
Arbudha Khanda
This section is centered on Arbuda (commonly identified in Purāṇic sacred geography with the Arbuda mountain region, associated with the Aravalli range and the Mount Abu area). The landscape is treated as a tīrtha-field where mountains, cavities, rivers invoked through mantra, and hermitage zones become loci of purification narratives. The text frames Arbuda as notable for sin-removal (pāpa-praṇāśana) and as being described as relatively untouched by Kali-era defects through the theological agency attributed to Vasiṣṭha’s presence and austerity.
63 chapters to explore.

Arbuda-Māhātmya Prastāvanā: Vasiṣṭha, Nandinī, and the Sanctification of Arbuda
প্রথম অধ্যায়ে সূত শিবের উদ্দেশে মঙ্গলাচরণ করেন—তিনি সূক্ষ্ম, জ্ঞানগম্য, নির্মল ও বিশ্বরূপ। সোম‑সূর্য বংশাবলি, মন্বন্তর ও সৃষ্টিভেদের কাহিনি শুনে ঋষিরা ‘উত্তম তীর্থ‑মাহাত্ম্য’ এবং পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পবিত্র স্থানগুলি কোনগুলি তা জানতে চান। সূত বলেন, তীর্থ অগণিত; শাস্ত্রে তাদের বিপুল গণনা আছে, আর ক্ষেত্র‑নদী‑পর্বত‑সরিতাগুলি ঋষিদের তপস্যাবলে পরম মাহাত্ম্য লাভ করে। এই প্রেক্ষিতে অরবুদ পর্বতকে বিশেষভাবে পাপহর বলা হয়েছে—বসিষ্ঠের তেজে তা কলি‑দোষে অপ্রভাবিত; কেবল দর্শনেই শুদ্ধ করে এবং সাধারণ স্নান‑দান প্রভৃতি কর্মের চেয়েও শ্রেষ্ঠ ফল দেয়। ঋষিরা তার পরিমাপ, অবস্থান, বসিষ্ঠ‑মাহাত্ম্য থেকে তার খ্যাতির কারণ এবং সেখানে প্রধান তীর্থগুলি জিজ্ঞাসা করেন। সূত শোনা পবিত্র কাহিনি শুরু করেন—ব্রহ্মবংশীয় দেবর্ষি বসিষ্ঠ নিয়ত আহার ও ঋতুচর্যা মেনে কঠোর তপস্যা করেন। তাঁর প্রসিদ্ধ কামধেনুসম গাভী নন্দিনী চরে বেড়াতে গিয়ে গভীর অন্ধ গহ্বরে পড়ে যায়; নিত্য হোমে তার প্রয়োজন থাকায় বসিষ্ঠ উদ্বিগ্ন হয়ে খুঁজে গহ্বরের কাছে পৌঁছে তার আর্তনাদ শোনেন। নন্দিনীর প্রার্থনায় তিনি ত্রিলোক‑পাবনী সরস্বতীকে ধ্যান করেন; সরস্বতী প্রকাশ পেয়ে গহ্বর নির্মল জলে পূর্ণ করেন, ফলে নন্দিনী উদ্ধার হয়। গহ্বরের অতল গভীরতা দেখে বসিষ্ঠ পর্বত এনে তা ভরাটের পরিকল্পনা করেন; হিমবানের কাছে গিয়ে উপযুক্ত পর্বতখণ্ড চান। হিমবান তাঁকে সাদরে গ্রহণ করে গহ্বরের মাপ জানতে চান; বসিষ্ঠ মাপ জানান, আর হিমবান বিস্ময়ে জানতে চান—এত বৃহৎ গহ্বর সৃষ্টি হল কীভাবে; এখানেই পরবর্তী প্রসঙ্গের সূচনা।

Uttanka’s Guru-sevā, the Recovery of the Kuṇḍalas, and the Takṣaka Episode (उत्तंक-गुरुसेवा-कुण्डल-प्राप्ति-तक्षक-प्रसङ्गः)
বসিষ্ঠ এক প্রাচীন কাহিনি বলেন—মহর্ষি গৌতম বহু শিষ্যকে শিক্ষা দিলেও উত্তঙ্ক নামের এক ভক্ত শিষ্য দীর্ঘকাল ধরে গুরুসেবায় অবিচল থাকে। গুরুপ্রেরিত কাজে গিয়ে সে গৃহধর্ম অবহেলার প্রতীকস্বরূপ এক লক্ষণ দেখে বংশধারার ধারাবাহিকতা নিয়ে ব্যথিত হয়। বিষয়টি গৌতমকে জানালে তিনি তাকে পত্নীসহ গৃহ্যকর্ম সম্পাদনের নির্দেশ দেন এবং আর কোনো দক্ষিণা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। তবু উত্তঙ্ক দৃশ্যমান গুরুদক্ষিণা দিতে চায়। সে গুরুপত্নী অহল্যার কাছে গেলে অহল্যা তাকে কঠোর সময়সীমার মধ্যে রাজা সৌদাসের কাছ থেকে রানি মদয়ন্তীর রত্নখচিত কুণ্ডল আনতে বলেন। সৌদাস তাকে ভক্ষণ করার ভয় দেখালেও কুণ্ডল চাইতে অনুমতি দেয়; মদয়ন্তী রাজমুদ্রা প্রমাণ হিসেবে চাইলে কুণ্ডল দেন এবং সতর্ক করেন যে তক্ষক নাগ এগুলি হরণ করতে চায়। ফেরার পথে উত্তঙ্ক ব্রাহ্মণকে তুষ্ট/অতুষ্ট করার ফল সম্পর্কে রাজার রহস্যময় উক্তি শোনে, এবং রাজা নিজের পূর্বশাপ ও তার মোচনের কথা ব্যাখ্যা করে। পথে তক্ষক কুণ্ডল চুরি করে; উত্তঙ্ক অনুসরণ করে পাতাললোকে প্রবেশ করে। ইন্দ্রের সহায়তায় ও দিব্য অশ্ব/অগ্নির প্রতীকে ধোঁয়া-অগ্নি সৃষ্টি করে সে নাগদের বাধ্য করে; ফলে নাগরা কুণ্ডল ফিরিয়ে দেয়। উত্তঙ্ক সময়মতো অহল্যাকে কুণ্ডল অর্পণ করে তাঁর শাপ এড়ায়। শেষে বলা হয়, তক্ষক ও উত্তঙ্কের কারণে এক ‘বিবর’ (ছিদ্র/উন্মুক্ত পথ) সৃষ্টি হয়েছিল; গবাদিপশুর কল্যাণে গর্ত ভরাট করার নির্দেশের সঙ্গে এই নৈতিক কাহিনি স্থানস্মৃতি ও কর্তব্যের সাথে যুক্ত হয়।

अर्बुदेन विवरप्रपूरणं तथा नागतीर्थमाहात्म्यम् (Arbuda Fills the Chasm and the Glory of Nāga Tīrtha)
সূত বললেন—হিমালয় ঋষি বশিষ্ঠকে জিজ্ঞাসা করলেন, ভয়ংকর এক গভীর বিবর (খাদ) কীভাবে পূর্ণ করা যায়। ইন্দ্রের প্রাচীন পক্ষচ্ছেদের ফলে পর্বতেরা আর উড়তে পারে না, তাই বাস্তব উপায় দরকার। বশিষ্ঠ হিমালয়ের পুত্র নন্দিবর্ধন ও তার ঘনিষ্ঠ সখা, দ্রুত ঊর্ধ্বগমনে সক্ষম শক্তিশালী নাগ অর্বুদকে এই কাজে নিয়োজিত করতে বলেন। নন্দিবর্ধন প্রথমে আপত্তি তোলে—দেশটি কঠোর ও সামাজিকভাবে অনিরাপদ; তখন বশিষ্ঠ আশ্বাস দেন যে তাঁর পবিত্র সান্নিধ্যে সেখানে নদী, তীর্থ, দেবতা, শুভ উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মহেশ্বরকেও আনা হবে। অর্বুদ শর্ত রাখে—স্থানটি তার নামে খ্যাত হোক; তারপর নির্দেশমতো সে বিবর পূর্ণ/মুক্ত করে বশিষ্ঠকে সন্তুষ্ট করে। বর হিসেবে অর্বুদ চায়—শিখরে নির্মল ঝরনা/স্রোত ‘নাগতীর্থ’ নামে প্রসিদ্ধ হোক, সেখানে স্নানে উচ্চগতি লাভ হোক; নারীদের সন্তানলাভের ফলও বলা হয়েছে। নাভস মাসের শুক্ল পঞ্চমীতে পূজা, মাঘস্নান, তিলদান ও পঞ্চমী শ্রাদ্ধের বিধানও উল্লেখিত। বশিষ্ঠ সব বর প্রদান করে আশ্রম স্থাপন করেন, তপস্যায় গোমতী ধারা প্রকাশ করেন এবং ফলশ্রুতি বলেন—মহাপাপীও সেখানে স্নানে উত্তম গতি পায়; বশিষ্ঠ-মুখ দর্শনে পুনর্জন্মবন্ধন ছিন্ন হয়, আর অরুন্ধতী বিশেষ পূজ্যা।

Acaleśvara-liṅga Prādurbhāva and Vasiṣṭha’s Śiva-stotra (अचलेश्वरलिङ्गप्रादुर्भावः वसिष्ठशिवस्तोत्रम्)
সূত বলেন, ভগবান বশিষ্ঠ অরবুদাচলে আশ্রম স্থাপন করে শম্ভুর সান্নিধ্য লাভের জন্য কঠোর তপস্যা করেন। তিনি ক্রমে ফলাহার, পত্রাহার, জলাহার এবং শেষে বায়ুভক্ষণ অবলম্বন করে দীর্ঘকাল ঋতুধর্ম পালন করেন—গ্রীষ্মে পঞ্চাগ্নি সাধনা, শীতে জলে নিমজ্জন, আর বর্ষায় উন্মুক্ত আকাশের নীচে বাস। এই তপস্যায় প্রসন্ন হয়ে মহাদেব পর্বত বিদীর্ণ করে প্রকাশিত হন এবং ঋষির সম্মুখে এক দিব্য লিঙ্গ উদ্ভূত হয়। বশিষ্ঠ তখন সুবিন্যস্ত শিবস্তোত্রে শিবের শুদ্ধতা, সর্বব্যাপিতা, ত্রিধা-রূপের প্রতিধ্বনি, অষ্টমূর্তি এবং জ্ঞানস্বভাবের মহিমা কীর্তন করেন। আকাশবাণী বর চাইতে বললে, পূর্বপ্রতিজ্ঞার ভিত্তিতে তিনি এই লিঙ্গে ভগবানের নিত্য সান্নিধ্য প্রার্থনা করেন। শিব তা দান করে বলেন—এই স্তোত্রের পাঠ, বিশেষত নির্দিষ্ট তিথি-নিয়মে, তীর্থফলের সমান পুণ্য প্রদান করে। এখানে মন্দাকিনী নদীকে দেবকার্যে প্রেরিত পবিত্র ধারা বলা হয়েছে এবং উত্তরে এক কুণ্ডের মাহাত্ম্য বর্ণিত—সেখানে স্নান ও লিঙ্গদর্শনে জরা-মৃত্যুর অতীত পরম পদ লাভ হয়। লিঙ্গটির নাম ‘অচলেশ্বর’; প্রলয় পর্যন্ত অচল থাকার ঘোষণা হয়, পরে ঋষি ও দেবতারা ঐ অঞ্চলে আরও তীর্থ ও আবাস স্থাপন করেন।

Nāga-tīrtha Māhātmya (Glory of Nāga-tīrtha at Arbuda)
এই অধ্যায়টি সংলাপরূপে বিন্যস্ত। ঋষিরা অর্বুদ পর্বতের মহিমা বিস্তারিত জানতে চাইলে সূত পূর্বকথা বলেন—রাজা যযাতি মুনি পুলস্ত্যকে অর্বুদ, তীর্থ-পরিক্রমা ও ফল সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন। পুলস্ত্য অর্বুদকে ধর্মসমৃদ্ধ মহাক্ষেত্র বলে সংক্ষেপে বর্ণনা শুরু করেন এবং প্রথমে ‘নাগ-তীর্থ’-এর মাহাত্ম্য বলেন—এটি কাম্য ফল প্রদান করে, বিশেষত নারীদের সন্তানলাভ ও সৌভাগ্য দান করে। এরপর গৌতমী নামে এক পতিব্রতা ব্রাহ্মণ-বিধবা, তীর্থযাত্রায় নিবেদিতা, অর্বুদে এসে নাগ-তীর্থে স্নান করেন। এক নারীকে পুত্রসহ দেখে তাঁর মনে সন্তানকামনা জাগে; জল থেকে উঠতেই তিনি সংসর্গবিহীনভাবে গর্ভবতী হন। লজ্জায় আত্মহত্যার সংকল্প করলে আকাশবাণী তাঁকে নিষেধ করে জানায়—এটি তীর্থের প্রভাব; জলে অবস্থানকালে যে বাসনা করা হয় তা সিদ্ধ হয়। গৌতমী সেখানে থেকে শুভলক্ষণযুক্ত পুত্র প্রসব করেন। শেষে ফলশ্রুতি—সেখানে শ্রাদ্ধ করলে বংশধারা রক্ষা পায়; নিষ্কাম স্নান ও শ্রাদ্ধে স্থায়ী লোকলাভ হয়। নারীরা ফুল-ফল অর্পণ করলে সন্তান ও সৌভাগ্য লাভ করে; নিয়মসহ তীর্থযাত্রা করার উপদেশ দেওয়া হয়েছে।

Vasiṣṭhāśrama–Kuṇḍa Māhātmya (वसिष्ठाश्रम-कुण्ड-माहात्म्य) — Ritual Merits of Darśana, Snāna, Śrāddha, Dīpa-dāna, and Upavāsa
পুলস্ত্য রাজাকে উপদেশ দেন—তপস্যার ভাণ্ডার ঋষি বশিষ্ঠের আশ্রমে গমন কর; তাঁর কেবল দর্শনেই কামনা পূর্ণ হয়। সেখানে জলপূর্ণ এক কুণ্ড আছে যা পাপক্ষয় করে; বলা হয়, বশিষ্ঠ তপোবলে গোমতী নদীকে সেখানে আনয়ন করেছেন। সেই জলে স্নান করলে মানুষ পাপকর্ম থেকে মুক্ত হয়। এরপর শ্রাদ্ধকর্মের মাহাত্ম্য বলা হয়—ঋষিধান্য দিয়ে করা শ্রাদ্ধ উভয় পক্ষের সকল পিতৃকে উদ্ধার করে। নারদগীতার গাথায় বোঝানো হয়েছে যে অন্য প্রসিদ্ধ শ্রাদ্ধতীর্থ ও যজ্ঞও বশিষ্ঠাশ্রমে সম্পন্ন শ্রাদ্ধের তুল্য নয়। অরুন্ধতীকে বিশেষ পূজ্যা ও ইষ্টসিদ্ধিদাত্রী বলা হয়েছে। বশিষ্ঠের সম্মুখে দীপদান করলে ঐশ্বর্য ও তেজ লাভ হয়। একরাত্র উপবাসে সপ্তর্ষিলোক, ত্রিরাত্রে মহর্লোক, আর একমাস উপবাসে মোক্ষ ও সংসারবন্ধনমুক্তি হয়। শ্রাবণ শুক্ল পূর্ণিমায় ঋষির তর্পণে ব্রহ্মলোক, আটশো গায়ত্রীজপে জন্ম-মৃত্যুর পাপ থেকে তৎক্ষণাৎ মুক্তি, এবং বামদেব পূজায় অগ্নিষ্টোম যজ্ঞসম ফল প্রাপ্ত হয়। শেষে শুচিতা ও শ্রদ্ধায় বশিষ্ঠদর্শন ও বামদেবপূজার পূর্ণ প্রচেষ্টা করতে বলা হয়েছে।

अचलेश्वरप्रदक्षिणामाहात्म्य (Acaleśvara Pradakṣiṇā-Māhātmya) — Chapter 7
পুলস্ত্য অচলেশ্বর তীর্থে যাত্রা ও সাধনার বিধান বলেন এবং জানান—শ্রদ্ধাসহ দর্শন করলেই সাধকের আধ্যাত্মিক সিদ্ধি লাভ হয়। তিনি নানা ক্রিয়ার ফল উল্লেখ করেন: কৃষ্ণ চতুর্দশীতে (এবং আশ্বিন/ফাল্গুন মাসে) শ্রাদ্ধ করলে পরম গতি লাভ হয়; দক্ষিণমুখে ফুল, পত্র ও ফল দিয়ে পূজা করলে অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান ফল মেলে; পঞ্চামৃত তर्पণে শিবলোক ও দেবসান্নিধ্য লাভ হয়; আর প্রদক্ষিণার প্রতিটি পদ পাপ নাশ করে। তারপর পুলস্ত্য নারদের কাছে স্বর্গে শোনা এক আশ্চর্য কাহিনি বলেন—এক ভক্তিহীন টিয়া স্বভাবতই নিজের বাসার চারদিকে বারবার ঘুরত; মৃত্যুর পরে সে জন্মস্মৃতিসহ রাজা বেণু হয়ে জন্মায়। প্রদক্ষিণার কারণশক্তি স্মরণ করে বেণু অচলেশ্বরে প্রায় একমাত্র প্রদক্ষিণাতেই নিজেকে নিয়োজিত করে। নারদ প্রমুখ ঋষিরা তার প্রচলিত অর্ঘ্য-উপচার অবহেলা নিয়ে প্রশ্ন করলে বেণু পূর্বজন্মের কারণ ও তীর্থের কৃপায় নির্ভরতার কথা জানায়। ঋষিরা উপদেশ সমর্থন করে নিজেরাও প্রদক্ষিণা গ্রহণ করেন, এবং বেণু শেষে শম্ভুর অনুগ্রহে দুর্লভ ও স্থায়ী পদ লাভ করে।

भद्रकर्णह्रद-त्रिनेत्रलिङ्गमाहात्म्यम् (The Māhātmya of Bhadrakarṇa Lake and the Trinetra Liṅga)
পুলস্ত্য ঋষি রাজাকে প্রভাসখণ্ডে অবস্থিত ভদ্রকর্ণ মহাহ্রদের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। এই পবিত্র জলাশয়ে বহু শিলা ‘ত্রিনেত্র’ সদৃশ দেখা যায়। এর পশ্চিমদিকে শিবের লিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত; যার দর্শনে ভক্ত ‘ত্রিনেত্রসদৃশ’ হয়ে শিবদৃষ্টির ভাব লাভ করে বলে বলা হয়েছে। কথায় আছে, শিবপ্রিয় গণ ভদ্রকর্ণ এই লিঙ্গ স্থাপন করেন এবং মহাহ্রদ নির্মাণ করেন। পরে দানবদের সঙ্গে যুদ্ধে গণসেনা বিপর্যস্ত হলে নামুচি নামে এক প্রবল দানব শিবের সম্মুখে আক্রমণ করে। ভদ্রকর্ণ তাকে প্রতিহত করে যুদ্ধে নিশ্চিতভাবে বধ করেন। পতিত দানব অন্ধকারে নিমজ্জিত হলেও শিবকে চিনে সত্যে স্থিত হওয়ায় শিব সন্তুষ্ট হন। শিব ভদ্রকর্ণকে বর দেন—লিঙ্গ ও হ্রদে তাঁর চিরসান্নিধ্য থাকবে, বিশেষত মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে এই মাহাত্ম্য অধিকতর বৃদ্ধি পায়। অন্তে বিধান—যে ভদ্রকর্ণ হ্রদে স্নান করে ত্রিনেত্রলিঙ্গের পূজা করে, সে শিবের শাশ্বত ধাম প্রাপ্ত হয়; তাই ভক্তদের সেখানে অধ্যবসায়সহ স্নান-পূজা করা উচিত।

केदारतीर्थमाहात्म्यं तथा शिवरात्रिजागरकथनम् (Kedāra Tīrtha Māhātmya and the Śivarātri Night-Vigil Narrative)
পুলস্ত্য কেদারকে ত্রিলোকখ্যাত পাপনাশক তীর্থ বলে বর্ণনা করেন; এখানে মন্দাকিনী নদীর সঙ্গে সরস্বতীর পবিত্র যোগের কথা বলা হয়েছে। এরপর এক “প্রাচীন ইতিহাস” বলা হয়—অজপাল নামে এক আদর্শ রাজা, যিনি অতিরিক্ত কর নেন না এবং কণ্টকহীন (অপরাধমুক্ত) রাজ্য পরিচালনা করেন। তীর্থযাত্রার প্রসঙ্গে বশিষ্ঠ এলে অজপাল নিজের সমৃদ্ধি, প্রজাসুখ ও পতিব্রতা স্ত্রীর কারণ জানতে চান। বশিষ্ঠ পূর্বজন্মের কাহিনি বলেন—অজপাল ও তাঁর স্ত্রী শূদ্রযোনিতে জন্মেছিলেন, দুর্ভিক্ষে কাতর হয়ে ঘুরতে ঘুরতে পদ্মভরা এক জলাশয়ে স্নান-পান করেন এবং মনে মনে পিতৃ ও দেবতাদের তৃপ্তি নিবেদন করেন। খাদ্যের আশায় পদ্ম বিক্রি করতে গেলে অভাবে কেউ কিনতে চায় না। সন্ধ্যায় কেদারের শিবমন্দিরের কাছে বেদ-পুরাণ পাঠ শুনে তাঁরা নাগবতী নামের এক গণিকাকে শিবরাত্রি জাগরণ করতে দেখেন। ব্রতের মহিমা জেনে দম্পতি মূল্য না নিয়ে পদ্ম শিবকে অর্পণ করেন, পূজা করেন, ক্ষুধাজনিত উপবাস, রাত্রিজাগরণ ও পুরাণশ্রবণ একাগ্রচিত্তে সম্পন্ন করেন। মৃত্যুর পরে (স্ত্রীর আত্মদাহের বর্ণনাসহ) তাঁরা রাজকুলে পুনর্জন্ম লাভ করেন; অজপালের আদর্শ রাজত্ব কেদারের কৃপা বলেই প্রতিপন্ন। শেষে শিবরাত্রির তিথি নির্দিষ্ট করা হয়েছে—মাঘ ও ফাল্গুনের মধ্যবর্তী কৃষ্ণ চতুর্দশী। কেদারে তীর্থযাত্রা, জাগরণ ও পূজাবিধি এবং ফলশ্রুতি বলা হয়েছে—শ্রবণেই পাপক্ষয়, দর্শন-স্নান ও কেদারকুণ্ডের জলপানে মুক্তিমুখী ফল, এবং পিতৃপুরুষদেরও কল্যাণ।

Yuga-māna and Kali-yuga Refuge of Tīrthas at Arbuda; Maṅkaṇaka–Maheśvara Discourse (युगमान-वर्णनम्, अर्बुदे तीर्थ-निवासः, मंकणक-महेश्वर-संवादः)
এই অধ্যায়ে রাজা যযাতি পুলস্ত্যকে জিজ্ঞাসা করেন—অর্বুদ অঞ্চলে কেদার এবং গঙ্গা-সরস্বতীর মতো মহা-নদীর উপস্থিতি কীভাবে সম্ভব, এই ‘কৌতুক’ (অদ্ভুত পবিত্র রহস্য) কী। পুলস্ত্য উত্তর দেন দেব-ঋষিদের ব্রহ্মসভা-প্রসঙ্গের মাধ্যমে; সেখানে ইন্দ্র যুগের পরিমাপ ও নৈতিক লক্ষণগুলির সুবিন্যস্ত বিবরণ চান। ব্রহ্মা কৃত, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলির কালমান বলেন এবং জানান—ধর্ম চার পাদ থেকে ক্রমে ক্ষয় হয়ে কলিতে এক পাদে নেমে আসে; আচার, যজ্ঞ ও সামাজিক শৃঙ্খলাও কলিতে অবনত হয়। তখন তীর্থসমূহ ব্যক্তিরূপে প্রশ্ন করে—কলিযুগে তাদের শক্তি কীভাবে টিকে থাকবে। ব্রহ্মা অর্বুদ পর্বতকে এমন স্থান ঘোষণা করেন যেখানে কলির দোষ প্রবেশ করে না, এবং তীর্থদের সেখানে নিবাস করতে বলেন যাতে তাদের কার্যকারিতা অক্ষুণ্ণ থাকে। পরে মঙ্কণক তপস্বীর কাহিনি—দেহে এক লক্ষণকে সিদ্ধি ভেবে তিনি নৃত্য করে বিশ্ব-ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটান; শিব আবির্ভূত হয়ে অঙ্গুষ্ঠ থেকে ভস্ম উৎপন্ন করে শ্রেষ্ঠ শক্তি প্রকাশ করেন ও বর প্রদান করেন। শিব সরস্বতীতে স্নান, গঙ্গা–সরস্বতী সঙ্গমে শ্রাদ্ধ, এবং সামর্থ্য অনুযায়ী স্বর্ণদান—এসবের মোক্ষাভিমুখ ফল ও পাপক্ষয়কারী মহিমা ঘোষণা করেন; এভাবে অধ্যায়টি অর্বুদের চির-পবিত্রতা প্রতিষ্ঠা করে।

Koṭīśvara-liṅga-prādurbhāvaḥ (Origin and Merit of Koṭīśvara)
পুলস্ত্য ঋষি রাজাকে কোṭীশ্বরের আবির্ভাব ও মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। দক্ষিণদেশের বহু মুনি অর্বুদে এসে অচলেশ্বর দর্শনে অগ্রাধিকার নিয়ে প্রতিযোগিতা করেন; তখন নীতিবাক্য উচ্চারিত হয়—যে ব্রাহ্মণ দেরিতে আসে এবং ভক্তি-শ্রদ্ধাহীন, সে অধোগতি লাভ করে। এ কথা শুনে মুনিরা সংযমী, ব্রতপরায়ণ ও বেদবিদ্যায় পারদর্শী শান্ত তপস্বী হয়ে ওঠেন। তাদের ভক্তিভাব দেখে করুণাময় শিব একসঙ্গে ‘কোটি’ আত্মলিঙ্গরূপে প্রকাশিত হন, যাতে প্রত্যেকে একই মুহূর্তে পৃথকভাবে দর্শন পায়। মুনিরা বৈদিক স্তোত্রে শিবের স্তব করেন; শিব বর চাইতে বলেন। তারা প্রার্থনা করেন—সমবেত, একযোগে দর্শনের ফল যেন অতুল হয় এবং কোটি লিঙ্গের পুণ্য ধারণকারী একটিমাত্র লিঙ্গ প্রকাশ পাক। পর্বত বিদীর্ণ হয়ে এক লিঙ্গ উদ্ভূত হয়; আকাশবাণী তার নাম ‘কোṭীশ্বর’ ঘোষণা করে এবং মাঘ কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে পূজার বিধান দেয়। বলা হয়, এখানে পূজায় কোটি-গুণ ফল হয় এবং এখানে শ্রাদ্ধ—বিশেষত দক্ষিণদেশীয় ব্যক্তির দ্বারা—গয়া-শ্রাদ্ধের সমফলদায়ক। মুনিরা গন্ধ, ধূপ ও অনুলেপনে পূজা করে শিবকৃপায় সিদ্ধি লাভ করেন।

रूपतीर्थमाहात्म्य (Glory of Rūpatīrtha)
পুলস্ত্য শ্রোতাকে রূপতীর্থে স্নান করতে নির্দেশ দেন—এটি পরম তীর্থ, পাপ নাশ করে এবং সৌন্দর্য ও শুভ রূপ দান করে। স্থানীয় কাহিনিতে এক আভীরী গোপবধূ, যিনি প্রথমে বিকৃত দেহের ছিলেন, মাঘ শুক্ল তৃতীয়ায় পাহাড়ি জলপ্রপাতে পড়ে তীর্থপ্রভাবে দিব্য লাবণ্য ও শুভ লক্ষণসহ বেরিয়ে আসেন। ক্রীড়ার জন্য আগত ইন্দ্র তাঁকে দেখে মোহিত হয়ে কথোপকথন করেন; তিনি তিথি জানিয়ে বর চান—সেই দিনে ভক্তিভরে যে নারী-পুরুষ এখানে স্নান করবে, সে সকল দেবতাকে প্রসন্ন করবে এবং দুর্লভ সৌন্দর্য লাভ করবে। ইন্দ্র বর দেন ও তাঁকে দিব্যলোকে নিয়ে যান; পরে তিনি ‘বপু’ নামে অপ্সরা হিসেবে প্রসিদ্ধ হন। এরপর অধ্যায়ে পার্শ্ববর্তী ক্ষুদ্র তীর্থগুলির বিবরণ আছে—পূর্বদিকে এক মনোরম গুহা যেখানে পাতালকন্যারা স্নান করে; এক ‘বৈনায়ক-পীঠ’ যার জল সিদ্ধি ও রক্ষা দেয়; এক তিলকবৃক্ষ যার ফুল-ফলে অভীষ্টসিদ্ধি হয়; এবং পাথর ও জলের রূপান্তরকারী গুণ। ফলশ্রুতিতে বন্ধ্যাত্ব, রোগ, গ্রহদোষ, অশুভ প্রভাব ও ক্ষতিকর বাধা দূর হওয়ার কথা বলা হয়েছে। যযাতি কারণ জিজ্ঞাসা করলে পুলস্ত্য জানান—অদিতির তপস্যা, ইন্দ্রের রাজ্যসঙ্কটে জলপ্রপাতে শিশুবিষ্ণু (ত্রিবিক্রম)কে গোপনে লালন, এবং অদিতির তিলকবৃক্ষ-পোষণ—এই সবই তীর্থের মহিমা বৃদ্ধি করেছে। শেষে ভক্তিসহ স্নানের উপদেশ দিয়ে একে ইহলোক-পরলোকের কামনাপূরক তীর্থ বলা হয়েছে।

हृषीकेश-तीर्थे अम्बरीषोपाख्यानम् | The Ambarīṣa Narrative at Hṛṣīkeśa Tīrtha
পুলস্ত্য ঋষি রাজশ্রোতাকে ঈশান দিকের ত্রিলোকখ্যাত, পাপ-নাশক হৃষীকেশ তীর্থের কথা জানান, যা অম্বरीষের সঙ্গে সম্পর্কিত। কৃতযুগে রাজা অম্বরি্ষ ক্রমে কঠোর তপস্যা করেন—নিয়মিত আহার, পত্রভোজন, কেবল জল অবলম্বন এবং প্রাণসংযম—যাতে বিষ্ণু সন্তুষ্ট হন। প্রথমে ইন্দ্র আবির্ভূত হয়ে বর দিতে ও নিজের আধিপত্য ঘোষণা করতে চান; কিন্তু অম্বরি্ষ সংসারী বর প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ইন্দ্র মোক্ষ দিতে অক্ষম। ইন্দ্রের হিংসার হুমকিতে জগতে অশান্তি দেখা দেয়; অম্বরি্ষ সমাধিতে প্রবেশ করেন। তখন বিষ্ণু প্রকাশিত হয়ে (গরুড়ের মহিমা সহ) বর দেন এবং সংসারক্ষয়ের জন্য জ্ঞানযোগ, আর কলিযুগোপযোগী ক্রিয়াযোগের উপদেশ দেন। অম্বরি্ষ আশ্রমে নিত্য দেবসান্নিধ্যের জন্য প্রতিমা স্থাপনের প্রার্থনা করেন; মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কলিযুগেও বিষ্ণুর স্থায়ী উপস্থিতি ঘোষিত হয়। ফলশ্রুতিতে হৃষীকেশ-দর্শন ও চাতুর্মাস্য ব্রতকে বহু দান-যজ্ঞ-তপস্যার চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে; কার্ত্তিক শুক্ল একাদশীতে ফুল অর্পণ, অভিষেক, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, দীপ জ্বালানো, পঞ্চামৃত পূজা—এমন ক্ষুদ্র কর্মও মুক্তিমুখী ও পুণ্যবর্ধক বলে বর্ণিত।

Siddheśvara-liṅga Māhātmya (Glory of the Siddheśvara Liṅga)
পুলস্ত্য ঋষি রাজশ্রোতাকে সিদ্ধেশ্বর নামক পরম শিবলিঙ্গের মাহাত্ম্য শোনান, যা প্রাচীনকালে এক সিদ্ধপুরুষ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিশ্বাবসু নামে এক সিদ্ধ ক্রোধ-অহংকার ও ইন্দ্রিয়সংযমে স্থিত থেকে ভক্তিভরে কঠোর তপস্যা করেন; বৃষভধ্বজ শিব প্রসন্ন হয়ে প্রত্যক্ষ দর্শন দেন। শিব বর দিতে চাইলে বিশ্বাবসু প্রার্থনা করেন—যে কেউ মনে মনে এই লিঙ্গের ধ্যান-স্মরণ করলেও শিবকৃপায় তার ইষ্টসিদ্ধি হোক। শিব ‘তথাস্তु’ বলে অন্তর্ধান করেন; পরে বহুজন সিদ্ধেশ্বরে গিয়ে সিদ্ধি লাভ করে। লিঙ্গপ্রভাবে কাম্যফল সহজে মিলতে থাকায় যজ্ঞ-দানাদি ধর্মকর্ম কমে যায়, দেবতারা উদ্বিগ্ন হন। ইন্দ্র বজ্র দিয়ে আচ্ছাদন করে সিদ্ধি-উৎপত্তি রোধ করতে চান, তবু সিদ্ধেশের সান্নিধ্যে সিদ্ধি হয় এবং পাপ ক্ষয় হয়। সোমবারে শুক্ল বা কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী পড়লে, সেদিন স্পর্শকারী ‘সিদ্ধ’ বলে গণ্য হয়। শেষে তীর্থযাত্রা, শ্রদ্ধা ও পূজার উপদেশ দিয়ে সদ্গতি লাভের কথা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা হয়।

Śukreśvara-Pratiṣṭhā and the Life-Restoring Vidyā (शुक्रेश्वरप्रतिष्ठा तथा संजीवनीविद्या)
পুলস্ত্য মুনি রাজাকে বলেন—ভৃগুবংশীয় শুক্রাচার্য দেবতাদের হাতে দৈত্যদের পরাজয় দেখে তাদের পুনরায় শক্তি ফিরিয়ে আনার উপায় ভাবলেন এবং শঙ্করের আরাধনায় সিদ্ধি লাভের সংকল্প করলেন। তিনি অর্বুদ পর্বতে গিয়ে গুহাসদৃশ এক প্রবেশপথে কঠোর তপস্যা করেন; শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে ধূপ, গন্ধ ও অনুলেপনে অবিরত পূজা চালিয়ে যান। সহস্র বছর পরে মহাদেব প্রকাশিত হয়ে শুক্রের ভক্তি প্রশংসা করেন ও বর দিতে চান। শুক্র প্রার্থনা করেন—যে বিদ্যায় মৃত প্রাণীও পুনর্জীবিত হতে পারে; শিব তাঁকে সংজীবনী বিদ্যা দান করেন এবং আরও বর চাইতে বলেন। তখন শুক্র বিধান স্থাপন করেন—কার্ত্তিক মাসের শুক্ল অষ্টমীতে যে শ্রদ্ধায় সেই লিঙ্গ স্পর্শ করে পূজা করবে, সে মৃত্যুভয় থেকেও মুক্ত হবে এবং ইহলোকে ও পরলোকে ইষ্টফল লাভ করবে। শিব অন্তর্ধান করলে শুক্র সেই বিদ্যায় যুদ্ধে নিহত বহু দৈত্যকে পুনর্জীবিত করেন। শেষে বলা হয়, সেই স্থানের সম্মুখে এক পবিত্র পাপনাশক মহাকুণ্ড আছে; সেখানে স্নানে পাপক্ষয় হয়, সেখানে শ্রাদ্ধে পিতৃগণ তৃপ্ত হন, এমনকি সাধারণ তর্পণও ফলদায়ক—অতএব সেখানে স্নানের জন্য আন্তরিক চেষ্টা করা উচিত।

मणिकर्णिका-तीर्थ-माहात्म्य (Maṇikarṇikā Tīrtha Māhātmya)
পুলস্ত্য ঋষি রাজশ্রোতাকে বলেন—সর্বপ্রসিদ্ধ পাপহর মণিকর্ণিকা তীর্থে গমন করো। পর্বতের গুহাসদৃশ স্থানে বালখিল্য মুনিরা এক মনোরম কুণ্ড নির্মাণ করেছেন। সেখানে সূর্যগ্রহণের মধ্যাহ্নে তৃষ্ণাকাতর কিরাত নারী মণিকর্ণিকা—যাকে কৃষ্ণবর্ণ ও ভয়ংকর বলা হয়েছে—জলে প্রবেশ করে; তীর্থপ্রভাবে মুনিদের সামনে সে দেবতাদেরও দুর্লভ এক দিব্যসুন্দর রূপে উদ্ভাসিত হয়। তার স্বামী কাঁদতে থাকা শিশুর জন্য ব্যাকুল হয়ে তাকে খুঁজতে আসে। মুনিদের প্রেরণায় সে শিশুসহ স্নান করতে জলে নামে; কিন্তু গ্রহণমোচনে আবার বিকৃতদেহ হয়, শোকে সেই জলস্থানেই প্রাণত্যাগ করে। পতিব্রতা মণিকর্ণিকা চিতায় প্রবেশের সংকল্প করে; মুনিরা প্রশ্ন করেন—দিব্যরূপ লাভের পরও কেন সে পাপী/বিকৃত স্বামীর অনুসরণ করবে? সে পতিব্রতাধর্মের নীতি বলে—নারীর জন্য স্বামীই ত্রিলোকে একমাত্র আশ্রয়, রূপ-অরূপ, দারিদ্র্য-ঐশ্বর্য, উচ্চ-নীচ যাই হোক; এবং শিশুটিকে মুনিদের হাতে সমর্পণ করে। করুণায় মুনিরা স্বামীকে পুনর্জীবিত করে শুভলক্ষণযুক্ত যোগ্য রূপ দান করেন। দিব্যবিমান এসে দম্পতি পুত্রসহ স্বর্গে গমন করে। বর পেয়ে মণিকর্ণিকা প্রার্থনা করে—সেখানে মহালিঙ্গ তার নামে প্রসিদ্ধ হোক; মুনিরা তীর্থের খ্যাতি ‘মণিকর্ণিকা’ নামে স্থির করেন। শেষে ফলশ্রুতি—সূর্যগ্রহণকালে স্নান-দান করলে কুরুক্ষেত্রসম ফল; একাগ্র স্নানে ইষ্টসিদ্ধি; অতএব যত্নে স্নান, সামর্থ্য অনুযায়ী দান এবং দেব-ঋষি-পিতৃ তर्पণ করা উচিত।

पंगुतीर्थमाहात्म्यवर्णनम् (Pangu-tīrtha Māhātmya: The Glory of Pangu Tirtha)
এই অধ্যায়ে পুলস্ত্য মুনি পঙ্গু-তীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন; একে সর্বপাপ-নাশক ও পরম পবিত্র তীর্থ বলা হয়েছে। চ্যবন-বংশে জন্ম নেওয়া পঙ্গু নামে এক ব্রাহ্মণ হাঁটতে অক্ষম ছিল; আত্মীয়েরা গৃহকার্যে বেরিয়ে তাকে একা ফেলে দিলে সে গভীর দুঃখে পড়ে। সে অরবুদাচলে গিয়ে এক সরোবরের কাছে কঠোর তপস্যা করে, শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে গন্ধ, পুষ্প, নৈবেদ্য প্রভৃতি দ্বারা নিয়ম-শৃঙ্খলা ও শ্রদ্ধায় পূজা করে। পরে বায়ুভক্ষণ, জপ ও হোমের মাধ্যমে দীর্ঘকাল সাধনা চালিয়ে যায়। তপস্যায় প্রসন্ন মহাদেব স্বয়ং কথা বলে বর দেন। পঙ্গু প্রার্থনা করে—এই তীর্থ তার নামে প্রসিদ্ধ হোক, এখানে শিবকৃপায় তার খোঁড়াভাব দূর হোক, এবং পার্বতীসহ শিবের নিত্য সান্নিধ্য থাকুক। ঈশ্বর বর প্রদান করে চৈত্র শুক্ল চতুর্দশীতে বিশেষভাবে উপস্থিতির আশ্বাস দেন। ফলশ্রুতি—স্নানমাত্রে পঙ্গু দিব্যরূপ লাভ করে; ঐ তিথিতে স্নানকারী তীর্থযাত্রীরা খোঁড়াভাব থেকে মুক্ত হয়ে শুভ, রূপান্তরিত দেহ প্রাপ্ত হয়।

यमतीर्थमाहात्म्यवर्णनम् / The Māhātmya of Yama-tīrtha
পুলস্ত্য রাজাকে যম-তীর্থে গমন করতে বলেন। এই তীর্থ অতুল—নরকগত প্রাণীকেও মুক্তি দেয় এবং পাপ বিনাশ করে। দৃষ্টান্তে চিত্রাঙ্গদ রাজার কাহিনি আসে। তিনি প্রবল লোভী, হিংস্র, দেব ও ব্রাহ্মণ-নিপীড়ক, চৌর্য ও পরস্ত্রীগমনে অভ্যস্ত, সত্য-শৌচহীন, কপট ও ঈর্ষায় চালিত ছিলেন। অর্বুদ পর্বতে শিকার করতে গিয়ে তৃষ্ণায় ক্লান্ত হয়ে তিনি এক জলাশয়ে নামেন; সেখানে গ্রাহ (কুমির) তাঁকে ধরে ফেলে এবং তাঁর মৃত্যু হয়। যমদূত তাঁকে ঘোর নরকে নিক্ষেপ করে, কিন্তু যম-তীর্থে মৃত্যুসংযোগের ফলে সেই নরকগুলির জীবেরাও অপ্রত্যাশিত প্রশান্তি অনুভব করে। বিস্মিত দূতেরা ধর্মরাজকে সংবাদ দেয়। যম বলেন—পৃথিবীতে অর্বুদাচলের কাছে তাঁর প্রিয় তীর্থ আছে, যেখানে তিনি তপস্যা করেছিলেন; সেই সর্বপাপহারী তীর্থে যে মরে, তাকে দ্রুত মুক্ত করতে হবে। যমের আদেশে রাজা মুক্ত হয়ে অপ্সরাদের সহচর্যে স্বর্গ লাভ করে। ফলশ্রুতি—ভক্তিভরে সেখানে স্নান করলে জরা-মৃত্যুহীন পরম পদ লাভ হয়। বিশেষত চৈত্র শুক্ল ত্রয়োদশীতে যত্নসহ স্নান ও সেখানে বিধিপূর্বক শ্রাদ্ধ করলে পিতৃগণ দীর্ঘকাল স্বর্গে বাস করেন।

वाराहतीर्थमाहात्म्यवर्णनम् (The Glory of Varāha Tīrtha)
পুলস্ত্য ঋষি রাজাকে হরিপ্রিয়, পাপনাশক বারাহতীর্থের মাহাত্ম্য উপদেশ দেন। বারাহ অবতারের প্রসঙ্গে ভগবান বিষ্ণু পৃথিবীকে উদ্ধার করে সান্ত্বনা দেন; পরে ভূমিদেবী সেই তীর্থে বরাহরূপেই স্থিত থাকার বর চান। সকল জীবের মঙ্গলের জন্য ভগবান আর্বুদ পর্বতে সেই রূপে অবস্থান করতে সম্মতি দেন। দেবতার সম্মুখে পবিত্র সরোবরে মাঘ মাসের শুক্লপক্ষে একাদশীতে ভক্তিভরে স্নানকে বিশেষ পবিত্রকারী বলা হয়েছে—ব্রহ্মহত্যার মতো মহাপাপ থেকেও মুক্তিদায়ক বলে উল্লেখ আছে। সেখানে শ্রদ্ধায় শ্রাদ্ধ করলে পিতৃগণ দীর্ঘকাল তৃপ্ত হন। শেষে দানধর্ম, বিশেষত গোদান, সর্বাধিক প্রশংসিত—দীর্ঘ স্বর্গবাসের ফলদায়ক। স্নান, ব্রত, তर्पণ, পিণ্ডদান ও দান একত্রে পালন করলে পিতৃসহ বিষ্ণু-সালোক্য লাভ হয়—এই সিদ্ধান্তে অধ্যায়টি সমাপ্ত।

चन्द्रक्षय-शाप-निवारणं तथा प्रभासतীर्थमाहात्म्यम् | Candra’s Curse, Remediation, and the Māhātmya of Prabhāsa Tīrtha
পুলস্ত্য মুনি এই অধ্যায়ে চন্দ্রের ক্ষয়-বৃদ্ধির কারণ এবং প্রভাস-তীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। দক্ষের সাতাশ কন্যা—অশ্বিনী প্রভৃতি নক্ষত্ররূপা—চন্দ্রের সঙ্গে বিবাহিত হন; কিন্তু চন্দ্র রোহিণীর প্রতি পক্ষপাত করে অন্য স্ত্রীদের অবহেলা করেন। কন্যারা পিতার কাছে অভিযোগ জানালে দক্ষ চন্দ্রকে সকলের প্রতি সমদৃষ্টি রাখতে উপদেশ দেন। চন্দ্র প্রতিশ্রুতি দিয়েও পুনরায় অবহেলা করলে ক্রুদ্ধ দক্ষ যক্ষ্মার দ্বারা চন্দ্রের ক্ষয় হবে—এই শাপ দেন। ক্ষয়প্রাপ্ত চন্দ্র শিবভক্তিতে আশ্রয় নেন। তিনি অর্বুদে ক্রোধসংযমসহ তপস্যা করে, জপ-হোমে রত থেকে শিবকে প্রসন্ন করেন। শিব দর্শন দিয়ে বলেন—দক্ষের শাপ সম্পূর্ণ নিবারণ করা যায় না, তবে নিয়ন্ত্রিত করা যায়; চন্দ্রকে সকল স্ত্রীকে সমভাবে মান্য করতে হবে, ফলে কৃষ্ণপক্ষে ক্ষয় ও শুক্লপক্ষে বৃদ্ধি ঘটবে। পরে চন্দ্র তীর্থফল জানতে চাইলে শিব বলেন—প্রভাসে সোমবারে স্নান, বিশেষত সোমযোগে, উচ্চ গতি দেয়; এখানে শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান করলে গয়াশ্রাদ্ধের তুল্য পিতৃকল্যাণ হয়। এই স্থান ‘প্রভাস-তীর্থ’ নামে প্রসিদ্ধ হবে, এবং চন্দ্র পুনরায় দক্ষকন্যাদের প্রতি সমভাব স্থাপন করেন।

पिण्डोदकतीर्थमाहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Piṇḍodaka Tīrtha)
পুলস্ত্য ঋষি পিণ্ডোদক তীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। পিণ্ডোদক নামে এক ব্রাহ্মণ শিক্ষায় ধীর; গুরুর উপদেশ সত্ত্বেও অধ্যয়ন সম্পূর্ণ করতে পারে না। অপমানবোধ ও দুঃখে তার তীব্র বৈরাগ্য জন্মায়, সে পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নেয় এবং মনে করে তার মধ্যে বাক্শক্তি ও বিদ্যার উদয় নেই—তাই মৃত্যুকামনা করে। নির্জনে দেবী সরস্বতী আবির্ভূত হয়ে তার কষ্টের কারণ জিজ্ঞাসা করেন। পিণ্ডোদক গুরুর কাছে লাঞ্ছিত হওয়ার বেদনা ও নিজের অক্ষমতা নিবেদন করে। দেবী জানান তিনি সেই শুভ পর্বতে অধিষ্ঠান করেন; বর দিতে সম্মত হয়ে সময়-নির্দেশ দেন—ত্রয়োদশী তিথিতে নিশামুখে। পিণ্ডোদক সর্বজ্ঞতা এবং তীর্থটি তার নামেই প্রসিদ্ধ হোক—এই দুই বর প্রার্থনা করে। দেবী উভয় বর দান করেন এবং বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে স্নান করলে মন্দবুদ্ধিও সর্বজ্ঞতা লাভ করবে; তিনি সেখানে সদা বিরাজমান। এরপর দেবী অন্তর্ধান করেন; পিণ্ডোদক সর্বজ্ঞ হয়ে গৃহে ফিরে সকলকে বিস্মিত করে, ফলে তীর্থের প্রভাব সর্বত্র প্রচারিত হয়।

Śrīmātā-Āvirbhāva, Deva-Stuti, and the Pādukā-Pratiṣṭhā at Arbudācala (श्रीमाता-आविर्भावः, देवस्तुतिः, पादुकाप्रतिष्ठा)
পুলস্ত্য যযাতিকে শ্রীমাতার মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। শ্রীমাতা পরম শক্তি—সর্বব্যাপিনী, অরবুদাচলে স্বয়ং নিবাসিনী, এবং ইহলোক-পরলোক উভয় লক্ষ্যের দাত্রী। তখন দানবরাজ কলিঙ্গ (পরবর্তী অংশে বাষ্কলি নামেও উল্লিখিত) ত্রিলোক দখল করে দেবতাদের স্থানচ্যুত করে ও যজ্ঞভাগ কেড়ে নেয়। দেবগণ অরবুদে আশ্রয় নিয়ে কঠোর তপস্যা করেন—বিভিন্ন ব্রত, উপবাস, পঞ্চাগ্নি সাধনা, জপ-হোম ও ধ্যানের দ্বারা—এবং ধর্মস্থাপনের জন্য দেবীর আরাধনা করেন। দীর্ঘ সময় পরে দেবী ক্রমে নানা রূপে প্রকাশিত হয়ে শেষে কন্যারূপে দর্শন দেন। দেবতারা স্তব করে তাঁকে বিশ্বকার্যের অধিষ্ঠাত্রী, গুণস্বরূপা এবং লক্ষ্মী, পার্বতী, সাবিত্রী, গায়ত্রী প্রভৃতি মহাদেবীর সঙ্গে অভিন্ন বলে বন্দনা করেন। দেবী বর প্রদান করলেও বলেন—দেব ও অসুর উভয়ই তাঁর সৃষ্টি; তাই তিনি সংযত উপায় নেন: দূত পাঠিয়ে দানবকে স্বর্গ ত্যাগের আদেশ দেন। দানবের অহংকার বেড়ে দেবীর প্রতি অশোভন প্রস্তাব ওঠে; তখন দেবী নিজের সত্তা থেকে ভয়ংকর সেনা সৃষ্টি করে তার বাহিনী ধ্বংস করেন। পূর্ববরের ফলে দানবকে অমর/অচল বলা হয়; তাই দেবী তাকে সম্পূর্ণ বধ না করে নিজের পাদুকা স্থাপন করে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং রক্ষাকবচের মতো ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি অরবুদে বিশেষত চৈত্র শুক্ল চতুর্দশীতে উপস্থিত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন—যেখানে দর্শন ও পাদুকাপূজায় মহাপুণ্য, মোক্ষোপযোগী ফল এবং পুনর্বন্ধন থেকে মুক্তি লাভ হয়। শেষে ফলশ্রুতি—শ্রদ্ধায় এই কাহিনি পাঠ বা স্তব করলে মহাপাপ নাশ হয় এবং জ্ঞানময় ভক্তি বৃদ্ধি পায়।

शुक्लतीर्थमाहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Śukla Tīrtha)
পুলস্ত্য ঋষি রাজাকে শुक্লতীর্থের অতুল মহিমা বর্ণনা করেন। শমিলাক্ষ নামে এক রজক নীল রঙে ডোবানো কাপড় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ভয়ে কাঁপতে থাকে এবং পরিবারসহ পালিয়ে যাওয়ার কথা ভাবে। তার দুঃখিতা কন্যা এক দাশ-কন্যা (জেলে-সমাজের মেয়ে)-কে সব বলে। সে বাস্তবসম্মত উপায় জানায়—অর্বুদে একটি নির্ঝর আছে, যার জলে ফেলা বস্তু মুহূর্তে শ্বেত (শুক্ল) হয়ে যায়; জেলেরা ও তার ভাইয়েরা এই জলের প্রভাব জানে। রজক সেই নির্দেশ মেনে সেখানে কাপড় ধোয়; কাপড়গুলি তৎক্ষণাৎ উজ্জ্বল সাদা ও দীপ্তিময় হয়ে ওঠে, ভয়ের কারণ দূর হয়। সে রাজাকে ঘটনাটি জানায়। রাজাও অন্য রঙিন কাপড় জলে ফেলে একই রূপান্তর দেখে বিধিমতে স্নানাদি করেন। পরবর্তীতে রাজা রাজ্য ত্যাগ করে সেই তীর্থে তপস্যা করেন এবং তীর্থপ্রভাবে শ্রেষ্ঠ সিদ্ধি লাভ করেন। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—একাদশীতে সেখানে শ্রাদ্ধ করলে বংশোদ্ধার ও স্বর্গলাভ হয়, আর সেখানে স্নান করলে তৎক্ষণাৎ পাপক্ষয় হয়ে নিষ্পাপতা লাভ হয়।

कात्यायनीमाहात्म्यवर्णनम् (Kātyāyanī Māhātmya—Account of the Goddess’s Glory at Arbuda)
পুলস্ত্য রাজাকে প্রভাসখণ্ডে অরবুদ পর্বতের সেই পবিত্র তীর্থযাত্রার কথা বলেন, যা এক গুহায় নিয়ে যায়—সেখানে শুম্ভবিনাশিনী দেবী কাত্যায়নী সশরীরে বিরাজ করেন। শুম্ভ নামের মহাশক্তিধর দানব শঙ্করের বর পেয়ে স্ত্রী ব্যতীত কারও দ্বারা অবধ্য হয়ে দেবতাদের পরাজিত করে জগতের উপর আধিপত্য স্থাপন করে। তখন দেবতারা অরবুদে আশ্রয় নিয়ে তপস্যা করেন এবং দেবীর প্রত্যক্ষ রূপকে প্রসন্ন করে শুম্ভবধের মাধ্যমে ধর্ম-ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রার্থনা জানান। শুম্ভ জানতে পেরে যে দেবী নারী, অবজ্ঞাভরে তাঁকে ধরে আনতে দানবদের পাঠায়; দেবী কেবল দৃষ্টিপাতে তাদের ভস্ম করে দেন। ক্রুদ্ধ শুম্ভ তলোয়ার হাতে নিজে উপস্থিত হলেও সেও দগ্ধ হয়; অবশিষ্ট দানবরা পাতালে পালায়। দেবতারা দেবীর স্তব করে বর চাইলে দেবী বলেন—তিনি অরবুদেই নিত্য অবস্থান করবেন, ফলে স্থানটি সর্বদা দেবসুলভ থাকবে। তবে আশঙ্কা ওঠে—যজ্ঞ-দান ছাড়াই স্বর্গলাভ সহজ হয়ে যাবে কি না; তার সমাধান হিসেবে বলা হয়, শুক্লাষ্টমীতে দেবতারা সেখানে দেবীর দর্শন করবেন। ফলশ্রুতি—যে ব্যক্তি শুক্লাষ্টমীতে স্থিরচিত্তে দেবীর দর্শন করে, সে দুর্লভ হলেও ইষ্টসিদ্ধি লাভ করে।

पिंडारकतीर्थमाहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Piṇḍāraka Tīrtha)
পুলস্ত্য পিণ্ডারক তীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন—এ তীর্থ পাপহর বলে প্রসিদ্ধ। মঙ্কি নামে এক সরলচিত্ত ব্রাহ্মণ, যিনি প্রথমে ব্রাহ্মণ্যকর্মে অদক্ষ ছিলেন, এক মনোরম পর্বতে মহিষ পাহারা দিয়ে ধন উপার্জন করেন। বহু কষ্টে তিনি এক জোড়া ছোট বলদ কেনেন; কিন্তু হঠাৎ এক উট-সংক্রান্ত ঘটনায় বলদ দুটির গলায় জট লাগে এবং তারা নষ্ট হয়ে যায়। এই বিপর্যয়ে মঙ্কির মনে বৈরাগ্য জন্মায়; তিনি গ্রামজীবন ত্যাগ করে অরণ্যে যান এবং অর্বুদ পর্বতের এক নির্ঝর (ঝরনা)-তীরে পৌঁছান। সেখানে তিনি ত্রিকাল স্নান ও দীর্ঘকাল গায়ত্রী-জপের সাধনা করেন; ফলে শুদ্ধ হয়ে দিব্যদর্শন লাভ করেন। সেই সময় শঙ্কর (শিব) গৌরীসহ পর্বতে বিহার করতে করতে সেখানে আসেন এবং তপস্বী তাঁকে প্রত্যক্ষ করেন। মঙ্কি ভক্তিভরে প্রণাম করে বর চান—জাগতিক সম্পদ নয়, শিবের গণ হওয়ার অধিকার এবং তীর্থটি তাঁর নামেই ‘পিণ্ডারক’ নামে খ্যাত হোক। শিব বর দেন—মৃত্যুর পরে তিনি গণ হবেন, স্থানটি পিণ্ডারক নামে প্রসিদ্ধ হবে, এবং মহাষ্টমীতে শিবের বিশেষ সান্নিধ্য থাকবে। অষ্টমী তিথিতে স্নানকারীরা শিবনিত্য প্রতিষ্ঠিত পরম ধাম লাভ করে। অধ্যায়ে মন্ত্রসহ স্নানবিধি ও দানের মাহাত্ম্য বলা হয়েছে—বিশেষত অষ্টমীতে মহিষ-দান ইহলোক ও পরলোকে অভীষ্ট ফল প্রদান করে।

कनखलतीर्थमाहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Kanakhala Tīrtha)
পুলস্ত্য ঋষি রাজাকে পাপহর পর্বতে অবস্থিত কনখল তীর্থের মাহাত্ম্য শোনান। একদা সুমতি নামে এক রাজা সূর্যগ্রহণে আর্বুদে গিয়ে ব্রাহ্মণদের দানের জন্য পরিশুদ্ধ স্বর্ণ নিয়ে যান। অসাবধানতায় সেই স্বর্ণ জলে পড়ে যায়; বহু খোঁজেও না পেয়ে তিনি অনুতপ্ত হয়ে গৃহে ফেরেন এবং পরে আরেক গ্রহণে স্নানার্থে আবার সেই স্থানে আসেন। তখন এক অশরীরী বাণী বলেন—এই তীর্থে ইহলোকে বা পরলোকে “ক্ষতি” নেই; জলে পড়া স্বর্ণ কোটি-গুণ হয়ে ফিরে আসে। পূর্বের ভুলের অনুশোচনা ভবিষ্যতের শ্রাদ্ধ ও দানে ‘সংখ্যা/পরিমাপ’ রূপে ফল দেয়। বাণীর নির্দেশে তিনি অনুসন্ধান করে উজ্জ্বল ও প্রচুর, বহুগুণিত স্বর্ণ উদ্ধার করেন। তীর্থের শক্তি বুঝে তিনি ব্রাহ্মণদের মহাদান করেন এবং তা পিতৃদেবতার উদ্দেশে নিবেদন করেন। সেই দানের প্রভাবে তিনি ধনদ নামে এক যক্ষ হন—বিভিন্ন ঐশ্বর্য দানকারী। শেষে বিধান—এই তীর্থে সূর্যগ্রহণে করা শ্রাদ্ধ আकल्पকাল পিতৃদের তৃপ্ত করে; স্নান ঋষি, দেব ও মহান নাগদের প্রসন্ন করে এবং তৎক্ষণাৎ পাপ নাশ করে। তাই সাধ্য অনুযায়ী স্নান, দান ও শ্রাদ্ধ করা উচিত।

चक्रतीर्थप्रभाववर्णनम् | Description of the Efficacy of Cakra Tīrtha
পুলস্ত্য রাজশ্রোতাকে বলেন—প্রসিদ্ধ চক্রতীর্থে গমন করো। তীর্থের পবিত্রতার কারণ একটি প্রাচীন কাহিনিতে স্থাপিত—পূর্বে প্রভাবিষ্ণু দানবদের যুদ্ধে বধ করে সেখানেই নিজের চক্র নিক্ষেপ/মুক্ত করেছিলেন। তারপর তিনি স্বচ্ছ ঝরনা-নির্ঝরে স্নান করে জলকে শুদ্ধ করেন; ভগবানের সেই স্পর্শ থেকেই তীর্থের বিশেষ মেধ্যতা উৎপন্ন হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করা হয়। এরপর বিধান—হরির শয়ন ও বোধন উপলক্ষে যে ব্যক্তি এখানে শ্রাদ্ধ করে, তার পিতৃগণ এক সম্পূর্ণ কল্পকাল পর্যন্ত তৃপ্ত থাকেন। শেষে কলফনে একে প্রভাসখণ্ডস্থিত অর্বুদখণ্ডের ২৭তম অধ্যায় বলা হয়েছে।

मानुष्यतीर्थप्रभाववर्णनम् | The Glory and Efficacy of Mānuṣya-Tīrtha
পুলস্ত্য ঋষি রাজশ্রোতাকে “মানুষ্য-হ্রদ/মানুষ্য-তীর্থ” নামে অতি পুণ্যদায়ক জলতীর্থের মাহাত্ম্য বলেন। সেখানে স্নান করলে মানবত্ব স্থির থাকে; গুরুতর পাপভারযুক্ত ব্যক্তিও পশুযোনিতে পতিত হয় না—এটাই অধ্যায়ের মূল তত্ত্ব। কাহিনিতে দেখা যায়, শিকারিদের তাড়ায় হরিণের একটি পাল সেই জলে প্রবেশ করামাত্রই মানুষে রূপান্তরিত হয় এবং পূর্বজন্মের স্মৃতিও বজায় থাকে। অস্ত্রধারী শিকারিরা এসে হরিণের পথ জিজ্ঞাসা করলে নবমানুষেরা জানায়—এ পরিবর্তন কেবল তীর্থের প্রভাবে ঘটেছে। তখন শিকারিরা অস্ত্র ত্যাগ করে স্নান করে এবং ধর্মার্থ “সিদ্ধি” লাভ করে। তীর্থের পাপহরণ শক্তি দেখে শক্র (ইন্দ্র) ধুলো ভরে তা নিষ্ক্রিয় করতে চান, তবু পরম্পরা মতে তার প্রভাব অক্ষুণ্ণ থাকে। বুধাষ্টমীতে সেখানে স্নানকারী পশুভাব পায় না এবং শ্রাদ্ধ-দানের দ্বারা পিতৃমেধের পূর্ণ ফল লাভ করে।

Kapilā-tīrtha Māhātmya (कपिलातीर्थमाहात्म्यम्) — The Ethics of Satya and Pilgrimage Merit
পুলস্ত্য মুনি কপিলা-তীর্থে যাওয়ার প্রশস্ত ক্রম ও তার মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন; বলা হয়, সেখানে স্নান করলে সঞ্চিত দোষ ক্ষয় হয়। সুপ্রভা নামে এক রাজা শিকারাসক্ত হয়ে দুধপানরত শাবককে লালনকারী এক হরিণীকে হত্যা করে। মৃত্যুকালে হরিণী তাকে ক্ষাত্রধর্মবিরুদ্ধ কর্ম বলে ধিক্কার দিয়ে শাপ দেয়—সে পাহাড়ের ঢালে ভয়ংকর বাঘ হবে, আর কপিলা নামের দুধেল গাভীর সাক্ষাতে মুক্তি পাবে। শাপে রাজা বাঘে রূপান্তরিত হয় এবং পরে পাল থেকে বিচ্ছিন্ন কপিলার মুখোমুখি হয়। কপিলা বাছুরের কাছে ফিরে যাওয়ার অনুমতি চায় এবং ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দেয়। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে মহাপাপের ফল ভোগের কথা বলে বহু আত্মশপথে সে নিজের সত্যকে দৃঢ় করে। বাঘ তার সত্যে বিগলিত হয়ে তাকে যেতে দেয়। কপিলা বাছুরকে দুধ খাইয়ে সতর্কতা ও লোভত্যাগের উপদেশ দেয়, গোষ্ঠীকে বিদায় জানিয়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফিরে আসে। তখন ঘোষণা হয়—সত্য হাজার অশ্বমেধের চেয়েও শ্রেষ্ঠ; বাঘ তাকে মুক্ত করে এবং সেই মুহূর্তে রাজা মানবদেহ ফিরে পায়। কপিলার জলপ্রার্থনায় রাজা তীর দিয়ে ভূমি বিদীর্ণ করলে শুদ্ধ, শীতল প্রস্রবণ উদ্ভূত হয়। ধর্ম স্বয়ং প্রকাশ হয়ে বর দেন এবং তীর্থের নাম ও ফল বলেন—বিশেষত চতুর্দশীতে স্নান, শ্রাদ্ধ ও দানে বহুগুণিত অক্ষয় পুণ্য লাভ হয়; ক্ষুদ্র প্রাণীরাও সেই জলের স্পর্শে কল্যাণ পায়। শেষে দিব্যবিমান এসে কপিলা, তার গোষ্ঠী ও রাজাকে দিব্যগতি প্রদান করে। উপসংহারে সামর্থ্য অনুযায়ী সেখানে স্নান-শ্রাদ্ধ-দান করার প্রেরণা দেওয়া হয়।

अग्नितीर्थमाहात्म्य (Agni-tīrtha Māhātmya: The Glory of Agni Tirtha)
পুলস্ত্য যযাতিকে অগ্নি-তীর্থ দর্শনের উপদেশ দেন—এটি পরম পবিত্র স্থান, যেখানে একসময় অগ্নি ‘লুপ্ত’ হয়েছিলেন এবং পরে দেবতারা তাঁকে পুনরুদ্ধার করেন। বারো বছরের দীর্ঘ অনাবৃষ্টিতে দুর্ভিক্ষ ও সামাজিক বিপর্যয় ঘটে। ক্ষুধায় দুর্বল বিশ্বামিত্র এক চণ্ডাল পল্লীতে গিয়ে মৃত কুকুর পেয়ে তা রান্না করে অগ্নিতে আহুতি দেন; একে ‘অভক্ষ্য-ভক্ষণ’ নামে কলুষিত কর্ম বলা হয়েছে। অশুদ্ধ আহুতিতে বাধ্য হতে অনিচ্ছুক অগ্নি, অনাবৃষ্টির কারণ ইন্দ্রের শাসনদোষ বলে মনে করে মর্ত্যলোক ত্যাগ করেন। ফলে অগ্নিষ্টোম প্রভৃতি যজ্ঞকর্ম স্তব্ধ হয় এবং লোকস্থিতি নড়বড়ে হয়ে পড়ে। দেবতারা অগ্নির সন্ধান করেন; এক শুক (টিয়া) তাঁর গমনপথের ইঙ্গিত দেয়। অগ্নি প্রথমে শমী/অশ্বত্থ বৃক্ষে, পরে অরবুদ পর্বতের জলাশয়ে গোপনে থাকেন। এক দর্দুর (ব্যাঙ) নির্ঝরে তাঁর অবস্থান প্রকাশ করলে অগ্নি তাকে ‘বিজিহ্বত্ব’ (জিহ্বাদোষ) শাপ দেন। দেবতারা অগ্নির স্তব করেন—তিনি দেবমুখ, যজ্ঞের প্রাণ ও জগতের আধার। অগ্নি জানান, অপবিত্র আহুতিতে তাঁকে বাধ্য করা হয়েছে বলেই তাঁর ক্ষোভ। ইন্দ্র দেবাপি-প্রতীপ-শান্তনু-সংক্রান্ত রাজনীতি ও ধর্মকারণের কথা বলে বৃষ্টি রোধের ব্যাখ্যা দেন এবং মেঘকে বর্ষার আদেশ করেন। বৃষ্টি ফিরে এলে অগ্নি প্রসন্ন হয়ে সেখানে অবস্থান স্বীকার করেন এবং সেই জলাশয় ‘অগ্নি-তীর্থ’ নামে প্রসিদ্ধ হোক বলে চান। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—বিধিপূর্বক স্নানে অগ্নিলোক লাভ, তিলদান করলে অগ্নিষ্টোমের ফল, আর এই মাহাত্ম্য পাঠ বা শ্রবণে দিন-রাতের সঞ্চিত পাপ নাশ হয়।

रक्तानुबन्धतीर्थ-माहात्म्य (Māhātmya of the Raktānubandha Tīrtha)
পুলস্ত্য ঋষি প্রসিদ্ধ রক্তানুবন্ধ তীর্থকে কেন্দ্র করে এক প্রায়শ্চিত্ত-কথা বলেন। যুদ্ধফেরত রাজা ইন্দ্রসেন স্ত্রী সুনন্দার পতিব্রতা-দৃঢ়তা পরীক্ষা করতে প্রতারণায় দূত পাঠিয়ে নিজের মৃত্যুসংবাদ মিথ্যা ভাবে জানায়। পতিপ্রাণা সুনন্দা সেই সংবাদ শুনেই প্রাণত্যাগ করেন। তখন রাজার উপর স্ত্রীবধের কর্মদোষ নেমে আসে—দ্বিতীয় ছায়া, দেহে ভার, তেজহানি ও দুর্গন্ধ ইত্যাদি অশুচি-লক্ষণ প্রকাশ পায়। শুদ্ধির জন্য তিনি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করে কাশী, কপালমোচন প্রভৃতি বহু তীর্থে দীর্ঘ তীর্থযাত্রা করেন, তবু দোষ কাটে না। বহুদিন পরে আরবুদ (আবু) পর্বতে এসে রক্তানুবন্ধে স্নান করতেই দ্বিতীয় ছায়া মিলিয়ে যায় এবং শুভ লক্ষণ ফিরে আসে। কিন্তু তীর্থসীমা অতিক্রম করলেই দোষ আবার দেখা দেয়; তৎক্ষণাৎ ফিরে এসে স্নান করলে পুনরায় শুদ্ধ হন—এতে তীর্থের সীমাবদ্ধ মহিমা প্রতিপন্ন হয়। তীর্থের শ্রেষ্ঠত্ব বুঝে রাজা দান করেন, চিতা নির্মাণ করে বৈরাগ্যে অগ্নিপ্রবেশ করেন এবং শিবলোকে গমন করেন। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—সেখানে শ্রাদ্ধ ও অর্ঘ্য অতি ফলপ্রদ; সূর্যসংক্রান্তিতে স্নান ব্রহ্মহত্যা পর্যন্ত নাশ করে; আর গ্রহণকালে বিশেষত গোদানাদি দানে সাত পুরুষের উদ্ধার হয়।

Mahāvināyaka-prādurbhāvaḥ and Mahāvināyakī-śānti (महाविनायकप्रादुर्भावः / महाविनायकीशान्तिः)
এই অধ্যায়ে পুলস্ত্য ঋষি রাজা যযাতিকে মহাবিনায়কের দর্শনবিধি বলেন। বলা হয়েছে, মহাবিনায়কের দর্শনমাত্রেই তৎক্ষণাৎ ‘নির্বিঘ্নতা’ লাভ হয়। যযাতির প্রশ্নে পুলস্ত্য উৎপত্তিকথা বর্ণনা করেন—পার্বতী দেহলেপ থেকে এক শিশুরূপ গড়েন, কিন্তু উপকরণের অভাবে তা প্রথমে শিরোহীন ছিল। তখন স্কন্দকে মাথা আনতে বলা হয়; ঘটনাক্রমে এক মহাশক্তিশালী গজমস্তক পাওয়া যায় এবং সেটিই স্থাপিত হয়। গৌরী নিজের শক্তিতে প্রাণসঞ্চার করে শিশুটিকে শিবের কাছে অর্পণ করেন। শিব গজমুখকেই তার ‘মহত্ত্ব’-এর ভিত্তি ঘোষণা করে ‘মহাবিনায়ক’ নাম দেন, গণদের অধিপতি করেন এবং সব কর্মারম্ভে প্রথম স্মরণীয় করেন, যাতে কোনো কাজ নষ্ট না হয় ও বাধা না আসে। এরপর তার চিহ্ন-উপকরণ বলা হয়—স্কন্দ ক্রীড়াস্ত্ররূপে প্রিয় কুঠার দেন, গৌরী মোদকের পাত্র দেন, আর এক ইঁদুর আবির্ভূত হয়ে তার বাহন হয়। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—মাঘ শুক্ল চতুর্থীতে উপবাসসহ দর্শনে জ্ঞানলাভ হয়; নিকটস্থ নির্মল জলের কুণ্ডে স্নান ও পূজায় বংশের মঙ্গল হয়; ‘গণানাং ত্বে’ মন্ত্রে তিনবার প্রদক্ষিণা করলে অনিষ্ট দূর হয়। শেষে যযাতি মহাবিনায়কি-শান্তির বিধান জানতে চান। পুলস্ত্য বলেন—দোষবর্জিত দিন ও শক্তিশালী চন্দ্রাবস্থায় বেদি-মণ্ডপ নির্মাণ করে অষ্টদল পদ্মমণ্ডল আঁকতে হবে, লোকপাল ও মাতৃকাদের আহ্বান, জলপূর্ণ কলস স্থাপন ও নৈবেদ্য-উপহার, গ্রহহোমসহ হোম, ‘গণানাং ত্বে’ মন্ত্রের বৃহৎ জপ, এবং শ্রীসূক্ত প্রভৃতি বৈদিক পাঠসহ যজমানের স্নাপন করে সমাপন। এতে বাধা, উপদ্রব ও অশুভ লক্ষণ প্রশমিত হয়; চতুর্থীতে পাঠ-শ্রবণে নিত্য নির্বিঘ্নতা এবং একাগ্র উপাসনায় গণনাথের কৃপায় ইষ্টসিদ্ধি লাভ হয়।

पार्थेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (The Māhātmya of Pārtheśvara)
পুলস্ত্য পার্থেশ্বর-তীর্থযাত্রার কথা বলেন—এটি পাপবিনাশী স্থান; এর দর্শনমাত্রেই নানা অপরাধ থেকে মুক্তি লাভ হয় (শ্লো. ১)। সেখানে দেবলপ্রিয়া পতিব্রতা নারী পার্থার পরিচয় দেওয়া হয়, যিনি সেই স্থানে তপস্যা করেন (শ্লো. ২)। পূর্বজন্মে তিনি নিঃসন্তান এক ঋষির পত্নী ছিলেন; গভীর বৈরাগ্য লাভ করে অর্বুদ পর্বতে গিয়ে দীর্ঘকাল বায়ুভক্ষণ, উপবাস ও মানসিক সমতা রক্ষা করে কঠোর তপস্যা করেন (শ্লো. ৩–৪)। সহস্র বছর পূর্ণ হলে ভূমি বিদীর্ণ হয়ে হঠাৎ এক শিবলিঙ্গ প্রকাশিত হয়; আকাশবাণী জানায়—তোমার ভক্তিতেই এই পরম পবিত্র লিঙ্গ উদ্ভূত হয়েছে, একে পূজা করো (শ্লো. ৫–৬)। বাণী আরও বলে, নির্দিষ্ট সংকল্পে পূজা করলে অভীষ্ট সিদ্ধি হয় এবং এই লিঙ্গ ‘পার্থেশ্বর’ নামে প্রসিদ্ধ হবে (শ্লো. ৭–৮)। পার্থা বিস্ময়ে পূজা করেন এবং বংশধর শত পুত্রলাভের প্রসঙ্গ যুক্ত হয়; তীর্থের খ্যাতি ছড়ায়, এক নির্মল গুহাজলস্রোতের উল্লেখও আছে (শ্লো. ৯–১০)। সেখানে স্নান ও ভক্তিসহ লিঙ্গদর্শনে সন্তান-সম্পর্কিত সংসারদুঃখ দূর হয়; শুক্লপক্ষ চতুর্দশীতে উপবাসসহ রাত্রিজাগরণ করলে পুত্রলাভ বলা হয়েছে (শ্লো. ১১–১২)। তদুপরি সেখানে পিণ্ডনির্বাপন করলে পিতৃগণ অনুগ্রহে পুত্রত্বসদৃশ বিশেষ ফল লাভ করেন (শ্লো. ১৩)।

कृष्णतीर्थ-प्रादुर्भावः (Origin and Significance of Kṛṣṇa-tīrtha)
পুলস্ত্য ঋষি যযাতিকে কৃষ্ণতীর্থ দর্শনে যেতে উপদেশ দেন—এ তীর্থ চিরকাল শ্রীকৃষ্ণ/বিষ্ণুর অতি প্রিয় এবং সেখানে অবিরত দিব্য সান্নিধ্য বিরাজ করে। যযাতি এর উৎপত্তিকথা জানতে চাইলে পুলস্ত্য প্রলয়কালের বর্ণনা করেন: দীর্ঘ সময় পরে ব্রহ্মা জাগ্রত হয়ে গোবিন্দের সাক্ষাৎ পান। শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে দীর্ঘ যুদ্ধ শুরু হয়; তখন এক দীপ্তিমান, সীমাহীন লিঙ্গ আবির্ভূত হয় এবং অশরীরী বাণী নির্দেশ দেয়—একজন ঊর্ধ্বে, একজন অধঃপাতে গিয়ে তার প্রান্ত খুঁজুক; যে প্রান্ত পাবে সেই পরম। বিষ্ণু নিচে নামেন, কালাগ্নিরুদ্র-রূপ দর্শন করেন এবং তার তেজে দগ্ধ হয়ে ‘কৃষ্ণত্ব’ (শ্যামতা) লাভ করেন; পরে ফিরে এসে বৈদিক স্তবে লিঙ্গের পূজা করেন। ব্রহ্মা উপরে গিয়ে প্রান্ত না পেয়ে কেতকী ফুলকে মিথ্যা সাক্ষী করে ফেরেন; মহাদেব ব্রহ্মার পূজ্যত্বে শাপ দেন এবং কেতকীর পূজায় ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন, আর বিষ্ণুর সত্যনিষ্ঠা প্রশংসা করেন। সৃষ্টিকার্যের জন্য বিষ্ণু লিঙ্গকে ক্ষুদ্র করার প্রার্থনা করলে মহাদেব শুদ্ধ স্থানে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। বিষ্ণু অর্বুদ পর্বতে নির্মল প্রস্রবণের কাছে লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন; সেই স্থানই কৃষ্ণতীর্থ নামে প্রসিদ্ধ হয়। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—সেখানে স্নান ও লিঙ্গদর্শনে সর্বতীর্থফল, দানফল, একাদশী জাগরণ ও শ্রাদ্ধফল লাভ হয়; মহাপাপ নাশ হয় এবং কেবল কৃষ্ণতীর্থ দর্শনেও শুদ্ধি ঘটে।

Māmūhradā Tīrtha-Māhātmya and Mudgaleśvara: Dialogue on Svarga’s Limits and the Choice of Mokṣa
পুলস্ত্য ঋষি রাজা যযাতিকে পর্বতাঞ্চলে অবস্থিত পাপনাশক তীর্থ ‘মামূহ্রদা’-তে যেতে বলেন। তিনি জানান, সেখানে ভক্তিভরে স্নান করলে ঘোর পাপও নাশ হয় এবং মুনি মুদ্গল প্রতিষ্ঠিত ‘মুদ্গলেশ্বর’ লিঙ্গ দর্শনে দুর্লভ আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ লাভ হয়—বিশেষত ফাল্গুন মাসে নির্দিষ্ট তিথি-ক্ষণে। সেখানে দিক-নিয়ম মেনে শ্রাদ্ধ করলে পিতৃগণ প্রলয় পর্যন্ত তৃপ্ত থাকেন; নিবারা ধান্য ও শাক-মূলাদি দিয়ে সহজ অর্ঘ্য-দানও প্রশংসিত। যযাতি তীর্থের নামকরণ ও মুদ্গলের আশ্রম-কথা জানতে চান। পুলস্ত্য বলেন—এক দেবদূত মুদ্গলকে স্বর্গে নিতে এলে মুদ্গল স্বর্গের গুণ-দোষ জিজ্ঞাসা করেন এবং শোনেন যে স্বর্গ ভোগলোক; সেখানে নতুন পুণ্য সঞ্চয় হয় না, আর পুণ্য ক্ষয় হলে পতনের ভয় থাকে। তাই মুদ্গল স্বর্গ প্রত্যাখ্যান করে কঠোর তপস্যা ও শিবভক্তি গ্রহণ করেন। ইন্দ্র প্রথমে দূত দিয়ে চাপ দেন, পরে নিজে আসেন; কিন্তু মুদ্গলের তপোবলে তারা স্থবির হয়ে পড়ে এবং ইন্দ্রকে বর দিতে হয়। মুদ্গল মোক্ষ এবং তীর্থের ‘মামূহ্রদা’ নামে খ্যাতি প্রার্থনা করেন। ইন্দ্র বর দেন—এই তীর্থ শ্রেষ্ঠ হবে, ফাল্গুন পূর্ণিমায় স্নান পরম গতি দেবে, পিণ্ডদান গয়ার সমতুল্য ফল দেবে এবং দানের ফল অপরিমেয় হবে। শেষে মুদ্গল শুদ্ধ ধ্যানে অক্ষয় মুক্তি লাভ করেন; নারদের গাথা উপসংহারে বলে—মামূহ্রদায় স্নান ও মুদ্গলেশ্বর দর্শনে ইহলোকের সিদ্ধি ও পরম মুক্তি উভয়ই মেলে।

Chandikā-Āśrama-Prādurbhāva and Mahīṣāsura-Vadha (चण्डिकाश्रमप्रादुर्भावः महिषासुरवधश्च)
অধ্যায়ের শুরুতে যযাতি জিজ্ঞাসা করেন—অর্বুদ পর্বতে চণ্ডিকার আশ্রম কীভাবে প্রকাশ পেল, কখন ঘটল, এবং তার দর্শনে মানুষের কী কল্যাণ হয়। পুলস্ত্য ‘পাপ-প্রণাশিনী’ কাহিনি বলেন: পূর্ব এক দেবযুগে ব্রহ্মার বরপ্রাপ্ত দৈত্য মহীষ (শুধু ‘নারী’ শ্রেণির দ্বারা বধ্য) দেবতাদের পরাভূত করে, যজ্ঞভাগের বণ্টন নষ্ট করে এবং বিশ্বকার্য পরিচালনাকারীদের যজ্ঞ-প্রতিদান ছাড়াই দাস্য করায়। দেবগণ বৃহস্পতির শরণ নেন; তিনি তাদের অর্বুদে নিয়ে গিয়ে পরাশক্তি চণ্ডিকার মন্ত্র, ন্যাস, পূজা-অর্ঘ্য ও কঠোর তপস্যায় আরাধনা করতে বলেন। বহু মাসের তপস্যায় সঞ্চিত তেজ মণ্ডলে একত্রিত হলে তেজোময়ী কন্যা প্রকাশিত হন—চণ্ডিকা। দেবতারা তাঁকে দিব্য অস্ত্র দেন এবং মহামায়া, বিশ্বব্যাপিনী, রক্ষিকা, উগ্রা ইত্যাদি নামে স্তব করেন; চণ্ডিকা যথাসময়ে মহীষবধের প্রতিজ্ঞা করেন। পরে নারদ চণ্ডিকাকে দেখে তাঁর অতুল সৌন্দর্য মহীষকে বর্ণনা করলে মহীষ কামাসক্ত হয়ে দূত পাঠায়। চণ্ডিকা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানান—এটাই তার বিনাশের পূর্বভূমি। যুদ্ধ শুরু হয়; মহীষের সেনা ও অশুভ লক্ষণ বর্ণিত হয়। চণ্ডিকা নানা অস্ত্র নিষ্ফল করেন, ব্রহ্মাস্ত্রও নিজ অস্ত্রে প্রতিহত করেন, মহীষের রূপান্তর জয় করে শেষে মহিষরূপের শিরচ্ছেদ করেন এবং উদ্গত বীররূপকেও নিধন করেন। দেবতারা আনন্দে ইন্দ্রের রাজ্য পুনঃস্থাপন করেন। চণ্ডিকা অর্বুদে স্থায়ী, প্রসিদ্ধ আশ্রম প্রার্থনা করেন; সেখানে তাঁর দর্শনে সাধক উচ্চতর আধ্যাত্মিক অবস্থা ও ব্রহ্মজ্ঞানাভিমুখতা লাভ করে। এরপর বিস্তৃত ফলশ্রুতি: সেখানে স্নান, পিণ্ডদান, শ্রাদ্ধ, ব্রাহ্মণদান, এক/তিন রাত্রি উপবাস, চাতুর্মাস্যবাস—বিশেষত আশ্বিন মাসের কৃষ্ণ চতুর্দশীতে—গয়া-শ্রাদ্ধসম ফল, ভয়নাশ, আরোগ্য, ধন, সন্তান, রাজ্যপ্রাপ্তি ও মোক্ষ প্রদান করে। শেষে বলা হয়, মানুষ দেবীর দিকে বেশি ঝুঁকলে অন্য ক্রিয়া কমে যায়; তাই ইন্দ্র কাম-ক্রোধাদি বিভ্রান্তিকারী শক্তিকে নিয়ন্ত্রণার্থে প্রেরণ করেন। অর্বুদ-দর্শন স্বয়ং পবিত্রকারী, এবং এই পাঠ গৃহে রাখলে বা শ্রদ্ধায় পাঠ করলে মহাপুণ্য হয়।

नागह्रदतीर्थमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of Nāgahṛda Tīrtha
এই অধ্যায়ে পুলস্ত্য ঋষি উপদেশরূপে বলেন—পাপহর তীর্থ ‘নাগহৃদ’-এ গমন করা উচিত। তারপর তার উৎপত্তিকথা বর্ণিত হয়—কদ্রুর শাপে দুঃখিত এবং রাজা পরীক্ষিতের সর্পযজ্ঞের অগ্নিতে বিনাশের আশঙ্কায় ভীত নাগগণ পরামর্শের জন্য শेषনাগের শরণ নেন। শেষ তাঁদের অর্বুদ পর্বতে সংযমী তপস্যা করতে এবং কামরূপিণী দেবী চণ্ডিকার নিরন্তর পূজা করতে বলেন; দেবীর স্মরণ বিপদ নাশ করে—এ কথাও তিনি জানান। নাগেরা গুহাপথে পর্বতে প্রবেশ করে হোম, জপ, উপবাস ও কঠোর ব্রতাচরণে তপস্যা করেন। দেবী প্রসন্ন হয়ে বর দেন—যজ্ঞ সমাপ্তি পর্যন্ত তাঁরা দেবীর নিকটে নির্ভয়ে থাকবেন, পরে নিজ আবাসে ফিরতে পারবেন। দেবী আরও ঘোষণা করেন, নাগদের দ্বারা গুহা বিদীর্ণ হওয়ায় এই স্থান পৃথিবীতে ‘নাগহৃদ তীর্থ’ নামে খ্যাত হবে। পরবর্তী বিধান—শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণপক্ষ পঞ্চমীতে ভক্তিভরে স্নান করলে সর্পভয় দূর হয়; সেখানে করা শ্রাদ্ধ পিতৃগণের উপকার করে। শেষে শ্রাবণ কৃষ্ণ-পঞ্চমীতে দেবীর নিত্যসান্নিধ্য পুনরায় নিশ্চিত করে, স্নান ও শ্রাদ্ধকে ব্যক্তিগত মঙ্গলসাধক বলা হয়েছে।

Śiva-kuṇḍa and Śiva-Gaṅgā: The Concealed Presence of Jāhnavī at Arbuda (शिवकुण्ड-शिवगङ्गामाहात्म्यम्)
এই অধ্যায়ে পুলস্ত্য ও রাজা যযাতির প্রশ্নোত্তররূপ ধর্মকথা বর্ণিত। অর্বুদ পর্বতে শিবলিঙ্গ-সম্পর্কিত এক কুণ্ডের মাহাত্ম্য বলা হয়েছে, যেখানে জাহ্নবী (গঙ্গা) ‘গুপ্তা’ অবস্থায় বিরাজ করেন। সেখানে স্নান করলে সর্ব তীর্থের ফল লাভ হয় এবং জন্মভর সঞ্চিত পাপসমূহ নাশ হয়। দেবতারা শিবকে প্রসন্ন করে অর্বুদে প্রতিষ্ঠা করলে শিব পার্বতীর কাছে গোপন রেখে গঙ্গার নিত্য সান্নিধ্য কামনা করেন। নন্দী ও ভৃঙ্গীর নেতৃত্বে গণেরা নির্মল জলের উৎকৃষ্ট কুণ্ড নির্মাণ করে; শিব ব্রত-ব্যাজে তাতে প্রবেশ করে মনে গঙ্গাকে আহ্বান করলে গঙ্গা তৎক্ষণাৎ উপস্থিত হন। নারদ শিবের অস্বাভাবিক ভাব দেখে ধ্যানদৃষ্টিতে রহস্য জেনে প্রকাশ করলে ক্রুদ্ধ পার্বতী সেখানে আসেন। পূর্বে সতর্ক গঙ্গা বিনীত বাক্যে পার্বতীকে শান্ত করেন, ভাগীরথ-প্রসঙ্গে পূর্ব সম্পর্ক (অবতরণের সময় ধারণ) স্মরণ করান, এবং চৈত্র শুক্ল ত্রয়োদশীতে শিবের সঙ্গে ক্রীড়ার জন্য একদিন প্রার্থনা করে স্থানটির নাম ‘শিব-কুণ্ড/শিব-গঙ্গা’ স্থাপন করেন। শেষে চৈত্র শুক্ল চতুর্দশীতে একাগ্রচিত্তে স্নান, অমঙ্গলনাশ, ও ব্রাহ্মণকে বৃষ-দান করার বিধান—স্বর্গফলপ্রদ বলে ঘোষিত।

Acalēśvara-liṅga-patana, Deva-stuti, and Saktū-dāna Māhātmya (अचलेश्वरलिङ्गपतन-देवस्तुति-सक्तुदानमाहात्म्य)
এই অধ্যায়ে রাজা যযাতি পুলস্ত্যকে জিজ্ঞাসা করেন—মহাদেব প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গ কীভাবে স্থানচ্যুত হল এবং সেই স্থানের দর্শনে কী পুণ্য লাভ হয়। পুলস্ত্য কারণকথা বলেন—সতীর দেহত্যাগ ও দক্ষের অপমানের পর বিভ্রান্ত শিব বালখিল্য ঋষিদের আশ্রমে উপস্থিত হন। তাঁর রূপে মোহিত হয়ে ঋষিপত্নীরা কাছে এলে ঋষিরা শিবকে চিনতে না পেরে শাপ দেন—তাঁর লিঙ্গ ‘পতিত’ হোক। তখন ভূকম্প, সমুদ্রক্ষোভ প্রভৃতি অশান্ত লক্ষণে জগৎ টলমল হয়ে ওঠে। দেবতারা ব্রহ্মার শরণ নেন; ব্রহ্মা কারণ নির্ণয় করে তাঁদের অর্বুদে নিয়ে যান। দেবগণ বৈদিক ভঙ্গিতে শিবস্তব করে স্থিতি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রার্থনা করেন। শিব বলেন—পতিত লিঙ্গ অচল; একমাত্র প্রতিকার হল ক্রমান্বয়ে ব্রহ্মা, তারপর বিষ্ণু, ইন্দ্র ও অন্যান্য দেবতা, শেষে বালখিল্যদের দ্বারা শতরুদ্রিয় মন্ত্রে পূজা—তবেই অমঙ্গল নিবারিত হবে। বর চাওয়া হয়—লিঙ্গস্পর্শমাত্রেই অপবিত্রতা নাশ হোক; ইন্দ্র বজ্র দিয়ে লিঙ্গ আচ্ছাদিত করে সাধারণ মানুষের দৃষ্টির আড়ালে রাখেন, তবু তার পবিত্র সান্নিধ্য কার্যকর থাকে। শেষে আচারবিধি—ফাল্গুন মাসের শেষ চতুর্দশীতে নতুন যব দান ও ব্রাহ্মণভোজন মহাফলদায়ক, বহু অন্য ক্রিয়ার চেয়েও শ্রেষ্ঠ। উদাহরণে এক রোগাক্রান্ত ব্যক্তি সেখানে সত্তু-সংযোগে অনিচ্ছাকৃতভাবে শুভ পুনর্জন্ম লাভ করে; পরে সে উপবাস, রাত্রিজাগরণ ও উদার সত্তুদানে বার্ষিক ব্রত পালন করে। ফলশ্রুতিতে শ্রদ্ধায় শ্রবণকারীদের দিন-রাত্রি সঞ্চিত দোষমোচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

कामेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Kāmeśvara Māhātmya—Narrative of the Glory of Kāmeśvara)
এই অধ্যায়ে পুলস্ত্য ও রাজা যযাতির সংলাপে কামেশ্বর-মাহাত্ম্য বর্ণিত। যযাতি জানতে চান—মনোভব কামের আশঙ্কায় শিব কেন বহু পবিত্র তীর্থে বিচরণ করলেন এবং কামেশ্বরের আবাসের পূর্ণ কাহিনি কী। পুলস্ত্য বলেন, কাম ধনুক-বাণ প্রস্তুত করে বারবার শিবকে অনুসরণ করতে থাকে; শিবও বহু প্রসিদ্ধ তীর্থ অতিক্রম করে দীর্ঘকাল গমন শেষে অর্বুদ পর্বতের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন। অর্বুদে শিব কামকে সম্মুখে গ্রহণ করেন। শিবের তৃতীয় নয়ন থেকে উদ্ভূত দাহক অগ্নিতে কাম ধনুক-বাণসহ ভস্মীভূত হয়। এরপর রতির শোকবিলাপ ও আত্মদাহের উদ্যোগ দেখা যায়; আকাশবাণী তাকে তপস্যার নির্দেশ দেয়। রতি সহস্র বছর ব্রত, দান, জপ, হোম ও উপবাসে শিবের আরাধনা করলে শিব বর দেন—কাম পুনরায় দেহসহ প্রকাশ পেয়ে শিবের অনুমোদনে নিজ কর্মে প্রবৃত্ত হয়। শেষে যযাতি শিবের মহিমা উপলব্ধি করে অর্বুদে শিব প্রতিষ্ঠা করেন; এই দেবের দর্শনে সাত জন্ম পর্যন্ত অমঙ্গল নাশ হয়—এই ফলশ্রুতি দ্বারা ক্ষেত্রের মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠিত।

Mārkaṇḍeya’s Longevity Boon and the Ritual Merits of Arbuda Āśrama (मार्कण्डेयदीर्घायुष्प्रसङ्गः)
পুলস্ত্য রাজাকে মৃকণ্ডুর পুত্রের কাহিনি শোনান। শিশুটি শুভ লক্ষণে ভূষিত হলেও এক বিদ্বান অতিথি ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে ছয় মাসের মধ্যে তার মৃত্যু হবে। তখন পিতা তৎক্ষণাৎ উপনয়ন সম্পন্ন করে তাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ ভক্তি শেখান—সব বয়সের ব্রাহ্মণকে প্রণাম করার অভ্যাস গড়ে তোলেন। তীর্থযাত্রায় সপ্তর্ষি এলে শিশু বিনীতভাবে তাঁদের অভিবাদন করে। ঋষিরা দীর্ঘায়ুর আশীর্বাদ দেন, কিন্তু অঙ্গিরা সূক্ষ্মদৃষ্টিতে পঞ্চম দিনে মৃত্যুর সম্ভাবনা দেখে আশীর্বাদের সত্য রক্ষার উপায় বলেন। ঋষিরা শিশুকে ব্রহ্মলোকে নিয়ে যান; ব্রহ্মা অনুসন্ধান করে তাকে কল্পপর্যন্ত দীর্ঘায়ুর বর দেন। ফিরে এসে শিশু বর জানায় এবং অর্বুদ পর্বতে সুন্দর আশ্রম স্থাপন করে ব্রহ্মার পূজা করার সংকল্প করে। ফলশ্রুতি—শ্রাবণ পূর্ণিমায় সেখানে পিতৃতর্পণ করলে পিতৃমেধসম পূর্ণ ফল লাভ হয়; ঋষিযোগে শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণদের তর্পণ ব্রহ্মলোকে দীর্ঘ বাস দেয়; আর বিশ্বাসসহ সেখানে স্নান করলে বংশে অকালমৃত্যুর ভয় নাশ হয়।

उद्दालकेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् (Narration of the Māhātmya of Uddālakeśvara)
এই অধ্যায়ে পুলস্ত্য মুনি নৃপশ্রেষ্ঠকে সংক্ষিপ্ত উপদেশ দেন। তিনি তাঁকে জগতে প্রসিদ্ধ, পরম পাপ-নাশক এক লিঙ্গের কাছে যেতে বলেন—যা ঋষি উদ্দালক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ‘উদ্দালকেশ্বর’ নামে খ্যাত। লিঙ্গ স্পর্শ ও দর্শনও পুণ্যদায়ক, তবে বিশেষ করে পূজা সর্বাধিক ফলপ্রসূ বলা হয়েছে। ভক্তিভরে সেখানে শঙ্করের আরাধনা করলে সকল রোগ থেকে মুক্তি, গার্হস্থ্যধর্ম লাভ/স্থিতি, এবং সমস্ত পাপক্ষয় হয়ে শিবলোকে সম্মান প্রাপ্তি হয়। এটি প্রভাসখণ্ড (অর্বুদখণ্ড) এর ৪২তম অধ্যায়।

Siddheśvara-Māhātmya (सिद्धेश्वरमहिमवर्णनम्) — The Glory of Siddheśvara
পুলস্ত্য ঋষি রাজাকে উপদেশ দেন যে সিদ্ধদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পবিত্র লিঙ্গ ‘সিদ্ধলিঙ্গ’-এ গমন করতে হবে, যা ‘শুভ সিদ্ধি’ প্রদানকারী বলে বর্ণিত। এই তীর্থে দর্শন ও পূজার দ্বারা সকল পাপ ও পাতক নাশ হয় বলে বলা হয়েছে। নিকটে এক অতি নির্মল জলের কুণ্ডের উল্লেখ আছে। সেখানে স্নান করলে ব্রহ্মহত্যা-সদৃশ মহাপাতক-विशেষ থেকেও মুক্তি লাভ হয়—এমন ফলশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, স্নানের সময় মনে যে কামনা করা হয় তা পূর্ণ হয়, এবং জীবনের শেষে পরম অবস্থায় গমন ঘটে। শেষে কলফনে স্কন্দপুরাণের প্রভাসখণ্ড, অর্বুদখণ্ড-অন্তর্গত অংশ ও ‘সিদ্ধেশ্বর-মাহাত্ম্য’ অধ্যায়-শিরোনাম উল্লেখ করে পাঠ-সংরক্ষণ ও সূচিবদ্ধতার চিহ্ন রাখা হয়েছে।

गजतीर्थप्रभाववर्णनम् | Description of the Power and Merit of Gajatīrtha
এই অধ্যায় ‘গজতীর্থ-প্রভাব-বর্ণন’ এ পুলস্ত্য ঋষি রাজাকে অতুলনীয় তীর্থ গজতীর্থে গমন ও তার বিধি নির্দেশ করেন। তিনি পূর্বকথা স্মরণ করিয়ে দেন—প্রাচীনকালে দিগ্গজেরা সংযমী ও শুদ্ধচিত্ত হয়ে এখানে তপস্যা করেছিল; ঐরাবত-প্রমুখ লোকধারক গজদের সঙ্গে তাদের সাধনা এই তীর্থের কর্তৃত্ব ও মহিমা প্রতিষ্ঠা করে। অধ্যায়ের মূল শিক্ষা হলো বিধিপূর্বক সম্যক্ স্নান। যে ব্যক্তি ভক্তি ও নিয়ম মেনে গজতীর্থে স্নান করে, সে গজদান করার সমান পুণ্যফল লাভ করে—এটাই স্পষ্ট ফলশ্রুতি। এভাবে তীর্থভূগোল, আদর্শ তপস্যার ইতিহাস এবং পুণ্য-সমতার হিসাব একত্রে তুলে ধরা হয়েছে।

श्रीदेवखातोत्पत्तिमाहात्म्यवर्णनम् (Devakhāta Tīrtha: Origin and Māhātmya)
এই অধ্যায়ে পুলস্ত্য ঋষি দেবখাটা তীর্থের মহিমা ও বিধান বর্ণনা করেন। দেবখাটাকে সর্বোচ্চ পুণ্যদায়ক, স্বয়ংপ্রকাশিত খ্যাতিসম্পন্ন এবং বিদ্বজ্জন (বিবুধ)সম্মত তীর্থ বলা হয়েছে। এরপর দেবখাটায় শ্রাদ্ধকর্মের বিশেষ প্রয়োগ নির্দেশিত হয়—বিশেষত অমাবস্যায়, এবং সূর্য যখন কন্যা রাশিতে অবস্থান করে তখন সেখানে করা শ্রাদ্ধ অতিশয় ফলপ্রদ। এই কর্মে কর্তার পরলোকগতি উন্নত হয় এবং পিতৃগণের উদ্ধার সাধিত হয়; এমনকি যাঁরা দুর্দশা/দুর্গতিতে পতিত, তাঁরাও কল্যাণ লাভ করেন। শেষে প্রচলিত কলফনে স্কন্দমহাপুরাণের প্রভাসখণ্ড (অর্বুদখণ্ড) অন্তর্গত ‘দেবখাটার উৎপত্তি-মাহাত্ম্য’ প্রসঙ্গ হিসেবে অধ্যায়ের স্থান নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

व्यासतीर्थमाहात्म्यवर्णनम् (Description of the Glory of Vyāsa-tīrtha)
এই অধ্যায়ে পুলস্ত্য ঋষি উপদেশরূপে শ্রোতাকে নির্দিষ্ট তীর্থের দিকে নির্দেশ করেন—“তারপর ব্যাসেশ্বরে গমন করা উচিত”। ব্যাসদেব প্রতিষ্ঠিত ব্যাসতীর্থ ও ব্যাসেশ্বর মন্দিরের মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে; এখানে ‘দর্শন’কে রূপান্তরকারী জ্ঞানসাধনা বলা হয়েছে—দেবস্থান দর্শনে মেধা (বুদ্ধির দীপ্তি), মতি (বিবেক) ও শুচিতা (পবিত্রতা) লাভ হয়। শেষে কলফনে গ্রন্থপরিচয় দেওয়া হয়েছে—এটি স্কন্দ মহাপুরাণের ৮১,০০০ শ্লোকসমষ্টির অন্তর্গত, সপ্তম প্রভাস খণ্ড ও তৃতীয় অর্বুদ খণ্ডে অবস্থিত, এবং “ব্যাসতীর্থমাহাত্ম্যবর্ণনম্” নামে ছেচল্লিশতম অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত; ফলে পাঠ, উদ্ধৃতি ও সংরক্ষণে প্রামাণ্য সূচীকরণ স্থির হয়।

गौतमाश्रमतीर्थमाहात्म्यवर्णनम् | Gautamāśrama Tīrtha Māhātmya (Glory of Gautama’s Hermitage-Site)
পুলস্ত্য রাজাকে প্রসিদ্ধ গৌতমাশ্রমে যেতে বলেন—যেখানে ধর্মনিষ্ঠ মুনি গৌতম পূর্বে তপস্যা করেছিলেন। তিনি ভক্তিভরে মহাদেবের আরাধনা করলে পৃথিবী বিদীর্ণ করে এক মহালিঙ্গ প্রকাশ পায়, যা সেই স্থানে শৈব সান্নিধ্যের বিশেষ প্রকাশ। তখন আকাশবাণী নির্দেশ দেয়—লিঙ্গের পূজা করো এবং বর প্রার্থনা করো। গৌতম বর চান—আশ্রমে সদা দেবসান্নিধ্য থাকুক, এবং যে ভক্তি সহকারে সেখানে শিবদর্শন করবে সে ব্রহ্মলোক লাভ করবে। বিশেষ করে মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে দর্শন করলে পরম গতি প্রাপ্তি হয় বলে বলা হয়েছে। অধ্যায়ে নিকটবর্তী পবিত্র কুণ্ডের মাহাত্ম্যও আছে—সেখানে স্নানে বংশোদ্ধার হয়। সেখানে শ্রাদ্ধ, বিশেষত ইন্দুসংক্ষয় (চন্দ্রক্ষয়/গ্রহণ-সংযোগ) কালে, গয়া-শ্রাদ্ধের সমান ফলদায়ক; এবং তিলদান তিলের সংখ্যামতো দীর্ঘ স্বর্গবাস দেয়। গোদাবরীর সিংহস্থ-স্নান প্রভৃতি প্রসিদ্ধ তীর্থফলের তুলনা এনে এই তীর্থকে বৃহত্তর পুণ্য-অর্থনীতি ও ধর্মপঞ্জিকার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

कुलसंतारणतीर्थमाहात्म्यवर्णनम् | Kulasantāraṇa Tīrtha: Māhātmya and the Ethics of Ancestral Uplift
পুলস্ত্য মুনি ‘কুলসন্তারণ’ নামে এক অতুল তীর্থের মাহাত্ম্য বলেন—যথাবিধি স্নান করলে নাকি সমগ্র বংশের উদ্ধার ঘটে। কাহিনিতে পূর্বকালের রাজা অপরস্তুতের কথা আছে; তিনি হিংস্র শাসন, লোভজনিত অধর্ম এবং দান-জ্ঞান-নিয়মের অবজ্ঞায় কলুষিত ছিলেন। বার্ধক্যে স্বপ্নে কষ্টভোগী পিতৃগণ এসে জানান—তাঁরা নিজেরা ধর্মাচারী হলেও রাজার পাপের ফলে নরকে পতিত হয়েছেন; তাই রাজাকে শুদ্ধি, পূজা ও প্রায়শ্চিত্ত কর্মে প্রবৃত্ত করেন। রাজা রানি ইন্দুমতীকে সব বলে। রানি বলেন—সুপুত্র পিতৃদের তরণ করে, কুপুত্র তাদের ক্ষতি করে; অতএব ধর্মজ্ঞ ব্রাহ্মণদের পরামর্শ নিতে হবে। ব্রাহ্মণেরা দীক্ষা, দেহশুদ্ধি, তীর্থযাত্রা, স্নান ও দানের বিধান দেন এবং তারপর যজ্ঞাদি কর্মের যোগ্যতা নির্ধারণ করেন। রাজা যাত্রা করে অর্বুদ-তীর্থের পবিত্র জলে শ্রদ্ধায় স্নান করলে পিতৃগণ ভয়ংকর নরক থেকে মুক্ত হয়ে দিব্য বিমানে প্রকাশিত হন; তাঁরা স্থানটির নাম ‘কুলসন্তারণ’ স্থির করেন এবং তীর্থপ্রভাবে রাজাকে সশরীরে স্বর্গারোহণের আহ্বান জানান। শেষে পুলস্ত্য রাকা-সোম ও ব্যতীপাত প্রভৃতি শুভ সংযোগে স্নানফল বৃদ্ধি পায় বলেও উল্লেখ করেন।

रामतीर्थमाहात्म्यवर्णनम् (Rāmatīrtha Māhātmya: The Glory of Rama’s Tīrtha)
পুলস্ত্য ঋষি রামতীর্থে তীর্থযাত্রার কথা বলেন—এটি ঋষিসেবিত পবিত্র স্থান, যেখানে স্নান করলে পাপক্ষয় হয়। এরপর পূর্বকথা বলা হয়: ভৃগুবংশীয় যোদ্ধা-তপস্বী ভার্গব রাম (পরশুরাম) শত্রুনাশের কামনায় তিনশো বছর কঠোর তপস্যা করেন। তপস্যায় প্রসন্ন মহাদেব আবির্ভূত হয়ে বর দেন এবং পরম পাশুপত অস্ত্র প্রদান করেন; বলা হয়, এর স্মরণমাত্রেই শত্রুবিনাশ ঘটে। শংকর আরও ঘোষণা করেন যে দেবকৃপায় সেই সরোবর তিন লোকেই “রামতীর্থ” নামে খ্যাত হবে। তারপর বিধান: কার্তিক পূর্ণিমায় কৃত্তিকা-যোগ থাকলে এখানে একাগ্রচিত্তে শ্রাদ্ধ করলে পিতৃদের পূর্ণ ফল লাভ হয়; সঙ্গে শত্রুক্ষয় ও দীর্ঘ স্বর্গবাসও মেলে। শেষে মহাদেব অন্তর্ধান করেন; জমদগ্নি-বধের শোকে পরশুরাম তিনবার ‘সাত-সাত’ করে তর্পণ করেন এবং ক্ষত্রিয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের শপথ-প্রসঙ্গ উঠে আসে—অতএব বিশেষত ক্ষত্রিয়দের জন্য এখানে যত্নসহকারে শ্রাদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

कोटितीर्थप्रभाववर्णनम् | Kotitīrtha: Description of Power and Merit
এই অধ্যায়ে পুলস্ত্য ঋষি রাজাকে কোটিতীর্থের মাহাত্ম্য ও তত্ত্ব ব্যাখ্যা করেন। কোটিতীর্থকে ‘সর্ব-পাতক-নাশন’ পবিত্র তীর্থরূপে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ‘কোটি’ (কোটি-পরিমাণ) তীর্থশক্তি কেন কিছু নির্দিষ্ট স্থানে সঞ্চিত থাকে—তার যুক্তি দেওয়া হয়: অসংখ্য তীর্থের মধ্যে এক ‘কোটি’ অংশ অর্বুদ পর্বতে অধিষ্ঠিত; পুষ্কর ও কুরুক্ষেত্রের সঙ্গেও এমন সংহতি যুক্ত; আর বারাণসীতে ‘অর্ধ-কোটি’ তীর্থবল দেবতাদের দ্বারা প্রশংসিত ও রক্ষিত। কলিযুগে মানুষ ‘ম্লেচ্ছভাব’ প্রাপ্ত হলে সংস্পর্শে ‘তীর্থ-বিপ্লব’ ঘটে—এই আশঙ্কা দেখিয়ে বলা হয়, তাই তীর্থশক্তি দ্রুত উল্লিখিত রক্ষিত স্থানে স্থিত থাকে। এরপর আচরণ-নির্দেশ: সর্বশক্তি দিয়ে স্নান করতে হবে, বিশেষত ভাদ্রপদ (নভস্য) মাসের কৃষ্ণপক্ষ ত্রয়োদশীতে। শেষে ফলশ্রুতি—সেখানে স্নান, জপ ও হোম করলে সবই ‘কোটি-গুণ’ ফলপ্রদ হয়।

चन्द्रोद्भेदतीर्थमाहात्म्यवर्णनम् (Māhātmya of the Chandrodbheda Tīrtha)
এই অধ্যায়ে পুলস্ত্য ঋষি রাজাকে চন্দ্রোদ্ভেদ তীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। চন্দ্র-সম্পর্কিত এই অতুল পাপহর তীর্থের কথা প্রথমে বলা হয়। অমৃত-পানের ঘটনার ফলে রাহুর দেবতাদের সঙ্গে বৈর জন্মায়; বিষ্ণু তার মস্তক ছিন্ন করলেও অমৃতের প্রভাবে সে অমর থাকে এবং গ্রহণকালে বিশেষ করে চন্দ্রকে ভয় ও কষ্ট দেয়। রাহুর আতঙ্ক থেকে রক্ষা চাইতে চন্দ্র আর্বুদ পর্বতে গিয়ে শিখর বিদীর্ণ করে গভীর গুহা সৃষ্টি করেন এবং সেখানে কঠোর তপস্যা করেন। তাতে প্রসন্ন মহেশ্বর আবির্ভূত হয়ে বর দেন। চন্দ্র গ্রহণসময়ে রাহুর ‘গ্রাস’ থেকে মুক্তি প্রার্থনা করেন। শিব রাহুর শক্তি স্বীকার করেও প্রতিকার স্থাপন করেন—গ্রহণকালে এই তীর্থে স্নান ও দান করলে মানুষের মঙ্গল হয়, পুণ্য অক্ষয় হয় এবং চন্দ্রের দুঃখও বিধিপূর্বক প্রশমিত হয়। শিখর ভেদ করার কারণে স্থানটির নাম ‘চন্দ্রোদ্ভেদ’। গ্রহণকালে এখানে স্নান করলে পুনর্জন্ম থেকে মুক্তি, আর সোমবার স্নান ও দর্শনে চন্দ্রলোকে বাসের ফলশ্রুতি বলা হয়েছে। শেষে শিব অন্তর্ধান করেন এবং চন্দ্র আনন্দে নিজ স্থানে প্রত্যাবর্তন করেন।

Īśānīśikhara Māhātmya (Glory of the Īśānī Peak)
পুলস্ত্য ঋষি রাজা যযাতিকে ঈশানীশিখর নামক মহাশৃঙ্গের অপরিসীম পবিত্রতার কথা বলেন। তিনি জানান, কেবল সেই স্থানের দর্শনেই পাপ ক্ষয় হয় এবং সাত জন্ম পর্যন্ত মঙ্গল লাভ হয়। যযাতির প্রশ্নে তিনি দেবীর সেখানে তপস্যার সময় ও কারণও এক দিব্য কাহিনির মাধ্যমে বর্ণনা করেন। দেবতারা আশঙ্কা করেন—শিবের শক্তি যদি দেবীর ক্ষেত্রে পতিত হয় তবে বিশ্বব্যবস্থা বিঘ্নিত হবে; তাই গোপনে বায়ুকে পাঠিয়ে সংযমের অনুরোধ করান। শিব লজ্জাবশত সরে যান; দেবী দুঃখিত হয়ে শাপ দেন—দেবতারা সন্তানহীন হবে এবং বায়ু দেহহীন হবে। ক্রোধে দেবী অর্বুদ পর্বতে গমন করেন। ইন্দ্রসহ দেবতারা মিলনের জন্য প্রার্থনা করলে শিব এসে বলেন, এটি লোককল্যাণের কর্তব্য ছিল এবং চতুর্থ দিনে দেবী নিজের দেহ থেকেই পুত্র লাভ করবেন। দেবী দেহলেপ থেকে চতুর্ভুজ বিনায়ক সৃষ্টি করেন; শিব প্রাণসঞ্চার করলে তিনি সর্বপূজ্য, অগ্রপূজ্য গণনায়ক হন। পরে দেবতারা ঘোষণা করেন—এই শিখরের সেবা ও দর্শনে পাপ নাশ হয়; তীর্থস্নানে অমর পদ লাভ হয়, আর মাঘ মাসের শুক্ল তৃতীয়ার ব্রতে সাত জন্ম সুখ হয়। শেষে কলফনে একে প্রভাস খণ্ডের অন্তর্গত অর্বুদ খণ্ডের ৫২তম অধ্যায় বলা হয়েছে।

ब्रह्मपदोत्पत्तिमाहात्म्यवर्णनम् / The Māhātmya of the Origin and Power of Brahmā’s Padam (Sacred Mark)
পুলস্ত্য মুনি ত্রিলোকে প্রসিদ্ধ ‘ব্রহ্মপদ’ তীর্থের কথা বলেন। অর্বুদ পর্বতে অচলেশ্বর-যাত্রার প্রসঙ্গে দেবতা ও শুদ্ধ ঋষিগণ সমবেত হন। নিয়ম, হোম, ব্রত, স্নান, উপবাস, কঠোর জপ ও আচার-বিধিতে ক্লান্ত ঋষিরা ব্রহ্মার কাছে প্রার্থনা করেন—সংসার-সাগর পার করার সহজ উপদেশ এবং স্বর্গলাভের স্পষ্ট উপায় জানাতে। ব্রহ্মা করুণায় বলেন, তাঁর নিজস্ব মঙ্গলময় ‘পদ’ পাপনাশক স্থান; সেখানে কেবল স্পর্শ ও শ্রদ্ধাভরে অভিমুখ হওয়াই শুভগতি দেয়, স্নান-দান-ব্রত-হোম-জপের পূর্ণ আয়োজন না থাকলেও। একমাত্র অপরিহার্য শর্ত—অচঞ্চল শ্রদ্ধা। কার্তিক পূর্ণিমায় জল, ফল, সুগন্ধি, মালা ও অনুলেপনে পূজা করে, সামর্থ্য অনুযায়ী মিষ্টান্ন দিয়ে ব্রাহ্মণদের ভোজন করালে দুর্লভ ব্রহ্মলোক লাভ হয়। শেষে যুগভেদে পদটির বর্ণ ও পরিমাপের বিস্ময়কর বিবরণ—কৃতে অগণিত শ্বেত, ত্রেতায় রক্ত, দ্বাপরে কপিশ, আর কলিতে অতি সূক্ষ্ম কৃষ্ণ—তীর্থের কাল-তাত্ত্বিক তাৎপর্য দৃঢ় করে।

त्रिपुष्करमाहात्म्यवर्णनम् | Tripuṣkara Māhātmya (Glorification of Tripuṣkara)
এই অধ্যায়ে পুলস্ত্য বর্ণনা করেন কীভাবে ত্রিপুষ্কর অর্বুদ পর্বতে প্রতিষ্ঠিত হল। পদ্মযোনি ব্রহ্মা সন্ধ্যা-উপাসনার জন্য পুষ্করের দিকে অগ্রসর হন, কারণ মানবলোকে যতদিন থাকবেন ততদিন ত্রিপুষ্করে সন্ধ্যা বন্দনা করবেন—এমন ব্রত তাঁর। সেই সময়ে বশিষ্ঠের যজ্ঞসত্র চলছিল; কর্মকাল উপস্থিত হলে বশিষ্ঠ বলেন, ব্রহ্মার উপস্থিতি ছাড়া যজ্ঞ সম্পূর্ণ হতে পারে না। তাই তিনি ব্রহ্মাকে অনুরোধ করেন—ত্রিপুষ্করকে যজ্ঞস্থলে আনুন, সেখানে সন্ধ্যা-উপাসনা করে যজ্ঞের অধিষ্ঠাতা হয়ে সমাপন করুন। ব্রহ্মা ধ্যান করে জ্যেষ্ঠ–মধ্য–কনিষ্ঠ—এই ত্রিবিধ পুষ্কর তীর্থকে অর্বুদের মহাপুণ্য জলাশয়ে স্থাপন করেন; তখন থেকেই অর্বুদে ত্রিপুষ্করের অস্তিত্ব প্রসিদ্ধ। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে, কার্ত্তিক পূর্ণিমায় শান্তচিত্তে স্নান ও দান করলে স্থায়ী লোকলাভ হয়। আরও বলা হয়, উত্তরে শ্রেষ্ঠ সাবিত্রী-কুণ্ড আছে, যেখানে স্নান-দান শুভ সিদ্ধি প্রদান করে।

रुद्रह्रद-माहात्म्यवर्णनम् | Rudrahrada Māhātmya (Glory of the Lake of Rudra)
এই অধ্যায়ে পুলস্ত্য ঋষি রাজাকে শুভ রুদ্রহ্রদ তীর্থে গমন ও ভক্তিসহ স্নানের বিধান উপদেশ দেন। বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ভক্তিভরে এই পবিত্র হ্রদে স্নান করে, সে শুদ্ধ হয়ে শিবগণের সান্নিধ্য লাভ করে এবং ‘গণাধীশত্ব’—শিবগণের সঙ্গে উচ্চ মর্যাদা—প্রাপ্ত হয়। এরপর তীর্থের উৎপত্তিকথা বর্ণিত—অন্ধক দানব বধের পর বৃষভধ্বজ ভগবান শিব স্বগণসহ সেখানে স্নান করে একটি হ্রদ প্রতিষ্ঠা করেন; তাই তা ‘রুদ্রহ্রদ’ নামে প্রসিদ্ধ। আরও বলা হয়, চতুর্দশী তিথিতে স্নান করলে সর্বতীর্থ-সমাগমের সমতুল্য পুণ্য লাভ হয়। শেষে এটিকে প্রভাস খণ্ডের অন্তর্গত অরবুদ খণ্ডের ৫৫তম অধ্যায় বলে কলফনে সমাপ্ত করা হয়েছে।

गुहेश्वरमाहात्म्यवर्णनम् | Guhēśvara Māhātmya (Account of the Glory of Guhēśvara)
এই অধ্যায়ে পুলস্ত্য ঋষি এক রাজশ্রোতাকে গুহেশ্বর নামে প্রসিদ্ধ এক মহাপুণ্য তীর্থের মাহাত্ম্য শোনান। গুহার অন্তরে প্রতিষ্ঠিত শিবলিঙ্গটি পূর্বে সিদ্ধগণ কর্তৃক পূজিত ছিল—এই কথায় তীর্থের প্রামাণ্য ও মহিমা প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট কামনা মনে রেখে সেখানে গিয়ে পূজা করে, সে সেই কাম্য ফল লাভ করে; আর যে নিষ্কাম ভক্তিতে, কেবল শুদ্ধচিত্তে আরাধনা করে, সে মোক্ষপথে অগ্রসর হয়। এটি স্কন্দমহাপুরাণের প্রভাসখণ্ড (অর্বুদখণ্ড) অন্তর্গত ৫৬তম অধ্যায়।

अवियुक्तक्षेत्रमाहात्म्यवर्णनम् | The Māhātmya of the Aviyukta (Non-Separation) Kṣetra
পুলস্ত্য ঋষি রাজাকে অবিযুক্তবনের মাহাত্ম্য বলেন। এই বনের বিশেষ ফল এই যে—যে ব্যক্তি একে দর্শন করে বা এখানে বাস করে, সে প্রিয়জন ও প্রিয়বস্তুর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে না। এই সত্যকে একটি কারণ-কথার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। নহুষ ইন্দ্রের অধিকার হরণ করলে শচী দুঃখভারাক্রান্ত হয়ে এই বনে প্রবেশ করেন। বনের স্বভাবজাত প্রভাবে পূর্বে বিচ্ছিন্ন শতক্রতু ইন্দ্র পুনরায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং শচীর সঙ্গে মিলন ঘটে; তাই ক্ষেত্রটির ‘অবিযুক্ত’ খ্যাতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর শচী বনে বর দেন—যে নারী বা পুরুষ প্রিয় আত্মীয়দের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সেখানে এক রাত্রি বাস করবে, সে পুনরায় সঙ্গ ও সহবাস লাভ করবে। অধ্যায়ে আরও বলা হয়েছে যে সেখানে ফলদান/ফলার্পণ মহাপুণ্য, যা বিদ্বান ব্রাহ্মণগণ প্রশংসা করেন। বিশেষত সন্তানকামিনী নারীদের বন্ধ্যাত্ব নিবারণ হয়ে ‘পুত্রফল’ প্রাপ্তির কথা বলা হয়েছে। এটি স্কন্দমহাপুরাণের প্রভাসখণ্ডস্থ অরবুদখণ্ডের ৫৭তম অধ্যায়।

उमामाहेश्वरतीर्थमाहात्म्यवर्णनम् (Glorification of the Umā–Maheśvara Tīrtha)
এই অধ্যায়ে পুলস্ত্য ঋষি রাজাকে উদ্দেশ করে ধর্মতত্ত্বের উপদেশরূপে প্রভাসখণ্ডস্থিত “উমা–মহেশ্বর” তীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। তীর্থটি সর্বোচ্চ পুণ্যদায়ক ও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষিত। ধুন্ধুমার নামে এক ভক্তের প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে—যাতে বোঝা যায়, ভক্তিই ভূগোলকে পবিত্র করে। নির্দেশ সংক্ষিপ্ত: তীর্থস্থানে গিয়ে উমা-মহেশ্বর, অর্থাৎ শিব-পার্বতী দম্পতিকে ভক্তিভরে পূজা করতে হবে। ফলশ্রুতিতে বলা হয়, এই পূজক সাত জন্ম পর্যন্ত দুর্ভাগ্য থেকে মুক্ত থাকে এবং শুভকল্যাণ লাভ করে।

महौजसतीर्थप्रभाववर्णनम् | The Efficacy of Mahaujasa Tīrtha
এই অধ্যায়ে পুলস্ত্য ঋষি তীর্থ-মাহাত্ম্যরূপে মহৌজস তীর্থের কাহিনি বলেন। মহৌজসকে পাপক-নাশক তীর্থ বলা হয়েছে; এখানে স্নান করলে তেজ (দীপ্তি/শুভশক্তি) ও শ্রী পুনরুদ্ধার হয়। ব্রহ্মহত্যার দোষফলে ইন্দ্র (শক্র) শ্রী ও তেজহীন হন, দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে দেবতাদের কাছ থেকে বর্জিতও হন। তখন তিনি বৃহস্পতির শরণ নেন; বৃহস্পতি বলেন—পৃথিবীতে তীর্থযাত্রাই তেজ ফিরে পাওয়ার উপায়, তীর্থ ব্যতীত তেজবৃদ্ধি হয় না। বহু তীর্থে ঘুরে ইন্দ্র অর্বুদে পৌঁছে এক জলাশয় দেখেন। সেখানে স্নান করতেই তিনি মহা-ওজ লাভ করেন; দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দেবতারা তাঁকে পুনরায় গ্রহণ করেন। এরপর ইন্দ্র কালনির্দিষ্ট ফলশ্রুতি ঘোষণা করেন—আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের শেষে, শক্রোদয়ের সময় যে এখানে স্নান করে, সে পরম গতি লাভ করে এবং জন্মে জন্মে শ্রীসম্পন্ন হয়। নৈতিক ক্ষতি, প্রায়শ্চিত্ত, তীর্থ ও সময়-অনুষ্ঠান—সবই এই সংক্ষিপ্ত উপদেশে যুক্ত হয়েছে।

जंबूतीर्थप्रभाववर्णनम् (Description of the Power and Merit of Jambū Tīrtha)
পুলস্ত্য ঋষি শ্রোতাকে অতুল জম্বূতীর্থে গমনের বিধি বলেন এবং জানান—সেখানে যথাবিধি স্নান করলে ইষ্টফল লাভ হয়। এরপর পুরাতন কাহিনি শুরু হয়—সূর্যবংশীয় রাজা নিমি বার্ধক্যে অর্বুদ পর্বতে গিয়ে একাগ্রচিত্তে প্রায়োপবেশন (নিয়মিত উপবাসে দেহত্যাগ) গ্রহণ করেন। বহু মুনি এসে রাজর্ষি, দেবর্ষি ও পুরাণ-পরম্পরার আদর্শ কাহিনি নিয়ে ধর্মোপদেশ দেন। শেষে লোমশ ঋষি বিস্তৃত তীর্থ-মাহাত্ম্য পাঠ করেন। তা শুনে নিমি অনুতপ্ত হন—আগে বহু তীর্থস্নান না করায় তিনি ব্যথিত; তিনি সকল তীর্থের ফল লাভের উপায় জিজ্ঞাসা করেন। করুণায় লোমশ মন্ত্রবলে জম্বূদ্বীপের তীর্থসমূহকে সেই স্থানে আনবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন এবং একত্রিত পবিত্র জলে স্নান করতে বলেন। ধ্যানমাত্রেই তীর্থসমূহ তৎক্ষণাৎ উপস্থিত হয়, প্রমাণস্বরূপ জম্বূ বৃক্ষও প্রকাশ পায়। নিমি ‘সর্বতীর্থ’ কুণ্ডে স্নান করে সঙ্গে সঙ্গে দেহসহ স্বর্গে গমন করেন; তাই স্থানটি জম্বূতীর্থ নামে প্রসিদ্ধ। আরও বলা হয়—সূর্য কন্যা রাশিতে থাকলে সেখানে শ্রাদ্ধ করলে গয়াশীর্ষের সমান পুণ্য হয়।

गंगाधरतीर्थमाहात्म्य (Glory of Gaṅgādhara Tīrtha)
এই অধ্যায়ে পুলস্ত্য ঋষি এক রাজশ্রোতাকে গঙ্গাধর নামে এক মহাপুণ্য তীর্থের মাহাত্ম্য উপদেশ দেন। তীর্থটি ‘সুপুণ্য’ ও ‘বিমল জল’-সমৃদ্ধ বলে বর্ণিত, এবং তার পবিত্রতা শৈব দিব্য প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত। কথিত আছে, হরি/শিব অচলেশ্বর রূপ ধারণ করে আকাশ থেকে অবতীর্ণ গঙ্গাকে ধারণ করেন; সেই ধরণ-কৃপায় স্থানটি অতিশয় পবিত্র হয়। এরপর বিধান দেওয়া হয়—অষ্টমী তিথিতে সমাহিত চিত্তে সেখানে স্নান করলে দেবতাদের পক্ষেও দুর্লভ এমন পরম পদ লাভ হয়।

कटेश्वर-गंगेश्वर-माहात्म्यवर्णनम् (Glory of Kāṭeśvara and Gaṅgeśvara)
পুলস্ত্য প্রভাসখণ্ডে তীর্থযাত্রার ক্রম বর্ণনা করে শ্রোতাকে দুই লিঙ্গ দর্শনের নির্দেশ দেন—গৌরী (উমা) নির্মিত কাটেশ্বর-লিঙ্গ এবং নদীদেবী গঙ্গা নির্মিত গঙ্গেশ্বর-লিঙ্গ। সৌভাগ্য নিয়ে উমা ও গঙ্গার পূর্ব বিরোধ থেকেই কাহিনি শুরু; গঙ্গা লিঙ্গস্থানের সন্ধানে বের হন, আর উমা লিঙ্গসদৃশ সুন্দর পর্বত-গঠনকে ‘কাটক’ (আংটির মতো বৃত্তাকার চিহ্ন) দেখে পূর্ণ শ্রদ্ধায় পূজা করেন। ভক্তিতে মহাদেব প্রসন্ন হয়ে দর্শন দেন ও বর প্রদান করেন। গৌরী সেই তীর্থের নাম ‘কাটেশ্বর’ স্থাপন করে ফলশ্রুতি বলেন—সতীন-দ্বন্দ্বে কাতর বা বিরহে দুঃখিত নারীরা কেবল দর্শনমাত্রেই জ্বর/ক্লেশ নিবারণ, মঙ্গল ও গৃহসৌভাগ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করেন। পরে গঙ্গাও পূজা করে বর পেয়ে গঙ্গেশ্বর প্রতিষ্ঠা করেন; উভয় লিঙ্গ দর্শন আবশ্যক, বিশেষত ‘সপত্নী-দোষ’ দূর হয়ে সুখ ও সৌভাগ্য প্রাপ্তির জন্য। অধ্যায়টি অরবুদ-ক্ষেত্রের পবিত্র ভূগোলে এই মাহাত্ম্যকে স্থায়ী ভক্তিপ্রেরণা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে সমাপ্ত হয়।

Arbuda-khaṇḍa-māhātmya-phalaśruti-varṇanam (Glory of Arbuda: Fruits of Hearing and Pilgrimage)
পুলস্ত্য অর্বুদ পর্বতের মহিমা সংক্ষেপে সমাপ্ত করেন। তিনি বলেন, সেখানে অগণিত তীর্থ ও ঋষিদের প্রতিষ্ঠিত পবিত্র আবাস আছে—তাই তার পূর্ণ বিবরণ শতাব্দীর কথনেও শেষ হবে না। অর্বুদে সর্বত্র পবিত্রতা বিরাজমান; সেখানে তীর্থ, সিদ্ধি, বৃক্ষ, নদী বা দেবসান্নিধ্য—কোনো কিছুরই অভাব নেই। “সুন্দর অর্বুদ পর্বত”-এর বাসিন্দারা পুণ্যধারী বলে বর্ণিত। যে ব্যক্তি চারিদিক থেকে অর্বুদ দর্শন করে না, তার জীবন, ধন ও তপস্যার বাস্তব ফল যেন অপূর্ণ থাকে—এমন দৃঢ় মূল্যায়ন করা হয়েছে। এরপর মুক্তিদায়ক প্রভাব মানুষের সীমা ছাড়িয়ে কীট, পশু, পাখি এবং চতুর্বিধ জন্মের সকল প্রাণীর উপর প্রসারিত করা হয়। অর্বুদে মৃত্যু—নিষ্কাম হোক বা কামসহ—শিব-সায়ুজ্য প্রদান করে, যেখানে জরা-মৃত্যু নেই। শেষে ফলশ্রুতি: ভক্তিসহ প্রতিদিন এই পুরাণকথা শ্রবণ করলে তীর্থযাত্রার ফল লাভ হয়; তাই ইহলোক-পরলোকে সিদ্ধিলাভের জন্য যাত্রা করা উচিত।
Arbuda is portrayed as exceptionally purificatory—capable of removing sin even through mere sight (darśana)—and as sanctified through Vasiṣṭha’s ascetic power and presence.
Merits are framed in terms of pāpa-kṣaya (sin-diminution), tīrtha-snāna/dāna efficacy, and the heightened salvific value of approaching the mountain and its associated sacred sites with disciplined conduct.
A Vasiṣṭha-centered narrative provides the anchor: an episode involving the rescue of the wish-fulfilling cow Nandinī and the ritual-theological creation or transformation of a landscape feature through invoked sacred waters and mountain agency.