Bhumi Khanda
GeographyPilgrimageTirthas

Book of the Earth (Sacred Geography & Moral Narratives)

The Section on the Earth

পদ্মপুরাণের ভূমিখণ্ড ধর্মকে ‘পৃথিবীর’ মঞ্চে স্থাপন করে ব্যাখ্যা করে—তীর্থক্ষেত্রের মাহাত্ম্য, সামাজিক কর্তব্য, গৃহস্থধর্ম এবং আদর্শ কাহিনি মিলিয়ে দেখায় কীভাবে তত্ত্ব জীবনের আচরণে রূপ নেয়। এখানে কেবল সৃষ্টিতত্ত্ব নয়; বরং পুণ্যকে ভূগোল ও সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত করে দান, ব্রত, অতিথিসেবা ও তীর্থযাত্রার নৈতিক তাৎপর্য স্পষ্ট করা হয়েছে। এই খণ্ডের বর্ণনাশৈলীতে বহুস্তরীয় আখ্যান ঘন ঘন দেখা যায়—সূত থেকে ঋষিদের কাছে, অথবা ব্যাস ও ব্রহ্মার মতো প্রাচীন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। এর ফলে বিভিন্ন পরম্পরার গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়, মতভেদ সমন্বিত হয় এবং সংশয় দূর হয়। তাত্ত্বিকভাবে এখানে ভক্তিকে দৃঢ় ধর্মাচরণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ভক্তির পরীক্ষা হয় পিতা-মাতা, গুরু, পিতৃগণ ও অতিথির প্রতি কর্তব্য পালনে; আর মুক্তির চূড়ান্ত আশ্রয় বিষ্ণুর কৃপায় স্থির। পিতৃধর্ম, দানধর্ম, ব্রতধর্ম ও তীর্থসেবা—সবই জীবিত আচরণের সাধনা হিসেবে প্রতিপন্ন। এই গ্রন্থস্তরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো উপমা-ধর্মী, কখনও কঠোর বা পরস্পরবিরোধী মনে হওয়া ঘটনাবলি, যা কেবল আচার-অনুষ্ঠানের বাহ্যতা নয়—‘সত্য ধর্ম’ ও ‘মাত্র রীতিনীতি’র পার্থক্য উপলব্ধি করায়। বর্তমান অধ্যায়সমূহে কাহিনি প্রহ্লাদের বৈষ্ণব পরিচয় (সহজাত ভক্তির আদর্শ) এবং ‘শিবশর্মা’ উপাখ্যানের মধ্যে আবর্তিত, যেখানে পুত্রধর্ম, মায়ার শিক্ষামূলক ভূমিকা ও আত্মোৎসর্গ নৈতিক পরীক্ষাক্ষেত্র হয়ে ওঠে। দ্বারকার মতো পবিত্র স্থানের মাহাত্ম্য, দেব–অসুর সংঘাতের পটভূমি এবং পারিবারিক নীতির সূক্ষ্মতা—সব মিলিয়ে ভূমিখণ্ড শেখায় যে ভক্তি, কর্তব্য ও বিবেক একত্র হলে জীবনই তীর্থের মতো পবিত্র হয়।

Adhyayas in Bhumi Khanda

Adhyaya 1

Prologue to the Śivaśarmā Narrative with the Prahlāda Tradition (Variant-Resolution Frame)

অধ্যায়ের শুরুতে ঋষিগণ সূতকে এক ধর্মতাত্ত্বিক সংশয় জানান—প্রহ্লাদের কাহিনি ও বৈষ্ণব-সিদ্ধি সম্পর্কে পুরাণে শোনা ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনার বিরোধ কীভাবে মেটে। তখন কর্তৃত্বপূর্ণ পরম্পরা তুলে ধরা হয়: ব্রহ্মা (বেধস) ব্যাসকে বলেছেন, আর ব্যাসের বচন সূত পাঠ করেন; এই ধারাই শ্রুতি-বিরোধের সমাধান করে। এরপর দৃষ্টান্ত-কথায় দ্বারকার শিবশর্মা ও তাঁর পাঁচ পুত্র—যজ্ঞশর্মা, বেদশর্মা, ধর্মশর্মা, বিষ্ণুশর্মা, সোমশর্মা—এর কথা আসে। তাঁরা শাস্ত্রজ্ঞ, এবং ভক্তির প্রবণতা ভিন্ন ভিন্ন; বিশেষ করে পিতৃভক্তি প্রবল। শিবশর্মা মায়া-নির্ভর কৌশলে তাঁদের ভক্তি পরীক্ষা করে সঠিক পথে পরিচালিত করেন, আর পরীক্ষা ক্রমে কঠোরতর হয়। বেদশর্মা এক নারী/দেবী-রূপের প্রসঙ্গে আকৃষ্ট হয়ে এমন দাবির মুখোমুখি হন, যেখানে আনুগত্য ও ঋণমোচনের প্রমাণ হিসেবে আত্মশিরচ্ছেদের মতো চরম পরীক্ষা উপস্থিত হয়; অন্তর্নিহিত স্তরে মহাদেব ও দেবীর সংক্ষিপ্ত সংলাপও থাকে। ফলে অধ্যায়টি প্রশ্ন তোলে—ভক্তি, মায়া ও হিংসা মিলিত হলে প্রকৃত ধর্ম কী, এবং পুরাণনৈতিকতায় কর্তব্য ও ভক্তির অগ্রাধিকার কীভাবে নির্ধারিত।

58 verses

Adhyaya 2

The Account of Śivaśarman (Dharmaśarmā’s Tapas, Dharma’s Boon, and the Amṛta Mission)

এই অধ্যায়ে ধর্মশর্মার সত্যবল-সমন্বিত দৃঢ় সংকল্প ও তীব্র তপস্যার কথা বলা হয়েছে, যার ফলে দেবরূপে ধর্ম স্বয়ং উপস্থিত হয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। ধর্মশর্মা মৃতপ্রায় ভ্রাতা বেদশর্মার পুনর্জীবনের প্রার্থনা করেন; ধর্ম জানান—সংযম, শুচিতা, সত্যবাদিতা ও তপস্যার শক্তি অমোঘ, এবং বর দেন যে বেদশর্মা পুনরায় জীবন লাভ করবে। আরেক ভক্তের প্রার্থনায় পিতৃচরণে ভক্তি, ধর্মে আনন্দ এবং শেষে মোক্ষ—এই সাধনার ক্রমও প্রকাশ পায়। বেদশর্মা জেগে উঠে কথা বলে; দুই ভাইয়ের পুনর্মিলন ঘটে এবং তারা পিতা শিবশর্মার কাছে ফিরে যায়। শেষে শিবশর্মা রোগনাশক অমৃতের আকাঙ্ক্ষায় চিন্তামগ্ন হয়ে পুত্র বিষ্ণুশর্মাকে ইন্দ্রলোকে গিয়ে অমৃত আনতে আদেশ দেন—পরবর্তী ঘটনার সূত্রপাত হয়।

27 verses

Adhyaya 3

The Narrative of Śivaśarman: Indra’s Obstacles, Menakā’s Mission, and the Triumph of Pitṛ-Devotion

পিতা শিবশর্মার কল্যাণের জন্য সাহায্য আনতে বিষ্ণুশর্মা ইন্দ্রলোকের পথে যাত্রা করেন। তপোবলের ভয়ে ইন্দ্র নন্দনবনে মেনকাকে পাঠিয়ে তাঁকে বাধা দিতে চায়। মেনকা মধুর গানে মোহিত করতে ও আশ্রয় প্রার্থনার ছলে আকর্ষণ সৃষ্টি করে, কিন্তু বিষ্ণুশর্মা ইন্দ্রপ্রেরিত ফাঁদ বুঝে তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন—তপস্যার শুরুতেই কামজয় অপরিহার্য। পরে নানা ভয়ংকর বিঘ্নরূপ দেখা দিলেও ব্রাহ্মণের তেজে সব লয় পায়। ক্রুদ্ধ বিষ্ণুশর্মা ইন্দ্রকে পদচ্যুত করার হুমকি দিলে সহস্রাক্ষ বজ্রধারী ইন্দ্র বিনীত হয়ে তাঁর পিতৃভক্তির প্রশংসা করেন, অমৃত ও অচঞ্চল পিতৃভক্তির বর দেন। অমৃতে শিবশর্মা সুস্থ হন; গৃহে সৎপুত্র ও মাতৃধর্মের মহিমা আলোচিত হয়। শেষে গরুড়ারূঢ় বিষ্ণু এসে চার পুত্রকে বৈষ্ণব রূপ দান করে পরম ধামে নেন, এবং সোমশর্মার পরবর্তী গৌরবও ঘোষিত হয়।

72 verses

Adhyaya 4

The Episode of Śivaśarmā: Testing Somaśarmā through Service and Truth

শিবশর্মা পুত্র সোমশর্মার হাতে ‘অমৃত-কলস’ তুলে দিয়ে তীর্থযাত্রা ও তপস্যায় প্রস্থান করেন। কিছুকাল পরে ফিরে এসে তিনি মায়ার দ্বারা পুত্রকে পরীক্ষা করেন—কুষ্ঠরোগ, যন্ত্রণা ও ভীতিকর রূপ দেখিয়ে তাকে বিচলিত করতে চান। সোমশর্মা করুণায় ও গুরুসেবায় অবিচল থাকে। সে পিতার অশুচি পরিষ্কার করে, বহন করে, তীর্থস্নানের ব্যবস্থা করে, নিত্য পূজা-উপহার ও সম্মান নিবেদন করে। কঠোর তিরস্কার ও প্রহার সহ্য করেও তার মনে ক্রোধ জাগে না; সে ধর্মপথে স্থির থাকে। যখন মায়াবলে কলস শূন্য বলে প্রতীয়মান হয়, তখন সোমশর্মা সত্য ও নিজের নিষ্কলুষ সেবার কথা স্মরণ করে সত্যশক্তির আশ্রয় নেয়। সত্য-ধর্মের প্রভাবে কলস পুনরায় পূর্ণ হয়—এতে প্রকাশ পায়, বিষ্ণুকৃপায় সত্যনিষ্ঠা ও ভক্তিসেবাই দুঃখ জয় করে মঙ্গল ফিরিয়ে আনে।

60 verses

Adhyaya 5

The Consecration (Anointing) of Indra

এই অধ্যায়ে দুইটি প্রবাহ একত্রিত—মোক্ষনীতির শিক্ষা এবং ইন্দ্রের সার্বভৌমত্বের বৈষ্ণব-সমর্থিত প্রতিষ্ঠা। প্রথমে বলা হয়, কেবল তপস্যা করলেই দুর্লভ বৈষ্ণব ধাম লাভ হয় না; সমাধি ও সম্যক জ্ঞান শেষ পর্যন্ত বিষ্ণুর কৃপায় পরিণত হয়। শালিগ্রামে সোমশর্মার তপস্যা, মৃত্যুভয়ে বিচলিত হওয়া, কর্মফলে অসুরবংশে পুনর্জন্ম, এবং পরে প্রহ্লাদরূপে স্মৃতি-জাগরণ—এই কাহিনি দ্বারা বিষয়টি স্পষ্ট হয়; প্রহ্লাদ শিবশর্মার বৃত্তান্ত স্মরণ করে পুনরায় অন্তর্দৃষ্টি লাভ করে। নারদ প্রহ্লাদের মাতা কমলাকে সান্ত্বনা দিয়ে পুনর্জন্ম ও ভবিষ্যতে ইন্দ্রপদপ্রাপ্তির ভবিষ্যদ্বাণী করেন। এরপর ঋষিরা সূতকে জিজ্ঞাসা করেন—ইন্দ্রের রাজ্য কীভাবে স্থাপিত হল। দেব-অসুর যুদ্ধে জয়ের পর দেবতারা মাধবের শরণ নেন; বাসুদেব ভক্তের উন্নতি বিধান করে অদিতির পুত্র সুব্রত/বসুদত্তরূপে জন্ম, ইন্দ্রের উপাধিসমূহ, জন্মোৎসব এবং বিধিপূর্বক অভিষেকের বর্ণনা দেন। এই বৈষ্ণব-অনুমোদিত অভিষেকেই বিশ্বব্যবস্থা ও দেবশাসনের স্থিতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

111 verses

Adhyaya 6

Diti’s Lament (On the Fall of the Daityas and the Futility of Grief)

দানু শোকে বিহ্বল হয়ে দিতির কাছে এসে প্রণাম করে জিজ্ঞাসা করে—অসংখ্য পুত্রের জননী হয়েও তুমি কেন বিলাপ করছ? সহ-পত্নীদের কথোপকথনে দেব–অসুর সংঘর্ষের কাহিনি উঠে আসে। অদিতির বর সফল হয়; ইন্দ্রের সার্বভৌমত্ব তার পুত্রার্থে সুদৃঢ় হয়, আর দৈত্য–দানবদের দীপ্তি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। যুদ্ধে শঙ্খ-চক্রধারী হরি, কেশব, বাসুদেব দানবসেনাকে ধ্বংস করেন—যেমন আগুন শুকনো ঘাস গ্রাস করে, তেমনই পতঙ্গ জ্বালায় বিনষ্ট হয়। দিতি শোকে লুটিয়ে পড়ে। তখন এক উপদেশদাতা কণ্ঠ বোঝায়—এ সব অধর্মের ফল, নিজের দোষেরই পরিণাম; শোক পুণ্য ক্ষয় করে এবং মুক্তির পথে বাধা দেয়। তাই ধৈর্য ধরে চিত্ত স্থির করে পুনরায় প্রসন্নতায় ফিরে আসতে বলা হয়।

33 verses

Adhyaya 7

Self-Knowledge and the Allegory of the Five Elements & Senses (Karma, Association, and Rebirth)

এই অধ্যায়ে শোক ও সামাজিক বিচ্ছেদের বর্ণনা দিয়ে শুরু, পরে তত্ত্বোপদেশে সান্ত্বনা দেওয়া হয়। কশ্যপ ও মহাদেব দেবীকে বলেন—সাংসারিক আত্মীয়তা অনিত্য; ধর্ম ও সদাচারেই মানুষ নিজেই নিজের আশ্রয় হয়। বৈরিতা থেকে শত্রু জন্মায়, মৈত্রী থেকে বন্ধু; কৃষকের বীজের মতো কর্ম যেমন, ফলও তেমন—এই নৈতিক বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর কাহিনি রূপকে পরিণত হয়: আত্মা পাঁচ দীপ্তিমান “ব্রাহ্মণ”-এর সাক্ষাৎ পায়, যারা পঞ্চমহাভূত ও ইন্দ্রিয়বৃত্তির প্রতীক। জ্ঞান ও ধ্যান সতর্ক করেন—এই দুঃখমূল উপাদানের সঙ্গই বন্ধন ও পুনর্জন্মের কারণ। উপদেশ অমান্য করে সঙ্গ ঘটলে আত্মা দেহধারী হয়ে গর্ভে প্রবেশ করে এবং মোহ-দুঃখে বিলাপ করে। পঞ্চাত্মক সত্তাগণ আত্মার সঙ্গে মৈত্রী প্রার্থনা করে দেহধারণে নিজেদের ভূমিকা জানায়; আসক্তি ও তাদাত্ম্যই সংসারচক্রকে চালিত করে—এটাই অধ্যায়ের সার।

83 verses

Adhyaya 8

Womb-Suffering and the Path to Liberation (Dialogue of Wisdom, Meditation, and Discernment)

এই অধ্যায়ে সংসারকে গর্ভ থেকেই শুরু হওয়া অন্তর্গত বন্দিত্বরূপে দেখানো হয়েছে। গর্ভস্থ জীব নানা যন্ত্রণা ভোগ করে, জন্মের মুহূর্তে পূর্বজ্ঞান ও স্মৃতি বিস্মৃত হয়, তারপর মায়া, আত্মীয়তা ও ইন্দ্রিয়বিষয়ের জালে আবদ্ধ হয়ে ঘুরে বেড়ায়। তাকে উদ্ধার করতে জ্ঞান, ধ্যান, বীতরাগ ও বিবেক—এই শক্তিগুলি ব্যক্তিরূপে এসে পথপ্রদর্শক ও শিক্ষক হয়ে ওঠে। মহাদেব দেবীকে দেহগত কষ্ট এবং বিস্মৃতির আধ্যাত্মিক বেদনা বোঝান। মাঝখানে নগ্নতা, লজ্জা ও সামাজিক শিষ্টাচার নিয়ে তর্ক-বিতর্ক উঠে আসে, যা পরে অদ্বৈত-ইঙ্গিত এবং পুরুষ–প্রকৃতি তত্ত্বের দিকে মোড় নেয়। শেষে যোগসাধনার উপদেশ—বাতাসহীন প্রদীপের মতো স্থিরতা, একান্তবাস, সংযম ও আত্মধ্যান—এবং বিষ্ণুর পরম ধামে গমনের প্রতিশ্রুতি উচ্চারিত হয়।

105 verses

Adhyaya 9

Instruction on Dharma and Truth as Viṣṇu’s Own Nature (with Teaching on Impermanence and Detachment)

এই অধ্যায়ে কশ্যপ ধ্যানযোগে পঞ্চভূতজাত কর্মপ্রবাহ থেকে জ্ঞানীর আত্মার প্রত্যাহার বর্ণনা করেন। দেহত্যাগ অনিবার্য, প্রাণ ও দেহের বন্ধন স্থায়ী নয়—এই বোধের দ্বারা ধন, স্ত্রী ও পুত্রের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি তুচ্ছ বলে প্রতিপন্ন হয়। এরপর উপদেশ ধর্ম ও সত্যকে কেন্দ্র করে। পরব্রহ্মকে বিষ্ণুরূপে ঘোষণা করা হয়েছে—তিনিই ব্রহ্মা ও রুদ্র, সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও সংহারক; তাঁর স্বভাবই ধর্ম। দেবতাদের ধারক শক্তি ধর্ম-সত্য; যারা এগুলি পালন ও রক্ষা করে, তাদের উপর বিষ্ণুর কৃপা থাকে, আর সত্য-ধর্মের বিকৃতি পাপ ও বিনাশ ডেকে আনে। শেষে দিতি মোহ ত্যাগ করে ধর্মে আশ্রয় গ্রহণে সম্মত হন; কশ্যপের সান্ত্বনায় তিনি পুনরায় স্থিরতা লাভ করেন।

20 verses

Adhyaya 10

Description of the Demons’ Austerities (Why the Gods Won)

যুদ্ধে পরাভূত দানবেরা পিতা কশ্যপের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করে—সংখ্যায় অল্প হয়েও দেবতারা কীভাবে জয়ী হয়। কশ্যপ বলেন, জয় কেবল বাহুবলে নয়; সত্য, ধর্ম, তপস্যা, সংযম ও পুণ্যই বিজয়ের মূল, আর যাদের সহায় বিষ্ণু, তারা ধর্মবলেই স্থিত ও সফল হয়। অধর্ম, কপটতা ও ন্যায়হীন জোটের উপর নির্ভর শক্তি শেষ পর্যন্ত পতন ডেকে আনে। এরপর পুণ্য-পাপের ধারাবাহিকতা, সত্যকে আশ্রয় করা এবং তপস্যাকে স্থায়িত্ব ও সিদ্ধির উপায় হিসেবে উপদেশ দেওয়া হয়। পরে অসুরদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়—হিরণ্যকশিপু ও হিরণ্যাক্ষ আধিপত্যের জন্য ভয়ংকর তপস্যা ও বৈষ্ণব-বিদ্বেষের কথা তোলে, কিন্তু বলি বিষ্ণুর সঙ্গে বৈরিতাকে সর্বনাশা বলে নীতি-সম্মত পরামর্শ দেয়। শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ দানব বলির কথা অগ্রাহ্য করে পাহাড়ে কঠোর তপস্যায় প্রবৃত্ত হয়—উপবাস, বিদ্বেষ ও দৃঢ় সংকল্পে উদ্বুদ্ধ হয়ে।

50 verses

Adhyaya 11

Prologue to the Suvrata Narrative: Revā (Narmadā) and Vāmana-tīrtha; Greed, Anxiety, and the Ethics of Trust

ঋষিগণ মহাত্মা সুব্রতের কাহিনি জানতে চান—তাঁর বংশপরিচয়, তপস্যা এবং কীভাবে তিনি হরিকে প্রসন্ন করেছিলেন। সূত পবিত্র বৈষ্ণব আখ্যান বলার প্রতিশ্রুতি দেন এবং কাহিনিকে প্রাচীন যুগে রেবা (নর্মদা) নদীর তীরে বামন-তীর্থে স্থাপন করেন। সেখানে কৌশিক গোত্রের ব্রাহ্মণ সোমশর্মার পরিচয় মেলে; দারিদ্র্য ও পুত্রহীনতায় তিনি উদ্বিগ্ন। তাঁর স্ত্রী সুমনা তপস্বিনী-মনস্ক গৃহিণী হিসেবে উপদেশ দেন যে দুশ্চিন্তা আধ্যাত্মিক জীবনে ক্ষয় আনে; তিনি নীতিরূপক বলেন—লোভ পাপের বীজ, মোহ তার মূল, মিথ্যা তার কাণ্ড, আর অজ্ঞান তার ফল। অধ্যায়ে সম্পর্ক, ঋণ-দায় এবং বিশেষত আমানত/নিক্ষেপ হিসেবে রাখা সম্পদ আত্মসাৎ করার কর্মফল নিয়ে নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হয়েছে; এর দ্বারা পরবর্তী সুব্রত-কেন্দ্রিক দৃষ্টান্তের ভূমিকা প্রস্তুত হয়।

45 verses

Adhyaya 12

Marks of the Debt-Bound/Enemy Son, Filial Dharma, Detachment, and the Durvāsā–Dharma Episode

এই অধ্যায়ে সোমশর্মা–সুমনা সংলাপে প্রথমে ‘ঋণ-সংযুক্ত’ বা ‘শত্রুসম’ পুত্রের লক্ষণ বর্ণিত—যে ছলনাকারী, লোভী, পিতা-মাতাকে অপমান করে, শ্রাদ্ধ-দান অবহেলা করে এবং গৃহধর্মে উদাসীন থাকে। এর বিপরীতে আদর্শ পুত্র শৈশব থেকে প্রৌঢ়ত্ব পর্যন্ত পিতা-মাতাকে সন্তুষ্ট রাখে, সেবা করে, শ্রাদ্ধ-তর্পণ-দান যথাবিধি সম্পন্ন করে এবং বংশের মর্যাদা বৃদ্ধি করে। এরপর বৈরাগ্যের উপদেশ—ধন ও আত্মীয়তা অনিত্য; জীব কর্মফল অনুসারে একাই যাত্রা করে। তাই আসক্তি ত্যাগ করে ধর্মাচরণ, দান, সত্য ও সংযমের দ্বারা পুণ্য সঞ্চয় করা কর্তব্য। অন্তর্নিহিত কাহিনিতে ধর্ম সদ্গুণসমেত সাকারভাবে প্রকাশিত হয়ে দুর্বাসার ক্রোধ, দণ্ড ও ধর্মতত্ত্ব ব্যাখ্যা করেন। দুর্বাসা ক্রোধবশত ধর্মকে অধম জন্মের শাপ দেন; পরে তা ধর্মের অবতাররূপ (যুধিষ্ঠির, বিদুর) এবং হরিশ্চন্দ্রের ধর্মপরীক্ষা হিসেবে ব্যাখ্যাত হয়। উপসংহারে কর্মসিদ্ধান্ত পুনরুচ্চারিত—কর্মই জন্ম-মৃত্যুর কারণ, নৈতিক শৃঙ্খলার অঙ্গসমূহে পুণ্য বৃদ্ধি পায়।

128 verses

Adhyaya 13

The Integrated Dharma-Discipline: Celibacy, Austerity, Charity, Observances, Forgiveness, Purity, Non-violence, Peace, Non-stealing, Self-restraint, and Guru-service

এই অধ্যায়ে সোমশর্মা ব্রহ্মচর্যের বিস্তারিত সংজ্ঞা জানতে চান। উপদেশে প্রথমে গৃহস্থের সংযত দাম্পত্যধর্ম বলা হয়েছে—উপযুক্ত ঋতুতে স্ত্রীর নিকট গমন, বংশধর্ম ও কুলশুদ্ধি রক্ষা—এবং পরে বৈরাগ্য, ধ্যান ও জ্ঞাননিষ্ঠ সন্ন্যাসীর ব্রহ্মচর্য পৃথকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এরপর সংক্ষিপ্ত ধর্মশিক্ষায় নানা সদ্‌গুণের সার দেওয়া হয়—তপস্যা হলো লোভ ও কামদোষ ত্যাগ; সত্য হলো অচল বোধ; দান, বিশেষত অন্নদান, প্রাণধারণকারী মহাপুণ্য; নিয়ম হলো পূজা-ভ্রত ও শৃঙ্খলা; ক্ষমা হলো প্রতিশোধ না নেওয়া; শৌচ বাহ্য-অন্তঃপবিত্রতা; অহিংসা সতর্কভাবে অনিষ্ট না করা; শান্তি স্থির প্রশান্তি; অস্তেয় মন-বাক্য-কর্মে চুরি না করা; দম ইন্দ্রিয়সংযম; এবং শুশ্রূষা গুরুসেবা। এগুলিতে দৃঢ় থাকলে স্বর্গলাভ ও পুনর্জন্মনিবৃত্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এবং শেষে কাহিনি আবার দম্পতির কথোপকথনে ফিরে আসে।

35 verses

Adhyaya 14

Dharma as the Cause of Prosperity and the Signs of a Righteous Death

এই অধ্যায়ে সোমশর্মা সুমনাকে জিজ্ঞাসা করেন—তিনি কীভাবে ধর্মের পরম পুণ্যদায়ক ব্যাখ্যা জানেন। সুমনা জানান, তাঁর প্রামাণ্য এসেছে পিতা চ্যবন (ভার্গব বংশ) থেকে; তিনি কৌশিক বংশীয় বেদশর্মার সঙ্গে যুক্ত একটি অন্তর্নিহিত কাহিনি বলেন। চ্যবন নিঃসন্তান হওয়া ও বংশধারা ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় শোকাকুল; তখন এক সিদ্ধ পুরুষ আগমন করেন, তাঁকে সম্মান করা হয়, এবং তিনি ধর্মোপদেশ দেন—ধর্মই পুত্র, ধন, শস্য ও দাম্পত্যকল্যাণের ভিত্তি। পরে সোমশর্মা ধর্মাধীন জন্ম-মৃত্যুর বিধান জানতে চান। সুমনা ধার্মিকের ‘শুভমৃত্যু’র লক্ষণ বর্ণনা করেন—ব্যথা ও বিভ্রান্তিহীন প্রস্থান, পবিত্র ধ্বনি ও স্তব, তীর্থ-তত্ত্বে স্থানসমূহের পবিত্রতা (সীমান্ত স্থানেও), ধর্মরাজের আহ্বান, জনার্দনের স্মরণ, ‘দশম দ্বার’ দিয়ে গমন, দিব্য যান, স্বর্গীয় ভোগ এবং পুণ্য ক্ষয় হলে পুনর্জন্ম।

47 verses

Adhyaya 15

Signs at the Death of Sinners and the Approach of Yama’s Messengers

সোমশর্মা সুমনাকে জিজ্ঞাসা করেন—পাপীদের মৃত্যুকালে কী কী লক্ষণ দেখা দেয়। সুমনা বলেন, তিনি এক সিদ্ধের কাছ থেকে শোনা কথা বলবেন; তারপর বর্ণিত হয় পাপীর অবনত পরিবেশ ও আচরণ, ভৈরবসদৃশ ভয়ংকর দণ্ডধারীদের গর্জন, এবং যমদূতদের দ্বারা বাঁধা ও প্রহার। চুরি, পরস্ত্রীগমন, অন্যায়ভাবে পরধন হরণ, দান ফিরিয়ে নেওয়া, এবং অযোগ্যভাবে দান গ্রহণ—এমন পাপগুলির নাম করে বলা হয় যে মৃত্যুর সময় পাপ ‘কণ্ঠে’ উঠে আসে। ফলে শ্বাসরোধ, গড়গড় শব্দ, কাঁপুনি, আর্তচিৎকার, স্বজনদের ডাক, অজ্ঞানতা ও মোহ দেখা দেয়; শেষে যমের দূতেরা তাকে অধোগতির পথে টেনে নিয়ে যায়।

22 verses

Adhyaya 16

Exposition of Sin and Merit (Sumanas Episode: Yama’s Realm and Rebirths)

এই অধ্যায়ে পাপীদের পরলোকের ভয়ংকর ‘নৈতিক ভূগোল’ বর্ণিত। দুষ্টদের যমদূত টেনে নিয়ে জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর চালায়; তারা বারো সূর্যের ন্যায় তাপে দগ্ধ হয়, ছায়াহীন পর্বতে তাড়িত হয়, প্রহৃত হয় এবং পরে হিমশীতল বায়ুর যন্ত্রণায় কাতর হয়। তাদের ভয়াল দুর্গে নিয়ে গিয়ে রোগে ভরা যমলোকে চিত্রগুপ্তসহ কৃষ্ণবর্ণ, ভয়ংকর ধর্মরাজ যমকে দেখানো হয়। ধর্মের ‘কাঁটা’ বলে কথিত পাপীকে ভারী মুগুরে দণ্ডিত করা হয়; বলা হয়েছে, সহস্র যুগ পর্যন্ত নানা নরকে বারবার ‘রান্না’ হয়ে সে কৃমিদের মধ্যে নরকীয় গর্ভেও প্রবেশ করে। এরপর কর্মফলরূপে পুনর্জন্মের ধারাবাহিকতা—কুকুরাদি পশুযোনি ও সমাজে নিন্দিত মানবগোষ্ঠীতে বারবার জন্ম—পাপের ফল বলে ঘোষিত। শেষে মহাদেব প্রিয়াকে জানান, মৃত্যুকালে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার আরও বিবরণ তিনি দেবেন এবং অন্য এক দেবতার প্রসঙ্গও ইঙ্গিত করেন।

21 verses

Adhyaya 17

Narrative of Sumanā: The Quest for a Worthy Son and the Karmic Roots of Poverty

সূতপ্রসঙ্গে সোমশর্মা জিজ্ঞাসা করে—কীভাবে সর্বজ্ঞ ও সদ্গুণসম্পন্ন পুত্র লাভ করা যায়। সুমনার উপদেশে সে গঙ্গাতীরে ঋষি বশিষ্ঠের কাছে গিয়ে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করে এবং বিনীতভাবে প্রশ্ন তোলে। ঋষিগণ তাকে সম্মান করে; তখন সে দারিদ্র্যের কারণ এবং সন্তান থাকা সত্ত্বেও সুখ কেন জন্মায় না—এ কথা জানতে চায়। বশিষ্ঠ ‘যোগ্য পুত্র’-এর লক্ষণ বলেন—সত্যবাদী, শাস্ত্রজ্ঞ, দানশীল, ইন্দ্রিয়সংযমী, বিষ্ণুধ্যানে নিবিষ্ট এবং পিতামাতাভক্ত। পরে তিনি পূর্বজন্মের কর্মফল ব্যাখ্যা করেন: লোভে পড়ে সে দান, পূজা ও শ্রাদ্ধ অবহেলা করে কেবল ধন সঞ্চয় করেছিল; তাই এই জন্মে দারিদ্র্য ভোগ করছে। অধ্যায়ের শেষে বলা হয়—সমৃদ্ধি, পত্নী ও বংশবৃদ্ধি কেবল বিষ্ণুর কৃপায়ই লাভ হয়।

58 verses

Adhyaya 18

The Sumanā Narrative: Vaiṣṇava Hospitality, Āṣāḍha Śukla Ekādaśī, and the Rise to Brāhmaṇahood

এই অধ্যায়ে (সুমনোপাখ্যান) সোমশর্মা জিজ্ঞাসা করে—শূদ্রাবস্থা ত্যাগ করে সে কীভাবে ব্রাহ্মণত্ব লাভ করল। বশিষ্ঠ পূর্বজন্মের কাহিনি বলেন—এক সদাচারী বৈষ্ণব ব্রাহ্মণ অতিথি-পর্যটক রূপে এক গৃহস্থের বাড়িতে আসেন; গৃহস্থ স্ত্রী সুমনা ও পুত্রদের সঙ্গে তাঁকে শ্রদ্ধায় আশ্রয় দেন, পাদ্য দিয়ে পদপ্রক্ষালন, আসন, ভোজন এবং বস্ত্র-দান প্রভৃতির দ্বারা যথোচিত আতিথ্য করেন। আষাঢ় শুক্ল একাদশীর পুণ্যক্ষণে—যখন হৃষীকেশের যোগনিদ্রায় প্রবেশের সময় বলা হয়—তারা জাগরণ, পূজা, কীর্তন ও উপবাস পালন করে; পরদিন পারণ করে ব্রাহ্মণদের দান দেয়। অধ্যায়টি শিক্ষা দেয় যে সাধুসঙ্গ, একাদশী-ব্রত ও গোবিন্দভক্তির ফলে পূর্বজন্মের সঞ্চয়লোভ ও তৃষ্ণার পাপ ক্ষয় হয়, সত্য-ধর্ম, বংশমর্যাদা ও পরম ধামের প্রাপ্তি ঘটে।

42 verses

Adhyaya 19

Sumanā and Somaśarmā: Tapas at the Kapilā–Revā Confluence and the Theophany of Hari

সোমশর্মা তাঁর স্ত্রী সুমনা-সহ পবিত্র কপিলা–রেবা (নর্মদা) সঙ্গমে এসে স্নান করেন, দেবতা ও পিতৃগণের উদ্দেশে তর্পণ-অর্ঘ্য নিবেদন করেন এবং নারায়ণ ও শিবের মন্ত্রজপসহ তপস্যা আরম্ভ করেন। দ্বাদশাক্ষর মন্ত্রে বাসুদেবকে ধ্যান করতে করতে তিনি গভীর সমাধিতে স্থিত হন। তপোভঙ্গের জন্য ভয়ংকর সাপ, বন্য পশু, ভূত-প্রেত, ঝড়-বৃষ্টি ও নানা বিভীষিকাময় আবির্ভাব ঘটে; কিন্তু তিনি বিচলিত হন না। বারবার হরির শরণ নেন এবং বিশেষ করে নৃহরি/নৃসিংহকে স্মরণ করে শরণাগতির স্তোত্রসদৃশ বাক্যে মন স্থির রাখেন। অচঞ্চল ভক্তিতে প্রসন্ন হয়ে হৃষীকেশ স্বয়ং প্রকাশিত হন ও বর প্রার্থনা করতে বলেন। তখন সোমশর্মা বিজয়-নমস্কাররূপ স্তব করে ভগবানের গুণ ও মৎস্য থেকে বুদ্ধ পর্যন্ত অবতারসমূহের কীর্তন করেন এবং জন্মজন্মান্তরে করুণা ও মুক্তির প্রার্থনা জানান।

75 verses

Adhyaya 20

Origin of Suvrata (Boon, Sacred Ford, and the Birth Narrative)

এই অধ্যায়ে সোমশর্মা তপস্যা, সত্যনিষ্ঠা ও পবিত্র স্তবের দ্বারা ভগবান বিষ্ণুকে প্রসন্ন করেন। প্রসন্ন হয়ে হরি তাঁকে বর দিতে উদ্যত হন। সোমশর্মা মুক্তিলাভের সহায়ক ফলের সঙ্গে এমন এক পুত্র প্রার্থনা করেন, যে বিষ্ণুভক্ত, বংশোদ্ধারক, দারিদ্র্যনাশক এবং কুলধারা রক্ষাকারী হবে। ভগবান বর প্রদান করে স্বপ্নের মতো অন্তর্ধান করেন। এরপর সোমশর্মা স্ত্রী সুমনাকে সঙ্গে নিয়ে রেবা (নর্মদা) তীরে অতি পুণ্য তীর্থে যান—অমরকণ্টক-প্রদেশ ও কপিলা–রেবা সঙ্গমের মহিমায় খ্যাত স্থানে। সেখানে শ্বেত গজসহ এক দিব্য শোভাযাত্রা আবির্ভূত হয়; বৈদিক মন্ত্রধ্বনির মধ্যে সুমনার অলংকার ও প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়। সুমনা গর্ভধারণ করে দিব্য লক্ষণযুক্ত পুত্র প্রসব করেন; দেবগণ আনন্দোৎসব করেন এবং শিশুর নাম রাখা হয় ‘সুব্রত’। গৃহে সমৃদ্ধি আসে, সংস্কার ও তীর্থযাত্রা অব্যাহত থাকে, এবং কাহিনি ক্রমে সুব্রত-ব্রত পালনের বর্ণনার দিকে অগ্রসর হয়।

60 verses

Adhyaya 21

The Sumanā Episode: Suvrata’s Childhood Devotion and All-Activity Remembrance of Hari

ব্যাস ব্রহ্মার কাছে সুব্রতের সম্পূর্ণ কাহিনি জানতে চান। ব্রহ্মা বলেন—সুব্রত গর্ভস্থ অবস্থাতেই নারায়ণের দর্শন পেয়েছিল; পরে শিশুকাল থেকেই তার খেলাধুলা ছিল অবিরাম হরি-স্মরণ। সে বন্ধুদের কেশব, মাধব, মধুসূদন প্রভৃতি দিব্য নামে ডাকে, তাল-লয়ে কৃষ্ণকীর্তন করে এবং স্তোত্রের মতো শরণাগতির বাক্য উচ্চারণ করে। অধ্যায়টি স্মরণের সর্বব্যাপীতা বোঝায়—পাঠ, হাসি, নিদ্রা, যাত্রা, মন্ত্র, জ্ঞান ও সৎকর্ম—সব অবস্থায় হৃদয়ে হরিকে ধারণ করতে হবে। গৃহকর্মও উপাসনা হয়ে ওঠে: অন্নকে বিষ্ণুরূপ জেনে নিবেদন, আর বিশ্রামও কৃষ্ণচিন্তায়। এরপর তীর্থপ্রসঙ্গ—সুব্রত বৈডূর্য পর্বতে সিদ্ধেশ্বর-লিঙ্গের নিকটে বাস করে এবং নর্মদার দক্ষিণ তীরে তপস্যা করে; শৈব পুণ্যক্ষেত্রে বৈষ্ণব ভক্তির সমন্বয় এখানে প্রকাশিত।

37 verses

Adhyaya 22

The Narrative of Suvrata: Tapas, Surrender-Prayer, and Cyclical Time

অধ্যায়ের শুরুতে সুvrata-র পূর্বজন্ম ও তাঁর ভক্তির পুণ্যফল সম্পর্কে প্রশ্ন ওঠে। ব্রহ্মা বর্ণনা করেন—বৈদীশায় ঋতধ্বজ-বংশে রুক্মাঙ্গদ এবং তাঁর পুত্র ধর্মাঙ্গদ জন্ম নেন। ধর্মাঙ্গদ ছিলেন অতুল পিতৃভক্ত, বৈষ্ণবধর্মে অবিচল ও ধর্মপরায়ণ; তাঁর নির্মল ভক্তিতে প্রসন্ন হয়ে বিষ্ণু তাঁকে সশরীরে বৈষ্ণবধামে নিয়ে যান এবং দীর্ঘ দিব্যকাল তাঁকে সেখানে অবস্থান করান। দিব্যকাল শেষে বিষ্ণুর কৃপায় সেই মহাত্মা সোমশর্মার পুত্ররূপে সুvrata নামে অবতীর্ণ হন। সিদ্ধেশ্বরের নিকটে বৈডূর্য পর্বতে তিনি কঠোর তপস্যা ও একাগ্র ধ্যান করেন। কেশব লক্ষ্মীসহ প্রকাশ হয়ে বর দিতে চাইলে সুvrata স্তোত্রসদৃশ প্রার্থনায় সংসারভয় থেকে উদ্ধার ও শরণাগতি প্রার্থনা করেন। পরে যুগ-মন্বন্তর-कल्पের পুনরাবর্তনের কথা বলে বোঝানো হয় যে কালচক্রে নাম ও ভূমিকা পুনঃপুনঃ প্রকাশ পায়; শেষে সুvrata ‘বসুদত্ত’ নামে ইন্দ্রপদ লাভ করেন।

49 verses

Adhyaya 23

Bala: The Rise and Slaying of the Dānava (and the Devas’ Restoration)

ঋষিগণ পাপহরণকারী পুরাণকথার প্রশংসা করে সূতকে সৃষ্টি ও প্রলয়ের বিস্তার জিজ্ঞাসা করেন। সূত প্রতিজ্ঞা করেন—যে বৃত্তান্ত শ্রবণমাত্রেই গভীর জ্ঞান দান করে, তিনি তা বিস্তারিতভাবে বলবেন। এরপর কাহিনি দেব-দৈত্যচক্রে প্রবেশ করে—বিষ্ণুর নরসিংহ ও বরাহ অবতারে হিরণ্যকশিপু ও হিরণ্যাক্ষ নিহত হলে দেবগণ পুনরায় নিজ নিজ পদ লাভ করেন এবং যজ্ঞধর্ম প্রসারিত হয়। পুত্রশোকে দিতি কশ্যপের শরণ নিয়ে বিশ্বজয়ী পুত্রের বর চান; বরদানে ‘বল’ নামক দানব জন্মায়, নামকরণ-উপনয়ন হয় এবং ব্রহ্মচর্য ও বৈদিক শাসনে শিক্ষিত হয়। দনু বলকে অসুরবংশের প্রতিশোধ নিতে ইন্দ্র ও দেবতাদের বধে প্ররোচিত করে। অদিতি ইন্দ্রকে সতর্ক করেন; ইন্দ্র ভীত হলেও দৃঢ়চিত্তে সিন্ধুতটে/সমুদ্রতীরে সন্ধ্যোপাসনার সময় বলকে লক্ষ্য করে আঘাত করেন ও তাকে নিধন করেন। ফলে দেবশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং লোকসমাজে শান্তি ফিরে আসে।

45 verses

Adhyaya 24

The Deception of Vṛtra

দিতি পুত্রবধের শোকে বিলাপ করলে কশ্যপের ক্রোধ অগ্নির মতো প্রজ্বলিত হয়। সেই ক্রোধাগ্নি থেকে ভয়ংকর এক সত্তা প্রকাশ পায়—বৃত্র নামে খ্যাত, ইন্দ্রবধের উদ্দেশ্যে জন্মগ্রহণকারী। বৃত্রের পরাক্রম ও যুদ্ধপ্রস্তুতি দেখে ইন্দ্র আতঙ্কিত হয়ে সপ্তঋষিকে সন্ধি-আলোচনার জন্য পাঠায় এবং রাজ্য ভাগ করে শাসন ও মৈত্রীর প্রস্তাব দেয়। বৃত্র সত্যকে ভিত্তি করে বন্ধুত্ব গ্রহণ করে; সত্যনিষ্ঠাই সখ্যের মূল—এ কথা সে স্পষ্ট করে। কিন্তু আখ্যান ইন্দ্রের স্বভাবও দেখায়—সে দোষ খোঁজে, ফাঁকফোকর অনুসন্ধান করে, প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছলনার পথ বের করতে চায়। এরপর ইন্দ্র বৃত্রবধের ষড়যন্ত্র করে রম্ভাকে পাঠায়, যাতে সে বৃত্রকে মোহিত করতে পারে। তারপর এক অপূর্ব স্বর্গীয় উপভোগ-উদ্যানের বর্ণনা আসে। কাল ও কামপ্রবৃত্তিতে বৃত্র সেই মনোরম স্থানের দিকে অগ্রসর হয়—ঘোষিত মৈত্রীর আড়ালে লুকানো বিশ্বাসঘাতকতার নৈতিক টানাপোড়েন তখন ঘনীভূত হতে থাকে।

51 verses

Adhyaya 25

The Slaying of Vṛtrāsura (Vṛtra’s Death, Indra’s Sin, and Brahmin Censure)

এই অধ্যায়ে পবিত্র নন্দনবনে বৃত্রাসুরের অপ্সরা রম্ভার প্রতি মোহের কাহিনি বলা হয়েছে। রম্ভা তাকে বশে আনতে কথোপকথন করে, আর বৃত্রও একপ্রকার নিয়ন্ত্রণ-সম্পর্কে সম্মতি দিয়ে প্রমাদে পতিত হয়। পরে মদ্যপানের প্রসঙ্গে সে মাতাল হয়ে বিবেকশূন্য হয়ে পড়ে। এই অবস্থাতেই ইন্দ্র বজ্র দ্বারা বৃত্রকে বধ করে। কিন্তু বিজয় সঙ্গে সঙ্গেই নৈতিক সংকটে পরিণত হয়—ব্রাহ্মণগণ ইন্দ্রকে ‘বিশ্বাসভঙ্গ করে হত্যা’ করার দোষে দোষারোপ করেন এবং ব্রহ্মহত্যাসদৃশ পাপে কলুষিত বলেন। ইন্দ্র যুক্তি দেয় যে দেবতা, ব্রাহ্মণ, যজ্ঞ ও ধর্ম রক্ষার জন্য যজ্ঞের ‘কণ্টক’স্বরূপ এই শত্রুকে নাশ করা অনিবার্য ছিল। শেষে ব্রহ্মা ও দেবগণ ব্রাহ্মণদের সম্বোধন করে বিচার-সমাধান ও ধর্মব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দেন।

26 verses

Adhyaya 26

The Origin of the Maruts (Diti’s Penance and Indra’s Intervention)

ইন্দ্র দিতির পুত্র বল ও বৃত্রকে বধ করলে দিতি গভীর শোকে নিমগ্ন হয়ে ইন্দ্রবধে সক্ষম পুত্রলাভের জন্য দীর্ঘ তপস্যা আরম্ভ করেন। কশ্যপ তাঁকে বর দেন, তবে শর্ত রাখেন—একশো বছর অবধি সম্পূর্ণ শৌচ ও নিয়ম-সংযম অটুট রাখতে হবে। ফলাফলের আশঙ্কায় শক্র ব্রাহ্মণ-পুত্রের ছদ্মবেশে প্রবেশ করে দিতির সেবা করতে থাকে এবং সামান্য ত্রুটির অপেক্ষা করে। একদিন দিতি পা না ধুয়ে শয়ন করলে, সেই সুযোগে বজ্রপাণি ইন্দ্র গর্ভকে বজ্র দিয়ে ছেদন করে—প্রথমে সাত ভাগে, পরে প্রত্যেককে আবার সাত ভাগে—এভাবে ঊনপঞ্চাশ মরুতের উৎপত্তি হয়। শেষে হরির দ্বারা জীবসমূহের গণবিভাগের বিধান স্মরণ করিয়ে এই কাহিনি শ্রবণ-অনুধ্যানের ফলে পবিত্রতা ও বিষ্ণুলোকপ্রাপ্তির ফলশ্রুতি বলা হয়েছে।

32 verses

Adhyaya 27

The Royal Consecration (Cosmic Appointments and Directional Guardians)

এই অধ্যায়ে রাজক্ষমতার পবিত্র বিধান ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বেণপুত্র পৃথু সর্বভৌম রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন, আর ব্রহ্মা সৃষ্টির শাসন-ব্যবস্থা স্থাপন করতে নানা ক্ষেত্রে বিধিপূর্বক নিয়োগ দেন। সোম, বরুণ, কুবের, দক্ষ, প্রহ্লাদ ও যম নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে রাজত্ব লাভ করেন; শিবকে ভূতগণাদি নানা গণের অধিপতি বলা হয়েছে; হিমবান পর্বতদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, এবং সাগরকে সর্বতীর্থময় অতুল তীর্থরাজ রূপে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। চিত্ররথ গন্ধর্বদের, বাসুকি ও তক্ষক নাগদের, ঐরাবত গজদের, উচ্চৈঃশ্রবা অশ্বদের, গরুড় পক্ষীদের, সিংহ মৃগদের, বৃষভ গোরসের এবং প্লক্ষ বৃক্ষদের অধিপতি নিযুক্ত হন। পরে ব্রহ্মা দিক্‌পালদের নামসহ স্থাপন করে দিক্‌ব্যবস্থাকে সুসংহত করেন। শেষে ফলশ্রুতি—ভক্তিভরে যে শ্রবণ করে, সে অশ্বমেধসম পুণ্য এবং সংসারে সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল লাভ করে; এই উপদেশ ‘বিপ্রেন্দ্র’-কে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে।

31 verses

Adhyaya 28

The Birth of King Pṛthu: Vena’s Fall, the Sages’ Churning, and Earth’s Surrender

ঋষিগণ পৃথুর জন্ম ও পৃথিবীর ‘দোহন’-কথা পুনরায় শুনতে চান। পুলস্ত্য মুনি বলেন—এ কথা কেবল শ্রদ্ধাবানদেরই বলা উচিত; শ্রবণ-পাঠে বহু জন্মের পাপ নাশ হয় এবং সকল বর্ণের মঙ্গল সাধিত হয়। বংশকথায় অঙ্গরাজের ঔরসে সুনীথার গর্ভে বেন জন্মায়; সে বৈদিক ধর্ম ত্যাগ করে অধ্যয়ন, যজ্ঞ ও দান নিষিদ্ধ করে এবং নিজেকে বিষ্ণু-ব্রহ্মা-রুদ্র বলে দেবত্ব দাবি করে। ক্রুদ্ধ মুনিরা বেনকে দমন করে তার দেহ মথন করেন। বাম উরু থেকে নিষাদ প্রভৃতি অবহেলিত জাতির উদ্ভব হয়, আর ডান দিক থেকে তেজস্বী পৃথু বৈন্য প্রকাশিত হন। দেবতা ও ব্রাহ্মণেরা তাঁকে অভিষিক্ত করেন; তাঁর রাজ্যে শস্যসমৃদ্ধি, যজ্ঞব্যবস্থা ও ধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। পরে দুর্ভিক্ষে পৃথিবী অন্ন গোপন করলে পৃথু পৃথিবীর পশ্চাদ্ধাবন করেন; পৃথিবী নানা রূপ ধারণ করে শেষে শরণাগত হয়ে নিবেদন করে—নারী ও গোর প্রতি অহিংসা রক্ষা করতে হবে এবং জগত্‌ধারণে ন্যায়সঙ্গত উপায় গ্রহণ করতে হবে। পৃথু তার প্রার্থনা শুনে উত্তর দিতে প্রস্তুত হন।

121 verses

Adhyaya 29

Narrative of King Pṛthu: Chastising and Milking the Earth

এই অধ্যায়ে রাজা পৃথু বৈন্য পৃথিবী (বসুন্ধরা/ধরণী)-র সঙ্গে সংঘাতে প্রবৃত্ত হন, কারণ তিনি অন্ন-রস সংবরণ করে জীবদের কষ্ট দিচ্ছিলেন। লোককল্যাণের জন্য ‘জগতকে পীড়িতকারী’-কে দণ্ড দেওয়া পাপ নয়—এটাই রাজধর্মের নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পৃথিবী গাভীর রূপ ধারণ করে, বাণবিদ্ধ হয়ে ধর্মসম্মত শাসনের শরণ প্রার্থনা করে। পৃথু পর্বত ও অসম ভূমি সমতল করে শৃঙ্খলা স্থাপন করেন। পরে তিনি পৃথিবীকে ‘দোহন’ করে শস্য ও খাদ্য উৎপন্ন করান; যজ্ঞ-অন্নচক্র প্রবাহিত হয়—দেবতা ও পিতৃগণ তৃপ্ত হন, তাঁদের অনুগ্রহে বৃষ্টি ও ফসল বৃদ্ধি পায়। এরপর দেব, পিতৃ, নাগ, অসুর, যক্ষ, রাক্ষস, গন্ধর্ব, পর্বত ও বৃক্ষ প্রভৃতির নানা ‘দোহন’-এর বর্ণনা আছে, যাতে প্রত্যেকে নিজ নিজ উপযোগী পুষ্টি লাভ করে। শেষে পৃথিবীর স্তব—তিনি কামধেনুর ন্যায়, জগন্মাতা ও মহালক্ষ্মীসদৃশ ঐশ্বর্যদাত্রী; এবং শ্রবণফল—এই কাহিনি শ্রবণে পবিত্রতা ও বিষ্ণুলোকপ্রাপ্তি হয়।

91 verses

Adhyaya 30

Episode of Vena: The Power of Association and Revā (Narmadā) Tīrtha

ঋষিরা জিজ্ঞাসা করেন—পাপী রাজা বেন কীভাবে পতিত হলেন এবং তিনি কী ফল লাভ করলেন। তখন সূত, পুরাতন পুলস্ত্য–ভীষ্ম সংলাপকে অবলম্বন করে স্তরিত বর্ণনা শুরু করেন। অধ্যায়ে ‘সঙ্গ’ (সংসর্গ)-এর তত্ত্ব প্রধান—সৎসঙ্গে পুণ্য বৃদ্ধি পায়, দুষ্সঙ্গে পাপ বাড়ে; দেখা, কথা বলা, স্পর্শ, একসঙ্গে বসা ও একসঙ্গে আহার—এসবের দ্বারা গুণ-দোষ সংক্রমিত হয়। এরপর রেবা (নর্মদা) তীর্থের প্রভাব বর্ণিত হয়। অমাবস্যার সংযোগে পবিত্র জলে পতিত হিংস্র শিকারি ও কিছু পশুও শুদ্ধ হয়ে উচ্চ গতি লাভ করে—তীর্থ-মাহাত্ম্যের দৃষ্টান্ত হিসেবে। পুনরায় বেনের কলুষ ও যম/মৃত্যুর অধীন কর্মশাসনের প্রসঙ্গ ওঠে। মৃত্যুর কন্যা সুনীথা তপস্বী সুশঙ্খের প্রতি অসদাচরণ করায় শাপপ্রাপ্ত হয়; সেই শাপ থেকেই দেব ও ব্রাহ্মণ-নিন্দাকারী পুত্রের জন্মের পূর্বাভাস মেলে, যা বেনের নৈতিক বংশপরম্পরার ভূমিকা রচনা করে।

85 verses

Adhyaya 31

The Episode Leading to Vena: Aṅga Learns the Cause of Indra’s Sovereignty

ইন্দ্রের ঐশ্বর্য ও দীপ্তি দেখে রাজা অঙ্গের মনে বাসনা জাগে—ইন্দ্রসম ধর্মবান পুত্র যেন তাঁর হয়। তিনি গৃহে ফিরে পিতা মহর্ষি অত্রিকে প্রণাম করে জিজ্ঞাসা করেন, কোন পুণ্য ও পূর্বতপস্যার ফলে ইন্দ্র এই রাজ্যশ্রী, সমৃদ্ধি ও অধিপত্য লাভ করেছেন। অত্রি প্রশ্নের প্রশংসা করে ইন্দ্রের পূর্বকারণ বলেন। প্রাচীনকালে সুব্রত নামে এক বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ তপস্যা ও ভক্তিতে শ্রীকৃষ্ণ/হৃষীকেশকে সন্তুষ্ট করেছিলেন। সেই প্রসাদে তিনি অদিতি ও কশ্যপের গর্ভে ‘পুণ্যগর্ভ’ রূপে জন্ম নিয়ে বিষ্ণুর কৃপায় ইন্দ্রপদ লাভ করেন। শেষে ভক্তিতত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়—গোবিন্দ নির্মল হৃদয়ের ভক্তি ও ধ্যান-মননে প্রসন্ন হন; প্রসন্ন হলে তিনি সকল অভীষ্ট দান করেন, ইন্দ্রসম পুত্রও দেন। অঙ্গ উপদেশ গ্রহণ করে প্রণাম জানিয়ে মেরু পর্বতের দিকে যাত্রা করেন; এখান থেকেই বেন-উপাখ্যানের সূত্রপাত।

20 verses

Adhyaya 32

The Bestowal of Boons upon Aṅga

অধ্যায়ের শুরুতে মেরু পর্বতের দিব্য শোভা বর্ণিত—রত্নময় ঢাল, চন্দনের শীতল ছায়া, বেদের ধ্বনি, গন্ধর্বদের সঙ্গীত ও অপ্সরাদের নৃত্য; সেই পবিত্র প্রদেশে তীর্থসমৃদ্ধা পুণ্যসলিলা গঙ্গার আবির্ভাবও বলা হয়েছে। এই পুণ্যভূমিতে অত্রির সদ্গুণী পুত্র ঋষি অঙ্গ গঙ্গাতীরে এক নির্জন গুহায় প্রবেশ করে দীর্ঘকাল তপস্যা করেন। ইন্দ্রিয়সংযম ও হৃষীকেশের নিরন্তর ধ্যানের দ্বারা তিনি স্থির থাকেন; ভগবান নানা বিঘ্ন দিয়ে তাঁকে পরীক্ষা করলেও অঙ্গ নির্ভয় ও তেজস্বী রূপে অচল থাকেন। অবশেষে গরুড়ারূঢ় শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্মধারী জনার্দন/বাসুদেব প্রকাশিত হয়ে বর চাইতে বলেন। অঙ্গ এমন এক ধর্মগুণসম্পন্ন পুত্র প্রার্থনা করেন, যে বংশধারা রক্ষা করবে ও লোকসমূহকে পালন করবে। বিষ্ণু বর প্রদান করে সৎকন্যাকে বিবাহ করতে নির্দেশ দেন এবং অন্তর্ধান করেন।

75 verses

Adhyaya 33

The Account of Sunīthā (within the Vena Narrative)

এই অধ্যায়ে ঋষিগণ জিজ্ঞাসা করেন—সুশঙ্খের শাপে সুনীথা কীভাবে এমন অবস্থায় পড়ল এবং কোন কর্মফলে তা ঘটল। সূত বলেন, সে পিতৃগৃহে প্রত্যাবর্তন করলে এক জ্যেষ্ঠ উপদেশক তাকে (নন্দিনী বলে সম্বোধন করে) তিরস্কার করেন—ধর্মে প্রতিষ্ঠিত শান্ত এক নির্দোষ ব্যক্তিকে প্রহার করানো ছিল মহাপাপ। এরপর হিংসা ও দোষনির্ণয়ের সূক্ষ্ম আলোচনা আসে: নির্দোষকে আঘাত করা গুরুতর পাপ, যার ফল দুষ্টপুত্রপ্রাপ্তি ইত্যাদি। আবার আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার সীমা, এবং ভুল ব্যক্তিকে দণ্ড দেওয়া বা অযথা দণ্ড আরোপের ভয়াবহ পরিণতির কথাও বলা হয়। শেষে শুদ্ধির পথ দেখানো হয়—সৎসঙ্গ, সত্য, জ্ঞান ও যোগধ্যান পাপকে দগ্ধ করে; যেমন অগ্নি স্বর্ণকে পরিশুদ্ধ করে এবং তীর্থজল বাহ্য-অন্তঃকরণকে নির্মল করে। সুনীথা একান্ত তপস্যায় প্রবৃত্ত হয়; পরে সখীগণ তার ধ্বংসাত্মক উদ্বেগ ত্যাগ করতে উপদেশ দেয় এবং তার উত্তরের ভূমিকা প্রস্তুত করে।

35 verses

Adhyaya 34

The Vena Episode (Sunīthā’s Lament, Counsel on Fault, and the Turn toward Māyā-vidyā)

সূতের বর্ণনার মধ্যে সুনীথা (মৃত্যুর কন্যা) নিজের দুঃখকথা বলে। এক ঋষির শাপে সে গুণবতী হয়েও বিবাহযোগ্যতা-সঙ্কটে পড়ে; দেবতা ও ঋষিরা আশঙ্কা করেন যে তার গর্ভে ভবিষ্যতে এক পাপী পুত্র জন্মাবে, যে বংশকে কলুষিত করবে। তারা ‘গঙ্গাজলে মদের এক ফোঁটা’ ও ‘দুধে টক মাড়ের এক ফোঁটা’—এই উপমায় দোষ-সংস্পর্শের সংক্রমণ বোঝায়; প্রস্তাবিত সম্বন্ধ প্রত্যাখ্যাত হয়, এক পুরুষও তাকে ফিরিয়ে দেয়। অপমানকে কর্মফল জেনে সুনীথা বনে গিয়ে তপস্যা করার সংকল্প করে। তখন তার সখীরা—রম্ভা প্রমুখ অপ্সরারা—সান্ত্বনা দিয়ে বলে, দেবতাদের মধ্যেও ত্রুটি দেখা যায়: ব্রহ্মার বক্র বাক্য, ইন্দ্রের অপরাধ, শিবের কপালধারণ, কৃষ্ণের শাপপ্রাপ্তি, এমনকি যুধিষ্ঠিরেরও কখনও অসত্যবচন; তাই হতাশা নয়, সংশোধনের পথ আছে। তারা আদর্শ নারীগুণ—লজ্জা, শীল, দয়া, পতিব্রতা-ধর্ম, শৌচ, ক্ষমা—উল্লেখ করে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেয়। রম্ভা ও অন্যান্য অপ্সরা তাকে মোহিনী বিদ্যা প্রদান করে; এরপর সুনীথা অত্রিবংশীয় এক তপস্বী ব্রাহ্মণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, পরবর্তী কাহিনির সূত্রপাত হয়।

47 verses

Adhyaya 35

Counsel to Sunīthā in the Vena Narrative: Boon for a Righteous Son and the Seed–Fruit Law of Karma

এই অধ্যায়ে (বেনোপাখ্যানের অন্তর্গত) রম্ভা এক কোমলস্বভাবা নারীকে—পরে যিনি সুনীথা নামে পরিচিত—উপদেশ দেন। তিনি ব্রহ্মা, প্রজাপতি ও অত্রির আদ্য বংশপরম্পরা স্মরণ করিয়ে দেন এবং বলেন, অঙ্গ ইন্দ্রের দীপ্তি দেখে ইন্দ্রসদৃশ পুত্রলাভের আকাঙ্ক্ষায় উদ্বুদ্ধ হন। অঙ্গ তপস্যা, ব্রত ও নিয়মাচরণে হৃষীকেশ বিষ্ণুর আরাধনা করে বর প্রার্থনা করেন। ভগবান তাঁকে পাপনাশক ও ধর্মসমর্থক পুত্রের বর দান করেন। সুনীথাকে বলা হয়—যোগ্য স্বামীকে গ্রহণ কর; ধর্মপ্রচারক পুত্র জন্মালে পূর্বের শাপও নিষ্ফল হয়ে যায়। শেষে বীজ-ফল ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়—যেমন বীজ বোনা হয় তেমনই ফল জন্মায়; সবই কারণানুরূপ। এই সত্য শুনে সুনীথা উপদেশের সত্যতা স্বীকার করেন।

16 verses

Adhyaya 36

The Vena Episode: Sunīthā’s Māyā, Aṅga’s Enchantment, and the Birth of Vena

মৃত্যুর কন্যা সুনীথা রম্ভার সহায়তায় মন্ত্রবিদ্যা ও মায়ার আশ্রয়ে এক ব্রাহ্মণ-তপস্বীকে মোহিত করার সংকল্প করে। মেরুপর্বতে মণিময় গুহা, দিব্য বৃক্ষ ও গন্ধর্ব-সঙ্গীতের আনন্দময় পরিবেশে সে অতুল দেবী-রূপ ধারণ করে দোলনায় বসে বীণা বাজিয়ে মধুর গান গায়। জনার্দনের ধ্যানে নিমগ্ন অঙ্গ সেই সুরে আকৃষ্ট হয়ে কামাতুর ও মোহগ্রস্ত হয় এবং কাছে এসে তার পরিচয় জানতে চায়। রম্ভা তখন সুনীথাকে মৃত্যুর শুভ কন্যা বলে পরিচয় করিয়ে জানায়—সে ধর্মসম্মত স্বামী কামনা করে; উভয়ের মধ্যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা স্থাপিত হয়। পরে অঙ্গ গন্ধর্ব-বিধিতে সুনীথাকে বিবাহ করে। তাদের মিলনে বেনের জন্ম হয়; তার শিক্ষা-দীক্ষা সম্পন্ন হয়। রক্ষকহীন জগৎ যখন কষ্টে ছিল, তখন প্রজাপতি ও ঋষিগণ বেনকে রাজ্যাভিষেক করেন। সুনীথা ধর্মকন্যার ন্যায় মাতৃ-উপদেশে তাকে ধর্মপালনে প্রবৃত্ত করে, এবং ধর্মময় শাসনে প্রজারা সমৃদ্ধি লাভ করে।

57 verses

Adhyaya 37

Episode of King Vena: Deceptive Doctrine, Compassion, and the Contest over Dharma

ঋষিরা জিজ্ঞাসা করেন—যে বেণ আগে মহাত্মা-স্বভাবের ছিল, সে কীভাবে পাপী হল। কাহিনি দেখায়, অভিশাপের প্রভাবে তার বুদ্ধি ভ্রষ্ট হয় এবং সে ধীরে ধীরে ধর্মপথ থেকে পতিত হয়। এ সময় ভিক্ষুর চিহ্নধারী এক ছলনাময় তপস্বী বেণের কাছে আসে। বেণ তার নাম, ধর্ম, বেদ, তপস্যা ও সত্য সম্পর্কে প্রশ্ন করে। আগন্তুকটি আসলে ‘পাতক’—পাপের ব্যক্তিরূপ; সে নিজেকে গুরু বলে দাবি করে স্বাহা-স্বধা, শ্রাদ্ধ, যজ্ঞ প্রভৃতি বৈদিক কর্মকে নিন্দা করে, দেহ-আত্মাকে কেবল ভৌতিক বলে প্রচার করে এবং পিতৃ-অর্ঘ্যকে উপহাস করে। তর্কে পশুবলি-যজ্ঞ ও ‘সত্য ধর্ম’-এর লক্ষণ নিয়ে পাল্টা-প্রতিপাল্টা হয়। শেষে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়—দয়া ও প্রাণীর রক্ষা ধর্মের অপরিহার্য চিহ্ন; আর বেণের বেদ-অবমাননা ও দানবিরোধ সেই পাপী প্রতারকের বারংবার উপদেশ থেকেই জন্মেছে।

61 verses

Adhyaya 38

Vena’s Fall into Adharma and the Prelude to Pṛthu’s Birth

এই অধ্যায়ে রাজা বেণের অধর্মে পতনের কাহিনি বলা হয়েছে। তিনি বেদ-নিন্দা করে নিজেকেই দেবতা ও ধর্ম বলে ঘোষণা করেন, যজ্ঞ ও ব্রাহ্মণদের অধ্যয়ন-আচার বন্ধ করান; ফলে রাজ্যে পাপ ছড়িয়ে পড়ে এবং যজ্ঞধর্ম ভেঙে যায়। ব্রহ্মার পুত্র সাত ঋষি তাঁকে ধর্মে স্থিত হয়ে ত্রিলোক রক্ষা করতে উপদেশ দেন, কিন্তু বেণ অহংকারে বলে—“আমিই ধর্ম, কেবল আমারই পূজা করো।” ঋষিরা ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁকে অনুসরণ করেন; বেণ পিঁপড়ের ঢিবিতে লুকালেও তাঁকে ধরে এনে দেহের অলৌকিক ‘মন্থন’ করেন। তাঁর বাম হাত থেকে ভয়ংকর নিষাদ-প্রধান (বর্বর) জন্ম নেয়, আর ডান হাত থেকে পরে প্রকাশিত হন পৃথু—যিনি পৃথিবীকে ‘দোহন’ করে প্রজাদের সমৃদ্ধি দান করেন। শেষে বলা হয়, পৃথুর পুণ্য ও বিষ্ণুর পুনরুদ্ধারকারী শক্তির ফলে বেণেরও শুদ্ধি ঘটে এবং তিনি বৈষ্ণব ধামে গমন করেন।

41 verses

Adhyaya 39

The Episode of Vena: Purification, the ‘Vāsudevābhidhā’ Hymn, and the Dharma of Charity (Times, Tīrthas, Worthy Recipients)

ঋষিরা জিজ্ঞাসা করলেন—পাপী রাজা বেণ কীভাবে স্বর্গলাভ করল। সূত বললেন—সাধুসঙ্গের প্রভাবে তার পাপ দেহ থেকে মথিত হয়ে বেরিয়ে গেল; বেণ রেবার (নর্মদা) দক্ষিণ তীরে তৃণবিন্দুর আশ্রমে তপস্যা করে বিষ্ণুকে প্রসন্ন করল। সে সর্বোচ্চ বর চাইল—পিতা-মাতাসহ দেহ নিয়ে বিষ্ণুলোকে গমন; ভগবান তার মোহ দূর করে ভক্তিতে স্থিত করলেন। এরপর পূর্বপ্রসঙ্গে ব্রহ্মাকে উপদিষ্ট ‘বাসুদেবাভিধা’ নামের পাপনাশক স্তোত্র বর্ণিত হয়, যেখানে বিষ্ণুর সর্বব্যাপিতা ও প্রকাশ-নামসমূহের কথা বলা হয়েছে। তারপর প্রয়োগধর্ম—দানের শ্রেষ্ঠত্ব, নিত্য-নৈমিত্তিক দানের সময়, তীর্থের স্বরূপ (নদী ও পুণ্যস্থান), যোগ্য পাত্রের লক্ষণ ও বর্জনীয় ব্যক্তির কথা; শেষে সিদ্ধান্ত—শ্রদ্ধাই দানকে ফলপ্রদ করে।

127 verses

Adhyaya 40

Fruits of Occasional (Festival-Specific) Charity — The Vena Episode

অধ্যায় ৪০-এ নিত্যদানের পর ‘নৈমিত্তিক-দান’-এর মাহাত্ম্য বলা হয়েছে—মহাপর্ব ও তীর্থে যথাযথ দেশ-কাল ও বিধি মেনে শ্রদ্ধায় দান করলে তার ফল বহুগুণ হয়। বিষ্ণু রাজা বেনকে জানান, হাতি, রথ, অশ্ব, ভূমি ও গোর দান, স্বর্ণসহ বস্ত্র ও অলংকার দান ইত্যাদির পৃথক পৃথক মহাফল আছে; ঘৃতভরা স্বর্ণকলশকে বৈদিক মন্ত্র ও ষোড়শোপচারে পূজা করে দান করা বিশেষ পুণ্যদায়ক। এখানে ‘পাত্র’—যোগ্য ব্রাহ্মণ, দাতার শ্রদ্ধা, গোপনে দান, এবং শুদ্ধ সময়-স্থানকে পুণ্যবর্ধক বলে বারবার জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যলাভ, সমৃদ্ধি, বিদ্যা, যশ এবং শেষে বৈকুণ্ঠবাসের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। শেষে উপদেশ—আসক্তি, লোভ ও মায়ার কারণে উত্তরাধিকারীরা দানের স্মৃতি ভুলে যায়; ফলে যমপথে দুঃখ ভোগ করতে হয়। তাই জীবিত থাকতেই স্বেচ্ছায় ধর্মার্থে দান করা কর্তব্য।

46 verses

Adhyaya 41

The Deeds of Sukalā (Vena Episode): Husband as Tīrtha & Pativratā-Dharma

বেন জিজ্ঞাসা করে—পুত্র, স্ত্রী, পিতা-মাতা ও গুরু কীভাবে ‘তীর্থ’ (পবিত্র আশ্রয়) হতে পারেন। শ্রীবিষ্ণু বারাণসী-ভিত্তিক দৃষ্টান্তে উত্তর দেন—ব্যবসায়ী কৃকল ও তাঁর পতিব্রতা স্ত্রী সুকলার কাহিনির মাধ্যমে সম্পর্কের মধ্যেই পবিত্রতার তত্ত্ব প্রকাশিত হয়। এখানে বলা হয়, বিবাহিতা নারীর কাছে স্বামীই তীর্থসমূহের মূর্তি, পুণ্যের আধার, রক্ষক, গুরু ও দেবতাস্বরূপ; স্বামীর সেবা প্রয়াগ, পুষ্কর ও গয়ার তীর্থযাত্রার সমান ফল দেয়। কৃকল যাত্রার কষ্টে সুকলার কষ্ট হবে ভেবে একাই বেরিয়ে পড়ে; সুকলা তাঁর অনুপস্থিতি জেনে বিলাপ করে, ব্রত-তপস্যা গ্রহণ করে এবং সখীদের সঙ্গে তর্ক-সংলাপ করে—সখীরা তাকে সংসার-বিরাগের মতো সান্ত্বনা দেয়। উপসংহারে স্ত্রীধর্ম হিসেবে পতিনিষ্ঠা ও সহচর্যকে দৃঢ় করা হয়; স্বামীকে স্ত্রীর জন্য আশ্রয়, গুরু ও আরাধ্য রূপে প্রতিষ্ঠা করে পরবর্তী সুধেবা-দৃষ্টান্তের ভূমিকা রচিত হয়।

84 verses

Adhyaya 42

Sukalā’s Account: Ikṣvāku and Sudevā; the Boar’s Resolve and the Dharma of Battle

সখীদের প্রশ্নে সুকলা রাজধর্মের কাহিনি আরম্ভ করেন। অযোধ্যায় মনুবংশীয় রাজা ইক্ষ্বাকু সত্যবতী সুদেবাকে বিবাহ করে ধর্মপূর্বক রাজ্য শাসন করেন। গঙ্গাবনের নিকটে শিকারে গিয়ে তিনি এক বরাহ-রাজা (কোল)কে তার পালসহ দেখেন। বরাহ পাপী শিকারিদের ভয়ে পালাবে না লড়বে—এই দ্বিধায় পড়ে, আবার রাজার মধ্যে কেশব-স্বরূপের মতো দিব্য উপস্থিতিও অনুভব করে। সে যুদ্ধকে ক্ষাত্রধর্ম, বীরের কর্তব্য এবং যজ্ঞের ন্যায় আত্মোৎসর্গ বলে ব্যাখ্যা করে; মৃত্যুতেও বিষ্ণুলোকপ্রাপ্তির কথা বলে। শূকরী নেতা হারালে সমাজ-ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে বলে বিলাপ করে, আর পুত্রেরা পিতা-মাতাকে ত্যাগ করলে নরকদোষ হবে বলে জানিয়ে পিতৃ-মাতৃসেবায় স্থির থাকে। শেষে ধর্মবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমগ্র পাল যুদ্ধবিন্যাসে দাঁড়ায়, রাজশিকারির আগমনের প্রতীক্ষা করে।

75 verses

Adhyaya 43

Sukalā’s Narrative (within the Vena Episode): Varāha, Ikṣvāku, and the Dharma of Battle

এই অধ্যায়ে সুকলা এক যুদ্ধ-শিকার প্রসঙ্গ বর্ণনা করেন। মনুর পুত্র ইক্ষ্বাকু, অযোধ্যা/কোশলের রাজা, চতুরঙ্গ সেনা নিয়ে মেরু ও গঙ্গার দিকে অগ্রসর হন; এদিকে বন্যবরাহদের দল একত্র হয় এবং শিকারিরা তাদের অনুসরণ করে। মাঝখানে মেরু পর্বতের পবিত্র ভূগোলের অলংকৃত চিত্র আসে—দেব-উদ্যান, দিব্য জীবসমূহ, রত্ন-ধাতু এবং তীর্থসদৃশ জলধারা। তারপর যুদ্ধের বর্ণনায় ফিরে দেখা যায়: বরাহ তার সঙ্গিনী ও দলবলসহ বাণ, পाश ও নানা অস্ত্রাঘাতে আক্রমিত হয়; উভয় পক্ষেই প্রবল নিহত-আহত ঘটে। এরপর নীতিবচন উঠে আসে—যুদ্ধে পিছু হটা অধর্ম ও লজ্জা, আর বীরমৃত্যু স্বর্গফলদায়ক। শেষে ইক্ষ্বাকু দৃঢ় সংকল্পে একা গর্জনরত বরাহের দিকে ধাবিত হন।

82 verses

Adhyaya 44

The Deeds of Sukalā in the Vena Narrative: Battle, Liberation of the Boar-King, and Gandharva-Kingship

সুকলার প্রসঙ্গে পুরাণবক্তা বলেন—অতিশয় শক্তিশালী বরাহ-নেতা কোলবর রাজসেনাকে ছত্রভঙ্গ করলে রাজা ক্রুদ্ধ হয়ে ধনুক তুলে কালসম তীর সংযোজিত করে অগ্রসর হন। কিন্তু দ্রুত ও ভয়ংকর বরাহরাজ তাঁর আক্রমণ ব্যর্থ করে দেয়; ঘোড়া আতঙ্কিত হয়ে পড়ে গেলে যুদ্ধ রথযুদ্ধে পরিণত হয়। বরাহরাজ গর্জন করে কোশলের রথহীন সৈন্যদের নিধন করতে থাকে; শেষে ধর্মপরায়ণ রাজা হিত গদা দ্বারা তাকে বধ করেন। মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই সে হরির ধাম লাভ করে; দেবগণ পুষ্পবৃষ্টি, চন্দন-কুঙ্কুমবৃষ্টি ও দিব্য উৎসবে তাকে সম্মান জানান। তারপর তার দেহ রূপান্তরিত হয়ে চতুর্ভুজ দিব্যরূপ প্রকাশ পায়; সে বিমানে আরোহণ করে ইন্দ্রাদি দেবের পূজা পায় এবং পূর্বদেহ ত্যাগ করে গন্ধর্বদের রাজত্ব লাভ করে—ধর্মসমাপ্তির দ্বারা মুক্তি ও মহিমার নিদর্শন।

12 verses

Adhyaya 45

The Account of Sukalā in the Vena Episode: The Sow, the Sons, and Royal Restraint

অধ্যায় ৪৫ (PP.2.45)-এ শিকারিরা এক মাদি শূকরীর পিছু ধাওয়া করে। সে নিজের সঙ্গী ও পরিজন নিহত হতে দেখে, একদিকে স্বামীর স্বর্গগত অবস্থায় পৌঁছতে চায়, অন্যদিকে চারটি শাবককে রক্ষা করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়। এই নৈতিক সংকটে জ্যেষ্ঠ পুত্র পালাতে অস্বীকার করে; পিতা-মাতাকে ত্যাগ করে আত্মরক্ষা করাকে অধর্ম বলে নিন্দা করে, এবং এমন ত্যাগের নরকফলও কাহিনিতে উচ্চারিত। যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষতি হলেও মহারাজ মাদি শূকরীকে হত্যা করতে নিষেধ করেন, কারণ দেববচন মতে স্ত্রীবধ মহাপাপ। কিন্তু ঝার্ঝর নামক এক শিকারি তাকে আঘাত করে; শূকরী প্রতিঘাতে বহুজনকে নিধন করে এবং শেষে নিজেও নিহত হয়। এখানে রাজধর্মের সংযম, পরিবারধর্ম এবং হিংসার করুণ পরিণতি একত্রে প্রকাশ পায়।

33 verses

Adhyaya 46

The Vena Episode and the Sukalā Narrative: The Speaking Sow, Pulastya’s Curse, and Indra’s Appeal

এই অধ্যায়ে রাজা প্রিয় সुदেবা সহ এক পতিতা শূকরীকে তার শাবকদের প্রতি গভীর মাতৃস্নেহে নিবিষ্ট দেখে করুণায় বিগলিত হন। বিস্ময়করভাবে সেই শূকরী শুদ্ধ সংস্কৃতে কথা বলে; তখন রাজা ও সুদেবা তার এই দশার কারণ ও পূর্বকর্মের রহস্য জানতে চান। শূকরী স্তরবদ্ধ পূর্বজন্ম-কথা আরম্ভ করে। মেরু পর্বতে রঙ্গবিদ্যাধর নামক গায়ক ঋষি পুলস্ত্যের সঙ্গে গানের শক্তি বনাম তপস্যা, একাগ্রতা ও ইন্দ্রিয়সংযমের মহিমা নিয়ে বিতর্কে জড়ায়। পরে সে বরাহরূপে ধ্যানরত ব্রাহ্মণকে উৎপীড়ন করলে ক্রুদ্ধ পুলস্ত্য তাকে শূকরীর গর্ভে পতনের শাপ দেন। শপ্ত সত্তা ইন্দ্রের শরণ নেয়; শক্র মধ্যস্থ হয়ে পুলস্ত্যের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ইন্দ্রের অনুরোধে পুলস্ত্য শর্তসাপেক্ষে শাপমোচনের প্রতিশ্রুতি দেন এবং কর্মফলের ধারায় মনু-পরম্পরায় ইক্ষ্বাকুবংশীয় এক রাজার আবির্ভাবের ইঙ্গিত করেন। শেষে শূকরী নিজের পূর্ব অপরাধ স্বীকার করে পুনর্জন্মে নৈতিক কারণ-কার্যের সত্যকে দৃঢ় করে।

66 verses

Adhyaya 47

The Story of Sudevā and Śivaśarman (within the Sukalā Narrative): Pride, Neglect, and Household Discipline

এই অধ্যায়ে সবাই বিস্মিত হয় যে এক শূকরী (শূকরী) পরিশীলিত সংস্কৃতে কথা বলছে। তার জ্ঞান ও পূর্বজন্মের কারণ জানতে চাইলে সुदেবা নিজের পূর্বজীবনের কাহিনি বলে—কলিঙ্গদেশের শ্রীপুরে ব্রাহ্মণ বসুদত্তের কন্যা হয়ে সে রূপ-গর্বে মত্ত ছিল। তার বিবাহ হয় বিদ্বান কিন্তু অনাথ ব্রাহ্মণ শিবশর্মণের সঙ্গে, যিনি সংযম ও শিষ্টাচারের জন্য প্রশংসিত। অহংকার ও কুচক্র সঙ্গের প্রভাবে সুদেবা স্বামী ও গৃহকে অবহেলা করে কঠোর আচরণ করে, ফলে পরিবারে গভীর দুঃখ নেমে আসে এবং শিবশর্মণ গৃহত্যাগ করেন। এরপর গ্রন্থে নীতিশিক্ষা স্পষ্ট হয়—শুধু স্নেহ দিয়ে শাসন-শিক্ষা না দিলে সন্তান নষ্ট হয়, আশ্রিতদের যথাযথ অনুশাসন দরকার, এবং কন্যাদের দীর্ঘদিন অবিবাহিত রাখা উচিত নয়—এই উপদেশে পরবর্তী কাহিনির ভূমি প্রস্তুত হয়।

65 verses

Adhyaya 48

The Story of Sukalā (Episode: Ugrasena and Padmāvatī’s Return to Vidarbha)

মথুরা ও বিদর্ভের প্রেক্ষাপটে এই অধ্যায়ে উগ্রসেনকে আদর্শ যাদব-রাজা রূপে বর্ণনা করা হয়েছে। রাজধর্মের লক্ষণ হিসেবে ধর্ম-অর্থ-কামে দক্ষতা, বেদবিদ্যা, বল, দানশীলতা ও বিবেক—এসব গুণের কথা সংক্ষেপে বলা হয়। বিদর্ভে সত্যকেতুর কন্যা পদ্মাক্ষী/পদ্মাবতী সত্যনিষ্ঠা ও নারীগুণে প্রশংসিত; তার বিবাহ উগ্রসেনের সঙ্গে হয় এবং উভয়ের পারস্পরিক স্নেহ বিশেষভাবে প্রকাশিত। পরে সত্যকেতু ও রানি কন্যাকে দেখার আকাঙ্ক্ষায় দূত পাঠিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনতে চান। উগ্রসেন আনন্দের সঙ্গে সম্মানপূর্বক পদ্মাবতীকে পিতৃগৃহে প্রেরণ করেন। পিতৃগৃহে সে উপহার-সম্মানে আদৃত হয়ে সখীদের সঙ্গে পরিচিত স্থানে বিচরণ করে সুখে থাকে; শ্বশুরবাড়ির তুলনায় পিতৃগৃহের স্বস্তি যে বিরল—এ কথা উল্লেখ করে তার নির্ভার আচরণও বর্ণিত।

28 verses

Adhyaya 49

The Account of Sukalā (Vena-Episode Continuation): Padmāvatī, Gobhila’s Deception, and the Threat of a Curse

অধ্যায় ৪৯-এ প্রথমে এক পুণ্যতীর্থসম বনভূমির বর্ণনা—পর্বত-অরণ্যে শাল, তাল, তমাল, নারিকেল, সুপারি, লেবুজাতীয় বৃক্ষ, চম্পক, পাটল, অশোক, বকুল প্রভৃতি; আর পদ্মভরা সরোবরে পাখি ও ভ্রমরের মধুর কলরব। এই মনোরম স্থানে বিদর্ভের রাজকন্যা পদ্মাবতী সখীদের সঙ্গে ক্রীড়া করতে প্রবেশ করেন। বিষ্ণুর উক্তির প্রসঙ্গে গোভিল নামক দৈত্যের পরিচয় মেলে—যাকে বৈশ্রবণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলা হয়েছে। পদ্মাবতীকে দেখে সে কামাতুর হয় এবং মায়াবলে উগ্রসেনের রূপ ধারণ করে, সুর-বাদ্যের মোহিনী আয়োজন করে তাকে প্রতারণা করতে উদ্যত হয়। পতিব্রতা পদ্মাবতী ছলে বিভ্রান্ত হয়ে একান্তে নীত হন এবং সেখানে গোভিলের অধর্মাচরণে লাঞ্ছিত হন। শেষে সুকলা/পদ্মাবতীর শোক ধর্মক্রোধে পরিণত হয়; তিনি গোভিলকে শাপ দেওয়ার সংকল্প করেন। কাহিনি কাম, ছদ্মবেশ ও সামাজিক-ধর্মীয় ব্রতের ভঙ্গুরতা সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেয়।

54 verses

Adhyaya 50

Dialogue of Gobhila and Padmāvatī: Daitya Obstruction vs. the Power of Pativratā Dharma

এই অধ্যায়ে সুকলার বর্ণনায় গোভিল নামক পৌলস্ত্য দৈত্যসৈনিক ও রাজার কন্যা পদ্মাবতীর মধ্যে ধর্মসংঘাত প্রকাশ পায়। গোভিল ‘দৈত্যাচার’—ধন ও নারীর হরণ—স্বীকার করেও বেদ-শাস্ত্র ও কলাবিদ্যায় পারদর্শিতার অহংকার করে। কাহিনি দৈত্যদের সেই দুষ্প্রবৃত্তির নিন্দা করে যারা ব্রাহ্মণের দোষ খুঁজে তপস্যা ও যজ্ঞে বিঘ্ন ঘটায়; তবু বলা হয়, হরির তেজ, সদ্‌ব্রাহ্মণ ও পতিব্রতা স্ত্রীর আধ্যাত্মিক দীপ্তি তারা সহ্য করতে পারে না। এরপর গোভিল উপদেশ দেয়—অগ্নিহোত্র/অগ্নিসেবায় স্থিরতা, শুচিতা ও আনুগত্য, এবং পিতা-মাতার সেবা—এগুলি কখনও ত্যাগ্য নয়। সে স্বামীত্যাগকে মহাপাপ বলে পতিব্রতা-ধর্মের মাহাত্ম্য ঘোষণা করে এবং সীমালঙ্ঘনকারী নারীকে ‘পুংশ্চলী’ বলে তিরস্কার করে। পদ্মাবতী নিজের নিষ্কলুষতা রক্ষা করে জানায়—স্বামীর রূপ ধারণ করে প্রতারণা করা হয়েছিল, সে স্বেচ্ছায় ধর্মভঙ্গ করেনি। শেষে গোভিল প্রস্থান করে, পদ্মাবতী শোকে আচ্ছন্ন হয়; ধর্মের বিধান ও অসুরীয় বলপ্রয়োগের তীব্র বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়।

63 verses

Adhyaya 51

Sukalā’s Episode: Padmāvatī’s Crisis, the Speaking Embryo (Kālanemi), and Sudevā’s Begging at Śivaśarmā’s House

গোভিল চলে গেলে পদ্মাবতী শোকে কাঁদতে থাকেন। সখীরা কারণ জিজ্ঞেস করে তাঁকে পিতৃগৃহে নিয়ে যায়; পিতা-মাতা তাঁর দোষ গোপন করে পরে তাঁকে আবার মথুরায় উগ্রসেনের কাছে পাঠান। সেখানে তাঁর গর্ভধারণ ভয়ংকর রূপ নেয়। গর্ভপাতের জন্য ঔষধ ও মন্ত্র খুঁজতে গেলে গর্ভস্থ ভ্রূণ নিজেই কথা বলে কর্মফলের অনিবার্যতা বোঝায়—ঔষধ-মন্ত্র কেবল নিমিত্ত, ফল কর্মানুসারেই স্থির। সে নিজেকে দানব কালনেমি বলে পরিচয় দেয়, বিষ্ণুর সঙ্গে বৈর সাধনের জন্য পুনর্জন্ম নিয়েছে বলে জানায়। দশ বছর পরে কংসের জন্ম হয়; কথায় বলা হয়, বাসুদেবের হাতে নিহত হয়ে সে মুক্তি লাভ করে। এরপর সুকলা/সুদেবা প্রসঙ্গ শুরু হয়—কন্যার বাসস্থান-ধর্ম ও কুলকলঙ্কের ভয় দেখিয়ে এক অপমানিতা নারীর নির্বাসন, ক্ষুধা ও ভিক্ষাবৃত্তির বর্ণনা আসে। সে শিবশর্মার সমৃদ্ধ গৃহে পৌঁছায়; শিবশর্মা ও তাঁর স্ত্রী মঙ্গলা দয়ায় তাকে আহার দেন, এবং তার পরিচয় প্রকাশের লক্ষণ দেখা দিতে থাকে—যা পরবর্তী অধ্যায়ের উন্মোচনের ভূমিকা।

53 verses

Adhyaya 52

Sudevā’s Ascent to Heaven (Merit, Hospitality, and Release from Hell)

এই অধ্যায়ে অতিথি-সৎকারের শ্রেষ্ঠত্ব, যোগ্য ব্যক্তিকে অবহেলার ভয়াবহ ফল এবং পরম পতিব্রতা সुदেবার পুণ্য-দান দ্বারা নরক-মোচনের কাহিনি বর্ণিত। এক নারী ভিক্ষুকিনীর ছদ্মবেশে এসে স্নান, বস্ত্র, আহার ও অলংকারে সম্মানিত হয়—একে সর্বাধিক প্রীতিদায়ক ধর্মকর্ম বলা হয়েছে। এরপর কাহিনি অনুতাপ ও কর্মভয়ের দিকে মোড় নেয়। সেই দুঃখিত আত্মা স্বীকার করে যে সে পূর্বে কোনো সৎপাত্রকে পাদপ্রক্ষালন, সেবা ও শ্রদ্ধা দেয়নি; শোকে মৃত্যু হলে যমদূত তাকে ধরে নিয়ে নরকে কঠোর যন্ত্রণা দেয় এবং পশুযোনিতে নীচ জন্ম ভোগ করায়। মুক্তির জন্য সে রানি সুদেবা ও দেবীর শরণ প্রার্থনা করে। ইক্ষ্বাকুকে বিষ্ণুরূপ এবং সুদেবাকে শ্রী-রূপ বলা হয়েছে; সুদেবার সতীধর্ম নিজেই তীর্থস্বরূপ পবিত্র। দেবী এক বছরের পুণ্য দান করে প্রার্থিনীকে দিব্য দীপ্তিময় রূপে রূপান্তরিত করেন; সে সুদেবার কৃপা স্তব করে স্বর্গে আরোহন করে।

48 verses

Adhyaya 53

The Tale of Sukalā: Testing Pativratā Fidelity and the Body-as-House Teaching

এই অধ্যায়ে সুকলা স্বামীবিহীন অবস্থায় সংসারসুখের অর্থহীনতা নিয়ে সংশয়ে পড়ে। তখন ভগবান বিষ্ণু তাকে বলেন—নারীদের সর্বোচ্চ ধর্ম হলো পতিব্রতা-ধর্ম; তাতেই পরম কল্যাণ ও সিদ্ধি। ইন্দ্র তার অটলতা পরীক্ষা করতে কামদেবকে আহ্বান করে। কাম নিজের শক্তির গর্ব করে এবং দেহে কামনার বাসস্থান ও প্রবৃত্তির কথা বলে। ইন্দ্র মনোহর মানব-রূপ ধারণ করে এক দূতী পাঠিয়ে সুকলাকে প্রলুব্ধ করতে চায়; কিন্তু সুকলা নিজেকে কৃকলের স্ত্রী বলে পরিচয় দেয়, স্বামীর তীর্থযাত্রা ও নিজের বিরহবেদনা বর্ণনা করে। এরপর ইন্দ্রিয়ভোগের বিরুদ্ধে দীর্ঘ উপদেশ আসে—যৌবন ক্ষণস্থায়ী, দেহ অনিত্য ও অশুচি। জরা, ব্যাধি ও ক্ষয় সৌন্দর্যের মোহ ভেঙে দেয়; শেষে বহু দেহে এক আত্মার তত্ত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

109 verses

Adhyaya 54

The Account of Sukalā (within the Vena Episode): Truth-Power and the Testing of a Devoted Wife

এই অধ্যায়ে বেণ-প্রসঙ্গের অন্তর্গত সুকলার কাহিনি এগিয়ে যায়। ইন্দ্র সুকলার বাক্য ও চরিত্রে অসাধারণ সত্যবল এবং যোগিনীসুলভ স্বচ্ছ বোধ দেখে বিস্মিত হন। তখন মনোভব/কাম গর্ব করে বলে যে সে তার পতিব্রতা-নিষ্ঠা ভেঙে দিতে পারবে। সভায় নানা কণ্ঠে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়—কেউ বলে তার সত্য ও ধর্মাচরণ তাকে অজেয় করেছে, আবার কেউ ‘সাধারণ নারী’ বলে উপহাস করে চ্যালেঞ্জ বাড়ায়। এরপর গৃহস্থালির দৃশ্যে দেখা যায়, সুকলা স্বামীর চরণধ্যানে নিমগ্ন, স্থিরচিত্ত যোগীর মতো। কাম মোহনীয় রূপ ধারণ করে ইন্দ্র ও অনুচরদের সঙ্গে এসে তাকে বিচলিত করতে চায়, কিন্তু তার বিবেক অটল থাকে। তার সত্যকে পদ্মপাতায় জলের মতো নির্মল, মুক্তোর মতো দীপ্ত বলা হয়েছে। অধ্যায়ের শেষে সে আগন্তুকের প্রকৃত স্বরূপ যাচাই করার সংকল্প করে—সত্যকে অন্তরের অচ্ছেদ্য দড়ি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।

26 verses

Adhyaya 55

The Power of a Chaste Woman: Indra and Kāma Confront Satī’s Radiance

এই অধ্যায়ে সতী—পরম পতিব্রতা নারীর—তেজ ও পাতিক্রত-ধর্মের অপরাজেয় শক্তি বর্ণিত হয়েছে। ইন্দ্র ও কাম তাকে বলপ্রয়োগে জয় বা মোহিত করতে উদ্যত হলে, তিনি সত্যনিষ্ঠ ধ্যানকেই অন্তঃশস্ত্র করে নিজের দীপ্তিতে তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। এতে প্রতিপন্ন হয় যে শীল, সত্য ও সাধনার বল দেবশক্তিকেও সংযত করতে পারে। কামকে শিবের প্রতি পূর্ব অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়—যার ফলে সে অনঙ্গ (দেহহীন) হয়েছে; এবং মহাত্মাদের প্রতি বিদ্বেষ দুঃখ ও সৌন্দর্যহানির কারণ—এই নীতিবাক্য উচ্চারিত হয়। অনসূয়া ও সাবিত্রী-দৃষ্টান্তে দেখানো হয়, পতিব্রতার মহিমা দেবতাদেরও বশ করতে পারে এবং মৃত্যুর ফলও উল্টে দিতে সক্ষম। ইন্দ্রের উপদেশ সত্ত্বেও কাম নিবৃত্ত হয় না। সে প্রীতিকে নিয়োগ করে এবং সুকলা নামের সদ্গুণী বৈশ্য-পত্নী ও নন্দনবনের মতো উপবনের আশ্রয়ে এক কৌশল স্থির করে—ধর্মের সম্মুখে কামশক্তির সীমা পরীক্ষা করতেই দেবপক্ষ অগ্রসর হয়।

25 verses

Adhyaya 56

Kāma and Indra’s Attempt to Shatter Chastity; the ‘Abode of Satya’ and the Ethics of the Virtuous Home

এই অধ্যায়ে গৃহস্থাশ্রমকে সত্য ও পুণ্যের ‘ধাম’ রূপে প্রতিষ্ঠা করে নৈতিক সংকটের কাহিনি বলা হয়েছে। সহস্রাক্ষ ইন্দ্রের সঙ্গে কাম/মনমথ এসে পতিব্রতা-ধর্ম ও গৃহের শৃঙ্খলা ভাঙতে চায়। যেখানে ক্ষমা, শান্তি, সংযম, করুণা, গুরুসেবা ও বিষ্ণুভক্তি বিরাজ করে, সেই সদ্গৃহকে ‘সত্যধাম’ বলে প্রশংসা করা হয়েছে; সেখানে লক্ষ্মীসহ বিষ্ণু এবং দেবগণও প্রসন্ন হয়ে অবস্থান করেন। তবে কামনার অনুপ্রবেশ মহৎ ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে—বিশ্বামিত্র–মেনকা ও অহল্যার দৃষ্টান্ত স্মরণ করিয়ে সতর্ক করা হয়। তখন ধর্মরাজ যম কামের তেজ দমন করে তার পতন ঘটানোর সংকল্প নেন। এদিকে ‘প্রজ্ঞা’ পাখিরূপ শুভলক্ষণ হয়ে স্বামীর প্রত্যাবর্তনের সংবাদ দেয়, ফলে সুকলার দৃঢ়তা স্থিত হয়। উপসংহার—গৃহস্থে সত্য ও পতিব্রতার রক্ষা কেবল বলপ্রয়োগে নয়, বিবেক, শুভসংকেত ও অটল ধর্মাচরণে সম্পন্ন হয়।

37 verses

Adhyaya 57

The Tale of Sukalā: Illusion, Desire, and the Testing of a Chaste Wife (within the Vena Cycle)

ভূমিখণ্ডের বেন-প্রসঙ্গধারায় এই অধ্যায়ে সুকলা নাম্নী পতিব্রতার পরীক্ষা উপলক্ষে মায়া ও কামনার কার্যপ্রণালী প্রকাশিত হয়। বিষ্ণু বলেন—পৃথিবী ক্রীড়াবশে সতীরূপ ধারণ করে সাধ্বীর নিকট আসে; সুকলা সত্যনিষ্ঠ উত্তরে জানায় যে স্বামীই নারীর প্রধান ‘ভাগ্য’ ও আশ্রয়, স্বামীতেই তার ধর্মস্থিতি। স্বামী-বিচ্ছেদে তার বিলাপের সঙ্গে শাস্ত্রবচনে ‘পতি = স্ত্রীভাগ্য’ এই সাধারণ সত্যও উচ্চারিত হয়। পরে কাহিনি নন্দনসদৃশ দীপ্ত অরণ্য ও পাপহর তীর্থে গিয়ে পৌঁছায়, যেখানে মায়া সুকলাকে ভোগময় পরিবেশে টেনে আনে। সেখানে ইন্দ্র ও কাম উপস্থিত হয়; কাম ব্যাখ্যা করে—স্মৃতি, রূপকল্পনা ও মনোআসক্তির দ্বারা কামনা কীভাবে জাগে, এবং রূপান্তর ধারণ করে কীভাবে বিভ্রম ঘটায়। শেষে কুসুমায়ুধ পতিব্রতাকে বাণবিদ্ধ করতে উদ্যত হলে কাম ও ধর্মের নৈতিক সংঘাত স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

39 verses

Adhyaya 58

The Account of Sukalā: Chastity Overcomes Kāma and an Indra-like Trial

সুকলা নামে এক পতিব্রতা বৈশ্য-পত্নী কামদেব-সম্পর্কিত এক দিব্য অরণ্যে প্রবেশ করে। সুগন্ধ, রস ও ভোগের আবেশে ভরা সেই উপবনেও তার মন বিচলিত হয় না; বায়ু ও গন্ধের উপমায় বোঝানো হয়—প্রলোভনের নিকটে থাকা মানেই অন্তরে তাতে অংশ নেওয়া নয়। রতি ও প্রীতি প্রভৃতি কামের দূতীরা তাকে প্ররোচিত করতে আসে, কিন্তু সুকলা দৃঢ়ভাবে বলে—তার একমাত্র কামনা স্বামীই। সে জানায়, তার “প্রহরী” হল সত্য, ধর্ম, শুচিতা, সংযম ও বিবেক—এই গুণসমূহই তার অন্তর্দুর্গ, যা সহস্রাক্ষ ইন্দ্রও জয় করতে পারে না। ইন্দ্র যখন কামকে নিজের শক্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বলে, তখন দেবতারা শাপ ও পরাজয়ের ভয়ে সরে যায়। শেষে সুকলা গৃহে ফিরে আসে; তার গৃহ তীর্থসঙ্গম ও যজ্ঞের ন্যায় পবিত্র হয়ে ওঠে—পতিব্রতা-ধর্মের মহিমা এতে প্রকাশিত হয়।

44 verses

Adhyaya 59

The Sukalā Account in the Vena Episode: Krikala, Pilgrimage, and the Primacy of Wifely-Dharma

কৃকলা নামের এক বণিক বহু তীর্থ ভ্রমণ করে আনন্দিত মনে ফিরে আসে এবং ভাবে—তার জীবন সার্থক, পিতৃগণেরও গতি নিশ্চিত। তখন দেবীয় হস্তক্ষেপ ঘটে; পিতামহ ব্রহ্মা আবির্ভূত হয়ে পিতৃদের বন্ধন করেন এবং ঘোষণা করেন যে কৃকলার পরম পুণ্য লাভ হয়নি। আর এক মহাকায় দেবসদৃশ ব্যক্তি বলে ওঠে—এই তীর্থযাত্রা ফলহীন। বিষণ্ণ কৃকলা জিজ্ঞাসা করে—পুণ্য কেন ফলল না, পিতৃরা কেন বাঁধা? ধর্ম উত্তর দেন—কারণ দোষ আছে; সে শুদ্ধা, পতিব্রতা, সদ্গুণবতী স্ত্রীকে ত্যাগ করেছে এবং স্ত্রীকে বাদ দিয়ে শ্রাদ্ধাদি কর্ম করেছে, তাই তার পুণ্য নিষ্ফল হয়েছে। অধ্যায়ে স্ত্রীর মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠিত—গৃহস্থধর্মে স্ত্রীই অপরিহার্য সহধর্মিণী; তাঁর সম্মানে গৃহই তীর্থসঙ্গমের ন্যায় পবিত্র হয়। স্ত্রীবিহীন ধর্ম অসম্পূর্ণ ও ফলহীন; সঠিক গৃহব্যবস্থায় পিতৃগণ তুষ্ট হন এবং যজ্ঞজীবন স্থিত থাকে।

35 verses

Adhyaya 60

The Account of Sukalā and the Greatness of Nārī-tīrtha (Wife-Assisted Śrāddha and Pitṛ-Liberation)

কৃকলা ধর্মরাজকে জিজ্ঞাসা করল—কীভাবে সিদ্ধি লাভ হবে এবং পিতৃদের মুক্তি কীভাবে সম্ভব। ধর্ম বললেন—গৃহে ফিরে পতিব্রতা স্ত্রী সুকলাকে সান্ত্বনা দাও এবং তার সহায়তায় শ্রাদ্ধ করো; গৃহস্থাশ্রমেই ধর্ম (এবং অর্থ)-এর পরিপূর্ণতা, আর যজ্ঞ-শ্রাদ্ধে গৃহিণীর অংশগ্রহণ অপরিহার্য। কৃকলা ফিরে এলে সুকলা মঙ্গল-স্বাগত করে; উভয়ে দেবালয়ে তীর্থস্মরণ ও দেবপূজাসহ পুণ্য শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করে। তখন পিতৃগণ ও দেবগণ দিব্য বিমানে উপস্থিত হন; ঋষিদের সঙ্গে ব্রহ্মা, দেবীসহ মহেশ্বর এবং অন্যান্য দিব্য সাক্ষীরা দম্পতির প্রশংসা করেন—বিশেষত সুকলার সত্যনিষ্ঠার। বর প্রদান করা হলে দম্পতি চিরভক্তি, ধর্ম এবং পিতৃসহ বৈষ্ণবলোকে গমন প্রার্থনা করে। শেষে সেই স্থান ‘নারী-তীর্থ’ নামে খ্যাত হয় এবং শ্রবণমাত্রে পাপনাশ, সমৃদ্ধি, বিদ্যা, বিজয় ও বংশকল্যাণের ফল বলা হয়।

33 verses

Adhyaya 61

Vena’s Inquiry into Pitṛ-tīrtha: Pippala’s Austerity, the Vidyādhara Boon, and the Crane’s Rebuke of Pride

এই অধ্যায়ে বেণ বিষ্ণুর কাছে পিতৃ-তীর্থের উপদেশ চান—যা ‘পুত্রদের মুক্তি’ সাধনে সর্বোত্তম বলে বর্ণিত। সূতও রাজশ্রেষ্ঠকে এই কাহিনি শোনাতে শোনাতে প্রসঙ্গের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেন। কুরুক্ষেত্রে কুণ্ডল-পুত্র সুকর্মার প্রশংসা করা হয়—তিনি অক্লান্ত গুরু-সেবা করেন, বিনয় ও শ্রদ্ধায় আচরণ করেন। সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয় যে মাতাপিতার সেবা ধর্মের মূল। এরপর মূল কাহিনিতে কাশ্যপ-পুত্র ব্রাহ্মণ পিপ্পল দশারণ্যে সহস্রাব্দকাল কঠোর তপস্যা করেন—সাপ, ঢিবি/উইঢিবি, শীত-উষ্ণ, বায়ু-বৃষ্টি প্রভৃতি কষ্ট সহ্য করে। দেবগণ প্রসন্ন হয়ে বর দেন এবং তিনি বিদ্যাধর-পদ লাভ করেন। কিন্তু সিদ্ধি পেয়ে তাঁর অহংকার জন্মায়, তিনি সর্বাধিপত্য কামনা করেন। তখন সারস (ক্রেন) তাঁকে তিরস্কার করে বলে—শুদ্ধ উদ্দেশ্যহীন তপস্যা কেবল শক্তি দেয়, ধর্ম দেয় না; সত্য ধর্ম বিনয় ও জ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত। শেষে পিপ্পলকে আত্মমোহ ছেড়ে গভীর জ্ঞান অন্বেষণের পথে নির্দেশ দেওয়া হয়।

61 verses

Adhyaya 62

The Glory of the Mother-and-Father Tīrtha (Within the Vena Episode)

বিষ্ণু বর্ণনা করেন—কুণ্ডলের আশ্রমে তিনি দেখেন সুকর্মা পিতা‑মাতার চরণতলে বসে নিবিড়ভাবে সেবা করছে; পুত্রধর্মের আদর্শরূপে সে প্রকাশিত। তখন পিপ্পল নামক বিদ্যাধর/ব্রাহ্মণ আগমন করলে তাকে আসন, পাদ্য, অর্ঘ্য প্রভৃতি দ্বারা শাস্ত্রসম্মত অতিথি‑সৎকার করা হয়। সুকর্মার জ্ঞান ও শক্তির উৎস নিয়ে কথোপকথন শুরু হয়। দেবতাদের আহ্বান করা হলে তাঁরা প্রকাশিত হয়ে বর দিতে চান। সুকর্মা সেই বর নিজের ভোগ বা ক্ষমতার জন্য নয়, ভক্তির বৃদ্ধির জন্য এবং পিতা‑মাতার বৈষ্ণবধাম‑প্রাপ্তির জন্য নিবেদন করে। এরপর পরমেশ্বরের অনির্বচনীয় স্বরূপের আলোচনা আসে; অন্তর্দর্শনে শेषশায়ী জনার্দন, মার্কণ্ডেয়ের বিচরণ এবং দেবীর মহামায়া/কালরাত্রি রূপ প্রকাশ পায়। অধ্যায়ের সিদ্ধান্ত—প্রতিদিন প্রত্যক্ষভাবে পিতা‑মাতার সেবাই পরম তীর্থ ও ধর্মের সার; তপস্যা, যজ্ঞ ও তীর্থযাত্রার চেয়েও তা শ্রেষ্ঠ। জীবিত পিতা‑মাতাকে গুরু ও তীর্থ জেনে ভক্তিভরে সেবা করাই প্রধান।

82 verses

Adhyaya 63

The Glory of the Mother-and-Father Sacred Ford (Mātāpitṛ-tīrtha-māhātmya)

এই অধ্যায়ে (ভেনোপাখ্যানের অন্তর্গত) বলা হয়েছে যে জীবিত পিতা-মাতার সেবা-শুশ্রূষাই পরম তীর্থ এবং পূর্ণ ধর্ম। যে পুত্র স্নেহভরে তাঁদের পালন করে, বিষ্ণু তার প্রতি প্রসন্ন হন এবং বৈষ্ণবলোকে গমনের যোগ্যতা লাভ হয়। কুষ্ঠ প্রভৃতি রোগে আক্রান্ত, বৃদ্ধ ও কষ্টভোগী পিতা-মাতাকেও যে সন্তান ভালোবাসায় সেবা করে, তার মহিমা কীর্তিত হয়েছে। আর যে সন্তান জরা বা ব্যাধিগ্রস্ত পিতা-মাতাকে ত্যাগ করে, তার জন্য নরকভোগ এবং কর্মফলে কুকুর, শূকর, সাপ, বাঘ/ভালুক ইত্যাদি নীচ যোনিতে জন্মের কথা বলা হয়েছে। শেষে গ্রন্থটি জানায়—পিতা-মাতার সম্মান ব্যতীত বেদাধ্যয়ন, তপস্যা, যজ্ঞ, দান ও তীর্থযাত্রা নিষ্ফল। পিতা-মাতৃভক্তি থেকেই জ্ঞান, যোগসিদ্ধি ও শুভগতি জন্মায়।

30 verses

Adhyaya 64

Yayāti’s Summons to Heaven and the Teaching on Old Age, the Five-Element Body, and Self–Body Discernment

অধ্যায়ের শুরুতে যদুর পরম সুখ ও রুরুর পাপফলের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা ওঠে। পিপ্পলের প্রশ্নের উত্তরে সুকর্মা নহুষ ও যযাতির পবিত্র কাহিনি আরম্ভ করেন। যযাতির ধর্মময় রাজত্ব, যজ্ঞ ও দানশীলতার প্রশংসায় ইন্দ্রের মনে আশঙ্কা জাগে—যেন যযাতি স্বর্গে তাঁকে অতিক্রম না করেন। নারদ যযাতির গুণাবলি সত্য বলে নিশ্চিত করলে ইন্দ্র মাতলিকে পাঠিয়ে যযাতিকে স্বর্গে আহ্বান করেন। যযাতি প্রশ্ন করেন—পঞ্চভূতে গঠিত স্থূল দেহ ত্যাগ করে মানুষ কীভাবে অর্জিত লোক লাভ করে? মাতলি সূক্ষ্ম দিব্য দেহের কথা বলেন এবং দেহ-নীতি শিক্ষা দেন: দেহের পঞ্চতত্ত্ব-সংগঠন, বার্ধক্যের অনিবার্যতা, অন্তর্গত ‘অগ্নি’, ক্ষুধা, রোগ, এবং কামনার ক্ষয়কর চক্র যা প্রাণশক্তি নিঃশেষ করে। শেষে আত্মা ও দেহের ভেদ প্রতিপাদিত হয়—আত্মা চলে যায়, দেহ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়; পুণ্যও জরা থামাতে পারে না।

95 verses

Adhyaya 65

Greatness of the Mother-and-Father Tīrtha (within the Vena Episode)

এই অধ্যায়ে রাজা যযাতি দিব্য সারথি মাতলিকে জিজ্ঞাসা করেন—যে দেহ ধর্ম রক্ষা করেছে, সে দেহ কেন স্বর্গে ওঠে না? মাতলি বলেন, আত্মা পঞ্চমহাভূত থেকে পৃথক; ভূতগুলি প্রকৃতপক্ষে একত্রে স্থায়ীভাবে মিলিত হয় না, বার্ধক্য ও মৃত্যুর সময়ে তারা নিজ নিজ স্থানে ফিরে যায়। তিনি পৃথিবী–দেহের উপমা দেন—যেমন ভেজা মাটি নরম হয়ে পিঁপড়ে ও ইঁদুরে ছিদ্রিত হয়, তেমনই দেহে ফোলা, ফুসকুড়ি, কৃমি এবং যন্ত্রণাদায়ক গাঁট দেখা দেয়। উপসংহার—দেহের পার্থিব অংশ পৃথিবীতেই লীন হয়; কেবল প্রাণের সংযোগ স্বর্গলাভের যোগ্যতা নয়—স্বর্গগমন আত্মা ও পুণ্যের দ্বারা, নশ্বর দেহের দ্বারা নয়। এটি বেন-প্রসঙ্গে ‘মাতৃ-পিতৃ তীর্থ’-মাহাত্ম্য অধ্যায়।

10 verses

Adhyaya 66

Pitṛmātṛtīrtha Greatness & the Discourse on Embodiment: Karma, Birth, Impurity, and Dispassion

এই অধ্যায়ে ভূমিখণ্ডের ধারায় পুলস্ত্য মুনি রাজাকে পিতৃমাতৃতীর্থের মাহাত্ম্য উপলক্ষে গভীর উপদেশ প্রদান করেন। শুরুতে যযাতি ও মাতলির সংলাপে কর্মানুসারে দেহের পতন ও পুনর্জন্মের কথা ওঠে; পরে জন্মের প্রকারভেদ, আহার‑পাচন, দেহগঠন, ভ্রূণতত্ত্ব, গর্ভবাসের যন্ত্রণা ও প্রসববেদনা ক্রমান্বয়ে বর্ণিত হয়। দেহের স্বাভাবিক অশুচিতা দেখিয়ে কেবল বাহ্য শুদ্ধির উপর নির্ভরতার সমালোচনা করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে—অন্তরের ভাবই প্রকৃত শুদ্ধিকারক। পৃথিবী‑স্বর্গ‑নরকসহ সকল অবস্থায় দুঃখের ব্যাপকতা দেখিয়ে ক্ষমতা ও ঐশ্বর্যের অহংকার ভাঙা হয়; শেষে মুক্তির ক্রম—নির্বেদ থেকে বৈরাগ্য, বৈরাগ্য থেকে জ্ঞান, জ্ঞান থেকে মোক্ষ—প্রতিপাদিত। উপসংহারে বেন‑প্রসঙ্গের মধ্যে পিতৃমাতৃতীর্থ‑মাহাত্ম্যের সঙ্গে অধ্যায়ের যোগ নির্দেশিত।

225 verses

Adhyaya 67

Pitṛ-tīrtha Context: Marks of Sin, Śrāddha Discipline, and Karmic Ripening (in Yayāti’s Narrative)

অধ্যায় ৬৭ (PP.2.67) যযাতির কাহিনির মধ্যে পিতৃ-তীর্থ প্রসঙ্গে উপস্থিত। রাজসাক্ষাৎকারের পর মাতলি পাপাচরণের লক্ষণসমূহ উপদেশরূপে বলেন—বেদের নিন্দা ও ব্রহ্মচর্যকে কলুষিত করা, সাধুজনকে কষ্ট দেওয়া, কুলাচার ত্যাগ, এবং পিতা-মাতা ও স্বজনদের অবমাননা। এইসব কর্ম কীভাবে পাপকে পরিপক্ব করে এবং যথাকালে ফল দেয়, তা ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত। এরপর শ্রাদ্ধ ও দানের শাস্ত্রসম্মত নিয়ম বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে—কাদের ব্রাহ্মণকে নিমন্ত্রণ করা উচিত, বংশ ও আচরণ দেখে কীভাবে যাচাই করতে হয়, যোগ্য পাত্রকে উপেক্ষা করে অযোগ্যকে দান করলে দোষ, এবং দক্ষিণা না দিলে বা কৃপণতা করলে যে অধর্ম জন্মায়। শ্রদ্ধা থাকলেও বিধি ও পাত্রতা পূর্ণ না হলে পিতৃতৃপ্তি ক্ষুণ্ণ হয়—এ কথা স্পষ্ট করা হয়েছে। শেষাংশে মহাপাতক ও সমতুল্য পাপ, চৌর্য, কাম-অপরাধ, গোর প্রতি নিষ্ঠুরতা, এবং রাজশক্তির অপব্যবহার ইত্যাদি উল্লেখিত। যমের অধীনে পরলোকীয় দণ্ড ও কর্মফলভোগের বিধান দেখিয়ে বলা হয়—প্রায়শ্চিত্ত ধর্মের সংশোধন-উপায়, যা পাপক্ষয় করে জীবকে শুদ্ধ পথে ফিরিয়ে আনে।

115 verses

Adhyaya 68

Fruits of Righteousness: Charity, Faith, and the Path to Yama

অধ্যায় ২.৬৮ অধর্মের ফল থেকে সরে এসে ধর্মের মহিমা ও ফল বর্ণনা করে। বলা হয়েছে—বালক-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, সকল অবস্থার জীবই অবশ্যম্ভাবীভাবে যমলোকে গমন করে; সেখানে চিত্রগুপ্ত প্রভৃতি নিরপেক্ষ বিচারক শুভ-অশুভ কর্ম পরীক্ষা করে যথাযথ ফল নির্ধারণ করেন। এই কঠিন যাত্রাকে মৃদু করে এবং পরলোকগতিকে উন্নত করে এমন ধর্মকর্মের কথা বলা হয়েছে—করুণা, কোমল আচরণ ও ‘সৌম্য পথ’ অবলম্বন। বিশেষত দানের প্রশংসা করা হয়েছে: পাদুকা, ছাতা, বস্ত্র, পালকি, আসন, উদ্যান, মন্দির, আশ্রম এবং দরিদ্রদের জন্য বিশ্রামগৃহ/সভামণ্ডপ ইত্যাদি দান মহাফলদায়ক। এখানে শ্রদ্ধার গুরুত্ব সর্বাধিক—শ্রদ্ধাসহ অতি সামান্য দান, এমনকি ক্ষুদ্র মুদ্রাও, যোগ্য ও অভাবগ্রস্ত ব্রাহ্মণকে, বিশেষ করে শ্রাদ্ধ-প্রসঙ্গে, প্রদান করলে নিশ্চিতভাবে মহান পুণ্য লাভ হয়।

18 verses

Adhyaya 69

The Teaching on Śiva-Dharma and the Supremacy of Food-Giving (within the Pitṛtīrtha–Yayāti Episode)

অধ্যায় ৬৯-এ শিবধর্মকে বহু-শাখাবিশিষ্ট পরম পথ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে—শিবনিষ্ঠ কর্মযোগ, অহিংসা, শুচিতা ও সর্বজনকল্যাণ যার মূল। ধর্মের দশটি ভিত্তিগুণ উল্লেখ করে বলা হয়, শিবভক্তেরা শিবপুর/রুদ্রলোক লাভ করে; সেখানে ভোগ-সুখ পুণ্যের পরিমাণ অনুযায়ী ভিন্ন হয়, বিশেষত দানের পাত্রের যোগ্যতা ও দাতার শ্রদ্ধা ফলকে বৃদ্ধি করে। এখানে জ্ঞানযোগে মুক্তি এবং ভোগাসক্তিতে পুনর্জন্ম—এই ভেদ দেখিয়ে বৈরাগ্য ও শিবতত্ত্বজ্ঞান অর্জনের উপদেশ দেওয়া হয়েছে। পরে অন্নদানকে সর্বোচ্চ দান বলা হয়—অন্ন দেহ ধারণ করে, আর দেহই সকল পুরুষার্থের সাধন; অন্নকে প্রজাপতি, বিষ্ণু ও শিবের স্বরূপ রূপে মান্য করা হয়েছে। পিতৃকার্যে দানের বিধান, নিষ্ঠুরতার কুফল, এবং শেষে শিবপুরী, বৈকুণ্ঠ, ব্রহ্মলোক ও ইন্দ্রলোক প্রভৃতি গন্তব্যের তুলনামূলক ফলবর্ণনা করা হয়েছে।

40 verses

Adhyaya 70

Description of Yama’s Torments and the Discernment of Sin and Merit

এই অধ্যায়ে মাতলির উক্তি দিয়ে শুরু করে যমের অধিকারভুক্ত দণ্ডবিধানের ভয়ংকর বিবরণ দেওয়া হয়েছে। মহাপাপীরা—বিশেষত ব্রাহ্মণহন্তা প্রভৃতি—বিভিন্ন যন্ত্রণায় ভোগ করে: গোবর-অগ্নিতে দহন, হিংস্র পশু ও বিষধর প্রাণীর আক্রমণ, হাতি ও শিংওয়ালা জন্তুর পদদলন, এবং ডাকিনী ও রাক্ষসদের তাড়না। এর সঙ্গে রোগযন্ত্রণা, প্রবল ঝড়ো হাওয়া, পাথর-বৃষ্টি, বজ্রাঘাত, উল্কাপাত, অঙ্গারবৃষ্টি ও ধূলিঝড়ের মতো মহাভয়ও বর্ণিত। ‘মহাতুলা’—এক মহান দাঁড়িপাল্লার উপমায় পাপ-পুণ্যের বিচার ও পরিমাপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। শেষে বক্তা পুণ্য-পাপের বিবেচনা ব্যাখ্যা করেছেন বলে উপসংহার টানেন; এই ধর্মোপদেশ বৃহত্তর বেণ–পিতৃতীর্থ–যযাতি কাহিনির পরিসরে স্থাপিত।

12 verses

Adhyaya 71

Yayāti and Mātali on the Order of Divine Worlds, the Merit of Śiva’s Name, and the Unity of Śiva and Viṣṇu

ধর্ম ও অধর্মের সূক্ষ্ম বিচারসমৃদ্ধ বর্ণনা শুনে যযাতি পুনরায় দৃঢ় বিশ্বাস লাভ করেন। এরপর দেবলোকসমূহের প্রসিদ্ধ সংখ্যা, স্তরভেদ ও প্রাপ্তি সম্পর্কে মাতলিকে প্রশ্ন করা হয়। মাতলি তপস্যা, যোগসাধনা ও বংশগত ঐশ্বর্যের দ্বারা অর্জিত রাজ্য ও লোকের ক্রম ব্যাখ্যা করেন—রাক্ষস, গন্ধর্ব, যক্ষ প্রভৃতি থেকে শুরু করে ইন্দ্র, সোম, ব্রহ্মার লোক পর্যন্ত, এবং সর্বোচ্চ শিবপুরকে চূড়ান্ত গতি বলে স্থির করেন। তারপর আলোচনাটি ভক্তিতে প্রবেশ করে—শিবকে প্রণাম এবং এমনকি অনিচ্ছাকৃত শিবনামোচ্চারণও মহাপুণ্যদায়ক, পতনহীন ফল প্রদানকারী; দিব্য রথযান লাভ ও নানারূপ তারকামণ্ডল দর্শনের মতো ফলের কথা বলা হয়। শেষে তত্ত্বগত ঐক্য ঘোষণা করা হয়—শৈব ও বৈষ্ণব রূপ একসার; শিব বিষ্ণুর মধ্যে এবং বিষ্ণু শিবের মধ্যে বিরাজমান, ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর ত্রয়ী এক দেহধারী সত্য। উপসংহারে সুকর্মা জানান, যযাতিকে উপদেশ দিয়ে মাতলি নীরব হন।

28 verses

Adhyaya 72

Yayāti and Mātali: Embodiment, Dharma as Rejuvenation, and the Medicine of Kṛṣṇa’s Name

পিপ্পলের প্রশ্নে সূকর্মা ইন্দ্রের সারথি মাতলির কাছে রাজা যযাতির উত্তর বর্ণনা করেন। মাতলি স্বর্গে ফিরে যেতে বা দেহ ত্যাগ করতে অনুরোধ করলে যযাতি তা মানেন না। তিনি বলেন—দেহ ও প্রাণ পরস্পর-নির্ভর; দেহকে অস্বীকার করে বা একাকী সাধনায় প্রকৃত সাফল্য লাভ হয় না। যযাতি দেহকে ধর্মের ক্ষেত্র রূপে দেখান—পাপ থেকে রোগ ও জরা জন্মায়, আর সত্য, দান, পূজা ও নিয়মিত ধ্যান দেহ-মনকে বলবান করে। বিশেষত সন্ধ্যাকালে হৃষীকেশের স্মরণ এবং কৃষ্ণনামের উচ্চারণ পরম ঔষধের মতো দোষ নাশ করে প্রাণশক্তি নবীকৃত করে। বহু বছর পরেও নিজের যৌবন-প্রভা উল্লেখ করে তিনি স্থির করেন—অন্যত্র স্বর্গ চাই না; তপস্যা, শুভ সংকল্প ও হরির কৃপায় এই পৃথিবীকেই স্বর্গসম করব। মাতলি এ সংবাদ ইন্দ্রকে জানাতে চলে যায়, আর ইন্দ্র যযাতিকে স্বর্গে আনার উপায় ভাবেন।

33 verses

Adhyaya 73

Yayāti’s Proclamation: Spreading the Nectar of the Divine Name (All-Vaiṣṇava Gift)

পিপ্পল জিজ্ঞাসা করেন—ইন্দ্রের দূত চলে যাওয়ার পরে যযাতি কী করলেন। সুকর্মা বলেন, রাজপুত্র যযাতি চিন্তা করে দূতদের ডেকে দেশ-দেশান্তর ও দ্বীপসমূহে ধর্মসম্মত ঘোষণা প্রচার করতে আদেশ দিলেন। ঘোষণায় মধুসূদনের একান্ত উপাসনার নির্দেশ আছে—ভক্তি, জ্ঞান-ধ্যান, পূজা, তপস্যা, যজ্ঞ ও দানের সঙ্গে বিষয়-ত্যাগ আবশ্যক। বিষ্ণুকে সর্বত্র দেখতে বলা হয়—শুষ্ক-আর্দ্রে, চল-অচল জীবজগতে, মেঘ ও পৃথিবীতে, এমনকি নিজের দেহে প্রাণরূপে। নারায়ণের উদ্দেশে দান, অতিথি-সেবা ও পিতৃতর্পণ করতে বলা হয়; আদেশ অমান্য করা নিন্দিত। দূতেরা এই আদেশকে পরম পুণ্যদায়ক ‘অমৃত’ বলে প্রচার করে, বিশেষত দিব্য নামের অমৃত—কেশব, শ্রীনিবাস, পদ্মনাথ, রাম—যার জপ পাপ-দোষ দূর করে এবং নিয়মপরায়ণ বৈষ্ণব সাধককে শেষে মুক্তিতে পৌঁছে দেয়।

18 verses

Adhyaya 74

Yayāti’s Proclamation of Hari-Worship and the Ideal Vaiṣṇava Society (in the Mata–Pitri Tirtha Cycle)

এই অধ্যায়ে রাজদূত সুকর্মা রাজাজ্ঞা ঘোষণা করেন—সর্বত্র শ্রীহরির পূজা হোক। দান, যজ্ঞ, তপস্যা, পূজা ও একাগ্র ভক্তি—যে যে উপায়ে সম্ভব—সবাই বিষ্ণুর আরাধনা করবে; এই নির্দেশ তিনি দ্বিজশ্রেষ্ঠ ও প্রজাদের শোনান। এর দীর্ঘমেয়াদি ফল হিসেবে এক আদর্শ বৈষ্ণব সমাজের চিত্র ফুটে ওঠে। ধর্মজ্ঞ রাজা যযাতির শাসনে জপ, কীর্তন, স্তোত্রপাঠ ও নামস্মরণ সর্বত্র প্রসারিত হয়; দেহ-বাক্য-মন শুদ্ধ হয় এবং শোক, রোগ, ক্রোধ প্রভৃতি দোষ ক্ষয় হয়ে প্রজাদের সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। ঘরে ঘরে তুলসীসেবা ও দেবালয়, দ্বারে শঙ্খ-স্বস্তিক-পদ্মাদি মঙ্গলচিহ্ন, ভক্তিসঙ্গীত ও কলার বিকাশ, এবং হরি, কেশব, মাধব, গোবিন্দ, নরসিংহ, রাম, কৃষ্ণ প্রভৃতি নামের নিরন্তর জপ—এসবই এই আদর্শের লক্ষণ। উপসংহারে এই বর্ণনা মাতা–পিতৃ তীর্থ-প্রসঙ্গ ও বেন-কথার ধারার সঙ্গে যুক্ত করা হয়; প্রসঙ্গে পুলস্ত্যের নামও উল্লিখিত।

30 verses

Adhyaya 75

Yayāti’s Vaiṣṇava Rule and the Earth Made Like Vaikuṇṭha (with Viṣṇu Name-Invocation)

অধ্যায়ের শুরুতে সুকর্মার কণ্ঠে সংক্ষিপ্ত বৈষ্ণব স্তোত্র—ভগবান বিষ্ণুর বহু নাম ও অবতার একত্রে স্মরণ করা হয়: কৃষ্ণ, রাম, নারায়ণ, নৃসিংহ; কেশব, পদ্মনাভ, বাসুদেব; এবং মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, বামন প্রভৃতি। এরপর সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে হরিনাম-সংকীর্তনের ব্যাপকতা বর্ণিত হয়—সবাই হরির গুণগান করে, ভক্তির প্রভাবে ধর্ম বৃদ্ধি পায়। বৈষ্ণব প্রভাবে পৃথিবী যেন বৈকুণ্ঠের প্রতিরূপ হয়ে ওঠে—রোগ, জরা ও মৃত্যুর আতঙ্ক প্রশমিত হয়; দান, যজ্ঞ, জ্ঞান ও ধ্যানের প্রসার ঘটে। নহুষবংশীয় রাজা যযাতিকে আদর্শ বৈষ্ণব শাসক রূপে দেখানো হয়েছে; তাঁর পুণ্যে লোকলোকান্তরে একরূপ কল্যাণকর অবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। যমদূতেরা পাপীদের নিতে এলে বিষ্ণুদূতেরা তাদের প্রতিহত করে; তারা এই বিস্ময়কর ঘটনা ধর্মরাজকে জানায়। ধর্মরাজ রাজাধিরাজের আচরণ বিচার করে তাঁর বৈষ্ণব-ধর্মপালনের মাহাত্ম্য স্বীকার করেন; অধ্যায়টি যযাতি-প্রসঙ্গ ও তীর্থকথার সূত্রে সমাপ্ত হয়।

36 verses

Adhyaya 76

The Story of Yayāti: Indra and Dharmarāja on Vaiṣṇava Dharma and the ‘Heavenizing’ of Earth

সৌরি দূতদের সঙ্গে স্বর্গে এসে ইন্দ্রের সাক্ষাৎ পায়। ইন্দ্র ধর্মরাজকে অর্ঘ্যাদি দিয়ে সম্মান করে জিজ্ঞাসা করেন—এমন অবস্থা কীভাবে ঘটল। তখন ধর্মরাজ যযাতির অসাধারণ পুণ্যকীর্তি বলেন—নহুষপুত্র যযাতি বৈষ্ণবধর্মের প্রভাবে পৃথিবীর মানুষকে অমরসম করে তুলেছেন; রোগ, মিথ্যা, কামনা ও পাপহীন প্রজার ফলে ভূর্লোক বৈকুণ্ঠসদৃশ হয়ে উঠেছে। এক বক্তা কর্মক্ষয়ে পদচ্যুতির বিলাপ করে লোককল্যাণের জন্য ইন্দ্রকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করে। ইন্দ্র জানান, তিনি আগেও সেই মহাত্মা রাজাকে স্বর্গে আহ্বান করেছিলেন, কিন্তু যযাতি স্বর্গসুখ প্রত্যাখ্যান করে প্রতিজ্ঞা করেন—ধর্মরক্ষায় পৃথিবীকেই স্বর্গসম করবেন। যযাতির ধর্মতেজে শঙ্কিত ধর্মরাজ ইন্দ্রকে তাঁকে স্বর্গে আনতে চাপ দেন। তখন ইন্দ্র কামদেব ও গন্ধর্বদের ডেকে নাট্য-গীত, বামনস্তব এবং জরা (বার্ধক্য)-প্রবেশের অভিনয় সাজিয়ে রাজাকে মোহিত করে স্বর্গগমনে প্রবৃত্ত করার কৌশল স্থির করেন।

34 verses

Adhyaya 77

The Account of King Yayāti: Kāmasaras, Rati’s Tears, and the Birth of Aśrubindumatī (within the Mātā–Pitṛ Tīrtha Narrative)

এই অধ্যায়ে নহুষপুত্র রাজা যযাতি কামদেবের মোহে আবিষ্ট হয়ে অন্তরে জরা ও কামনায় কাতর হন। এক আশ্চর্য চার-শিংওয়ালা স্বর্ণমৃগের পিছু নিতে নিতে তিনি নন্দনবনের ন্যায় মনোরম অরণ্যে প্রবেশ করে এক মহাপুণ্য সরোবর দর্শন করেন—কামসরস। দিব্য সঙ্গীতের মধ্যে এক দীপ্তিমতী নারীর দর্শনে তাঁর বাসনা আরও তীব্র হয়। বরুণকন্যা বিশালা এই তীর্থের মাহাত্ম্য বলেন। শিবের দ্বারা কাম দগ্ধ হলে রতির শোকাশ্রু থেকে জরা, বিরহ, শোক, দাহ, মূর্ছা, কামরোগ, উন্মাদনা ও মৃত্যু প্রভৃতি দুঃখরূপ শক্তি ব্যক্ত হয়ে ওঠে; পরে শুভ গুণের উদ্ভব হয় এবং শেষে পদ্মজাত কন্যা ‘অশ্রুবিন্দুমতী’ প্রকাশিত হন। যযাতি মিলন কামনা করলে তিনি জানান—যযাতির দোষ জরা; অতএব পুত্রকে রাজ্য অর্পণ করে (যৌবন-জরা বিনিময়ের পথে) ধর্মসমস্যার সমাধান করতে হবে—তীর্থপ্রভাব ও নৈতিক কারণ-কার্যকে যুক্ত করে যযাতির প্রসিদ্ধ কাহিনি এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়।

108 verses

Adhyaya 78

The Yayāti Episode (with the Glory of Mātā–Pitṛ Tīrtha)

এই অধ্যায়ে বার্ধক্যে জর্জরিত রাজা যযাতি কামবাসনায় অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে পুত্রদের ডেকে বলেন—তাঁর জরা ও দুর্বলতা তারা গ্রহণ করুক, আর তাদের যৌবন তিনি গ্রহণ করবেন। পুত্রেরা তাঁর এই হঠাৎ চিত্তচাঞ্চল্যের কারণ জিজ্ঞাসা করলে যযাতি জানান, নর্তকীসমূহ ও এক নারীর প্রতি আসক্তি তাঁর মনকে উত্তপ্ত করেছে। তুরু এবং পরে যদু যখন বার্ধক্য গ্রহণে অস্বীকার করে, তখন ক্রুদ্ধ যযাতি কঠোর শাপে তাদের ভবিষ্যৎ ধর্মগতি ও বংশের স্বভাব পরিবর্তিত করেন; ম্লেচ্ছ-সম্পর্কিত পরিণতির ইঙ্গিতও দেওয়া হয়। যদুর ক্ষেত্রে মহাদেবের প্রকাশ/অনুগ্রহে কালে শুদ্ধির সম্ভাবনার কথাও বলা হয়। কিন্তু পুরু পিতৃবাক্য শিরোধার্য করে জরা গ্রহণ করে রাজ্য লাভ করে; যযাতি পুনরায় যৌবন পেয়ে ভোগে প্রবৃত্ত হন। মাতৃ–পিতৃ তীর্থের মাহাত্ম্য-সংযুক্ত এই কাহিনি পিতৃভক্তি, রাজধর্মে সংযম, কামদোষ এবং শাপের দীর্ঘ কর্মফল সম্পর্কে নীতিশিক্ষা দেয়।

65 verses

Adhyaya 79

Yayāti Ensnared by Desire: Gandharva Marriage, Aśvamedha, and the Demand to See the Worlds

এই অধ্যায়ে সহ-পত্নীদের পারস্পরিক দ্বেষ ও গৃহকলহের ভয়াবহতা তীক্ষ্ণ উপমায় বলা হয়েছে—যেমন চন্দনের চারদিকে সাপ জড়িয়ে থাকে, তেমনই ঈর্ষা-দ্বন্দ্বে ঘেরা গৃহস্থাশ্রম রাজাকে দুর্বল করে। এরপর যযাতি কামবংশ-সম্পর্কিত অশ্রুবিন্দুমতীর সঙ্গে গন্ধর্ববিবাহে আবদ্ধ হন এবং দীর্ঘকাল ভোগসুখে নিমগ্ন থেকে মোহগ্রস্ত হয়ে পড়েন। অশ্রুবিন্দুমতীর গর্ভাবস্থার ‘দৌহৃদ’ পূরণ করতে তিনি যযাতিকে অশ্বমেধ যজ্ঞ করতে বাধ্য করেন। রাজা ধর্মপরায়ণ পুত্রকে প্রস্তুতির ভার দিয়ে যজ্ঞ সম্পন্ন করেন এবং বিপুল দান করেন। যজ্ঞোত্তরে তিনি আরও বৃহৎ কামনা প্রকাশ করেন—ইন্দ্র, ব্রহ্মা, শিব ও বিষ্ণুর লোক দর্শন। তখন দেহধারী মানুষের পক্ষে কী সম্ভব, আর তপস্যা, দান ও যজ্ঞে কী লাভ হয়—এই বিষয়ে আলোচনা হয় এবং যযাতির অসাধারণ ক্ষত্রিয়-শক্তির প্রশংসা করা হয়।

41 verses

Adhyaya 80

Yayāti, Yadu’s Refusal, and the Merit of the Mother–Father Tīrtha

পিপ্পলের প্রশ্নে সুকর্মা যযাতির অন্তঃপুরের সংকট বর্ণনা করেন। রাজা কামকন্যাকে গৃহে আনলে দেবযানী ঈর্ষায় দগ্ধ হয়ে ক্রোধে নিজের পুত্রদের শাপ দেন, আর দেবযানী ও শর্মিষ্ঠার মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়। কামজা তাদের শত্রুভাব ও কুমন্ত্রণা জেনে রাজাকে সংবাদ দেয়। ক্রুদ্ধ যযাতি যদুকে আদেশ দেন—দেবযানী ও শর্মিষ্ঠাকে বধ কর। যদু ধর্মের কথা বলে অস্বীকার করে—মাতৃহত্যা মহাপাপ, তারা নির্দোষ; মাতা এবং রক্ষিত নারী-সম্পর্কিণীরা কখনও বধ্য নয়। অবাধ্যতায় যযাতি যদুকে শাপ দিয়ে প্রস্থান করেন; শেষে তপস্যা, সত্য ও বিষ্ণুধ্যানের মহিমা এবং মাতৃ–পিতৃ তীর্থের পুণ্যপ্রভাবের সঙ্গে এই উপাখ্যান যুক্ত হয়।

20 verses

Adhyaya 81

Yayāti Episode: Indra’s Anxiety, the Messenger Motif, and a Discourse on Time (Kāla) and Karma

এই অধ্যায়ে সুকর্মা প্রশ্ন করেন—পরাক্রমী ও পুণ্যবান নহুষপুত্র রাজা যযাতিকে দেখে ইন্দ্র কেন ভীত হন। দেবরাজ ইন্দ্র মেনকা অপ্সরাকে দূতী করে পাঠান, যাতে তিনি যযাতিকে আহ্বান করে কামকন্যার নিকট নিয়ে যান। এই ঘটনার মধ্যে অশ্রুবিন্দুমতী নাম্নী এক নারী সত্য ও ধর্মের বন্ধনে রাজাকে আবদ্ধ/নিয়ন্ত্রিত করেন, ফলে রাজসভায় এক নাটকীয় রাজকীয় পর্ব সৃষ্টি হয়। এরপর বর্ণনা দীর্ঘ উপদেশে রূপ নেয়—কাল (সময়) ও কর্মই দেহধারীদের গতি নির্ধারণ করে; জন্ম-মৃত্যু, সুখ-দুঃখ, ভাগ্য—সবই কর্মফলের অনিবার্য পরিণতি। মানবীয় কৌশল সীমিত, আর কৃত কর্ম ছায়ার মতো অনুসরণ করে। পূর্বকৃত কর্মের পরিপাকে উদ্বিগ্ন যযাতি অন্তর্মুখী হয়ে চিন্তা করেন এবং শেষে মধুসূদন হরির শরণ গ্রহণ করে রক্ষার প্রার্থনা জানান।

75 verses

Adhyaya 82

The Yayāti Episode: Succession and Royal Dharma Instructions to Pūru

ভূমিখণ্ডের যযাতি-আখ্যানে এক দিব্য গৌরবর্ণা নারী ধর্মপরায়ণ রাজা যযাতির উদ্বেগ প্রশমিত করেন। তিনি সংসারের ভয় ও মোহের স্বরূপ দেখিয়ে দেবদর্শন ও স্বর্গপ্রাপ্তির আশ্বাস দেন। যযাতি বলেন—তিনি স্বর্গে গেলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা হতে পারে, প্রজারা কষ্ট পাবে এবং ধর্মক্ষয় ঘটবে; তাই প্রজাপালনই তাঁর প্রধান কর্তব্য। এরপর তিনি ধর্মজ্ঞ পুত্র পূরুকে ডেকে এক আশ্চর্য উত্তরাধিকার-বিনিময় করেন—নিজের বার্ধক্য পূরুকে দিয়ে নিজে যৌবন গ্রহণ করেন এবং রাজ্য, সেনা, কোষ প্রভৃতি সমস্ত ব্যবস্থা পূরুর হাতে অর্পণ করেন। তারপর রাজধর্মের উপদেশ দেন: প্রজাকে রক্ষা করো, দুষ্টকে দণ্ড দাও, ব্রাহ্মণদের সম্মান করো, কোষ ও মন্ত্রগোপনীয়তা রক্ষা করো, শিকার ও পরস্ত্রীগমন বর্জন করো, দান করো, হৃষীকেশের পূজা করো, অত্যাচারীকে দূর করো এবং বংশপরম্পরা ও শাস্ত্রশাসন অটুট রাখো। শেষে যযাতি স্বর্গে গমন করেন; অধ্যায়টি বেন-প্রসঙ্গ ও তীর্থ-সন্দর্ভসহ সমাপ্ত হয়।

29 verses

Adhyaya 83

Yayāti’s Ascent to Heaven (and Entry into Vaikuṇṭha)

এই অধ্যায়ে রাজা যযাতি পুরু-কে রাজ্যভার অর্পণ করে নিজে প্রস্থান করেন। ধর্মনিষ্ঠা ও বিষ্ণুভক্তিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে চার বর্ণের প্রজারাও অনুগতভাবে তাঁর সঙ্গে যাত্রা করে; শঙ্খ-চক্রের চিহ্ন, তুলসী ও শ্বেত পতাকায় সেই শোভাযাত্রা স্পষ্ট বৈষ্ণব রূপ ধারণ করে। পথে ইন্দ্র প্রথমে তাঁকে সাদরে গ্রহণ করেন, পরে ধাতা ব্রহ্মা সম্মান প্রদান করেন। এরপর উমাসহ শঙ্কর মহাদেব যযাতিকে পূজা করে শিব-বিষ্ণুর অভেদ তত্ত্ব উপদেশ দেন এবং পরম বৈষ্ণব লোকের দিকে অগ্রসর হওয়ার অনুমতি দেন। তারপর বৈকুণ্ঠের অপার ঐশ্বর্য ও দীপ্তির বিস্তৃত বর্ণনা আসে। নারায়ণের সম্মুখে যযাতি ভোগ চান না, কেবল চিরন্তন সেবাই প্রার্থনা করেন; বিষ্ণু তাঁকে রানি-সহ নিজ ধামে বাস দান করেন, এবং বলা হয় যযাতি চিরকাল পরম বৈষ্ণব আবাসে অবস্থান করেন।

83 verses

Adhyaya 84

Description of the Greatness of the Mother-and-Father Tīrtha

এই অধ্যায়ে মাতা‑পিতা ও গুরুকে ‘জীবন্ত তীর্থ’ রূপে মহিমান্বিত করা হয়েছে। তাঁদের সেবা—পা ধোয়া, মালিশ করা, অন্ন‑বস্ত্র‑স্নান প্রদান এবং আদেশ পালন—তীর্থযাত্রার সমান পুণ্যদায়ক; গঙ্গাস্নান ও অশ্বমেধ‑সম ফলের তুলনাও করা হয়েছে। যযাতির পুত্রদের (পুরু, তুরু, যদু প্রভৃতি) দৃষ্টান্তে দেখানো হয় যে পিতার প্রসাদ বা ক্রোধ বংশধরদের ভাগ্যে গভীর প্রভাব ফেলে, এবং পিতামাতার আহ্বানে শ্রদ্ধায় সাড়া দেওয়া তীর্থসেবার মতোই পুণ্য আনে। কঠোর সতর্কতাও আছে—পিতামাতার নিন্দা রৌরব নরকের কারণ, বৃদ্ধ পিতামাতার অবহেলা দুঃখ ডেকে আনে, আর গুরুনিন্দাকে প্রায়শ্চিত্তাতীত বলা হয়েছে। শেষে বেন‑প্রসঙ্গে প্রতিদিন মাতা‑পিতা‑গুরুর পূজনীয় আচরণই জ্ঞান, সমৃদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উত্তরণের ভিত্তি বলে স্থির করা হয়েছে।

22 verses

Adhyaya 85

The Glory of Guru-Tīrtha: The Guru as Supreme Pilgrimage (Prelude: Cyavana and the Parable Cycle)

এই অধ্যায়ে ভাৰ্যা‑তীর্থ, পিতৃ‑তীর্থ ও মাতৃ‑তীর্থের আলোচনার পর ‘গুরু‑তীর্থ’-এর পরম মহিমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শিষ্যের কাছে গুরুই সর্বোচ্চ তীর্থ—তিনি প্রত্যক্ষ ফলদাতা এবং অজ্ঞানতার অন্ধকার নিত্য দূর করেন; সূর্য‑চন্দ্র‑প্রদীপের উপমায় গুরুর আলোকদানের কথা বলা হয়েছে। এরপর দৃষ্টান্তমালার সূচনা হয়। ঋষি চ্যবন সত্যজ্ঞান লাভের জন্য বহু তীর্থ, নদীতট ও লিঙ্গস্থান পরিভ্রমণ করেন—বিশেষত নর্মদা, অমরকণ্টক ও ওঁকার ক্ষেত্রের উল্লেখ আছে। বটবৃক্ষতলে বিশ্রামকালে তিনি এক টিয়া‑পরিবারের সাক্ষাৎ পান; কুঞ্জল (পিতা) ও উজ্জ্বল (পুত্র)-এর সংলাপে পুত্রভক্তির আদর্শ ফুটে ওঠে। পরে প্লক্ষদ্বীপের কাহিনি, বারংবার বৈধব্যের করুণ পর্ব এবং বিধ্বংসী স্বয়ংবরের প্রসঙ্গ বর্ণিত হয়। সারকথা—বাহ্য তীর্থযাত্রা গুরুকৃপায় অন্তরের নির্ণায়ক ‘পারাপার’-এ পরিণত হয়।

76 verses

Adhyaya 86

The Sin of Breaking Households: Citrā’s Past Karma and the Remedy of Hari’s Name and Meditation

কুঞ্জল উজ্জ্বলকে চিত্রার পূর্বজন্মের কাহিনি শোনান। বারাণসীতে ধনী হয়েও সে অধর্মবুদ্ধি ছিল; গৃহধর্ম ত্যাগ করে পরনিন্দা করত এবং দৌতিকা হয়ে অন্যের বিবাহ ভেঙে দিত—এ পাপকে স্পষ্টই ‘গৃহভঙ্গ’ বলা হয়েছে। তার কুকর্মে সমাজে কলহ, হিংসা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে; শেষে মৃত্যুর পর যমদণ্ড ভোগ করে রৌরব প্রভৃতি নরকে কঠোর শাস্তি পায়—কর্মফলের নির্মম পরিণতি প্রকাশ পায়। তবে একবার সে এক সিদ্ধ সন্ন্যাসীর সেবা করে—পাদপ্রক্ষালন, আসনদান, অন্ন-জল প্রদান ইত্যাদি। সেই একটিমাত্র পুণ্যকর্মের ফলে পরজন্মে সে রাজা দিবোদাসের কন্যা ‘দিব্যাদেবী’ রূপে উচ্চজন্ম লাভ করে, কিন্তু অবশিষ্ট পাপের কারণে বৈধব্য ও শোকও ভোগ করতে হয়। অধ্যায়টি শেষে মুক্তির উপায় বলে—হরিধ্যান, জপ-হোম-ব্রত, এবং বিশেষত বিষ্ণু/কৃষ্ণনাম স্মরণ। নির্গুণ ও সগুণ—দুই প্রকার ধ্যানের কথা আছে; দীপকের উপমায় বলা হয়েছে, যেমন প্রদীপ তেলকে দগ্ধ করে, তেমনি নাম ও ধ্যান কর্মরূপী মলকে দহন করে শুদ্ধি আনে।

96 verses

Adhyaya 87

Vows of Hari and the Hundred Names of Suputra (Viṣṇu/Kṛṣṇa): Ritual Metadata and Fruits of Japa

এই অধ্যায়ে একাদশী, অশূন্যশয়ন ও জন্মাষ্টমী প্রভৃতি বৈষ্ণব ব্রতের মাহাত্ম্য বলা হয়েছে। এগুলি পালন করলে পাপক্ষয় হয় এবং মহাপুণ্য লাভ হয়—এ কথা স্পষ্ট করা হয়েছে। এরপর ‘সুপুত্রের শতনাম’ নামে বিষ্ণু/কৃষ্ণের উৎকৃষ্ট শতনামস্তোত্র উপস্থাপিত হয়। ঋষি, ছন্দ, দেবতা ও বিনিয়োগের বিধান জানিয়ে কেশব, নারায়ণ, নরসিংহ, রাম, গোবিন্দ ইত্যাদি নানা নামে হরিকে প্রণাম করা হয়। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—ত্রিসন্ধ্যায় নিয়মিত জপ, বিশেষত তুলসী ও শালগ্রামের সান্নিধ্যে এবং কার্তিক-মাঘ মাসে, মহাযজ্ঞসম পুণ্য দেয়; পিতৃগণের উপকার করে, শুদ্ধি আনে এবং শেষে বিষ্ণুলোকপ্রাপ্তি ঘটায়।

40 verses

Adhyaya 88

The Aśūnyaśayana Vow: Expiation, Viṣṇu’s Theophany, and Liberation for Divyā Devī

এই অধ্যায়ে কুঞ্জল তাঁর পুত্র উজ্জ্বলকে বৈষ্ণব সাধনার চতুর্বিধ পথ শেখান—ব্রত, স্তোত্র, জ্ঞান ও ধ্যান—যা বিষ্ণুকেন্দ্রিক এবং ‘অশূন্যশয়ন’ নামে পরিচিত। গুরুতর পাপে আবদ্ধ এক রাজকন্যাকে উদ্ধার করতে উজ্জ্বলকে পাঠানো হয়; তিনি প্লক্ষদ্বীপের দীপ্তিমান পর্বতে যান, যেখানে নদী, গন্ধর্বসঙ্গীত ও দিব্য সত্তাদের বর্ণনা আছে। সেখানে তিনি বিধবা-শোকে কাঁদতে থাকা দিব্যা দেবীকে দেখেন; তিনি নিজের দুঃখকে পূর্বকর্মের পরিণতি বলে মানেন। মহাপক্ষী (মহান পাখি) রূপে করুণাবশে উজ্জ্বল তাঁর কাহিনি শুনে প্রায়শ্চিত্ত নির্দেশ দেন—হৃষীকেশের ধ্যান, বিষ্ণুর শতনাম জপ, এবং ব্রতের কঠোর পালন। দীর্ঘ তপস্যার পর শ্রীভগবান জগন্নাথ/হৃষীকেশ প্রকাশিত হয়ে ত্রিমূর্তির ঐক্যতত্ত্ব ঘোষণা করেন, দিব্যাকে বিশুদ্ধ ভক্তি ও বৈকুণ্ঠে দাস্যসেবার বর দেন। শেষে তিনি পরম বৈষ্ণব ধামে আরূঢ় হয়ে মুক্তি লাভ করেন।

55 verses

Adhyaya 89

Glory of Guru-tīrtha: Mānasarovara Marvels and the Revā Confluence

ভূমিকাণ্ডের স্তরিত বর্ণনায় পুলস্ত্য ভীষ্মকে গুরু-তীর্থের মহিমা শোনান। শুকপিতা কুঞ্জল পুত্র সমুজ্জ্বলকে এক অভূতপূর্ব বিস্ময়ের কথা জিজ্ঞাসা করে। সমুজ্জ্বল মানসসরোবরের নিকট এক পবিত্র অঞ্চলের বর্ণনা দেয়—যেখানে ঋষি ও অপ্সরারা সমবেত, নানা বর্ণের হাঁস জড়ো হয়, এবং চার ভয়ংকর নারী আবির্ভূত হয়। এরপর কাহিনি বিন্ধ্যদেশে রেবা (নর্মদা) নদীর উত্তর তীরে এক পাপনাশক সঙ্গমে গিয়ে পৌঁছায়। এক ব্যাধ ও তার স্ত্রী সেখানে স্নান করামাত্র দীপ্তিমান দিব্যদেহ লাভ করে বৈষ্ণব বিমানে আরোহন করে। কালো হাঁসেরাও স্নানে শুদ্ধ হয়; কিন্তু কালো নারীরা—ধার্তারাষ্ট্রী নামে পরিচিত—স্নান করেই তৎক্ষণাৎ মৃত্যুবরণ করে যমলোকে গমন করে। এই বৈপরীত্য দেখে সমুজ্জ্বল কর্মকারণ, শুচিতা ও তীর্থের শক্তি বিষয়ে ধর্মতত্ত্বের প্রশ্ন তোলে।

52 verses

Adhyaya 90

The Deeds of Cyavana (in the Context of Guru-tirtha Glorification)

এই অধ্যায়ে সূত মুনি কুঞ্জলের প্রতিশ্রুতি জানান—তিনি সংশয়নাশক ও পাপনাশক এক পবিত্র আখ্যান বলবেন। এরপর কাহিনি ইন্দ্রের দিব্যসভায় গমন করে; নারদ মুনি সেখানে উপস্থিত হলে অর্ঘ্য, পাদ্য ও আসন দিয়ে যথাবিধি সম্মানিত হন। তখন প্রশ্ন ওঠে—তীর্থগুলির মধ্যে এমন কোন বিশেষ শক্তি আছে যা ব্রহ্মহত্যা, সুরাপান, গোহত্যা, হিরণ্যস্তেয় প্রভৃতি মহাপাতকও নাশ করতে পারে? ইন্দ্র পৃথিবীর তীর্থসমূহকে আহ্বান করেন। তীর্থগুলি দেহধারী, দীপ্তিমান ও অলংকৃত রূপে সমবেত হয়; গঙ্গা, নর্মদা প্রভৃতি নদী এবং প্রয়াগ, পুষ্কর, বারাণসী, প্রভাস, অবন্তী, নৈমিষ ইত্যাদি প্রধান ক্ষেত্রের নাম উচ্চারিত হয়। ইন্দ্র জিজ্ঞাসা করেন—প্রায়শ্চিত্ত ছাড়াই যে মহাতীর্থ ভয়ংকরতম পাপ বিনাশ করে, তা কোনটি? সমবেত তীর্থরা সাধারণ পাপনাশক মহিমা স্বীকার করলেও মহাপাতকের বিষয়ে নিজেদের সীমা প্রকাশ করে; তবু প্রয়াগ, পুষ্কর, অর্ঘ-তীর্থ ও বারাণসীকে বিশেষভাবে সর্বোৎকৃষ্ট ফলদায়ক বলে ঘোষণা করে। শেষে ইন্দ্র স্তব করেন এবং প্রসঙ্গকে বেন-কথা ও গুরু-তীর্থের মহিমার সঙ্গে যুক্ত করে অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।

55 verses

Adhyaya 91

Indra’s Purification and the Limits of Pilgrimage: Four Sinners Seek Release

কুঞ্জল ইন্দ্রের পূর্বকথা বর্ণনা করেন—অহল্যার নিকট গমনজনিত অপরাধ ও ব্রহ্মহত্যার ভারে সহস্রাক্ষ ইন্দ্র পতিত হয়ে তপস্যায় প্রবৃত্ত হন। দেবতা, ঋষি ও সিদ্ধ-গন্ধর্বগণ তাঁর অভিষেক সম্পন্ন করে তাঁকে বারাণসী, প্রয়াগ, পুষ্কর এবং অর্ঘ/চার্ঘ-তীর্থে পর্যায়ক্রমে নিয়ে গিয়ে শুদ্ধি প্রদান করেন। শুদ্ধ ইন্দ্র সেই তীর্থগুলির মাহাত্ম্য বৃদ্ধি করে বর দান করেন এবং মালবদেশকে পুণ্য ও সমৃদ্ধিতে প্রতিষ্ঠিত করেন। এরপর নীতিশিক্ষামূলক দৃষ্টান্ত—চার মহাপাপী (ব্রাহ্মণহন্তা, গুরুঘ্ন, নিষিদ্ধ-সংগমকারী/পরস্ত্রীগামী, সুরাপায়ী/গোহন্তা) বহু তীর্থে ঘুরেও যথোচিত প্রায়শ্চিত্ত না থাকায় মুক্তি পায় না। এতে বোঝানো হয়, কেবল তীর্থযাত্রার সীমা আছে; শেষে তারা উচ্চতর প্রায়শ্চিত্তের আশায় কালাঞ্জর পর্বতের দিকে অগ্রসর হয়।

40 verses

Adhyaya 92

Glory of Guru-tīrtha and the Kubjā Confluence: How Festival Bathing Removes Grave Sin

কালাঞ্জরে মহাপাপের ভারে জর্জরিত কয়েকজন দ্বিজ-তীর্থযাত্রী (বিদুর, চন্দ্রশর্মা, বেদশর্মা প্রমুখ) এবং পাপাচারী বৈশ্য বঞ্জুলক গভীর শোকে নিমগ্ন থাকে। তাদের দুঃখ দেখে এক মহিমান্বিত সিদ্ধ প্রশ্ন করেন এবং শুদ্ধির পথ নির্দেশ দেন। তিনি অমাবস্যা–সোমযোগ (অমাসোম) উপলক্ষে প্রয়াগ, পুষ্কর, অর্ঘতীর্থ ও বারাণসীর শ্রেষ্ঠত্ব বলেন এবং গঙ্গাস্নানে মুক্তির প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু কাহিনি জানায়—শুধু তীর্থভ্রমণই যথেষ্ট নয়; বহু পুণ্যতীর্থে স্নান করেও নির্ণায়ক শুদ্ধিস্থান না পেলে পাপ লেগে থাকতে পারে। ব্রহ্মহত্যা, গুরুহত্যা, সুরাপান, পরস্ত্রীগমন ইত্যাদি মহাপাতক স্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়, আর পাপী ও তীর্থ যেন দুঃখী হাঁসের মতো ঘুরে বেড়ায়। শেষে রেবাতীরে কুব্জা-সঙ্গমে তাদের চূড়ান্ত শুদ্ধি ঘটে। এটিকে সর্বতীর্থের সার, পরম পুণ্যদায়ক সঙ্গম বলা হয়েছে; ওঙ্কার, মাহিষ্মতী প্রভৃতি রেবাতীর্থেরও পাপনাশ ও সমৃদ্ধিদানের মহিমা কীর্তিত।

38 verses

Adhyaya 93

The Marvel at Ānandakānana: A Lake-Vision and a Karmic Parable (Prabhāsa / Guru-tīrtha Context)

অধ্যায়ে কুঞ্জল পাখি ভ্রমণকালে দেখা এক অভূতপূর্ব বিস্ময়ের কথা জিজ্ঞাসা করে। বিজ্বল বলে—মেরুর উত্তর ঢালে ‘আনন্দকানন’ নামে এক দিব্য বন আছে, যেখানে দেবতা, সিদ্ধ, অপ্সরা, গন্ধর্ব, নাগ এবং স্বর্গীয় সঙ্গীতের কলরব সর্বদা বিরাজমান। সেই বনের কেন্দ্রে সমুদ্রসম নির্মল এক সরোবর, নানা তীর্থজল ও পদ্ম-উৎপলে ভরা। সেখানে এক দীপ্তিমান দম্পতি বিমানে এসে স্নান করে, তারপর পরস্পরকে ভয়ংকরভাবে আঘাত করে; তীরে দুইটি মৃতদেহ পড়ে, কিন্তু রূপের বিকার হয় না, দেহ আবার জুড়ে উঠে দাঁড়ায়। এরপর কর্মফলের ভয়াল দৃশ্য—তারা বারবার মাংস ছিঁড়ে নিজেরাই ভক্ষণ করে, যেন শবভক্ষণ; তারপর দেহ পুনর্গঠিত হয়, তারা হাসে এবং ‘দাও, দাও’ বলে পুনরায় দাবি তোলে; পরে আরও নারীরাও সেই আচরণে যুক্ত হয়। প্রভাস/গুরু-তীর্থ ও বেন–চ্যবন কাহিনি-পরম্পরার প্রেক্ষিতে এই আশ্চর্য ঘটনার কারণ ব্যাখ্যার জন্যই প্রসঙ্গটি উত্থাপিত।

44 verses

Adhyaya 94

Karmic Causality, Fate, and the Supremacy of Food-Charity (within Guru-tīrtha Glorification)

অধ্যায় ৯৪-এ বলা হয়েছে যে দেহধারীর সুখ-দুঃখের মূল নিয়ন্তা একমাত্র কর্ম। যেমন কর্ম করা হয়, তেমনই তার ফল অবশ্যম্ভাবীভাবে পরিপক্ব হয়; জন্ম, আয়ু, ধন, বিদ্যা এবং ভোগ—সবই পূর্বকর্মের দ্বারা নির্ধারিত। আগুনে লোহা গলানো, ছাঁচে সোনা ঢালা, কুমোরের মাটি গড়া—এমন কারিগরি উপমা এবং ছায়ার মতো অনুসরণ, বাছুরের মাকে খুঁজে পাওয়ার মতো দৃষ্টান্ত দিয়ে কর্মফলের অনিবার্যতা বোঝানো হয়েছে; বল বা বুদ্ধি দিয়ে তা নস্যাৎ করা যায় না। এরপর কাহিনি চোলদেশে প্রবেশ করে। বৈষ্ণবভক্ত রাজা সুবাহুকে তাঁর পুরোহিত জৈমিনি দানের দুর্লভতা ও মহিমা উপদেশ দেন এবং শেষে অন্নদানকে সর্বদানের শ্রেষ্ঠ বলে প্রতিষ্ঠা করেন—যা ইহলোক ও পরলোক উভয় জগতে কল্যাণের প্রধান কারণ। প্রসঙ্গটি গুরু-তীর্থের মাহাত্ম্য এবং বেণ–চ্যবন কাহিনি-চক্রের মধ্যে সমাপ্ত হয়।

62 verses

Adhyaya 95

Qualities and Faults of Heaven; Karma-Bhumi vs Phala-Bhumi; Turning to Viṣṇu’s Supreme Abode

রাজা সুবাহু জৈমিনিকে স্বর্গের স্বরূপ বর্ণনা করতে অনুরোধ করেন। জৈমিনি বলেন, স্বর্গে দিব্য উদ্যান, কল্পবৃক্ষ, কামধেনু ও বিমান আছে; সেখানে ক্ষুধা, রোগ ও মৃত্যু নেই, এবং সত্যবাদী, করুণাশীল, সংযমী পুণ্যবানরা বাস করেন। এরপর তিনি স্বর্গের দোষও জানান—ভোগের দ্বারা পুণ্য ক্ষয় হয়, ফলাসক্তিতে পরবর্তী সাধনা থেমে যেতে পারে, আর অন্যের সমৃদ্ধি দেখে ঈর্ষা জাগে; এতে পতনের সম্ভাবনা থাকে। পৃথিবী কর্ম-ভূমি, যেখানে কর্ম করা হয়; স্বর্গ ফল-ভূমি, যেখানে ফল ভোগ করা হয়—এই তত্ত্ব স্পষ্ট করা হয়। সুবাহু ফললোভে দান-যজ্ঞ করে স্বর্গ কামনা করতে অস্বীকার করে বিষ্ণুর ধ্যান-ভক্তিতে পরম ধামে যাওয়ার সংকল্প নেন। যথার্থ ধর্মবুদ্ধি ও শুদ্ধ উদ্দেশ্যে করা যজ্ঞ-দান বিষ্ণুলোক—প্রলয়াতীত পরম আবাসে পৌঁছায়, এবং এই কাহিনি শ্রবণে পাপ নাশ হয়ে অভীষ্ট সিদ্ধ হয়।

33 verses

Adhyaya 96

Karmas Leading to Hell and Heaven (Ethical Catalog of Destinies)

এই অধ্যায়ে সুভাহুর প্রশ্নের সূত্রে জৈমিনির মাধ্যমে পুলস্ত্য ঋষি ভীষ্মকে ধর্মবিচার শোনান। প্রথম ভাগে নরকে পতনের কারণ কর্মসমূহ বলা হয়েছে—লোভে ব্রাহ্মণধর্ম ত্যাগ, নাস্তিকতা ও ভণ্ডামি, বিশেষত ব্রাহ্মণদের সম্পদ চুরি, মিথ্যা ও পরহিতবিরোধী বাক্য, পরস্ত্রীগমন, হিংসা, জনকল্যাণের জলাশয় নষ্ট করা, অতিথিসেবা ও পিতৃ-দেবপূজা অবহেলা, আশ্রমব্যবস্থা বিকৃত করা এবং বিষ্ণুচিন্তা থেকে বিমুখ থাকা। পরবর্তী ভাগে স্বর্গপ্রদ পুণ্যকর্মের প্রশংসা করা হয়েছে—সত্য, তপস্যা, দান, হোম, শুচিতা, বাসুদেবভক্তি, পিতা-মাতা ও গুরুর সেবা, অহিংসা, কূপ-আশ্রয়শালা প্রভৃতি লোকহিতকর নির্মাণ, ক্ষুদ্র প্রাণীর প্রতিও দয়া, এবং গঙ্গা-পুষ্কর-গয়া প্রভৃতি তীর্থে পিণ্ডদানাদি। উপসংহারে কর্মফলের অব্যর্থতা জানিয়ে বলা হয়েছে, পরোপকারে মুক্তি নিকটবর্তী হয়।

53 verses

Adhyaya 97

Annadāna and the Obstruction of Viṣṇu-Darśana; Vāmadeva’s Teaching and the Vāsudeva Stotra Prelude

বিষ্ণুভক্ত রাজা সুবাহু পুণ্যের ফলে বিষ্ণুলোকে পৌঁছেও সেখানে ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর হয়ে বিষ্ণু-দর্শন লাভ করতে পারে না। তখন ঋষি বামদেব কারণ ব্যাখ্যা করেন—শুধু স্তোত্র, পূজা ও আচার-অনুষ্ঠানে ভক্তি সম্পূর্ণ হয় না; বিষ্ণুকে নিবেদিত অন্নদান এবং ব্রাহ্মণ, অতিথি, পিতৃ ও দেবতার প্রতি যথোচিত দান অপরিহার্য। বামদেব ‘ব্রাহ্মণ-ক্ষেত্র’ রূপকে কর্মফলের নিয়ম বোঝান—যেমন বীজ বোনা হয় তেমনই ফল মেলে। সুবাহু অন্নদান ও একাদশী-সংযম প্রভৃতি অবহেলা করায় তাকে ভয়ংকর ফল ভোগ করতে হয়, এমনকি নিজেরই মাংস ভক্ষণ করার মর্মান্তিক প্রসঙ্গ ওঠে। প্রজ্ঞা ও শ্রদ্ধা হাস্য করে দেখায়—লোভ ও মোহই মূল বাধা। শেষে মুক্তির উপায়ের ইঙ্গিত দেওয়া হয়—মহান বাসুদেব স্তোত্রের ভূমিকা, যা মহাপাপ নাশ করে মোক্ষপ্রদ।

114 verses

Adhyaya 98

Manifestation of the Śrī Vāsudeva Hymn in the Glory of Guru-tīrtha (Cyavana Narrative within the Vena Episode)

বিজ্বল কুঞ্জলের মঙ্গলময় উপদেশ শুনে, কুঞ্জল হরির উদ্দেশে “বাসুদেব” নামকেন্দ্রিক স্তোত্র ঘোষণা করেন। সেখানে বাসুদেব-নামকে মোক্ষের দ্বার, শান্তি-সমৃদ্ধিদাতা ও পাপহর বলে বর্ণনা করা হয়। এরপর কুঞ্জল বিজ্বলকে নির্দেশ দেন—রাজা সুবাহুর কাছে গিয়ে তার গুরুতর পাপের কথা সত্যভাবে জানাতে। দৃশ্য সরে যায় আনন্দকাননে। সুবাহু এক দিব্য রথে এসে উপস্থিত হন; রথে ভোগের চিহ্ন থাকলেও অন্ন-জলের অভাব কর্মফলের ইঙ্গিত দেয়। এক মৃতদেহকে কেন্দ্র করে নির্মম আচরণের প্রসঙ্গে সংঘাত ও নীতিধর্মের উপদেশ উঠে আসে। রাজা ও তাঁর প্রিয় পত্নী পক্ষি-মুনির প্রতি বিস্ময় ও ভক্তিতে নত হন। বিজ্বল নিজের পরিচয় দিয়ে স্তোত্র-বিনিয়োগ নির্ধারণ করেন—ঋষি নারদ, ছন্দ অনুষ্টুপ, দেবতা ওংকার, এবং মন্ত্র “ॐ নমঃ ভগবতে বাসুদেবায়”। এরপর প্রণব/ওংকার-তত্ত্ব ও বাসুদেব-শরণাগতি মিলিয়ে দীর্ঘ স্তোত্র উচ্চারিত হয়, এবং শেষে বেন-প্রসঙ্গে গুরুতীর্থের মহিমা প্রতিষ্ঠা করে অধ্যায় সমাপ্ত হয়।

79 verses

Adhyaya 99

The Glory of the Vāsudeva Hymn: Boons, Japa across the Yugas, and Ascent to Vaikuṇṭha

প্রাচীন পাপ-নাশক স্তোত্র শ্রবণ করে সেই রাজা কঠোর দুঃখের মধ্যেও শুদ্ধ ও দীপ্তিমান হন। তখন বাসুদেব-কেশব-মুরারি শ্রীহরি দিব্য পরিজনসহ প্রকাশিত হন; নারদ, ভাৰ্গব, ব্যাস, বাল্মীকি, বশিষ্ঠ, গর্গ, জাবালি, রৈভ্য, কাশ্যপ প্রমুখ ঋষি এবং অগ্নি-ব্রহ্মা প্রমুখ দেবতা, গন্ধর্ব-অপ্সরাগণ সমবেত হয়ে বৈদিক স্তব দ্বারা ভগবানকে বন্দনা করেন। ভগবান বিষ্ণু বর দিতে চাইলে রাজা বিনয়ে শরণাগতি ও ভক্তি নিবেদন করে প্রথমে নিজের পত্নী বিজ্বলার মঙ্গল কামনা করেন। হরি “বাসুদেব” নামের নির্ণায়ক মহিমা ব্যাখ্যা করেন—এ নাম মহাপাপও বিনাশ করে—এবং নিজের লোকের ভোগ ও অনুগ্রহ দান করেন। এরপর স্তোত্র-জপের বিধান যুগভেদে নির্দিষ্ট করা হয়: কৃতযুগে ক্ষণমাত্রে, ত্রেতায় এক মাসে, দ্বাপরে ছয় মাসে, আর কলিতে এক বছরে ফলসিদ্ধি। দৈনিক জপের নিয়ম, শ্রাদ্ধ-তর্পণ-হোম-যজ্ঞে প্রয়োগ এবং বিপদে রক্ষার ফল বলা হয়েছে; ইন্দ্রের ব্রহ্মহত্যা-দোষমোচন ও নাগাদি জীবের সিদ্ধিলাভ উদাহরণ হিসেবে আসে। শেষে রাজা-রানি দিব্য বাদ্য-গীতের মধ্যে হরির ধামে গমন করেন; উপসংহারে অধ্যায়টি বেন-প্রসঙ্গ, গুরু-তীর্থ ও চ্যবন-কথার সঙ্গে সংযুক্ত বলে জানানো হয়।

46 verses

Adhyaya 100

The Cyavana Narrative (within the Glory of Guru-tīrtha, in the Vena Episode)

নর্মদার তীরে পুত্র বিজ্বল পিতা কুঞ্জলের কাছে এসে ‘বাসুদেবাভিধান’ স্তোত্রের মাহাত্ম্য জানায় এবং বলে যে সেই স্তবের দ্বারা ভগবান বিষ্ণু প্রকাশ হয়ে বর প্রদান করেছিলেন। তা শুনে কুঞ্জল আনন্দিত হয়ে পুত্রকে আলিঙ্গন করে এবং বাসুদেব-গৌরবকীর্তনের মাধ্যমে ধর্মপরায়ণ রাজাকে সহায়তা করার পবিত্রতা প্রশংসা করে। এরপর বর্ণনার কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়—পুলস্ত্য ভীষ্মকে বলেন, চ্যবনের সান্নিধ্যে এই মহাত্মাদের সমগ্র আচরণ তিনি বিবৃত করেছেন। বেন-প্রসঙ্গে উপদেশরূপে বৈষ্ণব জ্ঞানকে শঙ্খে পরিবেশিত অমৃতের সঙ্গে তুলনা করা হয়; শ্রবণে তৃপ্তি নয়, বরং শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পায়। পরে কুঞ্জলের আরও কীর্তি ও ‘চতুর্থ পুত্র’-এর কথা শোনানোর অনুরোধ ওঠে; ভগবান কুঞ্জলের কাহিনি বলবেন বলে সম্মতি দেন। অধ্যায়ের ফলশ্রুতি—ভক্তিভরে শ্রবণ করলে সহস্র গোধনের সমান পুণ্য লাভ হয়।

15 verses

Adhyaya 101

The Glory of Kailāsa, the Gaṅgā Lake, and Ratneśvara (Entry into the Kuñjala–Kapiñjala Narrative)

অধ্যায়ের শুরুতে সূত মুনি হৃষীকেশ (ভগবান বিষ্ণু) পূর্বে যে পাপ-নাশিনী ও মঙ্গলদায়িনী কাহিনি বলেছেন, তা রাজা অঙ্গপুত্রকে শোনান। এরপর কুঞ্জল–কপিঞ্জল উপাখ্যানে প্রবেশ: কুঞ্জল পুত্র কপিঞ্জলকে ডেকে জিজ্ঞাসা করেন—অন্নের সন্ধানে গিয়ে সে কী অসাধারণ দৃশ্য দেখেছে। কপিঞ্জল তীর্থ-বর্ণনার ভঙ্গিতে কৈলাসের মহিমা বলেন—তার শুভ্রতা, রত্নসম্ভার, বন-উপবন, দিব্য সত্তাদের বিচরণ এবং শিবমন্দির; কৈলাসকে তিনি ‘পুণ্যের সঞ্চিত রাশি’ রূপে দেখান। গঙ্গার অবতরণ, কৈলাসস্থিত বিশাল সরোবর, এবং এক শোকাকুলা দিব্য কন্যার কথা উঠে আসে—যার অশ্রু থেকে পদ্ম জন্মায় এবং সেগুলি গুহার স্রোতে ভেসে যায়। রত্নপর্বতে অধিষ্ঠিত রত্নেশ্বর/মহেশ্বরের নামোল্লেখ হয় এবং এক চরম শিবভক্ত তপস্বীর পরিচয় দেওয়া হয়। শেষে কপিঞ্জল কারণ-ব্যাখ্যা প্রার্থনা করলে জ্ঞানী কুঞ্জল পরবর্তী বক্তব্য আরম্ভ করতে উদ্যত হন।

57 verses

Adhyaya 102

Vision of Nandana Grove: The Glory of the Wish-Fulfilling Tree and the Birth of Aśokasundarī

ভূমিখণ্ডের স্তরবদ্ধ বর্ণনায় পুলস্ত্য ঋষি ভীষ্মকে জানান—দেবী পার্বতী শ্রেষ্ঠতম অরণ্য দর্শনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তখন মহাদেব অসংখ্য গণসহ তাঁকে স্বর্গীয় নন্দনবনে নিয়ে যান। সেখানে বৃক্ষলতা, পুষ্পসৌরভ, পাখির কলরব, সরোবর এবং দেব-গন্ধর্বাদি সত্তার উপস্থিতিতে নন্দনবনের পুণ্যময় পবিত্র ভূদৃশ্য বিস্তারে চিত্রিত হয়। পার্বতী এক অতিশয় শুভ ও পরম পুণ্যদায়ক আশ্চর্য বস্তু/লক্ষণ দেখে তার রহস্য জিজ্ঞাসা করেন। শিব ‘শ্রেষ্ঠ’ তত্ত্বসমূহের ক্রম ব্যাখ্যা করে কামনা-পূরণকারী কল্পদ্রুমের মহিমা প্রকাশ করেন, যা দেবতাদের অভীষ্ট দান করে। তার স্বভাব পরীক্ষা করতে দেবী সেই বৃক্ষ থেকে এক অপূর্ব কন্যা লাভ করেন; পরে তার নাম হয় ‘অশোকসুন্দরী’, এবং রাজা নহুষের সঙ্গে তার বিবাহ নির্ধারিত বলে বলা হয়। অধ্যায়ের উপসংহারে বেন-প্রসঙ্গ ও গুরু-তীর্থের মাহাত্ম্য উল্লেখিত; স্বর্গীয় দর্শনকে তীর্থযাত্রার পুণ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

75 verses

Adhyaya 103

Aśokasundarī and Huṇḍa: Chastity, Karma, and the Foretold Rise of Nahuṣa

নন্দন উদ্যানে শিবকন্যা অশোকসুন্দরী (নিশ্চলা) আনন্দে বিচরণ করছিলেন। তখন বিপ্রচিত্তির পুত্র হুণ্ডা মোহিত হয়ে তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়। দেবী পতিব্রতা-ধর্মের কথা জানিয়ে বলেন—চন্দ্রবংশীয় নহুষের সঙ্গে তাঁর বিবাহ দেবনির্দিষ্ট, এবং ভবিষ্যতে সেই ধারায় যযাতি নামে পুত্রের খ্যাতি হবে। হুণ্ডা এই ভবিষ্যদ্বাণী মানে না, বয়স-যৌবনের যুক্তি তোলে এবং মায়ার দ্বারা প্রতারণা করে দেবীকে মেরুস্থিত নিজের নগরে নিয়ে যায়। সেখানে দেবীর ক্রোধ শাপরূপে প্রকাশ পায়, আর তিনি গঙ্গাতীরে তপোব্রত গ্রহণ করেন—কর্মফল ও নিয়তির অনিবার্যতা স্পষ্ট হয়। নহুষের জন্ম রোধ করতে হুণ্ডা তার মন্ত্রী কম্পনের কাছে উপায় জানতে চায়। এরপর কাহিনি আয়ুর সন্তানহীনতার দিকে মোড় নেয়; আয়ু দত্তাত্রেয়ের সাক্ষাৎ পান, তাঁর বিচিত্র তপস্যায় ভক্তির পরীক্ষা দিয়ে শেষে বর লাভ করেন—যাতে নির্ধারিত বংশধারা প্রতিষ্ঠিত হয়।

139 verses

Adhyaya 104

Indumatī’s Auspicious Dream and the Prophecy of a Viṣṇu-Portioned Son

দত্তাত্রেয় মুনির শুভ প্রস্থান-পর, রাজা আয়ু নিজ নগরে ফিরে ইন্দুমতীর সমৃদ্ধ গৃহে প্রবেশ করেন। দত্তাত্রেয়ের বাক্যপ্রসাদে প্রাপ্ত ফল ভক্ষণ করে ইন্দুমতী গর্ভধারণ করেন। এরপর তিনি এক আশ্চর্য স্বপ্ন দেখেন—শ্বেতবস্ত্রভূষিত, তেজোময়, চতুর্ভুজ বিষ্ণুসদৃশ দেবতা শঙ্খ, গদা, চক্র ও খড়্গ ধারণ করে এসে তাঁকে স্নান-সংস্কারে সম্মানিত করেন, অলংকারে ভূষিত করেন এবং তাঁর হাতে একটি পদ্ম রেখে অন্তর্ধান হন। ইন্দুমতী স্বপ্নবৃত্তান্ত রাজা আয়ুকে জানান। রাজা তখন গুরু শৌনকের শরণ নেন। শৌনক বলেন, এটি দত্তাত্রেয়ের পূর্ববরেরই লক্ষণ; ইন্দুমতীর গর্ভে বিষ্ণু-অংশসম্ভূত পুত্র জন্মাবে—ইন্দ্র/উপেন্দ্রসম পরাক্রমী, ধর্মরক্ষক, চন্দ্রবংশবর্ধক, এবং বেদ ও ধনুর্বিদ্যায় পারদর্শী।

25 verses

Adhyaya 105

The Birth and Preservation of Nahuṣa (Guru-tīrtha Greatness within the Vena Episode)

ভবিষ্যদ্বাণী শোনা যায়—এক মহাবীর জন্ম নেবে, যে দানব হুণ্ডকে বিনাশ করবে; এতে সংশ্লিষ্টদের মনে শোক ও আশঙ্কা জাগে। রানি ইন্দুমতীর গর্ভ বিষ্ণুর দিব্য তেজে রক্ষিত থাকে, ফলে হুণ্ডের ভয়ংকর মায়াবিদ্যা ব্যর্থ হয়। শতবর্ষ পরে ইন্দুমতী এক দীপ্তিমান পুত্র প্রসব করেন। তখন দুষ্ট দাসী মেকলার সহায়তায় হুণ্ড প্রাসাদে প্রবেশ করে নবজাতকে অপহরণ করে এবং স্ত্রী বিপুলাকে আদেশ দেয়—শিশুটিকে রান্না করে খাওয়াতে। কিন্তু রাঁধুনি ও সাইরন্ধ্রী নামের দাসীর হৃদয়ে করুণা জাগে; তারা গোপনে মাংসের বদলি রেখে শিশুটিকে উদ্ধার করে ঋষি বশিষ্ঠের আশ্রমে পৌঁছে দেয়। বশিষ্ঠ ও মুনিগণ শিশুর রাজলক্ষণ দেখে তাকে গ্রহণ করেন; বশিষ্ঠ তার নাম রাখেন ‘নহুষ’, জন্মসংস্কার সম্পন্ন করেন এবং পরে বেদ, ধর্ম, নীতি ও ধনুর্বিদ্যায় শিক্ষাদান করে কর্ম-ধর্ম ও গুরু-রক্ষার মাহাত্ম্য প্রকাশ করেন।

65 verses

Adhyaya 106

The Lament of King Āyū and Indumatī: The Abduction/Loss of the Child and Karmic Reflection

এই অধ্যায়ে চন্দ্রবংশীয় রাজা আয়ু ও স্বর্ভানুর কন্যা ইন্দুমতীর শিশুপুত্রের আকস্মিক লোপ/অপহরণ বর্ণিত। ইন্দুমতীর বিলাপ ক্রমে আত্মসমীক্ষায় রূপ নেয়—পূর্বজন্মে কি বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, বা কোনো শিশুর প্রতি অপরাধ হয়েছিল? বৈশ্বদেব-ধর্মে অতিথিসেবা কিংবা ব্রাহ্মণ-সংস্কৃত হবি/অর্ঘ্য অর্পণে কি অবহেলা ঘটেছিল? দত্তাত্রেয়ের প্রদত্ত বর—“সদাচারী, অজেয় পুত্র”—স্মরণে সংকট আরও তীব্র হয়: সিদ্ধ বরদানের মধ্যেও বাধা কীভাবে? শোকে ইন্দুমতী মূর্ছা যান। রাজা আয়ুও বিচলিত হয়ে কাঁদেন এবং নিয়তির সামনে তপস্যা ও দানের ফলপ্রভাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। উপসংহারে অধ্যায়টি বেন-প্রসঙ্গ, গুরুতীর্থ-মাহাত্ম্য, চ্যবন-কথা ও নহুষ-উপাখ্যানের ধারায় স্থাপিত বলে নির্দেশিত।

20 verses

Adhyaya 107

Narada Consoles King Āyu: Prophecy of the Son’s Return and Future Sovereignty

এই অধ্যায়ে দেবর্ষি নারদ স্বর্গ থেকে এসে শোকাকুল রাজা আয়ুকে জিজ্ঞাসা করেন—পুত্রহরণের কারণে কেন তিনি এত বিষণ্ণ। নারদ জ্ঞান ও আশ্বাস দিয়ে শোক প্রশমিত করেন এবং বলেন, এই ঘটনা অমঙ্গল নয়; পুত্র নিরাপদ, শেষ পর্যন্ত কল্যাণই ঘটবে। এরপর তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন—রাজার এক অসাধারণ পুত্র (বা হারানো পুত্রই) পুনরায় প্রত্যাবর্তন করবে; সে সর্বজ্ঞ, কলাবিদ্যায় পারদর্শী, দেবতুল্য গুণসম্পন্ন। বিষ্ণুর কৃপায় তার আগমন হবে এবং শিবের কন্যা তার সহচরী হয়ে ফিরবে। নিজ তেজ ও পুণ্যকর্মে সে ইন্দ্রসম হয়ে ইন্দ্রসদৃশ সার্বভৌম ক্ষমতা লাভ করবে। নারদ বিদায় নিলে রাজা রাণীকে সংবাদ দেন; শোকের স্থানে আনন্দ আসে। দত্তাত্রেয়ের তপস্যাজনিত বর যে অব্যয়—এ কথাও কাহিনি জোর দিয়ে বলে। শেষে ভূমিকাণ্ডের বৃহত্তর প্রবাহে বেন-প্রসঙ্গ, গুরু-তীর্থের মাহাত্ম্য, চ্যবনের কাহিনি ও নহুষ-আখ্যানের সঙ্গে এই অধ্যায়ের যোগসূত্র স্মরণ করানো হয়।

17 verses

Adhyaya 108

The Nahusha Episode: Aśokasundarī’s Austerity and Huṇḍa’s Doom

বসিষ্ঠ মুনি নহুষকে ডেকে বন থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করতে পাঠান। ফিরে এসে নহুষ চারণ‑কিন্নরদের সংবাদ শোনে—গোপন বংশগত সংকট ও দানবসৃষ্ট উপদ্রবের ইঙ্গিত এতে প্রকাশ পায়। তখন তার মনে প্রশ্ন জাগে: বায়ু, ইন্দুমতী, অশোকসুন্দরী ও নিজে নহুষ—এদের সম্পর্ক কী, এবং এই ঘটনার অন্তর্নিহিত কারণই বা কী। বসিষ্ঠ বলেন—রাজা আয়ু ও ইন্দুমতীই নহুষের পিতা‑মাতা। শিবের কন্যা অশোকসুন্দরী গঙ্গাতীরে কঠোর তপস্যা করছেন, কারণ দেববিধানে নহুষই তাঁর নির্ধারিত স্বামী। দানবাধিপতি হুণ্ডা কামাতুর হয়ে তাঁর হাত চাইলে, পরে তাঁকে অপহরণ করে; তখন অশোকসুন্দরী শাপ দেন—নহুষের হাতেই হুণ্ডার মৃত্যু হবে। বসিষ্ঠ আরও জানান, নহুষও একসময় অপহৃত হয়েছিল, কিন্তু রক্ষিত হয়ে আশ্রমে পৌঁছে যায়। এখন তার কর্তব্য—হুণ্ডাকে বধ করা, বন্দিনীকে মুক্ত করা এবং অশোকসুন্দরীর সঙ্গে মিলনে ধর্মব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

36 verses

Adhyaya 109

The Aśokasundarī–Nahuṣa Episode: Demon Stratagems, Protection by Merit, and Lineage Prophecy

এই অধ্যায়ে অশোকসুন্দরী–নহুষ উপাখ্যানের ধারাবাহিকতা বর্ণিত। হুণ্ড নামক দৈত্য/দানব অহংকার করে বলে যে সে আয়ুর পুত্র নবজাত নহুষকে ভক্ষণ করেছে এবং অশোকসুন্দরীকে নির্ধারিত স্বামী ত্যাগ করতে প্ররোচিত করে। তখন শিবকন্যা তপস্বিনী সত্য ও তপস্যার শক্তিতে উত্তর দেন, শাপের ভয় দেখিয়ে তাকে নিবৃত্ত করেন এবং বলেন—সত্য ও তপই দীর্ঘায়ুর রক্ষাকবচ। এরপর বোঝানো হয় যে পূর্বপুণ্য ও ধর্মনিষ্ঠার প্রভাবে সাধুজন বিষ, অস্ত্র, অগ্নি, মন্ত্রপ্রয়োগ ও কারাবাসের মতো বিপদেও অক্ষত থাকে। বিষ্ণুভক্ত কিন্নর দূত বিদ্বর অশোকসুন্দরীকে সান্ত্বনা দিয়ে জানায়—নহুষ জীবিত, দেবকৃপা ও কর্মপুণ্যে রক্ষিত; সে অরণ্যে সত্যেক মুনির আশ্রমে শিক্ষালাভ করছে এবং ভবিষ্যতে হুণ্ডকে বধ করবে। শেষে যযাতির রাজবংশ, তাঁর পুত্র তুরু, পুরু, উরু, যদু এবং যদুর বংশধরদের কথা বলা হয়—যাতে ব্যক্তিগত সদাচার, দৈব বিধান ও বংশধারার ধারাবাহিকতা একসূত্রে প্রকাশ পায়।

64 verses

Adhyaya 110

The Devas Arm Nahuṣa: Divine Weapons, Mātali’s Chariot, and the March Against Huṇḍa

বশিষ্ঠ প্রমুখ ঋষিদের নিকট থেকে বিদায় ও অনুমতি নিয়ে নহুষ দানব হুণ্ডের সঙ্গে সংঘর্ষে যাত্রা করে। ঋষিগণ তাকে জয়াশীর্বাদ দেন, আর দেবসমাজ ঢাক-ঢোলের ধ্বনি ও পুষ্পবৃষ্টিতে আনন্দ প্রকাশ করে। ইন্দ্র ও অন্যান্য দেবতা নহুষকে দিব্য শস্ত্র-অস্ত্র দান করেন। দেবদের অনুরোধে ইন্দ্র তাঁর সারথি মাতলিকে আদেশ দেন—ধ্বজযুক্ত রথ আনো, যাতে রাজা যুদ্ধক্ষেত্রে গমন করতে পারেন। ইন্দ্র স্পষ্টভাবে নহুষকে নিয়োগ করেন—পাপী হুণ্ডকে বধ করো। বশিষ্ঠের কৃপা ও দেবপ্রসাদে উল্লসিত নহুষ বিজয়ের প্রতিজ্ঞা করে। পরে শঙ্খ-চক্র-গদাধারী ভগবান আবির্ভূত হয়ে আরও অস্ত্র প্রদান করেন—শিবের ত্রিশূল, ব্রহ্মাস্ত্র, বরুণের পাশ, ইন্দ্রের বজ্র, বায়ুর শূল ও অগ্নির প্রক্ষেপাস্ত্র। দীপ্তিমান রথে আরূঢ় হয়ে মাতলিসহ নহুষ শত্রুর অবস্থানের দিকে অগ্রসর হয়।

25 verses

Adhyaya 111

Nahuṣa’s Departure and the Splendor of Mahodaya (City-and-Forest Description)

নহুষ বীরোচিত সংকল্পে যাত্রা করেন। ভূমিখণ্ডের প্রসঙ্গে কুঞ্জল বর্ণনা করে—অপ্সরা ও কিন্নরীরা মঙ্গলগীত গাইতে গাইতে আবির্ভূত হয়, আর কৌতূহলে গন্ধর্ব-নারীরা সমবেত হয়; চারদিকে শুভ গান-নৃত্যের আবহ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর মহোদয়া নগরীর ঐশ্বর্যচিত্র—যদিও দুষ্ট হুন্ডার সঙ্গেও তার যোগ বলা হয়েছে, তবু ইন্দ্রের নন্দনবনের মতো ক্রীড়াবন, রত্নখচিত প্রাচীর, প্রহরীদুর্গ, পরিখা, পদ্মভরা জলাশয় ও কৈলাসসদৃশ প্রাসাদে নগরী দীপ্ত। নহুষ সেই সমৃদ্ধি দেখে মাতলির সঙ্গে নগরপ্রান্তের বিস্ময়কর অরণ্যে প্রবেশ করে নদীতীরে পৌঁছান, যেখানে গন্ধর্বরা গান করে এবং সূত-মাগধরা তাঁর প্রশংসা করে। শেষে মধুর কিন্নরগীত শ্রবণে দেবসৌন্দর্য ও স্তুতির আবরণে রাজগৌরব আরও উজ্জ্বল হয়।

16 verses

Adhyaya 112

Gurutīrtha Māhātmya (within the Nahuṣa Episode): Celestial Song, Divine Splendor, and Reflective Doubt

ভূমিখণ্ডের তীর্থকথার অন্তর্গত এই প্রসঙ্গে এক স্বর্গীয় গান-নৃত্য শম্ভুর কন্যার অন্তরে আলোড়ন তোলে; তিনি দৃঢ় বৈরাগ্য ও তপস্বিনী-সংকল্পে উঠে দাঁড়ান। তখন রাজপুত্রসদৃশ এক অপূর্ব তেজস্বী পুরুষের দর্শন হয়—সুগন্ধ, পুষ্পমালা, অলংকার, বস্ত্র ও শুভলক্ষণে দীপ্ত—যাঁকে দেখে সকলেই বিস্ময়ে অভিভূত হয়। তার পরিচয় নিয়ে জল্পনা বাড়ে—তিনি কি দেব, গন্ধর্ব, নাগপুত্র, বিদ্যাধর, না কি ক্রীড়াশক্তিতে স্বয়ং ইন্দ্র? পরে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়—শিব, মনোভব কাম, পুলস্ত্য, কিংবা কুবের—এভাবে পুরাণের ‘দিব্য-অস্পষ্টতা’র রীতি প্রকাশ পায়, যেখানে অতুল সৌন্দর্য বিচারবুদ্ধিকে পরীক্ষা করে। সমা যখন ভাবনায় নিমগ্ন, তখন রম্ভা ও সখীদের সঙ্গে এক সৌন্দর্য-অধিষ্ঠাত্রী নারী আগমন করেন; তিনি মৃদু হাসি ও হালকা হাস্যসহ শম্ভুর কন্যাকে সম্বোধন করেন। উপসংহারে অধ্যায়টির অবস্থান ভেন-কথা, গুরুতীর্থ-মাহাত্ম্য, চ্যবন-বৃত্তান্ত ও নহুষ-উপাখ্যানের মধ্যে নির্দেশিত।

9 verses

Adhyaya 113

Within the Greatness of Guru-tīrtha: The Episode of Nahuṣa and Aśokasundarī (in the Cyavana account)

এই অধ্যায়ে তপস্যা ও কামনার টানাপোড়েন প্রকাশ পায়। রম্ভা অশোকসুন্দরীকে সতর্ক করে—পুরুষের কথা মনে করলেও তপস্যার ক্ষয় হতে পারে; কিন্তু নহুষের কামনাময় বাক্যের মধ্যেও অশোকসুন্দরী নিজের তপস্যা ও সংযমের অচল দৃঢ়তা ঘোষণা করে। সঙ্গে আত্মতত্ত্বের উপদেশও মিশে যায়—আত্মা নিত্য ব্রহ্মস্বরূপ, মন চঞ্চল, আর মোহের পাশ দেহধারীদের বেঁধে রাখে। এরপর ধর্মসম্মত সমাধান আসে: নহুষই তার নির্ধারিত স্বামী—এ কথা স্থির হয়, এবং অন্য পুরুষদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়। রম্ভা দূতী হয়ে নহুষের কাছে গিয়ে সংবাদ জানায়; নহুষ বসিষ্ঠের মাধ্যমে জানা এই বৃত্তান্তকে সত্য বলে মানে, কিন্তু দানব হুণ্ডকে বধ করার পরেই মিলনের প্রতিজ্ঞা করে। উপসংহারে এই কাহিনি বেন-প্রসঙ্গ ও গুরুতীর্থ-মাহাত্ম্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তীর্থপবিত্রতা ও ব্যক্তিগত ধর্মের সম্পর্ক দেখায়।

49 verses

Adhyaya 114

Nahusha’s Challenge to Hunda and the Mustering of Battle

কুঞ্জলের শোনা সংবাদ শুনে দৈত্যরাজ হুন্ডা ক্রোধে ফেটে পড়ে। সে এক দ্রুত দূতকে পাঠায়—রম্ভার সঙ্গে নির্জনে যে পুরুষ কথা বলছে, এখানে যাকে ‘শিবের কন্যা’ বলা হয়েছে, তার পরিচয় জেনে আসতে। লঘুদানব নাহুষের কাছে গিয়ে তার নাম, উদ্দেশ্য এবং হুন্ডাকে ভয় না পাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করে। নাহুষ নিজেকে রাজা আয়ুর্বলির পুত্র ও দৈত্যবিনাশক বলে ঘোষণা করে। কাহিনিতে স্মরণ করানো হয়, শৈশবে হুন্ডা তাকে অপহরণ করেছিল, আর রম্ভার তপস্যা হুন্ডাবধের লক্ষ্যে নিবদ্ধ। দূত ফিরে এসে নাহুষের হুমকি ও কঠোর বাক্য হুন্ডাকে জানায়। তখন হুন্ডা অবহেলায় বেড়ে ওঠা ‘রোগ’ের মতো এই বিপদ দূর করতে স্থির করে, চতুরঙ্গিনী সেনা সমবেত করে এবং ইন্দ্রসম রথবাহিনী নিয়ে অগ্রসর হয়। দেবতারা আকাশ থেকে যুদ্ধদৃশ্য দেখে; অস্ত্রবৃষ্টি নেমে আসে, আর নাহুষ ধনুর্গর্জন ও ভয়ংকর নাদে দানবদের সাহস ভেঙে দেয়।

31 verses

Adhyaya 115

The Battle of Nahuṣa and Huṇḍa (within the Guru-tīrtha Glorification Episode)

ভূমিখণ্ডের গুরু-তীর্থ-মাহাত্ম্য ও চ্যবন–নহুষ প্রসঙ্গের অন্তর্গত এই অধ্যায়ে নহুষ ও দানব হুণ্ডের চূড়ান্ত যুদ্ধ বর্ণিত। আয়ুর পুত্র নহুষ সূর্যসম তেজস্বী বাণবৃষ্টিতে দানবদের ছত্রভঙ্গ করেন; তখন ক্রুদ্ধ হুণ্ড তাঁকে আহ্বান করে, এবং উভয়ের মধ্যে প্রত্যক্ষ দ্বন্দ্বযুদ্ধ শুরু হয়। মাতলি রথ চালালে নহুষ ও হুণ্ড ভয়ংকর আঘাত-প্রতিআঘাতে লিপ্ত হন। হুণ্ড ক্ষণিক লুটিয়ে পড়ে, পরে রণোন্মাদনায় পুনরুত্থিত হয়ে নহুষের পার্শ্বে আঘাত করে এবং রথ, ধ্বজা ও অশ্বদের ক্ষতি সাধন করে। নহুষ শ্রেষ্ঠ ধনুর্বিদ্যায় হুণ্ডের রথ ও অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করেন, তার বাহু ছেদন করে শেষে তাকে নিপাতিত করেন। দেব, সিদ্ধ ও চারণগণ ধর্ম-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য স্তব ও জয়ধ্বনি করেন; কাহিনি গুরু-তীর্থ ও নহুষ-আখ্যানের ধারায় নিজের স্থান নিশ্চিত করে সমাপ্ত হয়।

46 verses

Adhyaya 116

The Marriage of Nahuṣa and Aśokasundarī at Vasiṣṭha’s Hermitage (within the Gurutīrtha Glorification)

অশোকসুন্দরীকে তপস্বিনী এবং দেবনিযুক্ত বৈধ ধর্মপত্নী বলা হয়েছে। তিনি নহুষের কাছে এসে ধর্মরক্ষার্থে বিবাহ প্রার্থনা করেন। নহুষ গুরু-বাক্যকে প্রমাণ মান্য করে সম্মতি দেন এবং রম্ভার সঙ্গে রথে চড়ে বশিষ্ঠের আশ্রমে যান। সেখানে যুদ্ধজয় ও দানববধের সংবাদ জানালে বশিষ্ঠ আনন্দিত হন; শুভ তিথি-লগ্নে অগ্নি ও ব্রাহ্মণদের সাক্ষ্যে তিনি বিবাহ সম্পন্ন করে দম্পতিকে নহুষের পিতা-মাতার কাছে পাঠান। অন্যদিকে মেনকা ইন্দুমতীকে পুত্রের প্রত্যাবর্তন ও বিজয়ের সংবাদ দিয়ে সান্ত্বনা দেন; রাজপরিবার উৎসবের প্রস্তুতি করে এবং বিষ্ণুস্মরণে মন দেয়। অধ্যায়ের শেষে বৈষ্ণব-মোক্ষের মহিমা উচ্চারিত হয়; শিব দেবীকে দত্তাত্রেয় ও বিষ্ণু-অংশজাত এক পুত্রের কথা বলেন, যিনি দানবনাশ করে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করবেন—এভাবে পারিবারিক পুনঃপ্রতিষ্ঠা মহাধর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়।

32 verses

Adhyaya 117

The Deeds of Nahuṣa: Entry into Nāgāhvaya, Reunion with Parents, and Royal Consecration

ইন্দ্রের দিব্য রথে সরম্ভা ও অশোকসুন্দরীর সঙ্গে নহুষ প্রত্যাবর্তন করে জ্যোতির্ময় নাগাহ্বয় নগরে প্রবেশ করে। সেখানে বেদমন্ত্রের ধ্বনি, গান-বাদ্য, মঙ্গলধ্বনি ও ধর্মপরায়ণ প্রজার কলরবে নগরটি পবিত্র আভায় ভাসে। নহুষ পিতা আয়ু ও মাতা ইন্দুমতীকে প্রণাম করে আলিঙ্গন করে; তাঁদের আশীর্বাদে গাভী-গাভীর বাছুরের ন্যায় পিতামাতার স্নেহ প্রকাশ পায়। সে নিজের অপহরণ, বিবাহ এবং যে যুদ্ধে হুণ্ড নিহত হয়েছিল সেই বৃত্তান্ত জানায়; শুনে পিতামাতা পরম আনন্দ লাভ করেন। পরে নহুষ পৃথিবী জয় করে তা পিতার কাছে সমর্পণ করে, রাজসূয় প্রভৃতি যজ্ঞ স্থাপন করে এবং দান, ব্রত, নিয়ম ও তপস্যায় ধর্মকে পুষ্ট করে। দেবতা ও সিদ্ধগণ নাগাহ্বয়ে তার রাজ্যাভিষেক করেন; আয়ু নিজ পুণ্য ও পুত্র-তেজের প্রভাবে উচ্চ লোক প্রাপ্ত হন। শেষে ফলশ্রুতি—এই কাহিনি শ্রবণে ভোগলাভ হয় এবং অন্তে বিষ্ণুর ধাম প্রাপ্তি ঘটে।

34 verses

Adhyaya 118

Viṣṇu’s Māyā and the Stratagem Against Vihuṇḍa (with the Kāmodā–Gaṅgādvāra motif)

অধ্যায়ের শুরু গঙ্গার মোহনায় এক করুণ তীর্থ-দৃশ্যে—এক মহীয়সী নারী কাঁদছেন; তাঁর অশ্রু নদীতে পড়তেই দিব্য পদ্ম ও সুগন্ধি পুষ্প ফুটে ওঠে। তখন প্রশ্ন জাগে—এই নারী কে, আর যে তপস্বীর মতো পুরুষ শিবপূজার জন্য পদ্ম সংগ্রহ করছে সে-ই বা কে? শঙ্কর দেবীকে জিজ্ঞাসা করলে দেবী পাপহর এক বৃত্তান্ত বলেন। দৈত্যবংশে নহুষ হুন্ডকে বধ করেন; হুন্ডের পুত্র বিহুণ্ড কঠোর তপস্যায় দেবতা ও ব্রাহ্মণদের ত্রাস হয়ে প্রতিশোধের শপথ করে। দেবগণ বিষ্ণুর শরণ নেন; জনার্দন প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি মায়াশক্তি দ্বারা বিহুণ্ডকে বিনাশ করবেন। নন্দন উদ্যানে বিষ্ণু ‘মায়া’ নামে অতুলনীয়া নারীমূর্তি প্রকাশ করেন; সে কামে বিহুণ্ডকে বেঁধে শর্ত দেয়—শঙ্করের পূজা করো সাত কোটি দুর্লভ ‘কামোদা-উৎপন্ন’ পুষ্পে, এবং আমাকে মালা পরাও। ‘কামোদা বৃক্ষ’ না পেয়ে বিহুণ্ড শুক্রাচার্যের শরণ নেয়। শুক্র বলেন—কামোদা এক অপ্সরা; তার হাসি থেকে সুগন্ধি পুষ্প জন্মায়। সে গঙ্গাদ্বারে বাস করে, সেখানে ‘কামোদা’ নামে এক নগরীর কথাও প্রচলিত। তাকে হাসানোর কৌশল উপদেশ দিয়ে শুক্র অজান্তেই বিষ্ণুর পরিকল্পনাকে এগিয়ে দেন—তীর্থ-সংযুক্ত পুষ্পপুণ্য ও কামবন্ধনের জালে দৈত্যের পতন অবশ্যম্ভাবী হয়।

41 verses

Adhyaya 119

The Kāmodā Episode: Ocean-Churning Maiden, Tulasī Identity, and the Merit of Proper Flower-Offerings

এই অধ্যায়ে কামোদার আনন্দ‑হাস্য থেকে উৎপন্ন দিব্য ফুলের মহিমা বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে, হর্ষিত চিত্তে সুগন্ধি পুষ্পে শিবের পূজা করলে তিনি দ্রুত প্রসন্ন হন; কিন্তু গন্ধহীন বা অনুচিত ফুলে আরাধনা করলে দুঃখই ফল হয়। তখন প্রশ্ন ওঠে—এই ফুলের বিশেষ গুণ কী এবং কামোদা আসলে কে। কুঞ্জল সমুদ্র‑মন্থনের কাহিনি বলেন; সেখান থেকে চার কন্যা‑রত্ন উদ্ভূত হয়—সুলক্ষ্মী, বারুণী, জ্যেষ্ঠা ও কামোদা। কামোদাকে বারুণী/ফেন ও অমৃত‑তরঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করে বলা হয়, ভবিষ্যতে তিনিই তুলসী হবেন—বিষ্ণুর নিত্যপ্রিয়া; শ্রীকৃষ্ণকে একটিমাত্র তুলসীপাতা অর্পণ করাও মহাপুণ্য বলে প্রশংসিত। এরপর নতুন প্রসঙ্গ শুরু হয়—কৃষ্ণ পাপী বিহুণ্ডকে মোহিত করতে নারদকে পাঠান। বিহুণ্ড এক নারী লাভের জন্য কামোদার ফুল চাইলে নারদ তাকে গঙ্গাবাহিত ফুলের দিকে ফেরান এবং নিজে কামোদার কাছে যেতে যেতে তার অশ্রু নিবৃত্তির উপায় ভাবেন।

44 verses

Adhyaya 120

Entering Kāmodā and the Doctrine of Dreams, Sleep, and the Self

এই অধ্যায়ে নারদ কামোদা নামে এক দিব্য নগরী দর্শন করেন—দেবতায় পরিপূর্ণ, কামনা-সিদ্ধির দিকে অভিমুখী। তিনি কামোদার গৃহে প্রবেশ করলে সম্মানিত হন এবং তার কুশল জিজ্ঞাসা করেন। কামোদা বিষ্ণু-কৃপায় নিজের মঙ্গল ও সমৃদ্ধির কথা জানিয়ে উপদেশ প্রার্থনা করে। এরপর এক দুঃস্বপ্ন ও মোহকে উপলক্ষ করে দীর্ঘ শিক্ষা শুরু হয়। মানুষের স্বপ্ন দোষভেদে—বাত, পিত্ত, কফ ও তাদের সংযোগ—বিভক্ত; দেবতাদের নিদ্রা ও স্বপ্নহীন বলা হয়েছে। প্রভাতকালে দেখা স্বপ্নকে বিশেষভাবে ফলপ্রদ বলা হয়। পরে আত্মা-প্রকৃতি, তত্ত্ববিচার, পঞ্চভূত, প্রাণ-উদান-এর গতি, মহামায়ার দ্বারা নিদ্রার প্রক্রিয়া, কর্মসংস্কার ও স্বপ্নোদ্ভবের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়। উপসংহারে বলা হয়—ফল প্রকাশ পায় বিষ্ণুর ইচ্ছাতেই।

50 verses

Adhyaya 121

The Tale of Kāmodā and Vihuṇḍa: Tear-Born Lotuses on the Gaṅgā and the Ethics of Worship

অধ্যায় ১২১ শুরু হয় এক তত্ত্বজিজ্ঞাসা দিয়ে—যখন বিশ্ব এক আত্মায় লীন হয় এবং সংসার মায়ামাত্র, তবে হরি কেন জন্ম-মৃত্যুর পথে প্রবেশ করেন? নারদ কর্ম-কারণের কাহিনি বলেন: ভৃগুর যজ্ঞে যজ্ঞরক্ষার ব্রত ইন্দ্রের আদেশের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে; দানবেরা যজ্ঞ ধ্বংস করে, ফলে ভৃগুর শাপে হরিকে দশ জন্ম ভোগ করতে হয়। এরপর গঙ্গাতীরে এক শোকাতুর কন্যার অশ্রু নদীতে পড়ে পদ্মে পরিণত হয়। বিষ্ণুর মায়ায় মোহিত ও কামতাড়িত দানব বিহুণ্ড সেই শোকজ পদ্ম তুলে পূজার উপকরণ করে। দেবী/শ্রী ব্রাহ্মণবেশে তাকে নীতিশিক্ষা দেন—পূজার ফল পূজকের ভাব ও অর্পণের নৈতিক শুদ্ধতারই প্রতিফল। দানব যখন হিংস্র হয়, দেবী তাকে বধ করে জগতের মঙ্গল স্থাপন করেন এবং কর্ম, ভাব ও শুদ্ধ আচারের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।

52 verses

Adhyaya 122

Dialogue with the Parrot-Sage: Lineage, Ignorance, and the Vow of Learning

এই অধ্যায়ে বিষ্ণুর প্রাসঙ্গিক বচনে কুঞ্জল নামক শুককে ‘ধর্মই যার পাখা’—এভাবে মহিমান্বিত করা হয়েছে। বটবৃক্ষতলে এক দ্বিজশ্রেষ্ঠ তাকে দেখে বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করে—তুমি কি দেব, গন্ধর্ব, বিদ্যাধর, না কি শাপে পতিত কোনো সিদ্ধ? অসাধারণ ধর্মজ্ঞান দেখে সে সাধারণ পাখি বলে মনে হয় না। কুঞ্জল ব্রাহ্মণের বংশপরিচয় জেনে নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে শুরু করে। প্রথমে ব্রহ্মা→প্রজাপতি→ভৃগু—এই মহাবংশধারা এবং ভৃগুবংশে চ্যবনের নাম উল্লেখ করে। তারপর ব্যক্তিগত কাহিনিতে আসে—বিদ্যাধর নামক এক ব্রাহ্মণের তিন পুত্র; তাদের মধ্যে ধর্মশর্মা (বক্তা) অজ্ঞতার কারণে লাঞ্ছিত ও লজ্জিত ছিল। লজ্জা, পিতৃউপদেশ এবং শিক্ষালাভের কষ্টকর সাধনার কথা বলে সে বিদ্যা-অর্জনের ব্রত গ্রহণ করে। শেষে তীর্থে এক সিদ্ধ যোগীর আগমন হয়; তাঁর প্রশ্নই উচ্চ জ্ঞান ও মোক্ষাভিমুখ অনুসন্ধানের দ্বার খুলে দেয়, অজ্ঞতা-নিবৃত্তি ও ধর্মবুদ্ধি জাগিয়ে তোলে।

39 verses

Adhyaya 123

The Nature of Knowledge, the Guru as Living Tīrtha, and the Law of Final Remembrance

এই অধ্যায়ে জ্ঞানের স্বরূপ ব্যাখ্যা করা হয়েছে—তা দেহহীন, ইন্দ্রিয়হীন, তবু পরম আলোকদাতা; অজ্ঞান-অন্ধকার নাশ করে পরম ধামের পরিচয় করায়। শান্তি, ইন্দ্রিয়সংযম, মিতাহার, একান্তবাস ও বিবেক—এই অন্তর্গত সাধনার দ্বারা জ্ঞানের উদয় ঘটে বলে উপদেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর দৃষ্টান্তকথায় কুঞ্জল (শুকযোনিজ জ্ঞানী) নিজের জন্মপরম্পরার কারণ বর্ণনা করে—কুসঙ্গ ও মোহে পশুযোনিতে পতন, কিন্তু গুরুকৃপা ও অন্তর্মুখ যোগে নির্মল জ্ঞান পুনরুদ্ধার। শেষে বলা হয়, অন্তিম স্মরণ/ভাবই পরবর্তী জন্ম নির্ধারণ করে; গুরুই সর্বোচ্চ ‘চলমান তীর্থ’। বিষ্ণু/হরি উপসংহারে বেনকে যজ্ঞ ও দানে প্রবৃত্ত করেন এবং দিব্য কৃপায় মুক্তির আশ্বাস দেন।

62 verses

Adhyaya 124

The Episode of Vena: Pṛthu’s Counsel, Royal Proclamation, and Brahmā’s Boon

বিষ্ণু অদৃশ্য হয়ে গেলে বেনের উৎকণ্ঠা প্রশমিত হয়; তিনি উপদেশ দিয়ে পৃথু (বৈন্য)-র সঙ্গে পুনর্মিলন করেন। পৃথুকে এমন পুত্ররূপে প্রশংসা করা হয়, যাঁর গুণে কলুষিত বংশধারা পুনরুদ্ধার পায়। এরপর রাজধর্মের বাস্তব বিধান আসে—প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ, বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণদের আহ্বান, এবং কঠোর রাজ-ঘোষণা: মন, বাক্য ও দেহ—এই ত্রিবিধ কর্মে কোনো পাপ করা চলবে না; লঙ্ঘনে প্রাণদণ্ড পর্যন্ত নির্ধারিত। পরে পৃথু শাসনভার অর্পণ করে অরণ্যে গিয়ে কঠোর তপস্যা করেন, প্রতীকীভাবে শতবর্ষকাল। তুষ্ট ব্রহ্মা কারণ জিজ্ঞাসা করলে পৃথু বর চান—প্রজাদের পাপে যেন পিতা বেন কলঙ্কিত না হন, এবং অদৃশ্য দণ্ডদাতা বিষ্ণু পাপীদের শাস্তি দিন। ব্রহ্মা শুদ্ধির বর দিয়ে বলেন, বেন বিষ্ণু ও পৃথু—উভয়ের দ্বারাই শাসিত। এরপর পৃথু রাজ্যে প্রত্যাবর্তন করেন; বৈন্যের শাসনে পাপের ইচ্ছাও দমিত হয় এবং সদাচারে সমাজ সংশোধিত হয়।

27 verses

Adhyaya 125

Vena Episode Conclusion: Pṛthu’s Merit and the Greatness of Hearing the Padma Purāṇa in Kali-yuga

এই অধ্যায়ে বেণ–পৃথু উপাখ্যানের উপসংহার করা হয়েছে। বিষ্ণুভক্ত ও ধর্মপরায়ণ রাজা পৃথুর রাজ্যশাসন, পৃথিবী দোহনের দ্বারা প্রাপ্ত সমৃদ্ধি এবং প্রজাপালনের মহিমা বর্ণিত—ধর্মযুক্ত রাজত্বে তিনি ভূমিকে শস্য-ধনে পূর্ণ করে লোককল্যাণ সাধন করেন। এরপর রাজধর্মের দৃষ্টান্ত থেকে গ্রন্থশ্রবণের তত্ত্বে গমন। বলা হয়েছে, কলিযুগে বৈদিক মহাযজ্ঞের আচার লুপ্তপ্রায়; তাই ভূমিখণ্ড তথা পদ্মপুরাণ শ্রবণ-পাঠ পাপনাশক এবং অশ্বমেধাদি যজ্ঞের সমতুল্য ফলদায়ক। ব্যাসের প্রশ্নে পদ্মজ ব্রহ্মা জানান—পুরাণশ্রবণে অবিশ্বাস, লোভ, দোষান্বেষণ ও সামাজিক অশান্তি প্রভৃতি বিঘ্ন দেখা দেয়। প্রতিকার হিসেবে বৈষ্ণব হোম (নির্দিষ্ট স্তোত্র-মন্ত্রসহ), গ্রহ ও সহায় দেবতার পূজা, দান ইত্যাদি বিধান করা হয়েছে; দারিদ্রে একাদশী উপবাস ও বিষ্ণুপূজাই যথেষ্ট। শেষে পাঁচ খণ্ড ক্রমান্বয়ে শ্রবণে মহাপুণ্য ও মুক্তিলাভের কথা বলা হয়েছে।

52 verses