
Dvaraka Mahatmya
This section is anchored in the western coastal-sacred geography associated with Dvārakā and its wider Yādava/Vaiṣṇava memory field, extending to Prabhāsa as an epic-afterlife locus. It uses the sea, submerged city motifs, and pilgrimage networks to connect Krishna-centric narrative history with tīrtha practice and ethical reflection in Kali-yuga.
44 chapters to explore.

कलियुगे विष्णुप्राप्त्युपायः — Seeking Viṣṇu in the Age of Kali
অধ্যায়ের সূচনা শৌনকের প্রশ্নে—মতভেদে বিভক্ত ও অশান্ত কলিযুগে সাধক কীভাবে মধুসূদন বিষ্ণুর শরণ লাভ করবে? সূত উত্তর দেন এবং সংক্ষেপে জনার্দনের অবতারের কাহিনি স্মরণ করান: ব্রজে পূতনা, তৃণাবর্ত, কালিয় প্রভৃতির দমন; পরে মথুরায় কুবলয়াপীড় ও রাজবিরোধীদের বধ; এবং জরাসন্ধ-সংঘর্ষ ও রাজসূয় প্রসঙ্গ। এরপর প্রভাসে যাদবদের পারস্পরিক বিনাশ, শ্রীকৃষ্ণের জগৎ থেকে প্রত্যাহার, এবং দ্বারকার প্লাবনে নিমজ্জন বর্ণিত হয়। এই অবক্ষয়ের পটভূমিতে অরণ্যবাসী ঋষিগণ ধর্মক্ষয় ও সামাজিক-যজ্ঞীয় শৃঙ্খলার শৈথিল্য দেখে ব্রহ্মার কাছে পথনির্দেশ চান। ব্রহ্মা জানান যে বিষ্ণুর পরম স্বরূপ সম্পূর্ণ জানা কঠিন, তাই তিনি ঋষিদের সুতললোকে অবস্থানরত মহান ভক্ত প্রহ্লাদের কাছে পাঠান—যিনি হরিলাভের স্থান ও উপায় নির্দেশ করতে সক্ষম। ঋষিগণ সুতলে গিয়ে বলির আতিথ্য গ্রহণ করেন এবং প্রহ্লাদের সম্মুখে কঠোর সাধনা ছাড়াই ঈশ্বরপ্রাপ্তির গোপন পদ্ধতি প্রার্থনা করেন—পরবর্তী উপদেশের ভূমিকা রচিত হয়।

द्वारकाक्षेत्रप्रशंसा तथा दुर्वासोपाख्यानम् | Praise of Dvārakā and the Durvāsā Episode
অধ্যায়ের শুরুতে প্রহ্লাদ ঋষিদের বলেন যে দ্বারকা/দ্বারাবতী গোমতী-তীরে সমুদ্রসন্নিহিত এক মহাপবিত্র নগরী; কলিযুগেও তা ভগবানের পরম ধাম ও মোক্ষদায়িনী গতি বলে ঘোষিত। তখন ঋষিরা প্রশ্ন তোলেন—যাদববংশের অবসান ও দ্বারকার প্লাবিত হওয়ার বর্ণনা থাকলে, কলিতে কীভাবে সেখানে প্রভুর মহিমা প্রচারিত হয়? কথা গিয়ে পৌঁছায় উগ্রসেনের সভায়। সংবাদ আসে যে গোমতীর নিকটে চক্রতীর্থে দুর্বাসা মুনি অবস্থান করছেন। শ্রীকৃষ্ণ রুক্মিণীসহ তাঁকে অভ্যর্থনা করতে যান এবং জানান—অতিথিসেবা ধর্মের অপরিহার্য বন্ধন, যার আচারগত ফলও আছে। দুর্বাসা নগরের বিস্তার, গৃহসংখ্যা ও আশ্রিতজন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে কৃষ্ণ সমুদ্রপ্রদত্ত ভূমি, স্বর্ণপ্রাসাদ ও বিপুল গৃহ-পরিজনব্যবস্থার বর্ণনা দেন; এতে দিব্য মায়া ও অনন্ত ক্ষমতার বিস্ময় জাগে। দুর্বাসা বিনয়ের পরীক্ষা নেন—কৃষ্ণ ও রুক্মিণীকে রথে তাঁকে বহন করতে বলেন। পথে তৃষ্ণার্ত রুক্মিণী দুর্বাসার অনুমতি না নিয়ে জল পান করলে তিনি তাঁকে চিরতৃষ্ণা ও কৃষ্ণ-বিচ্ছেদের শাপ দেন। কৃষ্ণ তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন—যেখানে তাঁর দর্শন, সেখানেই রুক্মিণীর উপস্থিতিও উপলব্ধ; ভক্তিতে সতর্কতার উপদেশও দেন। শেষে কৃষ্ণ পাদ্য, অর্ঘ্য, গোদান, মধুপর্ক ও ভোজনাদি বিধিসহ দুর্বাসার পূজা-সত্কার করে তাঁকে প্রসন্ন করেন এবং অতিথিধর্মের আদর্শ রীতি স্থাপন করেন।

Durvāsā-śāpa, Rukmiṇī-vilāpa, and the Sanctification of Rukmiṇī-vana (दुर्वासशाप-रुक्मिणीविलाप-रुक्मिणीवनमाहात्म्य)
এই অধ্যায়ে ঋষিগণ শ্রীকৃষ্ণের অপরিসীম ক্ষমাশীলতা ও মুনিবাক্যের সত্যবল দেখে বিস্মিত হন। প্রহ্লাদ বর্ণনা করেন—দুর্বাসার শাপে পীড়িত রুক্মিণী নির্দোষ হয়েও বিরহযন্ত্রণায় বিলাপ করেন এবং কেন এমন শাপ পড়ল তা নিয়ে ন্যায়-অন্যায় প্রশ্ন করেন; শোকের চাপে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তখন সমুদ্রদেব এসে শীতল জলে তাঁকে সঞ্জীবিত করেন, আর নারদ স্থৈর্য শেখান—কৃষ্ণ ও রুক্মিণী অবিচ্ছেদ্য তত্ত্ব, পুরুষোত্তম ও শক্তি/মায়া; জগতকে শিক্ষা দিতে মানবসদৃশ আড়ালে এই বিচ্ছেদের ভান। সমুদ্র নারদের কথা সমর্থন করে রুক্মিণীর মহিমা ঘোষণা করেন এবং ভাগীরথী গঙ্গার আগমনের সংবাদ দেন; গঙ্গার উপস্থিতিতে অঞ্চল শোভিত ও পবিত্র হয়, দিব্য রুক্মিণী-বন গড়ে ওঠে এবং দ্বারকার লোকজন সেখানে আকৃষ্ট হয়। মনোরম ফল দেখে দুর্বাসা আবার ক্রুদ্ধ হয়ে শাপের প্রভাব বাড়ান, ফলে ভূমি ও জলে কষ্ট বৃদ্ধি পায়। রুক্মিণী মৃত্যুসংকল্প করলে শ্রীকৃষ্ণ দ্রুত এসে তাঁকে নিবৃত্ত করেন এবং অদ্বৈত তত্ত্ব ও দেবত্বের বিরুদ্ধে শাপশক্তির সীমা বোঝান। দুর্বাসা অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চান; কৃষ্ণ মুনিবাক্যের মর্যাদা রক্ষা করে সমাধানের ব্যবস্থা করেন। শেষে ফলশ্রুতি—অমাবস্যা/পূর্ণিমায় সঙ্গমস্নানে শোক নাশ হয়, নির্দিষ্ট তিথিতে রুক্মিণী দর্শনে ইষ্টসিদ্ধি লাভ হয়; এই তীর্থ দুঃখনিবারক বলে প্রতিষ্ঠিত।

Varadāna-tīrtha and Dvārakā-yātrā: Pilgrimage Ethics, Gomati-saṅgama, and Cakratīrtha Phala
এই অধ্যায়ে সূত প্রহ্লাদের উপদেশ বর্ণনা করেন, যেখানে দ্বারকার পুণ্য-ব্যবস্থা ও তীর্থ-মাহাত্ম্য স্তরে স্তরে প্রকাশিত। শুরুতে শ্রীকৃষ্ণ ও ঋষি দুর্বাসার পারস্পরিক বরদান-বিনিময়ে ‘বরদান-তীর্থ’ প্রতিষ্ঠিত হয়; গোমতী ও সমুদ্রের সঙ্গমে স্নান এবং উভয়ের পূজা বিশেষ ফলদায়ক বলা হয়েছে। এরপর তীর্থযাত্রার নীতি-শিক্ষা দেওয়া হয়—দ্বারকা যাওয়ার সংকল্পই পুণ্য, আর নগরের দিকে প্রতিটি পদক্ষেপ মহাযজ্ঞের ফলের সমান। যাত্রীদের আশ্রয়, মধুর বাক্য, অন্ন, যান, পাদুকা, জলপাত্র ও পায়ের সেবা প্রদানকে উচ্চ ভক্তিসেবা বলা হয়েছে; বিপরীতে যাত্রীদের বাধা দেওয়া গুরুতর পাপ ও অশুভ ফলের কারণ। বৃহস্পতির ইন্দ্রকে কলিযুগের অবক্ষয়-ধর্ম বোঝানোর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দাঁড়ায়—দ্বারকা কলিদোষ-বিবর্জিত আশ্রয়। চক্রতীর্থ, গোমতী-স্নান ও রুক্মিণী-হ্রদের মাহাত্ম্য বিশেষভাবে ঘোষিত—অকস্মাৎ স্পর্শও মোক্ষদায়ক এবং বংশোদ্ধারক। শেষে গণেশ-পূজা, সাষ্টাঙ্গ প্রণাম ও শ্রদ্ধাপূর্ণ প্রবেশের বিধি জানিয়ে দ্বারকা-যাত্রাকে ভক্তি, সামাজিক নীতি ও আচার-নিষ্ঠার সমন্বয় রূপে স্থাপন করা হয়েছে।

गोमती-प्रादुर्भावः तथा चक्रतीर्थ-माहात्म्यम् (Origin of the Gomati and the Glory of Chakratirtha)
এই অধ্যায়ে প্রহ্লাদ দ্বিজশ্রেষ্ঠ তীর্থযাত্রীদের গোमती-তীর্থে গমন করতে বলেন। তিনি জানান, গোমতীর দর্শন পবিত্রকারী এবং তার জল পূজনীয়—পাপক্ষয় করে ও মঙ্গলকামনা পূর্ণ করে। তখন ঋষিরা জিজ্ঞাসা করেন: গোমতী কে, কে তাকে এনেছে, এবং কী উদ্দেশ্যে সে বরুণালয় সমুদ্রে পৌঁছাল? প্রহ্লাদ সৃষ্টিকথা বলেন—প্রলয়ের পরে বিষ্ণুর নাভিকমল থেকে ব্রহ্মা উদ্ভূত হয়ে সৃষ্টি আরম্ভ করেন। সনকাদি মানসপুত্ররা প্রজাসৃষ্টি ত্যাগ করে দিব্যরূপ দর্শনের জন্য তপস্যা করেন এবং নদীশ্বরের নিকটে দীপ্তিমান সুদর্শন চক্র দর্শন করেন। আকাশবাণী তাদের অর্ঘ্য প্রস্তুত করে দিব্যায়ুধের আরাধনা করতে নির্দেশ দেয়; ঋষিরা স্তোত্রে সুদর্শনকে নমস্কার করেন। ব্রহ্মা হরির উদ্দেশ্যে গঙ্গাকে পৃথিবীতে অবতরণের আদেশ দেন—সে ‘গোমতী’ নামে প্রসিদ্ধ হবে, বশিষ্ঠের অনুসরণ করবে এবং লোকস্মৃতিতে তাঁর ‘কন্যা’ রূপে খ্যাত হবে। বশিষ্ঠ পশ্চিম সমুদ্রের দিকে অগ্রসর হলে গঙ্গাও অনুসরণ করে; জনসাধারণ শ্রদ্ধায় তাকে সম্মান করে। ঋষিদের স্থানে চতুর্ভুজ বিষ্ণু প্রকাশিত হয়ে পূজা গ্রহণ করেন ও বর প্রদান করেন; যেখানে জল বিদীর্ণ করে সুদর্শন প্রথম প্রকাশ পেয়েছিল, সেই স্থান ‘চক্রতীর্থ’—সেখানে আকস্মিক স্নানও মোক্ষদায়ক। গোমতী হরির পদপ্রক্ষালন করে সমুদ্রে প্রবেশ করে মহাপাপনাশিনী নদী হয়, এবং পরম্পরায় ‘পূর্ব গঙ্গা’ বলেও স্মরণীয়।

गोमतीतीर्थविधानम् (Gomatī Tīrtha: Ritual Procedure and Vow-Observances)
এই অধ্যায়ে ঋষিগণ প্রহ্লাদকে প্রশংসা করে গোমতী-তটে, চক্রতীর্থের নিকটে যেখানে ভগবানের সান্নিধ্য কল্পিত, সেই স্থানের তীর্থযাত্রা-বিধি জানতে চান। প্রহ্লাদ ধাপে ধাপে বলেন—নদীর কাছে গমন ও প্রণাম, শৌচ-আচমন, কুশ ধারণ, এবং গোমতীকে বশিষ্ঠের কন্যা ও পাপনাশিনী বলে মন্ত্রসহ অর্ঘ্য প্রদান। পরে বিষ্ণুর বরাহ-লীলা স্মরণকারী মন্ত্রে পবিত্র মৃত্তিকা লেপন করে পূর্বদোষ নাশের প্রার্থনা, বিধিমত স্নান ও বৈদিক ধাঁচের স্নান-মন্ত্র পাঠ, তারপর দেবতা, পিতৃগণ ও মানুষের উদ্দেশে তর্পণ। এরপর শ্রাদ্ধবিধান বিস্তৃত—বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ আহ্বান, বিশ্বেদেব পূজা, শ্রদ্ধাসহ শ্রাদ্ধকর্ম, স্বর্ণ-রৌপ্য দক্ষিণা, বস্ত্র-অলংকার-শস্য দান এবং দীন-দুঃখীদের বিশেষ দান। ‘পাঁচ গকার’কে দুর্লভ সাধনা বলা হয়েছে—গোমতী, গোবর-স্নান, গো-দান, গোপীচন্দন, ও গোপীনাথ দর্শন। কার্তিক মাসে নিয়মস্নান ও নিত্যপূজা, বোধ-দিবসে পঞ্চামৃতাভিষেক, চন্দনালেপন, তুলসী-পুষ্পার্চনা, গান-পাঠ, রাত্রিজাগরণ, ব্রাহ্মণভোজন, রথপূজা ইত্যাদি করে গোমতী-সমুদ্র সঙ্গমে সমাপন নির্দেশিত। মাঘে স্নান, তিল ও হিরণ্য অর্পণ, নিত্য হোম এবং শেষে উষ্ণ বস্ত্র, পাদুকা প্রভৃতি দান বলা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে গোমতী-বিধিকে কুরুক্ষেত্র-প্রয়াগ-গয়া-শ্রাদ্ধ ও অশ্বমেধফলের সমতুল্য বলে, মহাপাপেরও শুদ্ধি, পিতৃকল্যাণ এবং কৃষ্ণসান্নিধ্যে স্নানমাত্রে বিষ্ণুলোকপ্রাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে।

Cakratīrtha-māhātmya (Theological Discourse on the Glory of Cakra Tīrtha)
এই অধ্যায়ে প্রহ্লাদ বিদ্বান তীর্থযাত্রী দ্বিজশ্রেষ্ঠদের সমুদ্রতটে অবস্থিত চক্রতীর্থ/রথাঙ্গের মাহাত্ম্য ও আচারবিধি নির্দেশ করেন। চক্রচিহ্নিত শিলাকে মোক্ষপ্রদ বলা হয়েছে, এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দর্শন-সম্পর্কে তীর্থের প্রামাণ্য স্থাপন করে একে পরম পাপনাশক ক্ষেত্র রূপে ঘোষণা করা হয়েছে। যাত্রীগণ নিকটে গিয়ে পা-হাত-মুখ ধৌত করে প্রণাম করেন; পরে পঞ্চরত্নসহ পুষ্প, অক্ষত, গন্ধ, ফল, স্বর্ণ, চন্দন প্রভৃতি দিয়ে অর্ঘ্য প্রস্তুত করে বিষ্ণুচক্র-বিষয়ক মন্ত্র জপ করেন। এরপর স্নান, দেবতা ও তত্ত্বস্মরণ, পবিত্র মাটি লেপন, দেব-পিতৃ তর্পণ এবং শেষে শ্রাদ্ধের বিধান বলা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বলা হয়—শুধু স্নান করলেই মহাযজ্ঞ ও প্রয়াগাদি প্রসিদ্ধ তীর্থসম পুণ্য লাভ হয়। অন্নদান, যান/পশুদান ও রথ-সম্পর্কিত দানকে জগত্পতিকে সন্তুষ্টিকারক বলা হয়েছে; শেষে পূর্বপুরুষের উন্নতি, বিষ্ণুসান্নিধ্য এবং বাক্য-কর্ম-মনজনিত পাপক্ষয়ের কথা প্রতিপাদিত।

गोमत्युदधिसंगम-माहात्म्य एवं चक्रतीर्थ-प्रशंसा (Glory of the Gomati–Ocean Confluence and Cakra-tīrtha)
এই অধ্যায়ে প্রহ্লাদ দ্বিজসমাজকে উপদেশ দেন যে অন্যান্য প্রসিদ্ধ নদীতীর্থে না ঘুরে গোमती–সমুদ্র সঙ্গমে গমন করা উচিত, কারণ এখানে স্নান-দানাদি কর্মের ফল অতুল। সঙ্গমের পাপহরণ-শক্তির স্তব করা হয়েছে এবং সমুদ্রাধিপতি ও নদী গোমতীকে ভক্তিপূর্ণ বাক্যসহ অর্ঘ্য নিবেদন করার বিধান বলা হয়েছে। স্নানের দিক-নিয়মের পর পিতৃতর্পণ ও শ্রাদ্ধ, দক্ষিণার গুরুত্ব এবং বিশেষ দান—বিশেষত স্বর্ণ—এর প্রশংসা করা হয়েছে। পরে তুলাপুরুষ, ভূমিদান, কন্যাদান, বিদ্যাদান ও প্রতীক ‘ধেনু’ দান প্রভৃতি দানের প্রকার ও ফল বর্ণিত। শ্রাদ্ধপক্ষে অমাবস্যা ও অন্যান্য শুভকালে ফলবৃদ্ধির বিশেষ কথা আছে; এই স্থানে ত্রুটিযুক্ত শ্রাদ্ধও পূর্ণ হয় বলে ঘোষণা। নানা প্রেতাবস্থায় থাকা জীবেরাও এখানে স্নানে মুক্তি পায় বলা হয়েছে। শেষে চক্রতীর্থের মাহাত্ম্য—চক্রচিহ্নিত শিলার ১ থেকে ১২ প্রকার, তাদের ভুক্তি-মুক্তিফল, এবং দর্শন-স্পর্শ ও মৃত্যুকালে হরিস্মরণে শুদ্ধি ও মুক্তির আশ্বাস—উপসংহারে বলা হয়েছে।

रुक्मिणीह्रद-माहात्म्य (Rukmiṇī Hrada: Glory of the Sacred Lake and Prescribed Rites)
এই অধ্যায়ে প্রহ্লাদের উপদেশরূপে তীর্থযাত্রীদের প্রসিদ্ধ পবিত্র জলাশয়, বিশেষত ‘সাত কুণ্ড’-এ গমন ও স্নানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এই জল পাপ-মল দূর করে এবং সমৃদ্ধি ও বিবেক বৃদ্ধি করে। কাহিনিতে দিব্য দর্শনের স্মৃতি আছে—ভগবান হরি প্রকাশিত হন, ঋষিগণ লক্ষ্মীসহ তাঁর স্তব করেন, এবং ‘সুরগঙ্গা’ জলে পূজা সম্পন্ন হয়। সনক প্রভৃতি ব্রহ্মজাত ঋষিরা দেবীর জন্য পৃথক পৃথক কুণ্ড নির্মাণ করে স্নান করেন; এগুলি ‘লক্ষ্মী-হ্রদ’ নামে পরিচিত, যা কালচক্রে কলিযুগে ‘রুক্মিণী-হ্রদ’ নামে প্রসিদ্ধ হয়; ভৃগুর সঙ্গে যুক্ত আরেক তীর্থ-নামের স্মরণও আছে। এরপর আচারের ক্রম বলা হয়েছে—শুচি হয়ে আগমন, পদপ্রক্ষালন, আচমন, কুশ গ্রহণ, পূর্বমুখ হওয়া, ফল-পুষ্প-অক্ষতসহ পূর্ণ অর্ঘ্য প্রস্তুত, শিরে রৌপ্য স্থাপন, পাপক্ষয় ও রুক্মিণী-প্রসন্নতার জন্য রুক্মিণী-হ্রদে অর্ঘ্য-মন্ত্র নিবেদন, তারপর স্নান। স্নানের পরে দেবতা-মানুষ ও বিশেষত পিতৃদের তर्पণ, আহূত ব্রাহ্মণদের দ্বারা শ্রাদ্ধ, রৌপ্য-স্বর্ণসহ দক্ষিণা, রসাল ফল দান, দম্পতিকে মিষ্টান্ন ভোজন করানো এবং ব্রাহ্মণী ও অন্যান্য নারীদের সামর্থ্য অনুযায়ী বস্ত্র (লাল বস্ত্রসহ) দিয়ে সম্মান করার বিধান আছে। ফলশ্রুতিতে কামনা পূর্ণ হয়, বিষ্ণুলোক লাভ, গৃহে লক্ষ্মীর নিত্যবাস, আরোগ্য, মানসিক তৃপ্তি, অশান্তি-নিবারণ, পিতৃদের দীর্ঘ তৃপ্তি, স্থির সন্তান, দীর্ঘায়ু, ধনসমৃদ্ধি, বৈর-শোকের অভাব এবং পুনঃপুনঃ সংসারভ্রমণ থেকে মুক্তি বলা হয়েছে।

नृगतीर्थ–कृकलासशापमोचनम् (Nṛga Tīrtha and the Release from the Lizard-Curse)
এই অধ্যায়ে সংলাপের মাধ্যমে একটি তীর্থ-কথা বর্ণিত হয়েছে। প্রহ্লাদ প্রভাসক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ কৃকলাস/নৃগ-তীর্থের মাহাত্ম্য বলেন এবং ধর্মপরায়ণ, পরাক্রমশালী রাজা নৃগের কাহিনি শোনান—যিনি প্রতিদিন বিধিপূর্বক ব্রাহ্মণদের গোধন দান ও সম্মান-অনুষ্ঠান করতেন। একবার জৈমিনিকে দান করা গাভী পালিয়ে যায় এবং পরে সেই গাভী সোমশর্মাকে দান হয়ে যায়; দুই ব্রাহ্মণের বিরোধে রাজা দ্রুত সমাধান করতে না পারায় তারা ক্রুদ্ধ হয়ে শাপ দেন—নৃগ কৃকলাস (টিকটিকি) হবে। মৃত্যুর পরে যম নৃগকে কর্মফল ভোগের ক্রম বেছে নেওয়ার সুযোগ দেন; সামান্য দোষের ফলে নৃগ বহু বছর কৃকলাস-দেহে থাকে। দ্বাপরের অন্তিম পর্যায়ে দেবকীসুত শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভূত হন; যাদব রাজপুত্ররা জলাশয়ে স্থির কৃকলাসকে দেখে, এবং কৃষ্ণের স্পর্শে নৃগ শাপমুক্ত হয়। মুক্ত নৃগ ভগবানকে স্তব করে বর চান—কূপ/বাপী তাঁর নামে প্রসিদ্ধ হোক এবং যে ভক্তিভরে সেখানে স্নান করে পিতৃতর্পণ ও শ্রাদ্ধ করে, সে বিষ্ণুলোক লাভ করুক। শেষে বিধান বলা হয়েছে—পুষ্প ও চন্দনসহ অর্ঘ্য প্রদান, মাটি দিয়ে স্নান, পিতৃ-দেব-মানুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ, শ্রাদ্ধে ব্রাহ্মণভোজন ও দক্ষিণা। বাছুরসহ অলংকৃত গাভী এবং শয্যা-সহ উপকরণ দানকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে; স্থানীয় দরিদ্রদের দান করলে মহৎ তীর্থফল ও যাত্রাসিদ্ধি লাভ হয়।

विष्णुपदोद्भवतीर्थ-माहात्म्य (Glory of the Tīrtha Originating from Viṣṇu’s Footprint)
এই অধ্যায়ে প্রহ্লাদ বিদ্বান ব্রাহ্মণদের ‘বিষ্ণুপদোদ্ভব’ নামে পরিচিত তীর্থে গমন ও আচরণের বিধান শেখান। এটি বিষ্ণুর পদচিহ্ন থেকে উদ্ভূত পবিত্র জলধারা, গঙ্গা/বৈষ্ণবী ধারার সঙ্গে একাত্ম; এর দর্শনমাত্রেই গঙ্গাস্নানের পুণ্য লাভ হয়। তীর্থের উৎপত্তি স্মরণ করে স্তব করা, স্মরণ ও পাঠের দ্বারা পাপক্ষয় হয়—এ কথাও বলা হয়েছে। এরপর নদীদেবীকে প্রণামসহ অর্ঘ্য প্রদান, পূর্বমুখে সংযমসহ স্নান এবং তীর্থমাটি দেহে লেপনের নির্দেশ আছে। তিল ও অক্ষত দিয়ে দেবতা, পিতৃ ও মানবের উদ্দেশে তর্পণ করে ব্রাহ্মণদের নিমন্ত্রণ করে যথাবিধি শ্রাদ্ধ করতে হবে; স্বর্ণ-রৌপ্যাদি দক্ষিণা, দরিদ্র ও কষ্টপীড়িতদের দানও উল্লেখিত। পাদুকা, কমণ্ডলু, লবণযুক্ত দই-ভাত (শাক ও জিরাসহ) ইত্যাদি উপহার, এবং রুক্মিণী-সম্পর্কিত বস্ত্রদান করে শেষে ‘বিষ্ণু প্রসন্ন হোন’—এই ভক্তিসঙ্কল্পে কর্ম সমাপ্ত করতে বলা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বলা হয়—এভাবে কর্মকারী কৃতকৃত্য হয়; পিতৃগণ গয়া-শ্রাদ্ধসম দীর্ঘ তৃপ্তি লাভ করে বৈষ্ণব লোক প্রাপ্ত হন। ভক্তের সমৃদ্ধি ও দেবানুগ্রহ বৃদ্ধি পায়; এই অধ্যায় শ্রবণ করলেও পাপমোচন হয়।

गोप्रचारतीर्थ-मयसरः-माहात्म्यं तथा श्रावणशुक्लद्वादशी-स्नानविधिः (Goprachāra Tīrtha and Maya-sarovara: Glory and the Śrāvaṇa Śukla Dvādaśī Bathing Rite)
এই অধ্যায়ে প্রহ্লাদ ‘গোপ্রচার’ নামক তীর্থের কথা বলেন—যেখানে ভক্তিভরে স্নান করলে গো-দানফলের সমান পুণ্য লাভ হয়। ঋষিগণ জগন্নাথ যে তীর্থে স্নান করেছিলেন তার পরিচয় ও উৎপত্তিকথা জানতে চান। তখন প্রহ্লাদ কংস-বধের পরবর্তী প্রসঙ্গ বর্ণনা করেন—কৃষ্ণের রাজ্য প্রতিষ্ঠা, উদ্ধবের গোকুলে গমন, যশোদা-নন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ, এবং পরে ব্রজগোপীদের তীব্র বিরহ-বিলাপ ও দূতকে প্রশ্নবাণ; উদ্ধব তাঁদের সান্ত্বনা দিয়ে তাঁদের ভক্তির অসামান্য মহিমা প্রকাশ করেন। এরপর কাহিনি দ্বারকার নিকট ‘ময়সরোবর’-এ গিয়ে পৌঁছায়, যা প্রসিদ্ধ দৈত্য ময় নির্মিত বলে বলা হয়েছে। কৃষ্ণ সেখানে এলে গোপীরা মূর্ছিত হয়ে পরিত্যাগের অভিযোগ করেন; কৃষ্ণ সর্বব্যাপী ঈশ্বরত্ব ও জগতের কারণরূপ সত্য ব্যাখ্যা করে বিচ্ছেদকে পরম সত্যে অখণ্ডতার মধ্যেই স্থিত বলে বোঝান। শেষে শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের দ্বাদশীতে স্নান ও শ্রাদ্ধের বিধান দেওয়া হয়—ভক্তিসহ স্নান, কুশ ও ফলসহ অর্ঘ্য, নির্দিষ্ট অর্ঘ্যমন্ত্র, দক্ষিণাসহ শ্রাদ্ধ, এবং পায়েসে চিনি, মাখন, ঘি, ছাতা, কম্বল, হরিণচর্ম প্রভৃতি দান। ফলশ্রুতিতে গঙ্গাস্নানের তুল্য পুণ্য, বিষ্ণুলোকপ্রাপ্তি, তিন পুরুষ পর্যন্ত পিতৃমুক্তি, সমৃদ্ধি ও শেষে হরিধাম লাভের কথা বলা হয়েছে।

Gopī-saras-udbhavaḥ (Origin and Merit of Gopī-saras) / गोपीसर-उद्भवः
অধ্যায় ১৩ প্রহ্লাদের বর্ণিত ধর্মসংলাপরূপে বিন্যস্ত। শ্রীকৃষ্ণের বাক্য শ্রবণ করে গোপীরা মায়া-সম্পর্কিত প্রাচীন সরোবরেতে স্নান করে ভক্তির উচ্ছ্বাস লাভ করে। তারা কৃষ্ণকে প্রার্থনা করে—তাদের জন্য এক শ্রেষ্ঠ ‘সরঃ’ সৃষ্টি হোক এবং বার্ষিক নিয়ম-ব্রতের মাধ্যমে যেন স্থায়ীভাবে তাঁর সান্নিধ্য লাভ করা যায়। তখন কৃষ্ণ পুরাতন সরোবরের নিকটে এক নতুন, মনোহর জলাশয় নির্মাণ করেন—স্বচ্ছ গভীর জল, পদ্ম, পাখির কলরব, ঋষি-সিদ্ধ ও যাদবসমাজের উপস্থিতি সহ বর্ণনা করা হয়। গোপীদের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে এর নাম হয় ‘গোপী-সরস’, এবং ‘গো’ শব্দার্থ ও সহসম্বন্ধের ভিত্তিতে ‘গোপ্র-চার’ নামের যুক্তিও বলা হয়। এরপর আচারবিধি নির্দিষ্ট হয়—বিশেষ মন্ত্রে অর্ঘ্য, স্নান, পিতৃ ও দেবতাদের তर्पণ, শ্রাদ্ধ এবং ধাপে ধাপে দান—গোদান, বস্ত্র, অলংকার ও দরিদ্রের সহায়তা। ফলশ্রুতিতে এই স্নানের পুণ্য মহাদানের সমতুল্য বলা হয়েছে; মনোবাঞ্ছা পূরণ, সন্তানলাভ, শুদ্ধি ও উচ্চলোকপ্রাপ্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। শেষে গোপীরা প্রণাম করে বিদায় নেয় এবং শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবসহ স্বধামে প্রত্যাবর্তন করেন।

ब्रह्मकुण्डादि-तीर्थप्रतिष्ठा तथा पञ्चनद-माहात्म्य (Brahmakūṇḍa and Associated Tīrtha Installations; Pañcanada Māhātmya)
প্রহ্লাদ ব্রাহ্মণদের উদ্দেশে দ্বারকা-সম্পর্কিত তীর্থসমূহের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেন এবং স্নান, তर्पণ, শ্রাদ্ধ ও দানের বিধান নির্দেশ করেন। কৃষ্ণের বৃষ্ণিদের সঙ্গে দ্বারকায় আগমনের পর ব্রহ্মা প্রমুখ দেবগণ দর্শন ও নিজ নিজ উদ্দেশ্যসিদ্ধির জন্য উপস্থিত হন। তখন ব্রহ্মা পাপহর ও মঙ্গলদায়ক ব্রহ্মকুণ্ড প্রতিষ্ঠা করেন এবং তার তীরে সূর্য-প্রতিষ্ঠাও করেন; ব্রহ্মার প্রাধান্যের কারণে স্থানটি ‘মূলস্থান’ নামে খ্যাত। এরপর চন্দ্র পাপনাশক সরোবর নির্মাণ করেন। ইন্দ্র শক্তিশালী লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে ইন্দ্রপদ/ইন্দ্রেশ্বর তীর্থকে প্রসিদ্ধ করেন এবং শিবরাত্রি ও সূর্য-সংক্রান্তি প্রভৃতি বিশেষ পূজাকাল উল্লেখ করেন। শিব মহাদেব-সরঃ এবং পার্বতী গৌরী-সরঃ সৃষ্টি করেন—যার ফল নারীদের কল্যাণ ও গৃহের শুভতার সঙ্গে যুক্ত। বরুণ বরুণপদ এবং কুবের (ধনেশ) যক্ষাধিপ-সরঃ প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে শ্রাদ্ধ, নৈবেদ্য, অর্ঘ্য ও দানের মাহাত্ম্য বলা হয়েছে। অন্তে পঞ্চনদ তীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণিত—পাঁচ নদীর আহ্বান ঋষিদের সঙ্গে করা হয়, অর্ঘ্য-মন্ত্র প্রদান করা হয় এবং স্নান-তर्पণ-শ্রাদ্ধ-দান-এর সুসংবদ্ধ ক্রম নির্ধারিত হয়। ফলশ্রুতিতে সমৃদ্ধি, বিষ্ণুলোক-প্রাপ্তি ও পিতৃউদ্ধারের কথা বলা হয়েছে; শ্রবণমাত্রেই শুদ্ধি ও পরম গতি লাভের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অধ্যায় সমাপ্ত।

Siddheśvara–Ṛṣitīrtha Māhātmya (Installation of Siddheśvara and the Glory of Ṛṣitīrtha)
এই অধ্যায়ে সংলাপের মাধ্যমে ধর্মীয় আচার-ক্রম ও তীর্থ-মাহাত্ম্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রহ্লাদ বলেন—ব্রহ্মা আগমন করলে সনক প্রভৃতি ঋষিগণ তাঁকে সম্মান করেন। ব্রহ্মা তাঁদের ভক্তি-সাফল্যে আশীর্বাদ দেন এবং পূর্বে অপরিণত বোধের কারণে যে সীমাবদ্ধতা ছিল তা স্মরণ করান। এরপর মূল সিদ্ধান্ত উচ্চারিত হয়—নীলকণ্ঠ শিবকে অর্চনা না করলে কেবল কৃষ্ণ-উপাসনা সম্পূর্ণ গণ্য হয় না; অতএব সর্বপ্রযত্নে শিবপূজা করাই ভক্তিকে সিদ্ধ করে। যোগসিদ্ধ ঋষিগণ মন্দিরের সম্মুখে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন এবং স্নানের জন্য একটি কূপ নির্মাণ করেন; তার নির্মল, অমৃতসম জলের প্রশংসা করা হয়। ব্রহ্মা নাম ও লোকস্বীকৃতি প্রদান করেন—লিঙ্গ ‘সিদ্ধেশ্বর’ এবং কূপ ‘ঋষিতীর্থ’। বলা হয়েছে, ভক্তিভরে শুধু স্নান করলেও মানুষ পিতৃপুরুষসহ মুক্তি লাভ করতে পারে; মিথ্যাভাষণ ও নিত্য নিন্দার মতো দোষও শুদ্ধ হয়। বিষুব, মন্বাদি উপলক্ষ, কৃতযুগাদি, মাঘ মাস ইত্যাদি স্নানকাল নির্দিষ্ট করা হয়েছে; সিদ্ধেশ্বরে শিবরাত্রি-ব্রতকে বিশেষ মহাফলদায়ক বলা হয়েছে। আচারবিধিতে অর্ঘ্যদান, ভস্মধারণ, মনোযোগী স্নান, পিতৃ-দেব-মানব তर्पণ, শ্রাদ্ধ, কপটহীন দক্ষিণা এবং ধান্য, বস্ত্র, সুগন্ধি প্রভৃতি দানের নির্দেশ আছে। ফলশ্রুতিতে পিতৃসন্তোষ, সমৃদ্ধি, সন্তানলাভ, পাপনাশ, পুণ্যবৃদ্ধি, ইষ্টসিদ্ধি এবং শ্রদ্ধাবান শ্রোতার উত্তম গতি বর্ণিত হয়েছে।

Tīrtha-Parikramā of Dvārakā: Hidden and Manifest Pilgrimage Waters (गदातीर्थादि-तीर्थवर्णनम्)
এই অধ্যায়ে প্রহ্লাদ বিদ্বান ব্রাহ্মণদের উদ্দেশে দ্বারকার চারদিকে অবস্থিত তীর্থগুলির পরিক্রমার ক্রম, বিধি ও ফলশ্রুতি বর্ণনা করেন। শুরু গদাতীর্থে—ভক্তিভরে স্নান, পিতৃ‑দেবতার তर्पণ এবং বরাহরূপ বিষ্ণুর পূজা করলে বিষ্ণুলোক লাভ হয়। এরপর নাগতীর্থ, ভদ্রতীর্থ ও চিত্রাতীর্থের কথা বলে তিল‑ধেনু ও ঘৃত‑ধেনু দানের সমতুল্য পুণ্য নির্দেশ করা হয়েছে; আবার দ্বারাবতীর প্লাবনে বহু তীর্থ গোপন হয়ে গেছে বলেও বলা হয়। চন্দ্রভাগায় স্নান পাপনাশক ও বাজপেয় যজ্ঞসম ফলদায়ক। কৌমারিকা/যশোদা‑নন্দিনী দেবীর দর্শনে ইষ্টসিদ্ধি মেলে। মহীষ‑তীর্থ ও মুক্তিদ্বারকে শুদ্ধির দ্বাররূপে বলা হয়েছে। গোমতীর মাহাত্ম্যে বশিষ্ঠ‑সম্পর্ক ও বরুণলোকের প্রসঙ্গসহ অশ্বমেধসম পুণ্য বর্ণিত; ভৃগুর তপস্যা ও অম্বিকার প্রতিষ্ঠা শাক্ত‑শৈব আবহ যোগ করে এবং বহু লিঙ্গের উল্লেখ আসে। পরে কালিন্দী‑সর, সাম্বতীর্থ, শাঙ্করতীর্থ, নাগসর, লক্ষ্মী‑নদী, কম্বু‑সর, কুশতীর্থ, দ্যুম্নতীর্থ, জালতীর্থ (জালেশ্বরসহ), চক্রস্বামী‑সুতীর্থ, জরৎকারু‑কৃত তীর্থ ও খঞ্জনক তীর্থ প্রভৃতির স্নান‑তর্পণ‑শ্রাদ্ধ‑দানাদি বিধান এবং নাগলোক‑শিবলোক‑বিষ্ণুলোক‑সোমলোক প্রাপ্তির ফল বলা হয়েছে। শেষে কলিযুগের উপযোগী সংক্ষিপ্ত তীর্থ‑বিস্তারেরূপে একে স্থাপন করে, ভক্তিসহ শ্রবণকেও পবিত্রকারী কর্ম বলে বিষ্ণুলোক‑প্রাপ্তিতে উপসংহার করা হয়েছে।

Dvārakā-dvārapāla-pūjākramaḥ (Ritual Sequence of Dvārakā’s Gate-Guardians and the Approach to Kṛṣṇa)
এই অধ্যায়ে প্রহ্লাদ কলিযুগে দ্বারকার পূজাক্রম বিধিবদ্ধভাবে ব্যাখ্যা করেন। তীর্থস্নান করে যথোচিত দক্ষিণা/দান প্রদান করে ভক্ত প্রথমে নগরের দ্বারপ্রান্তে অবস্থানকারী রক্ষকদের প্রণাম-অর্ঘ্য নিবেদন করে, তারপর দেবকীনন্দন শ্রীকৃষ্ণের নিকটে অগ্রসর হয়। ঋষিরা সংক্ষিপ্ত কিন্তু সম্পূর্ণ পূজাবিধি জানতে চান এবং প্রশ্ন করেন—প্রতিটি দিকের দ্বার কে রক্ষা করে, আর সম্মুখ ও পশ্চাতে কারা অবস্থান করে। প্রহ্লাদ পূর্বদ্বারে জয়ন্তের নেতৃত্বে রক্ষকদের তালিকা দিয়ে শুরু করে আগ্নেয়, দক্ষিণ, নৈঋতি, পশ্চিম, বায়ব্য, উত্তর ও ঐশান্য দিকের দেব, বিনায়ক, রাক্ষস, নাগ, গন্ধর্ব, অপ্সরা ও ঋষি প্রভৃতি রক্ষকদের ক্রমানুসারে বর্ণনা করেন। প্রতিটি দিকের সঙ্গে ‘রাজবৃক্ষ’ও নির্দিষ্ট—যেমন ন্যগ্রোধ, শাল, অশ্বত্থ, প্লক্ষ—যা এক সম্পূর্ণ রক্ষাকবচ-ভূগোল নির্মাণ করে। এরপর একটি আপাত ব্যতিক্রম আলোচিত হয়—কৃষ্ণদ্বারে ‘রুক্মী’ নামক গণেশকে কেন প্রথমে পূজা করা হয়, যখন রুক্মিণী-প্রসঙ্গে রুক্মী কৃষ্ণের বিরোধী ছিল। প্রহ্লাদ বলেন, সংঘর্ষের পর অপমানিত হয়ে মুক্তি লাভের পরে, রুক্মিণীর উদ্বেগ পূরণ ও বিঘ্ননাশ প্রতিষ্ঠার জন্য শ্রীকৃষ্ণ রুক্মীকে দ্বার-সংযুক্ত প্রধান গণেশরূপে নিয়োগ করেন। অধ্যায়ের উপসংহার—দ্বারপালের (রুক্মী-গণেশের) সন্তুষ্টি প্রভুর সন্তুষ্টির পূর্বশর্ত; এভাবেই মন্দির-শিষ্টাচার, নৈতিক বিধি ও লিটুর্জিক ক্রম প্রতিষ্ঠিত হয়।

त्रिविक्रम-दर्शन-समफलत्व-प्रशंसा तथा दुर्वाससो मुक्तितीर्थ-प्रसङ्गः (Trivikrama Darśana and the Durvāsā at the Mokṣa-Tīrtha Episode)
এই অধ্যায়ে প্রহ্লাদ প্রথমে গণনাথ, রুক্মিণী ও রুক্মি-সম্পর্কিত দেবরূপ, দুর্বাসা, শ্রীকৃষ্ণ ও বলভদ্র—এদের ভক্তিভরে স্মরণ করে উপাস্য বিষয়গুলির উল্লেখ করেন। তারপর তিনি এক মূল্যবোধ স্থাপন করেন—পূর্ণ দক্ষিণাসহ মহাযজ্ঞ, কূপ-পুকুর নির্মাণ, প্রতিদিন গাভী-ভূমি-স্বর্ণ দান, জপ-ধ্যানসহ প্রাণায়াম, এবং জাহ্নবী প্রভৃতি মহাতীর্থে স্নান—এই সব পুণ্যকর্মের ফলকে বারবার একটিমাত্র কর্মের সমান বলা হয়েছে: দেবেশ শ্রীকৃষ্ণের দর্শন। ঋষিরা জিজ্ঞাসা করেন—পৃথিবীতে ত্রিবিক্রমের আবির্ভাব কীভাবে, শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে ‘ত্রিবিক্রম-রূপ’-এর সম্পর্ক কীভাবে স্থাপিত, এবং দুর্বাসার প্রসঙ্গ কী। প্রহ্লাদ বামন-ত্রিবিক্রম অবতারের কাহিনি বলেন—তিন পদক্ষেপে ত্রিলোক আচ্ছাদন, এবং ভক্তিতে তুষ্ট হয়ে বিষ্ণুর বলির দ্বারপালরূপে স্থিত থাকা। অন্যদিকে মুক্তিলাভের আকাঙ্ক্ষায় দুর্বাসা গোमती-সাগর সঙ্গমে চক্রতীর্থ চিনে স্নানের প্রস্তুতি নেন; কিন্তু স্থানীয় দৈত্যরা তাঁকে আঘাত করে অপমানিত করে। ব্রতভঙ্গের আশঙ্কায় ব্যথিত হয়ে তিনি বিষ্ণুর শরণ নেন। দৈত্যরাজের প্রাসাদে প্রবেশ করে দ্বারে স্থিত ত্রিবিক্রমকে দেখে তিনি বিলাপ করেন, রক্ষা প্রার্থনা করেন ও নিজের ক্ষত দেখান—এতে ভগবানের ক্রোধ জাগে। পরে স্নানে বাধার কথা জানিয়ে গোবিন্দের কাছে স্নান-সিদ্ধি ও ব্রত-সম্পূর্ণতার প্রার্থনা করেন এবং পরবর্তীতে ধর্মপথে বিচরণ করার প্রতিজ্ঞা করেন।

Durvāsā–Bali–Viṣṇu Saṃvāda at the Gomatī–Ocean Confluence (गोमती-उदधि-संगम)
এই অধ্যায়ে ব্রতপালনের শৃঙ্খলা, ভক্তির অধীন ভগবানের লীলা, এবং বাধ্য অবস্থায়ও ন্যায়সঙ্গত প্রত্যাখ্যানের নীতি সংলাপরূপে প্রকাশিত। প্রহ্লাদ বর্ণনা করেন—দুর্বাসা মুনি প্রাণরক্ষা ও স্নানব্রত সম্পূর্ণ করার জন্য গোমতী–সমুদ্র-সঙ্গমে বিষ্ণুর সান্নিধ্য প্রার্থনা করেন। ভগবান বিষ্ণু বলেন, তিনি ভক্তিতে ‘বদ্ধ’ এবং বলির নির্দেশে কার্য করেন; তাই মুনিকে বলির অনুমতি চাইতে বলেন। বলি দুর্বাসাকে সম্মান জানালেও কেশবকে ছেড়ে দিতে অস্বীকার করেন। বরাহ, নরসিংহ ও বামন/ত্রিবিক্রমের কৃপা স্মরণ করে তিনি বলেন—ভগবানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অনন্য, বিনিময়যোগ্য নয়। দুর্বাসা স্নান না করে আহার করবেন না এবং বিষ্ণু না পাঠালে আত্মত্যাগ করবেন—এমন কঠোর সংকল্পে বিরোধ তীব্র হয়। তখন করুণাময় বিষ্ণু নিজে মধ্যস্থতা করে সঙ্গমস্থলে বাধা বলপূর্বক দূর করে মুনির স্নানব্রত সিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন। বলি ভগবানের চরণে শরণাগতির ভঙ্গি করেন; পরে বিষ্ণু দুর্বাসার সঙ্গে, সঙ্কর্ষণ (অনন্ত/বলভদ্র) সহ, পাতালপথে গিয়ে সঙ্গমে প্রকাশিত হন। সেখানে দেবগণ মুনিকে স্নান করতে বলেন; দুর্বাসা দ্রুত স্নান করে নির্ধারিত ক্রিয়া সম্পন্ন করেন, এবং প্রাণরক্ষা সহ ধর্মীয় বিধি-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

गोमती-उदधि-संगमे तीर्थरक्षणम् — Protection of the Gomati–Ocean Confluence Tīrtha
এই অধ্যায়ে প্রহ্লাদের প্রতিবেদনের সূত্রে সংঘর্ষের কাহিনি বর্ণিত। ব্রহ্মঘোষ শোনা মাত্র দানব দুর্মুখ তপস্বী দুর্বাসার উপর আক্রমণ করতে উদ্যত হলে জগন্নাথ বিষ্ণু চক্র দ্বারা তার শিরচ্ছেদ করে ঋষিকে রক্ষা করেন। এরপর নামোল্লিখিত দৈত্যযোদ্ধা ও বিশাল বাহিনী অস্ত্র-শস্ত্রে বিষ্ণু ও সঙ্কর্ষণকে ঘিরে আক্রমণ চালায়। বারবার সীমা-নীতির কথা বলা হয়েছে—প্রাতঃকর্ম সম্পন্ন তপস্বীকে আঘাত করা অনুচিত, এবং মোক্ষদায়ী গোমতী–সমুদ্র সঙ্গম তীর্থকে পাপাচারে বাধা দেওয়া উচিত নয়। পরবর্তী দ্বন্দ্বযুদ্ধে গোলক দুর্বাসাকে আঘাত করলে সঙ্কর্ষণের মুশলাঘাতে সে নিহত হয়; কূর্মপৃষ্ঠ বিদ্ধ হয়ে পরাভূত ও বিতাড়িত হয়। দৈত্যরাজ কুশ বিপুল সেনা সমবেত করে, নিষ্ফল বিরোধ এড়াতে উপদেশ পেলেও যুদ্ধেই অটল থাকে। বিষ্ণু তার মস্তকচ্ছেদ করেন, কিন্তু শিবের অমরত্ব-বরদানে কুশ বারবার পুনর্জীবিত হয়ে শাস্তি-প্রয়োগে জটিলতা সৃষ্টি করে। দুর্বাসা কারণ নির্দেশ করেন—শিবপ্রসাদে কুশ মৃত্যুর অতীত। তখন বিষ্ণু দমন-নীতিতে পরিবর্তন এনে কুশের দেহ গর্তে নিক্ষেপ করে তার উপর লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। এভাবে বৈষ্ণব তীর্থরক্ষা, শৈব বরতত্ত্ব এবং পবিত্র শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এক মন্দির-কেন্দ্রিক সমাধানে মিলিত হয়।

गोमतीतीरस्थ-क्षेत्रस्थ-भगवत्पूजा-माहात्म्यवर्णनम् (Glorification of Worship of the Lord at the Gomati River Sacred Field)
এই অধ্যায়ে তত্ত্বসংলাপ, ক্ষেত্রকথা ও পূজাবিধি একসূত্রে গাঁথা। শুরুতে প্রহ্লাদ শিবলিঙ্গ-সম্পর্কিত পূর্ব ঘটনার কথা স্মরণ করে, সেখানে সংঘটিত সীমালঙ্ঘনের প্রসঙ্গ শ্রীকৃষ্ণকে জানান। বিষ্ণু তাঁর ভক্তি ও সাহসের প্রশংসা করে শিবভক্তির সঙ্গে যুক্ত বীর্যভিত্তিক বর প্রদান করেন। কুশ বলেন—মহাদেব ও হরি একই তত্ত্ব, দুই রূপে প্রকাশ; এবং প্রার্থনা করেন যে ভগবান প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গটি “কুশেশ্বর” নামে প্রসিদ্ধ হোক, যাতে ক্ষেত্রের স্থায়ী খ্যাতি হয়। এরপর তীর্থভূগোলের বর্ণনা—মাধব অন্য দানবদের প্রেরণ করেন; কেউ রসাতলে নামে, কেউ বিষ্ণুর নিকটে আসে; সেখানে অনন্ত ও বিষ্ণুর অবস্থান উল্লেখিত। দুর্বাসা স্থানটিকে মোক্ষদায়ক বলে চিনে, গোমতী, চক্রতীর্থ ও ত্রিবিক্রমের উপস্থিতির সঙ্গে এর যোগ স্থাপন করেন। কলিযুগেও এই স্থানের পবিত্রতা অব্যাহত থাকবে এবং ভগবান কৃষ্ণরূপে প্রকাশিত হবেন—এ কথাও বলা হয়েছে। শেষভাগে দ্বারকায় মধুসূদনের পূজাবিধি—স্নান, অনুলেপন, গন্ধ-বাস্ত্র-ধূপ-দীপ-নৈবেদ্য-অলংকার-তাম্বুল-ফল নিবেদন, আরতি ও প্রণাম; এবং সারারাত দীপদান ও জাগরণ, জপ-পাঠ, কীর্তন ও বাদ্যসহ—যার ফলে অভীষ্ট সিদ্ধি হয়। নাভাস মাসে পবিত্রারোপণ, কার্ত্তিকে প্রবোধদিন, অয়নসন্ধি ও বিশেষ মাস/দ্বাদশীর ব্রত পিতৃতৃপ্তি, বিষ্ণুলোকপ্রাপ্তি এবং শোকহীন “নির্মল ধাম” লাভ করায়—বিশেষত গোমতী-সাগর সঙ্গমে।

रुक्मिणीपूजाविधिः — Ritual Protocols and Merit of Worshiping Rukmiṇī with Kṛṣṇa
এই অধ্যায়ে শ্রীপ্রহ্লাদ ব্রাহ্মণদের উদ্দেশে জগন্নাথ/কৃষ্ণ এবং বিশেষত রুক্মিণী—কৃষ্ণপ্রিয়া, কৃষ্ণবল্লভা—এর পূজাবিধি ক্রমানুসারে বর্ণনা করেন। প্রথমে দেবস্নান, সুগন্ধ-লেপন, তুলসী-আরাধনা, নৈবেদ্য, নীরাজন এবং অনন্ত-ৱৈনতেয় প্রভৃতির ভক্তিপূর্বক সম্মান; পরে ছলনাহীন দান ও আশ্রিত দরিদ্রদের অন্নদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর রুক্মিণী-দর্শন ও পূজার মাহাত্ম্য বলা হয়—কলিযুগে কৃষ্ণের প্রিয়ার দর্শন-আরাধনা না হওয়া পর্যন্ত গ্রহপীড়া, ব্যাধি, ভয়, দারিদ্র্য, দুর্ভাগ্য ও গৃহবিচ্ছেদ দূর হয় না। দই, দুধ, মধু, চিনি, ঘি, সুগন্ধি দ্রব্য, আখের রস ও তীর্থজল দিয়ে অভিষেক; শ্রীখণ্ড, কুঙ্কুম, মৃগমদ লেপন; পুষ্প, ধূপ (অগুরু-গুগ্গুলু), বস্ত্র ও অলংকার অর্পণের বিধান আছে। ‘বিদর্ভাধিপ-নন্দিনী’ মন্ত্রে অর্ঘ্য, আরতি এবং পবিত্র জলের বিধিসম্মত গ্রহণও উল্লেখিত। ব্রাহ্মণ ও তাঁদের পত্নীদের পূজা, অন্ন ও তাম্বুল দান, দ্বারপাল ‘উন্মত্ত’কে বলি-সহ পূজা, যোগিনী, ক্ষেত্রপাল, বীরূপস্বামিনী, সপ্তমাতৃকা এবং সত্যভামা-জাম্ববতী প্রমুখ কৃষ্ণের অষ্টমহিষীদের বন্দনার কথাও বিস্তৃতভাবে বলা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে দ্বারকায় রুক্মিণীসহ কৃষ্ণদর্শন-আরাধনাকে যজ্ঞ-ব্রত-দানের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলা হয়; দীপোৎসব চতুর্দশী, মাঘ শুক্ল অষ্টমী, চৈত্র দ্বাদশী, জ্যৈষ্ঠ অষ্টমী, ভাদ্রপদ পূজা, কার্তিক দ্বাদশী ইত্যাদি তিথিতে পূজার ফলে সমৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, নির্ভয়তা ও মুক্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। শেষে কলিযুগে দ্বারকার বিশেষ তরণক্ষমতা ও পুরাণ-পরম্পরার উল্লেখ আছে।

Dvārakā-Māhātmya: Kṛṣṇa-darśana, Gomati-tīrtha, and Dvādaśī-vedha Ethics (Chapter 23)
এই অধ্যায়ে মার্কণ্ডেয় মুনি রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নকে কলিযুগে দ্বারকার অসাধারণ তীর্থ-মাহাত্ম্য ও মোক্ষদায়িনী শক্তি বোঝান। তিনি বলেন—অল্প সময় দ্বারকায় বাস, সেখানে যাওয়ার সংকল্প, কিংবা একদিন শ্রীকৃষ্ণ-দর্শনও মহাতীর্থ-পরিক্রমা ও দীর্ঘ তপস্যার সমান ফলদায়ক। এরপর শ্রীকৃষ্ণের স্নান-অনুষ্ঠানে মন্দিরকেন্দ্রিক সেবার বিবরণ দেওয়া হয়—দুধ, দই, ঘি, মধু ও সুগন্ধি জলে অভিষেক; বিগ্রহ মুছিয়ে দেওয়া, মালা অর্পণ, শঙ্খ-বাদ্য, নাম-সহস্র পাঠ, গান-নৃত্য, আরতি, প্রদক্ষিণা, সাষ্টাঙ্গ প্রণাম; এবং দীপ, নৈবেদ্য, ফল, তাম্বুল, জলপাত্র ইত্যাদি নিবেদন। ধূপ, পতাকা, মণ্ডপ, চিত্রাঙ্কন, ছত্র ও চামর প্রভৃতি নির্মাণ-অলংকার সেবাও পুণ্যকর বলা হয়েছে। পরে দ্বাদশী তিথি ও ‘বেধ’ দোষসহ পঞ্জিকা-শুদ্ধতার নীতি আলোচিত হয়। চন্দ্রশর্মার স্বপ্নে কষ্টভোগী পিতৃপুরুষদের দর্শনের কাহিনি দিয়ে তিথি-নিয়মের গুরুত্ব বোঝানো হয়। উপসংহারে বলা হয়—সোমনাথ তীর্থযাত্রা দ্বারকায় শ্রীকৃষ্ণ-দর্শনে সম্পূর্ণ হয়, এবং সম্প্রদায়গত একচেটিয়াতা পরিহার্য। গোমতীতে স্নান, শ্রাদ্ধ-তর্পণ ও তুলসী-মালা/পত্রভক্তি কলিযুগে রক্ষাকর ও শুদ্ধিদায়ক।

चन्द्रशर्मा-द्वारकादर्शनं, त्रिस्पृशा-द्वादशीव्रत-प्रशंसा, पितृमोक्षोपदेशश्च (Chandraśarmā’s Dvārakā Darśana, Praise of Trispr̥śā Dvādaśī, and Instruction on Ancestral Liberation)
মার্কণ্ডেয় বলেন—ব্রাহ্মণ চন্দ্রশর্মা দ্বারকায় পৌঁছে দেখেন, এটি সিদ্ধ ও দিব্য সত্তাদের সেবিত, মোক্ষদায়িনী নগরী; এখানে প্রবেশ ও দর্শনমাত্রেই পাপ ক্ষয় হয়। তিনি দ্বারকা-দর্শনের আধ্যাত্মিক পরিপূর্ণতার প্রশংসা করেন—যেন অন্য তীর্থসাধনা পরে গৌণ হয়ে যায়। এরপর তিনি গোমতী-তীরে স্নান ও পিতৃ-তর্পণ করেন; চক্রতীর্থ থেকে চক্রাঙ্কিত শিলা সংগ্রহ করে পুরুষসূক্তে পূজা করেন, তারপর শিবপূজা ও বিধিপূর্বক পিণ্ড-উদক দান করেন—বিলেপন, বস্ত্র, পুষ্প, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য, নীরাজন, প্রদক্ষিণা, নমস্কার প্রভৃতি উপচারে সহ। রাত্রিজাগরণে তিনি শ্রীকৃষ্ণের কাছে প্রার্থনা করেন—দ্বাদশী-ব্রতে দশমী-বোধ (দশমীর স্পর্শদোষ) দূর হোক এবং প্রেতাবস্থায় থাকা পিতৃগণ মুক্তি পান। কৃষ্ণ ভক্তির শক্তি ঘোষণা করে মুক্ত পিতৃদের ঊর্ধ্বগমন দেখান। পিতৃগণ সসাল্য (দোষযুক্ত) দ্বাদশী, বিশেষত দশমী-বোধযুক্ত দ্বাদশীকে, পুণ্য ও ভক্তিনাশক বলে সতর্ক করেন এবং তিথিশুদ্ধি রক্ষা করে ব্রত পালনের উপদেশ দেন। কৃষ্ণ আরও বলেন—বৈশাখে ত্রিস্পৃশা দ্বাদশীতে যথাযথ যোগে একবার উপবাস, দ্বারকা-দর্শনের সঙ্গে, অবহেলিত ব্রতসমূহ পূর্ণ করে দেয়; এবং চন্দ্রশর্মার বৈশাখে ত্রিস্পৃশা-বুধযোগে দেহত্যাগের ভবিষ্যদ্বাণী করেন। শেষে মার্কণ্ডেয় ফলশ্রুতি বলেন—এই দ্বারকা-মাহাত্ম্য শ্রবণ, পাঠ, লিখন বা প্রচার করলে প্রতিশ্রুত পুণ্য লাভ হয়।

द्वारकायाः माहात्म्यवर्णनम् | The Glory of Dvārakā and Comparative Tīrtha-Merit
এই অধ্যায়ে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন ঋষি মার্কণ্ডেয়কে জিজ্ঞাসা করেন—কলিযুগে কোন নির্মল, পাপনাশক তীর্থ সর্বশ্রেষ্ঠ, তার বিস্তারিত বর্ণনা দিন। ঋষি উত্তর দেন যে কলিযুগে তিনটি আদর্শ নগর বিশেষভাবে পূণ্যদায়ী—মথুরা, দ্বারকা ও অযোধ্যা—যেখানে হরি/কৃষ্ণ এবং শ্রীরামের দিব্য উপস্থিতি প্রতিষ্ঠিত। এরপর দ্বারকার মাহাত্ম্য তুলনামূলক পুণ্য-হিসাবের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়—দ্বারকায় ক্ষণমাত্র বাস, স্মরণ বা শ্রবণও কাশী, প্রয়াগ, প্রভাস, কুরুক্ষেত্র প্রভৃতি স্থানে দীর্ঘ তপস্যা বা তীর্থযাত্রার চেয়েও অধিক ফলদায়ক। কৃষ্ণদর্শন, কীর্তন এবং দ্বাদশীর রাত্রিজাগরণকে প্রধান আচরণ বলা হয়েছে; গোমতী তীরে পিণ্ডদান ও কৃষ্ণসান্নিধ্যে দান-অর্ঘ্য পিতৃকল্যাণ, শুদ্ধি ও মুক্তিদায়ক বলে ঘোষিত। দ্বারকার সঙ্গে যুক্ত গোপীচন্দন ও তুলসীকে বহনযোগ্য পবিত্র মাধ্যম হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা গৃহস্থের ঘরেও তীর্থভাব বিস্তার করে। শেষে বলা হয়—কৃষ্ণজাগরণের সময় দান বহু গুণে বৃদ্ধি পায়, এবং কলিযুগে দ্বাদশী-জাগরণ উচ্চমূল্যের নৈতিক-ভক্তিময় সাধনা।

हरिजागरण-प्रशंसा (Praise of Hari Night-Vigil) / Dvādāśī Jāgaraṇa and Its Fruits
অধ্যায়ের শুরুতে মার্কণ্ডেয় প্রহ্লাদকে বিদ্বান, সংযমী ও বৈষ্ণব-আচার্যরূপে বর্ণনা করেন। ঋষিগণ কঠোর পূর্বশর্ত ছাড়াই পরম পদ লাভের সংক্ষিপ্ত উপদেশ চাইলে প্রহ্লাদ “গুহ্যেরও গুহ্য” পুরাণসার প্রকাশ করেন, যা ইহলোকের মঙ্গল ও মোক্ষ—উভয়ই দান করে। এরপর স্কন্দ (ষণ্মুখ) ঈশ্বরকে দুঃখনিবারণ ও মুক্তির সহজ উপায় জিজ্ঞাসা করেন। ঈশ্বর হরি-জাগরণের বিধান বলেন, বিশেষত দ্বাদশী-সংযুক্ত বৈষ্ণব আচরণে—রাত্রিতে বৈষ্ণব শাস্ত্রপাঠ, কীর্তন, দেবদর্শন, গীতা ও নাম-সহস্র পাঠ, এবং দীপ-ধূপ-নৈবেদ্য ও তুলসীসহ পূজা। ফলশ্রুতি বারবার উচ্চারিত—সঞ্চিত পাপের দ্রুত ক্ষয়, মহাযজ্ঞ ও মহাদানের সমতুল্য বা শ্রেষ্ঠ পুণ্য, বংশ ও পিতৃপুরুষের কল্যাণ, এবং নিষ্ঠাবানের পুনর্জন্ম-নিবারণ। জনার্দনের প্রতি ভক্তিভরে জাগরণ পালনকারীদের প্রশংসা ও অবহেলা/বিদ্বেষের নিন্দা করে নৈতিক সীমারেখাও দেখানো হয়েছে।

द्वादशी-जागरणस्य सर्वतोवरेण्यत्ववर्णनम् (The Supreme Excellence of the Dvādaśī Vigil)
এই অধ্যায়ে ঈশ্বর দ্বাদশী-জাগরণের সর্বোচ্চ মাহাত্ম্য বিধিবদ্ধভাবে প্রকাশ করেন। যে ভক্ত দ্বাদশী রাত্রিতে হরি/বিষ্ণুর পূজা করে এবং ভাগবত শ্রবণ করে জাগরণ পালন করে, তার পুণ্য মহাযজ্ঞসমূহেরও বহু গুণ বৃদ্ধি পায়; বন্ধন ছিন্ন হয়ে সে শ্রীকৃষ্ণের ধাম লাভ করে। ভাগবত-শ্রবণ ও বিষ্ণু-জাগরণে গুরুতর পাপসঞ্চয়ও প্রশমিত হয়, এবং সূর্যমণ্ডলের সীমা অতিক্রমের মুক্তিচিত্র দ্বারা মোক্ষের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। পঞ্জিকার সূক্ষ্মতা উল্লেখ করে বলা হয়েছে—একাদশী যখন দ্বাদশীতে প্রবেশ করে, বিশেষত শুভ সংযোগে জাগরণ ও উপাসনা অতিশয় ফলদায়ক। দ্বাদশীতে বিষ্ণু ও পিতৃগণের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত দান ‘মেরুসম’ মহামূল্য বলে বর্ণিত। মহা নদীর তীরে তर्पণ ও শ্রাদ্ধ করলে পিতৃগণ দীর্ঘকাল তৃপ্ত হন এবং বর লাভ হয়। দ্বাদশী-জাগরণের ফলকে সত্য, শৌচ, সংযম, ক্ষমা প্রভৃতি নৈতিক সাধনা, মহাদান এবং প্রসিদ্ধ তীর্থকর্মের সমতুল্য করে দেখিয়ে একে সংক্ষিপ্ত কিন্তু সর্বসার সাধনরূপে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। নারদের বাণী উদ্ধৃত করে বলা হয়—একাদশীর সমান কোনো ব্রত নেই; অবহেলায় দুঃখ চলতে থাকে, আর পালন করলে কলিযুগে ভক্তিমার্গের শ্রেষ্ঠ প্রতিকার লাভ হয়।

हरिजागरण-माहात्म्य (The Glory of the Viṣṇu/Kṛṣṇa Night Vigil)
এই অধ্যায়ে মার্কণ্ডেয় উপদেশমূলক সংলাপে হরি-জাগরণের মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করেন—বিশেষত একাদশীর উপবাস ও দ্বাদশীর রাত্রিজাগরণের প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, এই জাগরণের পুণ্য নিখুঁত শুচিতা বা পূর্বপ্রস্তুতির উপর নির্ভরশীল নয়; স্নান না করা, অশৌচে থাকা, কিংবা সমাজে অবহেলিত মানুষও হরিস্মরণ ও জাগরণে অংশ নিয়ে শুদ্ধি লাভ করে এবং উত্তম পরলোকপ্রাপ্ত হয়। ফলশ্রুতিতে হরি-জাগরণের ফলকে অশ্বমেধাদি মহাযজ্ঞ, পুষ্কর-পান, সঙ্গম-স্নান, তীর্থসেবা ও মহাদানের সঙ্গে তুলনা করে বারবার বলা হয়েছে—জাগরণ তাদের সকলের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এটিকে গুরুতর পাপক্ষয় ও নৈতিক কলুষ নিবারণের প্রায়শ্চিত্তরূপেও দেখানো হয়েছে। জাগরণ রক্ষার উপায় হিসেবে সমবেত ভক্তি—কথা-কীর্তন, গান, নৃত্য, বীণা-বাদন—ধর্মসম্মত বলে স্বীকৃত। বলা হয়েছে, সেই জাগরণে দেবতা, নদী ও সকল পবিত্র জল সমবেত হয়; যারা পালন করে না তাদের অমঙ্গলফলের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। সারকথা, কলিযুগে গরুড়ধ্বজের স্মরণ, একাদশীতে অন্নত্যাগ ও দৃঢ় জাগরণ—সহজ অথচ মহাফলদায়ী সাধনা।

गौतमी-तीर्थसमागमः—द्वारकाक्षेत्रप्रशंसा (Gautamī Tīrtha Assembly and the Praise of Dvārakā Kṣetra)
এই অধ্যায়ে প্রহ্লাদের বর্ণনার আবরণে বহু-কণ্ঠ ধর্মতাত্ত্বিক আলোচনা গড়ে ওঠে। নারদ সিংহ-রাশিতে বৃহস্পতির শুভ অবস্থান দেখে গৌতমী (গোদাবরী) তীরে এক আশ্চর্য সমাবেশ প্রত্যক্ষ করেন—মহাতীর্থ, নদী, ক্ষেত্র, পর্বত, শাস্ত্র, সিদ্ধ ও দেবগণ একত্র হয়ে সেই স্থানের পবিত্রতা ও দীপ্তিতে বিস্মিত হন। ব্যক্তিরূপে গৌতমী দেবী দুঃখ প্রকাশ করেন—দুর্জন-সংসর্গে তিনি ক্লান্ত ও দগ্ধবৎ অনুভব করছেন; শান্ত ও নির্মল স্বরূপ পুনরুদ্ধারের উপায় চান। নারদ ও সমাগত পবিত্র সত্তারা পরামর্শ করেন; তখন গৌতম ঋষি এসে মহাদেবকে ধ্যানপূর্বক প্রার্থনা করেন। অতঃপর এক অশরীরী দিব্যবাণী সমাবেশকে উত্তর-পশ্চিম সমুদ্রতটের দিকে নির্দেশ করে দ্বারকাকে পরম শুদ্ধিক্ষেত্র বলে ঘোষণা করে—যেখানে গোমতী সাগরে মিশে যায় এবং বিষ্ণু পশ্চিমাভিমুখে বিরাজ করেন; সেই ক্ষেত্র অগ্নির ন্যায় পাপ দগ্ধ করে। শেষে সবাই দ্বারকার প্রশংসা করে, গোমতী-স্নান, চক্রতীর্থ-স্নান ও কৃষ্ণদর্শনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে; এবং নীতিবাক্য স্পষ্ট হয়—সৎসঙ্গে শুদ্ধি বৃদ্ধি পায়, দুর্জন-সংসর্গে তা ক্ষয় হয়।

Dvārakā-yātrā-vidhiḥ (Procedure and Ethics of the Pilgrimage to Dvārakā)
এই অধ্যায়ে প্রহ্লাদ বলেন, তীর্থ-ক্ষেত্র, ঋষি ও দেবতাদের মধ্যে সর্বত্রই শ্রীকৃষ্ণ-দর্শনের জন্য দ্বারাবতী/কুশস্থলী গমনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা জাগে। নারদ ও গৌতমের আবির্ভাব আসন্ন এক মহোৎসব-সদৃশ তীর্থযাত্রার পূর্বলক্ষণ। তখন ঋষিগণ যোগীদের পরম পথপ্রদর্শক নারদকে যাত্রাবিধি, আবশ্যক নিয়ম, বর্জনীয় আচরণ, পথে কী শ্রবণ-পাঠ-স্মরণ করা উচিত এবং কোন উৎসব অনুমোদিত—এসব প্রশ্ন করেন। নারদ নির্দেশ দেন—প্রথমে স্নান ও পূজা, সামর্থ্য অনুযায়ী বৈষ্ণব ও ব্রাহ্মণদের ভোজনদান, বিষ্ণুর অনুমতি গ্রহণ করে যাত্রা শুরু, এবং মনে শ্রীকৃষ্ণভক্তি স্থির রাখা। পথে শান্ত, সংযত ও শুচি থাকা, ব্রহ্মচর্য পালন, ভূমিতে শয়ন এবং ইন্দ্রিয়নিগ্রহ আবশ্যক। নামজপ (সহস্রনামাদি), পুরাণপাঠ/শ্রবণ, দয়ালু আচরণ, সজ্জনের সেবা ও বিশেষত অন্নদানকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে; অল্প দানেও মহাপুণ্য লাভের কথা বলা হয়। কলহপ্রিয় বাক্য, নিন্দা, ছলনা এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পরের অন্নে নির্ভরতা নিষিদ্ধ। পরবর্তী অংশে প্রহ্লাদ পথের ভক্তিময় দৃশ্য আঁকেন—বিষ্ণুকথা শ্রবণ, নামকীর্তন, গান-বাদ্য, পতাকা-সহ উৎসবমুখর শোভাযাত্রা, এবং নদী ও প্রসিদ্ধ তীর্থগুলির প্রতীকী অংশগ্রহণ। শেষে যাত্রীরা দূর থেকেই কৃষ্ণধাম দর্শন করে; যাত্রা তখন সমবেত উপাসনা ও নৈতিক সাধনার এক মহাপথ হয়ে ওঠে।

Dvārakā as Tīrtha-Saṅgama: Darśana of Kṛṣṇa’s Ālaya and the Gomatī Māhātmya (द्वारकाक्षेत्रमहिमा तथा गोमतीमाहात्म्य)
এই অধ্যায়ে দ্বারকার ভক্তিময় পবিত্রতা ও তীর্থ-সংগমের মহিমা বর্ণিত। প্রহ্লাদ নগরীর দিব্য জ্যোতি বলেন, যা অন্ধকার ও ভয় দূর করে, আর ধ্বজ-পতাকার মাধ্যমে বিজয়ের প্রতীক প্রকাশ করে। বিষ্ণু/কৃষ্ণের আলয় দিব্য চিহ্নে সুশোভিত দেখে সমবেত সকলেই সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করে, আনন্দাশ্রুতে ভিজে ভক্তিভাবে উন্মত্ত হয়। এরপর ভারতবর্ষের বহু তীর্থ, নদী, ক্ষেত্র ও প্রসিদ্ধ নগরের নামক্রম আসে—বারাণসী, কুরুক্ষেত্র, প্রয়াগ, গঙ্গা/জাহ্নবী, যমুনা, নর্মদা, সরস্বতী, গোদাবরী, গয়া, শালগ্রাম-ক্ষেত্র, পুষ্কর, অযোধ্যা, মথুরা, অবন্তী, কাঞ্চী, পুরুষোত্তম, প্রভাস প্রভৃতি—যাতে বোঝানো হয়, ত্রিলোকের পবিত্র ভূদৃশ্য যেন দ্বারকার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে উপস্থিত। ঋষিরা জয়ধ্বনি ও নমস্কারে উল্লসিত হন। নারদ ব্যাখ্যা করেন—এই দর্শন সঞ্চিত পুণ্যের ফল; দৃঢ় ভক্তি ও দ্বারকা-প্রাপ্তির সংকল্প সামান্য তপস্যায় লাভ হয় না। দ্বারকাকে ক্ষেত্র-তীর্থরাজদের মধ্যে সূর্যের ন্যায় দীপ্ত বলা হয়েছে। পরে সঙ্গীত, নৃত্য, ধ্বজ ও স্তোত্রসহ শোভাযাত্রা গোমতীর দিকে অগ্রসর হয়। নারদ নদীগণকে সম্বোধন করে গোমতীকে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করেন; তার স্নান মুক্তিদায়ক এবং পিতৃপুরুষদেরও কল্যাণকারী বলা হয়। স্নানের পর সবাই দ্বারকার দ্বারে গিয়ে নগরীকে রাজসিক দীপ্ত প্রতিমূর্তিতে—শ্বেতবর্ণ, অলংকৃত, শঙ্খ-চক্র-গদাধারিণী—দেখে সমবেত প্রণাম করে।

द्वारकायाः सर्वतीर्थ-समागमः, देवसमागमश्च (Dvārakā as the Convergence of All Tīrthas and the Assembly of Devas)
এই অধ্যায়ে নারদ হরি-প্রিয়া দ্বারকার পরম পবিত্রতা ধাপে ধাপে প্রকাশ করেন। তিনি বর্ণনা করেন—প্রয়াগ, পুষ্কর, গৌতমী, ভাগীরথী-গঙ্গা, নর্মদা, যমুনা, সরস্বতী, সিন্ধু; এবং বারাণসী, কুরুক্ষেত্র, মথুরা, অযোধ্যা; তদুপরি মেরু, কৈলাস, হিমালয়, বিন্ধ্য প্রভৃতি প্রসিদ্ধ তীর্থ, নদী, ক্ষেত্র ও পর্বত দ্বারকায় এসে তার চরণে প্রণাম করে। এরপর দিব্য বাদ্যধ্বনি ও জয়ধ্বনি ওঠে; ব্রহ্মা, মহেশ (ভবানীসহ), ইন্দ্রাদি দেবতা ও ঋষিসমাজ উপস্থিত হয়ে দ্বারকাকে স্বর্গের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেন এবং চক্রতীর্থ ও চক্রচিহ্নিত শিলার মাহাত্ম্য কীর্তন করেন। ব্রহ্মা ও মহেশ শ্রীকৃষ্ণের দর্শন প্রার্থনা করলে দ্বারকা তাঁদের দ্বারকেশ্বরের কাছে নিয়ে যান। গোমতী ও সমুদ্রে স্নান, পঞ্চামৃত-ভাবের অভিষেক, তুলসী-ধূপ-দীপ-নৈবেদ্য অর্পণ এবং গান-নৃত্য-বাদ্যসহ উৎসব সম্পন্ন হয়; এতে ভগবান প্রসন্ন হয়ে বর দেন—তাঁর চরণে স্থির ও স্নেহময় ভক্তি। শেষে ব্রহ্মা ও ঈশান রাজাভিষেকের ন্যায় দ্বারকারই অভিষেক করেন; বিষ্ণুর পার্ষদ (যেমন বিশ্বক্ষেণ, সুনন্দ) প্রকাশিত হন। উপসংহারে বলা হয়—যাঁদের পূজা যথাবিধি সম্পন্ন হয়, তাঁদের মনে দ্বারকাগমনের আকাঙ্ক্ষা জাগে; এটাই দেবানুগ্রহের লক্ষণ।

द्वारकायां सर्वतीर्थक्षेत्रादिकृतनिवासवर्णनम् (Residence of All Tīrthas and Kṣetras at Dvārakā)
এই অধ্যায়ে প্রহ্লাদ বিষ্ণুর পার্ষদদের কথায় দ্বারকার মাহাত্ম্য শুনে তার বিস্তৃত বিবরণ জানতে চান। তখন ব্রহ্মা ও মহেশ বলেন—দ্বারকা সকল তীর্থ ও মোক্ষদায়ক ক্ষেত্রের মধ্যে রাজকেন্দ্রস্বরূপ শ্রেষ্ঠ; প্রয়াগ ও কাশীর মতো প্রসিদ্ধ তীর্থের তুলনাতেও তার মহিমা বিশেষভাবে প্রশংসিত। এরপর দিকভেদে ধারাবাহিকভাবে বলা হয়েছে যে অগণিত (কোটি-কোটি) নদী ও তীর্থ দ্বারকার চারদিকে নিবাস করে, ভক্তিভাবে সেবা করে এবং বারবার শ্রীকৃষ্ণের দর্শন লাভ করে। তারপর বারাণসী, অবন্তী, মথুরা, অযোধ্যা, কুরুক্ষেত্র, পুরুষোত্তম, ভৃগুক্ষেত্র/প্রভাস, শ্রীরঙ্গ প্রভৃতি প্রধান ক্ষেত্রের তালিকা, সঙ্গে শাক্ত, সৌর ও গণপত্য পীঠস্থানগুলির উল্লেখ, এবং কৈলাস, হিমবৎ, শ্রীশৈল ইত্যাদি পর্বতের দ্বারকাকে পরিবেষ্টন করার বর্ণনা আসে। শেষে বলা হয়—এই মহাসমাগম শ্রদ্ধা ও ভক্তির বলেই ঘটে; আর বৃহস্পতি কন্যা রাশিতে অবস্থান করলে দেবতা ও ঋষিগণ আনন্দসহকারে দর্শনের জন্য দ্বারকায় আগমন করেন। এভাবে দ্বারকাকে এক সমন্বয়কারী তীর্থ-বিশ্বের কেন্দ্ররূপে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

Vajralepa-vināśaḥ — The Dissolution of Hardened Wrongdoing through Dvārakā-Pathika Darśana
এই অধ্যায়ে প্রহ্লাদ ঋষিদের কাছে দ্বারকার অসাধারণ পবিত্রতা ও শুদ্ধিদায়িনী মহিমা বর্ণনা করেন, তারপর একটি প্রাচীন কথোপকথন তুলে ধরেন—রাজা দিলীপ ও ঋষি বশিষ্ঠের। দিলীপ জানতে চান, এমন কোন ক্ষেত্র আছে কি যেখানে পাপ “আবার অঙ্কুরিত” হয় না, বিশেষত কাশী যে ‘বজ্র-লেপ’ নামে কঠিন নৈতিক কলুষও প্রশমিত করতে পারে—এ কথা শুনে। বশিষ্ঠ কাশীতে থাকা এক সন্ন্যাসীর সতর্কতামূলক কাহিনি বলেন: তিনি অধর্মে পতিত হয়ে নিষিদ্ধ আচরণে লিপ্ত হন, পরে গুরুতর পাপের ফলে বহু যোনিতে দীর্ঘ দুঃখভোগ করেন। কাশী তৎক্ষণাৎ নরকফল রোধ করলেও, অবশিষ্ট বজ্র-লেপ দীর্ঘকাল যন্ত্রণা ডেকে আনে। এরপর মোড় আসে দ্বারকা-পথিকের প্রসঙ্গে—গোমতীতে শুদ্ধ এবং শ্রীকৃষ্ণ-দর্শনে চিহ্নিত এক যাত্রী এক রাক্ষসের সম্মুখীন হন। সেই পথিককে মাত্র দেখামাত্রই রাক্ষসের বজ্র-লেপ ভস্মীভূত হয়। রাক্ষস দ্বারকায় গিয়ে গোমতী তীরে দেহত্যাগ করে বৈষ্ণব পদ লাভ করে, দেবগণ তার প্রশংসা করেন। অধ্যায়ের শেষে দ্বারকাকে ‘ক্ষেত্ররাজ’ বলে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়—যেখানে পাপ আর পুনরুত্থিত হয় না; এবং দিলীপও তীর্থযাত্রা করে শ্রীকৃষ্ণের সান্নিধ্যে সিদ্ধি লাভ করেন।

Dvārakā-kṣetra-māhātmya: Darśana, Dāna, Gomati-snānaphala, and Vaiṣṇava-nindā-doṣa (द्वारकाक्षेत्रमाहात्म्य—वैष्णवनिन्दादोषः)
এই অধ্যায়ে সংলাপরূপে প্রহ্লাদ দ্বারকা-ক্ষেত্রের অতুল পবিত্রতা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, সেখানে চতুর্ভুজ বৈষ্ণব ভক্ত ও অধিবাসীদের দর্শনমাত্রেই চিত্তের রূপান্তর ঘটে; দ্বারকার মহিমা এত বিস্তৃত যে দেবতারাও তা প্রত্যক্ষ করেন। এমনকি পাথর, ধূলিকণা ও ক্ষুদ্র প্রাণীকেও মুক্তির বাহনরূপে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর নৈতিক বিধান আসে—দ্বারকার বৈষ্ণবদের নিন্দা (বৈষ্ণব-নিন্দা) মহাদোষ। জয়ন্তের দণ্ডদানের প্রসঙ্গ দিয়ে দেখানো হয়েছে যে নিন্দাকারী কঠোর দুঃখভোগ করে। তারপর দ্বারকায় শ্রীকৃষ্ণসেবা, ভক্তিসহ বাস এবং অল্প দানও অন্য তীর্থের বৃহৎ কর্মের চেয়ে অধিক ফলদায়ক বলা হয়েছে—কুরুক্ষেত্রের দান বা গোদাবরীর পুণ্যের তুলনায়ও শ্রেষ্ঠ। গুরু সিংহরাশিতে অবস্থান করলে গোমতীতে স্নানের বিশেষ ফল এবং কিছু মাসে পুণ্যবৃদ্ধির কথা আছে। শেষে জনকল্যাণমূলক ধর্ম—ছায়াশালা, জলব্যবস্থা, বিশ্রামগৃহ, পুকুর-কূপ মেরামত ও বিষ্ণুমূর্তি প্রতিষ্ঠা—ক্রমে স্বর্গসুখ ও বিষ্ণুলোকপ্রাপ্তি দেয়; এবং প্রশ্ন ওঠে, কেন দ্বারকায় পুণ্য দ্রুত বাড়ে ও পাপের অঙ্কুর রুদ্ধ হয়।

द्वारकाक्षेत्रवैभववर्णनम् / Theological Praise of Dvārakā and its Pilgrimage Fruits
সূত রাজসভায় কথোপকথনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন—প্রহ্লাদের কথায় উদ্দীপ্ত হয়ে বলি দ্বারকাক্ষেত্রের মহিমা ও তীর্থফল জানতে চান। প্রহ্লাদ ধারাবাহিক মাহাত্ম্য বলেন: দ্বারকার দিকে প্রতিটি পদক্ষেপে পুণ্য বৃদ্ধি পায়, আর যাওয়ার সংকল্পমাত্রেই শুদ্ধি ঘটে। কলিযুগের কঠোর দোষও শ্রীকৃষ্ণের সান্নিধ্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করে না—বিশেষত চক্রতীর্থ ও কৃষ্ণপুরীর মহিমা উল্লেখ করে। অন্যান্য পবিত্র নগরের তুলনায় কৃষ্ণ-রক্ষিত দ্বারকার দর্শনেই তার সর্বোচ্চতা প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর দ্বারকায় বাস, দর্শন, গোমতীতে স্নান ও রুক্মিণীদর্শনের দুর্লভতা বলা হয়। গৃহস্থের জন্যও দ্বারকাস্মরণ ও কেশবপূজার নীতি, এবং ত্রিস্পৃশা দ্বাদশীসহ ব্রত-কালবিধি ব্যাখ্যা করা হয়। কলিতে উপবাস, জাগরণ, কীর্তন-নৃত্য ইত্যাদির ফল বিশেষভাবে বৃদ্ধি পায়—দ্বারকায় কৃষ্ণের নিকটে তা আরও অধিক। গোমতী-সমুদ্র সঙ্গমের পবিত্রতা, চক্রাঙ্কিত শিলার মাহাত্ম্য, অন্যান্য তীর্থের সমতুল্য/অধিক ফল, কৃষ্ণের রাণীদের পূজায় সন্তান-কল্যাণ ও দ্বারকাদর্শনে ভয়-অমঙ্গল নাশের কথা আছে। শেষে বলা হয়, পথে কষ্ট এলেও দ্বারকাযাত্রা অপুনরাবৃত্তির ফলদায়িনী।

Sudarśana–Cakra-cihna-aṅkita-pāṣāṇa Māhātmya (Glory of Chakra-Marked Stones at Dvārakā)
এই অধ্যায়ে দ্বারকা-ক্ষেত্রে সুদর্শন-চক্রচিহ্নিত পাথরের মাহাত্ম্য ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত। প্রহ্লাদ কলিযুগে নামজপের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করেন—“কৃষ্ণ” নামের নিরন্তর জপ চিত্তশুদ্ধি, মহাপুণ্য ও আশ্চর্য ফল দান করে। এরপর একাদশী-দ্বাদশী ব্রতের তিথি-সূক্ষ্ম বিধান আসে—উন্মীলিনী প্রভৃতি বিশেষ অবস্থা, রাত্রিজাগরণের বহুগুণ ফল, এবং কলিযুগে দুর্লভ বঞ্জুলী-যোগের উল্লেখ। তারপর চক্রতীর্থের মাহাত্ম্য বলা হয়েছে—সেখানে স্নান করলে পাপমল দূর হয় এবং সাধক নির্বিঘ্ন পরম পদে অভিমুখী হয়; প্রথা আছে যে শ্রীকৃষ্ণ সেখানে চক্র ধৌত করেছিলেন। এরপর এক থেকে বারোটি চক্রচিহ্নযুক্ত শিলার তালিকা দেওয়া হয়েছে—চিহ্নসংখ্যা অনুযায়ী বিভিন্ন দিব্য রূপ নির্দিষ্ট করে ফলও স্তরে স্তরে বলা হয়েছে: স্থিতি-সমৃদ্ধি থেকে রাজ্য-ঐশ্বর্য এবং শেষে নির্বাণ/মোক্ষ পর্যন্ত। শেষে ফলশ্রুতি দৃঢ়ভাবে উচ্চারিত—চক্রচিহ্নিত পাথর স্পর্শ বা পূজা করলেই মহাপাপ ক্ষয় হয়, এবং মৃত্যুকালে স্মরণও তারক। গোমতী-সঙ্গম ও ভৃগুতীর্থে স্নানকে কঠোর অশৌচ/অপবিত্রতা নিবারক বলা হয়েছে; মিশ্র ভাবেও করা ভক্তিকে শাস্ত্র সাত্ত্বিক শুদ্ধির দিকে উন্নীত করে।

Dvārakā-Māhātmya: Dvādaśī-Jāgaraṇa, Gomati–Cakratīrtha Merit, and Service to Vaiṣṇavas
এই অধ্যায়ে প্রহ্লাদ উপদেশ দেন যে শ্রীকৃষ্ণের সান্নিধ্যে দ্বারকা এক মহাপুণ্যক্ষেত্র; এখানে সামান্য কর্মও বহুগুণ ফল দেয়। দ্বারকার মাহাত্ম্য শ্রবণ ও কীর্তনকে মোক্ষসাধন বলা হয়েছে। ব্যয়বহুল দান—যেমন বহুবার বিদ্বান ব্রাহ্মণকে গোধন—যে ফল দেয়, গোমতীতে স্নান করে, বিশেষত মধুসূদন-সম্পর্কিত তিথিতে, তদ্রূপ ফল লাভ হতে পারে—এভাবে ধর্মফলকে ব্যয়ের বদলে তীর্থ ও কালের মহিমায় স্থাপন করা হয়েছে। এরপর নীতিশিক্ষা: দ্বারকায় এক ব্রাহ্মণকে অন্নদানও মহাপুণ্য, আর যতি/সন্ন্যাসী ও বৈষ্ণবদের অন্ন-বস্ত্র দিয়ে সেবা করা সর্বোত্তম; যেখানে থাকো সেখানেই এ কর্তব্য পালনীয়। বৈশাখে দ্বাদশী-ব্রত, কৃষ্ণপূজা ও রাত্রিজাগরণ মহাফলদায়ক; জাগরণ ও ভাগবত-পাঠ সঞ্চিত পাপ দগ্ধ করে এবং দীর্ঘ স্বর্গবাস দেয়—এমন ফলশ্রুতি উচ্চারিত। শুদ্ধির মানচিত্রও বলা হয়েছে: যেখানে ভাগবত-পাঠ, শালগ্রাম-আরাধনা বা বৈষ্ণব-ব্রত নেই, সে দেশ আচারদৃষ্টিতে হীন; কিন্তু যেখানে ভক্তের বাস, সীমান্তভূমিও পুণ্যময় হয়। গোপীচন্দন তিলক, শঙ্খোদ্ধার মাটি, তুলসীর সান্নিধ্য ও পাদোদককে অমঙ্গলনাশক ও মঙ্গলসূচক বলা হয়েছে। শেষে কলিযুগে দ্বারকায় কৃষ্ণনিবাসের ঘোষণা এবং গোমতী–চক্রতীর্থে একদিন স্নানকে ত্রিলোকের তীর্থস্নানের সমফলদায়ক বলা হয়েছে।

Dvādāśī-Jāgaraṇa, Dvārakā-Smaraṇa, and Vaiṣṇava Ācāra (द्वादशी-जागरण, द्वारका-स्मरण, वैष्णव-आचार)
অধ্যায় ৩৯-এ প্রহ্লাদ দ্বাদশী-সম্পর্কিত শুভ নামসমূহ উল্লেখ করে বলেন যে প্রতিদিনের পুণ্য বৃদ্ধি পায় হবিশ্-সদৃশ নৈবেদ্য প্রস্তুত ও বিষ্ণুর রাত্রিজাগরণ (জাগরণ) দ্বারা, বিশেষত শালগ্রাম-শিলার সম্মুখে। ঘৃতপ্রদীপে যুগ্ম সলতে, শালগ্রামকে পুষ্পে আচ্ছাদন, এবং চক্রচিহ্নিত বৈষ্ণব প্রতিমার অভ্যঙ্গসহ পূজা—চন্দন, কর্পূর, কৃষ্ণাগুরু ও কস্তুরী দ্বারা—বিধান করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে দ্বাদশী-জাগরণের ফলকে মহাতীর্থস্নান, যজ্ঞ, ব্রত, বেদাধ্যয়ন, পুরাণশ্রবণ, তপস্যা ও আশ্রমধর্মপালনের সমষ্টিগত পুণ্যের সমতুল্য বলা হয়েছে এবং প্রামাণ্য বক্তৃপরম্পরায় এই উপদেশ প্রাপ্ত—এ কথাও উল্লেখিত। সূত শ্রদ্ধাসহ এই আচরণ গ্রহণে উৎসাহ দেন। এরপর দ্বারকার মাহাত্ম্য প্রসারিত হয়—যাত্রা অসম্ভব হলে মননে স্মরণ, জপ, ও গৃহে পাঠ করলেও ফল লাভ হয়। বৈষ্ণবদের দান, শ্রবণ, এবং দ্বাদশীর জাগরণকালে বিশেষ পাঠের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে; স্থায়ী ভক্তিতে গৃহে বহু তীর্থ ও দেবতার পবিত্র উপস্থিতির ভাবও বর্ণিত। শেষে বৈষ্ণব-অপমান, শোষণমূলক কর্ম, এবং পবিত্র বৃক্ষ—বিশেষত অশ্বত্থ—নাশ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ; বিপরীতে ন্যগ্রোধ, ধাত্রী ও তুলসী রোপণ-রক্ষণে মহাপুণ্য বলা হয়েছে। কলিযুগে নিত্য বিষ্ণুপাঠ ও ভাগবতগানকে প্রধান ধর্ম, গোপীচন্দন তিলক ও দান, দ্বাদশী-জাগরণ, এবং প্রতিদিন “দ্বারকা” নাম উচ্চারণকে তীর্থসদৃশ পুণ্যদায়ক বলা হয়েছে।

कार्तिके चक्रतीर्थस्नानदानश्राद्धादिमाहात्म्यवर्णनम् (Kartika Observances at Cakratīrtha: Bathing, Gifts, and Śrāddha)
এই অধ্যায়ে প্রহ্লাদ শ্রীকৃষ্ণ-উপাসনা-কেন্দ্রিক মহাপুণ্যদায়ক বিধান এবং দ্বারকা-তীর্থের নীতিধর্ম ব্যাখ্যা করেন। শুরুতে পত্র-অর্ঘ্যসহ পূজার কথা—নিজ নামাঙ্কিত পাতা দিয়ে শ্রীপতির আরাধনা, বিশেষত লক্ষ্মী-সম্পর্কিত শ্রীবৃক্ষের পাতা দ্বারা পূজা অপরিসীম ফলদায়ক; অধ্যায়ের মূল্যায়নে এটিকে তুলসীর চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। রবিবার-যুক্ত দ্বাদশীর বিশেষ কার্যকারিতা এবং ‘হরির দিন’-এ পুণ্যসমাবেশের কথাও বলা হয়। এরপর দ্বারকার দান-ধর্মের রীতি—যতি/সন্ন্যাসীদের ভোজন করানো, বস্ত্র ও প্রয়োজনীয় দ্রব্য দান, এবং ঘোষণা যে অন্যত্র বৃহৎ ভোজের ফল দ্বারকায় এক জন ভিক্ষুককে আহার দিলেও লাভ হয়। কৃষ্ণ-কীর্তনের উদ্ধারকারী শক্তি, দ্বারকাবাসী ও আশ্রিত প্রাণীদের উপর রক্ষাকবচের বিস্তারও বর্ণিত। কার্তিক মাসের আচরণ—গোমতীতে ও রুক্মিণী-হ্রদে স্নান, একাদশীতে উপবাস, দ্বাদশীতে চক্রতীর্থে শ্রাদ্ধ, নির্দিষ্ট খাদ্যে ব্রাহ্মণ-ভোজন ও দক্ষিণা-দানের দ্বারা পিতৃতৃপ্তি ও ভগবৎপ্রসাদ নিশ্চিত হয়। শেষে ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে, তীর্থে শুদ্ধ হয়ে কার্তিক-ব্রত পালনকারীর পুণ্য অক্ষয় থাকে।

गोमतीस्नान–कृष्णपूजन–यतिभोजन–दान–श्राद्धादि सत्फलवर्णनम् (Merits of Gomatī Bathing, Kṛṣṇa Worship, Feeding Ascetics, Gifts, and Śrāddha)
এই অধ্যায়ে প্রহ্লাদের কথিত ধর্ম‑সংলাপে দ্বারকা ও গোমতীর বিশেষ মাহাত্ম্য বর্ণিত। গোমতীতে স্নান করে কেতকী, তুলসী প্রভৃতি নিবেদনসহ শ্রীকৃষ্ণের পূজা করলে অতুল মঙ্গল লাভ হয়, কঠোর সংসারচক্র থেকে রক্ষা মেলে; ফলশ্রুতিতে একে অমৃতত্বসদৃশ পুণ্য বলা হয়েছে। কেবল মনে দ্বারকার স্মরণও অতীত‑বর্তমান‑ভবিষ্যৎ পাপ দগ্ধ করে, আর কলিযুগে দ্বারকামুখী ভক্তিভাবকে মানবজীবনের সার্থকতার লক্ষণ বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, দ্বারকায় একজনকে অন্নদান/ভোজন করানোর ফল অন্যত্র অসংখ্যকে ভোজন করানোর চেয়েও অধিক। যতি‑ভোজন, দান ইত্যাদির মহিমা প্রসঙ্গক্রমে উল্লিখিত। পিতৃগণ দ্বারকায় অবস্থান করেন—এই ধারণায় গোমতীস্নানপূর্বক তিলোদক প্রদান, শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান করলে অক্ষয় ফল হয় এবং পিতৃপুরুষদের দীর্ঘকাল তৃপ্তি হয়। গ্রহণ, ব্যতীপাত, সংক্রান্তি, বৈধৃতি ও নানা তিথি‑ব্রতকে কর্মকালের নির্দেশ হিসেবে উল্লেখ করে, তীর্থতালিকার মাধ্যমে দ্বারকার শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

द्वारकाक्षेत्रे वृषोत्सर्गादिक्रियाकरण-द्वारकामाहात्म्यश्रवणादि-फलवर्णनम् (Chapter 42: Results of bull-release and related rites; fruits of hearing/reciting Dvārakā Māhātmya)
এই অধ্যায়ে প্রহ্লাদের মুখে ফলশ্রুতি-নির্ভর উপদেশ সুসংবদ্ধভাবে বলা হয়েছে। দ্বারকায়—বিশেষত বৈশাখ ও কার্তিকে—বৃষোৎসর্গ (বিধিপূর্বক ষাঁড় মুক্তি) করলে পরলোকে উন্নতি ও দুর্গতি থেকে মুক্তি লাভ হয়। ব্রহ্মহত্যা, সুরাপান, চৌর্য, গুরু-সম্পর্কিত অপরাধ প্রভৃতি মহাপাপের উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে গোমতীতে স্নান ও শ্রীকৃষ্ণ দর্শনে দীর্ঘদিনের সঞ্চিত পাপও ক্ষয় হয়। কলিযুগে ভক্তিমূলক আচরণের বিশেষ মাহাত্ম্য—ভক্তিভরে রুক্মিণী দর্শন, নগর পরিক্রমা এবং সহস্রনাম জপ। দ্বাদশীতে বিষ্ণুর সন্নিধানে দ্বারকা-মাহাত্ম্য পাঠের বিধান করে তার ফলে দিব্য গমন ও স্বর্গীয় সম্মান প্রাপ্তির কথা বলা হয়েছে। পরে বংশ-আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে বলা হয়—“এমন সাধক আমাদের কুলে জন্ম নিক।” তারা গোমতী-সমুদ্র সঙ্গমে স্নান করে, সপিণ্ড-সহ শ্রাদ্ধ সম্পাদন করে, বৈষ্ণবদের সম্মান করে (গোপীচন্দন দানসহ), এবং মাহাত্ম্য পড়ে, শোনে, লিখে ও গৃহে সংরক্ষণ করে। লিখিত-ধারণকে মহাদান ও তপস্যার সমতুল্য নিত্যপুণ্যদায়ক, ভয়নাশক ও ক্রিয়ার ত্রুটি প্রশমক বলা হয়েছে। শেষে দ্বারকাকে বিষ্ণু, সর্বতীর্থ, দেব, যজ্ঞ, বেদ ও ঋষিদের সন্নিধিস্থান বলে ঘোষণা করে সতর্ক করা হয়েছে—মাহাত্ম্য না শুনলে গুণ নিষ্ফল; শ্রদ্ধায় শ্রবণে নির্দিষ্ট সময়ে সমৃদ্ধি ও সন্তানলাভ হয়।

तुलसीपत्रकाष्ठमहिमा तथा द्वारकायात्राविधिवर्णनम् | The Glory of Tulasī (Leaf & Wood) and the Procedure of the Dvārakā Pilgrimage
এই অধ্যায়ে প্রহ্লাদের বচনে তুলসীপাতা দিয়ে বিষ্ণুপূজার মহিমা বর্ণিত হয়েছে। তুলসীদল নিবেদনকে সর্বকাম-ফলদায়ক বলা হয়েছে এবং পূজার অবশিষ্ট বস্তুগুলির পবিত্রতা ও মর্যাদাও প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এরপর বিষ্ণু-সম্পর্কিত দ্রব্যের পুণ্য-ক্রম আলোচনা হয়—পাদোদক, শঙ্খোদক, নৈবেদ্য-শেষ ও নির্মাল্য; এগুলির সেবন, ধারণ ও সম্মান মহাযজ্ঞসম ফলদায়ক বলে তুলনা করা হয়েছে। স্নান ও পূজার সময়ে ঘণ্টাবাদনের বিধিও বলা হয়েছে, যা অন্য বাদ্যের বিকল্প হয়েও মহাপুণ্য উৎপন্ন করে। পরে তুলসীকাষ্ঠ ও তুলসীজাত চন্দনের শুদ্ধিকারক শক্তি, দেবতা ও পিতৃকার্যে দান-ব্যবহার, এবং দাহসংস্কারে তার প্রয়োগে মুক্তিমুখী ফল ও ভগবৎস্বীকৃতির কথা বলা হয়। শেষে সূত কাহিনি তীর্থযাত্রার পথে নিয়ে যান—দ্বারকা-মাহাত্ম্যে সন্তুষ্ট ঋষিগণ ও বলি দ্বারকায় গমন করেন, গোমতীতে স্নান করে শ্রীকৃষ্ণের পূজা করেন, বিধিপূর্বক যাত্রা ও দান সম্পন্ন করে প্রত্যাবর্তন করেন; এভাবে উপদেশ কর্মরূপে প্রতিফলিত হয়।

स्कन्दमहापुराणश्रवणपठन-पुस्तकप्रदान-व्यासपूजनमाहात्म्य तथा उपसंहार (Chapter 44: Merit of Listening/Reciting, Gifting the Text, Honoring Vyāsa; Concluding Frame)
এই অধ্যায়ে দ্বারকা-মাহাত্ম্যের অন্তর্গত স্কন্দপুরাণের উপসংহার-রূপ ফলশ্রুতি বর্ণিত। সূত প্রথমে স্কন্দ থেকে ভৃগু, অঙ্গিরা, চ্যবন, ঋচীক প্রভৃতি গুরু-শিষ্য পরম্পরা উল্লেখ করে শাস্ত্রজ্ঞান-প্রাপ্তির প্রামাণ্য ভিত্তি স্থাপন করেন। এরপর শ্রবণ ও পাঠের ফল বলা হয়—পাপক্ষয়, আয়ুবৃদ্ধি, বর্ণাশ্রমধর্মে মঙ্গল, পুত্র-ধন-দাম্পত্যসুখ লাভ, আত্মীয়-সমাগম, এমনকি শ্লোকের এক পাদমাত্র শ্রবণেও শুভগতি। পরে নীতিশিক্ষা—পাঠক/বক্তার পূজা ব্রহ্মা-বিষ্ণু-রুদ্র পূজার সমতুল্য; গুরু এক অক্ষর উপদেশ দিলেও তার ঋণ শোধ করা যায় না, তাই দান-সম্মান-অন্নবস্ত্র দিয়ে শ্রদ্ধায় সেবা করতে বলা হয়। শেষে ব্যাস-প্রসঙ্গে ঋষিগণ সূতকে প্রশংসা করেন যে তিনি সৃষ্টি-প্রতিসৃষ্টি, বংশ, মন্বন্তর, লোকবিন্যাস ইত্যাদি পুরাণবিষয় যথাযথ বলেছেন; তাঁকে বস্ত্র-অলংকারে সম্মান করে আশীর্বাদ দেন এবং নিজ নিজ যজ্ঞকর্মে প্রত্যাবর্তন করেন—এভাবেই গ্রন্থসমাপ্তি ও কৃতজ্ঞতার ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয়।
It emphasizes Dvārakā as a sanctified civilizational and devotional center tied to Kṛṣṇa’s presence and legacy, with Prabhāsa functioning as a consequential sacred node where epic-era transitions are narrated and ritually remembered.
The section’s typical purāṇic logic associates merit with remembrance, recitation, and tīrtha-contact that reinforce dharma and devotion—especially framed as accessible supports when formal religious capacities are portrayed as diminished in Kali-yuga.
Key legends include Kṛṣṇa’s life-cycle recollections (from Vraja and Mathurā to Dvārakā), the Yādava lineage’s terminal events, the sea’s inundation motif around Dvārakā, and the subsequent re-siting of sacred habitation and memory.