Venkatachala Mahatmya
Vishnu Khanda40 Adhyayas

Venkatachala Mahatmya

Venkatachala Mahatmya

This section is anchored in the sacred mountain geography of Veṅkaṭācala (Tirumala–Veṅkaṭeśvara hill complex in South India), presenting the landscape as a theologically charged tīrtha where divine presence is narrated through temple-centric myth, ritual instruction, and merit discourse. The setting repeatedly ties mountain topography to Vaiṣṇava iconography (Śrīnivāsa/Janārdana) and to the protective, stabilizing symbolism of Varāha in relation to Bhūdevī (Dharaṇī).

Adhyayas in Venkatachala Mahatmya

40 chapters to explore.

Adhyaya 1

Adhyaya 1

Veṅkaṭācalamāhātmya (Adhyāya 1): Nāradasya Varāhadarśanam, Dharaṇī–Varāha-saṃvādaḥ, Tīrtha-māhātmya-nirdeśaḥ

অধ্যায় ১ শুরু হয় নৈমিষারণ্যে—শৌনক প্রমুখ ঋষিগণ বিশ্বরক্ষার্থে বারো বছরের সত্রযজ্ঞ করছেন এবং পৌরাণিক সূত উগ্রশ্রবাকে স্কন্দপুরাণ বর্ণনার জন্য আহ্বান করেন। সূত ব্যাসকে করা পূর্বপ্রশ্ন স্মরণ করিয়ে দেন; ব্যাস এক প্রাচীন কাহিনি বলেন—নারদ সুমেরুতে আরোহণ করে বিশ্ব-পিপ্পল বৃক্ষের নীচে দীপ্তিমান দিব্য মণ্ডপ দেখেন এবং পদ্মাসনে অধিষ্ঠিত বরাহমুখ পুরুষোত্তমের, ঋষি ও দেবগণের সেবিত, দর্শন লাভ করেন। সেখানে ধরণী (পৃথিবী) সখীদের সঙ্গে উপহার নিয়ে উপস্থিত হন; বরাহ তাঁকে আলিঙ্গন করেন, আর ধরণী তাঁর ভিত্তিস্বরূপ প্রধান পর্বতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। বরাহ নানা পর্বতশ্রেণির নাম করে দক্ষিণের পুণ্যভূমির বিশেষ মাহাত্ম্য প্রকাশ করেন—নারায়ণাদ্রি/শ্রীভেঙ্কটাচল, সুবর্ণমুখরী, কমলাক্ষ সরোবর এবং মন্দিরাঞ্চলের কথা বলেন। এরপর তীর্থের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ণয় করে স্বামিপুষ্করিণীকে সর্বশ্রেষ্ঠ ঘোষণা করা হয় এবং তাতে অসংখ্য তীর্থের (প্রচলিত ‘ছেষট্টি কোটি’) উপস্থিতি বলা হয়; পাশাপাশি ছয়টি প্রধান তীর্থ নির্দিষ্ট করা হয়। কুমারধারিকা, তুম্ব, আকাশগঙ্গা, পাণ্ডব, পাপনাশন ও দেবতীর্থে নির্দিষ্ট সময়ে স্নানের ফল বর্ণিত হয়। শেষে ধরণীর বরাহ-স্তব, বরাহের ধরণীসহ বৃষভাচল/শেষাচলে গমন এবং ভক্তিভরে পাঠ বা শ্রবণে মর্যাদা ও ইষ্টফলপ্রাপ্তির ফলশ্রুতি দিয়ে অধ্যায় সমাপ্ত হয়।

Adhyaya 2

Adhyaya 2

Śrīvarāha-mantrārādhanavidhiḥ (The Ritual Procedure for Worship through the Śrīvarāha Mantra)

এই অধ্যায়ে সূত প্রাচীন এক কাহিনি বলেন—বৈবস্বত মন্বন্তরের কৃতযুগে নারায়ণাদ্রিতে ধরিত্রী দেবী বরাহ ভগবানের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করেন, কোন মন্ত্রে তিনি প্রসন্ন হন এবং কোন সাধনায় সর্বাঙ্গীন ফল—সমৃদ্ধি, রাজঐশ্বর্য, সন্তানলাভ ও সংযমী সাধকের জন্য পরমে ভগবৎপদ—প্রাপ্ত হয়। বরাহ ভগবান এক ‘অতিগুপ্ত’ মন্ত্র প্রকাশ করেন এবং বলেন, এটি কেবল ভক্ত ও সংযত ব্যক্তিকেই প্রদানযোগ্য। এরপর মন্ত্রের পরিচয় দেওয়া হয়—“ওঁ নমঃ শ্রীবরাহায় ধরন্যুদ্ধরণায় চ”; ঋষি: সঙ্কর্ষণ, দেবতা: বরাহ, ছন্দ: পঙ্ক্তি, বীজ: শ্রী-বীজ। সদ্গুরুর কাছ থেকে প্রাপ্ত সাধকের জন্য চার লক্ষ জপ নির্দিষ্ট, তারপর মধু-ঘৃতযুক্ত পায়স দিয়ে হোমের বিধান। ধ্যানে বরাহের স্ফটিকসম দীপ্তি, পদ্মরক্ত নয়ন, বরাহমুখে সৌম্যতা, চার বাহুতে চক্র-শঙ্খ-অভয়-মুদ্রা ও পদ্ম, রক্ত-সোনালি বস্ত্রাভরণ এবং শेषাদি বিশ্বাধার-চিহ্নসহ রূপ বর্ণিত। ফলশ্রুতিতে বলা হয়—প্রতিদিন ১০৮ বার জপে কাম্য সিদ্ধি হয় এবং শেষে মুক্তি লাভ হয়। পরে দৃষ্টান্তে বলা হয়—ধর্ম নামক মনু দেবতুল্য অবস্থা লাভ করেন, শাপে পতিত ইন্দ্র স্বর্গ পুনরুদ্ধার করেন, ঋষিরা উচ্চ গতি পান, আর শ্বেতদ্বীপে জপ করে অনন্ত পৃথিবীর আধার হন। শেষে ধরিত্রী শ্রীনিবাসের বেঙ্কটে আগমন ও সেখানে চিরবাস সম্পর্কে প্রশ্ন করেন।

Adhyaya 3

Adhyaya 3

अगस्त्यप्रार्थनया भगवतः सर्वजनदृग्गोचरत्ववर्णनम्; तथा पद्मावत्युत्पत्तिः वसुदानजन्म च (Agastya’s Petition for Divine Visibility; Origins of Padmāvatī and Birth of Vasudāna)

এই অধ্যায়ে শ্রীবরাহ ধরণীকে (পৃথিবী) পূর্ববৃত্তান্ত শোনান। বেঙ্কটাচলে স্বামিপুষ্করিণীর নিকটে শ্রীনিবাস/হরি দিব্য বিমানে অধিষ্ঠিত; বলা হয় তিনি কল্পান্ত পর্যন্ত সাধারণ লোকের অদৃশ্য, তবু দেবাদেশে সর্বজনের পূজ্য হন। ধরণী প্রশ্ন করেন—দেবতা যদি মর্ত্যদের দৃষ্টিগোচর না হন, তবে লোকাচার-সহ পূজা কীভাবে চলবে? শ্রীবরাহ তখন অগস্ত্যের দ্বাদশবর্ষব্যাপী আরাধনা ও প্রার্থনার কথা বলেন; অগস্ত্য চান প্রভু যেন সকল দেহধারীর কাছে প্রকাশিত হন, এবং ভগবান বিমানের মহিমা অক্ষুণ্ণ রেখে সর্বজনকে দর্শন দেন। পরবর্তী অংশে বংশ ও উৎপত্তিকথা। পরবর্তী যুগচক্রে রাজা মিত্রবর্মার উত্থান এবং সেখান থেকে আকাশরাজ পর্যন্ত বংশপরম্পরা বর্ণিত হয়। যজ্ঞীয় হালচাষের সময়ে ভূমি থেকে পদ্মাবতীর আবির্ভাব; তাঁকে কন্যারূপে গ্রহণ করে রানি ধরণীর তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়। এরপর ধরণী শুভ লক্ষণে ভাসুদানকে প্রসব করেন; তার অস্ত্রবিদ্যা ও শাস্ত্র-শিক্ষার সংক্ষিপ্ত বিবরণ রাজধর্ম, বৈধতা ও অঞ্চলের পবিত্র ইতিহাসকে প্রতিষ্ঠা করে।

Adhyaya 4

Adhyaya 4

Pad्मिनी/Pad्मावती-Lakṣaṇa and Śrīnिवास Encounter in the Puṣpāṭavī (Chapter 4)

এই অধ্যায়ে সূতের বর্ণনায় ধরণীর প্রশ্ন উঠে আসে, আর বরাহদেব উত্তরে বলেন—আকাশরাজ ভূমিজ কন্যার নাম রাখেন “পদ্মিনী”। এরপর পদ্মাবতীর উদ্যান-আশ্রমের কাছে দেবর্ষি নারদ হঠাৎ উপস্থিত হন; পদ্মাবতীর অনুরোধে তিনি শুভ দেহলক্ষণসমূহের বিস্তৃত বিবরণ দেন এবং শেষে ঘোষণা করেন যে তাঁর রূপ “বিষ্ণু-যোগ্য” ও লক্ষ্মীর সদৃশ। নারদের অন্তর্ধানের পর পদ্মিনী/পদ্মাবতী সখীদের সঙ্গে বসন্তের ফুল তুলতে পুষ্পাটবীতে প্রবেশ করেন; নানা পুষ্পের তালিকা ও বনভূমির পবিত্র-রসাত্মক পরিবেশ বর্ণিত হয়। তখন এক ভয়ংকর হাতি দেখা দিলে আতঙ্ক ছড়ায়, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে অশ্বারূঢ় ধনুর্ধর দীপ্তিমান পুরুষ আবির্ভূত হন—ভেঙ্কটাদ্রি-নিবাসী শ্রীনিবাস, যিনি এই কাহিনিতে নিজেকে সূর্যবংশীয় “কৃষ্ণ” বলে পরিচয় দেন। নারীরা বলে ‘ঈহামৃগ’ তারা দেখেনি, এটি রাজরক্ষিত বন, এবং তাঁর পরিচয় জানতে চায়; তিনি শিকার করতে এসেছেন বলে জানিয়ে পদ্মাবতীকে দেখে আকৃষ্ট হওয়ার কথা স্বীকার করেন, পরে রাজদণ্ডের আশঙ্কায় সখীদের সতর্কবাণী শুনে সহচরদের সঙ্গে দ্রুত পর্বতের দিকে চলে যান।

Adhyaya 5

Adhyaya 5

पद्मावतीदर्शन-प्रसङ्गः तथा बकुलमालिकाया यात्रामार्ग-निर्देशः (Padmāvatī Encounter and Bakulamālikā’s Route Instructions)

এই অধ্যায়ে দেব-আগমনের পর কাহিনি অন্তর্মুখী আকুলতায় মোড় নেয়। শ্রীনিবাস রত্নখচিত মণ্ডপে প্রবেশ করে পদ্মাবতীর সৌন্দর্যস্মরণে নিমগ্ন হন এবং মোহাচ্ছন্ন তন্ময় অবস্থায় স্থির হয়ে যান। তখন বকুলমালিকা সুসজ্জিত নৈবেদ্য-উপহার নিয়ে এসে তাঁর দেহ-মনগত লক্ষণ দেখে প্রশ্ন করে এবং সেই অবস্থার ব্যাখ্যা করে। শ্রীনিবাস উত্তরে পদ্মাবতীর পূর্বযুগীয় যোগসূত্র বলেন—বেদবতী/সীতার প্রসঙ্গ এবং পরবর্তী যুগে মিলনের প্রতিশ্রুতি—যাতে বর্তমান প্রেম ধর্ম-প্রতিজ্ঞা ও দैব অভিপ্রায়ের ধারাবাহিকতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর তিনি বকুলমালিকাকে যাত্রাপথ নির্দেশ দেন: নৃসিংহ-গুহা, অগস্ত্যাশ্রম ও সুবর্ণমুখরী তীরে অগস্ত্যেশ-লিঙ্গ, তারপর বন-সরোবর অতিক্রম করে নারায়ণপুরী/আকাশরাজার নগরী। পথে বৃক্ষ-পক্ষী-পশুর সমৃদ্ধ বর্ণনা এক পবিত্র মানচিত্রের মতো ভূমিকে ধর্মের সঙ্গে বেঁধে দেয়। শেষে বকুলমালিকা যাত্রা শুরু করে পদ্মাবতীর সখীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, পরবর্তী সংলাপের সূচনা হয়।

Adhyaya 6

Adhyaya 6

Padmāvatī’s Vision, Royal Divination, and Vaiṣṇava Marks of Devotion (Chapter 6)

এই অধ্যায়ে রাজপ্রাসাদের কাহিনি ও বৈষ্ণব-ধর্মশিক্ষা একসূত্রে গাঁথা। আকাশরাজার অন্তঃপুরের নারীরা জানায়—রাজকুমারী পদ্মাবতীর সঙ্গে ফুল তুলতে গিয়ে তারা গাছতলায় এক আশ্চর্য পুরুষকে দেখেছিল: ইন্দ্রনীল-শ্যাম, স্বর্ণালঙ্কার ও অস্ত্রে ভূষিত; তিনি মুহূর্তে অন্তর্ধান করেন, আর পদ্মাবতী অচেতন হয়ে পড়েন। রাজা দैবজ্ঞকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন গ্রহলক্ষণ মোটের উপর শুভ, তবে এক রহস্যময় ব্যাঘাত আছে—অসাধারণ সেই পুরুষদর্শনে কুমারী প্রভাবিত, শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গেই মিলন হবে; এক দূতী নারীও কল্যাণকর উপদেশ নিয়ে আসবে। প্রতিকার হিসেবে ব্রাহ্মণদের দ্বারা অগস্ত্যেশ-লিঙ্গে অভিষেকের বিধান দেওয়া হয়। এরপর শ্রীবেঙ্কটাদ্রি থেকে বকুলমালিকা এসে প্রাসাদে প্রবেশ করে। ধরণী (দেবী/রানী-রূপ) এক পুলিন্দিনীকে জিজ্ঞাসা করে সত্য নির্ণয় করেন—পদ্মাবতীর ব্যাধি প্রেমজাত; কারণ স্বয়ং বৈকুণ্ঠপতি হরি, যিনি স্বামিপুষ্করিণীর নিকটে বেঙ্কটাদ্রিতে বিচরণ করেন; তিনি ললিতাকে মধ্যস্থ করে পাঠাবেন এবং মিলন ঘটবে। শেষে পদ্মাবতী ভক্তলক্ষণ ব্যাখ্যা করেন—শঙ্খ-চক্রচিহ্ন, ঊর্ধ্বপুণ্ড্র, দ্বাদশ নামধারণ ইত্যাদি বাহ্যচিহ্ন; আর বেদপাঠ, সত্য, অদ্বেষ, ব্রহ্মচর্য/সংযম, দয়া ইত্যাদি অন্তর্নিয়ম। হোম ও উত্তপ্ত মুদ্রায় পঞ্চায়ুধ (শঙ্খ, চক্র, ধনু-বাণ, গদা, খড়্গ) অঙ্কনের বিধিও বলা হয়। শেষে নারীরা অগস্ত্যেশ-উপাসনা সম্পন্ন করে ব্রাহ্মণদের অন্ন ও দান দিয়ে সম্মান করে।

Adhyaya 7

Adhyaya 7

बकुलमालिकादूत्यं पद्मावतीपरिणयनिश्चयश्च (Bakula-mālikā’s Embassy and the Determination of Padmāvatī’s Marriage)

এই অধ্যায়ে রাজসভা থেকে মন্দির-পরিসর পর্যন্ত এক কূটনৈতিক-ধর্মীয় ধারায় পদ্মাবতী–শ্রীনিবাসের বিবাহকথা আচার ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে রানি ধরনী আগত দিব্য পরিচারিকা বকুলমালিকার পরিচয় ও উদ্দেশ্য জিজ্ঞাসা করে অনুসন্ধান-প্রথা ও বিশ্বাসযোগ্যতার নিয়ম স্থির করেন। বকুলমালিকা ভেঙ্কটাদ্রিতে শ্রীনিবাসের বিচরণ, অরণ্য-প্রসঙ্গ এবং স্বামীতীর্থে রাজা শঙ্খের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বলেন; সেখানে তপস্যা ও মন্দির-স্থাপনকে বৈধ ভক্তিমার্গ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। শ্রীনিবাস পথ-নির্দিষ্ট নির্দেশ দেন—বিশেষত বিষ্বক্সেনকে সম্মান ও স্বামিপুষ্করিণীতে স্নান—যাতে তীর্থভূগোল ও অনুমোদিত আচারের যোগ ঘটে। এরপর রাজকীয় সিদ্ধান্তপর্ব। আকাশরাজ মন্ত্রীদের সঙ্গে পুরোহিত-জ্যোতিষাধিকারী বৃহস্পতির পরামর্শে বিবাহের শুভক্ষণ নির্ধারণ করেন—বৈশাখ মাসে উত্তরফাল্গুনী নক্ষত্রে। তারপর সর্বজনীন উৎসব: বিশ্বকর্মার নগরসজ্জা, ইন্দ্রের পুষ্পবৃষ্টি এবং অন্যান্য দেবতার মঙ্গল-উপহার—সমবেত শুভব্যবস্থার চিত্র ফুটে ওঠে। শেষে বকুলমালিকা ও শুক-দূত শ্রীনিবাসের কাছে ফিরে পদ্মাবতীর নিবেদন পৌঁছে দেন; শ্রীনিবাস মালা প্রেরণ করে সম্মতি জানান, এবং দেবাগমনের জন্য রাজকীয় আতিথ্য ও বিবাহ-প্রস্তুতি শুরু হয়।

Adhyaya 8

Adhyaya 8

Śrīnिवासस्य लक्ष्म्यादिकृत-परिणयालंकारः — The Bridal Adornment and Marriage Procession of Śrīnिवास

এই অষ্টম অধ্যায়ে শ্রীবরাহের বর্ণনায় শ্রীনিবাস লক্ষ্মীকে আহ্বান করে বিবাহ-প্রস্তুতি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেন। তখন শ্রুতি, স্মৃতি, ধৃতি, শান্তি, হ্রী, কীর্তি প্রভৃতি বৈদিক তত্ত্ব যেন মূর্ত হয়ে উপস্থিত হয় এবং সুগন্ধি তেল, বস্ত্র, অলংকার, দর্পণ, কস্তুরী ও রাজচিহ্নসহ নানা আচার-সামগ্রী নিয়ে আসে—ধর্মসম্মত মঙ্গল-অলংকরণের প্রতীকী সমাহার গঠিত হয়। লক্ষ্মী স্বর্গীয় ও তীর্থজল থেকে সংগৃহীত সুগন্ধি জলে অভ্যঙ্গ-স্নান করিয়ে প্রভুকে বস্ত্র-ভূষণে সাজান; দেবতা ঊর্ধ্বপুণ্ড্র ধারণ করে গরুড়ারূঢ় হয়ে নারায়ণপুরী/আকাশরাজার নগরীতে মহোৎসব-যাত্রা করেন, দেব-ঋষি-গন্ধর্ব-অপ্সরারা মঙ্গলপাঠে সহযাত্রী হয়। পদ্মাবতীর সঙ্গে ত্রিবার মালাবিনিময়, শুভ গৃহপ্রবেশ, মাঙ্গল্যসূত্র বাঁধা ও লাজা-হোমসহ বিবাহের প্রধান অঙ্গসমূহ সম্পন্ন হয়। পরে প্রাভৃত (উপহার) দানের দীর্ঘ তালিকা দেওয়া হয়েছে—শস্য, ঘি, দুগ্ধজাত দ্রব্য, ফল, বস্ত্র, স্বর্ণ-রত্ন, গবাদি পশু, ঘোড়া, হাতি ও পরিচারকবৃন্দ—যা রাজদানের ধর্মার্পণরূপ প্রকাশ করে। শেষে শ্রীনিবাস আকাশরাজকে বর দেন—অচঞ্চল ভক্তি ও চিত্তে ভগবৎপাদপদ্মে স্থিতি; দেবগণ স্বধামে প্রত্যাবর্তন করে এবং ভগবান স্বামিপুষ্করিণীর নিকটে অবস্থান করে পূজা গ্রহণ করেন।

Adhyaya 9

Adhyaya 9

अथ वसुनिषादवृत्तान्तः—रंगदासकैंकर्यं—तोण्डमान्नृपकथा—पद्मसरोवरमाहात्म्यम् (Vasu the Niṣāda, Raṅgadāsa’s service, Toṇḍamān’s encounter, and the Padma-saras glory)

এই অধ্যায়ে ধরিত্রীদেবী কলিযুগে পাহাড়ে ভগবানের দৃশ্য উপস্থিতি থাকবে কি না জিজ্ঞাসা করেন। বরাহভগবান্ সংলাপের মধ্যে চারটি দৃষ্টান্ত-কথা বলে তীর্থতত্ত্ব ও ভক্তির মাহাত্ম্য প্রকাশ করেন। প্রথম কাহিনিতে বনবাসী নিষাদ বসু পুরুষোত্তমের পরম ভক্ত হয়ে শ্রী ও ভূদেবীর সহিত প্রভুকে মধু-মিশ্রিত সিদ্ধ শ্যামাক অন্ন নিবেদন করে। মধু সংগ্রহ করে ফিরে এসে পুত্রের দ্বারা নিবেদিত ভোগ ভক্ষণকে চুরি ভেবে সে তরবারি তোলে; তখন বিষ্ণু বৃক্ষ থেকে প্রকাশ হয়ে তরবারি ধরে শিশুভক্তির প্রিয়তা জানান এবং স্বামীসর/স্বামিপুষ্করিণীতে নিত্য সান্নিধ্যের আশ্বাস দেন। দ্বিতীয় কাহিনিতে পাণ্ড্যদেশ থেকে আগত ভক্ত রঙ্গদাস বরাহ-স্থান, সুবর্ণমুখরী, কামলাখ্য সরোবর ও চক্রতীর্থ দর্শন করে স্বামিপুষ্করিণীর নিকটে শ্রীনিবাসকে দর্শন করে। সে উদ্যান, কূপ ও ফুলের নিত্যসেবা করে; কিন্তু একবার গন্ধর্বদের জলক্রীড়া দেখে মন বিচলিত হওয়ায় সেবা ব্যর্থ হয় এবং সে লজ্জিত হয়। দেবতা তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন—অন্তরের ভাবই মুখ্য; ভবিষ্যতে রাজসদৃশ সমৃদ্ধি, অবিচল ভক্তি এবং শেষে মুক্তি লাভ হবে। তৃতীয় কাহিনিতে সোমকুলরাজ তোণ্ডমান শিকার করতে করতে বেঙ্কটাদ্রির তীর্থসমূহ অতিক্রম করে দেবী রেণুকার নিকটে পৌঁছায়। ‘শ্রীনিবাস’ বলে ডাকা পাঁচরঙা টিয়া তাকে নিষাদ বনরক্ষকের কাছে নিয়ে যায়; সেই নিষাদ রাজাকে স্বামিপুষ্করিণীর কাছে গোপন দেবস্থান দেখায়। উভয়ে পূজা করে শ্যামাক-মধুর প্রসাদ গ্রহণ করে; রেণুকা ‘দেবদেব-প্রসাদ’ রূপে অজেয় রাজ্য ও তোণ্ডমান-নামক রাজধানীর বর দেন। শেষে শুক পদ্মসরসের মাহাত্ম্য বলেন—দুর্বাসার শাপে লক্ষ্মী (পদ্মা/রমা) পদ্মভরা সরোবরতীরে তপস্যা করেন; দেবগণ বিধিবৎ স্তব করেন। লক্ষ্মী স্নান, বিল্বপত্রে পূজা ও এই স্তোত্রপাঠে হারানো মর্যাদা, সমৃদ্ধি ও মোক্ষ দান করে বিষ্ণুর সঙ্গে গরুড়ারূঢ় হয়ে বৈকুণ্ঠে প্রত্যাবর্তন করেন।

Adhyaya 10

Adhyaya 10

Toṇḍamān’s Accession; Varāha Revelation at the Valmīka; Bilamārga Guidance; Aṣṭhi-saras Revival; Bhīma the Potter’s Liberation; Phalaśruti

এই অধ্যায়ে বেঙ্কটাচলে রাজধর্মের প্রতিষ্ঠা, তীর্থ-আবিষ্কার ও পূজাবিধির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ একসূত্রে গাঁথা। শুরুতে তোণ্ডমানের রাজ্যাভিষেক হয় এবং পদ্মসরসের পবিত্রতা বর্ণিত—কীর্তন, স্মরণ ও স্নানে পুণ্য ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি অরণ্যবাসীদের নেতা বসু দীপ্তিময় বরাহ-দেবকে দর্শন করে; দেবতা বাল্মীকে প্রবেশ করে নির্দেশ দেন—গোমাতার দুধে ঢিবি ধৌত করতে, শিলাপীঠে স্থিত বিগ্রহকে চিনে তুলে প্রতিষ্ঠা করতে এবং বৈখানস আচার্যদের দ্বারা নিয়মিত পূজা চালু করতে। তোণ্ডমান স্বপ্নে বিলমার্গ (সুরঙ্গপথ)-এর ইঙ্গিত পায়; পল্লবচিহ্ন প্রভৃতি দিব্য লক্ষণ অনুসরণ করে প্রাকার ও দ্বার নির্মাণ করে এবং তেঁতুল ও চাঁপা গাছকে দেবসান্নিধ্যের স্থায়ী চিহ্ন হিসেবে রক্ষা করতে আদেশ পায়। পরে এক নৈতিক-প্রশাসনিক পরীক্ষা আসে—রাজার তত্ত্বাবধানে গর্ভবতী ব্রাহ্মণী অবহেলায় মৃত্যুবরণ করে; শ্রীনিবাসের নির্দেশে ‘অপমৃত্যু-নিবারণ’খ্যাত অষ্টিসরসে স্নান-প্রায়শ্চিত্ত করলে তিনি পুনর্জীবিত হন। কুর্বগ্রামের কুমোর ভীমের সরল ভক্তি ও সামান্য নিবেদন ভগবান গ্রহণ করেন; রাজা দর্শনে এলে ভীম ও তাঁর স্ত্রী বৈকুণ্ঠ লাভ করেন। শেষে তোণ্ডমান উত্তরাধিকার স্থির করে তপস্যা করেন, ভগবানের দর্শন পেয়ে সারূপ্য ও বিষ্ণুপদ প্রাপ্ত হন। ফলশ্রুতিতে শ্রদ্ধাভরে শ্রবণ-পাঠ করলে উচ্চ ফল ও ভগবৎকৃপা লাভের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

Adhyaya 11

Adhyaya 11

स्वामिपुष्करिणी-स्नानमाहात्म्यं तथा काश्यपोपाख्यानम् (Glory of bathing in Swāmipuṣkariṇī and the Kāśyapa episode)

এই অধ্যায়ে স্বামিপুষ্করিণীকে মহাশুদ্ধিদায়ক তীর্থরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। সূত বলেন—কাশ্যপের স্বামিপুষ্করিণীতে স্নান গুরুতর নৈতিক কলুষও নাশ করে। ঋষিরা কাশ্যপের দোষ ও আকস্মিক মুক্তির কারণ জানতে চাইলে সূত রাজা পরীক্ষিতকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট উপাখ্যান বলেন। শিকারে গিয়ে পরীক্ষিত নীরবতাব্রতী এক ঋষিকে দেখেন; উত্তর না পেয়ে ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁর কাঁধে মৃত সাপ রেখে দেন। ঋষিপুত্র শৃঙ্গী শাপ দেন—সপ্তম দিনে তক্ষকের দংশনে রাজার মৃত্যু হবে। নানা রক্ষাব্যবস্থা সত্ত্বেও তক্ষক ছল করে ব্রাহ্মণসদৃশদের সঙ্গে এসে ফলের মধ্যে কৃমিরূপে লুকিয়ে শাপ সত্য করে। বিষনাশক মন্ত্রবিদ্যা-চিকিৎসক কাশ্যপ রাজাকে বাঁচাতে এগোলে তক্ষক শক্তিপরীক্ষা ও ধনলোভ দেখিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে দেয়। পরে ‘সমর্থ হয়েও রক্ষা করেননি’—এই কারণে কাশ্যপ লোকনিন্দিত হন। প্রতিকার জানতে তিনি শাকল্য মুনির কাছে গেলে মুনি বলেন—বিষপীড়িত প্রাণকে বাঁচানোর ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সাহায্য না করা মহাদোষ, যার সামাজিক ফলও ভয়ংকর। প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে বেঙ্কটাদ্রি গিয়ে সংকল্পসহ স্বামিপুষ্করিণীতে স্নান, বরাহস্বামিন ও পরে শ্রীনিবাসের পূজা এবং নিয়মানুবর্তিতা করতে বলা হয়; এতে কাশ্যপের স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও সম্মান পুনরুদ্ধার হয়। শেষে ফলশ্রুতি শ্রদ্ধাভরে শ্রবণকারীদের উচ্চ গতি প্রতিশ্রুত করে।

Adhyaya 12

Adhyaya 12

स्वामिपुष्करिणी-स्नानात् नरकनिस्तारः (Deliverance from Naraka through Bathing in Swāmi Puṣkariṇī)

এই অধ্যায়ে ঋষিরা সূতকে জিজ্ঞাসা করেন—শ্রী স্বামী পুষ্করিণী/স্বামী-তীর্থের এমন কী মাহাত্ম্য যে কেবল স্মরণেই মুক্তি দেয়। সূত বলেন, যারা এই তীর্থের স্তব করে, কাহিনি বলে-শোনে বা এখানে স্নান করে, তারা নামসহ উল্লিখিত আটাশটি নরকে পতিত হয় না। এরপর অধ্যায়ে নরকগুলির নামক্রমে উল্লেখ করা হয় এবং কিছু অধর্মকে নির্দিষ্ট দণ্ডস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়—পরধন ও পরস্ত্রী/পরসম্পর্ক হরণ, পিতা-মাতা ও বিদ্বানদের প্রতি বিদ্বেষ, বৈদিক পথ লঙ্ঘন, জীবহিংসা ও প্রাণীদের কষ্ট দেওয়া, কামাচার-দোষ, পাখণ্ডী মতের দ্বারা ধর্মবিঘ্ন, অশুচি আচরণ, পশুহত্যা, এবং যজ্ঞ-কর্মে ভণ্ডামি ইত্যাদি। প্রতিটি দৃষ্টান্তের পরে পুনরায় আশ্বাস দেওয়া হয়—স্বামী-তীর্থে স্নান করলে সেই পতন রোধ হয়। শেষে ফলশ্রুতি জানায়, এই তীর্থস্নান মহাযজ্ঞ ও মহাদানের সমতুল্য ফল দেয়, গুরুতর পাপও তৎক্ষণাৎ শুদ্ধ করে এবং জ্ঞান, বৈরাগ্য, চিত্তপ্রসন্নতা প্রভৃতি গুণ জাগায়। অতিশয়োক্তি ভেবে নিন্দা না করতে সতর্ক করা হয়—অবিশ্বাস আধ্যাত্মিক বিপদের কারণ। দর্শন, স্পর্শ, স্তব, নমস্কার ও স্নান—সব মিলিয়ে এই তীর্থ মৃত্যু-ভয় নাশ করে এবং ভুক্তি-মুক্তি প্রদান করে।

Adhyaya 13

Adhyaya 13

धर्मगुप्तचरित्रवर्णनम् | Dharma-gupta’s Episode and the Efficacy of Svāmipuṣkariṇī

সূত স্বামীতীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে গিয়ে সোমবংশীয় নন্দের পুত্র রাজা ধর্মগুপ্তের কাহিনি বলেন। নন্দ রাজ্যভার পুত্রের হাতে দিয়ে বনবাসে যান। ধর্মগুপ্ত নীতি, যজ্ঞ ও ব্রাহ্মণদের দানে প্রজাপালন করেন; সমাজে শৃঙ্খলা থাকে, লুণ্ঠন-উৎপীড়ন দেখা দেয় না। একদিন শিকারে গিয়ে তিনি ভয়ংকর অরণ্যে রাত্রিতে আটকে পড়েন। সন্ধ্যোপাসনা ও গায়ত্রীজপ করে তিনি একটি গাছে আশ্রয় নেন; সিংহের ভয়ে পালাতে থাকা এক ভালুকও সেই গাছে ওঠে। ভালুক রাত্রিজাগরণের চুক্তি প্রস্তাব করে। সিংহ বিশ্বাসঘাত করাতে প্রলুব্ধ করে, কিন্তু ভালুক বোঝায়—বিশ্বাসঘাত (বিশ্বাস-ঘাত) অন্য পাপের চেয়েও ভয়াবহ। পরে রাজা ঘুমন্ত ভালুককে নিচে ফেলে দিলে, সে রূপান্তরিত হয়ে ধ্যানকাষ্ঠ নামক মুনি প্রকাশ পায় এবং রাজাকে উন্মাদনার শাপ দেয়। মুনি জানান, সিংহটি আসলে ভদ্রনামা যক্ষ—কুবেরের প্রাক্তন মন্ত্রী—গৌতমের শাপে সিংহরূপে ছিল; ধ্যানকাষ্ঠের সঙ্গে কথোপকথনে সে মুক্ত হয়ে অলকায় ফিরে যায়। মন্ত্রীদের সংবাদে নন্দ মুনি জৈমিনির শরণ নেন। জৈমিনি বলেন—ভেঙ্কট পর্বতে সুবর্ণমুখরীর নিকট স্বামিপুষ্করিণীতে স্নান করালে উন্মাদনা দূর হবে; স্নানমাত্রেই রোগ সেরে যায়। পিতা-পুত্র ভেঙ্কটেশ/শ্রীনিবাসের পূজা করে দান দেন এবং ধর্মমতে রাজ্য শাসন করেন। শেষে বলা হয়—স্বামিপুষ্করিণীতে নিমজ্জনে উন্মাদনা, অপস্মারসদৃশ ব্যাধি ও দুষ্ট গ্রহপীড়া নাশ হয়; যে-কোনো জলে স্নানের আগে “স্বামীতীর্থম্” তিনবার উচ্চারণ করলে ব্রহ্মলোক লাভ হয়; এই কাহিনি শ্রবণেও মহাপাপ বিনষ্ট হয়।

Adhyaya 14

Adhyaya 14

सुमत्याख्यद्विजवृत्तान्तः — The Account of the Brahmin Sumati and Purification at Svāmi-puṣkariṇī

এই অধ্যায়ে সূত মুনি নৈমিষারণ্যের ঋষিদের কাছে স্বামীতীর্থ/স্বামী-পুষ্করিণীর পরম শুদ্ধিদায়ক মহিমা বোঝাতে সুমতি নামক ব্রাহ্মণের উপদেশমূলক ইতিহাস বর্ণনা করেন। ঋষিরা সুমতির বংশ, তার নৈতিক পতন এবং মুক্তির উপায় জানতে চান। সূত বলেন—মহারাষ্ট্রে বিদ্বান ও ধর্মপরায়ণ যজ্ঞদেবের পুত্র সুমতি পিতা ও পতিব্রতা স্ত্রীকে ত্যাগ করে এক মোহিনী কিরাতী নারীর সঙ্গ গ্রহণ করে; পরে চৌর্য, মদ্যপান প্রভৃতি পাপে নিমজ্জিত হয়ে ডাকাতির ছদ্মবেশে এক ব্রাহ্মণকে হত্যা করে মহাপাতক ব্রহ্মহত্যায় পতিত হয়। তার পাপফল ভয়ংকর ‘ব্রহ্মহত্যা’ রূপে যেন জীবন্ত হয়ে তাকে অনুসরণ করে গৃহে উপস্থিত হয় এবং যজ্ঞদেবকে সতর্ক করে—এমন পতিতকে আশ্রয় দিলে সমগ্র গৃহ ও কুল বিপন্ন হবে। পিতৃস্নেহে যজ্ঞদেব ব্যাকুল হয়ে প্রায়শ্চিত্তের পথ খোঁজেন। তখন রুদ্রাংশরূপে পরিচিত দুর্বাসা মুনি এসে বলেন—সাধারণ প্রায়শ্চিত্তে এ পাপ দূর করা দুষ্কর, কিন্তু বেঙ্কটাদ্রির পরম পুণ্য তীর্থ স্বামী-পুষ্করিণীতে স্নান করলে তৎক্ষণাৎ শুদ্ধি লাভ হয়। যজ্ঞদেব সুমতিকে সেখানে নিয়ে স্নান করান; আকাশবাণী তার শুদ্ধি ঘোষণা করে এবং তীর্থকে ‘পাপবৃক্ষের কুঠার’ বলে স্তব করে। শেষে এই কাহিনি শ্রবণ-পাঠের মহাফল ফলোশ্রুতিতে বলা হয়েছে।

Adhyaya 15

Adhyaya 15

कृष्णतीर्थमाहात्म्य (Kṛṣṇatīrtha Māhātmya / The Glory of Kṛṣṇatīrtha)

অধ্যায় ১৫‑এ শ্রীসূত বেণ্কট পর্বতের অতি পুণ্যদায়ক কৃষ্ণতীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন এবং একে পাপনাশক বলেন। নৈতিক পুনরুদ্ধারের কথা জোর দিয়ে বলা হয়েছে—কৃতঘ্ন, এবং পিতা‑মাতা ও গুরুর অবমাননাকারীরাও এখানে স্নান করলে শুদ্ধ হয়। এরপর কারণকথা: কৃষ্ণ নামক ঋষি (রামকৃষ্ণ প্রসঙ্গসহ) বেণ্কটাচলে বহু বছর অচল তপস্যা করেন। তাঁর দেহে বাল্মীকি/উইঢিবি ঢেকে যায়, প্রবল বৃষ্টি‑গর্জন হয়; বজ্রাঘাতে বাল্মীকির শিখর ভেঙে গেলে গরুড়ারূঢ়, শঙ্খ‑চক্র‑গদাধারী, বনমালাভূষিত বিষ্ণু/শ্রীনিবাস প্রকাশিত হন। ভগবান তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে বিশেষ স্নান‑যোগ জানান—সূর্য মকরে থাকলে, পুষ্য নক্ষত্রযুক্ত পূর্ণিমায় কৃষ্ণতীর্থে স্নান করলে পাপমোচন ও অভীষ্টসিদ্ধি হয়। দেবতা, মানুষ ও দিকপালগণও শুদ্ধির জন্য সেখানে সমবেত হন; তীর্থটি ঋষির নামে প্রসিদ্ধ হবে। শেষে এই কাহিনি শ্রবণ‑পাঠে বিষ্ণুলোকপ্রাপ্তির ফলশ্রুতি দিয়ে অধ্যায় সমাপ্ত।

Adhyaya 16

Adhyaya 16

Jaladāna-praśaṃsā at Veṅkaṭādri (Praise of Water-Giving at Veṅkaṭācala)

এই অধ্যায়ে বেঙ্কটাদ্রিতে জলদান—পিপাসার্তকে জল প্রদান—কে এক নির্ণায়ক ধর্মকর্ম হিসেবে মহিমা করা হয়েছে। শ্রীসূত বলেন, বিশেষ করে তৃষ্ণার্তের প্রতি জলদান অবহেলা করলে অশুভ পুনর্জন্ম ঘটে; আর বেঙ্কটাচলে জলদান করলে কর্মফল বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। ইতিহাসরূপে ইক্ষ্বাকুবংশীয় রাজা হেমাঙ্গ গোধন, ধনদান ও যজ্ঞপোষণে দানশীল হলেও “জল তো সহজলভ্য” ভেবে জলদানকে তুচ্ছ জ্ঞান করে। তিনি অপাত্রকে সম্মান দেন এবং বিদ্বান, সংযমী ব্রাহ্মণদের অবহেলা করেন—পাত্রবিবেকের ব্যর্থতা। এর ফলে তিনি ক্রমে অধম যোনিতে পতিত হয়ে মিথিলায় গৃহগোধিকা (টিকটিকি) হন। একদিন ঋষি শ্রুতদেব আগমন করলে স্থানীয় রাজা তাঁকে পূজা করেন। পাদপ্রক্ষালনের পাদোদকের ছিটে টিকটিকির গায়ে পড়তেই তার জাতিস্মরণ হয়। হেমাঙ্গ নিজের দোষ স্বীকার করে। শ্রুতদেব ব্যাখ্যা করেন—বেঙ্কটাদ্রিতে জলদান না করা ও অপাত্রদানই পতনের কারণ। ঋষি পুণ্যসংক্রমণ ও জলস্পর্শ-শুদ্ধির দ্বারা তাকে পশুযোনি থেকে মুক্ত করেন; সে স্বর্গারোহণ, পরে রাজজন্ম এবং শেষে বিষ্ণুসায়ুজ্য লাভ করে। অধ্যায়ের শেষে বেঙ্কটাদ্রির পবিত্রতা ও জলদানের বিষ্ণুলোকপ্রদ মহিমা পুনরায় ঘোষিত হয়।

Adhyaya 17

Adhyaya 17

Śrīveṅkaṭācala-kṣetrādi-varṇanam (Description of Veṅkaṭācala and its Sacred Preeminence)

এই অধ্যায়ে সূত মুনি ভেঙ্কটাদ্রি/ভেঙ্কটাচলের মহিমা আরও বিস্তারে বর্ণনা করেন। বলা হয়েছে—পৃথিবীর ও দিব্যলোকের সকল তীর্থই ভেঙ্কট পর্বতের অন্তর্গত; তাই এই ক্ষেত্র সর্বতীর্থময়, এক পবিত্র ক্ষুদ্র-বিশ্বের ন্যায়। দেবতার রূপ শাস্ত্রসম্মত বৈষ্ণব প্রতীকে উজ্জ্বল—শঙ্খ-চক্রধারী, পীতাম্বরধারী, কৌস্তুভভূষিত—যিনি রক্ষাকারী এবং বেদ-প্রতিষ্ঠিত পবিত্রতার আধার। এরপর বার্ষিক সেবায় নানা অঞ্চলের ভক্তসমাগম ও ভাদ্রপদ-উৎসবের প্রেক্ষাপটে দর্শন-সেবাকে শুদ্ধিদায়ক বলা হয়েছে। বিশেষভাবে ব্রহ্মোৎসবের কথা আসে—কন্যা মাসে ব্রহ্মা ধ্বজারোহণ (পতাকা উত্তোলন) বিধান প্রতিষ্ঠা করেন, এবং সেই মহোৎসবে মানুষ, দেব, গন্ধর্ব, সিদ্ধ ও বিদ্বান দ্বিজেরা একত্র হন। গঙ্গা যেমন নদীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, বিষ্ণু যেমন দেবদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ—এমন তুলনায় ভেঙ্কটকে ক্ষেত্রসমূহের ‘উত্তমোত্তম’ ঘোষণা করা হয়েছে। শেষে ফলশ্রুতিতে বলা হয়—ভক্তিভরে এই মাহাত্ম্য শ্রবণ করলে বিষ্ণুলোকে উচ্চ পদ লাভ হয়; পাশাপাশি শ্রীস্বামী-পুষ্করিণীকে প্রধান তীর্থ রূপে উল্লেখ করে তার নিকটে লক্ষ্মীসহ দেবতার বরদানকারী উপস্থিতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

Adhyaya 18

Adhyaya 18

Śrīveṅkaṭeśvaravaibhava-varṇanam (Theological Description of the Glory of Veṅkaṭeśvara)

অধ্যায় ১৮-এ সূত মুনি শ্রীনিবাস/ভেঙ্কটেশ্বরের মোক্ষদায়িনী মহিমার তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেন। এখানে স্থানভিত্তিক মুক্তিতত্ত্ব প্রকাশিত—ভেঙ্কটেশ্বরের একবার দর্শনেই মুক্তি ও বিষ্ণু-সাযুজ্য লাভ হয় বলে বলা হয়েছে; যুগতুলনার মাধ্যমে কলিযুগে পুণ্যের ফল তৎক্ষণাৎ প্রাপ্তির কথা বিশেষভাবে উচ্চারিত। ভেঙ্কটাচলকে সর্বতীর্থময় ক্ষেত্র রূপে দেখানো হয়েছে, যেখানে বহু তীর্থের শক্তি একত্রে নিহিত এবং দেব, মুনি ও পিতৃগণ প্রতীকভাবে বিরাজমান। বাহ্য আচার অপেক্ষা স্মরণ ও স্তবকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে অষ্টবিধ ভক্তির বর্ণনা করা হয়েছে—ভক্তদের প্রতি স্নেহ, পূজায় তৃপ্তি, ব্যক্তিগত সেবা, ভগবানের মাহাত্ম্য শ্রবণে আগ্রহ, এবং নিরন্তর স্মরণ ইত্যাদি। পবিত্র কেন্দ্রকে অবহেলা বা বিদ্বেষ করলে অকল্যাণ হয়—এমন সতর্কবাণী আছে। ফলশ্রুতিতে পাপক্ষয়, যমযন্ত্রণা থেকে রক্ষা, বিষ্ণুলোকপ্রাপ্তি এবং ভক্তিভরে এই অধ্যায় শ্রবণ-পাঠের মহাফল প্রতিশ্রুত।

Adhyaya 19

Adhyaya 19

Veṅkaṭācala-Nityāvasthā, Ārohaṇa-Krama, and Pāpavināśana-Tīrtha Māhātmya (दर्शन-आरोहण-तीर्थमाहात्म्य)

এই অধ্যায়ে সূত বর্ণনা করেন যে বেঙ্কটাচল চিরপবিত্র এক দিব্য ক্ষেত্র—অগণিত সরোবর, নদী, সমুদ্র, বন ও আশ্রমে ভরা; বসিষ্ঠ প্রমুখ ঋষি, সিদ্ধ, চারণ ও কিন্নরগণ সেখানে বাস করেন। বিষ্ণু লক্ষ্মী ও ধরিণীসহ, ব্রহ্মা সাবিত্রী ও সরস্বতীসহ, শিব পার্বতীসহ, গণেশ ও ষণ্মুখ, ইন্দ্রাদি দেবতা, গ্রহদেবতা, বসুগণ, পিতৃগণ ও লোকপাল—সকলেই যেন নিত্য সেখানে অধিষ্ঠিত, পর্বতকে এক অবিরাম দেবসভায় পরিণত করেছেন। তারপর তীর্থযাত্রার আরোহণ-ক্রম বলা হয়—যাত্রী বাক্যে বেঙ্কটাদ্রির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে মাধবদর্শন কামনা করবে এবং ধীরে ধীরে পবিত্র ভূমিতে উঠবে। স্বামিপুষ্করিণীতে সংযমসহ স্নান করে সামান্য হলেও পিণ্ডদান করলে পিতৃলোকসহ পরলোকগত অবস্থায় উন্নতি লাভ হয়। এরপর পাপবিনাশন তীর্থের মাহাত্ম্য—শুধু স্মরণেই গর্ভবাসের দুঃখ নিবারিত হয়; স্বামী-তীর্থের উত্তরে স্নান করলে বৈকুণ্ঠারোহণের ফল বলা হয়েছে। ঋষিদের প্রশ্নে সূত এক শিক্ষামূলক কাহিনি বলেন—হিমালয়ের নিকট ব্রহ্মাশ্রমে শূদ্র দৃঢ়মতি উচ্চ আচার করতে চায়, কিন্তু কুলপতি ব্রাহ্মণ অধিকার-নিয়ম দেখিয়ে দীক্ষা দেয় না। দৃঢ়মতি তপস্যা করে ও ভক্তিসেবার উপকরণ নির্মাণ করে; দীর্ঘ সঙ্গের ফলে সুমতি নামক ব্রাহ্মণ তাকে বৈদিক ক্রিয়া শেখায় ও পিতৃকর্ম করে, যার ফলে সুমতি মৃত্যুর পরে ভয়ংকর যন্ত্রণা ও বহু জন্মের পরম্পরা ভোগ করে। অগস্ত্য কারণ নির্ণয় করে একমাত্র প্রতিকার বলেন—বেঙ্কটাচলের পাপবিনাশনে তিন দিন স্নান; এতে ব্রহ্মরাক্ষসদোষ নষ্ট হয় এবং পিতা-পুত্র উভয়ে শেষে মুক্তি পায়। দৃঢ়মতিও অধম যোনির পর পাখিরূপে সেখানে স্নান-পান করে তৎক্ষণাৎ দিব্য বিমানে আরোহন করে; শেষে তীর্থের সর্বপাপশোধক শক্তি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়।

Adhyaya 20

Adhyaya 20

पापनाशनतीर्थमाहात्म्यं तथा भूमिदानप्रशंसा (Glory of Pāpanāśana Tīrtha and the Praise of Land-Donation)

শ্রী সূত পাপনাশন-তীর্থের পাপবিনাশী মহিমা একটি দৃষ্টান্ত-কাহিনির মাধ্যমে প্রকাশ করেন। ভদ্রমতি নামে এক বিদ্বান কিন্তু দরিদ্র ব্রাহ্মণ দারিদ্র্যের সামাজিক অপমান ও মানসিক যন্ত্রণা বর্ণনা করে—শাস্ত্রজ্ঞান ও সদাচার থাকলেও সম্পদের অভাবে লোকসম্মান ক্ষীণ হয়। তাঁর পতিব্রতা ও নীতিবোধসম্পন্ন স্ত্রী কামিনী নারদের উপদেশ ও পিতৃ-দৃষ্টান্ত স্মরণ করিয়ে বেঙ্কটাচলে তীর্থযাত্রার পরামর্শ দেন—সংকল্পসহ স্নান, শ্রীনিবাসের দর্শন এবং ভূমিদান করা। এরপর ভূমিদানকে শ্রেষ্ঠ দান বলে তার তুলনামূলক ফল, মহাযজ্ঞসম পুণ্য এবং যোগ্য পাত্রে (শ্রোত্রিয়, অহিতাগ্নি) দান করলে মহাপাপ নাশের শক্তি ব্যাখ্যা করা হয়। সুঘোষ নামে এক দাতা ভদ্রমতিকে মাপজোক করে একখণ্ড জমি দান করে জনার্দনের উদ্দেশে নিবেদন করেন; এই দানের ফলে সুঘোষের পরলোকগতি শুভ হয় বলে কাহিনি জানায়। ভদ্রমতি পরিবারসহ বেঙ্কটাচলে গিয়ে স্বামী-সরসে স্নান করেন, বেঙ্কটেশ্বরের দর্শন লাভ করেন এবং পাপনাশন-তীর্থে ভূমিদান সম্পন্ন করেন। বিধির প্রভাবে শঙ্খ-চক্র-গদাধারী বিষ্ণু প্রকাশ হয়ে তাঁর স্তোত্র গ্রহণ করেন এবং সংসারসুখ ও চূড়ান্ত মুক্তির আশ্বাস দেন; শেষে সূত তীর্থ ও দানের মাহাত্ম্য পুনরায় ঘোষণা করেন।

Adhyaya 21

Adhyaya 21

Ākāśagaṅgā-tīrtha Māhātmya and Bhāgavata-Lakṣaṇa (रामानुजतपः, वेंकटेशदर्शनम्, भागवतलक्षणानि)

এই অধ্যায়ে শ্রীসূত নৈমিষারণ্যের ঋষিদের কাছে আকাশগঙ্গা-তীর্থের মাহাত্ম্য ও ভাগবতের লক্ষণ বর্ণনা করেন। রামানুজ নামে এক শাস্ত্রজ্ঞ, সংযমী, বৈখানস-ধর্মনিষ্ঠ ব্রাহ্মণ আকাশগঙ্গার তীরে দীর্ঘ তপস্যা করেন—গ্রীষ্মে পঞ্চাগ্নি, বর্ষায় উন্মুক্ত আকাশের নীচে অবস্থান, শীতে জলশয়ন; সঙ্গে অষ্টাক্ষর মন্ত্রজপ ও জনার্দনের অন্তর্ধ্যান। তপস্যায় প্রসন্ন হয়ে ভেঙ্কটেশ/শ্রীনিবাস শঙ্খ-চক্র-গদাধারী রূপে, দিব্য পার্ষদসহ, নারদের গীত ও স্বর্গীয় বাদ্যের মধ্যে, বক্ষে লক্ষ্মীসহ প্রকাশিত হন। রামানুজের স্তব শুনে ভগবান তাকে আলিঙ্গন করে বর দেন; রামানুজ অচঞ্চল ভক্তি প্রার্থনা করেন এবং দর্শনকেই পরম সিদ্ধি বলে মানেন। ভগবানের নাম ও দর্শনের মোক্ষদায়িনী শক্তি এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ভগবান আকাশগঙ্গায় স্নানের বিশেষ পুণ্যকাল জানান—মেষসংক্রান্তিতে, চিত্রা নক্ষত্রযুক্ত পূর্ণিমায় স্নান করলে পরম ধামে গমন ও পুনর্জন্ম-নিবৃত্তি লাভ হয়। পরে ‘ভাগবত’ চেনার উপায় হিসেবে অহিংসা, অদ্বেষ, সংযম, সত্য, পিতা-মাতা/ব্রাহ্মণ/গো-সেবা, হরিকথা-শ্রবণ, তীর্থযাত্রা-প্রবণতা, জল-অন্ন দান, একাদশী-ব্রত, হরিনাম-রতি, তুলসী-ভক্তি এবং কূপ-দিঘি-উদ্যান-মন্দির নির্মাণের মতো লোকহিত কর্ম—এসব লক্ষণ বিস্তারিত বলা হয়। শেষে সূত ভৃষাদ্রি (ভেঙ্কটাদ্রি)-স্থিত বিয়দ্গঙ্গার এই ‘উত্তম’ মাহাত্ম্য সমাপ্ত করেন।

Adhyaya 22

Adhyaya 22

दानार्हसत्पात्रनिर्णयः तथा आकाशगंगामाहात्म्यम् (Eligibility for Worthy Recipients of Gifts and the Glory of Ākāśagaṅgā/Viyadgaṅgā)

অধ্যায়ের শুরুতে ঋষিরা সূতকে জিজ্ঞাসা করেন—দান কাকে দেওয়া উচিত এবং কোন সময়/কোন শর্তে দান ফলপ্রদ হয়। সূত ব্রাহ্মণকে প্রধান দানপাত্র বলে স্থাপন করলেও বলেন, কেবল শীল‑আচার‑সংযমসম্পন্ন ব্যক্তিই দান গ্রহণের যোগ্য। বেদ‑ধর্মবিদ্বেষী, কপট, হিংস্র, পবিত্র বিদ্যার বাণিজ্যকারী, নিত্য ভিক্ষুক ইত্যাদি বহু শ্রেণির লোককে অপাত্র বলে দীর্ঘ তালিকা দেওয়া হয়েছে; তাদের কাছে দান করলে তা ‘নিষ্ফল’ হয়। এরপর অভিবাদনের শিষ্টাচার বলা হয়—কোন পরিস্থিতিতে কাকে প্রণাম করা অনুচিত, এবং বিধিহীন/অবিবেচিত প্রণামে পূর্বপুণ্য ক্ষয় হয়। পরে আকাশগঙ্গা/বিয়দ্গঙ্গার মাহাত্ম্য নারদ‑সনৎকুমার সংলাপের অন্তর্গত কাহিনিতে বর্ণিত। পুণ্যশীল নামে এক সদাচারী ব্রাহ্মণ প্রতি বছর শ্রাদ্ধ করেন, কিন্তু ভুল করে ‘বন্দ্যাপতি’কে শ্রাদ্ধের পুরোহিত করেন; ফলে তাঁর মুখ গাধার মতো বিকৃত হয়। তিনি অগস্ত্যের শরণ নেন; অগস্ত্য দোষ নির্ণয় করে শ্রাদ্ধ‑নিমন্ত্রণের কঠোর বিধান বলেন—সন্তানযুক্ত, শুদ্ধাচারী গৃহস্থ ব্রাহ্মণ; না পেলে নিকট আত্মীয়, অথবা নিজেই কর্ম। প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে বেঙ্কটাচলে গমন, প্রথমে স্বামিপুষ্করিণীতে স্নান এবং পরে তীর্থবিধি মেনে আকাশগঙ্গা/বিয়দ্গঙ্গায় স্নানের নির্দেশ; যথাবিধি স্নানে বিকৃতি তৎক্ষণাৎ দূর হয়, এবং সূত পরম্পরার প্রমাণ পুনরুচ্চার করেন।

Adhyaya 23

Adhyaya 23

Cakratīrtha-māhātmya and Padmanābha’s Tapas; Sudarśana’s Protection (चक्रतीर्थमाहात्म्यं)

সূত ঋষিদের কাছে চক্রতীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। এই তীর্থের মহিমা শ্রবণ করলে পাপমল দূর হয়, চিত্ত শুদ্ধ হয় এবং ভক্ত বিষ্ণুধামের দিকে অভিমুখী হয়—এমন ফলশ্রুতি বলা হয়েছে। এরপর চক্রপুষ্করিণীর তীরে পদ্মনাভ নামে এক সংযমী ব্রাহ্মণ-তপস্বী দীর্ঘকাল তপস্যা করেন। সত্য, দয়া, ইন্দ্রিয়সংযম, বৈরাগ্য ও সর্বজনহিতৈষণায় তাঁর তপস্যায় প্রসন্ন হয়ে শ্রীনিবাস/ভেঙ্কটেশ্বর প্রকাশিত হন; পদ্মনাভ স্তব করেন এবং ভগবান তাঁকে তীর্থের কাছে থেকে নিত্য পূজা করতে নির্দেশ দেন। পরে এক রাক্ষস ঋষিকে ভয় দেখায়; পদ্মনাভ শরণাগতির মন্ত্রবাক্যে ভগবানকে আহ্বান করেন। বিষ্ণু সुदর্শন চক্র প্রেরণ করেন; অগ্নিতেজে তা আবির্ভূত হয়ে রাক্ষসকে তাড়ায় ও শেষে বধ করে। পদ্মনাভ সুদর্শনের স্তব করে স্থায়ী রক্ষার প্রার্থনা করেন; সুদর্শন চক্রতীর্থে লোককল্যাণার্থে নিত্য অবস্থানের বর দেন। সেখানে স্নানকে মোক্ষপ্রদ ও বংশপর্যন্ত শুদ্ধিদায়ক বলা হয়েছে; শেষে শ্রবণ-পাঠের পুণ্য ও চক্রতীর্থের অতুল মহিমা পুনরায় ঘোষিত হয়।

Adhyaya 24

Adhyaya 24

सुन्दरगन्धर्वस्य शापः, राक्षसत्वनिवृत्तिः, चक्रतीर्थमाहात्म्यम् (Sundara Gandharva’s Curse, Release from Rākṣasa-form, and the Glory of Cakratīrtha)

অধ্যায়ের শুরুতে ঋষিরা সূতকে জিজ্ঞাসা করেন—কে সেই নিষ্ঠুর রাক্ষস, যে বিষ্ণুভক্ত ব্রাহ্মণকে কষ্ট দিয়েছিল। সূত শ্রীরঙ্গধামের পূর্বকথা বলেন; বৈকুণ্ঠসম সেই স্থানে ভক্তেরা শ্রীরঙ্গনাথের পূজা করেন। সেখানে বীরবাহুর পুত্র সুন্দর নামক গন্ধর্ব জলতীরে বহু নারীর সঙ্গে লজ্জাহীন আচরণ করে। মধ্যাহ্নকর্মের জন্য বশিষ্ঠ এলে নারীরা নিজেদের আচ্ছাদিত করে, কিন্তু সুন্দর করে না; তাই বশিষ্ঠ তাকে নির্লজ্জতার কারণে রাক্ষসত্বের শাপ দেন। নারীরা বশিষ্ঠের কাছে করুণা প্রার্থনা করে—এ শাপ সমাজধর্ম ও নীতির ক্ষতি করবে। বশিষ্ঠ নিজের বাক্যের সত্যতা রক্ষা করে প্রতিকার জানান—শাপ ষোলো বছর স্থায়ী হবে; তারপর সুন্দর রাক্ষসরূপে ঘুরতে ঘুরতে পুণ্য বেঙ্কটাদ্রি ও চক্রতীর্থে পৌঁছবে। সেখানে পদ্মনাভ নামের যোগী থাকেন; রাক্ষস যখন তাঁকে আক্রমণ করবে, তখন বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র ব্রাহ্মণরক্ষায় প্রেরিত হয়ে রাক্ষসের মস্তক ছেদন করবে, আর সুন্দর পুনরায় দিব্যরূপ পেয়ে স্বর্গে গমন করবে। কথা সেইভাবেই সম্পূর্ণ হয়—সুন্দর ভয়ংকর রাক্ষস হয়ে ষোলো বছর বিচরণ করে এবং শেষে চক্রতীর্থে পদ্মনাভকে আক্রমণ করে। যোগী জনার্দনের স্তব করেন; সুদর্শন আবির্ভূত হয়ে রাক্ষসকে বধ করেন। সুন্দর দীপ্তিমান হয়ে সুদর্শনের প্রশংসা করে, স্বর্গে ফেরা ও শোকাতুর স্ত্রীদের দর্শনের অনুমতি চায়; সুদর্শন অনুমতি দেন। পদ্মনাভও প্রার্থনা করেন—চক্রতীর্থে সুদর্শন স্থিত থাকুন, পাপনাশ, মোক্ষ এবং ভূত-পিশাচাদি ভয় থেকে রক্ষা দিন। শেষে সূত বলেন—এই কাহিনি শ্রবণে মানুষ পাপমুক্ত হয় এবং তীর্থের পবিত্র মহিমা প্রকাশিত হয়।

Adhyaya 25

Adhyaya 25

जाबालितीर्थमाहात्म्यवर्णनम् | The Glory of Jābāli Tīrtha (Jābālītīrtha Māhātmya)

অধ্যায় ২৫-এ শ্রীসূত নৈমিষারণ্যের ঋষিদের কাছে বেঙ্কটাদ্রিতে অবস্থিত জাবালী তীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এই তীর্থ সর্বপাপ-নাশক। ঋষিরা ‘দুরাচার’ নামে এক ব্যক্তির কাহিনি ও তার অপরাধের প্রকৃতি জানতে চান। সূত বলেন, কাবেরীর নিকটে বসবাসকারী এক ব্রাহ্মণ দুরাচার মহাপাতকীদের (ব্রহ্মহত্যাকারী, সুরাপায়ী, চোর, গুরুতল্পগামী প্রভৃতি) সঙ্গে দীর্ঘকাল সঙ্গ করে কলুষিত হয়। গ্রন্থে ধাপে ধাপে বলা হয়েছে—এদের সঙ্গে সহবাস, স্পর্শ, একসঙ্গে ভোজন ও শয়ন করলে ব্রাহ্মণ্য ক্রমে ক্ষয় হয় এবং শেষে দোষ-সমতা ঘটে। দুরাচার ভেতালের দ্বারা পীড়িত হয়ে ঘুরে বেড়ায়; অবশিষ্ট পুণ্য ও দৈবযোগে সে বেঙ্কটাদ্রিতে এসে জাবালী তীর্থে স্নান করামাত্র ভেতাল ও পাপ থেকে মুক্ত হয়। পরে সে ঋষি জাবালীর শরণ নিয়ে কারণ জিজ্ঞাসা করে। জাবালী ব্যাখ্যা করেন—যে ভেতাল তাকে ধরেছিল, সে পূর্বে এক ব্রাহ্মণ ছিল; মৃত্যুতিথিতে বিধিপূর্বক পার্বণ-শ্রাদ্ধ না করায় পিতৃশাপে ভেতাল হয়েছে। জাবালী তীর্থে স্নানে সেই ভেতালও বিষ্ণুলোক লাভ করে। আরও নীতি বলা হয়—মৃত পিতা-মাতার শ্রাদ্ধ অবহেলা করলে ভেতাল-গতি ও নরক প্রাপ্তি হয়। শেষে ফলশ্রুতি—জাবালী তীর্থে স্নানমাত্রেই স্মৃতিতে স্পষ্ট প্রায়শ্চিত্তহীন কঠিন পাপও নাশ হয়, এবং এই মাহাত্ম্য শ্রবণও পাপমোচক।

Adhyaya 26

Adhyaya 26

Ghōṇa-tīrtha (Tumburu-tīrtha) Māhātmya and the Tumburu Gandharva Narrative

এই অধ্যায়ে শ্রীসূত ঘোণা-তীর্থ (তুম্বুরু-তীর্থ)-এর অসাধারণ পবিত্রতা ঘোষণা করেন। উত্তরাফল্গুনী নক্ষত্র, শুক্লপক্ষ এবং সূর্য মীন রাশিতে অবস্থান করলে সময়টি বিশেষ শুভ; তখন গঙ্গা প্রভৃতি মহাতীর্থের সঙ্গম এখানে ঘটে বলে বলা হয়েছে, তাই সেই কালে স্নান মহাফলদায়ক। এরপর ঘোণা-তীর্থে স্নান থেকে যারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের সম্পর্কে কঠোর নৈতিক-ধর্মীয় সতর্কবাণী আছে—তাদের গুরুতর সামাজিক ও বৈদিক আচরণভঙ্গকারীদের তালিকার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যাতে তীর্থযাত্রা-ধর্ম ও প্রায়শ্চিত্তবোধ দৃঢ় হয়। তারপর মুক্তিদায়ক ভঙ্গিতে বলা হয়, এই তীর্থে স্নান, পান ও সেবায় নানা প্রকার পাপ-দোষ শুদ্ধ হয় এবং নৈতিক পুনরুদ্ধার ঘটে। অন্তর্গত ইতিহাসে তুম্বুরু-তীর্থ নামের কারণ বলা হয়: দেবল গার্গ্যকে জানান, গৃহকলহজনিত শাপে পতিত তুম্বুরু গন্ধর্ব ভেঙ্কটেশ্বরের পূজা করে তীর্থে স্নান করে বিষ্ণুলোক লাভ করেন। শাপিত স্ত্রী ব্যাঙ হয়ে পিপল গাছের কোটরে বাস করে; অগস্ত্য এসে পতিব্রতা-ধর্ম শিক্ষা দিলে তার উদ্ধার হয়। ফলশ্রুতিতে বলা হয়েছে, পূর্ণিমায় ঘোণা-তীর্থে স্নান মহাদান-যজ্ঞসম ফল দেয়, আর অধ্যায় শ্রবণে বাজপেয়-সদৃশ পুণ্য ও স্থায়ী বিষ্ণুলোকপ্রাপ্তি হয়।

Adhyaya 27

Adhyaya 27

Veṅkaṭācala as the Basis of All Tīrthas: Tīrtha-Enumeration, Auspicious Bathing Times, and the Merit of Purāṇa-Śravaṇa

অধ্যায় ২৭-এ ঋষিগণ সূতকে জিজ্ঞাসা করেন—ভেঙ্কটাদ্রি কেন ‘মহাপুণ্য-পর্বত’, সেখানে তীর্থের মোট সংখ্যা কত, কোনগুলি প্রধান, এবং কোন তীর্থ ধর্মপ্রবণতা, জ্ঞান, ভক্তি- বৈরাগ্য ও মোক্ষ প্রদান করে। সূত ক্রমানুসারে তীর্থসমূহের বৃহৎ গণনা করেন, তারপর ‘প্রধান’ তীর্থ ও ফলভিত্তিক উপশ্রেণি নির্দিষ্ট করেন। এরপর ভেঙ্কটাচলের শিখরে মোক্ষ-সম্পর্কিত তীর্থগুলির তীর্থযাত্রা-কালপঞ্জি বলা হয়—স্বামিপুষ্করিণী, বিয়দ্গঙ্গা, পাপবিনাশন, পাণ্ডুতীর্থ, কুমারধারিকা ও তুম্বোষ্টীর্থ। কুম্ভ-মাসে মঘা-যোগ, মীনস্থ রবি, মেষ-সংক্রান্তিতে চিত্রা, বৃষভস্থ রবি সহ দ্বাদশী/হরিবাসর, এবং ধনু-মাসের প্রভাতে দ্বাদশী—এমন সময়-নিয়মে স্নানের ফল রাজসূয়াদি যজ্ঞসম পুণ্য, বিঘ্নমোচন, পাপনাশ ও মোক্ষ বলা হয়েছে; সঙ্গে স্বর্ণদান, গোদান, শালগ্রাম-শিলা দান ইত্যাদি সামর্থ্য অনুযায়ী দানের বিধান আছে। পরে অধ্যায়টি স্থান-নির্ভর আচারের বাইরে গিয়ে কলিযুগের সহজ সাধন তুলে ধরে—বিষ্ণুর পুরাণকথা শ্রদ্ধায় শ্রবণ অতি ফলপ্রদ; অল্পক্ষণ মনোযোগী শ্রবণও যজ্ঞ-দানসমূহের সমষ্টিফলের তুল্য এবং নামসংকীর্তনের সঙ্গে যুক্ত। শেষে বক্তা ও শ্রোতার নীতিনিয়ম—বক্তার সর্বজনীন সম্মান, পাঠের উপযুক্ত স্থান, শ্রোতার শুচিতা-আসন-শিষ্টাচার, এবং অবমাননা/ব্যাঘাত/অমনোযোগের দোষফল—নির্ধারিত হয়; ঋষিগণ সূতকে সম্মান করে আনন্দ প্রকাশ করেন।

Adhyaya 28

Adhyaya 28

कटाहतीर्थमाहात्म्यम् (Kataha Tīrtha Māhātmya) — Glory and Ritual Use of Kataha Tīrtha

এই অধ্যায়ে শ্রীভেঙ্কটাচলে অবস্থিত কটাহতীর্থের মহিমা বহু-বক্তার ধর্মতাত্ত্বিক সংলাপে বর্ণিত। ঋষিগণ ত্রিলোকে এর খ্যাতির কারণ জানতে চান; নারদকে প্রামাণ্য কর্তৃপক্ষ হিসেবে আহ্বান করা হয়, এবং বলা হয় মহাদেবও এর পূর্ণ গৌরব অবগত। গঙ্গা প্রভৃতি পবিত্র নদী ও অন্যান্য তীর্থ নিজেদের শুদ্ধির জন্য কটাহতীর্থে আশ্রয় নেয়—এভাবে তীর্থ-মর্যাদার শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়—এ মহিমাকে কেবল ‘অর্থবাদ’ বলে অবজ্ঞা করা আধ্যাত্মিকভাবে বিপজ্জনক। এরপর তীর্থজল পান-ক্রম নির্দেশিত: অষ্টাক্ষর মন্ত্র বা বিষ্ণুর নামসমূহ (ত্রিবিধ নামোচ্চারণসহ) উচ্চারণ করে পান শ্রেয়; মন্ত্রবিহীন পান করলে প্রায়শ্চিত্ত-বাক্য বলা উচিত। শেষে দৃষ্টান্তে ব্রাহ্মণ কেশব ব্যসন ও হিংসায় পতিত হয়ে ব্রহ্মহত্যা-দোষে আক্রান্ত হয় এবং পাপরূপিণী শক্তি তাকে তাড়া করে। ভারদ্বাজের উপদেশে সে স্বামিপুষ্করিণীতে স্নান, বরাহ-পূজা, শ্রীনিবাস/ভেঙ্কটেশ দর্শন ও কটাহতীর্থ-পান করে; ফলে ব্রহ্মহত্যা বিনষ্ট হয় এবং ভেঙ্কটেশ স্বয়ং দিব্যপ্রমাণ দেন। উপসংহারে কাহিনিটি ইতিহাসসমর্থিত ও বিশ্বস্ত পরম্পরায় প্রাপ্ত বলে ঘোষিত।

Adhyaya 29

Adhyaya 29

अर्जुनस्य तीर्थयात्रा-प्रसङ्गः तथा सुवर्णमुखरी-वेङ्कटाचल-प्राप्तिः (Arjuna’s Pilgrimage Prelude and Arrival at Suvarṇamukharī and Veṅkaṭācala)

অধ্যায়ের শুরুতে ঋষিগণ সুবর্ণমুখরী নদী ও তার সঙ্গে যুক্ত তীর্থসমূহের উৎপত্তি ও মাহাত্ম্য বিস্তারিত জানতে চান। সূত প্রণাম করে ভরদ্বাজের বর্ণিত কাহিনি বলেন এবং মহাভারত-সম্পর্কিত প্রসঙ্গে প্রবেশ করেন—ইন্দ্রপ্রস্থে পাণ্ডবদের বাস ও দ্রৌপদীকে কেন্দ্র করে গৃহ-নিয়ম। শর্ত ছিল, কোনো ভাই যদি অন্য ভাইয়ের গৃহে দ্রৌপদীকে দেখে ফেলে, তবে তাকে এক বছর তীর্থযাত্রা করতে হবে। এরপর এক ব্রাহ্মণের চুরি হওয়া গরু উদ্ধার করতে গিয়ে অর্জুনকে অস্ত্রাগারে প্রবেশ করতে হয়, যেখানে দ্রৌপদী ও যুধিষ্ঠির উপস্থিত; ফলে শর্ত কার্যকর হয়। যুধিষ্ঠির বলেন, ব্রাহ্মণ-রক্ষা ও সম্পত্তি-রক্ষার জন্য কাজটি ধর্মসঙ্গত; কিন্তু অর্জুন প্রতিজ্ঞা-রক্ষা অপরিহার্য মনে করেন, নচেৎ সুনাম ও ধর্ম—উভয়েরই ক্ষয় হবে। রাজানুমতি নিয়ে তিনি সহচর ও সম্পদসহ যাত্রা করেন এবং গঙ্গা, প্রয়াগ, কাশী, দক্ষিণ সমুদ্র, পুরী/পুরুষোত্তম, সিংহাচল, গোদাবরী প্রভৃতি বহু তীর্থ দর্শন করেন। শেষে তিনি শ্রীপর্বত ও বেঙ্কটাচলে পৌঁছে শিখরে হরির পূজা করেন এবং সুবর্ণমুখরী নদী দর্শন করেন। বলা হয়, কুম্ভসম্ভব ঋষি অগস্ত্য এই নদীকে সেখানে আনয়ন/প্রকাশ করেছিলেন; তাই তপস্বীর প্রামাণ্যে নদী ও তীর্থের পবিত্রতা প্রতিষ্ঠিত হয়।

Adhyaya 30

Adhyaya 30

सुवर्णमुखरीवर्णनम् — Description of the Suvarṇamukharī and Arjuna’s visits to Kālahastīśvara and Bharadvāja’s āśrama

এই অধ্যায়ে সুবর্ণমুখরী নদীর পবিত্রতা ও সৌন্দর্যের বর্ণনা করা হয়েছে। নদীর শীতল বাতাস ও তীর্থের পরিবেশ বর্ণনার পর অর্জুনের তীর্থযাত্রার কথা বলা হয়েছে। অর্জুন কালহস্তী পর্বত দর্শন করেন, নদীতে স্নান করেন এবং কালহস্তীশ্বরের (শিব) পূজা করে ধন্য হন। এরপর অর্জুন সিদ্ধ ও যোগীদের পবিত্র স্থানের মধ্য দিয়ে ভরদ্বাজ মুনির আশ্রমে পৌঁছান। সেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে তিনি মুনির আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। শেষে, অর্জুন নদীর উৎপত্তি ও মহিমা সম্পর্কে মুনির কাছে জানতে চান।

Adhyaya 31

Adhyaya 31

अर्जुन–भरद्वाजसंवादः । अगस्त्यदक्षिणगमनं च (Arjuna–Bhāradvāja Dialogue and Agastya’s Southward Journey)

অধ্যায়টি পুরাণীয় বর্ণনাভঙ্গিতে শুরু হয়। সন্ধ্যার নিত্যকর্ম সম্পন্ন করে অর্জুন শ্রদ্ধাভরে ঋষি ভারদ্বাজের কাছে এসে এক মহান নদীর উৎপত্তি এবং সেখানে স্নান ও দানের ফলে যে পুণ্য লাভ হয়—তার উপদেশ প্রার্থনা করেন। ভারদ্বাজ অর্জুনের বংশ, শীল ও গুণের প্রশংসা করে বলেন, মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করলে এই দিব্য আখ্যান পাপজনিত দুঃখ দূর করে এবং চিত্তকে শুদ্ধ করে। এরপর প্রসঙ্গ গিয়ে পৌঁছায় শঙ্করের বিবাহোৎসবে। দেবগণসহ সকলের সমাবেশে পৃথিবী ভারাক্রান্ত হয়ে অস্থির হয়ে ওঠে। এই অসাম্য দেখে মহাদেব বিশ্বরক্ষায় নিবেদিত, দিব্য শক্তি থেকে উদ্ভূত অগস্ত্যকে দক্ষিণদিকে গমন করতে আদেশ দেন। অগস্ত্য বিন্ধ্য পর্বত অতিক্রম করে দক্ষিণে গেলে পৃথিবী পুনরায় ভারসাম্য লাভ করে, এবং দেবগণ তাঁর প্রশংসা করেন। পরে অগস্ত্য সূর্য-নির্মিতের মতো দীপ্ত এক মহাপর্বত দর্শন করেন, তাতে আরোহণ করে এক সুন্দর সরোবরের উত্তর তীরে আশ্রম স্থাপন করেন। তিনি বিধিপূর্বক পিতৃ, দেব, ঋষি ও বাস্তুদেবতাদের পূজা করেন এবং তপস্যার দ্বারা জগতের স্থিতি রক্ষার আদর্শ স্থাপন করেন। এইভাবে অধ্যায়টি সংলাপ, তীর্থ-উৎপত্তি ও লোককল্যাণকারী তপস্যার নৈতিক মডেলকে একত্রে বুনে দেয়।

Adhyaya 32

Adhyaya 32

सुवर्णमुखरी-नदी-प्रवर्तनम् (The Manifestation and Course-Setting of the Suvarṇamukharī River)

এই অধ্যায়ে নদীহীন অঞ্চলে জীবকল্যাণের জন্য এক পুণ্যনদীর আবির্ভাব ও পথনির্ধারণের কারণকথা বর্ণিত। ভারদ্বাজ বলেন—প্রাতঃকৃত্য ও দেবপূজা সমাপ্ত করে অগস্ত্য মুনি আকাশবাণী শোনেন: “যেখানে নদী নেই, সেখানে যজ্ঞ-সংস্কারের দীপ্তি থাকে না; গভীর অধর্মজনিত ভয় দূরকারী কল্যাণময় নদী প্রবাহিত কর।” তিনি সমবেত ঋষিদের সঙ্গে পরামর্শ করেন; ঋষিগণ তাঁর পূর্বের অসাধারণ কর্মের প্রশংসা করে স্নান ও শুদ্ধির জন্য মহা নদী আনতে অনুরোধ করেন। অতঃপর অগস্ত্য কঠোর ঋতুচক্রে নিয়ম বৃদ্ধি করে তীব্র তপস্যা করেন। সেই তপস্যায় জগতে আলোড়ন ও প্রাণীদের মধ্যে ভীতি জন্মায়। দেবতারা ব্রহ্মার শরণ নেন; ব্রহ্মা অগস্ত্যাশ্রমে আবির্ভূত হয়ে বর প্রদান করেন। অগস্ত্য দেশকে পবিত্র ও রক্ষিত করতে এক মহানদীর প্রার্থনা জানান। ব্রহ্মা গঙ্গাকে আহ্বান করে নির্দেশ দেন—তিনি স্বাংশে অবতীর্ণ হয়ে এমন নদী হবেন যা জনসমাজকে পবিত্র করবে এবং ঋষি ও দেবগণের দ্বারা নিত্য সেবিত হবে। গঙ্গা নিজের অংশজাত দীপ্তিময় রূপ প্রকাশ করে সিদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন; অগস্ত্য পথ নির্দেশ করেন। শেষে তিনি পর্বতশিখর থেকে সেই নদীরূপকে অভীষ্ট পথে পরিচালিত করে সুবর্ণমুখরী নদীর পবিত্রতার ভিত্তিকথা স্থাপন করেন।

Adhyaya 33

Adhyaya 33

सुवर्णमुखरीप्रभावप्रशंसा (Praise of the Efficacy of the Suvarṇamukharī River)

এই অধ্যায়ে বেঙ্কটাচলমাহাত্ম্যের অন্তর্গত সুবর্ণমুখরী নদীর আবির্ভাব, নামকরণ এবং তার আচার-তাত্ত্বিক মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। ভরদ্বাজ বলেন—শক্রপ্রমুখ দেবগণ এবং ঋষি, সিদ্ধ, চারণ ও গন্ধর্বসমূহ অগস্ত্যের সঙ্গে চলমান এই নদীর মহিমা কীর্তন করেন। বায়ুদেব নদীর উৎপত্তি ও খ্যাতি ব্যাখ্যা করেন—অগস্ত্য মুনিই তাকে পৃথিবীতে আনেন, এবং সে ‘সুবর্ণমুখরী’ নামে প্রসিদ্ধ হয়ে নদীগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও সেবনীয় হবে। পরবর্তী অংশে বিস্তৃত মাহাত্ম্য—নদীর স্মরণ ও স্নান পাপ নাশ করে; অস্থি-বিসর্জন পরলোকে গতি লাভে সহায়ক; এবং তীরে সম্পাদিত দান, জপ, শ্রাদ্ধ প্রভৃতি কর্ম বহু গুণ ফল দেয়। ফলশ্রুতিতে স্বাস্থ্যলাভ, বিঘ্ননাশ, পিতৃকার্যের সিদ্ধি এবং গ্রহণ, সংক্রান্তি ইত্যাদি তিথিকালে বিশেষ পুণ্যের কথা বলা হয়েছে। শেষে অগস্ত্যোদয়ের দিনে বার্ষিক ব্রত নির্দেশিত—স্বর্ণের অগস্ত্য-মূর্তি নির্মাণ করে পূজা, দান, ব্রাহ্মণভোজন ও সমর্পণ করলে সঞ্চিত দোষ থেকে মুক্তি এবং স্থায়ী আধ্যাত্মিক কল্যাণ লাভ হয়।

Adhyaya 34

Adhyaya 34

अगस्त्यतीर्थ–अगस्त्येश्वरप्रभावः; देवर्षिपितृतीर्थमाहात्म्यम्; सुवर्णमुखरी–वेणासङ्गमः; व्याघ्रपदासङ्गमः; शङ्खतीर्थवर्णनम् (Agastya Tīrtha and Agastyeśvara; Deva–Ṛṣi–Pitṛ Tīrthas; River Confluences; Śaṅkha Tīrtha)

অর্জুন আরও শুনতে আগ্রহী হয়ে নদীতীরের তীর্থসমূহ, তাদের সঙ্গমস্থান এবং সেখানে স্নান ও পূজার বিশেষ ফল জানতে চান। ভরদ্বাজ ক্রমান্বয়ে বলেন—প্রথমে অগস্ত্যতীর্থ, যা গুরুতর পাপকেও শুদ্ধ করে; তারপর অগস্ত্যপ্রতিষ্ঠিত অগস্ত্যেশ্বর লিঙ্গ, যেখানে নদীতে স্নান করে পূজা করলে যজ্ঞসম মহাপুণ্য লাভ হয়। মকরসংক্রান্তির সময়কে শুভ স্নানকাল বলে উল্লেখ করে সেই ঋতুতে অগস্ত্যেশ্বর দর্শনের বিশেষ মাহাত্ম্য বলা হয়েছে। এরপর দেব–ঋষি–পিতৃ তীর্থত্রয়ের কথা আসে; সেখানে স্নান ও বিধিপূর্বক তর্পণে ‘ঋণত্রয়’ মোচনের কথা বলা হয়েছে। পরে নদীর গতিধারা ও সঙ্গম মানচিত্রিত হয়—সুবর্ণমুখরীর সঙ্গে বেণার সঙ্গম, এবং সুবর্ণমুখরীর সঙ্গে ব্যাঘ্রপদার সঙ্গম; প্রতিটি সঙ্গম পুণ্যবর্ধক। শেষে শঙ্খতীর্থ ও শঙ্খঋষি প্রতিষ্ঠিত শঙ্খেশের বর্ণনা দিয়ে দর্শন, স্নান ও তীর্থজল পানকে একত্রে ভক্তিময় তীর্থযাত্রারূপে দেখানো হয়েছে, যা বৃষভাচল অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হয়।

Adhyaya 35

Adhyaya 35

सुवर्णमुखरी–कल्यानदीसंगमः, वेंकटाचलवर्णनम्, नारायणमाहात्म्यं च (Suvarṇamukharī–Kalyā Saṅgama, Description of Veṅkaṭācala, and the Greatness of Nārāyaṇa)

এই অধ্যায়ে কাহিনি তিনটি ধারায় অগ্রসর হয়। প্রথমে ভরদ্বাজ সুবর্ণমুখরী নদীর পবিত্র কল্যা-নদীর সঙ্গে সঙ্গমের বর্ণনা দেন। সেই সঙ্গমে স্নানকে অতিশয় শুদ্ধিদায়ক বলা হয়েছে—মহাযজ্ঞের ফল প্রদানকারী এবং সঙ্গম-মাহাত্ম্য ও অভিষেক-সম্পর্কিত পবিত্রতার দ্বারা ব্রহ্মহত্যা প্রভৃতি গুরুতর পাপও ক্ষয় হয়। এরপর ভেঙ্কটাচলের অবস্থান ও মহিমা বর্ণিত হয়—এটি ‘সমস্ত তীর্থের আশ্রয়’ এবং বরাহক্ষেত্র। সেখানে শ্রীসহ অচ্যুত বিষ্ণু বিরাজ করেন; সিদ্ধ, গন্ধর্ব, ঋষি ও মানবসমাজ প্রভুর সেবায় উপস্থিত থাকে। ভেঙ্কটাদ্রি-নাথের স্মরণ বিপদনাশক এবং অক্ষয় পদে পৌঁছানোর পথ বলে ঘোষিত। অর্জুনের প্রশ্নে ভরদ্বাজ নারায়ণের পরমত্ব, নামসমতা, চতুর্ব্যূহ-প্রসার, মন্ত্রনিষ্ঠ সাধনা এবং সৃষ্টিপ্রলয়ের রূপরেখা ব্যাখ্যা করেন—দিব্য দেহ থেকে দেবতা ও তত্ত্বের উৎপত্তি, যোগনিদ্রায় প্রলয়, পুনরায় ব্রহ্মার আবির্ভাব, এবং ধর্মস্থাপনের জন্য ভগবানের নানা রূপ ধারণ। এভাবে তীর্থাচার, ভক্তিসাধনা ও পুরাণতত্ত্ব একত্রে উপদেশরূপে মিলিত হয়।

Adhyaya 36

Adhyaya 36

Varāha-kṛta-dharaṇyuddharaṇa-kramaḥ and Śvetavarāha-kalpa-vṛttānta (Varāha’s Raising of Earth and the White Boar Kalpa Account)

এই অধ্যায়ে সংলাপরূপে ভারদ্বাজ ভগবান বিষ্ণুর বরাহ-অবতারের কাহিনি বলেন। প্রলয়জলে নিমজ্জিত বসুমতী না থাকলে জীবসমূহের ভার ধারণ অসম্ভব—এ কথা বুঝে ভগবান পাতালদেশে ডুবে থাকা পৃথিবীকে দেখেন এবং যজ্ঞময় বরাহদেহ ধারণ করেন; যেখানে বৈদিক ছন্দ, অগ্নি ও যজ্ঞোপকরণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রতীকরূপে স্থাপিত। বরাহ জলে প্রবেশ করে অন্ধকার দূর করেন, রসাতলকে দমন করেন এবং দন্তে পৃথিবী তুলে আনেন; ঋষিগণ স্তব করেন, আর সমুদ্রের গর্জনকে মঙ্গলধ্বনি ও আহুতি-সদৃশ রূপকে বর্ণনা করা হয়। পরে অর্জুন প্রশ্ন করেন—প্রলয়ে পৃথিবী কীভাবে স্থিত থাকে এবং সপ্ত পাতালের নীচে তার আধার কী। ভারদ্বাজ নাড়িকা, দিন, মাস, বছর ইত্যাদি কালমান, যুগ-মন্বন্তর বিন্যাস এবং শ্বেতবরাহ-কল্পে মনুদের ক্রম ব্যাখ্যা করেন। প্রলয়ের ধারায় প্রথমে খরা/তাপ, তারপর বহু বছরের বর্ষা, বিশ্বপ্লাবন, বিষ্ণুর নাভিকমলে ব্রহ্মার যোগনিদ্রা এবং পরে ভগবানের আদেশে নবসৃষ্টি—এসব বলা হয়। শেষে উল্লেখ আছে যে এই কল্পে বিষ্ণু শ্বেত বরাহরূপে অবতীর্ণ হয়ে পরে বেঙ্কটাচলে এসে স্বামিপুষ্করিণীর নিকটে বাস করেন; ব্রহ্মার প্রার্থনায় তিনি দিব্যরূপ গ্রহণ করেন এবং প্রত্যক্ষ দর্শন দুর্লভ হয়—তখন অর্জুন ভক্তি ও কাহিনি-শ্রবণে মানুষের জন্য ভগবৎপ্রাপ্তির উপায় জানতে চান।

Adhyaya 37

Adhyaya 37

शंखराजवृत्तान्तः — King Śaṅkha’s Devotion and the Veṅkaṭācala Darśana-Path

এই অধ্যায়ে ভারদ্বাজ ঋষি হৈহয় বংশীয় রাজা শঙ্খের আদর্শ বৈষ্ণব-জীবনকথা বর্ণনা করেন। রাজা বিষ্ণুর একান্ত ভক্ত—নিত্য স্মরণ, জপ, পূজা এবং বৈষ্ণব পুরাণকথা শ্রবণে নিবিষ্ট; দান, ব্রত ও মহাযজ্ঞও যথোচিত দক্ষিণাসহ বিধিপূর্বক সম্পন্ন করেন। এত পুণ্য সত্ত্বেও প্রত্যক্ষ দর্শন না হওয়ায় তিনি দুঃখিত হন এবং তা পূর্বকর্মের আচ্ছাদন-শেষ বলে মনে করেন। তখন কেশব অদৃশ্য বাণীতে জানান যে বেঙ্কটনামক পর্বত (বেঙ্কটাচল) তাঁর অতি প্রিয় ধাম; সেখানে দীর্ঘ তপস্যা করলে ভগবান স্বয়ং প্রকাশিত হবেন। শঙ্খ পুত্র বজ্রকে রাজ্যে স্থাপন করে নারায়ণগিরিতে যান, স্বামী-পুষ্করিণীর তীরে আশ্রম স্থাপন করে তপস্যায় প্রবৃত্ত হন। এদিকে ব্রহ্মার নির্দেশে অগস্ত্য মুনিও আগমন করেন; পর্বত প্রদক্ষিণ, স্কন্দধারা প্রভৃতি তীর্থসেবন ও গোবিন্দ-আরাধনা করেন, কিন্তু প্রথমে দর্শন লাভ হয় না। পরে বৃহস্পতি, উশনস এবং রাজোপরিচর নামক বসু নির্দেশ দেন—বেঙ্কটে গোবিন্দ অগস্ত্য ও শঙ্খ উভয়কে দর্শন দেবেন, এবং এতে সমবেত সকলেরও সামূহিক দর্শন হবে। শেষে অগস্ত্য-সহচররা পর্বতের শুভ প্রকৃতি দেখে স্বামী-পুষ্করিণীর তীরে পৌঁছালে শঙ্খ বিধিপূর্বক তাঁদের সম্মান করেন এবং সকলের সঙ্গে কীর্তনময় ভক্তিতে যুক্ত হন।

Adhyaya 38

Adhyaya 38

अगस्त्य-शङ्खतपःप्रसादः, सौम्यरूपप्रादुर्भावः, सुवर्णमुखरी-माहात्म्यम् (Agastya & Śaṅkha’s tapas—divine grace, the gentle epiphany, and Suvarṇamukharī’s sanctity)

ভরদ্বাজ বর্ণনা করেন—জগন্নাথের ভক্তরা দিন কাটান স্তব ও পূজার আচার-অনুষ্ঠানে। তৃতীয় রাত্রিতে তারা শুভ স্বপ্নে শঙ্খ-চক্র-গদাধারী চতুর্ভুজ পুরুষোত্তমকে দর্শন করে। পরে স্বামিপুষ্করিণীতে স্নান করে প্রাতঃকর্ম সম্পন্ন করে আবার আরাধনায় প্রবৃত্ত হয়; তখন এক আশ্চর্য তেজ প্রকাশ পায়, যেন সমগ্র বিশ্ব-আলোকের সংহত স্ফুরণ। সে ভয়ংকর দিব্য প্রকাশ দেখে ব্রহ্মা প্রমুখ দেবগণ উপস্থিত হয়ে নারায়ণের পরমত্ব স্তব করেন এবং ভয়ে শান্ত রূপ প্রার্থনা করেন। ভগবান মণিময় বিমানে সৌম্য রূপে আবির্ভূত হয়ে অগস্ত্যকে বর দেন। অগস্ত্য তপস্যার সিদ্ধি নিবেদন করে অচঞ্চল ভক্তি চান এবং প্রার্থনা করেন—প্রভুর পর্বতের নিকট সুবর্ণমুখরী নদী পাপহর তীর্থ হোক; সেখানে স্নান করে বেঙ্কটে ভগবানের দর্শনে ভুক্তি ও মুক্তি লাভ হোক। ভগবান তা মঞ্জুর করে বৈকুণ্ঠ-নামক শৈলে নিত্য নিবাস ঘোষণা করেন এবং দর্শন-সেবা ও দূর থেকেও স্মরণকারীদের মহাফল বলেন। পরে রাজা শঙ্খকে উৎকৃষ্ট পরলোকগতি দান করে ভগবান অন্তর্ধান হন। শেষে ভরদ্বাজ বেঙ্কটাদ্রি, স্বামিপুষ্করিণী এবং এই মাহাত্ম্যের শ্রবণ-স্মরণের উদ্ধারক শক্তির ফলশ্রুতি উচ্চারণ করেন।

Adhyaya 39

Adhyaya 39

अञ्जनातपःप्रकारः (Añjanā’s Mode of Austerity and the Vāyu-Boons at Veṅkaṭācala)

এই অধ্যায়টি সূত-প্রতিবেদিত সংলাপরূপে বিন্যস্ত। সন্তানহীনতার দুঃখে কাতর অঞ্জনার কাছে ঋষি মতঙ্গ আসেন ও তাঁর উদ্দেশ্য জিজ্ঞাসা করেন। অঞ্জনা বলেন—পূর্বে শিব তাঁর পিতা কেশরীকে বর দিয়েছিলেন: বর্তমান জন্মে সীমাবদ্ধতা থাকলেও কেশরীর এক খ্যাতনামা কন্যা হবে, এবং সেই কন্যার পুত্র কেশরীকে পরম আনন্দ দেবে। সন্তানলাভের জন্য অঞ্জনা ঋতুভিত্তিক ও মাসিক ব্রত, স্নান-দান, প্রদক্ষিণা-নমস্কার, শালগ্রাম-সম্পর্কিত উপচার এবং নানা দানের বিস্তৃত অনুশীলন বর্ণনা করেন; তবু পুত্র না পেয়ে তিনি তপস্যায় প্রবৃত্ত হন। মতঙ্গ তাঁকে নির্দিষ্ট তীর্থযাত্রাপথ নির্দেশ দেন—দক্ষিণে ঘনাচল ও ব্রহ্মতীর্থ, পূর্বে সুবর্ণমুখরী, উত্তরে ঋষভাচল ও স্বামিপুষ্করিণী; সেখানে স্নান করে বরাহ ও বেঙ্কটেশের পূজা করে শুভ বৃক্ষসমৃদ্ধ বিয়দ্গঙ্গা তীর্থে বায়ুর উদ্দেশে নিয়ত তপস্যা করতে বলেন। অঞ্জনা ক্রমে কঠোর নিয়ম গ্রহণ করেন—ফলাহার থেকে জলাহার, তারপর আরও সংযম। সহস্র বছর পরে শুভ জ্যোতিষলগ্নে বায়ু প্রকাশিত হয়ে বর দেন; অঞ্জনা পুত্র প্রার্থনা করলে বায়ু নিজেকে তাঁর পুত্র বলে ঘোষণা করে খ্যাতি-যশের প্রতিশ্রুতি দেন। শেষে দেবতা, ঋষি ও দেবীগণ তাঁর আশ্চর্য তপস্যা প্রত্যক্ষ করতে সমবেত হন—নির্দিষ্ট তীর্থে শৃঙ্খলিত সাধনাই দিব্য অনুগ্রহ আনে, এই তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

Adhyaya 40

Adhyaya 40

अञ्जनावरलब्ध्य्-आकाशगङ्गास्नानकालनिर्णय-करणीयदानप्रशंसा (Añjanā’s Boon; Determination of the Proper Time for Ākāśagaṅgā Bath; Praise of Prescribed Gifts)

এই অধ্যায়ে সূত সংলাপের মাধ্যমে ধর্ম-কর্মের বিধান বর্ণনা করেন। অঞ্জনা স্বামীর সঙ্গে ব্রহ্মা ও অন্যান্য দেবতার সাক্ষাৎ পান; তাঁদের সম্মতিতে ব্যাস প্রধান উপদেশক হন। ব্যাস ‘লোকহিত’ ভাষণে মাতঙ্গ ঋষির পূর্বোক্তি স্মরণ করিয়ে জানান যে বেঙ্কট পর্বতে কঠোর তপস্যার পর অঞ্জনার পুত্রজন্ম নির্ধারিত। এরপর আকাশগঙ্গা/বেঙ্কট তীর্থসমূহে স্নানের কালনির্ণয় বলা হয়। অঞ্জনার ‘প্রত্যক্ষ-দিবসে’ গঙ্গা প্রভৃতি তীর্থ একত্রিত হয় বলে উল্লেখ, এবং স্বামী পুষ্করিণীর বিশেষ পবিত্রতা প্রশংসিত। পূর্ণিমা, মেষ-পূষণ-সংযোগ ও নক্ষত্র-সংকেতসহ নির্দিষ্ট পঞ্জিকা-যোগে স্নানের ফল দীর্ঘকাল ধরে গঙ্গাতীরবর্তী বহু তীর্থে স্নানের সমতুল্য বলা হয়েছে। পরে বেঙ্কটাদ্রিতে বিধিসম্মত দানের মাহাত্ম্য—অন্ন ও বস্ত্রদান শ্রেষ্ঠ, এবং পিতৃশ্রাদ্ধ বিশেষ ফলদায়ক বলে চিহ্নিত। স্বর্ণ, শালগ্রাম, গাভী, ভূমি, কন্যাদান, জলশালা, তিল, শস্য, সুগন্ধি-পুষ্প, ছত্র-চামর, তাম্বুল ইত্যাদি দানের ক্রমে স্বর্গভোগ, রাজ্যঐশ্বর্য, শাস্ত্রজ্ঞ ব্রাহ্মণ্য এবং শেষে চক্রপাণি (বিষ্ণু)-কৃপায় মোক্ষপ্রাপ্তির কথা বলা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে নিয়মিত শ্রবণ-পাঠে পাপশুদ্ধি, বিষ্ণুলোকলাভ এবং সেই পুণ্য বংশধরদেরও উপকার করে—এমন ঘোষণা দিয়ে অধ্যায় শেষ হয়।

FAQs about Venkatachala Mahatmya

It presents Veṅkaṭācala as a sanctified mountain where divine presence is localized through mythic etiologies, with Varāha and Śrīnivāsa narratives establishing the site’s ritual authority.

The section typically frames pilgrimage merit through disciplined worship, mantra-japa, and place-based devotion, promising both prosperity-oriented outcomes and liberation-oriented benefits depending on intent and observance.

Key legends include Varāha’s relationship with Dharaṇī (Bhūdevī), the establishment and secrecy of a potent Varāha mantra, and anticipatory questions about Śrīnivāsa’s arrival and enduring presence on Veṅkaṭa.