
The Science of Ritual Worship
Comprehensive instructions on Agni-based rituals, temple worship procedures, mantra recitation, and the sacred science of fire ceremonies.
Chapter 17 — सृष्टिविषयकवर्णनम् (An Account Concerning Creation)
অগ্নিদেব বশিষ্ঠকে অবতার-কথা থেকে সরিয়ে সৃষ্টিতত্ত্ব বর্ণনা করেন এবং বলেন—সৃষ্টি বিষ্ণুর লীলা, যা একসঙ্গে সগুণ ও নির্গুণ। অব্যক্ত ব্রহ্মণ থেকে বিষ্ণুর প্রকৃতি-পুরুষে প্রবেশ, তারপর মহৎ, ত্রিবিধ অহংকার, এবং তন্মাত্রা থেকে আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত মহাভূতসমূহের বিকাশ ক্রমে বলা হয়েছে। সাত্ত্বিক অহংকার থেকে মন ও অধিষ্ঠাত্রী দেবতাগণ, আর তামস/তৈজস থেকে ইন্দ্রিয়শক্তি উৎপন্ন হয়। নারায়ণ-জল নামের ব্যুৎপত্তি, হিরণ্যাণ্ড ও হিরণ্যগর্ভ ব্রহ্মা কর্তৃক অণ্ডকে দ্যৌ ও পৃথিবীতে বিভাজন, আকাশ-দিক-কাল এবং কাম, ক্রোধ, রতি প্রভৃতি মানস শক্তির প্রতিষ্ঠা বর্ণিত। পরে মেঘাদি বায়ুমণ্ডলীয় সৃষ্টি, পক্ষী, পর্জন্য, যজ্ঞের জন্য বৈদিক ছন্দ-মন্ত্র, এবং শেষে রুদ্র, সনৎকুমার, সাত মানস ব্রহ্মর্ষি ও ব্রহ্মার অর্ধনারী বিভাজনে জীবসৃষ্টি—এভাবে বিশ্বতত্ত্বকে যজ্ঞ-ব্যবস্থা ও বলিদানের কার্যকারিতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
Svāyambhuva-vaṁśa-varṇanam (Description of the Lineage of Svāyambhuva Manu)
অগ্নি সৃষ্টিকথা থেকে সরে এসে বংশানুক্রমিক ধর্মের পবিত্র ইতিহাস বলেন। স্বায়ম্ভুব মনুর সন্তান—প্রিয়ব্রত, উত্তানপাদ ও শতরূপা—থেকে শুরু করে ধ্রুবের তপস্যা ও বিষ্ণুর বরদানে ধ্রুবলোক/ধ্রুবপদ (ধ্রুবতারা) লাভের কথা আসে। পরে বংশধারায় বেনা থেকে পৃথুর আবির্ভাব রাজর্ষি-শাসনের আদর্শ; বসুন্ধরাকে ‘দোহন’ করে শস্য ও জীবনের জন্য ধর্মসম্মত সম্পদ আহরণের প্রতীক দেখানো হয়। এরপর প্রচেতাদের তপস্যা, মারিষার সঙ্গে বিবাহ ও দক্ষের জন্ম; দক্ষ কন্যাদের ধর্ম, কশ্যপ, সোম প্রভৃতিকে দান করে সৃষ্টিবিস্তার করেন। শেষে বিশ্বেদেব, সাধ্য, মরুত, বসু, রুদ্র; স্কন্দের উপাধি ও বিশ্বকর্মার দিব্য স্থপতি-রূপ তালিকাভুক্ত হয়ে পুরাণের সূচিবদ্ধ জ্ঞানকে যজ্ঞ, সমাজ, শিল্প ও ভক্তিচর্চার সঙ্গে যুক্ত করে।
Chapter 19 — कश्यपवंशवर्णनम् (Description of Kaśyapa’s Lineage)
এই অধ্যায়ে অগ্নি সৃষ্টিতত্ত্ব থেকে বংশানুক্রমিক বিশ্বতত্ত্বে এসে কশ্যপের সন্তানের বিবরণ দেন—যে বংশধারায় মন্বন্তর জুড়ে দেব, অর্ধদেব ও বৈরী শক্তির নানা কুল জগৎ পূর্ণ করে। প্রথমে তুষিত ও আদিত্যদের তালিকা (বিষ্ণু/ইন্দ্রসহ সৌর দেবতারা) বলা হয়, তারপর দিতির বংশে হিরণ্যকশিপু ও হিরণ্যাক্ষের মাধ্যমে “যুগে যুগে” প্রতিপক্ষ শক্তির পুনরাবির্ভাবের চক্র দেখানো হয়। দানব শাখায় প্রহ্লাদ, বলি, বাণ প্রভৃতির উল্লেখ আছে এবং প্রহ্লাদের বিষ্ণুভক্তি দৈত্যবংশের মধ্যেও নৈতিক শ্রেণিবিন্যাস নির্দেশ করে। পরে কশ্যপের পত্নী—পুলোমা, কালকা, বিনতা, কদ্রূ, সুরসা, সুরভী ইত্যাদি—এবং তাঁদের সন্তানরূপে পক্ষী, নাগ, পশু ও উদ্ভিদের উৎপত্তিকে প্রাতিসর্গ (দ্বিতীয় সৃষ্টি) হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। শেষে চিত্ররথ, বাসুকি, তক্ষক, গরুড় ও দিকপালদের কর্তৃত্বসহ বিশ্ব-প্রশাসনের সুসংবদ্ধ ক্রম স্থাপন করে যজ্ঞ-ক্রমসদৃশ ধর্মশাসনকে সমর্থন করা হয়েছে।
Sargaviṣayaka-varṇana — The Topics of Primary Creation (Sarga)
ভগবান অগ্নি সর্গ (সৃষ্টি)-বিষয়ক এক সুসংবদ্ধ শ্রেণিবিন্যাস উপস্থাপন করেন। প্রথমে প্রাকৃত সর্গ—ব্রহ্মার আদিসৃজন হিসেবে মহৎ তত্ত্ব, তারপর তন্মাত্রা থেকে স্থূল ভূতসমূহের উদ্ভব, এবং পরে বৈকারিক/ঐন্দ্রিয়ক পর্যায়ে ইন্দ্রিয় ও তাদের ক্রিয়ার বিকাশ। এরপর স্থাবর, তির্যক্স্রোতস (পশু-যোনি), ঊর্ধ্বস্রোতস দেব, ও বাক্স্রোতস মানব—এই স্তরগুলি বর্ণিত হয়ে শেষে ‘অনুগ্রহ-সর্গ’ সত্ত্ব-তমসের নৈতিক-আধ্যাত্মিক ফল নির্দেশ করে। পরে বংশানুক্রমে দাক্ষ-কন্যা ও ঋষি-পরম্পরা থেকে দেব-ঋষিদের উৎপত্তি, রুদ্রের জন্ম ও নাম, এবং সতীর পার্বতী রূপে পুনর্জন্ম উল্লেখিত। উপসংহারে নারদাদি ঋষিদের শেখানো স্নানপূর্বক স্বায়ম্ভুব প্রথার পূজা—বিষ্ণু প্রভৃতি দেবতার আরাধনায় ভুক্তি ও মুক্তির উপায় বলে স্থির করা হয়েছে।
Chapter 21 — सामान्यपूजाकथनम् (Teaching on General Worship)
এই অধ্যায়ে বিষ্ণু প্রভৃতি দেবতার জন্য “সামান্য-পূজা”র একটি মানক কাঠামো বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। অচ্যুতকে সপরিবার সর্বজনীন প্রণাম দিয়ে শুরু করে সহচর দেবতা, মণ্ডল-বিন্যাস এবং রক্ষা/শক্তিবর্ধক অঙ্গগুলির ক্রমবিস্তার দেখানো হয়। দ্বার-শ্রী, বাস্তু ইত্যাদি স্থানশক্তি, কূর্ম ও অনন্তের মতো বিশ্বাধার, এবং পদ্ম-প্রতীকে ধর্ম ও তার বিপরীত গুণের মানচিত্রায়ণ বর্ণিত। পরে বিষ্ণুর আয়ুধ ও বীজ (শ্রীং, হ্রীং, ক্লীং), শিবপূজার সাধারণ পদ্ধতি (নন্দী ও মহাকাল দিয়ে আরম্ভ), এবং সূর্যপূজায় হৃদয়/শির/নেত্রাদি ন্যাসসদৃশ বিন্যাস, কবচাঙ্গ ও রাহু–কেতুসহ গ্রহসমন্বয় দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রগঠনের নিয়ম (প্রণব, বিন্দু, চতুর্থী + নমঃ) এবং তিল-ঘৃত হোমে পুরুষার্থফলদায়ী সমাপ্তি, সঙ্গে পাঠভেদের উল্লেখও আছে।
Chapter 22 — स्नानविधिकथनं (Instruction on the Rite of Bathing)
এই অধ্যায়ে স্নানকে পূজার অপরিহার্য পূর্বকর্ম ও শুদ্ধির বিধি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। নৃসিংহ/সিংহ-মন্ত্রে মৃৎতিকাগ্রহণ করে তা ভাগ করা হয়; এক ভাগে ‘মনঃ-স্নান’ করে বোঝানো হয় যে শুদ্ধি প্রথমে অন্তরে। নিমজ্জন ও আচমনের পরে ন্যাস এবং সিংহ-মন্ত্রজপে রক্ষা/দিগ্বন্ধ স্থাপন করা হয়; ত্বরিতা বা ত্রিপুরা-রক্ষামন্ত্রের বিকল্পও উল্লেখ আছে। অষ্টাক্ষর মন্ত্রে হৃদয়ে হরি-জ্ঞান স্থাপন, বাসুদেব-জপে তীর্থজল সংস্কার, বৈদিক মন্ত্রে দেহশোধন ও মূর্তি-পূজা সম্পন্ন হয়। অঘমর্ষণ, শুচিবস্ত্র ধারণ, করজল শুদ্ধি, নারায়ণ-মন্ত্রে প্রণায়াম, দ্বাদশাক্ষরে অর্ঘ্য এবং যোগপীঠ থেকে দিকপাল, ঋষি ও পিতৃগণ পর্যন্ত আহ্বান-জপের বিধান আছে। শেষে সকলকে স্বস্থানে প্রেরণ, অঙ্গসংহার এবং পূজাস্থানে গমন করে মূলমন্ত্র-ভিত্তিক সমাপন-স্নানে অন্য পূজার জন্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য ক্রম স্থাপিত হয়।
Chapter 23 — पूजाविधिकथनम् (The Account of the Rules of Worship)
এই অধ্যায়ে নারদ ব্রাহ্মণদের কাছে শৃঙ্খলাবদ্ধ বৈষ্ণব পূজার ক্রম বলেন। শুরুতে পাদপ্রক্ষালন, আচমন, মৌন ও রক্ষাকর্ম; তারপর পূর্বমুখ আসন, মুদ্রা ও বীজধ্যান—নাভিতে ‘যং’ উগ্র বায়ু, হৃদয়ে ‘ক্ষৌং’ দীপ্তিমান নিধি—দিক্দাহ অগ্নিতে অশুদ্ধি দহন, আকাশস্থ চন্দ্রসম অমৃতধারা নেমে সূক্ষ্মদেহস্নান এবং সুষুম্না-নাড়ীসহ নাড়ীগুলিতে তার সঞ্চার। পরে করশুদ্ধি, অস্ত্রমন্ত্র ও ব্যাপক স্থাপন, এবং হৃদয়-শিরঃ-শিখা-কবচ-অস্ত্র-নেত্র প্রভৃতিতে পূর্ণ ন্যাস। বেদীর ব্যবস্থা (বর্ধনী বামে, দ্রব্য ডানে), মন্ত্রপ্রোক্ষণে সংস্কার, এবং যোগপীঠ নির্মাণে দিক্ভেদে গুণ ও প্রতিগুণের বিন্যাস। পদ্মমণ্ডল ধ্যান করে হৃদয় থেকে দেবতাকে আহ্বান করে মণ্ডলে স্থাপন; পুণ্ডরীকাক্ষ-বিদ্যা অনুযায়ী অর্ঘ্য, পাদ্য, আচমন, মধুপর্ক, স্নান, বস্ত্র, অলংকার, ধূপ, দীপ ইত্যাদি উপচার। এরপর আয়ুধচিহ্ন, পরিবার ও দিক্পাল পূজা; জপ, প্রদক্ষিণা, স্তব, অর্ঘ্য দিয়ে সমাপন এবং ‘অহং ব্রহ্ম; হরিস্ত্বং’ তাদাত্ম্যবচন। শেষে একরূপ পূজা থেকে নবব্যূহ ক্রমে আঙুল ও দেহন্যাসসহ প্রবেশ এবং কিছু পাঠভেদের উল্লেখ আছে।
Chapter 24 — कुण्डनिर्माणादिविधिः (Procedure for Constructing the Fire-pit and Related Rites)
এই অধ্যায়ে নারদ কাম্যসিদ্ধিদায়ক অগ্নিকার্যের বিধান ঘোষণা করেন। হোমকুণ্ড নির্মাণে বাস্তুসদৃশ সূক্ষ্ম মাপ—দড়ি দিয়ে মাপা, খনন, মেখলা (উঁচু প্রান্ত) গঠন, যোনি-নালার ক্রমবর্ধমান/ক্রমহ্রাসমান প্রস্থ, নির্দিষ্ট ঢাল ও দিকনির্দেশ—বিস্তারিত বলা হয়েছে। বৃত্ত, অর্ধচন্দ্র, পদ্মাকৃতি প্রভৃতি বিকল্প কুণ্ডরূপ এবং শ্রুক/শ্রুবা ও স্রুবা-পাত্রের অঙ্গুলিমিত অনুপাতও নির্ধারিত। পরে দর্ভা স্তরে স্তরে বিছানো, পাত্র স্থাপন, প্রণীত জল প্রস্তুত, প্রোক্ষণ, ঘৃতের আজ্য-সংস্কার এবং প্রণবকে ঐক্য-মন্ত্রতত্ত্ব ধরে হোমের ক্রম বর্ণিত। গর্ভাধান থেকে সমাবর্তন পর্যন্ত সংস্কারকে বৈষ্ণব অগ্নিপূজার সঙ্গে একীভূত দেখানো হয়েছে। শেষে বীজশুদ্ধি, ব্রহ্মাণ্ডধ্যান, লিঙ্গ-রূপান্তরসহ অন্তর্লীন সাধনা, গুরুপ্রণীত দীক্ষাঙ্গ, বিশ্বক্সেনকে আহুতি এবং উপসংহার—ভোগী জাগতিক সিদ্ধি পায়, মুমুক্ষু হরিতে লীন হয়—এইভাবে ভুক্তি-মুক্তির ঐক্য প্রতিষ্ঠিত।
Explanation of the Vāsudeva and Related Mantras (वासुदेवादिमन्त्रनिरूपणम्)
এই অধ্যায়ে নারদ বাসুদেব-মন্ত্রপদ্ধতি ও চতুর্ব্যূহ (বাসুদেব, সঙ্কর্ষণ, প্রদ্যুম্ন, অনিরুদ্ধ) সম্পর্কিত উপাসনার লক্ষণ জানতে চান। গ্রন্থে প্রণব ও ‘নমো’ দিয়ে মন্ত্রগঠন, স্বর-বীজ (অ, আ, অং, অঃ) এবং দীর্ঘ-হ্রস্ব ও অবস্থান-নিয়মে অঙ্গ–উপাঙ্গভেদ নির্ধারিত হয়েছে। পরে ষড়ঙ্গ বীজ-ন্যাস ও দ্বাদশাঙ্গ মূল-ন্যাসে হৃদয়, শির, শিখা, কবচ, নেত্র, অস্ত্র প্রভৃতি স্থানে মন্ত্রাংশ স্থাপন দেখানো হয়। গরুড়/বৈনতেয়, পাঞ্চজন্য শঙ্খ, কৌস্তুভ, সুদর্শন, শ্রীবৎস, বনমালা, অনন্ত ইত্যাদি দিব্যচিহ্নে বীজসমূহের বিনিয়োগে ধ্বনি-তত্ত্ব ও ভক্তি একত্রিত হয়েছে। ভূত, বেদ, লোক, ইন্দ্রিয়, বুদ্ধি-অহংকার-মন-চিত্ত এবং ২৬ তত্ত্ব পর্যন্ত ব্যূহ-ক্রমের সামঞ্জস্যও বর্ণিত। শেষে দিকপালসহ মণ্ডলপূজা, কর্ণিকার মধ্যদেবতা, এবং বিশ্বরূপ-विश्वক্ষেণসহ স্থৈর্য ও রাজবিজয়ফলদ উপাসনার কথা বলা হয়েছে।
Explanation of the Characteristics of Mudrās (मुद्रालक्षणकथनं)
পূর্ব অধ্যায়ে মন্ত্রপ্রদর্শনের পর এখানে মুদ্রা-লক্ষণ—দেবসন্নিধি ও অন্যান্য ক্রিয়াফল উৎপাদক যজ্ঞীয় হস্তভঙ্গির নির্দিষ্ট চিহ্ন ও রূপ—বর্ণিত হয়েছে। নারদ হৃদয়সংলগ্ন ‘অঞ্জলি’কে প্রধান প্রণাম-মুদ্রা বলে ভক্তিকেই বিধির প্রবেশদ্বার স্থাপন করেন। এরপর বাম মুষ্টি, ঊর্ধ্বাঙ্গুষ্ঠ এবং ডান অঙ্গুষ্ঠের গ্রথন/ধারণ-কার্য ইত্যাদি সূক্ষ্ম দেহচালনার ক্রম মন্ত্রবিদ্যার অঙ্গরূপে বলা হয়েছে। যজ্ঞ-ব্যূহে সাধারণ ও অসাধারণ মুদ্রার ভেদ এবং কনিষ্ঠা থেকে ক্রমে খুলে আটটি মুদ্রার ধারাবাহিকতা নির্দেশিত। বীজপ্রয়োগ ও সিদ্ধি-উদ্দেশ্যে পাঠান্তরের উল্লেখ, বরাহ-মুদ্রা ও অঙ্গনা-মুদ্রার ক্রমও আছে। শেষে ডানদিকে একই গঠন সংকোচন ও প্রতিরূপ করে সম্পন্ন করলে যথাবিধি বিন্যাসে মুদ্রা-সিদ্ধি হয়—এ কথা প্রতিপাদিত।
Dīkṣāvidhi-kathana (Explanation of the Rite of Initiation)
এই অধ্যায়ে মুদ্রা-প্রদর্শনের পর দীক্ষা-বিধির ক্রমানুগ বিবরণ শুরু হয়। নারদ বৈষ্ণব দীক্ষায় পদ্মাকৃতি মণ্ডলে হরি-পূজা, রক্ষাবিধান (নরসিংহ-ন্যাস, ‘ফট্’যুক্ত মন্ত্রে সর্ষে ছিটানো) এবং প্রাসাদ-রূপে শক্তি-প্রতিষ্ঠা বর্ণনা করেন। ঔষধি ও পঞ্চগব্য-অভিষেক, কুশা-প্রোক্ষণ ও নারায়ণান্ত মন্ত্রে সংস্কার, কুম্ভ-পূজা ও অগ্নি-পূজা সম্পন্ন হয়; বাসুদেব, সংকর্ষণ, প্রদ্যুম্ন, অনিরুদ্ধ—এই ব্যূহ-নামে পক্ব হবি নিবেদন করা হয়। পরে দেশিক সৃষ্টিক্রমে প্রকৃতি থেকে পৃথিবী পর্যন্ত তত্ত্ব শিষ্যে ন্যাসে স্থাপন করে, সংহারক্রমে হোমের দ্বারা প্রত্যাহার/শোধন করে পূর্ণাহুতি পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে বন্ধন-মোক্ষের লক্ষ্য স্থির করেন। মন্ত্র ও ক্রিয়ার বহু পাঠভেদও উল্লেখিত; শেষে গৃহস্থ, সাধক, দরিদ্র/তপস্বী/শিশু প্রভৃতির অধিকার এবং শক্তিদীক্ষার সম্ভাবনা বলা হয়েছে।
Abhiṣeka-vidhāna (The Procedure for Consecratory Bathing)
এই অধ্যায়ে দীক্ষা-বর্ণনার পর নারদ অভিষেক-বিধান স্পষ্ট করেন। অভিষেক আচার্য ও সাধক-শিষ্যকে সিদ্ধি দান করে এবং রোগশমনকারী চিকিৎসামূলক ক্রিয়া বলেও বলা হয়েছে। রত্নালঙ্কৃত, প্রতিমাযুক্ত কুম্ভগুলি মধ্য থেকে শুরু করে পূর্বাদি দিকক্রমে সুশৃঙ্খলভাবে স্থাপন করা হয়—যেন বিশ্ববিন্যাসের মানচিত্র। বিধি সহস্রবার, অথবা সামর্থ্য অনুযায়ী শতবার পুনরাবৃত্তির দ্বারা তীব্র হয়। মণ্ডপ-মণ্ডলে বিষ্ণুকে পীঠে পূর্ব ও ঈশানমুখে প্রতিষ্ঠা করে বাস্তু-যুক্তি রক্ষা করা হয়। আচার্যবৃন্দ ও পুত্রকের প্রস্তুতি, অভিষেকেরই পূজা, এবং গীত/পাঠের মঙ্গলধ্বনির সঙ্গে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। শেষে যোগপীঠ-সম্পর্কিত উপকরণ প্রদান, গুরুর সময়-ব্রত ঘোষণা, এবং গোপনীয়তা ও শৃঙ্খলার দ্বারা শিষ্যকে পরম্পরার পূর্ণ অধিকারী করা হয়।
The Description of the Sarvatobhadra Maṇḍala (सर्वतोभद्रमण्डलकथनम्)
এই অধ্যায়ে মন্ত্রসাধনার জন্য পবিত্র ক্ষেত্ররূপে সর্বতোভদ্র মণ্ডল নির্মাণ ও প্রতিষ্ঠার কঠোর বিধান বলা হয়েছে। শুদ্ধ ভূমি ও পূর্বপূজা সম্পন্ন করে বর্গাকার জালকে পদ্ম-আবরণ—পীঠ, বীথিকা, দ্বার—ইত্যাদিতে বিন্যস্ত করে দিকদেবতা ও বৈদিক বিভাগ নির্ধারণ করা হয়; তত্ত্ব, ইন্দ্রিয় ও অন্তঃকরণের বহুস্তর বিন্যাসও নির্দেশিত। পরে রঙের নিয়ম, রঞ্জক দ্রব্য, শোধন-চিহ্নাঙ্কন ক্রম, অঙ্গুল-হস্ত-কর মাপ, এবং বীজ/মন্ত্র/বিদ্যা-জপ ও পুরশ্চরণ শৃঙ্খলা বর্ণিত। এরপর মণ্ডলকে যোগদেহরূপে—নাড়ী, হৃদয়-পদ্ম, বীজশক্তির রশ্মি—ব্যাখ্যা করে স্থূল শব্দমূর্তি, সূক্ষ্ম দীপ্ত হৃদয়রূপ ও চিন্তাতীত পরম পদ পর্যন্ত ক্রমিক ধ্যান বলা হয়েছে। শেষে ৯, ২৫, ২৬ প্রভৃতি বিস্তৃত ব্যূহ-বিন্যাস, দ্বার-অলংকার বিধি ও শুভ মর্ত্যেষ্ট্য মণ্ডল উল্লেখ করে দেখানো হয়েছে যে পবিত্র নকশাই উপাসনা ও উপলব্ধিকে শৃঙ্খলিত করে।
Chapter 30: मण्डलविधिः (Maṇḍala-vidhi) — Procedure for the Maṇḍala
এই অধ্যায়ে মণ্ডল-লক্ষণ বিষয়ে পূর্ব আলোচনা সমাপ্ত করে বিধিনির্দেশ শুরু হয়। নারদ পদ্ম-আধারিত মণ্ডলে পূজাক্রম বলেন—মধ্য পদ্মে ব্রহ্মাকে তাঁর অঙ্গসহ প্রতিষ্ঠা করে পূজা করতে হবে, যাতে মণ্ডল কেবল চিত্র নয়, দেবতার জীবন্ত ক্ষেত্র হয়। পূর্ব দিকের পদ্মখণ্ডে পদ্মনাভ বিষ্ণুকে স্থাপন করে দিক/পাপড়ি অনুযায়ী দেবতাদের সুশৃঙ্খল বিন্যাস দেখানো হয়েছে। এটাই অগ্নেয়-বিদ্যার যুক্তি: পবিত্র জ্যামিতি, মন্ত্রনির্ভর উপাসনা ও ধর্মশৃঙ্খলা একত্রে মিলিয়ে নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিযোগ্য সাধনা গড়ে তোলে।
Chapter 31 — मार्जनविधानं (The Procedure of Mārjana / Purificatory Sprinkling)
ভগবান অগ্নি ‘মার্জন’ নামে এক রক্ষাকর্ম পরিচয় করান—নিজের নিরাপত্তা ও অন্যের রক্ষার জন্য শুদ্ধিকর ছিটানো/প্রোক্ষণ। অধ্যায়ের শুরুতে পরমাত্মার প্রতি নমস্কার এবং বিষ্ণুর অবতারসমূহ (বরাহ, নরসিংহ, বামন, ত্রিবিক্রম, রাম, বৈকুণ্ঠ, নর)‑এর বন্দনা আছে; এতে প্রতিষ্ঠিত হয় যে সত্য, স্মৃতি ও মন্ত্রশক্তির দ্বারা রক্ষা সম্পন্ন হয়। পরে দুঃখ, পাপ, শত্রুকৃত অভিচার, দোষ/সন্নিপাতজাত নানা রোগ, বহু উৎসের বিষ এবং গ্রহ‑প্রেত‑ডাকিনী‑বেতাল‑পিশাচ‑যক্ষ‑রাক্ষস প্রভৃতি উপদ্রব শান্ত ও বিনাশ করার বিধান বিস্তৃত হয়। সুদর্শন ও নরসিংহকে দিকরক্ষক রূপে আহ্বান করে ‘কাটো‑কাটো’ ধরনের পুনরুক্ত মন্ত্রে ব্যথা ও রোগচ্ছেদ নির্দেশিত। শেষে কুশকে বিষ্ণু/হরি‑স্বরূপ এবং আপামার্জনককে রোগনিবারক ‘অস্ত্র’ বলে চিহ্নিত করে, মন্ত্রজপ‑দ্রব্য‑ভক্তিতত্ত্ব মিলিয়ে অগ্নেয়বিদ্যার সমন্বিত রক্ষাতন্ত্র উপস্থাপিত।
Saṃskāra-kathana (Account of the Saṃskāras)
অগ্নেয়-বিদ্যার ধারাবাহিক উপদেশে ভগবান অগ্নি এই অধ্যায়ে নির্বাণ-দীক্ষা প্রভৃতি দীক্ষা-প্রসঙ্গে সংস্কারের স্থান নির্ণয় করে মোট আটচল্লিশটি সংস্কার-ক্রিয়ার বিধান দেন, যা সাধককে ‘দৈব’ জীবনাচারে উন্নীত করে। তিনি গর্ভাধান, পুংসবন, সীমন্তোন্নয়ন, জাতকর্ম ও নামকরণসহ জীবনচক্রের সংস্কারগুলি গণনা করেন; পরে গৃহ্য ও শ্রৌত ক্ষেত্রে পাকযজ্ঞ, পর্যায়িক শ্রাদ্ধ, ঋতুকর্ম এবং হব্যির্যজ্ঞ—আধান, অগ্নিহোত্র, দর্শ ও পৌর্ণমাস—বিস্তার করেন। শেষে সোমযাগ-প্রণালীতে অগ্নিষ্টোম ও তার সম্প্রসারণগুলির নাম উল্লেখ করে, অশ্বমেধকে ‘হিরণ্য’ বিশেষণ ও দয়া, ক্ষান্তি, আর্জব, শৌচ প্রভৃতি আট নৈতিক গুণের সঙ্গে যুক্ত করেন, ফলে যজ্ঞশক্তি নৈতিক শুদ্ধির সঙ্গে সংযুক্ত হয়। উপসংহারে জপ, হোম, পূজা ও ধ্যানকে সংস্কার-সম্পূর্ণতার সাধনা বলে ভুক্তি-মুক্তি, রোগ ও অন্তর্দোষমুক্ত দেবসম জীবনলাভের কথা বলা হয়েছে।
Chapter 33 — पवित्रारोहणविधानं (The Procedure for Pavitrārohaṇa / Installing the Sacred Thread or Consecratory Amulet)
অগ্নিদেব বলেন, পবিত্রারোহণ হরির বার্ষিক পূজা-ঋতু—আষাঢ় থেকে কার্তিক, প্রতিপদা শ্রেষ্ঠ তিথি; অন্য দেবতাদের তিথি তাদের নিজস্ব ক্রমে (যেমন শিব/ব্রহ্মা দ্বিতীয়া থেকে)। এরপর পবিত্র-সূত্র নির্বাচন ও নির্মাণ (ব্রাহ্মণী-কাটা সুতো উত্তম, নচেৎ শুদ্ধীকৃত), তন্তু তিনগুণ/নয়গুণ বৃদ্ধি, গ্রন্থি-সংখ্যা (১২-গ্রন্থি প্রভৃতি), মূর্তিতে স্থাপনস্থান (হাঁটু/কটি/নাভি থেকে ঊর্ধ্বাংশ), এবং মালা-পরিমাপ (১০৮/১০০৮; অঙ্গুল-মান) বর্ণিত। বস্তু-অপসারণ, ক্ষেত্রপাল ও দ্বারপূজা, বলি, এবং ভূতশুদ্ধিতে মন্ত্রোদ্ঘাতে তন্মাত্রা-তত্ত্ব লয় (পৃথিবী→জল→অগ্নি→বায়ু→আকাশ), পরে দেহশুদ্ধি, দিব্যদেহ-ধ্যান ও হৃদয়-পদ্মে মানসযাগ নির্দেশিত। শেষে ন্যাস, কবচ/অস্ত্র-রক্ষা, বৈষ্ণব ব্যূহ-আবরণ প্রতিষ্ঠা, রক্ষা-সূত্র বাঁধা ও ব্রতাচার (উপবাস, কাম-ক্রোধ সংযম) দ্বারা জাগতিক পূর্ণতা ও আধ্যাত্মিক ফল লাভ বলা হয়েছে।
Chapter 34 — होमादिविधिः (The Procedure for Homa and Related Rites)
অগ্নি ধাপে ধাপে হোমবিধি বলেন—স্থান ও সাধকের শুদ্ধি থেকে অগ্নি-প্রতিষ্ঠা, আহুতি এবং মুক্তির সঙ্গে যুক্ত ধ্যান পর্যন্ত। প্রথমে যাগস্থান মন্ত্র-প্রোক্ষণে পবিত্র করে বেদদেহ-সদৃশ মণ্ডল অঙ্কিত হয়; তারপর তোরণপূজা, দিক্স্থাপন, দ্বারপাল-বন্দনা এবং অস্ত্র-মন্ত্রে পুষ্প নিক্ষেপ করে বিঘ্ননাশ করা হয়। ভূতশুদ্ধি, ন্যাস ও মুদ্রার পর রক্ষাবিধান—সরষে নিক্ষেপ, পঞ্চগব্য প্রস্তুতি, বহু কলশ স্থাপন; লোকপালদের জন্য দশ কলশ এবং ঈশান কোণে বর্ধনীসহ কুম্ভে হরি ও অস্ত্রের প্রতিষ্ঠা। পরে হোমের যন্ত্রণা—শ্রুক-শ্রুব, পরিধি, ইধ্ম সাজানো, প্রণীতা/প্রোক্ষণী জল প্রস্তুত, চরু রান্না, রেখা টানা, যোনি-মুদ্রা প্রদর্শন ও কুণ্ডে অগ্নি স্থাপন। কুণ্ডলক্ষ্মী (ত্রিগুণাত্মিকা প্রকৃতি) অগ্নিমধ্যে ধ্যানযোগ্য; অগ্নিকে জীব ও মন্ত্রের যোনি এবং মুক্তিদাতা বলা হয়েছে। শেষে সমিধা ও আহুতির নির্দিষ্ট সংখ্যা (১০৮ সহ) প্রদান করে সপ্তজিহ্বা বৈষ্ণব অগ্নিকে অসংখ্য সূর্যের ন্যায় দীপ্তিমান রূপে ধ্যান করা হয়।
Chapter 35: पवित्राधिवासनादिविधिः (Method of Consecrating the Pavitra and Related Rites)
ভগবান অগ্নি ঋষি বশিষ্ঠকে পবিত্রের অধিবাসন (প্রতিষ্ঠা) এবং সংশ্লিষ্ট রক্ষা ও প্রস্তুতিকর্ম শেখান। প্রথমে সম্পাত দ্বারা প্রোক্ষণ, পরে নরসিংহ-মন্ত্রে মন্ত্রশক্তি, এবং অস্ত্র-মন্ত্রে গোপন/রক্ষা করা হয়। যজ্ঞপাত্রগুলি বস্ত্রে মোড়া, স্থানে স্থাপন, বিল্বমিশ্রিত জলে ছিটানো এবং পুনরায় জপে শক্তিসঞ্চার করা হয়। কুম্ভের পাশে রক্ষাবিধান, দিকনির্দেশে উপকরণ-ন্যাস ও ব্যূহ-সম্পর্ক (সংকর্ষণ, প্রদ্যুম্ন, অনিরুদ্ধ) নির্দিষ্ট; ভস্ম-তিল, গোবর ও স্বস্তি-মুদ্রাঙ্কিত মাটি প্রভৃতি শোধক বস্তু রাখা হয়। হৃদয়/শির/শিখা মন্ত্রে দর্ভ-জল, ধূপ ও দিক্-অর্ঘ্য স্থাপন; পুটিকায় চন্দন, জল, অক্ষত, দধি ও দূর্বা। গৃহ ত্রিসূত্রে বেষ্টিত, সর্ষে ছড়ানো, দ্বার পূজিত; বিষ্ণু-কুম্ভকর্মে ‘বিষ্ণু-তেজ’ উৎপন্ন হয়ে পাপ নাশ করে। গন্ধ-পুষ্প-অক্ষতসহ পবিত্র প্রথমে গুরু ও পরিবারকে, পরে মূলমন্ত্রে হরিকে অর্পণ; এরপর প্রার্থনা, বলি, কুম্ভসজ্জা, মণ্ডল প্রস্তুতি, রাত্রিজাগরণ ও পুরাণপাঠ—কিছু অংশগ্রহণকারীর জন্য নিয়ম-ছাড় থাকলেও গন্ধ-পবিত্রক কখনও বর্জনীয় নয়।
Pavitrāropaṇa-vidhāna (The Procedure for Installing the Pavitra)
ভগবান অগ্নি ঋষি বশিষ্ঠকে পবিত্র (পবিত্রক) আরোপণের বার্ষিক প্রায়শ্চিত্ত ও শুদ্ধিকরণ‑বিধি বলেন, যা নিয়মিত পূজায় ত্রুটি হলে তা সংশোধন করে। প্রাতঃস্নান, দ্বারপাল‑পূজা ও নির্জন স্থানে প্রস্তুতির পর পূর্বে ব্যবহৃত সংস্কার‑দ্রব্য ও বাসি নৈবেদ্য অপসারণ করে দেবতার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নবপূজা করা হয়। পঞ্চামৃত, কষায়‑ক্বাথ ও সুগন্ধি জলে স্নাপন, অগ্নিহোত্র ও নৈমিত্তিক পূজা; বিষ্ণু‑কুম্ভ আহ্বান, হরির কাছে প্রার্থনা এবং হৃদাদি‑মন্ত্রে মন্ত্রসিদ্ধি সম্পন্ন হয়। এরপর পবিত্র ধারণ/স্থাপন করে দেবতাকে অর্পণ করা হয় এবং দ্বারপাল, আসন, গুরু ও পরিচারকদের প্রতিও নিবেদন করা হয়। পূর্ণাহুতিতে প্রায়শ্চিত্ত সীলমোহরিত হয়; ১০৮ গণনা ও সমৃদ্ধ পুষ্প‑মাল্য নিবেদন পূর্ণতা নির্দেশ করে। শেষে ক্ষমাপ্রার্থনা, বলি‑দক্ষিণা, ব্রাহ্মণ‑সম্মান ও পবিত্রের বিষ্ণুলোকগামী বিসর্জন; ব্যবহৃত পবিত্র ব্রাহ্মণকে দান করলে তন্তু‑সংখ্যা অনুযায়ী পুণ্য, বংশোন্নতি ও পরম মোক্ষ লাভ হয়।
Chapter 37 — सर्वदेवपवित्रारोहणविधिः (Procedure for Installing the Pavitra for All Deities)
ভগবান অগ্নি বিষ্ণুর পবিত্রারোপণের নির্দেশের পর সকল দেবতার জন্য প্রযোজ্য ‘সর্বদেব-পবিত্রারোপণ’ বিধি ব্যাখ্যা করেন। পবিত্রকে শুভলক্ষণযুক্ত পবনকারী উপকরণ বলা হয়েছে, যা শুদ্ধ দ্রব্য, যথাযথ মন্ত্রধ্বনি ও সংস্কৃত অগ্নি-হোমের সঙ্গে যুক্ত হলে কার্যকর—এখানে বস্তু-শুদ্ধি, ধ্বনি-নির্ভুলতা ও হোমশক্তি একত্রে ফল দেয়। দেবতাকে জগতের গর্ভ/উৎস ও স্রষ্টা বলে পরিবারসহ আহ্বান করে প্রাতে পবিত্রক অর্পণ করা হয়। এই ক্রিয়ার নাম ‘পবিত্রারোপণ’; এটি বর্ষব্যাপী পূজার ফল প্রদানকারী, পূর্ব অর্ঘ্য-অর্পণকে সীলমোহর দিয়ে সম্পূর্ণ করা বার্ষিক শুদ্ধিকরণ। শিব, সূর্য, বাণেশ্বর ও শক্তিদেব প্রভৃতির জন্য বিশেষ গ্রহণ-মন্ত্র দেওয়া হয়েছে। সূত্র/যজ্ঞোপবীতকে নারায়ণ, অনিরুদ্ধ, সংকর্ষণ, কামদেব ও বাসুদেবে ব্যাপ্ত বলে ব্যাখ্যা করে রক্ষা, সমৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, বিদ্যা, সন্তান ও চতুর্বিধ পুরুষার্থের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। শেষে পবিত্রকের দিব্যলোকে প্রেরণ/বিসর্জনে চক্র সম্পূর্ণ হয়; পাঠভেদের উল্লেখ অধ্যায়ের সংক্রমণ-ইতিহাস জানায়।
Chapter 38 — देवालयनिर्माणफलं (The Merit of Constructing a Temple)
অগ্নি বলেন—দেবালয়, বিশেষত বাসুদেবের মন্দির স্থাপন করলে বহু জন্মের সঞ্চিত পাপ নাশ হয়; যে কেবল আনন্দিত হয়ে সহায়তা করে সেও পুণ্যভাগী। নির্মাণ, রক্ষণ, লেপন, ঝাড়ু দেওয়া, ইট জোগানো, এমনকি শিশুর খেলায় বালির মন্দির গড়াও ধর্মকর্ম; এতে বিষ্ণুলোক ও বংশোন্নতি লাভ হয়। কপট বা প্রদর্শনমাত্র কর্মে স্বর্গফল নেই। এক, তিন, পাঁচ, আট ও ষোলো অংশবিশিষ্ট প্রাসাদরূপ অনুযায়ী বিভিন্ন লোকফল নিরূপিত; উচ্চতর মন্দিরে ভুক্তি-মুক্তি এবং পরম বৈষ্ণবায়তনে মোক্ষ। ধন ক্ষণস্থায়ী; মন্দিরনির্মাণ, দ্বিজকে দান, কীর্তন ও স্তব বিশেষ ফলদায়ক। বিষ্ণু সর্বকারণ ও সর্বব্যাপী; তাঁর ধাম স্থাপন পুনর্জন্ম-নিবৃত্তির কারণ। প্রতিমা নির্মাণ ও প্রতিষ্ঠার ফলতুলনা, উপাদানভেদ এবং প্রতিষ্ঠায় অনন্ত ফল বলা হয়েছে। যমের আদেশে মন্দিরনির্মাতা ও প্রতিমাপূজক নরকগ্রাস থেকে মুক্ত; শেষে হয়গ্রীবোক্ত প্রতিষ্ঠাবিধির প্রসঙ্গ ওঠে।
Chapter 39 — भूपरिग्रहविधानम् (Bhū-parigraha-vidhāna: Procedure for Acquiring and Ritually Securing Land)
হয়গ্রীব প্রতিষ্ঠা-বিধানের পূর্বশর্ত হিসেবে ভূমি বৈধভাবে গ্রহণ ও শুদ্ধিকরণের ক্রম ব্যাখ্যা করেন। প্রথমে হয়শীর্ষ-তন্ত্র প্রভৃতি তন্ত্রের নাম করে পাঞ্চরাত্র/তান্ত্রিক পরম্পরার প্রামাণ্য স্থাপন, তারপর কে প্রতিষ্ঠা করতে পারে, মিথ্যা আচার্যের লক্ষণ, এবং বাহ্য চিহ্ন নয়—তন্ত্র-দক্ষতায় সত্য গুরুর পরিচয় বলা হয়। পরে বাস্তু-পরিকল্পনায় দেবতাদের বসতির দিকে মুখ রাখা ও দিকানুসারে স্থাপন—অগ্নি, যম, চণ্ডিকা, বরুণ, বায়ু, নাগ, কুবের/গুহ, ঈশান-ক্ষেত্রের দেবতা—নির্দেশিত। অনুপাত ও সীমানা-সতর্কতার পর ভূমি-শোধন, ভূত-বলি, অষ্ট দিশায় অষ্টাক্ষর মন্ত্রে সত্তু ছিটানো, তারপর লাঙল চালানো ও গোর পদচারণে ভূমি স্থিত করা বিধেয়। শেষে ত্রসরেণু থেকে পদ্মহস্ত পর্যন্ত মাপ-শৃঙ্খলা দিয়ে শুদ্ধি ও নির্মাণবিদ্যা একত্র করা হয়েছে।
Chapter 40 — भूपरिग्रहो नाम (Bhū-parigraha) / अर्घ्यदानविधानम् (Arghya-dāna-vidhāna)
ভগবান অগ্নি এই অধ্যায়ে ভূমি-সংস্কারকে বাস্তু-পুরুষের পৌরাণিক-যজ্ঞীয় তত্ত্বে প্রতিষ্ঠা করেন—দেবতারা এক ভয়ংকর সত্তাকে বশ করে পৃথিবীতে শুইয়ে দেন, ফলে স্থানটি নিজেই পবিত্র দেহরূপ হয়। সাধক ৬৪-পদ মণ্ডলে পদ ও অর্ধপদে দেবতা ও শক্তির বিন্যাস করে ঘি, অক্ষত, ফুল, শস্য, মাংস, মধু, দুধজাত দ্রব্য ও নানা রঙের উপকরণে হোম-বলি প্রদান করে, যাতে শুভ শক্তি পুষ্ট হয় এবং আসুরিক বাধা, পাপ ও রোগ প্রশমিত হয়। নির্মাণের আগে রাক্ষস, মাতৃগণ, পিশাচ, পিতৃ ও ক্ষেত্রপাল প্রভৃতি সহচর সত্তাদের উদ্দেশে বলি দেওয়াকে স্থান-সামঞ্জস্যের অপরিহার্য পূর্বশর্ত বলা হয়েছে। পরে প্রতিষ্ঠা-বিধিতে কুম্ভ-স্থাপন (মহীশ্বর/বাস্তু-রূপ ও বর্ধনীসহ), ব্রহ্মা ও দিকপাল-কুম্ভ, পূর্ণাহুতি, মণ্ডল-প্রদক্ষিণা, সুতো ও জল দিয়ে রেখাঙ্কন, খনন ও মধ্যকূপ প্রস্তুতি, চতুর্ভুজ বিষ্ণুকে অর্ঘ্য, এবং শুভ নিক্ষেপ—সাদা ফুল, দক্ষিণাবর্ত শঙ্খ, বীজ ও মাটি—বর্ণিত। শেষে বাস্তু-শাস্ত্রের সতর্কবাণী: জলস্তর পর্যন্ত খুঁড়ে শল্য (গোপন বিদেশি বাধা) খুঁজে অপসারণ করতে হবে; লক্ষণ-ইঙ্গিতে তা ধরা পড়ে, না তুললে প্রাচীর-বিকৃতি ও গৃহস্বামীর দুঃখ ইত্যাদি ফল হয়—অর্থাৎ আধ্যাত্মিক শুদ্ধি ও প্রকৌশলগত সতর্কতা একত্রিত।
Chapter 41 — शिलाविन्यासविधानं (The Procedure for Laying the Stones / Foundation Setting)
ভগবান অগ্নি শিলা-বিন্যাস ও পাদ-প্রতিষ্ঠার বিধান বলেন এবং জানান যে মন্দির-নির্মাণ কেবল কারিগরি কাজ নয়, এটি অভিষেক-স্বরূপ পবিত্র সংস্কার। ক্রমানুসারে মণ্ডপ প্রস্তুতি ও যজ্ঞ-সজ্জা, তারপর কুম্ভ-ন্যাস ও ইষ্টকা-ন্যাস; দ্বার-স্তম্ভের অনুপাত; খনন আংশিক ভরাট করে সমতল ভূমিতে বাস্তু-পূজা। ভালোভাবে পোড়ানো ইটের অঙ্গুল-মাপ নির্দিষ্ট; শিলা-ভিত্তিক বিকল্পে বহু কুম্ভসহ স্থাপন। পঞ্চ-কষায়, সর্বৌষধি-জল, গন্ধ-তোয় দ্বারা শিলাসংযোগ ও স্থিতিকরণ এবং ‘আপো হি ষ্ঠা’, ‘শং নো দেবী’, পবমানী, বরুণ-সূক্ত ও শ্রীসূক্তের মন্ত্রপাঠ। পরে হোম—আঘার, আজ্য-ভাগ, ব্যাহৃতি-আহুতি ও প্রায়শ্চিত্ত। আচার্য ইট ও দিকসমূহে দেবতা-শক্তির ন্যাস করে কেন্দ্রে গর্ভাধান করেন; ধাতু-রত্ন-অস্ত্রাদি সহ গর্ভ-কলস স্থাপন; তাম্র-পদ্ম-পাত্রে পৃথিবী আহ্বান করে কূপ-ক্রিয়া সম্পন্ন—গোমূত্র ছিটানো, রাত্রিকালীন গর্ভাধান ও দান। শেষে পীঠ-বন্ধের মাপ, নির্মাণোত্তর পুনর্বাস্তু-যজ্ঞ, মন্দির-সঙ্কল্প ও নির্মাণের পুণ্যপ্রশংসা এবং গ্রামের দ্বারের দিক-নিয়ম বলা হয়েছে।
Chapter 42 — प्रासादलक्षणकथनं (Prāsāda-lakṣaṇa-kathana: Characteristics of the Temple/Prāsāda)
এই অধ্যায়ে হয়গ্রীব প্রাসাদ-নির্মাণের সাধারণ বিধান বলেন—বর্গাকার ভূমিকে ষোলো ভাগে বিভক্ত করে গর্ভন्यास, প্রাচীর-বণ্টন ও অনুপাতমাফিক উচ্চতা নির্ধারণ। পরে প্রতিমা ও তার পিণ্ডিকা-প্রমাণকে ভিত্তি করে মাপজোকের পদ্ধতি দেওয়া হয়; গর্ভগৃহ ও প্রাচীরের মাত্রা নির্ণীত হয় এবং শিখরকে প্রাচীর-উচ্চতার দ্বিগুণ বলা হয়েছে। প্রদক্ষিণাপথের বিস্তার, রথক-প্রক্ষেপ, শিখর ও শুকনাস স্থাপনে সূত্র (দড়ি) দ্বারা সেটিং-আউট, এবং সিংহচিহ্ন, বেদী, কলশ প্রভৃতি অলংকারের স্থান নির্দিষ্ট করা হয়েছে। দ্বারের জ্যামিতি স্থির—উচ্চতা প্রস্থের দ্বিগুণ—উদুম্বরাদি শুভ কাঠ ও চণ্ড–প্রচণ্ড, বিশ্বক্ষেণ, শ্রী প্রভৃতি দ্বারপাল দেবতার বিধান আছে। প্রাকার প্রাসাদের এক-চতুর্থাংশ উচ্চ, গোপুর সামান্য কম; বরাহ, নরসিংহ, শ্রীধর, হয়গ্রীব, জামদগ্ন্য প্রভৃতির দিকানুসারে স্থাপনা দ্বারা ক্ষেত্র পবিত্র হয়। কিছু পাণ্ডুলিপিতে ভগ্নাংশ-মানের ভিন্নতা উল্লেখ করে শাস্ত্রীয় সূক্ষ্মতা ও ধর্মমঙ্গলতার গুরুত্ব দেখানো হয়েছে।