
এই অধ্যায়ে ধরিত্রীদেবী কলিযুগে পাহাড়ে ভগবানের দৃশ্য উপস্থিতি থাকবে কি না জিজ্ঞাসা করেন। বরাহভগবান্ সংলাপের মধ্যে চারটি দৃষ্টান্ত-কথা বলে তীর্থতত্ত্ব ও ভক্তির মাহাত্ম্য প্রকাশ করেন। প্রথম কাহিনিতে বনবাসী নিষাদ বসু পুরুষোত্তমের পরম ভক্ত হয়ে শ্রী ও ভূদেবীর সহিত প্রভুকে মধু-মিশ্রিত সিদ্ধ শ্যামাক অন্ন নিবেদন করে। মধু সংগ্রহ করে ফিরে এসে পুত্রের দ্বারা নিবেদিত ভোগ ভক্ষণকে চুরি ভেবে সে তরবারি তোলে; তখন বিষ্ণু বৃক্ষ থেকে প্রকাশ হয়ে তরবারি ধরে শিশুভক্তির প্রিয়তা জানান এবং স্বামীসর/স্বামিপুষ্করিণীতে নিত্য সান্নিধ্যের আশ্বাস দেন। দ্বিতীয় কাহিনিতে পাণ্ড্যদেশ থেকে আগত ভক্ত রঙ্গদাস বরাহ-স্থান, সুবর্ণমুখরী, কামলাখ্য সরোবর ও চক্রতীর্থ দর্শন করে স্বামিপুষ্করিণীর নিকটে শ্রীনিবাসকে দর্শন করে। সে উদ্যান, কূপ ও ফুলের নিত্যসেবা করে; কিন্তু একবার গন্ধর্বদের জলক্রীড়া দেখে মন বিচলিত হওয়ায় সেবা ব্যর্থ হয় এবং সে লজ্জিত হয়। দেবতা তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন—অন্তরের ভাবই মুখ্য; ভবিষ্যতে রাজসদৃশ সমৃদ্ধি, অবিচল ভক্তি এবং শেষে মুক্তি লাভ হবে। তৃতীয় কাহিনিতে সোমকুলরাজ তোণ্ডমান শিকার করতে করতে বেঙ্কটাদ্রির তীর্থসমূহ অতিক্রম করে দেবী রেণুকার নিকটে পৌঁছায়। ‘শ্রীনিবাস’ বলে ডাকা পাঁচরঙা টিয়া তাকে নিষাদ বনরক্ষকের কাছে নিয়ে যায়; সেই নিষাদ রাজাকে স্বামিপুষ্করিণীর কাছে গোপন দেবস্থান দেখায়। উভয়ে পূজা করে শ্যামাক-মধুর প্রসাদ গ্রহণ করে; রেণুকা ‘দেবদেব-প্রসাদ’ রূপে অজেয় রাজ্য ও তোণ্ডমান-নামক রাজধানীর বর দেন। শেষে শুক পদ্মসরসের মাহাত্ম্য বলেন—দুর্বাসার শাপে লক্ষ্মী (পদ্মা/রমা) পদ্মভরা সরোবরতীরে তপস্যা করেন; দেবগণ বিধিবৎ স্তব করেন। লক্ষ্মী স্নান, বিল্বপত্রে পূজা ও এই স্তোত্রপাঠে হারানো মর্যাদা, সমৃদ্ধি ও মোক্ষ দান করে বিষ্ণুর সঙ্গে গরুড়ারূঢ় হয়ে বৈকুণ্ঠে প্রত্যাবর্তন করেন।
No shlokas available for this adhyaya yet.