Ayurveda
AyurvedaMedicineHerbsHealth

Ayurveda

The Medical Science

A compendium of Ayurvedic medicine covering diagnosis, treatment, herbal remedies, surgical principles, and preventive healthcare.

Adhyayas in Ayurveda

Adhyaya 279

Chapter 279 — सिद्धौषधानि (Siddhauṣadhāni, “Perfected Medicines”) — Colophon/Closure

এই অংশটি ‘সিদ্ধৌষধানি’ নামে পূর্ববর্তী আয়ুর্বেদ-পর্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি-চিহ্ন (কলফন)। পুরাণ-রচনায় এই সমাপ্তি কেবল সম্পাদনাগত নয়; এটি অগ্নেয় বিদ্যার বৃহৎ বিশ্বকোষীয় ধারায় একটি স্বতন্ত্র আয়ুর্বেদ-বিদ্যার পূর্ণ সংপ্রেরণ সম্পন্ন হয়েছে—এ কথা ঘোষণা করে। অধ্যায়ের নাম উচ্চারণ ও সমাপ্তি-মুদ্রা দিয়ে চিকিৎসাবিদ্যাকে শিক্ষণীয়, সংরক্ষণযোগ্য ও প্রামাণ্য শাস্ত্ররূপে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপরই পাঠককে ‘সর্বরোগহর ঔষধ’ বিষয়ক পরবর্তী অধ্যায়ের দিকে প্রস্তুত করা হয়—বিশেষ সিদ্ধ প্রতিকার থেকে অধিক সার্বজনীন, প্রতিরোধমূলক ও সামঞ্জস্যকারী উপায়ে রূপান্তরের ইঙ্গিত দিয়ে। অগ্নিপুরাণের সমন্বয়-পদ্ধতিতে এই চিকিৎসাজ্ঞান ব্যবহারিক ও পবিত্র—দেহকে স্থিত করে ধর্ম ও ভক্তির জন্য মনকে স্থির করে।

48 verses

Adhyaya 280

Chapter 280 — रसादिलक्षणम् / सर्वरोगहराण्यौषधानि (Characteristics of Taste and Related Factors; Medicines that Remove All Diseases)

এই অধ্যায়ে আয়ুর্বেদকে রাজরক্ষা-সক্ষম রক্ষাকবচ বিজ্ঞানরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। ধন্বন্তরি বলেন—রস, বীর্য, বিপাক ও প্রভাবের জ্ঞান থাকলে বৈদ্য রাজা ও সমাজকে রক্ষা করতে পারেন। ছয় রসের সোম‑অগ্নিজ উৎস, বিপাকের ত্রিবিধতা এবং বীর্যের উষ্ণ‑শীত ভেদ ব্যাখ্যা করা হয়েছে; মধুর মতো দ্রব্যে মিষ্টি রস হলেও কটু বিপাক—এ বিরোধ ‘প্রভাব’ দ্বারা সমাধেয়। পরে ভেষজ-প্রস্তুতিতে কষায়/ক্বাথের মান-অনুপাত, স্নেহপাক ও লেহ্য নির্মাণ, এবং বয়স, ঋতু, বল, জঠরাগ্নি, দেশ, দ্রব্য ও রোগ অনুসারে মাত্রা নির্ধারণের বিধান আছে। উপস্তম্ভত্রয় (আহার, নিদ্রা, যৌনাচার-নিয়ম), বৃংহণ‑লঙ্ঘন চিকিৎসা, ঋতুভিত্তিক অভ্যঙ্গ‑ব্যায়াম, এবং আহারশুদ্ধিকে অগ্নি ও বলের মূল আশ্রয় বলে ধর্মসম্মত জীবনশৃঙ্খলার সঙ্গে চিকিৎসাকে একত্র করা হয়েছে।

33 verses

Adhyaya 281

Vṛkṣāyurveda (The Science of Plant-Life) — Tree Placement, Muhūrta, Irrigation, Spacing, and Plant Remedies

এই অধ্যায়ে রস-আলোচনার পর বৃক্ষায়ুর্বেদকে ধর্মসম্মত বিদ্যা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ধন্বন্তরি শুভ বৃক্ষের দিকনির্দেশ দেন—প্লক্ষ উত্তরদিকে, বট পূর্বে, আম দক্ষিণে, অশ্বত্থ পশ্চিমে/জলমুখী; দক্ষিণ পাশে কাঁটাযুক্ত বৃদ্ধি অশুভ, তার প্রতিকার হিসেবে তিল বা ফুলগাছ রোপণের বিধান। রোপণের আগে সংস্কারসহ পূজা—ব্রাহ্মণ-সৎকার, চন্দ্র, ধ্রুব/স্থির নক্ষত্র, দিকসমূহ ও দেববিশেষের অর্চনা, শুভ নক্ষত্র নির্বাচন এবং শিকড় রক্ষা—অবশ্যক। ক্ষেত্রসমৃদ্ধির জন্য জলব্যবস্থা: স্রোতপথ তৈরি, পদ্মসর/পুকুর নির্মাণ এবং জলাশয় শুরু করার শুভ নক্ষত্রের তালিকা। পরে ঋতুভেদে সেচ, উত্তম-মধ্যম দূরত্ব, প্রতিরোপণের সীমা ও ফলহীনতা রোধে ছাঁটাই বলা হয়েছে। শেষে রোগনাশ ও ফুল-ফল বৃদ্ধির জন্য চিকিৎসা—বিদঙ্গ-ঘৃত লেপ, শস্য/ডাল মিশ্রণ, দুধ-ঘি সেচ, গোবর ও আটা/সত্তু, গাঁজানো মাংসজল ও মাছজল ইত্যাদি—উল্লেখিত।

13 verses

Adhyaya 282

Chapter 282 — नानारोगहराण्यौषधानि (Medicines that Remove Various Diseases)

এই অধ্যায়ে ধন্বন্তরির চিকিৎসা-প্রামাণ্যকে ভিত্তি করে আগ্নেয় আয়ুর্বেদের মধ্যে নানা রোগনাশক ঔষধের সংকলন দেওয়া হয়েছে। শুরুতে শিশুচিকিৎসা—শিশুর অতিসার, দুধজনিত বিকার, কাশি, বমি ও জ্বরে ক্বাথ ও লেহ্য; পরে মেধ্য (বুদ্ধিবর্ধক) টনিক ও কৃমিঘ্ন যোগ। নস্যে নাক দিয়ে রক্তপাত ও গ্রীবা-স্ফীতি, কর্ণপূরণে কর্ণশূল, কবল/গণ্ডূষে জিহ্বা-মুখরোগ, আর উদ্বর্তন, লেপ, বত্তি ও ঔষধতেলে চর্মরোগ ও ক্ষতচিকিৎসা বর্ণিত। এরপর প্রমেহ, বাতশোণিত, গ্রহণী, পাণ্ডু-কামলা, রক্তপিত্ত, ক্ষয়, বিদ্রধি, ভগন্দর, মূত্রকৃচ্ছ্র-অশ্মরী, শোথ, গুল্ম ও বিসর্প প্রভৃতির চিকিৎসা আসে। শেষে ত্রিফলাকেন্দ্রিক রসায়নে দীর্ঘায়ুর কথা এবং ধূপন, আশ্চর্যপ্রদর্শন, ষট্কর্ম ইত্যাদি সিদ্ধি-উপায়ে চিকিৎসা ও আচারশক্তির সমন্বয় দেখানো হয়েছে।

51 verses

Adhyaya 283

Chapter 283 — Mantras as Medicine (मन्त्ररूपौषधकथनम्)

এই অধ্যায়ে ধন্বন্তরি মন্ত্রচিকিৎসাকে ঔষধরূপে ব্যাখ্যা করেছেন। আয়ু, আরোগ্য এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে রক্ষার জন্য পবিত্র ধ্বনিকে প্রত্যক্ষ চিকিৎসা-উপায় বলা হয়েছে। ‘ওঁ’কে পরম মন্ত্র এবং গায়ত্রীকে ভুক্তি ও মুক্তিদাত্রী বলে স্বাস্থ্য ও মোক্ষকে সহগামী ফল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এরপর বিষ্ণু/নারায়ণ মন্ত্র ও নামজপকে প্রসঙ্গভেদে প্রতিকাররূপে নির্দেশ করা হয়—বিজয়, বিদ্যা, ভয়নাশ, চক্ষুরোগ প্রশমন, যুদ্ধে নিরাপত্তা, জল অতিক্রম, দুঃস্বপ্ন নিবারণ, অগ্নিদাহ প্রভৃতি বিপদে সহায়তা। এক গুরুত্বপূর্ণ উপদেশে সর্বভূত-হিতাচরণ ও ধর্মকেই ‘মহৌষধ’ বলা হয়েছে—নৈতিকতা চিকিৎসার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। শেষে বলা হয়, যথাযথ প্রয়োগে একটিমাত্র দিব্য নামও অভীষ্ট চিকিৎসা বা রক্ষা সাধন করতে সক্ষম।

13 verses

Adhyaya 284

मृतसञ्जीवनीकरसिद्धयोगः (Mṛtasañjīvanī-kara Siddha-yogaḥ) — Perfected Formulations for Revivification and Disease-Conquest

এই অধ্যায়ে মন্ত্র-নির্মিত ঔষধের প্রসঙ্গ থেকে অগ্রসর হয়ে আয়ুর্বেদের নতুন সংকলন—আত্রেয়প্রণীত ও ধন্বন্তরী পুনরুপদিষ্ট সিদ্ধ-যোগসমূহ—উপস্থাপিত হয়েছে। জ্বর, কাস-শ্বাস-হিক্কা, অরোচক, ছর্দি-তৃষ্ণা, কুষ্ঠ-ভিস্ফোট, ব্রণ ও নাড়ী/ভগন্দর, আমবাত ও বাত-শোণিত, শোথ, অর্শ, অতিসার, ক্ষয়, স্ত্রী-রোগ এবং চক্ষু-রোগ প্রভৃতি রোগগুচ্ছের চিকিৎসা-ক্রম এখানে সন্নিবিষ্ট। ক্বাথ, চূর্ণ, ঘৃত, তৈল, লেপ, গুটিকা, অঞ্জন, নস্য, সেক, বমন ও বিরেচন—এই রূপ ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী যোগগুলি সাজানো। শেষে বিশেষত বিরেচন, বিশেষ করে ‘নারাচ’ যোগকে শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করে, সুশ্রুতের সাক্ষ্যে এই সিদ্ধ-যোগসমূহকে সর্বরোগনাশক ও ধর্মরক্ষার্থে জীবন-সংরক্ষণ ও সাধনা-ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী বলা হয়েছে।

77 verses

Adhyaya 285

Kalpasāgara (Ocean of Formulations) — Mṛtyuñjaya Preparations and Rasāyana Regimens

এই অধ্যায়ে পূর্ব অধ্যায়ের ‘মৃতসঞ্জীবনী’ কল্পের সমাপ্তি উল্লেখ করে বর্তমান অংশকে ‘কল্পসাগর’—ঔষধ-প্রস্তুতির মহাসংগ্রহ—রূপে পরিচয় করানো হয়েছে। ধন্বন্তরির বাণীতে মৃ্ত্যুঞ্জয়-ধর্মী আয়ুর্দান ও রোগঘ্ন প্রস্তুতি এবং রসায়ন-চর্চা বর্ণিত: ত্রিফলার ক্রমবর্ধমান মাত্রা, নস্য-চিকিৎসা (বিল্ব-তেল, তিল-তেল, কাটুতুম্বী-তেল) নির্দিষ্ট সময় ধরে, এবং মধু, ঘৃত, দুধ ইত্যাদি অনুপানে দীর্ঘকাল সেবন। নির্গুণ্ডী, ভৃঙ্গরাজ, অশ্বগন্ধা, শতাবরী, খদির, নিম-পঞ্চক প্রভৃতি এবং কুমারিকা-সহ তাম্রভস্ম ও গন্ধক উল্লেখিত; দুধ/দুধ-ভাতের মতো কঠোর আহার-নিয়মও আছে। শেষে যোগরাজক সেবনের বিকল্প, ‘ওঁ হ্রূঁ স’ মন্ত্রাভিমন্ত্রণা, দেব-ঋষিদের নিকটেও এই কল্পগুলির পূজ্যতা, এবং পালকাপ্যের গজ-আয়ুর্বেদসহ বৃহত্তর আয়ুর্বেদ-পরম্পরার দিকে সংযোগ দেখানো হয়েছে।

24 verses

Adhyaya 286

अध्यायः २८६ — गजचिकित्सा (Elephant Medicine)

এই অধ্যায়ে পূর্ব অধ্যায় থেকে বিধিবৎ সংক্রমণ করে গজ-চিকিৎসাকে আয়ুর্বেদের বিশেষ শাখা বলা হয়েছে, যা রাজশালা ও যুদ্ধজয়ের জন্য অপরিহার্য। পালকাপ্য ঋষি লোমপাদকে সেবাযোগ্য শুভ গজলক্ষণ জানান—নখের সংখ্যা, মদকাল/মস্তের ঋতুসংযোগ, দাঁতের অসমতা, কণ্ঠস্বরের গুণ, কানের প্রস্থ, ত্বকের ছোপ; বামন বা বিকৃত গজ বর্জনীয়। এরপর গজপালনকে রাজধর্ম ও সামরিক বিজয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে—শৃঙ্খলাবদ্ধ যুদ্ধহস্তী ও সুশাসিত শিবিরনিয়মেই জয় নির্ভর। চিকিৎসাক্রমে আছে: বাতাসবিহীন স্নেহোপযোগী স্থান প্রস্তুতি; বাহ্যকর্ম—কাঁধের চিকিৎসা, মালিশ; অন্তঃঔষধ—ঘৃত/তৈলযোগ, ক্বাথ, দুধ, মাংসরস; এবং নির্দিষ্ট রোগে ব্যবস্থা—পাণ্ডুসম বর্ণহানি, আনাহ, মূর্ছা, শিরঃশূল (নস্যসহ), পাদরোগ, কম্প, অতিসার, কর্ণশোথ, কণ্ঠাবরোধ, মূত্ররোধ, চর্মরোগ, কৃমি, ক্ষয়সম রোগ, শূল, বিদ্রধি (ছেদন থেকে স্নেহন-বস্তি পর্যন্ত)। শেষে আহার-বিহার—ধান্যের ক্রম, বলবর্ধক খাদ্য, ঋতুভেদে জলছিটানো—এবং যুদ্ধ-আচার—জয়ার্থ ধূপন, নেত্রপ্রক্ষালন/অঞ্জন, মন্ত্রযুক্ত নেত্রবল—দিয়ে অগ্নিপুরাণের চিকিৎসা-যুদ্ধবিদ্যা-ধর্মীয় কার্যকারিতার সংমিশ্রণ প্রকাশ পায়।

33 verses

Adhyaya 287

अश्ववाहनसारः (Aśvavāhana-sāra) — Essentials of Horses as Mounts (and Horse-Treatment)

এই অধ্যায়ে ধন্বন্তরি অশ্বকে সমৃদ্ধি ও রক্ষার ধর্মিক উপায় বলেছেন; অশ্ব সংগ্রহ ও পালন ধর্ম‑কাম‑অর্থ সাধন করে। শুরুতে অশ্বিনী, শ্রবণ, হস্ত এবং তিন উত্তরার নক্ষত্র, ও হেমন্ত‑শিশির‑বসন্ত ঋতুকে অশ্বকার্য আরম্ভ ও প্রয়োগের জন্য শুভ বলা হয়েছে। পরে নিষ্ঠুরতা বর্জন, বিপজ্জনক পথ এড়ানো, ধীরে ধীরে প্রশিক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রিত লাগাম‑চালনার নির্দেশ আছে। মধ্যভাগে যুদ্ধ‑অশ্বারোহণ কৌশলের সঙ্গে রক্ষাবিধান—দেহে দেবতা‑স্থাপন (ন্যাসসদৃশ) এবং অশুভ হ্রেষা ও ‘সাদী’ নামক দোষ নিবারণে মন্ত্রপ্রয়োগ—বর্ণিত। পরবর্তী অংশে আসন, লাগাম‑সমন্বয়, বাঁক, সংযমের পদ্ধতি ও নামযুক্ত কৌশল, সঙ্গে ক্লান্তি ও পোকা‑কামড়ে লেপ এবং কিছু জাতের জন্য যবাগু খাওয়ানোর প্রাথমিক চিকিৎসা আছে। শেষে ভদ্র, মন্দ, মৃগজঙ্ঘ, সংকীর্ণ প্রকার, শুভ‑অশুভ লক্ষণ এবং শালিহোত্র পরম্পরায় অশ্বলক্ষণ শেখানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

66 verses

Adhyaya 288

Chapter 288 — अश्वचिकित्सा (Aśva-cikitsā) | Horse-Medicine (Śālihotra to Suśruta)

এই অধ্যায়ে শালিহোত্র সুश्रুতকে আয়ুর্বেদের পরিসরে অশ্ববিদ্যা শেখান। প্রথমে অশ্ব-লক্ষণ—দেহচিহ্ন, বর্ণভেদ ও কেশ-আবর্ত (ঘূর্ণি) স্থানের দ্বারা শুভ-অশুভ ঘোড়া নির্ণয়, এবং গ্রহ/রাক্ষসী প্রভাবের সতর্কতা। পরে চিকিৎসা—শূল, অতিসার, ক্লান্তি, কোষ্ঠরোগে শিরাব্যধ, কাশি, জ্বর, শোথ, গলগ্রহ, জিহ্বাস্তম্ভ, চুলকানি, আঘাতজনিত ক্ষত, ও মূত্র-জনন রোগ (রক্তমেহ প্রভৃতি) জন্য ক্বাথ, লেপ/কল্ক, ঔষধতেল, নস্য, বস্তি, জোঁকচিকিৎসা, সেচ/ছিটানো ও আহারনিয়ম। শেষে ঋতুচর্যা—প্রতিপান, ঋতু অনুযায়ী ঘৃত-তেল-যামক ব্যবহার, স্নেহনের পর বর্জন, জলপান-স্নানের সময়, اصطবল ব্যবস্থাপনা ও খাদ্যবিধি—ধর্মসম্মত মঙ্গলফলের সঙ্গে পশুকল্যাণ যুক্ত করা হয়েছে।

55 verses

Adhyaya 289

Aśvāyurveda (Medical Science of Horses)

এই অধ্যায়টি অগ্নিপুরাণের বিশ্বকোষীয় পাঠক্রমে পশুচিকিৎসার বিশেষ শাখা ‘অশ্বায়ুর্বেদ’-এ প্রবেশের শিরোনাম-সেতু হিসেবে কাজ করে। আগ্নেয় বিদ্যার কাঠামোতে ঘোড়ার পরিচর্যা কেবল ব্যবহারিক নয়; জীবিকা, চলাচল এবং রাজকীয়/সামুদায়িক স্থিতি রক্ষার মাধ্যমে ধর্মধারণে সহায়ক বৈধ বিজ্ঞান হিসেবে গণ্য। অধ্যায়ের অবস্থান জানায় যে পুরাণের চিকিৎসাজ্ঞান মানবচিকিৎসায় সীমাবদ্ধ নয়, প্রজাতিভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত—যা পরবর্তী বিধান ও শান্তিকর্মমূলক পদ্ধতির ভূমিকা প্রস্তুত করে। এখানে প্রযুক্ত নির্দেশও পবিত্র জ্ঞানরূপে উপস্থাপিত, যেখানে সঠিক আচরণ, সঠিক সময় ও সঠিক অভিপ্রায় দেহকল্যাণকে বিশ্ব-শৃঙ্খলার সঙ্গে সুর মিলিয়ে দেয়।

8 verses

Adhyaya 290

Chapter 290 — गजशान्तिः (Gaja-śānti: Elephant-Pacification Rite)

এই অধ্যায়ে অশ্ব-শান্তির পর শালিহোত্রপ্রণীত গজ-শান্তি-বিধি বর্ণিত—আয়ুর্বেদভিত্তিক পশুচিকিৎসা ও রাজরক্ষামূলক ক্রিয়া, হাতির রোগ প্রশমন ও অমঙ্গল নিবারণের জন্য। পঞ্চমীর শুভক্ষণে বিষ্ণু-শ্রী, প্রধান দেবতা, দিকপাল, নিয়ামক শক্তি ও নাগবংশের আহ্বান করা হয়। পদ্ম-মণ্ডলে দেবতা, অস্ত্র, দিকদেবতা ও তত্ত্বের নির্দিষ্ট স্থাপন; বাহ্যবৃত্তে ঋষি, সূত্রকার, নদী ও পর্বত স্থাপিত—চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিশ্বতত্ত্বের সংযোগ। চতুর্ধারা-কলস, ধ্বজ-তোরণ, ঔষধি ও ঘৃতাহুতি (প্রতি দেবতায় শতাধিক) নির্দেশিত; বিসর্জন ও দক্ষিণায় বিশেষ পশুবৈদ্যদের পারিশ্রমিকও আছে। মন্ত্রজপে হাতিনী আরোহন, রাজাভিষেক-ক্রম এবং ‘শ্রীগজ’কে রক্ষাবচনে হাতিকে যুদ্ধ, যাত্রা ও গৃহে রাজার ধর্মরক্ষক স্থাপন করা হয়। শেষে গজকর্মকর্তা-পরিচারকদের সম্মান ও শুভ জনসংকেতরূপে ডিণ্ডিম-নাদ উল্লেখিত।

24 verses

Adhyaya 291

Chapter 291 — Śāntyāyurveda (Ayurveda for Pacificatory Rites): Go-śānti, Penance-Regimens, and Therapeutics (incl. Veterinary Care)

এই অধ্যায়ে গজ-শান্তির পর গোকেন্দ্রিক শান্ত্যায়ুর্বেদের কথা বলা হয়েছে; রাজধর্ম হিসেবে গোরক্ষা ও গোমঙ্গলকে লোকসমর্থনকারী মহৎ কর্তব্য রূপে দেখানো হয়েছে। ধন্বন্তরি গোর পবিত্রতা এবং পঞ্চগব্য (গোমূত্র, গোবর, দুধ, দই, ঘি, কুশোদক) শুদ্ধিকারক—দুর্ভাগ্য, দুঃস্বপ্ন ও অপবিত্রতা নাশক—বলে নির্দেশ দেন। এরপর একরাত্রি উপবাস, মহাসান্তপন, তপ্তকৃচ্ছ্র/শীতকৃচ্ছ্র প্রভৃতি কৃচ্ছ্র-প্রায়শ্চিত্ত ও গোব্রত (গোচর্যার অনুগামী দৈনন্দিন আচরণ) বর্ণিত, এবং গোলোকাভিমুখ পুণ্যতত্ত্ব স্থাপিত। গোর হবি, অগ্নিহোত্রের ভিত্তি ও জীবের আশ্রয়রূপে স্তব করা হয়েছে। পরে চিকিৎসা অংশে শিংয়ের রোগ, কানের ব্যথা, দাঁতের যন্ত্রণা, গলার অবরোধ, বাতরোগ, অতিসার, কাস-শ্বাস, ভাঙা হাড়, কফরোগ, রক্তদোষ, বাছুর-পোষণ, এবং গ্রহ/বিষনিবারক ধূপনের বিধান আছে। শেষে হরি-রুদ্র-সূর্য-শ্রী-অগ্নির কালানুসার শান্তিপূজা, গোদান ও গোমোচন, এবং অশ্ব-গজের বিশেষ পশুচিকিৎসা-আয়ুর্বেদের পরম্পরা উল্লেখিত।

44 verses

Adhyaya 292

Mantra-paribhāṣā (Technical Definitions and Operational Rules of Mantras)

অগ্নি মন্ত্রশাস্ত্রকে দ্বিফলদায়ী—ভুক্তি ও মুক্তি প্রদানকারী—বলে ব্যাখ্যা করে প্রথমে গঠনভেদ দেখান: বীজ-মন্ত্র ও দীর্ঘ মালা-মন্ত্র, এবং অক্ষরসংখ্যা অনুযায়ী সিদ্ধির সীমা। পরে ব্যাকরণগত লিঙ্গভেদ ও শক্তিভেদ (আগ্নেয়/তীব্র, সৌম্য/শান্ত) অনুসারে মন্ত্র শ্রেণিবদ্ধ করে ‘নমঃ’ ও ‘ফট্’ ইত্যাদি অন্ত্যপ্রয়োগে শান্তিকর্ম বা উচ্ছাটন/বন্ধন প্রভৃতি (নির্দিষ্ট বিধিনিষেধসহ) ক্রিয়ায় মন্ত্রবল কীভাবে রূপান্তরিত হয় তা বলেন। এরপর সাধনাপক্ষে জাগ্রত অবস্থা, শুভ ধ্বনি-আরম্ভ, লিপি-ব্যবস্থা ও নক্ষত্রক্রম-সংক্রান্ত লক্ষণ/বিন্যাস উল্লেখিত। জপ, পূজা, হোম, অভিষেক এবং যথাযথ দীক্ষা ও গুরুপরম্পরায় প্রাপ্তির সঙ্গে গুরু-শিষ্যের নৈতিক যোগ্যতায় মন্ত্রসিদ্ধি হয়—এ কথা জোর দিয়ে বলা হয়েছে। শেষে জপসংখ্যার অনুপাত, হোমের অংশ, উচ্চারণরীতি (উচ্চ থেকে মানসিক), দিক-স্থান নির্বাচন, তিথি/বার-দেবতা এবং লিপি-ন্যাস, অঙ্গ-ন্যাস, মাতৃকা-ন্যাসের বিধান দিয়ে বাগীশী/লিপিদেবীকে সর্বমন্ত্রসিদ্ধিদায়িনী শক্তি বলা হয়েছে।

51 verses

Adhyaya 293

Mantra-paribhāṣā (मन्त्रपरिभाषा) — Colophon/Closure

এই অংশটি ‘মন্ত্রপরিভাষা’ শীর্ষক পূর্ববর্তী শিক্ষামূলক পর্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি, যেখানে অগ্নেয় প্রথায় মন্ত্র-সংক্রান্ত পরিভাষা ও সংজ্ঞার প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা শেষ হয়। অগ্নিপুরাণের বিশ্বকোষীয় ধারায় এমন কলফন কেবল লিপিকারি নয়; এগুলি মন্ত্রশাস্ত্র (পবিত্র বাক্যের তত্ত্ব ও শুদ্ধ প্রয়োগ) থেকে সেই প্রয়োগক্ষেত্রে রূপান্তর নির্দেশ করে, যেখানে মন্ত্র, সময়নির্ণয় ও নির্ণয়বিদ্যা দেহগত সংকট-ব্যবস্থাপনা—আয়ুর্বেদ ও বিষচিকিৎসা—এর সঙ্গে মিলিত হয়। ফলে শুদ্ধ ভাষা/অনুষ্ঠান-পদ্ধতি ও রক্ষা-চিকিৎসায় তার বাস্তব প্রয়োগের ধারাবাহিকতা রক্ষিত থাকে; অগ্নেয় বৈশিষ্ট্যে শব্দ (মন্ত্র) জাগতিক আপদে ধর্মের উপকরণ হয়।

41 verses

Adhyaya 294

Daṣṭa-cikitsā (Treatment for Bites) — Mantra-Dhyāna-Auṣadha Protocols for Viṣa

ভগবান অগ্নি দষ্ট-চিকিৎসার বিশেষ আয়ুর্বেদ-অধ্যায় শুরু করেন এবং চিকিৎসাকে ত্রিবিধ বলেন—মন্ত্র, ধ্যান ও ঔষধ। প্রথমে “ওঁ নমো ভগবতে নীলকণ্ঠায়” জপকে বিষশমন ও প্রাণরক্ষাকারী বলা হয়েছে। পরে বিষকে দুই ভাগে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়—জঙ্গম (সাপ, কীট প্রভৃতি প্রাণিজ) ও স্থাবর (উদ্ভিদ/খনিজজাত)। এরপর বিয়তি/তার্ক্ষ্য (গরুড়) মন্ত্রকেন্দ্রিক তন্ত্রবিধান—স্বর-ধ্বনি-ভেদ, কবচ ও অস্ত্র-মন্ত্র, যন্ত্র-মণ্ডল ধ্যান (মাতৃকা-পদ্ম), এবং আঙুল ও সন্ধিস্থলে বিস্তৃত ন্যাস—বর্ণিত। পঞ্চমহাভূতের রং, আকার ও অধিষ্ঠাত্রী দেবতাসহ ‘বিনিময়/প্রতিলোম’ যুক্তিতে বিষকে স্থম্ভিত, স্থানান্তরিত ও বিনাশের পদ্ধতি দেখানো হয়েছে। শেষে গরুড় ও রুদ্র/নীলকণ্ঠ মন্ত্র, কর্ণজপ, রক্ষাবন্ধন (উপানহাব) এবং রুদ্রবিধান পূজার মাধ্যমে প্রতিষেধ-চর্চাকে চিকিৎসা ও ধর্মীয় ক্রিয়া—উভয় রূপে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

29 verses

Adhyaya 295

Pañcāṅga-Rudra-vidhāna (The Fivefold Rudra Rite)

পূর্ববর্তী দংশন‑ডঙ্কন চিকিৎসার প্রসঙ্গের পর ভগবান অগ্নি সর্বফলপ্রদ, বিশেষত বিষ ও রোগ থেকে রক্ষাকারী পঞ্চাঙ্গ‑রুদ্রবিধান বর্ণনা করেন। রুদ্রের ‘পাঁচ অঙ্গ’—হৃদয়/স্তোত্র, শিব‑সংকল্প, শিব‑মন্ত্র, সূক্ত ও পৌরুষ—নির্ধারণ করে ন্যাসসহ ক্রমান্বয়ে জপ‑পদ্ধতি স্থাপন করা হয়। মন্ত্রাংশে ঋষি, ছন্দ (ত্রিষ্টুভ, অনুষ্টুপ, গায়ত্রী, জগতী, পংক্তি, বৃহতী) ও দেবতা‑বিন্যাস, লিঙ্গানুসারে দেবতা‑গ্রহণ এবং অনুবাকভেদে এক‑রুদ্র/রুদ্র/রুদ্রসমূহের শ্রেণিবিভাগ বলা হয়েছে। শেষে ত্রৈলোক্য‑মোহনাদি প্রয়োগ শত্রু‑বিষ‑রোগ‑নিগ্রহে, এবং বিষ্ণু‑নরসিংহের ১২ ও ৮ অক্ষর মন্ত্রকে বিষ‑ব্যাধি‑নাশক বলা হয়েছে। কুব্জিকা, ত্রিপুরা, গৌরী, চন্দ্রিকা, বিষহারিণী ও ‘প্রসাদ‑মন্ত্র’ আয়ু ও আরোগ্যবর্ধক হিসেবে মন্ত্রভিত্তিক প্রতিরোধ‑চিকিৎসারূপে উপস্থাপিত।

19 verses

Adhyaya 296

Chapter 296 — Viṣa-cikitsā: Mantras and Antidotes for Poison, Stings, and Snake-bite

এই আয়ুর্বেদ-ভিত্তিক অধ্যায়ে ভগবান অগ্নি বসিষ্ঠকে সংক্ষিপ্ত বিষচিকিৎসা-বিধি জানান—মন্ত্রপ্রয়োগের সঙ্গে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা ও ভেষজ-সংযোজন। শুরুতে কৃত্রিম/প্রদত্ত বিষ, নানা বিষ ও দংশনজনিত বিষের জন্য বিষনাশক মন্ত্র আছে; ছড়িয়ে পড়া বিষকে ‘মেঘের মতো অন্ধকার’ টেনে বের করা এবং মন্ত্রশেষে ধারণ/নিগ্রহ করার ভাব বলা হয়েছে। পরে বীজমন্ত্র, বৈষ্ণব চিহ্ন ও শ্রীকৃষ্ণ-আহ্বানসহ ‘সর্বার্থসাধক’ মন্ত্র। এরপর প্রেতগণাধিপতি রুদ্রকে উদ্দেশ করে ‘পাতালক্ষোভ’ মন্ত্র—হুলফোঁটা, সাপের কামড় ও আকস্মিক স্পর্শজনিত বিষে দ্রুত শমনের জন্য। তারপর কামড়ের দাগ ছেদন/দাহ এবং শিরীষ, অর্কক্ষীর, ঝাল মসলা প্রভৃতি দিয়ে প্রতিষেধক যোগ—পান, লেপ, অঞ্জন ও নস্য প্রভৃতি নানা পথে—বর্ণিত।

8 verses

Adhyaya 297

Vishahṛn Mantrauṣadham (Poison-Removing Mantra and Medicinal Remedy) — Colophon and Transition

এই অধ্যায়টি একটি আনুষ্ঠানিক কলফনে সমাপ্ত, যেখানে বিষয়কে মন্ত্র ও ঔষধের সংযুক্ত বিষহরণ-তন্ত্র বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। অগ্নি–বসিষ্ঠ সংলাপে প্রকাশিত এই প্রযুক্ত জ্ঞানকে শাস্ত্রপ্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে পাঠককে পরবর্তী, আরও বিশদ চিকিৎসা-অধ্যায়ের দিকে নিয়ে যায়। এই সংক্রমণ বিশ্বকোষীয় বিন্যাসে এক ‘হিঞ্জ’—সাধারণ প্রতিষেধ নীতির পর প্রাণী-নির্দিষ্ট বিধান, বিশেষত সাপের বিষদংশ চিকিৎসার দিকে অগ্রসর হওয়ার সংকেত। ফ্রেমিং দেখায়, আগ্নেয় বিদ্যায় মন্ত্রের কর্তৃত্ব, শুদ্ধ প্রক্রিয়া ও প্রয়োগিক ঔষধবিদ্যা—সবই ধর্মনির্দেশিত স্বাস্থ্যসেবার একটানা ধারাবাহিকতা।

21 verses

Adhyaya 298

Bala-graha-hara Bāla-tantram (बालग्रहहर बालतन्त्रम्) — Pediatric protection and graha-affliction management

ভগবান অগ্নি বালতন্ত্র আরম্ভ করেন, যেখানে জন্মের পর থেকেই শিশুকে কষ্ট দেয় বলে বিশ্বাসিত ‘বাল-গ্রহ’দের কথা আছে। অধ্যায়ে ধাপে ধাপে বলা হয়েছে—(১) লক্ষণচিহ্ন: অঙ্গের অস্থিরতা, অরুচি, ঘাড় মোচড়ানো, অস্বাভাবিক কান্না, শ্বাসকষ্ট, বর্ণবিকার, দুর্গন্ধ, খিঁচুনি/কাঁপুনি, বমি, ভয়, প্রলাপ, রক্তমিশ্রিত মূত্র; (২) তিথি/দিন-গণনা ও মাসিক-বার্ষিক পর্যায় দেখে নির্দিষ্ট গ্রহ বা কালচিহ্ন নির্ণয়; (৩) চিকিৎসা ও রক্ষা: লেপ, ধূপন, স্নান, দীপ-ধূপ, দিক/স্থানভিত্তিক ক্রিয়া (যেমন যমদিশায় করঞ্জ গাছের নীচে), এবং মাছ-মাংস-মদ্য, ডাল, তিলপ্রস্তুতি, মিষ্টান্ন ইত্যাদি দ্বারা বলি, কিছু শ্রেণির জন্য ‘নিরন্ন’ অপবিত্র বলি। শেষে বলিদানের সময় সর্বকামিক রক্ষার জন্য চামুণ্ডা-মন্ত্র প্রদান করা হয়েছে, যাতে আয়ুর্বেদ ও আচার-প্রতিষেধ মিলিয়ে শিশুর স্বাস্থ্য ও গৃহশান্তি ধর্মমতে প্রতিষ্ঠিত হয়।

51 verses

Adhyaya 299

Chapter 299 — ग्रहहृन्मन्त्रादिकम् (Grahahṛn-Mantras and Allied Procedures)

অগ্নিদেব শিশু-রক্ষার গ্রহ-নিবারণ ক্রিয়া থেকে অগ্রসর হয়ে গ্রহপীড়ার জন্য এক বিস্তৃত চিকিৎসা-আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা দেন—কারণ, দুর্বল স্থান, নির্ণয়-লক্ষণ ও সমন্বিত প্রতিকার। তিনি বলেন, আবেগের অতিশয়তা ও বিরুদ্ধ আহার থেকে মানসিক বিকার ও রোগ জন্মায়; উন্মাদ-সদৃশ অবস্থা দোষজ (বাত-পিত্ত-কফ), সন্নিপাতজ এবং দেব/গুরু-অসন্তোষজনিত আগন্তুক রূপে বিভক্ত। নদী, সঙ্গম, শূন্য গৃহ, ভাঙা দোরগোড়া, একাকী বৃক্ষ ইত্যাদিকে গ্রহের আবাস বলে দেখিয়ে সামাজিক-যজ্ঞীয় অপরাধ ও অশুভ আচরণকে ঝুঁকি-বর্ধক বলা হয়েছে। অস্থিরতা, দাহ, শিরঃশূল, বাধ্য ভিক্ষাবৃত্তি, বিষয়লালসা ইত্যাদি লক্ষণ নির্ণায়ক। চিকিৎসায় চণ্ডী-সম্পর্কিত গ্রহহৃৎ মন্ত্র (মহাসুদর্শন প্রভৃতি) এবং সূর্যমণ্ডলে ধ্যান, প্রাতে অর্ঘ্য, বীজন্যাস, অস্ত্রশোধন, পীঠ-শক্তি স্থাপন ও দিকরক্ষা বিধান আছে। শেষে ছাগমূত্রে নস্য/অঞ্জন, ঔষধঘৃত ও ক্বাথাদি যোগ জ্বর, শ্বাসকষ্ট, হিক্কা, কাশি ও অপস্মারে প্রয়োগের কথা বলে—মন্ত্রচিকিৎসা ও আয়ুর্বেদের সংযোগ।

33 verses

Adhyaya 300

Chapter 300 — सूर्यार्चनम् (Worship of Sūrya)

ভগবান অগ্নি সূর্যোপাসনাকে সিদ্ধিদায়ক ও গ্রহদোষ-শামক সাধনা হিসেবে শিক্ষা দেন। সর্বার্থসাধক সংক্ষিপ্ত বীজ-পিণ্ড, বীজ-গঠনের নীতি (অঙ্গ-উপাদান, বিন্দু-সম্পূর্ণতা) ব্যাখ্যা করে গণেশের পাঁচ বীজসমষ্টিকে সর্বজনীন পূর্বকর্মরূপে দিক্পূজা, মূর্তি-স্থাপন, মুদ্রা-বন্ধন, লাল রূপ-লক্ষণ, আয়ুধ ও হস্তবিন্যাস এবং চতুর্থী-ব্রতসহ যুক্ত করা হয়েছে। পরে স্নান, অর্ঘ্য প্রভৃতির মাধ্যমে সূর্য-গ্রহ-মণ্ডল বিস্তার করে নয় মন্ত্রে অভিমন্ত্রিত নয় কলশে নবগ্রহ পূজা, চণ্ডার জন্য দীপদান, গোরোচনা, কেশর, লাল সুগন্ধি, অঙ্কুর, শস্য ও জবা-সম্পর্কিত দান নির্দেশিত। ফল—গ্রহশান্তি, সংঘাতে জয়, বংশ/বীজদোষ সংশোধন, মন্ত্রস্থাপিত স্পর্শ ও অভিমন্ত্রিত দ্রব্য (যেমন খাস) দ্বারা প্রভাব-প্রয়োগ। শির থেকে পাদ পর্যন্ত ন্যাস ও নিজেকে রবি রূপে ভাবনা শেষে সাধনা সম্পূর্ণ; রঙভেদে স্তম্ভন/মারণ, পুষ্টি, শত্রুঘাত, মোহন ইত্যাদি উদ্দেশ্যে ধ্যানবিধান দিয়ে সূর্যার্চনাকে ভক্তি ও কার্যসিদ্ধির সেতু বলা হয়েছে।

18 verses