
এই অধ্যায়ে বেঙ্কটাদ্রিতে জলদান—পিপাসার্তকে জল প্রদান—কে এক নির্ণায়ক ধর্মকর্ম হিসেবে মহিমা করা হয়েছে। শ্রীসূত বলেন, বিশেষ করে তৃষ্ণার্তের প্রতি জলদান অবহেলা করলে অশুভ পুনর্জন্ম ঘটে; আর বেঙ্কটাচলে জলদান করলে কর্মফল বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। ইতিহাসরূপে ইক্ষ্বাকুবংশীয় রাজা হেমাঙ্গ গোধন, ধনদান ও যজ্ঞপোষণে দানশীল হলেও “জল তো সহজলভ্য” ভেবে জলদানকে তুচ্ছ জ্ঞান করে। তিনি অপাত্রকে সম্মান দেন এবং বিদ্বান, সংযমী ব্রাহ্মণদের অবহেলা করেন—পাত্রবিবেকের ব্যর্থতা। এর ফলে তিনি ক্রমে অধম যোনিতে পতিত হয়ে মিথিলায় গৃহগোধিকা (টিকটিকি) হন। একদিন ঋষি শ্রুতদেব আগমন করলে স্থানীয় রাজা তাঁকে পূজা করেন। পাদপ্রক্ষালনের পাদোদকের ছিটে টিকটিকির গায়ে পড়তেই তার জাতিস্মরণ হয়। হেমাঙ্গ নিজের দোষ স্বীকার করে। শ্রুতদেব ব্যাখ্যা করেন—বেঙ্কটাদ্রিতে জলদান না করা ও অপাত্রদানই পতনের কারণ। ঋষি পুণ্যসংক্রমণ ও জলস্পর্শ-শুদ্ধির দ্বারা তাকে পশুযোনি থেকে মুক্ত করেন; সে স্বর্গারোহণ, পরে রাজজন্ম এবং শেষে বিষ্ণুসায়ুজ্য লাভ করে। অধ্যায়ের শেষে বেঙ্কটাদ্রির পবিত্রতা ও জলদানের বিষ্ণুলোকপ্রদ মহিমা পুনরায় ঘোষিত হয়।
No shlokas available for this adhyaya yet.