
Ritual Vows & Sacred Observances
Prescriptions for vratas (religious vows), fasting observances, festival rites, and their spiritual merit according to dharma-shastra.
Chapter 175 — प्रायश्चित्तानि (Prāyaścittāni: Expiations)
এই অধ্যায়ে প্রায়শ্চিত্ত-উপদেশচক্রের সমাপ্তি ঘটিয়ে তা অগ্নি পুরাণের ধর্ম-রক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে। আগ্নেয় পদ্ধতিতে প্রায়শ্চিত্ত কেবল শাস্তি নয়; অপরাধের পর সাধককে শাস্ত্রীয় শৃঙ্খলায় পুনঃস্থাপনের পুনরুদ্ধারমূলক আচার-বিজ্ঞান। ব্রতের আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞার ঠিক আগে প্রায়শ্চিত্তের সমাপ্তি একটি ধারাবাহিকতা বোঝায়—শৃঙ্খলা ভাঙলে প্রায়শ্চিত্ত মেরামত করে, আর শৃঙ্খলা গ্রহণ করলে ব্রত প্রতিরোধ ও রূপান্তর ঘটায়। অগ্নি ঋষি বসিষ্ঠকে শিক্ষকস্বরূপে উপদেশ দিয়ে নৈতিক অভিপ্রায়, আচারকর্ম ও সামাজিক দায়িত্বকে নির্দিষ্ট, পুনরাবৃত্তিযোগ্য বিধির সঙ্গে যুক্ত করেন। এই রূপান্তর পরবর্তী অধ্যায়ের কাল-নির্ণয় ও নিয়মনীতির কাঠামোর প্রস্তুতি দেয়, যেখানে সময়, আহার, শুচিতা, মন্ত্র ও দানের বিধি—শুদ্ধি ও পালন উভয়েরই একই প্রযুক্তিগত ভিত্তি—লোকস্থিতি ও মুক্তি, দুই লক্ষ্যেই নিবদ্ধ।
Pratipadā-vratāni (Vows Observed on the Lunar First Day)
ভগবান অগ্নি প্রতিপদা-ভিত্তিক ব্রতসমূহের সুশৃঙ্খল বিবরণ শুরু করেন এবং চন্দ্রমাসের প্রথম তিথিকে বর্ষব্যাপী সাধনার পবিত্র প্রবেশদ্বার রূপে দেখান। তিনি কার্ত্তিক, আশ্বযুজ ও চৈত্রের প্রতিপদাকে ব্রহ্মার তিথি বলে কালের সঙ্গে নির্দিষ্ট দেবতা-কেন্দ্রিক উপাসনার যোগ স্থাপন করেন। এরপর ব্রত-প্রযুক্তি বলা হয়েছে—উপবাসের বিধি (দীর্ঘকাল অন্নত্যাগ ও নিয়ন্ত্রিত আহার-ক্রম), মন্ত্রজপ ‘ওঁ তৎ সৎ ব্রহ্মণে নমঃ’ গায়ত্রীসহ, এবং ব্রহ্মার ধ্যান: স্বর্ণবর্ণ, জটাধারী, অক্ষমালা ও স্রুব ধারণকারী, কমণ্ডলুযুক্ত। দানকে নৈতিক ফল হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে—সামর্থ্য অনুযায়ী দুধ দান; ফল: শুদ্ধি, স্বর্গসুখ ও ব্রাহ্মণের পার্থিব সমৃদ্ধি। পরে মার্গশীর্ষে ধন্য-ব্রত নক্ত-নিয়ম ও হোমসহ, তারপর এক বছর অগ্নিপূজা এবং শেষে তাম্রবর্ণ/কপিলা গাভী দানের কথা আছে। অধ্যায়ের শেষে শিখী-ব্রতের নাম করে বৈশ্বানর পদ/ধাম লাভের ফল বলা হয়েছে—ভুক্তি ও উচ্চ গতি উভয়েরই ইঙ্গিত।
Adhyāya 177 — Dvitīyā-vratāni (Observances for the Lunar Second Day)
ভগবান অগ্নি দ্বিতীয়া-তিথি-কেন্দ্রিক ব্রতগুলির ধারাবাহিক বিধান বলেন, যেখানে মাস–পক্ষ–তিথির নিখুঁত গণনা ভুক্তি ও মুক্তি—উভয়ের সাধন হয়। প্রথমে দ্বিতীয়া-ব্রত: পুষ্পাহার (ফুলভোজন) রেখে অশ্বিনীকুমারদের পূজা করলে সমৃদ্ধি, সৌন্দর্য ও স্বর্গীয় পুণ্য লাভ; কার্ত্তিক শুক্ল দ্বিতীয়ার এক প্রকারে যম-পূজার নির্দেশ। পরে শ্রাবণ কৃষ্ণ দ্বিতীয়ার অশূন্য-শয়ন ব্রত—গৃহধারা রক্ষায় অগ্নি, দেবতা, পিতৃগণ ও দাম্পত্য-ঐক্য সংরক্ষণ; শ্রী (লক্ষ্মী) সহ বিষ্ণুর আহ্বান, পূজা, প্রতি মাসে সোমকে মন্ত্রসহ অর্ঘ্য, ঘৃত-হোম, রাত্রিনিয়ম এবং দানবিধি (বিশেষত শয্যা, দীপ, পাত্র, ছাতা, পাদুকা, আসন, কলস, প্রতিমা, ভাণ্ড)। কার্ত্তিক শুক্লপক্ষে কান্তি-ব্রত—রাত্রে মাত্র আহার ও বল–কেশব পূজায় তেজ, আয়ু ও আরোগ্য। শেষে পৌষ শুক্ল দ্বিতীয়া থেকে চার দিনের শিষ্ণু-ব্রত—ক্রমে স্নান (সরিষা, কালো তিল, বচা, সর্বৌষধি), কৃষ্ণ/অচ্যুত/অনন্ত/হৃষীকেশ নামে পুষ্প-ন্যাসসহ পূজা, চন্দ্র-অর্ঘ্য ও দীর্ঘ শুদ্ধির ফলশ্রুতি; পাণ্ডুলিপি-ভেদ ও রাজা, নারী, দেবতাদের আচরণের কথাও আছে।
Tṛtīyā-vratāni (Vows for the Third Lunar Day): Lalitā Tṛtīyā, Mūla-Gaurī Vrata, and Saubhāgya Observances
ভগবান অগ্নি দ্বিতীয়া-ব্রত থেকে তৃতীয়া-ব্রতে প্রবেশ করে বলেন যে এগুলি ভুক্তি ও মুক্তি প্রদান করে। চৈত্র শুক্ল তৃতীয়ায় মূলাগৌরী-ব্রত—গৌরীর হর (শিব)-বিবাহ স্মরণ—তিলস্নান দ্বারা শুদ্ধি করে শুরু হয়; পরে গৌরীসহ শম্ভুর যৌথ পূজা ‘সোনালি ফল’ প্রভৃতি মঙ্গলদ্রব্যে বিধেয়। এরপর দীর্ঘ মন্ত্র-ন্যাস/অঙ্গপূজা—পা থেকে মস্তক পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গে দেবনাম ও শক্তির বিন্যাস—দেহে শিব-শক্তি তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠা করে। পুষ্প, সুগন্ধি দ্রব্য, মাসভিত্তিক নিবেদন-ক্রম এবং শেষে দানবিধি—ব্রাহ্মণ দম্পতির সম্মান, নানা সামগ্রীর সেট, এবং গাভীসহ স্বর্ণ উমা-মহেশ্বর প্রতিমা দান—উল্লেখিত। বৈশাখ, ভাদ্রপদ/নাভস্য ও মার্গশীর্ষে বিকল্প সময়, আর দ্বিতীয় পদ্ধতিতে পুনঃপুন পূজা ও মৃত্যুঞ্জয় জপের নির্দেশ আছে। শেষে সৌভাগ্য-ব্রত (বিশেষত ফাল্গুন তৃতীয়ায় লবণত্যাগ) ও তৃতীয়াগুলিতে দেবীর রূপক্রম বলে সৌভাগ্য ও স্বর্গফল প্রতিশ্রুত।
Caturthī-vratāni (Vows of the Fourth Lunar Day)
ভগবান অগ্নি চতুর্থী-ভিত্তিক ব্রতগুলির ধারাবাহিক বিবরণ দেন এবং স্পষ্ট করেন যে এগুলি ভুক্তি ও মুক্তি—উভয় ফলদায়ক সাধনা। শুরুতে পাঠ/পাণ্ডুলিপি-ভেদের সংক্ষিপ্ত উল্লেখ, তারপর মাস ও তিথি অনুযায়ী বিধান। মাঘ শুক্ল চতুর্থীতে উপবাস ও পূজা, যেখানে দেবতার ‘গুণ’কে পূজার কেন্দ্র করা হয়েছে। পঞ্চমী পর্যন্ত তিল-ভাত নিবেদন করে বছরভর নির্বিঘ্ন কল্যাণের কামনা; মূলমন্ত্র ‘গং স্বাহা’ এবং ‘গাম্’ প্রভৃতি দ্বারা হৃদয়-আদি অঙ্গন্যাস। ‘আগচ্ছ উল্কা’ দ্বারা আহ্বান ও ‘গচ্ছ উল্কা’ দ্বারা বিসর্জন, গুগ্গুলু-সুগন্ধ ও মোদক নিবেদন, সঙ্গে গণেশ-গায়ত্রী-ধাঁচের অতিরিক্ত মন্ত্র। শেষে ভাদ্রপদ চতুর্থীর কৃচ্ছ্র, ফাল্গুন চতুর্থীর রাত্রি-উপবাস ‘অবিঘ্না’, এবং চৈত্র চতুর্থীতে দমন/দূর্বা দিয়ে গণপূজা—এসব বিশেষ আচরণকে মঙ্গল ও শুদ্ধির প্রযুক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
Chapter 180 — Pañcamī-vratāni (The Pañcamī Observances)
ব্রতখণ্ডে ভগবান অগ্নি পঞ্চমী-ব্রতের নিয়ত বিধান বলেন, যাতে তৎক্ষণাৎ ও পরম ফল—আরোগ্য, স্বর্গফল ও মোক্ষ—লাভ হয়। অধ্যায়ের শুরুতে মন্ত্র/পাঠে পাঠান্তরের উল্লেখ করে শুদ্ধ উচ্চারণ ও ক্রিয়াশুদ্ধির গুরুত্ব দেখানো হয়েছে। শুক্লপক্ষে নাভস, নাভস্য, আশ্বিন ও কার্ত্তিক মাসে এই ব্রত পালনের যোগ্যতা নির্দিষ্ট। বাসুকি, তক্ষক, পূজ্য, কালিয়, মণিভদ্র, ঐরাবত, ধৃতরাষ্ট্র, কর্কোটক ও ধনঞ্জয়—এই প্রধান নাগদের স্মরণ-জপ রক্ষাকর ও মঙ্গলদায়ক। ফল হিসেবে নির্ভয়তা, দীর্ঘায়ু, জ্ঞান, যশ ও সমৃদ্ধি প্রদত্ত বলা হয়েছে।
Vows of the Sixth Lunar Day (Ṣaṣṭhī-vratāni)
অগ্নিদেব ব্রতখণ্ডের তিথিভিত্তিক শিক্ষায় পঞ্চমী-ব্রত থেকে ষষ্ঠী-ব্রতে অগ্রসর হয়ে ষষ্ঠী তিথিকে ভুক্তি ও মুক্তিদায়িনী সাধনার কেন্দ্ররূপে বর্ণনা করেন। অধ্যায়ের শুরুতে তিনি ষষ্ঠী-আচারের ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন; এক পাঠে কার্ত্তিক থেকে আরম্ভের উল্লেখ আছে, আবার পাণ্ডুলিপিভেদে ভিন্ন পাঠও দেখা যায়। মূল আচারে নিয়ন্ত্রিত আহার (কোথাও ফলাহার, কোথাও একবার শুদ্ধ সরল ভোজন) এবং অর্ঘ্য প্রভৃতি নিবেদন অন্তর্ভুক্ত। এরপর ভাদ্রপদের ষষ্ঠীতে পালিত ‘স্কন্দ-ষষ্ঠী’ ব্রতকে অক্ষয়ফলদায়ক বলা হয়, এবং পরবর্তী ব্রত ‘কৃষ্ণ-ষষ্ঠী’ মার্গশীর্ষে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। শেষে এক বছর অন্নত্যাগকে ভোগ ও মোক্ষ—উভয় পুরুষার্থদায়ক বলে কঠোর তপস্যার মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
Saptamī-vratāni (Vows of the Seventh Lunar Day)
ষষ্ঠী-ব্রত সমাপ্তির পর অগ্নিদেব সপ্তমী-ব্রতের বিধান বলেন এবং ব্রতখণ্ডে তিথি-ভিত্তিক ধর্ম-ক্রমকে এগিয়ে নেন। সপ্তমীর মূল উপাসনা সূর্য/অর্ক; এতে ভুক্তি ও মুক্তি—উভয়ই লাভ হয়, বিশেষত মাঘ শুক্লপক্ষে যথাবিধি পূজায় শোকমোচনের প্রতিশ্রুতি আছে। ভাদ্রে অর্কপূজা দ্রুত ইষ্টসিদ্ধি দেয়; পৌষ শুক্লপক্ষে উপবাসসহ অর্কারাধনা পাপনাশক তপস্যা। মাঘ কৃষ্ণ সপ্তমী সর্বসিদ্ধিদায়িনী, ফাল্গুন শুক্ল সপ্তমী নন্দা-সম্পর্কিত সূর্যব্রত, আর মার্গশীর্ষ শুক্লপক্ষে অপরাজিতা সপ্তমী ও নারীদের বার্ষিক পুত্রীয়া সপ্তমীর বিধান—এভাবে ক্যালেন্ডার-আচার, সূর্যকেন্দ্রিকতা ও ব্রত-গঠন মিলিয়ে কার্যকর মোক্ষসাধনা দেখানো হয়েছে।
Aṣṭamī-vratāni — Jayantī (Janmāṣṭamī) Vrata with Rohiṇī in Bhādrapada
অগ্নিদেব অষ্টমী-ব্রতচক্রের শুরুতে ভাদ্রপদ কৃষ্ণপক্ষের সেই অষ্টমীর বিধান দেন, যা রোহিণী নক্ষত্রের সঙ্গে যুক্ত—শ্রীকৃষ্ণের জন্ম এই যোগে হওয়ায় একে ‘জয়ন্তী’ বলা হয়। ব্রতটি মধ্যরাত্রি-কেন্দ্রিক পূজা: উপবাসে অন্তঃশুদ্ধি করে দেবপ্রতিষ্ঠা, তারপর কৃষ্ণের সঙ্গে বলভদ্র এবং দেবকী, বসুদেব, যশোদা, নন্দ প্রভৃতির আহ্বান। মন্ত্রসহ স্নান, অর্ঘ্য, পুষ্প, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্যাদি উপচার অর্পণ করে গোবিন্দকে যোগ, যজ্ঞ, ধর্ম ও জগতের কারণরূপে স্তব করা হয়। বিশেষভাবে রোহিণীসহ চন্দ্রপূজা ও শশাঙ্ককে অর্ঘ্য প্রদান করা হয়। মধ্যরাত্রিতে ঘি-মেশানো গুড় ধারারূপে পবিত্র নামোচ্চারণসহ অর্পিত হয়। শেষে বস্ত্র ও স্বর্ণদান এবং ব্রাহ্মণভোজন। ফল—সাত জন্মের পাপক্ষয়, সন্তানলাভ, বার্ষিক পালনে নির্ভয়তা ও বিষ্ণুলোকপ্রাপ্তি; ভুক্তি-মুক্তির একত্র সাধন।
Chapter 184 — अष्टमीव्रतानि (Aṣṭamī Observances: Kṛṣṇāṣṭamī, Budhāṣṭamī/Svargati-vrata, and Mātṛgaṇa-Aṣṭamī)
অগ্নি বসিষ্ঠকে অষ্টমী-কেন্দ্রিক ব্রতসমূহ শেখান, যেখানে তিথি-নিয়ম, দেহসংযম, শৈবভক্তি ও সামাজিক যজ্ঞ-দান একত্রিত। অধ্যায়ের শুরু চৈত্র কৃষ্ণাষ্টমীতে মাতৃগণ-অষ্টমী—ব্রাহ্মাণী প্রমুখ মাতৃকাদের পূজায় সমৃদ্ধি ও কৃষ্ণলোক-প্রাপ্তি বলা হয়েছে। এরপর মার্গশীর্ষ থেকে এক বছরের কৃষ্ণাষ্টমী-ব্রত: নক্ত উপবাস, শুচিতা, ভূমিশয়ন, এবং মাসে মাসে শিবপূজার ক্রম (শঙ্কর, শম্ভু, মহেশ্বর, মহাদেব, স্থাণু, পশুপতি, ত্র্যম্বক, ঈশ) সঙ্গে কঠোর আহারবিধি (গোমূত্র, ঘি, দুধ, তিল, যব, বিল্বপত্র, চাল ইত্যাদি)। শেষে হোম, মণ্ডলপূজা, ব্রাহ্মণভোজন ও গাভী/বস্ত্র/স্বর্ণদান—ভুক্তি ও মুক্তি প্রদান করে। বুধবার-অষ্টমী ‘স্বর্গতি-ব্রত’ ইন্দ্রপদদায়ক; আমপাতার পাত্রে কুশসহ নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল নিবেদন, সাত্ত্বিক পূজা, কথাশ্রবণ ও দক্ষিণা নির্দিষ্ট। ধীরের পরিবার, বৃষ নামক ষাঁড়, ক্ষতি-প্রাপ্তি, যমলোক ও বুধাষ্টমী দু’বার পালনে পিতৃগণের নরক থেকে স্বর্গগমন—এই দৃষ্টান্তে ব্রতের উদ্ধারশক্তি প্রকাশিত। শেষে পুনর্বসু নক্ষত্রে অশোক-কুঁড়ি পান, অষ্টমীর শোকনাশ প্রার্থনা, এবং চৈত্র থেকে মাতৃপূজায় শত্রুজয়ের কথা পুনরায় বলা হয়েছে।
Chapter 185 — नवमीव्रतानि (The Observances for Navamī)
ভগবান অগ্নি বশিষ্ঠকে গৌরী/দুর্গাসংযুক্ত নবমী-ব্রত শিক্ষা দেন এবং ভুক্তি ও মুক্তি—উভয় সিদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন। নবমীকে ‘পিষ্টকা’ বলা হয়েছে; আশ্বিন শুক্ল নবমীর নির্দিষ্ট কাল, নক্ষত্র-শর্ত এবং দেবপূজার পর ময়দা/পিষ্টজাত ভক্ষণবিধি উল্লেখিত। পরে মহিষমর্দিনী দুর্গাকে কেন্দ্র করে রাজরক্ষা-লিতুর্জি—দেবীকে নয় স্থানে বা এক মন্দিরে অধিষ্ঠিতা জেনে বহু-ভুজ মূর্তির ধ্যান, নির্দিষ্ট অস্ত্র-উপকরণসহ। দশাক্ষরী দুর্গা-রক্ষা মন্ত্র, অন্যান্য সূত্র, অঙ্গুষ্ঠ থেকে কনিষ্ঠা পর্যন্ত ন্যাস, গোপনীয়তা ও অবিঘ্ন সাধনার কথা আছে। অস্ত্রপূজা, উগ্র দেবীনাম, দিক্বলিদান (কিছু পাঠে রক্ত-মাংস), পিষ্টের শত্রু-প্রতিমা নিস্তেজকরণ, রাত্রে মাতৃকা ও উগ্ররূপ পূজা, পঞ্চামৃত স্নান, বলি এবং ধ্বজা-স্থাপন ও রথযাত্রা—ভক্তি, প্রতিমাধ্যান ও রাজধর্মরক্ষাকে একত্র করে।
Daśamī-vrata (Observance for the Tenth Lunar Day)
নবমী-ব্রতসমূহের পর ব্রতখণ্ডের ধারাবাহিক বর্ণনায় ভগবান অগ্নি দশমী-ব্রত নির্দেশ করেন। তিনি এর ফল পুরুষার্থের ভাষায় বলেন—ধর্ম, কাম এবং সংশ্লিষ্ট লক্ষ্য—এবং দেখান যে আচার-নিয়ম নৈতিক-আধ্যাত্মিক পুণ্যের সঙ্গে সুশৃঙ্খল পার্থিব সমৃদ্ধিরও উপায়। দশমীতে একভক্ত (একবার আহার) পালন করতে হয়; সংযত ভোজনকে শুদ্ধির পদ্ধতি বলা হয়েছে। ব্রতের সমাপ্তি দানে—দশ গাভী দান—যাতে ব্যক্তিগত তপস্যা সামাজিক কল্যাণে পূর্ণ হয়। আরও এক মর্যাদাসূচক দান আছে: স্বর্ণনির্মিত অষ্টদিক (দিক্) অর্পণ; এতে দাতা ব্রাহ্মণদের মধ্যে প্রভুত্বসম মর্যাদা লাভ করে বলা হয়েছে। এভাবে তিথি, নিয়মানুশাসন ও দান একত্রে ধর্মীয় কর্মসূচি হয়।
Ekādaśī-vrata (Observance of Ekādaśī)
দশমী-ব্রতের পরেই অগ্নিদেব একাদশী-ব্রতের শিক্ষা দেন এবং বলেন, এই উপবাস ভুক্তি ও মুক্তি—উভয়ই প্রদানকারী এক সূক্ষ্ম সাধন-পদ্ধতি। দশমীতে নিয়মিত আহার, মাংসত্যাগ ও ব্রহ্মচর্য পালন করে দেহ-মন প্রস্তুত করা হয়। শুক্ল ও কৃষ্ণ—উভয় পক্ষের একাদশীতে ভোজন নিষিদ্ধ; বিশেষত একাদশী যখন দ্বাদশীর সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন হরির সান্নিধ্য বৃদ্ধি পায় এবং পারণ (উপবাস ভাঙা)-এর সময় নির্ণায়ক হয়। নির্দিষ্ট তিথি-ভাগের শর্তে ত্রয়োদশীতেও পারণ করা যায়—যার পুণ্য শত বৈদিক যজ্ঞের সমান বলা হয়েছে; কিন্তু দশমী-মিশ্র একাদশী পালন করা উচিত নয়, তা অশুভ ফল দেয়। পদ্মনয়ন অচ্যুতের শরণ নিয়ে ভক্তিসহ সংকল্প করা হয়। শুক্ল একাদশীতে পুষ্য নক্ষত্র এবং শ্রবণ-যুক্ত একাদশী/দ্বাদশী (বিজয়া তিথি) বিশেষ শুভ; ফাল্গুন-পুষ্য-বিজয়ায় মধু ও মাংস বর্জনে কোটি-গুণ পুণ্য কথিত। শেষে বিষ্ণুপূজা সর্বোপকাররূপে সমৃদ্ধি, সন্তান ও বিষ্ণুলোকে সম্মান দান করে।
Chapter 188: द्वादशीव्रतानि (The Dvādaśī-vows)
ভগবান অগ্নি দ্বাদশী-ব্রতগুলির সুসংবদ্ধ তালিকা শুরু করেন এবং স্পষ্ট করেন যে এগুলি ভুক্তি ও মুক্তি—উভয়েরই সাধন। একভুক্ত (একবার আহার), ভক্তি এবং অযাচিতভাবে প্রাপ্ত অন্ন গ্রহণ করে ব্রত পালন করতে বলা হয়েছে। চৈত্র শুক্ল দ্বাদশীতে কামদমনকারী হরির ‘মদন-দ্বাদশী’ পূজা, মাঘ শুক্ল দ্বাদশীতে ‘ভীম-দ্বাদশিকা’, ফাল্গুন শুক্ল দ্বাদশীতে ‘গোবিন্দ-দ্বাদশী’ প্রভৃতি নির্দেশিত। আশ্বযুজে ‘বিশোক-দ্বাদশী’ এবং ভাদ্রপদে ‘গোবৎস-দ্বাদশী’তে গাভী-বাছুর পূজার মাধ্যমে প্রায়শ্চিত্ত ও পুণ্যবৃদ্ধি বলা হয়েছে। ‘তিলদ্বাদশী’র নির্দিষ্ট কাললক্ষণ—কৃষ্ণপক্ষ দ্বাদশী, মধ্যাহ্নোত্তর, শ্রবণ নক্ষত্রযুক্ত—উল্লেখ করে তিলস্নান, তিলহোম, তিলনৈবেদ্য, তিলতৈল দীপ, তিলোদক ও তিলদান বিধান করা হয়েছে; শেষে “ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়” মন্ত্রে বাসুদেব পূজা। আরও আছে ষট্-তিল দ্বাদশী (স্বর্গফল), নামদ্বাদশী (কেশব-নামক্রমে বর্ষব্যাপী পূজা), সুমতি ও অনন্ত দ্বাদশী, এবং কৃষ্ণজয়-নমস্কারসহ সুগতি দ্বাদশী। শেষে পৌষ শুক্ল দ্বাদশীতে সম্পপ্রাপ্তি-সম্পর্কিত ব্রতের সময় নির্দেশ করে, মোক্ষাভিমুখ ধর্মকে আচার-বিজ্ঞানের রূপে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
Śravaṇa Dvādaśī Vrata (श्रवणद्वादशीव्रतम्)
ভগবান অগ্নি ঋষি বশিষ্ঠকে ভাদ্রপদ শুক্লপক্ষে শ্রবণ নক্ষত্রযুক্ত দ্বাদশীতে ‘শ্রবণ দ্বাদশী ব্রত’ পালনের বিধান বলেন। উপবাস, পবিত্র শ্রবণ ও জ্ঞানীজনের সৎসঙ্গের কারণে এ ব্রতকে অতিশয় ফলপ্রদ বলা হয়েছে। দ্বাদশীতে নিরাহার থেকে ত্রয়োদশীতে সাধারণ নিষেধ থাকলেও পারণ করার নির্দেশ আছে। স্বর্ণযন্ত্রের উপর স্থাপিত জলকলশে বিষ্ণু-বামনকে আহ্বান করে পূজা, শুদ্ধ জল ও পঞ্চামৃত দ্বারা অভিষেক, শ্বেত বস্ত্র, ছত্র, পাদুকা প্রভৃতি সহ পূজাবিধি এবং বিষ্ণুর অঙ্গ-অঙ্গে মন্ত্র-ন্যাসের ক্রম বর্ণিত। ঘৃতপাক অন্ন নৈবেদ্য, দধিভাতের কলশ দান, রাত্রিজাগরণ, প্রাতে সঙ্গমে স্নান ও গোবিন্দ (বুধশ্রবণ)কে পুষ্পাঞ্জলি প্রার্থনা করা হয়। শেষে দক্ষিণা ও ব্রাহ্মণভোজন; বামনই অর্ঘ্যে ব্যাপ্ত হয়ে তা গ্রহণ করেন এবং ভুক্তি, কীর্তি, সন্তান, ঐশ্বর্য ও মুক্তি প্রদান করেন।
Chapter 190: Akhaṇḍa-dvādaśī-vrata (The Unbroken Dvādaśī Vow)
ভগবান অগ্নি ঋষি বশিষ্ঠকে অখণ্ড-দ্বাদশী-ব্রত শিক্ষা দেন—যা ব্রতসমূহকে ‘সম্পূর্ণ’ ও ভঙ্গহীন করে। মার্গশীর্ষের শুক্ল দ্বাদশীতে বিষ্ণুপূজা করে পঞ্চগব্য-জলে স্নান ও শুদ্ধিদ্রব্য বিধিমতে গ্রহণ করে উপবাস করতে হয়। দ্বাদশীতে দান প্রধান—যব ও চালভরা পাত্র ব্রাহ্মণকে দান করা হয়। ব্রতী বিষ্ণুর কাছে প্রার্থনা করে, সাত জন্মে সঞ্চিত ব্রতের অপূর্ণতা ও ত্রুটি যেন তিনি পূর্ণ করেন; পুরুষোত্তমে বিশ্ব অখণ্ডভাবে প্রতিষ্ঠিত—এই তত্ত্বে প্রার্থনা স্থাপিত। পরে মাসিক আচরণ ও চাতুর্মাস্য বিধান, এবং মাসভেদে শক্তু (ভাজা যবের গুঁড়ো) প্রভৃতি দানের কথা বলা হয়েছে। শ্রাবণ থেকে শুরু করে কার্ত্তিকান্তে পারণ পর্যন্ত সঠিক সময় মানতে বলা হয়; ত্রুটি সাত জন্ম পর্যন্ত প্রতিফলিত হতে পারে, আর সঠিক পালনে দীর্ঘায়ু, স্বাস্থ্য, ঐশ্বর্য, রাজ্য ও ভোগ লাভ হয়।
Trayodaśī-vratāni — Anaṅga-Trayodaśī and Kāma-Trayodaśī (Chapter 191)
ভগবান অগ্নি ত্রয়োদশী তিথির ব্রতসমূহ ধারাবাহিকভাবে ব্যাখ্যা করেন। প্রথমে অনঙ্গ-ত্রয়োদশী—যেখানে অনঙ্গ (কামদেব) ও হর (শিব)-এর যুগল পূজা বিধেয়। মার্গশীর্ষ থেকে মাসভিত্তিক দেব-আহ্বান, নির্দিষ্ট সংযমী আহার/উপবাস, এবং রাত্রিতে ঘি, তিল ও চাল দিয়ে হোমের নির্দেশ আছে। শেষে দানের বিধান স্পষ্ট—বস্ত্র, গাভী, শয্যা, ছাতা, ঘট, পাদুকা, আসন ও পাত্র ইত্যাদি—যার দ্বারা ব্রত দানের মাধ্যমে সম্পূর্ণ হয়। পরে চৈত্রে রতি-সহ কামস্মরণ, শুভ রঙে অশোকবৃক্ষ অঙ্কন, এবং পনেরো দিন পূজা করে কামনা-সিদ্ধির কথা বলা হয়েছে। সময়শৃঙ্খলা, ইন্দ্রিয়সংযম, প্রতীকী আচার ও দান—সব মিলিয়ে সমৃদ্ধি, মঙ্গল ও উচ্চ পুণ্যলাভের সাধনা হিসেবে অধ্যায়টি উপস্থাপিত।
Chapter 192: चतुर्दशीव्रतानि (Vows of the Fourteenth Lunar Day)
অগ্নি চতুর্দশী-ব্রতের শিক্ষা শুরু করেন এবং বলেন, চতুর্দশী পালন ভুক্তি-মুক্তি প্রদানকারী—বিশেষত কার্ত্তিকে উপবাসসহ শিবপূজায়। পরে নানা বিধান বলা হয়—(১) শিব-চতুর্দশী: নির্দিষ্ট তিথি-যোগে করলে দীর্ঘায়ু, ধন ও ভোগ দেয়; (২) ফল-চতুর্দশী (দ্বাদশী/চতুর্দশী): ফলাহার, মদ্যবর্জন ও দানে ফল প্রদান; (৩) উভয়-চতুর্দশী: শুক্ল ও কৃষ্ণ উভয় পক্ষের চতুর্দশী (এবং অষ্টমী) তে শম্ভুর উপবাস-পূজা, স্বর্গপ্রদ। আরও বলা হয় কৃষ্ণ অষ্টমী ও কৃষ্ণ চতুর্দশীতে নক্তব্রত (রাত্রিভোজন) করলে পার্থিব সুখ ও শুভ পরলোকগতি লাভ হয়। এরপর বিধি: কার্ত্তিক কৃষ্ণ চতুর্দশীতে স্নান, ধ্বজা-আকৃতির দণ্ডসহ ইন্দ্রপূজা, এবং শুক্ল চতুর্দশীতে অনন্তব্রত—দর্ভবিন্যাস ও জলকলশসহ হরিকে ‘অনন্ত’ রূপে পূজা, চালের গুঁড়োর পূপ নিবেদন করে অর্ধেক ব্রাহ্মণকে দান, নদীসঙ্গমে হরিকথা পাঠ, ও অভিমন্ত্রিত সুতো হাতে/গলায় বাঁধা—সমৃদ্ধি ও সুখের জন্য।
Śivarātri-vrata (The Observance of Śivarātri)
এ অধ্যায়ে অগ্নি ঋষি বশিষ্ঠকে শিবরাত্রি-ব্রতের বিধান বলেন, যা ভুক্তি ও মোক্ষ—উভয়ই প্রদান করে। মাঘ ও ফাল্গুনের মধ্যবর্তী কৃষ্ণ-চতুর্দশীতে এই ব্রত নির্দিষ্ট। ব্রতী চতুর্দশীতে উপবাস করে এবং রাত্রি জাগরণই প্রধান উপাসনা হিসেবে পালন করে। ভক্ত শম্ভুকে ভোগ ও মুক্তির দাতা রূপে আহ্বান করে, শিবকে ‘নরক-সমুদ্র’ পার করানো নৌকা বলে স্তব করে; সন্তান, রাজ্য, সৌভাগ্য, স্বাস্থ্য, বিদ্যা, ধর্ম, ধন এবং শেষে স্বর্গ ও মোক্ষ প্রার্থনা করে। শেষে বলা হয়—শিকারি বা পাপী সুন্দরসেনের মতো লোকও এই ব্রতে পুণ্য লাভ করে ধর্মোন্নতি করতে পারে।
Aśoka-Pūrṇimā and Related Vows (अशोकपूर्णिमादिव्रत)
ব্রতখণ্ডের কালানুশাসন প্রসঙ্গে অগ্নি ঋষি বসিষ্ঠকে একাধিক ব্রতের বিধান বলেন। পূর্বোক্ত শিবরাত্রি-ব্রতকে ভুক্তি–মুক্তিদায়ক বলে উল্লেখ করে, ফাল্গুন শুক্লপক্ষে অশোকপূর্ণিমায় ভূধর ও ভুবের পূজা এবং এক বছর ব্রতপালনে ভোগ ও মোক্ষলাভের কথা বলেন। পরে কার্ত্তিকে বৃষোৎসর্গ (বৃষ/ষাঁড় মুক্তিদান) ও নক্তভোজন (রাত্রে একবার আহার) সহ পরম বৃষ-ব্রত বর্ণিত, যা শিবলোকপ্রদ। পিতৃ-অমাবস্যায় পিতৃদের উদ্দেশে অক্ষয় দান, বর্ষব্যাপী সংযম ও পিতৃপূজায় পাপক্ষয় ও স্বর্গলাভ হয়। শেষে জ্যৈষ্ঠ অমাবস্যার সাবিত্রী-ব্রত—নারীরা তিন রাত্রি উপবাস করে বটমূলের মহাপতিব্রতা দেবীকে সপ্তধান্য ও অলংকারে পূজা, রাত্রিজাগরণে গান-নৃত্য, ব্রাহ্মণকে নৈবেদ্য, ব্রাহ্মণভোজন ও বিসর্জন করে সৌভাগ্য ও মঙ্গলসমৃদ্ধি প্রার্থনা করে।
Chapter 195 — तिथिव्रतानि (Tithi-vratāni) — Vows according to lunar days (closing colophon)
এই অংশটি মূলত এক সংক্রমণ-চিহ্ন; ব্রতখণ্ডে তিথিভিত্তিক ব্রত (তিথিব্রতানি) বিষয়ে পূর্ববর্তী নির্দেশ-পর্বের সমাপ্তি ঘোষণা করে। কলোফনে বোঝানো হয় যে চন্দ্রতিথিকে ধর্মাচরণের কাল-সমন্বয়ক ধরে একটি ক্যালেন্ডারভিত্তিক শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ হল। তিথিচক্র এখানেই শেষ করে সাধককে চন্দ্র-গণনা থেকে সৌর/বার-গণনার দিকে প্রস্তুত করা হয়, যাতে অগ্নিপুরাণের ভুক্তি ও মুক্তি—উভয় লক্ষ্যে সহায়ক আচার-প্রযুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
Chapter 196 — Nakṣatra-vratāni (Observances of the Lunar Mansions)
অগ্নিদেব ঋষি বশিষ্ঠকে নক্ষত্র-ব্রতপ্রণালী শিক্ষা দেন—চৈত্র মাসে নক্ষত্র-পুরুষের আহ্বান দিয়ে সূচনা। হরি (বিষ্ণু)-পূজা হয় নক্ষত্রগুলিকে বিশ্বদেহের অঙ্গসমূহে ক্রমান্বয়ে স্থাপন করে—পা, পিণ্ডলি, হাঁটু, উরু, গুহ্য, কটি, পার্শ্ব, উদর, স্তন, পিঠ, বাহু, আঙুল, নখ, কণ্ঠ, কান, মুখ, দাঁত, নাসিকা, চোখ ও ললাট—এভাবে আকাশীয় সময় দেহময় আচার-ক্রমে রূপান্তরিত হয়। চিত্রা/আর্দ্রা ও বর্ষশেষে বিশেষ পূজা; গুড়ভরা ঘটের মধ্যে স্বর্ণহরি স্থাপন, দক্ষিণার দ্রব্য পাণ্ডুলিপিভেদে ভিন্ন। পরে কার্ত্তিক-কৃত্তিকা-কেন্দ্রিক শাম্ভবায়নীয ব্রত—কেশব-নাম বা অচ্যুত-মন্ত্রে, মাসভেদে নৈবেদ্য, পঞ্চগব্য-শুদ্ধি, এবং বিসর্জনের পর নৈবেদ্য ও নির্মাল্যের তাত্ত্বিক ভেদ। শেষে পাপনাশ, পুণ্যবৃদ্ধি, অক্ষয় শ্রী ও বংশধারার প্রার্থনা; সাত বছর পালনে ভুক্তি-মুক্তি। এরপর অনন্ত-ব্রত (মার্গশীর্ষ/মৃগশীর্ষ)—রাত্রিভোজন, তেলবর্জন, চার মাসের হোম-সূচি, অনন্ত পুণ্য ও মন্ধাতার জন্মকথা।
Chapter 197 — दिवसव्रतानि (Day-based Vows): Dhenu-vrata, Payo-vrata, Trirātra-vrata, Kārttika-vrata, and Kṛcchra Observances
অগ্নি দিবসভিত্তিক ব্রতসমূহের নতুন অধ্যায় শুরু করেন। প্রথমে ধেনু-ব্রত—গো-সম্পর্কিত দান ও উপহার-যজ্ঞের কাঠামোসহ—বর্ণিত। পরে পয়ো-ব্রতকে পরিমিত তপস্যা হিসেবে বলা হয়েছে: একদিন পালন করলে ‘পরম সমৃদ্ধি’, আর দীর্ঘ অনুশীলনে স্বর্ণনির্মিত প্রতীকী দান (কল্পবৃক্ষের স্বর্ণমূর্তি, পালা-ওজনে মাপা ‘স্বর্ণ-পৃথিবী’ ইত্যাদি) যুক্ত। এরপর ত্রিরাত্র-ব্রত—পক্ষান্তে বা মাসান্তে পুনরাবৃত্তি, একভক্ত আহার-নিয়ম, এবং জনার্দন/বিষ্ণু-ভক্তিতে একাগ্রতা—ধনলাভ থেকে হরিধাম-প্রাপ্তি পর্যন্ত, এমনকি বংশোদ্ধার পর্যন্ত ফলদায়ক বলা হয়েছে। মার্গশীর্ষ শুক্লপক্ষ, অষ্টমী/দ্বাদশী ইত্যাদি কালচিহ্ন, “ওঁ নমো বাসুদেবায়” জপ, ব্রাহ্মণভোজন, বস্ত্র-শয্যা-আসন-ছত্র-যজ্ঞোপবীত-পাত্রাদি দান, এবং বিধিভ্রষ্টতার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা উল্লেখ আছে। পরে কার্ত্তিক-ব্রতকে স্পষ্টত ভুক্তি-মুক্তি-প্রদ বলা হয়। শেষে মাহেন্দ্র, ভাস্কর, শান্তপন প্রভৃতি কৃচ্ছ্র তপ—দুধ/দই/উপবাসের ক্রম ও তিথি-বারের বিধিনিষেধসহ—ফলনিষ্ঠ ধর্মতপস্যার বিজ্ঞানরূপে উপস্থাপিত।
Monthly Vows (Māsa-vratāni) and Cāturmāsya Disciplines; Introduction of Kaumudī-vrata
এ অধ্যায়ে ভগবান অগ্নি মাস-ব্রতকে ভুক্তি ও মুক্তিদায়ক শৃঙ্খলিত সাধনা বলে বর্ণনা করেন। শুরুতে চাতুর্মাস্য-নিয়ম—বিশেষত পবিত্র চার মাসে তেল-মর্দন/অভ্যঙ্গ ত্যাগ—তারপর মাসভেদে ত্যাগ ও দান (যেমন বৈশাখে গোদান, মাঘ বা চৈত্রে গুড়-গাভী দান) বলা হয়েছে। নক্তভোজন, একভক্ত, ফলব্রত, একদিন অন্তর উপবাস, মৌন, চন্দ্রায়ণ ও প্রাজাপত্য প্রভৃতি তপস্যায় স্বর্গ, বিষ্ণুলোক এবং ক্রমে মোক্ষাভিমুখ পুণ্য লাভের কথা আছে। সংকল্প ও কালের নির্দিষ্টতায় ব্রত সম্পূর্ণ—চাতুর্মাস্যের প্রস্তুতি, সূর্যের কর্কটে প্রবেশে হরি-পূজা, এবং মাঝপথে মৃত্যু হলেও ব্রত পূর্ণ গণ্য হোক এমন প্রার্থনা। শেষে আশ্বিনে কৌমুদী-ব্রত: দ্বাদশীতে বিষ্ণু-পূজা ফুল, দীপ, ঘি ও তিলতেলে, ‘ওঁ নমো বাসুদেবায়’ মন্ত্রে, চার পুরুষার্থ লাভের প্রতিশ্রুতি।
Adhyāya 199 — Nāna-vratāni (Various Vows): Ṛtu-vrata, Saṅkrānti-vrata, Viṣṇu/Devī/Umā Observances
অগ্নি ব্রতখণ্ডে ভুক্তি ও মুক্তি—উভয় ফলদায়ক নানা ব্রতের বিবরণ দেন। প্রথমে চার ঋতু জুড়ে ঋতুব্রত—সমিধা-আহুতি সহ হোম, সন্ধ্যাকালে মৌন, এবং শেষে ঘৃতধেনু ও ঘৃতঘট দান—উল্লেখিত। পরে সারস্বত-অনুশীলনে পঞ্চামৃতস্নান ও বর্ষশেষে গোদান; চৈত্রে বিষ্ণু-একাদশীর নক্তাশী ব্রত, বিষ্ণুলোকপ্রাপ্তি-ফল; এবং শ্রী/দেবী-ব্রতে পায়সাহার, জোড়া গরু দান ও পিতৃ-দেবকে নিবেদন করে তবেই ভোজনের নিয়ম বলা হয়েছে। এরপর সংক্রান্তিব্রতে রাত্রিজাগরণকে স্বর্গদায়ক বলা হয়, এবং অমাবস্যা-সংক্রান্তি, উত্তরায়ণ ও বিষুব প্রভৃতি কালে বিশেষ তীব্রতা; প্রস্থ-পরিমিত ঘৃত দিয়ে স্নান ও ৩২ পল পরিমাণ দ্রব্য দ্বারা পাপনাশের বিধান আছে। শেষে নারীদের তৃতীয়া ও অষ্টমীতে উমা–মহেশ্বর ব্রত, সৌভাগ্য ও অবিয়োগের জন্য, এবং সূর্যভক্তিতে লিঙ্গানুসার পুনর্জন্মের ফলশ্রুতি উক্ত।
Dīpadāna-vrata (The Vow of Offering Lamps)
ভগবান অগ্নি দীপদান-ব্রতকে ভুক্তি ও মুক্তিদায়ক বলে উপদেশ দেন। দেবালয়ে বা ব্রাহ্মণের গৃহে এক বছর প্রদীপ জ্বালালে সর্বসমৃদ্ধি লাভ হয়; বিশেষত চাতুর্মাস্য ও কার্ত্তিকে এর পুণ্য অতুল, বিষ্ণুলোকপ্রাপ্তি ও স্বর্গীয় ভোগ দেয়। পরে ললিতার কাহিনিতে বিষ্ণুমন্দিরের দীপ-সম্পর্কিত এক অনিচ্ছাকৃত কাজও মহাফলদায়ক হয়ে তাকে রাজকুলে পুনর্জন্ম ও দাম্পত্যসমৃদ্ধি দেয়। দীপচুরি কঠোরভাবে নিন্দিত—মূক/জড় জন্ম এবং অন্ধকার-নরকে পতনের ফল। ইন্দ্রিয়াসক্তি, দুষ্কাম ও পরস্ত্রীগমন ত্যাগ করে হরিনামজপ ও সহজ নিবেদন—বিশেষত দীপদান—গ্রহণের উপদেশ আছে। শেষে বলা হয়, দীপদান সকল ব্রতের ফল বৃদ্ধি করে; এই শিক্ষা শ্রবণ ও পালন করলে ঊর্ধ্বগতি হয়।
Worship of the Nine Vyūhas (Nava-vyūha-arcana)
এই অধ্যায়ে পূর্ববর্তী দীপদান-ব্রতের সমাপ্তি উল্লেখ করে সঙ্গে সঙ্গে হরিপ্রদত্ত নবব্যূহ-অর্চনার প্রযুক্ত লিতুর্জিতে প্রবেশ করা হয়েছে। অগ্নি পদ্ম-মণ্ডল বিন্যাস শেখান—মধ্যস্থানে বাসুদেব, দিকসমূহে সংকর্ষণ, প্রদ্যুম্ন, অনিরুদ্ধ ও নারায়ণ; প্রত্যেকের জন্য নির্দিষ্ট বীজাক্ষর, তত্ত্ব/কর্মস্থান ও জল-স্থাপনসহ বিধান আছে। পরে সদ্ব্রহ্মা, বিষ্ণু, নৃসিংহ, ভূর্বরাহ প্রভৃতি রূপের মন্ত্র-বীজ মানচিত্র, দ্বারদেশ ও পশ্চিমদিকে সহায়ক ন্যাস, গরুড় ও গদা-মন্ত্রের বিশেষ প্রয়োগ বর্ণিত। এরপর বাহ্য মণ্ডল থেকে অন্তর্লীন সাধনা—দশাঙ্গ-ক্রম পূজা, দিকপালদের জন্য ঘট স্থাপন, তোরণ-ভিতান কল্পনা এবং চন্দ্রামৃত ধ্যান। শেষে দ্বাদশ বীজে ন্যাস করে ‘দিব্য দেহ’ নির্মাণ, পুষ্পক্ষেপে শিষ্য-পরিচয়, শুদ্ধির জন্য হোমসংখ্যা ও দীক্ষাদক্ষিণা নির্দিষ্ট—দীক্ষাকে আচারবিজ্ঞানের সামাজিক-আধ্যাত্মিক সিলমোহর বলা হয়েছে।
Puṣpādhyāya-kathana (Account of Flowers in Worship)
ব্রতখণ্ডের ব্যবহারিক পূজা-নির্দেশে এই অধ্যায়ে ভগবান অগ্নি ঋষি বশিষ্ঠকে বলেন—পুষ্প, গন্ধ, চন্দন প্রভৃতি নিবেদন শৃঙ্খলিত ভক্তির মাধ্যম; এতে হরি (বিষ্ণু) প্রসন্ন হন এবং পাপক্ষয়, ভোগ, মুক্তি ও বিষ্ণুলোক-প্রাপ্তির মতো ক্রমবর্ধমান ফল লাভ হয়। প্রথমে ‘দেবযোগ্য’ পুষ্প-পত্রের তালিকা ও নানা উপহারের নির্দিষ্ট ফল বলা হয়েছে; পরে বিধি—শুকনো, ভাঙা, দোষযুক্ত বা অমঙ্গল দ্রব্য দিয়ে পূজা করা উচিত নয়। সম্প্রদায়ভেদে কিছু ফুল বিষ্ণুর উপযুক্ত, শিবের জন্য ভিন্ন, এবং কিছু শিবপূজায় নিষিদ্ধ—এ কথাও বলা হয়েছে। শেষে সর্বোচ্চ ‘পুষ্প’ হিসেবে অন্তর্গত গুণ—অহিংসা, ইন্দ্রিয়জয়, ক্ষমা, দয়া, শম, তপ, ধ্যান, সত্য (কিছু পাঠে শ্রদ্ধাও)—প্রতিষ্ঠা করে দেখানো হয়েছে যে বাহ্য আচার অন্তঃশুদ্ধিতে পূর্ণ হয়। উপসংহারে আসন, মূর্তি-পঞ্চাঙ্গ, অষ্টপুষ্পিকা এবং দেবনাম-ক্রম (বিষ্ণুর জন্য বাসুদেব-আদি, শিবের জন্য ঈশান-আদি) অনুযায়ী নিবেদনের বিন্যাস দেওয়া হয়েছে।
Chapter 203 — नरकस्वरूपम् (Naraka-svarūpa: The Nature of Hell)
ভগবান অগ্নি বশিষ্ঠকে মৃত্যু ও মৃত্যুর পর কর্মফলের গতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ফুল প্রভৃতি নিবেদনসহ বিষ্ণু-আরাধনা করলে নরকে পতন রোধ হয়; জল, অগ্নি, বিষ, অস্ত্র, ক্ষুধা, রোগ বা পতন—এমন নিকট কারণ উপস্থিত হলে দেহধারীর মৃত্যু ঘটে। এরপর জীব কর্মানুসারে নতুন দেহ গ্রহণ করে—পাপে যন্ত্রণা, ধর্মে সুখ। যমের ভয়ংকর দূতেরা পাপীদের দক্ষিণ দ্বার ও ‘কুপথ’ দিয়ে নিয়ে যায়, আর ধার্মিকেরা অন্য পথে গমন করে। অধ্যায়ে নানা নরক ও শাস্তির তালিকা আছে এবং হিংসা, চুরি, কামদোষ, যজ্ঞ/আচারদূষণ, কর্তব্য-অবহেলা ইত্যাদি অপরাধ অনুযায়ী নির্দিষ্ট যাতনা বর্ণিত। শেষে প্রতিকার হিসেবে দীর্ঘকালীন ব্রতাচরণ—বিশেষত মাসব্যাপী উপবাস, একাদশী-ব্রত ও ভীষ্ম-পঞ্চক—নরকগতি থেকে রক্ষাকারী ধর্মসাধন বলে বলা হয়েছে।
Chapter 204 — मासोपवासव्रतम् (The Vow of Month-long Fasting)
ভগবান অগ্নি বশিষ্ঠকে মাসোপবাস-ব্রতকে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্রত বলে শিক্ষা দেন। বৈষ্ণব যজ্ঞের পরে গুরুর অনুমতিতে এটি পালনীয়; কৃচ্ছ্র প্রভৃতি তপস্যায় সামর্থ্য যাচাই করে বনপ্রস্থ, সন্ন্যাসী ও নারীরাও (বিশেষত বিধবা) অধিকারী। আশ্বিন শুক্লপক্ষে একাদশীর উপবাসের পর শুরু করে বিষ্ণুর উত্ত্থান পর্যন্ত ত্রিশ দিন বিষ্ণু-আরাধনা চলে। ব্রতী দিনে তিনবার ত্রিস্নানসহ বিষ্ণুপূজা, অর্ঘ্য/নৈবেদ্য, জপ ও ধ্যান করে; বাক্সংযম, আসক্তিহীনতা এবং স্পর্শ-আচরণ-নিয়ম মানে। দ্বাদশীতে পূজা, ব্রাহ্মণভোজন, দক্ষিণা ও বিধিমত পারণ করে সমাপ্তি; তেরো সংখ্যায় নির্দিষ্ট দানের বিধান আছে। ফল—শুদ্ধি, বংশোন্নতি ও বিষ্ণুলোকপ্রাপ্তি; অজ্ঞান হলে দুধ-ঘি ব্রাহ্মণসম্মত হবি হিসেবে অনুমোদিত।
Bhīṣma-pañcaka-vrata (The Bhishma Five-Day Vow)
ভগবান অগ্নি কার্ত্তিক শুক্ল একাদশী থেকে আরম্ভযোগ্য ভীষ্ম-পঞ্চককে পরম বৈষ্ণব ব্রত বলেন। পাঁচ দিনের সাধনা—ত্রিকাল স্নান, দেব ও পিতৃদের তर्पণ, মৌন/সংযম—এবং শেষে হরির পূর্ণ পূজা। দেবতার পঞ্চগব্য ও পঞ্চামৃত দ্বারা অভিষেক, চন্দনলেপন, ঘৃতসহ গুগ্গুল ধূপ, দিন-রাত দীপদান, উৎকৃষ্ট নৈবেদ্য এবং “ওঁ নমো বাসুদেবায়” ১০৮ জপ প্রধান। হোমে যব, ব্রীহি, তিলের আহুতি, অক্ষরোচ্চারণ ও ষড়ক্ষর মন্ত্রে “স্বাহা” বিধান আছে। ফুল-পাতায় অঙ্গপূজা, ভূমিশয়ন ও পঞ্চগব্যসহ নিয়ত আহার প্রায়শ্চিত্তরূপে বলা হয়েছে। শেষে ভীষ্মের হরি-প্রাপ্তি স্মরণ করে ব্রতীর ভুক্তি ও মুক্তি ফল প্রতিশ্রুত।
Agastyārghyadāna-kathana (On the Giving of the Agastya Honor-Offering)
এ অধ্যায়ে ভগবান অগ্নি অগস্ত্যকে বিষ্ণুরূপ বলে নির্দিষ্ট করে অগস্ত্য-কেন্দ্রিক ব্রতপূজার বিধান দেন, যা হরিলাভের সঙ্গে যুক্ত। তিন দিন সূর্যোদয়ের আগে উপবাস, পূজা ও অগস্ত্যকে অর্ঘ্য দান করতে হয়। প্রদোষে কাশফুলের প্রতিমা জলভরা ঘট/কুম্ভে স্থাপন করে রাত্রিজাগরণ করা হয়। পরে প্রাতে জলাশয়ের কাছে অর্ঘ্য দিয়ে সমুদ্র শোষণ ও আতাপি–বাতাপি বধ প্রভৃতি কীর্তি স্মরণ করে স্তব ও বর, শুভ পরলোকের প্রার্থনা করা হয়। চন্দন, মালা, ধূপ, বস্ত্র, ধান্য/চাল, ফল, স্বর্ণ ইত্যাদি দ্রব্য, ব্রাহ্মণকে ঘটদান, ভোজন ও দক্ষিণা (গো, বস্ত্র, স্বর্ণ) নির্দিষ্ট। মন্ত্রপাঠের ভেদ উল্লেখ আছে; নারী ও শূদ্রদের জন্য বৈদিক মন্ত্রবিহীন বিধি। সাত বছর অর্ঘ্যব্রতে সর্বসমৃদ্ধি, নিঃসন্তানের পুত্রলাভ ও কন্যার রাজপতি লাভের ফল বলা হয়েছে।
Chapter 207: कौमुदव्रतं (Kaumuda-vrata)
ব্রতখণ্ডের ধারাবাহিক বিধানে ভগবান অগ্নি কৌমুদ-ব্রত বর্ণনা করেন—আশ্বিনের শুক্লপক্ষে এক মাসব্যাপী বৈষ্ণব সাধনা। ভুক্তি ও মুক্তির উদ্দেশ্যে সংকল্প, একবার আহার, একাদশীতে উপবাস, হরিনাম জপ এবং দ্বাদশীতে বিষ্ণুকেন্দ্রিক পূজা করা হয়। ইন্দ্রিয়শুদ্ধির জন্য চন্দন, আগরু, কেশর লেপন এবং পদ্ম ও নীলপদ্ম পুষ্পার্পণ নির্দেশিত। বাক্সংযমসহ তেলের প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা ও পায়স, আপূপ, মোদক প্রভৃতি দিন-রাত নৈবেদ্য দেওয়া হয়। "ওঁ নমো বাসুদেবায়" মন্ত্রে প্রণাম করে ক্ষমা প্রার্থনা, এবং দেবতা ‘জাগ্রত’ মনে হওয়া পর্যন্ত ব্রাহ্মণভোজন করিয়ে ব্রত সম্পন্ন; মাসব্যাপী তপস্যায় ফল বৃদ্ধি পায়।
A Compendium of Vows and Gifts (Vrata-Dāna-Ādi-Samuccaya)
ভগবান অগ্নি ব্রত ও দানের একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু সুসংবদ্ধ কাঠামো উপস্থাপন করেন। তিথি, বার, নক্ষত্র, সংক্রান্তি, যোগ এবং গ্রহণ ও মন্বাদি দিবসের মতো বিশেষ উপলক্ষ অনুযায়ী আচারের বিন্যাস করা হয়েছে। তিনি এক তাত্ত্বিক ঐক্য স্থাপন করেন—‘কাল’ ও ‘দ্রব্য’ উভয়ের অধিষ্ঠাতা বিষ্ণু; সূর্য, ঈশ, ব্রহ্মা, লক্ষ্মী প্রভৃতি বিষ্ণুর বিভূতি, ফলে নানা বিধি এক তত্ত্বে সঙ্গত হয়। পূজাক্রম—আসন, পাদ্য, অর্ঘ্য, মধুপর্ক, আচমন, স্নান, বস্ত্র, গন্ধ, পুষ্প, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য—উল্লেখিত; দানকালে গ্রহীতা ব্রাহ্মণ ও গোত্রনাম উচ্চারণসহ মানক দানবাক্যও দেওয়া হয়েছে। দাতার উদ্দেশ্য—পাপশমন, আরোগ্য, বংশবৃদ্ধি, বিজয়, ধনসমৃদ্ধি এবং শেষে সংসারমুক্তি—বর্ণিত। নিয়মিত পাঠ/শ্রবণে ভুক্তি-মুক্তির ফলশ্রুতি এবং বাসুদেব-উপাসনায় মিশ্র পদ্ধতি বর্জন করে এক নিয়ম মানার উপদেশ আছে।