
এই অধ্যায়ে সূত মুনি নৈমিষারণ্যের ঋষিদের কাছে স্বামীতীর্থ/স্বামী-পুষ্করিণীর পরম শুদ্ধিদায়ক মহিমা বোঝাতে সুমতি নামক ব্রাহ্মণের উপদেশমূলক ইতিহাস বর্ণনা করেন। ঋষিরা সুমতির বংশ, তার নৈতিক পতন এবং মুক্তির উপায় জানতে চান। সূত বলেন—মহারাষ্ট্রে বিদ্বান ও ধর্মপরায়ণ যজ্ঞদেবের পুত্র সুমতি পিতা ও পতিব্রতা স্ত্রীকে ত্যাগ করে এক মোহিনী কিরাতী নারীর সঙ্গ গ্রহণ করে; পরে চৌর্য, মদ্যপান প্রভৃতি পাপে নিমজ্জিত হয়ে ডাকাতির ছদ্মবেশে এক ব্রাহ্মণকে হত্যা করে মহাপাতক ব্রহ্মহত্যায় পতিত হয়। তার পাপফল ভয়ংকর ‘ব্রহ্মহত্যা’ রূপে যেন জীবন্ত হয়ে তাকে অনুসরণ করে গৃহে উপস্থিত হয় এবং যজ্ঞদেবকে সতর্ক করে—এমন পতিতকে আশ্রয় দিলে সমগ্র গৃহ ও কুল বিপন্ন হবে। পিতৃস্নেহে যজ্ঞদেব ব্যাকুল হয়ে প্রায়শ্চিত্তের পথ খোঁজেন। তখন রুদ্রাংশরূপে পরিচিত দুর্বাসা মুনি এসে বলেন—সাধারণ প্রায়শ্চিত্তে এ পাপ দূর করা দুষ্কর, কিন্তু বেঙ্কটাদ্রির পরম পুণ্য তীর্থ স্বামী-পুষ্করিণীতে স্নান করলে তৎক্ষণাৎ শুদ্ধি লাভ হয়। যজ্ঞদেব সুমতিকে সেখানে নিয়ে স্নান করান; আকাশবাণী তার শুদ্ধি ঘোষণা করে এবং তীর্থকে ‘পাপবৃক্ষের কুঠার’ বলে স্তব করে। শেষে এই কাহিনি শ্রবণ-পাঠের মহাফল ফলোশ্রুতিতে বলা হয়েছে।
No shlokas available for this adhyaya yet.