
সূত স্বামীতীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে গিয়ে সোমবংশীয় নন্দের পুত্র রাজা ধর্মগুপ্তের কাহিনি বলেন। নন্দ রাজ্যভার পুত্রের হাতে দিয়ে বনবাসে যান। ধর্মগুপ্ত নীতি, যজ্ঞ ও ব্রাহ্মণদের দানে প্রজাপালন করেন; সমাজে শৃঙ্খলা থাকে, লুণ্ঠন-উৎপীড়ন দেখা দেয় না। একদিন শিকারে গিয়ে তিনি ভয়ংকর অরণ্যে রাত্রিতে আটকে পড়েন। সন্ধ্যোপাসনা ও গায়ত্রীজপ করে তিনি একটি গাছে আশ্রয় নেন; সিংহের ভয়ে পালাতে থাকা এক ভালুকও সেই গাছে ওঠে। ভালুক রাত্রিজাগরণের চুক্তি প্রস্তাব করে। সিংহ বিশ্বাসঘাত করাতে প্রলুব্ধ করে, কিন্তু ভালুক বোঝায়—বিশ্বাসঘাত (বিশ্বাস-ঘাত) অন্য পাপের চেয়েও ভয়াবহ। পরে রাজা ঘুমন্ত ভালুককে নিচে ফেলে দিলে, সে রূপান্তরিত হয়ে ধ্যানকাষ্ঠ নামক মুনি প্রকাশ পায় এবং রাজাকে উন্মাদনার শাপ দেয়। মুনি জানান, সিংহটি আসলে ভদ্রনামা যক্ষ—কুবেরের প্রাক্তন মন্ত্রী—গৌতমের শাপে সিংহরূপে ছিল; ধ্যানকাষ্ঠের সঙ্গে কথোপকথনে সে মুক্ত হয়ে অলকায় ফিরে যায়। মন্ত্রীদের সংবাদে নন্দ মুনি জৈমিনির শরণ নেন। জৈমিনি বলেন—ভেঙ্কট পর্বতে সুবর্ণমুখরীর নিকট স্বামিপুষ্করিণীতে স্নান করালে উন্মাদনা দূর হবে; স্নানমাত্রেই রোগ সেরে যায়। পিতা-পুত্র ভেঙ্কটেশ/শ্রীনিবাসের পূজা করে দান দেন এবং ধর্মমতে রাজ্য শাসন করেন। শেষে বলা হয়—স্বামিপুষ্করিণীতে নিমজ্জনে উন্মাদনা, অপস্মারসদৃশ ব্যাধি ও দুষ্ট গ্রহপীড়া নাশ হয়; যে-কোনো জলে স্নানের আগে “স্বামীতীর্থম্” তিনবার উচ্চারণ করলে ব্রহ্মলোক লাভ হয়; এই কাহিনি শ্রবণেও মহাপাপ বিনষ্ট হয়।
No shlokas available for this adhyaya yet.