
मण्डल 3
The Family Book of Vishvamitra
ঋগ্বেদের তৃতীয় মণ্ডল বিশ্বামিত্র-পরিবারের ‘কুল-মণ্ডল’, যেখানে এক নিবিড় যজ্ঞ-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশিত। এখানে হোতৃ ও জাতবেদস্ রূপে অগ্নি যজ্ঞ প্রতিষ্ঠা করেন, সোম বহন করেন, এবং যজমানের জন্য বিজয় ও দীপ্তি/শ্রী নিশ্চিত করেন। ইন্দ্র—প্রায়ই অগ্নির সঙ্গে যুগ্মভাবে স্তূত—দ্রুত এসে সোম পান করেন, বারংবার পেষণ/অভিষবের দ্বারা শক্তিতে বৃদ্ধি পান, এবং বৈরিতার উপর জয়ের সঙ্গে শক্তি, পুষ্টি ও সমৃদ্ধি দান করেন। সূর্য ও সवিতৃ-কেন্দ্রিক স্তোত্রসমূহের ধারা প্রসিদ্ধ গায়ত্রী (3.62.10)-তে পরিণতি লাভ করে, যেখানে ঋত/ঋজু (সঠিক বিধান/সরলতা)-র আলোকে যথাযথ যজ্ঞাচরণ ও তার ফলপ্রাপ্তির যোগসূত্র স্থাপিত হয়।
Sukta 3.1
অগ্নিকে উদ্দেশ করে রচিত এই সূক্তে তাঁকে দীপ্তিমান পুরোহিত ও দূতরূপে দেখানো হয়েছে—যিনি যজ্ঞকে ফলপ্রসূ করেন, দেবতাদের নিকটে আনেন এবং শান্তি ও ঋত (ন্যায়-শৃঙ্খলা) প্রতিষ্ঠা করেন। অগ্নির বহু বিশ্বরূপে প্রশংসা করা হয়েছে—তিনি জলে জন্ম নেন, দ্রুত তামাটে অশ্বর মতো উদিত হন এবং “গাভী” (কিরণ/সম্পদ) মুক্ত করেন—আর দ্রষ্টা তাঁর কাছে স্থায়ী সমৃদ্ধি, সৌহার্দ্য ও বিজয়ী সন্তান প্রার্থনা করেন।
Sukta 3.2
ঋগ্বেদ ৩.২ অগ্নিকে উদ্দেশ করে রচিত ত্রিষ্টুভ ছন্দের সূক্ত। এতে অগ্নির প্রশংসা করা হয়েছে দেবদীপ্ত পুরোহিত-শক্তি হিসেবে, যাকে দেবতারা নিজেরাই ক্রতু (ইচ্ছা/সংকল্প) ও দক্ষ (কুশলতা) দ্বারা “জন্ম দেন”। ঋষি অগ্নিকে বাজ (বিজয়ী প্রাচুর্য) লাভের সর্বাধিক বরণীয় উপায় হিসেবে কামনা করেন; তাঁকে ভৃগু-প্রদত্ত, সিংহসদৃশ বৈশ্বানর এবং যজমানকে ধনরত্ন উদারভাবে বিতরণকারী দাতা রূপে চিত্রিত করেন।
Sukta 3.3
এই সূক্তে অগ্নিকে বৈশ্বানর—সার্বজনীন অগ্নি—রূপে স্তব করা হয়েছে; তিনি মানব অগ্রগতির জন্য দৃঢ় ভিত্তি (ধরুণ) স্থাপন করেন এবং উপাসনাকে দেবতাদের কাছে বহন করে নিয়ে যান। এখানে অগ্নিকে অমর পুরোহিত-শক্তি বলা হয়েছে, যিনি দেব, মানুষ ও সকল জীবের মধ্যে যজ্ঞকে বিস্তার করেন, ঋত (চিরস্থায়ী বিধান) রক্ষা করেন, এবং নিজেরই দক্ষতায় মহান হয়ে জন্ম নেন ও দ্যৌ-পৃথিবীকে মহিমান্বিত করেন।
Sukta 3.4
ঋগ্বেদ ৩.৪ একটি অগ্নি-সূক্ত, যেখানে অগ্নিকে হোতৃ—যজ্ঞের পুরোহিত-স্বর—রূপে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কবি প্রার্থনা করেন, প্রতিটি সমিধা প্রজ্বালনে তিনি জাগ্রত হোন এবং দেবতাদের হবি-অর্পণে আহ্বান করে আনুন। ঊষা-আলোকিত প্রেক্ষাপটে বহু দেবতার সুরমিল আহ্বান বোনা হয়েছে, যাতে যজ্ঞ আশীর্বাদ, সৎ চিন্তা ও সমৃদ্ধির জন্য দিব্য শক্তিসমূহের এক সুসংবদ্ধ, একীভূত সমাবেশে পরিণত হয়।
Sukta 3.5
এই সূক্তে অগ্নির স্তব করা হয়েছে—জাগ্রত শিখা হিসেবে, যিনি উষা (প্রভাত)-এর সঙ্গে মিলিত হন এবং “অন্ধকারের দ্বার খুলে” দেন, ঋষিদের আলোকময় পথে পরিচালিত করেন। এখানে অগ্নিকে জ্ঞানী, সুপ্রজ্বলিত পুরোহিতরূপে, দিব্য ঋত (ধর্ম/ব্যবস্থা)-এর রক্ষক এবং প্রেরিত কর্মদক্ষতার অভিভাবক হিসেবে মহিমান্বিত করা হয়েছে। শেষে অগ্নির সদ্ভাবের অধীনে ইळা (পোষক প্রাচুর্য/অন্তর্দৃষ্টি), স্থায়ী লাভ এবং বলবান সন্তানের জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে।
Sukta 3.6
বিশ্বামিত্রের এই সূক্তে অগ্নিকে আহ্বান করা হয়েছে প্রেরিত হোতৃ রূপে—যিনি মানুষের চিন্তা ও বাক্যকে দেবমুখী করেন এবং হব্যকে দেবতাদের কাছে পৌঁছে দেন। অগ্নিকে অনুরোধ করা হয় ঋত (বিশ্ব-নিয়ম) অনুসারে তাঁর রক্তাভ, ঘৃত-দীপ্ত অশ্বদের যোজনা করতে, দেবতাদের যজ্ঞে আনতে, এবং উপাসককে স্থায়ী ধন, আলো (গো) ও বিজয়ী সন্তানসন্ততি দান করতে।
Sukta 3.7
অগ্নিকে উদ্দেশ করে এই সূক্তে তাঁকে সেই দীপ্তিমান শক্তি রূপে দেখানো হয়েছে, যিনি বিশ্বজননী‑জনক—দুই মাতা ও দুই পিতা—এর অন্তরে জন্ম নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হন; আর “সাত বাণী” (সপ্ত বাণীঃ) উঠে এসে তাঁর উজ্জ্বল ভিত্তিতে প্রবেশ করে। ঘন মহাজাগতিক চিত্রকল্পে (রাত্রির বসন, বৃষবল, এবং প্রসারিত পিতামাতা) কবি অগ্নির কাছে প্রার্থনা করেন—তিনি যেন আয়ু বৃদ্ধি করেন, গায়ককে নিরাপদে নিজেরই ধামনে (আবাসে) নিয়ে যান, এবং স্থায়ী সমৃদ্ধি, “রশ্মি/গো” (গো) ও সবল সন্তান দান করেন।
Sukta 3.8
এই সূক্তে যজ্ঞের জন্য প্রস্তুত পবিত্র বৃক্ষ/স্তম্ভ ‘বনস্পতী’-কে বন্দনা করা হয়েছে—তাকে জীবন্ত, দিব্য আশ্রয়রূপে মানা হয়েছে, যে দেবতাদের কাছে হবি পৌঁছে দেয় এবং যজ্ঞক্রিয়াকে স্থিত ও সুদৃঢ় করে। কাঠের স্তম্ভের অভিষেক, উত্তোলন ও গঠনকে ‘দিব্য মধু’ দ্বারা আশীর্বাদ করা হয়, এবং যজমানদের জন্য সমৃদ্ধি, সন্তানসন্ততি ও মঙ্গলময় বৃদ্ধি প্রার্থনা করা হয়।
Sukta 3.9
এই সূক্তে অপাম্ নপাত্-এর স্তব করা হয়েছে—জলের মধ্যে গোপন অগ্নিরূপ—যাকে মর্ত্যদের জন্য দিব্য মিত্র ও রক্ষক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এতে মাতরিশ্বন কর্তৃক পবিত্র অগ্নির পুনরুদ্ধার ও প্রতিষ্ঠার পৌরাণিক কাহিনি স্মরণ করা হয়, এবং শেষে বহু দেবশক্তির সেবায় অগ্নিকে হোতৃ রূপে অভিষিক্ত ও সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত করার মহিমান্বিত দর্শন উদ্ভাসিত হয়।
Sukta 3.10
এই সূক্তে অগ্নির স্তব করা হয়েছে—তিনি জনসমাজের মধ্যে সার্বভৌম রাজা এবং যজ্ঞকে সম্পূর্ণকারী অপরিহার্য হোতৃ। এতে বলা হয় যে ঋষি ও সাধারণ মর্ত্য উভয়েই বিধিতে তাঁকে প্রজ্বালিত করে; আর তিনি বিপ্রদের প্রেরিত “আলোসমূহ” (জ্যোতীংষি) ধারণ করে, আহুতি দেবতাদের কাছে পৌঁছে দেন এবং মানুষের শক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করেন।
Sukta 3.11
এই সূক্তে অগ্নির স্তব করা হয়েছে—তাঁকে যজ্ঞের অগ্রভাগে প্রতিষ্ঠিত সর্বপ্রধান পুরোহিত (হোতৃ) বলা হয়েছে, যিনি যজ্ঞকে তার যথাযথ মানবীয় ক্রমে (আনুষক) জানেন এবং নির্ভুলভাবে তা অগ্রসর করেন। অগ্নিকে গোত্রসমূহের অজেয় নেতা, দ্রুতগামী ও সদা নবনব প্রজ্বলিত রূপে আহ্বান করা হয়েছে; তিনি দেবতাদের হব্যের কাছে আনেন এবং উপাসকদের কাম্য ধন ও শক্তি লাভে সহায়তা করেন।
Sukta 3.12
ঋগ্বেদ ৩.১২-এ যুগল দেবতা ইন্দ্র ও অগ্নি (ইন্দ্রাগ্নী)-কে আহ্বান করা হয়েছে—তাঁরা যেন সদ্য নিষ্পেষিত সোমের কাছে আসেন, গায়ক-ঋত্বিকদের স্তব গ্রহণ করেন, এবং উপাসককে শক্তি, পুষ্টি ও বিজয় দান করেন। এই সূক্তে ইন্দ্রের বীর্যশক্তি অগ্নির যাজ্ঞিক অগ্নিশক্তির সঙ্গে একীভূত হয়ে ওঠে; তাঁদের এমন এক সমন্বিত শক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা দেবশক্তিকে উপাসকের কাছে ‘দৃশ্য’ ও কার্যকর করে তোলে।
Sukta 3.13
বিশ্বামিত্রের এই সংক্ষিপ্ত অগ্নিসূক্তে দেবাগ্নিকে আহ্বান করা হয়েছে—তিনি যেন দেবতাদের সঙ্গে এসে বরহিসে (পবিত্র বিছানো আসন) উপবিষ্ট হন এবং যজ্ঞকে যথাযথ বিধি ও সুশৃঙ্খল ক্রমে প্রতিষ্ঠা করেন। এতে অগ্নির কাছে শান্তিদায়ক আশ্রয়, দ্যৌঃ–পৃথিবী–আপ্সু (জল) জুড়ে দীপ্তিমান ঐশ্বর্য, এবং অব্যর্থ, উজ্জ্বল বীরশক্তি (সুবীর্য) প্রার্থিত—যা ক্ষয় না পেয়ে ক্রমে বৃদ্ধি পায়।
Sukta 3.14
এই সূক্তে অগ্নিকে আনন্দময় হোতৃরূপে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে—যিনি বিদথে (যজ্ঞীয় সমাবেশে) অচলভাবে স্থিত থেকে তাঁর দীপ্তি ও রক্ষাশক্তি সমগ্র পৃথিবীতে বিস্তার করেন। তাঁকে সহস্ (বল)-এর পুত্র, বিদ্যুৎ-রথারূঢ় ও শিখা-কেশ বলা হয়েছে; মিত্র, বরুণ ও মরুতরাও তাঁর স্তব করেন। শেষে কবি সমগ্র যজ্ঞকর্ম অগ্নির উদ্দেশে সমর্পণ করে প্রার্থনা করেন—তিনি যেন আহুতিকে তার পূর্ণতা ও মাধুর্যসহ জানেন এবং তার “আস্বাদ” গ্রহণ করেন।
Sukta 3.15
এই সূক্তে অগ্নিকে আহ্বান করা হয়েছে—এক বিস্তৃত, প্রজ্বলিত শক্তি হিসেবে—যিনি বিদ্বেষী, রাক্ষস ও নানা উপদ্রবকে দূরে ঠেলে দিয়ে উপাসককে শান্তি ও রক্ষার ‘বিস্তৃত’ আশ্রয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন। অগ্নি প্রশংসিত অজেয় নেতা ও যজ্ঞের অভিভাবক রূপে; তিনি ক্রিয়াকে সফল পরিণতি পর্যন্ত পরিচালিত করেন এবং ‘সৌভাগ্যের সম্মুখ দ্বার’ উন্মুক্ত করেন। শেষ প্রার্থনায় চাওয়া হয়েছে গাভী-প্রতীকে (আলো/ধন/জ্ঞান) স্থায়ী লাভ, সঙ্গে সন্ততি এবং অগ্নির স্থির প্রসন্নতা।
Sukta 3.16
অগ্নিকে নিবেদিত এই ছয়-ঋচা সূক্তে তাঁকে বীর্যশক্তি (সুবীর্য), সৌভাগ্য (সৌভগ) ও ধন-সমৃদ্ধি (রায়)-এর অধিপতি এবং প্রতিবন্ধক শক্তির উপর বিজয়দানকারী (বৃত্রহন্) কার্যকর বলরূপে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে অগ্নির প্রশংসা করা হয়েছে সেই সিদ্ধিকারক হিসেবে, যিনি লোকসমূহে এবং দেবগণের মধ্যে তাঁর ‘কর্ম’ সম্পন্ন করেছেন; এবং সেই দৃষ্টিকে যজ্ঞের মাধ্যমে দেবদের দিকে সাধনা করার প্রত্যক্ষ আহ্বানে রূপ দেওয়া হয়েছে। সূক্তের শেষে সংক্ষিপ্ত প্রার্থনা—বাজ (জীবনবল ও জয়শক্তি), প্রাচুর্যবৃদ্ধি, আনন্দবাহী শক্তি (ময়োভূ), বিস্তৃত দীপ্তি (তুবি-দ্যুম্ন) এবং স্থায়ী যশ (যশস্) লাভের জন্য।
Sukta 3.17
বিশ্বামিত্রের এই সংক্ষিপ্ত অগ্নিসূক্তে অগ্নিদেবের প্রশংসা করা হয়েছে—তাঁকে ঋত (যজ্ঞীয়-জাগতিক বিধান) অনুসারে সর্বপ্রথম প্রজ্বালিত, শোধনকারী, এবং এমন শিখাসম্পন্ন বলা হয়েছে যা যজ্ঞকে অগ্রসর করে ও দেবতাদের আহ্বান করে আনে। এতে রাত্রি-দিনের চক্রে অগ্নির অভিষেক, উষাদের সঙ্গে তাঁর আত্মীয়তার কথা বলা হয়েছে, এবং জ্ঞানী ও বিধিনিষ্ঠ অগ্নির কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে—তিনি যেন দিব্য সহায়তা, মঙ্গল এবং অধ্বর (যজ্ঞ-অনুষ্ঠান)-এর নির্বিঘ্ন, সুগম অগ্রগতি নিশ্চিত করেন।
Sukta 3.18
এই সংক্ষিপ্ত অগ্নিসূক্তে অগ্নিদেবকে অনুরোধ করা হয়েছে—তিনি যেন সদয় বন্ধু ও পিতৃসুলভ রক্ষক হয়ে নিকটে আসেন এবং মানব বসতিগুলির মধ্যে উদ্ভূত বহু বৈরী শক্তিকে দূরে তাড়িয়ে দেন। ঋষি বল, বিজয় এবং সুপ্রাপ্য ‘রত্ন’—অর্জিত ঐশ্বর্য—লাভের জন্য সমিধা ও ঘৃত দিয়ে অগ্নিকে প্রজ্বালিত করেন, যাতে উপাসকের গৃহ অগ্নির নানা রূপে দীপ্তিমান ও সমৃদ্ধ হয়।
Sukta 3.19
এই সংক্ষিপ্ত সূক্তে অগ্নিকে হোতৃ (আহ্বানকারী পুরোহিত) হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে এবং তাঁকে প্রেরণাপ্রাপ্ত, সর্বজ্ঞ ঋষি হিসেবে প্রশংসা করা হয়েছে—যিনি যজ্ঞের মধ্যে দিব্য শক্তিসমূহ প্রতিষ্ঠা করেন। অগ্নির কাছে প্রার্থনা করা হয় উপাসকের মনকে তীক্ষ্ণ করতে, আত্মসংযম শিক্ষা দিতে, এবং ধন, বল ও সত্য শোনা ও গ্রহণ করার সামর্থ্য (শ্রবস্) দান করতে। শেষে দেবতাদের দ্বারা অগ্নির আদিকালীন নিয়োগ স্মরণ করে প্রার্থনা করা হয়—দেহধারী মানুষের মধ্যে ‘এখানেই’ তিনি যেন রক্ষক রূপে জাগ্রত হন।
Sukta 3.20
এই সংক্ষিপ্ত সূক্তটি প্রভাতকালের এক যৌথ আহ্বান, যেখানে অগ্নির সঙ্গে উষা, অশ্বিনদ্বয় ও দধিক্রাবণকে ডাকা হয়েছে। ‘শুভ আলোর’ দেবতাদের কাছে প্রার্থনা—তাঁরা যেন শ্রবণ করেন এবং যজ্ঞের সঙ্গে অগ্রসর হন। পরে এটি বৃহস্পতী, সবিতৃ, মিত্র-বরুণ, ভগ, বসুগণ, রুদ্রগণ ও আদিত্যগণসহ প্রধান দেবশক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করে আহ্বান জানায়, এবং যজ্ঞকে দীপ্তিমান ঋত ও যথাযথ গতির দ্বারা পরিচালিত এক সমন্বিত যাত্রা হিসেবে উপস্থাপন করে।
Sukta 3.21
এই সংক্ষিপ্ত সূক্তে অগ্নিকে জাতবেদস ও হোতৃ রূপে আহ্বান করা হয়েছে, যাতে তিনি যজমানের যজ্ঞকর্মকে “অমরদের মধ্যে” স্থাপন করেন, তা গ্রহণযোগ্য করে সঠিক ক্রমে বহন করেন। এখানে ঘৃত-সমৃদ্ধ আহুতি (stokāḥ ghṛtaścutaḥ)-র উপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং অগ্নির ভূমিকাকে সর্বাগ্রে বলা হয়েছে—তিনি প্রথমে আসন গ্রহণ করেন, শ্রেষ্ঠ ঋষি রূপে প্রজ্বলিত হন, এবং যজ্ঞের রক্ষক ও বিন্যাসকারী হিসেবে তাকে সুশৃঙ্খল করেন।
Sukta 3.22
এই সংক্ষিপ্ত অগ্নি-সূক্তে যজ্ঞাগ্নিকে সেই দিব্য পাত্ররূপে দেখানো হয়েছে, যেখানে ইন্দ্র নিপীড়িত সোম স্থাপন করে তা আস্বাদন করেন—ফলে অগ্নি নিবেদন ও বিজয়ের যৌথ কেন্দ্র হয়ে ওঠেন। এতে অগ্নির ব্যাপ্তি পৃথিবী থেকে ‘স্বর্গের প্লাবনধারা’ পর্যন্ত প্রসারিত হয়, দেবতাদের তাঁদের শক্তির আসনে আহ্বান করা হয়, এবং আলোর গতি সঞ্চালনের জন্য সহায়ক আপঃ (জলদেবী/জলসমূহ)কে স্মরণ করা হয়। সূক্তের শেষে ইळা-প্রেরিত অন্তর্দৃষ্টি, ‘গো/রশ্মি’ (গাভী/কিরণ)-এর স্থায়ী লাভ, এবং অগ্নির সদয় অনুগ্রহে বংশধারার সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে।
Sukta 3.23
এই সংক্ষিপ্ত অগ্নি-সূক্তে সদ্য প্রজ্বলিত জাতবেদসের প্রশংসা করা হয়েছে—যিনি যজ্ঞের সুপ্রতিষ্ঠিত পুরোহিত এবং যজ্ঞাসনে “অমৃতত্ব” এনে দেন। এতে মন্থন ও প্রজ্বালনের দ্বারা অগ্নির জন্ম, মাতৃসমূহের (সমিধা/জল) মধ্যে তাঁর আনন্দের বর্ণনা আছে; এবং উপাসকের জন্য ইळা-প্রেরিত প্রাচুর্য, গো-ধন/দ্যুতি ও বলবান সন্তানের সিদ্ধি প্রার্থনা করা হয়েছে।
Sukta 3.24
এই সংক্ষিপ্ত অগ্নি-সূক্তে যজ্ঞাগ্নির কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে—তিনি যেন বাহ্য সংঘর্ষ ও অন্তর্গত প্রতিবন্ধকতা, উভয় ক্ষেত্রেই শত্রুশক্তিকে পরাভূত করেন এবং যজমানের জন্য “বর্চস্” (তেজ, বিজয়ী দীপ্তি) প্রতিষ্ঠা করেন। প্রস্তুত বর্হিস্ (যজ্ঞাসন)-এ অগ্নিকে আহ্বান করা হয়, দীপ্তিমান শক্তিতে তাঁকে জাগ্রত করা হয়, এবং তাঁর কাছে “রয়ি” (সমৃদ্ধি/প্রাচুর্য) দানের অনুরোধ করা হয়—যা বীরশক্তিতে সমৃদ্ধ—এবং উপাসকদের সংকল্পকে পরিশুদ্ধ/পরিমার্জিত করেন।
Sukta 3.25
এই সংক্ষিপ্ত অগ্নিসূক্তে অগ্নিদেবকে স্বর্গের পুত্র এবং পৃথিবীতে দেহধারী উপস্থিতি হিসেবে দেখানো হয়েছে—সর্বজ্ঞ পুরোহিত, যিনি যজ্ঞে দেবতাদের যথাযথভাবে বিন্যস্ত করেন। এখানে অগ্নির প্রশংসা করা হয়েছে সর্বব্যাপী, অমর দীপ্তি হিসেবে, যা ভক্তিপূর্ণ প্রণামে বৃদ্ধি পায় এবং, যখন ‘জলের মধ্যে’ প্রজ্বালিত হয়, তখন মানবজীবনের যৌথ আসনসমূহকে বিস্তার করে ও রক্ষা করে।
Sukta 3.26
বিশ্বামিত্রের কুশিক বংশের এই সূক্তে আহ্বান করা হয়েছে অগ্নি বৈশ্বানরকে—সর্বজনীন অগ্নিকে, যিনি ‘জ্যোতির্ময় লোক’ (স্বর্) আবিষ্কার করেন এবং ঋত-এর সত্য পথ ধরে নিবেদন (হবি) বিশ্বস্তভাবে বহন করেন। স্তবের প্রবাহে মরুতদের—উগ্র, বৃষ্টি-দীপ্ত সহচরদের—মাধ্যমে অগ্নির শক্তি আরও বৃদ্ধি পায়, যতক্ষণ না অগ্নি প্রকাশিত হন এক অক্ষয়, বহুধারা-প্রবাহিত উৎসরূপে: বাক্ (বাচ্)-এর ‘উক্তির পিতা’ জ্ঞানী জনক, যাঁকে স্বয়ং দ্যৌ-পৃথিবী ধারণ ও পোষণ করে।
Sukta 3.27
অগ্নিকে উদ্দেশ করে এই সূক্তে তাঁকে যজ্ঞের অগ্রগামী শক্তি রূপে বর্ণনা করা হয়েছে—যিনি ঘৃতাহুতি ঊর্ধ্বে বহন করে দেবলোকের দিকে পৌঁছে দেন এবং দেবপথকে সহজগম্য করেন। বারবার “বাজ” (পূর্ণতা, বিজয়ী শক্তি)কে এমন এক শক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা অগ্নি অধ্বর—যজ্ঞযাত্রা—জুড়ে চালিত ও পরিচালিত করেন। সূক্তের পরিণতিতে অগ্নিকে বৃষবল রূপে প্রজ্বালিত করা হয়; প্রার্থনা করা হয় যে তিনি বृहৎ (বিশাল) পরিসরে সর্বত্র দীপ্ত হোন এবং অনুগ্রহ দান করে যজ্ঞের সিদ্ধি ও সাফল্য প্রদান করুন।
Sukta 3.28
এই সংক্ষিপ্ত অগ্নিসূক্তে জাতবেদসকে আহ্বান করা হয়েছে যে তিনি সোম-চাপনের সময়—বিশেষত প্রাতঃ ও মধ্যাহ্ন সবনে—পুরোळাশ (যজ্ঞীয় পিষ্টক) এবং আহুতি গ্রহণ করুন। এতে যজ্ঞে অগ্নির ন্যায্য অংশের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং ধীর (অটল, প্রজ্ঞাবান) জনদের ভূমিকা উল্লেখ করা হয়েছে, যারা ক্রিয়ার শুদ্ধতা ও অখণ্ডতা রক্ষা করেন, যাতে প্রেরিত চিন্তা (ধী) ও কল্যাণ দৃঢ় হয়।
Sukta 3.29
এই সূক্তটি মন্থন (অগ্নি-মন্থন) দ্বারা অগ্নি প্রজ্বালনের এক জীবন্ত লিতুর্জি; এখানে অগ্নির জন্মকে ইচ্ছাকৃত, পবিত্র সৃজন হিসেবে দেখা হয়েছে, যা প্রাচীন যজ্ঞ-রীতিকে নবীকৃত করে। ধোঁয়া ও শিখা তার লক্ষণ হয়ে অগ্নি যখন উদিত হয়, তখন সে নির্বাচিত হোতা হয়ে যজ্ঞকে অগ্রসর করে, বাধাদানকারী শক্তির বিরুদ্ধে বল ও বিজয় দান করে, এবং উপাসকদের স্থিত, ‘নিশ্চিত’ আসনে পৌঁছে দেয়—যেখানে তার মাধ্যমেই সোম-আনন্দের নিকট গমন করা হয়।
Sukta 3.30
ঋগ্বেদ ৩.৩০ একটি উদ্দীপ্ত ইন্দ্র-স্তোত্র, যেখানে বিশ্বামিত্রের বংশ সোমপ্রিয় বীরকে মানব সংঘাতে একমাত্র স্পষ্ট বিচারক ও চূড়ান্ত রক্ষক হিসেবে আহ্বান করে। এতে বন্ধন ভাঙা ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণে ইন্দ্রের ঋতসম (নিয়মসদৃশ) শক্তির প্রশংসা করা হয়েছে, এবং তাঁকে অনুরোধ করা হয়েছে যেন তিনি গায়কদের স্তব শুনে হবি গ্রহণ করেন ও বিজয়, ধন এবং মঙ্গল দান করেন।
Sukta 3.31
বিশ্বামিত্র-পরম্পরার এই সূক্তে অগ্নির প্রশংসা করা হয়েছে ঘন “পরিবার” ও প্রজন্মগত চিত্রকল্পে—পিতা, কন্যা, আত্মীয়তার বন্ধন—যার মাধ্যমে ইঙ্গিত মেলে যে এই গোপন সম্পর্কগুলির দ্বারাই ঋত (মহাজাগতিক বিধান) প্রজ্বলিত ও ধারিত থাকে। এটি অন্তর্লীন, বিধান-জ্ঞ অগ্নি থেকে অগ্রসর হয়—যে শক্তিগুলিকে যুক্ত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করে—এক বৃহত্তর সৃষ্টিতত্ত্বের দৃষ্টিতে, যেখানে পিতার জন্য আসন/আধার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দীপ্তিমান জগত প্রসারিত হয়। শেষাংশে সুরটি যুদ্ধমুখর ও ব্যবহারিক: বাধা ভাঙা এবং ধন ও বিজয় নিশ্চিত করার শক্তি হিসেবে ইন্দ্রকে আহ্বান করা হয়, দেখানো হয় যে যজ্ঞীয় শৃঙ্খলা শেষ পর্যন্ত রক্ষা ও প্রাচুর্যে পরিণত হয়।
Sukta 3.32
এই সূক্তে সোমপতি ইন্দ্রকে মধ্যাহ্নের সোম-নিষ্পেষণে আহ্বান করা হয়েছে—তিনি যেন পান করেন, উল্লসিত হন এবং তাঁর বিজয়ী শক্তি উপাসকদের দিকে প্রবৃত্ত করেন। এতে তাঁর জন্মজাত, সীমাহীন পরাক্রমের প্রশংসা করা হয়েছে—যা জন্ম থেকেই প্রকাশিত বলে বলা হয়—এবং প্রার্থনা করা হয়েছে যে তিনি যুদ্ধে আহ্বান শুনুন, বাধা/বৃত্রসমূহ (vṛtrāṇi) চূর্ণ করুন, এবং সত্য ধন ও জয় নিশ্চিত করুন।
Sukta 3.33
এই সূক্তে যুগ্ম নদী-দেবী বিপাট ও শুতুদ্রীকে স্তব করা হয়েছে—পর্বত থেকে উৎসারিত জীবনদায়িনী, দ্রুতগামী ও মাতৃস্বরূপ জলধারা—এবং তাদের কাছে নিরাপদ পারাপার ও রক্ষার প্রার্থনা করা হয়েছে। এতে ইন্দ্রের আদর্শ কীর্তিও স্মরণ করা হয়: তিনি বাধাদানকারী সর্প/বন্ধনকে আঘাতে ভেঙে জলধারাকে মুক্ত করেছিলেন; ফলে নদীর অবাধ প্রবাহকে সংকোচনের উপর দেববিজয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সূক্তের পরিণতি এক বাস্তব, করুণ প্রার্থনায়—যেন বাধা ভেসে যায় এবং “দুই নির্দোষ জন” নিরাপত্তা ও মঙ্গল লাভ করে।
Sukta 3.34
এই সূক্তে ইন্দ্রের প্রশংসা করা হয়েছে দুর্গভেদী রূপে—পবিত্র বাক্ (ব্রহ্মণ) দ্বারা শক্তিমান হয়ে তিনি দাস/দস্যু-বিরোধকে পরাভূত করেন, শত্রুদের ছত্রভঙ্গ করেন এবং ঋষিদের জন্য সত্য ধন অর্জন করে দেন। এতে তাঁর কর্মের মহত্ত্ব ও ন্যায্যতার উদ্যাপন আছে—তিনি বক্রকে সরল করেন এবং অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে জয় করেন—এবং শেষে এটি যুদ্ধ-প্রার্থনায় পরিণত হয়ে ইন্দ্রকে অনুরোধ করে যে তিনি প্রতিযোগিতা ও সমৃদ্ধিতে উপাসকদের আহ্বান শুনে সহায় হন।
Sukta 3.35
এই সূক্তটি ইন্দ্রের প্রতি এক ত্বরিত সোম-আমন্ত্রণ: তাঁর কপিশ অশ্বদের রথে জোড়ার জন্য আহ্বান করা হয়েছে, এবং তাঁকে দ্রুত এসে বরহিসে সাজানো পেষিত সোম পান করতে অনুরোধ করা হয়েছে। কবি ইন্দ্রকে সর্বাধিক পুরুষোচিত লুণ্ঠন-ধনের বিজেতা বলে প্রশংসা করেন, যিনি বৃত্রসদৃশ বাধা চূর্ণ করেন; এবং তাঁর কাছে বিজয়, প্রতিযোগিতা/সংগ্রামে রক্ষা, ও ধন-সমাবেশের প্রার্থনা করেন।
Sukta 3.36
এই সূক্তে ইন্দ্রকে আহ্বান করা হয়েছে—সেই চিরবর্ধমান বীরকে, যিনি প্রতিটি সোম-নিষ্পেষণের সঙ্গে আরও শক্তিশালী হন এবং মহৎ কীর্তির দ্বারা “সুপরিচিত/সুশ্রুত” হয়ে ওঠেন। এখানে ইন্দ্রের প্রসারিত ক্ষমতাকে সোমের পূরণকারী শক্তির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে; নদীগুলির সমুদ্রমুখী প্রবল ধাবনাকে এক মহাজাগতিক প্রতিমা হিসেবে দেখানো হয়েছে—অপ্রতিরোধ্য গতি ও অনিবার্য প্রবাহের চিহ্নরূপে। সূক্তের পরিণতি সরাসরি যুদ্ধ-প্রার্থনায়: দানশীল ইন্দ্র শুনুন, বাধা/বৃত্রসমূহ (vṛtrāṇi) বিনাশ করুন এবং উপাসকদের জন্য ধন-সম্পদ জয় করুন।
Sukta 3.37
ঋগ্বেদ ৩.৩৭ ইন্দ্রকে বৃত্রহা ও যুদ্ধজয়ী রূপে সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রবল আহ্বান। এতে উপাসকদের দিকে মুখ ফেরাতে এবং তাদের বিজয়কে শক্তি দিতে প্রার্থনা করা হয়েছে। স্তোত্রটি বারবার ইন্দ্রকে নিকট ও দূর থেকে ডাকে—দ্রুত আগমন, হবি গ্রহণ, এবং সেই বাধাদানকারী শক্তিগুলিকে ভাঙার জন্য, যারা আলো, জল ও অগ্রগতিকে রুদ্ধ করে রাখে।
Sukta 3.38
বিশ্বামিত্রের এই সূক্তে কবির অনুপ্রাণিত চিন্তা সু-যোজিত দ্রুতগামী অশ্বের মতো চলমান হয়—অন্তর্দৃষ্টি ও ঋষিদের সান্নিধ্য অন্বেষণে—এবং ইন্দ্রকে আহ্বান করে যেন তিনি বাধা ভেঙে প্রাচুর্য জয় করেন। ইন্দ্রের প্রশংসা কেবল বাহ্য সংগ্রামের বীরশক্তি হিসেবে নয়, বরং দীপ্ত ‘মনঃশক্তি’ হিসেবে, যা গোপন ‘প্রাণ’ ও সত্যকে জাগিয়ে তোলে এবং গতিময় করে। পরবর্তী অংশে এক দর্শনময় বাঁক সূক্ষ্ম বিশ্ব-ঋতকে প্রকাশ করে—ঋতের অন্তর্গত গন্ধর্বগণ—এবং সহায়কভাবে সবিতৃর উপস্থিতি আসে, যিনি যথার্থ দর্শনকে জাগান ও প্রেরণা দেন।
Sukta 3.39
ইন্দ্রকে উদ্দেশ করে রচিত এই ত্রিষ্টুভ স্তোত্রে হৃদয় থেকে উত্থিত প্রেরিত “চিন্তা-স্তব” (মতি/স্তোম) ইন্দ্রের কাছে পৌঁছে তাঁকে অনুরোধ করে—যজ্ঞকারীর মধ্যে নিহিত তাঁরই শক্তিকে তিনি যেন চিনে নিয়ে জাগিয়ে তোলেন। এতে নবগ্ব ও দশগ্বদের সঙ্গে ইন্দ্রের সত্যকর্ম স্মরণ করা হয়েছে—গোপন সূর্যকে আবিষ্কার করে অন্ধকার থেকে আলো উদ্ধার—এবং পরে বর্তমান সংগ্রামে সহায়তা, বাধাদানকারীদের উপর বিজয়, ও ধনসম্পদ ও কল্যাণ লাভের জন্য প্রার্থনা জানানো হয়েছে।
Sukta 3.40
এই সূক্তে শক্তির বৃষ ইন্দ্রকে সদ্য নিংড়ানো সোমের কাছে আহ্বান করা হয়েছে এবং তাঁকে পান করতে, রক্ষা করতে ও সেই মধুর সার (মধু/অন্ধস্) বৃদ্ধি করতে প্রার্থনা করা হয়েছে, যা যজমানকে শক্তি জোগায়। বারবার ইন্দ্রকে অনুরোধ করা হয়—দূর ও নিকট উভয় স্থান থেকেই আসতে, “মধ্য অন্তরিক্ষে” প্রবেশ করতে এবং তাকে বিজয়, আলো ও পোষণদায়ী শক্তির প্রবাহের পথ করে তুলতে।
Sukta 3.41
ঋগ্বেদ ৩.৪১ একটি আহ্বান-সূক্ত (আহ্বান), যেখানে ইন্দ্রকে ডাকা হচ্ছে—যেন তিনি যজমানদের দিকে নিজের আনন্দ/অনুরাগ ফেরান এবং দুই বে-ঘোড়া নিয়ে দ্রুত এসে সোম পান করেন। এতে তাঁকে “শক্তির অধিপতি” বলে প্রশংসা করা হয়েছে—যিনি স্বভাবতই অর্ঘ্য-আহুতি ও সুসজ্জিত আসন (বর্হিস্)-এর দিকে আকৃষ্ট হন; আর উপাসকের চিন্তাগুলি ইন্দ্রকে ঘিরে এমনভাবে জমায়েত হয়, যেমন বাছুরকে ঘিরে মায়েরা। এই সূক্তের উদ্দেশ্য ইন্দ্রের উপস্থিতি, সোমে তাঁর উল্লাস, এবং তার ফলস্বরূপ শক্তি, রক্ষা ও বিজয় লাভ করা।
Sukta 3.42
এই সূক্তটি ইন্দ্রের উদ্দেশে আহ্বানমূলক সোম-গীতি। কবি তাঁকে তাঁর দুই বাদামি অশ্বসহ দ্রুত আসতে এবং সদ্য নিংড়ানো সোম পান করতে ডাকেন। বারবার ইন্দ্রকে অনুরোধ করা হয়েছে—তিনি যেন সোমকে নিজের উদরে ধারণ করে বলবান হন, যাতে যাঁরা তাঁকে আহ্বান করে সেই কুশিক/বিশ্বামিত্র বংশকে তিনি রক্ষা, শক্তি ও বিজয় দান করেন।
Sukta 3.43
এই সূক্তে ইন্দ্রকে অত্যন্ত উদ্দীপিত আহ্বান জানানো হয়েছে—তিনি যেন রথে দ্রুত এসে সোম-নিষ্পেষণের যজ্ঞে উপস্থিত হন, বিছানো বরহিসে আসন গ্রহণ করেন এবং প্রিয় মিত্র-সহায়কের মতো যজমানদের সঙ্গে যুক্ত হন। এতে ইন্দ্রের প্রশংসা করা হয়েছে যুদ্ধজয়ী, বৃত্রবধকারী, শক্তি ও ঐশ্বর্যের অধিপতি হিসেবে; এবং প্রার্থনা করা হয়েছে যে তিনি সোমের দ্বারা রক্ষক, রাজোচিত নেতা ও ঋষিত্ব/দ্রষ্টৃত্বের প্রেরক হয়ে উঠুন। এই স্তোত্রের উদ্দেশ্য একদিকে আচারগত—ইন্দ্রকে পানার্থে আকর্ষণ করে যজ্ঞকে শক্তি দেওয়া—এবং অন্যদিকে অস্তিত্বগত—বিজয়, প্রাচুর্য ও অনুপ্রাণিত দর্শন নিশ্চিত করা।
Sukta 3.44
এই সংক্ষিপ্ত গায়ত্রী-ছন্দের সূক্তে সোম-পেষণের সময় ইন্দ্রকে আহ্বান করা হয়েছে—তাঁকে বলা হয়েছে যেন তিনি তাঁর হরিত (তাম্রবর্ণ) অশ্বসহ এসে যজ্ঞে দীপ্ত রথে আসন গ্রহণ করেন। এরপর ইন্দ্রের প্রশংসা করা হয় স্বর্গ ও পৃথিবীর ধারক হিসেবে, যিনি প্রাচুর্যপূর্ণ পুষ্টি প্রতিষ্ঠা করেন; শেষে ইন্দ্রকে হরিত বৃষরূপে দেখানো হয়েছে, যিনি বিজয়সাধক কর্মের জন্য বজ্র ধারণ করে নিজেকে সজ্জিত করেন।
Sukta 3.45
এই সংক্ষিপ্ত সূক্তে ইন্দ্রকে আহ্বান করা হয়েছে—তিনি যেন তাঁর হরি (তাম্রবর্ণ অশ্ব/শক্তি) সহ দ্রুত আগমন করেন, কোনো বন্ধনে বাধাপ্রাপ্ত না হয়ে অর্ঘ্য গ্রহণ করেন এবং যজমানকে শক্তি দান করেন। এতে ইন্দ্রের গভীর, সমুদ্রসদৃশ ক্রতু (দৃঢ় সংকল্প)-এর প্রশংসা করা হয়েছে, যা সুরক্ষিত স্রোতধারা ও চারণভূমির দিকে অগ্রসর গাভীদের ন্যায় বৃদ্ধি পোষণ করে। সূক্তের শেষে ইন্দ্রকে স্বপ্রেরিত ও স্বশাসক বলে স্বীকার করে প্রার্থনা করা হয়—তাঁর বর্ধমান পরাক্রম উপাসককে সর্বোচ্চ, স্থায়ী খ্যাতি এবং মঙ্গলময় শ্রবণ দান করুক।
Sukta 3.46
এই সংক্ষিপ্ত ইন্দ্র-সূক্তে বজ্রধারী প্রভুর মহিমা কীর্তিত—স্বয়ং-সার্বভৌম, চিরযৌবন অথচ অজর বৃষভ—যাঁর বীরকর্ম বিশাল ও সর্বত্র প্রসিদ্ধ। এতে ইন্দ্রকে সকল পরিমাপের অতীত, দ্যুলোক, পৃথিবী ও অন্তরিক্ষকেও অতিক্রমকারী রূপে চিত্রিত করা হয়েছে; এবং যজ্ঞের পরিসমাপ্তি ঘটে প্রস্তুত ও নিবেদিত সোমের দ্বারা, যাতে তিনি তা পান করে রক্ষা ও বিজয়ের শক্তি দান করেন।
Sukta 3.47
এই সংক্ষিপ্ত ইন্দ্র–মরুত স্তোত্রে মরুতদের সহচর্যে যুদ্ধ-বৃষ ইন্দ্রকে আহ্বান করা হয়েছে—তিনি যেন নিংড়ানো সোম পান করে বিজয় ও রক্ষার জন্য উল্লসিত হন। এখানে ইন্দ্রের পরাক্রমকে ঋত (সঠিক বিধান ও যথাযথ সময়)–এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে; স্মরণ করানো হয়েছে যে বৃত্রবধের সময় মরুতরা তাঁর অনুসরণ করেছিল এবং তাঁর মধ্যে শক্তি “স্থাপন” করেছিল। উদ্দেশ্যটি ব্যবহারিক ও যজ্ঞীয়—যথাসময়ে সোমার্পণের দ্বারা উপাসকদের জন্য নতুন সহায়তা, বল ও জয় নিশ্চিত করা।
Sukta 3.48
এই সংক্ষিপ্ত ইন্দ্র-সূক্তে দেবতার জন্মজাত, জন্ম থেকেই উদ্ভাসিত শক্তির প্রশংসা করা হয়েছে: তরুণ ষাঁড়ের মতো তিনি সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে এসে সদ্য-নিষ্পেষিত সোম গ্রহণ ও ধারণ করেন। এতে মায়ের কাছ থেকে পুষ্টি অন্বেষণ, সোমে নিহিত তীক্ষ্ণ শক্তি উপলব্ধি, এবং তারপর সকলকে অতিক্রম করে মহৎ কর্ম সম্পাদনের স্মরণ আছে। সূক্তের পরিণতি যুদ্ধ-প্রার্থনায়—সংঘর্ষে ইন্দ্রকে শ্রেষ্ঠ সহায়ক বলে আহ্বান করা হয়, যিনি বৃত্রদের (বাধাদানকারী) বিনাশ করেন এবং গায়কদের জন্য ধন ও মঙ্গল জয় করে আনেন।
Sukta 3.49
এই সংক্ষিপ্ত ত্রিষ্টুভ স্তোত্রে ইন্দ্রকে সেই দেবতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যাঁকে সোমপায়ী সকল জন আকাঙ্ক্ষা করে ও আহ্বান করে—যিনি বাধা (বৃত্র) ভাঙা এবং বিজয় নিশ্চিত করার কর্মের জন্য জন্মেছেন। তাঁকে যুদ্ধ অতিক্রম করিয়ে দেওয়া বীর, দুই লোককে প্রসারিতকারী এবং ফলপ্রদ প্রাচুর্য বর্ষণকারী হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে; শেষে বর্তমান সংগ্রামে তাঁর শ্রবণশীল সহায়তা ও ধনসম্পদের জয়ের জন্য সরাসরি প্রার্থনা করা হয়েছে।
Sukta 3.50
এই সংক্ষিপ্ত সূক্তে মরুত্বান্ ইন্দ্রকে আহ্বান করা হয়েছে—যিনি উদ্দাম, সর্বব্যাপী বৃষ এবং মরুতদের সঙ্গে আগমন করেন—যেন তিনি সোম পান করেন ও যজমানকে শক্তি দেন। প্রার্থনা করা হয় যে ইন্দ্র আহুতিতে পরিপূর্ণ হন, পূর্ণতার “গাভী” (রশ্মি/সম্পদ) দান করেন, এবং বৃত্রসদৃশ বাধা-অবরোধকে বধ করেন, যাতে সংগ্রামে বিজয় ও কল্যাণ নিশ্চিত হয়।
Sukta 3.51
এই সূক্তটি ইন্দ্রকে উদ্দেশ করে এক বলিষ্ঠ আহ্বান—তিনি “জনসমর্থিত” ও “বহু-আহূত”—যেন তিনি যজ্ঞে আসেন, সুগঠিত স্তোত্র গ্রহণ করেন এবং নিংড়ানো সোম পান করেন। এতে ইন্দ্রের পূর্বতন সোমপান ও বিজয়ের স্মরণ বর্তমান সহায়তার নিশ্চয়তা হিসেবে আনা হয়েছে, এবং শেষে সংক্ষিপ্ত প্রার্থনা—হবি ও মন্ত্র যেন ইন্দ্রের সমগ্র সত্তা—উদর, শির ও বাহু—কে শক্তিমান করে, যাতে তিনি দান ও অভীষ্ট সিদ্ধি প্রদান করেন।
Sukta 3.52
ইন্দ্রকে উদ্দেশ করে এই সূক্তে সোমযজ্ঞকে তার বিভিন্ন পেষণ-পর্ব জুড়ে চিত্রিত করা হয়েছে; বিশেষ করে প্রভাতে এবং আবার মধ্যাহ্নে তাঁকে আহ্বান করা হয়েছে যেন তিনি প্রস্তুত খাদ্য-অর্ঘ্য ও কবির স্তব গ্রহণ করেন। এতে প্রার্থনা করা হয় যে নিবেদন (শস্য, পিঠা/পুরোডাশ এবং স্তোত্র) ‘কার্যকর/সুন্দর’ হয়ে উঠুক এবং সোমপান ও বিজয়ের জন্য ইন্দ্রের বীরশক্তি দিন দিন বৃদ্ধি পাক।
Sukta 3.53
এই সূক্তে ইন্দ্রকে পর্বতের সঙ্গে আহ্বান করা হয়েছে—তাঁরা যেন তাঁদের মহারথে এসে সোম পান করেন এবং যজমানদের শক্তি, বিজয় ও প্রাচুর্য ‘পোষক স্রোত’ (ইষঃ) দান করে সক্ষম করেন। এতে ইন্দ্রের বজ্র-পরাক্রমের স্তবকে কবির নির্মিত ব্রহ্মণ (পবিত্র সূত্র/উচ্চারণ) এর সঙ্গে বুনে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভরত জনের জন্য সমৃদ্ধি, বীরবল এবং প্রতিযোগিতা ও যুদ্ধে সাফল্য নিশ্চিত হয়।
Sukta 3.54
বিশ্বামিত্রের এই সূক্তে প্রধানত অগ্নিকে আহ্বান করা হয়েছে—তিনি সদা জাগ্রত প্রার্থনা-শ্রোতা এবং উপাসকদের জন্য শক্তি, প্রেরণা ও বিজয় সঞ্চয়কারী দিব্য শক্তি। স্তবের অগ্রগতির সঙ্গে সহচর দেবতারা—বিশেষত দ্যাবা-পৃথিবী, এবং পরে ত্বষ্টৃ ঋভুগণের সঙ্গে (এবং পূষণ)—যজ্ঞের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রবেশ করেন: যথাযথ নির্মাণ, যথাযথ আহুতি ও যথাযথ রক্ষা। শেষে সরাসরি প্রার্থনা করা হয়—অগ্নি যেন আহুতিগুলিকে মধুর করেন, সমিধার বল নিয়ে প্রজ্বলিত হন, যুদ্ধে শত্রুদের জয় করেন, এবং যজমানকে দিন দিন আলোকিত করে রাখেন।
Sukta 3.55
ঋগ্বেদ ৩.৫৫-এ ভাবনা করা হয়েছে যে বহু দেবতা একটিমাত্র মহান, একক সার্বভৌম কর্তৃত্ব/আধিপত্য (একং অসুরত্বং) দ্বারা ধারণ ও প্রতিষ্ঠিত, যা তখনই প্রকাশ পায় যখন উষা গোপন নিয়ম-শৃঙ্খলাকে উন্মোচন করে। প্রতীকী চিত্রমালার ধারায়—‘আলোর পদে’ বাক্, যুগল দুগ্ধদায়িনী গাভী, জল ও উদ্ভিদ, পৃথিবীর প্রাচুর্য—এই সূক্ত ঋত-এর অন্তর্নিহিত সামঞ্জস্যের প্রশংসা করে, যা দেবতাদের শক্তি দেয় এবং যজ্ঞ ও জীবনকে ধারণ করে।
Sukta 3.56
এই সূক্ত অখণ্ড ঋত-এর স্তব করে—সেই দৃঢ়, আদিম বিধান (ব্রত) যার দ্বারা দেবগণ বিশ্বকে ধারণ ও রক্ষা করেন—এতই স্থির যে লোকসমূহ ও পর্বতও নত হতে বাধ্য হয় না। পুনঃপুন ত্রয়ীর বিন্যাসে (তিন লোক, তিন শক্তি, তিন জল) এটি দেখায় যে মহাজাগতিক শৃঙ্খলা এক ছন্দোময়, নকশাবদ্ধ শাসন, যা যজ্ঞ-সত্রে অবতীর্ণ হয়। এই সূক্তের উদ্দেশ্য যজমানের ক্রিয়া ও চিন্তাকে সেই উচ্চ, অপ্রতিহত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য করা, যাতে দেবগণ ‘আগমন’ করে কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করেন।
Sukta 3.57
এই সূক্তে যুগল দেবতা ইন্দ্র–অগ্নির স্তব করা হয়েছে—তাঁরা প্রেরণার “গাভী” (মনীষা)-র আবিষ্কারক ও নিরাপদ অধিকারী; এটি পুষ্টি, অন্তর্দৃষ্টি ও বিজয়ের প্রবহমান উৎস। এখানে কাব্য-আলোককে যজ্ঞকর্মের সঙ্গে, বিশেষত সোম-নিষ্পেষণের সঙ্গে, যুক্ত করা হয়েছে—যাতে গোপন প্রাচুর্য ঊর্ধ্বে দেবতাদের কাছে ওঠে এবং সেখান থেকে পথনির্দেশ, সমৃদ্ধি ও সর্বজনীন “সুমতি” (কল্যাণময় মন) রূপে ফিরে আসে।
Sukta 3.58
এই সূক্তে প্রভাতে অশ্বিনৌকে আহ্বান করা হয়েছে; তাঁদের দ্রুত আগমনকে উষার জাগ্রত আলোক এবং দক্ষিণার ঋত-সম্মত, উদার দান-অর্ঘ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। “আলোর গাভী” ও “মধুর ভাণ্ডার”–এর মতো উজ্জ্বল চিত্রকল্পে যুগল চিকিৎসক দেবতাদের দেবযান পথে যাত্রা করে আসতে এবং যজমানের গৃহে মধুময় সোমরস পান করতে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
Sukta 3.59
এই সূক্তে মিত্রের স্তব করা হয়েছে—তাঁকে সেই আদিত্য রূপে দেখানো হয়েছে যিনি ‘ঋত-বাক্য’ (সঠিক/ধর্মসম্মত বাক্) উচ্চারণ ও প্রতিষ্ঠা করেন এবং মানবসমাজকে শৃঙ্খলিত, সুরেলাভাবে চলমান করেন। মিত্রকে স্বর্গ ও পৃথিবীর স্থির ধারক, সামাজিক সত্য ও সৎ আচরণের সর্বদর্শী রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে; এবং অগ্নির মাধ্যমে পরিশুদ্ধ, স্পষ্ট আহুতি নিবেদন করে তাঁর অনুগ্রহ, রক্ষা ও সমৃদ্ধি লাভের আহ্বান জানানো হয়েছে।
Sukta 3.60
এই সূক্তে ঋভুদের (সৌধন্বন), সেই দিব্য কারিগরদের প্রশংসা করা হয়েছে, যাদের “সুসংস্কৃত কর্ম” যজ্ঞের কার্যকে পরিপূর্ণ করে এবং মর্ত্যদের উৎকর্ষের দিকে উন্নীত করে। “মনের আত্মীয়তা” দ্বারা তাদের যজ্ঞস্থলে আহ্বান করা হয়; নিঃসৃত সোমের নিকটে ইন্দ্রের সঙ্গে তাদের অপরিমেয় দক্ষতা ও গৌরব উদ্যাপিত হয়; এবং শেষে সাধকের জন্য বহুবিধ পথনির্দেশসহ ইন্দ্র-সহ-ঋভুদের একযোগে অর্ঘ্য/হবির কাছে আগমনের যৌথ আহ্বানে সূক্তটি পরিসমাপ্ত হয়।
Sukta 3.61
এই সাত-ঋচা ত্রিষ্টুভ স্তোত্রে উষস্ (প্রভাত) দেবীর প্রশংসা করা হয়েছে—তিনি প্রাচীন, তবু চির-নবযৌবনা; ঋত (বিশ্ববিধান) অনুসারে আগমন করে জীবন, ধন এবং সৎ কর্মপ্রবৃত্তিকে জাগিয়ে তোলেন। তাঁকে দূরতম স্বর্গসীমা থেকে পৃথিবী পর্যন্ত বিস্তৃত দীপ্তিময়, দক্ষ শক্তি হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে; এবং তাঁর জ্যোতিকে মিত্র–বরুণের দ্বারা ধারণকৃত বৃহত্তর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আলো বিতরণ হয় এবং জগতসমূহ গতি লাভ করে।
Sukta 3.62
ঋগ্বেদ ৩.৬২ একটি স্তোত্র-সূক্ত, যেখানে প্রধানত ইন্দ্র–বরুণের যুগল সার্বভৌমত্ব ও শক্তির আহ্বান করা হয়েছে—বিজয়-শক্তিকে নৈতিক-জাগতিক ঋত-ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে—মিত্রদের রক্ষা করতে, শত্রুতাপূর্ণ চাপ অতিক্রম করতে, এবং দেবতাদের প্রসিদ্ধ “মহিমা” পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে, যা সমাজে পূর্ণতা ও সমৃদ্ধি আনে। এই সূক্তের মধ্যেই সবিতৃকে উদ্দেশ করে খ্যাত গায়ত্রী মন্ত্র (৩.৬২.১০) রয়েছে, যা স্তোত্রকে অন্তর্মুখী করে বুদ্ধির আলোকপ্রাপ্তির প্রার্থনা জানায়; ফলে বাহ্যিক বিজয় ও অন্তর্গত সৎ-নির্দেশনা—উভয়ই ঋত (সত্য-শৃঙ্খলা)-এর অধীনে একত্রে যুক্ত হয়।
Mandala 3 is a “family book” attributed to the seer Viśvāmitra Gāthina and his descendants. Its hymns preserve that lineage’s characteristic liturgical style, especially Agni-centered priestly themes and Savitṛ-oriented illumination.
The best-known is 3.62, which contains the Gāyatrī Mantra (3.62.10) addressed to Savitṛ. It is widely recited as a prayer for inspired intellect and divine illumination.
The mandala repeatedly presents Agni as the flawlessly installed Hotṛ and Jātavedas who establishes the sacrifice, carries Soma, and grants immortality and varchas. Indra (often with Agni) is invoked to arrive swiftly for Soma, grow in power through repeated pressings, and secure victory, strength, and nourishment for the sacrificer.
Read Rig Veda in the Vedapath app
Scan the QR code to open this directly in the app, with audio, word-by-word meanings, and more.