
অধ্যায় ২৫-এ শ্রীসূত নৈমিষারণ্যের ঋষিদের কাছে বেঙ্কটাদ্রিতে অবস্থিত জাবালী তীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এই তীর্থ সর্বপাপ-নাশক। ঋষিরা ‘দুরাচার’ নামে এক ব্যক্তির কাহিনি ও তার অপরাধের প্রকৃতি জানতে চান। সূত বলেন, কাবেরীর নিকটে বসবাসকারী এক ব্রাহ্মণ দুরাচার মহাপাতকীদের (ব্রহ্মহত্যাকারী, সুরাপায়ী, চোর, গুরুতল্পগামী প্রভৃতি) সঙ্গে দীর্ঘকাল সঙ্গ করে কলুষিত হয়। গ্রন্থে ধাপে ধাপে বলা হয়েছে—এদের সঙ্গে সহবাস, স্পর্শ, একসঙ্গে ভোজন ও শয়ন করলে ব্রাহ্মণ্য ক্রমে ক্ষয় হয় এবং শেষে দোষ-সমতা ঘটে। দুরাচার ভেতালের দ্বারা পীড়িত হয়ে ঘুরে বেড়ায়; অবশিষ্ট পুণ্য ও দৈবযোগে সে বেঙ্কটাদ্রিতে এসে জাবালী তীর্থে স্নান করামাত্র ভেতাল ও পাপ থেকে মুক্ত হয়। পরে সে ঋষি জাবালীর শরণ নিয়ে কারণ জিজ্ঞাসা করে। জাবালী ব্যাখ্যা করেন—যে ভেতাল তাকে ধরেছিল, সে পূর্বে এক ব্রাহ্মণ ছিল; মৃত্যুতিথিতে বিধিপূর্বক পার্বণ-শ্রাদ্ধ না করায় পিতৃশাপে ভেতাল হয়েছে। জাবালী তীর্থে স্নানে সেই ভেতালও বিষ্ণুলোক লাভ করে। আরও নীতি বলা হয়—মৃত পিতা-মাতার শ্রাদ্ধ অবহেলা করলে ভেতাল-গতি ও নরক প্রাপ্তি হয়। শেষে ফলশ্রুতি—জাবালী তীর্থে স্নানমাত্রেই স্মৃতিতে স্পষ্ট প্রায়শ্চিত্তহীন কঠিন পাপও নাশ হয়, এবং এই মাহাত্ম্য শ্রবণও পাপমোচক।
No shlokas available for this adhyaya yet.