনি সর্বজ্ঞ শক্তি, আহ্বান করলে উপস্থিত হন, প্রতিটি বাক্য শোনেন, এবং নিজের মধ্যেই সত্য আদেশ ও যজ্ঞকর্মের সিদ্ধি—উভয়ই ধারণ করেন। অগ্নিকে দ্রুতগামী ও বিজয়ী রূপে চিত্রিত করা হয়েছে; তিনি যজ্ঞের জন্য শক্তিসমূহ সঞ্চয় করেন এবং ঋত (বিশ্ব-নিয়ম) অনুসারে গোপন কার্যপদ্ধতি/বিধান (বয়ুনা) মর্ত্যদের কাছে প্রকাশ করেন। এই সূক্তের উদ্দেশ্য অগ্নিকে নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থ ও অন্তর্গত পথপ্রদর্শক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, যার জ্ঞান যজ্ঞকে কার্যকর ও সত্যবাহী করে তোলে।

5 mantras | Rishi: Dīrghatamas Aucathya (traditional for RV 1.145) | Devata: Agni (as knower and lord of powers)

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 146

Sukta 1.146

এই সংক্ষিপ্ত অগ্নি-সূক্তে অগ্নিকে এক মহাজাগতিক সত্তা হিসেবে স্তব করা হয়েছে—“ত্রিশিরা” ও “সপ্তরশ্মি”—যিনি দুই জনকের কোলে জন্ম নিয়ে স্বর্গের দীপ্ত লোকসমূহকে পরিপূর্ণ করেন। এতে সমিধা-কাষ্ঠ থেকে অগ্নির গূঢ় জন্মের ইঙ্গিতও আছে, এবং “দুই গাভী” (যুগল শক্তি) এক বাছুরকে ঘিরে আবর্তিত হয়—যা সেই যুগ্ম শক্তিগুলির প্রতীক, যারা যজ্ঞাগ্নিকে লালন করে এবং ‘বিস্তৃত’ (উরু)-এর সুশৃঙ্খল পথকে ধারণ করে।

5 mantras | Devata: Agni

Sukta 147

Sukta 1.147

এই সংক্ষিপ্ত অগ্নি-সূক্তে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে—শুদ্ধ ও উদ্যমী উপাসকেরা কীভাবে যথাবিধি অগ্নিতে আহুতি দেবে, যাতে দেবতাদের ঋত (মহাজাগতিক শৃঙ্খলা)-এর স্তোত্র ধ্বনিত হয়। এতে ঘোর অন্ধকারের মধ্যে ‘মামতেয়’ সহায়কদের অগ্নির রক্ষার স্মরণ করা হয়েছে এবং অকল্যাণ, শত্রুভাবাপন্ন অভিপ্রায়, ও মানুষের মধ্যে প্রতারণামূলক দ্বিমুখী আচরণ থেকে রক্ষার প্রার্থনা করা হয়েছে। সার্বিকভাবে এটি এক রক্ষামূলক ও শৃঙ্খলা-প্রতিষ্ঠাকারী আহ্বান, যা যজ্ঞ, বংশধারার ধারাবাহিকতা এবং সৎ আচরণকে অগ্নির অভিভাবকত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে।

5 mantras | Devata: Agni

Sukta 148

Sukta 1.148

এই সংক্ষিপ্ত অগ্নিসূক্তে দিব্য অগ্নির স্তব করা হয়েছে—সর্বকুশল হোতৃকে, যাঁকে মাতরিশ্বন মন্থন করে প্রকাশ করেছিলেন এবং প্রতিষ্ঠা করে মানবগোষ্ঠীগুলির মধ্যে স্থাপন করেছিলেন। এতে বলা হয়, স্তোত্রের দ্বারা যজ্ঞে অগ্নিকে যেন ধরে এগিয়ে আনা হয়, উৎসুক রথ-অশ্বদের মতো। আবার তাঁর অক্ষততা/অভেদ্যতার ঘোষণাও আছে—কোনো বৈরী শক্তি তাঁকে ক্ষতি করতে পারে না, কারণ চিরন্তন রক্ষকেরা তাঁর অগ্রযাত্রার পথ রক্ষা করেন।

5 mantras | Devata: Agni (with Mātariśvan as associated figure)

Sukta 149

Sukta 1.149

এই সংক্ষিপ্ত সূক্তে অগ্নির স্তব করা হয়েছে—তিনি প্রাচুর্যের অধিপতি; সোম পেষিত হলে তিনি ধন-সম্পদের আসনে আগমন করেন; তাঁর দীপ্ত শক্তি প্রজ্বলিত হয়ে সত্তার দৃঢ় দুর্গকে “উন্মুক্ত” করে। অগ্নিকে অশ্বের ন্যায় দ্রুত, সূর্যের ন্যায় দীপ্তিমান, এবং দ্বিজন্মা হোতৃ রূপে বন্দিত করা হয়েছে—যিনি উদার যজমানকে কাম্য ধন ও যশ বিতরণ করেন।

5 mantras

Sukta 150

Sukta 1.150

এই সংক্ষিপ্ত অগ্নি-সূক্তটি এক ব্যক্তিগত আশ্রয়-প্রার্থনা: উপাসক বারবার অগ্নিকে “নিজেরই একজন” বলে ডাকে এবং দেবতার বিশাল রক্ষাশক্তিতে আশ্রয় চায়। অগ্নির প্রশংসা করা হয়েছে সেই দিব্য শক্তি হিসেবে, যা শত্রু ও দানহীনকে পথ থেকে পৃথক করে, কখনও অধার্মিকের পক্ষ নেয় না, এবং অগ্রগামী আলোকরূপে—যার দ্বারা মর্ত্যরা প্রেরণা লাভ করে ও উচ্চতর চেতনার “স্বর্গে” বৃদ্ধি পায়।

3 mantras | Devata: Agni

Sukta 151

Sukta 1.151

এই সূক্তে মিত্র ও বরুণের স্তব করা হয়েছে—প্রিয় যুগল অধিপতি, যাঁরা ঋত (মহাজাগতিক বিধান) ধারণ করেন এবং জন্ম থেকেই জীবদের রক্ষা করেন। দ্রষ্টার বাক্যে তাঁরা সাড়া দেন রক্ষা ও বৃদ্ধি দান করে। তাঁদের শক্তি ‘প্রশস্ত দ্বার’ উন্মুক্ত করে, শুদ্ধ ও পুষ্টিদায়ক স্রোত মুক্ত করে, এবং ঊষা ও সূর্যালোককে প্রকাশে আনয়ন করে; শেষে তাঁদের অতুল দেবত্ব ও উদার দানের ঘোষণা করা হয়।

9 mantras | Devata: Mitra-Varuṇa (dual) (probable from dual forms and Mitra mention)

Sukta 152

Sukta 1.152

এই সূক্তে মিত্র–বরুণের স্তব করা হয়েছে—ঋত (মহাজাগতিক শৃঙ্খলা)-এর সম্পূর্ণ সঙ্গত রক্ষক—যাঁদের অক্ষুণ্ণ শক্তি ও সত্যনিষ্ঠ শাসন উপাসককে অনৃত (অসত্য) অতিক্রম করায়। বৈপরীত্য ও রহস্যময় চিত্রকল্পের মাধ্যমে (“পদহীন” যা পদযুক্তের আগে অগ্রসর; গোপন গর্ভ যা ভার বহন করে) এটি জগতসমূহকে ধারণকারী এক অদৃশ্য নিয়ামক বুদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি এটি যজ্ঞীয় পুষ্টি ও প্রেরিত বাক্‌-এর দিকে ফিরে, বয়ুনানি (বিবেচনা/সূক্ষ্ম জ্ঞান) এবং অদিতির অখণ্ডতা থেকে প্রসারিত রক্ষার প্রার্থনা করে।

7 mantras | Rishi: Māmateya (traditional for this adjacent hymn cluster) | Devata: Mitra-Varuṇa (dual)

Chandas: Tr̥ṣṭubh (probable for RV 1.152 opening; needs full hymn metrical audit)

Sukta 153

Sukta 1.153

এই সংক্ষিপ্ত ত্রিষ্টুভ স্তোত্রে মিত্র–বরুণকে একত্র যুগল দেবতা রূপে আহ্বান করা হয়েছে এবং প্রার্থনা করা হয়েছে যে, ধী (অন্তর্দৃষ্টি) ও শ্রদ্ধাময় নমস্কারের সঙ্গে পুরোহিতদের আনা ঘৃতসমৃদ্ধ হবি তাঁরা গ্রহণ করুন। এতে তাঁদের সার্বভৌমত্বকে ঋত (মহাজাগতিক শৃঙ্খলা)-এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে; অদিতিকে পোষণদায়িনী গাভী হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যিনি সত্যের অনুগামীদের জন্য প্রাচুর্য বৃদ্ধি করেন। শেষে প্রাচীন প্রভুর ধারক “দুধ” ও জলরাশির জন্য নিবেদন করা হয়েছে—যা জীবন, স্বচ্ছতা এবং সঠিক শৃঙ্খলার প্রতীক।

4 mantras | Rishi: Dīrghatamas Āucathya (traditional attribution) | Devata: Mitra–Varuṇa

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 154

Sukta 1.154

এই সূক্তে বিষ্ণুর বীরোচিত “বিস্তৃত পদক্ষেপ” ঘোষণা করা হয়েছে—যার দ্বারা তিনি পৃথিবীর বিস্তার পরিমাপ করেন, সর্বোচ্চ অবস্থানকে স্থিত করেন এবং স্বর্গ ও পৃথিবীকে ত্রিবিধ ভিত্তি হিসেবে ধারণ করেন। শেষে এটি বিষ্ণুর “পরম পদ” (পরমং পদম্)-এর দর্শনে উপনীত হয়—এক দীপ্ত, আকাঙ্ক্ষিত নিবাস, যেখানে আলোকময় “গাভী” (কিরণ/অন্তর্দৃষ্টি) অবিশ্রান্ত বিচরণ করে এবং উপাসককে সেই সর্বোচ্চ আলোর দিকে আহ্বান জানায়।

6 mantras | Rishi: Dīrghatamas Āucathya (traditional for RV 1.154) | Devata: Viṣṇu

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 155

Sukta 1.155

এই সূক্তে বিষ্ণুর স্তব করা হয়েছে—তাঁকে বিশাল, অজেয় রক্ষক রূপে, যিনি প্রেরিত চিন্তাকে জাগ্রত করেন এবং পর্বতশিখরে অটলভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকেন। এতে তাঁর বিশ্বব্যাপী ‘প্রশস্ত পদক্ষেপ’ (ত্রিবিক্রম) উদ্‌যাপিত হয়েছে, যার দ্বারা তিনি লোকসমূহকে মাপেন ও ধারণ করেন; তাঁর মহিমা যজ্ঞের শৃঙ্খলা এবং প্রতিযোগিতায় বিজয়ের সঙ্গে যুক্ত। কবি বিষ্ণুকে একদিকে বিশ্ব-মাপক, অন্যদিকে চির-যৌবনশক্তি হিসেবে দেখান, যিনি উপাসকদের সহায়তায় অগ্রসর হন।

6 mantras | Rishi: Dīrghatamas Aucathya (traditional for RV 1.155) | Devata: Viṣṇu

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 156

Sukta 1.156

এই সংক্ষিপ্ত ত্রিষ্টুভ স্তোত্রে বিষ্ণুর প্রশংসা করা হয়েছে—তাঁকে বিস্তৃত, প্রাচীন এবং ঋত (মহাজাগতিক বিধান)-এর ধারক রূপে। প্রার্থনা করা হয়, তিনি মিত্রের ন্যায় প্রসন্ন ও অনুগ্রহশীল হন এবং স্তোত্র ও যজ্ঞকে সফল করুন। এতে বিষ্ণুর সর্বব্যাপী উপস্থিতি, যজমানকে ‘ঋতের অংশে’ প্রতিষ্ঠিত করার তাঁর ভূমিকা, এবং ইন্দ্রের সঙ্গে তাঁর দিব্য সঙ্গ—যা সৎকর্ম ও অন্তর্দৃষ্টিকে শক্তি দেয়—উদ্ভাসিত হয়েছে।

5 mantras | Rishi: Dīrghatamas Aucathya (traditional for RV 1.156) | Devata: Viṣṇu

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 157

Sukta 1.157

এটি উষাকালের এক আহ্বান-সূক্ত, যেখানে অগ্নি জাগে, সূর্য উদিত হয় এবং উষা তাঁর আলো বিস্তার করেন—সাবিতৃ যেভাবে জগতের সুশৃঙ্খল গতি নির্ধারণ করে পথে চালিত করেন। এখানে যুগল চিকিৎসক অশ্বিনদের প্রার্থনা করা হয়েছে যেন তাঁরা রথে দ্রুত এসে প্রাণশক্তি ও পুষ্টি দান করেন, অনিষ্ট ও বৈরিতা দূর/শুদ্ধ করেন, এবং ভক্ত যজমানের জন্য বল ও সাফল্য প্রতিষ্ঠা করেন।

5 mantras | Devata: Aśvins (with Agni, Sūrya, Uṣas, Savitṛ as supporting powers)

Chandas: Jagatī (probable for RV 1.157 opening; needs confirmation by syllable count)

Sukta 158

Sukta 1.158

দীর্ঘতমস-চক্রের এই সংক্ষিপ্ত সূক্তে অশ্বিনদের সঙ্গে অভিন্ন বলে চিহ্নিত যুগল শক্তির আহ্বান করা হয়েছে। রুদ্রসদৃশ উপাধিতে তাদের প্রশংসা করা হয়—উজ্জ্বল, প্রবল, বহুমনা সহায়ক হিসেবে। স্তব থেকে রক্ষাপ্রার্থনায় অগ্রসর হয়ে কবি অনুরোধ করেন যে “ডানাওয়ালা” এই যুগল যেন উপাসককে না শুষে নেয়/ক্ষয় করে, না ছড়িয়ে দেয়। শেষে আসে এক আত্ম-উল্লেখমূলক বাক্য, যেখানে ব্রহ্মন্ (পবিত্র উচ্চারণ/অন্তর্দৃষ্টি) নিজেই সারথি হয়ে সাধকদের আপঃ (জল)-এর দিকে—অন্বেষণের গোপন লক্ষ্য—পথ দেখায়।

6 mantras | Devata: Aśvins (with Rudra-like epithets; hymn addressed to the twin powers)

Chandas: Triṣṭubh (probable)

Sukta 159

Sukta 1.159

এই পাঁচ-ঋচাযুক্ত সূক্তে দ্যাবা-পৃথিবী (স্বর্গ ও পৃথিবী)-র স্তব করা হয়েছে—তাঁদের মহান, সত্য-বর্ধক পিতামাতা রূপে, যাঁরা ঋত (মহাজাগতিক বিধান) ধারণ করেন এবং সভায় যজ্ঞদৃষ্টি কার্যকর করেন। এতে তাঁদের জননীশক্তির স্মরণ আছে—দুই মাতার থেকেই সেই শক্তিসমূহ উদ্ভূত, যা স্থিতি ও গতি—উভয়কেই প্রতিষ্ঠা করে—এবং শেষে সবিতৃর দিব্য প্রেরণার সঙ্গে যুক্ত, সুস্পষ্ট-নির্দেশিত সমৃদ্ধি (রয়ি) প্রার্থনা করা হয়েছে।

5 mantras | Rishi: Traditionally: Dīrghatamas (for RV 1.159) or a related Āṅgirasa line; verify in an Anukramaṇī for exact attribution. | Devata: Dyāvāpṛthivī (Heaven and Earth)

Chandas: Triṣṭubh (typical for such praise verses; verify)

Sukta 160

Sukta 1.160

এই সূক্তে দ্যাবা-পৃথিবী (স্বর্গ ও পৃথিবী)-এর স্তব করা হয়েছে—তাঁদের সর্বব্যাপী, সত্য-ধারক পিতামাতা রূপে, যাঁরা মধ্যলোককে ধারণ করেন এবং ঋত (শৃঙ্খলা) ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করেন। সূর্যকে তাঁদের মধ্যে শুদ্ধ, বিধি-অনুগামী গমনকারী হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে; পাশাপাশি সূক্তটি এক অন্তর্লীন, পরিশোধক অগ্নিশক্তির ইঙ্গিত দেয়, যা লোকসমূহকে নির্মল করে এবং দীপ্তিময় পুষ্টি দান করে। শেষে দ্রষ্টা উভয়ের কাছে বৃহৎ (বিস্তৃত মহত্ত্ব), যশ, ক্ষত্র (রক্ষাকারী শক্তি) এবং সম্প্রদায়ের জন্য বলবর্ধক অন্তঃশক্তি প্রার্থনা করেন।

5 mantras | Rishi: As RV 1.160 (verify in Anukramaṇī) | Devata: Dyāvāpṛthivī (with Sūrya as the lawful mover between them)

Chandas: Triṣṭubh (probable; verify)

Sukta 161

Sukta 1.161

এই সূক্তে দিব্য কারিগর ঋভুদের পরীক্ষা ও মহিমা বর্ণিত হয়েছে। অগ্নি এখানে দূত (বার্তাবাহক) রূপে কাহিনির পরিপ্রেক্ষিত গড়ে দেন, আর একটিমাত্র কাঠের চমসা (পাত্র)কে বহু নিখুঁত রূপে রূপান্তরের প্রসিদ্ধ ঘটনা কেন্দ্রে আছে। ধাঁধাময় প্রশ্ন, যজ্ঞীয় সংলাপ এবং সোম-নিষ্পেষণের উল্লেখের মাধ্যমে এটি সেই দক্ষতার স্তব করে যা পবিত্র শক্তিতে পরিণত হয়—ঋত (মহাজাগতিক বিধান)-এর সঙ্গে সঙ্গত কারুকার্য অমরত্ব ও দেবস্বীকৃতি লাভ করে।

14 mantras | Rishi: Rbhus (collective seers/artisans) traditionally associated with this sukta; specific attribution not provided in input | Devata: Agni as dūta; narrative frame concerns the Rbhus and the transformation of the cup (camasá)

Sukta 162

Sukta 1.162

ঋগ্বেদ ১.১৬২ অশ্বমেধ-সম্পর্কিত এক বিধানমূলক স্তোত্রসমষ্টি, যেখানে দীক্ষিত অশ্বকে দেবজন্মা—আহুতি, যশ ও সার্বভৌমত্বের বাহক—রূপে বর্ণনা করে পবিত্র করা হয়। এতে বহু দেবতাকে সাক্ষী হিসেবে আহ্বান করা হয়, যাতে কোনো দেবশক্তি যজ্ঞক্রিয়ায় দোষ না খুঁজে পায়; একই সঙ্গে প্রস্তুতি, অর্পণ এবং সমষ্টিগত সম্মতির কার্যাবলি সতর্কভাবে নির্দেশিত হয়। স্তোত্রের পরিণতি দোষহীনতা (অনাগস্), জীবনধারক ধন, সন্তান-সন্ততি এবং ক্ষত্র—সুশৃঙ্খল, ন্যায়সম্মত ক্ষমতা—প্রার্থনায়, যা যজ্ঞের ‘অশ্ব-শক্তি’ দ্বারা অর্জিত হয়।

22 mantras | Rishi: Traditionally Dīrghatamas Aucathya for RV 1.162 (horse-sacrifice hymn complex; some traditions vary) | Devata: Aśva / sacrificial horse (with many gods invoked as witnesses)

Chandas: Trishtubh

Sukta 163

Sukta 1.163

ঋগ্বেদ ১.১৬৩ অশ্বকে নিয়ে এক রহস্যময় স্তোত্র—সে একদিকে অভিষিক্ত ঘোড়া, অন্যদিকে গভীর থেকে উঠে সর্বোচ্চ পদে অগ্রসরমান এক দিব্য প্রাণশক্তি। এতে তার বিস্ময়কর জন্ম, শক্তি ও বিজয়ী আরোহনের প্রশংসা করা হয়েছে, এবং সতর্ক করা হয়েছে যে কেবল ভোগের অনুসরণ মর্ত্যকে ‘গো-এর পদ’ (আলো/রশ্মি) থেকে সরিয়ে নীচতর আহারের দিকে টেনে নিয়ে যায়। স্তোত্রের পরিণতি অশ্বের পরম আসনে আগমনে—দেবগণ তাকে অভ্যর্থনা করেন, আর সে দাতা/যজমানকে কাম্য পূর্ণতা ও সমৃদ্ধি দান করে।

13 mantras | Rishi: Dīrghatamas Āucathya (traditional for RV 1.163) | Devata: Aśva (mystic steed; divine life-force in ascent)

Chandas: Triṣṭubh (common for RV 1.163; verse-level verification recommended)

Sukta 164

Sukta 1.164

ঋগ্বেদ ১.১৬৪ দীর্ঘতমসের প্রসিদ্ধ “ধাঁধা‑সূক্ত”, যেখানে স্তরিত রহস্যময় ইঙ্গিতের মাধ্যমে মহাজাগতিক বিধান (ঋত) প্রকাশিত—একই পরম সত্যকে নানা নামে ও বাক্যে বলা, কালের চক্র, বাক্, এবং যজ্ঞজগতের প্রতীকী বিন্যাস: অগ্নি, সূর্য, জল ও গাভী। এটি সরল প্রার্থনা নয়; বরং এক ধ্যানময় মানচিত্র—বিশ্বদেবাঃ (সার্বজনীন শক্তিসমূহ) কীভাবে গোপন উৎস থেকে প্রকাশিত জীবনে ক্রিয়া করে—এবং শ্রোতাকে বহুত্বের অন্তরে একত্ব দেখতে শিক্ষিত করে।

52 mantras | Rishi: dīrghatamā aucathyaḥ | Devata: viśvedevāḥ (universal powers) / riddle-hymn on cosmic functions

Chandas: virāṭ-triṣṭubh

Sukta 165

Sukta 1.165

ঋগ্বেদ ১.১৬৫ একটি নাট্যরূপ ইন্দ্র–মরুত সংলাপ, যা স্তবের কাঠামোয় গাঁথা। কবি মরুতদের একত্র দীপ্তি ও শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, আর ইন্দ্র বৃত্র-বধে নিজের স্বতন্ত্র বিজয় এবং মানবজাতির প্রতি তাঁর দান-উপকারের কথা জোর দিয়ে বলেন। স্তোত্রটি দেবতাদের অগ্রাধিকার ও মৈত্রী/জোট নিয়ে দরকষাকষি করে—ঝড়দেবতা ও বজ্রধারী কীভাবে একসঙ্গে কাজ করেন—এবং শেষে মরুতদের তাদের ‘বাহিনী’সম বলসহ আগমন করে বল, রক্ষা ও বৃদ্ধি দান করার আহ্বানে সমাপ্ত হয়।

15 mantras | Rishi: Agastya Mānavā (traditional for RV 1.165, Indra–Marut dialogue) | Devata: Maruts (addressed; within an Indra–Marut dialogic frame)

Chandas: Tr̥ṣṭubh (probable; metrical verification recommended)

Sukta 166

Sukta 1.166

ঋগ্বেদ ১.১৬৬ মরুতদের উদ্দেশে এক প্রবল স্তোত্র, যেখানে তাদের উদ্দাম “জন্ম”, বজ্রগর্জনময় অগ্রযাত্রা এবং যোদ্ধাসুলভ শক্তির স্মরণ করা হয়েছে—যে শক্তি বাধা দূর করে ও প্রিয় যজমানকে রক্ষা করে। অগস্ত্য তাদের সুদূরপ্রসারী পরাক্রমের প্রশংসা করেন এবং গৃহের—বিশেষত সন্তান-সন্ততি ও বৃদ্ধি—রক্ষার জন্য, আর জীবনের প্রতিযোগিতা ও সংগ্রামে জয়লাভের শক্তি দানের জন্য প্রার্থনা করেন। স্তোত্রের পরিণতি ঘটে গীত-আহুতির অর্পণে; এই স্তবের মাধ্যমেই মরুতদের আহ্বান করা হয় যেন তারা পুষ্টি ও বিজয়ক্ষমতা নিয়ে উপস্থিত হন।

15 mantras | Rishi: Agastya Māna (traditional for RV 1.166) | Devata: Maruts (with implicit linkage to the 'Bull' power, often Indra)

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 167

Sukta 1.167

অগস্ত্য-সংগ্রহের এই সূক্তে ইন্দ্রের সহস্রগুণ শক্তি—সহায়তা, পোষণ, ধন এবং বিজয়ী ‘বাজাঃ’ (সাফল্য/সিদ্ধির শক্তি)—আহ্বান করা হয়েছে, যাতে উপাসকদের দিকে প্রাচুর্য ও রক্ষা আকৃষ্ট হয়। স্তবের অগ্রগতিতে মরুত (ইন্দ্রের ঝড়-সহচর) এবং সোম-চাপনের যজ্ঞকর্ম প্রধান হয়ে ওঠে, দেখায় কীভাবে স্তোত্র, আহুতি ও প্রেরিত গান সম্প্রদায়ের মধ্যে শক্তিকে ‘প্রতিষ্ঠিত’ করে। সূক্তের পরিণতিতে মরুতদের উদ্দেশে স্তোমের প্রত্যক্ষ নিবেদন করা হয়, এবং দেহগত কল্যাণ, বিস্তার ও স্থায়ী কার্যকারিতার প্রার্থনা করা হয়।

11 mantras | Rishi: Agastya (traditional for this section; RV 1.167 is Indra-focused within the Agastya collection) | Devata: Indra

Chandas: Triṣṭubh (probable)

Sukta 168

Sukta 1.168

এই সূক্তে মরুতদের আহ্বান করা হয়েছে—একত্রিত, দ্রুতগামী এক বাহিনী হিসেবে—যারা যজ্ঞ থেকে যজ্ঞে গমন করেন, প্রেরিত ভাবনাকে গতিশীল করেন এবং দুই লোকের মধ্যে “সঠিক-পথগামী” অগ্রগতি দান করেন। কবি তাঁদের বিস্তৃত পরিসর ও ঝড়ো শক্তিতে বিস্মিত, যা জমাট/সংকুচিতকে ভেঙে উন্মুক্ত করে, পথ পরিষ্কার করে এবং জীবন ও বিজয়ের জন্য শক্তিসমূহকে মুক্ত করে। শেষে তিনি রচিত স্তোত্র নিবেদন করেন এবং দেহধারী কল্যাণের জন্য পুষ্টি ও বলবর্ধক শক্তি নিয়ে মরুতদের আগমনের আমন্ত্রণ জানান।

10 mantras | Rishi: Agastya Mānavā (traditional for RV 1.168, Marut hymn) | Devata: Maruts

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 169

Sukta 1.169

এই সূক্তে ইন্দ্রের স্তব করা হয়েছে—তাঁকে বিশাল, দীপ্তিমান রক্ষক ও বিজয়ী বাধা-ভঞ্জক রূপে, যিনি মরুতদের সঙ্গে মিলিত হয়ে কর্ম করেন। এখানে ইন্দ্রের প্রিয় অনুগ্রহ (সুম্ন) প্রার্থিত, ঋত (সত্য/ব্যবস্থা)-এর পথে যথার্থ পথনির্দেশ চাওয়া হয়েছে, এবং “দৃঢ় দুর্গ” খুলে দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে, যাতে উপাসকেরা শক্তি, আলো ও প্রাচুর্য নিয়ে অগ্রসর হতে পারে।

8 mantras | Rishi: Agastya Maitrāvaruṇi (traditional for RV 1.169) | Devata: Indra (with Maruts as associated powers)

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 170

Sukta 1.170

এই সংক্ষিপ্ত ত্রিষ্টুভ্ স্তোত্রটি সংলাপধর্মী কাঠামোয় ইন্দ্র ও মরুতদের মধ্যে টানাপোড়েন এবং পরবর্তী মীমাংসা/মিলনের দৃশ্য রচনা করে; মধ্যস্থ ঋষি হলেন অগস্ত্য। শুরুতে এটি নীতিবাক্যসুলভ অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে—কী জানা যায়, আর ‘অন্যের মন’ কতটা অস্থির; তারপর ঋত (মহাজাগতিক বিধান)-অনুযায়ী ঐক্য পুনঃস্থাপনের দিকে অগ্রসর হয়, যাতে ইন্দ্র মরুতদের সঙ্গে যজ্ঞ-অর্ঘ্য গ্রহণ করেন। উদ্দেশ্য একদিকে আচারগত (মরুতদের সহিত ইন্দ্রের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা), অন্যদিকে নৈতিক-মনস্তাত্ত্বিক (ইচ্ছা, বাক্‌ এবং মৈত্রী/জোটকে সোজা ও স্থিত করা)।

5 mantras | Rishi: Agastya | Devata: Indra–Maruts dialogue frame (this sukta is often read as a tension/conciliation hymn involving Indra, Maruts, and the seer)

Chandas: Triṣṭubh (general for the hymn; this verse shows compact, gnomic style)

Sukta 171

Sukta 1.171

এই সূক্তে অগস্ত্য মরুতদের—দ্রুতগামী ঝড়-শক্তি—তৎক্ষণাৎ শান্ত করতে ও আহ্বান জানাতে ব্যাকুল। তিনি তাদের অনুরোধ করেন ক্রোধ ত্যাগ করতে, অশ্বদের জোয়াল খুলে দিতে, এবং তাদের প্রবল বলকে মঙ্গলময় সহায়তায় রূপান্তরিত করতে। এক ধরনের টানটান সুরও আছে: গায়ক ইন্দ্রের অতিমাত্রায় প্রবল মহিমায় কাঁপে এবং ইন্দ্র ও মরুতদের মধ্যে যথাযথ সামঞ্জস্য কামনা করে, যাতে যজ্ঞ ও সম্প্রদায় সুরক্ষিত ও শক্তিশালী হয়। ফলে এই সূক্ত প্রার্থনা, সংযম ও যথোচিত অর্ঘ্যের মাধ্যমে উগ্র দেবশক্তিকে শৃঙ্খলিত, কল্যাণকর কর্মে প্রবাহিত করে।

6 mantras | Rishi: Agastya | Devata: Maruts

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 172

Sukta 1.172

এই সংক্ষিপ্ত গায়ত্রী সূক্তে মরুতদের আহ্বান করা হয়েছে যেন তারা দীপ্তিময় ও মঙ্গলময়ভাবে নিকটে আসেন এবং তাদের উজ্জ্বল, রক্ষাকারী সহায়তা প্রদান করেন। এতে প্রার্থনা করা হয় যে তারা শত্রুর নিক্ষিপ্ত অস্ত্র ও চূর্ণকারী আঘাত বহু দূরে সরিয়ে দিক, এবং যেমন পড়ে থাকা ঘাসের স্তূপ সরিয়ে ফেলা হয় তেমনই চারপাশ পরিষ্কার করে দিক, যাতে উপাসক জীবন ও কল্যাণের দিকে “ঊর্ধ্বে” উঠতে পারে।

3 mantras | Devata: Maruts

Chandas: Gayatri (3 pādas of 8 syllables typical for such concise Marut verses)

Sukta 173

Sukta 1.173

এই সূক্তটি ইন্দ্র-স্তোত্র; শুরুতে স্বর্গজাত স্তবগান গাওয়ার প্রেরণা এবং স্তবের দ্বারা দীপ্ত ‘স্বর্’ (সৌর-বিস্তৃতি) প্রকাশের কথা বলা হয়েছে। পরে এটি সংঘর্ষে ও পথযাত্রায় অগ্রগামী বীর ইন্দ্রের দিকে ফিরে, তাঁর কাছে যথার্থ গমনপথ (গাতু), বিজয়, এবং সম্প্রদায়ের জন্য দ্রুত-দাতা প্রাচুর্য ও সমৃদ্ধি প্রার্থনা করে।

13 mantras | Devata: Likely Indra (context of RV 1.173), with strong svar/light imagery; verse functions as hymnic prelude invoking chant and rays

Chandas: Trishtubh (likely; longer line structure)

Sukta 174

Sukta 1.174

এই স্তোত্রে দেবগণের মধ্যে অধিপতি ইন্দ্রের কাছে প্রবল আবেদন করা হয়েছে—তিনি যেন উপাসকের মানবীয় শক্তি (নৃ) রক্ষা করেন এবং বিপদ অতিক্রম করে নিরাপদে পার করিয়ে দেন। ইন্দ্রকে এখানে ‘সৎপতি’ ও ‘সহোদা’—ঋত-সত্যের অধিপতি এবং বলদাতা—রূপে প্রশংসা করা হয়েছে; তিনি অদানশীল/কৃপণকে পরাস্ত করেন এবং সৎ বংশধারা, সাহস ও প্রতিযোগিতায় বিজয়কে শক্তিশালী করেন। শেষ প্রার্থনায় বলা হয়েছে—ইন্দ্র যেন সম্পূর্ণভাবে “আমাদের” হন, নেকড়ের আক্রমণ থেকেও সর্বাধিক নিরাপদ রক্ষক হয়ে; এবং জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় চালক সমৃদ্ধি (ইষ্) ও দ্রুত দান প্রদান করুন।

10 mantras | Rishi: Agastya Māna (traditional attribution for RV 1.174 in many Anukramaṇī traditions; verify against the specific Śākala anukramaṇī used in your corpus). | Devata: Indra

Chandas: Triṣṭubh (probable for RV 1.174; confirm per metrical scan in implementation).

Sukta 175

Sukta 1.175

এই ছয় ঋচাবিশিষ্ট ত্রিষ্টুভ স্তোত্রে সোম-শক্তিসম্পন্ন ইন্দ্রকে আহ্বান করা হয়েছে। এখানে সেই উল্লাস/মত্ততা (মদ) প্রশংসিত, যা তাঁকে “সহস্র-বিজয়ী” বীর করে তোলে, এবং উপাসকদের জন্য বিজয়শক্তি নবীকরণের প্রার্থনা করা হয়েছে। স্তোত্রটি ইন্দ্রের পৌরাণিক উদ্ধারকর্ম স্মরণ করায়—সূর্য/আলো পুনরুদ্ধার, শুষ্ণকে আঘাত/বধ, এবং কুত্সকে সহায়তা—যাতে সেই একই সিদ্ধান্তমূলক শক্তি বর্তমান বাধা ভেঙে দেয় এবং বল, লাভ ও দ্রুত দান প্রদান করে।

6 mantras | Rishi: Vasiṣṭha (traditional attribution for RV 1.175 in the Vasiṣṭha-associated cluster; verify against śākhā-anukramaṇī for edition-specific certainty) | Devata: Indra (Soma-empowered Indra)

Chandas: Triṣṭubh (probable for RV 1.175; confirm per padya count in critical edition)

Sukta 176

Sukta 1.176

এই ছয় ঋচাবিশিষ্ট স্তোত্রে সোম (ইন্দু)-কে আহ্বান করা হয়েছে—এক উদ্দীপক, বৃষসদৃশ শক্তি হিসেবে, যা ইন্দ্রের মধ্যে প্রবেশ করে যুদ্ধ ও ধনলাভে তাঁর পরাক্রমকে অপ্রতিরোধ্য করে তোলে। এতে প্রার্থনা করা হয়েছে যে যারা সোম পেষণ করে না, যারা যজ্ঞে দান-অর্ঘ্য দেয় না—এমন অনার্পণকারীরা যেন নিবৃত্ত হয়; আর যজ্ঞের লাভ ও আনন্দ যেন সত্যিকার যজমান ও স্তোতাদের কাছে প্রবাহিত হয়, যেমন তা প্রাচীন ঋষিদের ক্ষেত্রে হয়েছিল।

6 mantras | Rishi: Vasiṣṭha (traditional; verify for RV 1.176) | Devata: Soma (Indu) in relation to Indra (Indra-Soma complex)

Chandas: Triṣṭubh (probable; verify)

Sukta 177

Sukta 1.177

এই পাঁচ-ঋচাযুক্ত সূক্তটি জনসমূহের বৃষসদৃশ রাজা ইন্দ্রকে তীব্র ও ত্বরিত আহ্বান—তিনি যেন দুই হরিসহ রথে দ্রুত আসেন, স্তোত্র ও নিংড়ানো সোমের আকর্ষণে প্রেরিত হয়ে। এতে গায়কের প্রতি ইন্দ্রের তৎপর সহায়তা, যশ ও শক্তি দান, এবং উপাসকদের উজ্জ্বল, বিজয়ময় অবস্থা (উষাসদৃশ নবজাগরণ) ও সফল সিদ্ধির দিকে পরিচালনার কথা বিশেষভাবে উচ্চারিত।

5 mantras | Devata: Indra

Chandas: Trishtubh (probable; requires metrical verification)

Sukta 178

Sukta 1.178

এই সংক্ষিপ্ত ইন্দ্র-সূক্তে দেবতার “প্রস্তুত শ্রবণ” (শ্রুষ্টি) উদ্দেশ করে সরাসরি আবেদন করা হয়েছে। কবি ইন্দ্রকে অনুরোধ করেন যেন তিনি উপাসকের ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ক্ষাকে অবহেলা না করেন এবং সর্বব্যাপী ধন ও শক্তি দান করেন। ইন্দ্রকে প্রশংসা করা হয়েছে যুদ্ধজয়ী এবং গায়কের আহ্বান মনোযোগ দিয়ে শোনেন এমন শ্রোতা হিসেবে—যিনি উদার যজমানের জন্য রথকে অগ্রসর করেন এবং গর্বিত শত্রুদের বিরুদ্ধে তাঁর ভক্তদের রক্ষা করেন। এই স্তোত্রের উদ্দেশ্য ব্যবহারিক ও ভক্তিমূলক—স্তব ও অর্ঘ্যের মাধ্যমে রক্ষা, বিজয় এবং স্থায়ী সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

5 mantras | Devata: Indra

Chandas: Trishtubh (probable; requires metrical verification)

Sukta 179

Sukta 1.179

এই সংক্ষিপ্ত সংলাপ-সূক্তে অগস্ত্যের দীর্ঘ তপস্যা-পরিশ্রম এবং লোপামুদ্রার দাম্পত্য-সংযোগ, কাম (ইচ্ছা) ও সৃজনশীল পরিপূর্ণতার আহ্বানের মধ্যে টানাপোড়েন তুলে ধরা হয়েছে। এখানে কামকে নিছক ভোগ হিসেবে নয়, বরং এমন এক শক্তি হিসেবে দেখা হয়েছে যা যথাযথভাবে মুক্ত হলে সন্তান, বল এবং ঋষির কার্যকর আশীর্বাদকে সমর্থন করে। শেষে অগস্ত্য তপসকে উর্বরতায় রূপান্তরিত করেন এবং দেবতাদের উদ্দেশে ‘সত্য আশীর্বাদ’ (satyā āśiṣaḥ) নিবেদন করেন।

6 mantras | Rishi: Agastya (with Lopāmudrā in the dialogue tradition) | Devata: Dialogue hymn (Agastya–Lopāmudrā); no single devatā, with Soma/inner desire and marital/creative power in focus

Chandas: Trishtubh (probable; confirm by scan)

Sukta 180

Sukta 1.180

এই সূক্তে অশ্বিনদ্বয়—দ্রুতগামী দিব্য চিকিৎসক ও উদ্ধারকর্তা—কে আহ্বান করা হয়েছে। তাঁদের স্বর্ণচক্রযুক্ত রথের প্রশংসা করা হয়েছে, যা নানা লোকের মধ্য দিয়ে গমন করে এবং উষা (প্রভাত)-এর সঙ্গে চলতে থাকে। প্রার্থনা করা হয়—তাঁরা যেন তাঁদের বাহনদলকে যোজনা করেন, স্বধা-শক্তিতে প্রাচুর্য উন্মুক্ত করেন, এবং বিজয়, পুষ্টি ও মঙ্গলাভিমুখে নিয়ে যায় এমন নতুন, নির্বিঘ্ন ‘সুপথ’ (সুবিতা) দান করেন।

10 mantras | Rishi: Unknown/varied (Ashvin hymn tradition; requires external index for exact rishi of RV 1.180) | Devata: Aśvins (Nasatyas)

Chandas: Jagatī or Triṣṭubh (uncertain; requires metrical verification)

Sukta 181

Sukta 1.181

এই সূক্তে অশ্বিনৌকে আহ্বান করা হয়েছে—তাঁরা দ্রুতগামী, প্রিয় সহায়ক; তাঁরা উপাসকদের “উত্তোলন” করেন এবং বিশেষত প্রয়োজনে তাদের পথ উন্মুক্ত করে দেন। এতে জগতসমূহের মধ্যে তাঁদের দীপ্তিময় গতি, প্রাণদায়িনী শক্তি এবং যে যজমান যথাযথভাবে যজ্ঞ অর্পণ করে তার জন্য তাঁদের অচ্যুত যৌবনের প্রশংসা করা হয়েছে। কবি তাঁদের কাছে প্রশস্ত অবকাশ (বরিবস্), কষ্ট-দুর্দশা জয় করে অতিক্রম করার বিজয়, এবং সময়মতো আগমনে দ্রুত দানযোগ্য ঐশ্বর্য প্রার্থনা করেন।

9 mantras | Devata: Aśvinau

Chandas: Triṣṭubh (probable)

Sukta 182

Sukta 1.182

এই অশ্বিন-সূক্তে যুগল দিব্য চিকিৎসক অশ্বিনদ্বয়কে তাঁদের দ্রুত রথে আগমন করতে আহ্বান করা হয়েছে, যাতে তাঁরা প্রেরিত চিন্তাকে সঞ্জীবিত করেন এবং তাঁদের শুদ্ধ, দীপ্ত সহায়তায় ‘সুকৃত’—অর্থাৎ যথাযথ/সঠিক-করার সিদ্ধি—দান করেন। এতে তাঁদের প্রসিদ্ধ উদ্ধারকর্ম স্মরণ করা হয়েছে—বিশেষত বিপজ্জনক জলপথ পেরিয়ে তুগ্র্যের পুত্রকে রক্ষা করা—এবং সেই স্মৃত সহায়তাকেই বর্তমান প্রার্থনায় রূপ দিয়ে সোম-অনুষ্ঠানে পুষ্টি, দুঃখ-কষ্টের উপর বিজয় ও স্থায়ী দানের আবেদন জানানো হয়েছে।

8 mantras | Rishi: Agastya Māna (traditional for this Aśvin cluster; confirm via Anukramaṇī for RV 1.182) | Devata: Aśvinau

Chandas: Triṣṭubh

Sukta 183

Sukta 1.183

এই সংক্ষিপ্ত অশ্বিন-সূক্তে যুগল দিব্য চিকিৎসক অশ্বিনদ্বয়কে আহ্বান করা হয়েছে—তাঁরা যেন তাঁদের আশ্চর্য রথ, যা চিন্তার মতো দ্রুত, জুড়ে দেন এবং যজমানের সুসজ্জিত, সুপ্রস্তুত গৃহে নিরাপদে উপস্থিত হন। কবি পথের রক্ষার প্রার্থনা করেন, তাঁদের নির্ধারিত অংশ নিবেদন করেন, এবং তাঁদের সহায়তায় অন্ধকার থেকে দূর তীরে উত্তরণের প্রশংসা করেন—পুষ্টি, বাধা-অপসারণ ও দ্রুত দানশক্তি কামনা করে।

6 mantras | Devata: Aśvinau

Sukta 184

Sukta 1.184

এই সূক্তে অশ্বিনৌ (নাসত্যা) দেবযুগলকে আহ্বান করা হয়েছে—তাঁরা যেন ঊষাকালে ‘দেব-চলিত’ পথে এসে সাহায্য, আরোগ্য ও সমৃদ্ধির মধুময় দান নিয়ে উপস্থিত হন। কবি তাঁদের ‘বারবার’ ডেকে উপাসকদের জন্য অন্ধকার ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে নিরাপদ গমন প্রার্থনা করেন, যাতে পূর্ণতা, বল ও সৌভাগ্য লাভ হয়।

6 mantras | Rishi: Agastya (traditional for RV 1.184) | Devata: Aśvinau (Nāsatyā)

Chandas: Jagatī (probable; verify by metrical count)

Sukta 185

Sukta 1.185

এই সূক্তে দিন ও রাতের আবর্তিত পালাবদল এবং তারই প্রসঙ্গে জগতকে ধারণকারী সুশৃঙ্খল দ্বৈত-ব্যবস্থার ধ্যান করা হয়েছে। তাদের রহস্যময় উৎপত্তি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়, ঋত (সত্য-শৃঙ্খলা)-এর অধীনে তাদের মহাজাগতিক স্থিতিশীলতার প্রশংসা করা হয়, এবং শেষে স্বর্গ-ও-পৃথিবীকে সর্বজনীন পিতা-মাতা রূপে ডেকে যজমানের রক্ষা, পালন ও পথপ্রদর্শনের প্রার্থনা করা হয়—যাতে তিনি স্থায়ী সমৃদ্ধি ও সৎ প্রেরণার দিকে অগ্রসর হন।

11 mantras | Rishi: Traditionally attributed to an early seer of the Dyāvā-Pṛthivī (Heaven-and-Earth) cycle in RV 1.185 (exact rishi varies by tradition; not supplied in input) | Devata: Ahanī (Day and Night) / cosmic duality; implicitly Rodasī order

Chandas: Triṣṭubh (probable; verify by metrical scan)

Sukta 186

Sukta 1.186

এই সূক্তটি এক আহ্বানমূলক স্তোত্র-লিতানি, যেখানে সवিতৃকে তাঁর বৈশ্বানর ("সর্বব্যাপী, মানুষের অন্তরে সর্বত্র") রূপে যজ্ঞে প্রবেশ করতে ডাকা হয়—অর্পণের দীপ্ত স্রোতসমূহসহ—এবং উপাসকের প্রেরিত ইচ্ছাশক্তিকে প্রসারিত করে সমগ্র চলমান জগতকে আলিঙ্গন করার যোগ্য করে তোলে। স্তবের অগ্রগতির সঙ্গে সহচর দেবতারা—বিশেষত ত্বষ্টৃ ও বৃত্রহন ইন্দ্র—কে আহ্বান করা হয়, যাতে তাঁরা যৌথ "অভিপিত্ব" (অন্তরঙ্গ বাস/সংযোগ) এ মিলিত হন এবং বল, স্থিত স্থায়িত্ব ও দীর্ঘস্থায়ী ঐশ্বর্য দান করেন। সূক্তের পরিণতি ঘটে "দীধিতি" (উজ্জ্বল প্রজ্বালন/অন্তর্দীপ্তি) রূপকের মধ্যে—যা ধারক উপস্থিতি; যার আশ্রয়ে সাধক দেবগণের মধ্যে শ্রম করে এবং বরসমূহের শক্তিশালী সমাবেশকে জানতে পারে।

11 mantras | Devata: Savitṛ (with Viśvānara aspect)

Sukta 187

Sukta 1.187

এই সূক্তে সোমের স্তব করা হয়েছে—পবিত্র “পানীয়” (পিতু), যা দেবসঙ্কল্পকে প্রতিষ্ঠিত করে, দেবতাদের শক্তি বাড়ায় এবং বৃত্র/অহি দ্বারা প্রতীকিত বাধা-শক্তির উপর বিজয় অর্জনে সামর্থ্য দেয়। এতে সোমের যজ্ঞীয় পরিচয় (নিষ্পেষিত, অর্পিত, এবং সধমাদে ভাগ করে গ্রহণ) ও তার মহাজাগতিক ভূমিকা একত্রিত হয়েছে: ধর্ম/ঋতকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং দেবতা ও উপাসক—উভয়ের জন্য শক্তি ও আলোককে মুক্ত করা।

11 mantras | Devata: A mighty upholder of dharma (likely Indra or a related heroic power; identification requires full hymn context beyond 1.187.1)

Chandas: Gayatri/Anuṣṭubh uncertain (meter requires syllable verification; short verse suggests non-Trishtubh)

Sukta 188

Sukta 1.188

এই সূক্তে মধ্যলোকের দীপ্তিমান রাজা রূপে অগ্নিকে প্রজ্বালিত করা হয় এবং তাঁকে প্রেরণাপ্রাপ্ত দূত হিসেবে আহ্বান করা হয়, যিনি হবি সকল দেবতার কাছে বহন করে নিয়ে যান। বিশেষত উষা-শক্তিসমূহকে পর্যায়ক্রমে আমন্ত্রণ জানিয়ে এটি দীপ্তি, যজ্ঞে ঋত (সঠিক বিধান/শৃঙ্খলা) এবং সফল “স্বাহা”-কর্ম কামনা করে—যেখানে অগ্নি দেবগণের অগ্রণী হয়ে জ্যোতির্ময় হন।

11 mantras | Rishi: Agastya (traditionally associated with RV 1.188 in Anukramaṇī lists) | Devata: Agni (primary); also functions as divine messenger to all Devatās

Chandas: Triṣṭubh (common for RV 1.188; verse-length supports triṣṭubh cadence)

Sukta 189

Sukta 1.189

এই সূক্তে অগ্নিকে প্রার্থনা করা হয়েছে—তিনি যেন জ্ঞানী পথপ্রদর্শক হয়ে উপাসককে “সুপথে” পরিচালিত করেন, সমৃদ্ধি ও ধর্মসম্মত সত্তার দিকে নিয়ে যান, এবং বারবার ফিরে আসা পাপ ও অন্তরের ভ্রান্তি দূর করেন। এছাড়া অগ্নির কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, তিনি যেন শত্রুভাবাপন্ন ও কুদৃষ্টিসম্পন্ন শক্তির হাত থেকে সম্প্রদায়কে রক্ষা করেন। শেষে, “মনের পুত্র” সেই পরাক্রমশালী অগ্নির উদ্দেশে সুগঠিত বাক্য নিবেদন করে স্থায়ী প্রাচুর্য ও বিজয়ী শক্তি কামনা করা হয়েছে।

8 mantras | Devata: Agni

Chandas: Triṣṭubh (common for RV 1.189; not metrically recomputed here)

Sukta 190

Sukta 1.190

এই সূক্তে বृहস্পতির প্রশংসা করা হয়েছে—প্রেরিত বাক্যের অক্লান্ত “বৃষ” হিসেবে—যাঁর দীপ্তিময় গান দেবতারা এবং নবীকরণের সন্ধানী মর্ত্যমানব উভয়েই শোনে। এতে প্রার্থনা করা হয় যে সত্য সম্পদ—বীরশক্তি, সঠিক পথনির্দেশ এবং ফলপ্রসূ প্রাচুর্য—শুধু যোগ্যদেরই দান করা হোক, তাদের নয় যারা কেবল মনোরম লাভের আশায় দেবতার নিকট আসে। ফলে এই সূক্ত স্তুতি (stuti)কে অন্তর্নিহিত যোগ্যতা/অধিকার (adhikāra) এবং পবিত্র বাক্যের যথাযথ ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত করে।

8 mantras | Devata: Bṛhaspati

Chandas: Jagatī or Triṣṭubh (uncertain here; not recomputed and the transmitted line-length suggests possible Jagatī tendencies)

Sukta 191

Sukta 1.191

এই সূক্তটি একটি অপোত্রোপায়িক (রক্ষামূলক) মন্ত্র, যার লক্ষ্য অদৃশ্য উপদ্রবকারীদের তাড়িয়ে দেওয়া—যাদের বহু পাঠে বিষ, রোগ-কারক, শত্রু সত্তা বা গুপ্ত/অভিচারজনিত ক্ষতি হিসেবে বোঝা হয়, যা মানুষের গায়ে ‘আটকে’ থাকে। এতে গোপন দংশন ও বিষের নাম করে সেগুলিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়, তারপর উদীয়মান সূর্য/আদিত্যকে আহ্বান করা হয়—মহা প্রকাশক, যিনি অদৃশ্যভাবে কাজ করা শক্তিকে ধ্বংস করেন। শেষাংশে প্রতিষেধমূলক ও ঘোষণাময় সুর: বিষকে ‘নিরস্বাদ’ করা হয়েছে, অর্থাৎ তা শক্তিহীন।

16 mantras | Devata: Apotropaic force against unseen afflictors (often read as disease/poison/hostile beings; devatā assignment varies in traditions)

Frequently Asked Questions

Unlike the family books (Maṇḍalas 2–7) dominated by one lineage, Maṇḍala 1 compiles hymns from many ṛṣis and clans. Its breadth of styles, topics, and deity-address patterns reflects editorial gathering and liturgical expansion characteristic of later Rigvedic arrangement.

The hymns repeatedly present sacrifice as the engine of ṛta: Agni mediates the rite, Soma empowers gods and worshippers, and Indra’s victorious force releases waters and light. Prosperity, protection, and rightful sovereignty are portrayed as consequences of correct invocation and ordered ritual action.

RV 1.164 (attributed to Dīrghatamas) is renowned for brahmodya-style riddling that probes the hidden unity behind many divine names and forms. It is a key text for understanding Rigvedic symbolic thought about ṛta, speech, and the One reality.

Read Rig Veda in the Vedapath app

Scan the QR code to open this directly in the app, with audio, word-by-word meanings, and more.

Continue reading in the Vedapath app

Open in App