Uttara Ardha
Kashi Khanda50 Adhyayas4499 Shlokas

Uttarardha (Second Half)

Uttara Ardha

This section is anchored in the sacred geography of Vārāṇasī (Kāśī), repeatedly referencing northern precincts and named locales such as Harikeśava-vana, the area described as ‘Mahādeva-uttara’ (north of Mahādeva), and the tīrtha known as Pādodaka near Ādikēśava. The narratives function as a micro-topographic guide: they connect deity-forms (notably multiple Ādityas) to specific sites, prescribing darśana, pūjā, and snāna as place-activated ritual acts with stated merits. The section’s cartography is therefore both devotional and archival—mapping how solar worship, Vaiṣṇava adjacency (Ādikēśava), and Śaiva supremacy claims (liṅga centrality) are coordinated within Kāśī’s ritual landscape.

Adhyayas in Uttara Ardha

50 chapters to explore.

Adhyaya 1

Adhyaya 1

Āditya-Māhātmya in Kāśī: Aruṇa, Vṛddha, Keśava, and Vimala; with Śiva-Liṅga Supremacy Discourse

এই অধ্যায়ে প্রশ্নোত্তরধর্মী ধর্মতাত্ত্বিক কাহিনি প্রবাহিত। অগস্ত্য মুনি স্কন্দকে বিনতার দাসত্বের কারণ জিজ্ঞাসা করেন। স্কন্দ কদ্রু–বিনতার প্রসবে ডিম ভাঙার ঘটনা, অসম্পূর্ণ অরুণের আবির্ভাব ও তার উচ্চারিত শাপ বর্ণনা করেন—তৃতীয় ডিম না ভাঙতে নির্দেশ, এবং ভবিষ্যৎ সন্তান বিনতার বন্ধন মোচন করবে—এই ভবিষ্যদ্বাণীও বলেন। পরে অরুণ বারাণসীতে তপস্যা করে ‘অরুণাদিত্য’ রূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন; তাঁর পূজায় ভয়, দারিদ্র্য, পাপ ও কিছু রোগ-দুঃখ নাশের ফল প্রতিশ্রুত। এরপর ‘বৃদ্ধাদিত্য’ মাহাত্ম্য—ঋষি হারীতের সূর্যভক্তিতে প্রসন্ন ভাস্কর তাঁকে পুনর্যৌবনের বর দেন; ফলে এই রূপ বার্ধক্য ও দুর্ভাগ্য নিবারক বলে খ্যাত হয়। ‘কেশবাদিত্য’ প্রসঙ্গে সূর্য আদিকেশব (বিষ্ণু)-এর নিকট গিয়ে কাশীতে মহাদেবই পরম আরাধ্য—এই শৈবপ্রধান উপদেশ লাভ করেন; শিবলিঙ্গ পূজা দ্রুত শুদ্ধি ও ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ প্রদানকারী বলা হয়, এবং সূর্যকে স্ফটিক লিঙ্গ আরাধনার বিধান দিয়ে সংশ্লিষ্ট তীর্থ-স্থাপনা ঘটে। আদিকেশবের নিকট পাদোদক তীর্থে রথসপ্তমীর প্রেক্ষিতে মন্ত্রস্নান দ্বারা বহু জন্মের পাপক্ষয়ের শুদ্ধিবিধান বর্ণিত। শেষে ‘বিমলাদিত্য’ কাহিনিতে কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত বিমল হরিকেশব-বনে সূর্যোপাসনা করে আরোগ্য লাভ করে এবং ভক্তরক্ষার বর পায়; তাই বিমলাদিত্য রোগ-পাপহর রূপে প্রতিষ্ঠিত। এই আদিত্য-মাহাত্ম্য শ্রবণে পুণ্যফল—এমন ফলশ্রুতিতে অধ্যায় সমাপ্ত।

102 verses

Adhyaya 2

Adhyaya 2

दशाश्वमेधतीर्थमहिमा (Glory of the Daśāśvamedha Tīrtha)

এই অধ্যায়ে স্কন্দ বর্ণনা করেন—মন্দর পর্বতে অবস্থান করেও মহাদেবের মনে কাশীর প্রতি পুনরায় তীব্র আকুলতা জাগে; কাশী এমন এক দিব্য পুণ্যক্ষেত্র, যার আকর্ষণ দেবতাদের দৃঢ় সংকল্পকেও টলিয়ে দেয়। শিব বিধাতা ব্রহ্মাকে ডেকে কাশীতে “ফিরে না আসা”-র রহস্য অনুসন্ধানের আদেশ দেন, কারণ পূর্বে প্রেরিত যোগিনীগণ ও সহস্রগু প্রত্যাবর্তন করেনি। ব্রহ্মা বারাণসীতে গিয়ে নগরীর আনন্দস্বভাবের স্তব করেন এবং বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশে রাজা দিবোদাসের নিকট উপস্থিত হন। সেখানে রাজধর্ম বিষয়ে দীর্ঘ নীতিসংলাপ হয়—প্রজার রক্ষা, তীর্থক্ষেত্রের সংরক্ষণ ও ধর্মপ্রতিষ্ঠাই রাজত্বের মূল বলে প্রশংসা করে তিনি যজ্ঞকার্যে সহায়তা চান। দিবোদাস সর্বতোভাবে সাহায্য করেন; ব্রহ্মা কাশীতে দশটি অশ্বমেধ যজ্ঞ সম্পন্ন করলে পূর্বের রুদ্রসর তীর্থ “দশাশ্বমেধ” নামে প্রসিদ্ধ হয়। পরবর্তীতে তীর্থ-মাহাত্ম্য নির্দেশিত—দশাশ্বমেধে স্নান, দান, জপ, হোম, স্বাধ্যায়, দেবার্চনা, তर्पণ ও শ্রাদ্ধের ফল অক্ষয় বলা হয়েছে। জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষে, বিশেষত দশহরার স্নানে বহু জন্মের পাপ নাশ হয়; দশাশ্বমেধেশ লিঙ্গ দর্শনে শুদ্ধি লাভ হয়; এবং এই অধ্যায়ের শ্রবণ-পাঠ ব্রহ্মলোকপ্রাপ্তির কারণ বলে ঘোষিত। শেষে কাশীর অনন্য মুক্তিদায়িনী মর্যাদা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করে বলা হয়—কাশী লাভ করে তাকে ত্যাগ করা অনুচিত।

100 verses

Adhyaya 3

Adhyaya 3

Gaṇa-Preṣaṇa and the Establishment of Eponymous Liṅgas in Kāśī (गणप्रेषणं नामलिङ्गप्रतिष्ठा च)

অগস্ত্য মুনি স্কন্দকে জিজ্ঞাসা করেন—কাশীতে ব্রহ্মা উপস্থিত থাকলে শিব কী করেন, এবং ব্রহ্মা-সম্পর্কিত এই ‘অপূর্ব’ বৃত্তান্ত কী। স্কন্দ বলেন, কাশীর অতুল শক্তি জীবদের সেখানে স্থায়ীভাবে টেনে রাখে; ফলে সৃষ্টির নির্ধারিত কর্ম-বিভাগ ব্যাহত হতে পারে—এই চিন্তায় মহাদেব গণদের ডেকে বারাণসীতে পাঠান, যাতে তারা যোগিনীদের কার্যকলাপ, ভানুমান সূর্য এবং ব্রহ্মার বিধান-প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে। শঙ্খুকর্ণ, মহাকাল প্রভৃতি গণ কাশীতে এসে তার ‘মোহিনী’ প্রভাবে মুহূর্তের জন্য নিজের দায়িত্ব ভুলে যায়। তারা শঙ্খুকর্ণেশ্বর ও মহাকালেশ্বর লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে সেখানেই থেকে যায়। পরে ঘণ্টাকর্ণ ও মহোদর, তারপর পাঁচ গণের দল, এরপর আরও চার গণ—এভাবে সবাই কাশীতে প্রবেশ করে নিজ নিজ নামে লিঙ্গ ও তীর্থ স্থাপন করে; ঘণ্টাকর্ণ-হ্রদ এবং তার সঙ্গে যুক্ত শ্রাদ্ধ-ফলের বিশেষ প্রশংসাও বর্ণিত। অধ্যায়ে লিঙ্গপূজাকে মহাদান ও বৃহৎ যজ্ঞের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে; লিঙ্গস্নানের বিধি ও তার পবিত্রতাদায়ক ফল উল্লেখ আছে। কাশীকে মোক্ষভূমি রূপে দেখিয়ে সেখানে মৃত্যুকেও মঙ্গলময় বলা হয়েছে এবং ‘কাশী’ নামস্মরণের মহিমা কীর্তিত। শেষে তারেষ/তারকেশ প্রভৃতি গণ-নামাঙ্কিত লিঙ্গের মানচিত্রায়ন চলতে থাকে এবং প্রতিকূল দৈবের বিরুদ্ধেও অবিরাম উদ্যোগের উপদেশ দেওয়া হয়।

101 verses

Adhyaya 4

Adhyaya 4

कपर्दीश्वर-लिङ्ग-माहात्म्य एवं पिशाचमोचन-तीर्थ (Kapardīśvara Liṅga Māhātmya and the Piśāca-Mocana Tīrtha)

স্কন্দ মুনি কুম্ভসম্ভব (অগস্ত্য)কে উদ্দেশ করে কপর্দীশ্বর-লিঙ্গের শ্রেষ্ঠ মাহাত্ম্য ঘোষণা করেন। পিতৃঈশের উত্তরে এই লিঙ্গ অবস্থিত এবং সেখানে ‘বিমলোদক’ নামে এক পুষ্করিণী খনন করা হয়; যার জলের স্পর্শে মানুষ ‘বিমল’ অর্থাৎ শুদ্ধ হয়। এরপর ত্রেতাযুগের কাহিনি—পাশুপত তপস্বী বাল্মীকি মধ্যাহ্নে নিয়মমাফিক ভস্মস্নান, পঞ্চাক্ষরী জপ, ধ্যানস্মরণ ও প্রদক্ষিণা করেন; ভক্তিভরে উচ্চারণ, গান, তাল ও অঙ্গভঙ্গিসহ আরাধনা সম্পন্ন করেন। তখন তিনি এক ভয়ংকর প্রেত/রাক্ষসসদৃশ সত্তাকে দেখেন, যার দেহবর্ণনা বিস্তারে দেওয়া—অশুচিতা ও তপোনিয়মের তীব্র বৈপরীত্য বোঝাতে। সেই সত্তা কর্মফল ব্যাখ্যা করে: গোদাবরীতীরে প্রতিষ্ঠানে ব্রাহ্মণ হয়ে সে ‘তীর্থ-প্রতিগ্রহ’ (তীর্থসংক্রান্ত দান গ্রহণ) করেছিল, ফলে কঠোর অনাবাদী প্রান্তরে প্রেতযোনি লাভ করে। শিবের আদেশে প্রেত ও মহাপাপীরা কাশীতে প্রবেশ করতে পারে না; সীমান্তে শিবগণের ভয়ে থাকে। কিন্তু পথচারীর মুখে শিবনাম শুনে তার পাপক্ষয় হয় এবং সীমিত প্রবেশের সুযোগ মেলে। বাল্মীকি করুণাবশে প্রতিকার বলেন—কপালে বিভূতি কবচের মতো ধারণ করো, তারপর বিমলোদকে স্নান করে কপর্দীশ্বরের পূজা করো। ভস্মচিহ্ন থাকলে জলদেবতারা বাধা দেয় না; স্নান ও পান করলে প্রেতভাব নষ্ট হয়ে দিব্য দেহ প্রাপ্ত হয়। মুক্ত সত্তা তীর্থের নতুন নাম ‘পিশাচমোচন’ ঘোষণা করে এবং বলে—মার্গশীর্ষ শুক্ল চতুর্দশীতে স্নান, পিণ্ড-তর্পণ, পূজা ও অন্নদান করলে বিশেষ ফল হয়। শেষে ফলশ্রুতি—এই কাহিনি শ্রবণ-পাঠে ভূত-প্রেত-পিশাচ, চোর ও বন্যপশু থেকে রক্ষা হয়; গ্রহপীড়িত শিশুদের শান্তির জন্যও এটি পাঠযোগ্য।

86 verses

Adhyaya 5

Adhyaya 5

Gaṇa-pratiṣṭhita Liṅgas in Kāśī and Śiva’s Discourse on Non-Abandonment of Kāśī (Uttarārdha, Adhyāya 5)

এই অধ্যায়ে ধর্মতাত্ত্বিক সংলাপের মধ্যে কাশীর লিঙ্গ-তীর্থগুলির এক প্রকার তালিকা দেওয়া হয়েছে। স্কন্দ নানা গণের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বহু লিঙ্গের অবস্থান নির্দেশ করেন—যেমন বিশ্বেশের উত্তরে, কেদারের দক্ষিণে, কুবেরের নিকটে, অন্তঃগৃহের উত্তর দ্বারের কাছে—এবং দর্শন ও অর্চনার ফলশ্রুতি বলেন। পিঙ্গলাখেশ, বীরভদ্রেশ্বর (যুদ্ধে রক্ষা ও ‘বীর-সিদ্ধি’), কিরাতেশ (অভয়দান), চতুর্মুখেশ্বর (দেবলোকে সম্মান), নিকুম্ভেশ্বর (কর্মসাফল্য ও উন্নতি), পঞ্চাক্ষেশ (পূর্বজন্ম-স্মৃতি), ভারভূতেশ্বর (দর্শনে দৃঢ় প্রেরণা), ত্র্যক্ষেশ্বর (ভক্তের ‘ত্র্যক্ষ’ হওয়া), ক্ষেমক/বিশ্বেশ্বর-উপাসনা (বিঘ্ননাশ ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন), লাঙ্গলীশ্বর (রোগমুক্তি ও সমৃদ্ধি), বিরাধেশ্বর (অপরাধ-শমন), সুমুখেশ (পাপমোচন ও শুভদর্শন), এবং আষাঢ়ীশ্বর (পাপহরণ ও কালবিশেষ তীর্থযাত্রা) প্রভৃতি উল্লেখিত। পরবর্তী অংশে শিবের অন্তর্মুখী বাণী—কাশী সংসারভারাক্রান্ত জীবের নিশ্চিত আশ্রয়, পঞ্চক্রোশী-পরিমিত ‘নগরদেহ’, এবং রুদ্রাবাস। ‘বারাণসী/কাশী/রুদ্রাবাস’ নাম শ্রবণ বা উচ্চারণও যমভয় নিবারক বলা হয়েছে। শেষে মহাদেব গণেশকে সহচর গণসহ কাশীতে গমন করতে আদেশ দেন, যাতে সেখানে অবিচ্ছিন্ন সিদ্ধি ও নির্বিঘ্নতা স্থাপিত থাকে; কাশীর চিরন্তন তীর্থ-মহিমা এভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

61 verses

Adhyaya 6

Adhyaya 6

विघ्नेशस्य मायाप्रवेशः — Vināyaka’s Disguise, Omens, and the Court of Divodāsa

এই অধ্যায়ে স্কন্দ বর্ণনা করেন যে শিবের আদেশে বিঘ্নজিত্/বিঘ্নেশ কাশীর পরিবর্তন-লীলা সম্পন্ন করতে দ্রুত বারাণসীতে প্রবেশ করে মায়াবলে ছদ্মবেশ ধারণ করেন। তিনি বৃদ্ধ নক্ষত্র-পাঠক/জ্যোতিষীর রূপে নগরে ঘুরে স্বপ্ন ও শকুনের ব্যাখ্যা দিয়ে জনসাধারণের বিশ্বাস অর্জন করেন। গ্রহণ, অশুভ গ্রহযোগ, ধূমকেতু, ভূমিকম্প, পশু-পাখি ও বৃক্ষে অমঙ্গল লক্ষণ, এবং নগরধ্বংসের প্রতীক দৃশ্য—এমন বহু অশুভ নিদর্শন তুলে ধরে তিনি আসন্ন রাজনৈতিক বিপদের আবহ সৃষ্টি করেন; ফলে বহু বাসিন্দা নগর ত্যাগ করতে উদ্যত হয়। এরপর অন্তঃপুরের নারীরা সেই ‘ব্রাহ্মণ’-এর গুণকীর্তন করে, এবং রানি লীলাবতী তাঁকে রাজা দিবোদাসের কাছে সুপারিশ করেন। রাজা সম্মানসহকারে তাঁকে গ্রহণ করে একান্তে নিজের অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। ছদ্মবেশী বিঘ্নেশ রাজস্তবক করে নির্দেশ দেন—আঠারো দিনের মধ্যে উত্তর দিক থেকে এক ব্রাহ্মণ আসবেন; তাঁর উপদেশ বিনা দ্বিধায় মানতে হবে। অধ্যায়ের শেষে বলা হয়, মায়ার প্রভাবে নগর বিঘ্নেশের অধীন হয়েছে; তারপর অগস্ত্য জিজ্ঞাসা করেন—শিব কীভাবে বিঘ্নেশের প্রশংসা করেছিলেন এবং কাশীতে তিনি কোন কোন নাম-রূপ ধারণ করেছিলেন।

86 verses

Adhyaya 7

Adhyaya 7

Dhūṇḍhi-Vināyaka Stuti and the Āvaraṇa-Map of Vināyakas in Kāśī (काश्याम् विनायकावरणवर्णनम्)

এই অধ্যায়ে দেবতা, রুদ্র, সিদ্ধ, যক্ষ, গন্ধর্ব ও কিন্নরদের দিব্য সমাবেশের মধ্যে মহাদেবের শুভ বারাণসী-প্রবেশের বর্ণনা আছে। এরপর শিব শ্রীকণ্ঠরূপে গণেশের স্তব করেন—বিনায়ককে কারণাতীত তত্ত্ব, বিঘ্নের নিয়ন্তা ও নিবারক, এবং ভক্তদের সিদ্ধিদাতা পরম আশ্রয় রূপে প্রতিষ্ঠা করা হয়। তারপর ধূণ্ডি-বিনায়কের বিশেষ ভূমিকা বলা হয়েছে—তিনি কাশীতে প্রবেশ ও স্থিতিকে সফল করেন। মণিকর্ণিকায় স্নান, মোদক, ধূপ, দীপ, মাল্যাদি নিবেদন, এবং চতুর্থী-ব্রত বিশেষত মাঘ-শুক্ল-চতুর্থীর বিধান আছে; বার্ষিক যাত্রায় তিল-নিবেদন ও হোমের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ধূণ্ডির নিকটে পাঠ-জপের ফলশ্রুতিতে বিঘ্ননাশ, সমৃদ্ধি ও কাম্যসিদ্ধির কথা বলা হয়েছে। অধ্যায়ের শেষে কাশীর পবিত্র ভূগোলকে ‘আবরণ’ক্রমে সাজানো হয়—বিভিন্ন দিক ও রক্ষাবলয়ে বহু বিনায়কের নাম ও অবস্থান গণনা করা হয়েছে। প্রত্যেকের স্থানীয় কার্য—ভয়নাশ, রক্ষা, দ্রুত সিদ্ধি, ও প্রতিকূল শক্তি দমন—উল্লেখ করে কাশীকে স্তরিত রক্ষাচক্রে পরিবেষ্টিত গণেশ-ক্ষেত্র হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।

103 verses

Adhyaya 8

Adhyaya 8

Pādodaka-Tīrtha and the Keśava Circuit in Kāśī (पादोदकतीर्थ-केशवपरिक्रमा)

অধ্যায় ৮ সংলাপরূপে বিন্যস্ত। অগস্ত্য মন্দর পর্বতে অবস্থানকালে শিবের কার্যকলাপ সম্পর্কে প্রশ্ন করেন, আর স্কন্দ কাশীকেন্দ্রিক, অশুচি-নাশক এক বৃত্তান্ত বলেন। এর মধ্যে বিষ্ণুর এক ধর্মোপদেশ আছে—কর্মে চেষ্টা দরকার, কিন্তু ফলসিদ্ধি দেবসাক্ষী ও প্রেরকের উপর নির্ভর; শিবস্মরণসহ করা কর্ম সফল, আর শিবস্মরণবিহীন কর্ম বিধিপূর্বক হলেও নিষ্ফল বলা হয়েছে। এরপর বিষ্ণুর মন্দর থেকে বারাণসীতে গমন, গঙ্গার সীমা/সঙ্গমে স্নান, এবং পাদোদক-তীর্থের প্রতিষ্ঠা/পরিচয় বর্ণিত হয়। তারপর আদিকেশব প্রভৃতি কেশব-স্থান ও শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্ম, মহালক্ষ্মী, তার্ক্ষ্য, নারদ, প্রহ্লাদ, অম্বারীষ ইত্যাদি বহু তীর্থের ঘন পরিক্রমাপথ দেওয়া হয়েছে; প্রতিটি স্থানে স্নান, পাদোদক-পান, শ্রাদ্ধ, তর্পণ, দান এবং তার ফল—শুদ্ধি, পিতৃউদ্ধার, সমৃদ্ধি, আরোগ্য ও মোক্ষাভিমুখ লাভ—উল্লেখিত। পরবর্তী অংশে ‘সৌগত’ তপস্বী/আচার্যের উপদেশে নৈতিক সার্বজনীনতা প্রকাশ পায়—অহিংসাই পরম ধর্ম, করুণাই সর্বোচ্চ নীতি। শেষে ফলশ্রুতিতে বলা হয়, এই কাহিনি পাঠ-শ্রবণে অভীষ্ট সিদ্ধ হয়—বিষ্ণুর কামনা-পূরণ ও শিবের ‘চিন্তা-সাধক’ শক্তির ন্যায়।

113 verses

Adhyaya 9

Adhyaya 9

पञ्चनदतीर्थप्रादुर्भावः (Origin and Merit of the Pañcanada Tīrtha)

অধ্যায়ের শুরুতে অগস্ত্য মুনি ভক্তিভরে স্কন্দকে স্তব করেন এবং কাশীর ‘পঞ্চনদ’ তীর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন—কেন এই নাম, কেন এটি সর্বোচ্চ পবিত্র, এবং বিষ্ণু কীভাবে সেখানে অধিষ্ঠান করেন অথচ তিনি পরাত্পর ও অতীত। স্কন্দ উত্তর দেন স্থানভিত্তিক উপদেশরূপে—ভগবান নিরাকার হয়েও সাকারভাবে প্রকাশিত, সর্বাধার হয়েও স্বতন্ত্র—এবং তীর্থের উৎপত্তি-পরম্পরা ব্যাখ্যা করেন। কাহিনিতে বেদশিরা ঋষি, শুচি নাম্নী অপ্সরা এবং ধূতপাপা নামে এক কন্যার জন্মবৃত্তান্ত আসে। ধূতপাপার তপস্যাই তার অসাধারণ পবিত্রতার মূল; ব্রহ্মা বর দেন যে অগণিত তীর্থ তার দেহে নিবাস করবে, ফলে তার শুদ্ধিকরণ-শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে ধর্মের সঙ্গে সাক্ষাতে পারস্পরিক শাপ ঘটে—ধর্ম অবিমুক্ত ক্ষেত্রে মহাধর্মনদী হন, আর ধূতপাপা চন্দ্রকান্তমণির ন্যায় রূপ ধারণ করে চন্দ্রোদয়ে দ্রবীভূত হয়ে নদী হয়ে প্রবাহিত হয়। শেষে আচরণসূচি দেওয়া হয়েছে—পঞ্চনদে স্নান, পিতৃতর্পণ, বিন্দুমাধব পূজা, এবং পঞ্চনদ-জল পান/ব্যবহার পবিত্রতা দেয়; বিন্দুতীর্থে দান দারিদ্র্যনাশক বলে কাশীর তীর্থযাত্রার কার্যকর পথনির্দেশ স্থির হয়।

104 verses

Adhyaya 10

Adhyaya 10

Bindumādhava-Prādurbhāva at Pañcanada-hrada and the Kārtika/Ūrja Vrata Framework (बिंदुमाधवप्रादुर्भावः)

এই অধ্যায়ে স্কন্দ ‘মাধব-প্রাদুর্ভাব’-এর কথা তুলে ধরে বলেন—শ্রদ্ধাভরে শ্রবণ করলে দ্রুত শুদ্ধি লাভ হয়। মন্দর পর্বত থেকে কেশব কাশীতে এসে তার অতুল পবিত্রতা প্রত্যক্ষ করেন এবং পঞ্চনদ-হ্রদকে সর্বতীর্থের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে প্রশংসা করেন—এটি জগতখ্যাত পবিত্রতার দৃষ্টান্তগুলিকেও অতিক্রম করে। তপস্বী অগ্নিবিন্দু এসে বিষ্ণুর দীর্ঘ স্তব করেন; সেখানে ভগবানকে পরাত্পর হয়েও ভক্তদের প্রতি করুণায় সাকারভাবে প্রকাশিত বলে বর্ণনা করা হয়। তিনি বর চান—সকল জীবের, বিশেষত মোক্ষার্থীদের কল্যাণে ভগবান যেন পঞ্চনদে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন। বিষ্ণু বর প্রদান করে কাশীকে ‘তনূ-ব্যয়’ (দেহত্যাগ) দ্বারা মোক্ষদায়িনী বিশেষ ভূমি ঘোষণা করেন; আরও বলেন—এই তীর্থ ‘বিন্দু-তীর্থ’ নামে প্রসিদ্ধ হবে এবং সেখানে স্নান ও ভক্তি করলে দূরে থাকলেও পরবর্তীকালে দেহান্তে মুক্তি লাভ হয়। শেষভাগে কার্তিক/ঊর্জা-ব্রতের বিধান বলা হয়েছে—আহারসংযম, ব্রহ্মচর্য, স্নান, দীপদান, একাদশীতে জাগরণ, সত্যভাষণ, বাক্-সংযম, শৌচনিয়ম এবং উপবাসের ধাপে ধাপে বিকল্প। এগুলি ধর্মকে স্থিত করে, চতুর্বর্গ সাধনে সহায় হয় এবং পরমদেবের প্রতি অদ্বেষ ও অবিচ্ছিন্ন ভক্তিচর্চাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

105 verses

Adhyaya 11

Adhyaya 11

बिंदुमाधव-तीर्थप्रभेदः तथा मणिकर्णिका-रहस्यं (Bindu-Mādhava’s Tīrtha-Forms and the Secret Greatness of Maṇikarṇikā)

অধ্যায়ের শুরুতে অগস্ত্য মুনি শুদ্ধিকারক মাধব-কথা ও পঞ্চনদের মাহাত্ম্য শুনে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান। স্কন্দ বিন্দু-মাধবের বাণীর মাধ্যমে অগ্নিবিন্দু ঋষিকে ভগবান মাধবের উপদেশ শোনান। এরপর একটি সুশৃঙ্খল তালিকায় বিষ্ণু নানা তীর্থে নানা নামে আত্মপ্রকাশ করেন—কেশব, মাধব, নৃসিংহ প্রভৃতি—এবং প্রতিটি তীর্থের বিশেষ ফল বলেন: জ্ঞান-স্থিতি (জ্ঞান-কেশব), মায়া থেকে রক্ষা (গোপী-গোবিন্দ), সমৃদ্ধি (লক্ষ্মী-নৃসিংহ), মনোবাসনা পূরণ (শেষ-মাধব), উচ্চ সিদ্ধি (হয়গ্রীব-কেশব) ইত্যাদি। তারপর তীর্থগুলির তুলনামূলক মূল্যায়নে কাশীর অতুল শক্তি ঘোষণা করা হয় এবং এক ‘রহস্য’ প্রকাশ পায়—মধ্যাহ্নে বহু তীর্থ বিধিপূর্বক মণিকর্ণিকায় এসে মিলিত হয়; দেবতা, ঋষি, নাগ ও নানা সত্তাও এই মধ্যাহ্ন-আচারচক্রে অংশগ্রহণ করে। মণিকর্ণিকার ফলপ্রদতা এমন যে একবার প্রণায়াম, এক গায়ত্রী জপ বা এক আহুতি দিলেই বহুগুণ ফল লাভ হয় বলে বলা হয়েছে। অগ্নিবিন্দু মণিকর্ণিকার বিস্তার জানতে চাইলে বিষ্ণু হরিশ্চন্দ্র-প্রাঙ্গণ, বিনায়ক প্রভৃতি চিহ্ন ধরে তার স্থূল সীমা জানান এবং পার্শ্ববর্তী তীর্থ ও তাদের ফল বর্ণনা করেন। পরে মণিকর্ণিকাকে দেবীরূপে ধ্যান, মন্ত্রের পরিচয় এবং মোক্ষ-উদ্দেশ্যে জপ-হোমের পরিমাণ নির্দেশ করা হয়। শেষে নিকটবর্তী শিবলিঙ্গ, তীর্থ ও রক্ষাকারী রূপগুলির উল্লেখ করে ভক্তিভরে বিন্দু-মাধব-কথা শ্রবণ-পাঠ করলে ভুক্তি ও মুক্তি—উভয়ই লাভ হয়—এই ফলশ্রুতিতে অধ্যায় সমাপ্ত।

116 verses

Adhyaya 12

Adhyaya 12

Kapilā-hrada / Kapiladhārā Māhātmya and Pitṛ-tarpaṇa Phala (कपिलाह्रद–कपिलधारामाहात्म्य तथा पितृतर्पणफल)

অগস্ত্য মুনি কাশীতে সংঘটিত দিব্য সমাবেশের বিস্তারিত জানতে চান—বৃষধ্বজ শিবের আগমন, বিষ্ণু, ব্রহ্মা, রবি, গণ ও যোগিনীদের উপস্থিতি এবং শিব-সম্মান প্রদানের বিধি। স্কন্দ সভার শিষ্টাচার—প্রণাম, আসনবিন্যাস, আশীর্বাদ ইত্যাদি—বর্ণনা করেন; শিব ব্রহ্মাকে আচরণবিষয়ে আশ্বস্ত করে ব্রাহ্মণ-অপরাধের গুরুতরতা ও শিবলিঙ্গ-প্রতিষ্ঠার পবিত্র ফল ব্যাখ্যা করেন। রবি জানান, দিবোদাসের শাসনকালে তিনি নিয়ম মেনে কাশীর বাইরে অপেক্ষা করেছিলেন; শিব একে দেবীয় প্রশাসনের অংশ বলে স্থির করেন। এরপর তীর্থ-উৎপত্তি—গোলোক থেকে পাঁচ দিব্য কাপিলা গাভী এসে দুধধারা প্রবাহিত করে; সেই দুধে হ্রদ সৃষ্টি হয়, শিব তার নাম দেন ‘কপিলাহ্রদ’, যা শ্রেষ্ঠ তীর্থরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে পিতৃগণ প্রকাশ পেয়ে বর চান; শিব শ্রাদ্ধ, পিণ্ডদান ও তর্পণের বিধান দেন এবং কুহূ/সোম-সংযোগ ও অমাবস্যায় অক্ষয় তৃপ্তির বিশেষ ফল বলেন। তীর্থের বহু নাম—মধুস্রবা, ক্ষীরনীরধি, বৃষভধ্বজ-তীর্থ, গদাধর, পিতৃ-তীর্থ, কপিলধারা, শিবগয়া—উল্লিখিত হয়; সকলের অধিকার ও নানা প্রকার প্রয়াতজনের উপকারের কথা বলা হয়। শেষে শ্রবণ-পাঠে মহাপাপক্ষয় ও শিব-সায়ুজ্যের ফলশ্রুতি দিয়ে কাহিনি ‘কাশী-প্রবেশ’ জপাখ্যান-পরম্পরার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

100 verses

Adhyaya 13

Adhyaya 13

अध्याय १३ — ज्येष्ठेश्वर-निवासेश्वर-जयगीषव्येश्वर-माहात्म्य एवं जयगीषव्य-स्तोत्र

অগস্ত্য মুনি স্কন্দকে কাশীর মহিমা ও তারকারে (কাশী) শিবের লীলার কথা জিজ্ঞাসা করেন। স্কন্দ বলেন যোগী-মুনি জয়গীষব্যের কাহিনি—তিনি কঠোর নিয়ম নেন যে ত্রিনেত্র মহাদেবের ‘বিষম-ঈক্ষণ’ পদ্মচরণ পুনরায় দর্শন না করা পর্যন্ত তিনি অন্ন-জল গ্রহণ করবেন না; দর্শনবিহীন ভোজনকে তিনি আধ্যাত্মিক দোষযুক্ত মনে করেন। এই ব্রত কেবল শিবই জানেন; তিনি নন্দীকে পাঠান। নন্দী এক মনোরম গুহায় ভক্তকে নিয়ে গিয়ে দিব্য ‘লীলা-কামল’ স্পর্শে তাকে সঞ্জীবিত ও শক্তিশালী করে শিব-গৌরীর সম্মুখে উপস্থিত করেন। জয়গীষব্য তখন বিস্তৃত শিবস্তোত্রে নানা উপাধিতে মহাদেবকে স্তব করেন এবং একান্ত শরণাগতি প্রকাশ করেন। প্রসন্ন শিব বর দেন—অবিচ্ছিন্ন সান্নিধ্য, জয়গীষব্য-প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গে স্থায়ী অধিষ্ঠান, এবং যোগোপদেশে তাকে শ্রেষ্ঠ যোগশিক্ষক করেন। এই স্তোত্র মহাপাপ-নাশক, পুণ্য ও ভক্তিবর্ধক বলে ঘোষিত। অধ্যায়ে কাশীর তীর্থভূগোলও নির্দেশিত—জ্যেষ্ঠবাপীর নিকটে স্বয়ম্ভূ জ্যেষ্ঠেশ্বর লিঙ্গ ও জ্যেষ্ঠা গৌরীর আবির্ভাব; জ্যেষ্ঠ শুক্ল চতুর্দশী, সোমবার, অনুরাধা নক্ষত্রে মহাযাত্রার বিধান; জ্যেষ্ঠমাসে রাত্রিজাগরণ উৎসব; জ্যেষ্ঠস্থানে শ্রাদ্ধের বিশেষ ফল; এবং পরে নিবাসেশ (শিবের স্ব-প্রতিষ্ঠিত নিবাস-লিঙ্গ) নামকরণ। ফলশ্রুতিতে মনোযোগী শ্রবণে পাপনাশ ও দুঃখ-ব্যাধি থেকে রক্ষা বলা হয়েছে।

91 verses

Adhyaya 14

Adhyaya 14

काशीमाहात्म्ये ब्राह्मणसमागमः, लिङ्गप्रतिष्ठा, अविमुक्तमोक्षोपदेशश्च (Kāśī-Māhātmya: Assembly of Brāhmaṇas, Liṅga Foundations, and the Avimukta Teaching on Liberation)

অগস্ত্য মুনি স্কন্দকে জিজ্ঞাসা করেন—প্রভুর অতি প্রিয় ও পরম পুণ্যময় ‘জ্যেষ্ঠস্থান’-এ কী ঘটেছিল। স্কন্দ বলেন, শিব মন্দর পর্বতে গেলে কাশীর নিবাসী ব্রাহ্মণ ও ক্ষেত্র-ত্যাগী সাধকেরা মহাক্ষেত্রের পবিত্র অর্থব্যবস্থার আশ্রয়ে ‘দণ্ডখাতা’ নামে এক মনোরম পুকুর খনন করেন এবং তার চারদিকে বহু মহালিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। তারা বিভূতি ধারণ, রুদ্রাক্ষ ধারণ, লিঙ্গপূজা ও শতরুদ্রিয় জপ—এই শৈব আচারে অবিচল থাকেন। শিবের প্রত্যাবর্তনের সংবাদে মন্দাকিনী, হংসতীর্থ, কপালমোচন, ঋণমোচন, বৈতরণী, লক্ষ্মীতীর্থ, পিশাচমোচন প্রভৃতি বহু তীর্থ/কুণ্ড থেকে অসংখ্য ব্রাহ্মণ দর্শনার্থে এসে গঙ্গাতীরে উপহার ও মঙ্গলস্তবসহ সমবেত হন। শিব তাঁদের আশ্বাস দিয়ে উপদেশ করেন—কাশী ‘ক্ষেমমূর্তি’ ও ‘নির্বাণনগরী’; ‘কাশী’ নাম-মন্ত্রস্মরণ রক্ষাকারী ও রূপান্তরকারী। তিনি কাশীভক্তদের মোক্ষদায়ক মর্যাদা ঘোষণা করেন, ভক্তিহীন কাশীবাসের দোষ দেখান, এবং বর দেন—প্রভু কাশী ত্যাগ করবেন না, ভক্তদের অচঞ্চল ভক্তি ও নিরন্তর কাশীবাস হবে, এবং ভক্তদের প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গে শিবসন্নিধি স্থায়ী থাকবে। এরপর কাশীবাসীদের নীতিনিয়ম বলা হয়—সেবা, পূজা, সংযম, দান, দয়া, অহিংসা ও অপ্রিয়-অহিতকর বাক্য পরিহার। কাশীতে কুকর্মের ফলও বর্ণিত—মাঝে ‘রুদ্র-পিশাচ’ সদৃশ কঠোর অন্তর্বর্তী দশা ও শোধনযন্ত্রণা, তারপর মুক্তি। শেষে অবিমুক্তের বিশেষ প্রতিশ্রুতি—সেখানে মৃত্যু হলে নরকে পতন হয় না; প্রস্থানকালে শিব তারক-ব্রহ্ম উপদেশ দেন; সামান্য দানেও মহাপুণ্য হয়; এবং এই ‘গুপ্ত কাহিনি’ পাঠ-শ্রবণ-উপদেশ পাপক্ষয় করে শিবলোকে নিয়ে যায়।

103 verses

Adhyaya 15

Adhyaya 15

Jyeṣṭhasthāna Liṅga-Catalog and the Origins of Kaṇḍukeśvara & Vyāghreśvara

এই অধ্যায়ে স্কন্দ কুম্ভজকে জ্যেষ্ঠেশ্বরের চারদিকে অবস্থিত বহু লিঙ্গের তালিকা দেন এবং বলেন—এগুলি সিদ্ধিদায়ক ও পবিত্রকারী। বিশেষ ফলও উল্লেখিত: পরাশরেশ্বরের দর্শনে ‘শুদ্ধ জ্ঞান’ লাভ, মাণ্ডব্যেশ্বর বুদ্ধিভ্রম দূর করে, জাবালীশ্বর দুর্গতি রোধ করে, আর সুমন্তু প্রতিষ্ঠিত আদিত্যকে দর্শনে কুষ্ঠ/চর্মরোগ উপশম হয়। এই লিঙ্গগুলির স্মরণ, দর্শন, স্পর্শ, পূজা, প্রণাম ও স্তব করলে নৈতিক-আধ্যাত্মিক কলুষ জন্মায় না—এটাই সাধারণ ফলশ্রুতি। এরপর প্রথম উৎপত্তিকথা: জ্যেষ্ঠস্থানের কাছে শিবা/দেবী কণ্ডুক (বল) নিয়ে ক্রীড়া করছিলেন। দুই শত্রু তাঁকে ধরতে এলে সর্বজ্ঞ দেবী তাদের চিনে একই বল দিয়ে বিনাশ করেন। সেই কণ্ডুকই লিঙ্গরূপে পরিণত হয়ে ‘কণ্ডুকেশ্বর’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়—দুঃখনাশক এবং ভক্তদের জন্য দেবীর স্থায়ী সান্নিধ্যের আশ্রয়। পরে দণ্ডখাত তীর্থের দ্বিতীয় কাহিনি: এক দুষ্ট ব্যক্তি জানে যে বেদযজ্ঞে দেবশক্তি বৃদ্ধি পায়, তাই ব্রাহ্মণ হত্যা করে দেবতাদের দুর্বল করতে চায় এবং ছদ্মবেশে তপস্বীদের আক্রমণ করে। শিবরাত্রিতে এক ভক্ত পূজক রক্ষিত থাকেন; তখন শিব ব্যাঘ্র-সম্বন্ধিত রূপে প্রকাশিত হয়ে ‘ব্যাঘ্রেশ্বর’ লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। এর স্মরণে বিপদে জয়, চোর-পশু প্রভৃতি থেকে রক্ষা ও উপাসকের নির্ভয়তা লাভ হয়। শেষে ব্যাঘ্রেশ্বরের পশ্চিমে ‘উটজেশ্বর’ লিঙ্গের কথাও বলা হয়েছে, যা ভক্তরক্ষার্থে উদ্ভূত।

85 verses

Adhyaya 16

Adhyaya 16

ज्येष्ठेश्वरपरिसर-लिङ्गकुण्डवर्णनम् / Mapping of Liṅgas, Kuṇḍas, and Protective Deities around Jyeṣṭheśvara

এই অধ্যায়ে স্কন্দ জ্যেষ্ঠেশ্বরের চারদিকে দিক‑অনুসারে অবস্থিত উপলিঙ্গ, কুণ্ড ও বাপীর ক্রম বর্ণনা করে এক কার্যকর তীর্থ‑পরিক্রমার পথ নির্দেশ করেন। অপ্সরসেশ্বর ও অপ্সরস‑কূপ (সৌভাগ্য‑উদক)‑এ স্নান‑দর্শনে দুর্ভাগ্য নাশের কথা বলা হয়েছে। এরপর বাপীর নিকটে কুক্কুটেশের পূজায় গৃহবৃদ্ধি, জ্যেষ্ঠ‑বাপীর তীরে পিতামহেশ্বরকে শ্রাদ্ধ‑স্থান ও পিতৃতৃপ্তির কারণ, এবং গদাধরেশ্বরকে পিতৃসন্তোষ‑প্রদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তারপর নাগ‑সম্পর্কিত তীর্থসমূহ—বাসুকীশ্বর ও বাসুকী‑কুণ্ডে স্নান‑দানবিধান, নাগপঞ্চমীকে বিশেষ দিন ধরে সাপের ভয় ও বিষ থেকে রক্ষার ফল। তক্ষকেশ্বর ও তক্ষক‑কুণ্ডও একই রক্ষাকথা জোরদার করে। ভৈরবক্ষেত্রে কপালী ভৈরব ভক্তের ভয়হর, ছয় মাসে বিদ্যাসিদ্ধির প্রতিশ্রুতি; চণ্ডী মহামুণ্ডার বলি‑নৈবেদ্যসহ পূজা এবং মহাষ্টমী‑যাত্রায় যশ ও সমৃদ্ধি লাভের কথা বলা হয়েছে। পরে চতুঃসাগর‑বাপিকা ও সমুদ্রদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত চার লিঙ্গের বর্ণনা; হরের বৃষভ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বৃষভেশ্বরের দর্শনে ছয় মাসে মুক্তির কথা। গন্ধর্বেশ্বর‑কুণ্ডে অর্ঘ্য‑উপহারে “গন্ধর্বদের সঙ্গে ভোগ”‑ফল, আর কর্কোটেশ্বর‑কর্কোট‑বাপীতে নাগলোকে সম্মান ও বিষভয়মুক্তি। ধুন্ধুমারীশ্বর শত্রুজাত ভয় নাশ করেন, পুরূরবেশ্বর চার পুরুষার্থ দেন, সুপ্রতীকেশ্বর কীর্তি‑বল প্রদান করেন ও বৃহৎ সরোবরের সঙ্গে যুক্ত। উত্তরদ্বারে বিজয়ভৈরবী রক্ষাকর্ত্রী, হুণ্ডন‑মুণ্ডন গণ বিঘ্ননাশক—দর্শনে মঙ্গল। শেষে বরুণাতীরে মেনা‑হিমবান প্রসঙ্গ, ভিক্ষুকের সংবাদে বিশ্বেশ্বরের সান্নিধ্য ও বিশ্বকর্মার মহৎ নির্মাণ, এবং শ্রবণমাত্রে পাপক্ষয় ও শিবলোকে গমনের ফলশ্রুতি উচ্চারিত হয়।

105 verses

Adhyaya 17

Adhyaya 17

Ratneśvara-liṅga Prādurbhāva and Māhātmya (रत्नेश्वरलिङ्ग-प्रादुर्भाव-माहात्म्य)

অধ্যায় ১৭-এ অগস্ত্য মুনি স্কন্দকে কাশীতে প্রতিষ্ঠিত রত্নেশ্বর মহালিঙ্গের প্রাদুর্ভাব ও মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করতে অনুরোধ করেন। স্কন্দ বলেন—হিমবান পার্বতীর উদ্দেশ্যে অর্ঘ্যভাব নিয়ে যে অমূল্য রত্নরাশি সঞ্চয় করেছিলেন, তা থেকেই দীপ্তিমান রত্নময় লিঙ্গ স্বয়ম্ভূরূপে প্রকাশিত হয়; তার কেবল দর্শনেই ‘জ্ঞানরত্ন’ লাভ হয় বলে বলা হয়েছে। শিব-পার্বতী সেখানে উপস্থিত হন; পার্বতী লিঙ্গের গভীরমূলতা ও জ্বলন্ত তেজ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে শিব একে নিজের বিশেষ প্রকাশ বলে ব্যাখ্যা করে ‘রত্নেশ্বর’ নাম দেন এবং বারাণসীতে এর অতুল ফলপ্রদ ক্ষমতা ঘোষণা করেন। গণেরা (সোমনন্দিন প্রমুখ) দ্রুত স্বর্ণপ্রাসাদ নির্মাণ করে। গ্রন্থে বলা হয়, অল্প প্রচেষ্টাতেও মন্দিরনির্মাণ ও লিঙ্গপ্রতিষ্ঠা মহাপুণ্যদায়ী—এতে কাশীর তীব্র পুণ্য-অর্থনীতির ইঙ্গিত মেলে। এরপর একটি ইতিহাস: শিবরাত্রিতে ভক্তিভরে নৃত্য পরিবেশনকারী নর্তকী কলাবতী পুনর্জন্মে গন্ধর্বরাজকন্যা রত্নাবলী হন। তিনি প্রতিদিন রত্নেশ্বর-দর্শনের ব্রত পালন করে বর লাভ করেন—ভবিষ্যৎ স্বামী দেবতার নির্দেশিত নামের সঙ্গে সঙ্গত হবে। পরে সংকটে রত্নেশ্বরের চরণোদক/অভিষিক্ত জলকে সর্বপ্রকার বিপদে আশ্রয় ও প্রতিকাররূপে বর্ণনা করা হয়েছে। শেষে বলা হয়, এই কাহিনি শ্রবণ বিরহশোক প্রভৃতি দুঃখ প্রশমিত করে এবং রক্ষাকর ও সান্ত্বনাদায়ক ফল দেয়।

113 verses

Adhyaya 18

Adhyaya 18

कृत्तिवासेश्वर-प्रादुर्भावः तथा हंसतीर्थ-माहात्म्यम् (Origin of Kṛttivāseśvara and the Glory of Haṃsatīrtha)

এই অধ্যায়ে অবিমুক্ত-ক্ষেত্রে এক ঘনিষ্ঠ কারণকথা বর্ণিত। স্কন্দ ঋষি অগস্ত্যকে “অদ্ভুত-জনক ও মহাপাপ-নাশক” ঘটনা শোনান—মহিষাসুরের পুত্র গজাসুর বিশাল দেহে কাশীতে উপদ্রব সৃষ্টি করে। ভগবান শিব ত্রিশূল দ্বারা তাকে বিদ্ধ করেন; পরে ধর্মতত্ত্বমূলক সংলাপে গজাসুর শিবের পরমত্ব স্বীকার করে বর প্রার্থনা করে। গজাসুর চায় তার চর্ম (কৃত্তি) যেন শিবের নিত্যবস্ত্র হয়—এতেই “কৃত্তিবাস” নাম প্রতিষ্ঠিত হয়। শিব বরদান করে অবিমুক্তে যেখানে তার দেহ পতিত, সেখানে “কৃত্তিবাসেশ্বর” লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন—কাশীর লিঙ্গসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও মহাপাতক-হর বলে বর্ণিত। এখানে পূজা, স্তোত্রপাঠ, বারংবার দর্শন এবং বিশেষ আচরণ—মাঘ কৃষ্ণ চতুর্দশীতে জাগরণ-উপবাস, চৈত্র শুক্ল পূর্ণিমায় উৎসব—মহাফলদায়ক বলা হয়েছে। ত্রিশূল উত্তোলনে যে কুণ্ড সৃষ্টি হয় তা তীর্থরূপে স্নান ও পিতৃতর্পণে পুণ্যদায়ী। এক উৎসবে যুদ্ধরত পাখিরা কুণ্ডে পড়ে তৎক্ষণাৎ শুদ্ধ হয়—কাক হংসসদৃশ হয়ে ওঠে; তাই “হংসতীর্থ”-মাহাত্ম্য প্রকাশ পায়। শেষে হংসতীর্থ/কৃত্তিবাস অঞ্চলে লিঙ্গ, ভৈরব, দেবী, বেতাল, নাগ ও আরোগ্যকুণ্ডাদি সহ পরিক্রমণযোগ্য পুণ্যপরিসর বর্ণিত এবং উৎপত্তিকথা শ্রবণে লিঙ্গদর্শনসম শুভফল লাভের ফলশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

85 verses

Adhyaya 19

Adhyaya 19

Catalogue of Kāśī Liṅgas and Imported Tīrtha Potencies (लिङ्ग-तीर्थ-समाहारः)

স্কন্দ অগস্ত্যকে উপদেশ দেন যে কাশীতে বহু লিঙ্গ আছে, যেগুলি সংযমী মুমুক্ষুরা “মোক্ষের জন্য” সেবা করে। অধ্যায়টি তালিকাভিত্তিক ভঙ্গিতে এগোয়—নন্দী শিবকে কাশীর মহামন্দিরসমূহ, নানা লিঙ্গের আবির্ভাব বা স্থানান্তর, এবং বিভিন্ন তীর্থশক্তির কাশীতে সমবেত হওয়ার কথা জানায়। দিকনির্দেশ, নিকটবর্তী চিহ্ন (বিনায়ক-স্থান, কুণ্ড, বিশেষ পাড়া) সহ বহু স্থানের নাম উল্লেখ করা হয়। প্রতিটি স্থানের সঙ্গে ফলশ্রুতি যুক্ত—পাপনাশ, সিদ্ধিলাভ, বিজয়, কলিকালে নির্ভয়তা, অশুভ পুনর্জন্ম এড়ানো, ও শিবলোকপ্রাপ্তি। এখানে “পবিত্র সংক্ষেপ” মতটি প্রধান: কাশীর স্থানীয় সমতুল্য তীর্থে কৃত কর্ম কুরুক্ষেত্র, নৈমিষ, প্রভাস, উজ্জয়িনী প্রভৃতি দূরক্ষেত্রের তুলনায় বহুগুণ পুণ্য দেয়। অবিমুক্ত ও মহাদেব-লিঙ্গকে কাশীর মুক্তিক্ষেত্র-পরিচয়ের ভিত্তি বলে তুলে ধরে, রক্ষক দেবতা এবং যুগযুগান্তর ধরে নগরীর অক্ষয় পবিত্রতাও বর্ণিত হয়েছে।

109 verses

Adhyaya 20

Adhyaya 20

काश्यां क्षेत्ररक्षादेवी-व्यवस्था तथा विशालाक्षी-ललिता-आदि तीर्थमाहात्म्य (Kāśī’s Protective Goddess Network and the Māhātmya of Viśālākṣī, Lalitā, and Related Tīrthas)

এই অধ্যায়ে অগস্ত্য মুনি কাত্যায়নেয়/নন্দিন-পরম্পরার নিকট জিজ্ঞাসা করেন—অবিমুক্ত ক্ষেত্র রক্ষার জন্য কোন কোন দেবী কোথায় অধিষ্ঠিতা, এবং কোন দিব্য আদেশে তাঁদের নিয়োগ হয়েছে। স্কন্দ দেবী ও তীর্থের স্থানক্রমে কাশীর এক সুশৃঙ্খল রক্ষাব্যবস্থা বর্ণনা করেন—গঙ্গাতটে বিশালাতীর্থের প্রসঙ্গে বিশালাক্ষীর মাহাত্ম্য, এবং কাশীবাসের পুণ্যসাধনারূপে উপবাস, রাত্রিজাগরণ ও নির্দিষ্ট তিথিতে চৌদ্দ কন্যাকে ভোজন করানোর বিধান জানান। এরপর ললিতাতীর্থ ও ললিতা দেবী, তারপর বিশ্বভুজা (বিশেষত নবরাত্রি-যাত্রার গুরুত্বসহ) এবং নানা রক্ষাশক্তির রূপ—বারাহী, শিবদূতী, ঐন্দ্রী, কৌমারী, মাহেশ্বরী, নারসিংহী, ব্রাহ্মী, নারায়ণী, গৌরী/শৈলেশ্বরী—ক্রমে আলোচিত হয়। চিত্রঘণ্টার উৎসবাচার, নিগদভঞ্জনীর বন্ধনমোচন ভাব, অমৃতেশ্বরীর অমরত্ব-প্রতীক, সিদ্ধলক্ষ্মী ও মহালক্ষ্মী-পীঠের সিদ্ধি-সমৃদ্ধি, এবং উগ্র রক্ষাত্রয়ী—চর্মমুণ্ডা, মহারুণ্ডা, চামুণ্ডা—এর মাহাত্ম্যও বর্ণিত। অধ্যায়ের শেষে দক্ষিণদিক-রক্ষিকা স্বপ্নেশ্বরী/দুর্গাকে স্থাপন করে বলা হয়—দেবীপূজা কেবল ফলপ্রদ কর্ম নয়; তা নৈতিক নির্দেশরূপে ব্যক্তিজীবন স্থিত করে এবং ক্ষেত্রের পবিত্রতা রক্ষা করে।

97 verses

Adhyaya 21

Adhyaya 21

Durgā-nāma-niruktiḥ and Kālarātrī’s Mission against the Asura Durga (Durga-Daitya)

অগস্ত্য স্কন্দকে জিজ্ঞাসা করেন—দেবী কীভাবে “দুর্গা” নামে পরিচিতা হলেন এবং কাশীতে তাঁর পূজা কীভাবে করা উচিত। স্কন্দ এক উৎপত্তিকথা বলেন—“দুর্গ” নামে এক অসুর কঠোর তপস্যায় ত্রিলোককে বশ করে, বেদাধ্যয়ন, যজ্ঞাচার ও সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে দেয়। ফলে জগৎ ও নগরে ভয়, কলহ, অনাচার ও ধর্মভ্রষ্টতা ছড়ায়—এটাই অধর্মের লক্ষণ। মধ্যে স্কন্দ নীতিবচন দেন—সমৃদ্ধিতে উচ্ছ্বাস-অহংকারে না ভাসা, বিপদে বিষাদে না ভাঙা; ধৈর্য, সংযম ও সত্যই ধর্মের ভিত্তি। রাজ্যচ্যুত দেবগণ মহেশ্বরের শরণ নেন; তাঁর নির্দেশে দেবী অসুরমর্দনে উদ্যত হয়ে কালরাত্রীকে দূতী করে পাঠান। কালরাত্রী অসুর দুর্গকে সুসংবদ্ধ আল্টিমেটাম দেন—ত্রিলোক ইন্দ্রকে ফিরিয়ে দাও, বৈদিক যজ্ঞ পুনঃস্থাপন করো, লোকধর্ম রক্ষা করো; নচেৎ দণ্ড অনিবার্য। তিনি বাক্কৌশলে তার কামনা ও অহংকার উন্মোচিত করেন। অসুর যখন তাঁকে ধরতে যায়, কালরাত্রী ভয়ংকর শক্তি প্রকাশ করে সৈন্যদল দগ্ধ করেন ও আক্রমণ নিষ্ফল করেন। শেষে দেবী বহু শক্তি সৃষ্টি করে অসুরসেনাকে রোধ করেন—এখানে দেবীর রক্ষা মানে কেবল জয় নয়, যজ্ঞ-ধর্ম ও নৈতিক সাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

101 verses

Adhyaya 22

Adhyaya 22

Vajrapañjara-stuti and the Naming of Durgā (वज्रपंजर-स्तुति तथा दुर्गानाम-प्रादुर्भावः)

এই অধ্যায়ে অগস্ত্য মুনি স্কন্দকে জিজ্ঞাসা করেন—উমার সাকার শক্তির সঙ্গে যুক্ত পরম শক্তিগুলির নাম ও শ্রেণিবিভাগ কী। স্কন্দ বহু দিব্য শক্তিনামের দীর্ঘ তালিকা প্রদান করে শাক্ত কার্যশক্তির একটি সুসংবদ্ধ ধারণামানচিত্র স্থাপন করেন। এরপর যুদ্ধ-ধর্মতাত্ত্বিক প্রসঙ্গ: ‘দুর্গ’ নামের প্রবল অসুর ঝড়ের মতো অস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং হাতি, মহিষ, বহুবাহু ইত্যাদি রূপ ধারণ করে দেবীকে আক্রমণ করে। দেবী নিখুঁত অস্ত্র-প্রয়োগে প্রতিঘাত করেন এবং শেষে ত্রিশূল দ্বারা তাকে দমন করে বিশ্বস্থিতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। দেবতা ও ঋষিগণ দীর্ঘ, আনুষ্ঠানিক স্তব করেন—দেবীকে ‘সর্বদেবময়ী’ বলে দিক্‌ ও কার্যভেদের নানা রূপকে এক পরম ঐক্যে সংহত করেন। এই স্তোত্র ‘বজ্রপঞ্জর’ নামে কবচরূপে ঘোষিত, যা ভয় ও উপদ্রব নাশ করে; দেবী বলেন, এই ঘটনার পর থেকেই তাঁর নাম ‘দুর্গা’ হিসেবে প্রসিদ্ধ হবে। শেষে কাশীতে বিশেষ বিধান—অষ্টমী ও চতুর্দশী (বিশেষত মঙ্গলবার) পূজা, নবরাত্র ভক্তি, বার্ষিক তীর্থাচরণ, এবং দুর্গা-কুণ্ডে স্নান-পূজা; সঙ্গে ক্ষেত্ররক্ষাকারী অন্যান্য শক্তি, ভৈরব ও বেতালের সংক্ষিপ্ত উল্লেখ।

101 verses

Adhyaya 23

Adhyaya 23

त्रिविष्टप-लिङ्गमहिमा तथा ओंकारलिङ्ग-प्रादुर्भावकथा (Glory of the Triviṣṭapa Liṅga and the Origin Narrative of the Oṃkāra Liṅga)

এই অধ্যায়ে বহুস্তরীয় সংলাপ উন্মোচিত হয়। অগস্ত্য মুনি স্কন্দকে জিজ্ঞাসা করেন—ষড়ানন কীভাবে ত্রিলোচন মহাদেবের নিকট গমন করেছিলেন, বিরজা-পীঠের মাহাত্ম্য কী, এবং কাশীর লিঙ্গ-তীর্থভূগোল কীভাবে বোঝা যায়। স্কন্দ বিরজা-আসনের পরিচয় দিয়ে ত্রিলোচন মহালিঙ্গ ও পিলিপিলা তীর্থকে একত্রে একটি পূর্ণ তীর্থ-সমষ্টি হিসেবে নির্দেশ করেন। এরপর দেবী শিবের কাছে প্রার্থনা করেন—কাশীর যে অনাদি-সিদ্ধ লিঙ্গসমূহ নির্বাণের কারণ এবং কাশীকে মোক্ষপুরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, তাদের সুস্পষ্ট তালিকা দিন। শিব ওংকার ও ত্রিলোচন থেকে শুরু করে বিশ্বেশ্বর পর্যন্ত চৌদ্দটি প্রধান লিঙ্গের ক্রমানুসার বর্ণনা করেন এবং বলেন—এদের সম্মিলিত শক্তিতেই মুক্তিক্ষেত্র কার্যকর; নিয়মিত যাত্রা ও পূজার বিধানও দেন। কলিযুগে কিছু গূঢ় বা ভবিষ্যতে অপ্রকাশিত লিঙ্গের কথাও বলা হয়, যা মূলত ভক্ত ও জ্ঞানী সাধকদেরই সুলভ। পরে দেবী প্রতিটি লিঙ্গের পৃথক মাহাত্ম্য জানতে চাইলে ওংকারলিঙ্গের প্রাদুর্ভাবকথা বিস্তারে বলা হয়—আনন্দকাননে ব্রহ্মার তপস্যা, আদ্য অক্ষর (অ-উ-ম) এর দর্শন, নাদ-বিন্দু তত্ত্ব, ব্রহ্মার স্তব ও বরদান, এবং দর্শন-জপে পরিত্রাণের আশ্বাস। এভাবে তীর্থ-মানচিত্র, যাত্রা-পদ্ধতি ও প্রণবকে শব্দব্রহ্ম রূপে ব্যাখ্যা—সবই এক মুক্তিমুখী ধর্মোপদেশে মিলিত হয়।

109 verses

Adhyaya 24

Adhyaya 24

Oṃkāra-liṅga Māhātmya and Mahāpāśupata Vrata Instruction (ओंकारलिङ्गमाहात्म्यं महापाशुपतव्रतोपदेशश्च)

এই অধ্যায়ে স্কন্দ অবিমুক্ত ক্ষেত্র (কাশী)-এর পরম মাহাত্ম্য ও ওংকার-লিঙ্গের মহিমা বর্ণনা করেন। পদ্মকল্পের প্রসঙ্গে ভরদ্বাজপুত্র দমন সংসারের অস্থিরতা ও দুঃখ বুঝে আশ্রম, নগর, বন, নদী ও তীর্থে ঘুরে বেড়ায়। তীর্থযাত্রা, মন্ত্রজপ, হোম, গুরুসেবা, শ্মশানবাস, ঔষধ-রসায়ন ও কঠোর তপস্যা করেও সে মনঃস্থিতি ও ‘সিদ্ধির বীজ’ পায় না; তাই “এই দেহেই সিদ্ধি” লাভের নির্দিষ্ট উপদেশ প্রার্থনা করে। দৈবযোগে দমন রেবা-তীরে ওংকার-ধামে পৌঁছে পাশুপত তপস্বীদের দেখে বৃদ্ধ আচার্য মুনি গর্গের শরণ নেয়। গর্গ অবিমুক্তকে সংসারসাগর থেকে উদ্ধারকারী শ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র বলে স্তব করেন, তার সীমারক্ষক ও মণিকর্ণিকা-विश्वেশ্বর প্রভৃতি প্রধান স্থান নির্দেশ করেন এবং সাধনাকে ওংকার-লিঙ্গপূজায় স্থাপন করেন। তিনি পাশুপত আদর্শদের সিদ্ধিলাভের কথা বলেন এবং এক সতর্কতামূলক কাহিনি শোনান—শিবের নির্মাল্য ভক্ষণে এক ব্যাঙ দোষবশত ক্ষেত্রের বাইরে মৃত্যু বরণ করে, পরে মিশ্র শুভ-অশুভ লক্ষণসহ পুনর্জন্ম পায়; এতে শিবদ্রব্য ও নির্মাল্যের প্রতি শ্রদ্ধার বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে সেই ব্যাঙ থেকে পুনর্জাত মাধবীর একান্ত ভক্তি—নিরন্তর স্মরণ, সেবা, ইন্দ্রিয়সংযম ও লিঙ্গ-একাগ্রতা—বৈশাখ চতুর্দশীর উপবাস-জাগরণে পরিণতি পেয়ে তাকে ওংকার-লিঙ্গে লীন করে; দিব্য জ্যোতি প্রকাশিত হয় এবং স্থানীয় উৎসবপ্রথার উল্লেখ আসে। শেষে ফলশ্রুতি শ্রবণকারীর পবিত্রতা ও শিবলোকে গমন, এবং গণদের দ্বারা ক্ষেত্রের নিত্য রক্ষার কথা জানায়।

104 verses

Adhyaya 25

Adhyaya 25

त्रिविष्टप-त्रिलोचन-लिङ्गमाहात्म्य तथा पिलिपिला-तीर्थविधिः (Māhātmya of Triviṣṭapa/Trilocana Liṅga and the Pilipilā Tīrtha Observance)

এই অধ্যায়ে পূর্বের শুদ্ধিকথা শুনে অগস্ত্য মুনি “ত্রিবিষ্টপী” কাহিনি জানতে চান। স্কন্দ কাশীর আনন্দকাননে অবস্থিত ত্রিবিষ্টপ লিঙ্গ ও তদপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ত্রিলোচন লিঙ্গের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে তাদের সংলগ্ন তীর্থসমূহের পবিত্র ভূগোল তুলে ধরেন। সরস্বতী, কালিন্দী/যমুনা ও নর্মদা—এই ত্রিনদীর প্রতীকী বর্ণনায় বলা হয় যে তারা পুনঃপুন স্নানরূপে লিঙ্গসেবা করে; নদীনামধারী উপ-লিঙ্গগুলির দর্শন, স্পর্শ ও অর্চনার পৃথক ফলও উল্লেখিত। পিলিপিলা তীর্থে স্নান, দান এবং শ্রাদ্ধ-পিণ্ডাদি কর্ম, ও ত্রিবিষ্টপ/ত্রিলোচনে পূজা—এগুলোকে নানা অপরাধ ও পাপের জন্য সমগ্র প্রায়শ্চিত্তবিধি বলা হয়েছে; কিন্তু শিবনিন্দা ও শৈবভক্ত-নিন্দা কোনো প্রায়শ্চিত্তে নাশ হয় না—এ কথা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। পঞ্চামৃত, গন্ধ-মাল্য, ধূপ-দীপ, নৈবেদ্য, সঙ্গীত-ধ্বজা, প্রদক্ষিণা-নমস্কার ও ব্রাহ্মণ-পাঠের বিধান, মাসিক শুভদিনের উল্লেখ এবং ত্রিবিষ্টপের সর্বদা মঙ্গলময়তা বলা হয়েছে। নিকটবর্তী শান্তনব, ভীষ্মেশ, দ্রোণেশ, অশ্বত্থামেশ্বর, বালখিল্যেশ্বর, বাল্মীকেশ্বর প্রভৃতি লিঙ্গ ও তাদের ফলপ্রাপ্তির কথাও তালিকাভুক্ত।

81 verses

Adhyaya 26

Adhyaya 26

त्रिलोचनप्रासादे पारावतद्वन्द्वकथा (The Pigeon-Couple Narrative at the Trilocana Shrine)

এই অধ্যায়ে স্কন্দ মৈত্রাবরুণকে বিরজা-নামক পীঠে ত্রিলোচনের রত্ননির্মিত প্রাসাদের পূর্বকথা শোনান। সেখানে এক কবুতর-দম্পতি নিত্য প্রদক্ষিণা করে এবং বাদ্যধ্বনি, আরতি-দীপ প্রভৃতির অবিরাম ভক্তিময় পরিবেশে বাস করে। এক বাজ তাদের চলাফেরা লক্ষ্য করে পথ রুদ্ধ করে সংকট সৃষ্টি করে। স্ত্রী-কবুতর বারবার স্থানান্তরের কথা বলে এবং নীতিবাক্য উচ্চারণ করে—প্রাণ রক্ষা হলে পরিবার, ধন, গৃহ সবই পুনরুদ্ধার করা যায়; স্থানের প্রতি আসক্তি জ্ঞানীকেও বিনাশ করে। তবু সে কাশী, ওঁকার-লিঙ্গ ও ত্রিলোচনকে পরম পবিত্র বলে পবিত্রস্থান ত্যাগ ও আত্মরক্ষার দ্বন্দ্বকে তীব্র করে তোলে। স্বামী প্রথমে মানে না; কলহ হয় এবং বাজ দুজনকেই ধরে। তখন স্ত্রী কৌশল শেখায়—উড়ন্ত বাজের পা ঠোঁট দিয়ে কামড়াও; কৌশল সফল হয়, সে মুক্ত হয় এবং স্বামীও পতনের মাধ্যমে রক্ষা পায়। এতে বোঝানো হয়, অবিচল উদ্যোগ ভাগ্যের সঙ্গে মিললে বিপদেও অপ্রত্যাশিত উদ্ধার ঘটে। পরে কর্মফল ও পুনর্জন্মের প্রসঙ্গে দম্পতি অন্যত্র উচ্চ অবস্থায় উন্নীত হয়। পাশাপাশি পরিমালালয় নামক এক বিদ্যাধর কঠোর ব্রত নিয়ে কাশীতে ত্রিলোচন পূজা না করে আহার না করার সংকল্প করে; আর নাগকন্যা রত্নাবলী সখীদের সঙ্গে ফুল, সঙ্গীত ও নৃত্যে ত্রিলোচনের আরাধনা করে দিব্য দর্শন লাভ করে। শেষে ফলশ্রুতি—ত্রিলোচন-কথা শ্রবণ পাপভারাক্রান্তকেও শুদ্ধ করে উচ্চগতির পথে নিয়ে যায়।

106 verses

Adhyaya 27

Adhyaya 27

Kedāra-mahimākhayāna (केदारमहिमाख्यानम्) — Glory of Kedāreśvara and Harapāpa-hrada in Kāśī

অধ্যায়ের শুরুতে পার্বতী করুণাভরে কেদারের মাহাত্ম্য শুনতে চান। শিব বলেন—কেদারে যাওয়ার শুধু সংকল্প করলেই সঞ্চিত পাপ ক্ষয় হতে শুরু করে; গৃহত্যাগ, পথে অগ্রসর হওয়া, নামস্মরণ, এবং শেষে দর্শন ও তীর্থজল গ্রহণ—প্রতিটি ধাপ ক্রমে অধিকতর ধর্মফল ও পুণ্য প্রদান করে। এরপর হরপাপ-হ্রদ (কেদার-কুণ্ড) প্রসঙ্গে স্নান, লিঙ্গপূজা ও শ্রাদ্ধের মাহাত্ম্য বলা হয়; এতে মহাপুণ্য লাভ হয় এবং পিতৃগণের উন্নতি ও উদ্ধার ঘটে। দৃষ্টান্তকথায় পাশুপত-আচারসম্পন্ন এক যুব তপস্বী (এখানে বসিষ্ঠ নামে পরিচিত) কেদারযাত্রা করেন; তাঁর গুরু দিব্যগতি লাভ করেন, আর বসিষ্ঠের দৃঢ় ব্রতে শিব প্রসন্ন হয়ে কলিযুগে সাধকদের কল্যাণার্থে তীর্থে নিজের সান্নিধ্য প্রতিষ্ঠা করেন। অধ্যায়ে কেদারের নিকটবর্তী লিঙ্গসমূহ—চিত্রাঙ্গদেশ্বর, নীলকণ্ঠ, অম্বারীষেশ, ইন্দ্রদ্যুম্নেশ্বর, কালাঞ্জরেশ্বর, ক্ষেমেশ্বর প্রভৃতি—এবং তাদের স্থানবিশেষ পুণ্যফলও বর্ণিত হয়েছে; ফলে কাশীতে কেদারকেন্দ্রিক এক পবিত্র তীর্থপথের রূপরেখা গঠিত হয়।

75 verses

Adhyaya 28

Adhyaya 28

धर्मेशमहिमाख्यानम् (Dharmeśa-Mahimākhyāna) — The Glorification of Dharmeśvara and Dharma-pīṭha

এই অধ্যায়টি স্তরবদ্ধ সংলাপরীতিতে গঠিত। পার্বতী আনন্দকাননে এমন এক পুণ্যবর্ধক লিঙ্গের কথা জিজ্ঞাসা করেন, যার স্মরণ, দর্শন, প্রণাম, স্পর্শ ও পঞ্চামৃত-অভিষেকে মহাপাপ ক্ষয় হয় এবং দান-জপ-অর্ঘ্য ইত্যাদির ফল অক্ষয় হয়। শিব একে আনন্দবনের ‘পরম-রহস্য’ বলে জানান; পরে স্কন্দের মাধ্যমে কাহিনি প্রবাহিত হয়। এখানে ধর্মতীর্থ ও ধর্মপীঠের উল্লেখ আছে, যার কেবল দর্শনেই পাপমোচন ঘটে। বিবস্বানের পুত্র যম শিবদর্শনের জন্য দীর্ঘকাল কঠোর তপস্যা করেন—ঋতুভিত্তিক নিয়ম, এক পায়ে স্থিত থাকা, অল্প জল গ্রহণ ইত্যাদি। শিব প্রসন্ন হয়ে বর দেন এবং যমকে ধর্মরাজ ও কর্মসাক্ষী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে, কর্মানুসারে জীবদের গতি-ব্যবস্থার অধিকার অর্পণ করেন। এরপর ‘ধর্মেশ্বর’ নামক ধর্মকেন্দ্রিক লিঙ্গের মাহাত্ম্য বলা হয়—দর্শন, স্পর্শ ও অর্চনায় দ্রুত সিদ্ধি; তীর্থস্নানে পুরুষার্থসাধন; এবং সামান্য নিবেদনও ধর্ম-ব্যবস্থায় রক্ষাকবচরূপে গণ্য। শেষে কার্ত্তিক শুক্ল অষ্টমীতে তীর্থযাত্রা, উপবাস, রাত্রিজাগরণ ও স্তোত্রপাঠকে শুদ্ধি ও শুভগতিদায়ক ফলশ্রুতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

57 verses

Adhyaya 29

Adhyaya 29

Dharma’s Petition, the Birds’ Request for Liberating Knowledge, and the Mapping of Mokṣa-Sites in Kāśī

অধ্যায় ২৯-এ স্কন্দের বর্ণিত অন্তর্নিহিত সংলাপ প্রকাশ পায়। অমৃত-সমুদ্রসম করুণাময় শিব স্নেহস্পর্শে ধর্মরাজকে সান্ত্বনা দিয়ে পুনর্জীবিত করেন এবং তাঁর তপোবল পুনঃস্থাপন করেন। এরপর ধর্মরাজ অনাথ কীর (টিয়া) পাখিদের পক্ষে—মধুরভাষী ও তপস্যার সাক্ষী, যাদের পিতামাতা গত—শিবের কাছে রক্ষা ও কৃপা প্রার্থনা করেন। শিবের সম্মুখে আহূত পাখিরা সংসারের কথা বলে—অগণিত জন্ম, দেব-মানব-তির্যক্ রূপে সুখ-দুঃখ, জয়-পরাজয়, বিদ্যা-অবিদ্যার পালাবদল, কোথাও স্থায়িত্ব নেই। তারা জানায়, তপস্যাজাত লিঙ্গপূজার দর্শন ও শিবের প্রত্যক্ষ দর্শনই তাদের জীবনের মোড়; এখন তারা বন্ধনছেদকারী জ্ঞান চায়। স্বর্গীয় পদ তারা প্রত্যাখ্যান করে, কাশীতে এমন মৃত্যু কামনা করে যাতে পুনর্জন্ম না হয়। তখন শিব কাশীর মোক্ষস্থানসমূহের বিস্তৃত মানচিত্র দেন—নিজ ‘রাজনিবাস’, মোক্ষলক্ষ্মীবিলাস প্রাসাদ, নির্বাণ-মণ্ডপ ও মুক্তি-দক্ষিণা-জ্ঞান মণ্ডপাদি; জপ, প্রাণায়াম, শতরুদ্রিয়, দান, ব্রত, জাগরণ ইত্যাদির বহুগুণ ফল; জ্ঞানবাপীর মাহাত্ম্য; এবং মণিকর্ণিকা ও অবিমুক্তেশ্বরের মতো পরম কেন্দ্র। শেষে শিব পাখিদের দিব্য যান দান করে স্বধামে গমন করান, কাশীগত কৃপা ও জ্ঞানের উদ্ধারশক্তি প্রকাশ করে।

101 verses

Adhyaya 30

Adhyaya 30

मनोरथतृतीया-व्रतविधानम् (Manoratha-Tṛtīyā Vrata: Procedure and Fruits)

এই অধ্যায়ে ‘মনোরথ-তৃতীয়া’ ব্রতের বিধান ও ফল শ্রদ্ধাভরে বর্ণিত। জগদম্বিকা গৌরী ধর্মপীঠের নিকটে অবস্থান করে লিঙ্গভক্তদের সিদ্ধি দান করবেন—এই সংকল্প করেন। শিব ‘বিশ্বভুজা’ রূপে দেবীপূজার মাহাত্ম্য ঘোষণা করে বলেন, এই ব্রত মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করে এবং ক্রমে জ্ঞানলাভের পথ উন্মুক্ত করে। দেবী যখন পদ্ধতি জানতে চান, শিব পুলোমার কন্যা পৌলোমীর দৃষ্টান্ত বলেন। সে ভক্তিগীতি, লিঙ্গপূজা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আরাধনা করে শুভ বিবাহ ও ভক্তিসম্পদ প্রার্থনা করে। পরে শিব ব্রতের কালনির্ণয় (বিশেষত চৈত্র শুক্ল তৃতীয়া), শুচিতা-নিয়ম, রাত্রিনিয়ন্ত্রিত ‘নক্ত’ উপবাস এবং পূজাক্রম জানান—প্রথমে আশা-বিনায়ক, তারপর বিশ্বভুজা গৌরী; পুষ্প, গন্ধ, অনুলেপনাদি নিবেদন করে মাসে মাসে এক বছর পালন, শেষে হোম ও আচার্যকে দান। ফলশ্রুতিতে নানা অবস্থার মানুষের জন্য ঐশ্বর্য, সন্তানলাভ, বিদ্যা, অমঙ্গলনাশ এবং মোক্ষ পর্যন্ত ফল বলা হয়েছে। বারাণসীর বাইরে থাকলেও প্রতিমা নির্মাণ ও দানাদির মাধ্যমে এই ব্রত যথাযথভাবে পালন করা যায়—এ কথাও উল্লেখিত।

83 verses

Adhyaya 31

Adhyaya 31

धर्मेश्वराख्यान (Dharmēśvara Narrative) — Dharma-tīrtha, Dharma-kūpa, and the Five-Faced Liṅga Cluster

অগস্ত্য মুনি স্কন্দকে ধর্মতীর্থের মাহাত্ম্য বলতে অনুরোধ করেন, যা শম্ভু দেবীকে উপদেশ করেছিলেন। স্কন্দ বলেন—বৃত্রবধের পর ব্রহ্মহত্যা-দোষে আক্রান্ত ইন্দ্র প্রায়শ্চিত্তের সন্ধানে বृहস্পতির নির্দেশে বিশ্বেশ্বর-রক্ষিত কাশীতে আসেন; আনন্দবনে প্রবেশমাত্রেই গুরুতর অশুচিতা দূরে পালায়। উত্তরবাহিনী ধারার কাছে ইন্দ্র শিবপূজা করেন এবং শিবের আদেশ “এখানে স্নান কর, হে ইন্দ্র” অনুসারে তীর্থ প্রতিষ্ঠিত হয়; স্নানে ইন্দ্রের দোষ প্রশমিত হয়ে শুদ্ধি লাভ হয়। অধ্যায়ে পিতৃকর্মের গুরুত্বও বিস্তারে বলা হয়েছে—ধর্মপীঠে স্নান, শ্রাদ্ধ, তর্পণ ও দান পিতৃদের তৃপ্ত করে; অল্প দানও অক্ষয় ফল দেয়। সন্ন্যাসী ও ব্রাহ্মণদের অন্নদানকে বৈদিক যজ্ঞসম ফলপ্রদ বলা হয়েছে। পরে ইন্দ্র তারকেশের পশ্চিমে ইন্দ্রেশ্বর লিঙ্গ স্থাপন করেন; ধর্মেশের চারদিকে শচীশ, রম্ভেশ, লোকপালেশ্বর, ধরণীশ, তত্ত্বেশ, বৈরাগ্যেশ, জ্ঞানেশ্বর, ঐশ্বর্যেশ প্রভৃতি মন্দির দিকানুসারে স্থিত এবং পঞ্চবক্ত্র তত্ত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত রূপ হিসেবে ব্যাখ্যাত। নীতিকথায় দুর্দমা নামে এক নীতিভ্রষ্ট রাজা আকস্মিকভাবে আনন্দবনে এসে ধর্মেশ্বর দর্শনে অন্তরে পরিবর্তন লাভ করে, ধর্মময় শাসন প্রতিষ্ঠা করে, আসক্তি ত্যাগ করে পুনরায় কাশীতে উপাসনা করে মোক্ষাভিমুখ পরিণতি লাভ করে। ফলশ্রুতি জানায়—এই ধর্মেশ্বরাখ্যান শ্রবণ, বিশেষত শ্রাদ্ধকালে, সঞ্চিত পাপ নাশ করে, পিতৃসন্তোষ সাধন করে এবং শিবধামের দিকে ভক্তিময় অগ্রগতি দান করে।

78 verses

Adhyaya 32

Adhyaya 32

Vīreśa-liṅga Māhātmya and the Rescue of Malayagandhinī (वीरेशलिङ्गमाहात्म्य–मलयगन्धिनी-रक्षणम्)

পার্বতী কাশীতে দ্রুত সিদ্ধিদায়ক প্রসিদ্ধ বীরেশের মাহাত্ম্য জিজ্ঞাসা করেন—এই লিঙ্গ কীভাবে প্রকাশিত হল। মহেশ্বর পুণ্যপ্রসঙ্গ তুলে ধরে কাহিনি শুরু করেন এবং রাজা অমিত্রজিতের আদর্শ চরিত্র বর্ণনা করেন—ধর্মসংযমী, রাজকার্যে দক্ষ, এবং বিষ্ণুভক্তিতে অটল। তাঁর রাজ্যে সর্বত্র হরিনাম, হরিমূর্তি ও হরিকথা প্রবাহিত; সাধারণ সামাজিক আচরণও ভক্তিনিয়মে গঠিত, অহিংসা ও হরির পবিত্র তিথি-উপবাস পালনের বিশেষ গুরুত্ব আছে। নারদ এসে রাজার বিষ্ণুকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন এবং সংকট জানান—বিদ্যাধরের কন্যা মালয়গন্ধিনীকে শক্তিশালী দানব কঙ্কালকেতু অপহরণ করেছে; তাকে কেবল তার নিজের ত্রিশূলেই বধ করা যায়। নারদ সমুদ্রপথে পাতালের নগরী চম্পকাবতীতে পৌঁছানোর উপায় দেখান। রাজা পাতালে গিয়ে দুঃখিনী কন্যার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জানতে পারেন—দানব ঘুমালে তবেই কাজ করতে হবে। দানব ধনগর্ব ও জোরপূর্বক বিবাহের দম্ভ করে এসে ত্রিশূলসহ ঘুমিয়ে পড়ে; রাজা ত্রিশূল নিয়ে ধর্মযোদ্ধার ন্যায় তাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং সেই ত্রিশূলেই তাকে বধ করে কন্যাকে উদ্ধার করেন। শেষে কাহিনি কাশীর তারক শক্তির দিকে ফিরে যায়—কাশীস্মরণে পাপমল লাগে না—এবং পরবর্তী অংশে বীরেশ-লিঙ্গের উৎপত্তি ও ব্রতবিধির ভূমিকা রচিত হয়।

104 verses

Adhyaya 33

Adhyaya 33

वीरवीरेश्वरलिङ्ग-प्रतिष्ठा, पुत्रप्राप्ति-व्रतविधान, तथा काशी-तीर्थ-क्रम (Vīravīreśvara Liṅga, Putra-prāpti Vrata Procedure, and the Ordered Survey of Kāśī Tīrthas)

অধ্যায় ৩৩-এ উপদেশমূলক কাহিনি তিন স্তরে অগ্রসর হয়। প্রথমে রানি পুত্রপ্রাপ্তির জন্য এক নির্দিষ্ট ব্রতবিধান বলেন—নারদ পূর্বে যা প্রকাশ করেছিলেন, এবং নলকূবরের জন্ম ইত্যাদি সফল দৃষ্টান্ত দিয়ে যার ফলপ্রসূতা প্রমাণিত। বিধিতে গৌরীর সঙ্গে স্তন্যপায়ী শিশুর প্রতিমা স্থাপন, মার্গশীর্ষ শুক্ল তৃতীয়া তিথি, কলশ-বিন্যাস, বস্ত্র, পদ্ম ও স্বর্ণ-উপচার, সুগন্ধি, নৈবেদ্য, রাত্রিজাগরণ এবং বৈদিক ঋকসহ ক্ষুদ্র হোম অন্তর্ভুক্ত। শেষে গুরু-সম্মান, নবপ্রসূতা কপিলা গাভীসহ দান, ব্রাহ্মণভোজন এবং বংশধারক পুত্রপ্রার্থনা-মন্ত্রে পারণ সম্পন্ন হয়। এরপর রানি গর্ভবতী হন এবং শিশুর অদ্ভুত নিয়তি প্রকাশ পায়। অশুভ জন্মনক্ষত্রের আশঙ্কায় মন্ত্রীরা শিশুকে দেবী বিকটা ও যোগিনীদের আশ্রিত পঞ্চমুদ্রা মহাপীঠে নিয়ে যান; মাতৃকা-গণ তাকে রাজ্যোপযুক্ত বলে নির্ণয় করে সুরক্ষিতভাবে ফিরিয়ে দেন। পরে রাজপুত্র আনন্দকাননে কঠোর তপস্যা করে; শিব জ্যোতির্ময় লিঙ্গরূপে আবির্ভূত হয়ে বর দেন। রাজপুত্র প্রার্থনা করে—এই লিঙ্গে শিবের নিত্যসান্নিধ্য থাকুক এবং কেবল দর্শন-স্পর্শ-ভক্তিতে, জটিল পূর্বকর্ম ছাড়াই, ভক্তদের অভীষ্ট সিদ্ধ হোক; শিব সম্মতি দিয়ে স্থানটির নাম ‘বীরবীরেশ্বর’ স্থাপন করেন এবং স্থায়ী সিদ্ধির আশ্বাস দেন। শেষে শিব কাশীতে গঙ্গাতীরে তীর্থগুলির ক্রম ও মহিমা তুলনামূলকভাবে বর্ণনা করেন—হয়গ্রীব, গজ, কোকাবরাহ, দিলীপেশ্বর/দিলীপতীর্থ, সাগর-সপ্তসাগর, মহোদধি, চৌরতীর্থ, হংসতীর্থ, ত্রিভুবনকেশব, গোব্যাঘ্রেশ্বর, মান্ধাতা, মুচুকুন্দ, পৃথু, পরশুরাম, বলরাম/কৃষ্ণাগ্রজ, দিবোদাস, ভাগীরথীতীর্থ, নিষ্পাপেশ্বর-লিঙ্গ, দশাশ্বমেধ, বন্দীতীর্থ, প্রয়াগ-প্রসঙ্গ, ক্ষোণীবরাহ, কালেশ্বর, অশোক, শক্র, ভবানী, প্রভাস, গরুড়, ব্রহ্ম, বৃদ্ধার্ক/বিধি, নৃসিংহ, চিত্ররথ প্রভৃতি। অধ্যায়শেষে পরবর্তী তীর্থবর্ণনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

103 verses

Adhyaya 34

Adhyaya 34

Tīrtha-Saṅgraha in Kāśī: From Pādodaka to Pañcanada and the Supremacy of Maṇikarṇikā (Chapter 34)

এই অধ্যায়ে স্কন্দ মুনি অগস্ত্যকে কাশীর তীর্থসমূহের ধারাবাহিক পরিচয় ও তাদের আচার-ফল ব্যাখ্যা করেন। শুরুতে সঙ্গমের পবিত্রতা প্রতিষ্ঠা করে ‘পাদোদক’—বিষ্ণুর চরণজল—কে মূল তীর্থরূপে নির্দেশ করা হয়। এরপর ক্ষীরাব্ধি, শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্ম, মহালক্ষ্মী, গারুড়মত, প্রহ্লাদ, অম্বরীষ, আদিত্যকেশব, দত্তাত্রেয়, নারদ, বামন, নর-নারায়ণ, যজ্ঞবারাহ, (বিদার)নরসিংহ, গোপীগোবিন্দ, লক্ষ্মীনৃসিংহ, শেষ, শঙ্খমাধব, নীলগ্রীব, উদ্দালক, সাংখ্য, স্বর্লীন, মহিষাসুর, বাণ, গোপ্ৰতার, হিরণ্যগর্ভ, প্রণব, পিশঙ্গিলা, পিলিপিল, নাগেশ্বর, কর্ণাদিত্য, ভৈরব, খর্বনৃসিংহ, মৃকণ্ডু এবং শেষে পঞ্চনদ—এমন বহু তীর্থের নাম ও সংক্ষিপ্ত ফলশ্রুতি বলা হয়; পাপক্ষয়, সমৃদ্ধি, দেবদর্শন, লোকপ্রাপ্তি বা পুনর্জন্মহ্রাস ইত্যাদি। পঞ্চনদকে বিশেষ মহাশক্তিসম্পন্ন বলা হয়েছে, বিশেষত কার্তিক মাসে ও নির্দিষ্ট তিথি-নক্ষত্রযোগে। জ্ঞানহ্রদকে জ্ঞানবর্ধক এবং মঙ্গল তীর্থকে শুভতা-শান্তির সংশোধক হিসেবে তুলে ধরা হয়; পরে মখা, বিন্দু, পিপ্পলাদ, তাম্রবরাহ, কালগঙ্গা, ইন্দ্রদ্যুম্ন, রাম, ঐক্ষ্বাক, মরুত্ত, মৈত্রাবরুণ, অগ্নি/অঙ্গার, কলি, চন্দ্র, বীর, বিঘ্নেশ, হরিশ্চন্দ্র, পর্বত, কম্বলাশ্বতর, সারস্বত, উমা প্রভৃতি তীর্থও উল্লিখিত। অধ্যায়ের পরিণতিতে মণিকর্ণিকার মহিমা সর্বোচ্চে পৌঁছে—ত্রিলোকখ্যাত, পাপনাশিনী এবং মহাযজ্ঞসমষ্টির সমতুল্য বা তদপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষিত। সেখানে স্মরণ, দর্শন, স্নান ও পূজাকে ‘অক্ষয় ফল’দায়ক পরম সাধনা রূপে স্থাপন করে ভক্তিময় উপসংহার করা হয়েছে।

102 verses

Adhyaya 35

Adhyaya 35

दुर्वाससो वरप्रदानम् — Durvāsas Receives Boons; Establishment of Kāmeśvara and Kāmakūṇḍa (with Prahasiteśvara reference)

স্কন্দ কাশীখণ্ডে বর্ণনা করেন—দীর্ঘ ভ্রমণের পর ঋষি দুর্বাসা কাশীতে এসে শিবের আনন্দকানন দর্শন করেন। আশ্রম-প্রকৃতি, তপস্বীসমাজ এবং কাশীতে অবস্থানকারী জীবদের বিশেষ আনন্দের চিত্র দেখে তিনি কাশীর অতুল আধ্যাত্মিক শক্তির প্রশংসা করেন এবং স্বর্গলোকের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে মানেন। কিন্তু হঠাৎই নাটকীয় পরিবর্তন—অত তপস্যার পরও দুর্বাসা ক্রুদ্ধ হয়ে কাশীকে শাপ দিতে উদ্যত হন। তখন শিবের হাস্য প্রকাশ পায় এবং সেই দিব্য “হাস্য”-সম্পর্কিত লিঙ্গ প্রহসিতেশ্বর প্রকাশিত/প্রসিদ্ধ হয়। গণদের মধ্যে আলোড়ন ওঠে, কিন্তু শিব হস্তক্ষেপ করে নিশ্চিত করেন—কাশীর মুক্তিদায়িনী মহিমায় কোনো শাপ বাধা হতে পারবে না। দুর্বাসা অনুতপ্ত হয়ে কাশীকে সর্বজীবের মাতৃ-আশ্রয় বলে ঘোষণা করেন এবং বলেন, কাশীকে শাপ দেওয়ার চেষ্টা শাপদাতার উপরই ফিরে আসে। শিব কাশী-স্তুতিকে শ্রেষ্ঠ ভক্তিকর্ম বলে বর দেন—কামনা পূরণকারী লিঙ্গ কামেশ্বর/দুর্বাসেশ্বর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এক পুকুরের নাম হয় কামকুণ্ড। কামকুণ্ডে স্নান ও প্রদোষকালে বিশেষ তিথি-যোগে লিঙ্গদর্শন কামদোষ প্রশমন ও পাপক্ষয়কারী; এই কাহিনি শ্রবণ-পাঠও পবিত্রতাদায়ক বলে বলা হয়েছে।

81 verses

Adhyaya 36

Adhyaya 36

Viśvakarmēśvara-liṅga Prādurbhāva and Guru-bhakti in Kāśī (विश्वकर्मेशलिङ्गप्रादुर्भावः)

পার্বতীর প্রশ্নে প্রেরিত হয়ে শিব কাশীতে বিশ্বকর্মেশ্বর লিঙ্গের আবির্ভাবের পাপ-নাশিনী কাহিনি বলেন। বিশ্বকর্মা—ব্রহ্মার সঙ্গে সম্পর্কিত পূর্ব-প্রকাশ এবং ত্বষ্টার পুত্র—গুরুকুলে ব্রহ্মচারী হয়ে থাকেন। গুরু, গুরুপত্নী, গুরুপুত্র ও গুরুকন্যা তাঁকে নানা কঠিন কাজের আদেশ দেন—টেকসই বস্ত্র, পাদুকা, অলংকার ও গৃহস্থালির উপকরণ ইত্যাদি। প্রতিশ্রুতি পালন ও গুরুসেবার ধর্মের মধ্যে তিনি নৈতিক সংকটে পড়েন। অতিষ্ঠ হয়ে তিনি অরণ্যে যান এবং এক করুণ তপস্বীর সাক্ষাৎ পান। তপস্বী তাঁকে কাশী, বিশেষত বৈশ্বেশ্বর ক্ষেত্র ও আনন্দবনে যেতে বলেন—যেখানে শিবের কৃপায় দুরূহ সাধনাও সিদ্ধ হয় এবং মোক্ষের মাহাত্ম্য বিশেষভাবে প্রকাশিত। কাশীতে এসে বিশ্বকর্মা বুঝতে পারেন, সেই তপস্বী শিবেরই করুণ হস্তক্ষেপ। তিনি বনফুল-ফলাদি অর্পণ করে দীর্ঘকাল লিঙ্গপূজা করেন। শেষে শিব লিঙ্গ থেকে প্রকাশিত হয়ে তাঁকে সকল শিল্প ও কলায় অতুল দক্ষতা দান করেন, ‘বিশ্বকর্মা’ নাম স্থির করেন এবং সেই লিঙ্গের উপাসনার ফল ঘোষণা করেন। উপসংহারে দিবোদাস প্রভৃতি রাজপৃষ্ঠপোষকতার ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত এবং গুরুভক্তি ও গ্রহণ করা কর্তব্য সম্পূর্ণ করার শ্রেষ্ঠতা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়।

103 verses

Adhyaya 37

Adhyaya 37

Dakṣeśvara-liṅga-prādurbhāva and the Dakṣa-yajña Discourse (दक्षेश्वरलिङ्गप्रादुर्भावः)

অধ্যায় ৩৭-এ অগস্ত্য মুনি স্কন্দকে বলেন—মোক্ষদায়ক লিঙ্গসমূহের কথা শুনে তিনি পরম তৃপ্ত; তাই দক্ষেশ্বর থেকে শুরু করে চৌদ্দটি লিঙ্গের সম্পূর্ণ বিবরণ তিনি জানতে চান। এরপর কাহিনি দক্ষের দিকে মোড় নেয়—পূর্বের অনুচিত আচরণের প্রায়শ্চিত্ত ও শুদ্ধিসাধনার জন্য তিনি কাশীতে আসেন; অন্যদিকে কৈলাসে দেবসভায় শিব জগতের ধর্ম-ব্যবস্থা ও সামাজিক-যজ্ঞীয় স্থিতি সম্পর্কে অনুসন্ধান করেন। দক্ষের অন্তরে ক্রমে অহংকার ও বিদ্বেষ বাড়ে; তিনি শিবকে বর্ণ-ব্যবস্থার বাইরে মনে করে অবমাননা ভাবেন। তাই তিনি এক মহাক্রতু আয়োজন করেন, যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে শিবকে বাদ দেওয়া হয়। দধীচি মুনি তত্ত্ববাক্যে সতর্ক করেন—শিববিহীন কর্মকাণ্ড জড়; প্রভু ছাড়া যজ্ঞ শ্মশানের মতো, আর সকল কর্মই ফলহীন। দক্ষ সেই উপদেশ প্রত্যাখ্যান করে যজ্ঞকে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে দাবি করেন, শত্রুতা বাড়ান এবং দধীচিকে সরিয়ে দিতে আদেশ দেন। অধ্যায়ের শেষে যজ্ঞের বাহ্য জাঁকজমক বর্ণিত হয় এবং নারদের কৈলাসগমনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়—যা পরবর্তী অংশে শিবের প্রতিক্রিয়া ও কাশীর শৈব তীর্থের তাত্ত্বিক প্রতিষ্ঠার ভূমিকা রচনা করে।

102 verses

Adhyaya 38

Adhyaya 38

Dakṣayajña-Prasaṅga: Nārada’s Report, Śiva–Śakti Līlā, and Satī’s Departure (दक्षयज्ञप्रसङ्गः)

অধ্যায় ৩৮-এ অগস্ত্য মুনি স্কন্দকে জিজ্ঞাসা করেন—শিবলোক/কৈলাসে পৌঁছে নারদ কী করলেন। স্কন্দ বলেন, নারদ শিব ও দেবীর কাছে শ্রদ্ধাভরে প্রণাম করে তাঁদের দর্শন লাভ করেন এবং তাঁদের মহাজাগতিক ‘লীলা’ প্রত্যক্ষ করেন, যেখানে পাশা-সদৃশ বিন্যাসে কালপরিমাপ ও বিশ্বপ্রক্রিয়া প্রতীকের মাধ্যমে চিত্রিত। নারদের বচনে শিবের মান-অপমানে নির্বিকারতা, গুণাতীত স্বরূপ এবং জগতের নিরপেক্ষ নিয়ন্তা হওয়ার কথা প্রকাশ পায়; পরে দক্ষযজ্ঞ-মণ্ডপে অস্বাভাবিক লক্ষণ, বিশেষত শিব-শক্তির অনুপস্থিতি দেখে নারদ উদ্বিগ্ন হন এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দিতে পারেন না। এই সংবাদ শুনে সতি দাক্ষায়ণী অন্তরে সংকল্প করে পিতা দক্ষের যজ্ঞ দেখতে শিবের অনুমতি চান। শিব অশুভ জ্যোতিষচিহ্ন দেখিয়ে অনাহূত গমনের অপরিবর্তনীয় পরিণতি স্মরণ করিয়ে তাঁকে নিবৃত্ত করতে চান; কিন্তু সতি দৃঢ় ভক্তিতে বলেন, তিনি কেবল দর্শনার্থে যাবেন, অংশগ্রহণ করতে নয়। ক্রোধে তিনি প্রণাম বা প্রদক্ষিণা না করেই প্রস্থান করেন। ব্যথিত শিব গণদের আদেশ দেন—অলংকৃত দিব্য বিমান প্রস্তুত করো; সেই বিমানে সতি যজ্ঞস্থলে গমন করেন। দক্ষের সভায় অনাহূত আগমনে সবাই বিস্মিত হয়। দক্ষ শিবের তপস্বী ও সীমান্ত-স্বভাব ইত্যাদি উল্লেখ করে তাঁকে নিন্দা করে এবং যজ্ঞের সম্মান থেকে বঞ্চিত করে। সতি নৈতিক ও তাত্ত্বিক যুক্তিতে উত্তর দেন—শিব যদি অজ্ঞেয় হন, তবে নিন্দা অজ্ঞতা; আর যদি তাঁকে অযোগ্য ভাবো, তবে বিবাহ-সম্পর্কই অসংগত। স্বামীর নিন্দায় দগ্ধ হয়ে সতি যোগসংকল্পে দেহকে আহুতি করে আত্মদাহ করেন; ফলে যজ্ঞস্থলে অমঙ্গল, বিঘ্ন ও অস্থিরতা ছড়ায় এবং দক্ষের যজ্ঞ টলমল করে।

101 verses

Adhyaya 39

Adhyaya 39

Dakṣa-yajña-vināśaḥ — Vīrabhadrasya ājñā-prāptiḥ (Destruction of Dakṣa’s Sacrifice and Vīrabhadra’s Commission)

এই অধ্যায়ে সতী-প্রসঙ্গের পর নারদ মহাকাল-রূপ শম্ভুর নিকট উপস্থিত হন। শিব অনিত্যতার তত্ত্ব বলেন—দেহধারী অবস্থা উৎপত্তি ও লয়ের অধীন; স্বভাবত নশ্বর বিষয়ে জ্ঞানীরা মোহিত হন না। এরপর কাহিনি নীতি-ধর্মের দিকে মোড় নেয়: শিব-নিন্দা শুনে সতীর দেহত্যাগ শিবের ভয়ংকর ক্রোধের কারণ হয়। শিবের ক্রোধ থেকে এক মহাবীর আবির্ভূত হয়ে আদেশ প্রার্থনা করে; শিব তাঁকে ‘বীরভদ্র’ নাম দিয়ে দক্ষের যজ্ঞ ধ্বংস করতে এবং শিবকে অপমানকারীদের দমন করতে নির্দেশ দেন। বীরভদ্র অসংখ্য গণসহ যজ্ঞমণ্ডপ তছনছ করে—যজ্ঞোপকরণ উল্টে দেয়, আহুতি ছড়িয়ে দেয়, বহু প্রধান অংশগ্রহণকারীকে আঘাত করে; এতে বোঝানো হয় যে যথার্থ দেবভাব ছাড়া আচার স্থিতিশীল নয়। পরে বিষ্ণু বীরভদ্রের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে তাঁর শক্তি পরীক্ষা করেন; শিবস্মরণে সুদর্শনচক্র নিষ্ফল হয় এবং আকাশবাণী অতিরিক্ত হিংসা থামায়। বীরভদ্র শিব-নিন্দার দোষে দক্ষকে শারীরিক দণ্ড দেন; শেষে মহাদেব পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দেন। এই দক্ষেশ্বর-উৎপত্তি কাহিনি শ্রবণে পাপমল নাশ হয় এবং ‘অপরাধ-স্থান’-সংসর্গেও রক্ষা মেলে—এমন ফলশ্রুতি বলা হয়েছে।

104 verses

Adhyaya 40

Adhyaya 40

पार्वतीश-लिङ्गमाहात्म्य (Pārvatīśa Liṅga — Description and Merits)

অগস্ত্য মুনি পার্বতীর আনন্দের সঙ্গে যুক্ত, পূর্বে ইঙ্গিতিত পাপ-নাশক বিষয়টির বিস্তারিত বিবরণ জানতে চান। স্কন্দ বলেন—মেনা দেবী পার্বতীকে দাম্পত্য-বাসস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করলে পার্বতী শিবের কাছে গিয়ে তাঁর নিজ ধামে বাসের প্রার্থনা করেন। শিব তাঁকে হিমালয় থেকে আনন্দবনে নিয়ে যান, যা পরমানন্দের কারণ; সেখানে পার্বতীর সত্তা আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। পার্বতী সেই ক্ষেত্রে অবিচ্ছিন্ন আনন্দের উৎস জানতে চান। শিব ব্যাখ্যা করেন—এই মোক্ষক্ষেত্রের পঞ্চক্রোশ পরিসরে সর্বত্র লিঙ্গের ঘন উপস্থিতি; এমন কোনো স্থান নেই যেখানে লিঙ্গ নেই। ত্রিলোকের পুণ্যবানদের প্রতিষ্ঠিত ‘পরমানন্দরূপ’ অসংখ্য লিঙ্গ সেখানে বিদ্যমান। পার্বতীও লিঙ্গ প্রতিষ্ঠার অনুমতি চান; শিবের সম্মতিতে মহাদেবের নিকটে পার্বতীশ লিঙ্গ স্থাপন করেন। এই লিঙ্গের দর্শনমাত্রেই ব্রহ্মহত্যা প্রভৃতি মহাপাপ নাশ হয় এবং দেহবন্ধন ছিন্ন হয়। কাশীতে পূজা করলে সাধক ‘কাশী-লিঙ্গ’ ভাব লাভ করে শেষে শিবে লীন হয়। বিশেষ বিধান—চৈত্র শুক্ল তৃতীয়ায় পূজা করলে ইহলোকে মঙ্গল ও পরলোকে শুভ গতি লাভ হয়। শেষে ফলশ্রুতি—এই মাহাত্ম্য শ্রবণে ইহ-পর উভয় উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয়।

26 verses

Adhyaya 41

Adhyaya 41

गंगेश्वरमहिमाख्यानम् (The Account of the Glory of Gaṅgeśvara)

স্কন্দ মুনি-কে গঙ্গেশ্বর-সমুদ্ভব প্রসঙ্গ শোনান। গঙ্গেশ্বর এক লিঙ্গ, যার শ্রবণ ও স্মরণ গঙ্গাস্নানের সমতুল্য তীর্থফল প্রদান করে—এ কথা অধ্যায়ে প্রতিষ্ঠিত। কাহিনি চক্রপুষ্করিণী-তীর্থ ও আনন্দকাননের পবিত্র প্রেক্ষাপটে স্থাপিত, যেখানে শম্ভুর আশ্রয়ে কাশীর অতুল ক্ষেত্রপ্রভাব বর্ণিত হয়েছে। কাশীতে লিঙ্গ-প্রতিষ্ঠার অসাধারণ ফল স্মরণ করিয়ে বলা হয়—গঙ্গা বিশ্বেশ্বরের পূর্বদিকে এক শুভ লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কাশীতে এই গঙ্গেশ্বর-লিঙ্গের দর্শন দুর্লভ; দশহরা তিথিতে পূজা করলে বহু জন্মের সঞ্চিত পাপ তৎক্ষণাৎ ক্ষয় হয়। কলিযুগে লিঙ্গটি প্রায় গোপন হয়ে যাবে বলে দর্শন আরও বিরল হবে; তবু তার দর্শন পুণ্যদায়ক এবং প্রত্যক্ষ গঙ্গাদর্শনের সমান। শেষে ফলশ্রুতি জানায়—গঙ্গেশ-মাহাত্ম্য শ্রবণ নরকগতি থেকে রক্ষা করে, পুণ্যসঞ্চয় বাড়ায় এবং কাম্য উদ্দেশ্য সিদ্ধ করে।

12 verses

Adhyaya 42

Adhyaya 42

नर्मदेश्वराख्यानम् (Narrative of Narmadeśvara) — Narmadā’s Boons and Liṅga-Establishment in Kāśī

এই অধ্যায়ে স্কন্দ নর্মদা (রেবা)-র মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করেন—নর্মদার স্মরণমাত্রেই মহাপাপ ক্ষীণ হয়। ঋষিসভায় প্রশ্ন ওঠে, কোন নদী শ্রেষ্ঠ; তখন মার্কণ্ডেয় নদীগুলিকে পবিত্রকারী ও পুণ্যদায়িনী রূপে শ্রেণিবদ্ধ করে গঙ্গা, যমুনা, নর্মদা ও সরস্বতী—এই চতুষ্টয়কে বেদের রূপ (ঋগ্, যজুঃ, সাম, অথর্ব) হিসেবে নির্দেশ করেন। গঙ্গার অতুল্যতা স্বীকৃত হলেও নর্মদা তপস্যা করে সমতার প্রার্থনা করেন। ব্রহ্মা শর্তসাপেক্ষ যুক্তি দেন—শিব (ত্র্যক্ষ), বিষ্ণু (পুরুষোত্তম), গৌরী ও কাশীর সমতুল্য যদি আর কিছু থাকে, তবেই গঙ্গার সমান অন্য নদী হতে পারে; অর্থাৎ এমন সমতা বিরল। এরপর নর্মদা বারাণসীতে এসে লিঙ্গ-প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ পুণ্যকর্ম জেনে ত্রিবিষিষ্টপের নিকট পিলিপিলা-তীর্থে একটি লিঙ্গ স্থাপন করেন। শিব প্রসন্ন হয়ে বর দেন—নর্মদাতীরের শিলাগুলি লিঙ্গরূপ হবে; নর্মদার দর্শনমাত্রেই তৎক্ষণাৎ পাপক্ষয় হবে (অন্য নদীতে ফল সময়সাপেক্ষ); এবং প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গ “নর্মদেশ্বর” চিরমুক্তিদায়ক হবে, ভক্তরা সূর্যপুত্রের কাছেও সম্মান লাভ করবে। শেষে ফলশ্রুতি জানায়, নর্মদা-মাহাত্ম্য শ্রবণে ‘পাপের আবরণ’ দূর হয়ে উচ্চ জ্ঞান লাভ হয়।

31 verses

Adhyaya 43

Adhyaya 43

सतीश्वरप्रादुर्भावः (Satiśvara Liṅga: Account of Manifestation)

এই অধ্যায়ে অগস্ত্য মুনি নর্মদার পবিত্র মহিমা শুনে সतीশ্বরের উৎপত্তিকথা জানতে চান। স্কন্দ বলেন—ব্রহ্মা কঠোর তপস্যা করলে শিব প্রসন্ন হয়ে বর দেন। ব্রহ্মা প্রার্থনা করেন, শিব যেন তাঁর পুত্ররূপে অবতীর্ণ হন এবং দেবী যেন দক্ষের কন্যা হয়ে জন্ম নেন। শিব সম্মতি দিলে ব্রহ্মার ললাট থেকে চন্দ্রশেখর শিশু প্রকাশিত হয়ে কাঁদতে থাকে; কান্না (রোদন) থেকেই তার নাম হয় ‘রুদ্র’। অগস্ত্য প্রশ্ন করেন—সর্বজ্ঞ দেব কেন কাঁদলেন? স্কন্দ ব্যাখ্যা করেন, এটি দুঃখের নয়; মহাদেবের আনন্দ-বিস্ময়ের অশ্রু—ব্রহ্মার অন্তর্নিহিত অভিপ্রায় ও পিতৃ-পুত্র সম্পর্কের স্নিগ্ধতা উপলব্ধি করে, সন্তানহীন সৃষ্টির ভাবনা থেকে রসান্তর ঘটিয়ে, দর্শন-সান্নিধ্যের পরমানন্দ প্রকাশ পায়। এরপর সतीকথা—দক্ষকন্যা সতি কাশীতে তপস্যা করে বর চান; শিব অষ্টম দিনে বিবাহের প্রতিশ্রুতি দেন এবং সেখানে লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন, যা ‘সতীশ্বর’ নামে প্রসিদ্ধ। সতীশ্বর পূজায় সংকল্প দ্রুত সিদ্ধ হয়, শুভ বিবাহ ও সৌভাগ্য লাভ হয়, এমনকি স্মরণমাত্রেও সত্ত্ব বৃদ্ধি পায়। রত্নেশের পূর্বদিকে এর অবস্থান নির্দেশিত; দর্শনে তৎক্ষণাৎ পাপক্ষয় হয় এবং ক্রমে জ্ঞানলাভ ঘটে।

38 verses

Adhyaya 44

Adhyaya 44

अमृतेशादिलिङ्गप्रादुर्भावः | Manifestation Accounts of Amṛteśvara and Other Liṅgas

স্কন্দ অগস্ত্যকে কাশীক্ষেত্রে স্থিত নানা লিঙ্গ-পরম্পরার ধারাবাহিক কাহিনি শোনান। আনন্দকাননে অমৃতেশ্বরের মাহাত্ম্য দিয়ে শুরু। ব্রহ্মযজ্ঞ, অতিথিসেবা, তীর্থগ্রহণ ও লিঙ্গপূজায় নিবেদিত গৃহস্থঋষি সানারুর জীবনে বিপদ আসে—তার পুত্র উপজঙ্ঘন বনে সাপের দংশনে অচেতন হয়। তাকে স্বর্গদ্বারের নিকট মহাশ্মশানের দিকে নিয়ে যাওয়ার পথে সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণে শ্রীফল-সমান এক গোপন লিঙ্গ আবিষ্কৃত হয়; সেই লিঙ্গ-স্পর্শে তৎক্ষণাৎ প্রাণফেরা এবং ‘অমৃতত্ব’ (মৃত্যুহীনতা) লাভের তত্ত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর মোক্ষদ্বারের কাছে করুণেশ্বরের কথা—সোমবার একভুক্ত ব্রত ও করুণারূপ ফুল/পাতা/ফল দিয়ে পূজার বিধান; দেবকৃপা ক্ষেত্রত্যাগ রোধ করে ও ভয় নাশ করে। চক্রপুষ্করিণীতে জ্যোতিরূপেশ্বরের উপাসনায় ভক্তের জ্যোতির্ময় রূপলাভ বলা হয়েছে। শেষে চৌদ্দ ও আট লিঙ্গ-সমূহের গণনা করে লিঙ্গসমূহকে সদাশিবের ছত্রিশ তত্ত্বের প্রকাশরূপ ব্যাখ্যা করা হয় এবং কাশীকে নিশ্চিত মুক্তিক্ষেত্র বলা হয়, যেখানে নানা সিদ্ধি ও সাধনার ফল পরিপূর্ণ হয়।

56 verses

Adhyaya 45

Adhyaya 45

Vyāsa-bhuja-stambha (व्यासभुजस्तंभ) — Doctrinal Correction and the Establishment of Vyāseśvara

এই অধ্যায়ে নৈমিষারণ্যে শৈবপ্রবণ ঋষিদের সভায় ব্যাসের সঙ্গে তত্ত্বালোচনা বর্ণিত। ব্যাস বেদ-ইতিহাস-পুরাণে হরিকেই একমাত্র সেব্য বলে বৈষ্ণব একান্ত মত স্থাপন করেন; তখন ঋষিরা তাঁকে বারাণসীতে যেতে বলেন, যেখানে বিশ্বেশ্বর শিবের কর্তৃত্বই চূড়ান্ত। ব্যাস কাশীতে এসে পঞ্চনদ-হ্রদে স্নান ও পূজা করেন এবং জ্ঞানবাপীর নিকট বিশ্বেশ্বর-প্রাঙ্গণে বৈষ্ণব জয়ধ্বনি ও দীর্ঘ বিষ্ণু-নামমালার সঙ্গে প্রবেশ করেন। পুনরায় উঁচু করা বাহুতে নিজের বক্তব্য জোর দিয়ে উচ্চারণ করতেই তাঁর বাহু ও বাক্যে স্তম্ভ (অচলতা) নেমে আসে। গোপনে বিষ্ণু প্রকাশ হয়ে ভুল স্বীকার করান এবং বলেন—একমাত্র বিশ্বেশ্বর শিবই সর্বাধিপতি; বিষ্ণুর শক্তি ও জগত্-কার্যও শিবকৃপায়ই প্রাপ্ত। ব্যাস তখন ‘ব্যাসাষ্টক’ নামে শিবস্তোত্র নিবেদন করেন; নন্দিকেশ্বর স্তম্ভ মুক্ত করে স্তোত্রপাঠের ফল—পাপনাশ ও শিবসান্নিধ্য—প্রচার করেন। শেষে ব্যাস শৈবভক্তিতে স্থিত হয়ে ঘণ্টাকর্ণ-হ্রদের কাছে ‘ব্যাসেশ্বর’ লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন; সেখানে স্নান-দর্শনে কাশীসম্বন্ধ মোক্ষলাভ এবং কলিযুগে পাপ ও বিপদের ভয় থেকে রক্ষার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

74 verses

Adhyaya 46

Adhyaya 46

Vyāsa’s Kāśī-Discipline, Viśveśvara–Manikarṇikā Supremacy, and the Kṛcchra–Cāndrāyaṇa Vow Taxonomy (Vyaśa-śāpa-vimokṣa Context)

অধ্যায় ৪৬-এ অগস্ত্য প্রশ্ন করেন—শিবভক্ত ও ক্ষেত্র-রহস্যজ্ঞ ব্যাস কীভাবে শাপ-কথার সঙ্গে যুক্ত হলেন। স্কন্দ উত্তর দেন কাশীতে ব্যাসের নিয়মশীল জীবন তুলে ধরে—প্রতিদিন স্নান, ক্ষেত্র-মাহাত্ম্য প্রচার, লিঙ্গসমূহের মধ্যে বিশ্বেশ্বরের এবং তীর্থসমূহের মধ্যে মণিকর্ণিকার সর্বোচ্চতা। এরপর কাশীবাসী ও তীর্থযাত্রীদের জন্য আচরণবিধি বলা হয়—দৈনিক স্নান-উপাসনা, মণিকর্ণিকা ত্যাগ না করা, বর্ণাশ্রম-ধর্ম পালন, গোপনে দান (বিশেষত অন্নদান), নিন্দা ও মিথ্যা বর্জন (প্রাণরক্ষায় সীমিত ব্যতিক্রম), এবং সকল প্রাণীর রক্ষাকে মহাপুণ্যদায়ক ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা। ক্ষেত্র-সন্ন্যাসী ও কাশীতে অবস্থানকারী তপস্বীদের সম্মানযোগ্য বলা হয়েছে; তাঁদের সন্তুষ্টিকে বিশ্বেশ্বরের প্রসন্নতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ইন্দ্রিয়সংযম প্রশংসিত, আত্মহানি বা মৃত্যুকামনা নিন্দিত; কাশীর সাধনাকে বিশেষ কার্যকর বলা হয়—একবার স্নান, একবার পূজা, অল্প জপ-হোমও অন্যত্র বৃহৎ যজ্ঞের সমফল দেয়। গৃহস্থের কণ্ঠে অতিথিসেবা এবং বিশ্বেশ্বর দর্শন-পূজার পুণ্যও উচ্চারিত। শেষে প্রায়শ্চিত্ত-ব্রতগুলির শ্রেণিবিভাগ দেওয়া হয়—কৃচ্ছ্রের নানা প্রকার, পরাক, প্রাজাপত্য, সান্তপন/মহাসান্তপন, তপ্ত-কৃচ্ছ্র; এবং চন্দ্রায়ণের বহু রীতি। শুদ্ধির তত্ত্ব বলা হয়—দেহ জল দ্বারা, মন সত্য দ্বারা, বুদ্ধি জ্ঞান দ্বারা শুদ্ধ হয়; আর ক্ষেত্রবাসীর গুণ—বিনয়, অহিংসা, অলোভ, সেবা ইত্যাদি। পরবর্তী কাহিনিতে ব্যাসের ভিক্ষা-অস্বীকৃতির মতো দেবীয় পরীক্ষা ইঙ্গিত করে “ব্যাস-শাপ-বিমোক্ষ” প্রসঙ্গের ভূমিকা রচিত হয় এবং অধ্যায় শ্রবণের রক্ষাফল প্রতিশ্রুত।

112 verses

Adhyaya 47

Adhyaya 47

Adhyāya 47: Liṅga–Tīrtha Cartography of Ānandakānana in Kāśī (Uttarārdha)

অধ্যায় ৪৭-এ কাশীর আনন্দকাননে তীর্থ ও লিঙ্গের অভিন্নতা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। দেবসান্নিধ্যের ‘মূর্তি-পরিগ্রহ’ দ্বারা পবিত্র জল তীর্থ হয়, আর যেখানে শৈব লিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত, সেই স্থানই তীর্থ—এই তত্ত্বই মূল। অগস্ত্য ঋষি আনন্দকাননের তীর্থ ও লিঙ্গরূপগুলির বিস্তারিত বিবরণ চান; স্কন্দ দেবী–শিবের পূর্ব সংলাপের ধারায় উত্তর দেন। এরপর বারাণসীতে অবস্থিত বহু নামধারী লিঙ্গ, কুণ্ড ও হ্রদের দীর্ঘ তালিকা ক্রমান্বয়ে বলা হয়। উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম নির্দেশে তাদের অবস্থান নির্ণয় করা হয় এবং দর্শন, পূজা, স্নান, শ্রাদ্ধ প্রভৃতি কর্মের সঙ্গে ফলশ্রুতি যুক্ত হয়—শুদ্ধি, বিঘ্ননাশ, জ্ঞান, সমৃদ্ধি, পিতৃউদ্ধার, বিশেষ রোগ-দুঃখ থেকে মুক্তি এবং শিবলোক, রুদ্রলোক, বিষ্ণুলোক, ব্রহ্মলোক, গোলোক প্রভৃতি লোকপ্রাপ্তি। কিছু শুভ তিথি-নক্ষত্রের কথাও উল্লেখিত। এ অধ্যায়কে ‘সর্ব-লিঙ্গময়’ রক্ষাকবচস্বরূপ পাঠ বলা হয়েছে—নিয়মিত অধ্যয়ন/জপে দণ্ডদায়িনী শক্তির ভয় প্রশমিত হয় এবং জ্ঞাত-অজ্ঞাত পাপের ভার লঘু হয়। শেষে নন্দীর বাণী শুনে শিব ও দেবী দিব্য রথে প্রস্থান করেন।

120 verses

Adhyaya 48

Adhyaya 48

मुक्तिमण्डपगमनम् (Muktimaṇḍapa-Gamana: Śiva’s Entry into the Pavilion of Liberation; Etiology of ‘Kukkutamaṇḍapa’)

এই অধ্যায়ে ব্যাস সূতকে স্কন্দকথা শোনাতে অনুরোধ করেন এবং শম্ভুর মুক্তিমণ্ডপে মহাসমারোহে প্রবেশ (প্রাবেশিকী-কথা) বর্ণিত হয়। কাশী নগরীতে, যেন ত্রিলোকব্যাপী উৎসব—বাদ্য, পতাকা, দীপ, সুগন্ধ ও সর্বজনের আনন্দে পরিবেশ মুখরিত। শিব অন্তর্মণ্ডপে প্রবেশ করলে ব্রহ্মা, ঋষিগণ, দেবসমূহ ও মাতৃদেবীগণ অর্ঘ্য-অর্চনা ও নীরাজনসদৃশ ক্রিয়ায় তাঁকে সম্মান করেন। এরপর শিব বিষ্ণুর সঙ্গে তত্ত্বসংলাপ করেন—আনন্দবন (কাশী) লাভে বিষ্ণুর অপরিহার্য ভূমিকা স্বীকার করে স্থায়ী সান্নিধ্য দান করেন; তবে কাশীতে শিবভক্তিকেই পুরুষার্থসিদ্ধির প্রধান পথ বলে ক্রম নির্ধারণ করেন। মুক্তিমণ্ডপ, সংলগ্ন মণ্ডপসমূহ ও তীর্থস্নান—বিশেষত মণিকর্ণিকা—এর মোক্ষোপযোগী পুণ্যফল গণনা করা হয়েছে; স্থিরচিত্তে অল্পক্ষণ অবস্থান ও শ্রবণও মুক্তিমুখী ফল দেয়। শেষে ভবিষ্যদ্বাণী—দ্বাপরে এই মণ্ডপ ‘কুক্কুটমণ্ডপ’ নামে প্রসিদ্ধ হবে। মহাআনন্দ নামে এক ব্রাহ্মণ ভণ্ডামি ও অনৈতিক দানগ্রহণে পতিত হয়ে কুক্কুটযোনিতে জন্মায়; কাশীস্মরণ ও মণ্ডপসন্নিধানে সংযমী জীবনযাপনে সে উন্নতি লাভ করে শেষে মুক্তি পায়—এতেই স্থানের নামপ্রসিদ্ধি। ঘণ্টাধ্বনি, শিবের অন্য মণ্ডপে গমন এবং শ্রোতাদের আনন্দ ও সিদ্ধিদানকারী ফলশ্রুতি দিয়ে অধ্যায় সমাপ্ত।

94 verses

Adhyaya 49

Adhyaya 49

Viśveśvara-liṅga-mahima (विश्वेश्वरलिंगमहिमा) — The Glory of the Viśveśvara Liṅga

এই অধ্যায়ে কথাটি বহুস্তর সংলাপে প্রকাশিত—ব্যাস সূতকে অগস্ত্যের জিজ্ঞাসা-সম্পর্কিত বৃত্তান্ত বলেন, আর স্কন্দ শিবের মুক্তি/নির্বাণ-সম্পর্কিত স্থান থেকে শৃঙ্গার-মণ্ডপে আগমনের কাহিনি বর্ণনা করেন। শিব পূর্বমুখে উপবিষ্ট, উমাসহ; এক পাশে ব্রহ্মা, অন্য পাশে বিষ্ণু, এবং ইন্দ্র, ঋষি ও গণেরা সেবায় উপস্থিত। সেখানে শিব বিশ্বেশ্বর-লিঙ্গকে ‘পরম-জ্যোতি’ ও নিজের স্থাবর (অচল) রূপ বলে তার সর্বোচ্চ মহিমা প্রকাশ করেন। শিব আদর্শ পাশুপত সাধকদের লক্ষণ বলেন—নিয়মশীল, শুচি, অপরিগ্রহী, লিঙ্গার্চনায় নিবেদিত এবং কঠোর নৈতিক বিধি পালনে দৃঢ়। এরপর পুণ্যফলের সূক্ষ্ম ক্রমবিন্যাস দেওয়া হয়: লিঙ্গের কথা শোনা, স্মরণ, দর্শনের উদ্দেশ্যে যাত্রা, দর্শন, স্পর্শ এবং অতি সামান্য নিবেদন—প্রতিটি কর্মের জন্য ক্রমবর্ধমান শুদ্ধি ও মঙ্গলফল নির্ধারিত; অশ্বমেধ ও রাজসূয় যজ্ঞফলের সঙ্গেও তুলনা করা হয়, এবং শেষে রক্ষা ও নির্বাণমুখী অনুগ্রহের আশ্বাস দেওয়া হয়। মণিকর্ণিকা ও কাশীকে ত্রিলোকে অনন্য শক্তিধর বলা হয়েছে, এবং ভক্তদের জন্য শিবের লিঙ্গরূপে নিত্য উপস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে। শেষে স্কন্দ বলেন—ক্ষেত্রশক্তির কেবল একাংশই বলা হলো; ব্যাস অগস্ত্যের ধ্যানমগ্ন প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গ তোলেন।

71 verses

Adhyaya 50

Adhyaya 50

अनुक्रमणिकाध्यायः — Kāśī Yātrā-Parikramā, Tīrtha-Index, and Phalaśruti

এই পঞ্চাশতম অধ্যায়ে ব্যাসদেব সূতের প্রশ্নের উত্তরে কাশীখণ্ডের বিষয়বস্তুকে ‘অনুক্রমণিকা’র মতো ধারাবাহিকভাবে সাজিয়ে বলেন। সংলাপ, তীর্থ-প্রশংসা, মন্দির-উৎপত্তির কাহিনি ও দেবতা-মাহাত্ম্য—সবই ক্রমানুসারে উল্লেখ করে তিনি গ্রন্থের অন্তর্গত সূচিপত্রের ন্যায় একটি নির্দেশিকা প্রদান করেন। এরপর সূতের অনুরোধে ব্যাস কাশী-যাত্রার বিধান জানান—প্রথমে শুদ্ধিস্নান, দেবতা ও পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে তर्पণ-অর্ঘ্য, ব্রাহ্মণ-সেবা ও দান। তারপর নানা পরিক্রমা: দৈনিক পঞ্চতীর্থিকা (জ্ঞানবাপী, নন্দিকেশ, তারকেশ, মহাকাল, দণ্ডপাণি প্রভৃতি), বৃহত্তর বৈশ্বেশ্বরী ও বহু-আয়তন পথ, অষ্টায়তন-যাত্রা, একাদশ-লিঙ্গ-যাত্রা এবং চন্দ্রতিথি অনুযায়ী গৌরী-যাত্রা। অন্তর্গৃহ (অভ্যন্তরীণ পরিসর) জুড়ে বহু মন্দির-দর্শনের বিস্তৃত তালিকাও দেওয়া হয়েছে, এবং অধিক ফলের জন্য মৌন পালনের প্রশংসা করা হয়েছে। শেষে ফলশ্রুতি জানায়—শ্রবণ ও পাঠ মহাপুণ্যদায়ক, লিখিত প্রতিলিপি সম্মানযোগ্য ও মঙ্গলকর, আর বিধিপূর্বক যাত্রা করলে বিঘ্ননাশ, পুণ্যবৃদ্ধি ও মুক্তিমুখী ফল লাভ হয়।

104 verses

FAQs about Uttara Ardha

It highlights Kāśī as a network of empowered sites where deity-presence is stabilized through installation and worship—especially solar forms (Arunāditya, Vṛddhāditya, Keśavāditya, Vimalāditya) linked to precise locales and practices.

Repeated claims include reduction of fear and suffering, mitigation of poverty and disease, purification from sins through darśana and hearing, and enhanced spiritual outcomes when worship is performed at designated Kāśī tīrthas.

The section embeds (i) Vinatā’s servitude-cause linked to Aruṇa’s emergence and subsequent solar association, (ii) Vṛddhāditya’s ‘old-age removal’ boon to Hārīta, (iii) Keśavāditya’s instruction on Śiva-liṅga worship, and (iv) Vimalāditya’s cure of kuṣṭha and protection of devotees.