
Governance & Royal Duty
The duties of kings and rulers -- statecraft, justice, taxation, diplomacy, and the dharmic foundation of governance.
Rājābhiṣeka-kathana (Account of the Royal Consecration)
অগ্নি, পুষ্করের রামের কাছে জিজ্ঞাসার প্রেরণায় রাজধর্মের আলোচনা পুনরায় শুরু করে বসিষ্ঠকে রাজাভিষেকের ধাপে-ধাপে বিধান জানান। প্রথমে রাজত্বের লক্ষণ—শত্রু-দমন, প্রজা-রক্ষা ও দণ্ডের সংযত প্রয়োগ—নির্ধারিত; পরে এক বছর পুরোহিত নিয়োগ, যোগ্য মন্ত্রী নির্বাচন, উত্তরাধিকার-সময়ের নিয়ম এবং রাজার মৃত্যু হলে দ্রুত অভিষেকের বিধি বলা হয়েছে। অভিষেক-পূর্ব ঐন্দ্রী-শান্তি, উপবাস এবং বৈষ্ণব, ঐন্দ্র, সাবিত্রী, বৈশ্বদেব, সৌম্য, স্বস্ত্যয়ন মন্ত্রশ্রেণি দ্বারা কল্যাণ, দীর্ঘায়ু ও নির্ভয়তার জন্য হোম নির্দিষ্ট। অপরাজিতা কলস, স্বর্ণপাত্র, শতচ্ছিদ্র সিঞ্চনপাত্র, অগ্নির শুভ লক্ষণ-অশুভ সংকেত এবং উইঢিবি, মন্দির, নদীতীর, রাজপ্রাঙ্গণ প্রভৃতি প্রতীকী স্থানের মাটি দিয়ে মৃদ্-শোধনের বিস্তৃত বিধান আছে। শেষে চার বর্ণের মন্ত্রীদের পৃথক পাত্রে সিঞ্চন, ব্রাহ্মণ-পাঠ, সভা-রক্ষা, ব্রাহ্মণ-দান, দর্পণ-দর্শন, শিরোবদ্ধ/মুকুট-বদ্ধ, পশুচর্মে আসন, প্রদক্ষিণা, অশ্ব-গজ-যাত্রা, নগরপ্রবেশ, দান ও বিসর্জন—এভাবে অভিষেককে রাজ্যাভিষেক ও ধর্মযজ্ঞ উভয় রূপে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
Abhiṣeka-mantrāḥ (Consecration Mantras)
এই অধ্যায়টি রাজাভিষেকের মন্ত্রবিধি-গ্রন্থ। পুষ্কর কুশা-পবিত্র কলশজল ছিটিয়ে পাপহর মন্ত্র জপের নির্দেশ দেন এবং বলেন, এতে সর্বসিদ্ধি ও সর্বাঙ্গীন সাফল্য লাভ হয়। পরে এটি রক্ষা ও জয়-প্রয়োগের বিশ্বকোষীয় তালিকায় বিস্তৃত—ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর, বাসুদেব-ব্যূহ, দিক্পাল, ঋষি-প্রজাপতি, পিতৃবর্গ, পবিত্র অগ্নি, দেবপত্নী ও রক্ষাশক্তি; এবং কালের বিন্যাস—কল্প, মন্বন্তর, যুগ, ঋতু, মাস, তিথি, মুহূর্ত। এরপর মনু, গ্রহ, মরুত, গন্ধর্ব-অপ্সরা, দানব-রাক্ষস, যক্ষ-পিশাচ, নাগ, দিব্য বাহন ও অস্ত্র, আদর্শ ঋষি ও রাজা, বাস্তুদেবতা, লোক-দ্বীপ-বর্ষ-পর্বত, তীর্থ ও পবিত্র নদী—শেষে অভিষেক-রক্ষা মন্ত্রে উপসংহার। সর্বজগতের শৃঙ্খলা আহ্বান করে রাজত্বকে ধর্মময় ও সুরক্ষিত করা হয়।
Sahāya-sampattiḥ (Securing Support/Allies): Royal Appointments, Court Offices, Spies, and Personnel Ethics
অভিষেক-মন্ত্রের পর এই অধ্যায়ে ‘সহায়-সম্পত্তি’—অভিষিক্ত রাজা কীভাবে দক্ষ মানব-ব্যবস্থার দ্বারা বিজয় সুদৃঢ় করেন—তা বলা হয়েছে। সেনাপতি, প্রতীহার, দূত, ষাড্গুণ্য-বিদ্ সন্ধি-বিগ্রহিক, রক্ষক ও সারথি, রসদ-প্রধান, সভাসদ, লেখক, দ্বারাধিকারী, কোষাধ্যক্ষ, বৈদ্য, গজ-অশ্বাধ্যক্ষ, দুর্গপাল এবং বাস্তুজ্ঞ স্থপতি প্রভৃতি পদে নিয়োগের নকশা দেওয়া আছে। অন্তঃপুরে বয়সানুযায়ী কর্মী নিয়োগ, অস্ত্রাগারে সতর্কতা, পরীক্ষিত চরিত্র ও উত্তম/মধ্যম/অধম ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ বণ্টন, এবং প্রমাণিত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব মিলিয়ে দেওয়ার নীতি বর্ণিত। প্রয়োজনে দুষ্টের সঙ্গও গ্রহণযোগ্য, কিন্তু বিশ্বাস নয়; গুপ্তচর রাজ্যের চোখ—এই মতও প্রতিষ্ঠিত। শেষে বহু উৎসের পরামর্শ, আনুগত্য-বিদ্বেষের মনস্তত্ত্ব জ্ঞান, এবং প্রজাপ্রীতি ও জনকল্যাণমূলক কর্মে সমৃদ্ধি এনে সত্য সার্বভৌমত্ব লাভের কথা বলা হয়েছে।
Adhyaya 222 — राजधर्माः (Rājadharmāḥ): Duties of Kings (Administrative Order, Protection, and Revenue Ethics)
এই অধ্যায়ে প্রশাসনের স্তরবিন্যাস বলা হয়েছে—গ্রামপ্রধান, দশ গ্রামের তত্ত্বাবধায়ক, শত গ্রামের অধিকারী এবং জনপদ/জেলার শাসক। পারিশ্রমিক কর্মফল অনুযায়ী হবে এবং আচরণ নিয়মিত পরিদর্শনে নিরীক্ষিত হবে। শাসনের মূলনীতি ‘রক্ষা’—নিরাপদ রাজ্য থেকেই রাজার সমৃদ্ধি; রক্ষা না করলে রাজধর্মও ভণ্ডামি হয়। অর্থকে ধর্ম ও কামের কার্যকর ভিত্তি বলা হয়েছে, তবে তা শাস্ত্রসম্মত কর ও দুষ্টদমন দ্বারা অর্জিত হতে হবে। মিথ্যা সাক্ষ্য ইত্যাদির জরিমানা, মালিকবিহীন সম্পত্তি তিন বছর জমা রাখা, মালিকানা প্রমাণের মানদণ্ড, এবং নাবালক, কন্যা, বিধবা ও দুর্বল নারীদের অভিভাবকত্ব—আত্মীয়দের অবৈধ দখল থেকে সুরক্ষা—বর্ণিত। সাধারণ চুরিতে রাজা ক্ষতিপূরণ দেবেন; চুরি-রোধী কর্মচারীর অবহেলা হলে তার কাছ থেকে আদায় করা যেতে পারে; গৃহাভ্যন্তরীণ চুরিতে দায় সীমিত। রাজস্বনীতিতে শুল্ক এমন হবে যাতে বণিকের ন্যায্য লাভ থাকে; ঘাট/ফেরিতে নারী ও সন্ন্যাসীদের ছাড়; শস্য, বনজ, পশু, স্বর্ণ ও পণ্যে নির্দিষ্ট অংশ। কল্যাণবিধানও আছে—ক্ষুধার্ত শ্রোত্রিয়দের কর নয়, বরং জীবিকা-সহায়তা; তাদের মঙ্গল রাজ্যের মঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত।
Adhyaya 223 — Rājadharmāḥ (Royal Duties: Inner Palace Governance, Trivarga Protection, Courtly Conduct, and Aromatic/Hygienic Sciences)
এই অধ্যায়ে রাজধর্মকে ‘অন্তঃপুর-চিন্তা’ পর্যন্ত বিস্তৃত করে অন্তঃপুরের শাসনব্যবস্থা বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে—ধর্ম, অর্থ ও কাম পরস্পর-রক্ষা এবং যথাযথ সেবাবিন্যাসের দ্বারা সুরক্ষিত থাকে। ত্রিবর্গকে বৃক্ষরূপে দেখানো হয়েছে: ধর্ম মূল, অর্থ শাখা, আর কর্মফল ফল; এই বৃক্ষ রক্ষা করলে ন্যায্য ফলভাগ লাভ হয়। এরপর আহার, নিদ্রা ও যৌনাচারে সংযম, এবং অন্তঃপুর-সম্পর্কে স্নেহ/বৈরাগ্য, লজ্জা বা দুর্নীতির লক্ষণ নির্ণয়ের নির্দেশ দিয়ে কলহ ও ষড়যন্ত্র নিবারণের নীতি বলা হয়েছে। পরবর্তী অংশে অষ্টবিধ ‘অন্তঃপুর-বিজ্ঞান’—শৌচ, আচমন, বিরেচন, মর্দন/ভাবনা, পাক, উত্তেজন, ধূপন ও সুগন্ধিকরণ—উপস্থাপিত। ধূপদ্রব্য, স্নান-সুগন্ধি, সুগন্ধিত তেল, মুখবাস, বড়ি-প্রস্তুতি ও স্বাস্থ্যবিধির তালিকা আছে। শেষে রাজাকে বিশ্বাস ও রাত্রিচর্যায় সতর্কতা এবং নিরাপত্তাকে ধর্মসম্মত রাজ্যশাসনের অঙ্গ বলা হয়েছে।
Rāja-dharma (राजधर्माः) — Protection of the Heir, Discipline, Counsel, and the Seven Limbs of the State
এই অধ্যায়ে রাজধর্ম ও নীতিশাস্ত্রের ধারায় পুষ্কর বলেন—রাজ্যরক্ষার প্রথম শর্ত যুবরাজকে রক্ষা করা। রাজপুত্রকে ধর্ম-অর্থ-কাম ও ধনুর্বেদে শিক্ষিত করতে হবে, বিনীত ও সংযত লোকদের সান্নিধ্যে রাখতে হবে এবং দুষিত সঙ্গ থেকে দূরে রাখতে হবে। এরপর ব্যক্তিগত শৃঙ্খলা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা—বিনীতদের পদে নিয়োগ, শিকার, মদ্যপান, পাশা/জুয়া ইত্যাদি ব্যসন ত্যাগ, কঠোর বাক্য, পরনিন্দা, কুৎসা ও অর্থদূষণ বর্জন। অযোগ্য দেশ-কাল-পাত্রে দানকে দোষ বলা হয়েছে এবং জয়ের ক্রম নির্ধারিত—প্রথমে দাস-ভৃত্য দমন, পরে নগর ও জনপদকে বশ করা, তারপর পরিখা প্রভৃতি বাহ্য প্রতিরক্ষা। মিত্রের ত্রিবিধ ভেদ ও সপ্তাঙ্গ রাষ্ট্রতত্ত্বে রাজাকে মূল বলে সর্বাধিক রক্ষার কথা, আর দণ্ড দেশ-কাল অনুযায়ী। মন্ত্রনীতিতে অঙ্গভঙ্গি দেখে চরিত্র বোঝা, পরামর্শ গোপন রাখা, নির্বাচিত মন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা ও গোপন ফাঁস রোধের নির্দেশ আছে। রাজশিক্ষায় আন্বীক্ষিকী, অর্থবিদ্যা ও বার্তা—ইন্দ্রিয়সংযমভিত্তিক। শেষে দুর্বলদের ভরণ, সতর্ক বিশ্বাস, পশু-উপমায় রাজাচরণ এবং প্রজাপ্রীতি থেকেই রাজসমৃদ্ধি—এই সিদ্ধান্ত।
Chapter 225 — राजधर्माः (The Duties of Kings): Daiva and Pौरुष (Effort), Upāyas of Statecraft, and Daṇḍa (Punitive Authority)
এই অধ্যায়ে ‘দৈব’কে পূর্বকর্মের অবশিষ্ট ফল বলে ব্যাখ্যা করে রাজকার্যে পৌরুষ (মানবপ্রচেষ্টা)কেই সাফল্যের প্রধান উপায় বলা হয়েছে। তবে বাস্তবসম্মতভাবে জানানো হয়েছে—অনুকূল পরিস্থিতি সহ প্রচেষ্টা সময়মতো ফল দেয়, যেমন বৃষ্টির সহায়তায় চাষ সফল হয়। নীতিশাস্ত্রে রাজার উপায়—সাম, দান, ভেদ, দণ্ড—এবং আরও মায়া (কৌশলী ছল), উপেক্ষা (পরিমিত উদাসীনতা), ইন্দ্রজাল (মোহ/কূটকৌশল) মিলিয়ে সাত প্রয়োগ বর্ণিত। পরস্পরবিরোধী দলগুলির মধ্যে ভেদ ঘটানো, এবং শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার আগে মিত্র, মন্ত্রী, রাজস্বজন, কোষাগার ইত্যাদি অন্তঃবাহ্য সম্পদ সুসংহত করার উপদেশ দেওয়া হয়েছে। দানকে প্রভাব বিস্তারের শ্রেষ্ঠ অস্ত্র বলা হয়েছে; দণ্ডকে লোকধর্ম ও সামাজিক শৃঙ্খলার স্তম্ভ হিসেবে ন্যায়সঙ্গত ও সূক্ষ্ম প্রয়োগযোগ্য বলা হয়েছে। শেষে রাজাকে সূর্য-চন্দ্রের মহিমা ও সুলভতা, বায়ুর মতো গুপ্তচর-বুদ্ধি, এবং যমের মতো দোষনিগ্রহের সঙ্গে তুলনা করে ধর্মীয় বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে রাষ্ট্রনীতির যোগ স্থাপন করা হয়েছে।
Chapter 226 — राजधर्माः (Rājadharma: Royal Duties and Daṇḍanīti)
এই অধ্যায়ে রাজধর্মের অন্তর্গত দণ্ডনীতি সুসংহতভাবে বর্ণিত। প্রথমে কৃষ্ণল, ত্রিযব, সুবর্ণ, নিষ্ক, ধরণ, কার্ষাপণ/পণ ইত্যাদি ওজন‑মুদ্রার মান নির্ধারণ করে সেই মান অনুযায়ী জরিমানা ও দণ্ডের পরিমাপ স্থির করা হয়েছে; বিশেষত সাহসের তিন স্তর—প্রথম, মধ্যম, উত্তম—এর ক্রমিক দণ্ড। পরে মিথ্যা চুরি‑অভিযোগ, রাজরক্ষক/বিচারকের সামনে অসত্য বক্তব্য, কূটসাক্ষ্য, এবং নিক্ষেপ (জমা) আত্মসাৎ বা নষ্ট করার শাস্তি বলা হয়েছে। বাণিজ্য‑শ্রম বিরোধে অন্যের সম্পত্তি বিক্রি, মূল্য নিয়ে দ্রব্য না দেওয়া, কাজ না করে মজুরি নেওয়া, এবং দশ দিনের মধ্যে বিক্রয় প্রত্যাহারের নিয়ম আছে। বিবাহ‑প্রতারণা, পূর্বে প্রদত্ত কন্যার পুনর্বিবাহ, ও অভিভাবক/প্রহরীর অবহেলাও উল্লেখিত। গ্রামসীমা‑পরিমাপ, প্রাচীরাদি নগররক্ষা, সীমালঙ্ঘন, চুরির স্তরভেদ এবং মহাচুরি‑অপহরণে প্রাণদণ্ড পর্যন্ত বিধান আছে। অপমান ও অসদাচরণে বর্ণভেদে দণ্ড, গুরুতরে অঙ্গচ্ছেদ; ব্রাহ্মণের ক্ষেত্রে দেহদণ্ডের বদলে নির্বাসন প্রধান। দুর্নীতিগ্রস্ত প্রহরী‑মন্ত্রী‑বিচারকের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও নির্বাসন। শেষে অগ্নিসংযোগ, বিষপ্রয়োগ, পরস্ত্রীগমন, আক্রমণ, বাজার‑প্রতারণা (ভেজাল/নকল মুদ্রা), অশৌচ, অনুচিত সমন ও হেফাজত থেকে পলায়ন—এসবের বিরুদ্ধে ধর্মরক্ষায় রাষ্ট্রের শৃঙ্খলাবদ্ধ দণ্ডব্যবস্থা প্রতিপাদিত।
युद्धयात्रा (Yuddhayātrā) — The War-Expedition
এই অধ্যায়ে দণ্ডপ্রণয়নের প্রসঙ্গ থেকে অগ্রসর হয়ে রাজার পরবর্তী কর্তব্য—যুদ্ধযাত্রা কখন ও কীভাবে করা উচিত—তা বলা হয়েছে। পুষ্কর রাজধর্ম ও নীতিশাস্ত্রের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তের মানদণ্ড দেন: শক্তিশালী শত্রুর হুমকি থাকলে, বিশেষত পশ্চাৎ-আক্রমণকারী পার্ষ্ণিগ্রাহ সুবিধা পেলে রাজা অভিযান করবে; তবে আগে প্রস্তুতি যাচাই—সুসজ্জিত যোদ্ধা, সহায়ক-অনুচর, পর্যাপ্ত রসদ, এবং রাজধানী/ঘাঁটির নিরাপদ রক্ষা। এরপর নিমিত্তশাস্ত্র যুক্ত হয়—শত্রুপক্ষে দুর্যোগ, ভূমিকম্পের দিক, কেতু-দোষ ইত্যাদি সময় নির্ধারণে লক্ষণ। দেহ-স্ফুরণ, স্বপ্নলক্ষণ ও শকুন-অশকুন দেখে দুর্গাভিমুখে অগ্রসর হওয়া ও জয়ের পর প্রত্যাবর্তন নির্দেশিত। ঋতুভেদে বাহিনীর বিন্যাসও—বর্ষায় পদাতিক ও গজপ্রাধান্য, আর শীত, বসন্ত বা প্রারম্ভিক শরতে রথ-অশ্বের আধিক্য; লক্ষণ ডান-বাম ও নারী-পুরুষভেদে বিচার্য।
Chapter 228 — स्वप्नाध्यायः (Svapnādhāyaḥ / Chapter on Dreams)
পুষ্কর রাজধর্ম–নীতিশাস্ত্রের পরিসরে সুসংবদ্ধ স্বপ্নশাস্ত্র শেখান। স্বপ্নকে শুভ, অশুভ ও শোকনাশক—এই তিন ভাগে ভাগ করে দেহ ও সমাজসংক্রান্ত দৃশ্যকে ‘নিমিত্ত’ হিসেবে ধরা হয়েছে। অশুভ লক্ষণে আছে মাথায় ধুলো/ছাই, মুণ্ডন, নগ্নতা, মলিন বস্ত্র, কাদা মাখা, উচ্চস্থান থেকে পতন; গ্রহণ, ইন্দ্রধ্বজ পতন, গর্ভে পুনঃপ্রবেশ, চিতায় আরোহণ, রোগ, পরাজয়, গৃহধ্বংস ও সীমালঙ্ঘনকারী কর্ম। এগুলির প্রতিকার হিসেবে শুদ্ধি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিধান বলা হয়েছে। পাঠভেদ উল্লেখ করে বলা হয়—তৈলাক্ত পান/স্নান, লাল মালা, অভ্যঙ্গ প্রভৃতি শুভ স্বপ্ন বিশেষত না বললে অধিক ফলদায়ক। পরে স্নান, ব্রাহ্মণ ও গুরুর সম্মান, তিল-হোম, হরি–ব্রহ্মা–শিব–সূর্য–গণপূজা, স্তোত্রপাঠ ও পুরুষসূক্ত জপের নির্দেশ আছে। স্বপ্নের সময় অনুযায়ী ফল—প্রথম প্রহরে এক বছর, পরে ছয় মাস, তিন মাস, পক্ষকাল, আর ভোরের কাছে দশ দিনের মধ্যে—এবং শুভ স্বপ্নের পর পুনরায় না ঘুমোতে বলা হয়েছে। স্বপ্নশেষে রাজা/হাতি/ঘোড়া/সোনা, সাদা বস্ত্র, স্বচ্ছ জল, ফলবান বৃক্ষ, নির্মল আকাশ দেখা সমৃদ্ধির লক্ষণ; নিমিত্তকে ভাগ্যবাদ নয়, ধর্মসম্মত সংশোধনের আহ্বান হিসেবে দেখানো হয়েছে।
Chapter 229 — शकुनानि (Śakuna: Omens)
এই অধ্যায়ে স্বপ্ন-অধ্যায়ের পরেই ‘শকুন’ বা জনসমক্ষে দেখা-শোনা ও সাক্ষাৎজনিত লক্ষণ আলোচনা করা হয়েছে, যা রাজধর্ম ও গৃহস্থের সিদ্ধান্তে প্রযোজ্য। পুষ্কর অশুভ দর্শন/বস্তু/ব্যক্তির শ্রেণি বলেন—কয়লা, কাদা, চামড়া-চুল ইত্যাদি, কিছু অবমানিত/অশুচি গণ্য লোক, ভাঙা পাত্র, খুলি-হাড়—এবং অশুভ শব্দ-লক্ষণ যেমন বেসুরো বাদ্য ও কর্কশ কোলাহল। দিক ও অবস্থানভেদে ‘এসো’ ‘যাও’ ইত্যাদি বাক্যের শুভ-অশুভতা নির্ধারিত; সামনে না পেছনে থাকা ব্যক্তিকে বলা হচ্ছে তার উপরও ফল নির্ভর করে। ‘কোথায় যাচ্ছ? থামো, যেও না’—এমন মৃত্যুসূচক বাক্যও অমঙ্গল। যানবাহনের হোঁচট, অস্ত্রভঙ্গ, মাথায় আঘাত, জোড়-ফিটিং ভেঙে পড়া ইত্যাদিও অশুভ। ধর্মীয় প্রতিকার হিসেবে হরি (বিষ্ণু)-পূজা ও স্তব দ্বারা অমঙ্গল নাশ করে, পরে দ্বিতীয় নিশ্চিতকারী লক্ষণ দেখে, বিপরীত/নিবারক ক্রিয়া করে প্রবেশের বিধান। শেষে সাদা বস্তু, ফুল, পূর্ণ কলস, গাভী, অগ্নি, স্বর্ণ-রৌপ্য-রত্ন, ঘি-দই-দুধ, শঙ্খ, আখ, শুভ বাক্য ও ভক্তিগীতি—এসবকে শুভ শকুন বলা হয়েছে।
Chapter 230: शकुनानि (Śakunāni) — Omens
এই অধ্যায়ে পুষ্কর শকুনশাস্ত্রকে নিয়মবদ্ধভাবে ব্যাখ্যা করেছেন—স্থির থাকা, যাত্রা শুরু করা ও প্রশ্ন করার সময় শকুন দেখে ফল নির্ণয়, এবং দেশ-নগরের ভবিষ্যৎ ফল অনুমান। শকুন দুই প্রকার: দীপ্ত/উগ্র ও শান্ত; দীপ্ত শকুন পাপ/অশুভ ফলদায়ক, শান্ত শকুন শুভ ফলদায়ক বলা হয়েছে। সময়, দিক, স্থান, করণ (জ্যোতিষীয় উপাদান), শব্দ/ক্রন্দন ও জাতি—এই ছয় ভেদে ব্যাখ্যা, এবং পূর্ববর্তী ভেদের প্রভাব অধিক। দিক-স্থান-আচরণ-শব্দ-আহার ইত্যাদিতে দীপ্ত লক্ষণ, এবং গ্রাম্য, বনচর, নিশাচর, দিবাচর ও উভয়চর প্রাণীর তালিকা দেওয়া হয়েছে। সেনা চলাচলে অগ্র/পশ্চাৎ বিন্যাস, ডান-বাম অবস্থান, প্রস্থানে সাক্ষাৎ-সংকেত, সীমানার ভিতর/বাইরে শোনা ডাক ও ডাকের সংখ্যাভেদে ফল—এসব বিধান আছে। সারঙ্গের বছরের প্রথম দর্শন বার্ষিক ফলসূচক; রাষ্ট্রনীতিতে কুসংস্কার নয়, শাস্ত্রসম্মত বিচারই মুখ্য—এ কথা জোর দিয়ে বলা হয়েছে।
Chapter 231 — शकुनानि (Śakunāni) | Omens in Governance, Travel, and War
এই অধ্যায়ে রাজধর্ম ও নীতিশাস্ত্রের সঙ্গে শকুনশাস্ত্রকে যুক্ত করে বলা হয়েছে যে লক্ষণ-সংকেত রাজা, সেনাপতি ও যাত্রীর জন্য কার্যকর ‘বুদ্ধিবৃত্তি’ বা তথ্য। শুরুতে কাক-শকুনের দ্বারা দুর্গ অবরোধ ও নগর দখলের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে; পরে শিবির ও যাত্রাপথে বাম-ডান অবস্থান, সামনে এসে পড়া, এবং ডাকের ভিন্নতা থেকে শুভাশুভ নির্ণয় বলা হয়। দরজার কাছে ‘কাকের মতো’ সন্দেহজনক চলাফেরাকে অগ্নিসংযোগ বা প্রতারণার লক্ষণ ধরে সামাজিক সতর্কতাও আছে, এবং চিহ্ন/টোকেন, লাভ-ক্ষতি ও সম্পত্তি-প্রাপ্তির প্রমাণ সংরক্ষণের বিধানও উল্লেখিত। এরপর কুকুরের ঘেউঘেউ, হাউমাউ, শুঁকে বাম-ডান যাওয়া ইত্যাদি শকুন, দেহ-আচরণের লক্ষণ—কাঁপুনি, রক্তপাত, ঘুম-স্বপ্নের ইঙ্গিত—বর্ণিত। ষাঁড়, ঘোড়া, হাতি (বিশেষত মদাবস্থা, মিলন, প্রসবোত্তর অবস্থা) দ্বারা রাজভাগ্য নির্ণয় করা হয়। যুদ্ধ ও অভিযানে দিক, বায়ু, গ্রহ-অবস্থা এবং ছাতা পড়ে যাওয়ার মতো বিঘ্নের সঙ্গে ফলাফল যুক্ত করা হয়েছে। শেষে প্রফুল্ল সৈন্য ও শুভ গ্রহগতি বিজয়ের লক্ষণ, আর শবভোজী পাখি ও কাকের আধিক্য রাজক্ষয়ের অমঙ্গল—এইভাবে শকুন-বিচারকে ধর্মসম্মত কৌশলে স্থাপন করা হয়েছে।
Yātrā-Maṇḍala-Cintā and Rājya-Rakṣaṇa: Auspicious Travel Rules and the Twelve-King Mandala
এই অধ্যায়ে রাজযাত্রা (যাত্রা)কে রাজধর্মের অঙ্গ বলে দেখানো হয়েছে; রাজা ও সেনার গমন ধর্মকর্ম, তাই জ্যোতিষ-বিচার ও শকুন-পরীক্ষা আবশ্যক। গ্রহদৌর্বল্য, বিপরীত গতি, পীড়া, শত্রু রাশি, অশুভ যোগ (বৈধৃতি, ব্যতীপাত), করণদোষ, নক্ষত্র-ভয় (জন্ম, গণ্ড) ও রিক্ত তিথিতে যাত্রা বর্জনীয় বলা হয়েছে। দিকনির্ণয়ে উত্তর–পূর্ব ও পশ্চিম–দক্ষিণের যুগ্ম-সহযোগ, নক্ষত্র-থেকে-দিক মানচিত্র এবং ছায়ামান গণনা (দিন/গ্রহ অনুসারে) উল্লেখ করে নীতিতে জ্যোতিষশাস্ত্রের সংযোগ দেখানো হয়েছে। লক্ষণ শুভ হলে রাজা হরিকে স্মরণ করে বিজয়ের জন্য অগ্রসর হন; পরে রাষ্ট্ররক্ষায় সপ্তাঙ্গ তত্ত্ব ও মণ্ডলনীতি ব্যাখ্যা করা হয়। দ্বাদশ-রাজা মণ্ডল, শত্রুর প্রকার, পশ্চাৎ-হুমকি পার্ষ্ণিগ্রাহ, আক্রন্দ-আসার প্রভৃতি কৌশল, এবং দণ্ড-অনুগ্রহে সমদর্শী শক্তিশালী শাসকের আদর্শ বর্ণিত। শেষে ধর্মসম্মত জয়ের নীতি—অশত্রুকে ভীত না করা, জনবিশ্বাস রক্ষা করা, এবং ধর্মবিজয়ে আনুগত্য অর্জন—উপসংহৃত।
Chapter 233 — Ṣāḍguṇya (The Six Measures of Royal Policy) and Foreign Daṇḍa
এই অধ্যায়ে অন্তর্দণ্ড থেকে পররাষ্ট্রদণ্ডনীতিতে গমন করে পুষ্কর বহিঃশত্রু দমনের উপায় এবং রাজনীতির ষাড্গুণ্য স্পষ্ট করেন। দণ্ড দুই প্রকার—প্রকাশ্য ও গূঢ়; লুণ্ঠন, গ্রাম ও শস্যক্ষেত্র ধ্বংস, অগ্নিসংযোগ, বিষপ্রয়োগ, লক্ষ্যভেদী হত্যা, অপবাদ/নিন্দা, জলদূষণ ইত্যাদি দ্বারা শত্রুর সমর্থনভিত্তি ছিন্ন করার কথা বলা হয়েছে। সংঘর্ষ অলাভজনক হলে বা সম্পদক্ষয় ঘটলে ‘উপেক্ষা’কে হিসাবি নীতি হিসেবে গ্রহণ করতে বলা হয়। পরে মায়োপায়—কৃত্রিম অমঙ্গল-লক্ষণ, শকুন-চালনা (উল্কাসদৃশ অগ্নিযন্ত্রসহ), প্রচার, যুদ্ধনাদ, ‘ইন্দ্রজাল’ যুদ্ধমায়া—শত্রুর মনোবল ভাঙা ও নিজপক্ষ দৃঢ় করার জন্য নির্দেশিত। শেষে সন্ধি, বিগ্রহ, যান, আসন, দ্বৈধীভাব ও সংश्रয়/সম্শয়—এই ছয় উপায় বিধিবদ্ধ করে বলা হয় সমান বা অধিক শক্তিশালীর সঙ্গে মিত্রতা, এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী কখন স্থির থাকা, কখন অভিযান, কখন দ্বৈতনীতি, আর কখন শ্রেষ্ঠ শক্তির আশ্রয় গ্রহণ করা উচিত।
Prātyahika-Rāja-Karma (Daily Duties of a King)
এই অধ্যায়ে রাজার দৈনন্দিন আদর্শ কর্মসূচি বর্ণিত। তিনি ভোরে উঠে বাদ্যধ্বনির মধ্যে গোপন বা ছদ্মবেশী লোকদের পরীক্ষা করেন, তারপর আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখে শাসনের শুরুতেই আর্থিক জবাবদিহি স্থাপন করেন। শৌচ-স্নানের পর সন্ধ্যা, জপ, বাসুদেব-পূজা, হোম ও পিতৃতর্পণ করে ব্রাহ্মণদের দান দেন—যাতে রাজক্ষমতা যজ্ঞ-দানধর্মে প্রতিষ্ঠিত থাকে। এরপর চিকিৎসকের নির্দেশিত ঔষধ সেবন, গুরুর আশীর্বাদ নিয়ে সভায় প্রবেশ করে ব্রাহ্মণ, মন্ত্রী ও প্রধান প্রতিনিধিদের সঙ্গে পূর্বনজির ও পরামর্শে বিচার-কার্য নির্ণয় করেন। মন্ত্ররক্ষা বিশেষভাবে বলা হয়েছে—একাকী বা অতিরিক্ত প্রকাশ্যে না থাকা, আকার-ইঙ্গিত দেখে গোপন কৌশল ফাঁসের আশঙ্কা বোঝা। দিনে সেনা-পরিদর্শন, যান ও অস্ত্র-প্রশিক্ষণ, খাদ্য-নিরাপত্তা; সন্ধ্যায় পুনরায় উপাসনা, পরামর্শ, গুপ্তচর নিয়োগ এবং অন্তঃপুরে রক্ষিত চলাচল—ধর্মনিয়ন্ত্রিত সতর্ক রাজধর্মের চিত্র।
Raṇadīkṣā (War-Consecration) — Agni Purāṇa Adhyāya 235
এই অধ্যায়ে সাত দিনের মধ্যে রাজযাত্রা ও যুদ্ধারম্ভের ‘রণদীক্ষা’ ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত, যেখানে যুদ্ধকে ধর্মসম্মত কর্ম বলে শুচিতা, দেবানুগ্রহ ও ন্যায়ের শাসন অপরিহার্য। প্রথমে বিষ্ণু-শিব-গণেশ পূজা; তারপর দিনক্রমে দিকপাল, রুদ্র, গ্রহ ও অশ্বিনীকুমারদের শান্তি, পথে যেসব দেবতার সম্মুখীন হওয়া যায় তাঁদের উদ্দেশে অর্ঘ্য, এবং রাত্রিতে ভূতপ্রেতাদি শক্তির জন্য নিবেদন। মন্ত্রনির্ভর স্বপ্ন-অনুষ্ঠানে শুভ-অশুভ লক্ষণ যাচাই হয়; ষষ্ঠ দিনে বিজয়-স্নান ও অভিষেক, সপ্তম দিনে ত্রিবিক্রম পূজা, অস্ত্র-যানবাহনের নীরাজন-সংস্কার ও রক্ষাপাঠ করে রাজা হাতি, রথ, অশ্ব ও ধুর্য পশুতে আরোহনের সময় পিছনে না তাকান। পরের অংশে ধনুর্বেদ ও রাজনীতি: কূটকৌশল, ব্যূহের শ্রেণিবিভাগ (পশু/অঙ্গ-আকৃতি ও বস্তু-আকৃতি), গরুড়, মকর, চক্র, শ্যেন, অর্ধচন্দ্র, বজ্র, শকট, মণ্ডল, সর্বতোভদ্র, সূচী প্রভৃতি রচনা এবং পাঁচ প্রকার সেনাবিভাগ। রসদপথ নষ্ট হলে বিপদ, রাজা নিজে সম্মুখযুদ্ধে না নামা, সারির দূরত্ব, ভেদকৌশল, ঢালধারী-ধনুর্ধর-রথাদির ভূমিকা, ভূখণ্ড অনুযায়ী বাহিনী নিয়োগ, মনোবলবর্ধক পুরস্কার ও বীরমৃত্যুর ধর্মতত্ত্ব বলা হয়েছে। শেষে সংযমনীতি: পলায়নকারী, নিরস্ত্র, অসামরিক, শরণাগতকে হত্যা নয়; নারীর রক্ষা; বিজয়ের পর স্থানীয় আচার মানা, লভ্যাংশ ন্যায্য বণ্টন ও সৈনিকদের পরিবার রক্ষা—এ রণদীক্ষাই ধর্মবান রাজার বিজয় নিশ্চিত করে।
Adhyaya 236 — श्रीस्तोत्रम् (Śrī-stotra) / Hymn to Śrī (Lakṣmī) for Royal Stability and Victory
এই অধ্যায়ে পূর্বাংশের ভিন্ন কলফনের উল্লেখ করে রাজধর্মে ভক্তির প্রয়োগ দেখানো হয়েছে। পুষ্কর বলেন—রাজ্যলক্ষ্মীর স্থিতি ও বিজয়ের জন্য রাজা ইন্দ্র যে শ্রীস্তোত্রে শ্রী (লক্ষ্মী)-কে স্তব করেছিলেন, সেই স্তোত্র জপ করবে। ইন্দ্রের স্তোত্রে লক্ষ্মীকে জগন্মাতা, বিষ্ণুর অবিচ্ছেদ্য শক্তি, মঙ্গল-সমৃদ্ধি ও সভ্যতাধারণের কারণ বলা হয়েছে; তিনি কেবল ধনরূপা নন, শাসনের স্তম্ভ—আন্বীক্ষিকী, ত্রয়ী, বার্তা ও দণ্ডনীতি—এই বিদ্যাগুলির মূর্ত প্রতীকও, ফলে রাজনীতি দেবীশক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়। শিক্ষা হলো—শ্রী সরে গেলে লোকের অবনতি ও গুণ-ধর্মের পতন ঘটে, আর তাঁর কৃপাদৃষ্টি পড়লে অযোগ্যও গুণ, বংশমর্যাদা ও সাফল্য লাভ করে। শেষে বলা হয়েছে, এই স্তোত্রের পাঠ ও শ্রবণে ভুক্তি ও মুক্তি উভয়ই মেলে, এবং শ্রীপতি ইন্দ্রকে স্থির রাজ্য ও রণবিজয়ের বর দেন।
Chapter 237 — Rāma’s Teaching on Nīti (रामोक्तनीतिः)
ভগবান অগ্নি লক্ষ্মণকে উদ্দেশ করে রামের উপদেশরূপ নীতির কথা বলেন—বিজয়মুখী হলেও তা ধর্মসম্মত। রাজধর্মকে শাস্ত্রনিষ্ঠ ও আত্মসংযমমূলক প্রয়োগবিজ্ঞান হিসেবে দেখানো হয়েছে। রাজার চার প্রকার অর্থ-নৈতিক কর্তব্য: ধর্মপূর্বক ধন অর্জন, তার বৃদ্ধি, রক্ষা এবং যোগ্য পাত্রে যথাযথ বণ্টন। শাসননীতি (নয়)-এর মূল বিনয়—শাস্ত্রনিশ্চয়জাত ইন্দ্রিয়জয়। বুদ্ধি, স্থৈর্য, দক্ষতা, উদ্যোগ, অধ্যবসায়, বাক্পটুতা, দানশীলতা, বিপদসহিষ্ণুতা প্রভৃতি রাজগুণ এবং শৌচ, মৈত্রী, সত্য, কৃতজ্ঞতা, সমতা—সমৃদ্ধিদায়ক গুণ বলা হয়েছে। বিষয়বনের মধ্যে ঘুরে বেড়ানো ‘ইন্দ্রিয়-হাতি’র উপমায় জ্ঞানকে অঙ্কুশ করে সংযমের নির্দেশ, এবং কাম, ক্রোধ, লোভ, হর্ষ, মান, মদ—এই ছয় অন্তঃশত্রু ত্যাগের উপদেশ। চার বিদ্যা—আন্বীক্ষিকী, ত্রয়ী, বার্তা, দণ্ডনীতি—এর ক্ষেত্র যথাক্রমে হিত, ধর্ম, লাভ-ক্ষতি ও ন্যায়-অন্যায় নীতি। সর্বজনীন ধর্ম: অহিংসা, সত্য ও মধুর বাক্য, পবিত্রতা, দয়া, ক্ষমা; রাজা দুর্বলকে রক্ষা করবে, অত্যাচার করবে না, শত্রুকেও প্রীতিকর কথা বলবে, গুরু-বৃদ্ধকে সম্মান করবে, বিশ্বস্ত মৈত্রী লালন করবে, অহংকারহীন দান করবে এবং সর্বদা ঔচিত্যে চলবে—এটাই মহাত্মার লক্ষণ।
Chapter 238 — राजधर्माः (Rājadharmāḥ) | Duties of Kings
এই অধ্যায়ে রাম অগ্নিপুরাণের নীতিশাস্ত্রধারায় সংক্ষিপ্ত রাজধর্ম-নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রের সপ্তাঙ্গ—স্বামী (রাজা), অমাত্য (মন্ত্রী), রাষ্ট্র/প্রজা-ভূমি, দুর্গ, কোষ, বল (সেনা) ও সুহৃদ (মিত্র)—পরস্পর-সহায়ক অঙ্গরূপে বর্ণিত। এরপর রাজা ও মন্ত্রীর গুণ—সত্যবাদিতা, বয়োজ্যেষ্ঠ-সেবা, কৃতজ্ঞতা, বুদ্ধি, শুচিতা, আনুগত্য, দূরদৃষ্টি—এবং লোভ, দম্ভ, চঞ্চলতা প্রভৃতি দোষবর্জন, মন্ত্রগুপ্তি ও সন্ধি-বিগ্রহে দক্ষতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সমৃদ্ধ দেশের লক্ষণ, নগর স্থাপনের মানদণ্ড, দুর্গের প্রকার ও রসদ, ধর্মসম্মত কোষবৃদ্ধি, সেনা-সংগঠন ও দণ্ডবিধির শৃঙ্খলা আলোচিত। মিত্র নির্বাচন ও মিত্রতা গড়ার ত্রিবিধ উপায়—নিকটগমন, মধুর-স্পষ্ট বাক্য, সম্মানিত দান—সহ ভৃত্যাচার, অধিকারী নিয়োগ, রাজস্ব-ব্যবস্থা, প্রজাভয়ের কারণ এবং রাজ্যের ও নিজের রক্ষায় রাজার সতর্কতা বর্ণিত।
Ṣāḍguṇya — The Six Measures of Foreign Policy (with Rāja-maṇḍala Theory)
এ অধ্যায়ে রাম নীতিকে রাষ্ট্ররক্ষা ও বিস্তারের শৃঙ্খলাবদ্ধ শাস্ত্ররূপে ব্যাখ্যা করেন, যার ভিত্তি রাজ-মণ্ডলের যথার্থ মানচিত্রণ। বিজিগীষু রাজার চারদিকে দ্বাদশবিধ রাজচক্র—অরি (শত্রু), মিত্র, তাদের ক্রমিক মিত্রগণ, এবং বিশেষ অবস্থানগত শক্তি যেমন পার্ষ্ণিগ্রাহ (পশ্চাৎ-হুমকি) ও আক্রন্দ (উপদ্রবকারী) ইত্যাদি—নির্দেশিত। মধ্যম রাজা (শত্রু ও বিজিগীষুর মধ্যবর্তী) এবং উদাসীন (বহিরাগত, প্রায়ই অধিক শক্তিশালী নিরপেক্ষ) এর ভূমিকা বুঝিয়ে বলা হয়—ঐক্যবদ্ধকে অনুকূল করো, বিভক্তকে সংযত করো। সন্ধি, বিগ্রহ, যান, আসন প্রভৃতি উপায়ের প্রকারভেদ এবং অবিশ্বাস্য ব্যক্তির সঙ্গে জোট না করার কারণ বলা হয়েছে। যুদ্ধের আগে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ফল বিচার, বৈরের মূল চেনা, দ্বৈধীভাব ও প্রয়োজনে শক্তিশালীর আশ্রয় গ্রহণের উপদেশ আছে। শেষে বিপন্ন হলে মহৎ ধর্মপরায়ণ রক্ষকের শরণ নিয়ে বিশ্বস্ত আচরণকে নীতি ও ধর্মসংযমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
Mantra-śakti, Dūta-Carā (Envoys & Spies), Vyasana (Calamities), and the Sapta-Upāya of Nīti
এই অধ্যায়ে রাম ‘মন্ত্রশক্তি’কে কেবল ব্যক্তিগত বীরত্বের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে রাজশাসনকে বিবেক-নির্ভর শাস্ত্ররূপে স্থাপন করেন। জ্ঞানকে সংজ্ঞা, নিশ্চিতকরণ, সন্দেহ-নিবারণ ও অবশিষ্ট সিদ্ধান্তরূপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে; আর ‘মন্ত্র’কে পঞ্চাঙ্গ পরামর্শ—মিত্র, উপায়, দেশ-কাল বিচার, এবং বিপদে প্রতিকার—রূপে নির্ধারণ করা হয়েছে; সাফল্যের লক্ষণ মানসিক স্বচ্ছতা, শ্রদ্ধা, কার্যদক্ষতা ও সহায়ক সমৃদ্ধি। মদ, অবহেলা, কাম ও অসতর্ক বাক্যে পরামর্শ নষ্ট হয়—এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। পরে আদর্শ দূতের গুণ, দূতের তিন স্তর, শত্রু-ভূমিতে প্রবেশের শিষ্টাচার ও শত্রুর অভিপ্রায় পড়ার কৌশল বর্ণিত। গুপ্তচরনীতিতে প্রকাশ্য এজেন্ট ও পেশাভিত্তিক ছদ্মবেশী গূঢ়চরদের কথা আছে। ব্যসন (বিপর্যয়) দৈব ও মানব—দুই ভাগে শ্রেণিবদ্ধ করে শান্তি ও নীতিগত প্রতিকার নির্দেশ করা হয়েছে; রাষ্ট্রের মূল বিষয়—আয়-ব্যয়, দণ্ডনীতি, শত্রু-প্রতিরোধ, দুর্যোগ-প্রতিক্রিয়া, রাজা ও রাষ্ট্ররক্ষা। মন্ত্রী, কোষ, দুর্গ ও রাজার ব্যসন/দোষ নির্ণয়, শিবির-নিরাপত্তা, এবং শেষে সাত উপায়—সাম, দান, ভেদ, দণ্ড, উপেক্ষা, ইন্দ্রজাল ও মায়া—উপভেদ ও ধর্মসীমাসহ, ব্রাহ্মণদের প্রতি সংযম ও শত্রুকে মনোবলহীন করতে মায়ার ব্যবহারসহ উপস্থাপিত।
Rājanīti (Statecraft): Ṣaḍvidha-bala, Vyūha-vidhāna, and Strategic Warfare
এই অধ্যায়ে রাজনীতি-প্রকরণের সূচনা। মন্ত্র (পরামর্শ), কোষ (রাজভাণ্ডার) ও চতুরঙ্গ সেনার শৃঙ্খলিত সমন্বয়ে রাজবল নির্ধারিত। রাম বলেন—যুদ্ধ শুরু হবে দেবপূজায় এবং ষড়্বিধ বলের জ্ঞান নিয়ে: স্থায়ী সৈন্য, আহূত/উঠতি বাহিনী, মিত্রবাহিনী, দ্ৰোহী/শত্রু-উপাদান, এবং বন/আটবিক-জনজাতীয় বাহিনী—এদের গুরুত্ব ও দুর্বলতার ক্রম বিচার করে। দুর্গম পথে সেনাপতির গতি, রাজা-গৃহ ও কোষরক্ষা, এবং অশ্ব–রথ–গজ–বনবাহিনী দিয়ে স্তরিত পার্শ্ববিন্যাস বর্ণিত। মকর, শ্যেন, সূচী, বীরবক্ত্রা, শকট, বজ্র, সর্বতোভদ্র প্রভৃতি ব্যূহ ও কখন প্রকাশ্য যুদ্ধ, কখন গূঢ়/ছলযুদ্ধ—কাল, দেশ, ক্লান্তি, রসদচাপ ও মানসিক দুর্বলতা দেখে—নির্দেশিত। শেষে একক-মাপ, ব্যূহাঙ্গ (উরস, কক্ষ, পক্ষ, মধ্য, পৃষ্ঠ, প্রতিগ্রহ) এবং দণ্ড/মণ্ডল/ভোগ বিন্যাসের শ্রেণিবিভাগ দিয়ে যুদ্ধবিদ্যাকে ধর্মসম্মত বিজ্ঞানরূপে স্থাপন করা হয়েছে।
Chapter 242 — पुरुषलक्षणं (Purusha-Lakshana): Marks of a Man (Physiognomy)
পূর্বে ব্যূহ-রচনার আলোচনা শেষ করে এই অধ্যায়ে বাহ্য কৌশল থেকে সরে রাজা কীভাবে দেহগত লক্ষণ দেখে মানুষকে বিচার করবেন তা বলা হয়েছে। অগ্নি একে শাস্ত্র-পরম্পরা হিসেবে উল্লেখ করেন—সমুদ্র মুনি গর্গকে যে সামুদ্রিক বিদ্যা শিখিয়েছিলেন, তা নারী-পুরুষ উভয়ের শুভ-অশুভ চিহ্ন নির্ণয় করে। দেহের সামঞ্জস্য, ‘চতুর্বিধ সমতা’, এবং ন্যগ্রোধ-পরিমণ্ডল মান (বাহুপ্রসার = উচ্চতা) প্রভৃতি আদর্শ অনুপাত, অঙ্গুল ও কিষ্কু দ্বারা মাপ, বক্ষাদি অঞ্চলের রেখা, পদ্মসদৃশ অঙ্গ, যুগ্ম অঙ্গের পারস্পরিক সাম্য ইত্যাদি বিস্তারিত আছে। দয়া, ক্ষমা, শৌচ, দান, বীর্য—এই নৈতিক গুণকে দেহপরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত করে রাজধর্মে রূপের সঙ্গে চরিত্র-বিবেচনার প্রয়োজন দেখানো হয়েছে। রুক্ষতা, উঁচু শিরা, দুর্গন্ধ অশুভ; মধুর বাক্য ও গজগতি শুভ—শাসন, নির্বাচন ও পরামর্শে এটি নীতিশাস্ত্রের ব্যবহারিক উপায়।
Chapter 243 — Strī-lakṣaṇa (Characteristics of a Woman)
পূর্বে পুরুষ-লক্ষণ আলোচনা সমাপ্ত করে এই অধ্যায়ে সমুদ্রের বচনে স্ত্রী-লক্ষণ নীতি-শাস্ত্র ও লক্ষণ-শাস্ত্রের নির্দেশরূপে উপস্থাপিত হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য নারীর শুভত্ব বিচার করা যায়। এখানে সুশ্রী অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, সংযত ও মাধুর্যপূর্ণ গতি, সুস্থিত পা ও স্তন, এবং দক্ষিণাবর্ত নাভি প্রভৃতি শুভ দেহচিহ্ন উল্লেখ আছে। আবার স্থূলতা, অসামঞ্জস্য, কলহপ্রবণতা, লোভ, কঠোর বাক্য এবং কিছু নাম-সংক্রান্ত ইঙ্গিতকে অশুভ বলে বর্জনীয় বলা হয়েছে—সামাজিক সৌহার্দকে ধর্মীয় মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়েছে। বাহ্য সৌন্দর্যের চেয়ে গুণ ও সদাচারকে উচ্চতর করে বলা হয়েছে—আদর্শ বাহ্যচিহ্ন না থাকলেও মহৎ আচরণে নারী শুভ গণ্য হতে পারে। শেষে হাতের এক বিশেষ চিহ্নকে অপমৃত্যুনিবারক ও দীর্ঘায়ুর সূচক বলে উল্লেখ করে রাজধর্মের সামাজিক ব্যবস্থায় দেহলক্ষণ-বিশ্বাসের যোগ দেখানো হয়েছে।
Chapter 244 — चामरादिलक्षणम् / आयुधलक्षणादि (Characteristics of the Fly-whisk and Related Royal Emblems; Weapon Characteristics)
অগ্নিদেব সামাজিক পর্যবেক্ষণ থেকে রাজদরবারের বিধি-প্রোটোকলে প্রবেশ করেন। চামর ও ছত্রের শুভ লক্ষণকে বৈধ সার্বভৌমত্ব ও পরিশীলিত সভ্যতার চিহ্ন বলা হয়েছে। এরপর ধনুর্বেদীয় কারিগরি বর্ণনা—দণ্ড/সন্ধির সংখ্যা, আসন-সিংহাসনের মাপ, ধনুক নির্মাণের নিয়ম (উপাদান, অনুপাত, বর্জনীয় দোষ, ডোর বাঁধা, শৃঙ্গ-অগ্র গঠন)—বিস্তারিতভাবে আসে। রাজযাত্রা ও অভিষেকে ধনুক-বাণের পূজা করে অস্ত্রকে পবিত্র করার কথা বলা হয়েছে। পরে ব্রহ্মার যজ্ঞে বাধাদানকারী লৌহ-দানব, বিষ্ণুর নন্দক খড়্গের আবির্ভাব এবং নিহত দেহের লোহায় রূপান্তরের কাহিনি ধাতুবিদ্যা ও অস্ত্রাধিকারকে দেবীয় ভিত্তি দেয়। শেষে তলোয়ার পরীক্ষার মানদণ্ড—দৈর্ঘ্যভেদ, মধুর ধ্বনি, ফলার আদর্শ আকৃতি—এবং শুচিতা-শৃঙ্খলার বিধি (রাতে প্রতিবিম্ব দেখা বা দাম নিয়ে কথা বলা নিষেধ) নীতি ও শাসনকে একত্র করে।
Chapter 245 — रत्नपरीक्षा (Examination of Gems)
এ অধ্যায়ে ভগবান অগ্নি রাজাদের জন্য রত্নপরীক্ষার বিধান বলেন; অলংকার রাজসত্তার প্রতীক ও নিয়ন্ত্রিত ভোগ্যবস্তু। হীরা, পান্না, মানিক, মুক্তা, নীলম, বৈডূর্য (ক্যাটস-আই), চন্দ্রকান্ত, সূর্যকান্ত, স্ফটিক এবং বহু নামধারী পাথর ও জৈব/খনিজ দ্রব্যের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যাতে রাজদরবারে বিচার ও সংগ্রহ/ক্রয় করা যায়। রত্নের মূল মানদণ্ড—অন্তর্জ্যোতি, স্বচ্ছতা, নির্মলতা ও সুগঠিত আকৃতি, বিশেষত স্বর্ণে বসানো রত্নে। হীরার ক্ষেত্রে দোষযুক্ত (নিষ্প্রভ, অপবিত্র, ফাটা, খসখসে বা কেবল ‘মেরামতযোগ্য’) পরিধান কঠোরভাবে নিষিদ্ধ; উত্তম হীরা ষড়ভুজ, ইন্দ্রধনুর মতো, সূর্যদীপ্ত, শুদ্ধ ও ‘অভেদ্য’ বলা হয়েছে; পান্নার দাগছোপ ও টিয়াপাখির ডানার মতো দীপ্তি মানদণ্ড। মুক্তারও উৎসভেদ (ঝিনুক, শঙ্খ, দাঁত, মাছ, মেঘ) উল্লেখিত; গোলাকৃতি, দীপ্তি, স্বচ্ছতা ও আকার গুণ, যা সৌন্দর্য, শুভলক্ষণ ও রাজধর্মের বৈধতার সঙ্গে যুক্ত।
Chapter 246 — वास्तुलक्षणम् (Characteristics of Building-sites / Vāstu)
এই অধ্যায়ে ভগবান অগ্নি রাজাস্ত্র‑ধনসম্পদ থেকে সরে এসে বাস্তু‑শাস্ত্রের মাধ্যমে স্থানের শাসন ও গৃহনির্মাণের ধর্মনীতি বলেন। তিনি বর্ণানুসারে ভূমির রং (শ্বেত/রক্ত/পীত/কৃষ্ণ) এবং গন্ধ‑রস ইত্যাদি ইন্দ্রিয়পরীক্ষায় ভূমি‑নির্বাচনের নির্ণয়মূলক পদ্ধতি নির্দেশ করেন। পরে কুশাদি দ্বারা পূজা, ব্রাহ্মণ‑সম্মান ও খনন‑সংস্কারের বিধান আসে। মূল প্রযুক্তিগত অংশ ৬৪‑পদ বাস্তু‑মণ্ডল—মধ্যের চার পদে ব্রহ্মা, দিক‑কোণে দেবতা ও প্রভাবের বিন্যাস, এবং রোগ‑ক্ষয় প্রভৃতি বাধাদায়ক উপস্থিতিও উল্লেখিত। নন্দা, বাসিষ্ঠী, ভার্গবী, কাশ্যপী মন্ত্ররূপে প্রতিষ্ঠা করে গৃহকে ভূমি‑নগর‑গৃহাধিপতির অধীন জীবন্ত পবিত্র ক্ষেত্র বলা হয়েছে। শেষে দিকানুসারে শুভ বৃক্ষরোপণ, ঋতুভিত্তিক বাস‑নির্দেশ এবং কৃষি‑উপায়—সেচ‑মিশ্রণ, খরায় পরিচর্যা, ফলঝরা নিবারণ, প্রজাতিভেদে চিকিৎসা—দিয়ে বাস্তু, আচার ও পরিবেশকে এক ধর্মীয় প্রযুক্তিতে মিলিয়েছে।
Chapter 247 — पुष्पादिपूजाफलं (Fruits of Worship with Flowers and Other Offerings)
এই অধ্যায়ে ভগবান অগ্নি বিষ্ণুর আরাধনার মাধ্যমে সকল কাজে সিদ্ধি লাভের জন্য পুষ্পাদি পূজার সংক্ষিপ্ত বিধান বলেন। মালতী, মল্লিকা, ইউথী, পাটলা, করবীর, অশোক, কুন্দ, তামালপাতা, বিল্ব ও শমীপাতা, ভৃঙ্গরাজ, ঋতুকালে তুলসী, বাসক, কেতকী, পদ্ম ও রক্তোৎপল প্রভৃতি প্রশস্ত; আর অর্ক, উন্মত্তক/ধুতুরা ও কঙ্কাঞ্চী প্রভৃতি বর্জনীয়। পরে দানশাস্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করে নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘৃতদানকে মহাপুণ্য, রাজ্যলাভ ও স্বর্গপ্রাপ্তিদায়ক বলা হয়েছে—এভাবে গৃহস্থের সহজ নিবেদনও রাজকীয় ও বিশ্বজনীন ফল দেয় এবং বৈষ্ণব ভক্তিতে সমৃদ্ধি ও ধর্মপ্রতিষ্ঠা দৃঢ় হয়।