
The First Part -- Narada's Bhakti Teachings
নারদপুরাণের পূর্বভাগ (পুস্তক ১) শুরু হয় নৈমিষারণ্যের সত্রে, যেখানে সূত মুনি সমবেত ঋষিদের উদ্দেশে এই পুরাণের প্রামাণ্যতা, মোক্ষদায়িনী শক্তি এবং শ্রবণ–কীর্তনের কল্যাণফল প্রতিষ্ঠা করেন। সূচনাতেই বোঝানো হয়—এ গ্রন্থ কেবল কাহিনি নয়, মুক্তির পথনির্দেশ। এরপর বহুস্তর সংলাপধারা গড়ে ওঠে: সূত নারদের প্রশ্নগুলি সনকের কাছে নিবেদন করেন, আর সনক বিষ্ণুকেন্দ্রিক অদ্বৈত তত্ত্বে উত্তর দেন। নারায়ণ সর্বব্যাপী ব্রহ্ম; জগৎ তাঁরই আধার, এবং ব্রহ্মা–রুদ্র প্রভৃতি কার্যকর দেবতারা তাঁর অধীন শক্তিরূপে কাজ করেন। এই তত্ত্বভিত্তির উপর ভারতখণ্ডের মহিমা, লোকবিন্যাস ও তীর্থভাবনা ধর্মাচরণ ও তীর্থযাত্রার মানচিত্রের মতো উপস্থাপিত হয়। তত্ত্ব থেকে আচারে এসে গ্রন্থ ঘোষণা করে—শ্রদ্ধাই ধর্মের মূল, ভক্তিই সকল সাধনার প্রাণ; ভক্তি না থাকলে মহাযজ্ঞ ও মহাদানও নিষ্ফল। মার্কণ্ডেয়-চক্রে ভক্তিধর্মের আদর্শ দেখানো হয়, তারপর গঙ্গামাহাত্ম্য ও ভাগীরথ-প্রসঙ্গ দীর্ঘভাবে বিস্তৃত হয়। বাহু–সগর–ভাগীরথ বংশকথা, শাপ, শুদ্ধি ও গঙ্গাবতরণের মাধ্যমে পাপনাশ, সদাচার, তীর্থস্পর্শ, সাধুসেবা ও হরিভক্তির শ্রেষ্ঠত্ব শেখানো হয়; বিষ্ণুপাদোদ্ভবা গঙ্গার তারকত্ব বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত। ধর্মরাজ যমের উপদেশাংশে ধর্মশাস্ত্রধর্মী আলোচনা দেখা যায়—পুণ্যের স্তরভেদ, অশৌচ-নিয়ম, পাপের শ্রেণিবিভাগ, নরকের নাম ও যন্ত্রণা, এবং প্রায়শ্চিত্তের সীমা ও প্রয়োজন। তবু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত—অন্য উপায় ব্যর্থ হলে ভক্তি ও গঙ্গাশ্রয়ই শেষ আশ্রয়। শেষে বৈষ্ণব ব্রতাচারকে বার্ষিক ক্যালেন্ডার-অনুযায়ী সহজ সাধনায় রূপ দেওয়া হয়—মাসভিত্তিক দ্বাদশী-ব্রত, পূর্ণিমায় লক্ষ্মী–নারায়ণ পূজা, এবং ধ্বজা-আরোপণ/ধারণ/গোপনের বিধান। সুমতি–সত্যমতীর মতো কাহিনি এই ব্রতগুলির মহিমা প্রকাশ করে এবং মহাদান ও তীর্থফলের তুল্য বা শ্রেষ্ঠ বলে স্থির ভক্তি, রক্ষা ও পাপনাশের পথ দেখায়।
Purva Bhaga contains 4 Padas (quarters).