
The Science of Prosody
A systematic treatise on Vedic and classical Sanskrit meters (chhandas), their rules, variations, and application in poetry.
Chandaḥ-sāra (Essence of Prosody) — Gāyatrī as the Root Metre and Syllabic Expansions
ছন্দ-অধিকারে ভগবান অগ্নি গায়ত্রীকে বৈদিক ছন্দের মূল আধাররূপে নিরূপণ করেন। গায়ত্রীকে এক-অক্ষর বীজরূপে, পনেরো-অক্ষর মন্ত্ররূপে এবং আট-অক্ষর প্রাজাপত্য-সংযুক্ত রূপে গ্রহণ করা যায়। বৈদিক প্রয়োগভেদে এর অক্ষরমাত্রা ভিন্ন—যজুঃ সূত্রে ৬, সামগানে ১২, ঋগ্বেদের ঋচায় ১৮; সাম-ছন্দ দুই করে বৃদ্ধি পায়। আরও বিধান—ঋক্-মাত্রায় ‘চতুর্থ’ বৃদ্ধি অনুমোদিত, প্রাজাপত্য চার-চার করে বিস্তার লাভ করে, অন্যান্য ছন্দ এক-এক করে বাড়ে, আর আতুর্যা ছন্দে ক্রমান্বয়ে লোপের বিশেষ নিয়ম আছে। উষ্ণিক্, অনুষ্টুপ্, বৃহতী, পঙ্ক্তি, ত্রিষ্টুপ্, জগতী—এই ক্রমকে গায়ত্রীর ধারাবাহিক প্রসারণ ও ব্রাহ্মণস্বভাব বলে পবিত্র করা হয়েছে। শেষে ‘তিন ও তিন’ করে মানক গুচ্ছ, একককে ‘আর্যা’ নাম, ঋগ ও যজুঃ-সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সংজ্ঞা এবং ৬৪-পদ জালে লিখন-পদ্ধতি নির্দেশিত।
Chandaḥ-sāra (छन्दःसारः) — Essence of Metres (Prosody), Chapter 329
ভগবান অগ্নি ছন্দঃসারে ‘পাদ’কে ছন্দের মৌল একক বলে নির্ধারণ করে আপদ-পূরণ (অক্ষর/মাত্রা পূর্তি) কীভাবে পবিত্র শ্রেণিবিভাগে নিয়ন্ত্রিত হয় তা বোঝান। ছন্দভেদে অক্ষর-সংযোজনের দেবতা-সম্বন্ধও দেন—গায়ত্রীতে বসুগণ, জগতীতে আদিত্যগণ, বিরাজে দিকদেবতা। এরপর এক-পাদ থেকে চার-পাদ পর্যন্ত ছন্দ, ত্রিপাদের ব্যতিক্রম, এবং পরিবর্তনশীল অক্ষরসংখ্যা (সপ্তাক্ষরী পাদসহ) ব্যাখ্যা করেন। নিবৃত, নাগী, বারাহী; উষ্ণিক, পরোষ্ণিক, অনুষ্টুপ; মহাবৃহতী; পঙ্ক্তি-প্রকার ভাণ্ডিল ইত্যাদি নামিত ছন্দ ও উপছন্দের পরিচয়, এবং বৃহতীর অগ্র/মধ্য/ঊর্ধ্ব বিন্যাস ও দিক-সম্পর্কিত ‘নবকা’ সংযোজনও আছে। অগ্নি ছন্দকে দেবতা, ষড়্জাদি স্বর, বর্ণ ও গোত্র-সংজ্ঞার সঙ্গে যুক্ত করে ছন্দশাস্ত্রকে ধর্মসম্মত বিজ্ঞানরূপে স্থাপন করেন। শেষে হ্রাস/অধিক অক্ষর (অবরাট/অধিক) নির্ণয় ও পাদ-দেবতা-ক্রম পাঠে সংশয়নিরসনের বিধি দেন।
Chapter 330 — Chandaḥ-sāra (Essence of Prosody): Chandojāti-nirūpaṇam (Determination of Metrical Jātis)
এই অধ্যায়ে ভগবান অগ্নি ছন্দঃশাস্ত্রকে সুসংবদ্ধভাবে বিন্যস্ত করেন। মাত্রা-গণনা, অক্ষর-লোপের বিধি এবং গণ-প্যাটার্নের যুক্তি দ্বারা ছন্দোজাতি (মাত্রিক শ্রেণি) নির্ধারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। শুরুতে উৎকৃতি ও তার উৎপন্ন রূপগুলির শ্রেণিবিভাগ এবং বিভিন্ন পরম্পরায় প্রচলিত সমার্থক নাম (যেমন অত্যষ্টি = অষ্টি) স্পষ্ট করা হয়। অগ্নি লৌকিক ও আর্ষ দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য দেখিয়ে বৈদিক পরিমাপ-নীতির সঙ্গে শাস্ত্রীয় প্রয়োগকে যুক্ত করেন; পরে পাদ-গঠন ও গণকে ছন্দের সর্বব্যাপী ভিত্তি-ইট হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর আর্যা-পরিবারের মাত্রাভিত্তিক লক্ষণ, বিজোড়/জোড় পাদের বিধিনিষেধ, বিপুলা-চপলা-মহাচপলা প্রভৃতি ভেদ এবং গীতি/উপগীতি/উদ্গীতি ইত্যাদি গায়ন-সম্পর্কিত পরিভাষা আলোচিত। তারপর বৈতালীয়, দশবিধ গোপুচ্ছন্দ পরিকল্পনা, প্রাচ্যবৃত্তি-উদীচ্যবৃত্তি প্রক্রিয়া এবং চারুহাসিনী, চান্তিকা, চিত্রা, উপচিত্রা ইত্যাদি নামিত বিন্যাস বর্ণিত। শেষে ‘গু’ প্রভৃতি সংকেত দিয়ে স্মরণ ও কোডিং-নীতির মাধ্যমে ছন্দরূপ সংরক্ষণ ও গণনার ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে।
Adhyaya 331 — विषमकथनम् (Statement on Irregular Metres)
ভগবান অগ্নি ছন্দঃশাস্ত্রের ধারায় সমবৃত্ত প্রভৃতি শ্রেণি থেকে এগিয়ে অনিয়মিততার নির্ণয় ব্যাখ্যা করেন। তিনি বৃত্তকে তিন ভাগে—সম, অর্ধসম ও বিষম—নির্দেশ করে বলেন, সম ও অসম অর্ধের মিল-অমিলে অর্ধসম রচনা গঠিত হয়। মাত্রা/বিস্তারে বিচ্যুতি তিনি ঘাটতি (বিষম), অতিরিক্ততা (অতিবৃত্ত) ও সামঞ্জস্য (সামান্য) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে ‘গ্লৌক’ পরিমাপ ও ‘বিতানক’ বিন্যাসের মতো মানদণ্ড স্থাপন করেন। পাদ-স্তরে আদ্য ‘বক্র’/বৈচিত্র্য এবং চতুর্থ অক্ষর থেকে ‘পথ্যা’ প্রয়োগের নিয়মও দেন। পরে কপলা, যুজস্বন, বিপুলা ও তার উপপ্রকার, চক্রজাতি, আপীড়-প্রত্যাপীড়, মঞ্জরী-লবণী, অমৃতধারা, সৌরভ প্রভৃতি গণক্রমভিত্তিক নামিত রূপগুলি গণনা করেন। শেষে পরবর্তী অধ্যায়ে ব্যাখ্যাতব্য আরও ছন্দের ইঙ্গিত দিয়ে পুরাণের শাস্ত্রবিদ্যাকে সুশৃঙ্খল ধর্মজ্ঞানরূপে স্থাপন করেন।
Definition of Ardha-sama (Half-equal) Metres (अर्धसमनिरूपणम्)
ভগবান অগ্নি বশিষ্ঠকে ছন্দঃশাস্ত্রে বিষম ছন্দ থেকে অগ্রসর করে অর্ধসম (হাফ-ইকুয়াল) ছন্দের শ্রেণিবিভাগ শেখান। অধ্যায়ের শুরুতে এই শ্রেণির ছন্দ—উপচিত্রক, সসমানা, ভোজভাগা, দ্রুতমধ্যা, ভাগাগথা, উননা ও জয়া—উল্লেখ করে, সেগুলি চেনা ও নির্মাণের জন্য গণ-ক্রম এবং নামিত লয়/ছন্দ-রীতির নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে আখ্যানিকা ছন্দ-রূপ ও তাদের বিপরীত (উল্টো) রূপ পৃথক করে রাজসা, গোগথা, দ্রোণ, কেতুমতী, জগাগথা, ততজগাগথা প্রভৃতি উদাহরণ তালিকাভুক্ত করা হয়; ধরণিবল্লভা, অপরাক্রম, পুষ্পিতা ইত্যাদি অতিরিক্ত নামরূপও আসে। শেষে সমবৃত্ত নির্মাণকে নির্দিষ্ট গণ-ক্রম ও মাত্রা-গণনা (নাগ একক) সহ দেখিয়ে তার বিপরীত ‘খঞ্জা’ও বলা হয়; ফলে ছন্দবিদ্যা শুদ্ধ বাক্ ও ধর্মীয় সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত এক নির্ভুল, পুনর্নির্মেয় শাস্ত্র হিসেবে প্রতিপন্ন হয়।
Samavṛtta-nirūpaṇa — Definition of Samavṛtta (Equal-syllabled Metres)
ভগবান অগ্নি অর্ধসম ছন্দ থেকে অগ্রসর হয়ে সমবৃত্ত (সমাক্ষর) ছন্দের নিরূপণ করেন। যতি, বিচ্ছেদ এবং মধ্য ও অন্তস্থ গণের পরিচয়ে সমাক্ষর গঠন কীভাবে চিহ্নিত হয় তা বলা হয়েছে। অধ্যায়টি এক প্রযুক্তিগত তালিকার মতো বহু বৃত্তের নাম, তাদের গণ-ক্রম, স্মৃতিসহায়ক গোষ্ঠীবিন্যাস এবং কোথাও কোথাও শ্রেণিবিভাগ/স্থাননির্দেশ (উচ্চতর গোষ্ঠী, উপজাতি-প্রকার) উল্লেখ করে। পিঙ্গল-পরম্পরার প্রাচীন শিক্ষার ইঙ্গিত দিয়ে গাথা-প্রস্তার এবং বিন্যাস-পরিবর্তন/সারণি-যুক্তির কথাও আসে। সার্বিকভাবে অগ্নি ছন্দশাস্ত্রকে ধ্বনি-রূপের শৃঙ্খলাবদ্ধ বিদ্যা রূপে স্থাপন করেন—গণ-প্যাটার্ন আয়ত্তে কাব্য ও যাগ-উচ্চারণের নির্ভুলতা রক্ষা হয়, ধর্মীয় সংক্রমণ অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সাহিত্যিক প্রকাশ আরও পরিশীলিত হয়।
Prastāra-nirūpaṇa — Explanation of Prastāra (Tabulation/Matrix of Metres)
এই অধ্যায়ে ভগবান অগ্নি গাথাকে মানদণ্ড করে ‘প্রস্তার’কে ছন্দের সম্ভাব্য সকল বিন্যাস গণনার নিয়মবদ্ধ পদ্ধতি হিসেবে স্থির করেন। ক্রম উৎপাদন ও তুলনার সঙ্গে নষ্ট (সূচক থেকে ছন্দ-রূপের উল্টো নির্ণয়) এবং উদ্দেশ্ট (সামনে এগিয়ে ধারাবাহিক গণনা) প্রক্রিয়া, জোড়/বিজোড় বিধি, অর্ধীকরণ ধাপ ও গণনা-সংশোধন ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পরে মেরু-প্রস্তার (পাস্কাল সদৃশ বিন্যাস) এর সঙ্গে যোগ করে ‘ছন্দের সার’ বলা হয়—সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে এক কমে, এবং অধ্বা/অঙ্গুল উপমায় আরোহ-অবরোহ ক্রমে ফল নির্ণীত হয়। ছন্দ-সংযোজনবিদ্যাকে পবিত্র শৃঙ্খলা হিসেবে দেখিয়ে পাঠশুদ্ধি ও অনুমোদিত সকল রূপের পদ্ধতিগত জ্ঞান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
अध्यायः ३३५ — शिक्षानिरूपणम् (Explanation of Śikṣā / Phonetics)
পূর্বের প্রস্তার-আলোচনার পর ছন্দকেন্দ্রিক পাঠক্রমে ভগবান অগ্নি মন্ত্র, ছন্দ ও প্রামাণ্য পরম্পরার ধ্বনিভিত্তি ‘শিক্ষা’ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বর্ণসংখ্যা, স্বর-ব্যঞ্জনভেদ এবং অনুস্বর, বিসর্গ, অযোগবাহ প্রভৃতি সহধ্বনি উল্লেখ করেন। মন, অন্তরাগ্নি ও প্রাণবায়ুর সঙ্গে বাক্-উৎপত্তির যোগ দেখিয়ে বলেন—কীভাবে শব্দ জন্মে অর্থবহ উচ্চারণ হয়। উদাত্ত/অনুদাত্ত/স্বরিত, হ্রস্ব/দীর্ঘ/প্লুত, স্থান ও প্রয়াস অনুসারে বর্ণবিভাগ করে বক্ষ, কণ্ঠ, শির, জিহ্বামূল, দন্ত, নাসিকা, ওষ্ঠ, তালু ইত্যাদি উচ্চারণস্থান গণনা করেন। ভুল উচ্চারণকে আধ্যাত্মিক ক্ষতিকর ও যজ্ঞ-কর্মে নিষ্ফল, আর শুদ্ধ স্বর-লয় ও স্পষ্ট উচ্চারণকে মঙ্গলদায়ক ও উন্নতিকর বলেন। শেষে অস্পৃষ্ট, ঈষৎস্পৃষ্ট, স্পৃষ্ট প্রভৃতি শিক্ষাশ্রেণি দ্বারা ধ্বনিশাস্ত্রকে ধর্মরক্ষাকারী প্রযুক্তি রূপে প্রতিষ্ঠা করেন।