Veda-vidhana & Vamsha
VedasLineageGenealogyShakhas

Veda-vidhana & Vamsha

Vedic Ordinances & Lineages

The arrangement of the Vedas, their branches (shakhas), transmission lineages, and the genealogies of the great royal and sage dynasties.

Adhyayas in Veda-vidhana & Vamsha

Adhyaya 259

अध्याय १ — यजुर्विधानम् (Agni Purana, Chapter 259: Yajur-vidhāna)

এই অধ্যায়ে ঋগ্বিধান থেকে যজুর্বিধানে প্রবেশ করে পুষ্কর রামকে বলেন—যজুর্মন্ত্রভিত্তিক বিধান ভুক্তি ও মুক্তি উভয়ই প্রদান করে; শুরুতে ‘ওঁ’ ও মহাব্যাহৃতির প্রাধান্য স্থাপন করা হয়েছে। এরপর সংক্ষিপ্ত এক কর্ম-সংগ্রহের মতো হোমদ্রব্য (ঘৃত, যব, তিল, শস্য, দধি, দুধ, পায়স), সমিধা (উদুম্বর, আপামার্গ, পলাশ প্রভৃতি) ও মন্ত্রসমূহ নির্দিষ্ট ফলের জন্য নির্ধারিত—শান্তি, পাপনাশ, পুষ্টি, আরোগ্য, ধন-লক্ষ্মী, বশ্য/বিদ্বেষ/উচ্চাটন, যুদ্ধে বিজয়, অস্ত্র-রথরক্ষা, বৃষ্টিসাধন, এবং চোর-সাপ-রাক্ষসী বাধা ও অভিচার নিবারণ। সহস্র-লক্ষ-কোটি হোমের সংখ্যা-নিয়ম, চন্দ্রগ্রহণাদি কালব্রত, গৃহের বাস্তুদোষ নাশ, গ্রাম/অঞ্চলের মহামারী শান্তি ও চৌরাস্তার অর্ঘ্য-আহুতি উল্লেখিত। শেষে গায়ত্রীকে বৈষ্ণবী রূপে বিষ্ণুর পরম পদ বলে প্রতিপাদন করে সব বিধানকে ধর্মশুদ্ধি ও পরমলাভের পথে স্থাপন করা হয়েছে।

84 verses

Adhyaya 260

Sāma-vidhāna (Procedure of the Sāman Hymns)

যজুর্-বিধান সমাপ্তির পর পুষ্কর সাম-বিধানে প্রবেশ করেন এবং সাম-প্রয়োগকে শান্তি, রক্ষা ও কাম্যসিদ্ধির কার্যকর যজ্ঞ-প্রযুক্তি রূপে ব্যাখ্যা করেন। বৈষ্ণবী, ছান্দসী, স্কন্দী, পৈত্র্যা প্রভৃতি সংহিতা-জপ এবং শান্তাতীয়, ভৈষজ্য, ত্রি-সপ্তীয়, অভয়, আয়ুষ্য, স্বস্ত্যয়ন, বাস্তোষ্পতি, রৌদ্র ইত্যাদি গণ-হোমকে ফলসহ যুক্ত করা হয়েছে—শান্তি, রোগনাশ, পাপনির্মোচন, নির্ভয়তা, জয়, সমৃদ্ধি, সন্তানবৃদ্ধি, নিরাপদ যাত্রা ও অকালমৃত্যু-নিবারণ। বিভিন্ন শাখায় মন্ত্র-পাঠান্তরের কথাও উল্লেখ আছে। ঘৃতাহুতি, মেখলা-বন্ধন, নবজাতকের তাবিজ, শতাবরী-মণি, গোরক্ষা-ব্রত, শান্তি/পুষ্টি ও অভিচার-দ্রব্যাদি সহ উপাঙ্গও নির্দিষ্ট। শেষে বিনিয়োগে ঋষি-দেবতা-ছন্দ নির্ধারণ অপরিহার্য এবং শত্রুকর্মে কণ্টকসমিধ ব্যবহারের বিধান বলা হয়েছে।

25 verses

Adhyaya 261

Sāmavidhāna (Procedure concerning the Sāma Veda) — Colophon and Closure

এই অংশটি আনুষ্ঠানিক অধ্যায়-সমাপ্তি (কলফন), যেখানে অগ্নি মহাপুরাণে ‘সামবিধান’ বিভাগের সমাপ্তি এবং অধ্যায়ের নাম ও বিষয় স্পষ্টভাবে ঘোষিত হয়েছে। এতে শাস্ত্রসুলভ, পদ্ধতিগত বিন্যাস প্রকাশ পায়—বিধানগুলি পৃথক, বিষয়-সীমাবদ্ধ এককে শেখানো হয়। এই সমাপ্তি পাঠককে এক বৈদিক প্রক্রিয়াগত সংকলন থেকে অন্যটিতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি দেয়; সামনের যথাবিধি প্রয়োগে যে শুদ্ধাচার, তা পরবর্তী কালে অথর্বণ পরম্পরাতেও প্রসারিত হবে। ‘আগ্নেয় বিদ্যা’র বৃহত্তর ধারায় এমন কলফন দেখায় যে যজ্ঞীয় জ্ঞান ছড়ানো কাহিনি নয়, ধর্মসিদ্ধি ও অন্তঃশুদ্ধির লক্ষ্যে সুসংগঠিত শাস্ত্র।

1 verses

Adhyaya 262

Utpāta-śānti (Pacification of Portents)

এই অধ্যায়ে পূর্বের অথর্ববিধান থেকে অগ্রসর হয়ে ‘উৎপাত-শান্তি’—রাজ্য, সমাজ ও ব্যক্তিগত কল্যাণে অশুভ বিঘ্ন নিবারণের বিধান—বিশদে বলা হয়েছে। পুষ্কর বলেন, বৈদিক স্তোত্রপাঠে সমৃদ্ধি ও স্থিতি বৃদ্ধি পায়: প্রতিবেদসহ শ্রীসূক্তকে লক্ষ্মী-বিবর্ধন রূপে দেখানো হয়েছে, সঙ্গে যজুর্বেদীয় ও সামবেদীয় শ্রী-আহ্বান। জপ, হোম, স্নান, দান ও বিষ্ণু-অর্পণ/আহুতি প্রয়োগ নির্দেশিত; পুরুষসূক্তকে সর্বদাতা, পবিত্রকারী ও মহাপাপ-শোধক বলা হয়েছে। শান্তির শ্রেণিবিভাগ এবং অমৃতা, অভয়া, সৌম্যা—এই তিন শান্তি, দেবতা-সম্পর্কিত মণি-তাবিজ ও মন্ত্রাভিমন্ত্রণের বিধানও আছে। পরে উৎপাতে দিব্য, আকাশীয় ও ভৌম বিভাগ—উল্কা, পরিবেষ, অস্বাভাবিক বৃষ্টি, ভূমিকম্প, প্রতিমা-বিকার, অগ্নি-অশান্তি, বৃক্ষ-নিমিত্ত, জলদূষণ, অস্বাভাবিক জন্ম, পশু-বিপর্যয়, গ্রহণ ইত্যাদি—এবং প্রতিকার হিসেবে প্রজাপতি/অগ্নি/শিব/পর্জন্য-বরুণ পূজার কথা বলা হয়েছে। শেষে ব্রাহ্মণ ও দেবপূজা, জপ ও হোমকেই প্রধান শান্তিকারক বলা হয়।

33 verses

Adhyaya 263

Devapūjā, Vaiśvadeva Offering, and Bali (देवपूजावैश्वदेवबलिः)

এই অধ্যায়ে উৎপাত-শান্তির প্রসঙ্গ থেকে বিষ্ণুকেন্দ্রিক গৃহ্য-নিত্যকর্মের সুসংবদ্ধ বিধান বর্ণিত। পুষ্কর ‘আপো হি ষ্ঠা’ প্রভৃতি মন্ত্রে স্নান, পরে বিষ্ণুকে অর্ঘ্য, এবং পাদ্য, আচমন, অভিষেকের নির্দিষ্ট মন্ত্র নির্দেশ করেন। গন্ধ, বস্ত্র, পুষ্প, ধূপ, দীপ, মধুপর্ক ও নৈবেদ্য ইত্যাদি উপচারের বৈদিক সূত্রে (হিরণ্যগর্ভ প্রভৃতি) পবিত্রীকরণ দেখানো হয়েছে। এরপর শুদ্ধ প্রস্তুতিতে হোম—বাসুদেব ও অগ্নি, সোম, মিত্র, বরুণ, ইন্দ্র, বিশ্বেদেব, প্রজাপতি, অনুমতি, রাম, ধন্বন্তরি, বাস্তোষ্পতি, দেবী ও স্বিষ্টকৃত অগ্নিকে ক্রমানুসারে আহুতি; তারপর দিকানুসারে বলি-বিতরণ। ভূতবলি, পিতৃদের নিত্য পিণ্ডদান, কাক ও যমবংশীয় দুই কুকুরকে প্রতীকী ভোজন, অতিথি ও দরিদ্রের সেবা, এবং শেষে অবযজন-প্রায়শ্চিত্ত মন্ত্র—দৈনিক আচারে নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক রক্ষার সমন্বয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

29 verses

Adhyaya 264

Chapter 264 — Dikpālādi-snāna (Bathing rites for the Dikpālas and associated deities)

অগ্নি ঋষি বসিষ্ঠকে সর্বকার্য-সাধক শান্তিদায়ক স্নানবিধি শেখান—নদীতট, হ্রদ, গৃহ, মন্দির বা তীর্থে বিষ্ণু ও গ্রহদের আহ্বান করে স্নান। প্রসঙ্গভেদে ফল নির্দিষ্ট—জ্বর ও গ্রহপীড়া (বিশেষত বিনায়ক-গ্রহদোষ) নিবারণ, ছাত্রদের মঙ্গল, জয়লাভের কামনা পূরণ, গর্ভপাত-দোষে পদ্মপুকুরে স্নান, আর বারবার নবজাত-মৃত্যু হলে অশোকবৃক্ষের কাছে স্নান। কালনির্বাচনে বৈষ্ণব দিন এবং চন্দ্রের রেবতী বা পুষ্য নক্ষত্রে অবস্থান শ্রেয়; পূর্বে সাতদিনের শোধন (উৎসাদন) বিধান। দ্রব্যবিধিতে ভেষজ-চূর্ণ ও সুগন্ধি, যবচূর্ণসহ পঞ্চগব্য দ্বারা উবটন, এবং কুম্ভে ভেষজ সংস্থাপন। শেষে দিক ও বিদিকে স্নান-মণ্ডল নির্মাণ, হর, ইন্দ্র ও দিকপালদের অস্ত্র-পরিবারসহ স্থাপন/লেখন, বিষ্ণু ও ব্রাহ্মণ পূজা এবং নির্দিষ্ট আহুতি সহ হোম। উপসংহারে ইন্দ্রাভিষেকের ফলে দৈত্যজয়ের দৃষ্টান্ত দিয়ে যুদ্ধারম্ভে বিশেষত শুভসিদ্ধির ধর্মীয় উপায় হিসেবে স্নানকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

18 verses

Adhyaya 265

Vināyaka-snāna (The Vinayaka Bath) — Obstacle-Removal and Consecratory Bathing Rite

এই অধ্যায়ে বিনায়ক-দোষ (কর্মজনিত বিঘ্ন) নিবারণের জন্য বিশেষ স্নান/স্নাপন-বিধি বর্ণিত। প্রথমে স্বপ্ন-লক্ষণ ও উপসর্গ—ভয়ংকর দর্শন, অকারণ ভীতি, কাজে বারবার ব্যর্থতা, বিবাহ ও সন্তানলাভে বাধা, শিক্ষাদানের ক্ষমতা হ্রাস, এমনকি রাজাদের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অস্থিরতা—উল্লেখ করা হয়েছে। পরে শুভ নক্ষত্র (হস্ত, পুষ্য, অশ্বযুজ, সৌম্য), বৈষ্ণব উপলক্ষ ও ভদ্রপীঠে বসে সর্ষে-ঘৃত মর্দন, ঔষধি ও সুগন্ধ দ্রব্যে শিরোলেপ, এবং চার কলশে অভিষেকের নির্দেশ আছে; শুদ্ধিদ্রব্য গোশালা, উইঢিবি/উইপোকা-ঢিবি, সঙ্গম ও সরোবর প্রভৃতি সীমান্ত-শক্তিস্থল থেকে সংগ্রহ করা হয়। মন্ত্রে বরুণ, ভাগ, সূর্য, বৃহস্পতি, ইন্দ্র, বায়ু ও সপ্তর্ষিদের আহ্বান করা হয়। চৌমাথায় মিত, সম্মিত, শালক, কণ্টক, কুষ্মাণ্ড, রাজপুত্র নামে বিনায়ক-গণকে নানা অন্নে বলি দিয়ে তুষ্ট করা হয়। শেষে বিনায়কের মাতা ও অম্বিকার পূজা, ব্রাহ্মণভোজন ও গুরুকে দান দ্বারা বিধি সম্পূর্ণ হয়ে শ্রী, সিদ্ধি ও নিশ্চিত সাফল্য প্রদান করে।

20 verses

Adhyaya 266

Māheśvara-snāna: Lakṣa/Koṭi-homa, Protective Baths, Unguents, and Graha-Śānti

এই অধ্যায়ে পূর্ববর্তী বিনায়ক-স্নান থেকে সংক্রমণ-চিহ্ন দিয়ে শুরু করে ‘মাহেশ্বর স্নান’কে রাজা ও নেতাদের বিজয়বর্ধক বিধি বলা হয়েছে; উশনা বলিকে এ উপদেশ দিয়েছিলেন। প্রভাতের আগে দেবপীঠ/দেবতার কলশ-জলে স্নাপন, বিবাদ-ভঙ্গ মন্ত্র, এবং উগ্র সৌরশক্তি ও সংবর্তক অগ্নিসদৃশ ত্রিপুরান্তক শিবকে স্মরণ করে রক্ষা-মন্ত্র উচ্চারণের কথা আছে। স্নানের পরে তিল ও তণ্ডুলের আহুতি, পঞ্চামৃত-স্নান ও শূলপাণির পূজা করা হয়। এরপর ঘৃত, গোময়াদি গো-উৎপন্ন দ্রব্য, দুধ-দই, কুশজল, শতমূল, শৃঙ্গ-সংস্কৃত জল, এবং ঔষধি-উদ্ভিদ মিশ্রণ প্রভৃতি স্নানদ্রব্যের শ্রেণিবিভাগ করে ফল—আয়ু, লক্ষ্মী, পাপক্ষয়, রক্ষা, মেধা—নির্দেশ করা হয়েছে। বিষ্ণুপাদোদককে সর্বোত্তম স্নান বলা হয়েছে; একাকী অর্ক-পূজা ও তাবিজ-বাঁধাও আছে। পিত্ত, অতিসার, বাত, কফের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক হোম ও স্নেহস্নান-চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শেষে চতুরশ্র কুণ্ডে লক্ষ/কোটি হোম এবং গায়ত্রী দ্বারা গ্রহপূজা করে ক্রমে সর্বাঙ্গ শান্তির বিধান সম্পন্ন হয়।

24 verses

Adhyaya 267

Nīrājana-vidhiḥ (Procedure of Nīrājana / Auspicious Lamp-Waving and Royal Propitiation)

এই অধ্যায়ে নীরাজনকে শান্তি ও বিজয়দায়ক রাজকীয় ব্রতরূপে ক্যালেন্ডার-নির্ভর বিধান করা হয়েছে। পুষ্কর বার্ষিক ও মাসিক পূজার ছন্দ—বিশেষত জন্মনক্ষত্রে ও প্রত্যেক সংক্রান্তিতে—নির্দেশ করেন; ঋতুকালীন প্রধান আচারে অগস্ত্যোদয়ে হরির চাতুর্মাস্য পূজা এবং বিষ্ণুর প্রबোধনে পাঁচদিনের উৎসব স্থাপন করেন। পরে ইন্দ্রকেন্দ্রিক জনসমারোহে ইন্দ্রধ্বজ স্থাপন, শচী-শক্র পূজা, উপবাস, তিথিভিত্তিক কর্ম এবং নানা দেবশ্রেণি স্মরণসহ জয়স্তোত্র পাঠ বর্ণিত। এরপর অস্ত্র, রাজচিহ্ন ও বিজয়ের জন্য ভদ্রকালী পূজা, ঈশান দিক থেকে নীরাজন-পরিক্রমা, তোরণ স্থাপন, গ্রহাদি দেবতা ও অষ্ট দিগ্গজের ক্রমতালিকা দেওয়া হয়েছে। হোমদ্রব্য, অশ্ব-গজ স্নান, দ্বারপথে শোভাযাত্রা, বলি বিতরণ, আলোকিত দিকসহ ত্রিবার প্রদক্ষিণা এবং শেষে রাজ্যরক্ষা, সমৃদ্ধিবৃদ্ধি ও শত্রুনাশের ফল বলা হয়েছে।

31 verses

Adhyaya 268

Mantras for the Parasol and Other Royal/Worship Emblems (छत्रादिमन्त्रादयः)

এই অধ্যায়ে নীরাজনের পর রাজচিহ্ন ও যুদ্ধোপকরণ—ছত্র, অশ্ব, ধ্বজ, খড়্গ, কবচ ও ভেরি—ইত্যাদির মন্ত্রাভিমন্ত্রণের বিধান বলা হয়েছে। পুষ্কর ব্রহ্মার সত্যবল এবং সোম-বরুণের দেবশক্তি আহ্বান করে রক্ষা ও জয়দায়ক মন্ত্র প্রদান করেন; সূর্যতেজ, অগ্নিশক্তি, রুদ্রের শাসন ও বায়ুর বেগ যুদ্ধক্ষেত্রে স্থিতি ও মঙ্গল আনে। ভূমির জন্য মিথ্যাভাষণের পাপ এবং ক্ষত্রিয়ধর্মের নীতি-উপদেশও অন্তর্ভুক্ত। গরুড়ের নাম, ঐরাবতে ইন্দ্র, দিক্পাল ও নানা গণকে স্মরণ করে সর্বতো রক্ষাকবচ স্থাপন করা হয়। শেষে নিয়মিত পূজা, জয়কর্মে প্রয়োগ, বার্ষিক প্রতিষ্ঠা এবং দैবজ্ঞ বিদ্বান পুরোহিতের দ্বারা রাজার অভিষেকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

39 verses

Adhyaya 269

Viṣṇu-Pañjara (विष्णुपञ्जरम्) — The Protective Armor of Viṣṇu

এই অধ্যায়ে ‘বিষ্ণু-পঞ্জর’ নামে কবচ-রক্ষাবিধি বর্ণিত। ত্রিপুরবধের মহাযুদ্ধের আগে শঙ্করের রক্ষার্থে ব্রহ্মা বিধিপূর্বক এই উপদেশ দেন—এতে বোঝানো হয় যে সর্বোচ্চ দেবতারাও নির্দিষ্ট রক্ষাবিধির অধীন। পুষ্কর বিষ্ণুর রূপ ও আয়ুধকে দিকসমূহে স্থাপন করে রক্ষাতত্ত্ব ব্যাখ্যা করেন—পূর্বে সুদর্শন চক্র, দক্ষিণে গদা, পশ্চিমে শার্ঙ্গ ধনু, উত্তরে খড়্গ; মধ্যদিক, দেহের দ্বারসমূহ, পৃথিবীতে বরাহ ও আকাশে নরসিংহ—সর্বত্র রক্ষা। সুদর্শন, দীপ্ত গদা ও শার্ঙ্গের গর্জনে রাক্ষস, ভূত, পিশাচ, ডাকিনী, প্রেত, বিনায়ক, কুষ্মাণ্ড প্রভৃতি এবং পশু-সর্পাদি ভয় দূর ও বিনাশের কথা বলা হয়েছে। শেষে বাসুদেব-কীর্তনে বুদ্ধি-মন-ইন্দ্রিয়ের স্বাস্থ্য, বিষ্ণুর পরব্রহ্মত্ব এবং সত্য নামজপে ‘ত্রিবিধ অশুভ’ নাশ—এইভাবে আচারগত রক্ষাকে অদ্বৈত-ভক্তিময় তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

15 verses

Adhyaya 270

Vedaśākhā-dikīrtana (Enumeration of the Vedic Branches) and Purāṇa-Vaṃśa (Lineages of Transmission)

এই অধ্যায়ে মন্ত্রের সর্বজনীন কল্যাণকারিতা ঘোষণা করে তাকে চার পুরুষার্থসাধনের উপায় বলা হয়েছে; ফলে বেদাধ্যয়নকে মোক্ষসাধক ও ব্যবহারিক ফলদায়ক রূপে স্থাপন করা হয়। পরে বেদ-বিধান প্রসঙ্গে মন্ত্রসংখ্যা, বিশেষত ঋগ্ ও যজুঃ-এর প্রধান শাখাবিভাগ, এবং ব্রাহ্মণগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত নামধারী সংহিতা/পাঠের উল্লেখ আছে। সামবেদের প্রধান সংহিতা ও গানের শ্রেণিবিভাগ, আর অথর্ববেদে আচার্য-পরম্পরা ও উপনিষদের সংখ্যাবিষয়ক উল্লেখযোগ্য বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। এরপর বংশকথায় ব্যাসকে দিব্য নিমিত্তরূপে শাখাভেদাদি বিন্যস্তকারী বলা হয় এবং বিষ্ণুকে বেদ-ইতিহাস-পুরাণের মূল উৎস রূপে প্রতিষ্ঠা করা হয়। শেষে ব্যাস থেকে লোমহর্ষণ (সূত) এবং শিষ্যপরম্পরায় পুরাণসংহিতা সংকলনের ধারাবাহিকতা দেখিয়ে অগ্নেয় পুরাণকে বেদসার, ভক্তি-দর্শনসমৃদ্ধ, ইহলৌকিক সিদ্ধি ও মোক্ষদায়ক বলে মহিমা করা হয়েছে।

22 verses

Adhyaya 271

Dānādi-māhātmya — The Glory of Gifts, Manuscript-Donation, and Purāṇic Transmission

এই অধ্যায়ে বেদশাখা-প্রসঙ্গের পর দানকে ধর্মের প্রধান উপায় এবং পরম্পরার মাধ্যমে শাস্ত্ররক্ষার সাধন বলা হয়েছে। পুষ্কর পূর্ণিমা, মাস, নক্ষত্র, বিষুব ও অয়ন ইত্যাদি কালচিহ্ন অনুযায়ী পুণ্যদায়ক দানের বিধান দেন। বিশেষ গুরুত্ব ‘বিদ্যাদান’-এ—ইতিহাস ও পুরাণাদি গ্রন্থ লিখিয়ে বিধিপূর্বক দান করা। জলধেনু, গুড়ধেনু, তিলধেনু প্রভৃতি প্রতীকী দান এবং স্বর্ণসিংহ, কূর্ম, মৎস্য, হংস, গরুড় ইত্যাদি রূপের উল্লেখ পুরাণসমূহের শ্লোকসংখ্যা ও প্রকাশ-পরম্পরা (যেমন অগ্নি থেকে বশিষ্ঠ, ভব থেকে মনু, সাবর্ণি থেকে নারদ) সহ বর্ণিত। শেষে ভারত-পাঠচক্রে পাঠক ও পাণ্ডুলিপির পূজা, ভোজন, সম্মান ও পুনঃপুন দানের নিয়ম আছে। ধর্মসাহিত্য সংরক্ষণ ও উদার পৃষ্ঠপোষকতায় আয়ু, আরোগ্য, স্বর্গ ও মোক্ষ লাভ হয়।

29 verses

Adhyaya 272

Sūryavaṃśa-kīrtana (Proclamation of the Solar Dynasty)

এই অধ্যায়ে অগ্নিদেব সূর্য, চন্দ্র ও রাজবংশসমূহের নিয়মিত বংশানুক্রম স্থাপন করেন। সূচনা মহাজাগতিক বংশধারা থেকে—হরি→ব্রহ্মা→মরীচি→কশ্যপ→বিবস্বান। বিবস্বানের পত্নী ও সন্তান (মনু, যম-যমুনা, অশ্বিনীকুমার, শনি প্রভৃতি) বর্ণনা করে বৈবস্বত মনুকে সমাজ ও রাজধর্মের প্রধান প্রবর্তক রূপে দেখানো হয়েছে। মনু থেকে ইক্ষ্বাকু বংশ এবং নানা জনপদ-রাজ্য (শক, উৎকল, গয়াপুরী, প্রতিষ্ঠান, আনর্ত/কুশস্থলী ইত্যাদি) শাখায়িত হয়। ককুদ্মী-রৈবত প্রসঙ্গে কালবিলম্বনের ফলে পৃথিবীতে বংশপরিবর্তন, দ্বারাবতী প্রতিষ্ঠা ও রেবতীর বলদেবের সঙ্গে বিবাহের মাধ্যমে বংশকে সর্বভারতীয় পবিত্র ইতিহাসে যুক্ত করা হয়েছে। পরে মন্ধাতা, হরিশ্চন্দ্র, সগর, ভাগীরথ থেকে রঘুবংশ, দশরথ ও রাম পর্যন্ত ইক্ষ্বাকু উত্তরাধিকার আসে; রামকথা নারদের শ্রবণ থেকে বাল্মীকির রচনা বলে উল্লেখ। শেষে কুশ থেকে শ্রুতায়ু পর্যন্ত উত্তরসূরি গণনা করে তাদের সূর্যবংশধারক বলে রাজধর্ম, আঞ্চলিক স্মৃতি ও মহাকাব্যিক আদর্শকে এক সূত্রে স্থাপন করা হয়েছে।

39 verses

Adhyaya 273

Somavaṁśa-varṇanam (Description of the Lunar Dynasty)

ভগবান অগ্নি সোমবংশের পাপহর পাঠ আরম্ভ করেন—বিষ্ণুর নাভিজাত ব্রহ্মার আদিসূত্র থেকে অত্রি ও প্রাচীন বংশধরদের পর্যন্ত বর্ণনা। সোমের রাজসূয় অভিষেক তাঁর সার্বভৌমত্ব স্থাপন করে, কিন্তু কামবিকার শৃঙ্খলা ভাঙে: কামপীড়িত দেবনারীরা মর্ত্যসঙ্গ গ্রহণ করে এবং সোম নিজে বৃহস্পতির পত্নী তারা-কে অপহরণ করেন। ফলে ভয়ংকর তারকাময় যুদ্ধ শুরু হয়; ব্রহ্মা হস্তক্ষেপে তা নিবৃত্ত হলে সোম থেকে দীপ্তিমান বুধের জন্ম হয়। পরে বুধ থেকে পুরূরবা, উর্বশীর সঙ্গে মিলনে বহু রাজপুত্র; আয়ু থেকে নহুষ, আর তাঁর পুত্রদের মধ্যে যযাতি। যযাতির দেবযানী ও শর্মিষ্ঠার সঙ্গে বিবাহ থেকে যদু, তুর্বসু, দ্রুহ্যু, অনু ও পূরু—এই প্রধান বংশপ্রবর্তকরা জন্ম নেয়; যদু ও পূরু বিশেষভাবে বংশবিস্তারের মূল স্তম্ভ। অধ্যায়টি রাজধর্ম, নৈতিক কর্মফল ও বংশপরম্পরাকে এক ধর্মময় আখ্যানে একত্র করে।

23 verses

Adhyaya 274

Somavaṃśa-saṃkṣepaḥ (Conclusion of the Lunar Dynasty Description)

এই অধ্যায়ের সমাপ্তি-পদে অগ্নি পুরাণের বংশবর্ণনার মধ্যে সোমবংশ (চন্দ্রবংশ) কাহিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। সম্পাদকীয় কলফন পূর্ব বংশপরম্পরাকে ধর্মস্মৃতির একটি সম্পূর্ণ একক হিসেবে সিল করে এবং শ্রোতাকে পরবর্তী রাজবংশীয় ধারার জন্য প্রস্তুত করে। অগ্নি–বসিষ্ঠ শিক্ষাধারায় বংশাবলি শাস্ত্রীয় উপকরণ—যা পবিত্র ইতিহাসকে ক্রমান্বয়ে সাজিয়ে রাজধর্ম, যজ্ঞাধিকার ও অবতার-প্রসঙ্গের পরিচয়কে সমর্থন করে। এই সমাপ্তি পুরাণের বিশ্বকোষীয় পদ্ধতিও নির্দেশ করে—বংশকথার মধ্যেও উদ্দেশ্য আদর্শ, ধারাবাহিকতা ও ফল-পরিণামের দ্বারা ধর্মশিক্ষা।

51 verses

Adhyaya 275

Chapter 275 — द्वादशसङ्ग्रामाः (The Twelve Battles)

অগ্নি বংশকথার ধারায় কৃষ্ণজন্মকে মহাজাগতিক বংশাবলিতে স্থাপন করেন—কাশ্যপ বসুদেবরূপে ও অদিতি দেবকীরূপে প্রকাশিত হন, যাতে তপস্যাসহ হরি ধর্ম রক্ষা ও অধর্ম নাশ করেন। এরপর কৃষ্ণের রাণী ও সন্তানদের তালিকা, যাদব-রক্ষার ব্যাপ্তি এবং উত্তরাধিকার (প্রদ্যুম্ন→অনিরুদ্ধ→বজ্র প্রভৃতি) তুলে ধরা হয়। পরে বলা হয়, হরি মানবদেহে জন্ম নিয়ে কর্ম-ব্যবস্থা ও ধর্মাচরণের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন এবং মানবদুঃখ লাঘব করেন। তারপর দেব–অসুর সংঘর্ষের ‘বারো যুদ্ধ/প্রকাশ’ সংক্ষেপে গণনা—নরসিংহ, বামন, বরাহ, অমৃত-মন্থন, তারকাময় যুদ্ধ, ত্রিপুর দহন, অন্ধক বধ, বৃত্র বধ, পরশুরামের অভিযান, হালাহল সংকট, ও কোলাহল পরাজয়—এবং সিদ্ধান্ত যে রাজা-ঋষি-দেব সকলেই প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্যভাবে হরির অবতার।

25 verses

Adhyaya 276

Chapter 276 — राजवंशवर्णनम् (Description of Royal Lineages)

অগ্নি–বসিষ্ঠ সংলাপে এই অধ্যায়ে সৃষ্টিতত্ত্ব ও বীরকথা থেকে সরে এসে বংশবিদ্যা ও জনপদ-স্মরণে প্রবেশ করা হয়েছে। তুর্বসু থেকে রাজপরম্পরা গণনা—বর্গ, গোভানু, ত্রৈশানী, করন্ধম, মরুত্ত, দুষ্মন্ত, বরূথ, গাণ্ডীর। পরে শক্তিশালী জনপদসমূহ—গান্ধার, কেরল, চোল, পাণ্ড্য, কোল—উল্লেখ করে বংশস্মৃতি ও আঞ্চলিক পরিচয়ের যোগ দেখানো হয়েছে। দ্রুহ্যুর বংশে বভ্রুসেতু, পুরোবাসু, ধর্ম, ঘৃত, বিদুষ, প্রচেতস ও তার শত পুত্র; এরপর সৃঞ্জয়/জা-সৃঞ্জয়, জনমেজয় এবং উশীনর-সম্পর্কিত শাখা। শিবির পুত্র—পৃথুদর্ভ, বীরক, কৈকেয়, ভদ্রক—থেকে অঞ্চলনামের উৎপত্তি যুক্ত করা হয়েছে। শেষে অঙ্গবংশ—অঙ্গ, দধিবাহন, দিবিরথ … কর্ণ, বৃষসেন, পৃথুসেন—সংকলিত করে পরবর্তী পুরুবংশে গমন সূচিত। রাজধর্মকে পবিত্র ধারাবাহিকতায় রাজ্য, ভূমি ও সমাজব্যবস্থার সঙ্গে প্রতিষ্ঠাই এর মূল উদ্দেশ্য।

16 verses

Adhyaya 277

Description of the Royal Dynasties (राजवंशवर्णनम्) — Chapter Colophon and Transition

এই অংশটি আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ও পাঠ-সেতু হিসেবে কাজ করে। অগ্নি পুরাণে “রাজবংশবর্ণনম্” অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘোষণা করে সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী বংশানুক্রম-পর্বে প্রবেশ করানো হয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠভেদ-টীকা সংরক্ষিত—কিছু পাঠে বিকল্প পাঠ “দধিবামন উৎপন্ন হল” পাওয়া যায়, যা পাণ্ডুলিপি-পরম্পরার জীবন্ত প্রবাহ নির্দেশ করে। বংশতালিকা কেবল ইতিহাসের তালিকা নয়; তা ধর্মের সূচক, যা রাজধর্ম, বংশধারা ও নৈতিক শৃঙ্খলাকে যুক্ত করে। কলফনের এই মোড় পাঠককে পুরুবংশের কেন্দ্রীভূত অবতরণে প্রস্তুত করে, যা পুরাণীয় বংশকথাকে ভারত/কুরু স্মৃতির সঙ্গে সেতুবদ্ধ করে।

41 verses

Adhyaya 278

अध्याय २७८: सिद्धौषधानि (Siddha Medicines / Perfected Remedies)

এই অধ্যায়ে বংশকথা থেকে সরে পবিত্র প্রয়োগশাস্ত্র আয়ুর্বেদের কথা বলা হয়েছে। অগ্নি বলেন—যমের দ্বারা সুश्रুতকে উপদিষ্ট এবং দেব ধন্বন্তরির দ্বারা প্রকাশিত এই মৃতসঞ্জীবনী-স্বরূপ জীবনরক্ষাকারী বিদ্যা। সুश्रুত মানুষ ও পশুর রোগনাশক চিকিৎসা, মন্ত্র এবং প্রাণ-প্রতিসন্ধান সক্ষম উপায় জানতে চান। ধন্বন্তরি জ্বরে উপবাস, যবাগু, তিক্ত কষায় ও ধাপে ধাপে চিকিৎসা; দিক-নির্ণয়ে বমন বনাম বিরেচন; এবং অতিসার, গুল্ম, জঠর, কুষ্ঠ, মেহ, রাজযক্ষ্মা, শ্বাস-কাস, গ্রহণী, অর্শ, মূত্রকৃচ্ছ্র, বমি, তৃষ্ণা, বিসর্প, বাত-শোণিত প্রভৃতিতে পথ্য-আহার নির্দেশ দেন। নস্য, কর্ণপূরণ, অঞ্জন-লেপে নাক-কান-চোখের রক্ষা; রসায়ন-বাজীকরণে রাত্রে মধু-ঘৃত ও শতাবরী-যোগ; ক্ষতচিকিৎসা, প্রসূতি-রক্ষা, এবং সাপ-বিছা-কুকুরের বিষের প্রতিষেধও আছে। শেষে পঞ্চকর্মে বিরেচনে ত্রিবৃত, বমনে মদন এবং দোষানুসারে তেল-ঘি-মধুকে শ্রেষ্ঠ বাহন বলা হয়েছে।

63 verses