
এই অধ্যায়ে রাজপ্রাসাদের কাহিনি ও বৈষ্ণব-ধর্মশিক্ষা একসূত্রে গাঁথা। আকাশরাজার অন্তঃপুরের নারীরা জানায়—রাজকুমারী পদ্মাবতীর সঙ্গে ফুল তুলতে গিয়ে তারা গাছতলায় এক আশ্চর্য পুরুষকে দেখেছিল: ইন্দ্রনীল-শ্যাম, স্বর্ণালঙ্কার ও অস্ত্রে ভূষিত; তিনি মুহূর্তে অন্তর্ধান করেন, আর পদ্মাবতী অচেতন হয়ে পড়েন। রাজা দैবজ্ঞকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন গ্রহলক্ষণ মোটের উপর শুভ, তবে এক রহস্যময় ব্যাঘাত আছে—অসাধারণ সেই পুরুষদর্শনে কুমারী প্রভাবিত, শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গেই মিলন হবে; এক দূতী নারীও কল্যাণকর উপদেশ নিয়ে আসবে। প্রতিকার হিসেবে ব্রাহ্মণদের দ্বারা অগস্ত্যেশ-লিঙ্গে অভিষেকের বিধান দেওয়া হয়। এরপর শ্রীবেঙ্কটাদ্রি থেকে বকুলমালিকা এসে প্রাসাদে প্রবেশ করে। ধরণী (দেবী/রানী-রূপ) এক পুলিন্দিনীকে জিজ্ঞাসা করে সত্য নির্ণয় করেন—পদ্মাবতীর ব্যাধি প্রেমজাত; কারণ স্বয়ং বৈকুণ্ঠপতি হরি, যিনি স্বামিপুষ্করিণীর নিকটে বেঙ্কটাদ্রিতে বিচরণ করেন; তিনি ললিতাকে মধ্যস্থ করে পাঠাবেন এবং মিলন ঘটবে। শেষে পদ্মাবতী ভক্তলক্ষণ ব্যাখ্যা করেন—শঙ্খ-চক্রচিহ্ন, ঊর্ধ্বপুণ্ড্র, দ্বাদশ নামধারণ ইত্যাদি বাহ্যচিহ্ন; আর বেদপাঠ, সত্য, অদ্বেষ, ব্রহ্মচর্য/সংযম, দয়া ইত্যাদি অন্তর্নিয়ম। হোম ও উত্তপ্ত মুদ্রায় পঞ্চায়ুধ (শঙ্খ, চক্র, ধনু-বাণ, গদা, খড়্গ) অঙ্কনের বিধিও বলা হয়। শেষে নারীরা অগস্ত্যেশ-উপাসনা সম্পন্ন করে ব্রাহ্মণদের অন্ন ও দান দিয়ে সম্মান করে।
No shlokas available for this adhyaya yet.