Opening the text

भरतागमनशङ्कानिवारणम् / Dispelling Suspicion about Bharata’s Arrival (Chitrakuta Encampment)
अयोध्याकाण्ड
এই সর্গে চিত্রকূটের নিকটে অগ্রসরমান এক বৃহৎ বাহিনী দেখে লক্ষ্মণ ক্রোধ ও সন্দেহে আচ্ছন্ন হন। তখন শ্রীराम ধীরভাবে তাঁকে প্রশমিত করে নীতিসঙ্গত অনুমানে বলেন—ভরত স্বভাবতই ভ্রাতৃস্নেহী, প্রাণের চেয়েও প্রিয়; বনবাসের সংবাদ শুনে কুলধর্ম ও শোকের তাড়নায় তিনি এসেছেন, শত্রুভাবে নয়। রাম আরও যুক্তি দেন—স্বজনহিংসায় অর্জিত রাজ্য ধর্মদূষিত, বিষমিশ্র অন্নের ন্যায়; তাই তা গ্রহণীয় নয়। ভরতকে উদ্দেশ করে কঠোর বাক্য বলতে তিনি নিষেধ করেন, কারণ সে বাক্য কার্যত রামের প্রতিই আঘাত। ভ্রাতৃহত্যা ও পিতৃহত্যা বিপদকালেও অকল্পনীয়—এ কথা স্থির করে রাম বলেন, যদি রাজ্য নিয়ে লক্ষ্মণের আশঙ্কা থাকে তবে তিনি ভরতকে অনুরোধ করবেন রাজ্য লক্ষ্মণকে দিতে; এবং রামের দৃঢ় বিশ্বাস, ভরত আনন্দেই সম্মতি দেবেন। লজ্জিত লক্ষ্মণ নিজের অনুমান সংশোধন করে ক্ষণিকের জন্য দশরথের আগমনও ভাবেন। ঘোড়া ও শত্রুঞ্জয় নামক হাতির উপস্থিতি, আর রাজশ্বেত ছত্রের অনুপস্থিতি—এই সব লক্ষণ কাহিনিতে সাময়িক দ্বিধা সৃষ্টি করে। শেষে ভরত ভিড় না বাড়াতে আদেশ দেন এবং সেনা শৃঙ্খলায় পর্বতের চারদিকে শিবির স্থাপন করে—রাষ্ট্রধর্মে বিনয় ও ধর্মনিষ্ঠার গুরুত্ব প্রকাশ করে।
Verse 1
सुसंरब्धं तु सौमित्रिं लक्ष्मणं क्रोधमूर्छितम् ।रामस्तु परिसान्त्व्याथ वचनं चेदमब्रवीत् ॥१॥
তখন রাম ক্রোধে মূর্ছিত ও অত্যন্ত উত্তেজিত সৌমিত্র লক্ষ্মণকে সান্ত্বনা দিয়ে এই বাক্য বললেন।
Verse 2
किमत्र धनुषा कार्यमसिना वा सचर्मणा ।महेष्वासे महाप्राज्ञे भरते स्वयमागते ॥२॥
যখন মহাধনুর্ধর ও মহাপ্রাজ্ঞ ভরত স্বয়ং এখানে এসেছেন, তখন ধনুক, তলোয়ার বা ঢালেরই বা কী প্রয়োজন?
Verse 3
पितुस्सत्यं प्रतिश्रुत्य हत्वा भरतमागतम् ।किं करिष्यामि राज्येन सापवादेन लक्ष्मण ॥३॥
হে লক্ষ্মণ! পিতার সত্য রক্ষার শপথ নিয়েও, এখানে আগত ভরতকে হত্যা করে যদি অপবাদযুক্ত রাজ্য পাই, তবে সে রাজ্য দিয়ে আমার কী হবে?
Verse 4
यद्द्रव्यं बान्धवानां वा मित्राणां वा क्षये भवेत् ।नाहं तत्प्रतिगृह्णीयां भक्षान्विषकृतानिव ॥४॥
আত্মীয় বা মিত্রদের বিনাশ থেকে যে ধন আসে, আমি তা কখনও গ্রহণ করব না—যেমন বিষমিশ্রিত আহার।
Verse 5
धर्ममर्थं च कामं च पृथिवीं चापि लक्ष्मण ।इच्छामि भवतामर्थे एतत् प्रतिशृणोमि ते ॥५॥
হে লক্ষ্মণ! তোমাদের কল্যাণের জন্য আমি ধর্ম, অর্থ, কাম এবং পৃথিবী (রাজ্য) পর্যন্তও কামনা করি—এ কথা আমি তোমাকে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞা করে বলছি।
Verse 6
भ्रात्रूणां संग्रहार्थं च सुखार्थं चापि लक्ष्मण ।राज्यमप्यहमिच्छामि सत्येनाऽयुधमालभे ॥६॥
হে লক্ষ্মণ! ভ্রাতৃগণের ঐক্য রক্ষা ও তাঁদের সুখের জন্য আমি রাজ্যও গ্রহণ করতে পারি; সত্যের শপথ করে, অস্ত্রকে সাক্ষী রেখে আমি এ কথা বলছি।
Verse 7
नेयं मम मही सौम्य दुर्लभा सागराम्बरा ।न हीच्छेयमधर्मेण शक्रत्वमपि लक्ष्मण ॥७॥
হে সৌম্য লক্ষ্মণ! সাগরবেষ্টিত এই পৃথিবী আমার পক্ষে দুর্লভ নয়; কিন্তু অধর্মের দ্বারা আমি ইন্দ্রত্বও কামনা করি না।
Verse 8
यद्विना भरतं त्वां च शत्रुघ्नं चापि मानद ।भवेन्मम सुखं किञ्चिद्भस्म तत्कुरुतां शिखी ॥८॥
হে মানদ! ভরতকে, তোমাকে এবং শত্রুঘ্নকে বাদ দিয়ে যদি আমার কোনো সুখ সম্ভব হয়—অগ্নি তা ভস্ম করে দিক।
Verses 9-11
मन्येऽहमागतोऽयोध्यां भरतो भ्रातृवत्सलः ।मम प्राणात्प्रियतरः कुलधर्ममनुस्मरन् ॥९॥श्रुत्वा प्रव्राजितं मां हि जटावल्कलधारिणम् ।जानक्यासहितं वीर त्वया च पुरुषर्षभ ॥१०॥स्नेहेनाऽक्रान्तहृदय श्शोकेनाकुलितेन्द्रियः ।द्रष्टुमभ्यागतो ह्येष भरतो नान्यथाऽगतः ॥११॥
আমার মনে হয় ভ্রাতৃস্নেহে পরিপূর্ণ ভরত—যে আমার প্রাণের চেয়েও প্রিয় এবং কুলধর্ম স্মরণকারী—অযোধ্যায় ফিরে এসেছে। হে পুরুষশ্রেষ্ঠ! সে শুনেছে যে আমি জটা ও বল্কল ধারণ করে জানকীসহ এবং তোমার সঙ্গে নির্বাসিত হয়েছি; স্নেহে তার হৃদয় আচ্ছন্ন, শোকে ইন্দ্রিয় ব্যাকুল—তাই সে কেবল আমাকে দর্শন করতেই এসেছে, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়।
Verse 12
अम्बां च कैकयीं रुष्य परुषं चाप्रियं वदन् ।प्रसाद्य पितरं श्रीमार्नाज्यं मे दातुमागतः ॥१२॥
মাতা কৈকেয়ীর প্রতি ক্রুদ্ধ হয়ে কঠোর ও অপ্রিয় বাক্য উচ্চারণ করে, এবং আমাদের পিতাকে প্রসন্ন করে, শ্রীমান ভরত রাজ্য আমাকে অর্পণ করতে এসেছে।
Verse 13
प्राप्तकालं यदेषोऽस्मान्भरतो द्रष्टुमिच्छति ।अस्मासु मनसाऽप्येष नाप्रियं किञ्चिदाचरेत् ॥१३॥
এটি যথোচিত সময় যে ভরত আমাদের দর্শন করতে চান। তিনি তো মনেও আমাদের প্রতি কোনো অপ্রিয় বা অনিষ্টকর কাজ কখনও করবেন না॥
Verse 14
विप्रियं कृतपूर्वं ते भरतेन कदा नु किम् ।ईदृशं वा भयं तेऽद्य भरतं योऽत्र शङ्कसे ॥१४॥
ভরত পূর্বে কখন তোমার প্রতি কী অপ্রিয় কাজ করেছে? তবে আজ তোমার এমন কী ভয় যে তুমি এখানে ভরতকে সন্দেহ করছ?॥
Verse 15
न हि ते निष्ठुरं वाच्यो भरतो नाप्रियं वचः ।अहं ह्यप्रियमुक्त स्स्यां भरतस्याप्रिये कृते ॥१५॥
ভরত সম্বন্ধে তোমার কঠোর বা অপ্রিয় কথা বলা উচিত নয়। কারণ তুমি যদি তা বলো, তবে সেই তিক্ত বাক্য যেন আমারই বিরুদ্ধে বলা হলো॥
Verse 16
कथं नु पुत्राः पितरं हन्युः कस्यां चिदापदि ।भ्राता वा भ्रातरं हन्यात्सौमित्रे प्राणमात्मनः ॥१६॥
হে সৌমিত্রি! যে-কোনো বিপদে পুত্ররা কীভাবে পিতাকে হত্যা করতে পারে? অথবা ভাই কীভাবে নিজের ভাইকে—যে নিজের প্রাণের মতো প্রিয়—হত্যা করতে পারে?॥
Verse 17
यदि राज्यस्य हेतोस्त्वमिमां वाचं प्रभाषसे ।वक्ष्यामि भरतं दृष्ट्वा राज्यमस्मै प्रदीयताम् ॥१७॥
যদি রাজ্যের কারণেই তুমি এই কথা বলছ, তবে ভরতকে দেখে আমি বলব—‘এই রাজ্য তোমাকেই প্রদান করা হোক।’॥
Verse 18
उच्यमानोऽपि भरतो मया लक्ष्मण तद्वचः ।राज्यमस्मै प्रयच्छेति बाढमित्येव वक्ष्यति ॥१८॥
হে লক্ষ্মণ! আমি যদি ভরতকে বলিও—‘তাঁকেই রাজ্য দাও’—তবে ভরত নিশ্চয়ই বলবে, ‘বাঢ়ম্—তথাস্তु’।
Verse 19
तथोक्तो धर्मशीलेन भ्रात्रा तस्य हिते रतः ।लक्ष्मणः प्रविवेशेव स्वानि गात्राणि लज्जया ॥१९॥
ধর্মনিষ্ঠ, তার হিতকামী ভ্রাতার এমন বাক্য শুনে লক্ষ্মণ লজ্জায় আচ্ছন্ন হয়ে যেন নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সঙ্কুচিত হয়ে গেল।
Verse 20
तद्वाक्यं लक्ष्मण श्श्रुत्वा व्रीलितः प्रत्युवाच ह ।त्वां मन्ये द्रष्टुमायातः पिता दशरथ स्स्वयम् ॥२०॥
সে কথা শুনে লজ্জিত লক্ষ্মণ উত্তর দিল—“আমি মনে করি, আপনাকে দেখতে স্বয়ং পিতা দশরথই এখানে এসেছেন।”
Verse 21
व्रीलितं लक्ष्मणं दृष्ट्वा राघवः प्रत्युवाच ह ।एष मन्ये महाबाहुरिहास्मान्द्रष्टुमागतः ॥२१॥
লক্ষ্মণের লজ্জা দেখে রাঘব বললেন—“আমি মনে করি, সেই মহাবাহু এখানে আমাদের দেখতে এসেছেন।”
Verse 22
अथवा नौ ध्रुवं मन्ये मन्यमान स्सुखोचितौ ।वनवासमनुध्याय गृहाय प्रतिनेष्यति ॥२२॥
অথবা—আমি নিশ্চিত মনে করি—আমাদের সুখোপযুক্ত ভেবে, আমাদের বনবাসের কথা চিন্তা করে, তিনি আমাদের গৃহে ফিরিয়ে নিতে এসেছেন।
Verse 23
इमां वाप्येष वैदेहीमत्यन्तसुखसेविनीम् ।पिता मे राघव श्श्रीमान्वनादादाय यास्यति ॥२३॥
নচেৎ, হে রাঘব! আমার শ্রীসমৃদ্ধ পিতা বৈদেহীকে—যিনি অতিশয় সুখে প্রতিপালিতা—বন থেকে নিয়ে নগরে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন।
Verse 24
एतौ तौ सम्प्रकाशेते गोत्रवन्तौ मनोरमौ ।वायुवेगसमौ वीर जवनौ तुरगोत्तमौ ॥२४॥
হে বীর! দেখো, এই দুই শ্রেষ্ঠ অশ্ব—উচ্চ বংশজাত, মনোহর, অতিদ্রুত—বায়ুর বেগসম—উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
Verse 25
स एष सुमहाकायः कम्पते वाहिनीमुखे ।नागश्शत्रुञ्जयो नाम वृद्धस्तातस्य धीमतः ॥२५॥
দেখো, বাহিনীর অগ্রভাগে সেই মহাকায় গজটি চলেছে—বৃদ্ধ, ‘শত্রুঞ্জয়’ নামে খ্যাত—আমাদের প্রাজ্ঞ পিতারই।
Verse 26
न तु पश्यामि तच्छत्रं पाण्डुरं लोकसत्कृतम् ।पितुर्दिव्यं महाबाहो संशयो भवतीह मे ॥२६॥
কিন্তু, হে মহাবাহু! আমি পিতার সেই দিব্য শ্বেত, লোকসম্মানিত রাজছত্র দেখতে পাচ্ছি না; এতে আমার মনে সংশয় জাগে।
Verse 27
वृक्षाग्रादवरोह त्वं कुरु लक्ष्मण मद्वचः ।इतीव रामो धर्मात्मा सौमित्रिं तमुवाच ह ॥२७॥
“লক্ষ্মণ, বৃক্ষশিখর থেকে নেমে এসো, আমার কথা পালন করো।” এইভাবে ধর্মাত্মা রাম সৌমিত্রিকে বললেন।
Verse 28
अवतीर्य तु सालाग्रात्तस्मात्स समितिञ्जयः ।लक्ष्मणः प्राञ्जलिर्भूत्वा तस्थौ रामस्य पार्श्वतः ॥२८॥
তখন সমরজয়ী লক্ষ্মণ সেই শালবৃক্ষের শীর্ষ থেকে নেমে প্রাঞ্জলি হয়ে শ্রী রামের পার্শ্বে দাঁড়ালেন।
Verse 29
भरतेनापि सन्दिष्टा सम्मर्दो न भवेदिति ।समन्तात्तस्य शैलस्य सेना वासमकल्पयत् ॥२९॥
ভরতও নির্দেশ দিলেন—“ভিড় যেন না হয়”—তাই সেনাদল সেই পর্বতের চারিদিকে শিবির স্থাপন করল।
Verse 30
अध्यर्धमिक्ष्वाकुचमूर्योजनं पर्वतस्य सा ।पार्श्वे न्यविशदावृत्य गजवाजिरथाकुला ॥३०॥
হাতি, ঘোড়া ও রথে পরিপূর্ণ সেই ইক্ষ্বাকু-সেনা দেড় যোজনেরও অধিক বিস্তৃত হয়ে, পর্বতের পার্শ্বদেশ ঘিরে তার সন্নিকটে শিবির স্থাপন করে অবস্থান করল।
Verse 31
सा चित्रकूटे भरतेन सेना धर्मं पुरस्कृत्य विधूय दर्पम् ।प्रसादनार्थं रघुनन्दनस्य विराजते नीतिमता प्रणीता ॥३१॥
চিত্ৰকূটে ভরত-নেতৃত্বে সেই সেনা ধর্মকে অগ্রে স্থাপন করে, দম্ভ পরিত্যাগ করে, রঘুনন্দন শ্রীरामের প্রসাদ লাভের উদ্দেশ্যে নীতিমানের পরিচালনায় দীপ্তিময় হয়ে উঠল।
The dilemma is whether to interpret Bharata’s approach as a political threat warranting armed resistance. Rāma rejects preemptive violence, arguing that harming a brother for sovereignty would produce illegitimate, slander-bearing rule and violate dharma.
Ethical judgment should be guided by character-knowledge, prior conduct, and dharmic principles rather than fear. Restraint in speech and action preserves legitimacy; power pursued through kin-harm is treated as intrinsically polluted.
Citrakūṭa and its surrounding mountain terrain are foregrounded, along with the sāla tree vantage point used for reconnaissance. Cultural markers of kingship and military order—royal canopy, cavalry, elephants, and regulated encampment—serve as narrative signals of intent and protocol.
Answers come straight from the texts, with the shlokas they draw on. Ask in your own words.
A free sign-in with Google or Apple keeps your chat saved across web and the app.
Read Valmiki Ramayana in the Vedapath app
Scan the QR code to open this directly in the app, with word-by-word meanings, Sanskrit recitation where available, and more.