
Tantra & Sacred Formulae
The science of mantras, tantric rituals, yantra construction, and esoteric practices for spiritual attainment and protection.
Chapter 301 — सूर्यार्चनं (Sūryārcana) / Sun-worship (closing colophon only)
এই অংশে পূর্ববর্তী বিভাগের সমাপ্তি-কলফন সংরক্ষিত আছে, যেখানে অধ্যায় ৩০১-এর নাম ‘সূর্যার্চন’ (সূর্য-উপাসনা) বলা হয়েছে। আগ্নেয় ধারায় সূর্যপূজা ঋত/ধর্ম ও যজ্ঞ-ক্রিয়ার সিদ্ধির মধ্যে সেতু; সূর্যকে কাল-নিয়ন্তা, প্রাণশক্তি ও প্রজ্ঞা-আলোকদাতা রূপে আহ্বান করা হয়। এই রূপান্তর সাধককে পরবর্তী অধ্যায়ের অধিক প্রযুক্তিমূলক মন্ত্র-প্রয়োগ, হোম প্রভৃতির জন্য শুদ্ধি, অধিকার ও শক্তি-সমন্বয় দেয়; পুরাণ বোঝায়, ভক্তি তন্ত্রকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং তার ভিত্তি।
Worship by Limb-Syllables (Aṅgākṣara-arcana)
অগ্নিদেব তন্ত্রমুখী নির্দেশে প্রথমে শুভকাল নির্ণয় করেন—চন্দ্র জন্মনক্ষত্রে, সূর্য সপ্তম রাশিতে, পূষণ/পুষ্য-সময়, এবং অগ্রসর হওয়ার আগে গ্রহণের ‘গ্রাস’ (পরিমাণ/অবস্থা) পরীক্ষা। পরে দেহগত অশুভ লক্ষণকে আয়ুক্ষয়ের পূর্বলক্ষণ বলে জানিয়ে মন্ত্রের দ্বারা রক্ষা ও ভক্তিমূলক প্রয়োগ বিধান করেন। ক্রুদ্ধোল্কা, মহোল্কা, বীরোল্কা প্রভৃতি উগ্র শক্তির জন্য শিখা-মন্ত্র, এবং বৈষ্ণব অষ্টাক্ষরী মন্ত্রকে আঙুলের সন্ধিস্থলে ক্রমান্বয়ে ন্যাস করার নিয়ম বলা হয়েছে। সাধক হৃদয়, মুখ, চোখ, মস্তক, পা, তালু, গুহ্য ও হাতে বর্ণ-বীজ স্থাপন করে একই ন্যাস দেবতার উপরও আরোপ করে আত্মা ও ইষ্টদেবতার ঐক্য স্থাপন করে। এরপর মণ্ডল/পদ্মস্থাপনে ধর্ম-শ্রেণি ও গুণ-শক্তি-সমূহকে পদ্মের বিভিন্ন অঞ্চলে, সূর্য-চন্দ্র-দাহিনী ত্রিবৃত্ত পর্যন্ত স্থাপন করা হয়। শেষে যোগপীঠে হরিকে আহ্বান করে মূলমন্ত্রে পঞ্চোপচার পূজা, দিক্রূপ (বাসুদেবাদি), দিক্দিক্ অস্ত্র-চিহ্ন বিন্যাস, এবং গরুড়, বিশ্বক্সেন, সোমেশ ও ইন্দ্র-পরিবারসহ আবরণ পূজার দ্বারা সম্পূর্ণ বিধিতে সর্বসিদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
Chapter 303: Mantras for Worship Beginning with the Five-syllable (Pañcākṣara) — पञ्चाक्षरादिपूजामन्त्राः
অগ্নি পঞ্চাক্ষর মন্ত্রকে আশ্রয় করে শৈব তান্ত্রিক পূজা‑দীক্ষার বিধান শেখান; এখানে মন্ত্রই বিশ্বতত্ত্ব ও সাধনাপদ্ধতি। প্রথমে শিবকে পরব্রহ্মের জ্ঞানস্বভাব, হৃদয়স্থিত বলা হয় এবং মন্ত্রাক্ষরগুলির সঙ্গে পঞ্চভূত, প্রাণবায়ু, ইন্দ্রিয় ও দেহক্ষেত্রের সম্পর্ক, শেষে অষ্টাক্ষর‑পর্যবসান উল্লেখ করা হয়। পরে দীক্ষাস্থল‑শুদ্ধি, চরু প্রস্তুতি ও ত্রিবিভাগ, নিদ্রা‑নিয়ম ও প্রাতঃ‑নিবেদন, পুনঃপুন মণ্ডল‑পূজা, মৃল্লেপ, অঘমর্ষণসহ তীর্থস্নান, প্রণায়াম, আত্মশুদ্ধি ও ন্যাসের ক্রম আসে। ধ্যানে অক্ষরগুলি রঙিন অঙ্গরূপ হয়; শক্তিগুলি পদ্মদল ও কর্ণিকায় প্রতিষ্ঠিত; শিব স্ফটিকশ্বেত, চতুর্ভুজ, পঞ্চবক্ত্র রূপে পঞ্চব্রহ্ম (তৎপুরুষাদি) দিকন্যাসসহ আহ্বানিত। এরপর দীক্ষাক্রম—অধিবাস, গব্যপঞ্চক, নেত্রবন্ধ, প্রবেশ, তত্ত্বসংহার করে পরমে লয় ও সৃষ্টিমার্গে পুনঃসৃষ্টি, প্রদক্ষিণা, পুষ্পপাত দ্বারা নাম/আসন নির্ণয়, শিবাগ্নি উৎপত্তি, নির্দিষ্ট মন্ত্রে হোমসংখ্যা, পূর্ণাহুতি ও অস্ত্রাহুতি, প্রায়শ্চিত্ত, কুম্ভপূজা, অভিষেক, সময়ব্রত ও গুরু‑সম্মান; এবং এই পদ্ধতি বিষ্ণু প্রভৃতি দেবতার ক্ষেত্রেও সমান বলা হয়েছে।
Mantras for Worship Beginning with the Five-Syllabled (Mantra) — Concluding Colophon (Chapter 304 end)
এই অংশটি মূলত সমাপ্তি-কলফনে প্রতিফলিত, যেখানে পঞ্চাক্ষরী (পাঁচ অক্ষরের) সূত্র থেকে শুরু হওয়া পূজা-মন্ত্রসমূহ বিষয়ক মন্ত্রশাস্ত্র বিভাগের সমাপ্তি ঘোষিত। অগ্নি–বশিষ্ঠ শিক্ষাধারায় এ ধরনের অধ্যায়গুলি আচার-প্রযুক্তির মতো—পূজায় মন্ত্রের প্রয়োগ, জপের ক্রম, এবং নির্ভুল শব্দরূপ কীভাবে ধর্মের উপকরণ হয় তা বিধিবদ্ধ করে। অন্তর্গত শ্লোকগুলি এখানে না থাকলেও কাঠামোগত ভূমিকা স্পষ্ট—এই অধ্যায় সাধারণ মন্ত্র-পূজা-প্রোটোকল থেকে পরবর্তী অধ্যায়ের বিশেষ নাম-লিতুর্জির দিকে সেতু, যেখানে দেবনামকে ক্ষেত্র/তীর্থের পবিত্র ভূগোলের সঙ্গে মানচিত্রিত করা হয়। ফলে বর্ণনাপ্রবাহ মন্ত্রকে সর্বজনীন উপাসনা-উপকরণ থেকে স্থান-সংবেদনশীল সাধনায় রূপান্তর করে, তীর্থযাত্রা, অর্ঘ্য/অর্পণ ও স্মরণকে পরস্পর শক্তিশালী করে পুণ্য ও অন্তঃশুদ্ধির দিকে পরিচালিত করে।
Chapter 305 — Narasiṃha and Related Mantras (नारसिंहादिमन्त्राः)
অগ্নিদেব পূর্বের বৈষ্ণব নাম-লিতানি থেকে অগ্রসর হয়ে মন্ত্রশাস্ত্র (তন্ত্র)‑ভিত্তিক বলপ্রয়োগ ও রক্ষামূলক অধ্যায়ে প্রবেশ করেন। তিনি প্রথমে শত্রু/ক্ষুদ্র কর্ম—স্তম্ভন, বিদ্বেষণ, উচ্চাটন, উৎসাদন, ভ্রম, মারণ ও ব্যাধি—শ্রেণিবদ্ধ করে এগুলির ‘মোক্ষ’ অর্থাৎ প্রশমন/মুক্তির কথাও বলেন, যাতে প্রয়োগের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণের ভাব থাকে। পরে শ্মশানে রাত্রিকালীন জপে ভ্রমসৃষ্টি, প্রতিমা‑বিধান/ভেদন দ্বারা মারণ, এবং চূর্ণ‑ক্ষেপে উৎসাদনের প্রক্রিয়া বর্ণিত। এরপর সুদর্শন‑চক্রকেন্দ্রিক রক্ষা‑প্রযুক্তি—ন্যাস, অস্ত্রধারী দেবতার ধ্যান, চক্র‑যন্ত্রে বর্ণবিন্যাস, কুম্ভস্থাপন ও নির্দিষ্ট দ্রব্যে ১০০৮ আহুতি সহ হোম—উপস্থাপিত। শেষে ‘ওঁ ক্ষৌঁ…’ নরসিংহ মন্ত্র রাক্ষসসদৃশ উপদ্রব, জ্বর, গ্রহবাধা, বিষ ও রোগ নাশকারী অগ্নিময় প্রতিরোধশক্তি হিসেবে নরসিংহকে প্রতিষ্ঠা করে।
Chapter 306 — त्रैलोक्यमोहनमन्त्राः (Mantras for Enchanting the Three Worlds)
ভগবান অগ্নি ত্রৈলোক্য-মোহন মন্ত্রের পরিচয় দেন, যা চার পুরুষার্থে সিদ্ধি প্রদানকারী বলা হয়েছে। এরপর তান্ত্রিক কর্মপ্রবাহ—পূর্বপূজা, নির্দিষ্ট জপ-সংখ্যা, অভিষেক, নির্ধারিত দ্রব্য ও গণনা অনুযায়ী হোম, ব্রাহ্মণভোজন এবং আচার্য-সম্মান। তারপর দেহশুদ্ধি ও অন্তর্গত সাধনা—পদ্মাসন, দেহশোষণ/সংযম, সুদর্শন-দিগ্বন্ধন ন্যাস, বীজধ্যানে অশুচি অপসারণ, সুষুম্না পথে অমৃতধারা-ভাবনা, প্রণায়াম ও দেহে শক্তিন্যাস। বিষ্ণু (কাম/স্মর-ভাবসহ), লক্ষ্মী, গরুড় ও অস্ত্রসমূহের প্রতিষ্ঠা এবং পৃথক অস্ত্রমন্ত্রে অস্ত্রপূজা বর্ণিত। শেষে “ওঁ শ্রীং ক্রীং হ্রীং হুঁ…” প্রধান মন্ত্র, তর্পণবিধি, দীর্ঘায়ুর জন্য উচ্চতর জপ-হোম লক্ষ্য এবং রাজ্য ও দীর্ঘজীবনের উদ্দেশ্যে বরাহ-সূত্রের পরিশিষ্ট—মন্ত্রশাস্ত্রকে অন্তঃশুদ্ধি ও ফলসাধন উভয় রূপে স্থাপন করে।
Trailokya-mohinī Śrī-Lakṣmī-ādi-pūjā and Durgā-yoga (Protective and Siddhi Rites)
ভগবান অগ্নি বসিষ্ঠকে ত্রৈলোক্য-মোহিনী শ্রী (লক্ষ্মী) কেন্দ্রিক সমৃদ্ধি-সাধনা ও দুর্গা-যোগের রক্ষা ও জয়-প্রয়োগ একত্রে শেখান। শুরুতে লক্ষ্মী-মন্ত্রমালা ও নয় অঙ্গ-মন্ত্রের ন্যাস, পদ্মবীজের জপমালা দিয়ে এক থেকে তিন লক্ষ জপের বিধান আছে। পরে শ্রী/বিষ্ণু মন্দিরে ধনদায়িনী পূজা, খদির অগ্নিতে ঘৃত-মাখা চালের হোম, বিল্ব-ভিত্তিক আহুতি, এবং গ্রহশান্তি ও রাজানুগ্রহ/বশ্যতা লাভে সর্ষে-জল অভিষেক প্রভৃতি প্রতিকার বলা হয়েছে। এরপর শক্রের চার-দ্বার প্রাসাদের ধ্যান, দ্বাররক্ষী শ্রী-দূতী, অষ্টদল পদ্মে চার ব্যূহ (বাসুদেব, সঙ্কর্ষণ, প্রদ্যুম্ন, অনিরুদ্ধ) বিন্যাস, শেষে পদ্মকর্ণিকায় লক্ষ্মীর ধ্যান। আহার ও তিথি-নিয়ম, বিল্ব-ঘি-পদ্ম-পায়স ইত্যাদি নিবেদনও আছে। তারপর দুর্গার ‘হৃদয়’ মন্ত্র সাঙ্গ, পত্রাধার পূজা, অস্ত্র-দেবতার অর্ঘ্য, এবং বশ্যকরণ, জয়, শান্তি, কাম, পুষ্টির জন্য হোম-বিকল্প; শেষে যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয় আহ্বান।
Chapter 308 — Worship of Tvaritā (त्वरितापूजा)
পূর্ব অধ্যায়ে ত্রৈলোক্য-মোহিনী লক্ষ্মী ও সংশ্লিষ্ট পূজা সমাপ্ত করে অগ্নিদেব তৎক্ষণাৎ ত্বরিতা-উপাসনা প্রবর্তন করেন। ভুক্তি ও মুক্তি—উভয়ের জন্য প্রেরক আজ্ঞাসূত্রসহ মন্ত্রাঙ্গ ও বিধান তিনি প্রদান করেন। এরপর শির থেকে পদ পর্যন্ত অঙ্গন্যাস ও মন্ত্রন্যাস, এবং শেষে সর্বব্যাপী (ব্যাপক) ন্যাস সম্পন্ন হয়। ধ্যানে ত্বরিতাকে কিরাত/শবরী-ভাবসম্পন্ন, ত্রিনেত্রা, শ্যামবর্ণা, বনমালাভূষিতা, ময়ূরপুচ্ছ-চিহ্নধারিণী, সিংহাসনাসীনা, বর ও অভয়দাত্রী রূপে কল্পনা করা হয়। পরে অষ্টবিধ পীঠ/পদ্মপূজায় পত্রে পত্রে অঙ্গগায়ত্রী স্থাপন, সম্মুখে ও দ্বারস্তম্ভে শক্তিদের উপচার, এবং বাহিরে রক্ষক-পরিবারের বিধান আছে। শেষে যোনিরূপ কুণ্ডে নির্দিষ্ট দ্রব্যে হোমের ভেদে সমৃদ্ধি, রক্ষা, লোকপ্রিয়তা, সন্তানলাভ এমনকি শত্রুকর্ম পর্যন্ত সিদ্ধি বলা হয়েছে; অধিক জপ, মণ্ডলপূজা ও দীক্ষাসংযুক্ত দান, পঞ্চগব্য ও চরু-বিধিও নির্দেশিত।
Tvaritā-pūjā (The Worship of Tvaritā) — Transition Verse and Context
এই অধ্যায়টি সমাপ্তি ও সংক্রমণ-শ্লোকরূপে তান্ত্রিক পরিসর স্থাপন করে। অগ্নি ঋষি বশিষ্ঠকে সম্বোধন করে পূর্ববিষয় থেকে অগ্রসর হয়ে ত্বরিতা-দেবীর উপাসনার প্রসঙ্গ আনেন। এখানে পূজা কেবল ভক্তি নয়, প্রকাশিত বিজ্ঞানসদৃশ মন্ত্রশাস্ত্র—যথাযথ ক্রিয়াবিধি, প্রস্তুত ‘পুর/দুর্গ’ সদৃশ সুরক্ষিত স্থান এবং রজো-লিখিত (রেখাঙ্কিত) প্রতিরূপের প্রয়োজন নির্দেশিত। অগ্নিপুরাণের বিশ্বকোষীয় শিক্ষাধারায় বলা হয়, আসন্ন বিদ্যা ভুক্তি (লৌকিক কার্যসিদ্ধি) ও মুক্তি (মোক্ষাভিমুখতা) উভয়ই প্রদান করে। অধ্যায়টি দ্বারপ্রান্তের মতো—সাধনার নাম, ফল, এবং দেবীর বজ্রাকুলা-রূপকে পরবর্তী মন্ত্র-আচার পরিচয়ের কেন্দ্র করে।
Tvaritā-mūla-mantra and Related Details (Dīkṣā, Maṇḍala, Nyāsa, Japa, Homa, Siddhi, Mokṣa)
ভগবান অগ্নি ত্বরিতা-কেন্দ্রিক তন্ত্র-অনুষ্ঠানের ক্রম বর্ণনা করেন—সিংহ–বজ্রকুল পদ্ম-যন্ত্রে ন্যাস দ্বারা প্রস্তুতি, তারপর মণ্ডল নির্মাণ: নয় ভাগে বিভাজন, দিকভাগে গ্রহণীয়/অগ্রহণীয় কোষ্ঠ নির্ণয়, বাহ্য রেখাসমূহ, বজ্র-বক্রতা এবং কেন্দ্রে দীপ্ত পদ্ম। পরে স্থাপন ও পূজা: বীজাক্ষর দক্ষিণাবর্ত ক্রমে স্থাপন, বিদ্যাঙ্গ পত্র ও কেন্দ্রে বিন্যাস, দিগস্ত্র-রক্ষা এবং বাহ্য গর্ভ-মণ্ডলে লোকপাল-ন্যাস। জপসংখ্যা, অঙ্গ-অনুপাত ও হোম-ক্রম নির্দিষ্ট; পূর্ণাহুতি দীক্ষার মুদ্রা, তাতে শিষ্য দীক্ষিত হয়। ভুক্তির জন্য জয়, সার্বভৌমত্ব, ধনভাণ্ডার, সিদ্ধি প্রভৃতি ফল বলা হয়েছে; পাশাপাশি মোক্ষপথ—কর্মবন্ধনহীন হোম, সদাশিব-স্থিতি এবং ‘জল জলে লয়’ উপমায় অনাবর্তন-মুক্তি। শেষে অভিষেক, কুমারী-পূজা, দক্ষিণা এবং দূতী-মন্ত্রে দ্বার, একাকী বৃক্ষ, শ্মশান প্রভৃতি রাত্রি/সীমান্ত-ক্রিয়া সর্বার্থসিদ্ধির জন্য নির্দেশিত।
The Root-Mantra of Tvaritā (Tvaritā-mūla-mantra)
এই অধ্যায়টি ত্বরিতার মূল-মন্ত্রোপদেশের উপসংহার ও সংক্রমণ-কলফন; এখান থেকেই ত্বরিতা-বিদ্যার আরও প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যায় প্রবেশের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। আগ্নেয় ধারায় মূল-মন্ত্রকে বীজ-প্রামাণ্য হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে, যার থেকে পরবর্তী প্রয়োগ-অনুষ্ঠান এবং যন্ত্র/চক্র-বিন্যাস প্রসারিত হয়। বিস্তারিত পদ্ধতির ঠিক আগে এই সমাপ্তি পুরাণীয় শিক্ষার বৈশিষ্ট্য দেখায়—প্রথমে মন্ত্রকে প্রকাশিত কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা, পরে নিয়ত ক্রম, ন্যাস এবং যন্ত্র-চক্র নির্মাণের মাধ্যমে কার্যকর শাখায় বিস্তার। অধ্যায়টি পরম্পরা-প্রামাণ্য ও পাঠ-সাতত্য দৃঢ় করে, যাতে সাধক-বিদ্বান পরের অধ্যায়কে বিচ্ছিন্ন মন্ত্র নয়, শাস্ত্রানুশাসনের অধীন ধর্ম-কাম-অর্থফলদায়ী সুসংবদ্ধ তান্ত্রিক প্রযুক্তি হিসেবে গ্রহণ করেন।
Chapter 312 — Various Mantras (नानामन्त्राः)
এই অধ্যায়ে ভগবান অগ্নি বিনায়ক (গণেশ) পূজা দিয়ে সংক্ষিপ্ত মন্ত্রশাস্ত্র-ক্রম শেখান—আধারশক্তি ও পদ্ম-রচনার ন্যাস, “হূঁ ফট্” কবচ, এবং দিকনির্দেশ অনুযায়ী উপাধি-সহ বিঘ্নেশের বাহ্য ও অন্তর আহ্বান। পরে ত্রিপুরা-উপাসনায় ভৈরব/বটুক প্রভৃতি সহচর-নামমালা, বীজ (ঐং, ক্ষেং, হ্রীং) ও অভয়, পুস্তক, বরদ, মালা ইত্যাদি মূর্তি-লক্ষণ দেওয়া হয়েছে। জাল-সংযোজন, হৃদয়াদি-ন্যাস এবং কামক (ইচ্ছাপূরণ) সিদ্ধির সমাপন-নীতি বর্ণিত। এরপর উচ্ছাটনের জন্য নির্দিষ্ট যন্ত্র, শ্মশান-উপকরণ ও সূত্র-বাঁধন, যুদ্ধের রক্ষা/বিজয় মন্ত্র, সমৃদ্ধি-সৌর ও শ্রী-আহ্বান উল্লেখ আছে। আয়ু, নির্ভয়তা, শান্তি ও বশীকরণের উপায়—তিলক/অঞ্জন, স্পর্শ, তিল-হোম, অভিমন্ত্রিত ভোজন—বর্ণিত। শেষে নিত্যক্লিন্নার মূলমন্ত্র, ষড়ঙ্গ, রক্তত্রিকোণ ধ্যান, দিক্-স্থাপন, কামের পঞ্চবিধ চিন্তন, পূর্ণ মাতৃকা-পাঠ এবং আধারশক্তি-পদ্ম-সিংহাসনসহ হৃদয়-স্থাপনে সমাপ্তি।
Tvaritājñānam (Knowledge of Tvaritā, the Swift Goddess) — Agni Purana, Adhyāya 314 (as introduced after 313)
অগ্নিদেব পূর্বের মন্ত্রতালিকা থেকে অগ্রসর হয়ে ত্বরিতা দেবীর তান্ত্রিক-আচার ও রক্ষা/বশীকরণ-প্রযুক্তির বিধান বলেন। বীজসমৃদ্ধ ত্বরিতা-মন্ত্র, ন্যাসপূজা, দ্বিভুজ ও অষ্টভুজ ধ্যান, আধারশক্তি স্থাপন, পদ্মাসন, সিংহবাহন এবং হৃদয়াদি অঙ্গন্যাস বর্ণিত। দিকনির্দেশিত মণ্ডলক্রমে গায়ত্রী ও নানা স্ত্রীশক্তির পূজা, কেন্দ্রীয় স্থাপন এবং দ্বাররক্ষক জয়া, বিজয়া, কিংকর উল্লেখ আছে। অনন্ত, কুলিকা, বাসুকি, শঙ্খপাল, তক্ষক, মহাপদ্ম, কর্কোট, পদ্ম/পদ্মা—এই নাগরাজদের উদ্দেশে নাম-ব্যাহৃতি সহ আহুতি দেওয়া হয়। পরে ৮১ পদবিশিষ্ট নিগ্রহচক্র অঙ্কন, লেখ্যদ্রব্য ও সাধ্য-নাম স্থাপনের স্থান; তারপর উগ্ররক্ষা ও মারণমুখী প্রয়োগ, কালী/কালরাত্রি তত্ত্ব, যমসীমা-চিত্র, গুপ্ত রক্ষোচ্চারণ, কালি প্রস্তুতি, শ্মশান/চৌরাস্তার মতো সীমান্তস্থানে লেখা, এবং কুম্ভের নিচে, উইঢিবি, বিভীতক বৃক্ষ ইত্যাদিতে স্থাপন বলা হয়েছে। শুভ দ্রব্যে অনুগ্রহচক্র, রুদ্র/বিদ্যা বর্ণক্রম-জাল থেকে প্রত্যঙ্গিরা-রূপ, এবং ৬৪ পদে যৌথ নিগ্রহ–অনুগ্রহ চক্রও আছে। শেষে ‘ক্রীং সঃ হূং’ অমৃতী/বিদ্যা-বীজ, ত্রিহ্রীং আবরণ, তাবিজধারণ ও কানে মন্ত্রফুঁক ইত্যাদিতে শত্রুনাশ ও বিষাদহরণ ধর্মনিয়মে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।
Adhyaya 314 — Tvaritājñāna (Immediate/Quick Knowledge) (Colophon/Transition)
এই অধ্যায়টি এখানে মূলত সমাপ্তি-কলফন হিসেবে উপস্থিত, যা ‘ত্বারিতাজ্ঞান’ নামক বিদ্যা-খণ্ডের সমাপ্তি নির্দেশ করে। আগ্নেয় প্রেরণাশৈলীতে কলফনটি কাঠামোগত সেতু—একটি বিদ্যা-মডিউল শেষ করে সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী প্রযুক্তিগত ধারায় প্রবেশ করায়। মন্ত্রশাস্ত্র (তন্ত্র) কাণ্ডে এমন রূপান্তর কেবল সম্পাদনা নয়; পাঠ্যক্রমের ক্রম বোঝায়, যেখানে দ্রুত-প্রাপ্ত জ্ঞান (ত্বারিত জ্ঞান) থেকে প্রয়োগমূলক মন্ত্র-প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হওয়া হয়। আখ্যান-পরিসর অপরিবর্তিত—ভগবান অগ্নি প্রকাশক, বশিষ্ঠ গ্রহীতা—এতে বোঝা যায় ‘দ্রুত পদ্ধতি’ও ধর্মীয় শিক্ষার অন্তর্গত, একা জাদুবিদ্যার রেসিপি নয়।
Chapter 315: नानामन्त्राः (Various Mantras)
মন্ত্রশাস্ত্র-ক্রমে এই অধ্যায়ে অগ্নিদেব বীজাক্ষরযুক্ত ও ‘ফট্’ প্রভৃতি আদেশধর্মী সমাপ্তিযুক্ত প্রয়োগ-মন্ত্রসমূহ উপস্থাপন করেন। ‘হূঁ’ দিয়ে শুরু, ‘খেচ্ছে’ পদে অলংকৃত এবং তীব্র সমাপ্তিযুক্ত মন্ত্র-রচনার বিধান বলা হয়েছে। পরে ‘সর্বকর্মসাধিনী’ বিদ্যার ফল—বিষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাধি নিবারণ, এবং মারণ বিষ বা ঘাতক আঘাতে মরণাসন্নকে পুনর্জীবিত করার ক্ষমতা—বর্ণিত। আরও সংক্ষিপ্ত মন্ত্র বিষ ও শত্রু দমন, পাপজাত রোগ জয়, বিঘ্ন ও দুষ্ট শক্তি প্রতিহত করতে নির্দিষ্ট; বশীকরণ-প্রয়োগও আছে। শেষে সর্বসিদ্ধিদায়িনী ‘কুব্জিকা-বিদ্যা’ বিস্তারে প্রদত্ত, এবং ঈশ কর্তৃক স্কন্দকে প্রদত্ত মন্ত্র-পরম্পরার পরবর্তী উপদেশের ইঙ্গিত করা হয়েছে।
Derivation (Uddhāra) of the Sakalādi Mantra (सकलादिमन्त्रोद्धारः)
এই অধ্যায়ে উদ্ধৃত সূচনায় ঈশ্বররূপে ভগবান অগ্নি ‘সকলাদি/প্রাসাদ-মন্ত্র’ উদ্ঘাটন (উদ্ধার) ও প্রয়োগের তান্ত্রিক নকশা ব্যাখ্যা করেন। অ থেকে ক্ষ পর্যন্ত বর্ণক্রম (ক-বর্গাদি) দেবরূপ ও ক্রিয়াকার্যের সঙ্গে যুক্ত করে প্রথমে ‘সকল, নিষ্কল, শূন্য’—এই তত্ত্বগত অবস্থাগুলি নিরূপিত হয়। পরে দেবনাম-গণনা, ‘ক্ষ’ বর্ণের নরসিংহ-স্বরূপ, বিশ্বরূপের প্রমাণ-সামঞ্জস্য ইত্যাদি দেখিয়ে ঈশান, তৎপুরুষ, অঘোর/দক্ষিণ, বামদেব, সদ্যোজাত—পঞ্চবক্ত্র অনুসারে ন্যাস-স্থান নির্দিষ্ট করা হয়। হৃদয়, শির, শিখা, নেত্র, অস্ত্র—অঙ্গমন্ত্র এবং তাদের অন্ত্যোচ্চারণ ‘নমঃ, স্বাহা, বৌষট্, হুঁ, ফট্’ বিধিবদ্ধ। শেষে ‘সর্বকর্মকর’ প্রাসাদ-মন্ত্রকে সর্বকর্মসিদ্ধিদায়ক বলা হয়েছে; পাশাপাশি সকল প্রাসাদ ও নিষ্কল সদাশিব-বিন্যাসের ভেদ, শূন্য-ছায়াযুক্ত আবরণ, এবং বিদ্যেশ্বর অষ্টকের শ্রেণিবিভাগে উদ্ভূত মন্ত্রসমূহের স্থান স্থাপন করা হয়েছে।
सकलादिमन्त्रोद्धारः (Sakalādi-mantra-uddhāra) — Chapter Colophon/Transition
এই অংশটি মূলত উপসংহার-রূপে রচিত। ‘সকলাদি মন্ত্রোদ্ধার’ শীর্ষক পূর্ব অধ্যায়ের সমাপ্তি নির্দেশ করে এবং অগ্নি-পুরাণের মন্ত্রশাস্ত্র-ক্রমে মন্ত্রোদ্ধার ও বর্ণ/ধ্বনি-সহ আচারগত বিশ্লেষণকে একটি শাস্ত্রীয় শৃঙ্খলা হিসেবে স্থাপন করে। এরপর পাঠককে গণ-পূজার পরবর্তী শিক্ষাস্তরে নিয়ে যায়, যেখানে মন্ত্র-প্রযুক্তি রক্ষামূলক উপাসনা ও বিঘ্ন-নিবারণে প্রয়োগ হয়। পুরাণীয় শিক্ষার বৃহৎ পরিসরে শুদ্ধ মন্ত্র-ব্যবহারকে ধর্মকর্ম ও সিদ্ধি-সাধনার পূর্বশর্ত বলা হলেও তা শেষ পর্যন্ত সাধনা, সংযম ও সৎ অভিপ্রায়ের অধীন।
वागीश्वरीपूजा (Worship of Vāgīśvarī)
মন্ত্রশাস্ত্রের উপদেশধারায় অগ্নিদেব ঋষি বশিষ্ঠকে বাগীশ্বরী (সরস্বতীর এক রূপ) পূজার বিধান শেখান—মণ্ডল, ধ্যানপদ্ধতি, সময়, মন্ত্রগঠন এবং আচারকে ভিত্তি দেওয়া বর্ণবর্গসহ। শুরুতে স্থির দীপ্ত ধ্যানে ঈশ্বরের অন্তঃপ্রতিষ্ঠা ও পবিত্র অক্ষরের গোপন, সংরক্ষিত প্রেরণের গুরুত্ব বলা হয়েছে। বাগীশ্বরীকে পঞ্চাশ বর্ণের বর্ণমালামালায় ভূষিতা, ত্রিনেত্রী, বর-অভয়মুদ্রাযুক্ত, জপমালা ও পুস্তকধারিণী রূপে কল্পনা করা হয়। প্রধান সাধনা বর্ণমালা-জপ—‘অ’ থেকে ‘ক্ষ’ পর্যন্ত অক্ষরকে মস্তক থেকে কাঁধে নেমে দেহে মানবাকার ধ্বনিধারা হয়ে প্রবেশ করছে এমন ভাবনা সহ এক লক্ষ জপ। দীক্ষায় গুরু পদ্মমণ্ডল নির্মাণ করেন—সূর্য-চন্দ্র স্থাপন, নির্দিষ্ট পথ, দ্বার, কোণ-পট্টিকা ও রঙের নিয়মসহ; পদ্মখণ্ডে শক্তিদেবীগণ প্রতিষ্ঠিত হন—মধ্যস্থ সরস্বতী, সঙ্গে বাগীশী, হৃল্লেখা, চিত্রবাগীশী, গায়ত্রী, শাঙ্করী, মতি, ধৃতি ও হ্রীং-বীজরূপ। ঘৃতাহুতিতে সাধক সংস্কৃত-প্রাকৃত কাব্যে পারদর্শিতা, কাব্যশাস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যায় দক্ষতা লাভ করে—আধ্যাত্মিক সাধনা ও সাংস্কৃতিক-বৌদ্ধিক সিদ্ধির সমন্বয় এখানে প্রকাশিত।
वागीश्वरीपूजा (The Worship of Vāgīśvarī)
এই অধ্যায়ে মন্ত্রশাস্ত্রের একটি কেন্দ্রীভূত আচার-পর্বের সমাপ্তি—বাগীশ্বরী (বাক্, বিদ্যা ও মন্ত্রশক্তির অধিষ্ঠাত্রী শক্তি) পূজা—বর্ণিত। অগ্নিপুরাণের বিশ্বকোষধর্মী শিক্ষায় এই উপাসনা পূর্ববিদ্যা হিসেবে সাধকের বাঙ্ময়কে স্থিত করে, স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্ণ করে এবং প্রযুক্তিগত বিধির শুদ্ধ সংক্রমণ সম্ভব করে। ধারাবাহিকতা স্পষ্ট—প্রথমে মন্ত্র ও তার অধিষ্ঠাত্রী শক্তির সিদ্ধি, তারপর মণ্ডলবিধি (রেখাচিত্র/যন্ত্র নির্মাণ)-এর সূক্ষ্ম ক্ষেত্রে প্রবেশ। তাই বাগীশ্বরী-পূজা ভক্তিময় ও উপযোগী—ধর্মসম্মত উচ্চারণ, যথাযথ লিটুর্জিক কর্ম, এবং পরবর্তী স্থাপত্য-আচার মণ্ডলে মাপ, স্থাপন ও মন্ত্রলিপির নির্ভুলতার ভিত্তি।
Aghīrāstra-ādi-Śānti-kalpaḥ (Rite for Pacification of Aghora-Astra and Other Weapons)
এই অধ্যায়ে ভগবান অগ্নি (ঈশ্বর) কর্মারম্ভের আগে যুদ্ধশক্তি ও মহাজাগতিক শক্তিকে আচারগতভাবে সামঞ্জস্য করে রক্ষাবিধান শেখান। সর্বকর্মসিদ্ধিদায়ক ‘অস্ত্রযাগ’-এ মণ্ডলের কেন্দ্রে শিবের অস্ত্র স্থাপন করে, পূর্ব দিক থেকে দিকানুসারে বজ্র প্রভৃতি অস্ত্র বিন্যস্ত করা হয়। অনুরূপভাবে গ্রহপূজায় কেন্দ্রে সূর্য এবং পূর্বস্থান থেকে ক্রমে অন্যান্য গ্রহ স্থাপন করে শুভফলের জন্য গ্রহসমন্বয় করা হয়। মূল নির্দেশ অঘোর-অস্ত্রের জপ ও হোম দ্বারা ‘অস্ত্রশান্তি’, যা গ্রহদোষ, রোগ, মাড়ি/উপদ্রব, শত্রুবল এবং বিনায়ক-সম্পর্কিত বিঘ্ন প্রশমিত করে। লক্ষ/অযুত/সহস্র গণনা এবং তিল, ঘৃত, গুগ্গুলু, দূর্বা, অক্ষত, জবা ইত্যাদি দ্রব্য উল্কাপাত, ভূমিকম্প, অরণ্যে প্রবেশ, রক্তবৎ বৃক্ষরস, ঋতুবিপরীত ফলধারণ, মহামারি, হাতির ব্যাধি, গর্ভপাত ও যাত্রাশকুন প্রভৃতি নিমিত্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট। শেষে ন্যাস ও পঞ্চবক্ত্র দেবতার ধ্যান করে জয় ও পরম সিদ্ধি লাভ হয়।
Pāśupata-Śānti (पाशुपतशान्तिः)
অঘোর ও সংশ্লিষ্ট অস্ত্রের পূর্ববর্তী শান্তি-কল্পের পর এই অধ্যায়ে পাশুপত-শান্তির বিধান শুরু হয়। ভগবান পাশুপত শস্ত্র-মন্ত্রকে কেন্দ্র করে শান্তিকর্মে জপ ও প্রারম্ভিক প্রয়োগ শেখান। মন্ত্রের কার্যক্রমে বিশেষ নিয়ম—‘পাদতঃ-পূর্ব’ অর্থাৎ পায়ের দিক/প্রথম স্থাপন থেকে বাধা-নাশ, যেন নিয়াস ও দিকানুসারী প্রয়োগ। এরপর সূর্য, চন্দ্র ও বিঘ্নেশ্বর প্রভৃতি অস্ত্র-আহ্বান ‘ফট্’ সহ সংক্ষেপে, এবং ‘মোহিত কর, গোপন কর, উৎপাটন কর, ভীত কর, জীবিত কর, দূর কর, অরিষ্ট নাশ কর’ ইত্যাদি আদেশবাচক ক্রিয়া আসে। একবার জপে বিঘ্ন দূর হয়; শতবার জপে অমঙ্গল নিবারণ ও যুদ্ধে জয় লাভ হয়। ঘি ও গুগ্গুলুর হোমে কঠিন উদ্দেশ্যও সিদ্ধ; শস্ত্র-পাশুপত জপে সম্পূর্ণ শান্তি হয়।
The Six Limbs (Ṣaḍaṅga) of the Aghora-Astra (अघोरास्त्राणि षडङ्गानि)
এই অধ্যায়ে পাশুপত-শান্তি প্রসঙ্গ থেকে অগ্রসর হয়ে অঘোরাস্ত্রের ষড়ঙ্গের প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে—জপ, হোম, ন্যাস ও কবচের মাধ্যমে মন্ত্রাঙ্গের প্রয়োগ। ঈশ্বর হংস-ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত সূত্রে মৃত্যু ও রোগ দমন শেখান এবং শান্তি-পুষ্টির জন্য দূর্বা দিয়ে বৃহৎ আহুতি-বিধান করেন। পরে মোহনী, জৃম্ভণী, বশীকরণ, অন্তর্ধান প্রভৃতি অপদেবতা-নিবারক ও বশীকরণ বিদ্যার সুশৃঙ্খল ভাণ্ডার, চোর-শত্রু-গ্রহপীড়া প্রতিকার, ক্ষেত্রপাল-বলি ও প্রত্যাবর্তন-প্রয়োগ বর্ণিত। মন্ত্রে চাল ধোয়া, দ্বারপাঠ, ধূপন-রেসিপি, তিলক-যোগ, বিবাদজয়, আকর্ষণ, সৌভাগ্য ও সন্তান-উপায়সহ পুরাণের মন্ত্রপ্রযুক্তি ও ঔষধি-প্রয়োগের মিশ্র রূপ ফুটে ওঠে। শেষে শৈব তত্ত্ব স্পষ্ট—ঈশান ও পঞ্চব্রহ্ম (সদ্যোজাত, বামদেব, অঘোর, তৎপুরুষ, ঈশান) অঙ্গবিন্যাস ও বিস্তৃত কবচে আহ্বানিত হয়ে সদাশিব-কেন্দ্রিক রক্ষা, ভোগ ও মোক্ষের প্রতিশ্রুতি দেয়।
Chapter 323 — The Six-Limbed Aghora Astras (षडङ्गान्यघोरस्त्राणि)
এই অধ্যায়ে ষড়ঙ্গযুক্ত অঘোরাস্ত্র-মন্ত্রকে সংক্ষিপ্ত, প্রযুক্তিগত সূত্ররূপে উপস্থাপন করে সমাপ্তি টানা হয়েছে; এটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষামূলক প্রয়োগে বিপদ-নিবারণের জন্য ব্যবহৃত। আগ্নেয় মন্ত্রশাস্ত্র ধারায় ‘অস্ত্র’কে আচার-সক্রিয় ‘উপকরণ’ বলা হয়েছে, যার ফল শুদ্ধ উচ্চারণ, সংকল্প এবং অঙ্গ/ন্যাস-গঠনে সঠিক বিধিবিন্যাসের উপর নির্ভরশীল। রুদ্র-শান্তির ঠিক পূর্বে এর অবস্থান শিক্ষাক্রম নির্দেশ করে—প্রথমে তীক্ষ্ণ অপোত্রাসক অস্ত্র-মন্ত্র দ্বারা হুমকি নিরসন, পরে শান্তিদায়ক ও পুনঃস্থাপনমূলক ক্রিয়া দ্বারা সাধক ও পরিবেশ স্থিতিশীল করা। ফলে অধ্যায়টি আক্রমণাত্মক রক্ষা থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিকার পর্যন্ত সেতুর কাজ করে, শুদ্ধি-নিরাপত্তা-আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির ধর্মীয় ধারাবাহিকতায় মন্ত্র-প্রয়োগের সমন্বয় দেখায়।
Rudra-śānti (रुद्रशान्ति)
এই অধ্যায়ে রুদ্র-শান্তি বিষয়ক আচার-তত্ত্বের অংশ সমাপ্ত হয়। ভয়ংকর রুদ্রশক্তিকে মঙ্গলময় সাম্যাবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য করাই এখানে শান্তির মূল ভাব। অগ্নি পুরাণের মন্ত্রশাস্ত্র ধারায় এই শান্তিবিধান ভক্তি ও প্রয়োগ-কৌশলের সেতু: সাধক রুদ্রকে কেবল স্তবের দেবতা নয়, যথাযথ বিধিতে সম্পন্ন ক্রিয়ার মাধ্যমে সমন্বিত করার যোগ্য শক্তি হিসেবে গ্রহণ করে। অধ্যায়ের অবস্থান ইঙ্গিত করে যে প্রশমন ও স্থিতিকরণ (শান্তি) থেকে পরবর্তী অধ্যায়ে আরও সূক্ষ্ম তান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও মন্ত্র-নির্মাণের দিকে অগ্রসর হওয়া হবে। অগ্নেয় বিদ্যার বিশ্বকোষীয় যুক্তিতে শান্তি নিছক পৃথক পুণ্যাচার নয়; এটি মন্ত্রসিদ্ধির ভিত্তি, যা সাধক, যজ্ঞস্থান ও সূক্ষ্ম পরিবেশকে প্রস্তুত করে—কালনিয়ম, তত্ত্ব-সম্বন্ধ এবং পরম্পরা-চিহ্নসহ পরবর্তী বিধানের জন্য।
Worship of Gaurī and Others (Gauryādi-pūjā) — Mantra, Maṇḍala, Mudrā, Homa, and Mṛtyuñjaya Kalaśa-Rite
এই অধ্যায়ে উমা/গৌরী-উপাসনাকে ভুক্তি ও মুক্তিদায়িনী পূর্ণ সাধনা-ব্যবস্থা হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে—মন্ত্রধ্যান, মণ্ডল-রচনা, মুদ্রা ও হোমসহ। বীজমন্ত্র-নির্মাণের সূত্র, ধ্বনি/জাতি-বিভাগ এবং ষড়ঙ্গ-সংযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রণব দ্বারা আসন স্থাপন, হৃদয়ভিত্তিক মূর্তি-ন্যাস, পূজাদ্রব্য এবং স্বর্ণ-রৌপ্য-কাঠ-পাথর প্রভৃতি মাধ্যমে প্রতিমা-উপাসনার বিধান আছে। অব্যক্তকে কেন্দ্র/কোণে রেখে পাঁচ পিণ্ডের বিন্যাস ও দিক/চক্রক্রমে দেবতার স্থাপন মণ্ডলের লিটুর্জিক ভূগোল নির্ধারণ করে। তারার নানা মূর্তিকল্প (ভুজা, বাহন, হস্তায়ুধ) ও অঙ্গভঙ্গি নির্দিষ্ট; শেষে পদ্ম, টিঙ্গ, আহ্বানী, শক্তি/যোনি প্রভৃতি মুদ্রার শ্রেণিবিভাগ এবং মাপযুক্ত চতুষ্কোণ মণ্ডল, সম্প্রসারণ ও দ্বারসমূহ বর্ণিত। লাল ফুল অর্পণ, উত্তরমুখী হোম, পূর্ণাহুতি, বলি, কুমারীভোজন ও নৈবেদ্য বিতরণসহ আচরণনীতি বলা হয়েছে। বৃহৎ জপে বাক্-সিদ্ধির ফল ঘোষিত। শেষে স্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও অকালমৃত্যু-নিবারণে মৃত্যুঞ্জয় কলশ-পূজা ও হোমের দ্রব্য ও মন্ত্রসংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
Chapter 326 — देवालयमाहात्म्यम् (The Glory of Temples)
মন্ত্রশাস্ত্রের ধারাবাহিকতায় এই অধ্যায়ে ব্রতসমাপ্তি-ক্রিয়া থেকে এগিয়ে মন্দিরসংস্কৃতির পবিত্র অর্থনীতি বর্ণিত। রক্ষা ও সমৃদ্ধির জন্য সুতো, জপমালা, তাবিজ প্রভৃতি উপকরণ, এবং জপশৃঙ্খলা—মানসজপ, মেরুদানা-নিয়ম, মালা পড়ে গেলে প্রায়শ্চিত্ত—নির্দেশ করা হয়েছে। ঘণ্টাধ্বনিকে সকল বাদ্যের সার বলে গৃহ, দেবালয় ও লিঙ্গ শুদ্ধির জন্য পবিত্র দ্রব্যের বিধান আছে। মন্ত্রতত্ত্বে ‘নমঃ শিবায়’ এর পঞ্চাক্ষর/ষড়াক্ষর রূপ এবং শেষে ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ কে লিঙ্গপূজার পরম মন্ত্র বলা হয়েছে, যা করুণামূলকভাবে ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ প্রদান করে। পরে দেবালয় ও লিঙ্গপ্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ পুণ্যকারক বলে যজ্ঞ, তপ, দান, তীর্থ ও বেদাধ্যয়নের ফল বহুগুণিত হয় বলা হয়েছে; ভক্তি প্রধান হলে ক্ষুদ্র-মহৎ নিবেদন সমফলদায়ী। শেষে স্থায়ী উপাদানে মন্দিরনির্মাণের ক্রমবর্ধমান পুণ্য এবং সামান্য নির্মাণকর্মেও মহৎ আধ্যাত্মিক ফলের কথা বলা হয়েছে।
Chapter 327 — छन्दःसारः (Chandas-sāra: The Essence of Metres)
এই অধ্যায়ে মন্দির ও মন্ত্র-প্রয়োগের আলোচনা থেকে সরে এসে শ্রুতি-রক্ষাকারী ভাষাবিজ্ঞান—ছন্দশাস্ত্র—উপস্থাপিত হয়েছে। অগ্নি পিঙ্গল-অনুসারী পাঠক্রমে মাত্রা, লঘু-গুরু এবং গণ-পদ্ধতি (ত্রয়ী) দিয়ে ছন্দ নির্মাণ ব্যাখ্যা করেন। বৈদিক ও শাস্ত্রীয় পাঠের শুদ্ধতার জন্য নিয়মভিত্তিক ব্যতিক্রমও বলা হয়েছে—পাদান্তে লঘুকে গুরু ধরা, যুক্তব্যঞ্জন, বিসর্গ, অনুস্বার এবং জিহ্বামূলীয়-উপধ্মানীয় ধ্বনির কারণে গুরুতা সৃষ্টি। ধ্বনির এই বিধান স্থাপন করে অধ্যায়টি জানায়, প্রযুক্তিগত শাস্ত্রও পবিত্র সহায়ক; সঠিক জপ ও উচ্চারণ মন্ত্রের কার্যকারিতা, পাঠের বিশ্বস্ততা এবং আচার-জ্ঞানপরম্পরা রক্ষা করে।