Prakriya Pada
CosmogonyBrahmandaManvantaras

Prakriya

The Introductory Section

‘প্রক্রিয়া’ ভাগ (অধ্যায় ১–৫) সৃষ্টির এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর ‘পদ্ধতি’ উপস্থাপন করে। এখানে অব্যক্ত থেকে ব্যক্তের উদ্ভব, প্রকৃতির প্রবাহ, এবং মহত্তত্ত্ব প্রভৃতির ক্রমিক বিকাশের মাধ্যমে জগতের প্রকাশ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সৃষ্টিকে কেবল ঘটনা নয়, এক নিয়মবদ্ধ প্রক্রিয়া হিসেবে দেখানোই এই অংশের মূল সুর। তত্ত্বসমূহের বিন্যাস, লোক ও ভুবনের ব্যবস্থা, কালের নিয়ন্ত্রণ এবং ঋত/ধর্মের প্রতিষ্ঠা—এসবের দ্বারা বোঝানো হয় যে সৃষ্টির অন্তরে দিব্য শৃঙ্খলা বিরাজমান। ঈশ্বরীয় শক্তির প্রেরণায় প্রকৃতি সৃজন ও পালনকার্যে প্রবৃত্ত হয়—এই ভক্তিময় দৃষ্টিভঙ্গি বারবার প্রতিফলিত। পরবর্তী পর্যায়ে প্রজাপতি, ঋষি ও দেবগণের প্রতিষ্ঠা এবং বংশপরম্পরার সূচনা বর্ণিত। সন্ততি-ধর্ম, কর্তব্যবোধ এবং জগত-ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে বংশানুক্রমকে সৃষ্টিতত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। শেষে মনুদের আবির্ভাব এবং মানব ও দেববংশের রেখা নির্ধারিত হয়, যা পরবর্তী পুরাণকথার ‘কাল’ ও ‘ইতিহাস’-কে ভিত্তি দেয়। এইভাবে ‘প্রক্রিয়া’ ভাগ তত্ত্বচিন্তা ও বংশইতিহাসকে একত্র করে ব্রহ্মাণ্ডপুরাণের পবিত্র আখ্যানধারার ভিত্তি স্থাপন করে।

Adhyayas in Prakriya Pada

Adhyaya 1

Purāṇa-prārambha (Maṅgalācaraṇa) and Paramparā of Transmission

অধ্যায় ১-এ পূর্বভাগের সূচনা মঙ্গলাচরণে। এখানে হরি/স্বয়ম্ভূকে ত্রিরূপ (রজস্–তমস্–সত্ত্ব) গুণ-ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ধারণকারী তত্ত্ব রূপে চিহ্নিত করে সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়কে গুণ-প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এরপর অধ্যায়টি পুরাণের প্রামাণ্যকে শিষ্য-পরম্পরার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করে—একে লোকতত্ত্বার্থ ও বেদসম্মিত বলা হয়েছে। প্রজাপতির প্রশংসা থেকে বসিষ্ঠের উপদেশ, পরাশর ও জাতূকর্ণ্যের মাধ্যমে দ্বৈপায়ন (ব্যাস) পর্যন্ত শিক্ষাধারা, ব্যাসের শিষ্যদের মধ্যে প্রচার এবং শেষে লোমহর্ষণ (সূত)-এর জনসমক্ষে বর্ণনাকারী হওয়া উল্লেখিত। ফলে এই অধ্যায় পুরাণের ‘মেটাডেটা শিরোনাম’—অধিকার, বক্তার বৈধতা এবং পরবর্তী বিশ্বতত্ত্ব-वंশাবলিকে শাস্ত্রীয় জ্ঞান হিসেবে স্থাপন করে।

174 verses

Adhyaya 2

Naimiṣa-satra Praśna–Prativacana (The Sages’ Questions at Naimiṣa and Sūta’s Reply)

অধ্যায় ২ মূলত ভূমিকা ও স্থান-নির্দেশের অধ্যায়। তপোধন ঋষিরা সূতকে সেই অসাধারণ সত্রের স্থান, সময়কাল ও পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। সূত উত্তর দেন—এটি ব্রহ্মার সৃষ্টিসংকল্পের সঙ্গে যুক্ত, দীর্ঘকালব্যাপী মহাপুণ্যময় যজ্ঞ, যার কেন্দ্র পবিত্র নৈমিষারণ্য। এরপর নৈমিষের পবিত্রতার কারণ স্তরে স্তরে বলা হয়—ব্রহ্মার উপস্থিতি, অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত মহাপুরুষ ও ঘটনা, এবং ধর্মচক্রের ‘নেমি’ সেখানে ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার কাহিনি থেকে “নৈমিষ” নামের ব্যুৎপত্তি। গোমতী, রোহিণী প্রভৃতি নদী ও বংশপরম্পরার উল্লেখ স্থান-চিহ্ন এবং পরবর্তী বংশানুকথার স্মৃতিসূত্র হিসেবে আসে। পুরূরবার রাজত্বকাল ও সত্রের স্থায়িত্ব উল্লেখ করে যজ্ঞ-কালকে রাজবংশীয় কালের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়—যাতে সৃষ্টি-কাল, তীর্থভূগোল ও বংশ-কাল একটিই পুরাণীয় বর্ণনামানচিত্রে যুক্ত হয়।

48 verses

Adhyaya 3

Bhūtasarga-Prakaraṇa (Account of Elemental Creation from Avyakta to Mahat)

এই অধ্যায়ে সূত কাহিনিকে দিব্য ও পাপ-প্রশমনকারী বলে স্থাপন করে সৃষ্টিতত্ত্ব ব্যাখ্যা করেন। অব্যক্ত কারণকে তত্ত্ববিদেরা প্রধান/প্রকৃতি বলেন; তা গন্ধ-রূপ-রস-শব্দ-স্পর্শহীন এবং গুণসম্যে অবিভক্ত থাকে। সর্গকালে ক্ষেত্রজ্ঞের অধিষ্ঠানে গুণের উদ্দীপনা ঘটলে মহত্তত্ত্ব প্রকাশ পায়। হিরণ্যগর্ভ, পুরুষ, ঈশ্বর ও স্বয়ম্ভূ ব্রহ্মার উল্লেখে বোঝানো হয়—সৃষ্টি আকস্মিক নয়, নীতিবদ্ধ তত্ত্ব-উন্মেষ। সূতের বচনে বায়ু-প্রোক্ত পরম্পরার কর্তৃত্ব স্থাপিত হয় এবং সংক্ষিপ্ত, প্রায় সাংখ্যধর্মী বিশ্বোৎপত্তি পরবর্তী পুরাণীয় ভূগোল ও বংশকথার ভিত্তি রচনা করে।

38 verses

Adhyaya 4

Hiraṇyagarbha-utpatti & Triguṇa-sāmya-vaiṣamya (Origin of Hiraṇyagarbha and the Balance/Imbalance of the Guṇas)

এই অধ্যায়ে সূত (বায়ু-প্রোক্ত পুরাণ-পরম্পরায়) সৃষ্টিতত্ত্ব ব্যাখ্যা করেন। যখন ব্যক্ত ও তার বিকারসমূহ প্রতিসংহৃত হয় এবং প্রধান–পুরুষ কার্যগত নৈকট্যে অবস্থান করে, তখন গুণ-সাম্যকে লয়ের লক্ষণ এবং গুণ-অধিক্য/বৈষম্যকে সৃষ্টির লক্ষণ বলা হয়। রজসকে সত্ত্ব ও তমসের মধ্যে নিহিত প্রবর্তক রূপে বর্ণনা করা হয়েছে—বীজে সুপ্ত জলের মতো, যা অঙ্কুরোদ্গম ঘটায়। সত্ত্বের সঙ্গে বিষ্ণু (স্থিতি), রজসের সঙ্গে ব্রহ্মা (সৃজন-শক্তি) এবং তমসের সঙ্গে রুদ্র (সংহার/কালবল) এর দেব-সম্বন্ধ দেখিয়ে তাদের পারস্পরিক নির্ভরতা (পরস্পরান্বয়)ও প্রতিপাদিত। এরপর ব্রহ্মা/ক্ষেত্রজ্ঞ শব্দপ্রয়োগ, সৃষ্টির অগ্রভাগে দীপ্ত কার্যকর তত্ত্বের আবির্ভাব, এবং হিরণ্যগর্ভ-কেন্দ্রিক বিশ্বোৎপত্তি ও সৃষ্ট-ক্রমের ভূমিকা স্থাপিত হয়।

34 verses

Adhyaya 5

Lokakalpanā / The Ordering of the Worlds (Cosmogony and Earth’s Retrieval)

এই অধ্যায়ে আদ্য জলের প্রাধান্য ও প্রলয়সম নীরবতা বর্ণিত, যেখানে পৃথক জগতের কোনো প্রকাশ নেই। পরে জলে অধিষ্ঠিত সহস্রচক্ষু-সহস্রপদ ব্রহ্মা/নারায়ণ প্রকাশিত হন; ‘নার’ অর্থ জল এবং ‘অয়ন’ অর্থ আশ্রয়স্থান—এই ব্যুৎপত্তি থেকে ‘নারায়ণ’ নাম প্রতিষ্ঠিত। নিমজ্জিত পৃথিবী দেখে ভগবান তাকে উদ্ধারের উপযুক্ত রূপ চিন্তা করেন এবং জলচর-সমর্থ বরাহ অবতার স্মরণ করেন। মেঘশ্যাম দেহ, গর্জনধ্বনি ও বিদ্যুৎ/অগ্নিসদৃশ দীপ্তিসম্পন্ন মহাবরাহ রসাতলে অবতরণ করে পৃথিবীকে উত্তোলন করেন, প্লাবনের পর ভূস্থিতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে পরবর্তী লোকবিন্যাসের ভিত্তি স্থাপন করেন।

141 verses

Adhyaya 6

कल्पान्तर-प्रतिसन्धि-वर्णनम् (Kalpa Transitions and the Logic of Pratisandhi)

এই অধ্যায়ে সূতের বক্তৃতায় প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। পূর্বকথা শ্রবণের পর জিজ্ঞাসু কাপেয় জানতে চান—পূর্ববর্তী কল্প ও বর্তমান কল্পের মধ্যে কত বিরতি, এবং তাদের সংযোগ/বিচ্ছেদের ‘প্রতিসন্ধি’ কী। বক্তাদের শ্রেষ্ঠ সূত অতীত ও ভবিষ্যৎ কল্প এবং তাদের প্রতিসন্ধি যথার্থভাবে বর্ণনার প্রতিশ্রুতি দেন। এখানে বর্তমান কল্পকে ‘বরাহকল্প’ বলা হয়েছে এবং তার আগে ‘প্রাচীন’ কল্পের তুলনা করা হয়েছে; কল্পান্তে প্রজারা বিচ্ছিন্ন/লয়প্রাপ্ত হয়। কল্পান্তর ধারাবাহিকতা ছিন্ন হতে পারে, কিন্তু এক কল্পের মধ্যে মন্বন্তর ও যুগ-সন্ধি নিয়মিত ও অবিচ্ছিন্ন বলে বলা হয়েছে। ফলে এটি পুরাণীয় সময়পাঠের নিয়মাবলি—কী স্থায়ী, কী পুনর্নবীকৃত, এবং কাহিনি কোন কল্প-পরিসরে স্থাপিত—তা নির্ধারণ করে।

77 verses

Adhyaya 7

Varāha-uddhāraṇa and the Re-constitution of Bhū-maṇḍala (Earth after Pralaya)

এই অধ্যায়ে সূতপ্রবাহের বর্ণনায় ব্রহ্মার ‘রাত্রি’ (সহস্র যুগসম) শেষ হলে সৃষ্টির পুনরারম্ভ দেখানো হয়েছে। প্রলয়সদৃশ অন্ধকার জলে স্থাবর-জঙ্গম প্রাণী লীন বা অব্যক্ত অবস্থায় থাকে; তখন ব্রহ্মা মহাসমুদ্রে বায়ুসদৃশ গতি ও ক্রিয়াশক্তি দ্বারা সৃষ্টিকর্ম প্রবর্তিত করেন। প্রধান ঘটনা—দেবতা বরাহরূপ ধারণ করে জলে প্রবেশ করে নিমজ্জিত ভূমিকাকে উদ্ধার করে যথাস্থানে স্থাপন করেন। এরপর ভূ-মণ্ডল গঠনের বিধান আসে: সমুদ্র ও নদীর সীমা নির্ধারণ, পর্বতসমূহের পুনর্গঠন ও স্থাপন; পূর্বে সংবর্তক অগ্নিতে গলিত পদার্থ বায়ু ও নিঃক্ষেপে জমাট বেঁধে আবার পর্বতরূপ পায়। শেষে সাত দ্বীপ ও তাদের পরিবেষ্টিত সমুদ্রসমূহের মান্য বিন্যাসের ইঙ্গিত দিয়ে বাসযোগ্য ও মানচিত্রযোগ্য পৃথিবীর পুনঃপ্রতিষ্ঠা প্রকাশিত হয়।

195 verses

Adhyaya 8

लोकज्ञान-वर्णन (Lokajñāna-varṇana) — Description of World-Knowledge / Cosmogonic Classification

এই অধ্যায়ে সূতের বর্ণনায় বায়ু-প্রোক্ত ব্রহ্মাণ্ডপুরাণের ধারায় সৃষ্টির ক্রম ও শ্রেণিবিভাগ বলা হয়েছে। প্রজাপতির মানস সংকল্প ও দেহজাত নিঃসরণ থেকে ‘ক্ষেত্র’-এর সঙ্গে ‘ক্ষেত্রজ্ঞ’দের উদ্ভব, তারপর দেব, অসুর, পিতৃ ও মানুষ—এই চতুর্বিধ গোষ্ঠীর উল্লেখ আছে। সৃষ্টির জন্য প্রজাপতি ধারাবাহিকভাবে নানা ‘তনু’ গ্রহণ করেন: তমোগুণ-প্রধান পর্যায়ে অসুরদের পরে রাত্রির জন্ম; পরে সত্ত্বগুণ-প্রধান পর্যায়ে মুখ থেকে দেবদের উৎপত্তি, ‘দিব্য’ (প্রকাশ/ক্রীড়া) ধাতুর সঙ্গে নামের যোগ দেখানো হয়, এবং পরিত্যক্ত দেবতনু থেকে দিন (অহঃ) হয়। এরপর সত্ত্ব থেকে পিতৃদের সৃষ্টি, আর পরিত্যক্ত তনু থেকে সন্ধ্যা। এভাবে গুণভেদে উৎপত্তি ও রাত্রি-দিন-সন্ধ্যার কালবিভাগের মিলন ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

66 verses

Adhyaya 9

Mānasasṛṣṭi-varṇana (Account of Mind-born Creation) | मानससृष्टिवर्णनम्

এই অধ্যায়ে ভগবান্ মানসসৃষ্টি আরম্ভ করে প্রজাদের স্থিতি ও নিয়ন্ত্রণের জন্য পাঁচ ‘কর্তৃ’ তত্ত্ব—রুদ্র, ধর্ম, মন, রুচি ও আকৃতি—প্রকাশ করেন। ধর্ম শৃঙ্খলা ধারণ করে, মন জ্ঞানসাধন, আকৃতি রূপ-সৌন্দর্য দেয়, আর রুচি শ্রদ্ধা/আসক্তি জাগায়। যজ্ঞ ও ছন্দ (গায়ত্রী, ত্রিষ্টুভ্, জগতি) প্রসঙ্গে রুদ্রকে ত্র্যম্বক বলা হয়েছে। পরে দেখা যায় সৃষ্ট প্রাণীরা বৃদ্ধি পাচ্ছে না; স্রষ্টা বিবেকবুদ্ধিতে লক্ষ্য করেন তমোগুণের প্রাবল্য রজস ও সত্ত্বকে দমন করছে। অপসারিত তমস থেকে আবরণ-প্রতিবন্ধক লক্ষণযুক্ত এক ‘মিথুন’ জন্মায়, যা অধর্মাচারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে হিংসা ও শোক উৎপন্ন করে। শেষে সৃষ্টির বৃদ্ধি ও ধারাবাহিকতার জন্য স্রষ্টার দেহ থেকে শতারূপা নামে নারীতত্ত্ব প্রকাশিত হয়।

92 verses

Adhyaya 10

Rudra-prasava-varṇana (The Manifestation and Naming of Rudra / Nīlalohita)

এই অধ্যায়টি সংলাপরূপে অগ্রসর হয়। ঋষি জিজ্ঞাসা করেন—এই কল্পে মহাদেব-রুদ্রের প্রাদুর্ভাব কীভাবে হল, কারণ পূর্বে সৃষ্টির বর্ণনা সংক্ষেপে ছিল। সূত বলেন—আদি-সর্গের উৎস তিনি বলেছেন, এখন রুদ্রের আবির্ভাবের সঙ্গে যুক্ত নাম ও তনুসমূহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা করবেন। কল্পের শুরুতে ভগবান নিজের সমান পুত্রের চিন্তা করলে নীললোহিত শিশু প্রকাশিত হয়। তার তীব্র কান্নাকে উপলক্ষ করে ব্রহ্মা বারবার জিজ্ঞাসা করেন—‘কেন কাঁদছ?’ শিশু নাম প্রার্থনা করে, আর ব্রহ্মা ক্রমে রুদ্র, ভব, শর্ব, ঈশান, পশুপতি, ভীম প্রভৃতি নাম দান করেন। এই নামদান রুদ্রের বহু পরিচয় ও কার্যকে শ্রেণিবদ্ধ করে সর্গ/প্রতিসর্গ-কথায় স্থাপন করে এবং পরবর্তী বিস্তারের ভূমি প্রস্তুত করে।

88 verses

Adhyaya 11

भृगुवंश-प्रसववर्णनम् (Genealogical Emanations in the Bhṛgu Line)

এই অধ্যায়ে সূত-প্রদত্ত পুরাণকথার ভেতরে ভৃগু-সম্পর্কিত বংশধারা ও সংশ্লিষ্ট প্রজাপতিদের সংক্ষিপ্ত বংশলেখ্য উপস্থাপিত। ধাত্রী ও বিধাত্রীকে জীবদের শুভ-অশুভ ফলবিতরণকারী এবং মন্বন্তর-ব্যবস্থার অনুগামী দেবকর্মচারী বলা হয়েছে। তাঁদের বংশক্ষেত্র থেকে জ্যেষ্ঠা ভগিনী শ্রী (লক্ষ্মী) প্রকাশিত হয়ে নারায়ণের সঙ্গে মিলিত হন এবং বল, উন্মাদ প্রভৃতি ব্যক্ত শক্তির জন্ম দেন; পরে মানস-সন্তানরা আকাশগামী ও দেববিমানের বাহক হিসেবে উল্লিখিত। এরপর আয়তি-নিয়তি, তপস্বী পুত্র প্রাণ ও মৃকণ্ড, এবং সেই ধারায় মার্কণ্ডেয় প্রমুখ ঋষির অবস্থান বর্ণিত। বেদশির, মার্কণ্ডেয়-সম্পর্কিত মুনিদের নাম, পুণ্ডরীক থেকে দ্যুতিমান পর্যন্ত শাখা, মরীচির গৃহে সম্ভূতি, সরস্বতীর সঙ্গে পূণমাস ও তাঁদের পুত্র বিরজ ও পরবশ—এসবও বলা হয়। শেষে সুধামাকে ধর্মনিষ্ঠ লোকপাল ও পূর্বদিকের অধিপতি বলে দেখিয়ে বংশাবলিকে দিক, পদ ও কালচক্রের মহাজাগতিক সূচক রূপে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

44 verses

Adhyaya 12

Agnibheda–Vaṃśa: Forms of Agni, Their Functions, and Progeny (अग्निभेद-वंशः)

এই অধ্যায়ে অগ্নির তাত্ত্বিক ও বংশানুক্রমিক বিবরণ দেওয়া হয়েছে। স্বায়ম্ভুব মন্বন্তরে ব্রহ্মার মানসপুত্র অভিমানীকে উল্লেখ করে তাঁর সঙ্গে স্বাহার সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। তাঁদের থেকে পাৱক, পৱমান ও শুচি—এই তিন প্রধান অগ্নির উৎপত্তি, যাদের প্রকাশভেদ যথাক্রমে বৈদ্যুত, নির্মথ্য (মন্থনজাত) ও সৌর রূপে বলা হয়েছে। পরে কার্যভেদে দেবতাদের হব্যবাহন অগ্নি এবং পিতৃদের কব্যবাহন অগ্নির কথা, এবং তাদের পরবর্তী সন্তান-উপপ্রকার (গার্হপত্য/আহবনীয় ইত্যাদি) নামসহ বর্ণিত। পুরাণের গণনামূলক রীতিতে নাম, ভূমিকা ও পিতা–পুত্র সম্পর্ক সাজিয়ে এক মানচিত্র তৈরি হয়, এবং শেষে অগ্নিবংশকে নদীর সঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে যুক্ত করে যজ্ঞাগ্নিকে পবিত্র ভূদৃশ্যে স্থাপন করা হয়েছে।

53 verses

Adhyaya 13

अग्निनिचयः (Agninichaya) / The Accumulation of Sacred Fire & the Classification of Pitṛs by Time-Order

এই অধ্যায়ে সূত স্বায়ম্ভুব মন্বন্তরের প্রেক্ষিতে বলেন—ব্রহ্মার সৃষ্টিতে মানুষ, অসুর ও দেবতার উদ্ভবের পরে পিতৃগণ প্রকাশিত হন, যাঁরা ব্রহ্মাকে পিতৃরূপে মানেন। পিতৃদের উৎপত্তির পূর্বকথা সংক্ষেপে পুনরুক্ত করে সময়-ক্রমে তাঁদের শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। মধু প্রভৃতি ছয় ঋতুকে পিতৃ-দেবতা বলা হয়েছে—“ঋতবঃ পিতরঃ দেবাঃ” শ্রুতি-উক্তি অনুসারে। অগ্নিষ্বাত্ত ও বর্হিষদ পিতৃগোষ্ঠীকে যজ্ঞ-যোগ্যতা ও অগ্নি-সম্পর্কে পৃথক করা হয়েছে—কেউ অগ্নি প্রজ্বালন করেন না, কেউ অগ্নিহোত্র পালন করেন। মধু–মাধব, শুচি–শুক্র, নভস্–নভস্য প্রভৃতি মাস-যুগল ঋতুচক্রের সঙ্গে যুক্ত। অর্ধমাস, মাস, ঋতু, অয়ন ও বর্ষে স্থিত ‘অভিমানী’ অধিষ্ঠাতাদের ব্যাখ্যা করে বংশতত্ত্বকে সময়-মানচিত্রে রূপ দেওয়া হয়েছে।

151 verses

Adhyaya 14

Priyavrata-vaṃśa and Saptadvīpa Vibhāga (प्रियव्रतवंशः सप्तद्वीपविभागश्च)

এই অধ্যায়ে পুরাণীয় সংলাপের ধারায় সূত মহর্ষি সৃষ্টিতত্ত্ব ও বংশপরম্পরার জ্ঞান অব্যাহত রাখেন। তিনি প্রথমে বলেন যে অতীত ও ভবিষ্যৎ কল্পে জীবেরা সমতুল্য অবস্থায় পুনরাবির্ভূত হয়; তারপর স্বায়ম্ভুব মন্বন্তরের প্রারম্ভিক বংশগুলির তালিকা দেন। পরে প্রিয়ব্রত-প্রসঙ্গ প্রধান হয়—প্রিয়ব্রতের সন্তানসন্ততি এবং সপ্তদ্বীপে শাসকদের প্রতিষ্ঠা। জম্বু, প্লক্ষ, শাল্মল, কুশ, ক্রৌঞ্চ, শাক ও পুষ্কর দ্বীপে নামোল্লিখিত রাজাদের অধিকার নির্ধারণ করে বংশাবলিকে ভূগোল-রাজনীতির মানচিত্রে রূপ দেওয়া হয়েছে। এভাবে মন্বন্তর/যুগ-আবর্তনের তত্ত্ব ও দ্বীপবিভাগের স্থান-ব্যবস্থা ধর্মসম্মত রাজধর্মের আদেশে বংশপরম্পরার সঙ্গে যুক্ত হয়।

75 verses

Adhyaya 15

Pṛthivy-Āyāma-Vistara (Extent of the Earth) and Jambūdvīpa–Navavarṣa Description

এই অধ্যায়ে প্রশ্নোত্তররূপে বিশ্ব-ভূগোলের সংক্ষিপ্ত অথচ সুবিন্যস্ত বিবরণ আছে। প্রজা-সন্নিবেশ শুনে জিজ্ঞাসু দ্বীপ ও সমুদ্রের সংখ্যা, বর্ষ ও তাদের নদীসমূহ, মহাভূতের পরিমাপ, লোকালোক-সীমা এবং সূর্য–চন্দ্রের মান ও গতি জানতে চান। সূত পৃথিবীর বিস্তার এবং দ্বীপ–সমুদ্র গণনার নীতি বলার প্রতিশ্রুতি দেন, তবে বলেন যে সমগ্র জটিলতা ধারাবাহিকভাবে সম্পূর্ণ বলা কঠিন। এরপর সপ্তদ্বীপ-ব্যবস্থার আলোচনায় জাম্বুদ্বীপের বর্ণনা শুরু হয়—লবণসমুদ্রে পরিবেষ্টিত বৃহৎ বৃত্তাকার ভূখণ্ড, নববর্ষে বিভক্ত, নগর-জনপদ, সিদ্ধ-চারণ, পর্বত ও পর্বতজাত নদীনালায় শোভিত। হিমবান, হেমকূট, নিষধ প্রভৃতি সীমা-পর্বত নববর্ষ বিভাজনের দিশা-নির্দেশক হিসেবে উল্লিখিত।

80 verses

Adhyaya 16

Pṛthivyāyāma-vistara (Extent and Divisions of the Earth) / पृथिव्यायामविस्तरः

এই অধ্যায়ে ঋষিরা ভারতবর্ষের পরিচয়, সীমানা, অন্তর্বিভাগ এবং কেন এটি কর্মভূমি—তা জিজ্ঞাসা করেন। সূত (লোমহর্ষণ) বলেন, হিমালয়ের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে উত্তর সমুদ্র পর্যন্ত অঞ্চলই ভারত; ‘ভরত’ নামটি মনুবংশীয় ভরত-এর সঙ্গে যুক্ত, যিনি প্রজাদের ধারণ-পোষণকারী। ভারতবর্ষে দেহধারীরা কর্ম করে স্বর্গ বা মোক্ষ লাভ করে—এই কারণে এটি বিশেষ। এরপর সমুদ্রবিভক্ত নয়টি ‘ভেদ’ উল্লেখিত—ইন্দ্রদ্বীপ, কশেরূমান, তাম্রবর্ণ, গবস্তিমান, নাগদ্বীপ, সৌম্য, গান্ধর্ব, বারুণ এবং নবম ভেদ হিসেবে সমুদ্রবেষ্টিত ভারত। যোজনায় দৈর্ঘ্য-প্রস্থের পরিমাপ, সীমান্তে পূর্বে কিরাত, পশ্চিমে যবন, প্রান্তে ম্লেচ্ছদের উল্লেখ আছে। শেষে চার বর্ণের কর্তব্য, ধর্ম-অর্থ-কামমুখী সমাজব্যবস্থা ও আশ্রমধর্মে স্বর্গ-মুক্তির সাধনা বর্ণিত।

69 verses

Adhyaya 17

Kiṃpuruṣa–Harivarṣa–Ilāvṛta-varṣa-varṇanam (Description of the Varṣas: Kiṃpuruṣa, Hari, and Ilāvṛta)

এই অধ্যায়ে প্রশ্নোত্তর রীতিতে ঋষিরা ভারতের নিকটবর্তী পূর্বোক্ত অঞ্চল—কিম্পুরুষ-বর্ষ ও হরিবর্ষ, এবং পরে মধ্যবর্তী ইলাবৃত-বর্ষ—সম্বন্ধে স্পষ্ট বিবরণ চান। সূত পুরাণীয় ভূগোল অনুসারে প্রতিটি বর্ষের সৌন্দর্য ও প্রাচুর্য, অধিবাসীদের দেহগুণ, খাদ্য-রস, অসাধারণ দীর্ঘায়ু এবং রোগ-শোকহীন জীবনের কথা বলেন। এরপর মেরুকেন্দ্রিক জগত্-রচনায় ‘মধ্য’ ইলাবৃত-বর্ষের বিশেষ দীপ্তিময় অবস্থা বর্ণিত হয়, যেখানে সাধারণ সূর্যতাপ/আলোর অনুপস্থিতির কথাও আছে এবং মানুষের আদর্শ গুণাবলি উল্লেখিত। শেষে মেরুর দিকগত বিস্তার ও যোজনামাপে পরিমিতি দিয়ে অধ্যায়টি শিক্ষামূলক ক্ষুদ্র-মানচিত্রের মতো সম্পূর্ণ হয়।

37 verses

Adhyaya 18

कैलास-मन्दाकिनी-स्वच्छोदा-लौहित्य-सरयू-उद्गमवर्णनम् (Kailāsa and the Origins of Mandākinī, Svacchodā, Lauhitya, and Sarayū)

এই অধ্যায়ে সূত হিমালয়ের পশ্চাৎশ্রেণীতে অবস্থিত কৈলাস পর্বতের বর্ণনা করেন। সেখানে অলকার অধিপতি কুবের যক্ষগণসহ বাস করেন এবং পর্বতের পাদদেশ থেকে পবিত্র শীতল জলধারা উৎসারিত হয়। ‘মদ’ নামক সরোবর থেকে মন্দাকিনীর উৎপত্তি বলা হয়েছে; সঙ্গে নন্দনবন প্রভৃতি দিব্যভূমি ও ঔষধি-রত্নসম পর্বতগুলির উল্লেখ আছে। চন্দ্রপ্রভ, সূর্যপ্রভ ইত্যাদি দীপ্তিমান পর্বতের পাদদেশে সরোবর, সেখান থেকে স্বচ্ছোদা ও লৌহিত্য নদী প্রবাহিত হয়। নদীতীরে বন, রক্ষক যক্ষ-নেতা ও স্থাননামের তালিকা তীর্থ-ভাবনাকে জাগায়; নদীগুলি পৃথিবীমণ্ডল অতিক্রম করে শেষে সমুদ্রে প্রবেশ করে।

84 verses

Adhyaya 19

प्लक्षद्वीपवर्णनम् (Description of Plakṣa-dvīpa)

এই অধ্যায়ে সূত মুনি দ্বিজ-জ্যেষ্ঠদের উদ্দেশে জাম্বুদ্বীপের পরবর্তী বৃত্তাকার মহাদেশ প্লক্ষদ্বীপের বিবরণ দেন। জাম্বুদ্বীপের তুলনায় প্লক্ষদ্বীপের বিস্তার-অনুপাত, তাকে ঘিরে থাকা লবণোদক (লবণসমুদ্র), এবং সেখানকার জনপদগুলির আদর্শ অবস্থা—দুর্ভিক্ষের অভাব ও রোগ-বার্ধক্যভয়ের হ্রাস—সংক্ষেপে বলা হয়েছে। পরে প্লক্ষদ্বীপের সাতটি প্রধান বর্ষ-পর্বত ও তাদের সঙ্গে যুক্ত বর্ষ-অঞ্চলের নাম, এবং ঔষধি-সংগ্রহ বা পূর্বঘটনার মতো কারণ-ইঙ্গিতও উল্লেখিত। সমগ্র অধ্যায়টি পুরাণীয় ভূগোলের নাম, মাপ ও অঞ্চলচিহ্নকে মান্য করে ঘন তথ্যভাণ্ডাররূপে উপস্থাপন করে।

197 verses

Adhyaya 20

Plakṣādidvīpa-varṇana & Adho-loka/Pātāla-vyavasthā (Description of Dvīpas and the Netherworld Layers)

এই অধ্যায়ে সূতপ্রধান বর্ণনায় বিশ্বতত্ত্বের কারিগরি বিন্যাস বলা হয়েছে। পঞ্চ মহাভূত—পৃথিবী, বায়ু, আকাশ, জল ও তেজ—সর্বব্যাপী এবং ‘অনন্ত’ স্বভাবের বলে প্রতিপাদিত। এরপর নানা জনপদ, বসতি, নদী ও পর্বতে ভরা বাসযোগ্য পৃথিবীর বৈচিত্র্য বর্ণনা করে উর্ধ্ব-অধঃ স্তরবিন্যাসের ছক দেওয়া হয়। ভূতগুলির ক্রমানুসার স্থাপন (পৃথিবী–জল–আকাশ ইত্যাদি) এবং অধোলোকের গঠন সপ্তম স্তর পাতাল পর্যন্ত যোজনামাপে উল্লেখিত। তাল/অতল/তলাতল/সুতল/রসাতল প্রভৃতি নামে নিম্নলোকগুলি ক্রমে গণনা করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে সাতটি মাটির উপস্তর—কৃষ্ণভৌম, পাণ্ডুভূমি, নীলমৃত্তিকা, পীতভৌম, শর্করাময়, শিলাময়, সৌবর্ণ—এবং প্রথম স্তরে এক অসুরাধিপতির নিবাস। সমগ্র অধ্যায়টি ভুবনকোষের উল্লম্ব মানচিত্ররূপে পৃথিবীর উপরিভাগ ও পাতালের স্তরিত ব্যবস্থা দেখায়।

58 verses

Adhyaya 21

अधोलोकवर्णनम् (Adholoka-varṇana) — Description of the Lower Worlds and Cosmographic Measures

এই অধ্যায়ে সূতপ্রণীত বর্ণনায় সূর্য (রবি/ভাস্কর) ও চন্দ্র (শশী)কে গতিশীল দীপ্তিমান জ্যোতিষ্করূপে বলা হয়েছে; তাঁদের তেজে তাঁদের মণ্ডল উজ্জ্বল হয়। পরে পুরাণোক্ত ভূগোল ও পরিমিতিবিদ্যা—সপ্তদ্বীপ ও সপ্তসমুদ্রের বিস্তার, পৃথিবীর পরিমাপের অনুপাত-নীতি, এবং দিব্য মাপ ও ভৌম মাপের সম্পর্ক—উপস্থাপিত হয়। যোজনায় সূর্যের ব্যাস ও পরিণাহ, চন্দ্রমণ্ডলের তুলনামূলক মান (প্রায়ই সূর্যমণ্ডলের দ্বিগুণ), এবং সপ্তদ্বীপ-সমুদ্রসমষ্টিসহ ভূতন্ত্রের মোট পরিমাপ নির্দিষ্ট করা হয়েছে। মেরুকে দিকনির্ণয়ের কেন্দ্র ধরে চারদিকে দূরত্ব গণনা করা হয়। সার্বিকভাবে এটি মেরুকেন্দ্রিক বিশ্বমডেলের সংখ্যাত্মক ভিত্তি প্রদান করে।

176 verses

Adhyaya 22

Āditya-vyūha-kīrtana (Praise/Account of the Solar Array and Celestial Motions)

এই অধ্যায়ে সূত (লোমহর্ষণ) স্বায়ম্ভুব সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত বিশ্ব-ক্রম ও কালের ধারার সুশৃঙ্খল বিবরণ দিতে উদ্যত হন। ঋষিরা সূর্য, চন্দ্র ও গ্রহদের ‘চারা’ বা গতি জিজ্ঞাসা করেন—তারা সংঘর্ষ ছাড়া কীভাবে চলে, স্বচালিত না কি বাহ্য শক্তিতে চালিত। সূত ধ্রুবতারা (ধ্রুব)কে নিয়ন্ত্রণ-অক্ষ বলেন—শিশুমার বিন্যাসে স্থির, মেঢীর মতো কেন্দ্র; নক্ষত্র, সূর্য, চন্দ্র ও গ্রহরা তার চারদিকে চক্রের মতো ঘোরে, যেন বায়ুর দড়িতে বাঁধা। এই ধ্রুবকেন্দ্রিক নিয়ম থেকেই উদয়-অস্ত, নিমিত্ত, অয়ন-পরিবর্তন, বিষুব, ঋতু, দিন-রাত্রি ও শুভাশুভ ফল নির্ধারিত হয়। পরে সূর্যের জল আহরণ এবং সোমের আর্দ্রতা প্রেরণ/মুক্তির কথা বলা হয়, যা নাড়ির মতো পথে ঘুরে বৃষ্টি ও অন্নের পুষ্টি সাধন করে।

84 verses

Adhyaya 23

देवग्रहानुकीर्तनम् (Devagrahānukīrtanam) — Enumeration of the Deities/Retinues Associated with the Solar Course

এই অধ্যায়ে ‘সূত উবাচ’ দিয়ে শুরু করে সূর্যরথের দেবসমূহের বিন্যাস বর্ণিত হয়েছে। আদিত্য, মুনি/ঋষি, গন্ধর্ব, অপ্সরা, নাগ/সর্প, যক্ষ এবং রাক্ষস/যাতুধান—এরা ‘সূর্যে নিবাসী’ বলে গণ্য, এবং ‘দুই-দুই মাস ক্রমে’ তাদের নিয়োগ নির্দিষ্ট। মিত্র–বরুণ, অত্রি–বশিষ্ঠ, তুম্বুরু–নারদ, মেনকা, বাসুকি–শঙ্খপাল প্রভৃতি নাম উদাহরণে আসে। এতে বর্ষচক্রকে দেবীয় কর্মচারীদের আবর্তিত তালিকা হিসেবে দেখিয়ে ঋতুক্রম, কালগণনা ও দিভ্য শাসন একত্রে সংযুক্ত করা হয়েছে।

108 verses

Adhyaya 24

ध्रुवचर्याकीर्तनं / Dhruva-caryā-kīrtana (Account of Dhruva’s Course and Related Cosmological Ordering)

এই অধ্যায়ে সূত (লোমহর্ষণ) পূর্বশ্রুত বিষয়ের পর ঋষিদের উত্থাপিত সংশয় দূর করে বিস্তারে ব্যাখ্যা দেন। প্রশ্ন ওঠে ‘দেবগৃহ’ (দিব্য আবাস/নক্ষত্রগৃহ) ও ‘জ্যোতিষ্ম’ (আলোকময় গ্রহ-নক্ষত্র) কীভাবে নির্ধারিত ও শ্রেণিবদ্ধ। উত্তরে সূর্য-চন্দ্রের উৎপত্তিকথা আসে এবং অগ্নিকে ত্রিবিধ—দৈব/সৌর, অন্তরীক্ষীয়/বৈদ্যুত (বিদ্যুৎ-অগ্নি), ও পার্থিব—রূপে বর্ণনা করে জাঠর প্রভৃতি উপভেদ বলা হয়। আদ্য অন্ধকার থেকে আলো-তাপ ও নিয়ামক তত্ত্বের প্রকাশ দেখিয়ে অধ্যায়টি বর্ণনামূলক ও শ্রেণিবিন্যাসমূলক বিশ্ববিন্যাস স্থাপন করে।

152 verses

Adhyaya 25

ज्योतिषां सन्निवेशः (Disposition/Arrangement of the Luminaries) — with the Nīlakaṇṭha inquiry frame

অধ্যায়ের শিরোনামে ‘জ্যোতিষদের সন্নিবেশ’ বলা হলেও শুরুতে সংলাপের ভূমিকা গড়ে ওঠে। সূত বলেন, লোকহিতার্থে বায়ু মধ্যাহ্নে, যখন সূর্য শিরোদেশে, জপ করেন। নিয়মিত ভঙ্গিতে ঋষিগণ করজোড়ে দাঁড়িয়ে থাকেন; সূর্য-সহচরী বলখিল্য তপস্বীরা বায়ুকে প্রশ্ন করেন। তারা ‘নীলকণ্ঠ’ উপাধির কারণ এবং অম্বিকাপতি শিবের কণ্ঠ নীল হওয়ার হেতু জানতে চান, এবং বায়ুকে বাক্ ও বর্ণস্থানের সর্বব্যাপী নিয়ন্তা বলে স্তব করেন। পরে ‘পুরা কৃতযুগে… বসিষ্ঠ’ ইঙ্গিতে কারণকথা শুরু হয়; বায়ুর বচনে জ্যোতিষ-বিন্যাস, দেবতাতত্ত্ব ও ঋষি-বংশস্মৃতি একসূত্রে যুক্ত হয়।

117 verses

Adhyaya 26

Nīlakaṇṭha-nāmotpatti-kathana (Origin of the Epithet “Nīlakaṇṭha”)

এই অধ্যায়টি প্রশ্নোত্তর রীতিতে রচিত। ঋষিরা মহাদেবের মহিমা, সার্বভৌমত্ব ও দিব্য ঐশ্বর্যের স্পষ্ট বিস্তার জানতে চান। সূত বলেন—এ কথা সেই সময়ের, যখন বিষ্ণু দৈত্যদের পরাজিত করে বলিকে বেঁধে তিন লোকের শাসন-শৃঙ্খলা স্থাপন করেন। কৃতজ্ঞ দেবতা, সিদ্ধ, ব্রহ্মর্ষি প্রভৃতি ক্ষীরোদ-সদৃশ পরম ধামে সমবেত হয়ে বিষ্ণুকে স্রষ্টা, পালনকর্তা ও নিয়ন্তা বলে স্তব করেন। বিষ্ণু কারণতত্ত্ব ব্যাখ্যা করেন—কালই প্রভুত্বতত্ত্ব, মায়ার সহায়তায় ব্রহ্মার সঙ্গে জগতের উৎপত্তি, এবং অব্যক্ত অন্ধকারে আচ্ছন্ন বিশ্বাবস্থার কথা। পরে দিব্য স্মৃতিতে বিষ্ণু বিরাট রূপে দীপ্তিমান চতুর্মুখ তপস্বী ব্রহ্মাকে দেখেন; ব্রহ্মা দ্রুত এসে বিষ্ণুর পরিচয় ও অবস্থান জিজ্ঞাসা করেন। এভাবে ভক্তিস্তব ও সৃষ্টিতত্ত্বকে যুক্ত করে নীলকণ্ঠ নামের উৎপত্তি ও শৈব মহিমার ভূমিকা প্রস্তুত হয়।

66 verses

Adhyaya 27

Liṅgotpatti-kathana (Account of the Manifestation/Origin of the Liṅga) — Daruvana Episode

এই অধ্যায়ে ঋষিরা সূতকে মহাদেবের মহিমা, বিশেষত হিমালয়ের দেবদারুবনে (দেবর্ষিদের গমনাগমনযুক্ত আশ্রম-অরণ্য) সংঘটিত কাহিনি বলতে অনুরোধ করেন। সূত বলেন, ভক্তদের প্রতি করুণায় প্রভু এই ধর্মশিক্ষামূলক উপাখ্যান রচনা করেছেন। সেখানে কঠোর তপস্যায় নিমগ্ন তপস্বীসমাজ নানা ব্রত ও কৃচ্ছ্রাচারে রত। সেই পরিবেশে শিব ভস্মলিপ্ত, দিগম্বর, এলোমেলো কেশ ও অদ্ভুত লক্ষণসহ ইচ্ছাকৃতভাবে সীমালঙ্ঘনকারী রূপে প্রবেশ করেন—হাসেন, গান করেন, নাচেন, কখনও কাঁদেন। মুনিরা তাঁকে দেবতা বলে চিনতে না পেরে বিচারপরায়ণ হয়ে বাহ্য আচারের অহংকারে কেবল প্রপিত্তি-ক্রিয়ায় লিপ্ত হয়। কাহিনির মর্ম হলো যজ্ঞ-গর্ব ও ভ্রান্ত পরিচয়ের সংশোধন; পরিশেষে লিঙ্গতত্ত্বের প্রকাশে উপাসনা বাহ্য চিহ্ন ছাড়িয়ে শিবতত্ত্বের অন্তর্নিহিত স্বীকৃতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়।

129 verses

Adhyaya 28

Amāvasyā-Pitṛtarpaṇa: Purūravas and the Soma-Based Ancestral Offering (अमावस्या-पितृतर्पण / सोमतर्पण-विधि)

এই অধ্যায়ে সংলাপরূপে প্রশ্ন ওঠে—রাজা পুরূরবা (ঐল) কীভাবে অমাবস্যায় মাসে মাসে স্বর্গে গমন করেন এবং কোন পদ্ধতিতে পিতৃদের তৃপ্ত করেন। সূত আদিত্য‑সোমের সঙ্গে ঐলের সম্পর্কের প্রভাব ব্যাখ্যা করে চন্দ্রকলার বৃদ্ধি‑ক্ষয়, শুক্ল‑কৃষ্ণ পক্ষের গতি এবং সোমের সুধা‑অমৃতধারা পিতৃপোষণের সঙ্গে যুক্ত করেন। অমাবস্যাকে সন্ধিক্ষণ বলা হয়েছে, যখন সূর্য‑চন্দ্র একই নক্ষত্রে মিলিত হয়ে এক মণ্ডলরূপে থাকে এবং পিতৃকর্মের বিশেষ দ্বার উন্মুক্ত হয়। পুরূরবা কুহূ‑সিনীভালী প্রভৃতি সীমান্তকলার প্রতি লক্ষ্য রেখে মাসিক শ্রাদ্ধের উদ্দেশ্যে সোমকে আশ্রয় করে পিতৃবিধি অনুযায়ী সোমামৃত দ্বারা তর্পণ করেন। বর্হিষদ, কাব্য, অগ্নিষ্বাত্ত, সৌম্য প্রভৃতি পিতৃগণের শ্রেণিবিভাগ এবং ঋত‑অগ্নিরূপ বর্ষতত্ত্বের মাধ্যমে আচারকে বিশ্বযন্ত্রের সম্প্রসারণরূপে দেখানো হয়েছে।

100 verses

Adhyaya 29

Yuga-Vibhāga and Kāla-Pramāṇa (Measures of Time and the Four Yugas)

এই অধ্যায়ে ঋষি স্বায়ম্ভুব মন্বন্তরের প্রেক্ষিতে চতুর্যুগ-চক্রের উৎপত্তি-রীতি (নিসর্গ) ও তত্ত্ব বিস্তারিত শুনতে চান। সূত পূর্বের পৃথিবী-আদি প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করে ধারাবাহিক ব্যাখ্যা শুরু করেন। তিনি নিমেষ, কাষ্ঠা, কলা, মুহূর্ত প্রভৃতি সূক্ষ্ম একক থেকে সূর্যনিয়ন্ত্রিত মানব/লৌকিক দিন-রাত্রির বিভাগ পর্যন্ত সময়গণনা নিরূপণ করেন। পরে পিতৃ-কাল দেখান, যেখানে মানব মাসই দিন-রাত্রি—কৃষ্ণপক্ষ ‘দিন’ ও শুক্লপক্ষ ‘রাত্রি’। এরপর দেব-কালে উত্তরায়ণ দিন এবং দক্ষিণায়ণ রাত্রি বলা হয়। এই রূপান্তরগুলির ভিত্তিতে যুগ, যুগভেদ, যুগধর্ম এবং যুগসন্ধ্যা-সন্ধ্যাংশ-সন্ধিকে সংখ্যাগত স্পষ্টতায় স্থাপন করে পুরাণীয় ইতিহাসের গণনাযোগ্য কালক্রম নির্ধারণ করা হয়েছে।

92 verses

Adhyaya 30

Saṃkhyāvarta (संख्यावर्त्त): Commencement of Yajña at the Dawn of Tretāyuga

এই অধ্যায়টি পুরাণ-পাঠের প্রশ্নোত্তর ধারায় রচিত। শাংশপায়ন জিজ্ঞাসা করেন—স্বায়ম্ভুব সৃষ্টির প্রেক্ষিতে ত্রেতাযুগের সূচনায় যজ্ঞ কীভাবে শুরু হয়েছিল। সূত ক্রমান্বয়ে বলেন—কৃতযুগ-সন্ধ্যার অবসান, ত্রেতার উদয়, ঔষধির প্রকাশ, বৃষ্টি-সৃষ্টির প্রবর্তন, তারপর জীবিকা (বার্তা) ও গৃহাশ্রমের প্রতিষ্ঠা। সমাজ স্থিত হলে বর্ণাশ্রম-ব্যবস্থা গঠিত হয়, মন্ত্রসমূহ সংকলিত হয়ে ইহ-পর কর্মে প্রয়োগ হয়। পরে বিশ্বভুজ ইন্দ্র দেব ও মহর্ষিদের উপস্থিতিতে পূর্ণ উপকরণসহ অশ্বমেধ যজ্ঞ আরম্ভ করেন। ঋত্বিকদের কার্য, সামগান ও পাঠ, মেধ্য পশু নির্ধারণ, অগ্নিহোত্রিদের আহুতি এবং দেবতাদের ক্রমানুসারে ভাগপ্রাপ্তি—নতুন যুগের শুরুতে যজ্ঞকে দैবশক্তি ও সামাজিক শৃঙ্খলা সংযোগকারী বিধান হিসেবে দেখানো হয়েছে।

48 verses

Adhyaya 31

यज्ञप्रवर्तनम् (Yajña-pravartana) — The Institution/Commencement of Sacrifice in Dvāpara

এই অধ্যায় ‘যজ্ঞপ্রবর্তন’ নামে পরিচিত। সূত ত্রেতাযুগের অবসান ও দ্বাপরের সূচনায় দ্বাপর-যুগের বিধি ব্যাখ্যা করেন। দ্বাপরে রজ-তমের প্রাবল্য, বর্ণ-সংমিশ্রণ, কর্তব্য-বিপর্যয় এবং ত্রেতার পূর্ব সিদ্ধিগুলির ক্ষয় বর্ণিত। শ্রুতি-স্মৃতি দ্বিধা হয়ে যায়, ধর্মনিশ্চয় কঠিন হয়, নানা মতভেদে শাস্ত্র জটিল হয়ে ওঠে। পূর্বে এক বেদ ছিল, তা চার ভাগে বিন্যস্ত হয়; ঋষি-পরম্পরা, মন্ত্রভেদ, মন্ত্র–ব্রাহ্মণ বিন্যাস এবং স্বর-বর্‌ণ-বিপর্যয়ে বহু শাখা জন্ম নেয়। তাই দ্বাপরে যজ্ঞ-ব্যবস্থা ও গ্রন্থ-বিভাগ প্রয়োজনীয় হয়, যা কলিতে আরও অবনতির দিকে যায়।

127 verses

Adhyaya 32

चतुर्युगाख्यान (Caturyuga-Ākhyāna) — Yuga-wise Origins and Measurements of Beings

এই অধ্যায়ে সূত চার যুগে বিভিন্ন জীবশ্রেণির উৎপত্তি, তাদের দেহমান (উৎসেধ/উচ্চতা) এবং শক্তি-বুদ্ধির মতো গুণের যুগানুসার পরিবর্তন বর্ণনা করেন। আসুরী, সর্প/পন্নগ, গন্ধর্ব, পৈশাচী, যক্ষ, রাক্ষস প্রভৃতি জন্মভেদ উল্লেখ করে পরে অঙ্গুল-ভিত্তিক মানদণ্ডে দেব-অসুর-মানব দেহের তুলনামূলক মাপ দেওয়া হয়েছে। যুগধর্মের হ্রাসের সঙ্গে দেহপ্রমাণ ও উৎকর্ষের হ্রাস-বৃদ্ধি, এবং পশু, হাতি ও বৃক্ষের মাপও স্পর্শ করা হয়েছে; ফলে চতুর্যুগ তত্ত্ব ও দৃশ্য জগতের রূপের মধ্যে সেতুবন্ধ রচিত হয়।

122 verses

Adhyaya 33

युगप्रजालक्षणम् ऋषिप्रवरवर्णनं च (Yuga–Prajā-Lakṣaṇa and the Enumeration of Eminent Ṛṣis)

এই অধ্যায়ে সূত সভাকে বলেন—ব্রাহ্মণ-পরম্পরার প্রামাণ্য প্রবক্তাদের ‘নাম ধরে’ জানতে হবে। শ্রুতঋষিদের নাম বেদশাখা ও গুরু–শিষ্য–প্রশিষ্য ধারায় গুচ্ছবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে যুগ-জ্ঞান ও প্রজা-বিভাগ শাখা-নেটওয়ার্কে সংরক্ষিত থাকে। এখানে কাহিনি নয়, প্রমাণ-স্থাপনই মুখ্য—যুগ/মন্বন্তর বিষয়ক মত নির্দিষ্ট মানব-প্রচারকদের সঙ্গে যুক্ত। বারবার সংখ্যাগণনা তালিকাকে মান্য ও স্থির করার সংকলন-উদ্দেশ্য প্রকাশ করে।

58 verses

Adhyaya 34

ऋषिलक्षणम् (Rishi-Lakṣaṇa) — Marks of Sages and the Re-division of the Veda

এই অধ্যায়ে প্রশ্নোত্তরের ধারায় ঋষিরা জানতে চান—পরবর্তী কালে বেদ কীভাবে পুনর্বিন্যস্ত হয়। উত্তরে যুগপরিবর্তনজনিত অবক্ষয় বর্ণিত—মানুষের সামর্থ্য সঙ্কুচিত হয়, তেজ, বল ও বীর্য ক্ষীণ হয়, এবং যুগদোষে দ্বিজদের উপর সংকট নেমে আসে। বেদ-ক্ষয়ে যজ্ঞ-ক্ষয়, আর তাতে বিশ্বব্যবস্থার বিপর্যয় ঘটতে পারে—এই কারণে লোকহিতার্থে এক চতুষ্পদ বেদকে (মনু ও ব্রহ্মার উপদেশের প্রসঙ্গে) বিভক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এরপর বর্তমান যুগের ব্যাস কৃষ্ণদ্বৈপায়ন—বিষ্ণুর নিত্যাংশ—ব্রহ্মার প্রেরণায় বেদসংগঠন করে শিষ্যদের মধ্যে বিভাগ করেন। জৈমিনি সাম, সুমন্তু অথর্ব, বৈশম্পায়ন যজুঃ এবং পৈল ঋগ্বেদের ধারার অধিকারী হন; লোমহর্ষণ সূতকেও পরম্পরায় উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ঋষিলক্ষণ কেবল তপস্যা নয়, বরং বেদরক্ষা ও যজ্ঞপ্রবাহকে যুগোপযোগী রাখার দায়িত্ব হিসেবেও নির্ধারিত।

68 verses

Adhyaya 35

व्यासशिष्योत्पत्तिवर्णन (Origins/Enumeration of Vyāsa’s Disciplic Succession) — Chapter on Vedic Transmission Lineages

এই অধ্যায়ে সূত মুনি বেদ-পরম্পরার ঘন তালিকা ও শাখা-গঠনের বিবরণ দেন। বহু পণ্ডিত ব্রাহ্মণ নানা সংহিতা রচনা বা সংরক্ষণ করেন, এবং গুরু থেকে শিষ্যে শিষ্যপরম্পরা শাখাবিভাগে বিস্তৃত হয়। বিশেষত যজুর্বেদের উপাদান বহু সংহিতা-রূপে বিন্যস্ত হওয়ার কথা, এবং উদীচ্য, মধ্যদেশ্য, প্রাচ্য প্রভৃতি আঞ্চলিক গোষ্ঠীর উল্লেখ আছে। যাজ্ঞবল্ক্যের প্রসঙ্গে পরম্পরায় এক বিচ্ছেদ/পুনর্বিন্যাসের স্মৃতি প্রকাশ পায়। ঋষিদের ‘চরক অধ্বর্যু’ প্রশ্নের উত্তরে বলা হয় কেন ও কোন পরিস্থিতিতে কিছু যাজ্ঞিক ‘চরক’ (ভ্রমণশীল) নামে পরিচিত হল—মেরু-অঞ্চলসহ ভূগোলের যোগও থাকে। সারাংশে, কার কাছে কোন সংহিতা ছিল, কত রূপান্তর হল, এবং বিদ্যালয়গুলি সমাজ ও অঞ্চলে কীভাবে প্রতিষ্ঠিত—এই জ্ঞানমানচিত্রই অধ্যায়ের মূল।

215 verses

Adhyaya 36

मन्वन्तरानुक्रमवर्णनम् (Enumeration of Manvantara Cycles) — with focus on Svārociṣa Manvantara

এই অধ্যায়ে প্রশ্নোত্তর ধারায় শাংশপায়ন ক্রমানুসারে অবশিষ্ট মন্বন্তর, তাদের মনু, শক্র (ইন্দ্র) ও দেবনেতৃত্ব জানতে চান। সূত অতীত ও ভবিষ্যৎ মন্বন্তরকে পৃথক করে সমাস ও বিস্তার—উভয় রীতিতে বিবরণ দেওয়ার ইঙ্গিতসহ মনুদের গণনা করেন; স্বায়ম্ভুব মন্বন্তর ইতিমধ্যে বর্ণিত হয়েছে এবং আগত আট মন্বন্তর পরে বলা হবে—এ কথাও জানান। এরপর স্বারোচিষ মন্বন্তরে দ্বিতীয় মনুর প্রজাসর্গ এবং সেই কালের দেবগণ, বিশেষত তুষিত দেবতাদের, তালিকাভুক্তভাবে উল্লেখ করা হয়। ফলে মনু-শাসিত কালের সঙ্গে দেবসমূহের সম্পর্ক স্থাপন করে এটি পরবর্তী বিশ্বতত্ত্ব ও বংশানুক্রমের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য সূচি হয়ে ওঠে।

227 verses

Adhyaya 37

Pṛthivī-dohaṇa (The Milking of the Earth) and the Praise of King Pṛthu

এই অধ্যায়ে সূত পৃথিবীর নামের ব্যুৎপত্তি ও পুরাণস্মৃতি ব্যাখ্যা করেন—বসুধা (ধন ধারণকারী), মেদিনী (মেদ/দ্রব্যের সঙ্গে যুক্ত; মধু‑কৈটভ বধের পূর্বের প্রলয়-স্মৃতি), এবং পৃথ্বী (রাজা পৃথু বৈন্যের অধিকার ও শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত)। এরপর পৃথুকে আদিরাজ রূপে প্রশংসা করা হয়; তিনি পৃথিবীকে নগর ও আকর/খনিজস্থানে বিভক্ত করে শৃঙ্খলিত করেন, চতুর্বর্ণ সমাজকে রক্ষা করেন এবং সর্বপ্রাণী ও বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণদের শ্রদ্ধা লাভ করেন। মূল বিষয় ‘পৃথ্বী‑দোহন’—বিভিন্ন মন্বন্তরে বৎস, দোহক ও পাত্র নির্দিষ্ট করে বোঝানো হয় যে সমৃদ্ধি আকস্মিক নয়, যুগানুসারে নিয়ন্ত্রিত ও যজ্ঞবিধিতে বোধগম্য। এতে মন্বন্তর ও সৃষ্টির শৃঙ্খলাকে কৃষি ও রাজনীতিক বিন্যাসের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

60 verses

Adhyaya 38

Cākṣuṣa–Vaivasvata Manvantara Transition, Deva-Gaṇa Taxonomy, and Loka-Triad Etymology (Bhūr–Antarikṣa–Dyu)

এই অধ্যায়ে সূত-প্রণীত বর্ণনায় বৈবস্বত মনুর মন্বন্তরকে কেন্দ্র করে আলোচনা স্থাপিত হয়। মরীচি–কাশ্যপ বংশপরম্পরার প্রেক্ষিতে দেবগণ ও পরমর্ষিদের উদ্ভব বলা হয়েছে। আদিত্য, বসু, রুদ্র, সাধ্য, বিশ্বেদেব ও মরুত—এই প্রধান দেবসমূহের তালিকা দিয়ে কিছু দলকে কাশ্যপের সন্তান এবং কিছু দলকে ধর্মের পুত্রদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে; ফলে বংশতত্ত্ব ও দেবগণ-শ্রেণিবিভাগ একত্রে মিলে যায়। সকল মন্বন্তরে ইন্দ্রদের একটি সাধারণ রূপও বর্ণিত—তপস্যা, তেজ, বুদ্ধি, বল ও শ্রুতি দ্বারা তারা লোকসমূহ ধারণ করেন। পরে লোকত্রয়কে ভूत/ভবৎ/ভব্য—কালগত শ্রেণি এবং ভূঃ–অন্তরিক্ষ–দ্যু/দিব—নামধারী জগত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ‘ভূঃ’ শব্দের ব্যুৎপত্তি ‘ভূ’ ধাতু (অস্তিত্ব) থেকে দেখিয়ে ব্রহ্মার আদ্য ব্যাহৃতিকে নামকরণের মাধ্যমে বিশ্ব-সত্তা স্থিতিশীল করার কর্ম বলা হয়েছে।

33 verses

Frequently Asked Questions

It establishes a cosmogonic frame in which the self-born creator principle (Svayambhū/Brahmā) manifests the universe through tri-guṇa modalities (sattva–rajas–tamas), preparing the later, more explicit Brahmāṇḍa/ Hiraṇyagarbha development narrative typical of Purāṇic sṛṣṭi accounts.

Prakriyā Pāda serves as the conceptual preface: by validating the Purāṇa as lokatattvārtha (world-principle teaching) and vedasaṃmita, it authorizes the later bhuvana-kośa schemata (continents, spheres, and cosmic measurements) as part of a single coherent cosmological curriculum.

The opening chapters primarily set authority and creation premises rather than fixing on a single named manvantara; the temporal framework is introduced implicitly via creation–maintenance–dissolution logic, with detailed manvantara/yuga enumerations typically unfolding in subsequent adhyāyas of the cosmology sequence.