Purva Bhaga29 Adhyayas4697 Shlokas

Third Quarter

Tritiya Pada

Adhyayas in Third Quarter

Adhyaya 63

Sanatkumāra’s Bhāgavata Tantra: Tattvas, Māyā-Bonds, Embodiment, and the Necessity of Dīkṣā

শৌনক সূতকে কৃষ্ণকথা প্রচারের জন্য প্রশংসা করে জিজ্ঞাসা করেন—সনকাদি ঋষিদের সমাবেশে কী আলোচনা হয়। সূত বলেন, সনন্দনের কাছ থেকে মোক্ষধর্ম শুনে নারদ প্রশ্ন করেন—মন্ত্রযোগে বিষ্ণুপূজা কীভাবে, বৈষ্ণবরা কোন দেবতাদের সম্মান করেন, এবং ভাগবত তন্ত্রে গুরু–শিষ্য প্রণালী, দীক্ষা, প্রাতঃকর্ম, মাসবিধান, জপ-পাঠ ও হোমের বিধি কী। সনৎকুমার চার পাদবিশিষ্ট মহাতন্ত্র (ভোগ, মোক্ষ, ক্রিয়া, চর্যা) ব্যাখ্যা করে পশুপতি–পশু–পাশ ত্রয় এবং মল/কর্ম/মায়াজনিত বন্ধন বর্ণনা করেন। পরে তত্ত্বক্রম—শক্তি, নাদ-বিন্দু, সদাশিব–ঈশ্বর–বিদ্যা, শুদ্ধাধ্ব; এবং অশুদ্ধ পথে কাল, নিয়তি, কলা, রাগ, পুরুষ, প্রকৃতি, গুণ, মন-ইন্দ্রিয়, ভূত, দেহ-জাতি ও মানবজন্ম। শেষে বলা হয়—দীক্ষাই পাশ ছিন্ন করে; গুরুভক্তি ও বর্ণাশ্রমানুসারে নিত্য-নৈমিত্তিক আচরণে মুক্তি; মন্ত্রদোষে গুরুর প্রায়শ্চিত্ত আবশ্যক।

124 verses

Adhyaya 64

Dīkṣā, Mantra-Types, Mantra-Doṣas, and Qualifications of Ācārya–Śiṣya

সনৎকুমার নারদকে বলেন—দীক্ষা এমন পবিত্র সংস্কার যা পাপ নাশ করে, অন্তরে দিব্য অভিমুখতা জাগায় এবং মন্ত্রকে শক্তি দেয়। ‘মন্ত্র’ শব্দের ব্যুৎপত্তি মনন ও ত্রাণ (রক্ষা) থেকে। মন্ত্রের শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে লিঙ্গ-চিহ্নিত প্রত্যয়, ‘নমো’ অন্ত, মন্ত্র বনাম বিদ্যা (পুরুষ/স্ত্রী অধিষ্ঠাত্রী শক্তি) এবং আগ্নেয়–সৌম্য ধারায়; এগুলি প্রাণের গতি পিঙ্গলা ও বাম নাড়ির সঙ্গে সম্পর্কিত। মন্ত্রের ক্রম-সংযোজন, জপের শর্ত, এবং ‘হুঁ/ফট্’ দ্বারা ক্রিয়ার তীব্রতা বর্ণিত। এরপর মন্ত্রদোষের বিস্তৃত তালিকা—গঠন, উচ্চারণ, অক্ষরসংখ্যা ইত্যাদির ত্রুটি; ছিন্ন, দগ্ধ, ভীত, অশুদ্ধ, নির্বীজ, স্থানভ্রষ্ট প্রভৃতি সিদ্ধি রোধ করে ও সাধককে ক্ষতি করতে পারে। শেষে যোনিমুদ্রা/আসনে নিয়মিত জপ, এবং আচার্য ও আদর্শ শিষ্যের কঠোর নৈতিক-আচারিক ও শিক্ষাদানের যোগ্যতা নির্দেশ করা হয়েছে।

71 verses

Adhyaya 65

Mantraśodhana, Dīkṣā-krama, Guru-Pādukā, Ajapā-Haṃsa, and Ṣaṭcakra-Kuṇḍalinī Sādhana

সনৎকুমার স্তরবদ্ধ সাধনার বিধান বলেন। প্রথমে গুরু শিষ্যকে পরীক্ষা করে মন্ত্রশোধন করেন—নৃপ-কোষ্ঠকে দিকানুসারে অক্ষর বসিয়ে বর্ণক্রম যাচাই করা হয়। মন্ত্রফলের শ্রেণি—সিদ্ধ, সাধ্য, সুসিদ্ধ, অরি এবং সিদ্ধ-সাধ্য প্রভৃতি মিশ্র অবস্থা—মন্ত্রের কার্যকারিতা ও বাধা নির্ণয়ে বলা হয়েছে। এরপর দীক্ষাক্রম: স্বস্তি-অনুষ্ঠান, সর্বতোভদ্র মণ্ডল, সভায় প্রবেশ, বিঘ্ননাশ, ঔষধি-নবরত্ন-পঞ্চপল্লবসহ কুম্ভসংস্কার, এবং শিষ্যের ভূতশুদ্ধি, ন্যাস, প্রোক্ষণ দ্বারা শুদ্ধি। গুরু মন্ত্র প্রদান করেন (১০৮ জপ; কানে আটবার), আশীর্বাদ দেন ও গুরুসেবা-দক্ষিণা নির্দিষ্ট করেন। নিত্য পঞ্চদেবতা পূজার কেন্দ্র/বাহ্য বিন্যাসও নির্দেশিত। শেষে গুরু-পাদুকা মন্ত্র-স্তোত্র, ষটচক্র ভেদ করে কুণ্ডলিনীর ব্রহ্মরন্ধ্রগমন, এবং অজপা/হংস-গায়ত্রী শ্বাসজপ—ঋষি, ছন্দ, দেবতা, ষড়ঙ্গ ও চক্রার্পণসহ—অদ্বৈত মোক্ষধর্মে উপসংহার।

97 verses

Adhyaya 66

The Explanation of Sandhyā and Related Daily Observances (Saṅdhyā-ādi Nitya-karma-Vidhi)

এই অধ্যায়ে সনৎকুমার নিত্যকর্মের বিধি বলেন—পৃথিবীকে প্রণাম করে পদক্ষেপ, মলত্যাগে শৌচাচার ও পরে মাটি‑জলে শুদ্ধি; দন্তধাবনে বনস্পতির প্রার্থনা। এরপর মন্দির প্রস্তুতি, অস্ত্র/মূল মন্ত্রে আরতি; নদীস্নানে মন্ত্রাভিমন্ত্রিত মাটি, ব্রহ্মরন্ধ্রপথে অন্তঃস্নানের ভাবনা ও শ্রৌত‑সংযম। দেশ‑কাল সংকল্পসহ মন্ত্রস্নান, প্রাণায়াম, তীর্থআবাহন (গঙ্গা‑যমুনা প্রভৃতি), সুধা‑বীজ, কবচ/অস্ত্ররক্ষা ও অভিষেকচক্র; অসুস্থতায় অঘমর্ষণ প্রায়শ্চিত্ত। কেশব‑নারায়ণ‑মাধব আহ্বানে সন্ধ্যা, বিশদ বৈষ্ণব আচমন‑ন্যাস এবং শৈব/শাক্ত বিকল্প; তিলক‑ত্রিপুণ্ড্রের নিয়ম; দ্বারপূজা, দেবস্থানবিন্যাস ও দ্বারপালদের তালিকা (বৈষ্ণব/শৈব/মাতৃশক্তি); মাতৃকা‑শক্তিন্যাস, বীজ‑শক্তিতত্ত্ব, এবং ষড়ঙ্গ‑ন্যাসের পরে পূজা আরম্ভের নির্দেশ।

152 verses

Adhyaya 67

Devapūjā-krama: Ārghya-saṃskāra, Maṇḍala–Nyāsa, Mudrā-pradarśana, Āvaraṇa-arcana, Homa, Japa, and Kṣamāpaṇa

এই অধ্যায়ে সনত্কুমার নারদকে দেবপূজার সম্পূর্ণ ও ক্রমানুসারী বিধান শেখান। ত্রিকোণ‑ষট্কোণ‑চতুরস্র মণ্ডল স্থাপন করে আধার ও অগ্নি‑মণ্ডল প্রতিষ্ঠা, গো‑মুদ্রা ও কবচ দ্বারা অর্ঘ্যজলকে অমৃতরূপে সংস্কার, অঙ্গ‑ন্যাসে মন্ত্রাঙ্গ‑নিগ্রহ, সূর্য‑চন্দ্রকলার পূজা, তীর্থ আহ্বান এবং মৎস্য‑মুদ্রা ও অস্ত্র দ্বারা মুদ্রণ বর্ণিত। পরে পাদ্য, অর্ঘ্য, আচমনী, মধুপর্ক, স্নান, বস্ত্র, যজ্ঞোপবীত, গন্ধ, পুষ্প, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য, তাম্বূল প্রভৃতি উপচারে পূজা এবং দেবতা‑ভেদে নিষিদ্ধ অর্পণের নিয়ম বলা হয়েছে। এরপর দিকপাল, তাঁদের বাহন ও আয়ুধসহ আবরণ‑অর্চনা, আরতি‑প্রণাম, ব্যাহৃতিসহ ২৫ আহুতির হোম, উগ্র পরিচরদের বলি, জপ‑সমর্পণ, প্রদক্ষিণা‑বিধি ও বিস্তৃত ক্ষমাপ্রার্থনা আসে। শেষে রোগ, অশৌচ বা ভয়ে মানসপূজাকে প্রধান করে আতুরী/সৌতিকী/ত্রাসী পদ্ধতি এবং কুটিল অভিপ্রায়ে করা অনুকল্প‑কর্মের নিন্দা করা হয়েছে।

140 verses

Adhyaya 68

Gaṇeśa Mantra-vidhi: Mahāgaṇapati Gāyatrī, Vakratuṇḍa Mantra, Nyāsa, Homa, Āvaraṇa-pūjā, and Caturthī Vrata

এই অধ্যায়ে সনৎকুমার নারদকে সম্পূর্ণ গণেশ-সাধনার বিধান শেখান। ভোগ ও মোক্ষদায়ী গণেশ-মন্ত্র, নিয়ন্ত্রণমুখী মন্ত্র-রচনা এবং ২৮ অক্ষরের মন্ত্রের ঋষি-ছন্দ-দেবতা প্রভৃতি বলা হয়েছে। ষড়ঙ্গ-ন্যাস, ভূর্ভুবঃস্বঃ জুড়ে ভুবন-ন্যাস এবং সংখ্যা-সংকেতসহ বর্ণ/পদ-ন্যাসের নির্দিষ্ট স্থাপনাও আছে। মহাগণপতি গায়ত্রী (বিদ্মহে/ধীমহি/প্রচোদয়াত্), ধ্যানমূর্তি, জপসংখ্যা ও আট দ্রব্যে হোমের বিধান দেওয়া হয়েছে। ষট্কোণ-ত্রিকোণ-অষ্টদল পদ্ম-ভূপুরযুক্ত যন্ত্র/মণ্ডলে পীঠপূজা, আবরণ-দেবতা ও শক্তি, এবং দিকনির্দেশে সহধর্মিণীসহ গণেশ-রূপ স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। ফুল, সমিধা, ঘি, মধু ইত্যাদি নিবেদনের ভেদে ফলবিশেষ উল্লেখ আছে। মাসিক চতুর্থী-ব্রত, গ্রহণপূজা, রক্ষানিয়ম, এবং পৃথক বক্রতুণ্ড মন্ত্রের ঋষ্যাদি ও আবরণ-ক্রমও বর্ণিত। দীক্ষার শর্ত, সমৃদ্ধি-সন্তান-প্রশ্নধর্মী ক্রিয়া, গোপনীয়তার বিধান এবং ভক্তিসহ সাধনায় সিদ্ধি ও মুক্তির আশ্বাসে অধ্যায় শেষ হয়।

94 verses

Adhyaya 69

Śeṣoditya-Sūrya-nyāsa, Soma-sādhana, Graha-pūjā, and Bhauma-vrata-vidhi

সনৎকুমার ব্রহ্মাকে সূর্যকেন্দ্রিক ‘ত্রিরূপ’ সাধনা (শেষোদিত্য/রবি-বিদ্যা) শেখান, যা পরে সোম ও গ্রহ-উপাসনায় প্রসারিত। এখানে মন্ত্রের ঋষি-ছন্দ-দেবতা নির্দিষ্ট (দেবভাগ/গায়ত্রী/রবি; ভৃগু/পঙ্ক্তি/সোম; বিরূপাক্ষ/গায়ত্রী/কুজ), ষড়ঙ্গ-ন্যাস, সোম-সূর্য-অগ্নির মণ্ডল-ন্যাস, ব্যাপক জপ, হৃদয়-পদ্মে রবিধ্যান এবং বৃহৎ জপসহ দশাংশ হোম বলা হয়েছে। পীঠপূজা, আবরণ-দেবতা ও শক্তি, দিক-বিদিক স্থাপন এবং সহজ কিন্তু শক্তিশালী নিত্য অর্ঘ্যও বর্ণিত। পরের অংশে মাসিক সোম-অর্ঘ্য এবং সন্তানলাভ ও ঋণমোচনের জন্য পূর্ণ ভৌম-ব্রত (মঙ্গলবার)—লাল দ্রব্য, ২১-বার ক্রম, স্তব, প্রদক্ষিণা, শেষে দান-দক্ষিণা—উপদেশিত। শেষে বুধ, গুরু, শুক্রের মন্ত্রপূজা এবং গোপনীয়তা ও অধিকার-নিয়ম উল্লেখ আছে।

141 verses

Adhyaya 70

Mahāviṣṇu-Mantras: Aṣṭākṣarī, Sudarśana-Astra, Nyāsa Systems, Āvaraṇa-Pūjā, and Prayogas

এই অধ্যায়ে সনৎকুমার নারদকে বিরল মহাবিষ্ণু-মন্ত্রসমূহ শিক্ষা দেন, যা সৃষ্টিশক্তিকেও প্রভাবিত করে। অষ্টাক্ষরী “নারায়ণ” মন্ত্রের ঋষি-ছন্দ-দেবতা-বীজ-শক্তি-বিনিয়োগ নিরূপণ করে পঞ্চাঙ্গ/ষড়ঙ্গ বিন্যাস, দ্বাদশাক্ষরী সুদর্শন-অস্ত্র মন্ত্র ও দিগ্বন্ধনের বিধান বলা হয়েছে। বিভূতি-পঞ্জর ন্যাস, তত্ত্বাভিধ/তত্ত্ব-ন্যাস (আট প্রকৃতি, বারো তত্ত্ব) এবং কেশব-পদ্মনাভ প্রভৃতি দ্বাদশ মূর্তির দ্বাদশ আদিত্যের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা বর্ণিত। শ্রী-ভূ সহ নারায়ণ ধ্যান, জপফলের ক্রম (লক্ষ থেকে মোক্ষ), হোম ও আসন-মন্ত্র, পদ্ম-যন্ত্রে বাসুদেব-সংকর্ষণ-প্রদ্যুম্ন-অনিরুদ্ধ ও শান্তি-শ্রী প্রভৃতি শক্তির আবরণ-পূজা আছে। পরার্ধে বিষনাশ ও সাপের কামড়-শান্তি (গরুড়/নৃসিংহ), রোগনাশ-দীর্ঘায়ু, সমৃদ্ধি ও ভূমিলাভ, এবং পুরুষোত্তম, শ্রীকর, আদি-বরাহ, ধরনী, জগন্নাথের বিশেষ প্রয়োগ (আকর্ষণ/মোহনসহ) সংকলিত; সিদ্ধ মন্ত্রে বিষ্ণু-সাম্য পর্যন্ত সর্বার্থসিদ্ধি বলা হয়েছে।

202 verses

Adhyaya 71

The Exposition of Nṛsiṁha Worship-Mantras, Nyāsa, Mudrās, Yantras, Kavaca, and Nṛsiṁha Gāyatrī

এই অধ্যায়ে সনত্কুমার নারদকে নরহরি/নৃহরি উপাসনার বহুস্তরীয় বিধান শেখান। একাক্ষর প্রভৃতি নরসিংহ মন্ত্রের মন্ত্রলক্ষণ (ঋষি অত্রি, জগতি ছন্দ, দেবতা নৃহরি, বীজ-শক্তি, ‘সর্বার্থ’ বিনিয়োগ), ধ্যান-রূপ এবং সাধনার পরিমাণ (এক লক্ষ জপ, দশমাংশ হোম ঘৃত ও পায়স দিয়ে) বলা হয়েছে। বৈষ্ণব পীঠে পদ্মমণ্ডল পূজা, দিকপাল/পরিবার দেবতা এবং ৩২টি উগ্র নামের উল্লেখ আছে। ষড়ঙ্গ, দশধা, নব-স্থাপন, হরি-ন্যাসসহ নানা ন্যাস ও অন্তঃস্থান-ক্রম (মূল→নাভি→হৃদয়→ভ্রূমধ্য→তৃতীয় নয়ন) সুসংবদ্ধ করা হয়েছে। নরসিংহী, চক্র, দংষ্ট্রা প্রভৃতি মুদ্রা, শান্ত/রৌদ্র কর্মের নিয়ম এবং শত্রু-নিগ্রহের প্রয়োগ বর্ণিত। রোগনাশ, গ্রহপীড়া-শমন, স্তম্ভন/বিজয়াদি রাজকীয় ও চিকিৎসামূলক প্রয়োগ ভস্ম, আহুতি ও সময়নির্দিষ্ট জপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ত্রৈলোক্যমোহন, অষ্টার, দ্বাদশার কালান্তক, ‘যন্ত্ররাজ’ ইত্যাদি যন্ত্র, কবচ-বরমাস্ত্র ক্রম ও নৃসিংহ গায়ত্রী দিয়ে শেষে ফলশ্রুতি—সিদ্ধি, রক্ষা, সমৃদ্ধি ও নির্ভয়তা—ঘোষিত।

229 verses

Adhyaya 72

Hayagrīva-pūjā-vyākhyāna (Worship Procedure and Mantra-Siddhi of Hayagrīva)

সনৎকুমার প্রণবকেন্দ্রিক, বিষ্ণু-সম্পর্কিত মন্ত্রপদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন—ঋষি ইন্দু, ছন্দ বিরাট্, দেবতা দধিবামন; বীজ তারা/ওঁ এবং শক্তি বহ্নিজায়া। তিনি দেহে ন্যাস, অষ্টাদশ মন্ত্র-প্রতিষ্ঠা, তারপর পূজা ও হোমের বিস্তারিত বিধান দেন—তিন লক্ষ জপ এবং তার দশমাংশ ঘৃত-সিক্ত আহুতি। পায়স, দধিভাত, লাল পদ্ম, অপামার্গ প্রভৃতি আহুতিতে সমৃদ্ধি, ভয়নাশ, রোগশমন, বশীকরণ, বন্ধনমোচন ও অন্নবৃদ্ধির ফল বলা হয়েছে। পরে যন্ত্র/মণ্ডল নির্মাণ—পদ্মকর্ণিকায় পূজা, কেশর ও পত্রে ষড়ঙ্গ পূজা, চার ব্যূহ, শক্তি, আয়ুধ, দিকপাল, অষ্টদিগ্গজ ও তাদের পত্নীদের স্থাপন। দ্বিতীয় মন্ত্রধারায় হয়গ্রীব (তুরগানন)—ঋষি ব্রহ্মা, ছন্দ অনুষ্টুপ; বহির্বলয়ে বেদাঙ্গ, মাতৃকা, ভৈরব, অবতার, নদী, গ্রহ, পর্বত, নক্ষত্রাদি। শেষে অভিমন্ত্রিত জল, গ্রহণকালের ক্রিয়া এবং বীজ-সংস্কারসহ সরস্বত-সিদ্ধি—বাক্ ও বিদ্যায় দক্ষতা—প্রদানের কথা বলা হয়েছে।

55 verses

Adhyaya 73

The Description of the Worship of Rāma and Others (Rāmādi-pūjā-vidhāna)

সনৎকুমার বৈষ্ণব মন্ত্রপদ্ধতিতে রামমন্ত্রের সর্বোচ্চতা, পাপক্ষয় ও মোক্ষদায়িনী শক্তি ব্যাখ্যা করেন। তিনি ঋষি-ছন্দ-দেবতা-বীজ-শক্তি-বিনিয়োগ, ষড়ঙ্গন্যাস ও দেহে অক্ষরস্থাপন বিধান করে সীতা-লক্ষ্মণসহ শ্রীरामকে হৃদয়ে ধ্যান করতে শেখান। পূজার বিন্যাসে পরিবারদেবতা, শার্ঙ্গ ধনু ও বাণ, হনুমান-সুগ্রীব-ভরত- বিভীষণ প্রমুখ সহায় এবং পদ্মমণ্ডলে আরাধনার কথা আছে। পুরশ্চরণ ও হোমের নিয়ম, সমৃদ্ধি-আরোগ্য-রাজ্য- কাব্যপ্রতিভা-রোগশমন ইত্যাদির জন্য বিশেষ আহুতি উল্লেখ করে কেবল লৌকিক লাভের জন্য আচার করে পরলোক বিস্মরণের বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়েছে। যন্ত্ররাজের ষট্কোণ-পদ্ম-সূর্যপত্র জ্যামিতি, লেখনদ্রব্য, ধারণপদ্ধতি ও শুভ তিথি-নক্ষত্রানুসারে প্রয়োগ বর্ণিত। ছয়, আট, দশ, তেরো, আঠারো, উনিশ ইত্যাদি অক্ষরবিশিষ্ট নানা মন্ত্ররূপ একই বিধানে সাজিয়ে শেষে সীতা-লক্ষ্মণ উপপূজা ও মোক্ষ থেকে রাজ্যপ্রতিষ্ঠা পর্যন্ত প্রয়োগ বলা হয়েছে।

178 verses

Adhyaya 74

Hanumān-mantra-kathana: Mantra-bheda, Nyāsa, Yantra, and Prayoga

এই অধ্যায়ে সনৎকুমার (সনকাদি-পরম্পরায়) নারদকে হনুমান-মন্ত্রসমূহের ক্রমিক সংকলন ও সাধনার বিধি শেখান—বীজ-গঠন, হৃদয়ান্ত দ্বাদশাক্ষর ‘মন্ত্ররাজ’, এবং অষ্ট, দশ, দ্বাদশ ও অষ্টাদশাক্ষর ভেদ; সঙ্গে ঋষি/ছন্দ/দেবতা নির্দিষ্টকরণ ও বীজ–শক্তি-নিয়োগ। শির, নয়ন, কণ্ঠ, বাহু, হৃদয়, নাভি ও পদে ষড়ঙ্গ ও অঙ্গন্যাস, সূর্যসম দীপ্ত ও জগৎ-কাঁপানো আঞ্জনেয় ধ্যান, বৈষ্ণব পীঠে পূজা, পত্র/তন্তুতে অঙ্গপূজা এবং বানরগণ ও লোকপালদের নিবেদন বর্ণিত। পরে রাজা-শত্রুভয় নিবারণ, জ্বর-বিষ-অপস্মারসদৃশ রোগশান্তি, রক্ষার্থ ভস্ম/জল-প্রয়োগ, যাত্রা ও স্বপ্নরক্ষা, এবং যুদ্ধজয়ের প্রয়োগগুলি বলা হয়েছে। বহু যন্ত্র (বৃত্তবলয়, ত্রিশূল-বজ্রচিহ্নিত ভূপুর, ষট্কোণ/পদ্ম, ধ্বজ-যন্ত্র) তাদের উপকরণ, কালি, প্রাণপ্রতিষ্ঠা, ধারণবিধি ও অষ্টমী, চতুর্দশী, মঙ্গলবার/রবিবারাদি সময়সহ নির্দিষ্ট। শেষে নিয়মিত জপ-হোম ও রামদূত হনুমানের ভক্তিতে সিদ্ধি, সমৃদ্ধি ও পরম মুক্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

203 verses

Adhyaya 75

Dīpa-vidhi-vyākhyānam (Procedure for Lamp-Offering to Hanumān)

এই অধ্যায়ে সনৎকুমার হনুমানজীর নিত্য-দীপ/দীপদান-বিধি ‘রহস্য’সহ শিক্ষা দেন। এটি এক প্রকার আচার-নির্দেশিকা: দীপপাত্র ও তেলের পরিমাপ, এবং তেল‑ধান্য‑চূর্ণ‑রং‑সুগন্ধকে নানা প্রয়োগের সঙ্গে (সমৃদ্ধি, আকর্ষণ, রোগনাশ, উচ্চাটন, বিদ্বেষ, মারণ, যাত্রা-প্রত্যাবর্তন) যুক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পল, প্রসৃত, কুডব, প্রস্থ, আঢক, দ্রোণ, খারী ইত্যাদি মান, সুতোর সংখ্যা‑রং, তেল ধারণ ও পেষণ‑মথন/গোঁথার নিয়মও বলা আছে। হনুমান-মূর্তি, শিবমন্দির, চৌরাস্তা, গ্রহ/ভূতস্থান, স্ফটিক লিঙ্গ ও শালগ্রামে পূজা; ষট্কোণ ও অষ্টদল পদ্ম-যন্ত্র, ষড়ঙ্গ-ন্যাস, এবং বসুপদ্মে প্রধান বানরদের পূজা বর্ণিত। কবচ, মালা-মন্ত্র, দ্বাদশাক্ষরী বিদ্যা, সূর্যবীজ প্রভৃতি মন্ত্রপ্রয়োগ, দুইটি বিস্তৃত রক্ষা/যুদ্ধ-প্রয়োগ, পরে ২৬ অক্ষরের তত্ত্বজ্ঞান-মন্ত্র (ঋষি বশিষ্ঠ, অনুষ্টুপ) ও গ্রহ‑ভূত তাড়ানোর শস্ত্র-মন্ত্র (ঋষি ব্রহ্মা, গায়ত্রী) লক্ষণ দিয়ে গোপনীয়তা ও শিষ্য-অধিকার বিধিতে অধ্যায় শেষ।

107 verses

Adhyaya 76

Mantra-Māhātmya and Sādhana of Kārtavīryārjuna (Nyāsa, Yantra, Homa, and Dīpa-Vrata)

নারদ কর্মানুসারে রাজাদের উত্থান‑পতন দেখে জিজ্ঞাসা করেন—কর্তবীর্যার্জুন কেন জগতে বিশেষভাবে পূজিত ও সেবিত। সনৎকুমার বলেন, তিনি সুদর্শন‑চক্রের অবতার; দত্তাত্রেয়ের আরাধনায় পরম তেজ লাভ করেছেন, এবং তাঁর স্মরণমাত্রে জয় ও ক্ষতিপূরণ হয়। এরপর গোপন তন্ত্রবিধি প্রকাশিত হয়—ন्यास‑কবচ স্থাপন, মন্ত্র‑পরীক্ষা, বিনিয়োগ (ঋষি দত্তাত্রেয়, ছন্দ অনুষ্টুপ, দেবতা কর্তবীর্যার্জুন, বীজ/শক্তি ধ্রুব), অঙ্গন्यास ও ধ্যানমূর্তি। জপসংখ্যা, হোমের অংশ ও আহুতি, ষট্কোণ‑ত্রিকোণ যন্ত্ররেখা, অষ্টশক্তি‑পূজা, পূর্ণ যন্ত্ররচনা, কুম্ভাভিষেকের ফল ও গ্রামরক্ষায় প্রয়োগও বলা হয়েছে। ফলভেদে হোমদ্রব্য—উচ্চাটন, বশ্য, শান্তি, স্তম্ভন, সমৃদ্ধি, চৌর্যনিবারণ—এবং আহুতিগণনার নিয়ম দেওয়া আছে। মন্ত্রকুল ও ছন্দের তালিকা, গায়ত্রী‑প্রয়োগে সতর্কতা ও রাত্রিপাঠে নিষেধও উল্লেখিত। শেষে বিস্তৃত দীপব্রত—শুভ মাস‑তিথি‑নক্ষত্র‑যোগ, দীপপাত্রের মাপ, সলতে সংখ্যা, স্থাপন, সংকল্পমন্ত্র, শকুনলক্ষণ, আচরণবিধি, গুরুর অনুমতি এবং ব্রাহ্মণভোজন‑দক্ষিণায় সমাপন; শেষে কলফন।

117 verses

Adhyaya 77

The Account of Kārtavīrya’s Protective Kavaca (Kārtavīrya-kavaca-vṛttānta)

নারদ গূঢ় তন্ত্রবিধি প্রকাশ করার জন্য সনৎকুমারকে স্তব করেন এবং কীর্তবীর্য/কার্তবীর্যের কবচ প্রার্থনা করেন। সনৎকুমার আশ্চর্য রক্ষাকবচ শেখান, যা সকল কাজে সিদ্ধি দেয়—সহস্রবাহু, অস্ত্রধারী, দীপ্ত রথারূঢ় সম্রাটের ধ্যান, হরির চক্র-অবতীর্ণ রূপ স্মরণ এবং ‘রক্ষা’ উচ্চারণ। দিকপাল ও আবরণশক্তির সহায়ে অঙ্গ-অঙ্গ ও মর্মভিত্তিক রক্ষাক্রম বর্ণিত হয়। পরে চোর, শত্রু, অভিচার, মহামারী, দুঃস্বপ্ন, গ্রহদোষ, ভূত-প্রেত-বেতাল, বিষ, সাপ, বন্যপশু, অশুভ লক্ষণ ও গ্রহপীড়া থেকে রক্ষার প্রয়োগ বলা হয়। শেষে কার্তবীর্যের গুণাবলির স্তোত্রসদৃশ তালিকা, ফলশ্রুতি ও প্রয়োগ—চুরি যাওয়া বস্তু ফেরত, বিবাদে জয়, রোগশমন, বন্ধনমুক্তি ও নিরাপদ যাত্রার জন্য জপসংখ্যা। সনৎকুমার বলেন এটি দত্তাত্রেয়প্রদত্ত এবং নারদকে ইষ্টসিদ্ধির জন্য ধারণ করতে বলেন।

138 verses

Adhyaya 78

The Exposition of Hanumān’s Protective Kavaca (Māruti-kavaca)

সনৎকুমার নারদকে বলেন—কার্তবীর্য কবচ শেখানোর পর এখন তিনি মোহ-নাশক ও বিঘ্ন-নিবারক বিজয়দায়ক মারুতি (হনুমান) কবচ প্রদান করবেন। তিনি স্মরণ করেন, আনন্দবনিকা-য় দেবপূজিত শ্রীराम রাবণবধ পর্যন্ত কাহিনির শেষে এই কবচ দান করে নির্দেশ দেন—অযোগ্যদের কাছে নির্বিচারে প্রকাশ করা যাবে না। কবচে হনুমানকে আহ্বান করে দিকসমূহ, ঊর্ধ্ব-অধঃ-মধ্য এবং মস্তক থেকে পদপর্যন্ত দেহের প্রতিটি অঙ্গ রক্ষার প্রার্থনা আছে; ভূমি-আকাশ-অগ্নি-সমুদ্র-অরণ্য, যুদ্ধ ও সংকটে সুরক্ষাও বলা হয়েছে। ডাকিনী-শাকিনী, কালরাত্রি, পিশাচ, সাপ, রাক্ষসী, রোগ ও শত্রুমন্ত্রাদি হনুমানের ভয়ংকর দিব্যরূপে প্রশমিত হয়। শেষে হনুমানকে বেদ-প্রণবস্বরূপ, ব্রহ্ম ও প্রাণবায়ু, এবং ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বররূপে স্তব করা হয়েছে। গোপনীয়তা, অষ্টগন্ধে লিখে গলায় বা ডান বাহুতে ধারণ, এবং জপসিদ্ধিতে ‘অসম্ভব’ও সাধ্য হওয়ার ফল বলা হয়েছে।

53 verses

Adhyaya 79

Hanūmaccarita (The Account of Hanumān)

সনৎকুমার আনন্দবনে শ্রীरामের বলা পাপনাশক হনুমৎকথা বর্ণনা করেন। রাম অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত নিজের রামায়ণ-যাত্রা বলার পর ত্র্যম্বক পর্বতে গৌতমের সভায় শৈব প্রসঙ্গ আনেন—লিঙ্গ-প্রতিষ্ঠা, ভূতশুদ্ধি-ধ্যান ও বিস্তারিত লিঙ্গপূজা-বিধি। ‘মদ্-যোগী’ শিষ্য শঙ্করাত্মা নিহত হলে জগতে অশুচিতা ছড়ায়; গৌতম ও শুক্রও পতিত হন। ত্রিমূর্তি আবির্ভূত হয়ে ভক্তদের পুনর্জীবিত করেন ও বর দেন। হরি-শঙ্কর-সম্মিলিত রূপ হিসেবে হনুমানের মহিমা প্রতিষ্ঠিত হয়; ভস্মস্নান, ন্যাস, সংকল্প, মুক্তিধারা-অভিষেক ও উপচারসহ শিবলিঙ্গ পূজা শেখানো হয়। পীঠ হারানোর পরীক্ষায় বীরভদ্র বিশ্বদাহ করেন, শিব তা নিবৃত্ত করে হনুমানের ভক্তি প্রমাণ করেন। শেষে হনুমান গান ও পূজায় শিবকে তুষ্ট করে কল্পান্ত পর্যন্ত আয়ু, বিঘ্নজয়, শাস্ত্রদক্ষতা ও বল লাভ করেন; এই কাহিনি শ্রবণ-কীর্তন পবিত্র ও মোক্ষদায়ক বলা হয়েছে।

359 verses

Adhyaya 80

The Exposition of the Krishna Mantra (Kṛṣṇa-mantra-prakāśa): Nyāsa, Dhyāna, Worship, Yantra, and Prayoga

সূত বলেন—পূর্বের রক্ষাস্তোত্র শুনে নারদ আবার সনৎকুমারকে প্রশ্ন করেন। সনৎকুমার ভোগ ও মোক্ষদায়ী শ্রীকৃষ্ণ-মন্ত্রসমূহের বিস্তৃত উপদেশ দেন—ঋষি, ছন্দ, দেবতা, বীজ, শক্তি, নিয়োগ এবং কঠোর ন্যাসবিধি: ঋষ্যাদি-ন্যাস, পঞ্চাঙ্গ ও তত্ত্ব-ন্যাস (জীব থেকে মহাভূত পর্যন্ত), পরে মাতৃকা-ন্যাস, ব্যাপক-ন্যাস ও সৃষ্টি-স্থিতি-সংহার-ন্যাস। সুদর্শন দিগ্বন্ধন দ্বারা রক্ষা এবং বেণু, বিল্ব, বর্ম, অস্ত্র-মোচন মুদ্রা শেখানো হয়। বৃন্দাবন ও দ্বারকার ধ্যান, আবরণ-অর্চনা (পরিকর দেবতা, পাটরাণী, আয়ুধ, লোকপাল), জপ-হোমের সংখ্যা, তर्पণের দ্রব্য-নিয়ম ও নিষেধ বলা হয়েছে। কাম্য হোমে সমৃদ্ধি, বশীকরণ, বৃষ্টি/জ্বরশমন, সন্তানলাভ, শত্রুনিবারণ প্রভৃতি; তবে মারণাদি হিংসাকর্মে সতর্কতা আছে। শেষে গোপাল-যন্ত্র নির্মাণ ও দশাক্ষর ‘মন্ত্ররাজ’-এর ন্যাসসহ বর্ণনা; ফল—মন্ত্রসিদ্ধি, অষ্টসিদ্ধি, ঐশ্বর্য ও বিষ্ণুধামপ্রাপ্তি।

298 verses

Adhyaya 81

Kṛṣṇādi-mantra-varga-varṇana (Classification of Krishna and Related Mantras)

এই অধ্যায়ে সনৎকুমার নারদকে শ্রীকৃষ্ণ/গোবিন্দ মন্ত্র-ব্যবস্থার সুসংগঠিত শ্রেণিবিন্যাস শেখান। দাশার্ণ-সম্পর্কিত তিন মনুর উল্লেখ করে মন্ত্রলক্ষণ স্থির হয়—ঋষি নারদ, ছন্দ গায়ত্রী, দেবতা কৃষ্ণ-গোবিন্দ। এরপর চক্রচিহ্নসহ অঙ্গন্যাস, শিরোমাপ, সুদর্শন দ্বারা দিগ্বন্ধন, দাশার্ণ-ব্রত ও হরি-ধ্যানের ধাপে ধাপে সাধনা বর্ণিত। নানা ধ্যানরূপে কৃষ্ণকে দেখানো হয়—অস্ত্রসহ বেণুধর, দুগ্ধভোগে পূজিত বালকৃষ্ণ, গ্রন্থ ও মাতৃকা-মালা ধারণকারী আচার্যরূপ, লীলাদণ্ড-হরি ও গোবলভ। প্রতিটি মন্ত্রগুচ্ছের জন্য জপসংখ্যা (১ লক্ষ, ৮ লক্ষ, ৩২ লক্ষ) ও দশমাংশ হোম, পায়স, চিনি-মিশ্রিত দুধ, তিল, পুষ্পাদি আহুতি এবং পুত্র, ধন, বাক্সিদ্ধি, রোগনাশের তर्पণ নির্দিষ্ট। জ্বর, বিবাহ, বিষনিবারণ প্রভৃতি রক্ষামূলক-চিকিৎসামূলক প্রয়োগ, গরুড়কর্মসহ, বলা হয়েছে; শেষে সিদ্ধি এবং উপনিষদীয় নির্বিকল্প জ্ঞানকেও পরিপক্ব সাধনার ফল বলা হয়।

153 verses

Adhyaya 82

The Recitation of the Thousand Names of Rādhā and Kṛṣṇa (Yugala-Sahasranāma) and Śaraṇāgati-Dharma

সনৎকুমার নারদকে পূর্বকল্পের জ্ঞান পুনরুদ্ধারে প্রেরণা দেন—শিবের কাছ থেকে একদা প্রাপ্ত যুগলরূপ গূঢ় কৃষ্ণমন্ত্র। ধ্যানের দ্বারা নারদ পূর্বজন্মের কর্ম স্মরণ করেন; সনৎকুমার সরস্বত-कल्पের পূর্বচক্রে ‘কাশ্যপ-রূপ নারদ’ কৈলাসবাসী শিবকে পরমতত্ত্ব জিজ্ঞাসা করেছিলেন—এই কাহিনি স্থাপন করেন। শিব মন্ত্রবিধান ও অঙ্গসমূহ বলেন—ঋষি মনু, ছন্দ সুরভি/গায়ত্রী, দেবতা গোপীপ্রিয় সর্বব্যাপী ভগবান, এবং শরণাগতি-কেন্দ্রিক বিনিয়োগ; তিনি জানান সিদ্ধি-প্রস্তুতি, শুদ্ধি ও ন্যাস আবশ্যক নয়—কেবল চিন্তনেই নিত্যলীলা প্রকাশ পায়। এরপর শরণাগত ভক্তের অন্তর্ধর্ম: গুরুভক্তি, শরণাগত-ধর্ম অধ্যয়ন, বৈষ্ণব-সম্মান, নিরন্তর কৃষ্ণস্মরণ ও অর্চাসেবা, দেহাসক্তি ত্যাগ, এবং গুরু/সাধু/বৈষ্ণব ও নাম-অপরাধ কঠোরভাবে বর্জন। মূল উপাসনা যুগল সহস্রনাম—কৃষ্ণনাম বৃন্দাবন থেকে মথুরা-দ্বারকা পর্যন্ত লীলা বর্ণনা করে, আর রাধানাম তাঁকে রস, শক্তি ও সৃষ্টিস্থিতিলয়কারিণী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। ফলশ্রুতিতে পাপনাশ, দারিদ্র্য-রোগনাশ, সন্তানলাভ ও রাধা–মাধবে ভক্তিবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়ে অধ্যায় সমাপ্ত।

216 verses

Adhyaya 83

Pañca-prakṛti-nirūpaṇa and Mantra-vidhi: Rādhā, Mahālakṣmī, Durgā, Sarasvatī, Sāvitrī; plus Sāvitrī-Pañjara

শৌনক সূতকে প্রশংসা করেন—কুমার-উপদিষ্ট দুর্লভ তান্ত্রিক পদ্ধতি তিনি প্রকাশ করেছেন। সহস্র যুগ্ম-নাম শ্রবণের পর নারদ সনত্কুমারকে প্রণাম করে শাক্ততন্ত্রের সার, বিশেষত রাধার মহিমা, তাঁর বিকাশ ও যথাযথ মন্ত্রবিধি জানতে চান। সনত্কুমার গোলোক-কেন্দ্রিক দেবোৎপত্তি বলেন—কৃষ্ণের সমতুল্যা রাধা, কৃষ্ণের বাম দিক থেকে নারায়ণ, রাধার বাম দিক থেকে মহালক্ষ্মী, কৃষ্ণ-রাধার রোমকূপ থেকে গোপ-গোপী, বিষ্ণুর নিত্য মায়া রূপে দুর্গা, হরির নাভি থেকে ব্রহ্মা, কৃষ্ণের দ্বিভাগে বামে শিব ও ডানে কৃষ্ণ, এবং সরস্বতীর উৎপত্তি হয়ে বৈকুণ্ঠে গমন। পরে পঞ্চবিধ রাধা নিরূপণ করে রাধা, মহালক্ষ্মী, দুর্গা, সরস্বতী ও সাবিত্রী-সাধনার মন্ত্র-ধ্যান-অর্চনা, মন্ত্র-পরিমিতি, যন্ত্র/আবরণ বিন্যাস, দেবতালিকা, জপসংখ্যা, হোমদ্রব্য ও সিদ্ধি-প্রয়োগ (রাজবিজয়, সন্তানলাভ, গ্রহপীড়া নিবারণ, দীর্ঘায়ু, ঐশ্বর্য, কাব্যপ্রতিভা) বিস্তারিত বলা হয়। শেষে দিকরক্ষা ও দেহ-ন्यासসহ সাবিত্রী-পঞ্জর, সাবিত্রী-নামাবলি ও ফলশ্রুতি উপসংহৃত।

169 verses

Adhyaya 84

Bhuvaneśī (Nidrā-Śakti) Mantra-vidhi, Nyāsa–Āvaraṇa Worship, Padma-homa Prayogas, and the Opening of Śrī-Mahālakṣmī Upāsanā

সনৎকুমার ব্রাহ্মণকে প্রলয়যুগের কাহিনি দিয়ে বিধি স্থাপন করেন—বিষ্ণুর কর্ণমল থেকে মধু ও কৈটভের উৎপত্তি, পদ্মাসনে ব্রহ্মা নারায়ণের নয়নে নিদ্রা-শক্তি রূপে জগদম্বিকার স্তব করেন। এরপর ভুবনেশী/ভুবনেশ্বরীর সাধনা-সংহতি: বীজমন্ত্রের ঋষি-ছন্দ-দেবতা, ষড়ঙ্গ-ন্যাস ও মাতৃকা-স্থাপন, দেহস্থানে মন্ত্র-ন্যাস (ব্রহ্মা, বিষ্ণু, রুদ্র, কুবের, কাম, গণপতি-সম্পর্কিত), ধ্যান, জপসংখ্যা ও নির্দিষ্ট দ্রব্যে হোম। যন্ত্র/মণ্ডল (পদ্মদল, ষট্কোণ, নবশক্তি, আবরণপূজা) এবং দিকপূজায় যুগল দেবতা ও সহচরী শক্তিদের আরাধনা। শেষে বশীকরণ, সমৃদ্ধি, কাব্যবুদ্ধি, বিবাহ, সন্তানলাভের প্রয়োগ, এবং মহিষাসুর প্রসঙ্গে প্রবেশসহ শ্রী-বীজ মন্ত্রতত্ত্ব—ভৃগু ঋষি, নিবৃত ছন্দ, শ্রী দেবতা।

57 verses

Adhyaya 85

The Classification and Explanation of Yakṣiṇī Mantras (Kālī and Tārā Vidyās)

এই অধ্যায়ে সনৎকুমার বাক্-শক্তিরূপিণী দেবীর মন্ত্রপদ্ধতি শেখান—প্রথমে বাক্-দেবী কালী-বিদ্যা, পরে তারা-কেন্দ্রিক বিদ্যা। মন্ত্রের ঋষি, ছন্দ, দেবতা, বীজ, শক্তি প্রভৃতি অঙ্গ, অঙ্গন্যাস ও মাতৃকান্যাস, রক্ষাকর্ম এবং কালী-ধ্যানের মূর্তি-লক্ষণ বর্ণিত। ষট্কোণ, আন্তঃবিন্যস্ত ত্রিভুজ, পদ্ম ও ভূপুরসহ যন্ত্রনির্মাণ, সহচর শক্তি/মাতৃকা, এবং সিদ্ধিলাভের জন্য জপ-হোমের সংখ্যা ও রক্তপদ্ম, বিল্ব, করবীর ইত্যাদি নিবেদন বলা হয়েছে। তারার ষোড়শন্যাসে গ্রহ, লোকপাল, শিব–শক্তি ও চক্রস্থাপন, দিগ্বন্ধ ও কবচসদৃশ সুরক্ষা বিস্তারিত। অহিংসা ও কঠোর বাক্য পরিহারের নৈতিক সতর্কতাও আছে, সঙ্গে কিছু তান্ত্রিক শ্মশান-প্রতীক। শেষে তাবিজ/যন্ত্রের ব্যবহার—রক্ষা, বিদ্যা, বিজয় ও সমৃদ্ধির জন্য—উপদেশিত।

145 verses

Adhyaya 86

Yakṣiṇī-Mantra-Sādhana Nirūpaṇa (Lakṣmī-avatāra-vidyāḥ: Bālā, Annapūrṇā, Bagalā)

সনৎকুমার নারদকে সরস্বতীর প্রকাশ থেকে এগিয়ে লক্ষ্মী-সম্পর্কিত মন্ত্রাবতার-বিদ্যায় প্রবেশ করান, যা মানব-প্রয়োজনে সিদ্ধি দেয়। শুরুতে ত্রি-বীজ, ঋষি দক্ষিণামূর্তি, ছন্দ পঙ্ক্তি ও দেবতা ত্রিপুরা-বালা নির্ধারণ করে অঙ্গ-কর-ন্যাস, নব-যোনি-পাঠ, দেবীনাম দ্বারা স্থাপন এবং পঞ্চবীজ কামেশী-ক্রমে কামের নাম ও বাণ-দেবতাদের উল্লেখ আছে। পরে নব-যোনি মূল, অষ্টদল আবরণ, মাতৃকা-পরিধি, পীঠশক্তি, পীঠ, ভৈরব ও দিকপালসহ যন্ত্রবিধান, জপ-হোম সংখ্যা এবং বাক্সিদ্ধি, সমৃদ্ধি, দীর্ঘায়ু, রোগশমন, আকর্ষণ/বশীকরণ প্রভৃতি প্রয়োগ, উৎকীলন, দীপিনী ও গুরুপরম্পরা-আরাধনা বর্ণিত। উত্তরার্ধে অন্নপূর্ণার বিশাক্ষরী বিদ্যা যন্ত্র ও শক্তিসমূহসহ, এবং শেষে বগলামুখীর স্তম্ভন-পদ্ধতি—মন্ত্রবিন্যাস, ধ্যান, যন্ত্রভেদ, হোমদ্রব্য ও স্তম্ভন, উচ্চাটন, রক্ষা, প্রতিষেধ, দ্রুতগমন, অদৃশ্যতা ইত্যাদি বিশেষ ক্রিয়া—উপদেশ দিয়ে অধ্যায় সমাপ্ত।

116 verses

Adhyaya 87

The Description of the Four Durgā Mantras

সনৎকুমার দ্বিজ শ্রোতাদের উপদেশে লক্ষ্মীর প্রকাশ থেকে সরে এসে দুর্গার মন্ত্রতত্ত্ব ব্যাখ্যা করেন। প্রথমে ছিন্নমস্তার দীর্ঘ মন্ত্রপদ্ধতি—ঋষি-ছন্দ-দেবতা নির্ণয়, বীজ/শক্তি, ষড়ঙ্গ ও রক্ষা-ন্যাস, এবং স্বশিরচ্ছিন্ন দেবীর সপরিচার ধ্যান—বর্ণনা করে মহাজপ ও হোমের বিধান দেন; পরে দিকপাল, দ্বারপাল ও অঙ্গদেবতাসহ মণ্ডল/পীঠপূজার ক্রম আসে। হোমদ্রব্যের তালিকা ও তার সিদ্ধি (সমৃদ্ধি, বাক্‌শক্তি, আকর্ষণ, স্তম্ভন, উচ্চাটন, দীর্ঘায়ু) বলা হয়েছে। এরপর ত্রিপুরভৈরবীর মন্ত্ররচনা (তিন বীজে পঞ্চকূট), নবযোনি ও বাণ-ন্যাস, সূর্যপ্রভ ধ্যান ও হোমবিধি। তারপর মাতঙ্গীর জটিল দেহ-ন্যাস, কবচরক্ষা, অষ্ট/ষোড়শদল পদ্মমণ্ডল, সহচর দেবতা এবং বশীকরণ, বৃষ্টি, জ্বরনিবারণ, ঐশ্বর্যপ্রয়োগ। শেষে ধূমাবতীর ঋষি-ছন্দ-দেবতা, কঠোর ধ্যান ও বিঘ্ন-জ্বরনাশক শত্রুকর্ম বলে চার দুর্গা-অবতারের মন্ত্রসমূহ সম্পূর্ণ করা হয়েছে।

170 verses

Adhyaya 88

Rādhā-sambaddha-mantra-vyākhyā (Rādhā-Related Mantras Explained)

সূত বলেন—যজ্ঞপূজার বিধি শুনে নারদ সনৎকুমারকে আদ্য-মাতা-রূপা শ্রী রাধার যথাযথ উপাসনা ও দিব্য প্রকাশের কলা-বিভাগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। সনৎকুমার ‘অতি গোপন’ ব্যাখ্যায় চন্দ্রাবলী, ললিতা প্রভৃতি প্রধান সখীদের নাম করে বত্রিশ সখীর বৃহৎ পরিমণ্ডল উল্লেখ করেন এবং বাণীতে ব্যাপ্ত ষোলো কলা ও উপকলার তত্ত্ব জানান। পরে মন্ত্রশাস্ত্রের সংকেত—বর্ণ ও তত্ত্ব-নির্দেশ, হংস ছন্দ/জপ-পদ্ধতির ভেদ, এবং ত্রিপুরসুন্দরী-শ্রীবিদ্যা পরম্পরার যোগ—বর্ণিত হয়। অঙ্গ ও ব্যাপক ন্যাস, যন্ত্ররচনা (দলপদ্ম, ষট্কোণ, চতুরশ্র, ভূপুর) এবং ধ্যানমূর্তির বর্ণ, বাহু, অস্ত্র, অলংকারের বিধান দেওয়া হয়। শেষে চন্দ্রতিথি-সম্বন্ধীয় নিত্যাদেবীদের বিদ্যা-মন্ত্র (কামেশ্বরী, ভাগমালিনী, নিত্যক্লিন্না, ভেরুণ্ডা, মহাবজ্রেশ্বরী, দূতী/বহ্নিবাসিনী, ত্বরিতা, নীলপতাকা, বিজয়া, জ্বালামালিনী, মঙ্গলা ইত্যাদি) নির্দিষ্ট করে বলা হয়—এই উপাসনায় সিদ্ধি, সমৃদ্ধি ও পাপনাশ লাভ হয়।

259 verses

Adhyaya 89

The Account of the Lalitā Hymn, the Protective Armor (Kavaca), and the Thousand Names (Sahasranāma)

এই অধ্যায়ে সনৎকুমার নারদকে ক্রমান্বয়ে শাক্ত-শ্রীবিদ্যা সাধনা শেখান—(১) গুরু-ধ্যানভিত্তিক সময়-নিয়ম ও আবরণ-চেতনা সহ প্রারম্ভিক বিধি, (২) গুরু-স্তবে শিবকে গুরু ও অবতীর্ণ পবিত্র জ্ঞানের উৎসরূপে স্বীকৃতি, (৩) দেবীকে মন্ত্র-মাতৃকা রূপে ধ্যান—যেখানে অক্ষরসমূহ ত্রিলোক ধারণ করে এবং মন্ত্রসিদ্ধির জগত্-পরিবর্তক শক্তি প্রশংসিত, (৪) ললিতা-কবচে নব-রত্নের প্রতীক, দিক্ ও ঊর্ধ্ব-অধঃ রক্ষা, এবং মন-ইন্দ্রিয়-প্রাণ ও নৈতিক সংযম পর্যন্ত অন্তর্গত সুরক্ষা, (৫) সহস্রনাম ও ষোড়শী-বিন্যাসের ঘোষণা ও আংশিক বিবরণ—দেবীর রূপ, শক্তি, সিদ্ধি, বর্ণবর্গ, যোগিনীচক্র, চক্রস্থান ও বাক্-তত্ত্ব, (৬) ফলশ্রুতিতে জপের ক্রমফল—সমৃদ্ধি, রক্ষা, বশীকরণ, বিজয় এবং শেষে সহস্রনামকে কামনা-পূরণ ও মোক্ষ-সহায়ক বলা হয়েছে।

179 verses

Adhyaya 90

Nityā-paṭala-prakaraṇa (The Exposition of the Nityā-paṭala)

এই অধ্যায়ে সনৎকুমার নারদকে নিত্যপূজার এক ‘প্রদীপ’ শিক্ষা দেন, যার কেন্দ্রে আদ্যা ললিতা—শিব-শক্তির অভেদ পরিচয়। শুরুতে মন্ত্রতত্ত্ব: ললিতানামের সংক্ষিপ্ত অর্থ, বিশ্বকে হৃল্লেখা-রূপে দেখা, এবং ঈ-স্বর ও বিন্দু দ্বারা ধ্বনির পরিপূর্ণতা ব্যাখ্যা করা হয়। পরে পিণ্ডকর্তৃ বীজমালা-ভেদ, পাঠবিন্যাসের পদ্ধতি, দেবীর উদ্ভব-ধ্যান ও শিবের বিশ্রাম-ধ্যান থেকে অদ্বৈত স্বপ্রকাশ স্ফুরত্তা পর্যন্ত আলোচনা আসে। এরপর অর্ঘ্য ও উপাসনার জন্য আসব (গৌড়ী, পাইষ্টী, মাধ্বী, উদ্ভিদজাত) প্রস্তুতির বিধি এবং ভক্ষণ-নীতিতে কঠোর সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। কাম্যপূজার মাসভিত্তিক ও বারভিত্তিক অর্ঘ্য-উপহার, পর্বত-অরণ্য-সমুদ্রতট-শ্মশান প্রভৃতি স্থানবিশেষ ক্রিয়া, এবং পুষ্প/দ্রব্য অনুযায়ী স্বাস্থ্য, ঐশ্বর্য, বাক্সিদ্ধি, বিজয়, বশীকরণ ইত্যাদি ফল নির্দিষ্ট করা হয়। চক্র-যন্ত্র নির্মাণ (ত্রিভুজ, রঞ্জক, কেশর-নিয়ম), দেবীর উপাধি (বিবেকা, সরস্বতী ইত্যাদি), জপ–হোম–তর্পণ–মার্জন–ব্রাহ্মণভোজনের অনুপাত, যুগানুসারে সংখ্যা ও শ্রীবিদ্যার বিভিন্ন রূপে সিদ্ধির জন্য জপ-পরিমাণ জানিয়ে অধ্যায়টি বলে—সব প্রয়োগ যন্ত্র-সংস্কার ও শুচি-শৃঙ্খলার উপর নির্ভর।

239 verses

Adhyaya 91

The Exposition of the Maheśa Mantra (Mahēśa-mantra-prakāśana)

এই অধ্যায়ে সনৎকুমার নারদকে সম্পূর্ণ শৈব মন্ত্র-সাধনার বিধান শেখান, যা ভোগ ও মোক্ষ—উভয়ই প্রদানকারী। পঞ্চ-, ষড়- ও অষ্টাক্ষর মন্ত্ররূপ, ঋষি–ছন্দ–দেবতা নির্ধারণ, এবং স্তরক্রমে ন্যাস—ষড়ঙ্গ-ন্যাস, পঞ্চমুখ (ঈশান, তৎপুরুষ, অঘোর, বামদেব, সদ্যোজাত) সহ অঙ্গুলি-ন্যাস, জাতি/কলা-ন্যাস (আটত্রিশ কলা), ও গোলক/ব্যাপক রক্ষাবিন্যাস বর্ণিত। পঞ্চবক্ত্র ত্রিনেত্র চন্দ্রশেখর আয়ুধধারী মহেশ্বরের ধ্যান, জপ–হোমের অনুপাত ও দ্রব্য (পায়স, তিল, আরগ্বধ, করবীর, মিছরি, দূর্বা, সর্ষে, আপামার্গ) বলা হয়েছে। শক্তি, মাতৃকা, লোকপাল, অস্ত্রাদি ও গণেশ, নন্দী, মহাকাল, চণ্ডেশ্বর, স্কন্দ, দুর্গা প্রভৃতির আবরণপূজা নির্দেশিত। পরে মৃত্যুঞ্জয়, দক্ষিণামূর্তি (বাক্‌সিদ্ধি/ব্যাখ্যা), নীলকণ্ঠ (বিষনাশ), অর্ধনারীশ্বর, অঘোরাস্ত্র (ভূত-বেতাল দমন), ক্ষেত্রপাল-বটুক (বলি/রক্ষা) ও চণ্ডেশ্বরের বিশেষ ক্রিয়া, এবং শেষে শিবের সর্বব্যাপিতা ও উদ্ধারশক্তি ঘোষক স্তোত্র রয়েছে।

236 verses

Read Narada Purana in the Vedapath app

Scan the QR code to open this directly in the app, with audio, word-by-word meanings, and more.

Continue reading in the Vedapath app

Open in App