
Sacred Geography & Pilgrimage
A cosmographic survey of the universe (bhuvanakosha) and the greatness (mahatmya) of sacred pilgrimage sites across Bharata.
The Creation of Svāyambhuva (Manu) — Bhuvanakośa, Seven Dvīpas, Varṣas, and Lineages
অগ্নিদেব নগরাদি-বাস্তু নির্দেশ থেকে অগ্রসর হয়ে ভুবনকোষ, পৃথিবীর ভূগোল ও প্রধান প্রজাপতিদের সুশৃঙ্খল বিবরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রিয়ব্রত তাঁর পুত্রদের মধ্যে সাত দ্বীপ—জম্বু, প্লক্ষ, শাল্মল, কুশ, ক্রৌঞ্চ, শাক ও পুষ্কর—বণ্টন করে ধর্মসম্মত প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রকাশ করেন। জম্বুদ্বীপে মেরু/ইলাবৃতকে কেন্দ্র করে বর্ষ-বিভাগ ও সীমা-পর্বত নির্দিষ্ট করা হয়; উত্তরদেশকে জরা-মৃত্যুভয়হীন এবং যুগভেদাতীত সমতাময় বলা হয়েছে। পরে রাজত্ব থেকে বৈরাগ্যের পবিত্র আদর্শে প্রিয়ব্রত, ঋষভ ও ভরত শালগ্রামে বিষ্ণুপ্রাপ্ত হন—রাজবংশকে তীর্থভিত্তিক মুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে। ভরত থেকে সুমতি, তারপর ইন্দ্রদ্যুম্ন প্রভৃতি বংশধারা বর্ণিত হয়ে একে স্বায়ম্ভুব সৃষ্টির কাহিনি ও কৃত-ত্রেতা প্রভৃতি যুগক্রমে চিহ্নিত বলা হয়েছে।
Chapter 108 — भुवनकोषः (Bhuvana-kośa: The Structure of the Worlds)
ভগবান অগ্নি বসিষ্ঠকে ভুবনকোষের সুবিন্যস্ত বিবরণ দেন—সপ্ত দ্বীপ ও তাদের পরিবেষ্টিত সপ্ত সমুদ্র গণনা করে জগতকে ধর্মনিয়ন্ত্রিত পবিত্র বিন্যাসরূপে স্থাপন করেন। পরে জম্বুদ্বীপ ও মেরুকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট পরিমাপ ও পদ্ম-প্রতীক ব্যাখ্যা করেন—মেরু যেন বিশ্ব-পদ্মের কর্ণিকা। মেরুর চারদিকে সীমান্তপর্বত ও বর্ষ-অঞ্চল সাজানো: দক্ষিণে ভারত, কিম্পুরুষ, হরিবর্ষ; উত্তরে রম্যক, হিরণ্ময়, উত্তরকুরু; কেন্দ্রে ইলাবৃত। দিকপর্বত, দিব্য উদ্যান, মেরুতে ব্রহ্মার নগরী ও লোকপালদের অধিকারভূমিও বর্ণিত। বিষ্ণুর পদ থেকে অবতীর্ণ নদীসমূহ—বিশেষত শীতা ও আলকানন্দা—স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে পবিত্র সেতুপথ রচনা করে। শেষে নদীগুলি তীর্থরূপে প্রতিপন্ন হয় এবং ভারতবর্ষকে ধর্ম-স্বীকৃত পবিত্র ভূমি বলে তুলে ধরে তীর্থ-মাহাত্ম্য আলোচনার ভূমিকা প্রস্তুত হয়।
Chapter 109 — Tīrtha-mahātmya (The Glory of Sacred Pilgrimage Places)
অগ্নি বলেন, তীর্থফল আত্মসংযমের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য—হাত-পা ও মনের শাসন, হালকা আহার, ইন্দ্রিয়জয় এবং দান গ্রহণে বিরতি তীর্থযাত্রার নৈতিক পূর্বশর্ত। শুদ্ধ তীর্থযাত্রা ও অন্য ঘাটে না ঘুরে তিন রাত্রি উপবাসকে সর্বযজ্ঞসম পুণ্য বলা হয়েছে; ব্যয়বহুল যজ্ঞ করতে অক্ষমদের জন্য এটি সহজ পথ। পুষ্করকে পরম তীর্থ বলা হয়েছে, তিন সন্ধ্যায় দেবসান্নিধ্য বিশেষ বৃদ্ধি পায়; সেখানে বাস, জপ ও শ্রাদ্ধ বংশোদ্ধার করে, অশ্বমেধসম পুণ্য ও ব্রহ্মলোক প্রদান করে। এরপর নদী, সঙ্গম, বন, পর্বত ও নগর—কুরুক্ষেত্র, প্রয়াগ, বারাণসী, অবন্তী, অযোধ্যা, নৈমিষ ইত্যাদি—উল্লেখ করে স্নান, দান (বিশেষত কার্ত্তিকে অন্নদান), এবং স্মরণ/উচ্চারণকে শুদ্ধি, স্বর্গ বা ব্রহ্মলোকলাভের উপায় বলা হয়েছে। কুরুক্ষেত্রের মাহাত্ম্য বিশেষ—তার ধূলিও উদ্ধারক; সরস্বতী ও বিষ্ণুসংযুক্ত দেবতাদের উপস্থিতিতে তা ধর্মের তীব্রফলদায়ী ক্ষেত্র।
गङ्गामाहात्म्यं (The Greatness of the Gaṅgā)
তীর্থ-মাহাত্ম্যের ধারায় ভগবান অগ্নি সাধারণ তীর্থ-প্রশংসা থেকে এগিয়ে গঙ্গাকে পবিত্র ভূগোলের সর্বোচ্চ শুদ্ধিকারিণী রূপে ব্যাখ্যা করেন। যেখানে যেখানে গঙ্গা প্রবাহিত, সেই দেশ স্বয়ং পবিত্র—ভূগোলও ধর্মের বাহন হয়ে ওঠে। গঙ্গাকে জীবের পরম ‘গতি’ ও আশ্রয় বলা হয়েছে; নিয়ত পূজায় তিনি পূর্বপুরুষ ও বংশধর—উভয় কুলকে উন্নীত করেন। গঙ্গা-দর্শন, স্পর্শ, জলপান ও স্তোত্রপাঠের মতো সহজ ভক্তিকর্ম মহাফলদায়ী, দীর্ঘ তপস্যার চেয়েও শ্রেষ্ঠ; এক মাস তটে ভক্তি করলে সর্বযজ্ঞফল লাভ হয়। অস্থি-অবশেষ গঙ্গায় যতদিন থাকে ততদিন স্বর্গবাস নিশ্চিত—অন্ত্যেষ্টি ও শ্রাদ্ধের গুরুত্ব প্রকাশিত। শেষে বলা হয়েছে, অন্ধ প্রভৃতি বাধাগ্রস্তরাও গঙ্গাতীর্থে দেবতুল্য হয়ে ভুক্তি ও মুক্তি লাভ করে—কৃপা সকলের জন্য সুলভ।
प्रयागमाहात्म्यम् (The Greatness of Prayāga)
অগ্নি প্রয়াগ-মাহাত্ম্য আরম্ভ করে প্রয়াগকে পরম তীর্থ বলেন—যা ভুক্তি ও মুক্তি উভয়ই দান করে এবং ব্রহ্মা, বিষ্ণু প্রভৃতি দেবতা ও ঋষিদের মিলনস্থল। গঙ্গাতীরের মাটি বহন বা লেপন করলে সূর্য যেমন অন্ধকার দূর করে তেমনি পাপ নাশ হয়—বাহ্য আচারের মাধ্যমে অন্তঃশুদ্ধির ইঙ্গিত। গঙ্গা–যমুনার মধ্যবর্তী ভূমিকে পৃথিবীর ‘জঘন’ এবং প্রয়াগকে তার ‘অন্তরুপস্থ’ বলা হয়েছে, ফলে ভূগোলকে দেবদেহরূপে কল্পনা করা হয়। প্রতিষ্ঠান, কম্বলা, অশ্বতর, ভোগবতী ইত্যাদি উপতীর্থ প্রজাপতির বেদি; সেখানে বেদ ও যজ্ঞ যেন মূর্তিমান, তাই নামোচ্চারণেও পুণ্য লাভ। সঙ্গমে দান, শ্রাদ্ধ ও জপ অক্ষয় ফলদায়ক; প্রয়াগে মৃত্যুকামীদের অটল সংকল্পের কথাও আছে। শেষে হংসপ্রপাতন, কোটিতীর্থ, অশ্বমেধ-তীর্থ, মানসতীর্থ, বাসরক প্রভৃতি স্থান, মাঘ-মাসের মহিমা এবং গঙ্গার তিন পরম স্থান—গঙ্গাদ্বার, প্রয়াগ, গঙ্গাসাগর—এর বিরলতা উল্লেখিত।
Prayāga-māhātmya (Conclusion Notice)
এই অংশটি অগ্নেয় পুরাণের তীর্থ-প্রকরণে প্রয়াগ-মাহাত্ম্যের সমাপ্তি-সূচক এক সংক্রমণধর্মী উপসংহার। পূর্ববর্তী আলোচনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে এটি পুরাণীয় শিক্ষাধারাকে রক্ষা করে, যেখানে পবিত্র ভূগোলকে প্রয়োগধর্ম হিসেবে শেখানো হয়—নির্দিষ্ট তীর্থ পুণ্য, শুদ্ধি এবং সংসারজীবনকে মোক্ষের অনুকূলে স্থাপন করার উপায়। এই সমাপ্তি অগ্নেয় বিদ্যার নিয়মিত অগ্রগতিও নির্দেশ করে—এক তীর্থের আচার-তাত্ত্বিক পরিচয় থেকে পরবর্তী তীর্থে গিয়ে ক্ষেত্রসমূহের সুশৃঙ্খল মানচিত্র গড়ে ওঠে, যা পুরাণের বিশ্বকোষীয় লক্ষ্য (যজ্ঞকর্ম, প্রতিমালক্ষণ, রাজধর্ম/শাসন ও সহবিদ্যা)কে সম্পূরক করে।
Narmadā-ādi-māhātmya (The Greatness of the Narmadā and Other Tīrthas)
এই তীর্থ-মাহাত্ম্যে ভগবান অগ্নি নর্মদাকে পরম পবিত্রকারিণী বলে স্তব করেন এবং তার অসংখ্য তীর্থের ব্যাপ্তি ও প্রাচুর্য গণনা করেন। গঙ্গার দর্শনমাত্রে তৎক্ষণাৎ শুদ্ধি, আর নর্মদার জলস্পর্শ/স্নানে পবিত্রতা—এই তুলনায় পুণ্যলাভের ভিন্ন ভিন্ন উপায় নিরূপিত হয়। পরে অমরকণ্টক অঞ্চলে পর্বতের চারদিকে বহু তীর্থ, শ্রীপর্বত এবং কাবেরীর শুভ সঙ্গমের কথা বলা হয়। শ্রীপর্বতের পবিত্রতার কারণকথায় গৌরীর তপস্যা, অধ্যাত্ম-বরলাভ ও সেই নামপ্রসিদ্ধি বর্ণিত। শেষে বলা হয়—এখানে দান, তপ, জপ ও শ্রাদ্ধ করলে অক্ষয় ফল হয়; এই তীর্থে মৃত্যু হলে শিবলোকে গমন, এবং হর-দেবীর সান্নিধ্য ও ক্রীড়া এখানে বিরাজমান।
Chapter 114 — Gayā-māhātmya (The Greatness of Gayā)
অগ্নি বসিষ্ঠকে গয়া-তীর্থের সর্বোচ্চ মাহাত্ম্য বলেন। গয়াসুরের তপস্যায় দেবতারা বিচলিত হলে বিষ্ণু তাকে বর দিয়ে ‘সর্বতীর্থময়’ করেন। পরে স্থিতির জন্য বিষ্ণুর নির্দেশে ব্রহ্মা গয়াসুরের দেহকে যজ্ঞভূমি হিসেবে চান; অসুর সম্মত হয়ে বেদী হয়, কিন্তু নড়ে ওঠে। তখন ধর্মের দ্বারা ধারণকৃত দেবময়ী শিলা স্থাপিত হয়। ধর্মব্রতা/দেবব্রত, মরীচির শাপ ও দেববরের কাহিনিতে শিলার পবিত্রতা ব্যাখ্যাত—সব দেবতার অধিষ্ঠান ও দিব্য পদচিহ্নে চিহ্নিত। বিষ্ণু গদাধর রূপে প্রকাশ হয়ে অচলতা নিশ্চিত করেন; ব্রহ্মা পূর্ণাহুতি সম্পন্ন করেন; গয়াসুর বর পায় যে তার দেহ বিষ্ণু-শিব-ব্রহ্মা-সংপূত পবিত্র ক্ষেত্র হবে, যেখানে পিতৃগণ ব্রহ্মলোক লাভ করেন। শেষে ধর্মকর্মে লোভের নিন্দা, গয়ায় তীর্থভিত্তিক পুরোহিতজীবিকার বিধান, এবং গয়া-নামকরণ ও পাণ্ডবদের হরিপূজার সম্পর্ক বলা হয়েছে।
अध्याय ११५ — गयायात्राविधिः (Procedure for the Pilgrimage to Gayā)
এ অধ্যায়ে অগ্নিদেব গয়া-যাত্রার ক্রমবিধি বলেন—শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদানকে পিতৃদের মুক্তি এবং যাত্রীর আত্মশুদ্ধির প্রধান উপায় রূপে স্থাপন করা হয়েছে। সাধক প্রথমে নির্দিষ্ট শ্রাদ্ধ করে, পরে কার্পটী (ভিক্ষুকসদৃশ) সংযম গ্রহণ করে, দান-প্রতিগ্রহ না করে, এবং প্রতিটি পদক্ষেপকে পিতৃউন্নতির পুণ্য বলে মানে। গয়ার মাহাত্ম্য অন্য দাবির (যেমন গোশালায় মৃত্যু, কুরুক্ষেত্রে বাস) চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করে বলা হয়—গয়ায় পৌঁছানো পুত্র পিতৃদের ‘ত্রাতা’। এরপর তীর্থ-পরিক্রমা: উত্তর-মানস ও দক্ষিণ-মানসে স্নান-তর্পণ; কানখল ও ফল্গু/গয়াশিরে পরম স্থান, যেখানে সমৃদ্ধি ‘ফল দেয়’ এবং পিতৃগণ ব্রহ্মলোক লাভ করেন; ধর্মারণ্য/মতঙ্গ-আশ্রম, ব্রহ্মসরস ও ব্রহ্মযূপে অন্যান্য ক্রিয়া। শেষে রুদ্রপাদ, বিষ্ণুপদ, ব্রহ্মপদ এবং দক্ষিণাগ্নি/গার্হপত্য/আহবনীয় অগ্নিস্থানে বিধান। মন্ত্ররূপ, জ্ঞাত-অজ্ঞাত মাতৃ-পিতৃ বংশসমাবেশ, লুপ্তকর্মীদের জন্যও বিধি, শত শত প্রজন্মের উদ্ধার, দশ অশ্বমেধফল ও পুনর্জন্মনিবারণের কথা বলা হয়েছে। শেষে অক্ষয়বট ও ব্রাহ্মণভোজনের অক্ষয় পুণ্য প্রশংসা করে বলা হয়—কঠোর ক্রম না মানলেও গয়া-যাত্রা মহাফলদায়ী।
Chapter 116 — गयायात्राविधिः (Gayā-yātrā-vidhiḥ) | The Procedure for the Gayā Pilgrimage
ভগবান অগ্নি গয়া-যাত্রার ক্রমানুসারী বিধি নির্দিষ্ট করেন—গায়ত্রীজপসহ স্নান, ত্রি-সন্ধ্যা পালন, এবং প্রাতঃ ও মধ্যাহ্নে শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান। অধ্যায়ে গয়াকে পদচিহ্ন, কুণ্ড, শিলা, দ্বার ও দেবসান্নিধ্যে গঠিত ঘন তীর্থ-জাল হিসেবে মানচিত্রিত করা হয়েছে; অর্ঘ্য, প্রণাম ও মন্ত্রে প্রতিটি স্থানের পূজা সম্পন্ন হয়। যোনিদ্বার অতিক্রম সংসারে পুনরাগমন-নিবারণের প্রতীক; বৈতরণী-ধেনু দান একুশ পুরুষের উদ্ধার করে; আর পুণ্ডরীকাক্ষ (বিষ্ণু) দর্শনে ঋণত্রয় নাশ হয়। পরে গদাধর, হৃষীকেশ, মাধব, নারায়ণ, বরাহ, নরসিংহ, বামন প্রভৃতি বিষ্ণুরূপ, শিবলিঙ্গ (গুপ্ত অষ্টলিঙ্গসহ), দেবী ও গণেশের সমন্বিত উপাসনা বর্ণিত হয়ে তীর্থযাত্রাকে পূর্ণাঙ্গ লিতুর্জিক সমাহার বলা হয়েছে। শেষে গদাধর-স্তোত্রে ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ প্রার্থনা, ঋণমোচনের সাক্ষ্যভাব, এবং ‘অক্ষয় শ্রাদ্ধ’ তত্ত্ব—গয়া-কর্মে অবিনাশী পুণ্য ও পিতৃগণের ব্রহ্মলোকগতি—প্রতিপাদিত।
अध्याय ११७ — श्राद्धकल्पः (The Procedure for Śrāddha)
এই অধ্যায়ে গয়া-তীর্থযাত্রার কাহিনির পর শ্রাদ্ধ-कल्पের বিধান দেওয়া হয়েছে এবং শ্রাদ্ধকে তীর্থ-প্রভাবে বিশেষ ফলদায়ক বলা হয়েছে—বিশেষত গয়ায় ও সংক্রান্তিতে। শুভ সময় (শুক্লপক্ষে চতুর্থী থেকে), আগের দিন নিমন্ত্রণ, যোগ্য পাত্র—যতি, সাধু, স্নাতক, শ্রোত্রিয়—নির্বাচন ও অযোগ্যদের বর্জন উল্লেখ আছে। পিতৃ ও মাতৃপক্ষের জন্য তিনজন করে প্রতিনিধিকে আসনে বসানো, ব্রহ্মচর্যসদৃশ সংযম, কুশ/দর্ভ ও পবিত্রের ব্যবস্থা, যব-তিল ছিটিয়ে বিশ্বেদেব ও পিতৃ আহ্বান, মন্ত্রসহ অর্ঘ্য ও জলদান, এবং দেব-পরিক্রমা ও পিতৃ-পরিক্রমার ভেদ (সব্য/অপসব্য) ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অগ্নিহোত্রীর জন্য হোম, অগ্নিহীনদের জন্য হাতে দান, পরে ভোজন, তৃপ্তি-প্রশ্ন, উচ্ছিষ্ট-ব্যবস্থা, পিণ্ড স্থাপন, অক্ষয়-উদক আশীর্বাদ, স্বধা-পাঠ ও দক্ষিণা বিধান আছে। শেষে একোद्दিষ্ট, সপিণ্ডীকরণ, অভ্যুদয়িক শ্রাদ্ধ, খাদ্যভেদে তৃপ্তিকাল, পংক্তি-পাবন ব্রাহ্মণের লক্ষণ, তিথিফল, অক্ষয়কাল এবং গয়া-প্রয়াগ-গঙ্গা-কুরুক্ষেত্রাদি তীর্থে অক্ষয় শ্রাদ্ধফলের মাহাত্ম্য সংক্ষেপে বলা হয়েছে।
Bhāratavarṣa (भारतवर्षम्) — Definition, Divisions, Mountains, Peoples, and Rivers
ভগবান অগ্নি ভারতবর্ষকে দক্ষিণ সমুদ্র ও হিমালয়ের মধ্যবর্তী দেশ বলে নির্ধারণ করেন, যোজনায় তার প্রাচীন বিস্তার উল্লেখ করে একে কর্মভূমি রূপে প্রতিষ্ঠা করেন—যেখানে মানবকর্মে স্বর্গলাভ ও অপবর্গ (মোক্ষ) উভয়ই সম্ভব। এরপর ভুবনকোষ-রীতিতে কুলপর্বতসমূহের নাম করে উপমহাদেশের পৌরাণিক ভূ-অবয়ব নির্মাণ করেন। দ্বীপসমূহ ও তাদের সমুদ্রবেষ্টনের ইঙ্গিত দিয়ে ভারতের নববিভাগের কথা বলেন। কিরাত, যবন প্রভৃতি জনগোষ্ঠী এবং ব্রাহ্মণাদি বর্ণব্যবস্থাকে এই বিন্যাসে স্থাপন করেন। শেষে বিন্ধ্য, সহ্য, মালয়, মহেন্দ্র, শুক্তিমত ও হিমালয় থেকে উৎপন্ন নদীনদী-প্রণালির তালিকা দিয়ে পবিত্র জলধারাকে পর্বতভূগোলের সঙ্গে যুক্ত করেন; ফলে ভূগোল ধর্মের নির্দেশক ও নদী তীর্থপুণ্যের জীবন্ত বাহক হয়ে ওঠে।
Mahādvīpādi (The Great Continents and Related Cosmography) — Agni Purana Chapter 119
অগ্নি পূর্বের ভারতবর্ষ-বর্ণনা থেকে অগ্রসর হয়ে মহাদ্বীপাদি বিশ্ববিন্যাসের ধারাবাহিক বিবরণ দেন। প্রথমে জাম্বুদ্বীপ—এক লক্ষ যোজন বিস্তার, নয় ভাগে বিভক্ত, এবং চারদিকে ক্ষীর-সমুদ্রে পরিবেষ্টিত—উল্লেখিত হয়। এরপর বৃত্তাকার স্তরে স্তরে বহির্মুখে প্লক্ষদ্বীপ (মেধাতিথি-বংশজাত রাজা, বর্ষ-নাম, প্রধান নদী ও বর্ণাশ্রম-ধর্মব্যবস্থা সহ), তারপর শাল্মল প্রভৃতি দ্বীপের কথা আসে; প্রতিটি দ্বীপকে ঘিরে পৃথক পৃথক সমুদ্র—লবণ, ইক্ষুরস, সুরা/সুরোদ, ঘৃত, দধিজল/মটকা (ছানা-জল), ও স্বাদু জল—বর্ণিত। অঞ্চলের নামকরণের যুক্তি, অধিপতিদের বংশপরম্পরা, পর্বত-নদী, এবং সোম, বায়ু, ব্রহ্মা, সূর্য ও হরির উপাসনার রীতি তালিকাভুক্ত করে দেখানো হয় যে ভূগোলই স্থানীয় ভক্তিতত্ত্বের বাহক। শেষে স্বর্ণময় নির্জীব স্বাদূদক-ভূমি, অন্ধকারে আচ্ছন্ন লোকালোক পর্বত এবং অণ্ড-কটাহ (ব্রহ্মাণ্ড-আবরণ) দ্বারা সীমা-নীতি স্থাপন করে পুরাণীয় পরিমিত জগতের রূপ সম্পূর্ণ হয়।
Adhyaya 120 — भुवनकोषः (Bhuvanakośa: Cosmic Geography and Cosmological Measures)
অগ্নি বসিষ্ঠকে সুসংবদ্ধ ভুবনকোষ শিক্ষা দেন—পৃথিবীর পরিমাপ, অতল থেকে পাতাল পর্যন্ত সাত পাতাললোকের নানা ভূপ্রকৃতি, এবং শेष/অনন্তের তামস-আধাররূপে পৃথিবীধারণ। নীচে নরকভূমি, ঊর্ধ্বে সূর্যের জগত্-আলোকন, আর সূর্য-চন্দ্র-নক্ষত্রমণ্ডল ও গ্রহলোকগুলির ক্রমবর্ধমান দূরত্ব বর্ণিত হয়ে ধ্রুব এবং তার ঊর্ধ্বে মহর্লোক, জনলোক, তপোলোক, সত্য/ব্রহ্মলোক পর্যন্ত লোকক্রম বলা হয়েছে। ব্রহ্মাণ্ড ও তার আবরণসমূহ—জল, অগ্নি, বায়ু, আকাশ, ভূতাদি, মহৎ ও প্রধান—সাংখ্যতত্ত্বের ভাষায় বৈষ্ণব তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত; বিষ্ণু ও শক্তিকে প্রকাশের কারণশক্তি বলা হয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্রধর্মী অংশে সূর্যরথ, কালচক্র, বৈদিক ছন্দরূপ অশ্ব, ধ্রুবপুচ্ছ শিশুমার-রূপ এবং গঙ্গার দিব্য আবির্ভাব স্মরণে পাপনাশক বলে প্রশংসিত। শেষে বিষ্ণুকে সত্তা ও জ্ঞানের ভিত্তি ঘোষণা করে এই ভুবনকোষ পাঠের পুণ্যফল প্রতিশ্রুত।