
অধ্যায়ের শুরুতে ঋষিরা সূতকে জিজ্ঞাসা করেন—কে সেই নিষ্ঠুর রাক্ষস, যে বিষ্ণুভক্ত ব্রাহ্মণকে কষ্ট দিয়েছিল। সূত শ্রীরঙ্গধামের পূর্বকথা বলেন; বৈকুণ্ঠসম সেই স্থানে ভক্তেরা শ্রীরঙ্গনাথের পূজা করেন। সেখানে বীরবাহুর পুত্র সুন্দর নামক গন্ধর্ব জলতীরে বহু নারীর সঙ্গে লজ্জাহীন আচরণ করে। মধ্যাহ্নকর্মের জন্য বশিষ্ঠ এলে নারীরা নিজেদের আচ্ছাদিত করে, কিন্তু সুন্দর করে না; তাই বশিষ্ঠ তাকে নির্লজ্জতার কারণে রাক্ষসত্বের শাপ দেন। নারীরা বশিষ্ঠের কাছে করুণা প্রার্থনা করে—এ শাপ সমাজধর্ম ও নীতির ক্ষতি করবে। বশিষ্ঠ নিজের বাক্যের সত্যতা রক্ষা করে প্রতিকার জানান—শাপ ষোলো বছর স্থায়ী হবে; তারপর সুন্দর রাক্ষসরূপে ঘুরতে ঘুরতে পুণ্য বেঙ্কটাদ্রি ও চক্রতীর্থে পৌঁছবে। সেখানে পদ্মনাভ নামের যোগী থাকেন; রাক্ষস যখন তাঁকে আক্রমণ করবে, তখন বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র ব্রাহ্মণরক্ষায় প্রেরিত হয়ে রাক্ষসের মস্তক ছেদন করবে, আর সুন্দর পুনরায় দিব্যরূপ পেয়ে স্বর্গে গমন করবে। কথা সেইভাবেই সম্পূর্ণ হয়—সুন্দর ভয়ংকর রাক্ষস হয়ে ষোলো বছর বিচরণ করে এবং শেষে চক্রতীর্থে পদ্মনাভকে আক্রমণ করে। যোগী জনার্দনের স্তব করেন; সুদর্শন আবির্ভূত হয়ে রাক্ষসকে বধ করেন। সুন্দর দীপ্তিমান হয়ে সুদর্শনের প্রশংসা করে, স্বর্গে ফেরা ও শোকাতুর স্ত্রীদের দর্শনের অনুমতি চায়; সুদর্শন অনুমতি দেন। পদ্মনাভও প্রার্থনা করেন—চক্রতীর্থে সুদর্শন স্থিত থাকুন, পাপনাশ, মোক্ষ এবং ভূত-পিশাচাদি ভয় থেকে রক্ষা দিন। শেষে সূত বলেন—এই কাহিনি শ্রবণে মানুষ পাপমুক্ত হয় এবং তীর্থের পবিত্র মহিমা প্রকাশিত হয়।
No shlokas available for this adhyaya yet.