Setubandha Mahatmya
Brahma Khanda52 Adhyayas4490 Shlokas

Setu Khanda

Setubandha Mahatmya

Setukhaṇḍa is anchored in the sacred geography of Setu (Rāma-setu / Setubandha) and adjacent coastal-pilgrimage zones associated with the crossing to Laṅkā. The section treats the seashore as a ritual boundary-space where vows, propitiation of the ocean (Varuṇālaya), and tīrtha networks converge. It maps merit through named bathing-sites (tīrthas) and narratively legitimizes them via the Rāma-cycle, presenting the region as both an epic memorial landscape and a functional pilgrimage itinerary.

Adhyayas in Setubandha Mahatmya

52 chapters to explore.

Adhyaya 1

Adhyaya 1

सेतुमाहात्म्य-प्रस्तावना — Prologue to the Glory of Setu (Rāmasetu/Rāmeśvara)

অধ্যায়টি মঙ্গলাচরণ দিয়ে শুরু হয়। নৈমিষারণ্যে মোক্ষকামী ঋষিগণ—সংযমী, অপরিগ্রহী, সত্যনিষ্ঠ ও বিষ্ণুভক্ত—এক মহাসভায় পাপ-নাশক কাহিনি এবং জাগতিক কল্যাণ ও মুক্তির উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। তখন ব্যাসশিষ্য পুরাণবক্তা সূত সেখানে উপস্থিত হন; শৌনক প্রমুখ ঋষি তাঁকে বিধিপূর্বক সম্মান করেন। ঋষিরা তাঁকে পুণ্যক্ষেত্র-তীর্থ, সংসার থেকে মোক্ষলাভ, হরি-হর ভক্তির উদ্ভব এবং ত্রিবিধ কর্মের ফলপ্রভাব সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। সূত উত্তর দেন যে রামসেতুস্থিত রামেশ্বর সর্বতীর্থের শ্রেষ্ঠ। সেতুর দর্শনমাত্রেই সংসারবন্ধন শিথিল হয়; স্নান ও স্মরণকে শুদ্ধির প্রধান উপায় বলা হয়েছে। দীর্ঘ ফলশ্রুতিতে মহাপাপ বিনাশ, দণ্ডযোগ্য পরলোকগতির পরিহার, এবং যজ্ঞ-বরত-দান-তপস্যার সমতুল্য বহুবিধ পুণ্যফলের কথা ঘোষিত হয়। এখানে তীর্থযাত্রার নীতিও বলা হয়েছে—অন্তরের সততা, যাত্রার জন্য ন্যায্য সহায়তা গ্রহণ, দানগ্রহণে সংযম, এবং সেতুযাত্রার অর্থ নিয়ে প্রতারণার কঠোর নিন্দা। শেষে বলা হয়, কৃতযুগে জ্ঞান, ত্রেতায় যজ্ঞ, পরবর্তী যুগে দান প্রশস্ত; তবু সেতুসাধনা সর্বযুগে সর্বজনহিতকারী বলে প্রতিষ্ঠিত।

103 verses

Adhyaya 2

Adhyaya 2

सेतुबंधनवर्णनम् (Setubandha—Account of the Bridge and the Setu Tīrthas)

এই অধ্যায়ে ঋষিগণ সূতকে জিজ্ঞাসা করেন—অক্লিষ্টকর্মা শ্রীराम কীভাবে গভীর বরুণালয় সমুদ্রের উপর সেতু বাঁধলেন, এবং সেতুক্ষেত্র ও গন্ধমাদন-প্রসঙ্গে কতগুলি তীর্থ আছে। সূত সংক্ষেপে রামকথার ধারাবাহিকতা বলেন—দণ্ডকারণ্য ও পঞ্চবটীতে বাস, মারীচের ছদ্মবেশে রাবণের দ্বারা সীতাহরণ, রামের অনুসন্ধান ও হনুমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ, অগ্নিসাক্ষী করে সুগ্রীবের সঙ্গে মৈত্রী, বালিবধ, সীতাউদ্ধারের জন্য বানরসেনার প্রস্তুতি, হনুমানের লঙ্কা-অন্বেষণ ও চূড়ামণি প্রত্যাবর্তন, মহেন্দ্রগিরির দিকে যাত্রা ও চক্রতীর্থে অবস্থান, এবং বিভীষণের আগমন, পরীক্ষা ও অভিষেক। সমুদ্র পার হওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়—নৌকা, ভাসমান উপকরণ, অথবা সমুদ্রদেবের আরাধনা। শ্রীराम কুশশয্যায় তিন রাত্রি নিয়মসহ উপাসনা করেন; সমুদ্রদেব না এলে তিনি অস্ত্রে সমুদ্র শোষণ করতে উদ্যত হন। তখন সমুদ্রদেব আবির্ভূত হয়ে ভক্তিপূর্ণ স্তোত্রে রামকে স্তব করেন, স্বভাব-নিয়ম ও সীমা ব্যাখ্যা করেন, এবং বলেন—বানরশিল্পী নল নিক্ষিপ্ত দ্রব্য ভাসিয়ে সেতু নির্মাণ করবে। রামের আদেশে নল নেতৃত্ব নেয়; বানররা পর্বত, শিলা, বৃক্ষ ও লতা এনে সেতু গড়ে তোলে, তার আদর্শ পরিমাপও বর্ণিত। এরপর সেতুস্নানের মহাপবিত্রতা ঘোষিত হয় এবং সেতুর প্রধান চব্বিশ তীর্থের তালিকা দেওয়া হয়—চক্রতীর্থ, বেতালবরদ, সীতাসরস, মঙ্গলতীর্থ, অমৃতবাপিকা, ব্রহ্মকুণ্ড, হনূমৎকুণ্ড, অগস্ত্যতীর্থ, রামতীর্থ, লক্ষ্মণতীর্থ, জটাতীর্থ, লক্ষ্মীতীর্থ, অগ্নিতীর্থ, শিবতীর্থ, শঙ্খতীর্থ, যমুনাতীর্থ, গঙ্গাতীর্থ, গয়াতীর্থ, কোটিতীর্থ, মানসতীর্থ, ধনুষ্কোটি প্রভৃতি। ফলশ্রুতিতে বলা হয়—এই অধ্যায় শ্রবণ বা পাঠ করলে জয়লাভ হয় এবং পুনর্জন্মজনিত দুঃখ প্রশমিত হয়।

112 verses

Adhyaya 3

Adhyaya 3

चक्रतीर्थ-धर्मपुष्करिणी-माहात्म्य (Cakratīrtha and Dharma Puṣkariṇī: Etiology and Merit)

এই অধ্যায়ে ঋষিগণ সূতকে চব্বিশটি সেতু-তীর্থের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, পরম্পরায় প্রথম গণ্য ‘চক্রতীর্থ’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। সূত বলেন—এর শুদ্ধিকরণ-শক্তি অতুলনীয়; কেবল স্মরণ, স্তব বা একবার স্নান করলেই সঞ্চিত পাপ ক্ষয় হয় এবং বারবার গর্ভবাস তথা পুনর্জন্মের ভয় দূর হয়। এরপর তিনি উৎপত্তিকথা বলেন। বিষ্ণুভক্ত মুনি গালব দক্ষিণ সমুদ্রতটে ধর্মপুষ্করিণীর নিকটে কঠোর তপস্যা করেন। ভগবান বিষ্ণু প্রকাশিত হয়ে বর দেন—অচঞ্চল ভক্তি, আশ্রমবাসে স্থিতি এবং নিজের চক্র দ্বারা রক্ষার আশ্বাস। অন্তর্গত আরেক কাহিনিতে ধর্মদেব শিবের তপস্যা করে শিবের বাহন বৃষভ হওয়ার বর লাভ করেন এবং অক্ষয় ফলদায়ী স্নানস্থান ‘ধর্মপুষ্করিণী’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরে এক রাক্ষস গালবকে আক্রমণ করলে তিনি নারায়ণের শরণ নেন। তখন সুদর্শন চক্র এসে রাক্ষস বধ করে এবং সরোবরের কাছে চিরস্থায়ী রক্ষার প্রতিজ্ঞা করে। সুদর্শনের নিত্য সান্নিধ্যে স্থানটি ‘চক্রতীর্থ’ নামে খ্যাত হয়; এখানে স্নান ও পিতৃতর্পণে বংশধর ও পূর্বপুরুষ উভয়ের কল্যাণ হয় বলা হয়েছে। শেষে ফলশ্রুতি—এই অধ্যায় শ্রবণ বা পাঠ করলে চক্রতীর্থ-স্নানের সমান পুণ্য, ইহলোকে মঙ্গল ও পরলোকে শুভগতি লাভ হয়।

115 verses

Adhyaya 4

Adhyaya 4

Cakra-tīrtha Māhātmya and the Curse of Durdama (चक्रतीर्थमाहात्म्यं तथा दुर्दमशापवृत्तान्तः)

অধ্যায়টি প্রশ্নোত্তররূপে অগ্রসর হয়। ঋষিরা সূতকে জিজ্ঞাসা করেন—বিষ্ণুভক্ত মুনি গালবকে যে রাক্ষস কষ্ট দিয়েছিল, সে কে? সূত হালাস্যক্ষেত্রের কাহিনি বলেন, যেখানে বশিষ্ঠপ্রমুখ বহু শিবভক্ত ঋষি পূজায় রত ছিলেন। সেখানে দুর্দম নামে এক গন্ধর্ব বহু নারীর সঙ্গে ক্রীড়ায় মগ্ন থেকে ঋষিদের দেখে নিজেকে আচ্ছাদিত করল না; বশিষ্ঠ ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে রাক্ষস হওয়ার শাপ দেন। নারীরা করুণা প্রার্থনা করলে বশিষ্ঠ শাপকে ষোলো বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেন এবং পরে পূর্বরূপ ফিরে পাওয়ার কথা জানান। দুর্দম ঘুরে বেড়িয়ে জীবদের উপদ্রব করতে করতে ধর্মতীর্থে এসে গালবকে আক্রমণ করে। গালব বিষ্ণুর স্তব করে শরণ নিলে সুদর্শনচক্র প্রেরিত হয়ে রাক্ষসের মস্তক ছিন্ন করে। দুর্দম পুনরায় গন্ধর্বরূপ লাভ করে চক্রের স্তব করে স্বর্গে প্রত্যাবর্তন করে। গালব সুদর্শনকে সেই স্থানে অবস্থান করতে প্রার্থনা করেন; ফলে চক্রতীর্থ পাপনাশক, ভয়নাশক (ভূত-পিশাচের ভয়ও দূরকারী) ও মোক্ষদায়ক তীর্থরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়। শেষে তীর্থের ‘বিভক্ত’ ভূগোলের কারণ বলা হয়—প্রাচীনকালে ইন্দ্র ডানাওয়ালা পর্বত কেটে দিলে তাদের কিছু অংশ পতিত হয়ে ভূমিরূপ বদলে তীর্থের মধ্যভাগ আংশিক পূর্ণ করে, তাই তীর্থটি বিভক্তরূপে দেখা যায়।

63 verses

Adhyaya 5

Adhyaya 5

Vidhūma–Alambusā Brahmaśāpa-nivṛttiḥ (Cakratīrtha Māhātmya) | Release from Brahmā’s Curse through Cakratīrtha

সূত মুনিদের কাছে চক্রতীর্থের অসাধারণ মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন—এটি পাপবিনাশক তীর্থ। ব্রহ্মার সভায় বায়ুর টানে অলম্বুসার বস্ত্র সরে গেলে বিধূম বসুর মনে কামভাব জাগে; তা দেখে ব্রহ্মা তাঁকে মানবজন্মের শাপ দেন এবং অলম্বুসাকেই ভবিষ্যৎ স্ত্রী হিসেবে নির্ধারণ করেন। বিধূম প্রার্থনা করলে ব্রহ্মা শাপমোচনের শর্ত স্থির করেন—রাজা হয়ে রাজ্য শাসন, পুত্র উৎপন্ন, পুত্রকে সিংহাসনে বসিয়ে দক্ষিণ সমুদ্রতটে ফুল্লগ্রামের নিকট চক্রতীর্থে স্ত্রীর সঙ্গে স্নান; তবেই শাপ নাশ হবে। এরপর শাপের ইতিহাস সোমবংশীয় রাজা শতানীক ও রানি বিষ্ণুমতীর কাহিনিতে প্রবাহিত হয়; ঋষি শাণ্ডিল্যের অনুগ্রহে সহস্রানীক (বিধূমেরই রূপ) জন্ম নেন এবং তাঁর অনুচররাও রাজসঙ্গী হয়ে জন্মায়। অলম্বুসা রাজা কৃতবর্মার কন্যা মৃগাবতী রূপে জন্মায়। এক পাখি তাকে নিয়ে গেলে সে জমদগ্নির আশ্রমে আশ্রয় পায়, সেখানে উদয়নকে প্রসব করে; পরে পরিচয়চিহ্ন ও ঋষির সহায়তায় পুনর্মিলন ঘটে। উদয়নকে রাজ্যে প্রতিষ্ঠা করে সহস্রানীক মৃগাবতীসহ চক্রতীর্থে তীর্থযাত্রা করেন। স্নানমাত্রেই মানবভাব লুপ্ত হয়, দিব্যরূপ প্রত্যাবর্তিত হয় এবং স্বর্গারোহণের বর্ণনা আসে। শেষে ফলশ্রুতি—এই অধ্যায় পাঠ-শ্রবণে ইষ্টসিদ্ধি হয় এবং চক্রতীর্থের ধর্মীয় কর্তৃত্ব সুদৃঢ় হয়।

167 verses

Adhyaya 6

Adhyaya 6

देवीपत्तन-चक्रतीर्थ-प्रश्नः तथा दुर्गोत्पत्तिः (Devīpattana & Cakratīrtha Inquiry; Manifestation of Durgā)

এই অধ্যায়ে ঋষিগণ সূতকে জিজ্ঞাসা করেন—দেবীপুর/দেবীপত্তনের সঠিক অবস্থান কোথায় এবং পূজ্য চক্রতীর্থের সীমা কতদূর, বিশেষত সেতুমূলের নিকটে যেখানে তীর্থযাত্রীরা স্নান করেন। সূত বলেন, এই কাহিনি শ্রোতা-পাঠকের পাপক্ষয়কারী; তিনি রামের পাথর দিয়ে সেতুবন্ধনের প্রথম কর্ম স্মরণ করিয়ে সেই পবিত্র অঞ্চলে দেবীপুরের অবস্থান নির্দিষ্ট করেন। এরপর দেবীমাহাত্ম্য শুরু হয়। দেবাসুর যুদ্ধে শোকাকুল দিতি এক পুত্রলাভের জন্য কন্যাকে কঠোর তপস্যায় নিয়োজিত করেন। ঋষি সুপার্শ্ব বর দিয়ে ভবিষ্যৎ পুত্র মহিষের কথা বলেন—মহিষমুখ, কিন্তু মানবদেহধারী, যে ইন্দ্রাদি দেবতাদের কষ্ট দেবে। মহিষ শক্তিশালী হয়ে অসুরনেতাদের একত্র করে দীর্ঘ যুদ্ধ করে; দেবগণ পদচ্যুত হয়ে ব্রহ্মার শরণ নেন। ব্রহ্মা বিষ্ণু ও শিবের নিকট গেলে তাঁদের ক্রোধ এবং বহু দেবতার তেজ একত্র হয়ে জ্যোতির্ময়ী দেবী দুর্গার রূপ ধারণ করে; তাঁর অঙ্গপ্রত্যঙ্গে দেবশক্তির বিন্যাস বর্ণিত। দেবগণ তাঁকে অস্ত্র ও অলংকারে ভূষিত করেন; তাঁর গর্জনে বিশ্ব কেঁপে ওঠে। যুদ্ধক্ষেত্রে দুর্গা ও তাঁর গণেরা মহিষের বিশাল সেনা ও মন্ত্রীদের বিনাশ করেন; তাঁর উপস্থিতিতে দেবগণের সাহস ফিরে আসে। এভাবে তীর্থভূমির নাম-পরিচয়ের সঙ্গে দैবশক্তি, বিশ্বব্যবস্থা ও পুরাণশ্রবণের পবিত্র ফল যুক্ত হয়।

76 verses

Adhyaya 7

Adhyaya 7

Chapter 7: Durgā’s Victory over Mahiṣāsura and the Setu-Tīrtha Itinerary (Dharmapuṣkariṇī–Cakratīrtha–Setumūla)

এই অধ্যায়ে দুইটি ধারার সমন্বয় দেখা যায়—দেবীর যুদ্ধজয়-কথা এবং তীর্থযাত্রার পথনির্দেশ। প্রথমে সূত বর্ণনা করেন যে অম্বিকা/চণ্ডিকা/দুর্গা/ভদ্রকালী মহিষাসুরের মন্ত্রী ও বীরদের (চণ্ডকোপ, চিত্রভানু, করাল প্রভৃতি) অস্ত্রশস্ত্র, রণকৌশল ও দিব্য শক্তিতে পরাস্ত করেন। মহিষাসুর ছলনায় রূপ বদলায়—মহিষ, সিংহসদৃশ, খড়্গধারী মানব, গজ এবং পুনরায় মহিষ; দেবীর বাহন সিংহও যুদ্ধে অংশ নেয়। এরপর ‘অশরীরী বাণী’ দেবীকে নির্দেশ দেয়—ধর্মপুষ্করিণীর জলে লুকিয়ে থাকা মহিষাসুরকে প্রকাশ করতে। সিংহ জল পান করে জলাশয় শুষ্ক করে দেয়, অসুর প্রকাশিত হয়; দেবী তার মস্তকে পদ স্থাপন করে কণ্ঠে শূল বসিয়ে শিরচ্ছেদ করেন। তারপর দেবস্তব, ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও বিশ্বশান্তির কথা বলা হয়। দ্বিতীয় অংশে তীর্থ-মাহাত্ম্য ও যাত্রাক্রম—দেবী দক্ষিণ সমুদ্রতটে নগর স্থাপন করেন; তীর্থসমূহ নাম ও বর লাভ করে, অমৃত-সম্পর্কও উল্লিখিত। নবপাষাণ অঞ্চলে স্নান, চক্রতীর্থে স্নান এবং সংকল্পসহ সেতুবন্ধের দিকে গমন নির্দেশিত; নল ও বানরদের দ্বারা শ্রীরামের সেতু নির্মাণ, তার পরিমাপ ও পবিত্রতার দাবি বর্ণিত। শেষে ভক্তিভরে পাঠ-শ্রবণে পুণ্য ও সিদ্ধিলাভের ফলশ্রুতি প্রদান করা হয়েছে।

71 verses

Adhyaya 8

Adhyaya 8

Vetalavaradā-Tīrtha Māhātmya (वेतालवरदातीर्थ-माहात्म्य) — The Origin of the Vetalavarada Sacred Ford

এই অধ্যায়ে ঋষিগণ সূতকে আরও পুণ্যকথা বলতে অনুরোধ করেন এবং বিশেষ করে চক্রতীর্থের দক্ষিণে অবস্থিত প্রসিদ্ধ বেতালবরদা তীর্থের মাহাত্ম্য জানতে চান। সূত কৈলাসে শম্ভু কর্তৃক পূর্বে কথিত এক গূঢ় অথচ লোকহিতকর উপাখ্যান বর্ণনা করেন। সেখানে ঋষি গালব ও তাঁর কন্যা কান্তিমতীর কথা আছে—পিতৃসেবা, সংযম ও শীলাচারে তিনি ধর্মের আদর্শ স্থাপন করেন। তাঁকে দেখে বিদ্যাধর রাজপুত্র সুদর্শন ও তার কনিষ্ঠ সঙ্গী সুকর্ণ কামাসক্ত হয়; সুদর্শন জোর করে তাঁকে ধরে। কান্তিমতীর প্রকাশ্য আর্তনাদে মুনিরা সমবেত হলে গালব শাপ দেন—সুদর্শন মানবজন্মে পতিত হয়ে লোকনিন্দা ভোগ করবে এবং শেষে বেতাল হবে; সুকর্ণও মানবজন্ম পাবে, তবে কম অপরাধে বেতালত্ব থেকে রেহাই পাবে, এবং ভবিষ্যতে এক বিদ্যাধরাধিপতির পরিচয়ে মুক্তির শর্ত নির্ধারিত হয়। শাপফলে তারা যমুনাতীরে বিদ্বান ব্রাহ্মণ গোবিন্দস্বামিনের পুত্ররূপে জন্মায়, দীর্ঘ দুর্ভিক্ষের সময়। এক সন্ন্যাসীর ভয়ংকর আশীর্বাদ জ্যেষ্ঠপুত্র (বিজয়দত্ত—সুদর্শনই) থেকে বিচ্ছেদের ইঙ্গিত দেয়। এক রাতে শূন্য মন্দিরে শীতজ্বরে কাতর হয়ে সে আগুন চায়; পিতা শ্মশানে আগুন আনতে গেলে পুত্রও অনুসরণ করে, চিতার আগুনের কাছে খুলিতে আঘাত করে রক্ত-মেদ আস্বাদন করে এবং মুহূর্তে ভয়ংকর বেতালে রূপান্তরিত হয়। দিব্যবাণী তাকে পিতৃহিংসা থেকে নিবৃত্ত করে; সে অন্য বেতালদের মধ্যে গিয়ে ‘কপালস্ফোট’ নামে পরিচিত হয় এবং সংঘর্ষের পর বেতালদের অধিপতি হয়। এইভাবে নৈতিক কারণ-পরিণামের দ্বারা তীর্থের পরিচয় প্রতিষ্ঠিত—অধর্মকামনা পতনের কারণ, আর ভূমি সেই স্মৃতিকে পবিত্র তীর্থনামে ধারণ করে।

94 verses

Adhyaya 9

Adhyaya 9

Aśokadatta’s Exploits and the Revelation of Vetalavaradā Tīrtha (अशोकदत्त-वीरचरितम् • वेतालवरदातीर्थ-माहात्म्यम्)

এই অধ্যায়ে নীতিশিক্ষামূলক কাহিনি ও তীর্থপ্রকাশ একসূত্রে গাঁথা। শোকাহত ব্রাহ্মণ গোবিন্দস্বামীকে দয়ালু বণিক সমুদ্রদত্ত আশ্রয় দেন; তাঁর পুত্র অশোকদত্ত শাস্ত্রবিদ্যা ও অস্ত্রবিদ্যায় অসাধারণ দক্ষ হয়ে ওঠে। কাশীর রাজা প্রতাপমুকুট দক্ষিণের দুর্ধর্ষ মল্ল-রাজকে পরাজিত করতে অশোকদত্তকে নিয়োগ করেন; বিজয়ে নায়কের জনসম্মান ও রাজানুগ্রহ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী ঘটনায় রাজা ও অশোকদত্ত শূলবিদ্ধ এক তৃষ্ণার্ত মানুষের আর্তি শোনেন; রাজা জলদানের আদেশ দিয়ে রাজধর্মে করুণার গুরুত্ব প্রকাশ করেন। ভূত-ভেতাল-পিশাচে ভরা শ্মশানে এক রহস্যময়ী নারী নিজেকে সেই ব্যক্তির প্রেয়সী বলে অশোকদত্তের কাঁধ চাইলে, অশোকদত্ত তার হিংস্র অভিসন্ধি বুঝে রত্নখচিত নূপুর কেড়ে নিয়ে রাজাকে সব জানায়। রাজা তাকে সম্মান দেন এবং মদনলেখার সঙ্গে বিবাহ-সম্বন্ধ স্থির করেন। পরে রাজা একই রকম নূপুর চাইলে অশোকদত্ত কৌশলে আবার শ্মশানে যায়, ‘মহামাংস’ প্রলোভন দেখিয়ে রাক্ষসীকে টেনে এনে দ্বিতীয় নূপুর, দ্বিতীয় পত্নী বিদ্যুৎপ্রভা এবং দেবসরোবর-সম্পর্কিত স্বর্ণপদ্ম লাভ করে। ভেতালরাজ কপালবিস্ফোটের সঙ্গে যুক্ত সেই সরোবরের প্রসঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে বিদ্যাধর-নেতা বিজ্ঞপ্তিকৌতুক এসে শাপের রহস্য জানান—অশোকদত্তের ভ্রাতা সুকর্ণ অনুচিত সংস্পর্শে ভেতাল হয়েছে, আর অশোকদত্তও শাপ-বন্ধনে জড়িত। প্রতিকার হিসেবে দক্ষিণ সমুদ্রতটে চক্রতীর্থের নিকট এক পরম তীর্থের কথা বলা হয়। সেখানে বাতাসে ভেসে আসা জলের বিন্দু স্পর্শমাত্রেই সুকর্ণ ভেতালত্ব থেকে মুক্ত হয়; অশোকদত্ত সংকল্পসহ স্নান করে দিব্যরূপ প্রাপ্ত হয়। স্থানটির নাম ‘ভেতালবরদা’—অতিশয় ফলপ্রদ বলে ঘোষিত; পিতৃদের জন্য পিণ্ডদান প্রভৃতি বিধান এবং পাঠ-শ্রবণে মুক্তিলাভের ফলশ্রুতি দিয়ে অধ্যায় শেষ হয়।

91 verses

Adhyaya 10

Adhyaya 10

गन्धमादन-सेतुरूप-वर्णनम् तथा पापविनाशन-तीर्थमाहात्म्यम् (Gandhamādana as Setu-form and the Glory of Pāpavināśana Tīrtha)

অধ্যায়ের শুরুতে সূত তীর্থযাত্রার বিধান বলেন—বেতালবরদা তীর্থে স্নান করে ধীরে ধীরে গন্ধমাদনের দিকে যেতে হবে। গন্ধমাদনকে সমুদ্রের মধ্যে ‘সেতু-রূপে’ স্থিত, ব্রহ্মলোক-সম্পর্কিত এক দিব্য পথরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে সরোবর, নদী, সমুদ্র, বন, আশ্রম ও বৈদিক উপাসনাস্থল অগণিত; বশিষ্ঠাদি ঋষি, সিদ্ধ, চারণ, কিন্নর এবং দেবতারা দিনরাত বাস করেন। গন্ধমাদনের বায়ু মহাপাপের সঞ্চয় নাশ করে এবং কেবল দর্শনেই মানসিক প্রশান্তি লাভ হয়। যাত্রীকে সেতুবাহক পর্বতকে প্রণাম করে তার উপর পদার্পণে ক্ষমা চাইতে হবে, শিখরে বিরাজমান শঙ্করের দর্শন প্রার্থনা করে কোমল পদক্ষেপে অগ্রসর হতে হবে। গন্ধমাদনে সমুদ্রস্নান এবং সরিষার দানার মতো সামান্য পিণ্ডদান করলেও পিতৃগণের দীর্ঘকাল তৃপ্তি হয় বলে বলা হয়েছে। এরপর ঋষিরা ‘পাপবিনাশন’ তীর্থের মাহাত্ম্য জানতে চান। সূত হিমবতের নিকট এক আশ্রমের কথা বলেন, যেখানে নিয়মনিষ্ঠ বৈদিক সাধকরা থাকেন। দৃঢ়মতি নামে এক শূদ্র দীক্ষা ও শিক্ষা চাইলে কুলপতি সামাজিক-আচারগত বিধিনিষেধ দেখিয়ে অস্বীকার করেন। দৃঢ়মতি পৃথক কুটির নির্মাণ করে ভক্তিভরে অতিথিসেবা করতে থাকে। সুমতি নামে এক ব্রাহ্মণ স্নেহবশত তাকে গোপন বৈদিক ক্রিয়া (হব্য-কব্য, শ্রাদ্ধ, মহালয় প্রভৃতি) শিক্ষা দেন; ফলে সুমতির ভয়ংকর কর্মপতন, নরকভোগ ও পরজন্মে ব্রহ্মরাক্ষস-দোষ ঘটে। দোষগ্রস্ত পুত্রকে অগস্ত্যের কাছে আনা হলে তিনি কারণ ব্যাখ্যা করে একমাত্র প্রতিকার বলেন—সেতুপ্রদেশে গন্ধমাদনের উপরে অবস্থিত পাপবিনাশন তীর্থে তিন দিন স্নান। এই অনুষ্ঠানে দোষ দূর হয়, স্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি ফিরে আসে এবং মৃত্যুকালে মুক্তির প্রতিশ্রুতি মেলে। শেষে পাপবিনাশনকে সর্বপাপহর, স্বর্গ-মোক্ষদায়ক ও ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশের পূজিত তীর্থ বলে পুনরুচ্চারিত করা হয়েছে, এবং অনধিকারীকে আচারজ্ঞান দানের সতর্কতা ও বিধিসম্মত তীর্থযাত্রার শুদ্ধিপথ নির্দেশ করা হয়েছে।

97 verses

Adhyaya 11

Adhyaya 11

सीतासरः-माहात्म्यं (Sītāsaras / Sītākuṇḍa Māhātmya: Indra’s Purification Narrative)

এই অধ্যায়ে সূত মুনি জিজ্ঞাসু ঋষিদের কাছে সীতাসর/সীতাকুণ্ডের তীর্থ-মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। বলা হয়—আগে পাপনাশ তীর্থে স্নান করে, নিয়মানুবর্তিতায় সীতাসরে এসে স্নান করলে সম্পূর্ণ শুদ্ধি লাভ হয়। এখানে প্রধান প্রধান তীর্থের পুণ্য একত্রে বিরাজ করে—তাই সীতাসরকে সংক্ষিপ্ত পবিত্রতার আধার বলা হয়েছে। এরপর ইন্দ্র (পুরন্দর)-এর ব্রহ্মহত্যা-দোষের কারণ ও মুক্তির কাহিনি আসে। বরপ্রাপ্ত শক্তিশালী রাক্ষস কপালাভরণ অমরাবতীতে আক্রমণ করে; দীর্ঘ যুদ্ধের শেষে ইন্দ্র বজ্র দিয়ে তাকে বধ করেন। “রাক্ষস বধে ব্রহ্মহত্যা কেন?”—এর উত্তর, কপালাভরণের জন্ম ব্রাহ্মণ-বীজসংযুক্ত: ঋষি শুচির সঙ্গে সুশীলা (রাক্ষস ত্রিবক্রের স্ত্রী)-র অপরাধজনিত সম্পর্ক থেকে তার উৎপত্তি; তাই তাকে বধ করায় ব্রহ্মহত্যা ইন্দ্রকে তাড়া করে। ইন্দ্র ব্রহ্মার শরণ নেন। ব্রহ্মা গন্ধমাদন পর্বতে অবস্থিত সীতাকুণ্ডে সদাশিব-পূজা ও কুণ্ডস্নানের বিধান দেন; তাতে ইন্দ্র শুদ্ধ হয়ে স্বলোকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হন। শেষে সীতার সান্নিধ্য থেকে তীর্থের নাম-মাহাত্ম্যের কারণ বলা হয় এবং ফলশ্রুতি—এখানে স্নান, দান ও ক্রিয়াকর্মে ইষ্টসিদ্ধি ও শুভ পরলোকগতি, আর এই কাহিনি শ্রবণ-পাঠে ইহলোক-পরলোকে মঙ্গল লাভ হয়।

74 verses

Adhyaya 12

Adhyaya 12

मंगलतीर्थमाहात्म्यम् (Mangalatīrtha Māhātmya: The Glory of the Auspicious Tīrtha)

এই অধ্যায়ে সূত মঙ্গলতীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। সীতাকুণ্ডে স্নান করে ভক্তকে শান্তচিত্তে মঙ্গলতীর্থে যেতে বলা হয়েছে; সেখানে কমলা-লক্ষ্মীর নিত্য সান্নিধ্য, দেবগণের নিয়মিত সমাবেশ এবং অলক্ষ্মী-দুর্ভাগ্য নিবারণের শক্তি বিশেষভাবে প্রশংসিত। এরপর সোমবংশীয় রাজা মনোজবের ইতিহাস আসে। তিনি প্রথমে ধর্মপরায়ণ, যজ্ঞকারী, পিতৃতর্পণকারী ও শাস্ত্রাধ্যায়ী ছিলেন; কিন্তু অহংকার থেকে লোভ, কাম, ক্রোধ, হিংসা ও ঈর্ষা জন্মায়। তিনি ব্রাহ্মণদের অপমান করেন, দেবদ্রব্য লুণ্ঠন করেন ও ভূমি কেড়ে নেন; ফলে শত্রু গোলভের কাছে পরাজিত হয়ে স্ত্রী সুমিত্রা ও পুত্র চন্দ্রকান্তসহ ভয়ংকর অরণ্যে নির্বাসিত হন। অরণ্যে শিশুর ক্ষুধা রাজাকে অনুতাপে ভেঙে দেয়। তিনি দান, শিব-বিষ্ণু পূজা, শ্রাদ্ধ, উপবাস, নামকীর্তন, তিলকধারণ, জপ এবং বৃক্ষরোপণ-জলাশয় নির্মাণের মতো লোকহিতকর কর্ম অবহেলার কথা স্বীকার করে দুঃখের কারণ হিসেবে দেখান। তখন ঋষি পরাশর এসে সুমিত্রাকে সান্ত্বনা দেন, ত্র্যম্বকভক্তি ও মন্ত্রে মূর্ছিত রাজাকে জাগিয়ে তোলেন এবং গন্ধমাদনে রামসেতুর নিকট মঙ্গলতীর্থে তীর্থযাত্রা, স্নান-শ্রাদ্ধ ও সংযমাচরণের বিধান দেন। মনোজব চল্লিশ দিন একাক্ষর মন্ত্রজপ করেন; তীর্থপ্রভাবে ও ঋষির কৃপায় দিব্যাস্ত্র ও রাজচিহ্ন প্রকাশ পায়। পরাশর তাঁর অভিষেক করে অস্ত্রবিদ্যার উপদেশ দেন। রাজা ফিরে ব্রহ্মাস্ত্রে গোলভকে জয় করে অহংকারহীনভাবে রাজ্য শাসন করেন; পরে বৈরাগ্য গ্রহণ করে আবার মঙ্গলতীর্থে শিবধ্যানসহ তপস্যা করে দেহান্তে শিবলোকে গমন করেন, সুমিত্রাও অনুসরণ করেন। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—এই তীর্থ সংসারকল্যাণ ও মুক্তিমুখী ফল দেয় এবং শুকনো ঘাসকে আগুন যেমন দগ্ধ করে তেমনি পাপ দহন করে।

117 verses

Adhyaya 13

Adhyaya 13

Amṛtavāpikā-Māhātmya and the Origin of Ekāntarāmanātha-kṣetra (अमृतवापिकामाहात्म्यं तथा एकांतरामनाथक्षेत्रोत्पत्तिः)

এই অধ্যায়ে শ্রীসূত তীর্থ-মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। মঙ্গলাখ্য মহাতীর্থে স্নান করে তীর্থযাত্রী একান্তরামনাথ-ক্ষেত্রে গমন করে, যেখানে জগন্নাথ-রূপ শ্রীराम সীতা, লক্ষ্মণ, হনুমান ও বানরসেনাসহ সর্বদা বিরাজমান—এতে ক্ষেত্রটির চিরপবিত্রতা ও দেবরক্ষার নৈকট্য প্রকাশ পায়। এরপর ‘অমৃতবাপিকা’ নামক পুণ্যসরোবরের মাহাত্ম্য বলা হয়েছে। শ্রদ্ধাসহ স্নান জরা-মৃত্যুভয় নাশ করে, পাপ শোধন করে এবং শঙ্করের কৃপায় ‘অমৃতত্ব’ প্রদান করে। ঋষিদের প্রশ্নে নামের কারণ বলা হয়—হিমবতের নিকটে অগস্ত্যের অনুজ দীর্ঘকাল কঠোর তপস্যা করেন; সন্ধ্যা, জপ, অতিথিপূজা, পঞ্চযজ্ঞ ও শ্রাদ্ধাদি নিত্যকর্ম কঠোরভাবে পালন করেন। শিব আবির্ভূত হয়ে সেতু/গন্ধমাদনের কাছে মঙ্গলাখ্য তীর্থে স্নানকে দ্রুত মোক্ষের উপায় বলেন; তিনি তিন বছর নিয়মে স্নান করে চতুর্থ বছরে ব্রহ্মরন্ধ্র দিয়ে যোগমার্গে দেহত্যাগ করে দুঃখমুক্ত হন। তাই সরোবর ‘অমৃতবাপিকা’ নামে প্রসিদ্ধ হয় এবং তিন বছরের স্নানব্রত অমৃতত্বের সাধন বলা হয়। শেষে একান্তরামনাথ নামের উৎপত্তি—সেতু নির্মাণকালে সমুদ্রের গর্জনে শ্রীराम রাবণবধের বিষয়ে সহচরদের সঙ্গে একান্তে পরামর্শ করেন; সেই একান্ত পরামর্শস্থলই একান্তরামনাথ-ক্ষেত্র। উপসংহারে বলা হয়, গভীর দর্শনজ্ঞান বা বিধিকৌশল না থাকলেও এখানে স্নান করলে ‘অমৃত’ লাভ হয়।

53 verses

Adhyaya 14

Adhyaya 14

Brahmakūṇḍa-māhātmya and the Liṅga-Origin Discourse (ब्रह्मकुण्ड-माहात्म्य तथा लिङ्गोद्भव-प्रसङ्ग)

এই অধ্যায়ে দুই ভাগে তত্ত্ব ও আচারবিধির বর্ণনা আছে। প্রথমে সূত সেতু-কেন্দ্রিক পবিত্র মানচিত্রে গন্ধমাদনে অবস্থিত ব্রহ্মকুণ্ড পর্যন্ত তীর্থযাত্রার ক্রম বলেন। ব্রহ্মকুণ্ড দর্শন ও স্নানকে সর্বপাপ-নাশক এবং বৈকুণ্ঠলাভের কারণ বলা হয়েছে। বিশেষভাবে ব্রহ্মকুণ্ড-উৎপন্ন ভস্মের মাহাত্ম্য—ত্রিপুণ্ড্ররূপে বা কপালে এক কণাও ধারণ করলে তৎক্ষণাৎ মোক্ষাভিমুখী হয়; তা অবজ্ঞা বা গ্রহণে অস্বীকারকে গুরুতর ধর্মভ্রষ্টতা ও পরলোকে অশুভ ফলদায়ক বলা হয়েছে। দ্বিতীয় ভাগে ঋষিদের প্রশ্নে সূত ব্রহ্মা–বিষ্ণুর অহংকার-বিবাদ ও অনাদি-অনন্ত স্বয়ংজ্যোতি লিঙ্গের আবির্ভাব বর্ণনা করেন। বিষ্ণু সত্য স্বীকার করেন, ব্রহ্মা মিথ্যা দাবি করেন; তখন শিব বিধান দেন—ব্রহ্মার মূর্তি-উপাসনা সীমিত হবে, তবে বৈদিক/স্মার্ত পূজা চলবে, এবং দোষপ্রশমনে গন্ধমাদনে মহাযজ্ঞ করতে ব্রহ্মাকে নির্দেশ দেন। সেই যজ্ঞস্থানই ‘ব্রহ্মকুণ্ড’ নামে প্রসিদ্ধ, মোক্ষের ‘দরজার খিল’ ভাঙার প্রতীক; এখানকার ভস্ম মহাপাপ ও অশুভ সত্তা নিবারণ করে। শেষে দেব-ঋষিদের নিত্য উপস্থিতি ও সেখানে অবিরত যজ্ঞকর্মের প্রশংসা করা হয়েছে।

65 verses

Adhyaya 15

Adhyaya 15

हनूमत्कुण्डमाहात्म्यं तथा धर्मसखराजचरितम् (Glory of Hanumat-Kuṇḍa and the Account of King Dharmasakha)

সূত বলেন—অতিপুণ্য ব্রহ্মকুণ্ডে স্নান করে নিয়মশীল তীর্থযাত্রীকে হনূমৎ-কুণ্ডে যেতে হয়। মারুতাত্মজ হনুমান লোককল্যাণের জন্য এই পরম তীর্থ প্রতিষ্ঠা করেছেন; এটি অনন্য শক্তিসম্পন্ন এবং রুদ্রও নাকি এর সেবা করেন। এখানে স্নান করলে মহাপাপ নাশ হয়, শিবলোক প্রভৃতি শুভ গতি লাভ হয় এবং নরকফল ক্রমে ক্ষয় হয়। এরপর রাজা ধর্মসখের কাহিনি। কেকয়বংশীয় এই ধার্মিক ও বিজয়ী রাজা বহু রানি থাকা সত্ত্বেও উত্তরাধিকারী না থাকায় দুঃখিত ছিলেন। দান, যজ্ঞ (অশ্বমেধ), অন্নদান, শ্রাদ্ধ ও মন্ত্রজপ বহু করেও দীর্ঘদিন পরে এক পুত্র সুচন্দ্র লাভ করেন; কিন্তু বিচ্ছুর দংশনে বংশরক্ষার ভয় জাগে। তিনি ঋত্বিক ও পুরোহিতের কাছে ধর্মসম্মত উপায় চান; তারা গন্ধমাদন/সেতু-প্রদেশের হনূমৎ-কুণ্ডে স্নান করে তীরে পুত্রীয়েষ্টি করার বিধান দেন। রাজা পরিবার ও যজ্ঞসামগ্রীসহ সেখানে গিয়ে নিয়ত স্নান ও যাগ সম্পন্ন করেন, প্রচুর দক্ষিণা-দান করে ফিরে আসেন। পরে প্রত্যেক রানি এক-একটি করে পুত্র প্রসব করেন—শতাধিক সন্তান হয়। রাজা তাদের মধ্যে রাজ্য বণ্টন করে আবার সেতুতে হনূমৎ-কুণ্ডে তপস্যা করেন, শান্তিতে দেহত্যাগ করে বৈকুণ্ঠ লাভ করেন; পুত্ররা বিবাদহীনভাবে রাজ্য শাসন করে। শেষে বলা হয়—মনোযোগসহ পাঠ বা শ্রবণ করলে ইহ-পর সুখ ও দিব্য সান্নিধ্য লাভ হয়।

73 verses

Adhyaya 16

Adhyaya 16

अगस्त्यतीर्थमहिमा तथा कक्षीवान्-स्वनय-कथा (Glory of Agastya Tīrtha and the Kakṣīvān–Svanaya Narrative)

সূত হানুমানের কুণ্ডে স্নান থেকে তীর্থযাত্রার ক্রম বর্ণনা করে পরে অগস্ত্যতীর্থের মহিমা বলেন, যা কুম্ভযোনি অগস্ত্য মুনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রাচীন কালে মেরু ও বিন্ধ্যের প্রসঙ্গে বিন্ধ্য পর্বতের বৃদ্ধি বিশ্ব-সমতা বিঘ্নিত করতে চাইলে শিবের নির্দেশে অগস্ত্য বিন্ধ্যকে সংযত করেন এবং ধর্ম-ব্যবস্থা স্থিত করেন। পরে গন্ধমাদন অঞ্চলে তিনি নিজের নামে অতিপুণ্য তীর্থ স্থাপন করেন। ফলশ্রুতি স্পষ্ট—সেই তীর্থে স্নান ও পান করলে পুনর্জন্মের বন্ধন ক্ষয় হয়, পার্থিব সিদ্ধি ও মোক্ষোপযোগী ফল লাভ হয়; তিন কালে তুলনাহীন তীর্থ বলে ঘোষিত। এরপর উপাখ্যান: দীর্ঘতমসের পুত্র কক্ষীবান উদঙ্কের কাছে বিস্তৃত বৈদিক শিক্ষা সম্পন্ন করে অগস্ত্যতীর্থে তিন বছর নিয়মবদ্ধ বাসের নির্দেশ পান; তপস্যার ফলে চারদন্ত হাতি বাহনরূপে প্রকাশ পাবে বলে প্রতিশ্রুতি। রাজা স্বনয়ের কন্যা এমন হাতিতে আগত ব্যক্তিকেই বিবাহ করবে বলে ব্রত নিয়েছিল; কক্ষীবানের ব্রতপালনে শর্ত পূর্ণ হয় এবং ধর্মসম্মত বিবাহ সম্পন্ন হয়। দূত সুদর্শনের মাধ্যমে দীর্ঘতমসের আনুষ্ঠানিক সম্মতি নেওয়া হয়; তিনি অনুমোদন দিয়ে তীর্থে আগমন করেন—বিবাহানুমতি, ব্রতরক্ষা ও তীর্থশৃঙ্খলার নীতিধর্ম দৃঢ় হয়।

100 verses

Adhyaya 17

Adhyaya 17

कक्षीवद्विवाहः — Kakṣīvān’s Marriage at Agastya-tīrtha (Rituals, Gifts, and Phalaśruti)

এই অধ্যায়ে সেতুখণ্ডের অন্তর্গত অগস্ত্য-তীর্থে কক্ষীবানের বিবাহ-প্রসঙ্গ বর্ণিত। সূত বলেন—গুরুর নির্দেশে বিবাহের উপযুক্ত উপায় অন্বেষণ করে কক্ষীবান তীর্থে উপস্থিত হন। নদীতীরে পুত্রসহ দীর্ঘতমস ঋষির সংবাদ পেয়ে রাজা স্বনয় ভক্তিভরে প্রণাম করেন; উদঙ্কও শিষ্যসহ রামসেতু/ধনুষ্কোটিতে স্নান করতে এসে আচার্যরূপে বৈদিক ক্রিয়ায় কর্তৃত্ব গ্রহণ করেন। অতিথি-সৎকারের বিধি—অভিবাদন, আশীর্বাদ, অর্ঘ্য—যথাযথ সম্পন্ন হয়; শুভ মুহূর্তে বিবাহ নির্ধারিত হয় এবং রাজপ্রাসাদ থেকে কন্যা আনার ব্যবস্থা করা হয়। তারপর মঙ্গলাচারসহ বরযাত্রা, নীরাজন, বরমালা, অগ্নি স্থাপন, লাজা-হোম প্রভৃতি এবং উদঙ্কের তত্ত্বাবধানে পাণিগ্রহণ সম্পন্ন হয়। পরিশেষে রাজা ব্রাহ্মণদের মহাভোজ ও দান করেন এবং কন্যাকে প্রচুর স্ত্রীধন ও উপহার প্রদান করেন। ঋষিগণ বেদারণ্য আশ্রমে প্রত্যাবর্তন করেন, রাজাও নিজ নগরে ফেরেন। ফলশ্রুতি বলে—এই প্রাচীন, বেদসম্মত আখ্যান শ্রবণ/পাঠ করলে মঙ্গল বৃদ্ধি পায় এবং দুঃখ-দারিদ্র্য প্রশমিত হয়।

59 verses

Adhyaya 18

Adhyaya 18

रामतीर्थ-रघुनाथसरः-माहात्म्य तथा धर्मपुत्रप्रायश्चित्तवर्णनम् (Rāma-tīrtha and Raghunātha-saras Māhātmya; Yudhiṣṭhira’s Expiation Narrative)

অধ্যায়ের শুরুতে তীর্থ-পরিক্রমা বর্ণিত—কুম্ভসম্ভব-তীর্থে স্নান করে রামকুণ্ডে গমন, যেখানে স্নানে পাপমোচন বলা হয়েছে। এরপর রঘুনাথ-সরঃ-এর মাহাত্ম্য কীর্তিত—এটি পাপহরণ তীর্থ; বেদজ্ঞদের অল্প দানও বহুগুণ ফল দেয়, এবং এখানে স্বাধ্যায় ও জপ বিশেষ ফলপ্রদ। সূত সুतीক্ষ্ণ ঋষির পবিত্র ইতিহাস বলেন—অগস্ত্যশিষ্য, রামচরণভক্ত সুतीক্ষ্ণ রামচন্দ্র-সরঃ-এর তীরে কঠোর তপস্যা করেন, অবিরত ষড়াক্ষর রামমন্ত্র জপ করেন এবং রামের নাম-উপাধি ও লীলাকর্মের প্রতি নমস্কার-স্তোত্র নিবেদন করেন। দীর্ঘ সাধনা ও তীর্থসেবায় তাঁর ভক্তি স্থির ও নির্মল হয়; অদ্বৈতবোধ এবং যোগসিদ্ধিগুলি গৌণ ফল হিসেবে উল্লেখিত। পরে তীর্থের মোক্ষদায়িনী দাবি বিস্তৃত হয়—রাম জীবকল্যাণার্থে তীরে মহালিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন; স্নান ও লিঙ্গদর্শনকে মুক্তির পরিণতি বলা হয়েছে। এরপর ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠিরের দৃষ্টান্ত—অসত্যজনিত দোষ থেকে তিনি তৎক্ষণাৎ মুক্ত হন; ঋষিদের প্রশ্নে সূত মহাভারতের দ্রোণবধ, ‘অশ্বত্থামা’ সংক্রান্ত কৌশলী উক্তি ও তার নৈতিক ভার স্মরণ করান। পরে অশরীরী বাণী প্রায়শ্চিত্ত ব্যতীত রাজ্য গ্রহণে নিষেধ করে; ব্যাস এসে দক্ষিণ সমুদ্রে রামসেতু-আশ্রিত প্রায়শ্চিত্ত নির্দেশ দেন। শেষে ফলশ্রুতি—শ্রবণ-পাঠ কৈলাসগতি ও পুনর্জন্মমুক্তি প্রদান করে।

104 verses

Adhyaya 19

Adhyaya 19

श्रीलक्ष्मणतीर्थ-माहात्म्य एवं बलभद्र-ब्रह्महत्या-शोधन (Lakṣmaṇa-tīrtha Māhātmya and Balabhadra’s Expiation Narrative)

এই অধ্যায়ে সূত লক্ষ্মণ-তীর্থের স্নান-মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। এখানে স্নান পাপহর, দারিদ্র্যনাশক এবং আয়ু, বিদ্যা ও সন্তানের শুভফলদায়ক বলা হয়েছে। তীরে মন্ত্রজপে শাস্ত্র-দক্ষতা লাভ হয়, আর লক্ষ্মণের প্রতিষ্ঠিত মহালিঙ্গ ‘লক্ষ্মণেশ্বর’ এই স্থানকে জল-তীর্থ ও লিঙ্গ-উপাসনার যুগ্ম পুণ্যক্ষেত্রে পরিণত করে। এরপর ঋষিরা জিজ্ঞাসা করেন—বলভদ্র কীভাবে ব্রহ্মহত্যা-দোষে পতিত হলেন এবং কীভাবে শুদ্ধি পেলেন। সূত বলেন, কুরুক্ষেত্রযুদ্ধে নিরপেক্ষ থেকে তিনি তীর্থযাত্রার অজুহাতে বহু তীর্থ দর্শন করে নৈমিষারণ্যে আসেন। সেখানে উচ্চাসনে বসা এক সূত উঠে সম্মান না করায় ক্রুদ্ধ হয়ে বলভদ্র কুশের ধার দিয়ে তাকে বধ করেন; ঋষিরা একে ভয়ংকর ব্রহ্মবধ বলে ঘোষণা করে লোকসংগ্রহের জন্য প্রায়শ্চিত্তের নির্দেশ দেন। যজ্ঞদূষক দানব বল্বলকে বধ করতে বললে বলভদ্র তাকে সংহার করে এক বছর তীর্থব্রত পালন করেন; তবু কালো ছায়ারূপ অশুদ্ধি পিছু ছাড়ে না এবং বাণী শোনা যায়—পাপ সম্পূর্ণ ক্ষয় হয়নি। পরে ঋষিদের নির্দেশে রামসেতুর গন্ধমাদন অঞ্চলে লক্ষ্মণ-তীর্থে স্নান করে লক্ষ্মণেশ্বরে প্রণাম করলে দেহধারী বাণী সম্পূর্ণ শুদ্ধির সাক্ষ্য দেয়। শেষে ফলশ্রুতি—একাগ্রচিত্তে এই অধ্যায় পাঠ বা শ্রবণ করলে অপুনর্ভব-লক্ষণ মুক্তির পথে অগ্রগতি হয়।

75 verses

Adhyaya 20

Adhyaya 20

जटातीर्थमाहात्म्य (Jatātīrtha Māhātmya: The Glory of Jatātīrtha)

এই অধ্যায় ‘জটাতীর্থ-মাহাত্ম্য’—অন্তঃশুদ্ধি ও অজ্ঞতা-নাশের উপদেশরূপ। সূত ব্রাহ্মণদের বলেন, লক্ষ্মণের মহাতীর্থ (ব্রহ্মহত্যা-নাশক) থেকে অগ্রসর হয়ে চিত্তশুদ্ধির জন্য জটাতীর্থে গমন করতে। কেবল বেদান্তের বাক্য নিয়ে তর্ক-বিতর্ক, পাণ্ডিত্য-জাল ও বিবাদে জড়িয়ে পড়লে মন শুদ্ধ হয় না—এ কথা এখানে সমালোচিত; তার পরিবর্তে ‘লঘু উপায়’ হিসেবে জটাতীর্থ-স্নানকে অন্তঃকরণ-শুদ্ধি, অজ্ঞতা-নাশ, জ্ঞানোদয় এবং শেষে মোক্ষ ও অখণ্ড সচ্চিদানন্দ উপলব্ধির সরাসরি সাধন বলা হয়েছে। তীর্থের মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উৎপত্তিকথায়—শম্ভু লোকহিতার্থে এটি স্থাপন করেন; রাবণবধের পর শ্রীराम এখানে জলে নিজের জটা ধৌত করেন, তাই নাম হয় জটাতীর্থ। প্রসিদ্ধ স্নান-চক্রের তুলনায় সমান বা অধিক পুণ্য বলা হয়েছে, এবং একবার স্নানও ফলদায়ক। দৃষ্টান্তে শুক ব্যাসকে গোপন উপায় জিজ্ঞাসা করেন—চিত্তশুদ্ধি, জ্ঞান ও মুক্তিদায়ক; ব্যাস জটাতীর্থ নির্দেশ করেন। ভৃগুকে বরুণের উপদেশ, দুর্বাসা ও দত্তাত্রেয়ের প্রসঙ্গও দেখায়—যজ্ঞ, জপ, উপবাস বা কঠিন আচরণ ছাড়াই কেবল স্নানে বুদ্ধিশুদ্ধি হয়। শেষে ফলশ্রুতি—এই অধ্যায় পাঠ বা শ্রবণে পাপক্ষয় হয় এবং বৈষ্ণব গতি/পদ লাভ হয়।

52 verses

Adhyaya 21

Adhyaya 21

लक्ष्मीतीर्थमाहात्म्य (Laxmī-tīrtha Māhātmya) — The Glory of Lakṣmī Tīrtha

এই অধ্যায়ে সূত ঋষিদের কাছে তীর্থ-ক্রম বর্ণনা করে বিশেষভাবে লক্ষ্মী-তীর্থের মাহাত্ম্য প্রকাশ করেন। প্রথমে জটা-তীর্থে স্নানকে পাপ-নাশক বলা হয়েছে; তারপর শুদ্ধ তীর্থযাত্রী লক্ষ্মী-তীর্থে গিয়ে সংকল্পসহ স্নান করলে কাম্য ফল সিদ্ধ হয়। এরপর মহাভারতীয় দৃষ্টান্ত আসে। ইন্দ্রপ্রস্থবাসী যুধিষ্ঠির (ধর্মপুত্র) শ্রীকৃষ্ণকে জিজ্ঞাসা করেন—কোন ধর্মে মানুষ মহারাজ্য, ঐশ্বর্য ও সমৃদ্ধি লাভ করে। কৃষ্ণ গন্ধমাদন পর্বত-অঞ্চলে অবস্থিত লক্ষ্মী-তীর্থের নির্দেশ দেন এবং বলেন, সেখানে স্নানে ধন-ধান্য বৃদ্ধি পায়, শত্রু ক্ষয় হয়, ক্ষাত্রশক্তি দৃঢ় হয়, পাপ নাশ হয় ও রোগ প্রশমিত হয়। যুধিষ্ঠির এক মাস নিয়মসহ বারংবার স্নান করে ব্রাহ্মণদের মহাদান দেন এবং রাজসূয় যজ্ঞের যোগ্যতা অর্জন করেন। কৃষ্ণ আরও বলেন—রাজসূয়ের আগে দিগ্বিজয় ও কর/উপহার সংগ্রহ আবশ্যক। পাণ্ডবরা দিগ্বিজয় করে বিপুল ধন নিয়ে ফিরে আসে; যুধিষ্ঠির মহাদক্ষিণাসহ রাজসূয় সম্পন্ন করেন। শেষে স্পষ্ট করা হয় যে এই সব ফল লক্ষ্মী-তীর্থের মাহাত্ম্য থেকেই; এর শ্রবণ-পাঠে দুঃস্বপ্ন নাশ হয়, ইষ্টসিদ্ধি ও ইহলোকে সমৃদ্ধি লাভ হয়, এবং জীবনের শেষে ভোগের পর মোক্ষ প্রাপ্তি ঘটে।

62 verses

Adhyaya 22

Adhyaya 22

अग्नितीर्थमहात्म्य (Agnitīrtha Māhātmya: The Glory and Origin of Agni Tīrtha)

অধ্যায়ের শুরুতে শ্রীসূত লক্ষ্মীতীর্থ থেকে তীর্থযাত্রীদের অগ্নিতীর্থে যেতে নির্দেশ দেন এবং বলেন—ভক্তিভরে গমন করলে এই তীর্থ সর্বোচ্চ পুণ্যদায়ক ও মহাপাপবিনাশক। ঋষিগণ অগ্নিতীর্থের উৎপত্তি, অবস্থান ও বিশেষ শক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। সূত রামকথার অন্তর্গত প্রসঙ্গ বলেন—রাবণবধের পর বিভীষণকে লঙ্কার রাজ্যে প্রতিষ্ঠা করে শ্রীराम সীতা-লক্ষ্মণসহ সেতুপথে অগ্রসর হন; দেবতা, ঋষি, পিতৃগণ ও বানরসেনাও সঙ্গে থাকে। লক্ষ্মীতীর্থে বহু সাক্ষীর সামনে সীতার শুদ্ধি প্রমাণের জন্য রাম অগ্নিদেবকে আহ্বান করেন; অগ্নি জল থেকে প্রকাশিত হয়ে সীতার পতিব্রতা ধর্মের প্রশংসা করেন এবং তত্ত্বভাবে জানান—সীতা বিষ্ণুর নিত্য দিব্য সহধর্মিণী, অবতারসমূহে সর্বদা সহচরী। যেখানে অগ্নি জল থেকে উদিত হন, সেই স্থানই ‘অগ্নিতীর্থ’ নামে প্রসিদ্ধ হয়। এরপর তীর্থাচরণের বিধান—ভক্তিসহ স্নান, উপবাস, বিদ্বান ব্রাহ্মণদের সম্মান, বস্ত্র-ধন-ভূমি দান এবং অলংকৃত কন্যাদান; ফলে পাপক্ষয় ও বিষ্ণু-সায়ুজ্য লাভ বলা হয়েছে। পরে দৃষ্টান্তে বণিকপুত্র দুষ্পণ্য বারবার শিশুহত্যা করে নির্বাসিত হয়, ঋষিশাপে পতিত হয়ে জলে ডুবে মরে এবং দীর্ঘকাল পিশাচত্ব ভোগ করে; করুণা ও প্রতিকারধর্মী সাধনার মাধ্যমে অগ্নিতীর্থ-সেবাই শুদ্ধি ও পুনরুদ্ধারের পথ—এই সিদ্ধান্ত দৃঢ় হয়।

104 verses

Adhyaya 23

Adhyaya 23

चक्रतीर्थमाहात्म्य (Glory of Chakratīrtha): Sudarśana’s Protection and Savitṛ’s Restoration

এই অধ্যায়ে সূত তীর্থযাত্রার ক্রম বর্ণনা করেন। অগ্নিতীর্থে স্নান—যা ‘সর্বপাপকনাশক’—করে শুদ্ধ তীর্থযাত্রীকে চক্রতীর্থে যেতে বলা হয়েছে। চক্রতীর্থে নির্দিষ্ট সংকল্প নিয়ে স্নান করলে সেই অনুযায়ী ফল লাভ হয়; তাই এটি ধর্মসম্মত কামনা-সিদ্ধির তীর্থরূপে প্রতিষ্ঠিত। তীর্থের মাহাত্ম্য একটি প্রাচীন ঘটনার দ্বারা দৃঢ় হয়। গন্ধমাদনে অহির্বুধ্ন্য ঋষি তপস্যা করলে ভয়ংকর রাক্ষসেরা তপোভঙ্গ করতে আসে; তখন সুদর্শন আবির্ভূত হয়ে তাদের বিনাশ করেন এবং ভক্তদের প্রার্থনায় সেখানে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন—এই কারণেই নাম ‘চক্রতীর্থ’, এবং সেখানে রাক্ষসজনিত উপদ্রব জন্মায় না। আরেক কাহিনিতে সাবিতৃ/আদিত্যের ‘ছিন্ন-পাণি’ উপাধির কারণ বলা হয়েছে। দৈত্যপীড়িত দেবগণ বৃহস্পতির পরামর্শে ব্রহ্মার শরণ নেন; ব্রহ্মা গন্ধমাদনে সুদর্শনের অনুগ্রহ-রক্ষায় মাহেশ্বর মহাযজ্ঞের বিধান দেন এবং হোতা, অধ্বর্যু প্রভৃতি ঋত্বিজদের ভূমিকা বিস্তারিত বলেন। প্রাশিত্র ভাগ বণ্টনের সময় স্পর্শমাত্রে সাবিতৃর হাত ছিন্ন হয়; সংকটে অষ্টাবক্র তাঁকে স্থানীয় তীর্থে (পূর্বের মুনিতীর্থ, বর্তমান চক্রতীর্থ) স্নান করতে বলেন। স্নানের পর সাবিতৃ স্বর্ণময় হাত ফিরে পান। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে—এই অধ্যায় পাঠ-শ্রবণে দেহের পূর্ণতা, ইষ্টসিদ্ধি এবং মোক্ষকামীর মুক্তি লাভ হয়।

63 verses

Adhyaya 24

Adhyaya 24

शिवतीर्थमाहात्म्ये कालभैरवब्रह्महत्याशमनवृत्तान्तः (Śivatīrtha Māhātmya: The Kālabhairava Narrative of Brahmahatyā Pacification)

এই অধ্যায়ে তীর্থযাত্রার নির্দেশ আছে—চক্রতীর্থে স্নান করে শিবতীর্থে গমন করতে হবে; সেখানে অবগাহনে মহাপাপের সঞ্চয়ও লয় পায়। কালভৈরবের উপর ব্রহ্মহত্যা-দোষ কেন এল—এই প্রশ্নে সূত পূর্বকালে ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর মধ্যে জগতের কর্তৃত্ব নিয়ে বিবাদের কথা বলেন। বেদ হস্তক্ষেপ করে উভয়ের ঊর্ধ্বে পরম প্রভুর কথা ঘোষণা করে, আর প্রণব (ওঁ) শিবের পরাত্পরতা ও গুণ-ব্যবস্থার ব্যাখ্যা দেয়—রজোগুণে ব্রহ্মা সৃষ্টি, সত্ত্বগুণে বিষ্ণু পালন, তমোগুণে রুদ্র সংহার করেন। মোহগ্রস্ত ব্রহ্মা অগ্নিময় পঞ্চম মস্তক প্রকাশ করলে শিবের আদেশে কালভৈরব তা ছেদন করেন; ফলে ব্রহ্মহত্যার অশৌচ ব্যক্তরূপে ভৈরবকে অনুসরণ করে। শিব শুদ্ধির পথ নির্দিষ্ট করেন—কপালপাত্রধারী ভিক্ষুকের ন্যায় বিচরণ, বারাণসীতে প্রবেশ করে দোষ হ্রাস, এবং শেষে দক্ষিণ সমুদ্রতটে গন্ধমাদনের নিকট শিবতীর্থে স্নান করে অবশিষ্ট দোষ বিনাশ। স্নানের পর শিব সম্পূর্ণ শুদ্ধি ঘোষণা করে ভৈরবকে কাশীতে কপাল স্থাপনের আদেশ দেন; তাতে কপালতীর্থের উৎপত্তি হয়। শেষে ফলশ্রুতি—এই মাহাত্ম্য পাঠ ও শ্রবণে দুঃখনাশ এবং গুরুতর দোষক্ষয় হয়।

71 verses

Adhyaya 25

Adhyaya 25

Śaṅkhatīrtha Māhātmya (शंखतीर्थमाहात्म्य) — Purification from Kṛtaghnatā (Ingratitude)

সূত শঙ্খতীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। গন্ধমাদন পর্বতে অবস্থিত এই তীর্থে স্নান করলে কঠোর পাপও ক্ষয় হয়; বিশেষত কৃতঘ্নতা—মাতা, পিতা ও গুরুর প্রতি অপরাধ, উপকারভঙ্গ ও অকৃতজ্ঞতা—জনিত দোষ শুদ্ধ হয় বলে বলা হয়েছে। এরপর একটি ইতিহাস আসে। ঋষি বৎসনাভ দীর্ঘকাল অচল দেহে তপস্যা করতে করতে ধীরে ধীরে বাল্মীকে আচ্ছন্ন হয়ে যান। তখন অঞ্চলে সাত দিন ধরে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি চলতে থাকে। ধর্মদেব তাঁর স্থৈর্যে করুণাবশত মহিষরূপ ধারণ করে সাত দিন বৃষ্টির আঘাত থেকে তাঁকে আড়াল করে রক্ষা করেন। ঝড় থামলে বৎসনাভ মহিষকে দেখে তার ধর্মসম আচরণ স্মরণ করেন, আবার তপস্যায় প্রবৃত্ত হন; কিন্তু মন অস্থির হয়ে ওঠে। তিনি উপলব্ধি করেন—রক্ষককে যথোচিত সম্মান না করা কৃতঘ্নতা; প্রায়শ্চিত্তে আত্মবিনাশের কথাও ভাবেন। তখন ধর্ম স্বরূপে প্রকাশ হয়ে তাঁকে নিবৃত্ত করেন এবং অহিংস প্রায়শ্চিত্ত নির্দেশ দেন—শঙ্খতীর্থে স্নান। স্নানে তাঁর মন শুদ্ধ হয় ও ব্রহ্মভাব লাভ হয়; শেষে তীর্থের শক্তি এবং অধ্যায় শ্রবণ-পাঠে মুক্তিমুখী ফলের ফলশ্রুতি উচ্চারিত হয়।

63 verses

Adhyaya 26

Adhyaya 26

Tīrthatraya-Āvāhana and Jñāna-Upadeśa (यमुनागङ्गागयातीर्थत्रयप्रादुर्भावः)

এই অধ্যায়ে সূত মুনি তীর্থযাত্রার ক্রম ব্যাখ্যা করেন—শঙ্খতীর্থে বিধি সম্পন্ন করে পরে যমুনা, গঙ্গা ও গয়া—এই তিন প্রসিদ্ধ তীর্থে গমনীয়। এগুলি সর্বজনবিদিত, বিঘ্ননাশক ও দুঃখশমক; বিশেষত অজ্ঞান নাশ করে জ্ঞান প্রদানকারী বলে কীর্তিত। ঋষিগণ জিজ্ঞাসা করেন—গন্ধমাদনে এই তিন তীর্থ কীভাবে উপস্থিত হল এবং স্নানের দ্বারা রাজা জানশ্রুতি কীভাবে জ্ঞান লাভ করলেন। সূত রৈক্ব (সায়ুগ্বাঙ নামেও খ্যাত) ঋষির তপস্যাময় জীবন বর্ণনা করেন। জন্মগতভাবে অক্ষম হলেও তিনি মহাতপস্বী; ভ্রমণে অক্ষম হওয়ায় মন্ত্র ও ধ্যানের দ্বারা তীর্থত্রয় আহ্বান করার সংকল্প করেন। তখন পাতাল থেকে যমুনা, জাহ্নবী গঙ্গা ও গয়া মানব-রূপে প্রকাশিত হয়ে যে স্থানে উদ্ভূত হন সেখানেই অবস্থান করতে সম্মত হন; সেই স্থানগুলি যমুনাতীর্থ, গঙ্গাতীর্থ ও গয়াতীর্থ নামে প্রসিদ্ধ হয়। সেখানে স্নান করলে অজ্ঞান দূর হয় এবং জ্ঞানের উদয় ঘটে—এমন ফল বলা হয়েছে। পরবর্তী অংশে অতিথিসেবা ও দানে প্রসিদ্ধ রাজা জানশ্রুতির কাহিনি আসে। হংস-রূপে কথোপকথনকারী দিব্য ঋষিরা জানান, রৈক্বের ব্রহ্মজ্ঞান রাজার পুণ্যের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। বিচলিত রাজা রৈক্বকে খুঁজে ধন-সম্পদ নিবেদন করে উপদেশ চান; রৈক্ব বস্তু-মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করেন। অধ্যায়ের সিদ্ধান্ত—সংসার এবং পুণ্য-পাপ উভয়ের প্রতিই বৈরাগ্যই অদ্বৈত জ্ঞানের পূর্বশর্ত; সেই জ্ঞানই অজ্ঞানকে চূড়ান্তভাবে নাশ করে ব্রহ্মভাবের পথে নিয়ে যায়।

102 verses

Adhyaya 27

Adhyaya 27

Kotitīrtha-māhātmya and Pilgrimage Ethics (कोटितीर्थमाहात्म्य तथा तीर्थयात्रानैतिकता)

এই অধ্যায়ে সূত মুনি ঋষিদের কাছে তীর্থযাত্রার ক্রম ও পথ-ধর্ম ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন—যমুনা, গঙ্গা ও গয়ায় বিধিপূর্বক স্নান করে তীর্থযাত্রীকে মহাপুণ্যদায়ক কোটিতীর্থে গমন করা উচিত। কোটিতীর্থ সর্বজনবিদিত, সমৃদ্ধিদায়ক, শুদ্ধিদায়ক, পাপনাশক; কুস্বপ্ন ও মহাবিঘ্ন নিবারণকারী বলেও প্রশংসিত। এর উৎপত্তিকথা বলা হয়েছে—রাবণবধের পর শ্রীराम ব্রহ্মহত্যাদোষ থেকে মুক্তির জন্য গন্ধমাদন পর্বতে ‘রামনাথ’ লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। অভিষেকের জল না পেয়ে তিনি ধনুকের ‘কোটি’ দিয়ে ভূমি বিদীর্ণ করে জাহ্নবী (গঙ্গা) স্মরণ করেন; তখন গঙ্গা প্রকাশিত হয়। তাই স্থানটির নাম কোটিতীর্থ। এখানকার স্নান বহু জন্মের সঞ্চিত পাপও নাশ করে—অন্য তীর্থে স্নান সব সময় গভীর পাপ দূর করতে পারে না—এভাবে কোটিতীর্থকে চূড়ান্ত শোধক বলা হয়েছে। ঋষিরা প্রশ্ন করেন—যদি কোটিতীর্থই যথেষ্ট, তবে অন্য তীর্থে স্নান কেন? সূত বলেন—পথে যে তীর্থ/মন্দির পড়ে তা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়া ‘তীর্থাতিক্রম-দোষ’; তাই মধ্যবর্তী স্নান কর্তব্য, আর কোটিতীর্থ শেষের অবশিষ্ট দোষ নাশ করে। উদাহরণে শ্রীराम ব্রহ্মহত্যা থেকে মুক্ত হয়ে অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তন করেন। শ্রীকৃষ্ণও নারদের উপদেশে লোকশিক্ষার জন্য, কংসবধজনিত লোকপ্রচলিত দোষ প্রশমনে কোটিতীর্থে স্নান করে মথুরায় ফেরেন। ফলশ্রুতিতে এই অধ্যায় শ্রবণ-পাঠে ব্রহ্মহত্যা প্রভৃতি পাপমোচনের কথা বলা হয়েছে।

101 verses

Adhyaya 28

Adhyaya 28

साध्यामृततीर्थमाहात्म्यं तथा पुरूरवोर्वशी-वियोगशापमोक्षणम् (The Glory of Sādhyāmṛta Tīrtha and the Curse-Release of Purūravas and Urvaśī)

এই অধ্যায়ে সূত প্রথমে কোটিতীর্থের বর্ণনা করে গন্ধমাদন পর্বতে অবস্থিত মহাতীর্থ ‘সাধ্যামৃত’-এর মাহাত্ম্য প্রকাশ করেন। সেখানে স্নানকে তপস্যা, ব্রহ্মচর্য, যজ্ঞ ও দানের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে; তার জলের স্পর্শমাত্রেই দেহগত পাপ তৎক্ষণাৎ নাশ হয়। প্রায়শ্চিত্তভাব নিয়ে স্নানকারীরা বিষ্ণুলোকে সম্মানিত হন এবং ভারী কর্মবন্ধনে আবদ্ধ লোকেরাও ভয়ংকর নরক থেকে রক্ষা পায়—এমন ফলশ্রুতি ঘোষিত। এরপর দৃষ্টান্তে রাজা পুরূরবা ও অপ্সরা উর্বশীর কাহিনি আসে। কিছু শর্তে তাদের মিলন হয়—নগ্নদর্শন হবে না, উচ্ছিষ্ট ভোজন হবে না, এবং দুটি মেষশাবকের রক্ষা করতে হবে। গন্ধর্বরা কৌশলে মেষশাবক চুরি করলে পুরূরবা রক্ষায় ছুটে যান; বিদ্যুতের আলোয় তিনি নগ্ন অবস্থায় প্রকাশিত হন, ফলে উর্বশী বিচ্ছিন্ন হয়ে চলে যান। পরে ইন্দ্রসভায় উর্বশীর নৃত্যের সময় দুজনেই হাসলে তুম্বুরু তাদের তৎক্ষণাৎ বিচ্ছেদের শাপ দেন। পুরূরবা ইন্দ্রের শরণ নিলে ইন্দ্র সাধ্যামৃত তীর্থযাত্রার নির্দেশ দেন—দেব, সিদ্ধ ও যোগী-মুনিসেবিত, ভুক্তি-মুক্তিদাতা ও শাপনাশক। সেখানে স্নান করে শাপমুক্ত হয়ে পুরূরবা উর্বশীর সঙ্গে পুনর্মিলিত হন এবং অমরাবতীতে প্রত্যাবর্তন করেন। শেষে বলা হয়—কাম্যস্নানে ইষ্টসিদ্ধি ও স্বর্গ, নিষ্কাম স্নানে মোক্ষ; আর এই অধ্যায়ের পাঠ বা শ্রবণে বৈকুণ্ঠগতি লাভ হয়।

96 verses

Adhyaya 29

Adhyaya 29

Sarvatīrtha-Māhātmya (मानसतीर्थ / सर्वतीर्थ माहात्म्य) — The Glory of the ‘All-Tīrthas’ Bath

অধ্যায়ের শুরুতে সূত বলেন—নিয়মপরায়ণ তীর্থযাত্রী পূর্বে এক মুক্তিদায়ক তীর্থে স্নান করে পরে ‘সর্বতীর্থ’ নামক পরম পুণ্যস্থানে গমন করবে। এখানে স্নান মহাপাপও বিনাশ করে; স্নানকারীর সামনে পাপ যেন কাঁপতে থাকে। দীর্ঘ বৈদিক পাঠ, মহাযজ্ঞ, দেবপূজা, পবিত্র তিথিতে উপবাস ও মন্ত্রজপে যে ফল মেলে, তা এখানে একবার নিমজ্জনেই লাভ হয়। ঋষিরা জিজ্ঞাসা করেন—এই স্থানের নাম ‘সর্বতীর্থ’ কীভাবে হল। সূত ভৃগুবংশীয় তপস্বী সুচরিতার কাহিনি বলেন—তিনি অন্ধ, বৃদ্ধ, এবং সর্বভারত তীর্থযাত্রায় অক্ষম। তাই দক্ষিণ সমুদ্রের নিকটে গন্ধমাদন পর্বতে তিনি শিবের কঠোর তপস্যা করেন—ত্রিকাল পূজা, অতিথিসেবা, ঋতুচর্যা-তপ, ভস্মধারণ, রুদ্রাক্ষধারণ ও দীর্ঘ সংযম পালন করেন। শিব প্রসন্ন হয়ে প্রকাশিত হন, তাঁকে দৃষ্টি দান করেন এবং বর চাইতে বলেন। সুচরিতা প্রার্থনা করেন—ভ্রমণ না করেই যেন সকল তীর্থস্নানের ফল পান। শিব বলেন—রামসেতু দ্বারা পবিত্র সেই স্থানে তিনি সকল তীর্থকে আহ্বান করবেন; তাই স্থানটি ‘সর্বতীর্থ’ ও ‘মানসতীর্থ’ নামে খ্যাত হবে এবং ভোগ ও মোক্ষ—উভয়ই দেবে। সুচরিতা স্নানমাত্রেই নবযৌবন লাভ করেন; তাঁকে সেখানে বাস করে শিবস্মরণসহ নিয়মিত স্নান করতে ও দূর তীর্থযাত্রা ত্যাগ করতে বলা হয়। শেষে তিনি শিবপ্রাপ্ত হন; এই কাহিনি পাঠ বা শ্রবণে পাপক্ষয় হয়—এমন ফলশ্রুতি উচ্চারিত।

51 verses

Adhyaya 30

Adhyaya 30

धनुष्कोटि-तीर्थमाहात्म्य (Dhanuskoṭi Tīrtha-Māhātmya)

এই অধ্যায়ে সূত মুনি নৈমিষারণ্যের ঋষিদের কাছে ধনুষ্কোটী তীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। বিধিপূর্বক সেখানে স্নান, এবং তীর্থের স্মরণ, কীর্তন, কথন ও স্তব—এসবই মহাপাপ পর্যন্ত শোধন করে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর আটাশটি নরকের তালিকা দেওয়া হয় এবং বলা হয়, ধনুষ্কোটীতে স্নানকারী বা ভক্তিভরে তার গুণগানকারী সেই দণ্ডলোকসমূহে পতিত হয় না। চুরি, বিশ্বাসঘাতকতা, হিংসা, বেদবিরুদ্ধ আচরণ, কামদোষ, কর্তৃত্বের অপব্যবহার ও যজ্ঞবিধি ভঙ্গ—এমন নানা অধর্মকর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নরকগুলির উদাহরণ দেখিয়ে বারবার বলা হয়েছে যে ধনুষ্কোটী-স্নান পতন রোধ করে। পরে ফলশ্রুতিতে ধনুষ্কোটীতে অবগাহনকে মহাদান ও মহাযজ্ঞ, অশ্বমেধ প্রভৃতির সমতুল্য পুণ্যদায়ক বলা হয়েছে; আত্মজ্ঞান ও চতুর্বিধ মুক্তির ভাবও লাভ হয় বলে উল্লেখ আছে। শেষে নামকরণের কারণ বলা হয়—রাবণবধের পর বিভীষণের অভিষেক সম্পন্ন হলে তিনি সেতু বিষয়ে শ্রীরামের কাছে প্রার্থনা করেন; শ্রীরামের ধনুক-সম্পর্কিত চিহ্ন/কর্মে স্থানটি পবিত্র হয়ে ‘ধনুষ্কোটী’ নামে প্রসিদ্ধ হয়। অধ্যায়টি সেতুক্ষেত্রের অন্যান্য দিব্য স্থানের সঙ্গে এর মর্যাদা স্থাপন করে একে সর্বপাপহর ও ভুক্তি-মুক্তিদাতা তীর্থ বলে পুনরুচ্চারিত করে।

103 verses

Adhyaya 31

Adhyaya 31

Aśvatthāmā’s Night Assault (Suptamāraṇa) and Prescribed Expiation (Prāyaścitta)

এই অধ্যায়টি প্রশ্নোত্তরধর্মী ধর্মতত্ত্ব-আলোচনা। ঋষিরা জিজ্ঞাসা করেন—অশ্বত্থামা কীভাবে নিদ্রিতদের বধ (সুপ্তমারণ) করল এবং সেই পাপ থেকে কীভাবে মুক্ত হল; ধনুকের অগ্রভাগ-পরিমিত তীর্থস্নানে শুদ্ধির প্রসঙ্গও উল্লিখিত। দুর্যোধনের পতনের পর অশ্বত্থামা, কৃপ ও কৃতবর্মা জলসন্নিহিত অরণ্যে আশ্রয় নেয়। সেখানে এক শিকারি পাখিকে ঘুমন্ত কাকদের হত্যা করতে দেখে অশ্বত্থামা এটিকে রাত্রিকালীন আক্রমণের কৌশল বলে মনে করে। কৃপের নৈতিক আপত্তি সত্ত্বেও সে মহাদেবের আরাধনা করে, পবিত্র খড়্গ লাভ করে এবং ঘুমন্ত শিবিরে প্রবেশ করে ধৃষ্টদ্যুম্ন প্রমুখকে বধ করে; দ্বারে কৃপ ও কৃতবর্মা প্রহরায় থাকে। পরবর্তীতে তপস্বীরা তাকে গুরুতর অপরাধী বলে নিন্দা করে। প্রায়শ্চিত্তের জন্য সে ব্যাসের শরণ নিলে ব্যাস সুপ্তমারণ-দোষশুদ্ধির উদ্দেশ্যে এক মাস অবিরাম স্নানব্রত নির্দেশ দেন। শেষে ফলশ্রুতি—শ্রদ্ধায় পাঠ বা শ্রবণ করলে পাপ নাশ হয় এবং শিবলোকে সম্মান লাভ হয়।

102 verses

Adhyaya 32

Adhyaya 32

धनुष्कोटि-माहात्म्य (Dhanuṣkoṭi Māhātmya: The Glory of Dhanuṣkoṭi)

সূত নৈমিষারণ্যের ঋষিদের কাছে ধনুষ্কোটি তীর্থের বৈভব বর্ণনা করেন। সোমবংশীয় রাজা নন্দ রাজ্য পুত্র ধর্মগুপ্তকে দিয়ে তপোবনে প্রবেশ করেন। ধর্মগুপ্ত ধর্মমতে রাজ্য শাসন করেন, বহু যজ্ঞ করেন, ব্রাহ্মণদের প্রতিপালন করেন; ফলে সমাজে শৃঙ্খলা ও শান্তি স্থির থাকে। একদিন ভয়ংকর অরণ্যে শিকার করতে গিয়ে রাত্রি নেমে আসে। রাজা সন্ধ্যাবিধি পালন করে গায়ত্রী জপ করেন। একই গাছে সিংহের তাড়া খাওয়া এক ভালুক উঠে আসে এবং রাতভর পারস্পরিক রক্ষার নীতিসন্ধি প্রস্তাব করে। ভালুক ঘুমোলে সিংহ রাজাকে বিশ্বাসঘাতকতায় প্ররোচিত করে; কিন্তু ভালুক জেগে বলে—‘বিশ্বাসঘাত’ সর্বাপেক্ষা গুরু পাপ। পরে সিংহের কথায় রাজা ঘুমন্ত ভালুককে ফেলে দেয়; সে পুণ্যবলে বেঁচে যায় এবং নিজেকে ভৃগুবংশীয় ঋষি ধ্যানকাষ্ঠ (ভালুকরূপে) বলে প্রকাশ করে, নির্দোষ ঘুমন্তকে আঘাত করার জন্য রাজাকে উন্মাদনার শাপ দেয়। তারপর সিংহও প্রকাশ পায়—সে কুবেরের সচিব ভদ্রনাম যক্ষ, গৌতমের শাপে সিংহ হয়েছিল; ধ্যানকাষ্ঠের সঙ্গে কথোপকথনে সে শাপমুক্ত হয়ে যক্ষরূপ ফিরে পায়। উন্মত্ত ধর্মগুপ্তকে মন্ত্রীরা নন্দের কাছে নিয়ে যায়; নন্দ ঋষি জৈমিনির পরামর্শ নেন। জৈমিনি সেতুর নিকট দক্ষিণ সমুদ্রতটে ধনুষ্কোটিতে স্নান ও রামনাথ (শিব) পূজার বিধান দেন—এ তীর্থ মহাপাপও শোধন করে। নন্দ সেখানে নিয়মমাফিক স্নান-উপাসনা করালে ধর্মগুপ্তের উন্মাদনা তৎক্ষণাৎ দূর হয়; তিনি দান-ভূমিদান করে পুনরায় ধর্মে রাজ্য করেন। শেষে ফলশ্রুতি—এই কাহিনি শ্রবণও পবিত্র করে, আর স্নানের আগে “ধনুষ্কোটি” তিনবার উচ্চারণ করলে মহৎ ফল লাভ হয়।

64 verses

Adhyaya 33

Adhyaya 33

धनुष्कोटि-माहात्म्यं (Dhanuṣkoṭi Māhātmya) — Expiation through the Dhanuṣkoṭi Tīrtha

এই অধ্যায়ে ঋষিদের প্রশ্নে সূত সেতু-প্রদেশস্থিত ধনুষ্কোটী তীর্থের গূঢ় ও অলৌকিক বৈভব বর্ণনা করেন। রৈভ্য নামক শ্রৌতবিদ্যায় পারদর্শী যাজ্ঞিকের পুত্র অর্বাবসু ও পরাবসু রাজা বৃহদ্দ্যুম্নের দীর্ঘ সত্ত্রযজ্ঞে নিখুঁত বিধিতে সহায়তা করে। কিন্তু এক রাতে বনপথে ফিরতে গিয়ে পরাবসু হরিণভ্রমে পিতাকে বধ করে ফেলে; ফলে ব্রহ্মহত্যাসদৃশ মহাপাপের ভয়াবহ সংকট দেখা দেয়। প্রায়শ্চিত্তের জন্য দুই ভাই দায় ভাগ করে—যজ্ঞকর্ম অব্যাহত রাখতে জ্যেষ্ঠ পরাবসু থাকে, আর কনিষ্ঠ অর্বাবসু তার বদলে দীর্ঘ ব্রত গ্রহণ করে। তবু সমাজ ও রাজসভার প্রতিক্রিয়ায় নির্দোষ অর্বাবসু বহিষ্কৃত হয়; সে কঠোর তপস্যা করে দেবদর্শন লাভ করে। দেবগণ জানান, সেতু-প্রদেশের ধনুষ্কোটীতে স্নানই বিশেষ প্রতিকার—পঞ্চমহাপাপসহ গুরুতর দোষ নাশ করে, ইহলোকের মঙ্গল ও মোক্ষফল দেয়। পরাবসু নিয়ত সংকল্পে সেখানে স্নান করলে আকাশবাণী দোষক্ষয়ের ঘোষণা করে; পরে মিলন ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলশ্রুতিতে অধ্যায়পাঠ-শ্রবণ এবং ধনুষ্কোটী-স্নানে মহাদুঃখ ও দোষ প্রশমনের কথা বলা হয়েছে।

83 verses

Adhyaya 34

Adhyaya 34

धनुष्कोटिप्रशंसनम् (Praise of Rāma-dhanus-koṭi) — Sṛgāla–Vānara Saṃvāda and the Expiatory Bath

এই অধ্যায়ে সূত ‘ইতিহাস’ রূপে দক্ষিণ সমুদ্রে অবস্থিত শ্রী রাম-ধনুষ্কোটী তীর্থের মহিমা বর্ণনা করেন। শ্মশানভূমিতে জাতিস্মর দুই প্রাণী—শৃগাল ও বানর—দেখা যায়; তারা পূর্বজন্মে মানুষ বন্ধু ছিল। বানর শৃগালের হীন আহার ও দুর্দশার কারণ জিজ্ঞাসা করলে শৃগাল বলে—পূর্বজন্মে সে বেদশর্মা নামে বিদ্বান ব্রাহ্মণ ছিল, কিন্তু এক ব্রাহ্মণকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে দান না করায় ‘প্রতিশ্রুত্য-অপ্রদান’ দোষে তার পুণ্য নষ্ট হয় এবং শৃগালযোনি লাভ করে। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের গুরুতরতা এখানে কঠোরভাবে উপদেশিত। এরপর শৃগাল বানরের কারণ জানতে চাইলে বানর স্বীকার করে—পূর্বজন্মে সে বেদনাথ নামে ব্রাহ্মণ ছিল এবং এক ব্রাহ্মণের গৃহ থেকে শাক-সবজি চুরি করেছিল। গ্রন্থে ‘ব্রহ্মস্ব-হরণ’কে অতিভয়ংকর পাপ বলা হয়েছে; নরকভোগের পর পশুযোনিতে পতনের কথা উল্লেখ করে অচৌর্যের শিক্ষা দেওয়া হয়। মুক্তির আশায় তারা ভস্মলিপ্ত, ত্রিপুণ্ড্রধারী, রুদ্রাক্ষযুক্ত ঋষি সিন্ধুদ্বীপের শরণ নেয়। ঋষি তাদের পূর্বপরিচয় নিশ্চিত করে দক্ষিণ সমুদ্রে শ্রী রাম-ধনুষ্কোটীতে স্নানকে প্রায়শ্চিত্ত ও শুদ্ধির উপায় বলেন। তীর্থের প্রভাব প্রমাণে তিনি যজ্ঞদেবের পুত্র সুমতির কাহিনি বলেন—কুসঙ্গে পড়ে চুরি, মদ্যপান ইত্যাদিতে লিপ্ত হয়ে ব্রহ্মহত্যা পর্যন্ত করে; ব্রহ্মহত্যা-রূপিণী শক্তি তাকে তাড়া করে। শেষে দুর্বাসা ঋষি ঘোষণা করেন—শ্রী রাম-ধনুষ্কোটীতে স্নান করলে মহাপাপ থেকেও দ্রুত মুক্তি লাভ হয়। এভাবে অধ্যায়টি নৈতিক কারণ-কার্য, ঋষিবাক্যের প্রামাণ্য ও তীর্থস্নান-প্রায়শ্চিত্তকে একত্রে স্থাপন করে।

81 verses

Adhyaya 35

Adhyaya 35

धनुष्कोटिस्नानमाहात्म्यं — The Māhātmya of Bathing at Dhanuṣkoṭi

এই অধ্যায়ে তীর্থসেবার মাধ্যমে প্রায়শ্চিত্তের তাত্ত্বিক আলোচনা বহু কণ্ঠে প্রবাহিত। যজ্ঞদেব দুর্বাসাকে জিজ্ঞাসা করেন—দুর্বিনীত নামে এক ব্রাহ্মণ মোহ ও কামে মাতৃসীমা লঙ্ঘন করে মহাপাপ করেছিল; সে কীভাবে শুদ্ধ হল? দুর্বासा তার পূর্বকথা বলেন—পাণ্ড্যদেশীয় সেই ব্রাহ্মণ দুর্ভিক্ষে গোকর্ণে গিয়ে পতিত হয়, পরে গভীর অনুতাপে ঋষিদের শরণ নেয়; কেউ তাকে প্রত্যাখ্যান করলেও ব্যাস করুণায় পথ দেখান। ব্যাস দেশ-কালনির্দিষ্ট বিধান দেন—মাতাসহ রামসেতু/ধনুষ্কোটিতে গিয়ে মাঘ মাসে সূর্য মকরে থাকাকালে সংযম পালন, অহিংসা ও বৈরত্যাগ, এক মাস অবিরাম স্নান ও উপবাস। এতে পুত্র ও মাতা উভয়েরই পাপক্ষয় ও শুদ্ধি সম্পন্ন হয়। এরপর গৃহস্থধর্মে পুনঃপ্রবেশের নীতিশিক্ষা—অহিংসা, সন্ধ্যা ও নিত্যকর্ম, ইন্দ্রিয়নিগ্রহ, অতিথি-গুরু-বৃদ্ধসেবা, শাস্ত্র অধ্যয়ন, শিব-বিষ্ণুভক্তি, মন্ত্রজপ, দান ও শৌচাচার। আরেক প্রসঙ্গে সিন্ধুদ্বীপ বলেন—যজ্ঞদেব পুত্রকে ব্রহ্মহত্যা প্রভৃতি পাপমোচনের জন্য ধনুষ্কোটিতে আনেন; সেখানে অশরীরী বাণী মুক্তির ঘোষণা করে। শেষে ফলশ্রুতি—এই অধ্যায় শ্রবণ বা পাঠ করলেও ধনুষ্কোটিস্নানের ফল লাভ হয় এবং দ্রুতই যোগীসমাজেরও দুর্লভ, মোক্ষসদৃশ পদ প্রাপ্ত হয়।

73 verses

Adhyaya 36

Adhyaya 36

धनुष्कोटि-माहात्म्यम् (Dhanushkoti Māhātmya: Bathing Merit and Mahālaya Śrāddha)

এই অধ্যায়ে সূত ও ঋষিদের সংলাপের মাধ্যমে ধর্মোপদেশ দেওয়া হয়েছে। ‘দুরাচার’ নামের এক ব্রাহ্মণের দৃষ্টান্তে ‘সঙ্গ-ধর্ম’ বোঝানো হয়—মহাপাতকীদের দীর্ঘ সান্নিধ্যে ব্রাহ্মণ্য-পুণ্য ও মর্যাদা ক্রমে ক্ষয় হয়; একসঙ্গে বাস, ভোজন ও শয়নের ফলে পাপের সমতা পর্যন্ত ঘটে। এরপর ধনুষ্কোটি তীর্থের শক্তি বর্ণিত—শ্রীরামচন্দ্রের ধনুকের সঙ্গে যুক্ত এই তীর্থকে মহাপাতক-নাশিনী বলা হয়েছে। সেখানে স্নান করলে তৎক্ষণাৎ পাপমোচন হয় এবং বেতাল-আক্রান্তির মতো বাধ্যতামূলক অধিকারও দূর হয়—কথার মাধ্যমে তা প্রকাশিত। পরে ভাদ্রপদ কৃষ্ণপক্ষে মহালয় শ্রাদ্ধের কালবিধান, তিথি-ভেদে ফল, এবং অবহেলায় দোষ উল্লেখ করা হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী বেদজ্ঞ ও সদাচারী ব্রাহ্মণদের ভোজন করানোকে প্রধান বলা হয়েছে। শেষে ধনুষ্কোটির মাহাত্ম্য শ্রবণ/জ্ঞান পাপক্ষয় ও মুক্তিসহায়ক—এই সাধারণ ফলশ্রুতি প্রদান করা হয়েছে।

112 verses

Adhyaya 37

Adhyaya 37

Kṣīrakuṇḍa–Kṣīrasaras Māhātmya (Origin and Merit of the Milk-Tīrtha)

অধ্যায় ৩৭-এ সমবেত ঋষিগণ সূতকে জিজ্ঞাসা করেন—চক্রতীর্থের নিকটে পূর্বে উল্লিখিত ক্ষীরকুণ্ডের উৎপত্তি ও মহিমা কী। সূত বলেন, দক্ষিণ সমুদ্রতটে ফুল্লগ্রামে এই তীর্থ অবস্থিত; রামের সেতু-কার্যের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এটি পবিত্র। এর দর্শন, স্পর্শ, ধ্যান ও স্তোত্রপাঠে পাপ নাশ হয় এবং মোক্ষ লাভ হয়। এরপর মুদ্গল ঋষির কাহিনি। তিনি নারায়ণকে প্রসন্ন করতে বেদবিধি অনুসারে যজ্ঞ করেন; বিষ্ণু প্রত্যক্ষ হয়ে হবি গ্রহণ করেন ও বর দেন। মুদ্গল প্রথমে অচঞ্চল, নিষ্কপট ভক্তি চান; পরে সম্পদ না থাকলেও দিনে দুইবার দুধ-হোম (পয়োহোম) করার সামর্থ্য প্রার্থনা করেন। বিষ্ণু বিশ্বকর্মাকে ডেকে এক মনোরম সরোবর নির্মাণ করান এবং সুরভীকে প্রতিদিন তা দুধে পূর্ণ করতে আদেশ দেন। ফলে তীর্থটি ‘ক্ষীরসরস’ নামে খ্যাত হয়; এখানে স্নানে মহাপাপ নষ্ট হয় এবং মুদ্গল জীবনের শেষে মুক্তি লাভ করেন। শেষে কদ্রূ-সম্পর্কিত কারণকথা ও ফলশ্রুতি—এই অধ্যায় পাঠ বা শ্রবণে ক্ষীরকুণ্ডে স্নানের ফল প্রাপ্ত হয়।

63 verses

Adhyaya 38

Adhyaya 38

Kadrū–Vinatā Saṃvāda, Garuḍa-Amṛtāharaṇa, and Kṣīra-kuṇḍa Praśaṃsā (कद्रू-विनता संवादः, गरुडामृताहरणम्, क्षीरकुण्डप्रशंसा)

ঋষিরা সূতকে জিজ্ঞাসা করেন—কদ্রূ কীভাবে ক্ষীর-কুণ্ডে নিমজ্জন থেকে মুক্ত হলেন এবং কোন প্রতারণামূলক পণ্যে বিনতা দাসীত্বে আবদ্ধ হলেন। সূত কৃতযুগের কাহিনি বলেন—কাশ্যপের দুই পত্নী কদ্রূ ও বিনতা; বিনতার গর্ভে অরুণ ও গরুড়, আর কদ্রূর গর্ভে বাসুকি-প্রমুখ বহু নাগ। উচ্ছৈঃশ্রবা অশ্ব দেখে লেজের রঙ নিয়ে পণ হয়; কদ্রূ নাগপুত্রদের লেজ কালো করতে আদেশ দিয়ে ছল করে, তারা অমান্য করলে শাপ দেন—যা পরে রাজসাপযজ্ঞে তাদের বিনাশের পূর্বাভাস। বিনতা পরাজিত হয়ে দাসী হন; গরুড় কারণ জেনে মাতৃমুক্তির উপায় খোঁজেন। নাগেরা দেবামৃত দাবি করে। বিনতা গরুড়কে ধর্মসীমা শেখান—অমৃত নিজে পান না করা এবং ব্রাহ্মণকে আঘাত না করা। গরুড় কাশ্যপের পরামর্শ নেন; শাপগ্রস্ত হাতি ও কচ্ছপ ভক্ষণ করে শক্তি লাভ করেন, এবং বালখিল্য ঋষিদের ক্ষতি না করে শাখা অন্যত্র সরিয়ে দেন। পরে দেবতাদের মোকাবিলা করে অমৃত আনেন; বিষ্ণু বর দিয়ে গরুড়কে নিজের বাহন করেন। ইন্দ্র অমৃত ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন; শেষে বিনতা দাসত্বমুক্ত হন। শেষে ক্ষীর-কুণ্ড ব্রত (তিনদিন উপবাস ও স্নান) প্রশংসিত, এবং পাঠ-শ্রবণে মহাদানের তুল্য পুণ্য লাভের ফলশ্রুতি বলা হয়েছে।

105 verses

Adhyaya 39

Adhyaya 39

कपितीर्थ-माहात्म्य तथा रंभा-शापमोचन (Kapitīrtha Māhātmya and Rambhā’s Release from the Curse)

এই অধ্যায়ে দুইটি প্রবাহ আছে। প্রথমে সূত কপিতীর্থের উৎপত্তি ও তার ক্রিয়াফল বর্ণনা করেন। রাবণ ও তার বাহিনী পরাজিত হলে গন্ধমাদন পর্বতে বানরগণ সর্বলোকহিতার্থে তীর্থ নির্মাণ করে; সেখানে স্নান করে তারা বর লাভ করে। পরে শ্রীराम বিশেষ বর দেন—কপিতীর্থে স্নান করলে গঙ্গাস্নান ও প্রয়াগস্নানের সমান ফল, সকল তীর্থের সমষ্টি-পুণ্য, অগ্নিষ্টোমাদি সোমযাগ, গায়ত্রীসহ মহামন্ত্রজপ, গোদানাদি মহাদান, বেদপাঠ ও দেবপূজার ফল লাভ হয়। দেব-ঋষিরা সমবেত হয়ে তীর্থের অতুল মহিমা কীর্তন করেন এবং মোক্ষার্থীদের সেখানে অবশ্য গমনীয় বলে নির্দেশ দেন। দ্বিতীয় অংশে রম্ভার শাপমোচনের কাহিনি। কুশিকবংশীয় বিশ্বামিত্র পূর্বে রাজা ছিলেন; বশিষ্ঠের ব্রহ্মতেজে পরাজিত হয়ে ব্রাহ্মণ্যলাভের জন্য কঠোর তপস্যা করেন। দেবতারা তপোভঙ্গের আশঙ্কায় অপ্সরা রম্ভাকে প্রেরণ করলে বিশ্বামিত্র কৌশল বুঝে তাকে দীর্ঘকাল শিলারূপ হওয়ার শাপ দেন এবং বলেন—কোনো ব্রাহ্মণের দ্বারা মুক্তি হবে। পরে অগস্ত্যের শিষ্য শ্বেত এক রাক্ষসীর দ্বারা পীড়িত হন; এক অলৌকিক ক্রিয়ায় সেই শিলা উড়ে কপিতীর্থে পতিত হয়। তীর্থস্পর্শে রম্ভা স্বরূপ ফিরে পেয়ে দেবতাদের সম্মান লাভ করে স্বর্গে প্রত্যাবর্তন করে, কপিতীর্থের প্রশংসা করে এবং রামনাথ ও শঙ্করকে প্রণাম করে। শেষে ফলশ্রুতি—এই অধ্যায় শ্রবণ বা পাঠ করলে কপিতীর্থস্নানের ফল প্রাপ্ত হয়।

68 verses

Adhyaya 40

Adhyaya 40

Gayatrī–Sarasvatī Sannidhāna at Gandhamādana and the Establishment of the Twin Kuṇḍas (गायत्रीसरस्वती-सन्निधानं तथा कुण्डद्वय-माहात्म्यम्)

অধ্যায়ের শুরুতে সূত মুনিদের বলেন যে গায়ত্রী ও সরস্বতী‑সংক্রান্ত আচার‑পরম্পরার শ্রবণ ও কীর্তন মুক্তিদায়ক এবং পাপবিনাশক। যে আনন্দচিত্তে গায়ত্রী‑সরস্বতী তীর্থে স্নান করে, সে গর্ভবাসের দুঃখ থেকে রক্ষা পায় এবং নিশ্চিত মোক্ষ লাভ করে। মুনিরা জিজ্ঞাসা করেন—গন্ধমাদন পর্বতে গায়ত্রী‑সরস্বতীর সন্নিধান কেন? সূত কারণকথা বলেন—প্রজাপতি ব্রহ্মা কন্যা বাক্‑এর প্রতি মোহিত হন; বাক্ হরিণীরূপ ধারণ করে পালায়, ব্রহ্মা তার পশ্চাদ্ধাবন করেন। দেবতারা এই নিষিদ্ধ আচরণ নিন্দা করেন। তখন শিব ব্যাধরূপে ব্রহ্মাকে বিদ্ধ করেন; আঘাতস্থল থেকে মহাজ্যোতি উদ্ভূত হয়ে মৃগশীর্ষ নক্ষত্রে পরিণত হয়, এবং শিবের অনুসরণ আকাশীয় প্রতীকে বর্ণিত। ব্রহ্মার পতনে ব্যথিত গায়ত্রী ও সরস্বতী স্বামীর পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য গন্ধমাদনে কঠোর তপস্যা করেন—উপবাস, ইন্দ্রিয়সংযম, শিবধ্যান ও পঞ্চাক্ষর মন্ত্রজপ। স্নানের জন্য তাঁরা নিজেদের নামে দুটি কুণ্ড/তীর্থ নির্মাণ করে ত্রিসবন স্নান করেন। প্রসন্ন শিব পার্বতী ও দেবগণসহ আবির্ভূত হয়ে বর দেন; ব্রহ্মার শিরসমূহ সংযোজিত করে তাঁকে পুনরায় চতুর্মুখ স্রষ্টারূপে স্থাপন করেন। ব্রহ্মা অপরাধ স্বীকার করে ভবিষ্যতে নিষিদ্ধ কর্ম থেকে রক্ষার প্রার্থনা করলে শিব অসতর্কতা ত্যাগের উপদেশ দেন। শেষে শিব যুগল কুণ্ডের চিরন্তন তারক মাহাত্ম্য ঘোষণা করেন—সেখানে স্নানে শুদ্ধি, মহাপাতকনাশ, শান্তি ও ইষ্টসিদ্ধি লাভ হয়; বেদাধ্যয়ন বা নিত্যকর্মে অক্ষমদেরও সমতুল্য ফল মেলে। ফলশ্রুতিতে বলা হয়, ভক্তিভরে এই অধ্যায় শ্রবণ বা পাঠ করলে দুই তীর্থে স্নানের ফল প্রাপ্ত হয়।

61 verses

Adhyaya 41

Adhyaya 41

गायत्री-सरस्वतीतीर्थमाहात्म्य तथा कश्यपप्रायश्चित्तकथा (Glory of the Gayatrī–Sarasvatī Tīrthas and the Atonement Narrative of Kaśyapa)

এই অধ্যায়ে সূত মুনি গায়ত্রী–সরস্বতী যুগল তীর্থকে কেন্দ্র করে এক পবিত্র ইতিহাস বর্ণনার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রথমে রাজা পরীক্ষিতের প্রসিদ্ধ ঘটনা বলা হয়—শিকারে গিয়ে তিনি ধ্যানরত ঋষির অপমান করে তাঁর কাঁধে মৃত সাপ রেখে দেন; ঋষিপুত্র শৃঙ্গী অভিশাপ দেন যে সাত দিনের মধ্যে তক্ষকের দংশনে রাজার মৃত্যু হবে। রাজা নানা প্রতিরক্ষা-ব্যবস্থা নেন, আর ব্রাহ্মণ-মন্ত্রিক কশ্যপ বিষনাশ করতে রওনা হন; পথে তক্ষক তাঁকে বাধা দিয়ে বটগাছ জ্বালিয়ে নিজের মারণশক্তি দেখায়, কিন্তু কশ্যপ মন্ত্রবলে গাছ ও গাছে থাকা মানুষকে পুনর্জীবিত করেন। তক্ষক ধন দিয়ে কশ্যপকে ফিরিয়ে দেয়, এবং শেষে ফলের ভিতর কৃমিরূপে ঢুকে রাজাকে দংশন করে হত্যা করে। এরপর কশ্যপের নৈতিক সংকট উঠে আসে। সক্ষম হয়েও লোভে তিনি বিষাক্রান্তকে রক্ষা করেননি—এ জন্য সমাজে নিন্দিত হয়ে তিনি ঋষি শাকল্যের শরণ নেন। শাকল্য কঠোর নীতি বলেন—জেনে-শুনে লোভের কারণে প্রাণরক্ষা থেকে সরে দাঁড়ানো মহাপাপসদৃশ, যার সামাজিক ও বৈদিক দণ্ড আছে। প্রায়শ্চিত্তের পথ হিসেবে তিনি দক্ষিণ সমুদ্রের সেতু-অঞ্চলে, ঘণ্ডমাদন-সম্পর্কিত স্থানে অবস্থিত গায়ত্রী–সরস্বতী তীর্থে নিয়মসহ সংকল্প করে স্নানের নির্দেশ দেন। কশ্যপ স্নান করতেই তৎক্ষণাৎ শুদ্ধ হন; তখন দেবী গায়ত্রী ও সরস্বতী প্রকাশ হয়ে তীর্থ-রূপ পরিচয় দেন, বর প্রদান করেন, এবং বিদ্যা ও বেদমাতৃরূপে কশ্যপের স্তোত্র গ্রহণ করেন। শেষে এই তীর্থে স্নান ও শ্রবণ করলে মহাপবিত্র ফল লাভ হয়—এমন ফলশ্রুতি বলা হয়েছে।

102 verses

Adhyaya 42

Adhyaya 42

ऋणमोचन–देवतीर्थ–सुग्रीव–नल–नीलादि तीर्थमाहात्म्य (Release from Debts and the Glories of Key Setu Tīrthas)

এই অধ্যায়ে শ্রীসূত ঋষিদের কাছে সেতু-অঞ্চলের বহু তীর্থের বৈভব বর্ণনা করেন। প্রথমে ‘ঋণমোচন’ তীর্থের মাহাত্ম্য বলা হয়েছে—এখানে স্নান করলে তিন ঋণ, ঋষি-ঋণ, দেব-ঋণ ও পিতৃ-ঋণ মোচন হয়। ব্রহ্মচর্য-ধর্ম পালন না করা, যজ্ঞকর্মে অবহেলা এবং সন্তান/পিতৃপরম্পরা রক্ষা না করার ফলে এই ঋণ জন্মায়—এ কথা ব্যাখ্যা করে ঋণমোচনে স্নানকে মুক্তিদায়ক বলা হয়েছে। এরপর পাণ্ডব-সম্পর্কিত এক মহাতীর্থের কথা আসে, যেখানে প্রাতঃসায়ং স্মরণকেও মহাতীর্থ-স্নানের সমতুল্য বলা হয়েছে; তर्पণ, দান ও ব্রাহ্মণভোজনকে বিশেষ পুণ্যকর কর্ম হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে। তারপর দেবতীর্থ/দেবকুণ্ডের মাহাত্ম্য—অত্যন্ত দুর্লভপ্রাপ্ত এই স্থানে স্নানকে মহাবৈদিক ক্রিয়ার সমফলদায়ক, পাপনাশক ও উচ্চলোকপ্রদ বলা হয়েছে। দুই থেকে ছয় দিন অবস্থান ও বারংবার স্নানকে শক্তিশালী সাধন বলা হয়। পরে সুগ্রীবতীর্থের বর্ণনা—স্নান, স্মরণ, উপবাস, অভিষেক ও তर्पণের দ্বারা সূর্যলোকে গমন, ঘোর পাপের প্রায়শ্চিত্ত এবং মহাকর্মফল লাভের কথা বলা হয়েছে। নলতীর্থ ও নীলতীর্থ শুদ্ধিদায়ক ও মহাযজ্ঞসম ফলপ্রদ; নীলকে অগ্নিপুত্র ও প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়েছে। বানরদের প্রতিষ্ঠিত বহু তীর্থের ধারাবাহিকতার শেষে বিভীষণ-তীর্থসমূহের মাহাত্ম্য বলা হয়—দুঃখ, রোগ, দারিদ্র্য, দুঃস্বপ্ন ও নরকযন্ত্রণা নাশ করে বৈকুণ্ঠসদৃশ অনাবৃত্তি পদ প্রদান করে। উপসংহারে সেতু/গন্ধমাদন অঞ্চলকে রামচন্দ্রের আদেশে দেব-পিতৃ-ঋষিদের নিত্যবাসস্থান বলা হয়েছে এবং এই বর্ণনা পাঠ-শ্রবণে দুঃখনিবারণ ও কৈবল্যলাভের ফলশ্রুতি ঘোষিত হয়েছে।

62 verses

Adhyaya 43

Adhyaya 43

रामनाथ-महालिङ्ग-माहात्म्यम् (Glory of the Rāmanātha Mahāliṅga)

এই অধ্যায়ে শ্রীসূত রামনাথ/রামেশ্বর মহালিঙ্গের মাহাত্ম্য সুসংবদ্ধভাবে বর্ণনা করেন। শুরুতেই বলা হয়—এই কাহিনি শ্রবণ করলে মানুষ পাপমুক্ত হয়, এবং রামপ্রতিষ্ঠিত লিঙ্গের একবার দর্শনও শিবসাযুজ্যরূপ মুক্তিদায়ক। যুগগণনার দ্বারা কলিযুগে ভক্তিস্পর্শের ফল দ্রুত ও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়—এই বিশেষ মহিমা প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। ক্ষেত্রটিকে সর্বতীর্থ, দেবতা, ঋষি ও পিতৃগণের সন্নিধিতে পূর্ণ বলা হয়েছে। স্মরণ, স্তব, পূজা ও নামোচ্চারণমাত্রকে দুঃখ, ভয় এবং পরলোকে দণ্ড থেকে রক্ষাকারী ধর্মোপায় হিসেবে দেখানো হয়। দর্শন বা কীর্তনে মহাপাপ নাশের দীর্ঘ ফলশ্রুতি তালিকাও দেওয়া আছে। এরপর মহালিঙ্গকেন্দ্রিক অষ্টবিধ ভক্তি নিরূপিত—ভক্তসেবা, প্রীতিপূর্বক পূজা, ব্যক্তিগত উপাসনা, দেবতার জন্য দেহশ্রম, মাহাত্ম্য মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ, ভক্তিজাত দেহভাব, নিরন্তর স্মরণ, এবং লিঙ্গপরায়ণ জীবিকা—এবং তা সকল শ্রেণির জন্য সহজলভ্য বলা হয়েছে। শেষে মন্দিরনির্মাণ ও দুধ, দই, ঘি, পঞ্চগব্য, রস, সুগন্ধি জল প্রভৃতি দ্বারা অভিষেক, বেদপাঠসহ, এবং বিভিন্ন লোক/ফলের কথা বলে—নিরন্তর সেবায় ঐহিক সমৃদ্ধি ও পরম মুক্তির উপসংহার টানা হয়েছে।

104 verses

Adhyaya 44

Adhyaya 44

रामेश्वरलिङ्गप्रतिष्ठा, कुबेरजलदर्शनविधि, तथा रामस्तोत्रफलश्रुति (Rāmeśvara Liṅga-Installation, Kubera’s Vision-Water Rite, and the Fruit of Rāma-Stotra)

এই অধ্যায়ে সূত ঋষিদের কাছে বহুপর্বে ধর্মতত্ত্বসমৃদ্ধ রামকথা বর্ণনা করেন। রাম সমুদ্রসীমায় পৌঁছে সেতু নির্মাণ করে লঙ্কায় প্রবেশ করেন। সেখানে প্রধান প্রধান রাক্ষস সেনাপতিদের সঙ্গে ভয়ংকর যুদ্ধ হয়; নাগাস্ত্রে আবদ্ধ রাম-লক্ষ্মণকে গরুড় মুক্ত করেন, এবং পরে মাতলি ও ঐন্দ্র রথের দিব্য সহায়তায় ইন্দ্রজিত ও রাবণ বধ হয়। এরপর আখ্যানটি আচার-প্রযুক্তির দিকে মোড় নেয়—বিভীষণ কুবেরপ্রেরিত মন্ত্রপূত জল প্রদর্শন করেন। সেই জল চোখে লাগালে অন্তর্হিত (গুপ্ত) সত্তাদের দেখা যায়, ফলে যুদ্ধে দৃষ্টিস্পষ্টতা ও কৌশলগত নিশ্চয়তা ফিরে আসে। বিজয়ের পর দণ্ডকারণ্য থেকে অগস্ত্যপ্রমুখ মুনি এসে বিস্তৃত রামস্তোত্র পাঠ করেন; তার ফলশ্রুতি রক্ষা ও পবিত্রতার প্রতিশ্রুতি দেয়। শেষে রাবণবধজনিত অবশিষ্ট পাপ প্রসঙ্গে মুনিরা লোকসংগ্রহার্থে গন্ধমাদনে শিবার্চনা ও লিঙ্গপ্রতিষ্ঠার বিধান দেন। হনুমান কৈলাস থেকে লিঙ্গ এনে “রামেশ্বর” প্রতিষ্ঠা করেন; তার দর্শন-সেবার মহাপুণ্য কীর্তিত হয়েছে।

102 verses

Adhyaya 45

Adhyaya 45

हनूमद्विषाद-रामोपदेशः (Hanumān’s Distress and Rāma’s Instruction at Setu)

এই অধ্যায়ে সেতুতে লিঙ্গ-প্রতিষ্ঠার সময় এক গভীর ধর্মতত্ত্ব ও নীতিশিক্ষামূলক সংলাপ বর্ণিত। হনুমান তপস্যা করে কৈলাস থেকে শিবের অনুগ্রহ লাভ করে শুভ লিঙ্গ দ্রুত এনে দেখেন—রাম ঋষি ও দেবসাক্ষ্যে সীতার নির্মিত বালুকালিঙ্গ (সৈকত-লিঙ্গ) ইতিমধ্যেই পূজা ও প্রতিষ্ঠা করছেন। এটিকে অবজ্ঞা মনে করে হনুমান শোক, আত্মদোষারোপ ও ক্রোধ প্রকাশ করেন; নিজের সেবাকে মূল্যহীন ভেবে দেহত্যাগের কথাও ভাবেন। রাম তাঁকে স্থির করে উপদেশ দেন—আত্মা কর্মজনিত জন্ম-মৃত্যুর প্রবাহ থেকে পৃথক, তিন শরীরের অতীত নির্গুণ অদ্বৈত আত্মতত্ত্ব ধ্যান করতে বলেন। সত্য, অহিংসা, ইন্দ্রিয়সংযম, পরদোষ অন্বেষণ না করা এবং নিয়মিত দেবপূজা—এই নীতিধর্ম নির্দেশ করেন; দেহসুখের মোহকে অশুচিতা ও অনিত্যতার ভাবনা দিয়ে ভেঙে বৈরাগ্য জাগান। পরে রাম সময়সীমার কারণ ব্যাখ্যা করে সীতার বালুকালিঙ্গ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন জানান এবং হনুমানের আনা কৈলাসলিঙ্গও প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। হনূমদীশ্বর ও রাঘবেশ্বরের দর্শন-সম্পর্ক ও তীর্থফল নির্ধারিত হয়; বহু লিঙ্গের বর্ণনার শেষে শিবের “একাদশরূপ” নিত্যসন্নিধির কথা বলা হয়। শেষে হনুমান বালুকালিঙ্গ উপড়াতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হন, অতিশ্রমে রক্তক্ষরণসহ লুটিয়ে পড়েন; তখন রাম, লক্ষ্মণ, সীতা ও বানররা করুণায় তাঁর কাছে এগিয়ে আসেন।

89 verses

Adhyaya 46

Adhyaya 46

Hanūmat-stuti, Hanūmat-kuṇḍa-māhātmya, and Setu-liṅga Context (हनूमत्स्तुति-हनूमत्कुण्डमाहात्म्य-सेतुलिङ्गप्रसङ्गः)

এই অধ্যায়ে তিনটি পরস্পর-সংযুক্ত পর্ব বর্ণিত। প্রথমে অচেতন হনুমানকে দেখে শ্রীराम লঙ্কা-অভিযানের তাঁর সেবাকর্ম স্মরণ করে শোক প্রকাশ করেন—সমুদ্রলঙ্ঘন, মৈনাক ও সুরসার সঙ্গে সাক্ষাৎ, ছায়া-গ্রাহী রাক্ষসীর নিধন, লঙ্কায় প্রবেশ, সীতার অনুসন্ধান, চূড়ামণি গ্রহণ, অশোকবাটিকা ধ্বংস, রাক্ষস ও সেনাপতিদের সঙ্গে যুদ্ধ, এবং প্রত্যাবর্তন। রামের বিলাপ নীতিবাক্যে পরিণত হয়—ভক্তের উপস্থিতি ছাড়া রাজ্য, আত্মীয়তা, এমনকি জীবনও অর্থহীন; ভক্তি এখানে বিপদ-সামনে দাঁড়ানো দেহধারী আনুগত্য। দ্বিতীয় পর্বে হনুমান জ্ঞান ফিরে পেয়ে রামকে হরি-বিষ্ণু এবং নরসিংহ, বরাহ, বামন প্রভৃতি নানা অবতাররূপে স্তব করেন। পরে সীতাকে শ্রী/লক্ষ্মী, প্রকৃতি, বিদ্যা ও করুণাময়ী মাতৃশক্তি হিসেবে স্তব করেন। এই স্তোত্রকে পাপনাশক বলা হয়েছে; পাঠকারীর জন্য জাগতিক সিদ্ধি ও শেষে মুক্তিলাভের ফলও ঘোষিত। তৃতীয় পর্বে স্থান-মাহাত্ম্য: রাম বলেন, লিঙ্গ-সম্পর্কে কৃত অতিক্রম মহাদেবতাও নিবারণ করতে পারেন না; যেখানে হনুমান পতিত হন, সেখানে “হনুমৎকুণ্ড” নাম প্রতিষ্ঠা করে তার খ্যাতি জানান। সেখানে স্নান মহা-নদীতীর্থের চেয়েও শ্রেষ্ঠ ফলদায়ক, এবং তীরে শ্রাদ্ধ ও তিলোদক দিলে পিতৃগণের বিশেষ কল্যাণ হয়। শেষে সেতুর নিকটে প্রতিষ্ঠা-কর্ম ও পাঠ-শ্রবণে শুদ্ধি এবং শিবলোকে সম্মানপ্রাপ্তির ফলশ্রুতি বলা হয়েছে।

80 verses

Adhyaya 47

Adhyaya 47

Rāvaṇa-vadha-hetukā Brahmahatyā-śāntiḥ — Rāmeśvara-liṅga-pratiṣṭhā ca (Chapter 47)

অধ্যায়ের শুরুতে ঋষিরা সূতকে জিজ্ঞাসা করেন—রাবণ তো সাধারণত রাক্ষস বলে পরিচিত, তবে তাকে বধ করার পর রাঘব রামের উপর ব্রহ্মহত্যা-দোষ কীভাবে আসতে পারে? উত্তরে সূত পুলস্ত্য-বংশের কথা বলেন—ব্রহ্মাজাত ঋষি পুলস্ত্যের পুত্র বিশ্রবা; বিশ্রবার সঙ্গে সুমালীর কন্যা কৈকসীর মিলনে জন্ম নেয় রাবণ (দশগ্রীব), কুম্ভকর্ণ, বিভীষণ ও শূর্পণখা। অশুভ সন্ধিক্ষণে আগত কৈকসীকে বিশ্রবা জানান—পুত্রেরা হবে উগ্র রাক্ষস, তবে সর্বশেষ বিভীষণ হবে ধর্মপরায়ণ ও শাস্ত্রজ্ঞ। এরপর বলা হয়, বিশ্রবা ও পুলস্ত্যের কারণে রাবণ ও কুম্ভকর্ণের ব্রাহ্মণ্য বংশ-সংযোগ আছে; তাই তাদের বধে রামের উপর ব্রহ্মহত্যা সদৃশ অশৌচ/কলুষ জন্মায়। সেই শান্তির জন্য রাম বৈদিক বিধিতে রামেশ্বর (রামনাথ) লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ব্রহ্মহত্যা-বিমোচনকারী তীর্থ প্রসিদ্ধ হয়। ক্ষেত্রের দিকদিগন্তে আদিত্য, সোম, অগ্নি, যম, বরুণ, বায়ু, কুবের প্রভৃতি দেবতা এবং বিনায়ক, কুমার, বীরভদ্র ও শিবগণের উপস্থিতি বর্ণিত। এক প্রবল ব্রহ্মহত্যাকে ভূগর্ভস্থ গহ্বরে আবদ্ধ করে উপরে উঠতে না দিতে ভৈরবকে রক্ষক হিসেবে স্থাপন করা হয়। শেষে রাম ব্রাহ্মণ ঋত্বিকদের নিয়োগ করেন এবং গ্রাম, ধন, অলংকার, বস্ত্রাদি দান করে নিত্যপূজার ব্যবস্থা করেন। ফলশ্রুতিতে বলা হয়—এই অধ্যায় পাঠ বা শ্রবণে পাপক্ষয় হয় এবং হরির সঙ্গে সায়ুজ্য লাভ হয়।

66 verses

Adhyaya 48

Adhyaya 48

अध्याय ४८: रामनाथसेवा-माहात्म्यं तथा ब्रह्महत्या-प्रायश्चित्तोपदेशः (Chapter 48: The Glory of Service to Rāmanātha and Instruction on Expiation for Major Transgressions)

সূত ঋষিদের কাছে এক তীর্থকেন্দ্রিক নীতিকথা বলেন। বেদজ্ঞ ও যজ্ঞকর্মে নিষ্ঠ পাণ্ড্যরাজ শঙ্কর শিকারে ভয়ংকর অরণ্যে প্রবেশ করে। সেখানে শান্ত এক মুনিকে বন্যপ্রাণী ভেবে হত্যা করে এবং পরে মুনির পত্নীকেও বধ করে; ফলে ব্রহ্মহত্যা ও স্ত্রীহত্যা—দুই মহাপাপ একত্রিত হয়। তাঁদের পুত্র শোকে ভেঙে পড়লে সমবেত ঋষিগণ তাকে সান্ত্বনা দেন—মৃত্যুর অনিবার্যতা, কর্মকারণ-নীতি এবং উপনিষদপ্রতিপাদিত অদ্বৈত ব্রহ্মের তত্ত্ব স্মরণ করিয়ে দেন; পাশাপাশি ব্যবহারিক কর্তব্যও নির্দেশ করেন: অস্থিসংগ্রহ, শ্রাদ্ধাদি ক্রিয়া, এবং রামসেতুর নিকটে রামনাথক্ষেত্রে অস্থি স্থাপন, যাতে শুদ্ধি লাভ হয়। জাঙ্গল (শাকল্যের পুত্র) বিধিমতো সব সম্পন্ন করে স্বপ্নদর্শনে পিতা-মাতাকে বিষ্ণুসদৃশ দিব্যরূপে দেখে তাঁদের শুভগতি নিশ্চিত করে। এরপর ঋষিগণ রাজাকে নিন্দা করে আত্মদাহকে প্রায়শ্চিত্ত বলে দাবি করেন; রাজা অগ্নিতে প্রবেশ করতে উদ্যত হলে এক অশরীরী বাণী তাকে নিবৃত্ত করে বিকল্প বিধিবদ্ধ প্রায়শ্চিত্ত জানায়। এক বছর ধরে দিনে তিনবার রামপ্রতিষ্ঠিত রামনাথলিঙ্গের সেবা—প্রদক্ষিণা, সাষ্টাঙ্গ প্রণাম, ঘৃত-দুগ্ধ-মধু দ্বারা নিত্যাভিষেক, নৈবেদ্য ও পায়স, এবং তিলতেলে দীপপূজা। বলা হয়, এই সেবা মহাপাপও বিনাশ করে; এই মাহাত্ম্য শ্রবণ-পাঠে শুদ্ধি ও রামনাথপ্রাপ্তি হয়। রাজা নিয়ম পালন করে পাপক্ষয় লাভ করে এবং স্থিতিশীল রাজ্য নিয়ে সমৃদ্ধিতে শাসন করে।

103 verses

Adhyaya 49

Adhyaya 49

स्तोत्राध्यायः — Rāmanātha (Rāmeśvara) Stotra and Phalaśruti

সূত মহাপুণ্য এক স্তোত্রাধ্যায়ের পরিচয় দেন—প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গে রামনাথ (রামেশ্বর) শিবকে কেন্দ্র করে এই স্তব। রাম, লক্ষ্মণ, সীতা, সুগ্রীব ও অন্যান্য বানর, পরে দেবতা ও ঋষিগণ ক্রমান্বয়ে স্তোত্র পাঠ করেন; শিবকে শূলিন, গঙ্গাধর, উমাপতি, ত্রিপুরঘ্ন ইত্যাদি ভক্তিময় উপাধিতে এবং সাক্ষী, সৎ-চিত্-আনন্দ, নির্লেপ, অদ্বয় ইত্যাদি তত্ত্ববাচক বিশেষণে বর্ণনা করেন। লক্ষ্মণ জন্মে জন্মে অটল ভক্তি, বৈদিক আচারে নিষ্ঠা ও “অসৎ-মার্গ” বর্জনের প্রার্থনা করেন। সীতা পতিব্রতা-ধর্ম রক্ষা ও শুদ্ধ অভিপ্রায় কামনা করেন। সুগ্রীব, বিভীষণ ও বানরগণ সংসারকে ভয়-রোগ-ক্রোধ-লোভ-মোহপূর্ণ সাগর/অরণ্যের মতো বলে উদ্ধার চান; দেব-ঋষিরা বলেন, ভক্তি না থাকলে যজ্ঞ-বিদ্যা-তপস্যা নিষ্ফল, কিন্তু একবার দর্শন/স্পর্শ/নমস্কারও মহাপরিবর্তন ঘটায়। শিব স্তোত্রের প্রশংসা করে ফলশ্রুতি ঘোষণা করেন—পাঠ বা শ্রবণে পূজার ফল ও মহাপুণ্য লাভ হয়, যা বিরল তীর্থসেবন ও রামসেতু-বাসের সমতুল্য। নিয়ত কীর্তনে জরা-মৃত্যুর বন্ধন কাটে এবং শেষে রামনাথের সঙ্গে সায়ুজ্য-মুক্তি প্রাপ্ত হয়।

99 verses

Adhyaya 50

Adhyaya 50

सेतुमाधववैभवम् (The Glory of Setumādhava and the Test of Royal Devotion)

সূত বললেন—মথুরার সোমবংশীয় রাজা পুণ্যনিধি (গুণনিধি নামেও খ্যাত) তীর্থযাত্রায় রামসেতুতে গমন করেন। তিনি ধনুষ্কোটিতে স্নান করে রামনাথের পূজা করেন এবং বিধিমতো ব্রত-কর্ম ও দান সম্পন্ন করেন, তুলাপুরুষ-ধর্মী দানও করেন। সেখানে এক আট বছরের অনাথ কন্যা কঠোর শর্তে আশ্রয় ও দত্তক গ্রহণের প্রার্থনা জানায়; রাজা ও রাণী বিন্ধ্যাবলী তাকে কন্যারূপে গ্রহণ করেন। এরপর দেবী লক্ষ্মী ক্রীড়ার ছলে রাজভক্তির পরীক্ষা আরম্ভ করেন; বিষ্ণু ব্রাহ্মণ-তপস্বীর বেশে উপস্থিত হন। ছদ্মবেশী বিষ্ণু যখন কন্যার হাত জোর করে ধরেন, কন্যা কাঁদতে থাকে; রাজা প্রতিজ্ঞা রক্ষায় সেই ‘ব্রাহ্মণ’কে বেঁধে রামনাথের প্রাঙ্গণে আবদ্ধ করেন। রাত্রে স্বপ্নে প্রকাশ হয়—বন্দী শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্মধারী বিষ্ণু, আর কন্যা মহালক্ষ্মী। প্রভাতে রাজা দেবতাকে চিনে স্তোত্রপাঠে পূজা করেন ও বন্ধনের অপরাধে ক্ষমা চান। বিষ্ণু বলেন—এ কাজ প্রীতিকর, কারণ এতে রক্ষার প্রতিজ্ঞা ও ভক্তি প্রমাণিত হয়েছে; লক্ষ্মী বর দেন—অটল রাজ্য, চরণে অচঞ্চল ভক্তি এবং পুনর্জন্মহীন মুক্তি। শেষে ঘোষণা—ভগবান সেতুতে ‘সেতুমাধব’ রূপে বিরাজ করবেন, সেতু ব্রহ্মা ও শঙ্কর/রামনাথের দ্বারা রক্ষিত, এবং এই অধ্যায় শ্রবণ-পাঠে বৈকুণ্ঠগতি লাভ হয়।

99 verses

Adhyaya 51

Adhyaya 51

सेतुयात्राक्रमः (Setu-yātrā-kramaḥ) — The Prescribed Order of the Setu Pilgrimage

এই অধ্যায়ে সূত দ্বিজদের উদ্দেশে সেতু-যাত্রার ধর্মসম্মত ক্রম বর্ণনা করেন। স্নান, আচমন, নিত্যবিধি ও শৌচাচার সম্পন্ন করে রামনাথ/রাঘবের প্রতি ভক্তিসংকল্প গ্রহণ, এবং বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণদের তৃপ্ত করে ভোজনদান করা কর্তব্য বলা হয়েছে। যাত্রী ভস্ম-ত্রিপুণ্ড্র বা ঊর্ধ্বপুণ্ড্র, রুদ্রাক্ষ ধারণ করবে; তপস্যা, বাক্-সংযম পালন করবে; অষ্টাক্ষর ও পঞ্চাক্ষর মন্ত্রের নিয়ত জপ করবে এবং ভোগ-বিলাস ও বিভ্রান্তি পরিহার করবে। পথে সেতু-মাহাত্ম্য, রামায়ণ বা অন্যান্য পুরাণ পাঠ/শ্রবণ, দান, অতিথিসেবা ও ধর্মাচরণ অবিচ্ছিন্ন রাখতে বলা হয়েছে। সমুদ্রতীরে বিশেষ বিধান—পাষাণদান (একটি বা সাতটি পাথর অর্পণ) করে আহ্বান, নমস্কার, অর্ঘ্য প্রদান করে স্নানের অনুমতি প্রার্থনা; প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট মন্ত্র আছে। এরপর মন্ত্রোচ্চারণসহ স্নান করে ঋষি, দেবতা, বানর-সহায় ও পিতৃগণের নাম উচ্চারণপূর্বক তর্পণ করা হয়। তারপর শ্রাদ্ধ-ক্রম—যথাশক্তি সরল বা ষড়রস-সমৃদ্ধ বিস্তৃত, এবং গৌ, ভূমি, তিল, হিরণ্য প্রভৃতি দানসহ। পরে তীর্থ-পরিক্রমা—চক্রতীর্থ, কপিতীর্থ, সীতাকুণ্ড, ঋণমোচন, লক্ষ্মণতীর্থ, রামতীর্থ, হনুমৎকুণ্ড, ব্রহ্মকুণ্ড, নাগকুণ্ড, অগস্ত্যকুণ্ড, অগ্নিতীর্থ—অতিক্রম করে রামেশ্বর ও সেতুমাধবের পূজা ও দান করে সংযমে গৃহে প্রত্যাবর্তন ও সমষ্টিগত ভোজনদানের নির্দেশ আছে। শেষে ফলশ্রুতি বলে—সেতু-যাত্রাক্রম ও সেতু-মাহাত্ম্য শ্রবণ/পাঠমাত্রেই শুদ্ধি ও দুঃখনিবারণ হয়; যাঁরা স্বশরীরে যাত্রা করতে অক্ষম, তাঁদেরও কল্যাণ হয়।

80 verses

Adhyaya 52

Adhyaya 52

धनुष्कोटिमाहात्म्य (Dhanuṣkoṭi Māhātmya) — Ritual Merit of Snāna, Dāna, and Setu-Observances

এই অধ্যায়ে সূত মুনিদের কাছে ধনুষ্কোটি (রামসেতু)-র মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। এখানে জপ, হোম, তপস্যা ও দান ‘অক্ষয়’ ফল দেয়—এ কথা প্রতিষ্ঠা করে অন্যান্য প্রসিদ্ধ তীর্থে দীর্ঘকাল বাস বা স্নানের সমতুল্য পুণ্য ধনুষ্কোটিতে সহজে লাভ হয় বলে তুলনামূলক ফলকথা বলা হয়েছে। মাঘমাসে স্নান, সূর্য/চন্দ্রগ্রহণের সময়, এবং অর্ধোদয়–মহোদয় প্রভৃতি যোগে স্নান-দান ইত্যাদির পুণ্য বিশেষভাবে বৃদ্ধি পায়; পাপক্ষয়, স্বর্গলাভ এবং বৈষ্ণব/শৈব গতি—সালোক্য, সামীপ্য, সারূপ্য, সায়ুজ্য—এর ফলশ্রুতিও যুক্ত হয়েছে। দানবিধিতে নৈতিক নিয়ম জোর দিয়ে বলা হয়েছে—দান অবশ্যই ‘সৎপাত্র’-কে দিতে হবে; পবিত্র স্থানে কুপাত্রকে দান করলে তা আধ্যাত্মিক ক্ষতিকর। বসিষ্ঠ–দিলীপ সংলাপে সৎপাত্রের লক্ষণ—বেদাচার, নিত্যকর্মের ধারাবাহিকতা, এবং দারিদ্র্যেও শুচিতা ও সততা—নির্ধারিত হয়; যোগ্য পাত্র না মিললে সংকল্প করে জলার্পণের মাধ্যমে প্রতীকী দানের বিধানও বলা হয়েছে। শেষে সেতুকে দিব্যরক্ষিত বলা হয়েছে—বিষ্ণু ‘সেতুমাধব’ রূপে, দেবতা-ঋষি ও নানা সত্তা সেখানে উপস্থিত—এবং মঠ-মন্দির বা পবিত্র তটে সেতুস্মরণ, পাঠ ও শ্রবণে মহৎ ফলের কথা উপসংহারে ঘোষণা করা হয়েছে।

115 verses

FAQs about Setubandha Mahatmya

It elevates Setu (the bridge-site) as a sanctified liminal geography where epic action becomes ritual memory, and where contact with designated tīrthas is framed as ethically transformative.

The section repeatedly associates Setu-related bathing and visitation with purification from transgressions (pāpa-kṣaya) and the accrual of merit through regulated acts such as snāna, recitation, and attentive listening.

The central legend is the Setubandha episode: Rāma’s alliance with the vānaras, the ocean’s propitiation, Nāla’s bridge-building, and the subsequent sanctification of multiple tīrthas along the Setu corridor.