
मण्डल 9
The Soma Mandala
মণ্ডল ৯—সোম-মণ্ডল—সম্পূর্ণভাবে সোম পবমানকে নিবেদিত: সেই নিংড়ানো সোম, যা উলের ছাঁকনি (পবিত্র) দিয়ে বেগে প্রবাহিত হয়ে যজ্ঞের জন্য রাখা পাত্র/কুণ্ডে পৌঁছে নিজেকে শুদ্ধ করে। এই সূক্তসমূহে সোমের স্তব করা হয়েছে এক দীপ্তিমান, স্বয়ংচালিত স্রোতরূপে—যা ছেঁকে নির্মল জ্যোতিতে পরিণত হয়, ইন্দ্রকে উদ্দীপিত করে এবং দেবগণ, ঋত্বিজ ও যজ্ঞের ঋত (অনুষ্ঠান-ব্যবস্থা)কে ধারণ করে। কবিতাটি বারবার শুদ্ধিকে রূপান্তরের সঙ্গে যুক্ত করে—কাঁচা উদ্ভিদ-রস থেকে আলোকময়, শক্তিশালী পানীয়ে—যা প্রেরিত বাক্কে জাগিয়ে তোলে।
Sukta 9.1
সোম-পবমান গ্রন্থের এই প্রারম্ভিক সূক্তে পেষিত ও ছাঁকা অবস্থায় সোমকে আহ্বান করা হয়েছে, এবং প্রার্থনা করা হয়েছে যে তিনি ইন্দ্রের পানার্থে পরম মধুর, উল্লাসদায়ক ধারায় প্রবাহিত হন। ঋচাগুলি ছাঁকনি দিয়ে সোমের শোধন, দীপ্তিমান শক্তিতে তার স্বচ্ছীকরণ, এবং তার ফলস্বরূপ ইন্দ্রের বিজয়ী বলের উত্থানকে অনুসরণ করে—যে বল বৃত্ররূপ বাধা ভেঙে দেয় এবং প্রাচুর্য দান করে।
Sukta 9.2
ঋগ্বেদ ৯.২ একটি সোম-পবমান সূক্ত, যেখানে ঋষি সোমকে আহ্বান করেন যে তিনি পবিত্র (ছাঁকনি) দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দীপ্ত, বলবান এবং অর্ঘ্য-নিবেদনের উপযুক্ত হন। শুদ্ধ হতে হতে সোমকে “ইন্দ্রে প্রবেশ” করতে আমন্ত্রণ জানানো হয়, যাতে দিব্য বীরত্ব, বিজয় এবং যজ্ঞকর্ম শক্তি পায়। সূক্তের পরিণতিতে সোমের প্রশংসা করা হয়—তাঁকে যজ্ঞের প্রাচীন অন্তঃসত্তা, সেই অপরিহার্য শক্তি বলা হয়েছে যা আহুতিকে কার্যকর করে তোলে।
Sukta 9.3
এই পবমান সোম-সূক্তে নিপীড়িত সোমকে অমর, ডানাওয়ালা শক্তি হিসেবে স্তব করা হয়েছে—যে দ্রুত ভাঁড়/পাত্রের দিকে ধাবিত হয়ে স্থিতিস্থান ও পাত্রে স্থির হয়, তারপর শুদ্ধ হতে জলে নিমজ্জিত হয়। সোম যখন অবিচ্ছিন্ন ধারায় প্রবাহিত হয়, তখন তাকে প্রশংসা করা হয় এই কারণে যে তিনি উদ্দীপক প্রেরণা (ইষাঃ) উৎপন্ন করেন এবং যজমানকে ধন-সম্পদ বিতরণ করেন—এভাবে যজ্ঞীয় শুচিতাকে সমৃদ্ধি ও অনুপ্রাণিত শক্তির সঙ্গে যুক্ত করেন।
Sukta 9.4
এই পবমান সোম-সূক্তে নিংড়ানো ও ছাঁকা অবস্থায় শুদ্ধকারী সোমের স্তব করা হয়েছে। তাঁর কাছে বারংবার বিজয় লাভ, মহৎ যশ অর্জন, এবং উপাসকদের আরও উত্তম ও অধিক দীপ্তিময় অবস্থায় রূপান্তরিত করার প্রার্থনা জানানো হয়। প্রতিটি নিবেদনকে ‘অথা নো বস্যসস্ কৃধি’—“এখন আমাদের আরও শ্রেষ্ঠ কর”—এই ধ্রুবপদ ঘিরে রাখে: দীর্ঘায়ু ও সূর্যদর্শন, দীপ্তিমান ধন, এবং সোমের ইচ্ছা ও সহায়তায় ধারক সমৃদ্ধি।
Sukta 9.5
এই সোম পবমান সূক্তে স্বশুদ্ধিকারী সোমের স্তব করা হয়েছে—যিনি দীপ্তি ও শক্তিতে প্রজ্বলিত হয়ে শোধন-ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হন এবং প্রাণশক্তিকে জাগ্রত করেন। এখানে সোমকে এক মহাশক্তিশালী, আনন্দদায়ক সত্তা হিসেবে দেখানো হয়েছে, যার প্রকাশ রাত্রি ও ঊষার ন্যায় পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত হয়; এবং শেষে স্বাহা-ধ্বনিতে বলবৎ হওয়া সোম-আহুতিতে দেবসমূহকে আহ্বান জানিয়ে সূক্তের পরিসমাপ্তি ঘটে।
Sukta 9.6
এই পবমান সোম-সূক্তে সোমের আনন্দময় ও প্রবল প্রবাহের স্তব করা হয়েছে—যখন তিনি উলের ছাঁকনি দিয়ে বয়ে শুদ্ধ হন, দেবতাদের জন্য উপযুক্ত হন এবং অর্ঘ্যরূপে নিবেদনের যোগ্য হন। এখানে সোমকে শক্তিশালী ‘বৃষ’ ও দ্রুত অশ্বরূপে চিত্রিত করা হয়েছে; যজ্ঞীয় শোধন-ক্রিয়ায় পরিশুদ্ধ হয়ে তিনি প্রেরণাদায়ী বাক্ উৎপন্ন করেন এবং বিশেষত ইন্দ্রের কাম্য মাদক উল্লাস ও উন্মাদ-রস দান করেন।
Sukta 9.7
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সোম-সূক্তে সোমবিন্দুগুলির স্তব করা হয়েছে—তারা ঋত-এর নির্ধারিত পথে অগ্রসর হয় এবং ছাঁকনি দিয়ে শুদ্ধ হতে হতে দীপ্তিমান হয়ে ওঠে। এখানে সোমকে এক সচেতন, কপিশ-সোনালি শক্তি রূপে চিত্রিত করা হয়েছে, যে শোধনের পর ‘আসন গ্রহণ’ করে; আর গায়কের প্রেরিত ভাবনা সেবাভাবে তাঁর দিকেই নিবিষ্ট হয়। সূক্তটি পরে একত্রিত বিজয়ের প্রার্থনায় প্রসারিত হয়—ঐশ্বর্য, মাধুর্য, যশ ও স্থায়ী ধনভাণ্ডারের জন্য—যা দ্যৌ ও পৃথিবীর সমর্থনে প্রতিষ্ঠিত।
Sukta 9.8
এই পবমান সোম-সূক্তে সদ্য পরিশোধিত সোমধারার স্তব করা হয়েছে—যা ইন্দ্রের প্রিয় কাম্য লক্ষ্যের দিকে প্রবাহিত হয়ে তাঁর বীর্য (বীরত্বশক্তি) দৃঢ় করে এবং দিব্য উল্লাস দান করে। এখানে সোমকে দ্রুতগামী, প্রবল শোধক রূপে চিত্রিত করা হয়েছে—দেবতাদের আনন্দের জন্য মুক্ত—যিনি মানুষের জন্যও সন্তান, প্রাণশক্তি ও পরিপূর্ণতারূপে পোষণ হয়ে ওঠেন।
Sukta 9.9
এই পবমান সোম সূক্তে নিষ্পেষিত ও প্রবহমান সোমের স্তব করা হয়েছে—যিনি দীপ্তিমান ঋষিশক্তি রূপে দুই লোকের মধ্যে চলমান এবং পরিশোধনের দ্বারা দেবগণের উপযোগী হন। এতে সোমের পরিশ্রুত ধারা অনুপ্রাণিত বাক্, ঋত (সত্য-ব্যবস্থা) এবং ইন্দ্রের বিজয়ী বিধানের সঙ্গে যুক্ত, এবং শেষে স্থায়ী যশ, বল, বুদ্ধি ও স্বঃ (দীপ্তিমান লোক) প্রার্থনা করা হয়েছে।
Sukta 9.10
এই সোম পবমান সূক্তে শুদ্ধ সোম-ধারার স্বপ্রেরিত, তীব্র বেগে ধাবমান প্রবাহের স্তব করা হয়েছে—যখন তাকে নিংড়ে, ছেঁকে, rāyī (সমৃদ্ধি, ঐশ্বর্য, সত্তার পূর্ণতা) অভিমুখে প্রবাহিত করা হয়। সোম উজ্জ্বল হলে স্তোত্রটি তার প্রবাহকে সৌর দীপ্তি (বিবস্বৎ), ঊষার আশীর্বাদ (উষস্, ভাগ) এবং ঋষির অন্তর্দৃষ্টি-চক্ষে উপলব্ধ এক গোপন স্বর্গীয় অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত করে—ইঙ্গিত করে যে যাগীয় শোধন আসলে চেতনার আরোহনের প্রতিরূপ।
Sukta 9.11
এই পবমান সোম-সূক্তে শুদ্ধ ইন্দুকে আহ্বান করে স্তব করা হয়েছে—যখন তিনি ছাঁকনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দ্রুত দেবগণের দিকে ধাবিত হন এবং দিব্য শক্তিগুলিকে সুলভ করেন। এতে সোমের মাধুর্য ও প্রাণসঞ্চারী, উদ্দীপক শক্তির প্রশংসা করা হয়েছে এবং তাঁর কাছে ধন, বীর্য-পরাক্রম ও বিজয়দায়ক সঙ্গ লাভের প্রার্থনা করা হয়েছে—বিশেষত ইন্দ্রের সঙ্গে ঐক্যে।
Sukta 9.12
এই পবমান সোম-সূক্তে নিংড়ানো সোমবিন্দুগুলির স্তব করা হয়েছে—তারা শোধকের মধ্য দিয়ে দ্রুত ধাবিত হয়ে ঋত (বিশ্বব্যবস্থা)-এর আসনে পৌঁছে ইন্দ্রের বলবর্ধনের জন্য অতিমধুর ও দীপ্তিমান হয়ে ওঠে। এতে কলসগুলিতে এবং ছাঁকনি/পরিশোধকের মাধ্যমে সোমের স্বচ্ছীকরণ ও শুদ্ধির বর্ণনা আছে, এবং শেষে প্রার্থনা করা হয় যে শুদ্ধ ইন্দু উপাসকের মধ্যে স্বয়ংস্থিত, সহস্র-রশ্মিযুক্ত প্রাচুর্য (রয়ি) প্রতিষ্ঠা করুক।
Sukta 9.13
এই পবমান সোম-সূক্তে স্বশুদ্ধিকারী সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—যে উলের ছাঁকনি দিয়ে “হাজার ধারায়” দ্রুত প্রবাহিত হয়ে দেবতাদের উপযোগী হয়। বিশেষভাবে এখানে সোমের পরিশোধিত সারকে বায়ু ও ইন্দ্রের জন্য প্রস্তুত হবি/অর্ঘ্যরূপে উপস্থাপন করা হয়েছে, এবং প্রার্থনা করা হয়েছে যে প্রবহমান ইন্দু-শক্তি প্রচুর ধন, বীর্য-পরাক্রম ও বৈরী শক্তির পরাজয় দান করুক। সূক্তের পরিণতিতে সোম “ঋত”-এর “গর্ভে” প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে সে শুদ্ধতা, সঠিক বিধান ও দীপ্ত দৃষ্টির প্রতিষ্ঠা করে।
Sukta 9.14
এই সোম পবমান সূক্তে পরিশুদ্ধ সোমের স্তব করা হয়েছে—এক ঋষি-সদৃশ শক্তি হিসেবে, যা মহাজাগতিক জলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে প্রেরিত বাক্ বহন করে এবং স্বর্গীয় ও পার্থিব—উভয় লোককে জাগ্রত করে। বারংবার শোধনের দ্বারা সোম দীপ্তিমান হয়, ‘গাভী’ (কিরণ/আলোকদায়িনী শক্তি) অর্জন করে, এবং যজমানের কাছে আসার জন্য আহ্বানিত হয়—বসু, অর্থাৎ আলো, বল ও কল্যাণের ঐশ্বর্য নিয়ে।
Sukta 9.15
এই পবমান সোম-সূক্তে ছাঁকনির মধ্য দিয়ে বেগে ধাবমান, উজ্জ্বল রশ্মিতে দীপ্ত, শুদ্ধ সোমের স্তব করা হয়েছে, যা ইন্দ্রের বিজয়শক্তির ‘উন্মুক্ত ক্ষেত্র’-এর দিকে অগ্রসর হয়। এখানে সোমের পরিশোধন একদিকে যজ্ঞীয় ক্রিয়া, অন্যদিকে মহাজাগতিক-আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া: এই দীপ্ত পানীয় শক্তি, আনন্দ এবং অন্তর্গত অস্ত্রে পরিণত হয়ে পথ পরিষ্কার করে, যাতে বিজয় ও ধর্মসম্মত কর্মের জন্য পথ সুগম হয়।
Sukta 9.16
এই পবমান সোম-সূক্তে পেষিত সোমের স্তব করা হয়েছে—যা পাথর থেকে বেরিয়ে দ্রুত ধাবিত হয় এবং পশমের ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে দেবতাদের উপযোগী দীপ্তিমান, মাদক (প্রেরণাদায়ক) সার হয়ে ওঠে। সোমের দ্রুত, প্রবহমান গতি এখানে অন্তর্নিহিত শক্তির জাগরণ—বিশেষত ইন্দ্রের বল—এবং উপাসকের অন্তর্দৃষ্টি ও প্রাণশক্তির তীক্ষ্ণতার সঙ্গে যুক্ত।
Sukta 9.17
এই পবমান সোম-সূক্তে পেষিত সোমের স্তব করা হয়েছে—সে নদীর মতো বেগে ধাবিত হয়ে বাধা চূর্ণ করে এবং দেবতাদের দিকে যেতে যেতে ছাঁকনি/পরিশোধক (পবিত্র) দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নিজেকে শুদ্ধ করে। সোমের প্রশংসা করা হয়েছে এইভাবে যে সে “তিন দীপ্তিমান লোক”-এরও ঊর্ধ্বে আরোহন করে, সূর্যসদৃশ প্রেরণায় দীপ্ত হয়ে আলো ও প্রাণশক্তিকে অগ্রসর করে। সূক্তের পরিণতিতে মধুর, শক্তিশালী ধারাকে যৌথ যজ্ঞস্থানে আসন গ্রহণ করতে আহ্বান জানানো হয়—ঋত (সত্য/শৃঙ্খলা)-র জন্য শোভন এবং দেবপানের উপযুক্ত।
Sukta 9.18
এই সংক্ষিপ্ত পবমান স্তোত্রে সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—যখন তাঁকে পেষণ করে রস বের করা হয় এবং ছাঁকনি/পবিত্রক দিয়ে শুদ্ধ করা হয়, তখন তিনি পর্বত-উৎস থেকে প্রবাহিত হয়ে যজ্ঞের জন্য প্রস্তুত পাত্রসমূহে গমন করেন। প্রতিটি ঋচায় ‘madeṣu sarvadhā asi’—‘তুমি মদ/উদ্দীপনার সকল অবস্থায় সর্বতোভাবে বিরাজমান’—এই ধ্রুবপদ ফিরে আসে, যা প্রতিটি উন্নত অবস্থা ও পবিত্র উল্লাসে সোমের সর্বব্যাপী উপস্থিতি নিশ্চিত করে। স্তোত্রটির উদ্দেশ্য একদিকে আচারগত (প্রবহমান সোমকে পবিত্র করা), অন্যদিকে আধ্যাত্মিক (শুদ্ধ সারের দ্বারা স্বচ্ছতা, শক্তি ও সমৃদ্ধি আহ্বান করা)।
Sukta 9.19
এই সংক্ষিপ্ত সোম-পবমান সূক্তে ছাঁকনি/পবিত্রের মধ্য দিয়ে শুদ্ধ হতে থাকা সোমের প্রশংসা করা হয়েছে এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে যে তিনি স্বর্গ ও পৃথিবী—উভয় দিক থেকেই “উজ্জ্বল ধন” এনে দিন। এতে যজ্ঞীয় চিত্রকল্প (প্রবাহমান, পরিশোধিত পানীয় ও তার পোষণক্ষমতা) এবং একটি ব্যবহারিক নিবেদন একত্রিত: সোমের শুদ্ধ শক্তি নিকট বা দূর—যেখানেই থাকুক—শত্রুদের দমন করুক।
Sukta 9.20
এই সংক্ষিপ্ত গায়ত্রী সূক্তে সোম পবমানের প্রশংসা করা হয়েছে—তিনি যখন পশমের ছাঁকনি (পবিত্র) দিয়ে দ্রুত প্রবাহিত হন, ঋষি-সদৃশ এক ধারা হয়ে, যা দেবতাদের আস্বাদনের জন্য প্রস্তুত। কবি শুদ্ধ সোমের কাছে প্রার্থনা করেন, তিনি যেন সকল বিরোধী শক্তিকে পরাভূত করেন এবং এই স্তোত্রে ও যজমানের জীবনে স্থির ধন (ধ্রুব রয়ি), পুষ্টি/বৃদ্ধির প্রেরণা (ইষ্) এবং বীরত্বশক্তি (সুবীর্য) দান করেন।
Sukta 9.21
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমধারার প্রশংসা করা হয়েছে—যখন তারা ছাঁকনি/পরিশোধকের মধ্য দিয়ে দ্রুত ধাবিত হয়, তখন তারা দীপ্ত, প্রবল এবং ইন্দ্রের উল্লাস ও বিজয়ের উপযোগী হয়ে ওঠে। ঋচাগুলি সোমের শোধনকারী গতি, ‘স্বর’ (সূর্যলোক)-এর আলো ও ধনরত্ন জয়ের শক্তি, এবং ‘সৎ’ (বাস্তব) থেকে প্রেরিত ভাবনা (মতি)কে উদ্ভাসিত/প্রবাহিত করার ক্ষমতাকে গুরুত্ব দেয়। আচারগত ও অন্তর্মর্ম—উভয় অর্থেই—এই সূক্ত পরিশুদ্ধ আনন্দকে ইন্দ্রসদৃশ শক্তি ও দীপ্ত জ্ঞানের উদ্দীপক হিসেবে উদযাপন করে।
Sukta 9.22
এই সোম পবমান সূক্তে পেষিত সোমকে স্তব করা হয়েছে—দ্রুতগামী, গর্জনময় স্রোতরূপে, যা রথের মতো উচ্ছ্বসিত হয়ে যজমানকে বল, প্রাচুর্য ও প্রেরিত দৃষ্টি দান করে। এতে সোমের শোধন ও স্পষ্টকারী শক্তির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে—সে ছাঁকনি/পবিত্রের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ‘স্বচ্ছ-দ্রষ্টা’ হয় এবং ধী (প্রেরিত বুদ্ধি/চিন্তা) জাগিয়ে তোলে। সোমকে পণিদের কাছ থেকে গোপন ধন পুনরুদ্ধারকারী এবং ‘প্রসারিত সূতা/তন্তু’কে দৃঢ়কারী হিসেবেও প্রশংসা করা হয়েছে—যা যজ্ঞক্রিয়া ও উপলব্ধির ধারাবাহিকতার প্রতীক।
Sukta 9.23
এই সোম পবমান সূক্তে দ্রুতগামী, মধুধারা-প্রবাহিত সোমের স্তব করা হয়েছে—যখন তিনি পরিশোধিত হয়ে প্রবাহিত হন, তখন তিনি প্রেরিত কাব্য (কাব্য) জাগ্রত করেন এবং যজমানের মধ্যে শক্তি প্রতিষ্ঠা করেন। সোমকে ইন্দ্রের শক্তি (ইন্দ্রিয় রস)-এর বাহক বলা হয়েছে: ইন্দ্র যখন এই উল্লাস-রস পান করেন, তখন তিনি বারংবার বাধাদানকারী বৃত্র-শক্তিকে পরাভূত করেন; আর সোম উপাসককে শত্রুতাপূর্ণ বাক্য ও আক্রমণ থেকেও রক্ষা করেন।
Sukta 9.24
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—তিনি জলধারার মধ্যে দিয়ে ও ছাঁকনির পথ বেয়ে দ্রুত অগ্রসর হয়ে নিজেকে শোধিত করেন এবং যজ্ঞের উপযোগী হন। প্রার্থনা করা হয় যে এই পরিশুদ্ধ সোম মানুষকে আনন্দিত ও শক্তিশালী করুন, জনগোষ্ঠীর পক্ষে প্রাধান্য লাভ করুন, এবং তাঁর উজ্জ্বল, মধুর, নিংড়ানো সার দ্বারা শত্রুভাবাপন্ন বাক্য ও অন্ধকারকে দূরে তাড়িয়ে দিন।
Sukta 9.25
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সোম-সূক্তে সোমকে আহ্বান করা হয়েছে যেন তিনি পবিত্র ছাঁকনি (পবিত্র) দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নিজেকে শুদ্ধ করেন এবং দেবতাদের—বিশেষত মরুত ও বায়ুর—জন্য উল্লাসদায়ক পানীয় হয়ে ওঠেন। ছেঁকে নেওয়ার সময় সোমের প্রশংসা করা হয় প্রেরিত বিবেচনা/দক্ষতা (দক্ষ)-এর সাধক হিসেবে, যিনি ‘সমস্ত রূপে’ ব্যাপ্ত এবং সেই লোকের দিকে অগ্রসর হন যেখানে অমরগণ বাস করেন। সূক্তটির উদ্দেশ্য একদিকে যাজ্ঞিক—নিষ্পেষিত সোমকে আহুতি প্রদানের জন্য পবিত্রীকরণ—অন্যদিকে রহস্যময়—পবিত্র স্তোত্রগীত (অর্ক)-এর দীপ্তিমান গর্ভে সোমের আরোহনের বর্ণনা।
Sukta 9.26
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সোম-সূক্তে পবিত্র পানীয়টির স্তব করা হয়েছে, যখন তা শুদ্ধ হয়ে প্রেরিত ঋষি-দৃষ্টির দ্বারা প্রবাহিত ও গতিশীল হয়। তাকে বলা হয়েছে ‘অদিতির কোলে’—সীমাহীন মহাজাগতিক ঋত-ব্যবস্থার মধ্যে—পরিশোধিত হতে। বিবস্বতের সৌর দীপ্তিতে আবৃত সোমকে এগিয়ে চালিত করা হয় এবং তাকে বাচ্ (পবিত্র বাক্/বাণী)-এর অচ্যুত অধিপতি বলে প্রশংসা করা হয়; শেষে তাকে ইন্দ্রের জন্য নির্দিষ্ট উল্লাস/মদে প্রবৃত্ত করা হয়। এই সূক্তের উদ্দেশ্য একদিকে যজ্ঞীয়—সোম-নিষ্পেষণ ও ছাঁকনকে পবিত্র করা—অন্যদিকে ধ্যানমূলক, যেখানে শুদ্ধিকরণকে সত্য, বাক্ এবং মহাজাগতিক পূর্ণতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
Sukta 9.27
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমের স্তব করা হয়েছে—তিনি যখন পবিত্র (পবিত্রক) ছাঁকনির উপর দিয়ে প্রবাহিত হন, তখন শোধনের ক্রিয়ায় দীপ্ত ও শক্তিমান হয়ে ওঠেন। প্রেরিত ‘কবি’ রূপে সোম বক্রতা ও অনিষ্ট দূর করেন, দীপ্তিমান ‘গো’ (কিরণ/সম্পদ) অনুসন্ধান করেন, এবং মধ্য-অঞ্চল দিয়ে দ্রুত ইন্দ্রের দিকে ধাবিত হন, যাতে বিজয়দায়ক দেবীয় কর্মকে শক্তি দান করা যায়।
Sukta 9.28
এই সংক্ষিপ্ত পবমান স্তোত্রে সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—মানুষের হাত ও শক্তির দ্বারা তিনি প্রবাহিত হয়ে উলের ছাঁকনি ভেদ করে দ্রুত ধাবিত হন এবং দেবতাদের জন্য নির্মল, নির্বাচিত ধারায় পরিণত হন। সোমকে সর্বজ্ঞ ও মনের অধিপতি বলা হয়েছে; তিনি বৃষসদৃশ এক বল, যাকে “দশ স্বজন শক্তি” চালিত করে, এবং তিনি অর্ঘ্যের জন্য প্রস্তুত পাত্রসমূহ পূর্ণ করেন। স্তোত্রের পরিণতিতে সোমের অজেয় শোধনকারী প্রবাহের কথা বলা হয়, যা দিব্য বীরত্ব দান করে এবং ক্ষতিকর, মিথ্যা বাক্য (অঘশংস) বিনাশ করে।
Sukta 9.29
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমকে স্তব করা হয়েছে—তিনি সেই মহাশক্তিশালী, স্বয়ং-শুদ্ধকারী স্রোত, যার প্রবহমান দীপ্তি দেবতাদের অনুসরণ করে এবং দিব্য কর্মকে শক্তি জোগায়। এখানে সোমের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে যেন তিনি পার্থিব ও স্বর্গীয়—উভয় জগতের ‘সমস্ত ঐশ্বর্য’ জয় করান, বৈরিতা ও অন্তর্গত প্রতিরোধ দূর করেন, এবং বিজয় ও উন্নতির জন্য দীপ্তিমান শক্তি (দ্যুমৎ শুষ্ম) দান করেন।
Sukta 9.30
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—তিনি শক্তিশালী স্রোতে ছাঁকনি ভেদ করে দ্রুত প্রবাহিত হন, পরিশুদ্ধ হন এবং উপাসকদের মধ্যে প্রেরিত বাক্ (বাচ্) জাগ্রত করেন। এতে যজ্ঞীয় ক্রিয়ায় সোমের গতি অনুসৃত হয়েছে: প্রবাহমান শোধন থেকে শুরু করে পাত্র/কুণ্ডে তাঁর “আসন” গ্রহণ পর্যন্ত; এবং শেষে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়—ইন্দ্রের জন্য সর্বাধিক মধুর সোম নিংড়ে প্রস্তুত করো, যাতে দেবসমূহ উল্লাস ও শক্তিতে প্রবেশ করে।
Sukta 9.31
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—শোধনের ক্রিয়ায় তিনি “অগ্রসর” হন, জীবন্ত স্রোতের মতো প্রবাহিত হয়ে জাগ্রত, সচেতন ঐশ্বর্য (চেতনা রয়ি) দান করেন। প্রার্থনা করা হয়, তিনি যেন চারদিক থেকে সঞ্চিত শক্তি নিয়ে স্ফীত হন, বাজ (বিজয়ী শক্তি)-এর সভায় উপস্থিত থাকেন; এবং শেষে ইন্দুর মৈত্রীর জন্য নিবেদন—তিনি সেই অধিপতি, যিনি ভবন/হওয়ার প্রক্রিয়া ও লোকসমূহকে ধারণ করেন।
Sukta 9.32
এই সংক্ষিপ্ত সোম-পবমান সূক্তে নিংড়ানো সোমের স্তব করা হয়েছে—সে উল্লাসময় শক্তিতে প্রবাহিত হয়ে যজ্ঞসমাবেশে প্রবেশ করে এবং যজমান ও গায়ক-ঋত্বিজদের জন্য খ্যাতি, প্রেরিত শ্রবণশক্তি ও উন্নতি দান করে। সোমকে এক দীপ্তিমান শক্তি হিসেবে প্রশংসা করা হয়েছে, যে উভয় লোককে আলোকিত করে, দ্রুতগামী প্রাণীর মতো ছুটে চলে, এবং শেষে ঋত (মহাজাগতিক বিধান)-এর গর্ভে ‘আসন গ্রহণ’ করে। সূক্তের পরিণতিতে সরাসরি প্রার্থনা করা হয়—সোম যেন উপাসকদের মধ্যে জ্যোতির্ময় গৌরব প্রতিষ্ঠা করে, বৃদ্ধি, মেধা (বুদ্ধি) এবং স্থায়ী শ্রবস্ (খ্যাতি) জয় করে প্রদান করে।
Sukta 9.33
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে শুদ্ধিকরণের সময় সোমের বহু প্রবাহমান ধারার স্তব করা হয়েছে—তিনি জলের তরঙ্গের মতো গতিময় হয়ে ওঠেন এবং ষাঁড়ের মতো বলপ্রয়োগে অগ্রসর হন। এখানে ছাঁকনি ও নিবেদন-রূপ বাহ্য যজ্ঞক্রিয়াকে অন্তর্দীপ্তির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে—সোমের ‘হরিত-তাম্র’ শক্তি, প্রেরিত বাক্যের উদয়, এবং বিপুল, চতুর্বিধ সমৃদ্ধির দান।
Sukta 9.34
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—যখন তাকে নিংড়ে নেওয়া হয়, শুদ্ধ করা হয় এবং তিনি স্থির ধারায় প্রবাহিত হন—নিজস্ব অন্তর্নিহিত শক্তিতে বাধা ভেদ করে অগ্রসর হন। এতে ছাঁকনির বাহ্য যজ্ঞক্রিয়াকে অন্তঃপ্রেরণার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে: সোম ‘মার্জ্য’ (পরিশোধক/শোধনকারী) হয়ে ইন্দ্রের বীরোচিত উন্মাদ-উৎসাহ জাগিয়ে তোলেন, আর স্তোত্রগানগুলোও যেন দুগ্ধধেনুর হাম্বার মতো তাঁর দিকে ঢলে পড়ে।
Sukta 9.35
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সোম-সূক্তে শুদ্ধ সোমকে আহ্বান করা হয়েছে যেন তিনি শক্তিশালী স্রোতে যজমানদের দিকে প্রবাহিত হন, বিস্তৃত রয়ি (সমৃদ্ধি) এবং আলোর জ্ঞান দান করেন। এখানে সোম (ইন্দু)কে অগ্রচালক প্রেরণাশক্তি রূপে চিত্রিত করা হয়েছে, যিনি দ্রষ্টাকে বিজয়ময় কর্মে সক্ষম করেন এবং তাঁর শোধন-ব্রত দ্বারা প্রাণীদের ধর্মে প্রতিষ্ঠিত করেন।
Sukta 9.36
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমকে স্তব করা হয়েছে—চাপিয়ে নিষ্কাশনের পর তিনি মুক্ত হয়ে উলের ছাঁকনিতে প্রবেশ করেন এবং যুগল পাত্রে স্রোতধারায় প্রবাহিত হন; তখন তিনি শুদ্ধ হয়ে দেবতাদের জন্য শক্তিসম্পন্ন হন। ঋচাগুলি তাঁর ঋত-অনুগত (সুশৃঙ্খল, সত্য-অন্বেষী) প্রবাহ, বলবর্ধক পরাক্রম, এবং স্বর্গলোকে আরোহনের প্রশংসা করে—যা যজমানকে উদ্যম, আলো ও বীরশক্তি দান করে।
Sukta 9.37
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সদ্য নিঃপীড়িত সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—তিনি পবিত্র (ছাঁকনি) দিয়ে ছুটে গিয়ে পাত্র/কুণ্ডের দিকে প্রবাহিত হন এবং দেবতাদের পানযোগ্য হন। সোমকে বলা হয়েছে দিব্য, সত্য-উন্মোচক শুদ্ধিকারক, যিনি রক্ষস প্রভৃতি বৈরী শক্তিকে ভেঙে দেন এবং সমজাতীয় দীপ্তিমান শক্তির সঙ্গে মিলিত হয়ে আলোকে প্রকাশ করেন—শেষে ইন্দ্রকে তাঁর উদ্দীপক শক্তিদায়ক দান প্রদান করেন।
Sukta 9.38
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমের স্তব করা হয়েছে—যখন তাকে নিংড়ে শোধিত করা হয়, তখন তিনি শক্তিশালী বৃষ-রথের মতো প্রবল বেগে ধাবিত হয়ে প্রাচুর্য ও বলের দিকে প্রবাহিত হন। মন্ত্রগুলি সোমের দ্রুত গতি বর্ণনা করে, যা মানব-পরিসরে প্রবেশ করে এবং ‘প্রিয় যোনি’—সেই আশ্রয়স্থল—এর দিকে অন্তরঙ্গভাবে অগ্রসর হয়, যেখানে তিনি অর্ঘ্য ও পানযোগ্য হয়ে ওঠেন। এর উদ্দেশ্য শোধন-প্রবাহকে পবিত্র করা এবং যজ্ঞে সোমের উদ্দীপক, জীবন-ধারণকারী শক্তিকে আহ্বান করা।
Sukta 9.39
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমকে বন্দনা করা হয়েছে—তিনি দ্রুতগামী, স্বয়ং-জ্যোতির্ময় স্রোত, যিনি ছাঁকনি দিয়ে শুদ্ধ হয়ে দিব্য লোকের দিকে বহিত হন, যেখানে দেবগণ চিরন্তন সত্যের স্বীকৃতি দেন। এতে সোমের অবতরণ ও উচ্ছ্বাসকে মহাশক্তিশালী নদী-তরঙ্গের মতো চিত্রিত করা হয়েছে, এবং শেষে তাঁর ‘ঋত-এর গর্ভে’ অধিষ্ঠান—সেই সুশৃঙ্খল সত্যে—যা যজ্ঞ ও বিশ্বকে ধারণ করে।
Sukta 9.40
এই সংক্ষিপ্ত পবমান স্তোত্রে সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—যখন তিনি পেষণ ও ছাঁকন প্রক্রিয়ায় শুদ্ধ হন, সকল বৈরী শক্তিকে অতিক্রম করে অগ্রসর হন এবং প্রেরিত ধী (অনুপ্রাণিত ভাবনা)-দ্বারা “অলংকৃত” হন। কবি উজ্জ্বল ইন্দুকে প্রার্থনা করেন, তিনি যেন দ্যুম্ন (সাফল্যের দীপ্ত শক্তি), সহস্রগুণ পোষণদায়ী ইষা (পুষ্টিদায়ক প্রেরণা), এবং এমন “দ্বি-আধার” প্রাচুর্য দান করেন যা জাগতিক কল্যাণ ও অন্তর্গত উন্নতি—উভয়কেই ধারণ করে।
Sukta 9.41
এই সংক্ষিপ্ত পবমান স্তোত্রে সোমের প্রবাহমান, পরিশুদ্ধ রূপের প্রশংসা করা হয়েছে—যখন তিনি ছাঁকনি দিয়ে দ্রুত বয়ে গিয়ে অজ্ঞতা-অন্ধকারের “কালো চামড়া” ঝেড়ে ফেলে উজ্জ্বল, অক্লান্ত শক্তি প্রকাশ করেন। এতে সোমকে প্রার্থনা করা হয় যে তিনি যজ্ঞকারীদের দিকে প্রাচুর্যপূর্ণ পুষ্টি নিয়ে ধারা হয়ে প্রবাহিত হন—গবাদি পশু, স্বর্ণসদৃশ দীপ্তি, অশ্ব, এবং বিজয়ী বল দান করুন—এবং শান্তিদায়ক রক্ষায় তাদের চারদিক ঘিরে রাখুন। স্তোত্রটির উদ্দেশ্য একদিকে আচারগত (সোম-নিষ্পেষণকে শক্তিশালী করা), অন্যদিকে আধ্যাত্মিক (সোমরসের দ্বারা চেতনার পরিশোধন/স্পষ্টতা)।
Sukta 9.42
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সোম-সূক্তে চেপে নিষ্কাশিত ও ছাঁকনির মাধ্যমে পরিশুদ্ধ হতে থাকা হরিত/পীতাভ সোমের স্তব করা হয়েছে। তাকে ছাঁকনি দিয়ে প্রবাহিত হয়ে স্বর্গের দীপ্তিময় বিস্তার সৃষ্টিকারী এবং ‘জলের মধ্যে’ই সূর্যকেও উদ্ভাসিতকারী বলা হয়েছে। এখানে সোম ছাঁকার যজ্ঞক্রিয়াকে আলোকপ্রদ ও জীবনদায়ী প্রবাহের এক মহাজাগতিক কর্মের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, এবং শেষে যজমানদের জন্য সোমকে নিজেকে শুদ্ধ করতে ও বিস্তৃত পুষ্টি, গবাদি পশু, বীর, অশ্ব এবং শক্তি দান করতে প্রার্থনা করা হয়েছে।
Sukta 9.43
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সোম-সূক্তে সোমকে স্তব করা হয়েছে, যখন তিনি ছাঁকনিতে শুদ্ধ হন। তাঁকে তুলনা করা হয়েছে এক দ্রুত অশ্বের সঙ্গে, যাকে দীপ্তিমান “গাভী” (কিরণসমূহ) ধুয়ে নির্মল করে, এবং পরে কবিদের স্তোত্র তাঁকে অলংকৃত করে। এতে উজ্জ্বল ইন্দুর কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে—তিনি যেন দীপ্তিমান ধন (রয়ি), বহুরশ্মিময় জ্যোতি দান করেন, এবং স্তোত্রগায়ক ঋষিকে বিজয়দায়ক শক্তি ও মহৎ বীর-শক্তি (সুবীর্য) দ্বারা বলীয়ান করেন।
Sukta 9.44
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমকে আহ্বান করা হয়েছে—তিনি শোধনের ধারায় প্রবাহিত হয়ে, জীবনের তরঙ্গময় উচ্ছ্বাস বহন করে, দেবগণের দিকে ধাবিত হন এবং তাঁদের উপস্থিতি আহ্বান করেন। মন্ত্রগুলি সোমের পরিশ্রুত প্রবাহকে ‘সুন্দর যজ্ঞ’ (অধ্বর)–এর সঙ্গে সংযুক্ত করে; তাঁর কাছে প্রার্থনা করা হয় যেন তিনি পবিত্র আসন প্রতিষ্ঠা করেন এবং শক্তি, সঠিক পথনির্দেশ ও বিস্তৃত যশ প্রদান করেন।
Sukta 9.45
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোম (ইন্দু)-কে আহ্বান করা হয়েছে যেন তিনি ছাঁকনি/পবিত্রক দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নিজেকে শুদ্ধ করেন এবং মত্ততা-দায়ক, অন্তর্দৃষ্টি-জাগানো আনন্দরূপে প্রবাহিত হন, যা দেবতাদের আহ্বান করে। ঋচাগুলিতে ছাঁকনির পরেও সোমের অগ্রগামী বেগ, বিশেষত ইন্দ্রের দ্বারা তাঁর পান, এবং উপাসকদের স্তোত্রগানে দৃষ্টি-প্রসার ও বীরশক্তির বিকাশ—এই ফলগুলির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
Sukta 9.46
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমের স্তব করা হয়েছে—শোধনের ক্রিয়ায় তিনি প্রবল বেগে অগ্রসর হন, দেবতাদের আস্বাদের জন্য ধাবিত হন এবং প্রবাহিত হতে হতে দীপ্তিমান শক্তি অর্জন করেন। এতে পেষণ ও পরিশোধনের জীবন্ত চিত্র আছে—মন্থনদণ্ডে উজ্জ্বল সোমকে ধরে নেওয়া, তাকে ‘গাভী’ (রশ্মি/দুগ্ধ)-এর সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া, এবং বিশেষত ইন্দ্রের জন্য তাঁর উল্লাসদায়ক সামর্থ্য প্রস্তুত করা। উদ্দেশ্য একদিকে যজ্ঞীয়, অন্যদিকে প্রতীকী: যজ্ঞকে শক্তিশালী করা এবং শুদ্ধ, উন্নীত চেতনার প্রকাশ ঘটানো।
Sukta 9.47
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমকে বন্দনা করা হয়েছে—যখন তিনি পরিশোধিত হয়ে আহুতি-অর্পণের উপযুক্ত হন; ‘ঋত’-সম্মত সৎকর্মের দ্বারা তিনি শক্তিতে বৃদ্ধি পান এবং প্রাণসঞ্চারী বেগে উচ্ছ্বসিত হয়ে প্রবাহিত হন। এতে সোমের সেই সামর্থ্যও প্রকাশিত, যা ইন্দ্রের বীর্য (ইন্দ্রিয়) উৎপন্ন করে, এবং স্তোত্র জন্ম নিতেই বজ্রসদৃশ তেজকে জাগিয়ে তোলে; পাশাপাশি সোমকে ধনদাতা ও প্রতিযোগিতায় বিজয়দায়ক রূপে চিত্রিত করা হয়েছে।
Sukta 9.48
এই সংক্ষিপ্ত পবমান স্তোত্রে সোমের প্রশংসা করা হয়েছে, যখন তিনি পরিশুদ্ধ হয়ে পবিত্র আসনে প্রতিষ্ঠিত হন। তিনি বীর্য ও সৌন্দর্য ধারণ করেন, যা সফল ও ‘সুসাধিত’ যজ্ঞকর্মকে সমর্থন করে। সোমকে রাজসুলভ ও স্বর্গজ বলা হয়েছে—তিনি ধন ও শক্তি দান করেন; এবং প্রেরিত হলে তিনি বৃহত্তর ‘ইন্দ্র-শক্তি’তে বৃদ্ধি পেয়ে কাম্য সহায়তা ও বিস্তৃত পরাক্রম প্রদান করেন।
Sukta 9.49
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সোম-সূক্তে সোমের স্বশুদ্ধিকরণকে আহ্বান করা হয়েছে—এক মহাজাগতিক ও যজ্ঞীয় পরিশোধন, যা বৃষ্টির মতো পুষ্টি এবং উপাসকদের জন্য শক্তিদায়ক, স্বাস্থ্যবর্ধক প্রেরণা আনে। সোমকে প্রার্থনা করা হয় যে তিনি যজ্ঞের মধ্যে নির্মল, ঘৃতসদৃশ ধারায় প্রবাহিত হন, বৈরী শক্তিকে প্রতিহত করেন, এবং সত্য ও ঋত (শৃঙ্খলা)-এর প্রাচীন আলোককে পুনরায় প্রজ্বলিত করেন।
Sukta 9.50
এই সংক্ষিপ্ত পবমান স্তোত্রে সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—চাপ দিয়ে নিংড়ানো ও উলের ছাঁকনি দিয়ে পরিশুদ্ধ হতে হতে তিনি নদীর ঢেউয়ের মতো শক্তি ও ধ্বনিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন। এতে সোমের মধুর, উল্লাসজাগানো সাররসের কথা বলা হয়েছে এবং তিনি ইন্দ্রের পানীয় হতে প্রস্তুত হয়ে বিজয়ী শক্তি ও প্রেরিত বাক্কে দৃঢ় করেন।
Sukta 9.51
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে অধ্বর্যুকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—পাথরে পেষা সোমকে ছাঁকনিতে প্রবাহিত করতে, যাতে তা যজ্ঞীয় ও আধ্যাত্মিকভাবে পরিশুদ্ধ হয়ে ইন্দ্রের পানার্থে প্রস্তুত হয়। এখানে সোমের প্রশংসা করা হয়েছে মধুময় সাররূপে, যা দেবগণ (মরুতসহ) আস্বাদন করেন; এবং প্রার্থনা করা হয়েছে যে এই পরিশোধিত ধারা যজমানকে শক্তি (বাজ) ও স্থায়ী খ্যাতি (শ্রবস্) দান করুক।
Sukta 9.52
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সোম-সূক্তে সদ্য নিষ্পেষিত সোমকে আহ্বান করা হয়েছে যেন তিনি পবিত্র (ছাঁকনি)-র দিকে প্রবাহিত হন—দীপ্তিমান ও ধনদায়ক—এবং উপাসকদের প্রাচীন সমৃদ্ধি ও শক্তিতে পরিবেষ্টিত করেন। এখানে সোমকে দানে অচঞ্চল এবং এমন এক রক্ষক রূপে দেখানো হয়েছে, যিনি হিংস্র আক্রমণকারীকে ‘ঝাঁকিয়ে নামিয়ে’ দেন। শেষে শতগুণ বা সহস্রগুণ সাহায্য এবং রয়ি (ঐশ্বর্য/প্রাচুর্য) বৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে।
Sukta 9.53
এই সংক্ষিপ্ত পবমান স্তোত্রে সোমকে আহ্বান করা হয়েছে—যখন তাঁকে পেষণ করে শোধিত করা হয়—এবং তাঁর উদীয়মান শক্তিকে অনুরোধ করা হয়েছে যেন তিনি রক্ষস্ (দৈত্যসুলভ বাধা) চূর্ণ করেন ও শত্রুভাবাপন্ন প্রতিদ্বন্দ্বীদের তাড়িয়ে দেন। এতে শোধনকারী সোমের অখণ্ড ‘ব্রত’ (স্থির বিধি/নিয়ম) অপ্রতিহত বলে ঘোষণা করা হয়, এবং শেষে সেই চিত্রে উপনীত হয় যেখানে তামাটে ইন্দু নদীর স্রোতের মতো ধাবিত হয়ে যুদ্ধে ও বিজয়ে ইন্দ্রের উল্লাসদায়ক শক্তিতে পরিণত হন।
Sukta 9.54
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমকে শুদ্ধিকরণের মুহূর্তেই স্তব করা হয়েছে—উজ্জ্বল, প্রাচীন শক্তি হিসেবে, যার “দুধ” (রস/সার) অক্লান্ত হাতে নিংড়ে বের করা হয় এবং দেবতাদের উপযোগী করে তোলা হয়। সোমকে সূর্যের ন্যায় সকল লোকের ঊর্ধ্বে স্থিত, দীপ্ত ঋত-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাকারী বলে ঘোষণা করা হয়েছে; এবং তাকে আহ্বান করা হয়েছে যেন দেবতাদের আনন্দের জন্য প্রবাহিত হয়, দীপ্ত “গাভী” (কিরণ/সম্পদ) থেকে বল (বাজ) ও প্রাচুর্য দান করে।
Sukta 9.55
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমকে আহ্বান করা হয়েছে—বারংবার প্রবাহিত, স্বয়ং-শোধনকারী সেই সত্তাকে, যিনি যজমানকে পুষ্টি, সমৃদ্ধি ও সম্পূর্ণ কল্যাণ দান করেন। প্রার্থনা করা হয়, সোম যেন তাঁর উদ্দীপক শক্তি নিয়ে দ্রুত ধাবিত হন, “গাভী” (কিরণ/ধন) ও “অশ্ব” (শক্তি/উদ্যম) প্রকাশ করেন, এবং অজেয় বল হয়ে অন্তর্গত ও বহিরাগত শত্রুদের পরাস্ত করেন।
Sukta 9.56
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—তিনি যখন পবিত্র (ছাঁকনি) দিয়ে দ্রুত প্রবাহিত হন, তখন তিনি মহান ঋত (ṛtam bṛhat) তথা বিশ্ব-ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চলেন এবং রক্ষস/বিঘ্নসৃষ্টিকারী শক্তিকে চূর্ণ করেন। এতে ‘দশ কন্যা’ (প্রস্তুতির আঙুল/ধারা) দ্বারা সোমের শোধনের পরিচিত চিত্রও আছে, যাতে তিনি মধুর হয়ে ইন্দ্র ও বিষ্ণুর জন্য উপযুক্ত হন। সূক্তের শেষে রক্ষামূলক প্রার্থনা: শুদ্ধ সোম যেন গায়কদের পাপ ও দুঃখ-কষ্ট থেকে রক্ষা করেন।
Sukta 9.57
এই সংক্ষিপ্ত সোম পবমান স্তোত্রে সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—তিনি ছাঁকনি (পবিত্র) দিয়ে অবিচ্ছিন্ন ধারায় প্রবাহিত হন, যেন স্বর্গ থেকে নেমে আসা বৃষ্টি, এবং প্রাচুর্যপূর্ণ শক্তি ও সমৃদ্ধি (বাজ) অভিমুখে অগ্রসর হন। রস শুদ্ধ হয়ে ‘মসৃণ/উজ্জ্বল’ হলে সোমকে রাজসিক, ঋত-অনুগত ও দ্রুতগামী রূপে কল্পনা করা হয়—যেন কোনো শ্যেন (বাজপাখি) ধনের উপর এসে বসে। তাঁকে প্রার্থনা করা হয়, তিনি যেন স্বর্গ ও পৃথিবী থেকে সকল ঐশ্বর্য উপাসকদের কাছে এনে দেন।
Sukta 9.58
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—উল্লসিত ও পরিশুদ্ধ স্রোতরূপে—যে ছাঁকনির মধ্য দিয়ে দ্রুত ধাবিত হয়ে সকল বাধা “অতিক্রম করে ও জয় করে”। সোমের দ্রুত, বিজয়ী প্রবাহকে এখানে প্রাচুর্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে—দুটি উজ্জ্বল ধারার থেকে “হাজার হাজার” লাভের আগমন—এবং শেষে সোমের গতিশীল শক্তির দ্বারা ব্যাপক বৃদ্ধি ও প্রতিষ্ঠা/স্থাপনের অনুভূতিতে উপনীত হয়।
Sukta 9.59
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সোম-সূক্তে ছাঁকনি/পরিশোধক ছাঁক দিয়ে শুদ্ধ হতে থাকা সোমকে আহ্বান করা হয়েছে। তাঁকে সর্বজয়ী শক্তি রূপে বন্দনা করা হয়, যিনি যজমানের জন্য প্রাণশক্তি, প্রাচুর্য ও আনন্দ অর্জন করে দেন। সূক্তটি সোমের কাছে প্রজাসমৃদ্ধ ধন-নিধি আনয়ন, উপাসককে সকল দুর্ভোগ অতিক্রম করাতে সহায়তা, এবং তাঁর প্রেরিত, কাব্যময় বুদ্ধিকে যজ্ঞে ও চেতনার অন্তর্বেদীতে প্রতিষ্ঠিত করার প্রার্থনা জানায়।
Sukta 9.60
এই সংক্ষিপ্ত পবমান স্তোত্রে গায়ত্রী ছন্দে সোমের প্রশংসা করতে গায়কদের আহ্বান করা হয়েছে। দীপ্তিমান বিন্দু (ইন্দু)কে এখানে বহু-নয়ন, সর্বদর্শী ও সর্বজ্ঞ শক্তি হিসেবে উদযাপন করা হয়। স্তোত্রটি সোমের যজ্ঞীয় গতি অনুসরণ করে—ছাঁকনিগুলি অতিক্রম করে দ্রুত কলসগুলিতে ধাবিত হওয়া—এবং সেই পরিশুদ্ধ প্রবাহকে ইন্দ্রের অন্তর্লীন আনন্দ ও শক্তির সঙ্গে যুক্ত করে। শেষে প্রার্থনা করা হয়, সোম যেন শুদ্ধ হয়ে শান্তিতে পরিণত হয় এবং ‘প্রজাবৎ রেতঃ’—সন্তান-সমৃদ্ধ, সমৃদ্ধি-বহনকারী সৃজনশক্তি—দান করে।
Sukta 9.61
ঋগ্বেদ ৯.৬১ একটি পবমান সোমসূক্ত, যেখানে ছাঁকনি/পবিত্রকের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সোমের শুদ্ধিকরণকে উদ্যাপন করা হয়েছে। এতে সোমকে আহ্বান করা হয়—তিনি যেন শক্তির প্রাচুর্যধারায় অবতীর্ণ হন এবং যজমানদের প্রেরণাজাত উন্মাদনা (মদ) দিয়ে পরিপূর্ণ করেন। শুদ্ধ হতে হতে সোমকে বিশাল আলোর দাতা বলে স্তব করা হয়—স্বর্গীয় বিদ্যুৎ ও মহান বৈশ্বানর দীপ্তির ন্যায়—এবং একই সঙ্গে তাঁকে উগ্র রক্ষক রূপেও ডাকা হয়, যিনি নিন্দা ও শত্রুভাবাপন্ন অস্বীকার/নেতিবাচকতাকে দূরে তাড়ান।
Sukta 9.62
এই পবমান সূক্তে সোমের স্তব করা হয়েছে—যখন তাকে পেষণ করা হয়, মুক্ত করা হয় এবং পবিত্র (ছাঁকনি) দিয়ে ছেঁকে প্রবাহিত করা হয়—তখন তিনি দীপ্তিমান হয়ে দেবতাদের উপযোগী হন। মন্ত্রগুলিতে বারবার সোমের শুদ্ধিকরণকে গায়ক ও যজমানদের জন্য সৌভাগ্য, বাজ (বল/প্রাচুর্য) এবং সুবীর্য (উচ্চতর বীরশক্তি) লাভের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
Sukta 9.63
ঋগ্বেদ ৯.৬৩ একটি পবমান (স্বয়ং-শুদ্ধ) সোম-সূক্ত, যা সোম পেষণ ও পবিত্র (ছাঁকনি) দিয়ে ছেঁকে নেওয়ার ক্রিয়ার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। এতে সোমের মধুর উল্লাস/মত্ততা (মদ) এবং প্রাচুর্য (রয়ি), খ্যাতি/যশ (শ্রবস্) ও বীরশক্তি (সু-বীর্য) দান করার ক্ষমতার প্রশংসা করা হয়েছে। গায়ত্রী-ছন্দনির্ভর ছন্দে সূক্তটি বারবার সোমকে আহ্বান করে—যজমানের দিকে ‘প্রবাহিত’ হতে, এবং দেবশক্তিকে মানবজীবনে বহন করে আনতে। শেষে সোমের শুদ্ধ ধারার দ্বারা স্বর্গীয় ও পার্থিব—সমস্ত কাম্য ধন-সম্পদের পূর্ণ প্রার্থনা নিবেদিত হয়।
Sukta 9.64
ঋগ্বেদ ৯.৬৪-এ সোম পবমানের স্তব করা হয়েছে—যখন তাকে পেষা হয়, ছাঁকা হয় এবং তিনি দীপ্তিমান হয়ে ওঠেন। তিনি এক উদ্দীপক “বৃষভ” শক্তি, যিনি ঋত (সত্য-ব্যবস্থা) প্রতিষ্ঠা করেন এবং নির্মল দৃষ্টি জাগিয়ে তোলেন। এই সূক্তে সোমবিন্দুগুলির শোধনের গতি অনুসরণ করা হয়েছে, যা তাদের মহান লক্ষ্য (সেই “সমুদ্র”) অভিমুখে অগ্রসর হয়; এবং যজমানদের জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে—এই পরিশুদ্ধ আনন্দ যেন আলো, শক্তি ও মঙ্গল হয়ে উপস্থিত হয়।
Sukta 9.65
এই পবমান সোম-সূক্তে সোমের জীবন্ত স্রোতকে উদ্যাপন করা হয়েছে—যখন তাকে নিংড়ে নেওয়া হয়, ছেঁকে শুদ্ধ করা হয় এবং তিনি দীপ্তিমান হন। তাঁকে রাজশক্তিসদৃশ এক মহিমাময় বল রূপে প্রশংসা করা হয়েছে, যিনি লোকলোকান্তরে চলেন এবং মানবমনে প্রেরণাজাত স্বচ্ছ বোধ ও স্পষ্টতা প্রতিষ্ঠা করেন। মন্ত্রগুলিতে বারবার সোমের “স্বজন” (পেষণ-পাথর, জল এবং শোধনের স্রোতধারা) তাঁকে অগ্রসর হতে তাড়িত করছে—যাতে তাঁর শুদ্ধ প্রবাহ যজমান ও সম্প্রদায়কে রয়ি (প্রাচুর্য), রক্ষা এবং উন্নতি দান করে।
Sukta 9.66
এই পবমান সোম-সূক্তে প্রবাহমান, স্বয়ং-শুদ্ধিকারী সোমের স্তব করা হয়েছে—যখন তিনি উলের ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে দেবতাদের উপযোগী হন। সোমকে বন্ধুদের প্রিয়, উগ্রদের মধ্যে সর্বশক্তিমান জ্যেষ্ঠ রূপে আহ্বান করা হয়; স্বর্গ থেকে আনা তাঁর দীপ্তিমান “দুগ্ধ” শক্তি, বিজয় এবং জীবনধারণকারী অনুগ্রহ দান করে। এই সূক্তের উদ্দেশ্য একদিকে যজ্ঞীয়—সোম-নিষ্পেষণকে উদ্দীপিত করা—অন্যদিকে আধ্যাত্মিক—সোমকে প্রেরিত বাক্ ও প্রাণশক্তি হিসেবে মহিমান্বিত করা।
Sukta 9.67
এই পবমান সোম-সূক্তে পেষিত সোমের স্তব করা হয়েছে—যিনি ছাঁকনি দিয়ে প্রবাহিত হয়ে উজ্জ্বল, শক্তিমান এবং যজ্ঞে দেবতাদের পানযোগ্য হয়ে ওঠেন। মন্ত্রগুলি সোমের দ্রুত স্রোত, ধন, বল ও প্রেরণাজাত পরিপূর্ণতা দান করার ক্ষমতা, এবং ঋষিদের দ্বারা সংগৃহীত পরিশোধিত সার-রস (রস) হিসেবে তাঁর ভূমিকা উদ্যাপন করে। শেষে একটি মেটাহিম্নিক ফলশ্রুতি আছে: পবমানী মন্ত্র পাঠকারীকে সরস্বতী দুধ, ঘি, মধু ও জল দিয়ে পোষণ করেন—যা প্রেরিত প্রাচুর্যের প্রতীক।
Sukta 9.68
এই পবমান সোম-সূক্তে মধুময় সোমবিন্দুগুলির স্তব করা হয়েছে—যেগুলি দেবতাদের দিকে দ্রুত ধাবিত হয় এবং ছাঁকনি ও জলের ধারায় প্রবাহিত হতে হতে শুদ্ধ হয়। এতে ‘দূর অতীত/দূর পর’ থেকে সোমের পৌরাণিক অর্জনের স্মরণ করা হয়েছে এবং ঋষিদের সেই ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে, যারা সোমকে পরিশোধিত করে দীপ্তিমান, স্তবযোগ্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। সূক্তের পরিণতি এক প্রার্থনায়—সোমের এই শুদ্ধি যেন উপাসকদের প্রাণশক্তি, দ্যৌ-পৃথিবীর সঙ্গে সামঞ্জস্য, এবং বীর্যশক্তিতে সমৃদ্ধ ধন-সম্পদ প্রতিষ্ঠা করে।
Sukta 9.69
এই পবমান সোম-সূক্তে পেষিত ও ছাঁকা অবস্থায় দ্রুত ধাবমান, স্বয়ং-শোধিত সোমের স্তব করা হয়েছে। উজ্জ্বল স্রোতে উথলে উঠে সে দেবগণকে—বিশেষত ইন্দ্রকে—শক্তি দান করে। তীর, বাছুর ও সূর্যকিরণের মতো জীবন্ত উপমায় যজ্ঞ-ছাঁকনির ‘সূত্র’ বেয়ে সোমের সুশৃঙ্খল গতি চিত্রিত হয়েছে; এবং দীপ্তিমান ধন, রক্ষা ও ক্রিয়ার সফল সমাপ্তির প্রার্থনা জানানো হয়েছে।
Sukta 9.70
এই পবমান সোম-সূক্তে শুদ্ধ ইন্দুর স্তব করা হয়েছে—যখন তাকে পেষা হয়, ছাঁকা হয় এবং তিনি দীপ্তিমান হন—তিনি ঋত (বিশ্ব-সত্য-নিয়ম) ও সেই সত্য আনন্দের মূর্ত প্রতীক, যা দেবতা ও জগতসমূহকে পুষ্ট করে। এতে সোমের ঊর্ধ্বগমন ও প্রসারিত শক্তির চিত্র: ‘সাত’ পোষক শক্তির দ্বারা দোহিত হয়ে তিনি দীপ্তিময় লোকসমূহের বস্ত্র ধারণ করেন, এবং শেষে অশ্বের ন্যায় বেগে ইন্দ্রের উদরে ধাবিত হয়ে শক্তি, পথনির্দেশ ও নিন্দা/অভিযোগ থেকে রক্ষা দান করেন।
Sukta 9.71
এই সোম-পবমান সূক্তে সোমকে স্তব করা হয়েছে—যখন তাকে নিংড়ে ও ছেঁকে শুদ্ধ করা হয়, তখন সে সতর্ক, দীপ্তিমান শক্তিতে পরিণত হয়ে যজ্ঞকে বিকৃতি (দ্রুহ্) ও শত্রু শক্তি (রক্ষস্) থেকে রক্ষা করে। এখানে সোমের পরিশোধনকে দক্ষিণা (যথাযথ দান/দক্ষতা) এবং ব্রহ্মণ (মন্ত্রশক্তি)–এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে; স্বচ্ছ সোমকে জ্যোতির আবরণ পরিধান করে আলোর এক গোপন, দেবপ্রস্তুত ‘পদ’ বা অবস্থানের দিকে অগ্রসর হতে দেখানো হয়েছে।
Sukta 9.72
এই সোম-পবমান সূক্তে পরিশোধিত সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—যখন তাকে ছেঁকে শুদ্ধ করা হয়, নিংড়ে নেওয়া হয় এবং দুধসহ পাত্রে ঢালা হয়, তখন তিনি দীপ্তিমান ও প্রেরণাদায়ক শক্তি হয়ে ওঠেন। সোমকে বাক্ ও চিন্তার জাগ্রতকারী, ঋত (মহাজাগতিক বিধান)-এর আসনে জীবনের নবীকরণকারী, এবং উপাসককে প্রাচুর্য, সম্পদ ও কল্যাণ দানকারী হিসেবে বন্দনা করা হয়েছে।
Sukta 9.73
এই পবমান সোম-সূক্তে পবিত্র ছাঁকনি (পবিত্র) দিয়ে ছেঁকে প্রবাহিত সোমের শোধনকারী ধারার স্তব করা হয়েছে—যা দীপ্তিমান প্রেরণা জাগায় এবং ইন্দ্রের শক্তিকে বৃদ্ধি করে। সূক্তটি বারবার সোমের স্বচ্ছীকরণকে বাচ্ (প্রেরিত বাক্/বাণী)-এর স্বচ্ছীকরণ এবং বরুণ ও ঋত-এর অধীনে ব্রত (পবিত্র বিধি/আচার)-রক্ষার সঙ্গে যুক্ত করেছে; ফলে শুদ্ধি এখানে একদিকে যজ্ঞীয় ক্রিয়া, অন্যদিকে বিশ্ব-নৈতিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার রূপে প্রতিপন্ন।
Sukta 9.74
এই পবমান সোম-সূক্তে নিংড়ানো সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—এক দীপ্তিমান, নবজাত-সদৃশ শক্তি, যা স্বর (আলোক) অভিমুখে দ্রুত ধাবিত হয়, পশমি ছাঁকনির মধ্যে গর্জন করতে করতে এবং জলধারার সঙ্গে মিশে প্রবাহিত হয়। এখানে সোমকে দ্যৌর বীজ ও অদিতির গর্ভ-শক্তি হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যা যজমানের জন্য প্রাচুর্য (দুধ, বল, সন্তান) বৃদ্ধি করে। সূক্তের পরিণতিতে সোমের চূড়ান্ত পরিশোধন এবং স্পষ্ট প্রার্থনা আছে—তিনি যেন ইন্দ্রের পানার্থে মধুর ও উল্লাসদায়ক/উত্তেজক হন।
Sukta 9.75
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—যখন তিনি শোধিত হয়ে প্রবাহিত হন এবং প্রিয় ও মঙ্গলময় লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হন। পবিত্র নামসমূহ ও মানুষের যজ্ঞকর্মের দ্বারা তিনি অধিক শক্তি লাভ করেন। তাঁকে সৌর-বিস্তারের রূপে কল্পনা করা হয়েছে—সূর্যের বিশাল রথে আরূঢ় হয়ে—তারপর স্বর্ণপাত্রে প্রবেশ করে, উষাদের সঙ্গে দীপ্তিমান হন, এবং শেষে ইন্দ্রকে শক্তি দেন যাতে তিনি প্রাচুর্য ও কল্যাণ দান করেন।
Sukta 9.76
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমের প্রশংসা করা হয়েছে, যখন তিনি শোধনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হন। তাঁকে স্বর্গধারক, দেবকুশলী সাররূপ বলা হয়েছে—যা ‘নদী’ (প্রবাহপথ/চ্যানেল)-এ মুক্ত হয়ে দেবতাদের উপভোগের উপযুক্ত করে তোলা হয়। সূক্তটি বারবার সোমের স্বচ্ছ, পরিশোধিত উচ্ছ্বাসকে ইন্দ্রের শক্তিবর্ধনের সঙ্গে যুক্ত করে—তিনি অন্তর্গত পাত্রসমূহে প্রবেশ করেন, বিদ্যুতের মতো লোকসমূহকে জাগিয়ে তোলেন, এবং উপাসকদের বল ও বিজয় দান করেন।
Sukta 9.77
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—যখন তিনি ছেঁকে শুদ্ধ হয়ে পাত্রে প্রস্তুত হন এবং ইন্দ্রের বজ্র-রূপে দীপ্তিমান, অপ্রতিরোধ্য শক্তি হয়ে বিজয় ও প্রাচুর্য দান করেন। মন্ত্রগুলিতে ছাঁকা সোমকে মধুর, জ্যোতির্ময় এবং ঋত (ধর্ম-নিয়ম) ধারণকারী বলা হয়েছে; তিনি ঘৃতসদৃশ সার-রসের সমৃদ্ধ ধারাগুলিকে নিজের দিকে আকর্ষণ করেন এবং যজমানকে শক্তি, “রশ্মি/গো” (গো) ও প্রেরিত বাক্শক্তিতে উদ্দীপ্ত করেন। শেষ অংশে সোম-প্রবাহকে বরুণ ও মিত্রের বিস্তৃত, বিশ্বস্ত শক্তির সঙ্গে একাত্ম বলা হয়েছে—ফলে এই শোধন কেবল আচারগত কর্ম নয়, বরং মহাজাগতিক শৃঙ্খলা ও অন্তর্গত সত্যের সামঞ্জস্য সাধনও।
Sukta 9.78
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমকে শুদ্ধিকরণের মুহূর্তেই স্তব করা হয়েছে: “রাজা” জলে আবৃত হয়ে প্রবল বেগে অগ্রসর হয়, অশুচি ধরে অপসারিত করে এবং দেবতাদের হব্য-অর্পণস্থলের উপযুক্ত হয়ে ওঠে। এতে সোমের পরিশোধনকে প্রেরিত বাক্, দিব্য সঙ্গ, এবং ধন, বিস্তৃত “চারণভূমি” (গব্যূতি) ও নির্ভয়তা প্রদানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে; এবং তার কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে যেন সে নিকট ও দূরের শত্রুদের আঘাত করে বিনাশ করে।
Sukta 9.79
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সোম-সূক্তে নিংড়ানো সোমবিন্দুগুলির স্তব করা হয়েছে—শোধনের পথে তারা দ্রুত অগ্রসর হয়ে উপাসকদের জন্য পুষ্টি ও প্রেরিত চিন্তার বিস্তার ঘটায়। এখানে শুদ্ধিকারী সোমকে নৈতিক ও রক্ষাকারী শক্তি হিসেবেও দেখা হয়েছে; তাঁর কাছে প্রার্থনা করা হয় যেন তিনি ‘রোধকারী’ এবং সমৃদ্ধি ও সৎবুদ্ধিকে বাধা দেয় এমন বৈরী শক্তিগুলিকে বিনাশ করেন। সূক্তের পরিণতি এই প্রার্থনায়—সোমের শক্তি ও প্রিয় উল্লাস-আনন্দ যজমানদের ‘স্তর থেকে স্তরে’ নিরাপদে বহন করে নিয়ে যাক।
Sukta 9.80
এই সোম পবমান সূক্তে সোমের স্তব করা হয়েছে—যখন তাকে পেষণ করা হয়, মুক্ত করা হয় এবং শোধিত হয়ে দীপ্তিমান, সহস্র-ধারার প্রবাহে প্রবাহিত হয়—যা বিশেষত ইন্দ্রকে উল্লসিত করতে এবং দেবীয় ঋত (ব্যবস্থা) ধারণ করতে নিবেদিত। সোমকে উন্মাদ-আনন্দের বৃষ বলা হয়েছে; তিনি জীবন-ক্ষয়কারী শক্তিকে প্রতিহত করেন, যশ ও বল দান করেন, এবং জলের মধ্যে নদী-তরঙ্গের মতো দেবতাদের দিকে অগ্রসর হন।
Sukta 9.81
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমের জীবন্ত “তরঙ্গ”-সম ঢেউগুলির স্তব করা হয়েছে—যেগুলি শোধনপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দ্রুত প্রবাহিত হয়ে ইন্দ্রের মধ্যে প্রবেশ করে, তাঁকে বিজয়ী দানশীলতা এবং আলো/ধনের শ্রেষ্ঠ দান প্রদানে উদ্দীপ্ত করে। এরপর এটি সরাসরি প্রার্থনায় রূপ নেয়: শুদ্ধ সোমকে অনুরোধ করা হয় ধন-সম্পদ “ছড়িয়ে” দিতে, প্রাণশক্তি ও নির্মল অন্তর্দৃষ্টি দৃঢ় করতে, এবং সমৃদ্ধিকে নিকটে ধরে রাখতে। সূক্তের শেষে এক বিস্তৃত অভিষেক/আহ্বান রয়েছে—দ্যৌ ও পৃথিবী, আদিত্যগণ এবং সকল দেবতাকে শুদ্ধ সোমে আনন্দিত হতে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
Sukta 9.82
এই সংক্ষিপ্ত পবমান স্তোত্রে সদ্য নিপীড়িত ও পরিশুদ্ধ সোমের বন্দনা করা হয়েছে—তিনি অবিনশ্বর উলের ছাঁকনি দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ঘৃত-দীপ্ত আসনের দিকে এগিয়ে যান, যেন বাজপাখি নিজের বাসায় ফিরে আসে। ঋচাগুলি যজ্ঞীয় চিত্রকল্প (পেষণ-পাথর, জলধারা, ছাঁকন) ও মহাজাগতিক সাযুজ্য (পর্জন্য, আপঃ/জলসমূহ, এবং ‘গাভঃ/আলোকরশ্মি’) একত্রে বুনে। সোমকে রাজস শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যিনি যজ্ঞে বল, বিজয় ও মঙ্গল দান করেন।
Sukta 9.83
এই সংক্ষিপ্ত পবমান স্তোত্রে প্রসারিত পবিত্র (ছাঁকনি) দিয়ে শুদ্ধ হতে থাকা সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—শুদ্ধ হয়ে তিনি যজ্ঞে প্রবেশের যোগ্য হন এবং আহুতি-শক্তিকে দেবাসনে পৌঁছে দেন। ঋচাগুলি জোর দেয় যে কেবল যা ‘পক্ব/উত্তপ্ত’—অর্থাৎ প্রস্তুত ও পরিশোধিত—তাই চালুনি পেরোতে পারে; এটি যেমন যাগীয় স্বচ্ছীকরণের প্রতীক, তেমনি অন্তরের পরিপক্বতারও ইঙ্গিত। এরপর সোমকে জগৎ-ধারক, ঊষা-দীপ্ত, এবং রাজসিক বিজয়ী রূপে বন্দনা করা হয়েছে—যিনি তাঁর শোধন-গতি দ্বারা বিস্তৃত শ্রবস্ (খ্যাতি/যশ) অর্জন করেন।
Sukta 9.84
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমকে শোধনের মুহূর্তেই স্তব করা হয়েছে—যখন তিনি জলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ছাঁকনির পথে পরিশুদ্ধ হন—যাতে তাঁর নির্মল সার ইন্দ্রকে শক্তি দেয়, বরুণের ঋত-ব্যবস্থার সঙ্গে সুর মেলায়, এবং বায়ুর দ্বারা বহিত হয়। কবি সোমের কাছে ‘প্রশস্ত অবকাশ’ (বরিবস) ও মঙ্গল (স্বস্তি) প্রার্থনা করেন; ছাঁকা রসকে বিদ্যুৎ-দ্রুত, সূর্য-অন্বেষী ও ধন-জয়ী রূপে চিত্রিত করেন, যা যজমানের অন্তরে ও চারপাশে ‘দৈব্য জন’ (দিব্য জনসমাজ)কে উন্নীত করে।
Sukta 9.85
এই পবমান সোম-সূক্তে সু-নিষ্পেষিত সোমের স্তব করা হয়েছে—যখন তা পরিশোধিত হয়, ইন্দ্রের উপযোগী করা হয়, এবং রোগ ও রাক্ষস-সদৃশ বৈরী শক্তিকে দূরে তাড়ানোর ক্ষমতা লাভ করে। ঋচাগুলি একদিকে যজ্ঞের স্পষ্ট আচার-দৃশ্য—ছাঁকনি, পাত্র/কাপ ও পুরোহিতের ক্রিয়া—আর অন্যদিকে এক দীপ্তিমান মহাজাগতিক দর্শন, যেখানে সোমের রক্ষক-শক্তি (গন্ধর্ব-প্রতীক) দ্যৌ-পৃথিবী জুড়ে বিকিরিত হয়। সামগ্রিকভাবে এই সূক্ত সোমকে একদিকে যজ্ঞীয় পানীয়, অন্যদিকে রক্ষাকারী ও অপদেবতা-নিবারক (উচ্চাটনধর্মী) শক্তি হিসেবে স্থাপন করে, যা প্রাণশক্তি, স্বচ্ছতা ও বিজয় নিশ্চিত করে।
Sukta 9.86
এই সোম পবমান সূক্তে সোমের জীবন্ত স্রোতের স্তব করা হয়েছে—যা উল ও ছাঁকনি দিয়ে পরিশুদ্ধ হয়ে মধুর, উল্লাসদায়ক এবং দেবতাদের উপযোগী হয়। এতে দৃশ্যমান যজ্ঞীয় প্রবাহ—পাত্র ও ছাঁকনির চারদিকে ঘুরে চলা বিন্দুগুলি—কে ঋত (ṛta) নামক বিশ্ববিধানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে; এবং সোমের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে যেন তিনি শত্রু শক্তিকে দূরে তাড়ান ও গায়কদের “বিস্তৃত” বাক্শক্তি এবং বীরোচিত বল প্রদান করেন।
Sukta 9.87
এই পবমান সোম-সূক্তে সোমের দ্রুত, উদ্দেশ্যপূর্ণ প্রবাহের স্তব করা হয়েছে—যখন তিনি যজ্ঞের ছাঁকনি/পরিশোধক দিয়ে শুদ্ধ হয়ে, সুসজ্জিত দৌড়-ঘোড়ার মতো, পবিত্র বর্হিস্-আসনে নিয়ে যাওয়া হন। মন্ত্রগুলি সোমের শুদ্ধিকরণকে শক্তি (বাজ), খ্যাতি/যশ (শ্রবস্), পুষ্টি (ইষ্) ও অমৃতত্ব (অমৃত) লাভের সঙ্গে যুক্ত করে; এবং শেষে ইন্দ্রের সঙ্গে সোমের সঙ্গ ও যথার্থ স্তব এবং কার্যকর প্রেরণার জন্য প্রার্থনা করা হয়।
Sukta 9.88
এই পবমান সোম-সূক্তে সদ্য নিংড়ানো সোমকে—শুদ্ধ হয়ে নিবেদনকালে—স্তব করা হয়েছে, এবং ইন্দ্রকে আহ্বান করা হয়েছে যেন তিনি তা পান করে কর্মের জন্য শক্তি ও উদ্যম ধারণ করেন। সোমকে জলের মধ্যে ও ছাঁকনির পথ বেয়ে ধাবমান, তরঙ্গের মতো প্রবল শক্তি হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে; একই সঙ্গে তাকে পবিত্র, বিধিনিষ্ঠ এবং বরুণ, মিত্র ও আর্যমণের সঙ্গে যুক্ত ঋত—নৈতিক ও বৈদিক শৃঙ্খলার—অনুগামী বলা হয়েছে। এই স্তোত্রের উদ্দেশ্য একদিকে আচারগত (অর্ঘ্যকে পবিত্রীকরণ ও অভিষেক), অন্যদিকে আধ্যাত্মিক—সোমের শোধনশক্তির দ্বারা স্বচ্ছতা, বল, এবং যথার্থ শৃঙ্খলা আহ্বান করা।
Sukta 9.89
এই সংক্ষিপ্ত পবমান স্তোত্রে শুদ্ধ হতে থাকা সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—স্বর্গ থেকে বৃষ্টিধারার মতো প্রবাহিত হয়ে, ‘মায়ের কোলে’ (ছাঁকনি/চাপার স্থান) এসে স্থিত হয়ে, এবং উপাসকদের মধ্যে শক্তি ও মাধুর্যরূপে প্রবেশ করে। সোমকে কল্পনা করা হয়েছে মধু-পৃষ্ঠবিশিষ্ট এক প্রবল অশ্বরূপে, যে প্রশস্ত চাকার রথে যোজিত; ‘বোনেরা’ (জলধারা) তাকে পরিশুদ্ধ করে এবং দেবতাদের দিকে চালিত করে। স্তোত্রের পরিণতিতে সরাসরি প্রার্থনা: ইন্দ্রের জন্য শুদ্ধ সোম আমাদের দীপ্তিমান ঐশ্বর্য ও সুন্দর বীরশক্তি দান করুন, যা প্রতিবন্ধকতাকে পরাভূত করে।
Sukta 9.90
এই পবমান সোম-সূক্তে শোধনের মধ্য দিয়ে অগ্রসরমান সোমের স্তব করা হয়েছে—তিনি তীক্ষ্ণ শক্তি ও প্রাচুর্য দানসহ বিজয়ী রথের মতো ইন্দ্রের দিকে ধাবিত হন। ঋষি সোমকে প্রার্থনা করেন, তিনি যেন প্রশস্ত ও নিরাপদ পথ উন্মুক্ত করেন, জলধারা, উষা এবং সৌর ‘গাভী’ (আলো) এনে দেন, এবং প্রেরণাময় বাক্শক্তির জন্য বল দান করেন। শেষে সোমের রাজসিক মূর্তি প্রকাশ পায়—তিনি দুর্ভাগ্য চূর্ণ করেন এবং উপাসকদের স্থায়ী কল্যাণে রক্ষা করেন।
Sukta 9.91
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমের স্তব করা হয়েছে—যখন তিনি উলের ছাঁকনি দিয়ে ‘প্রবাহিত/প্রেরিত’ হন। অন্তরে বহ্নি (অন্তরাগ্নি) ধারণ করে তিনি রথ-দৌড়ের মতো দেবাসনগুলির দিকে ধাবিত হন। শুদ্ধ হতে হতে সোমকে আহ্বান করা হয় যেন তিনি শত্রু ও রাক্ষসীয় শক্তি (রক্ষস্) ভেঙে দেন, বিজয়ী ‘বাজ’ (বল-সমৃদ্ধি) বিস্তার করেন, এবং শেষে জল, সৌর ‘গাভী’ (কিরণ/দীপ্ত শক্তি), সন্তান, প্রশস্ত ক্ষেত্র, ও সূর্যের (সত্য-আলোক) স্থায়ী দর্শন দান করেন।
Sukta 9.92
এই সংক্ষিপ্ত পবমান স্তোত্রে সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—যখন তাকে পেষণ করা হয় এবং উলের ছাঁকনি দিয়ে প্রবাহিত করা হয়। তিনি বিজয় ও পুরস্কারের দিকে রথের মতো দ্রুত ধাবিত হন। শুদ্ধিকরণকে এখানে এক মহাজাগতিক সহযোগিতা হিসেবে দেখানো হয়েছে—দেবগণ ও “সাত নদী” সোমকে পরিশুদ্ধ ও শক্তিসঞ্চার করে, যাতে তিনি গ্রহণযোগ্য হবি হন এবং উপাসকদের ইন্দ্রিয়বল ও পুষ্টি দান করেন।
Sukta 9.93
এই সংক্ষিপ্ত পবমান স্তোত্রে শুদ্ধ হতে থাকা সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—দ্রুত অশ্বের মতো হাউদের দিকে ছুটে যায়, দীপ্তিমান হয়ে যজ্ঞে অর্ঘ্য দেওয়ার যোগ্য হয়। এখানে পেষণ ও ছাঁকনিকে ভগ্নীসদৃশ শক্তিদের দ্বারা সম্পাদিত পবিত্র “মসৃণকরণ/পরিশোধন” রূপে চিত্রিত করা হয়েছে; তারপর সোম প্রাচুর্য বৃদ্ধি করে, প্রাণশক্তি দৃঢ় করে, এবং স্তোতাকে ধন ও জীবনের পথে নিরাপদ উত্তরণ দান করে।
Sukta 9.94
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমের স্তব করা হয়েছে—যখন তিনি জল ও উলের ছাঁকনি (ফ্লিস) দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শুদ্ধ হন। এখানে জাগ্রত চিন্তা ও প্রেরিত অন্তর্দৃষ্টি পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শেষে সুশৃঙ্খল হয়ে বৃদ্ধির এক স্থিত “গোঠা/বেষ্টনী”-তে প্রতিষ্ঠিত হয়। সোমকে কবি (কবি) রূপে উদ্যাপিত করা হয়েছে, যিনি কাব্যশক্তি সকল লোকের মধ্যে বহন করেন, দেবদের মধ্যে গৌরব দান করেন এবং সক্ষম উপাসককে ব্যবহারিক প্রাচুর্য প্রদান করেন। সূক্তের পরিণতিতে সরাসরি প্রার্থনা করা হয়—পোষণ, বিস্তৃত আলো, দিব্য আনন্দ এবং শত্রু শক্তির প্রতিহতকরণ।
Sukta 9.95
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সোম-সূক্তে মুক্ত, পরিশুদ্ধ ও কাঠের পেষণ-পাত্র ও ছাঁকনিতে দীপ্তিমান ‘শোধন-আবরণে’ আবৃত তাম্রবর্ণ সোমের প্রশংসা করা হয়েছে। কবি অনুপ্রাণিত চিন্তা ও প্রার্থনাকে জলতরঙ্গের মতো সোমের দিকে ধাবিত হতে দেখান এবং শোধনকারী ইন্দুকে পবিত্র বাক্ ও অন্তর্দৃষ্টির বিস্তার প্রার্থনা করেন। সূক্তের পরিণতি ইন্দ্রের সঙ্গে সমৃদ্ধির যৌথ আকাঙ্ক্ষা এবং সোমের শোধনজাত সত্য বীরশক্তির অধিকার লাভের কামনায়।
Sukta 9.96
এই পবমান সোম-সূক্তে নিংড়ানো সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—তিনি ছাঁকনির মধ্য দিয়ে দ্রুত অগ্রসর হন, জলে দীপ্ত ও গর্জনরত হন, এবং ইন্দ্র ও অন্যান্য দেবতার জন্য যজ্ঞোপযোগী হয়ে ওঠেন। সোমকে বিজয়ী নেতা রূপে কীর্তিত করা হয়েছে; তিনি বৈরিতা ও দারিদ্র্য দূর করেন, যজমানের পথ প্রশস্ত করেন, এবং সহচরদের আলোর নতুন “বস্ত্র” পরিয়ে দেন—শক্তি, স্বচ্ছতা ও প্রেরণাজাত ক্ষমতা।
Sukta 9.97
এই পবমান সোম-সূক্তে সোমের পেষণ ও পরিশোধনের বন্দনা করা হয়েছে—যখন তিনি ছাঁকনি দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পাত্রে এসে পড়েন এবং দেবগণের সঙ্গে মিলনের উপযুক্ত হন। বারবার সোমকে সতর্ক, স্তোত্রোচ্চারী, যজ্ঞীয় পুরোহিত-শক্তি রূপে চিত্রিত করা হয়েছে; তিনি যজ্ঞের উজ্জ্বল ধামে প্রবেশ করে বৃদ্ধি আনেন—গবাদি পশু, বল এবং সুশৃঙ্খল সমৃদ্ধি। সূক্তটি আশীর্বাদকে বিস্তৃত করে মিত্র, বরুণ, অদিতি এবং দ্যাবা-পৃথিবী (দ্যৌঃ-পৃথিবী) প্রভৃতি সহায়ক বিশ্ব-আধারকে আহ্বান করে, যাতে সোমপ্রদত্ত লাভ স্থিত ও সুদৃঢ় থাকে।
Sukta 9.98
এই পবমান সোমসূক্তে ইন্দুর স্তব করা হয়েছে—জলধারা ও পশমের ছাঁকনি দিয়ে শুদ্ধ হয়ে তিনি যেন গায়ক-যজমানদের দিকে প্রবাহিত হন, প্রচুর ধন, বল ও বিজয় দান করেন। সোমের পরিশোধিত স্রোত ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে; তাঁকে সকল দেবতার সঙ্গে আনন্দময় সঙ্গতিতে চলমান রূপে চিত্রিত করা হয়েছে—যিনি যজ্ঞকারীদের শক্তি জোগান এবং প্রাচুর্যের ‘গৃহ’ উন্মুক্ত করেন। সূক্তের শেষে ঋষি ও সঙ্গীদের যৌথ আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পায়—তাঁরা যেন সোমের দীপ্তিময় নেতৃত্ব লাভ করেন এবং স্থায়ী শক্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করেন।
Sukta 9.99
এই পবমান সোম-সূক্তে সোমের শোধনের মুহূর্তকেই বন্দনা করা হয়েছে—নিষ্পেষিত, প্রবহমান, উলের ছাঁকনিতে পরিশ্রুত, এবং ইন্দ্রের জন্য উল্লাসদায়ক পানীয়রূপে প্রস্তুত। কবিরা এই যজ্ঞক্রিয়াকে এক মহাজাগতিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখান: দীপ্তিমান রসটি জ্যোতিতে আবৃত, দূতের ন্যায় নির্দেশিত হয়ে প্রবাহিত, এবং পাত্রে আসীন হয়ে বিজয়, প্রেরণা ও ঋত-সমন্বিত শক্তিকে বলবান করে।
Sukta 9.100
এই পবমান সোম সূক্তে সোমের জীবন্ত প্রবাহের স্তব করা হয়েছে—যখন তাকে নিংড়ে নেওয়া হয়, উলের ছাঁকনি দিয়ে পরিশুদ্ধ করা হয়, এবং দেবতাদের জন্য, বিশেষত ইন্দ্রের প্রিয় পানীয়রূপে, উপযুক্ত করা হয়। অন্তরঙ্গ চিত্রকল্পে (মায়েরা যেমন নবজাত বাছুরকে স্নেহে লালন করে) শোধনকে একদিকে যজ্ঞীয় পরিমার্জন, অন্যদিকে সোমের সত্য, দীপ্ত স্বরূপের উন্মোচন হিসেবে দেখানো হয়েছে। সূক্তের পরিণতিতে সোমের মহাজাগতিক মহিমা প্রকাশ পায়—সে দ্যৌ ও পৃথিবীকেও অতিক্রম করে এবং প্রতিরোধী “আবরণ” ঝেড়ে ফেলে—যাতে পরিশুদ্ধ ধারা দেবঋতকে শক্তি দেয় এবং মানব অন্তর্দৃষ্টিকে জাগ্রত করে।
Sukta 9.101
এই পবমান সূক্তে সোমকে স্তব করা হয়েছে—যখন তাকে নিংড়ে উলের ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে শুদ্ধ করা হয়। যাজক-সহচররা তাকে উদ্দীপিত করে যেন সে বিজয়দায়ক, শক্তিদায়ক পানীয় হয়ে ওঠে। সোমের কাছে প্রার্থনা করা হয় যে সে বাধাদানকারী শক্তিগুলিকে দূরে তাড়িয়ে দিক, সর্বাধিক প্রভাবশালী খ্যাতি ও পুষ্টি দান করুক, এবং ইন্দ্রের জন্য প্রস্তুত ‘উন্মুক্ত স্থান’-এর দিকে প্রবাহিত হোক—যজ্ঞ ও জনসমষ্টিকে শক্তি জোগাতে জোগাতে।
Sukta 9.102
এই সোম পবমান সূক্তে শুদ্ধ সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—সে এক ক্রমবর্ধমান, দীপ্তিমান শক্তি, যা ‘ঋতের দীপ্ত চিন্তা/প্রবাহ’কে উদ্দীপিত করে এবং যজ্ঞকে অগ্রসর করে। সোমকে প্রিয় ও সর্বব্যাপী রূপে বর্ণনা করা হয়েছে; সে এক বিধান (ব্রত)-এর অধীনে দেবতাদের সমন্বিত করে এবং ‘স্বর্গের গোয়াল/বেষ্টনী’ খুলে দিয়ে যজ্ঞ ও জগতে আলো ও শৃঙ্খলা মুক্ত করে।
Sukta 9.103
এই সংক্ষিপ্ত পবমান স্তোত্রে সোমকে একটি “উন্নত বাক্য” নিবেদন করা হয়—তিনি যখন ছাঁকনি দিয়ে শুদ্ধ হয়ে যজ্ঞপাত্রে প্রবেশ করেন, তখন তিনি স্বচ্ছ, দীপ্তিমান এবং দেবতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন। সোমের প্রশংসা করা হয়েছে প্রেরিত ধী/চিন্তার অচ্যুত নেতা (মতীনাং নেতা) হিসেবে—তিনি বিজয়ী অশ্বের মতো পরিক্রমায় চলেন এবং পুষ্টি ও বিস্তৃত ভোগ-আনন্দ প্রসারিত করেন। এর উদ্দেশ্য একদিকে আচারগত—নিষ্পেষিত রসকে আহুতির জন্য পবিত্র করা—এবং অন্যদিকে দর্শনমূলক—উপাসকের অন্তরে সোমের স্পষ্টকারী শক্তিকে আহ্বান করা।
Sukta 9.104
এই সংক্ষিপ্ত সোম পবমান স্তোত্রে যজ্ঞসঙ্গীদের আহ্বান করা হয়েছে—তারা যেন বসে, গান গায় এবং পরিশুদ্ধ হয়ে ছেঁকে স্পষ্ট করা সোমকে “অলংকৃত” করে, যাতে তার দীপ্তি ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। এখানে সোমকে ধন ও আলোকোজ্জ্বল জ্যোতির সন্ধানকারী/দাতা হিসেবে প্রশংসা করা হয়েছে, এবং শেষে রক্ষামূলক প্রার্থনা: সোম যেন এক নিরাপদ সীমানা স্থাপন করে এবং যজমানদের পথ থেকে রাক্ষস ও দ্বিমুখী, দেবহীন অনিষ্টকে দূরে তাড়িয়ে দেয়।
Sukta 9.105
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সোম-সূক্তে যজ্ঞের সহচরদের আহ্বান করা হয়েছে—সোম যখন শুদ্ধ হয়ে প্রবাহিত হন, তখন তাঁর স্তবগান করতে, যাতে তাঁর প্রবাহমান রস মধুর, উদ্দীপক এবং দেবতাদের উপযোগী হয়। এতে সোমের কাছে দীপ্তিময় ঐশ্বর্য (গো ও অশ্ব দ্বারা প্রতীকিত) দান করার এবং আলোকরশ্মির মধ্যে তাঁর নির্মল জ্যোতি প্রতিষ্ঠা করার প্রার্থনা করা হয়েছে। আরও, রক্ষক রূপে সোমকে অনুরোধ করা হয়েছে যেন তিনি অধার্মিক গ্রাসকারীকে দূরে তাড়িয়ে দেন এবং সেই “দ্বি-মন” শক্তিকেও অপসারিত করেন, যা সাধকের ইচ্ছাকে বিভক্ত করে।
Sukta 9.106
এই পবমান সোম-সূক্তে সদ্য নিংড়ানো, স্বয়ং-শোধিত সোমধারার স্তব করা হয়েছে—যা ছাঁকনি ভেদ করে দ্রুত বয়ে গিয়ে পরাক্রমশালী বৃষ ইন্দ্রের কাছে পৌঁছে। সোমের পরিশুদ্ধ, ‘মধুময়’ প্রবাহকে প্রশংসা করা হয়েছে—সে দেবীয় উল্লাস/উন্মাদনা (মদ) জাগায়, বিজয়ের জন্য ইন্দ্রকে শক্তি দেয়, এবং দেবতা ও যজমানদের জন্য সৌরলোক (স্বর) ও অমরত্ব দান করে।
Sukta 9.107
এই পবমান সোম-সূক্তে সদ্য নিঃপেষিত সোমকে সর্বোচ্চ হবি (শ্রেষ্ঠ আহুতি) রূপে প্রশংসা করা হয়েছে; তার ধারাগুলিকে ঢেলে দিতে, পরিশুদ্ধ করতে এবং যজ্ঞের পরিক্রমা-পথে স্থাপন করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। সোম যখন “জলে আবৃত” হয়ে প্রবাহিত হয়, তখন সে দেবতা ও ঋষিদের জন্য মাদক আনন্দ হয়ে ওঠে, বিশ্বজনীন “সমুদ্র-আসনে” প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং আলো উৎপন্ন করে—ফলে দীপ্ত “গাভী/রশ্মি” প্রকাশ পেয়ে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
Sukta 9.108
এই পবমান সোম-সূক্তে সদ্য-পরিশোধিত সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—মধুময়, দীপ্তিমান ও উল্লাসদায়ক রস, যা বিশেষভাবে ইন্দ্রের শক্তিবৃদ্ধির জন্য প্রস্তুত। এতে সোমকে প্রার্থনা করা হয় যেন তিনি প্রাচুর্যের অধিপতি রূপে জ্বলে ওঠেন, শক্তি ও যশের অন্তর্নিহিত ভাণ্ডার উন্মুক্ত করেন, এবং শেষে নদীসমূহ যেমন সাগরে মিশে যায় তেমনি ইন্দ্রের হৃদয়ে প্রবেশ করেন—মিত্র, বরুণ ও বায়ু কর্তৃকও ধারণকৃত সর্বোচ্চ আশ্রয় হয়ে।
Sukta 9.109
এই পবমান সোম-সূক্তে ‘মধুর বিন্দু’কে স্তব করা হয়েছে—যা পেষিত হয়ে ছাঁকনির মাধ্যমে পরিশুদ্ধ হয়, তারপর এমন অর্ঘ্যরূপে প্রবাহিত হয় যা ইন্দ্রকে শক্তি দেয় এবং মিত্র, পূষণ ও ভাগের প্রতিও নিবেদিত। মন্ত্রগুলোতে সোমকে নবজাত ও কপিশ (তামাটে-হলদে) বর্ণের রূপে দেখানো হয়েছে, দেবতাদের জন্য যাকে দীপ্ত করা হয়; তার স্বচ্ছীকৃত শক্তি আনন্দ, বল এবং জলসমূহের মুক্তি আনে—সমৃদ্ধি ও অন্তর্দীপ্ত স্বচ্ছতার প্রতীক চিত্রকল্প।
Sukta 9.110
এই পবমান সোম-সূক্তে সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—তিনি যখন ছাঁকনি/ফিল্টারের মধ্য দিয়ে “প্রবাহিত” হন, তখন যজমানের জন্য প্রাচুর্য, খ্যাতি ও বীরশক্তি অর্জনের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হন। সোমকে বিজয়ী শক্তি হিসেবে আহ্বান করা হয়েছে, যিনি বৃত্র/বাধাকে পরিবেষ্টন করে ভেঙে দেন, উপাসককে বিদ্বেষী ও ঋণবন্ধন অতিক্রম করিয়ে নিয়ে যান, এবং শত্রু শক্তি ও অন্তরের শত্রুকে দূরে তাড়িয়ে দেন। এই সূক্তের উদ্দেশ্য একদিকে আচারগত—সোম-নিষ্পেষণ ও অর্ঘ্যদানকে শক্তিশালী করা—অন্যদিকে রক্ষামূলক, যেখানে বিজয়, শুদ্ধি ও নির্ভীক তেজের প্রার্থনা করা হয়েছে।
Sukta 9.111
এই সংক্ষিপ্ত পবমান স্তোত্রে সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—যখন তিনি ছাঁকনিতে শুদ্ধ হন, সোনালি আলোয় দীপ্ত হন এবং যজ্ঞবিধিতে প্রবাহিত হতে হতে সকল বৈরিতা ও শত্রুতাকে পরাভূত করেন। সোমকে গোপন ধনের উদ্ঘাটক, ত্রিবিধ শক্তির দ্বারা প্রাণশক্তির প্রতিষ্ঠাতা, এবং এক দিব্য রথরূপে বর্ণনা করা হয়েছে—যাঁর অগ্রগামী দীপ্তি যুদ্ধে ইন্দ্রের বিজয়ী পরাক্রমকে সমর্থন করে।
Sukta 9.112
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোম (ইন্দু)-এর স্তব করা হয়েছে—যখন তিনি পরিশোধিত হয়ে ইন্দ্রের শক্তিবর্ধনের জন্য প্রবাহিত হন। নানা মানব-পেশা ও প্রকৃতির স্বতঃস্ফূর্ত প্রবৃত্তির উজ্জ্বল, প্রায় প্রবাদসুলভ চিত্রের মাধ্যমে এটি ঘোষণা করে যে মন ও সাধনা ভিন্ন হলেও সকলের গতি শেষ পর্যন্ত সেই যজ্ঞীয় প্রবাহেই মিলিত হয়, যা ইন্দ্রকে বল দেয় এবং ঋত (বিশ্ব-শৃঙ্খলা) ধারণ করে।
Sukta 9.113
এই পবমান সোম-সূক্তে পেষিত ও পরিশুদ্ধ সোমের স্তব করা হয়েছে—যে ছাঁকনি দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ধারায় বয়ে যায়। তাকে ইন্দ্রের জন্য উদ্দামভাবে প্রবাহিত হতে আহ্বান করা হয়, যাতে ইন্দ্র তা পান করে শক্তি লাভ করেন এবং বিজয়ী বীরোচিত কর্ম সম্পন্ন করেন। পাথর, স্তোত্র-গান ও পেষণের যজ্ঞীয় চিত্রকল্পের পাশাপাশি, সূক্তটি সোমকে আনন্দের দাতা এবং অমৃতত্ব (অমরতা)-লাভের আকাঙ্ক্ষার উদ্দীপক রূপে উন্মোচিত করে। পুনঃপুন ধ্বনিত ধ্রুবপদ “ইন্দ্রায়েন্দো পরি স্রব” বাহ্য যজ্ঞকে অন্তরের উৎকর্ষ ও পরিপূর্ণতার গতির সঙ্গে বেঁধে দেয়।
Sukta 9.114
এই সংক্ষিপ্ত পবমান সূক্তে সোমের প্রশংসা করা হয়েছে—যখন তিনি শুদ্ধ হয়ে তাঁর নানা “স্থান” অতিক্রম করে প্রবাহিত ও গতিশীল হন। প্রার্থনা করা হয় যে যথাবিধি প্রস্তুত সোম যজমানদের রক্ষা, সুমতি (সঠিক মনোভাব/সু-বুদ্ধি) এবং সমৃদ্ধি দান করুন। বারবার প্রবহমান সোমকে ইন্দ্রের দিকে নিবেদিত করা হয়েছে, এবং সাতগুণ মহাজাগতিক-যজ্ঞীয় শৃঙ্খলা (দিকসমূহ, ঋত্বিজ পুরোহিতগণ, আদিত্যগণ) আহ্বান করা হয়েছে—যাতে তারা উপাসকদের বৈরিতা, শত্রুতা ও পরাজয় থেকে রক্ষা করে।
Because every one of its 114 hymns is addressed to Soma in his purifying form (Soma Pavamāna), describing the pressed juice flowing through the filter and becoming fit for offering.
The central theme is soma’s ritual purification—its rushing flow, filtering, and transformation into radiant potency that invigorates Indra, nourishes the gods, and empowers the sacrifice.
It serves as a liturgical collection for the soma rite: the hymns accompany the actions of pressing and filtering, using repetitive, performative language to align praise with the ritual process.
Read Rig Veda in the Vedapath app
Scan the QR code to open this directly in the app, with word-by-word meanings, Sanskrit recitation where available, and more.