
Yoga & the Knowledge of Brahman
The culminating section on yoga practices, meditation, Brahma-vidya (knowledge of the Absolute), and the path to final liberation.
Explanation of the Final Dissolution (Ātyantika Laya) and the Arising of Hiraṇyagarbha — Subtle Body, Post-Death Transit, Rebirth, and Embodied Constituents
ভগবান অগ্নি বলেন, ‘আত্যন্তিক লয়’ কেবল মহাপ্রলয় নয়; জ্ঞানোদ্ভূত বন্ধন-নির্বাপণ—অন্তঃক্লেশ উপলব্ধি থেকে বৈরাগ্য জন্মে মুক্তি ঘটে। এরপর তিনি জীবের মৃত্যোত্তর গতি বর্ণনা করেন: স্থূল ভোগদেহ ত্যাগ, আত্যবাহিক (যাত্রা) দেহ ধারণ, যমপথে নীত হওয়া, চিত্রগুপ্তের দ্বারা ধর্ম-অধর্ম বিচার, এবং সপিণ্ডীকরণ পর্যন্ত শ্রাদ্ধ/পিণ্ড-অর্ঘ্যের উপর নির্ভরতা, যাতে পিতৃসমাজে অন্তর্ভুক্তি হয়। শুভ-অশুভ ভোগদেহে কর্মফল ভোগ, স্বর্গ থেকে পতন ও নরক থেকে মুক্ত হয়ে নিম্ন যোনিতে জন্ম, মাসে-মাসে গর্ভবিকাশ, গর্ভযন্ত্রণা ও জন্মের আঘাত বর্ণিত। শেষে দেহস্থিত বিশ্বতত্ত্ব: আকাশ-অগ্নি-জল-পৃথিবী থেকে ইন্দ্রিয় ও ধাতু উৎপত্তি, তমস-রজস-সত্ত্ব গুণে মনোভাব ও আচরণ, এবং আয়ুর্বেদের দোষ-রস-ওজ ও ত্বক-কলার বিভাগে প্রাণশক্তির ব্যাখ্যা—যোগ ও ব্রহ্মবিদ্যার সহায়ক জ্ঞানরূপে।
Chapter 369 — शरीरावयवाः (The Limbs/Organs and Constituents of the Body)
ভগবান অগ্নি মানবদেহকে চিকিৎসাবিদ্যা ও আধ্যাত্মিক বিবেচনার জন্য সুসংগঠিত ক্ষেত্ররূপে বর্ণনা করেন। তিনি পাঁচ জ্ঞানেন্দ্রিয়—কর্ণ, ত্বক, চক্ষু, জিহ্বা, নাসিকা—এবং তাদের বিষয়—শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ—এবং পাঁচ কর্মেন্দ্রিয়—গুদ, উপস্থ, হস্ত, পাদ, বাক্—ও তাদের কার্য নির্দিষ্ট করেন। মনকে ইন্দ্রিয়, বিষয় ও পঞ্চমহাভূতের অধিপতি বলা হয়েছে; পরে সাংখ্যধারায় আত্মা, অব্যক্ত প্রকৃতি, চতুর্বিংশতি তত্ত্ব ও পরম পুরুষের কথা আসে—মৎস্য ও জলের ন্যায় সংযুক্ত হলেও পৃথক। আশয়, স্রোত/শিরা, অঙ্গ-উৎপত্তি, দোষ-গুণ সম্পর্ক, গর্ভধারণে প্রজনন-অবস্থা, পদ্মসদৃশ হৃদয়ে জীবের আসন, এবং অস্থি-সন্ধি-স্নায়ু-পেশী-জাল-কূর্চ প্রভৃতির সংখ্যা বর্ণিত। দেহরসের অঞ্জলি-পরিমাপ শেষে দেহকে মল-দোষের সমষ্টি জেনে আত্মায় দেহাভিমান ত্যাগের উপদেশ দেওয়া হয়।
Chapter 370: नरकनिरूपणम् (Naraka-nirūpaṇa) — Description of Hell (with the physiology of dying and the subtle transition)
অগ্নি পূর্বে যমের পথের আলোচনা শেষে মৃত্যুকালীন প্রক্রিয়া ও পরলোকগমনের সূক্ষ্ম গতি ব্যাখ্যা করেন। দেহের উষ্ণতা ও বায়ুর বিকারে দোষ রুদ্ধ হয়, প্রাণস্থান ও মর্ম নিস্তেজ হয়; বায়ু নির্গমনের ছিদ্র খোঁজে। চোখ-কান-নাসিকা-মুখ দিয়ে ঊর্ধ্বগমন শুভকর্মের লক্ষণ, গুহ্য ও গুদ দিয়ে অধোগমন অশুভকর্মের; যোগীর স্বাধীন প্রস্থান মস্তকের ব্রহ্মরন্ধ্র দিয়ে। প্রাণ-অপানের মিলনে চেতনা আচ্ছন্ন হলে নাভিদেশস্থিত জীব অতীবাহিক সূক্ষ্ম দেহ ধারণ করে; দেব-সিদ্ধরা দিব্যদৃষ্টিতে তা দেখে। পরে যমদূত ভয়ংকর যমমার্গে নিয়ে যায়; আত্মীয়দের পিণ্ড-জলাদি তার সহায় হয় এবং শেষে যম ও চিত্রগুপ্তের কাছে কর্মবিচার হয়। বহু নরক, তাদের অধিপতি ও কঠোর দণ্ডের বর্ণনা আছে; মহাপাতকের ফলস্বরূপ পুনর্জন্মগতিও বলা হয়েছে। উপসংহারে ত্রিবিধ দুঃখ (আধ্যাত্মিক, আধিভৌতিক, আধিদৈবিক) দেখিয়ে জ্ঞানযোগ, ব্রত, দান ও বিষ্ণুপূজাকে প্রতিকার বলা হয়েছে।
Chapter 371 — Yama-Niyama and Praṇava-Upāsanā (Oṅkāra) as Brahma-vidyā
অগ্নি যোগকে একচিত্ততা বলে নির্ধারণ করে চিত্তবৃত্তি-নিরোধকে জীব–ব্রহ্ম সম্পর্ক উপলব্ধির সর্বোচ্চ উপায় বলেন। অধ্যায়ে পাঁচ যম—অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, ব্রহ্মচর্য, অপরিগ্রহ—এবং পাঁচ নিয়ম—শৌচ, সন্তোষ, তপ, স্বাধ্যায়, ঈশ্বর-পূজন—কে ব্রহ্মবিদ্যার অপরিহার্য ভিত্তি রূপে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। অহিংসা সর্বোচ্চ ধর্ম; সত্যকে ‘কল্যাণকর বাক্য’ হিসেবে, ‘সত্য ও প্রিয়’ নীতিতে পরিশুদ্ধ করা হয়েছে। ব্রহ্মচর্যকে চিন্তা থেকে কর্ম পর্যন্ত অষ্টবিধ সংযম, আর অপরিগ্রহকে দেহধারণ-মাত্র ন্যূনতম সীমায় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পরে শুদ্ধি ও তপের পর প্রণবকেন্দ্রিক স্বাধ্যায়: ওঁকারকে অ-উ-ম্ ও সূক্ষ্ম অর্ধমাত্রাসহ বিশ্লেষণ করে বেদ, লোক, গুণ, চেতনার অবস্থা ও দেবত্রয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়েছে। হৃদয়-পদ্মে তুরীয় ধ্যান—প্রণব ধনুক, আত্মা তীর, ব্রহ্ম লক্ষ্য—উপদেশিত। শেষে গায়ত্রীছন্দ-অর্পণ, ভুক্তি-মুক্তির জন্য বিনিয়োগ, কবচ/ন্যাস, বিষ্ণুপূজা, হোম ও নিয়মিত জপে ব্রহ্মপ্রকাশের কথা; ঈশ্বরে পরাভক্তি ও গুরুর প্রতি সমশ্রদ্ধা থাকলে অর্থ সম্পূর্ণ উদ্ভাসিত হয়।
Āsana–Prāṇāyāma–Pratyāhāra (Posture, Breath-control, and Withdrawal of the Senses)
এ অধ্যায়ে ভগবান অগ্নি যোগের প্রযুক্তিগত ও মোক্ষদায়ী উপদেশ দেন। সাধক শুচি স্থানে, না অতিউচ্চ না অতিনিম্ন আসনে বস্ত্র‑অজিন‑কুশ বিছিয়ে স্থির বসবে; ধড়‑মস্তক‑গ্রীবা সোজা রেখে নাসাগ্র‑দৃষ্টি স্থাপন করবে। গোড়ালি ও হাতের রক্ষাকারী/স্থিতিকারী বিন্যাসে স্থৈর্য ও একাগ্রতাকে পরম তত্ত্বচিন্তার পূর্বশর্ত বলা হয়েছে। প্রाणায়ামকে প্রাণের নিয়ন্ত্রিত প্রসারণ‑সংযম হিসেবে ব্যাখ্যা করে রেচক‑পূরক‑কুম্ভক ত্রয়ী এবং সময়‑মাত্রায় কন্যক, মধ্যম, উত্তম ভেদ উল্লেখ আছে। ফল—স্বাস্থ্য, বল, স্বর, বর্ণপ্রসাদ, দোষশমন; কিন্তু অদক্ষ প্রाणায়ামে রোগবৃদ্ধির সতর্কতা। জপ‑ধ্যানকে ‘গর্ভ’ (অন্তর্বীজ‑একাগ্রতা) সাধনে অপরিহার্য বলে ইন্দ্রিয়জয়ের তত্ত্ব দেয়—ইন্দ্রিয়ই স্বর্গ‑নরকের কারণ; দেহ রথ, ইন্দ্রিয় অশ্ব, মন সারথি, প্রाणায়াম চাবুক। শেষে প্রত্যাহারকে বিষয়সমুদ্র থেকে ইন্দ্রিয় ফিরিয়ে আনা এবং জ্ঞানবৃক্ষের আশ্রয়ে আত্মোদ্ধারের উপদেশ বলা হয়েছে।
Chapter 373 — ध्यानम् (Dhyāna / Meditation)
ভগবান অগ্নি ধ্যানকে অবিচ্ছিন্ন, অচঞ্চল ও নির্বিঘ্ন মননরূপে ব্যাখ্যা করেন—বারংবার বিষ্ণু/হরিতে মন স্থাপন করে এবং পরম পর্যায়ে ব্রহ্মেই স্থিত হওয়া। ধ্যান একধারা ‘প্রত্যয়’, মাঝখানে অন্য চিন্তা প্রবেশ করে না; চলা, দাঁড়ানো, ঘুম, জাগরণ—সব অবস্থায়, যে-কোনো স্থান-কালে সম্ভব। সাধনার চার অঙ্গ বলা হয়েছে: ধ্যাতা, ধ্যান, ধ্যেয় ও উদ্দেশ্য; যোগাভ্যাসে মুক্তি এবং অণিমা প্রভৃতি অষ্টৈশ্বর্যও লাভ হয়। ‘ধ্যান-যজ্ঞ’কে শুদ্ধ, অহিংস অন্তর্যাগ রূপে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে; বাহ্য আচারকে অতিক্রম করে মন শুদ্ধ করে অপবর্গ দেয়। ক্রমে গুণত্রয়ের বিন্যাস, তিন বর্ণের মণ্ডল, হৃদয়-পদ্মের প্রতীক (পাপড়ি সিদ্ধি; নাল/কর্ণিকা জ্ঞান-বৈরাগ্য), এবং অঙ্গুষ্ঠমাত্র ওঙ্কার বা প্রধানা-পুরুষাতীত দীপ্ত পদ্মাসীন প্রভুর ধ্যান শেখানো হয়েছে। শেষে বৈষ্ণব মূর্তি-চিন্তা, ‘আমি ব্রহ্ম… আমি বাসুদেব’ এই সংকল্প জপসহ; জপ-যজ্ঞকে রক্ষা, সমৃদ্ধি, মুক্তি ও মৃত্যুজয়ের অদ্বিতীয় উপায় বলা হয়েছে।
Chapter 374 — ध्यान (Dhyāna) — Colophon & Transition to Dhāraṇā
এই অংশটি ধ্যান-সম্পর্কিত পূর্ব নির্দেশের উপসংহার এবং স্পষ্টভাবে পরবর্তী, অধিক প্রযুক্তিগত যোগাঙ্গ—ধারণা (একাগ্র স্থিতি)—এর দিকে সেতুবন্ধন করে। অধ্যায়ান্ত কলফনে সাধনার মোক্ষলক্ষ্য—হরি (বিষ্ণু) লাভ এবং নিয়ন্ত্রিত ধ্যানচর্চার ‘ফল’—উল্লেখিত, পাশাপাশি জীবন্ত পরম্পরার সাক্ষ্যস্বরূপ বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি-পাঠের ইঙ্গিতও রক্ষিত। ধ্যানের দ্বারা মনকে দীর্ঘস্থায়ী ধ্যানাভিমুখে প্রশিক্ষিত করে, তারপর ধারণায় নির্বাচিত স্থান ও তত্ত্বে সূক্ষ্ম স্থির নিবদ্ধতা আনা হয়—এই ক্রমবদ্ধ যোগশিক্ষা অগ্নি পুরাণে প্রতিফলিত। অগ্নি কর্তৃক বশিষ্ঠের কল্যাণার্থে প্রদত্ত দিব্য উপদেশে, অন্তর্যোগ-পদ্ধতিকে শাস্ত্রীয় বিজ্ঞানের ন্যায় সংজ্ঞা, সীমা ও অগ্রগতির ধাপে বিন্যস্ত করে সাধকের চিত্তপ্রসাদ ও মুক্তির পথ নির্দেশ করা হয়েছে।
Adhyāya 375 — समाधिः (Samādhi)
ভগবান অগ্নি সমাধিকে এমন ধ্যান বলেন যেখানে কেবল আত্মাই দীপ্ত—অচল সমুদ্র ও নির্বাত প্রদীপের মতো—ইন্দ্রিয়ক্রিয়া ও মানসিক বিকল্প থেমে যায়। যোগী বাহ্য বিষয়ে জড়ের মতো প্রতীয়মান, ঈশ্বরে লীন হয়, এবং কিছু অমঙ্গল/শকুনসদৃশ লক্ষণ ও প্রলোভন আসে—দিব্য ভোগ, রাজদান, স্বতঃশিক্ষা, কাব্যপ্রতিভা, ঔষধ, রসায়ন, নানা কলা—যা বিষ্ণুকৃপা লাভের জন্য খড়কুটোর মতো ত্যাজ্য। পরে ব্রহ্মবিদ্যায় বলা হয়: শুদ্ধি আত্মজ্ঞান লাভের পূর্বশর্ত; এক আত্মা ঘটাকাশ বা জলে সূর্যপ্রতিবিম্বের মতো বহু রূপে দেখা দেয়; বুদ্ধি-অহংকার, তন্মাত্রা, ভূত ও গুণের দ্বারা সৃষ্টিক্রম; কর্ম ও কামনা বন্ধন, জ্ঞান মুক্তি। অর্চিরাদি ‘উজ্জ্বল পথ’ বনাম ধূমাদি প্রত্যাবর্তন-পথের কথাও আছে। শেষে সত্য, ন্যায়ার্জিত ধন, অতিথিসেবা, শ্রাদ্ধ ও তত্ত্বজ্ঞান দ্বারা ধর্মপরায়ণ গৃহস্থেরও মুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
Chapter 376 — ब्रह्मज्ञानम् (Knowledge of Brahman)
ভগবান অগ্নি ব্রহ্মজ্ঞান উপদেশ শুরু করেন—সংসারজাত অজ্ঞানের প্রত্যক্ষ প্রতিকার হলো মুক্তিদায়ক প্রত্যভিজ্ঞান: ‘অয়ম্ আত্মা পরং ব্রহ্ম—অহম্ অস্মি’। বিবেক দ্বারা দেহকে দৃশ্যবস্তু হওয়ায় অনাত্মা বলে বর্জন করা হয়; ইন্দ্রিয়, মন ও প্রাণও উপকরণ, সাক্ষী নয়। আত্মা সকল হৃদয়ে অন্তর্জ্যোতি—অন্ধকারে প্রদীপের ন্যায় দীপ্ত, দ্রষ্টা ও ভোক্তা। এরপর সমাধি-প্রবেশ ধ্যান—ব্রহ্ম থেকে তত্ত্বসমূহের উদ্ভব-ক্রম অনুসরণ করে, লয়ের দ্বারা স্থূলকে ব্রহ্মে বিলয়; বিরাট (স্থূল সমষ্টি), লিঙ্গ/হিরণ্যগর্ভ (সপ্তদশ উপাদানযুক্ত সূক্ষ্ম দেহ), এবং জাগ্রৎ-স্বপ্ন-সুষুপ্তি ও তাদের বিশ্ব-তৈজস-প্রাজ্ঞ সম্বন্ধ ব্যাখ্যাত। তত্ত্ব অনির্বচনীয়, ‘নেতি নেতি’ দ্বারা উপলব্ধ; কর্মে নয়, উপলব্ধিজ্ঞানেই প্রাপ্ত। শেষে মহাবাক্যধর্মী ঘোষণা—অজ্ঞানের ঊর্ধ্বে সাক্ষীচৈতন্য; ফল—ব্রহ্মজ্ঞানি মুক্ত হয়ে ব্রহ্মই হন।
Brahma-jñāna (Knowledge of Brahman)
এই যোগ–ব্রহ্মবিদ্যা অংশে অগ্নিদেব সংক্ষিপ্ত অদ্বৈত ঘোষণা করেন—“আমি ব্রহ্ম, পরম জ্যোতি।” তিনি অপবাদ-পদ্ধতিতে সব উপাধির নিষেধ করেন: স্থূল তত্ত্ব (পৃথিবী, অগ্নি, বায়ু, আকাশ) থেকে শুরু করে বিরাট, জাগ্রত-স্বপ্ন-সুষুপ্তি, তাইজস-প্রাজ্ঞ প্রভৃতি পরিচয়; কর্মেন্দ্রিয়-জ্ঞানেরেন্দ্রিয়, অন্তঃকরণ (মন, বুদ্ধি, চিত্ত, অহংকার) এবং প্রাণ ও তার বিভাগসমূহও অস্বীকার করেন। মান-মেয়, কারণ-কার্য, সৎ-অসৎ, ভেদ-অভেদ, এমনকি ‘সাক্ষিত্ব’ ধারণাও অতিক্রম করে ব্রহ্মকে তুরীয়—তিন অবস্থার অতীত—রূপে স্থাপন করা হয়। শেষে ব্রহ্মের নিত্য শুদ্ধতা, চৈতন্য, স্বাধীনতা, সত্য, আনন্দ ও অদ্বৈত স্বরূপ ঘোষণা করে বলা হয়, এই জ্ঞানই পরম সমাধির দ্বারা প্রত্যক্ষ মোক্ষদায়ক।
Chapter 378: Brahma-jñāna (Knowledge of Brahman)
ভগবান অগ্নি সাধনার ক্রমবিন্যাস বলেন—যজ্ঞে দিব্য ও লৌকিক পদলাভ, তপস্যায় ব্রহ্মার স্থান, বৈরাগ্যসহ সন্ন্যাসে প্রকৃতি-লয়, আর জ্ঞানে কৈবল্য। জ্ঞান মানে চেতন-অচেতন বিবেক; পরমাত্মা সর্বাধার, বিষ্ণু ও যজ্ঞেশ্বররূপে স্তূত—প্রবৃত্তিমার্গী যাজকরা পূজা করে, নিবৃত্তিমার্গী জ্ঞানযোগীরা প্রত্যক্ষ উপলব্ধি করে। শাব্দ-ব্রহ্ম বেদ/আগমভিত্তিক, পর-ব্রহ্ম বিবেকসিদ্ধ; ‘ভগবান’ শব্দের ব্যুৎপত্তি ও ছয় ভগ—ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান, বৈরাগ্য—ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বন্ধনের মূল অবিদ্যা—আত্মায় অনাত্মার অধ্যাস; জল-অগ্নি-ঘট দৃষ্টান্তে আত্মাকে প্রকৃতির অধর্ম থেকে পৃথক দেখানো হয়। সাধনায় বিষয় থেকে মন ফিরিয়ে হরিকে ব্রহ্মরূপে স্মরণ, এবং যম-নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, সমাধির দ্বারা ব্রহ্মে মনসংযোগ স্থির করতে বলা হয়েছে। প্রথমে সাকার ধ্যান, শেষে অভেদবোধ; ভেদদর্শন অজ্ঞানজনিত।
Adhyāya 379 — अद्वैतब्रह्मविज्ञानम् (Advaita-brahma-vijñāna)
অগ্নি অদ্বৈত-ব্রহ্মবিজ্ঞান বিষয়ে সংক্ষিপ্ত কিন্তু নিবিড় উপদেশ দেন—শালগ্রামে তপস্যা ও বাসুদেব-উপাসনার মাধ্যমে সাধকের ভূমিকা, তারপর আসক্তি কীভাবে পুনর্জন্ম গড়ে তোলে (হরিণ-আসক্তির দৃষ্টান্ত), এবং যোগে স্বস্বভাব পুনরুদ্ধার। পরে এক সামাজিক ঘটনার মধ্যে অবধূতসদৃশ জ্ঞানীকে পালকি বহনে বাধ্য করা হলে তিনি রাজাকে কর্তৃত্ব-অহংকার ভেঙে বোঝান: ‘বাহক’, ‘বাহ্য’, ‘পালকি’—এসব দেহাঙ্গ, ভূততত্ত্ব ও লোকব্যবহারের নামমাত্র; ‘আমি-তুমি’ ভাষার আরোপ, যা অবিদ্যাজনিত কর্মসঞ্চয়ে চালিত গুণপ্রবাহে বসানো, অথচ আত্মা শুদ্ধ, নির্গুণ ও প্রকৃতির অতীত। এরপর নিদাঘ–ঋতু সংলাপে ক্ষুধা-তৃপ্তির দ্বারা দেহসীমা দেখিয়ে আত্মাকে আকাশের মতো সর্বব্যাপী, না গমন-না আগমন বলে। শেষে অখণ্ড বিশ্বকে বাসুদেবের স্বরূপ রূপে স্থাপন করে জ্ঞানজ মোক্ষকে সংসার-অবিদ্যা-বৃক্ষচ্ছেদী ‘শত্রু’ বলা হয়েছে।
अध्याय ३८० — गीतासारः (The Essence of the Gītā)
এই অধ্যায়ে পূর্ববর্তী অদ্বৈত-ব্রহ্মবিজ্ঞানের পর অগ্নি ‘গীতাসার’ রূপে কৃষ্ণের অর্জুন-উপদেশের সংক্ষিপ্ত সার তুলে ধরেন, যা ভুক্তি ও মুক্তি—উভয়ই প্রদানকারী। অজাত আত্মতত্ত্বে শোকনাশ, এবং বন্ধনের মানসিক ক্রম—ইন্দ্রিয়-সংস্পর্শ থেকে আসক্তি, তারপর কাম, ক্রোধ, মোহ ও সর্বনাশ—বর্ণিত হয়ে সৎসঙ্গ ও কামত্যাগকে স্থিতপ্রজ্ঞার মূল উপায় বলা হয়েছে। ব্রহ্মে কর্ম অর্পণ করে আসক্তি ত্যাগসহ কর্মযোগ, এবং সর্বভূতে আত্মদর্শন প্রতিষ্ঠিত। ভক্তি ও প্রভু-শরণাগতিতে মায়া অতিক্রম, অধ্যাত্ম/অধিভূত/অধিদৈবত/অধিযজ্ঞের সংজ্ঞা, এবং মৃত্যুকালে ওঁ-স্মরণে পরমগতি-তত্ত্বও আছে। ক্ষেত্র-ক্ষেত্রজ্ঞ, জ্ঞানের সাধন (অমানিত্ব, অহিংসা, শৌচ, বৈরাগ্য ইত্যাদি), ব্রহ্মের সর্বব্যাপিতা, এবং গুণভেদে জ্ঞান-কর্ম-কর্তা-তপ-দান-আহারের শ্রেণিবিভাগ উপস্থাপিত। শেষে স্বধর্মকে বিষ্ণু-আরাধনা রূপে পবিত্র করে নীতি, যোগ ও তত্ত্বের সমন্বয় দেখানো হয়েছে।
Chapter 381 — यमगीता (Yama-gītā)
অগ্নি যমগীতার পরিচয় দেন—এটি নচিকেতাকে পূর্বে প্রদত্ত মোক্ষোপদেশ; পাঠ ও শ্রবণে ভুক্তি ও মুক্তি—উভয় ফলের প্রতিশ্রুতি। যম মানুষের মোহ প্রকাশ করেন: অনিত্য জীব স্থায়ী সম্পদ ও ভোগ কামনা করে। এরপর শ্রেয়সের কর্তৃত্বপূর্ণ “গীত”গুলি সংকলিত—কপিলের ইন্দ্রিয়সংযম ও আত্মচিন্তা, পঞ্চশিখের সমদৃষ্টি ও অপরিগ্রহ, গঙ্গা–বিষ্ণুর আশ্রম-বিবেক, এবং জনকের দুঃখনিবারণের উপায়। উপদেশ স্পষ্ট বেদান্তমুখী: অভেদ পরমে ভেদের কল্পনা প্রশমিত করতে হবে; কামত্যাগে প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ হয় (সনক)। বিষ্ণুকেই ব্রহ্ম বলা হয়েছে—পরাত্পর ও অন্তর্যামী, বহু দিব্য নামে জ্ঞেয়। ধ্যান, ব্রত, পূজা, ধর্মশ্রবণ, দান ও তীর্থসেবা সাধন। নচিকেতার রথ-দৃষ্টান্তে মন-বুদ্ধির দ্বারা ইন্দ্রিয়জয় ও পুরুষ পর্যন্ত তত্ত্বক্রম। শেষে যোগাঙ্গ—যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান, সমাধি—বর্ণিত; অজ্ঞাননাশে জীব ব্রহ্মরূপ, অদ্বৈত হয়।
Āgneya-Purāṇa-māhātmya (The Greatness and Self-Testimony of the Agni Purāṇa)
অধ্যায়টি পূর্ববর্তী “যম-গীতা” সমাপ্ত করে সঙ্গে সঙ্গে অগ্নি-পুরাণকে ব্রহ্মরূপ ও মহান বলে স্থাপন করে; এতে সপ্রপঞ্চ (জাগতিক) ও নিষ্প্রপঞ্চ (পরমার্থ) — উভয় বিদ্যার উপদেশ আছে। অগ্নি পুরাণের বিশ্বকোষসদৃশ বিষয়বস্তু গণনা করেন—বেদ ও বেদাঙ্গ, ধর্মশাস্ত্র, ন্যায়–মীমাংসা, আয়ুর্বেদ, রাজধর্ম-নীতি, ধনুর্বেদ, নাট্য-গীতাদি কলা—এবং অপরাবিদ্যা (শাস্ত্রসমূহ) ও পরাবিদ্যা (পরম অক্ষরের উপলব্ধি)র ভেদ স্পষ্ট করেন। পরে বিষ্ণুভক্তিকেই কার্যকর সার বলা হয়—গোবিন্দ/কেশবের ধ্যান, ভক্তি, কথা ও কর্ম পাপহর, কলিদোষ-শমক এবং সত্য ধ্যানের লক্ষণ। মাহাত্ম্য অংশে শ্রবণ, পাঠ, লেখা, পূজা, দান এবং গৃহে গ্রন্থ রাখারও রক্ষা ও পবিত্রতার ফল, ঋতু/মাসভেদে পুণ্য, এবং পুরাণপাঠকদের বিধিবৎ সম্মান বর্ণিত। অগ্নি→বশিষ্ঠ→ব্যাস→সূত পরম্পরায় বেদসম্মততা, প্রবৃত্তি-নিবৃত্তি ধর্মের সমন্বয় ও ভুক্তি-মুক্তির প্রতিশ্রুতি পুনরুচ্চারিত হয়; উপনিষদীয় সিদ্ধান্ত—“সর্বং ব্রহ্ম”—এতে সমাপ্তি।