Shiva Purana - Uma Samhita
SaktiDeviDivine Feminine

Umā Saṃhitā

The Goddess and Sakti Theology

উমা সংহিতার ৫১ অধ্যায়ে (২৭২৭ শ্লোক) দেবী/উমাকে শিবের জীবন্ত শক্তি (শক্তি) রূপে প্রধান করে দেখানো হয়েছে। তিনি প্রকৃতি, মন ও মন্ত্ররূপে অন্তর্ব্যাপ্ত, আবার পরম মাতৃরূপে সর্বাতীত। এখানে শৈব-শাক্ত সমন্বয় সুস্পষ্ট—শিব শুদ্ধ চৈতন্য (চিত্), উমা গতিশীল শক্তি (শক্তি); তাঁদের অদ্বৈত ঐক্যেই জগতের গতি। সৃষ্টি, স্থিতি, লয়, তিরোধান ও অনুগ্রহ—এই পঞ্চকৃত্য শিব-শক্তির অভেদ মিলন থেকে প্রকাশ পায়। দেবীর স্তব, তত্ত্বচিন্তা ও মহিমা-বর্ণনার সঙ্গে সংহিতা দেখায় কীভাবে অহংকার, ভয় ও কামনা দেবীর শরণাগতিতে রূপান্তরিত হয়। উমাকে কেবল সহধর্মিণী নয়, নিরাকার পরমতত্ত্বে পৌঁছবার সগুণ-সহজ উপায় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্ণনা ও উপদেশ সাধারণত তিন ধারায় প্রবাহিত—(ক) দেবী-তত্ত্ব ও স্তোত্র, (খ) আদর্শ কাহিনি যেখানে শরণাগতি দ্বারা দোষক্ষয় ঘটে, (গ) ব্যবহারিক ধর্ম: ব্রত, পূজা, মন্ত্রজপ, গৃহস্থ ও রাজধর্ম। এগুলিকে শিব-উমা দিব্য দম্পতির উদ্দেশে অর্পণভাবেই পুনর্ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই সংহিতা পুরাণীয় ভক্তি ও আগমিক আচারের মধ্যে সেতু। আধ্যাত্মিক ফলপ্রাপ্তিতে অনুগ্রহই নির্ণায়ক—এই বোধকে কেন্দ্রে রেখে ভক্তি, ব্রত ও মন্ত্রসাধনাকে অনুগ্রহের বাহন হিসেবে মহিমান্বিত করা হয়েছে।

Adhyayas in Uma Samhita

51 chapters to explore.

Adhyaya 1

Svagati-varṇana (Description of the Supreme State / One’s True Attainment)

উমাসংহিতার প্রথম অধ্যায়ে মূল তত্ত্ব স্থাপিত হয়—শিবই পূর্ণ পরমসত্তা; তিনি গুণাতীত হয়েও গুণের ক্রিয়ায় জগত্ পরিচালনা করেন—রজোগুণে সৃষ্টিকর্তা, তমোগুণে সংহারক, অথচ স্বয়ং মায়াতীত। এরপর শৌনকপ্রমুখ ঋষিগণ সূতকে পূর্বে কথিত কোটিরুদ্রসংহিতার স্মরণ করে শম্ভুর লীলাকেন্দ্রিক উমাসংহিতা শ্রবণের অনুরোধ করেন। সূত ব্যাস থেকে সনৎকুমার পর্যন্ত প্রশ্ন-পরম্পরা জানিয়ে বচনের প্রামাণ্য স্থির করেন। সনৎকুমার কাহিনি শুরু করেন—পুত্রার্থে শ্রীকৃষ্ণ কৈলাসে গিয়ে শিবতপস্যা করতে উদ্যত হন এবং সেখানে তপস্যারত মহাশৈব ঋষি উপমনুকে প্রণাম করে পথনির্দেশ চান। এই অধ্যায় শিবতত্ত্ব, বংশপরম্পরা ও সাধক-কাহিনির দ্বারোদ্ঘাটন।

71 verses

Adhyaya 2

उपमन्यूपदेशः (Upamanyu’s Instruction)

অধ্যায় ২ সনৎকুমার–ব্যাস সংলাপের অন্তর্গত এক উপদেশমূলক বর্ণনা। সনৎকুমার বলেন, মহর্ষি উপমনুর বাণী শুনে শ্রীকৃষ্ণ মহাদেবের প্রতি গভীর ভক্তি লাভ করেন এবং পথনির্দেশ প্রার্থনা করেন। কৃষ্ণ শিব-আরাধনার দ্বারা কাম্য সিদ্ধি প্রাপ্তদের তালিকা জানতে চাইলে উপমন্যু প্রামাণ্য শৈব আচার্যের মতো উদাহরণসহ উত্তর দেন। হিরণ্যকশিপু ও তার পুত্র নন্দন শিবকৃপায় অসাধারণ শক্তি পেয়েছিল—এবং যুদ্ধপ্রসঙ্গে বিষ্ণুর চক্র ও ইন্দ্রের বজ্র পর্যন্ত নিষ্ফল হওয়ার কথা বলা হয়, যাতে বোঝা যায় শিবপ্রদত্ত ধর্মবল সর্বোচ্চ দেবায়ুধকেও অতিক্রম করে। অধ্যায়ের শিক্ষা—শিব-আরাধনা বিজয়, রক্ষা ও সার্বভৌমত্বের পরম কারণ; শিবই চূড়ান্ত শক্তি ও আশ্রয়।

51 verses

Adhyaya 3

Kṛṣṇādi-Śivabhaktoddhāraṇa & Śiva-māhātmya-varṇana (Deliverance of Krishna and other devotees; Description of Shiva’s Greatness)

এই অধ্যায়ে সনৎকুমার উপমনু ঋষির শান্তচিত্ত অবস্থা ও বিস্ময়কর স্থৈর্য বর্ণনা করে শিবভক্তির ফলপ্রদ মহিমা প্রকাশ করেন। বাসুদেব (কৃষ্ণ) সেই ভক্তকে প্রশংসা করেন, কারণ দেবাধিদেব শিব সাধকের প্রতি সান্নিধ্য দান করেন। উপমনু আশ্বাস দেন—শিবকৃপায় শীঘ্রই মহাদেবের দর্শন হবে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমায়, এখানে ষোলো মাসের মধ্যে, বরও লাভ হবে। ‘নমঃ শিবায়’ মন্ত্ররাজ জপকে সর্বকামপ্রদ ও ভুক্তি-মুক্তিদাতা বলা হয়েছে। শিবকথায় নিমগ্নতায় সময় মুহূর্তের মতো কেটে যায়, এবং শেষে দর্শন, বর ও শক্তিমান পুত্রলাভের ফল নির্দেশিত।

78 verses

Adhyaya 4

शिवमायाप्रभाववर्णनम् (Description of the Power/Effects of Śiva’s Māyā)

অধ্যায় ৪-এ কর্তৃত্বের ধারাবাহিকতা স্থাপিত হয়—ঋষিরা পুনরায় ব্যাখ্যা চান, তখন সূত তাঁর গুরু ব্যাসের প্রশ্নসমূহ অজন্মা সর্বজ্ঞ সনৎকুমারের কাছে নিবেদন করেন। এভাবে মুনি→সূত→ব্যাস→সনৎকুমার শিক্ষাপরম্পরা প্রতিষ্ঠিত হয়ে উপদেশের প্রামাণ্যতা দৃঢ় হয়। আলোচ্য বিষয় শিব-মায়ার প্রভাব: শিবের মহিমা সর্বজগতে ব্যাপ্ত হলেও মায়া জ্ঞান হরণ করে জীবদের বিমোহিত করে, ফলে বহুত্ব ও লীলার বৈচিত্র্যের ভ্রম জন্মায়। সনৎকুমার বলেন, শাঙ্করী কাহিনি শ্রবণ নিজেই মোক্ষপ্রদ—শুধু শুনলেই শিবভক্তি জাগে এবং সেই ভক্তিই মোহ নিবারণ করে। শেষে শিবকে সর্বেশ্বর ও সর্বাত্মা রূপে প্রতিপাদন করা হয় এবং তাঁর পরা মূর্তিকে ব্রহ্ম-বিষ্ণু-ঈশ্বরাত্মিকা ত্রিকর্মস্বভাব বলা হয়; ত্রিলিঙ্গ ও লিঙ্গরূপিণী প্রতীকে বহুত্বের অন্তরালে একত্ব প্রকাশিত হয়।

39 verses

Adhyaya 5

महापातकवर्णनम् (Mahāpātaka-varṇanam) — “Description of Great Sins and Their Consequences”

এই অধ্যায়ে ব্যাস সনৎকুমারকে জিজ্ঞাসা করেন—কোন কোন জীবের অবিরাম পাপাচার মহা-নরকের কারণ হয়। সনৎকুমার কর্মের তিন উপায়—মানসিক, বাচিক ও কায়িক—অনুসারে দোষকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করেন এবং প্রতিটিতে চার প্রকার করে সংক্ষিপ্ত নীতিতত্ত্ব উপস্থাপন করেন। এরপর তিনি বিশেষ শৈব-অপরাধ বলেন—মহাদেবের প্রতি বিদ্বেষ, শিব-জ্ঞানের আচার্যদের নিন্দা, এবং গুরু ও পিতৃপুরুষদের অবমাননা। দেবদ্রব্য চুরি, দ্বিজসম্পত্তি বিনাশ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিসাধন ইত্যাদি মহাপাতকও উল্লেখিত, যা বিশ্বব্যবস্থা ও মুক্তিবিদ্যার পরম্পরাকে আঘাত করে। উপদেশ—শৈবসাধনা কেবল আচার নয়; মন-বাক্য-দেহকে শিব, গুরু ও ধর্মসম্পদের প্রতি শ্রদ্ধায় সঙ্গত করা না হলে কর্ম নিষ্ফল ও পাপফলদায়ক হয়।

40 verses

Adhyaya 6

पापभेदवर्णनम् (Classification of Sins / Taxonomy of Pāpa)

অধ্যায় ৬-এ পাপভেদের একটি শিক্ষামূলক ও সুবিন্যস্ত তালিকা দেওয়া হয়েছে। সনৎকুমার সমাজ, বৈদিক আচরণ ও আশ্রমজীবনে ধর্মক্ষয়কারী অপরাধগুলি গণনা করেন—ব্রাহ্মণ ও ব্রাহ্মণ-সম্পত্তি অপহরণ, উত্তরাধিকার (দায়) লঙ্ঘন, অতিরিক্ত অহংকার, ক্রোধ, ভণ্ডামি, কৃতঘ্নতা ইত্যাদি। বিবাহ-আত্মীয়তার অনিয়ম (পরিবিত্তি/পরিবেত্তা), আশ্রম-পরিবেশ নষ্ট করা (বৃক্ষ-উদ্যান ধ্বংস, বাসিন্দাদের উৎপীড়ন), পশু-শস্য-ধন চুরি, এবং জলস্রোত দূষণও পাপরূপে চিহ্নিত। যজ্ঞ-উদ্যান/পুকুর বিক্রি, স্ত্রী-সন্তান বিক্রি, তীর্থ-উপবাস-প্রতিজ্ঞা-দীক্ষা-উপনয়নে অসদাচরণ, নারীর শোষণ ও স্ত্রীধন হরণ, প্রতারণামূলক জীবিকা, অভিচার, এবং কামনা বা খ্যাতির জন্য প্রদর্শনী ধর্মাচরণ—সবই নিন্দিত। এই অধ্যায় পরবর্তী প্রায়শ্চিত্ত ও শুদ্ধিবিধানের জন্য শৈব নীতিতে পাপের শ্রেণিবিন্যাস স্থির করে।

57 verses

Adhyaya 7

नरकलोकमार्गयमदूतस्वरूपवर्णनम् / Description of the Path to Naraka and the Nature of Yama’s Messengers

এই অধ্যায়ে সনৎকুমার উপদেশরূপে বলেন, মৃত্যুর পরে জীবেরা কীভাবে যমলোকে গমন করে এবং কর্মফলের বিচার কীভাবে সম্পন্ন হয়। শিশু-যুবক-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ—সকলেই কর্মবিধানের অধীন; চিত্রগুপ্ত প্রভৃতি কর্তৃপক্ষ শুভ-অশুভ কর্মের লেখাজোখা দেখে ফল নির্ধারণ করেন। মূল তত্ত্ব—কৃত কর্ম ভোগ না করে মুক্তি নেই, তাই যমের অধিকার থেকে কেউ অব্যাহতি পায় না। পুণ্যবান ও দয়ালুদের পথ তুলনামূলক কোমল, আর পাপী—বিশেষত দানহীন—ভয়ংকর দক্ষিণপথে চালিত হয়। বৈবস্বত নগর পর্যন্ত যোজন-পরিমাপ, পুণ্যবানদের কাছে পথ নিকট আর পাপীদের কাছে দূর মনে হওয়া, এবং ধারালো পাথর-কাঁটা-ক্ষুরধারার মতো বিপদে ভরা পথের বর্ণনা আছে; এই ‘পথ’ অন্তরের প্রবৃত্তি ও সঞ্চিত কর্মের দৃশ্যমান পরিণতি।

58 verses

Adhyaya 8

नरकलोकवर्णनम् (Narakaloka-varṇanam) — Description of the Hell-Realms

এই অধ্যায়ে সনৎকুমারের বর্ণনায় নরকলোকের শিক্ষামূলক বিবরণ দেওয়া হয়েছে। যমরাজের ন্যায়বুদ্ধি ও লেখক চিত্রগুপ্ত দুষ্কৃতকারীদের—প্রজাপীড়ক রাজা, পরধনচোর, ও পরস্ত্রীগামী—কে তাদের কর্মলেখা দেখিয়ে বোঝান যে কৃত কর্মই অবশ্যম্ভাবীভাবে ফলরূপে ভোগ্য হয়; দুঃখ কারও দেওয়া নয়, নিজেরই কর্মজ। মৃত্যুকালে রাজ্য, পরিবার, ঐশ্বর্য—কোনও সহায় থাকে না; সাময়িক কর্তৃত্বের মোহ ভেঙে বাহ্যদোষারোপ নাকচ হয়। নরককে কেবল শাস্তিস্থান নয়, ধর্ম-ঋত-এর শিক্ষাপ্রসার হিসেবে দেখানো হয়েছে, যেখানে কর্মকারণতা স্পষ্ট হয়ে অনুশোচনা, সংযম ও ভক্তিকে প্রতিরোধক সাধনা হিসেবে গ্রহণ করতে বাধ্য করে।

44 verses

Adhyaya 9

सामान्यतो नरकगतिवर्णनम् (General Description of the Course of Hell / Naraka-gati)

অধ্যায় ৯-এ সনৎকুমার সাধারণভাবে নরকগতির বর্ণনা দেন। পাপী জীবেরা কর্মানুসারে মৃত্যুর পরে দণ্ড ভোগ করে—নরকের আগুনে সেদ্ধ ও শুকানো হয়, যেন ধাতু আগুনে পরিশোধিত হয়। যমদূতরা তাদের বেঁধে মহাবৃক্ষে ঝুলিয়ে প্রবলভাবে দোলায়, অচেতন করে, এবং পায়ে ভারী লোহার বোঝা বেঁধে যন্ত্রণা দেয়। এই ভোগান্তি কর্মক্ষয়ের নিয়মে ঘটে; অশুদ্ধি ক্ষয় হয়ে অবশিষ্ট কর্মফল সম্পূর্ণ হয়। ভয়ংকর নরকচিত্রের অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো বৈরাগ্য জাগানো, ধর্মাচরণ ও শৈবশুদ্ধির পথে ফেরানো, যাতে পাপের ধারাবাহিকতা থেমে যায়।

46 verses

Adhyaya 10

नरकयातनावर्णनम् / Description of Hell-Torments for Specific Transgressions

এই অধ্যায়ে সনৎকুমার উপদেশমূলক ভঙ্গিতে নির্দিষ্ট পাপের অনুপাতে নরক-যাতনার বিবরণ দেন। মিথ্যা আগম/ভ্রান্ত মত প্রচার, মাতা-পিতা ও গুরুর প্রতি কঠোর অপমান, শিব-সম্পর্কিত মন্দির-উদ্যান, কূপ, পুকুর ইত্যাদি এবং ব্রাহ্মণ্য/পবিত্র স্থানের ক্ষতি, আর মদ ও কামপ্রবৃত্তি থেকে জুয়া, ব্যভিচার প্রভৃতি দুষ্কর্ম—এসব পাপের শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে। শাস্তির বর্ণনা বিচারধর্মী ও চিত্রময়—জিহ্বা, মুখ, কান ইত্যাদি অঙ্গে লক্ষ্য করে উত্তপ্ত ধাতু, পেরেক, পিষে ফেলার যন্ত্র প্রভৃতির দ্বারা যন্ত্রণা দেখানো হয়। এতে বাক্-সংযম, গুরু-সাধুদের শ্রদ্ধা, শিবক্ষেত্র রক্ষা এবং সঠিক মত ও সদাচারকে শিবজ্ঞান লাভের পূর্বশর্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

56 verses

Adhyaya 11

यममार्गे सुखदायकधर्माः (Dharmas that Grant Ease on the Path to Yama)

এই অধ্যায়ে ব্যাস সনৎকুমারকে জিজ্ঞাসা করেন—পাপভারাক্রান্ত জীবদের যমমার্গে কোন ধর্ম দুঃখ লাঘব করে এবং কোন সাধনা ভয়ংকর পথ সহজ করে। সনৎকুমার বলেন, কৃত কর্মের ফল অবশ্যম্ভাবী; তবে সৌম্যচিত্ত, দয়া ও শ্রদ্ধাযুক্ত দান‑পূজা ইত্যাদি শুভাচার কষ্ট কমায়। তিনি ফলসহ দানের কথা বলেন—পাদুকা/জুতো দান দ্রুত গমন দেয়, ছাতা দান রক্ষা করে, শয্যা‑আসন বিশ্রাম দেয়, দীপদান পথ আলোকিত করে, আশ্রয়দান রোগ‑শোক নিবারণ করে। পরে উদ্যান নির্মাণ, পথের ধারে বৃক্ষরোপণ, মন্দির, সন্ন্যাসীদের আশ্রম ও অসহায়দের জন্য সভাগৃহ নির্মাণকে মহাপুণ্য ও পরলোকযাত্রায় আশ্রয়‑রক্ষা‑আলোকের প্রতিফল বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

53 verses

Adhyaya 12

पानीयदान-प्रपादान-वापीकूपतडाग-निर्माण-प्रशंसा (Praise of Water-Gift and the Construction of Wells and Tanks)

এই অধ্যায়ে সনৎকুমার পানীয়দান—পানীয় জলের দান ও ব্যবস্থা—কে সর্বশ্রেষ্ঠ দান বলেন, কারণ তা সকল জীবের তৃপ্তি ও জীবনধারণের ভিত্তি। ব্যক্তিগত দান থেকে জনকল্যাণে অগ্রসর হয়ে প্রপা (পানীয়জল-স্থল) স্থাপন এবং স্থায়ী জলাধার—বাপী, কূপ ও তড়াগ—নির্মাণের প্রশংসা করা হয়েছে। এ কর্মে অক্ষয় পুণ্য, ত্রিলোকে সম্মান-খ্যাতি এবং পূর্বপাপের প্রশমন হয়; যথাযথভাবে জল-উপলব্ধ কূপ পাপের একাংশ নাশ করে—এমন কথাও আছে। মানুষ, তপস্বী, ব্রাহ্মণ ও গবাদিপশু সকলেই উপকৃত হয়; তাই জল-পরিকাঠামো শৈবধর্মসম্মত লোকসংগ্রহের আদর্শ এবং জলকে পবিত্র পোষণ, শুদ্ধি ও কর্মক্ষয়ের মাধ্যমরূপে দেখানো হয়েছে।

54 verses

Adhyaya 13

पुराणविदः महिमा तथा अध्ययन-अध्यापन-दानफलम् (The Glory of the Purāṇa-Knower and the Fruits of Study, Teaching, and Giving)

এই অধ্যায়ে সনৎকুমার উপদেশ দেন—তপস্যা, বনবাস প্রভৃতি কঠোর সাধনা প্রশংসনীয়, তবু একটিমাত্র ঋক্‌ (বৈদিক মন্ত্র) পাঠও ফলদায়ক; আর একান্ত স্বাধ্যায়ের তুলনায় শাস্ত্র অধ্যাপন দ্বিগুণ ফল দেয়। পুরাণ ব্যতীত জগৎ সূর্য-চন্দ্রহীন আকাশের ন্যায়, তাই পুরাণ অধ্যয়ন সদা করা উচিত। পুরাণবিদ/পুরাণজ্ঞ সর্বপাত্রের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও পূজ্য, কারণ তিনি শাস্ত্রোপদেশে অজ্ঞতার ‘নরক’ থেকে লোককে উদ্ধার করেন। তাঁকে কেবল মানুষ ভাবা দোষ; এমন গুরু সর্বজ্ঞরূপে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-হরের সমতুল্য বলা হয়েছে। শেষে দানধর্ম নির্দিষ্ট—ধন, ধান্য, স্বর্ণ, বস্ত্র, ভূমি, গাভী, যান, হাতি, ঘোড়া ইত্যাদি ভক্তিসহ যোগ্য পুরাণবিদকে দান করলে অক্ষয় ভোগ ও মহাযজ্ঞসম পুণ্য লাভ হয়।

42 verses

Adhyaya 14

Mahādāna-prakaraṇa (The Doctrine of Great Gifts): Suvarṇa–Go–Bhūmi and Tulā-dāna

এই অধ্যায়ে সনৎকুমার দানের শ্রেণিবিন্যাস, পাত্রের যোগ্যতা এবং দানের ফলপ্রাপ্তির বিধান উপদেশ দেন। বলা হয়েছে—নিত্যভাবে মহাদান ও ঘোর দানও যদি যোগ্য পাত্রকে বিধিপূর্বক দেওয়া হয়, তবে তা তারক ও মুক্তিদায়ক হয়। স্বর্ণ/হিরণ্য, গো এবং ভূমিদানকে বিশেষ পবিত্রকারী বলা হয়েছে, আর তুলাদান (ওজন করে দান)কেও স্বীকৃত পুণ্যকর্ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে দাননীতিতে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বস্তু—গরু, ছাতা, বস্ত্র, পাদুকা—এবং প্রার্থীদের অন্ন-পান দানের কথা আসে; দানের বৈধতায় সংকল্পের গুরুত্বও বলা হয়েছে। ‘দশ মহাদান’-এর তালিকা দেওয়া হয়েছে—স্বর্ণ, তিল, হাতি, কন্যা, দাসী, গৃহ, রথ, রত্ন, কপিলা গো ইত্যাদি। শেষে বলা হয়, বিদ্বান ব্রাহ্মণ দান গ্রহণ করে পুণ্য বিতরণ/মধ্যস্থতা করে দাতাকে উদ্ধার করেন; স্বর্ণদানকে অগ্নিসংযোগে সর্বদেবতার উদ্দেশে দানের সমতুল্য বলা হয়েছে।

32 verses

Adhyaya 15

ब्रह्माण्डदान-प्रशंसा तथा ब्रह्माण्ड-प्रमाण-वर्णनम् (Praise of the Gift of the Cosmic Egg and Description of the Brahmāṇḍa’s Measure)

অধ্যায় ১৫-এ উপদেশমূলক সংলাপ। ব্যাস সনৎকুমারকে জিজ্ঞাসা করেন—কোন দান একাই সকল দানের ফল দেয়। সনৎকুমার মোক্ষার্থীদের জন্য ব্রহ্মাণ্ড-দানকে সর্বোচ্চ দান বলে প্রশংসা করেন, যার পুণ্য সকল দানের সমান। এরপর ব্যাস ব্রহ্মাণ্ডের পরিমাপ, স্বভাব, ভিত্তি ও প্রকৃত রূপ স্পষ্ট জানতে চান, যাতে শিক্ষা অতিশয়োক্তি না হয়। সনৎকুমার সংক্ষেপে সৃষ্টিক্রম বলেন—অব্যক্ত কারণ, নির্মল শিবের ব্যক্ত তত্ত্ব, এবং কালভেদের দ্বারা ব্রহ্মার আবির্ভাব। তিনি ব্রহ্মাণ্ডকে চতুর্দশ-ভুবনরূপে বর্ণনা করেন—সাত পাতাল ও ঊর্ধ্বলোকসমূহ, এবং তাদের উল্লম্ব পরিমাপ। গূঢ় শিক্ষা—ব্রহ্মাণ্ড-দান সম্পূর্ণ অর্ঘ্য ও অখণ্ড সংকল্পের প্রতীক, যা শৈব বিশ্বতত্ত্বে কর্ম ও মোক্ষকে যুক্ত করে।

33 verses

Adhyaya 16

नरकनामनिर्णयः (Catalogue of Narakas and Karmic Causes)

অধ্যায় ১৬-এ সংলাপরূপে সনৎকুমার ব্যাসকে বলেন যে পূর্বে বর্ণিত লোকগুলির ঊর্ধ্বে বহু নরক-লোক আছে। তিনি রৌরব, তামিস্র প্রভৃতি অন্ধকারময় নরক, বৈতরণী, অসিপত্রবন ইত্যাদির নাম তালিকাভুক্ত করেন। পরে ভূগোলের বর্ণনা থেকে কারণ-নির্ণয়ে এসে বলেন—শাস্তি ঈশ্বরের খেয়ালখুশি ক্রোধ নয়, পাপের স্বাভাবিক বিপাক। মিথ্যা সাক্ষ্য, অভ্যাসগত মিথ্যাভাষণ, হত্যা-চুরি প্রভৃতি গুরুতর অপরাধ, অপরাধীর সঙ্গ, শোষণমূলক/অশুচি জীবিকা ইত্যাদি অনুযায়ী নির্দিষ্ট নরকে পতনের কথা বলা হয়েছে। নরক-জ্ঞান বৈরাগ্য, সত্য ও সংযম জাগিয়ে ধর্ম ও শিবভক্তির আশ্রয়ে চালিত করে।

40 verses

Adhyaya 17

Bhu-maṇḍala-varṇanam (Description of the Earth-Maṇḍala, the Seven Continents, and Meru)

এই অধ্যায়ে সনৎকুমার পরাশর্যকে উপদেশ দেন। তিনি ভূ-মণ্ডলের গঠন ব্যাখ্যা করে সাত দ্বীপ ও নানা পদার্থের সাত সমুদ্রে পরিবেষ্টিত জগতের সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রযুক্তিগত বর্ণনা দেন এবং কেন্দ্রে জম্বুদ্বীপ স্থাপন করেন। জম্বুদ্বীপে স্বর্ণময় অক্ষ-পর্বত মেরুর যোজনামাপে উচ্চতা-প্রস্থ নির্দিষ্ট করে বলা হয়; দক্ষিণে হিমবান, হেমকূট, নিষধ এবং উত্তরে নীল, শ্বেত, শৃঙ্গী প্রভৃতি পর্বতশ্রেণির উল্লেখ আছে। পরে ভারত, কিম্পুরুষ, হরিবর্ষ, রম্যক, হিরণ্ময়, উত্তরকুরু ইত্যাদি বর্ষভাগের নাম ও ক্রম দিয়ে পুরাণীয় ভূগোলকে ধর্ম, তীর্থভাবনা ও শিবভক্তির পবিত্র মানচিত্ররূপে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

44 verses

Adhyaya 18

Bhāratavarṣa–Navabheda-Vyavasthā (The Nine Divisions of Bhāratavarṣa and Its Sacred Geography)

এই অধ্যায়ে সনৎকুমার ভারতবর্ষকে 'কর্মভূমি' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখান থেকে জীব স্বর্গ, নরক বা মোক্ষ লাভ করতে পারে। এতে ভারতের নয়টি বিভাগ (নব-ভেদ), বিভিন্ন জাতি, বর্ণাশ্রম ধর্ম, সাতটি কুলপর্বত এবং নর্মদার মতো পবিত্র নদীগুলির বর্ণনা রয়েছে। এই অধ্যায়টি ভৌগোলিক জ্ঞানকে আধ্যাত্মিক মুক্তি এবং শিবভক্তির সাথে যুক্ত করে একটি পবিত্র মানচিত্র উপস্থাপন করে।

77 verses

Adhyaya 19

Lokapramāṇa–Grahamaṇḍala–Dhruvaloka-vyavasthā (Cosmic Measures and the Arrangement of the Heavenly Spheres)

এই অধ্যায়ে সনৎকুমার যোজনাদি পরিমাপের ভাষায় বিশ্ববিন্যাস ব্যাখ্যা করেন। সূর্য ও চন্দ্রের কিরণব্যাপ্তির দ্বারা ভূ-লোকের পরিমাণ নির্ধারণ করে পৃথিবীর ঊর্ধ্বে ক্রমান্বয়ে সূর্য ও চন্দ্রের অবস্থান স্থাপন করা হয়। এরপর চন্দ্রের উপরে গ্রহমণ্ডলের ব্যবস্থা এবং দৃশ্য গ্রহগুলির ক্রমোন্নতি বর্ণিত। গ্রহাঞ্চলের ঊর্ধ্বে সপ্তর্ষিমণ্ডল ও ধ্রুবলোক দেখিয়ে ধ্রুবকে আকাশচক্রের মেধীভূত, অক্ষ-সমর্থনরূপে বলা হয়েছে। শেষে ভূঃ-ভুবঃ-স্বঃ ত্রিলোকের ধ্রুব-সম্পর্ক, মহর্লোকাদি উচ্চলোক ও সনকাদি আদ্য ঋষিদের ইঙ্গিত দিয়ে স্তরক্রমে লোক, সত্তা ও আধ্যাত্মিক অবস্থানের মানচিত্র অঙ্কিত হয়।

44 verses

Adhyaya 20

तपसो महिमा (The Greatness and Typology of Tapas)

এই অধ্যায়ে ব্যাস ও সনৎকুমারের উপদেশমূলক সংলাপ। ব্যাস জিজ্ঞাসা করেন—শিবভক্তরা যে শুভ অবস্থায় পৌঁছান, যেখানে গিয়ে আর প্রত্যাবর্তন নেই (শিবলোক-প্রাপ্তি), তা লাভের উপায় কী। সনৎকুমার বলেন, ব্রত এবং বিশেষত তপস্যাই শিবকৃপা লাভের নির্ণায়ক সাধন; তপস্যায় কঠিন, অসহনীয় ও অপ্রাপ্য বলেও যা মনে হয়, তাও সাধ্য হয়, এবং দেব-ঋষিদের সাফল্যের গোপন শক্তিও তপস্যা। পরে তপস্যার ত্রিবিধ বিভাগ—সাত্ত্বিক, রাজস, তামস—উপস্থাপিত: সাত্ত্বিক দেব ও তপস্বীদের, রাজস মানুষ ও দৈত্যদের, তামস রাক্ষস ও নিষ্ঠুর কর্মীদের। শিক্ষা এই যে তপস্যার ফল সাধকের ভাবের উপর নির্ভরশীল; তপস্যার নৈতিক গুণই তার গতি ও ফল নির্ধারণ করে।

54 verses

Adhyaya 21

Varṇa-adhikāra, Karma, and the Protection of One’s Attained Spiritual Status (वर्णाधिकारः कर्म च स्वस्थानरक्षणम्)

এই অধ্যায়ে সংলাপরূপে ব্যাস চার বর্ণের উৎপত্তি ও অধিকার-ব্যবস্থার যুক্তি জানতে চান। সনৎকুমার জন্মগৌরবের চেয়ে কর্মফল, ধর্মাচরণ ও নৈতিক শুদ্ধতাকেই মুখ্য বলেন। মুখ‑বাহু‑ঊরু‑পদ থেকে বর্ণ-উৎপত্তির প্রথাগত ব্যাখ্যা উল্লেখ করে তিনি জানান—দুষ্কৃত ও অধর্মসেবনে উচ্চ অবস্থান থেকে পতন ঘটে এবং জন্মান্তরে নিম্ন অবস্থায় গমন হয়। অর্জিত উৎকৃষ্ট স্থান সতর্কতা, সংযম, সৎবিবেক এবং কর্তব্য‑অকর্তব্য জ্ঞানে রক্ষা করতে হবে। শূদ্রকর্ম, ত্রিবর্ণ-সেবা, ধনোপার্জন ও বিধিপূর্বক আচরণ দ্বারা উন্নতির সম্ভাবনাও দেখানো হয়েছে। সারাংশে, শৈব নীতিতে অধর্মে অবনতি ও স্থির আচারেই স্বস্থান-রক্ষার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

38 verses

Adhyaya 22

Garbha-sthiti, Deha-pariṇāma, and Vairāgya-upadeśa (Embryonic Condition, Bodily Transformation, and Instruction in Detachment)

এই অধ্যায়ে ব্যাসদেব সনৎকুমারের কাছে জীবের জন্ম ও গর্ভবাসের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। সনৎকুমার বৈরাগ্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে শরীরের গঠন, পরিপাক প্রক্রিয়া এবং নাড়ীর বর্ণনা দেন, যা মুমুক্ষু ব্যক্তিকে দেহের প্রতি আসক্তি ত্যাগ করে মুক্তির পথে পরিচালিত করে।

50 verses

Adhyaya 23

Dehāśucitā-vicāraḥ (Inquiry into the Impurity of the Body)

এই অধ্যায়ে সনৎকুমার ব্যাসকে দেহের স্বভাবগত অশুচিতা বোঝান এবং বৈরাগ্যের প্রয়োজন নির্দেশ করেন। দেহের উৎপত্তি শুক্র-শোণিত থেকে, আর তা সর্বদা বিষ্ঠা-মূত্র, কফ, মল প্রভৃতির সান্নিধ্যে থাকে। ‘বাইরে পরিষ্কার পাত্র, ভিতরে মলভরা’—এমন উপমায় বলা হয়, বাহ্য স্নান-শৌচে দেহকে স্বতঃশুদ্ধ করা যায় না। দেহস্পর্শে পবিত্র দ্রব্য ও আচারও শুদ্ধি হারায়—অতএব আচারগত শুচিতা শর্তসাপেক্ষ ও উপায়মাত্র, প্রকৃত শুদ্ধি শিবতত্ত্বাভিমুখ আত্মবোধে। গূঢ় শিক্ষা দেহাভিমান ভেঙে অন্তঃশুদ্ধি, বিবেক ও স্থির শৈব সাধনায় মন স্থাপন করা।

65 verses

Adhyaya 24

Strī-svabhāva-kathanam: Nārada–Pañcacūḍā-saṃvāda (Discourse on Dispassion via the Nārada–Pañcacūḍā Dialogue)

এই অধ্যায়ে ব্যাস পঞ্চচূড়া-সম্পর্কিত পূর্বের নীতিমূলক সতর্কবাণীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ জানতে চান। সনৎকুমার ‘স্ত্রীস্বভাব’ বিষয়ে এমন উপদেশ আরম্ভ করেন, যা কেবল শ্রবণেই তীব্র বৈরাগ্য জাগায়। এরপর প্রাচীন ইতিহাসে দেখা যায়—দেবর্ষি নারদ লোকলোকান্তরে ভ্রমণকালে অপ্সরা পঞ্চচূড়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংশয় নিবারণের জন্য প্রশ্ন করেন। পঞ্চচূড়া প্রথমে যোগ্যতা ও উদ্দেশ্য যাচাই করে উত্তর দিতে চান; নারদ জানান, তিনি কোনো অনুচিত কাজে তাকে ব্যবহার করবেন না, বরং বিবেকের জন্য আচরণগত প্রবণতার জ্ঞান চান। সনৎকুমার বলেন, এই বাণী আসক্তি শনাক্ত করা, মোক্ষার্থীদের ইন্দ্রিয়বিষয়ের ফাঁদ থেকে সতর্ক করা এবং কাম থেকে মুক্তির দিকে মন ফেরাতে ‘অপ্রমাদ’ ও সতর্কতার প্রয়োজন স্মরণ করায়।

37 verses

Adhyaya 25

Kālajñāna (Knowledge of Time) and Mṛtyu-cihna (Signs of Death): Śiva’s Instruction to Umā

এই অধ্যায়ে সংলাপের ভিতরে সংলাপ। স্ত্রীস্বভাবের কথা শুনে ব্যাস সনৎকুমারকে কালজ্ঞান শেখাতে অনুরোধ করেন; সনৎকুমার তখন পার্বতী ও পরমেশ্বরের পূর্ববর্তী কথোপকথন বর্ণনা করেন। পার্বতী বলেন, শিবার্চনা-পদ্ধতি ও মন্ত্র তিনি বুঝেছেন, কিন্তু কালচক্রে আয়ু কীভাবে মাপা হয় এবং মৃত্যুর নিকটবর্তী লক্ষণ (মৃত্যুচিহ্ন) কী—এ বিষয়ে সন্দেহ আছে। শিব ‘পরম শাস্ত্র’ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিন, পক্ষ, মাস, ঋতু, অয়ন, বর্ষ ইত্যাদি কালমান এবং স্থূল-সূক্ষ্ম, অন্তর্গত-বাহ্য লক্ষণের ব্যাখ্যা করেন। পরে দেহগত পূর্বলক্ষণ—হঠাৎ ফ্যাকাশে হওয়া, ঊর্ধ্বদিকে বর্ণবিকার, ইন্দ্রিয়/অঙ্গের স্থবিরতা—ইত্যাদি নির্দিষ্ট সময়সীমা (যেমন ছয় মাস) ধরে মৃত্যুসংকেত হিসেবে বলা হয়। শিক্ষা নিয়তিবাদ নয়; অনিত্যতার বোধ, লোকোপকার ও বৈরাগ্য জাগিয়ে সাধনা তীব্র করার জন্যই এই জ্ঞান।

75 verses

Adhyaya 26

Kāla-vañcana (Overcoming/Outwitting Time) and the Pañcabhūta Basis of the Body

এই ২৬তম অধ্যায়ে উমা–শঙ্কর সংলাপে কাল-জ্ঞান ও ‘কাল-বঞ্চনা’র তত্ত্ব বলা হয়েছে—এটি মহাবিধান এড়ানো নয়, যোগসাধনায় সময়ের বন্ধন অতিক্রম করা। উমা জিজ্ঞাসা করেন, তত্ত্বনিষ্ঠ যোগীরা সর্বব্যাপী কাল ও মৃত্যুর আসন্নতা কীভাবে উপলব্ধি করবেন। শঙ্কর লোককল্যাণে সংক্ষেপে বলেন—দেহ পঞ্চভৌতিক; আকাশ সর্বব্যাপী, যেখানে সব লয় পায় এবং যেখান থেকে পুনরায় প্রকাশিত হয়—এতে অনিত্যতা ও ধারাবাহিকতার বোধ জাগে। ভূত-विश্লেষণ থেকে স্থিরভাব, তপস্যা ও মন্ত্রবলে সমর্থিত উচ্চ জ্ঞান জন্মায়; ঘণ্টা, বীণা প্রভৃতি নাদ-আকাশের প্রতীক হয়ে অন্তর্নাদ-সাধনার ইঙ্গিত দেয়। শেষ পর্যন্ত ‘কালের উপর জয়’ মানে জ্ঞানলাভে নশ্বর দেহ-অভিমান ত্যাগ করে মুক্তিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া।

52 verses

Adhyaya 27

Vāyu-jaya (Prāṇa-vijaya) and Yogic Mastery over Time — वायुजय (प्राणविजय) तथा कालजय

এই অধ্যায়ে দেবী শংকরকে ‘বায়োস্তু পদম্’—যোগাকাশ থেকে উদ্ভূত বায়ুর অবস্থা—সম্বন্ধে প্রশ্ন করেন। শংকর বলেন, এটি যোগীদের কল্যাণার্থে পূর্বে প্রদত্ত উপদেশ এবং প্রাণজয়ের সঙ্গে কাল/মৃত্যুজয়ের গভীর সম্পর্ক আছে। প্রাণকে হৃদয়স্থিত, অগ্নিসংযুক্ত, সর্বব্যাপী এবং জ্ঞান, তেজ ও দেহক্রিয়ার ভিত্তি বলা হয়েছে। জরা-মৃত্যু জয়ের জন্য ধারনায় স্থিত থেকে কামারের ধমনীসদৃশ নিয়ন্ত্রিত প্রণায়াম করতে বলা হয়। ব্যাহৃতিসহ গায়ত্রী-মন্ত্রযুক্ত দীর্ঘ শ্বাসচক্রকে প্রণায়ামের লক্ষণ হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে। শেষে বলা হয়—সূর্য-চন্দ্র-গ্রহাদি ফিরে আসে, কিন্তু ধ্যানে নিমগ্ন যোগী ফিরে আসে না; এটাই অনাবর্ত মুক্তি।

38 verses

Adhyaya 28

छायापुरुषलक्षणवर्णनम् (Description of the Marks of the Shadow-Person)

অধ্যায় ২৮ দেবী–শঙ্কর সংলাপরূপ। দেবী পূর্বে সংক্ষেপে বলা গূঢ় উপদেশ—“ছায়িকং জ্ঞান” (শব্দ-ব্রহ্ম ও যোগ-লক্ষণ-সম্পর্কিত)—এর বিস্তার চান। শঙ্কর ছায়াপুরুষ-লক্ষণ নির্ণয়ের বিধি বলেন: সূর্য বা চন্দ্রের দিকে উপযুক্ত অবস্থান নিয়ে, শুচি হয়ে শ্বেতবস্ত্র ও সুগন্ধ ধারণ করে, “নবাত্মক” ও “পিণ্ডভূত” শিব-মহামন্ত্র স্মরণ করে নিজের ছায়া পর্যবেক্ষণ করতে। পরে ছায়ার রূপ, বর্ণ ও বিকারকে ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে—পরমকারণ শিবদর্শন, ব্রহ্মপ্রাপ্তি, মহাপাপমোচন, এবং সময়নির্দিষ্ট ক্ষতি, বিপদ ও জীবনঘটনার পূর্বলক্ষণ। মন্ত্র, শুদ্ধি, দর্শন ও ব্যাখ্যার নিয়ম মিলিয়ে এটি শৈব দিব্য-যোগিক সংকেতশাস্ত্রের সংক্ষিপ্ত নির্দেশিকা।

31 verses

Adhyaya 29

सृष्टिवर्णनम् (Cosmogony and the Roles of the Trimūrti)

অধ্যায় ২৯ পুরাণীয় প্রশ্নোত্তর রীতিতে গঠিত। শৌনক পূর্বে শ্রুত মহাখ্যান (সনৎকুমার–কালেয়স সংলাপ) শুনে ব্যাস-পরম্পরায় ব্রহ্মার সৃষ্টির (সর্গ) উৎপত্তির নির্ভুল বিবরণ জানতে চান। সূত বলেন, এ কাহিনি দিব্য-কথা—বারবার শ্রবণ ও কীর্তনে পবিত্রতা, পুণ্য এবং স্ববংশধারণের ফল লাভ হয়। এরপর প্রধান ও পুরুষ—সৎ/অসৎ-সমন্বিত তত্ত্বযুগল থেকে জগত্-রচনার সূত্র ব্যাখ্যা করা হয়। ব্রহ্মা জীবসৃষ্টিকর্তা ও নারায়ণ-পরায়ণ; ত্রিমূর্তির কর্ম নির্দিষ্ট—ব্রহ্মা সৃষ্টি করেন, হরি পালন করেন, মহেশ্বর সংহার করেন; এই পর্যায়ক্রমিক কল্পচক্রে অন্য কোনো কর্তা নেই। সৃষ্টিক্রমের শুরুতে স্বয়ম্ভূ ব্রহ্মা প্রথমে জল (আপঃ) সৃষ্টি করে তাতে বীজ/বীর্য স্থাপন করেন, যা পরবর্তী বিকাশের আদিরূপ।

29 verses

Adhyaya 30

स्वायम्भुव-मन्वन्तर-वंशवर्णनम् (Genealogy of Svāyambhuva Manu and the Dhruva Episode)

এই অধ্যায়ে সূত স্বায়ম্ভুব মন্বন্তরের বংশবিবরণ ও ধ্রুব-উপাখ্যান সংক্ষেপে বলেন। ধর্ম ও তপস্যার দ্বারা প্রজাপতি (আপব) এবং শতরূপার আবির্ভাব দেখিয়ে বোঝানো হয় যে শৃঙ্খলিত ধার্মিকতা থেকেই প্রজা ও বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বায়ম্ভুব মনুকে এক নির্দিষ্ট মহাকাল-পর্ব (মন্বন্তর) হিসেবে স্থাপন করে প্রিয়ব্রত, উত্তানপাদ প্রমুখ বংশধরদের কথা আসে। সুনীতিকে ধর্ম-সম্পর্কিতা বলে ধ্রুবের নৈতিক অধিকার নির্দেশিত হয়। ধ্রুব অরণ্যে তিন হাজার দিব্যবর্ষ কঠোর তপস্যা করে ‘অব্যয় স্থান’ কামনা করেন; ব্রহ্মা সপ্তর্ষিদের সামনে তাঁকে অচল, উৎকৃষ্ট পদ দান করেন। এতে শিক্ষা—ধর্মসম্মত দীর্ঘ তপস্যা স্থায়ী জাগতিক ও আধ্যাত্মিক সিদ্ধি দেয়, আর ধ্রুবতারার স্থির অবস্থান অন্তরের যোগস্থৈর্যের প্রতীক।

54 verses

Adhyaya 31

सृष्टिविस्तारप्रश्नः (Sṛṣṭi-vistāra-praśnaḥ) — The Detailed Inquiry into Creation

এই অধ্যায়ে শৌনক সূতকে সৃষ্টির বিস্তৃত বিবরণ জিজ্ঞাসা করেন—দেব, দানব, গন্ধর্ব, নাগ ও রাক্ষস প্রভৃতির উৎপত্তি ও ভেদ কীভাবে হল। সূত প্রজাপতি দক্ষকে কেন্দ্র করে বংশানুক্রম ও ধর্মানুসারে মৈথুনের দ্বারা প্রজাবৃদ্ধির বিধান বর্ণনা করেন। দক্ষ বহু পুত্র উৎপন্ন করলে নারদ উপদেশ দেন—জগতের ‘মান’ ও ‘দিক-সীমা’ না জেনে সৃষ্টিকার্যে প্রবৃত্ত হওয়া উচিত নয়। পুত্রেরা বিশ্বসীমা জানতে বেরিয়ে আর ফিরে আসে না, ফলে দক্ষের পরিকল্পনা ব্যাহত হয়। পরে দক্ষ আবার পাঁচশো পুত্র সৃষ্টি করেন, নারদ পুনরায় একই প্রশ্ন তুলে কেবল প্রজনন-অভিমানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। অন্তর্নিহিত শিক্ষা—সৃষ্টি জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত; পরিমাপ, শৃঙ্খলা ও সীমাবোধ ছাড়া তা সিদ্ধ নয়, নারদ জ্ঞান-বৈরাগ্যের পথে পরিচালিত করেন।

38 verses

Adhyaya 32

Aditi’s Progeny and the Twelve Ādityas (Manvantara Genealogy)

এই অধ্যায়ে সূত-শৌনক সংলাপে সূত কশ্যপের পত্নীগণ—অদিতি, দিতি, সুরসা, ইলা, দনু, সুরভি, বিনতা, তাম্রা, ক্রোধবশা প্রভৃতি—উল্লেখ করে পূর্ব মন্বন্তরসমূহে তাঁদের সন্তান-পরম্পরা বর্ণনা করেন। মূল বক্তব্য হলো, তুষিত দেবগণ লোককল্যাণার্থে সমবেত হয়ে অদিতির গর্ভে প্রবেশ করেন এবং পরবর্তী চক্রে জন্ম নিয়ে দ্বাদশ আদিত্যরূপে প্রকাশিত হন। বিষ্ণু, শক্র (ইন্দ্র), আর্যমা, ধাতা, ত্বষ্টা, পূষা, বিবস্বান, সবিতা, মিত্র, বরুণ, অংশ ও ভগ—এই আদিত্যদের নাম দিয়ে তাঁদের সূর্যতত্ত্ব, শাসন-ব্যবস্থা, সার্বভৌমত্ব ও সমৃদ্ধি-রক্ষার ভূমিকা যুক্ত করা হয়েছে। পরে সোমের সাতাশ পত্নী ও তাঁদের দীপ্তিমান সন্তানদের কথাও আসে, যা নক্ষত্র ও কালগণনার তত্ত্বকে প্রসারিত করে। মন্বন্তরচক্রে নাম-রূপ বদলালেও দেবকার্যের ধারাবাহিকতা কীভাবে থাকে, তা পুরাণীয় রীতিতে দেখানো হয়েছে।

52 verses

Adhyaya 33

Diter Vratabhaṅga and Indra’s Intervention (Diti–Kaśyapa Narrative)

এই অধ্যায়ে সূত মন্বন্তর-প্রসঙ্গে কাহিনি স্থাপন করে ব্রহ্মার প্রজাসর্গে দেব ও দানবদের বিরোধের উদ্ভব বর্ণনা করেন। পুত্রশোকে দগ্ধ দিতি শৃঙ্খলিত সেবায় কশ্যপের শরণ নেন; কশ্যপ বর দেন, আর দিতি ইন্দ্রবধে সক্ষম পুত্র প্রার্থনা করেন। কশ্যপ শর্ত দেন—শতবর্ষ ব্রহ্মচর্যসহ নানা নিয়মানুবর্তী কঠোর ব্রত পালন করলে বর ফলবে। দিতি গর্ভ ধারণ করে ব্রত পালন করেন। ইন্দ্র তার ব্রতে ‘অন্তর’ খুঁজে নজর রাখে; সময়শেষে দিতি পাদশৌচ না করে নিদ্রা গেলে শৌচভঙ্গের ক্ষণ পেয়ে ইন্দ্র হস্তক্ষেপ করে। শিক্ষা—দীর্ঘ সংযমে ব্রতশক্তি জন্মায়, কিন্তু সামান্য ভঙ্গেও ক্ষয় হয়; শৌচ ও সতর্কতার সূক্ষ্মতায়ই ফল নির্ভর।

32 verses

Adhyaya 34

Manvantarāṇukīrtana (Enumeration of the Manvantaras and Manus)

এই অধ্যায়ে শৌনক সকল মন্বন্তর ও তাদের অধিষ্ঠাতা মনুগণের বিস্তারিত বিবরণ জানতে চান। সূত স্বায়ম্ভুব থেকে শুরু করে বর্তমান বৈবস্বত মনু এবং পরবর্তী সাবর্ণি প্রভৃতি মনুগণের নাম ক্রমান্বয়ে গণনা করেন। তিনি স্থির করেন যে এক কল্পে অতীত‑বর্তমান‑ভবিষ্যৎ মিলিয়ে মোট চৌদ্দ মন্বন্তর, যা যুগচক্রের সঙ্গে যুক্ত মহাকাল-ব্যবস্থার ভিত্তি। এরপর সূত জানান, প্রতিটি মন্বন্তরে সংশ্লিষ্ট ঋষি, পুত্র ও দেবগণও ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করবেন। উদাহরণ হিসেবে স্বায়ম্ভুব মন্বন্তরে ব্রহ্মাজাত সপ্তর্ষি—মরীচি, অত্রি, অঙ্গিরা, পুলহ, ক্রতু, পুলস্ত্য, বসিষ্ঠ—এবং ‘যামা’ নামক দেবগণ ও সপ্তর্ষিদের দিকনির্দেশিত অবস্থান উল্লেখিত। অধ্যায়টি কাহিনির চেয়ে পবিত্র সময়ের তথ্য-রূপকাঠামো নির্মাণ করে, যেখানে যুগানুসারে ঋষি-অধিকার ও দেবশাসন সূচিবদ্ধ।

77 verses

Adhyaya 35

Saṃjñā–Chāyā Upākhyāna: Sūrya-tejas, Substitution, and the Birth of Manu, Yama, and Yamunā

এই অধ্যায়ে সূতের বর্ণনায় সঞ্জ্ঞা–ছায়া উপাখ্যান বলা হয়েছে। বিবস্বান সূর্যের প্রখর তেজ সঞ্জ্ঞা (ত্বাষ্ট্রী/সুরেণুকা)-র কাছে অসহনীয় হয়ে ওঠে; মন ও দেহে ক্লেশ জন্মায়। পিতৃগৃহে যাওয়ার আগে তিনি মায়াময়ী ‘ছায়া’ নামে এক প্রতিরূপ সৃষ্টি করে তাকে নির্দেশ দেন—গৃহে অবিচল থেকে সঞ্জ্ঞার সন্তানদের লালন করতে। এখানে সূর্য ও সঞ্জ্ঞার সন্তান—মনু শ্রাদ্ধদেব এবং যম ও যমুনা—উল্লেখিত। কাহিনি রূপ-বাস্তব, কর্তব্য-সহিষ্ণুতা ও গোপনের নীতিগত টানাপোড়েন দেখায়; গূঢ়ার্থে তেজ দেবগুণ, যা দেহধারীদের অভিভূত করতে পারে, আর ছায়া অসহনীয় অবস্থায়ও ধর্মরক্ষা করার সীমান্ত-ব্যবস্থা। মনু, যম ও যমুনার বংশগত ভিত্তিও এতে স্থাপিত হয়।

42 verses

Adhyaya 36

Manu’s Progeny and the Birth of Iḍā (Genealogy and Dharma-Choice)

এই অধ্যায়ে সূত প্রাচীন রাজবংশের বংশানুক্রম ও সন্তানলাভকে ধর্ম ও বিশ্বব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। প্রথমে বৈবস্বত মনুর নয় পুত্র—ইক্ষ্বাকু প্রমুখ—যাঁরা ক্ষাত্রধর্ম ও রাজবংশের ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের নামোল্লেখ করা হয়। পরে মনুর পুত্রকামেষ্টি যজ্ঞের প্রসঙ্গ আসে, যেখানে যজ্ঞকারণ ও দেবতাদের ভাগ-বণ্টনের দ্বারা সন্তানের উদ্ভব নির্ধারিত হয়। সেই যজ্ঞপরিপ্রেক্ষিতেই মিত্র-বরুণের অংশ-সম্পর্কে দিব্যলক্ষণযুক্ত ইড়ার জন্ম হয়। মনুর রাজধর্মসিদ্ধ উত্তরাধিকার-প্রত্যাশা ও ইড়ার মিত্র-বরুণের নিকট প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষা—এই দ্বন্দ্বে ধর্ম-নির্বাচনের ইঙ্গিত ফুটে ওঠে। গূঢ় শিক্ষা: বংশ ও সামাজিক শৃঙ্খলা কেবল জৈবিক নয়; যজ্ঞ-ইচ্ছা, দেব-সহযোগিতা ও স্বভাব-রুচির সূক্ষ্ম সামঞ্জস্যেই তা স্থাপিত।

61 verses

Adhyaya 37

Ikṣvāku-vaṃśa-prasaṅgaḥ — Genealogy of the Ikṣvāku Line and Exempla of Royal Dharma

এই অধ্যায়ে সূত মুনি পুরাণীয় সংলাপরীতিতে মনুপুত্র ইক্ষ্বাকু থেকে ইক্ষ্বাকু-বংশের বংশানুচরিত শুরু করেন। অযোধ্যা ও আর্যাবর্ত-সম্পর্কিত উত্তরসূরি ও পার্শ্বচরিত্রদের নামক্রমে তুলে ধরে বংশস্মৃতির মাধ্যমে রাজধর্ম ও রাজনৈতিক বৈধতা প্রতিষ্ঠিত হয়। শ্রাদ্ধ-প্রসঙ্গে খরগোশ ভক্ষণরূপ বিধিলঙ্ঘন কলঙ্ক ও নির্বাসনের কারণ হয়—এ দৃষ্টান্তে আচারশুদ্ধি ও রাজনীতির নৈতিকতা যে অঙ্গাঙ্গী, তা বোঝানো হয়েছে। এরপর ককুৎস্থ প্রমুখের ধারাবাহিকতা চলতে চলতে কুবলাশ্ব (ধুন্ধুমার) প্রসঙ্গের ভূমিতে পৌঁছে, যেখানে বীর্য ও বংশবৃদ্ধির উল্লেখ আছে। গূঢ়ার্থে অধ্যায়টি ধর্ম, পিতৃকর্ম ও রাজক্ষমতাকে শৈব পুরাণজগতে স্মৃতিলেখের মতো নথিভুক্ত করে শিবভক্তির সহায়ক সামাজিক শৃঙ্খলার ইঙ্গিত দেয়।

59 verses

Adhyaya 38

Satyavrata, Vasiṣṭha, and the Crisis of Dharma: Protection, Anger, and Vow-Discipline

এই অধ্যায়ে সূতকথিত সত্যব্রত ও ঋষি বশিষ্ঠের উপাখ্যান এগিয়ে যায়। সত্যব্রত বিশ্বামিত্রের আশ্রমের নিকটে শিকার করে অন্ন সংগ্রহ করে তাঁর গৃহস্থালি রক্ষা করে; অন্যদিকে বশিষ্ঠের অবস্থান যাজ্য–উপাধ্যায় সম্পর্ক, পিতৃপরিত্যাগের স্মৃতি ও ক্রমবর্ধমান ক্রোধে প্রভাবিত। পাণিগ্রহণ মন্ত্রের সমাপ্তি ‘সপ্তম পদে’—এমন বিধিগত টীকা এসে আচারশুদ্ধি ও নৈতিক বিচারের যুগল উদ্বেগ প্রকাশ করে। দীর্ঘ দীক্ষাকালের উল্লেখ আছে; ক্ষুধা ও ক্লান্তিতে কাতর সত্যব্রত এক বরদায়িনী কামধেনুসম গাভীর সম্মুখীন হয়, যা প্রয়োজন, ধর্ম, করুণার সীমা ও সম্ভাব্য অতিক্রম নিয়ে বিতর্ক উসকে দেয়। ফলে শৈব পুরাণীয় শিক্ষায় উদ্দেশ্য, পরিস্থিতি ও আচারগত অবস্থান কীভাবে ন্যায়বিচারকে জটিল করে—তার এক দৃষ্টান্ত রচিত হয়।

57 verses

Adhyaya 39

Sagara-vaṃśa-prasavaḥ — The Birth of Sagara’s Sons and the Bhāgīratha Lineage

এই অধ্যায়ে প্রশ্নোত্তররূপে শৌনক সগর রাজার প্রসিদ্ধ ষাট হাজার পুত্রের উৎপত্তি ও অসাধারণ শক্তির কারণ জিজ্ঞাসা করেন, আর সূত সংক্ষেপে বংশকথা বলেন। ঔর্ব ঋষির বরদানে সগরের দুই রানি—একজন ষাট হাজার বীরপুত্র চান, অন্যজন বংশধারী একমাত্র উত্তরাধিকারী চান। বিচ্ছিন্ন বীজ/গর্ভকে পাত্রে রেখে ঘৃতভরা ঘটের মধ্যে সন্তানদের বৃদ্ধি—অলৌকিক জন্মবৃত্তান্ত হিসেবে বর্ণিত। পরে কপিল মুনির তেজে সগরপুত্রদের বিনাশ, পঞ্চজনের রক্ষা এবং সেখান থেকে অংশুমান, দিলীপ ও ভাগীরথের বংশধারা বলা হয়। ভাগীরথের তপস্যায় গঙ্গার পৃথিবীতে অবতরণ ও সাগরের সঙ্গে সংযোগ ‘সাগর-কন্যা’ রূপে বংশের পবিত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা। শেষে শ্রুতসেন, নাভাগ, অম্বরীষ, সিন্ধুদ্বীপ ও অযুতাজিত প্রভৃতি রাজাদের উত্তরাধিকার-ক্রম দেখিয়ে তপ, ধর্মাধিকার ও গঙ্গা–সাগর তীর্থমাহাত্ম্যকে শৈব পুরাণীয় ইতিহাসে যুক্ত করা হয়েছে।

46 verses

Adhyaya 40

पितृसर्ग-श्राद्धमाहात्म्य-प्रश्नः (Pitṛ-sarga and the Greatness of Śrāddha: The Inquiry)

অধ্যায় ৪০-এ পুরাণীয় বর্ণনা-পরম্পরা স্থাপন করে কর্তৃত্ব ও প্রেক্ষাপট নির্দিষ্ট করা হয়। সূর্যবংশের উৎকৃষ্ট কাহিনি শুনে শৌনক বিনীতভাবে সূতকে প্রশ্ন করেন—(১) আদিত্য বিবস্বানকে কেন ‘শ্রাদ্ধদেব’ বলা হয়, (২) শ্রাদ্ধের মাহাত্ম্য ও ফল কী, এবং (৩) পিতৃগণের সর্গ/উৎপত্তি-ক্রম বিস্তারিতভাবে কী। সূত বলেন, তিনি সম্যকভাবে ব্যাখ্যা করবেন; এ কথা পূর্বে মার্কণ্ডেয় প্রশ্নোত্তরে ভীষ্মকে বলেছিলেন, আর মূলত সনৎকুমার জ্ঞানী মার্কণ্ডেয়কে গেয়েছিলেন। এরপর মহাভারতীয় পরিমণ্ডলে যুধিষ্ঠির শরশয্যায় শায়িত ভীষ্মকে জিজ্ঞাসা করেন—পুষ্টি ও সমৃদ্ধি কামনাকারী ব্যক্তি কীভাবে তা লাভ করে এবং অবনতি কীভাবে এড়ায়; এতে শ্রাদ্ধ ও পিতৃকর্মের সঙ্গে সমৃদ্ধি, ধারাবাহিকতা ও কর্মকারণ-সম্পর্ক শৈব পুরাণীয় দৃষ্টিতে যুক্ত হয়।

60 verses

Adhyaya 41

Pitṛbhakti and Śrāddha: The Classification of Pitṛs and the Superiority of Pitṛ-kārya

এই ৪১তম অধ্যায়ে সনৎকুমার পিতৃগণের শ্রেণিবিভাগ ব্যাখ্যা করেন—স্বর্গে সাতটি প্রধান পিতৃসমষ্টি, যার মধ্যে চারটি মূর্তিমান ও তিনটি অমূর্ত। এরপর শ্রাদ্ধবিধি নির্দেশিত হয়, বিশেষত যোগীদের উদ্দেশে, এবং রৌপ্যপাত্র বা রৌপ্য-অলংকৃত উপকরণে শ্রাদ্ধকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। স্বধা-সহ সঠিক ক্রমে আহুতি দিলে পিতৃগণ তৃপ্ত হন; অগ্নিতে, আর অগ্নি না থাকলে জলের মাধ্যমেও কর্ম করা যায়। ফল হিসেবে পুষ্টি, সন্তান, স্বর্গ, আরোগ্য, বৃদ্ধি ও ইষ্টসিদ্ধি উল্লেখিত। পরে পিতৃকার্যকে দেবকার্যের চেয়েও শ্রেষ্ঠ এবং পিতৃভক্তিকে কেবল যোগে অপ্রাপ্য গতি দানকারী বলা হয়েছে। শেষে মার্কণ্ডেয়ের বাণীতে বিরল জ্ঞান-পরম্পরার ইঙ্গিত ও যোগাচরণে বিচ্যুতির দৃষ্টান্তের ভূমিকা রচিত হয়।

53 verses

Adhyaya 42

वैभ्राजवन-प्रसङ्गः / The Episode of Vaibhrāja and the Yogic Forest (Vibhrāja-vana)

এই অধ্যায়ে ভীষ্ম মার্কণ্ডেয় মুনিকে পরবর্তী ঘটনাবলি জিজ্ঞাসা করেন। মুনি সাতজন মনোনিগ্রহসম্পন্ন, ধর্ম‑যোগপরায়ণ তপস্বীর কথা বলেন, যারা বায়ু/জলাহার ও কঠোর সংযমে দেহ শুষ্ক করে তপস্যা করেন। এরপর বৈভ্রাজ নামে এক রাজা নন্দনবনে ইন্দ্রসম সমৃদ্ধি ভোগ করে গৃহে প্রত্যাবর্তন করেন; তাঁর ধর্মনিষ্ঠ পুত্র অনূহ। রাজা অনূহকে রাজ্যভার দিয়ে তপস্বীদের সান্নিধ্যে অরণ্যে গিয়ে তপস্যা করেন; ফলে সেই অরণ্য ‘বৈভ্রাজবন’ নামে খ্যাত হয়ে যোগসিদ্ধিদায়ক তপঃক্ষেত্র হয়। উপদেশরূপে বলা হয়—কেউ যোগধর্মে স্থিত থাকে, কেউ যোগভ্রষ্ট হয়ে দেহ ত্যাগ করে; স্মৃতিসম্পন্ন ও মোহগ্রস্তের পার্থক্যও দেখানো হয়। স্বাতন্ত্র, ব্রহ্মদত্ত, ছিদ্রদর্শী, সুনেত্র প্রমুখ বেদ‑বেদাঙ্গবিদ চরিত্র ও পূর্বজন্ম‑স্মৃতির ধারাবাহিকতার উল্লেখ আছে। যোগে স্থৈর্য, স্মৃতির ভূমিকা এবং পবিত্র তপোবনের মহিমাই এ অধ্যায়ের গূঢ় শিক্ষা।

23 verses

Adhyaya 43

Vyāsa-pūjana-prakāra (Procedure for Worship of Vyāsa / the Ācārya)

এই অধ্যায়ে শৌনক সূতকে জিজ্ঞাসা করেন—পবিত্র গ্রন্থশ্রবণ সমাপ্ত হলে আচার্য, বিশেষত ব্যাস-গুরুর, পূজা ও সম্মান কীভাবে করা উচিত। সূত বিধিবদ্ধ ক্রম বলেন—কথা শোনার পর ভক্তিভরে গুরুকে পূজা করতে হবে; পাঠশেষে শান্ত ও প্রসন্ন মনে দান দিতে হবে; বক্তা/পাঠককে প্রণাম করে বস্ত্র, অলংকার প্রভৃতি দ্বারা সমাদর করতে হবে। শিবপূজা সম্পন্ন হলে বাছুরসহ গোধন দান, স্বর্ণাসন প্রস্তুত, সুন্দর লিখিত পাণ্ডুলিপি/গ্রন্থ স্থাপন করে আচার্যকে অর্পণ—একে সংসারবন্ধনমোচক বলা হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী গ্রাম-ভূমি, হাতি, ঘোড়া ইত্যাদি দানও উত্তম পাঠকের উদ্দেশে নির্দেশিত। অধ্যায়টি জানায়, বিধি ও গুরুপূজা সহ শ্রবণেই পুরাণশ্রবণ ফলপ্রসূ; তাই নিগমার্থসমৃদ্ধ পুরাণ শ্রদ্ধায় শ্রবণীয়। অধ্যায়ের নাম ‘ব্যাস-পূজন-প্রকার’।

9 verses

Adhyaya 44

Vyāsotpatti-kathana (Account of the Birth/Origin of Vyāsa)

এই অধ্যায়ে ঋষিগণ সূতকে ব্যাসোৎপত্তি বিষয়ে প্রশ্ন করেন—পরাশর থেকে সত্যবতীর গর্ভে মহাযোগী ব্যাস কীভাবে জন্মালেন, সেই সংশয় দূর করতে বলেন। সূত যমুনার পুণ্য তীরে পরাশরের তীর্থযাত্রাকালে ঘটিত কাহিনি বর্ণনা করেন—নদী পারাপারের নৌকা-প্রসঙ্গ, নিষাদ/জেলে সম্প্রদায়ের পরিচয় এবং তাদের কন্যা মৎস্যগন্ধা (পরবর্তীতে সত্যবতী) এর আবির্ভাব। কালযোগে নির্ধারিত দैব-সংযোগে সংযমী ঋষির মধ্যেও প্রজাসৃষ্টির অভিপ্রায় জাগে। কাহিনিটি কেবল জীবনী নয়; এটি ধর্মসম্মত জ্ঞান-পরম্পরার উৎপত্তির তত্ত্ব শেখায়—তীর্থ, ঋষিশক্তি ও সময়ের প্রয়োজন মিলেই ব্যাসের কর্তৃত্ব ও শাস্ত্রপ্রচারকে প্রতিষ্ঠা করে।

139 verses

Adhyaya 45

Umā-caritra-prārthanā: Ṛṣayaḥ Sūtaṃ Pṛcchanti (Request for the Account of Umā)

অধ্যায় ৪৫-এ মুনিগণ শম্ভুর নানা মনোহর কাহিনি—যা ভুক্তি ও মুক্তিদায়ক বলে প্রশংসিত—শুনে সূতকে জগদম্বা উমার মনোরম চরিত্রের বিশেষ বিবরণ দিতে অনুরোধ করেন। এখানে উমাকে মহেশ্বরের আদ্যা, সনাতনী শক্তি এবং ত্রিলোকের পরম জননী রূপে নির্ধারণ করা হয়েছে। ঋষিরা সতী ও হেমবতী/পার্বতী—এই দুই প্রধান অবতারের কথা জেনে আরও অবতার ও বিস্তার জানতে চান। সূত প্রশ্নের মাহাত্ম্য ঘোষণা করেন—যারা এই কাহিনি শোনে, জিজ্ঞাসা করে ও প্রচার করে, তারা দেবীর পদাম্বুজ-রজ স্পর্শে তীর্থসম হন। এরপর মোক্ষোপদেশ: যাদের মন দেবীর পরা-সংবিদে নিবিষ্ট তারা বংশ-সমাজসহ ধন্য; আর যারা কারণের কারণ, করুণাসাগরী দেবীর স্তব-पूজা করে না, তারা মায়ার গুণে মোহিত হয়ে সংসারের অন্ধকূপে পতিত হয়। এই অধ্যায় শক্তিতত্ত্ব ও ভক্তিধর্ম প্রতিষ্ঠা করে পরবর্তী কাহিনির ভূমিকা রচনা করে।

77 verses

Adhyaya 46

Mahiṣāsura’s Conquest of Svarga and the Devas’ Appeal to Śiva and Viṣṇu

এই অধ্যায়ে ঋষি দৈত্যবংশের কথা বলেন—রম্ভাসুরের ঔরসে ভয়ংকর দানব মহিষাসুর জন্মায়। সে দেবতাদের যুদ্ধে পরাজিত করে স্বর্গরাজ্য দখল করে ইন্দ্রাসনে বসে বিশ্বশাসন উল্টে দেয়। ইন্দ্রসহ নানা দেবগণ উৎখাত হয়ে মর্ত্যলোকে ঘুরে বেড়ান এবং জানান, অসুর এখন তাদের নির্ধারিত কর্তব্যও নিজের অধীনে চালাচ্ছে। ধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তারা ব্রহ্মার শরণ নেয়; ব্রহ্মা তাদের শংকর (শিব) ও কেশব (বিষ্ণু)-এর কাছে নিয়ে যান। প্রণাম করে দেবগণ পরাজয়ের কথা জানিয়ে রক্ষা ও মহিষাসুর-বধের তৎক্ষণাৎ উপায় প্রার্থনা করে। আবেদন শুনে দামোদর ও সতীশ্বর ধর্মসম্মত তীব্র ক্রোধে উদ্দীপ্ত হন—শরণাগতি ও পরম ইচ্ছার সঙ্গে পুনঃসংযোগই অধর্ম-নিবারণের পথ, এই বোধ স্পষ্ট হয়।

63 verses

Adhyaya 47

Śumbha–Niśumbha-pīḍā and Devastuti to Durgā/Śivā (Names and Forms of the Devī)

অধ্যায় ৪৭-এ ঋষি শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামক দৈত্যভ্রাতৃদ্বয়ের উত্থান বর্ণনা করেন; তাদের শক্তিতে চল-অচলসহ ত্রিলোক আচ্ছন্ন হয়। অত্যাচারিত দেবগণ হিমবতে আশ্রয় নিয়ে জগন্মাতার স্তব করেন—তাঁকে সৃষ্টির, স্থিতির ও প্রলয়ের কারণশক্তি এবং সকল জীবের কল্যাণকারিণী রূপে মান্য করেন। স্তবের মূল অংশে দেবীকে দুর্গা ও মহেশানী বলে সম্বোধন করে নানা নাম-রূপে কীর্তন করা হয়—কালিকা, ছিন্নমস্তা, শ্রীবিদ্যা, ভুবনেশী, ভৈরবাকৃতি, বগলামুখী, ধূমাবতী, ত্রিপুরসুন্দরী, মাতঙ্গী, অজিতা, বিজয়া, মঙ্গলা়, বিলাসিনী, ঘোরা, রুদ্রাণী প্রভৃতি। শেষে বেদান্তমতে তাঁকে পরম আত্মা ও অসংখ্য ব্রহ্মাণ্ডের অধীশ্বরী বলা হয়েছে। শিক্ষা—বহুরূপ এক শিব-শক্তি তত্ত্বেরই নির্দেশ, আর স্তুতি শরণাগতি ও ধর্ম-প্রতিষ্ঠার উপায়।

66 verses

Adhyaya 48

Śumbha–Niśumbha’s Mobilization After Devī’s Victories (Battle Muster and Omens)

এই অধ্যায়ে রাজা ঋষিকে জিজ্ঞাসা করেন—দেবী ধূম্রাক্ষ, চণ্ড-মুণ্ড ও রক্তবীজকে বধ করেছেন শুনে শুম্ভ কী করল। ঋষি বলেন, মহাপরাক্রমী শুম্ভ তার সকল সহায়ক ও অধীন অসুরশক্তিকে আহ্বান করে মহাযুদ্ধের জন্য সেনা সমাবেশ করায়। হাতি, ঘোড়া, রথ ও অগণিত পদাতিকের বিশাল বাহিনী জড়ো হয়; ভেরী, মৃদঙ্গ, ডিণ্ডিম প্রভৃতি যুদ্ধবাদ্যের গর্জন ও অস্ত্রের শব্দে দিক্‌বিদিক্‌ কাঁপে, দেবতাগণও উদ্বিগ্ন হন। ঘোর অন্ধকার নেমে আসে, যেন সূর্যের রথচক্র আচ্ছন্ন। অন্তর্নিহিত অর্থে এটি পরাজিত অহংকারের উন্মত্ত বৃদ্ধি—অধর্ম পরপর পরাজয়ের পর আরও সংঘবদ্ধ হয়ে বিবেককে ঢাকতে চায়; পরবর্তী অধ্যায়ে দেবীর প্রতিক্রিয়ার ভূমিকা প্রস্তুত হয়।

49 verses

Adhyaya 49

Sarasvatī-avatāra-prasaṅgaḥ (Account of Sarasvatī’s Manifestation and the Humbling of the Devas)

এই অধ্যায়ে ঋষিরা সূতকে জিজ্ঞাসা করেন—উমা/ভুবনেশানীর সঙ্গে যুক্ত অবতার-প্রসঙ্গে সরস্বতীর আবির্ভাব কীভাবে ঘটে। সূত বলেন, পরম প্রকৃতি এক হয়েও নিরাকার ও সাকার, নিত্য ও মঙ্গলময়—শক্তিতত্ত্বের এই পরম রহস্য। তিনি জানান, এই কাহিনির জ্ঞানমাত্রই পরম লক্ষ্যসাধনে সহায়ক। এরপর দেব-দানব যুদ্ধে মহামায়ার প্রভাবে দেবতারা জয়ী হয়; কিন্তু জয়ের পরে তারা আত্মগৌরবে মত্ত হয়ে ওঠে। তখন এক অদ্ভুত, পূর্বে অদেখা তেজ রহস্যময় রূপে প্রকাশ পায়, দেবতারা বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়; চিনতে না পারায় তাদের বাকশক্তিও থেমে যায়। ইন্দ্র তাদের সত্যভাবে অনুসন্ধান করে সংবাদ দিতে আদেশ করেন। এই অংশে দেব-অহংকারের নিন্দা ও কর্তৃত্বকে মহামায়া/শক্তির মধ্যে প্রতিষ্ঠা করে শিব-শক্তির সর্বোচ্চতা প্রতিপাদনের ভূমি প্রস্তুত হয়।

44 verses

Adhyaya 50

Durgama’s Seizure of the Vedas and the Gods’ Refuge in Yogamāyā (दुर्गमकृतवेदनाशः—योगमायाशरणगमनम्)

এই অধ্যায়ে ঋষিরা সূতকে দুর্গার আশ্চর্য কাহিনি ও তার অন্তর্নিহিত তত্ত্ব আরও ব্যাখ্যা করতে অনুরোধ করেন। সূত রুরু-পুত্র অসুর দুর্গমের কথা বলেন—ব্রহ্মার বরপ্রভাবে সে চার বেদের শ্রুতি নিজের অধীনে এনে দেবতাদেরও অজেয় শক্তিতে জগৎকে অস্থির করে তোলে এবং অশুভ লক্ষণ ছড়ায়। বেদ লুপ্ত হলে ক্রিয়া-কর্ম ও যজ্ঞবিধি ভেঙে পড়ে; এরপর ব্রাহ্মণদের আচরণে অবক্ষয়, ধর্মাচরণের উলটপালট ও অধর্মের বিস্তার ঘটে। যজ্ঞ-দান বন্ধ হয়, শতবর্ষ অনাবৃষ্টি নেমে আসে; দুর্ভিক্ষ ও তৃষ্ণায় সকল প্রাণী কষ্ট পায়; নদী-সমুদ্র-কূপ-সরোবর শুকিয়ে যায়, উদ্ভিদরাজি ম্লান হয়ে পড়ে। এই সর্বব্যাপী বিপর্যয় দেখে দেবতারা যোগমায়া-রূপিণী মহেশ্বরীর শরণ নিয়ে সৃষ্টির রক্ষা ও ক্রোধ-নিবৃত্তির প্রার্থনা করেন। অধ্যায়টি শৈব-শাক্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করে—দেবী, শিবের কার্যকরী শক্তি, তাঁর রক্ষাকৃপা থাকলেই বেদধারা, যজ্ঞফল ও বিশ্বস্থিতি অটুট থাকে।

52 verses

Adhyaya 51

Umāyāḥ Kriyāyoga-Rahasya (The Esoteric Teaching on Umā’s Kriyāyoga)

অধ্যায় ৫১-এ ঋষিরা সূতকে অনুরোধ করেন—সনৎকুমার যে অতিগুপ্ত উপদেশ পূর্বে ব্যাসকে দিয়েছিলেন, সেই জগদম্বা উমার অনুপম ক্রিয়াযোগ আবার প্রকাশ করতে। সূত একে ‘পরং গুপ্তং রহস্যং’ বলে ব্যাস–সনৎকুমার সংলাপরূপে বর্ণনা শুরু করেন। ব্যাস উমার ক্রিয়াযোগের লক্ষণ, পদ্ধতি, ফল এবং পরম মাতার বিশেষ প্রিয় বিষয় কী—তা জানতে চান। সনৎকুমার জ্ঞানযোগ, ক্রিয়াযোগ ও ভক্তিযোগ—এই তিন মার্গকে মোক্ষদায়ক বলে বিন্যস্ত করেন: জ্ঞানযোগ হলো মনকে আত্মায় অন্তর্মুখী সংযুক্তি, ক্রিয়াযোগ হলো বাহ্য অবলম্বনে মনকে সংযুক্ত করে নিয়মিত কর্ম, পূজা ও আচরণ, আর ভক্তি হলো ভক্ত ও দেবীর আত্মৈক্যভাবনার সাধনা। শেষে বলা হয়—কর্ম থেকে ভক্তি, ভক্তি থেকে জ্ঞান, আর জ্ঞান থেকে মুক্তি; ক্রিয়াই এই উন্নতির ব্যবহারিক ভিত্তি।

88 verses

FAQs about Uma Samhita

Its core theme is Śiva as the guṇa-transcending Absolute (beyond sattva–rajas–tamas) who still governs cosmic functions through māyā, presented alongside practical Śaiva disciplines—especially bhakti and tapas—as valid means to both worldly fulfillment (bhukti) and liberation (mukti).

It characterizes Śiva as the complete and stainless ground of divinity (brahmādi-saṃjñāspada), while Brahmā and Viṣṇu appear as role-specific cosmic agents within the guṇa-structured universe; their functions are acknowledged, but Śiva’s ontological priority is asserted as the source and transcendence of those functions.

Tapas informed by Śaiva devotion and right knowledge is foregrounded—exemplified by paradigmatic seekers approaching Kailāsa and receiving instruction through authoritative Śaiva teachers—showing ascetic effort as a disciplined route to Śiva’s grace and realization.

Read Shiva Purana in the Vedapath app

Scan the QR code to open this directly in the app, with audio, word-by-word meanings, and more.

Continue reading in the Vedapath app

Open in App