Avatara-lila
AvatarasCreationVishnu

Avatara-lila

Incarnations of the Divine

The opening section narrating the divine incarnations (avataras) of Vishnu, cosmic creation myths, and the foundational theology of the Agni Purana.

Adhyayas in Avatara-lila

Adhyaya 1

Granthaprasthāvanā (Preface): Sāra of Knowledge, Twofold Brahman, and the Purpose of Avatāras

প্রথম অধ্যায় মঙ্গলাচরণ দিয়ে শুরু করে অগ্নি-পুরাণকে প্রামাণ্য, কল্যাণকর ও মোক্ষদায়ী ‘বিদ্যা-সার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। নৈমিষারণ্যে শৌনক প্রমুখ হরিভক্ত ঋষিরা সূতকে অভ্যর্থনা করে ‘সারগুলির সার’—সর্বজ্ঞতা দানকারী জ্ঞান—প্রার্থনা করেন। সূত বলেন, সেই সার স্বয়ং বিষ্ণু, যিনি সৃষ্টিকর্তা ও জগতের নিয়ন্তা; তাঁকে জানার পরিণতি ‘অহং ব্রহ্মাস্মি’ উপলব্ধি। এরপর জ্ঞানমানচিত্র নির্ধারিত হয়—দুই ব্রহ্ম (শব্দব্রহ্ম ও পরব্রহ্ম) এবং দুই বিদ্যা (অপরা ও পরা)। পরম্পরা বলা হয়—সূত ব্যাসের নিকট, ব্যাস বসিষ্ঠের নিকট, আর বসিষ্ঠ দেব-ঋষি-সভায় অগ্নির উপদেশ থেকে এই সার লাভ করেন। অগ্নি নিজেকে বিষ্ণু ও কালাগ্নি-রুদ্রের সঙ্গে অভিন্ন বলে পুরাণকে এমন বিদ্যা-সার বলেন যা পাঠক-শ্রোতাকে ভোগ ও মোক্ষ উভয়ই দেয়। অপরা বিদ্যায় বেদ, বেদাঙ্গ এবং ব্যাকরণ, মীমাংসা, ধর্মশাস্ত্র, তর্ক, আয়ুর্বেদ, সঙ্গীত, ধনুর্বেদ, অর্থশাস্ত্র প্রভৃতি গণনা করা হয়; পরা বিদ্যা সেই যা দ্বারা ব্রহ্মসাক্ষাৎকার হয়। শেষে মৎস্য, কূর্ম প্রভৃতি অবতার-লীলা সৃষ্টিচক্র, বংশাবলি, মন্বন্তর ও রাজবংশ-ইতিহাস ব্যাখ্যার বাহন—নিরাকার পরমেশ্বর ধর্ম ও উদ্দেশ্য শেখাতে রূপ ধারণ করেন।

18 verses

Adhyaya 2

मत्स्यावतारवर्णनम् (The Description of the Matsya Incarnation)

অধ্যায় ২ অবতার-লীলার সূচনা করে। বশিষ্ঠের অনুরোধে অগ্নি বিষ্ণুর অবতারের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেন—দুষ্টের বিনাশ ও সাধুর রক্ষা। পূর্বযুগের অন্তে নৈমিত্তিক প্রলয়ে যখন জগৎ সমুদ্রজলে প্লাবিত, তখন কৃতমালা নদীতীরে তপস্যা ও জল-তর্পণে রত বৈবস্বত মনু এক ক্ষুদ্র মাছকে আশ্রয়প্রার্থী দেখেন। মনু তাকে কলস, সরোবর ও পরে সমুদ্রে রাখলে মাছটি অলৌকিকভাবে মহাকায় হয়ে নারায়ণরূপে আত্মপ্রকাশ করে। মৎস্য মনুকে নৌকা প্রস্তুত করতে, বীজ ও প্রয়োজনীয় দ্রব্য সংগ্রহ করতে, সপ্তর্ষিসহ ব্রহ্মরাত্রি অতিক্রম করতে এবং মহাসর্প দিয়ে নৌকাকে মৎস্যের শৃঙ্গে বেঁধে রাখতে নির্দেশ দেন। শেষে বেদের রক্ষাই অবতারকার্যের কেন্দ্র—এ কথা জানিয়ে কূর্ম-বরাহাদি পরবর্তী অবতারের সূত্রপাত দেখানো হয়।

17 verses

Adhyaya 3

Kūrma-avatāra-varṇana (The Description of the Tortoise Incarnation) — Samudra Manthana and the Reordering of Cosmic Prosperity

অগ্নি মৎস্যাবতারের পরেই কূর্মাবতারের কাহিনি বলেন। দুর্বাসার শাপে দুর্বল ও শ্রী (ঐশ্বর্য-প্রভা) হারানো দেবতারা ক্ষীরসাগরে অধিষ্ঠিত বিষ্ণুর শরণ নেন। বিষ্ণু অসুরদের সঙ্গে সন্ধি করে সমুদ্র-মন্থনের মাধ্যমে অমৃত ও শ্রী পুনঃপ্রতিষ্ঠার উপায় জানান, তবে স্পষ্ট করেন যে অমরত্ব শেষ পর্যন্ত দেবদেরই, দানবদের নয়। মন্দরাচল মন্থনদণ্ড ও বাসুকি রজ্জু হয়; পর্বত ডুবে গেলে বিষ্ণু কূর্মরূপে তাকে ধারণ করেন। মন্থন থেকে হালাহল বিষ, বারুণী, পারিজাত, কৌস্তুভ, দিব্য সত্তা ও লক্ষ্মী আবির্ভূত হয়ে শুভ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে। ধন্বন্তরি অমৃতকলশ নিয়ে ওঠেন; বিষ্ণু মোহিনী হয়ে দেবদের অমৃত বিতরণ করেন, রাহুর মস্তকচ্ছেদে গ্রহণ-কথা ও গ্রহণকালে দানের পুণ্য বর্ণিত হয়। শেষে বৈষ্ণব-শৈব ভাবান্তর—বিষ্ণুর মায়া রুদ্রকেও মোহিত করে, কিন্তু সেই মায়া জয় করতে কেবল শিবই সক্ষম; দেবজয় ও পাঠফলশ্রুতি দিয়ে অধ্যায় শেষ।

22 verses

Adhyaya 4

Varāhādy-avatāra-varṇana (Description of Varāha and Other Incarnations)

অগ্নি সংক্ষেপে অবতার-চক্র বলেন, যেখানে ভগবানের অবতরণ যজ্ঞ-ব্যবস্থা, দেবভাগ ও পৃথিবীর সাম্য পুনঃস্থাপনের জন্য। প্রথমে হিরণ্যাক্ষ দেবতাদের পরাভূত করলে বিষ্ণু বরাহরূপে—যজ্ঞরূপ বলে স্পষ্ট—অসুরকে বধ করে ধর্মরক্ষা করেন। পরে হিরণ্যকশিপু যজ্ঞাংশ ও দেবাধিকার কেড়ে নিলে বিষ্ণু নরসিংহরূপে দেবতাদের যথাস্থানে প্রতিষ্ঠা করেন। পরাজিত দেবগণ শরণ নিলে বিষ্ণু বামন হয়ে বলির যজ্ঞসভায় প্রবেশ করেন; জলদান দ্বারা বাধ্য দানের নিয়মে তিন পদ চান, ত্রিবিক্রম হয়ে ত্রিলোক ব্যাপ্ত করে বলিকে সুতলে স্থাপন করে ইন্দ্রকে রাজ্য ফিরিয়ে দেন। শেষে জমদগ্নি-রেণুকার পুত্র পরশুরাম অহংকারী ক্ষত্রিয়জনিত ভূভার নাশে কার্ত্তবীর্যকে বধ করেন, পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নেন, একুশবার পৃথিবী শমিত করে কশ্যপকে ভূমি দান করেন। ফলশ্রুতিতে এই অবতারশ্রবণে স্বর্গলাভ ও শ্রবণভক্তির মাহাত্ম্য ঘোষিত।

20 verses

Adhyaya 5

Śrīrāmāvatāra-varṇanam (Description of the Incarnation of Śrī Rāma)

অগ্নি জানান, নারদ যেভাবে পূর্বে বাল্মীকিকে রামায়ণ শুনিয়েছিলেন, সেই বিশ্বস্ত পুনর্কথনই এখানে; এটি শাস্ত্রস্বরূপ উপায়, যা ভুক্তি ও মুক্তি—উভয়ই দান করে। নারদ সূর্যবংশের সংক্ষিপ্ত বংশপরম্পরা বলেন—ব্রহ্মা থেকে মরীচি, কশ্যপ, সূর্য, বৈবস্বত মনু, ইক্ষ্বাকু; তারপর ককুৎস্থ, রঘু, অজ ও দশরথ—এভাবে রাজধর্মের উত্তরাধিকার-ধারায় রামের অবতার স্থাপন করেন। রাবণাদি বিনাশে হরি চতুর্ভাগে প্রকাশিত হন; ঋশ্যশৃঙ্গের দ্বারা পবিত্র পায়স বণ্টনে রাম, ভরত, লক্ষ্মণ ও শত্রুঘ্নের জন্ম হয়। বিশ্বামিত্রের অনুরোধে তাঁরা যজ্ঞবিঘ্ন নাশ করেন—তাড়কা বধ, মারীচকে তাড়ানো ও সুবাহু বধ। পরে মিথিলায় জনকের যজ্ঞে রাম শিবধনুতে জ্যা আরোপ করে ভেঙে সীতাকে লাভ করেন; ভ্রাতারাও জনককুলে বিবাহ করেন। প্রত্যাবর্তনে রাম জামদগ্ন্য পরশুরামকে নিবৃত্ত করে ধর্মনিয়ন্ত্রিত রাজশক্তির আদর্শ সম্পন্ন করেন।

14 verses

Adhyaya 6

Śrīrāmāvatāravarṇanam (Description of Śrī Rāma’s Incarnation) — Ayodhyā Abhiṣeka, Vanavāsa, Daśaratha’s Death, Bharata’s Regency

এই অধ্যায়ে শ্রীरामের অবতার-লীলা রাজধর্ম, সত্য ও ব্রতবদ্ধ রাজত্বের শিক্ষারূপে বর্ণিত। ভরত চলে গেলে দশরথ রামের যুবরাজ-অভিষেক ঘোষণা করেন এবং বশিষ্ঠ ও মন্ত্রীদের ক্রমে নিযুক্ত করে রাত্রিভর সংযম-নিয়ম পালনের নির্দেশ দেন। মন্থরার প্ররোচনায় কৈকেয়ী দুই বর স্মরণ করে; ফলে অভিষেকের প্রস্তুতি রাজনৈতিক সংকটে রূপ নেয়—রামের চৌদ্দ বছরের বনবাস এবং ভরতের তৎক্ষণাৎ অভিষেক। সত্যের বন্ধনে আবদ্ধ দশরথ প্রতিজ্ঞার ভারে ভেঙে পড়েন; রাম বিদ্রোহ না করে বনবাস গ্রহণ করেন, পূজা করেন, কৌশল্যাকে জানান, ব্রাহ্মণ ও দরিদ্রকে দান দিয়ে সীতা ও লক্ষ্মণসহ যাত্রা করেন। তমসা, শৃঙ্গবেরপুরে গুহ, প্রয়াগে ভারদ্বাজ এবং চিত্রকূট—এই তীর্থভূমির পথে ধর্মময় ত্যাগ প্রকাশ পায়; কাক-প্রসঙ্গে রক্ষার্থ অস্ত্রবিদ্যার ইঙ্গিত আসে। দশরথ যজ্ঞদত্ত-ঘটনার শাপ স্বীকার করে শোকে প্রাণত্যাগ করেন। ভরত ফিরে অধর্মের কলঙ্ক প্রত্যাখ্যান করে রামকে খুঁজে নন্দিগ্রামে রামের পাদুকা স্থাপন করে প্রতিনিধি-শাসন করেন—আদর্শ ভক্তি ও আনুগত্যের প্রতীক।

49 verses

Adhyaya 7

Chapter 7 — रामायणवर्णनं (Description of the Rāmāyaṇa): Śūrpaṇakhā, Khara’s Defeat, and Sītā-haraṇa Prelude

এই অধ্যায়ে অগ্নিপুরাণের অবতার-লীলায় অরণ্যকাণ্ডের প্রধান ঘটনাগুলি ধর্মকেন্দ্রিকভাবে সংক্ষিপ্ত হয়েছে। রাম বসিষ্ঠ, অত্রি-অনসূয়া, শরভঙ্গ ও সুতীক্ষ্ণ ঋষিদের সম্মান করেন; অগস্ত্যের কৃপায় দিব্য অস্ত্র লাভ করে দণ্ডকারণ্যে প্রবেশ করেন—তপস্যা ও উপদেশে পরিচালিত ক্ষাত্রধর্মের ইঙ্গিত। পঞ্চবটীতে শূর্পণখার কামনা ও আক্রমণাত্মক আচরণে রামের আদেশে লক্ষ্মণ তার নাসা-কর্ণচ্ছেদন করেন; ফলে খরের প্রতিশোধযাত্রা শুরু হয়, রাম তার বাহিনী ধ্বংস করেন। শূর্পণখা রাবণকে সীতাহরণের জন্য প্ররোচিত করে; রাবণ মারীচকে স্বর্ণমৃগ করে রামকে দূরে টানে, মারীচের মৃত্যুক্রন্দনে সীতা লক্ষ্মণকে পাঠান। তখন রাবণ জটায়ুকে বধ করে সীতাকে লঙ্কার অশোকবাটিকায় নিয়ে যায়। রাম জটায়ুর দাহকর্ম সম্পন্ন করে কबंध বধ করেন এবং সুগ্রীবের সঙ্গে মৈত্রীর পথনির্দেশ পান—ধর্মপরীক্ষা, কৌশল ও অবতারকার্যের সংযোগ।

22 verses

Adhyaya 8

Śrīrāmāvatāra-kathana (Account of the Rāma Incarnation) — Kiṣkindhā Alliance and the Search for Sītā

এই অধ্যায়ে কিষ্কিন্ধা-পর্বে শ্রীरामের অবতারলীলা অগ্রসর হয়। শোকাকুল রাম পম্পায় এসে হনুমানের সহায়তায় সুগ্রীবের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করেন। বিশ্বাস স্থাপনে তিনি এক বাণে সাতটি তালবৃক্ষ বিদ্ধ করেন এবং দণ্ডুভির দেহ দূরে নিক্ষেপ করেন; পরে বালীকে বধ করে ভ্রাতৃবৈর মিটিয়ে সুগ্রীবকে রাজ্যে প্রতিষ্ঠা দেন। সুগ্রীব বিলম্ব করলে রাম মাল্যবত পর্বতে চাতুর্মাস্য পালন করেন; লক্ষ্মণের তিরস্কারে সুগ্রীব অনুতপ্ত হয়ে কঠোর সময়নিয়মে অনুসন্ধানদল পাঠায় এবং দক্ষিণপথে হনুমানকে রামের অঙ্গুরীয়/মুদ্রিকা দেন। দক্ষিণদল হতাশ হলে সম্পাতি লঙ্কার অশোকবাটিকায় সীতার অবস্থান জানায়, ফলে পরবর্তী উদ্ধারপর্বের জন্য নির্ণায়ক দিশা মেলে।

16 verses

Adhyaya 9

Chapter 9 — श्रीरामावतारकथनम् (Śrī Rāmāvatāra-kathanam) | Hanumān’s Ocean-Crossing, Sītā-Darśana, and the Setu Plan

এই অধ্যায়ে রামায়ণ-খণ্ডের অবতারলীলা অগ্রসর হয় এবং হনুমানকে শ্রীरामের ধর্ম-অভিযানের প্রধান উপকরণরূপে দেখানো হয়েছে। সম্পাতির উপদেশের পরে বানরসেনার সামনে সমুদ্র পার হওয়ার কৌশলগত সমস্যা দেখা দেয়; দলের রক্ষা ও রামকার্যের সাফল্যের জন্য একমাত্র হনুমানই মহাসাগর লঙ্ঘন করেন। পথে তিনি মৈনাকের আতিথ্য-প্রস্তাব ও সিংহিকার আক্রমণসহ বাধা অতিক্রম করেন, লঙ্কার প্রাসাদাদি পর্যবেক্ষণ করে অশোকবাটিকায় সীতাকে দর্শন করেন। কথোপকথনে পরিচয়, সতীত্ব ও প্রমাণ স্থাপিত হয়—রামের অঙ্গুরীয়ক দিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়, সীতা রত্ন ও বার্তা দিয়ে বলেন যে উদ্ধারকর্তা স্বয়ং রামই হবেন। এরপর হনুমান পরিমিত শক্তি প্রয়োগ করে বাগান ধ্বংস করে সাক্ষাৎ লাভ করেন, নিজেকে রামদূত ঘোষণা করে রাবণকে অনিবার্য পরাজয়ের সতর্কবাণী দেন। লঙ্কাদাহের পর সীতাকে আশ্বস্ত করে তিনি ফিরে এসে অমৃতসম সংবাদে রামের শোক প্রশমিত করেন। শেষে বিভীষণের শরণাগতি, তার অভিষেক এবং সমুদ্রের উপদেশে নলের সেতু-নির্মাণ পরিকল্পনা বর্ণিত, যার ফলে ধর্মযুদ্ধ অগ্রসর হয়।

31 verses

Adhyaya 10

Chapter 10 — श्रीरामावतारवर्णनम् (Description of the Incarnation-Deeds of Śrī Rāma)

এই অধ্যায়ে অগ্নি পুরাণের রামাবতার-লীলার অন্তর্গত লঙ্কাযুদ্ধের নির্ণায়ক পর্ব ধর্ম ও কৌশলের ধারায় সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণিত। নারদ বলেন—রামের দূত অঙ্গদ রাবণকে চূড়ান্ত বার্তা দেন: সীতাকে ফিরিয়ে দাও, নচেৎ ধর্মসম্মত বিনাশ অনিবার্য—এতেই যুদ্ধের নৈতিক শর্ত স্থাপিত হয়। এরপর বানর ও রাক্ষস বীরদের তালিকা, সেনানায়কদের সংগঠিত নেতৃত্ব (ধনুর্বেদ-প্রসঙ্গ) এবং গণযুদ্ধের বিশৃঙ্খলা তুলে ধরা হয়। প্রধান মোড়গুলির মধ্যে আছে সেনাপতিদের বধ, ইন্দ্রজিতের মায়া ও বন্ধনাস্ত্র, গরুড়-সম্পর্কিত মুক্তি, এবং হনুমানের পর্বত এনে ঔষধি-চিকিৎসা—দৈব সহায়তা ও যুদ্ধচিকিৎসার সমন্বয়। শেষে রাম পৈতামহ অস্ত্রে জয়ী হন; বিভীষণের অন্ত্যেষ্টি, সীতার অগ্নিপরীক্ষা, ইন্দ্রের অমৃতে বানরদের পুনর্জীবন, অভিষেকের আয়োজন এবং রামরাজ্যের আদর্শ—সমৃদ্ধি, যথাসময়ে মৃত্যু, দুষ্টদণ্ডের শৃঙ্খলা—রাজধর্মরূপে প্রতিষ্ঠিত।

34 verses

Adhyaya 11

Śrīrāmāvatāra-varṇana (Description of the Incarnation of Sri Rama)

এই অধ্যায়ে যুদ্ধকাণ্ডের পর শ্রীरामের ধর্মময় রাজ্য ও তার ফল সংক্ষেপে বর্ণিত। নারদ অগস্ত্য প্রমুখ ঋষিদের সঙ্গে অযোধ্যায় এসে ইন্দ্রজিতের পতনে চিহ্নিত দিব্য বিজয়ের প্রশংসা করেন। পরে পুলস্ত্য থেকে বিশ্রবা, কুবেরের জন্ম, ব্রহ্মার বরলাভে রাবণের উত্থান, ইন্দ্রজিতের পরিচয় এবং দেবরক্ষার্থে লক্ষ্মণের হাতে তার বধ—রাক্ষস বংশের সারসংক্ষেপ দেওয়া হয়। ঋষিরা বিদায় নিলে রাজ্যশাসন ও সীমান্তশান্তির কথা আসে: দেবতাদের অনুরোধে শত্রুঘ্ন লবণকে বধ করতে প্রেরিত হন; ভরত শৈলূষ-সম্পর্কিত বৃহৎ দুষ্টবাহিনী ধ্বংস করে তক্ষ ও পুষ্করকে অঞ্চলের অধিপতি স্থাপন করেন—দুষ্টনিগ্রহের পর শিষ্টরক্ষা-ই রাজধর্ম। বাল্মীকির আশ্রমে কুশ-লবের জন্ম ও পরবর্তীতে তাদের পরিচয়ও উল্লেখিত। অভিষিক্ত রাজত্বের সঙ্গে ‘আমি ব্রহ্ম’—এই দীর্ঘ ধ্যানের মাধ্যমে মোক্ষভাবনা যুক্ত হয়। শেষে রামের যজ্ঞময় শাসন, সকলের সহিত স্বর্গারোহণ, এবং অগ্নির ঘোষণা—নারদের কথায় বাল্মীকি রামায়ণ রচনা করেন; তা শ্রবণে স্বর্গলাভ হয়।

13 verses

Adhyaya 12

Chapter 12 — श्रीहरिवंशवर्णनं (Śrī-Harivaṃśa-varṇana) | The Description of the Sacred Harivaṃśa

অগ্নি বিষ্ণুর নাভি-পদ্মজাত বংশানুক্রমে হরিবংশের পরিচয় দেন—ব্রহ্মা→অত্রি→সোম→পুরূরবা→আয়ু→নহুষ→যযাতি—এবং শাখা-প্রশাখা বিস্তারে যাদববংশে বসুদেবকে প্রধান বলেন। এরপর কৃষ্ণাবতার-লীলাকে ধারাবাহিকভাবে সংক্ষেপ করেন—গর্ভ-পরিবর্তন (বলরামসহ), মধ্যরাতে কৃষ্ণের আবির্ভাব, যশোদার ঘরে শিশু-বিনিময় ও কংসের নিষ্ঠুরতা। আকাশজাত দেবী কংসবধের ভবিষ্যদ্বাণী করেন; দুর্গার নানা নামে স্তব ও ত্রি-সন্ধ্যা পাঠের ফলশ্রুতি বলা হয়। বৃন্দাবন-লীলা—পূতনা, যমলার্জুন, শকটভঙ্গ, কালিয়দমন, ধেনুক-কৈশী-অরিষ্ট বধ, গোবর্ধনধারণ—এর পর মথুরা পর্ব: কুবলয়াপীড় দমন, চাণূর-মুষ্টিক মর্দন ও কংসবধ। পরে জরাসন্ধের অবরোধ, দ্বারকা প্রতিষ্ঠা, নরকাসুর বধ, পারিজাত আনয়ন, এবং প্রদ্যুম্ন–অনিরুদ্ধ–ঊষা কাহিনিতে হরি–শঙ্কর সংঘাত ও অভেদ তত্ত্বের উপসংহার। শেষে যাদববংশের বিস্তার এবং হরিবংশ পাঠে ইষ্টসিদ্ধি ও হরিপ্রাপ্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

55 verses

Adhyaya 13

Chapter 13 — कुरुपाण्डवोत्पत्त्यादिकथनं (Narration of the Origin of the Kurus and the Pāṇḍavas, and Related Matters)

অগ্নি জানান যে ভারতকথা কৃষ্ণ-মাহাত্ম্যে চিহ্নিত; মহাভারত বিষ্ণুর পরিকল্পনা—মানব-উপকরণ, বিশেষত পাণ্ডবদের দ্বারা পৃথিবীর ভার হরণ। বিষ্ণু→ব্রহ্মা→অত্রি→সোম→বুধ→পুরূরবা থেকে যযাতি, পুরু, ভরত ও কুরু পর্যন্ত বংশানুক্রম সংক্ষেপে বর্ণিত। পরে শান্তনু-বংশে ভীষ্মের অভিভাবকত্ব, চিত্রাঙ্গদের মৃত্যু, কাশীর রাজকন্যাদের আনা, বিচিত্রবীর্যের প্রয়াণ, ব্যাসের নিয়োগে ধৃতরাষ্ট্র ও পাণ্ডুর জন্ম; ধৃতরাষ্ট্রের দৌর্যোধন-প্রমুখ কৌরব। পাণ্ডুর শাপে দেবজ পাণ্ডব, কর্ণের জন্ম ও দৌর্যোধনের সঙ্গে মৈত্রী বৈর তীব্র করে। এরপর লক্ষাগৃহ-চক্রান্ত, একচক্রায় বকবধ, দ্রৌপদী-স্বয়ংবর, গাণ্ডীব ও অগ্নির রথলাভ, খাণ্ডবদাহ, রাজসূয়, পাশাখেলায় বনবাস, বিরাটে অজ্ঞাতবাস (পাঠভেদসহ), পরিচয়প্রকাশ, অভিমন্যুর বিবাহ, যুদ্ধসজ্জা, কৃষ্ণদূতত্ব, দৌর্যোধনের প্রত্যাখ্যান ও কৃষ্ণের বিশ্বরূপ—যুদ্ধের নৈতিক ও দৈব অনিবার্যতা স্থাপন করে।

29 verses

Adhyaya 14

कुरुपाण्डवसङ्ग्रामवर्णनम् (Description of the War between the Kurus and the Pāṇḍavas)

অগ্নি কুরুক্ষেত্রের মহাভারত-যুদ্ধকথা সংক্ষেপে বলে ধর্ম, অনিত্যতা ও রাজধর্মের মর্ম প্রকাশ করেন। ভীষ্ম-দ্রোণ প্রভৃতি গুরুজনকে দেখে অর্জুন বিষণ্ণ হলে শ্রীকৃষ্ণ দেহের নশ্বরতা ও আত্মার অবিনাশিতা বোঝান এবং জয়-পরাজয়ে সমত্ব রেখে ক্ষাত্রধর্মে স্থির থেকে রাজধর্ম রক্ষার উপদেশ দেন। এরপর সেনাপতি-পরিবর্তন (ভীষ্ম, দ্রোণ, কর্ণ, শল্য) ও প্রধান মৃত্যুগুলি বর্ণিত—শরশয্যায় ভীষ্মপতন ও উত্তরায়ণের অপেক্ষায় বিষ্ণুধ্যান; “অশ্বত্থামা নিহত” সংবাদে দ্রোণের অস্ত্রত্যাগ; অর্জুনের হাতে কর্ণবধ; যুধিষ্ঠিরের হাতে শল্যবধ; এবং ভীম-দুর্যোধনের শেষ গদাযুদ্ধ। পরে অশ্বত্থামার রাত্রিকালীন হত্যাযজ্ঞে পাঞ্চাল ও দ্রৌপদীর পুত্ররা নিহত হয়; অর্জুন তাকে দমন করে তার মণি গ্রহণ করে। হরি উত্তরার গর্ভ রক্ষা করে পরীক্ষিতের বংশধারা স্থাপন করেন। অবশিষ্টদের তালিকা, অন্ত্যেষ্টি, ভীষ্মের শান্তিদায়ক ধর্মোপদেশ (রাজধর্ম, মোক্ষধর্ম, দান), যুধিষ্ঠিরের অশ্বমেধ, পরীক্ষিতের অভিষেক ও শেষে স্বর্গারোহণ—এসবই এই অধ্যায়ে সংক্ষেপে আছে।

27 verses

Adhyaya 15

पाण्डवचरितवर्णनम् (The Account of the Pāṇḍavas)

অগ্নিদেব অবতার-লীলার ধারায় মহাভারতের যুদ্ধোত্তর পরিণতি ধর্মকেন্দ্রিক সংক্ষিপ্তসারে বলেন। যুধিষ্ঠির রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হলে ধৃতরাষ্ট্র, গান্ধারী ও পৃথা বনপ্রস্থ গ্রহণ করেন—রাজধর্ম থেকে বৈরাগ্যের দিকে রূপান্তরের ইঙ্গিত। বিদুর অগ্নিসংযুক্ত অন্তে স্বর্গলাভ করেন। বিষ্ণুর উদ্দেশ্য বলা হয়—পাণ্ডবদের নিমিত্তে পৃথিবীর ভারহরণ এবং শাপের অজুহাতে মৌষলে যাদববংশের বিনাশ। প্রভাসে হরি দেহত্যাগ করেন; পরে দ্বারকা সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়, অনিত্যতার শিক্ষা দেয়। অর্জুন শ্রাদ্ধকর্ম সম্পন্ন করলেও কৃষ্ণবিরহে তার কার্যক্ষমতা লুপ্ত হয়; ব্যাস সান্ত্বনা দিয়ে তাকে হস্তিনাপুরে পাঠান। যুধিষ্ঠির পরীক্ষিতকে সিংহাসনে বসিয়ে ভাই ও দ্রৌপদীসহ হরিনাম জপতে জপতে মহাপ্রস্থান করেন; পথে সঙ্গীরা পতিত হয়, শেষে ইন্দ্ররথে যুধিষ্ঠির স্বর্গারোহণ করেন। ফলশ্রুতিতে পাঠে স্বর্গপ্রাপ্তির প্রতিশ্রুতি আছে।

14 verses

Adhyaya 16

Chapter 16 — बुद्धाद्यवतारकथनम् (Narration of Buddha and Other Incarnations)

অগ্নি ষোড়শ অধ্যায়ে বুদ্ধাবতার-কথাকে শ্রবণ ও পাঠে ফলদায়ক বলে শুরু করেন। দেব-অসুর সংঘর্ষে দেবগণ পরাজিত হয়ে প্রভুর শরণ নেয়; বিষ্ণু মায়া-মোহ রূপ ধারণ করে শুদ্ধোদনের পুত্র হয়ে জন্ম নিয়ে দৈত্যদের বৈদিক ধর্ম থেকে বিমুখ করেন। এর ফলে বেদবিহীন সম্প্রদায়, আরহত প্রভৃতি ধারা ও পাশণ্ড প্রবৃত্তি জন্মায়, যা নরকগামী কর্মে প্ররোচিত করে। পরে কলিযুগের সামাজিক অবক্ষয়—ধর্মপতন, ম্লেচ্ছবেশী লুণ্ঠনকারী রাজা, এবং বেদশাখার সংখ্যা/পরম্পরার বিকৃতি—বর্ণিত হয়। শেষে যাজ্ঞবল্ক্যকে পুরোহিত করে অস্ত্রধারী কল্কি ম্লেচ্ছদের বিনাশ করে বর্ণাশ্রম-সীমা পুনঃস্থাপন করেন এবং কৃতযুগের প্রত্যাবর্তন ঘটান। উপসংহারে বলা হয়, এই ধারা কল্প ও মন্বন্তরে পুনরাবৃত্ত; অবতার অসংখ্য, দশাবতার শ্রবণ-পাঠে স্বর্গলাভ হয়, এবং হরিই ধর্ম-অধর্মের নিয়ন্তা ও সৃষ্টিপ্রলয়ের কারণ।

13 verses