
मण्डल 8
The Kanva Collection
মণ্ডল ৮ ঋগ্বেদের প্রাচীন স্তরের একটি সংকলন, যা বিশেষভাবে কাণ্ব ও আঙিরস কাব্য-পরম্পরার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং সোম-নিষ্পেষণ (সোম-প্রেসিং) যজ্ঞের সঙ্গে সম্পর্কিত উচ্ছ্বসিত ইন্দ্র-স্তুতিতে বিশেষভাবে চিহ্নিত। এর সূক্তগুলি বারবার ইন্দ্রকে নিষ্পেষণ-অনুষ্ঠানে আহ্বান করে, নির্ভয় প্রাচুর্য, গোধন ও বিজয়ের প্রার্থনা জানায়; পাশাপাশি মরুত ও অগ্নি-বিষয়ক উল্লেখযোগ্য স্তবও রয়েছে, এবং কখনও কখনও বরুণ–মিত্র ও অন্যান্য দেবতার স্তুতিও দেখা যায়। ছন্দ-রীতির একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হলো প্রগাথা-গঠনের ঘন ঘন ব্যবহার, যা বহু সূক্তকে সংলাপধর্মী বা প্রতিধ্বনি-ভিত্তিক (প্রতিউত্তরমূলক) আবৃত্তির উপযোগী করে তোলে।
Sukta 8.1
এই সূক্তটি সংক্ষিপ্ত অথচ তীব্র আহ্বান—বারবার কেবল ইন্দ্রেরই স্তব করা, নিংড়ানো সোমের সান্নিধ্যে—যাতে গায়ক-যজমানদের মধ্যে বল, সাহস ও বিজয়দায়ক শক্তি বৃদ্ধি পায়। পৃথিবী ও প্রশস্ত, দীপ্তিমান স্বর্গের মধ্যে বিচরণশীল ইন্দ্রের স্পর্শযোগ্য মহিমা এখানে চিত্রিত, এবং বলা হয় যে তাঁর উপস্থিতি উপাসককে ‘ভরে’ দেয় প্রাচুর্য, পুষ্টি ও অগ্রগামী প্রেরণায়। অতএব এই সূক্ত সোম-নিষ্পেষণের যজ্ঞে এক আচারগত আহ্বানও, আবার স্থির ও ঐক্যবদ্ধ স্তবের জন্য এক মনস্তাত্ত্বিক উদ্দীপনামন্ত্রও।
Sukta 8.2
ঋগ্বেদ ৮.২ একটি সোম-অর্ঘ্য-স্তোত্র, যেখানে ইন্দ্রকে—‘বসু’ নামেও সম্বোধিত—বারংবার সদ্য-নিষ্পেষিত সোমরস পান করতে আহ্বান করা হয়; এবং বিনিময়ে গায়ক ঋষিদের জন্য নির্ভয় প্রাচুর্য, শক্তি ও বিজয় বর্ষণের প্রার্থনা করা হয়। কণ্ব ঋষিরা ইন্দ্রকে অতুল ‘শত-সহায়ক’ রূপে প্রশংসা করেন; অর্ঘ্য ও স্তবকে ক্রমে তীব্র করতে করতে এই সূক্তটি শেষে পোষণদায়ী বৃদ্ধি এবং নব-উৎপত্তি/নব-ভবন (জনিত্ব) উদ্যাপনে প্রসারিত হয়।
Sukta 8.3
এই সূক্তটি সোম-আহ্বান ও ইন্দ্র-স্তব; এতে ইন্দ্রকে নিংড়ানো রস পান করতে, যৌথ উল্লাসে (সধমাদ) প্রবেশ করতে, এবং তাঁর প্রেরিত শক্তি (ধী) দ্বারা গায়ক-ঋষিদের রক্ষা করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এতে ইন্দ্রের অতুলনীয় পরাক্রম (ইন্দ্রিয়) প্রশংসিত, যা আলোর দিকে নিয়ে যায়; এবং শেষে আরও গূঢ় ভাবনায় রোহিত/পাকস্থামাকে ইন্দ্রের শক্তির সঙ্গে যুক্ত, দানশীল ও বল-দায়ক তত্ত্ব হিসেবে আহ্বান করা হয়েছে।
Sukta 8.4
ইন্দ্রকে উদ্দেশ করে এই সূক্তে দেবতাকে সর্বদিক থেকে আহ্বান করা হয়েছে এবং সোম-নিষ্পেষণের যজ্ঞে দ্রুত উপস্থিত হতে অনুরোধ করা হয়েছে; তাঁকে বিজয়ী, বাধা-ভাঙা বীর রূপে স্তব করা হয়েছে। এতে আচার-অনুষ্ঠানের তৎক্ষণাৎ তাগিদ (অধ্বর্যুকে সোমধারা প্রবাহিত করতে প্রেরণা) এবং ইন্দ্রের মহাজাগতিক ভূমিকা—বৃত্রহন্তা—একসূত্রে গাঁথা। শেষে প্রাচুর্যের এমন চিত্র উঠে আসে যে প্রকৃতির স্থিত শক্তিগুলিও যেন বৃদ্ধি ‘বণ্টন’ করে দেয়।
Sukta 8.5
কাণ্ব-সংগ্রহের এই সূক্তটি উষসের দীপ্তিময় চিত্রকল্পে শুরু হয়—সেই সত্য ঊষা, যিনি দূর থেকে এসে সর্বদিকে তাঁর রশ্মি বিস্তার করেন, জীবনীশক্তি ও ঋতসম্মত (সঠিক) গতি জাগিয়ে তোলেন। পরে স্তবের পরিসর প্রসারিত হয়ে অশ্বিন-কেন্দ্রিক প্রার্থনায় রূপ নেয়—সমৃদ্ধির জন্য: গবাদি পশু, সন্তান, শক্তি এবং পোষক ‘ইষ্’ (বৃদ্ধি/পুষ্টি)। শেষে এটি লাভের সত্য পথকে ফাঁপা প্রদর্শনের বিপরীতে স্থাপন করে এবং উদার পৃষ্ঠপোষক (চেদয়গণ)কে যথার্থ অগ্রগতির আদর্শ হিসেবে প্রশংসা করে।
Sukta 8.6
ঋগ্বেদ ৮.৬ কণ্ব-পরিবারের ঋষির ইন্দ্রস্তোত্র, যেখানে তাঁর ওজস্ (বিজয়ী শক্তি) এবং বৃষ্টির মতো উদার দানশীলতার মহিমা গাওয়া হয়েছে। স্তোত্রে ইন্দ্রকে অনুরোধ করা হয়—স্তবের দ্বারা তিনি যেন আরও বৃদ্ধি পান এবং উপাসক গোত্রসমূহকে রক্ষা করতে দ্রুত উপস্থিত হন। এতে একদিকে মহাজাগতিক চিত্রকল্প—ইন্দ্র পথ প্রশস্ত করেন ও প্রাচুর্য মুক্ত করেন—অন্যদিকে যজ্ঞের তৎক্ষণাৎ বাস্তবতা—সোম-অর্ঘ্য ও সমবেত আহ্বান। শেষে দানস্তুতি-ধাঁচের এক দৃষ্টান্তে দান ও খ্যাতির মাধ্যমে উন্নতির উদ্যাপন করা হয়েছে।
Sukta 8.7
এই সূক্তে প্রধানত মরুতদের আহ্বান করা হয়েছে—এক মহাশক্তিধর, পর্বত-পরিভ্রমণকারী দল—যাদের কবির ত্রিষ্টুভ স্তোত্র জাগিয়ে তোলে ও বলবান করে, এবং যারা উদ্যম, রক্ষা ও বিজয়ময় গতি দান করে। কণ্ব-প্রেরিত বাক্যরচনাগুলি ঘৃতের মতো পোষক “ধারা” (ইষঃ) রূপে উপস্থাপিত, যা মরুতদের শক্তি স্ফীত করতে এবং তাদের মাধ্যমে যজমানের সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করতে নিবেদিত। শেষ পর্বে দৃষ্টি অগ্নির দিকে ফেরে—প্রাচীন, দীপ্তিমান জ্ঞাতা—যার শিখা-সূর্য শক্তিগুলিকে তাদের নিজ নিজ স্থানে স্থাপন করে এবং আলোকোজ্জ্বল শৃঙ্খলার দ্বারা যজ্ঞকে সীলমোহর করে।
Sukta 8.8
এই সূক্তটি প্রভাতকালে অশ্বিনদ্বয়ের প্রতি এক তীব্র, জরুরি আহ্বান—তাঁদের অনুরোধ করা হয়েছে যেন সূর্য-আবৃত রথে দ্রুত এসে সম্পূর্ণ বর দান করেন: স্বাস্থ্য, রক্ষা এবং যজ্ঞকর্মের সফলতা। তাঁদের গভীরদর্শী যুগল হিসেবে প্রশংসা করা হয়েছে, যাঁরা ঋত (বিশ্ব-নিয়ম) এর পথে চলেন, জীবদের নিকটবর্তী থাকেন; এবং প্রার্থনা করা হয়েছে যে ঋতু-অনুযায়ী, যথাবিধি সুশৃঙ্খল কর্মে উপাসকেরা যেন তিরস্কার বা ব্যর্থতার মধ্যে না পড়েন।
Sukta 8.9
এই সূক্তে অশ্বিনৌকে তৎক্ষণাৎ আহ্বান করা হয়েছে, যাতে তাঁরা দ্রষ্টা বৎস ও তাঁর জনসমাজকে সাহায্য করেন—অভেদ্য, বিস্তৃত রক্ষা দান করেন এবং শত্রু শক্তিকে দূরে তাড়িয়ে দেন। এখানে অশ্বিনদের অভিভাবকত্ব তাত্ক্ষণিক আশ্রয় থেকে প্রসারিত হয়ে মহাজাগতিক সুরক্ষায় পৌঁছায়—চলমান জগতের, দেহের, এবং সন্তানের ভবিষ্যতের রক্ষা। শেষে সুরটি আরও অন্তর্মুখী ও ধ্যানময়, যেখানে প্রেরিত চিন্তা ও আশীর্বাদের দ্বারা সেই যুগল ‘আসন গ্রহণ’ করে প্রতিষ্ঠিত হন।
Sukta 8.10
এই সংক্ষিপ্ত কাণ্ব স্তোত্রে অশ্বিনৌকে সর্বত্র মহাজাগতিক অবস্থান থেকে—স্বর্গের দীপ্তি, সমুদ্র-নিবাস এবং অন্তরীক্ষ—আহ্বান করা হয়েছে এবং গায়কের যজ্ঞে দ্রুত আগমনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে তাঁদের সর্ববিদ্য, কল্যাণকারী স্বভাবের প্রশংসা করা হয়—যাঁরা নিজের স্বধা-শক্তিতে চলেন এবং সোম-মধু পান করেন; ফলে যজ্ঞ ও ঋষিগণ শক্তি লাভ করেন।
Sukta 8.11
এই সূক্তে অগ্নির স্তব করা হয়েছে—তাঁকে ব্রতপা (ঋত/ধর্মের রক্ষক) রূপে, যিনি স্বেচ্ছায় মর্ত্যদের মধ্যে আসেন এবং যজ্ঞে আহ্বানের সর্বাধিক যোগ্য হন। বারবার অগ্নিকে প্রাচীন হয়েও চিরনবীন হোতৃ বলা হয়েছে; তাঁর কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে যেন তিনি রক্ষা করেন, পোষণ করেন এবং যজ্ঞীয় মধ্যস্থতার মাধ্যমে সৌভাগ্য (কল্যাণকর ভাগ্য) দান করেন।
Sukta 8.12
এই সূক্তটি ইন্দ্রের উদ্দেশে সোমের এক ত্বরিত আহ্বান। এতে সেই মাদক ‘মদ’-এর প্রশংসা করা হয়েছে, যা তাঁর বীর্য ও পরাক্রমকে জাগিয়ে তোলে এবং তাঁকে আলো-গ্রাসকারী প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করতে প্রেরণা দেয়। কবিরা বারবার ইন্দ্রকে তাঁদের নিংড়ানো সোমের কাছে আসতে ডাকেন, তিনি ‘দূরে’ থাকলেও; এবং শেষে প্রাচীন বৈদিক রীতিতে মঙ্গল কামনা করেন—বীরশক্তি, অশ্ব ও গবাদি পশু—যা যথাযথ হবি-অর্পণ এবং প্রাচীন পুরোহিতীয় অন্তর্দৃষ্টির দ্বারা নিশ্চিত হয়।
Sukta 8.13
এই সূক্তটি ইন্দ্রের উদ্দেশে এক বিস্তৃত সোম-আহ্বান, যেখানে তাঁকে পরাক্রমশালী বজ্রধারী (বজ্রিন) রূপে প্রশংসা করা হয়েছে—যিনি নিংড়ানো সোমের কাছে আসেন এবং উপাসকের ক্রতু (ইচ্ছাশক্তি, সংকল্প, প্রেরিত বুদ্ধি)কে স্তোত্রের জন্য স্বচ্ছ ও কার্যকর করে তোলেন। সূক্তটি বারবার ইন্দ্রের “বহুবর্ণ সহায়তা” (চিত্রা ঊতয়ঃ)-কে বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করে—অন্তর্গত পৃথিবীসদৃশ শক্তিকে দৃঢ় করা, সক্ষমতাকে প্রসারিত করা, এবং এমনভাবে যে প্রশংসা নিজেই প্রতিউত্তরে বৃদ্ধি পায়।
Sukta 8.14
এই সূক্তে ইন্দ্রের প্রশংসা করা হয়েছে—তিনি ধন ও বিজয়ের অধিপতি, বাধা-প্রতিবন্ধক ভাঙেন, গোপন আলো (অর্থাৎ ‘গাভী’) মুক্ত করেন, এবং যজমানের জন্য ঋত-সম্মত সঠিক গতি/পথ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। এতে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা—“যদি আমি তোমার মতো ঐশ্বর্য আদেশ করতে পারতাম”—এর সঙ্গে পৌরাণিক স্মরণও মিশেছে: অঙ্গিরসদের জন্য ইন্দ্রের কীর্তি, বল (Vala)-এর পরাভব, এবং যজ্ঞহীন/যজ্ঞবিরোধী শত্রু শক্তির দমন। উদ্দেশ্য হলো ইন্দ্রের সোম-শক্তিকে আহ্বান করে সমৃদ্ধি, প্রেরণা এবং অন্তর ও বহির্জগতের প্রতিরোধের উপর বিজয় লাভ করা।
Sukta 8.15
এই সূক্তটি ইন্দ্রের প্রতি এক উদ্দীপক আহ্বান—“বহু-আহূত” ও “বহু-স্তুত”—যেন প্রেরিত গীতের দ্বারা তিনি নিকটে আকৃষ্ট হন এবং উপাসকের সঙ্গে বিজয়ী শক্তি রূপে বাস করেন। এতে ইন্দ্রের বিশাল ইন্দ্রিয় (সার্বভৌম সামর্থ্য), তাঁর শুষ্ম (আবেগময়/প্রচণ্ড বল) এবং ক্রতু (সৎ-নির্দেশিত সংকল্প) উদ্যাপিত হয়েছে; এবং শেষে প্রার্থনা করা হয় যে শক্তির সকল রূপ সম্প্রদায়ে প্রবেশ করুক—বৃদ্ধি, স্থিত বাস এবং বিজয়ের জন্য।
Sukta 8.16
এই সূক্তে ইন্দ্রের উল্লাসময় স্তব করা হয়েছে—তিনি সকল জনগোষ্ঠীর সর্বজনীন অধিপতি। নবীন, প্রেরণাপ্রাপ্ত বাক্যে তাঁকে আহ্বান করা হয় যেন তিনি শক্তি, বিজয় ও প্রাচুর্য দান করেন। শেষে সরাসরি প্রার্থনা—ইন্দ্র উপাসকদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং বস্তুগত সমৃদ্ধির সঙ্গে অন্তরের আনন্দ (সুম্ন)ও প্রদান করুন।
Sukta 8.17
কাণ্ব ধারার এই সূক্তটি ইন্দ্রকে সোম-পানের আমন্ত্রণ। এতে তাঁকে প্রস্তুত বর্হিস-আসনে আসতে, সু-নিষ্পেষিত সোম-অর্ঘ্য পান করতে এবং তাঁর বিজয়ী শক্তিকে জাগ্রত করতে আহ্বান করা হয়েছে। সূক্তটি ইন্দ্রের মহাশক্তিমান রূপ ও তাঁর বৃত্র-বধকারী পরাক্রমের প্রশংসা করে—যা বাধা অপসারণ করে উপাসকের জন্য আলো, বল ও বৃদ্ধি-সমৃদ্ধির অবাধ প্রবাহ মুক্ত করে।
Sukta 8.18
এই সূক্তটি আদিত্যদের কাছে তাঁদের ‘সুম্ন’ (অনুগ্রহময় কৃপা), ‘শর্মন’ (রক্ষা/আশ্রয়) এবং ‘এনস্’ (দোষ/পাপ) থেকে নৈতিক মুক্তির জন্য একটানা প্রার্থনা। এতে আদিত্যদের ‘ঋত’-এর ধারক ও রক্ষক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে—তাঁরা মানুষের অপরাধ/দোষের বন্ধন শিথিল করতে পারেন, বিপদের মধ্যে নিরাপদ পারাপার দান করতে পারেন, এবং মৃত্যুবদ্ধ নশ্বরদের আয়ু বৃদ্ধি করতে পারেন।
Sukta 8.19
এই সূক্তে অগ্নিকে যথাযথ গতিসম্পন্ন নেতা ও হবি-বাহক হিসেবে কেন্দ্রে রাখা হয়েছে; দেবতাগণই তাঁকে “প্রবর্তিত” করেন, যাতে নিবেদন দেবলোকের পরিসরে উত্থিত হয়। বারবার যজ্ঞকে ‘ভদ্র’—অগ্নিতে, দানে, বিধি/কর্মে এবং স্তোত্রে—মঙ্গলময় বলে আশীর্বাদ করা হয়েছে, এবং সঠিক আচারগত গতি-প্রবাহকে কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। শেষদিকে এটি দানস্তুতি-সদৃশ ভঙ্গি গ্রহণ করে, যেখানে সফল যজ্ঞ ও উদারতার সঙ্গে যুক্ত যজমান/দাতাদের এবং তার সামাজিক পুরস্কার-প্রতিদানের স্মরণ করা হয়েছে।
Sukta 8.20
ঋগ্বেদ ৮.২০ মরুতদের স্তোত্র, যেখানে ঝড়-গণকে ঐক্যে অগ্রসর হতে আহ্বান করা হয়েছে—ক্ষতি করতে নয়, বরং যজমান ও সমাজকে শক্তি দিতে। এতে তাদের অপ্রতিরোধ্য শক্তি ও সীমাহীন দানশীলতার প্রশংসা করা হয়েছে; পরে সেই শক্তিকেই অন্তর্মুখী করে আরোগ্যের প্রার্থনা করা হয়—মরুতদের কাছে নিবেদন, তারা যেন অশান্তি প্রশমিত করেন, যা পথভ্রষ্ট হয়েছে তা সংশোধন করেন, এবং অখণ্ডতা/পূর্ণতা পুনঃস্থাপন করেন।
Sukta 8.21
এই সূক্তে ইন্দ্রকে প্রবলভাবে আহ্বান করা হয়েছে—তাঁকে চিরনবীন রক্ষক এবং বাজ (বিজয়ী শক্তি, প্রাচুর্য)-এর দাতা রূপে। গায়কেরা তাঁকে নিকটে আসতে এবং গবাদি পশু, অশ্ব ও প্রচুর ধন দান করতে প্রার্থনা করে। ইন্দ্রকে সত্য প্রভু হিসেবে প্রশংসা করা হয়েছে—যিনি সোম-নিষ্পেষণ ও সুগঠিত স্তোত্রে আনন্দ পান, এবং যাঁর দানশীলতা ‘হাজার’ ও ‘দশ-হাজার’ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে—পর্জন্যের বর্ষিত বৃষ্টির মতো।
Sukta 8.22
এই সূক্তটি প্রভাতকালে অশ্বিনদ্বয় (নাসত্যা)-কে ত্বরিত আহ্বান—তাঁদের বিস্ময়কর রথ যেন দ্রুত এসে আরোগ্য, রক্ষা ও প্রাচুর্য দান করেন। সূর্যা-র প্রতি তাঁদের প্রস্তুতি স্মরণ করে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে—স্বর্ণাসনযুক্ত রথে আরোহণ করে উপাসকের জন্য “পূর্ণ পুষ্টি” (ইষঃ) এবং দীপ্তিময় ধন-সম্পদ নিয়ে আসতে।
Sukta 8.23
এই সূক্তটি জাতবেদস অগ্নির দীর্ঘ প্রজ্বালন ও স্তব—সর্বজ্ঞ অগ্নি, যিনি হবি গ্রহণ করেন, যজ্ঞবিধি রক্ষা করেন এবং প্রার্থনা দেবতাদের কাছে পৌঁছে দেন। বারবার অগ্নির কাছে বসু (সমৃদ্ধি), শক্তি এবং সুসংবদ্ধ যজ্ঞের প্রার্থনা করা হয়েছে; তাঁকে অধরা শিখা রূপে বর্ণনা করা হয়েছে, যার ধোঁয়া কার্যকর উপাসনার দৃশ্যমান চিহ্ন হয়ে ঊর্ধ্বে ওঠে। শেষ অংশে অগ্নিকে কর্মের গৌরব এবং মিত্র-বরুণকে আহ্বানকারী বলা হয়েছে, যাতে যজ্ঞ ঋত (মহাজাগতিক বিধান)-এর সঙ্গে সঙ্গত হয়।
Sukta 8.24
এই সূক্তটি ইন্দ্র বজ্রিনের উদ্দেশে প্রেরিত বাণী (ব্রহ্মন্)কে “চালু/প্রবাহিত” করার এক সামূহিক আহ্বান। এখানে তাঁকে সাহসী, সর্বাধিক পুরুষোচিত শক্তি হিসেবে স্তব করা হয়েছে—যিনি বাধা ভেঙে বিজয় দান করেন। বারবার ইন্দ্রের পরাক্রমকে সোম-পেষণ ও অর্ঘ্য-অর্পণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, এবং অধ্বর্যুকে অনুরোধ করা হয়েছে আরও উদ্দীপক সোমরস ঢালতে, যাতে সদা-বর্ধমান সেই বীর আরও শক্তিমান হন। পটভূমিতে আছে বাল-প্রসঙ্গ: গোপন আবরণ ও গুপ্ত কর্মযজ্ঞ, যা ইন্দ্র ভেদ করে দীপ্ত “গাভী” (ধন, আলো, অন্তর্দৃষ্টি) মুক্ত করেন।
Sukta 8.25
ঋগ্বেদ ৮.২৫ মূলত মিত্র–বরুণের কাছে প্রার্থনা—তাঁরা সর্বজনীন প্রহরী, যাঁরা ঋত (সত্য-ব্যবস্থা) ধারণ করেন, উপাসককে রক্ষা করেন, এবং সৎজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্তর-বাহিরের “প্রশস্ততা/অবকাশ” (বার্য) বিস্তার করেন। স্তোত্রটি তাঁদের সতর্ক রক্ষাকবচের প্রশংসা ও নিরাপদ গমন, সামাজিক সম্প্রীতি, এবং সংকোচন থেকে মুক্তির প্রার্থনার মধ্যে পর্যায়ক্রমে চলতে থাকে; এবং এই অনুগ্রহগুলিকে তাঁদের নৈতিক সার্বভৌমত্ব ও চুক্তিবদ্ধ মৈত্রী/বন্ধুত্বের ভিত্তিতে স্থাপন করে।
Sukta 8.26
এই সূক্তে প্রধানত অশ্বিনৌ (নাসত্যা)-কে আহ্বান করা হয়েছে—যজমানের স্তবের দিকে তাঁদের দ্রুতগামী রথকে ডাকা হয় এবং বিজয়দায়ক শক্তি, রক্ষা ও দীপ্তিময় কল্যাণ প্রার্থনা করা হয়। এখানে উপাসনাকে সৌন্দর্যবর্ধক, বস্ত্রসদৃশ এক কর্মরূপে দেখানো হয়েছে, যা অর্ঘ্য ও সেবার দ্বারা দিব্য যুগলকে যেন ‘আবৃত’ করে এবং তার ফল হিসেবে শুভ (উজ্জ্বল মঙ্গল) লাভ হয়। শেষ ঋচায় সংক্ষেপে বায়ুর প্রতিও নিবেদন আছে—মানসিক উল্লাস, শক্তিময় প্রাচুর্য (বাজ) এবং কর্মে প্রেরিত ভাবনার যথাযথ উদ্দীপনা/সক্রিয়তার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে।
Sukta 8.27
এই সূক্তটি যজ্ঞে অগ্নিকে সর্বাগ্রে পুরোহিত-শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে শুরু হয়, তারপর রক্ষা ও সফল আহুতি লাভের জন্য সহায়ক দেবশক্তি—মরুতগণ, ব্রহ্মণস্পতী এবং বিশ্বদেবগণ—কে আহ্বান করে। মধ্যভাগে এটি সবিতৃর উত্থানদায়ী উষা-প্রেরণার দিকে ফিরে যায়, যা সকল সত্তাকে উদ্দেশ্যময় গতিতে প্রবৃত্ত করে, এবং বিশ্ব-ঋতকে প্রতিদিনের পুনর্জাগরণরূপে চিত্রিত করে। শেষে এটি সমষ্টিগতভাবে দেবসাহায্য বেছে নেওয়ার কথা বলে—যেমন পুত্র শক্তিশালী রক্ষককে বেছে নেয়—এবং যথাযথভাবে ঢালা আহুতির দ্বারা ‘উত্তম’ (বসু/বসীয়স) প্রার্থনা করে।
Sukta 8.28
এই সংক্ষিপ্ত সূক্তে ‘বিশ্বে দেবাঃ’—অর্থাৎ ‘ত্রিশ-তিন’ দিব্য শক্তি—কে আহ্বান করা হয়েছে, যেন তাঁরা যজ্ঞের কুশাসনে যথাযথ ক্রমে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করেন এবং ক্রিয়ার সঠিক বিন্যাস অটুট রাখেন। এতে প্রার্থনা করা হয় যে এই সর্বদেব সম্মুখে, পশ্চাতে, উপরে ও নীচে—চারিদিক থেকে—সমগ্র রক্ষক হয়ে উঠুন। শেষে সাতগুণ (সপ্তবিধ) দিব্য শক্তির এক দর্শন প্রকাশ পায়, যাদের আলো, অস্ত্র ও দীপ্তি সম্পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত।
Sukta 8.29
এই সূক্তে একক বীরত্বময় দিব্য শক্তির ধ্যান করা হয়েছে—যাকে “এক” বলা হয়েছে। তিনি অনন্যভাবে গমন করেন, স্বর্ণোজ্জ্বল দীপ্তিতে নিজেকে আচ্ছাদিত করেন, এবং গোপন পথ ও অন্তর্নিহিত “নিধি/ধন” সম্পর্কে অবগত। এই “এক”-কে ঋষিদের প্রেরণাপ্রাপ্ত সাম-গান (সামন)-এর সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে; যার দ্বারা গুপ্ত আলো প্রকাশে আসে এবং সূর্যকে দীপ্ত করে উদ্ভাসিত করা হয়—যেন আচ্ছাদনকে অতিক্রম করে আলোকের এক গূঢ় বিজয়।
Sukta 8.30
এই সংক্ষিপ্ত স্তোত্রটি বিশ্বে দেবাঃ (সমস্ত দেবগণ)-কে উদ্দেশ করে রচিত এবং ঘোষণা করে যে দেবশক্তিদের মধ্যে কেউই ‘ক্ষুদ্র’ নয়; সকলেই তাদের সত্য সত্তায় মহান এবং রক্ষা করতে সক্ষম। এতে উপাসকের পক্ষ থেকে সমবেত দেবতাদের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে—তাঁরা যেন তাকে রক্ষা করেন, তার হয়ে কথা বলেন, তাকে পিতৃপুরুষদের মানবীয় পথের সঙ্গে সঙ্গত রাখেন, এবং বিস্তৃত আশ্রয় ও সমৃদ্ধি (গবাদি পশু ও অশ্ব) দান করেন; পাশাপাশি সর্বজনীন অগ্নিশক্তি বৈশ্বানরের প্রতি বিশেষ উল্লেখ রয়েছে।
Sukta 8.31
এই সূক্তে ইন্দ্রের সেই আনন্দকে কেন্দ্র করা হয়েছে, যা সুসম্পন্ন যজ্ঞে জাগে—সোম পেষণ, হব্য রান্না, এবং ব্রহ্ম (প্রেরিত পবিত্র বাক্) যথাযথ উচ্চারণ। এতে বাহ্য আচারকে অন্তর্গত প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে; রক্ষা, শক্তি ও বিজয়ের প্রার্থনা করা হয়েছে—এবং শেষে এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত যে ভক্ত যজমান অন্তরে ও বাইরে বিশৃঙ্খলার ‘অযজ্ব’ (যজ্ঞ না-করা) শক্তিকে পরাভূত করে।
Sukta 8.32
কাণ্বদের এই সূক্ত ইন্দ্রকে সোম-নিষ্পেষণের যজ্ঞে আহ্বান করে এবং তাঁর সম্পন্ন বীর্যকর্মসমূহ স্মরণ করে; প্রার্থনা করে যে প্রেরিত স্তোত্রগানের দ্বারা তাঁর বিজয়ী শক্তি এখানে উপস্থিত হোক। এতে ক্রিয়ার পারস্পরিকতা ও পূর্ণতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে—স্তব, আহুতি ও দেব-প্রতিউত্তর—যাতে যজ্ঞে কিছুই ‘অপরিশোধিত’ না থাকে এবং উপাসকেরা বল, রক্ষা ও বিজয় লাভ করে।
Sukta 8.33
ঋগ্বেদ ৮.৩৩ কাণ্ব ধারার একটি ইন্দ্র-আহ্বান, যার কেন্দ্র সোম-নিষ্পেষণ। কবিরা ছাঁকনি/পবিত্রক দ্বারা সোমকে পরিশুদ্ধ করে ইন্দ্রকে ঘিরে আসন গ্রহণ করেন এবং তাঁকে তাঁদের পরিশ্রুত স্তোত্র-প্রবাহ ও হব্য-অর্ঘ্যে অবতরণ করতে আহ্বান জানান। স্তোত্রটি বারবার ইন্দ্রকে অনুরোধ করে—তিনি যেন তাম্রবর্ণ (হরিত) অশ্বসহ দ্রুত আসেন, যজ্ঞের দাবিদার প্রতিদ্বন্দ্বীদের অতিক্রম করেন, এবং উপাসকদের জন্য শক্তি, বিজয় ও ঊর্ধ্বগতি/উত্থান মুক্ত করে দেন।
Sukta 8.34
এই সূক্তে ইন্দ্রকে তীব্র ও জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে—তিনি যেন তাঁর তাম্রবর্ণ অশ্বসমূহসহ দ্রুত আগমন করেন, সোম গ্রহণ করেন, এবং কাণ্ব ঋষির সুচারু-গঠিত প্রশস্তিকে শক্তি ও উদ্দীপনা দান করেন। পুনঃপুন উচ্চারিত ধ্রুবপদ ইন্দ্রকে ‘আদেশময় স্বর্গ’ থেকে টেনে এনে উপাসকের বর্তমান ক্ষেত্রেই উপস্থিত করে; তাঁর কাছে প্রার্থনা করে যে তিনি দ্রুতগামী শক্তিগুলিকে স্থিত করুন এবং গতিকে বিজয়দায়ক, ঋত-ধারক শক্তিতে রূপান্তরিত করুন।
Sukta 8.35
এই সূক্তটি প্রভাতকালে অশ্বিনদের প্রতি এক দৃঢ় আহ্বান—তাঁদের দ্রুত আগমন করে সমগ্র দেবসমাজের সঙ্গে সুর মিলিয়ে নিষ্পেষিত সোম পান করার প্রার্থনা করা হয়েছে: অগ্নি, ইন্দ্র, আদিত্যগণ, রুদ্রগণ, বসুগণ, উষা ও সূর্য। এখানে অশ্বিনদের সর্বজনীন সহায়করূপে বর্ণনা করা হয়েছে—যাঁরা ঋত/ধর্মের সঙ্গে আসেন, গায়কের ডাকের সাড়া দেন, এবং যজমানকে “রত্নানি” (ধন-সম্পদ, পূর্ণতা/প্রাচুর্য) দান করে প্রতিদান দেন। পুনঃপুন আহ্বান (“আ যাতম্… আ গতম্”) এই সূক্তকে যজ্ঞীয় অভ্যর্থনা এবং রক্ষা, প্রাণশক্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনায় রূপ দেয়।
Sukta 8.36
এই সূক্তটি ইন্দ্রের উদ্দেশে সোম-আহ্বান—বিশেষত ‘মরুত্বান’ (মরুতদের সঙ্গে) ইন্দ্রকে—যেন তিনি নিংড়ানো সোম পান করেন এবং সেই মদ (উল্লাস/উদ্দীপনা) থেকে যজমানকে রক্ষা, বিজয় ও বিস্তৃত শক্তি দান করেন। বারবার ইন্দ্রের হব্যে অধিকার—‘তোমার জন্য নির্ধারিত অংশ’—কে তাঁর প্রমাণিত ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে: তিনি যুদ্ধ জয় করেন, জল/গভীরতাতেও জয়লাভ করেন, এবং প্রেরিত বাণী (ব্রহ্মাণি)-র কার্যকারিতা অটুট রাখেন। শেষ মন্ত্রে শ্যাবাশ্বের নাম করে আবেদনকে ব্যক্তিগত করা হয়েছে এবং অত্রী ও রাজা ত্রসদস্যুকে পূর্বে প্রদত্ত দেবসাহায্যের স্মরণ এনে বর্তমান আশাকে স্মৃত দৃষ্টান্তে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।
Sukta 8.37
এই সূক্তে ইন্দ্রকে মাধ্যন্দিন (মধ্যাহ্ন) সোম-নিষ্পেষণে আহ্বান করা হয়েছে; তাঁকে পান করতে অনুরোধ করা হয়েছে এবং নিষ্পেষণকারী ঋত্বিজ ও যজমানের প্রতি তাঁর “সর্ব-সহায়” (viśvābhir ūtibhiḥ) অনুগ্রহ বিস্তার করার প্রার্থনা করা হয়েছে। এতে ইন্দ্রের বৃত্র-যুদ্ধসমূহ এবং অবরোধকারী শত্রুবলকে তাড়িয়ে দেওয়ার তাঁর শক্তির স্মরণ করা হয়। শেষে ঋষিদের প্রতি তাঁর পূর্বপ্রতিসাড়া—বিশেষত শ্যাবাশ্ব ও অত্রি—এবং ত্রসদস্যুকে রক্ষা করার প্রসঙ্গ আহ্বান করা হয়, যখন ইন্দ্র ক্ষত্র (সার্বভৌম রাজশক্তি/পরাক্রম) বৃদ্ধি করেন।
Sukta 8.38
এই গায়ত্রী ছন্দের সূক্তে ইন্দ্র ও অগ্নিকে একসঙ্গে আহ্বান করা হয়েছে—যুগল ঋত্বিজ্-পুরোহিত ও বিজয়ী শক্তি হিসেবে—যাঁরা ‘বল-কার্যের’ (vājeṣu karmasu) মধ্যে যজ্ঞকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ করেন। কবি তাঁদের নিবেদন করেন, যেন তাঁরা আহুতির প্রতি জাগ্রত হন, গায়ত্রী-‘গতি/পথে’ প্রবাহিত সুগঠিত স্তব গ্রহণ করেন, এবং রক্ষা ও প্রেরিত বাক্ দান করেন; শেষের দিকে সরস্বতীর শক্তিদায়িনী উপস্থিতিরও স্পষ্ট আহ্বান রয়েছে।
Sukta 8.39
এই নয়-ঋচাযুক্ত সূক্তে অগ্নির স্তব করা হয়েছে—তাঁকে প্রেরণাপ্রাপ্ত ঋষি ও অন্তর্লীন দূত রূপে, যিনি মানব ও দেবসমাজের সভার মধ্যে গমন করে আহুতি বহন করেন এবং দেবতাদের নিকট আনেন। এখানে অগ্নির কাছে প্রার্থনা করা হয় যে তিনি উপাসকদের দীক্ষিত/পবিত্র করুন, যজ্ঞক্রিয়াকে শক্তি দিন, এবং বৈরী শক্তিগুলিকে “অন্য এক অধিক্ষেত্রে/অন্য লোকেতে” তাড়িয়ে দিন। সূক্তের পরিণতিতে অগ্নির বিশ্বব্যাপী মহিমা প্রকাশ পায়—তিনি ত্রিবিধ ভিত্তিতে অধিষ্ঠিত—এবং তাঁকে আহ্বান করা হয় দেবসমষ্টি (ত্রয় ও একাদশ)-এর উপাসনা করতে ও যজমানদের বল ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করতে।
Sukta 8.40
এই সূক্তে ইন্দ্র–অগ্নিকে বিজয় ও রক্ষার একত্র শক্তি হিসেবে আহ্বান করা হয়েছে এবং ‘রয়ি’ (প্রাচুর্য/ধন-সম্পদ) প্রার্থনা করা হয়েছে, যা ‘দৃঢ়-স্থাপিত’ সংঘর্ষে সহনশক্তি ও জয় এনে দেয়। বারবার প্রার্থনা করা হয় যে প্রতিপক্ষরা সেই একই সংগ্রামের ময়দানেই ছত্রভঙ্গ হয়ে যাক, আর অন্তর্নিহিত অগ্নি (অগ্নি) বনভূমিতে বায়ুর মতো বাধা ভেদ করে এগিয়ে যাক। শেষে বর্তমান স্তবকে পূর্বপুরুষ ঋষিদের সঙ্গে সংযুক্ত করে ‘ত্রি-ভিত্তিক’ শান্তি এবং প্রাচুর্যের উপর অধিকার/প্রভুত্ব কামনা করা হয়েছে।
Sukta 8.41
এই সূক্তে মরুতদের সঙ্গে বরুণের প্রশংসা করা হয়েছে—তাঁদের সর্বজ্ঞ শক্তি রূপে বর্ণনা করা হয়েছে, যারা ঋত (সঠিক বিধান/শৃঙ্খলা) প্রতিষ্ঠা করেন এবং মানবসমাজ, গবাদি পশু ও সমৃদ্ধি রক্ষা করেন। বারবার প্রার্থনা করা হয় যে এই দেবশক্তিগণ উচ্চতর সামঞ্জস্যে ‘উজ্জ্বল হয়ে প্রকাশিত’ হোন। বরুণকে সেই বন্ধনকারী/নিয়ন্তা হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যাঁর মধ্যে প্রেরিত কর্মসমূহ একত্রে সংহত হয়, এবং যাঁর আশ্রয়ে জগতসমূহ পৃথক থেকেও স্থিত ও ধারণ করা থাকে।
Sukta 8.42
এই সংক্ষিপ্ত সূক্তটি শুরু হয় বরুণের মহিমান্বিত বর্ণনায়—সর্বজ্ঞ অসুর, যিনি স্বর্গকে স্থির করেছেন, পৃথিবীকে পরিমাপ করেছেন, এবং তাঁর অখণ্ড ঋত—অর্থাৎ বিশ্ব-শৃঙ্খলার ‘ব্রত’ (নিয়ম)-এর দ্বারা—সমস্ত লোককে শাসন করেন। পরবর্তী ঋচাগুলিতে প্রসঙ্গ সরে যায় সোম-যজ্ঞের পরিমণ্ডলে; সেখানে অশ্বিনদ্বয় (নাসত্য)কে আহ্বান করা হয় যেন তাঁরা পেষণের সময় এসে সোম পান করেন এবং যজ্ঞের গতিবিধিকে সুষম ঐক্যে সঙ্গত করেন।
Sukta 8.43
এই সূক্তে অগ্নির অবিরাম স্তব করা হয়েছে—তাঁকে প্রেরণাপ্রাপ্ত পুরোহিত ও অচ্যুত যজ্ঞকর্তা রূপে, যিনি দেব-ইচ্ছাকে জাগ্রত করেন এবং মানুষের বাক্য ও আহুতি দেবতাদের কাছে পৌঁছে দেন। বারবার অগ্নির কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে যেন তিনি উপাসকের আহ্বানে আকৃষ্ট হয়ে আসেন, যজমানের “গৃহে” প্রবেশ করেন, এবং তাঁর স্থির দানের দ্বারা স্থায়ী, নির্বাচিত ধন ও রক্ষা প্রদান করেন।
Sukta 8.44
এই অগ্নিসূক্তে যজ্ঞাগ্নিকে দিব্য অতিথি (অতিথি) রূপে প্রজ্বালিত করা হয়—ঘৃত দ্বারা জাগ্রত, আহ্বিত হয়ে হবি গ্রহণ করে তা দেবতাদের কাছে বহনকারী। এতে অগ্নির বিশ্বব্যাপী মহিমা প্রশংসিত—তিনি স্বর্গের শির, পৃথিবীর প্রভুত্বশালী শিখর—যিনি জলের মধ্যে নিহিত গুপ্ত “বীজ”কে উদ্দীপিত করে জীবন ও প্রকাশে আনেন। সূক্তের শেষে রক্ষাপ্রার্থনা করা হয়েছে, যেন প্রেরিত ঋষি-স্বরূপ অগ্নি উপাসকের প্রাণ ও ধনকে পাপ, অমঙ্গল এবং শত্রু শক্তির ঊর্ধ্বে নিরাপদে পার করে নিয়ে যান।
Sukta 8.45
এই সূক্তে ইন্দ্রকে অবিরত আহ্বান করা হয়েছে—তিনি যেন সোম-পেষণের যজ্ঞে আসেন, নিংড়ানো সোমরস পান করেন এবং যজমানদের শক্তি, বিজয় ও কাম্য ধন দান করেন। শুরুতে যথাযথ আচার-পরিস্থিতি স্থাপন করা হয়—অগ্নি প্রজ্বালিত এবং বর্হিস বিছানো—যার ফলে ইন্দ্র উপাসকদের যুববন্ধু হয়ে ওঠেন। এরপর ইন্দ্রের উল্লাস (মদ) ও উদার দানের জন্য বারবার ডাক দেওয়া হয়, এবং শেষে ইন্দ্রের পূর্বপ্রদত্ত দানসমূহের দ্বারা পরিচিত শ্রেষ্ঠতম ধনভাণ্ডারের প্রার্থনা করে সূক্তটি সমাপ্ত হয়।
Sukta 8.46
এই সূক্তে ইন্দ্রের অবিরাম প্রশস্তি করা হয়েছে—তাঁকে সম্প্রদায়ের রক্ষক, পথপ্রদর্শক ও বৃদ্ধি-দাতা রূপে তুলে ধরে—এবং তাঁর হরী (অশ্ব) ও শক্তিসহ তাঁকে দ্রুত যজ্ঞে আগমনের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তিনি বল, সমৃদ্ধি ও বিজয় দান করেন। এতে মরুৎদের সঙ্গে ইন্দ্রের মৈত্রীকে এক গতিশীল শক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা মানব প্রচেষ্টা ও যাগযজ্ঞের সাফল্যকে এগিয়ে নিয়ে যায়। শেষে প্রত্যাবর্তনশীল এক নারীত্বশক্তির উজ্জ্বল চিত্র উপস্থিত হয়, যা কর্তৃত্ব ও দীপ্ত সার্বভৌমত্ব এনে দেয়—ইঙ্গিত করে যে ইন্দ্রের সহায়তার ফল বাহ্য অর্জনের পাশাপাশি অন্তর্লাভও।
Sukta 8.47
এই সূক্তে বারবার আদিত্যদের—বিশেষত বরুণ ও মিত্রকে—আহ্বান করা হয়েছে; তাঁরা মহান, নিষ্কলুষ রক্ষক, যাঁরা উপাসককে প্রতারণা, শত্রুতা এবং অকল্যাণের যে-কোনো অংশ থেকে আড়াল করেন। এতে দেবতাদের কাছে প্রার্থনা করা হয় যে যজমানের মধ্যে মঙ্গল-এর সব রূপ—শান্তি, আশ্রয়, ‘ত্রিবিধ’ রক্ষা—প্রতিষ্ঠা করুন; এবং শেষে বিজয় ও শুদ্ধির সুরে, উষার উদয়ের সঙ্গে ভয় ও অশুভ স্বপ্ন দূর করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
Sukta 8.48
এই সোম-সূক্তে সোমের আস্বাদিত “মধু” (মধুর রস)-কে জীবনদায়ী শক্তি হিসেবে উদ্যাপন করা হয়েছে—যা মনকে স্বচ্ছ করে, অন্তর্গত স্বাধীনতাকে প্রসারিত করে, এবং দেবতা ও মর্ত্যকে একটিমাত্র ধারণকারী সার-সত্তার চারদিকে একত্র করে। সোমকে প্রতিটি অঙ্গে অধিষ্ঠিত অন্তর্বাসী রক্ষক হিসেবে প্রশংসা করা হয়েছে; সৎকর্মের বিধি/ব্রত (ব্রত) পালনে যে বিচ্যুতি ঘটে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে; এবং সর্বদিকের সুরক্ষা ও সূর্যলোক (স্বর) লাভের জন্য তাকে আহ্বান করা হয়েছে। ফলে স্তোত্রটি উল্লাসময় অভিজ্ঞতা থেকে নৈতিক পুনর্মিলনের দিকে, এবং শেষে সোম/ইন্দু কর্তৃক সর্বাঙ্গীণ রক্ষার দিকে অগ্রসর হয়।
Sukta 8.49
এই সূক্তে ইন্দ্রের প্রশংসা করা হয়েছে—তাঁকে উগ্র, দানশীল ‘মঘবান’ রূপে, যাঁর অক্ষয় শক্তি ও ঐশ্বর্য গায়ককে উন্নীত করে এবং যেন ‘প্রশিক্ষিত’ করে, ফলে অনুপ্রাণিত ভাবনা পূর্ণ চর্মথলি থেকে জলের মতো প্রবাহিত হয়। এতে কণ্ব ঋষি ও তাঁদের মিত্রজনদের প্রতি ইন্দ্রের পূর্ব সহায়তার ঘটনাগুলি স্মরণ করা হয়েছে, এবং সেই স্মৃত সহায়তাকেই বর্তমান প্রার্থনায় রূপ দিয়ে দীপ্তিময়, গবাদি-পশু ও স্বর্ণসমৃদ্ধি এবং বিজয়দায়ক সমর্থন কামনা করা হয়েছে।
Sukta 8.50
এই সূক্তটি কাণ্বদের রচিত ইন্দ্র-স্তব ও আহ্বান—ইন্দ্রকে খ্যাতিমান, উদার দাতা ও বিজয়ী বীর রূপে স্মরণ করে, যিনি যজমানের সমৃদ্ধি বিস্তার করেন এবং প্রতিযোগিতা ও যজ্ঞকর্মে সাফল্য নিশ্চিত করেন। বারবার ইন্দ্রের শক্তিকে সোম-নিষ্পেষণ ও উদার দানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে; প্রার্থনা করা হয় যে তিনি কাম্য ধনকে ‘যেন সহস্রগুণ ধারায়’ বৃদ্ধি করুন এবং গায়কের জন্য দীপ্তিমান ‘গাভীসমূহ’ (আলো/বর) উন্মুক্ত করুন, যেমন তিনি পূর্বতন ঋষিদের জন্য করেছিলেন।
Sukta 8.51
এই সূক্তে সোম-নিষ্পেষণের যজ্ঞে ইন্দ্রকে আহ্বান করা হয়েছে এবং পূর্বতন দৃষ্টান্ত স্মরণ করা হয়েছে—যখন ইন্দ্র পূর্বপুরুষ-পুরুষদের ও সখ্যপূর্ণ আতিথেয়দের সঙ্গে সোম পান করেছিলেন। এখানে ইন্দ্রকে দাতা রূপে প্রশংসা করা হয়েছে, যিনি ভক্তদের উদারতায় “প্রশিক্ষিত” করেন এবং তদ্বারা ধন, শক্তি ও বিস্তার দান করেন। শেষের কল্পনায় যজ্ঞক্রিয়াই হয়ে ওঠে বৃদ্ধির ক্ষেত্র—প্রেরিত স্তোত্রধ্বনি, প্রবহমান সোমবিন্দু, এবং উপাসকদের অন্তরে vṛṣṇya śavas (বৃষসদৃশ পরাক্রম)-এর বৃদ্ধি।
Sukta 8.52
কাণ্ব ধারার এই ইন্দ্র-সূক্ত বর্তমান সোম-নিষ্পেষণে দেবতাকে আহ্বান করে, স্মরণ করিয়ে দেয় যে মনু, বিবস্বৎ ও ত্রিতের প্রাচীন যজ্ঞে তিনি আনন্দের সঙ্গে সোম পান করেছিলেন এবং স্তব গ্রহণ করেছিলেন। এতে ইন্দ্রকে ধন ও পোষণ/বৃদ্ধি (রায়ঃ, পোষ) দাতা রূপে উদ্যাপন করা হয়েছে, এবং শেষে এক দর্শন উপস্থিত হয়—ইন্দ্র বিপুল প্রাচুর্যকে গতিময় করেন, পৃথিবী ও সূর্যকে সুরে মিলিয়ে দেন, যখন সোমের উজ্জ্বল শক্তি তাঁকে উল্লসিত করে।
Sukta 8.53
কাণ্ব ধারার এই ইন্দ্র-সূক্তে ইন্দ্রকে পরম দানশীল শক্তি হিসেবে আহ্বান করা হয়েছে—বলবানদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ, দুর্গভেদী, এবং “গো” (কিরণ/ধন)-অন্বেষক—যাতে পূর্ণ প্রাচুর্য ও রক্ষা লাভ হয়। এতে প্রার্থনা করা হয় যে তিনি বৈরিতা চূর্ণ করুন, সোমরস তৃপ্তি পর্যন্ত পান করুন, এবং উপাসককে জীবনের সংগ্রামে পথ দেখিয়ে বিজয়, গো-ধন ও অশ্ব-শক্তি (বল ও গতিশীলতা) দান করুন।
Sukta 8.54
এই ইন্দ্র-সূক্তে দেবতার বীর্য (বীরশক্তি)-র প্রশংসা করা হয়েছে—যে বীর্য প্রেরিত বাক্ ও দীপ্ত অন্তর্দৃষ্টির দ্বারা লাভ করা যায়, যেমন প্রাচীনরা ইন্দ্রকে লাভ করেছিলেন। এরপর কবি এই স্তবকে ব্যবহারিক প্রার্থনায় রূপ দেন: ইন্দ্র যেন গায়কদের প্রতি জাগ্রত হন, যৌথ আনন্দে তাদের সহচর হন, এবং তাদের জন্য দৃঢ়, অক্ষয় প্রাচুর্য প্রতিষ্ঠা করেন—বিশেষত প্রস্কণ্বের জন্য।
Sukta 8.55
ইন্দ্রকে নিবেদিত এই সংক্ষিপ্ত কাণ্ব স্তোত্রে তাঁর বীর্য (বীরশক্তি)-র প্রকাশ্য উচ্ছ্বাস উদ্যাপিত হয়েছে—যা উপাসকের দিকে অগ্রসর হয়ে সাধনায় রত প্রার্থনাকারীকে রাধস্ (দান-সমৃদ্ধি) প্রদান করে। ‘শত শত’ এবং ‘চার শত’—এমন তীক্ষ্ণ গণনার মাধ্যমে ইন্দ্রের দানকে উপচে-পড়া প্রাচুর্য হিসেবে দেখানো হয়েছে—ভৌতিক, যুদ্ধজ এবং প্রাণদায়ী। শেষে ইন্দ্রের দ্বারা সপ্তবিধ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং অন্ধকার, প্রতিবন্ধক শক্তিকে পথের বাইরে তাড়িয়ে দেওয়ার চিত্র আসে—যাতে যশ, দৃষ্টি ও সাফল্যের পথ নির্মল হয়।
Sukta 8.56
এই সংক্ষিপ্ত কাণ্ব স্তোত্রে প্রধানত ইন্দ্রের প্রশংসা করা হয়েছে—তাঁকে “নেকড়ে-সদৃশ” শক্তিশালী রক্ষক বলা হয়েছে, যার বিশাল ও অক্ষয় দান ভক্ত সাধকের কাছে প্রত্যক্ষ হয়ে ওঠে। এতে দৃশ্যমান সমৃদ্ধি (গবাদি পশু, সেবা, সম্পদ/উপকরণ) ইন্দ্রের বিস্তারমান শক্তির লক্ষণ হিসেবে উদ্যাপিত। শেষে স্তোত্রটি এক দীপ্ত যজ্ঞীয় বাঁক নেয়: অগ্নি জ্ঞানী হবি-বাহক রূপে জাগ্রত হন এবং সূর্যের দীপ্তি প্রকাশ করেন—এভাবে ইন্দ্রের দানকে যজ্ঞাগ্নির উদ্ভাসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
Sukta 8.57
এই সংক্ষিপ্ত সূক্তটি অশ্বিনদ্বয় (নাসত্যদ্বয়)-কে আহ্বান জানায়—তাঁরা যেন তাঁদের পরাক্রমশালী রথে এসে সোমের “তৃতীয় সवन”-এর পান করেন। এতে স্বর্গ ও পৃথিবী জুড়ে তাঁদের প্রশংসনীয় কর্মের স্তব করা হয়েছে, তাঁদের নির্ধারিত অংশ প্রস্তুত আছে—এ কথা নিশ্চিত করা হয়েছে, এবং তাঁদের কার্যকর শক্তি (শচী) দ্বারা যজমানকে রক্ষা ও সমৃদ্ধ করার প্রার্থনা করা হয়েছে।
Sukta 8.58
এই সংক্ষিপ্ত সূক্তটি যজ্ঞকে কেন্দ্র করে এক অন্তর্মুখী অনুসন্ধান—কীভাবে বহু আচার-ব্যবস্থা, পুরোহিত ও নানা ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও সবই একটিমাত্র সুসংহত যাজ্ঞিক অভিপ্রায়ের দিকে ধাবিত হয়। এতে এক তীক্ষ্ণ একত্ব-দৃষ্টি প্রকাশ পায়—এক অগ্নি, এক সূর্য, এক উষা—যারা নানা রূপে প্রকাশিত; তারপর সূক্তটি সোমপানের সঙ্গে যুক্ত অশ্বিন-আহ্বানের দিকে মোড় নেয়, যেখানে দ্রুত সহায়তার দীপ্ত “রথ”-চিত্রকল্প উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
Sukta 8.59
এই সংক্ষিপ্ত সূক্তে যুগল দেবতা ইন্দ্র ও বরুণকে সোম-পেষণের যৌথ রক্ষক হিসেবে আহ্বান করা হয়েছে; তাঁদের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে যেন তাঁরা প্রতিটি যজ্ঞে দ্রুত উপস্থিত হন এবং নিজেদের ন্যায্য অংশ গ্রহণ করেন। এতে তাঁদের বাহ্যিক বিশ্ব-সার্বভৌমত্ব ও বিজয়ী শক্তিকে যজমানের অন্তর্গত শৃঙ্খলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে—তাঁকে ঋত (সঠিক পরিমাপ/ধর্ম-ব্যবস্থা) অভিমুখে প্রশিক্ষিত করে এবং সমৃদ্ধি, সন্তানসন্ততি ও দীর্ঘায়ু দান করে।
Sukta 8.60
এই সূক্তে নির্বাচিত হোতৃ রূপে অগ্নির আহ্বান করা হয়েছে—তাঁকে যজ্ঞে আসতে, বরহিসে আসীন হয়ে যজ্ঞ পরিচালনা করতে এবং হবি দেবতাদের কাছে পৌঁছে দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। বারবার অগ্নির কাছে রক্ষার প্রার্থনা করা হয়—বিশেষত রক্ষস্ (শত্রু/অন্ধকার শক্তি), যাতু (জাদুটোনা), বাধা-বিঘ্ন, অমঙ্গল/দুরবস্থা এবং ক্ষুধা থেকে—এবং একই সঙ্গে শক্তি, বৃদ্ধি ও সফল লাভ (বাজ) কামনা করা হয়েছে। সার্বিকভাবে, অগ্নিকে যজ্ঞের পুরোহিত এবং নিকট, নির্ভরযোগ্য অভিভাবক হিসেবে দেখানো হয়েছে, যিনি যজমানের পথ সুরক্ষিত করেন।
Sukta 8.61
এই সূক্তটি ইন্দ্রকে উদ্দেশ করে এক সরাসরি ও ত্বরিত আহ্বান—কবি যেন “উভয় দিক থেকে” তাঁর ডাক শুনতে পান এবং প্রেরিত ধী (অনুপ্রাণিত বুদ্ধি) দ্বারা বলবান হয়ে সোমপানের জন্য নিকটে আসেন। এখানে ইন্দ্রের প্রশংসা করা হয়েছে শক্তিবাহু, বাধা ও দুর্গবেষ্টিত আবরণ ভেদকারী (পুরন্দর) রূপে; বারবার অনুরোধ করা হয়েছে তিনি যেন আসেন, হবি গ্রহণ করেন, এবং ধন, রক্ষা ও বিজয়দায়ক শক্তি মুক্ত করে দেন। শেষের চিত্রকল্পে ইন্দ্রের পরাক্রম সংহত হয়েছে স্থিত ও প্রস্তুত বজ্রে—যা প্রতিরোধ চূর্ণ করে বিজয়ী শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যত।
Sukta 8.62
এই ইন্দ্র-সূক্তে সোম-নিষ্পেষকদের সম্প্রদায়কে উৎকৃষ্ট স্তব এগিয়ে আনতে আহ্বান করা হয়েছে, কারণ ইন্দ্র সুগঠিত স্তোত্র ও উক্থে প্রীত হন এবং “ভদ্রা রাতয়ঃ” (মঙ্গলময় দান) দিয়ে সাড়া দেন। এতে ইন্দ্রের দেবপ্রদত্ত বীরত্ব ও সমগ্র ‘ভবন’—অর্থাৎ ক্রমে হয়ে-ওঠা জগতের উপর তাঁর রক্ষাকর্তৃত্বের প্রশস্তি করা হয়েছে; এবং সোম-অর্ঘ্যদাতাদের প্রাপ্ত সমৃদ্ধি ও “বহু আলো”র সঙ্গে তুলনা করে, সোম-অনুষ্ঠান অবহেলা করলে যে কঠোর পরিণাম আসে তাও নির্দেশ করা হয়েছে।
Sukta 8.63
এই সূক্ত মণ্ডল ৮–এর ইন্দ্র-স্তুতির ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এখানে ইন্দ্রকে প্রাচীন “অন্বেষক” রূপে চিত্রিত করা হয়েছে—যাঁর নিকট সংকল্পময় শক্তি (ক্রতু) অগ্রসর হয়—এবং তাঁকে সেই দিব্য দ্বার বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও প্রেরিত চিন্তা দেবলোকের মধ্যে প্রবেশ করে। এটি পঞ্চবিধ মানবসমাজের সামূহিক আহ্বানকে যজ্ঞে বরহিস্ (পবিত্র আসন) বিস্তারের ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে, এবং শেষে এক রক্ষামূলক প্রার্থনায় উপনীত হয়—যেখানে রুদ্রগণ ও সকল দেবতা, ইন্দ্রকে অগ্রগণ্য করে, উপাসককে বৃত্র-বধের সংগ্রামে সহায়তা করেন—বাহ্য যুদ্ধেও, অন্তর্গত বাধা-অবরোধ ভেদ করাতেও।
Sukta 8.64
এই সূক্তটি ইন্দ্রের উদ্দেশে এক প্রবল সোম-আহ্বান। এতে প্রার্থনা করা হয়েছে যে স্তোত্রগান তাঁকে উল্লসিত করুক, যাতে তিনি রাধস্ (প্রাচুর্য) দান করেন এবং ব্রহ্ম-দ্বিষ্—পবিত্র বাক্যকে ঘৃণা করে এমন শক্তিগুলিকে—ভেঙে দেন। ইন্দ্রকে অদম্য, যুবক, পরাক্রমশালী বৃষরূপে চিত্রিত করা হয়েছে; সত্য ব্রহ্মণ (প্রেরিত উচ্চারণ) ব্যতীত তাঁর নিকট পৌঁছানো কঠিন। শেষে তীব্র আহ্বান—“দ্রুত এসো এবং উজ্জ্বল সোম পান করো”—বীরোচিত, দগ্ধমান শক্তির জন্য।
Sukta 8.65
এই সূক্তে ইন্দ্রকে তীব্র তাগিদে সর্বদিক থেকে আহ্বান করা হয়েছে—যেখানেই, যখনই ডাকা হয়, তিনি যেন দ্রুত এসে তৎক্ষণাৎ সহায় হন। এতে ইন্দ্রের প্রশংসা করা হয়েছে এই বলে যে চিরন্তন শক্তিসমূহের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে ‘সহজলভ্য’ ও নিকটবর্তী। দেবীয় উদারতার মাধ্যমে শক্তি, রক্ষা ও যশ প্রার্থনা করা হয়েছে। শেষাংশে সুর প্রসারিত হয়ে ইন্দ্রের দীপ্তিমান বিকিরণসমূহ (‘নপাতঃ’)‑এর দিকে যায়, এবং দেবগণের মধ্যে সহস্রগুণ সাহায্য ও খ্যাতির ওপর জোর দেয়।
Sukta 8.66
এই সূক্তটি সোম-অর্ঘ্যসহ ইন্দ্রের প্রতি এক উদ্দীপক আহ্বান—তাঁকে ধন-অন্বেষক ও যুদ্ধ-সহায় রূপে ডাকা হয়েছে। বিস্তৃত স্তোত্রগান ও পরিশুদ্ধ, স্পষ্ট অভিপ্রায়ের দ্বারা তাঁকে যজ্ঞে আমন্ত্রণ করা হয়। এতে ইন্দ্রের সেই গতিশীল শক্তির প্রশংসা করা হয়েছে যা ‘কার্য-প্রণালীসমূহে’ (বয়ুনেষু) আনন্দ পায়, এবং প্রার্থনা করা হয়েছে—তিনি স্তোম গ্রহণ করুন, দীপ্ত বুদ্ধি নিয়ে অগ্রসর হন, এবং ক্ষয়কারী অন্ধকার দূর করুন—যাতে শক্তি ও সমৃদ্ধি কার্যকর হতে পারে।
Sukta 8.67
এই সূক্তে ঋত (মহাজাগতিক শৃঙ্খলা)-এর রাজসিক ধারক আদিত্যদের কাছে আশ্রয়, অনুগ্রহ এবং অভীষ্ট লক্ষ্যসাধনের প্রার্থনা করা হয়েছে। আহ্বান ও স্তব থেকে শুরু করে বিপদের মুহূর্তে ত্বরিত রক্ষার আকুতি পর্যন্ত এটি অগ্রসর হয়, এবং শেষে বিদ্বেষ, পাপ ও দমনকারী দুঃখ-ক্লেশের সর্বব্যাপী অপসারণ কামনা করে। এখানে আদিত্যরা আইন-ধর্মের রক্ষকই নন, সামাজিক ও অন্তর্গত বিশৃঙ্খলা নিরাময়কারী হিসেবেও চিত্রিত।
Sukta 8.68
এই সূক্তে ইন্দ্রের রথকে যজ্ঞে আহ্বান করা হয়েছে এবং তাঁকে ঋত (বিশ্ব-ধর্ম/সত্য-ব্যবস্থা)-এর সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষক, সর্বাধিক পরাক্রমশালী হিসেবে প্রশংসা করা হয়েছে—যিনি সকল আক্রমণ পরাভূত করে ‘সুম্ন’ (সমগ্র কল্যাণ, পূর্ণতা) দান করেন। যজ্ঞ ও প্রেরিত বাক্শক্তির মাধ্যমে কবি ইন্দ্রের কাছে প্রার্থনা করেন, তিনি যেন তাঁর প্রাচীন সহায়তা পুনরায় প্রদান করেন—মিত্র/সহচরদের জন্য ‘বাজ’ (বিজয়ী শক্তি, প্রাচুর্য) এবং নির্দোষ, অচ্যুত রক্ষা দান করেন। শেষাংশে সূক্তটি দেবকার্যের নিন্দাতীততা জোর দিয়ে বলে: কোনো মর্ত্য নিন্দুক ইন্দ্রীয় সঙ্ঘের ওপর সফলভাবে দোষ আরোপ করতে পারে না।
Sukta 8.69
এই সূক্তে সোমকে প্রেরণা-দাতা ও শক্তি-প্রদানকারী হিসেবে কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ত্রিষ্টুভ ছন্দের স্তোত্রে তাকে বারবার অগ্রে আনা হয়, আর পুরন্ধী—পূর্ণতা/সমৃদ্ধির সেই শক্তি, যা যজ্ঞ ও মনকে বৃদ্ধি দিয়ে “ভরে” তোলে—তার সহায়ক রূপে উপস্থিত। সূক্তটি সোমের সতর্ক, না-ছলকে প্রস্তুতি ও নিবেদনকে চিত্রিত করে, যাতে ইন্দ্রের পানার্থে পানীয়টি স্থির ও নিরাপদ থাকে। একই সঙ্গে শৃঙ্খলাবদ্ধ যজ্ঞ-ব্যবস্থা (ছাঁটা বর্হিস, যথাযথভাবে স্থাপিত শক্তিসমূহ)কেই সেই প্রাচীন, আদিম “অগ্রগতি/অগ্রসরতা” লাভের শর্ত হিসেবে জোর দিয়ে বলা হয়েছে।
Sukta 8.70
এই সূক্তে ইন্দ্রের উদ্দীপক স্তব ও আহ্বান করা হয়েছে—তিনি জনসমূহের অধিপতি, অজেয় বীর, প্রতিটি যুদ্ধে বিজয়ী এবং বৃত্রবধকারী। এখানে ইন্দ্রকে সর্বদা উপলব্ধ শক্তি হিসেবে নিকট ও দূরে, ‘গভীরে’ এবং ‘প্রসারে’—সব স্থানে আহ্বান করা হয়, যাতে বিজয়, বল এবং উদার দান লাভ হয়। শেষ মন্ত্রে পৃষ্ঠপোষক-ধাঁচের স্মরণ (কর্ণগৃহ্যা) সংরক্ষিত আছে, যা ইন্দ্রের দানশীলতাকে নির্দিষ্ট উপহার ও যজ্ঞসমৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করে।
Sukta 8.71
অগ্নিকে উদ্দেশ করে এই সূক্তটি রক্ষা ও সমৃদ্ধি আহ্বানকারী প্রার্থনা। গায়কেরা অগ্নিদেবের কাছে নিবেদন করেন—তিনি যেন তাঁর মহাশক্তি দ্বারা তাদের অভাব, বৈরিতা এবং মানুষের বিদ্বেষ থেকে রক্ষা করেন। অগ্নির প্রশংসা করা হয়েছে ‘বসু’—ধনসম্পদের ন্যায়সঙ্গত অধিপতি—রূপে; তাঁর দানকে অধার্মিক শক্তি যেন দূরে সরিয়ে দিতে না পারে। তিনি গোত্র-রক্ষক, যিনি শান্তি, কল্যাণ এবং ঋষিদের প্রেরিত শক্তির জন্য নিরাপদ আবাস প্রদান করেন।
Sukta 8.72
এই সূক্তটি অধ্বর্যুর যথাযথ ও বিধিসম্মত কর্মসম্পাদনকে কেন্দ্র করে লিটুর্জিক নির্দেশ ও স্তব—হবিস প্রস্তুত করা, প্রশাসন (আদেশ/নিয়ম) অনুসারে চলা, এবং যজ্ঞকে এমনভাবে অগ্রসর করা যাতে তা নিজের লক্ষ্য ‘জয়’ করে। গভীর, প্রশস্ত ও পরিক্রমণশীল পাত্রে সোম/আহুতি ঢালার উজ্জ্বল চিত্রকল্পের মাধ্যমে এটি সূক্ষ্ম যজ্ঞকর্মকে সোম/আহুতির মহাজাগতিক পরিসঞ্চালন এবং যজ্ঞের ধারক ঋত-শৃঙ্খলার সঙ্গে যুক্ত করে। শেষাংশে এক গভীর ইঙ্গিত আছে: কাম্য শক্তির ‘পদ’ (অবস্থান) জিহ্বা দ্বারা স্বর্গের চারদিকে বিস্তৃত হয়—যেন বাক্ (পবিত্র উচ্চারণ)ই সেই সূক্ষ্ম শক্তি যা ক্রিয়াকে সম্পূর্ণ করে।
Sukta 8.73
এই অশ্বিন-সূক্তে বারবার যুগল দিব্য চিকিৎসক অশ্বিনদের আহ্বান করা হয়েছে—তাঁরা যেন জাগেন, রথে যোক্ত হন এবং নিকটে আসেন, যাতে তাঁদের সহায়তা উপাসকের অন্তরে “নিকট ও আসীন” হয়ে উপস্থিত থাকে। ধ্রুবপদের মতো পুনরুক্তির জোরে এতে দ্রুত উদ্ধার, শক্তিবর্ধন এবং বাধাদায়ক অন্ধকার ভেদ করার প্রার্থনা করা হয়—যেন কোনো দুর্গে ঝড়ের বেগে আক্রমণ করে তা ভেঙে ফেলা। সমগ্র উদ্দেশ্য তৎক্ষণাৎ সহায়তা: আরোগ্য, রক্ষা, এবং জীবন ও মনে ঋত (সঠিক শৃঙ্খলা)-এর পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
Sukta 8.74
এই সূক্তে প্রধানত অগ্নির প্রশংসা করা হয়েছে—অতিথি (দিব্য অতিথি) ও জাতবেদস রূপে—যিনি গৃহের অন্তর্বাসী অগ্নি, এবং যাঁকে প্রতিটি গোত্র স্বাগত জানিয়ে প্রতিষ্ঠা করে, যাতে তিনি শক্তি, প্রাচুর্য ও মঙ্গলময় শান্তি দান করেন। কবি নিকট-হাতে, অন্তরঙ্গ চিত্রকল্পে প্রার্থনা করেন—অগ্নি যেন সর্বাধিক মধুর স্তব গ্রহণ করেন এবং সেই স্তবে বলবান হয়ে উপাসকদের সমৃদ্ধি ও কল্যাণ নিশ্চিত করেন। শেষাংশে মহা নদী পরুষ্ণীরও আহ্বান আছে, যা স্তোত্রের শক্তি ও রক্ষার ভাবকে বৈদিক জীবনের ও যাত্রাপথের বাস্তব ভূদৃশ্যের সঙ্গে যুক্ত করে।
Sukta 8.75
এই সূক্তে অগ্নিকে বিশেষভাবে হোতৃ (যজ্ঞ-পুরোহিত) রূপে আহ্বান করা হয়েছে—যাঁকে দেবতারা সর্বোত্তমভাবে আহ্বান করেন, যজ্ঞে আসন গ্রহণ করেন, এবং দক্ষতা ও প্রাচীন কর্তৃত্বসহ অর্ঘ্য বহন করেন। আচারগত আমন্ত্রণের পাশাপাশি কবি বৈরিতার মধ্যে রক্ষার প্রার্থনা করেন—যেন চারদিকের শত্রুদের আঘাত উপাসকদের উপর এমনভাবে না পড়ে, যেমন ঢেউ নৌকার উপর আছড়ে পড়ে। সূক্তের শেষে পুত্রসুলভ আস্থা প্রকাশ পায়: অগ্নির সহায়তা ‘প্রাচীনকাল থেকেই’ পরিচিত, পিতার আশ্রয়ের মতো; এবং তাঁর প্রসন্ন সুম্ন (কৃপা) পুনরায় প্রার্থিত হয়।
Sukta 8.76
এই সূক্তে মরুতদের সহিত ইন্দ্রকে আহ্বান করা হয়েছে—তাঁকে শক্তির অজেয় অধিপতি রূপে, যজ্ঞে আগমন করতে, সোম পান করতে, এবং উপাসকদের জন্য বিজয় ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে। যুদ্ধমুখর ও আচারগত আহ্বানের পাশাপাশি এতে প্রেরিত বাক্ (বাচ্) সম্পর্কে একটি চিন্তনধর্মী ইঙ্গিতও আছে, যা ইন্দ্রের দ্বারা উদ্ভূত হয়; ফলে বাহ্য জয়কে ঋত (সত্য-শৃঙ্খলা)-এর মাধ্যমে অন্তর্গত গঠনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
Sukta 8.77
এই সূক্তে ইন্দ্রের স্তব করা হয়েছে—জন্মলগ্ন থেকেই তাঁকে সিদ্ধান্তদায়ক, বহুশক্তিসম্পন্ন বীর হিসেবে স্মরণ করা হয়, যিনি যোগ্য মিত্র খোঁজেন এবং সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধ ও দান-সমৃদ্ধির দিকে ধাবিত হন। এতে পর্বত বিদীর্ণ করে পোষণ ও ধন-ঐশ্বর্য মুক্ত করার তাঁর কীর্তি স্মরণ করা হয়েছে, এবং তাঁর নিখুঁতভাবে গঠিত অস্ত্র ও বাহুর প্রশংসা করা হয়েছে—যা বিজয়ী ঋত-শৃঙ্খলার উপকরণ। উদ্দেশ্য হলো যজমান ও সম্প্রদায়ের জন্য ইন্দ্রের শ্রবণ ও সহায়তা—শক্তি, রক্ষা এবং প্রাচুর্য—আহ্বান করা।
Sukta 8.78
ইন্দ্রকে উদ্দেশ করে রচিত এই সূক্তে বিজয়শক্তির দেবতার কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে—তিনি যেন প্রাচুর্যপূর্ণ সোম-আনন্দ, ধনসম্পদ এবং জীবন ও অন্তর্দৃষ্টিকে ধারণকারী আলোর “পশুপাল” দান করেন। এখানে ইন্দ্রের প্রশংসা করা হয়েছে অব্যর্থ ও অপ্রতারিত রূপে—যিনি মর্ত্যদের ক্রোধ ও শত্রুভাবাপন্ন অভিপ্রায় আগেভাগেই দেখে সংযত করেন। সূক্তের পরিণতি এক অন্তরঙ্গ আস্থার কর্মে: কাস্তেটিও ইন্দ্রের হাতে সমর্পণ করে তাঁর কাছে প্রার্থনা করা হয়, তিনি যেন ফসলভরা কাটাই সম্পূর্ণ করেন—তা সদ্য সংগৃহীত হোক বা গুদামে সঞ্চিত।
Sukta 8.79
এই সূক্তে সোমের স্তব করা হয়েছে—অজেয়, সর্বজয়ী শক্তি হিসেবে—যিনি বন্ধ হয়ে থাকা দ্বার ভেঙে উন্মুক্ত করেন এবং প্রেরিত দর্শনের দ্বারা কবি-ঋষিকে দীপ্তিমান করেন। এখানে সোমকে সত্য লক্ষ্য পূরণকারী বলা হয়েছে; তিনি সাধকদের দাতার দান পর্যন্ত পৌঁছে দেন এবং অস্থির তৃষ্ণাকে তৃপ্তিতে রূপান্তরিত করেন। শেষে দেবগণের মধ্যে সিংহাসনাসীন সোমের কাছে রাজসিক প্রার্থনা—তিনি যেন কুটিল চিন্তার দিকে দৃষ্টি দেন এবং শত্রু ও প্রতিবন্ধক শক্তিকে দূরে তাড়িয়ে দেন।
Sukta 8.80
এই সূক্তে ইন্দ্রের কাছে এক জরুরি আবেদন—তাঁকে অতুলনীয় শক্তিমান ও আরোগ্যদাতা রূপে ডেকে, যিনি ভাঙা-চোরা বিষয়কে “ঠিক” করতে পারেন এবং করুণা, বিজয় ও মঙ্গল দান করেন। প্রার্থনা করা হয়, তিনি যেন পূর্ণতা-বর্ধক রথে এসে বাধা অপসারণ করেন এবং উপাসকদের বিজয়ী করেন। শেষ মন্ত্রে দৃষ্টি প্রসারিত হয়: অমর দেবগণ ও দেবীরা একত্রে দিব্য আলোক বৃদ্ধি করেন, প্রশংসিত “রাধস্” (দান/গৌরব) প্রস্তুত করেন এবং প্রেরণাপ্রাপ্ত ঐশ্বর্যের দ্রুত উষা-আগমনের ইঙ্গিত দেন।
Sukta 8.81
এই নয়-ঋচাযুক্ত স্তোত্রটি ইন্দ্রকে সরাসরি আহ্বানমূলক প্রশস্তি—তাঁকে নিকটে আসতে এবং উপাসকদের জন্য শক্তি, ধন ও বিজয়দায়ক পরাক্রমের উজ্জ্বল, প্রাচুর্যময় অংশ “ধরে” দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। এতে দক্ষিণা—ডান-হাতের যথাবিধি কর্ম—এর কার্যকারিতা, গীত সামন যা ইন্দ্রকে শুনতে বলা হচ্ছে, এবং ইন্দ্রের দীপ্তিমান বাজসমূহ (পূর্ণতা/সমৃদ্ধি) দ্রুত এসে বৃদ্ধি ও সাফল্যকে পরিপক্ব করে—এই বিষয়গুলির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
Sukta 8.82
এই ইন্দ্র-সূক্তে বৃত্রহন্তাকে নিকট ও দূর থেকে দ্রুত আসার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তিনি তাঁর উল্লাসের জন্য প্রস্তুত মধুর সোম-অর্ঘ্য গ্রহণ করেন। এতে সোম-পেষণ, ইন্দ্রের আনন্দ ও শক্তির প্রশস্তি আছে, এবং শ্যেন (বাজপাখি) কর্তৃক আনা পৌরাণিক সোমের স্মরণ করে ইন্দ্রকে অনুরোধ করা হয়েছে—তার শক্তির অধিপতি রূপে তিনি যেন সোম পান করেন।
Sukta 8.83
এই সূক্তে সমষ্টিগত দেবগণকে—বিশেষত সার্বভৌম আদিত্যদের (বরুণ, মিত্র, আর্যমণ)—আহ্বান করা হয়েছে; উপাসক অন্তর্গত ও বহির্জগতের শক্তির জন্য তাঁদেরকে নির্বাচিত, বিস্তৃত ও রক্ষাকারী ‘সহায়তা’ (অবঃ) রূপে গ্রহণ করেন। এতে তাঁদের সতর্ক চেতনা, নৈতিক শাসন ও অশুভকে প্রতিহত করার শক্তির প্রশংসা করা হয়েছে; এবং শেষে ইন্দ্রের নেতৃত্বে উদার দেবসমূহের সমাবেশকে সম্বোধন করা হয়েছে।
Sukta 8.84
এই সূক্তে যজ্ঞের সর্বাধিক প্রিয় “অতিথি” অগ্নির প্রশংসা করা হয়েছে—বন্ধুর মতো স্নেহশীল, সহজে সান্নিধ্যযোগ্য, এবং রথের ন্যায় যজ্ঞের অভিপ্রায়কে কার্যকরভাবে বহনকারী। এতে অন্তর্মুখী হয়ে একটি চিন্তাময় প্রশ্নও ওঠে—মনে কী ধরনের অর্ঘ্য যথার্থ, এবং উপাসনায় কোন রকম সম্বোধন যথোচিত। শেষে অগ্নির রক্ষায় নিরাপদ কল্যাণ (ক্ষেম) এবং বীরশক্তির বৃদ্ধি (সুবীর্য) লাভের কথা বলা হয়েছে। সার্বিকভাবে, এটি সঠিক যজ্ঞ, যথার্থ মনোভাব এবং অগ্নির অভিভাবকত্বে সুরক্ষিত সমৃদ্ধির জন্য সংক্ষিপ্ত আহ্বান।
Sukta 8.85
এই সংক্ষিপ্ত অশ্বিন-স্তোত্রে নাসত্য যুগলকে বারবার কবির আহ্বানে দ্রুত আসতে এবং মধুময় সোম পান করতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এতে দিব্য যমজদের কাছে দৃঢ় সুরক্ষা (চর্দিঃ) দান, গায়কের প্রেরিত বাক্যকে শক্তি প্রদান, এবং তাঁদের সময়োচিত আগমন ও সহায়তায় যজ্ঞকে ফলপ্রসূ করার প্রার্থনা করা হয়েছে।
Sukta 8.86
এই সংক্ষিপ্ত জগতী-ছন্দের সূক্তে আশ্বিনদ্বয়কে—অদ্ভুত যুগল চিকিৎসক ও আনন্দদাতা—আহ্বান করা হয়েছে। ঋষি তাঁদের কাছে প্রার্থনা করেন যেন তাঁরা ‘দেহধারী সত্তাকে গড়ে তোলেন/দেহকে রূপ দেন’ (তনূকৃ-) এবং বন্ধুত্বের বন্ধন অখণ্ড রাখেন। পুনঃপুন ধ্বনিত প্রার্থনাগুলিতে দ্রষ্টা বিশ্বক আশ্বিনদের উপকার স্মরণ করেন এবং তাঁদের সহায়তাকে ঋত (মহাজাগতিক বিধান)-এর অধীনে প্রাণশক্তির অখণ্ডতা রক্ষা, সমৃদ্ধি ও অবিচল সঙ্গত্বের সুরক্ষা হিসেবে উপস্থাপন করেন।
Sukta 8.87
এই সংক্ষিপ্ত অশ্বিন-স্তোত্রে যুগল দিব্য চিকিৎসককে সোম-নিষ্পেষণের যজ্ঞে দ্রুত আগমনের আহ্বান জানানো হয়েছে; দীপ্ত স্তব যেন ‘ছিটিয়ে’ তাদের ডেকে আনে ও আহ্বান করে। তাদের অনুরোধ করা হয় বরহিসে আসন গ্রহণ করতে, মধুময় সোম পান করতে, এবং বল, সাফল্য—ধন/পরাক্রম-লাভ (বাজসাতি)—তথা কবিদের প্রেরিত আহ্বানে সাড়া দেওয়ার মতো শ্রবণশক্তি দান করতে।
Sukta 8.88
এই সংক্ষিপ্ত ইন্দ্র-সূক্তে সোম-আনন্দিত, আশ্চর্য কর্মসাধক বীরের প্রশংসা করা হয়েছে, যিনি ইচ্ছা, শক্তি ও কার্যকর কর্মে সকল জন্মধারী সত্তাকে অতিক্রম করেন। কবিরা (গৌতমগণ) বাণীর দ্বারা তাঁর দিকে তেমনই ধাবিত হন, যেমন গাভীরা বাছুরের দিকে; তাঁরা প্রার্থনা করেন, তিনি যেন তাঁদের স্তোত্রে জাগ্রত হন এবং সীমাহীন দানশীলতা, রক্ষা ও ক্ষমতা-লাভে বিজয় দান করেন।
Sukta 8.89
এই সংক্ষিপ্ত সূক্তে মরুতদের আহ্বান করা হয়েছে ‘বৃহৎ’ (বিস্তৃত) স্তোত্রগান করতে, যা বৃত্রহন্তা ইন্দ্রকে জাগিয়ে তোলে, যাতে তিনি আলো, জল এবং প্রশস্ত দীপ্তিমান লোক (স্বঃ) মুক্ত করেন। শ্লোকগুলিতে ইন্দ্রকে সাহসের সঙ্গে অগ্রসর হতে, প্রতিবন্ধক শক্তিকে বিদীর্ণ করতে এবং ঋত (বিশ্ব-শৃঙ্খলা)কে গতিশীল করতে অনুরোধ করা হয়েছে—সূর্য, জল এবং সত্যকে দৃঢ়কারী শক্তিগুলি একসঙ্গে প্রবাহিত হোক। উদ্দেশ্যটি যজ্ঞীয়ও (বিজয় ও বৃষ্টির জন্য ইন্দ্রকে উদ্দীপিত করা) এবং অন্তর্গতও (জড়তা ভেঙে স্পষ্টতা আনে এমন দিব্য শক্তিকে জাগ্রত করা)।
Sukta 8.90
এই ছয় ঋচাবিশিষ্ট সূক্তে ইন্দ্রকে আহ্বান করা হয়েছে যেন তিনি “সমস্ত যুদ্ধে” উপস্থিত থাকেন, কবিদের মন্ত্র ও সোম-নিষ্পেষণের নিকটে আসেন, এবং বিজয় ও সমৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্তকারী প্রতিবন্ধক শক্তি (বৃত্র) ভেঙে দেন। এতে ইন্দ্রের প্রশংসা করা হয়েছে সত্যনিষ্ঠ, অটল ও বজ্রধারী রূপে; তাঁর কাছে ধনকে নিকটে আনতে এবং প্রশস্ত আবরণীর মতো তাঁর রক্ষা বিস্তার করতে প্রার্থনা করা হয়েছে। সূক্তের পরিণতিতে দূরদর্শী অসুর (প্রভুত্বশক্তি) ইন্দ্রকে লাভ করা, এবং তাঁর অনুগ্রহ (সুম্ন) ও আশ্রয় প্রাপ্তির কামনা ব্যক্ত করা হয়েছে।
Sukta 8.91
এই সংক্ষিপ্ত সূক্তে সোমকে পাওয়া ও বহন করে আনা এক ধনরূপে দেখানো হয়েছে, যা বিশেষভাবে বিজয়ী শক্তি ইন্দ্রের জন্য নিংড়ে প্রস্তুত করা। ইন্দ্র এই অর্ঘ্য পান করে বল দান করেন। সূক্তটি সোম-আবিষ্কারের উজ্জ্বল পৌরাণিক চিত্র থেকে এগিয়ে আশাভরা আহ্বানে পৌঁছায়—“হয়তো” ইন্দ্র আমাদের মঙ্গলের জন্য কার্য করবেন—এবং শেষে অপালা-প্রসঙ্গে উপনীত হয়, যেখানে ইন্দ্রের শোধনকারী শক্তি নবীকরণ করে ও আলোকিত করে।
Sukta 8.92
এই ইন্দ্র-স্তোত্রটি এক ধারাবাহিক স্তব, যেখানে গায়কেরা সোমের মাধ্যমে ইন্দ্রকে প্রশংসা করতে এবং তাকে “অগ্রসর/প্রেরিত” করতে আহ্বান জানায়, যাতে তাঁর বিজয়ী বৃত্রহন্-শক্তি উপাসকদের মধ্যে সক্রিয় হয়। এতে ইন্দ্রকে জগৎ-বিজয়ী এবং জনসমূহের প্রতি সর্বাধিক উদার রূপে উদ্যাপিত করা হয়েছে, এবং বারবার প্রার্থনা করা হয়েছে যে তাঁর উদ্দীপক পরাক্রম ও বলদায়ক উন্মাদ/আনন্দ সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রবেশ করুক।
Sukta 8.93
এটি উষাকালমুখী আহ্বান-স্তোত্র, যেখানে সূর্যকে উদীয়মান, বিজয়ী শক্তি হিসেবে বন্দনা করা হয়েছে—যিনি উপাসকদের “পার করে নিয়ে যান”। একই সঙ্গে স্তবের ভাষায় ইন্দ্রসুলভ জয়, রক্ষা ও বরদানের প্রবল সুরও ধ্বনিত হয়। এখানে জাগরণ, বল ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা করা হয়েছে—বিশেষত বাধা ও বৃত্রসদৃশ বন্ধন অতিক্রম, প্রাচুর্যপূর্ণ প্রাণশক্তি, এবং উপাসকদের জন্য বাজ (জয়লাভের শক্তি/সাফল্য) অর্জনের কামনা।
Sukta 8.94
এই সূক্তে মরুত-গণকে আহ্বান করা হয়েছে—তাঁরা দীপ্তিমান, অদম্য শক্তি, যারা বাধা ভেদ করে স্রোতস্বিনী জলের মতো ধাবিত হয় এবং বল, স্বচ্ছতা ও বিজয়ময় গতি দান করে। তাঁদের মহাজাগতিক ঝড়-শক্তিকে সোম-যজ্ঞের সঙ্গে যুক্ত করে, পর্বতাসীন ও বীর্যবান মরুতদের অনুরোধ করা হয়েছে—নিষ্পেষিত সোম গ্রহণ করুন এবং যজমানের আরোহন ও যশকে অগ্রসর করুন।
Sukta 8.95
এই সূক্তটি সোম-অর্ঘ্যকে কেন্দ্র করে ইন্দ্র-আহ্বান। বলা হয়েছে, উজ্জ্বল সোম-নিষ্কর্ষধারা ইন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয়; তাঁকে অনুরোধ করা হয় প্রস্তুত সাররস পান করতে এবং যজমানের কর্মে প্রবেশ করতে। স্তোত্রবাণী (গিরঃ, উক্তানি) দ্বারা কবিরা ইন্দ্রকে “বর্ধিত” করেন এবং তাঁর বহু শক্তি—ধন, বিজয়, ও সেই বাজ-শক্তি—লাভের প্রার্থনা করেন, যা বৃত্রসদৃশ বাধা-অবরোধকে পরাভূত করে। ইন্দ্রের “শুদ্ধতা” (শুদ্ধ) নিয়ে পুনঃপুন জোর তাঁকে পরিশোধিত, স্পষ্টকারী পরাক্রমরূপে দেখায়—যিনি ধনরত্ন দান করেন এবং প্রতিবন্ধকতা ধ্বংস করেন।
Sukta 8.96
এই সূক্তে ইন্দ্রের স্তব করা হয়েছে—তিনি সেই শক্তি, যিনি নিরাপদ “পারাপার” ঘটান: রাত্রি থেকে উষা পর্যন্ত, বাধা থেকে পথের দিকে। এই পারাপারে উষস্ (প্রভাত) এবং পুষ্টিদায়ক আপঃ/সিন্ধবঃ (জল/নদীসমূহ) সহায় হয়। ইন্দ্রের কাছে প্রার্থনা—তিনি প্রেরিত বাক্ (উক্থ) বহন করুন এবং সাধকের বোধকে নৌকার মতো দূর তীরে এগিয়ে দিন; পরিশেষে বৃত্রহা, দক্ষ, দ্রুত প্রকাশমান সহায় রূপে ইন্দ্রের অনুগ্রহ প্রকাশিত হোক।
Sukta 8.97
এই সূক্তে ইন্দ্রকে আহ্বান করা হয়েছে—তিনি যেন নিংড়ানো সোমের কাছে আসেন, মধুর পান গ্রহণ করেন, এবং গায়ক ও সুপ্রস্তুত যজ্ঞকারীদের বৃদ্ধি/প্রসার ঘটান। এতে স্মরণ করা হয়েছে ইন্দ্রের সেই শক্তি, যার দ্বারা তিনি শত্রু আসুরিক শক্তির কাছ থেকে দীপ্তিমান ‘সূর্য-লোক’-সম সম্পদ জয় করেন; ঋত (সত্য-শৃঙ্খলা) দ্বারা রক্ষার প্রার্থনা করা হয়েছে; এবং কামনা করা হয়েছে—তিনি যেন আমাদের দুঃরিতা (কষ্ট/অন্যায়) অতিক্রম করিয়ে প্রাচুর্যময়, সর্বজন-কল্যাণকর সমৃদ্ধিতে পৌঁছে দেন।
Sukta 8.98
এই সংক্ষিপ্ত ইন্দ্র-সূক্তে বিশালদর্শী ঋষি ইন্দ্রের উদ্দেশে সামন্-গান করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইন্দ্রকে ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা এবং বিজয়দায়ক শক্তির দাতা হিসেবে প্রশংসা করা হয়। কবিরা উচ্ছ্বসিত জলের স্রোতের মতো তাঁর দিকে তাদের মহান আকাঙ্ক্ষাকে ‘প্রবাহিত’ করেন এবং শেষে সুভীর্য—ধর্মসম্মত কর্মের জন্য উৎকৃষ্ট, কার্যকর বীরত্ব ও শক্তি—প্রার্থনা করেন।
Sukta 8.99
এই ইন্দ্র-সূক্তে বজ্রধারী ইন্দ্রকে গায়কদের স্তব শুনে তাদের আহ্বানে দ্রুত আসার তীব্র আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, কারণ তিনি পূর্বেও স্তুতিতে বলবান হয়েছেন। এতে ইন্দ্রকে সর্বজয়ী বিজেতা রূপে বন্দনা করা হয়েছে—তিনি শত্রুভাবাপন্ন প্রতিরোধ ও মিথ্যা বাক্য ভেঙে দেন এবং সাধনায় রত উপাসককে বারংবার সহায়তা ও যথার্থ/ধর্মসম্মত ফল দান করেন।
Sukta 8.100
এই সূক্তে ইন্দ্রকে সিদ্ধান্তমূলক বিজয়ী হিসেবে মহিমান্বিত করা হয়েছে—যিনি বৃত্ররূপ বাধা ভেঙে জীবনদায়িনী নদীগুলিকে মুক্ত করেন। তাঁর বজ্রের জন্য বিশ্বে দেবাঃ এবং বিষ্ণু ও দ্যৌঃ প্রভৃতি সহায় দেবতাদের আহ্বান করা হয়, যাতে তারা মহাজাগতিক/দিব্য আকাশ-পরিসরকে প্রসারিত করে। কবি নিজেকে দেবতাদের দ্বারা পরিচালিত ও সমর্থিত বোধ করে ইন্দ্রের কাছে প্রার্থনা করেন—তিনি যেন ‘ভাগ’ (ভাগ) স্থির করেন, যাতে বীরোচিত কর্ম ও সমৃদ্ধি সম্পন্ন হতে পারে। ফলে এই সূক্ত ব্যক্তিগত ক্ষমতায়ন, সামষ্টিক আহ্বান-সংহতি এবং বৃত্রবধের আদিম মিথ—সবকিছুকে একত্র করে একটিমাত্র যজ্ঞীয় ও মনস্তাত্ত্বিক গতিতে, যা সংকোচন থেকে মুক্তির দিকে অগ্রসর হয়।
Sukta 8.101
এই সূক্তে প্রধানত মিত্র ও বরুণকে আহ্বান করা হয়েছে—ঋত (মহাজাগতিক/ধর্মীয় শৃঙ্খলা)-এর যুগল রক্ষক—এবং প্রার্থনা করা হয়েছে যে তাঁরা রক্ষক রূপে “অগ্রে” প্রতিষ্ঠিত থাকুন, যাতে যজ্ঞ ও যজমান উভয়েই সমৃদ্ধ হয়। পথে পথে এতে সংশ্লিষ্ট যজ্ঞীয় শক্তির কথাও এসেছে (বিশেষত বায়ু এবং পরিশোধিত সোম-ধারা), এবং শেষে বাচ্-এর প্রতি এক তীক্ষ্ণ শ্রদ্ধা প্রকাশ পায়—বাচ্কে দিব্য গাভী রূপে, অর্থাৎ বাক্/অন্তর্দৃষ্টি হিসেবে, যাকে আঘাত করা বা তাড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। সামগ্রিকভাবে এটি সামাজিক-নৈতিক শৃঙ্খলা, আচার-অনুষ্ঠানের যথার্থতা, এবং অনুপ্রাণিত বাক্—এই তিনটিকে একত্রে রক্ষা ও সমৃদ্ধির এক দৃষ্টিতে বুনে দেয়।
Sukta 8.102
অগ্নিকে নিবেদিত এই সূক্তে তাঁকে যুবক, প্রজ্ঞাবান ‘গৃহপতি’ রূপে স্তব করা হয়েছে, যিনি যজমানকে বিস্তৃত প্রাণশক্তি, রক্ষা এবং যথার্থ পথনির্দেশ দান করেন। অগ্নিকে আহ্বান করা হয়েছে এক প্রবল, বিজয়ী শক্তি হিসেবে—বিজয়ী অশ্বের ন্যায়—এবং মিত্রসদৃশ নিয়ন্তা হিসেবে, যিনি বৈরিতা, শত্রুতা ও বিশৃঙ্খলা দূর করে দেন। সূক্তের পরিণতি অন্তর্লীন প্রজ্বালন-ক্রিয়ায়: মর্ত্য মন ও জাগ্রত চিন্তায় অগ্নিকে প্রজ্বালিত করে এবং দীপ্তিমান ঋত-শৃঙ্খলার সঙ্গে নিজেকে সঙ্গত করে।
Sukta 8.103
এই সূক্তে অগ্নির প্রশংসা করা হয়েছে—তাঁকে সর্বোচ্চ “পথ-অন্বেষক/পথ-প্রাপ্তিকারী” (গাতুবিত্তম) রূপে, যাঁর মধ্যে ঋতের বিধান প্রতিষ্ঠিত এবং যাঁর মাধ্যমে যজমানের বাক্য দেবতাদের কাছে পৌঁছে। গায়কদের আহ্বান করা হয়েছে সুগঠিত স্তব নিয়ে অগ্নির নিকট গমন করতে; তাঁকে বিশাল, দীপ্তশিখা, দানশীল, এবং মরুত/রুদ্রদের সহচর হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সূক্তের পরিণতিতে সোমপানের জন্য অগ্নিকে স্পষ্ট আমন্ত্রণ জানানো হয়—তিনি শোভার্যাদের স্তবনে আনন্দিত হন এবং ঋত-সুশৃঙ্খল আর্য/উচ্চতর বিকাশকে শক্তি দান করেন।
It is strongly tied to the Kāṇva and Aṅgiras families, shows frequent Pragātha-style composition, and is associated with the Vālakhilya appendix—together indicating both performative metrical habits and layered compilation.
Indra dominates, most often addressed in the context of the Soma-pressing: the hymns invite him to drink Soma and to grant fearless abundance, cattle, and victory to the patrons and priests.
It points to an accretive transmission history: a compact set of short hymns circulated as a recognizable sub-collection and was preserved alongside Mandala 8 material, reflecting how Rigvedic books could grow through curated additions.
Read Rig Veda in the Vedapath app
Scan the QR code to open this directly in the app, with audio, word-by-word meanings, and more.