
এই অধ্যায়ে সূত সংলাপের মাধ্যমে ধর্ম-কর্মের বিধান বর্ণনা করেন। অঞ্জনা স্বামীর সঙ্গে ব্রহ্মা ও অন্যান্য দেবতার সাক্ষাৎ পান; তাঁদের সম্মতিতে ব্যাস প্রধান উপদেশক হন। ব্যাস ‘লোকহিত’ ভাষণে মাতঙ্গ ঋষির পূর্বোক্তি স্মরণ করিয়ে জানান যে বেঙ্কট পর্বতে কঠোর তপস্যার পর অঞ্জনার পুত্রজন্ম নির্ধারিত। এরপর আকাশগঙ্গা/বেঙ্কট তীর্থসমূহে স্নানের কালনির্ণয় বলা হয়। অঞ্জনার ‘প্রত্যক্ষ-দিবসে’ গঙ্গা প্রভৃতি তীর্থ একত্রিত হয় বলে উল্লেখ, এবং স্বামী পুষ্করিণীর বিশেষ পবিত্রতা প্রশংসিত। পূর্ণিমা, মেষ-পূষণ-সংযোগ ও নক্ষত্র-সংকেতসহ নির্দিষ্ট পঞ্জিকা-যোগে স্নানের ফল দীর্ঘকাল ধরে গঙ্গাতীরবর্তী বহু তীর্থে স্নানের সমতুল্য বলা হয়েছে। পরে বেঙ্কটাদ্রিতে বিধিসম্মত দানের মাহাত্ম্য—অন্ন ও বস্ত্রদান শ্রেষ্ঠ, এবং পিতৃশ্রাদ্ধ বিশেষ ফলদায়ক বলে চিহ্নিত। স্বর্ণ, শালগ্রাম, গাভী, ভূমি, কন্যাদান, জলশালা, তিল, শস্য, সুগন্ধি-পুষ্প, ছত্র-চামর, তাম্বুল ইত্যাদি দানের ক্রমে স্বর্গভোগ, রাজ্যঐশ্বর্য, শাস্ত্রজ্ঞ ব্রাহ্মণ্য এবং শেষে চক্রপাণি (বিষ্ণু)-কৃপায় মোক্ষপ্রাপ্তির কথা বলা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে নিয়মিত শ্রবণ-পাঠে পাপশুদ্ধি, বিষ্ণুলোকলাভ এবং সেই পুণ্য বংশধরদেরও উপকার করে—এমন ঘোষণা দিয়ে অধ্যায় শেষ হয়।
No shlokas available for this adhyaya yet.