
Arunachala Mahatmya
This section is anchored in the sacral geography of Aruṇācala (Aruṇagiri), widely identified with the Tiruvaṇṇāmalai region of Tamil Nadu. In puranic mapping, the site is treated not merely as a pilgrimage destination but as a theologically charged landscape where divine presence is conceptualized as luminous manifestation (tejas) and as liṅga-form. The narrative treats the mountain as an axis of revelation—an intersection of cosmic symbolism (the pillar of fire/light) and regional devotional culture—thereby integrating pan-Indic Śaiva metaphysics with localized place-memory and pilgrimage ethics.
13 chapters to explore.

अग्निस्तम्भ-प्रादुर्भावः (The Manifestation of the Fiery Pillar and the Humbling of Rivalry)
অধ্যায়টি মঙ্গলাচরণ দিয়ে শুরু হয়। নৈমিষারণ্যে ঋষিগণ সূতকে অরুণাচল-মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে অনুরোধ করেন। সূত বলেন—পূর্বে সত্যলোকে সনক ব্রহ্মাকে শৈব লিঙ্গের তত্ত্ব এবং কেবল নামস্মরণেই মুক্তিদানের শক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন; তাতে প্রসন্ন হয়ে ব্রহ্মা এক আদিপ্রসঙ্গ বলেন। এক সময় ব্রহ্মা ও নারায়ণের মধ্যে বিশ্ব-শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা জাগে। জগতের বিনাশ রোধ করতে তাঁদের মাঝখানে সদাশিব অনাদি-অনন্ত তেজোময় অগ্নিস্তম্ভরূপে প্রকাশিত হন। আকাশবাণী নির্দেশ দেয়—এর আদিও অন্তও খুঁজে দেখো; বিষ্ণু বরাহরূপে নীচে মূল সন্ধানে যান, ব্রহ্মা হংসরূপে উপরে শিখর সন্ধানে উড়ে যান। অসীম পরিশ্রমের পরও উভয়েই ব্যর্থ হন; অহংকার ভেঙে যায় এবং তাঁরা শিবকেই শরণ নেন। এই অধ্যায় শেখায়—দিব্য প্রকাশের সামনে জ্ঞানের সীমা আছে, আর বিনয়ই ধর্ম; অরুণাচল সেই তেজঃস্তম্ভ-প্রকাশের প্রতীক।

Tīrtha–Kṣetra Saṅgraha and the Saṃsāra Diagnosis (Aruṇācala Māhātmya, Adhyāya 2)
নন্দিকেশ্বর ঋষির প্রশ্নের উত্তরে বলেন—সমস্ত জীবের কল্যাণকারী এমন এক “স্থান” আছে, যা ধর্মপথে প্রেরণা দেয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, দেহধারণ কর্মের উপযুক্ততা অনুযায়ী ঘটে এবং জীব নানা যোনিতে বারবার জন্ম নেয়। সামান্য পুণ্যকর্ম বা অসম্পূর্ণ জ্ঞান থাকলেও সংসার-চক্র থামে না; জলচক্রের মতো যান্ত্রিকভাবে জন্ম-মৃত্যুর আবর্তন চলতেই থাকে। এরপর অধ্যায়ে তীর্থ–ক্ষেত্রের বিস্তৃত তালিকা আসে। নদীতীর ও পবিত্র স্থানে ঋষি ও দিব্য সত্তাদের নিবাসের বর্ণনা করে ভারতবর্ষের প্রসিদ্ধ ক্ষেত্রগুলির নাম উচ্চারিত হয়—বারাণসী (অবিমুক্ত), গয়া, প্রয়াগ, কেদার, বদরিকাশ্রম, নৈমিষ, ওংকার/অমরেশ, পুষ্কর, শ্রীশৈল (মল্লিকার্জুন), কাঞ্চী, সেতুবন্ধ (রামনাথ), সোমনাথ, গোকর্ণ, ত্রিপুরান্তক, জ্বালামুখ প্রভৃতি। শেষে করুণাময় বক্তা ভক্ত শ্রোতাকে আশীর্বাদ করেন এবং নম্র ভক্তি ও শিক্ষাপরম্পরার ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠা করেন।

Nandikeśa as Guru: Ṛṣi-Assembly, Inquiry into Universal Fruit, and the Efficacy of Remembrance
এই অধ্যায়ে মার্কণ্ডেয় নন্দিকেশকে গুরু-রূপে প্রণাম করে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবেদন করেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেন—পূর্বে বর্ণিত তীর্থগুলির মধ্যে কোন একটিই ‘সর্বফল’ প্রদানকারী, এবং কোন সেই স্থান/তত্ত্ব যার কেবল স্মরণেই জ্ঞাত বা অজ্ঞাত সকল জীবের মুক্তি লাভ হয়। এরপর নন্দিকেশের কর্তৃত্ব ও গুরু-মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়—তাঁকে ঘিরে বহু ঋষির বৃহৎ সভা প্রশ্নোত্তর-সেবায় উপস্থিত, ফলে তিনি আগম-নিপুণ উপদেশক ও মাহেশ্বরদের মধ্যে অগ্রগণ্য বলে প্রতিপন্ন হন। অধ্যায়ের মূল সুর হলো গুরু-মাধ্যমে ‘রহস্য’ শিক্ষার প্রকাশ; ভক্তি ও শিবের করুণা প্রকাশের পূর্বশর্ত হিসেবে উচ্চারিত। শেষে নন্দিকেশের উত্তরকে উচ্চতর শিবভক্তি-দায়ক বলা হয়েছে এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ শ্রবণ ও পূর্বভক্তির দ্বারা শিবপ্রাপ্তির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

अरुणाचलक्षेत्ररहस्योपदेशः — The Esoteric Instruction on the Arunācala Kṣetra
এই অধ্যায়ে গুরু–শিষ্য পরম্পরায় নন্দিকেশ্বর এক পরীক্ষিত ও সিদ্ধভক্ত ঋষিকে সম্বোধন করেন। তিনি শৈবধর্মে তার পরিপক্বতা ও ভক্তির স্বীকৃতি দেন এবং শিবানুগ্রহের লক্ষণ উল্লেখ করেন—যেমন যমও শিবের অধীন ও সংযত। এরপর তিনি এক ‘গুহ্য’ ক্ষেত্রের উপদেশ দিতে উদ্যত হন এবং বলেন, এর বোধ স্থির হয় শ্রদ্ধা, সংযত মন ও মন্ত্রস্মরণে; শাঙ্করী-বিদ্যা ও প্রণব-জপের বিশেষ নির্দেশ দেন। অরুণাচলকে দক্ষিণ দ্রাবিড় দেশে অবস্থিত তিন যোজন বিস্তৃত পবিত্র ক্ষেত্র এবং শিবের ‘হৃদয়-স্থান’ রূপে নিরূপণ করা হয়েছে। লোককল্যাণের জন্য শিব পর্বতদেহ ধারণ করেছেন—এমন স্তব আছে। সিদ্ধ ও দিব্যগণের নিবাস, উদ্ভিদ-পশুপাখির মধ্যেও পূজার প্রতীক, চার দিকের সহায়ক পাহাড়ের মানচিত্র, ইড়া–পিঙ্গলা–সুষুম্না যোগ-উপমা, জ্যোতিস্তম্ভের অনুরণন এবং ব্রহ্মা–বিষ্ণুর অনুসন্ধান-প্রসঙ্গের ইঙ্গিতও আসে। গৌতমের তপস্যা ও সদাশিব-দর্শন, গৌরীর প্রবালাদ্রিশ্বর লিঙ্গের সঙ্গে সম্পর্ক, দুর্গার মন্ত্রসিদ্ধি-দান, এবং খড়্গ-তীর্থ, পাপনাশন-লিঙ্গ প্রভৃতি তীর্থ-লিঙ্গের শুদ্ধিফল বর্ণিত। শেষে অরুণাচল/শোণাদ্রির অতুল মহিমার ফলশ্রুতি উচ্চারিত হয়, আর শিষ্য কর্ম, দুঃখ ও ফল-কারণ ন্যায়ের রহস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

Narakavarṇana and Prāyaścitta-Preraṇā (Description of Consequences and Impulse toward Expiation)
এই অধ্যায়ে নন্দিকেশ্বর শুদ্ধ-সত্ত্ব স্বভাবের দুর্লভতা এবং রজ-তমের প্রাবল্য উল্লেখ করে নীতিশিক্ষার ভূমিকা নির্মাণ করেন। পরে কর্ম-वैচিত্ৰ্য নীতি ব্যাখ্যা করে বলেন—বিভিন্ন কর্মের বিভিন্ন ফল; নরকলোকের বিবরণ, যমদূতদের দণ্ডপ্রদান, দুঃখকর অবস্থা, অধম জন্ম এবং দেহে রোগ-অঙ্গবৈকল্য প্রভৃতি। ব্রহ্মহত্যা, সুরাপান, চৌর্য, পরস্ত্রীগমন, বিশ্বাসঘাত, মিথ্যাভাষণ, ধর্মনিন্দা ইত্যাদি অপরাধের সঙ্গে তাদের ফলাফল মিলিয়ে দেখানো হয়েছে; এই লোকেও রোগ, অপমান, সামাজিক অবনতি ইত্যাদিকে নৈতিক দৃষ্টান্তরূপে বলা হয়েছে। শেষে পাপফল জেনে প্রায়শ্চিত্ত গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ভক্তদের জন্য অরুণক্ষেত্রে বিধিপূর্বক শুদ্ধিকর্ম করার সুপারিশ করা হয়; শ্রোতা শান্তি ও প্রতিকারের উপায় প্রার্থনা করে।

Prāyaścitta-vidhāna at Śoṇakṣetra (Aruṇācala): Ritual Remedies and Kṣetra-Phala
এই ষষ্ঠ অধ্যায়ে নন্দিকেশ্বর অরুণাচল/শোণক্ষেত্রে ‘মহাংহস’ অর্থাৎ মহাপাতকের প্রায়শ্চিত্তের বিধান ক্রমানুসারে ব্যাখ্যা করেন। ব্রহ্মহত্যা, সুরাপান, স্বর্ণচুরি, গুরুদার-গমন, পরস্ত্রী-সম্পর্কিত দোষ, বিষপ্রয়োগ, নিন্দা, অগ্নিদাহ, ধর্মনিন্দা, পিতৃদ্রোহ, গোপন অপরাধ, মিথ্যাভাষণ ও পরধনহরণ প্রভৃতি অপরাধের তালিকা দিয়ে প্রতিটির জন্য নির্দিষ্টকাল বসবাস, পূজারীতি (বিল্বপত্র অর্চনা, পুষ্পার্পণ, দীপদান), মন্ত্রজপ (পঞ্চাক্ষরী/ষড়াক্ষরী, অরুণেশ্বর-মন্ত্র) এবং ব্রাহ্মণভোজন, ধন-গোদান, পুকুর-উদ্যান-দেবালয় নির্মাণের মতো সামাজিক-ধর্মকর্ম নির্দেশ করা হয়েছে। ক্ষেত্রফল-তত্ত্বে অরুণাচলের অসাধারণ মহিমা বলা হয়েছে—নামস্মরণ বা অল্পকাল অবস্থানেও প্রবল শুদ্ধিলাভ হয়। শেষে শিবলোকপ্রাপ্তি ও শিবসায়ুজ্যকে পরম ফলরূপে ঘোষণা করা হয়, এবং শ্রোতা দৈনিক, ঋতুভিত্তিক ও বার্ষিক পূজাক্রম ও মান-সম্মানবিধি সম্পর্কে আরও জিজ্ঞাসা করেন।

Aruṇācala Worship by Vāra–Tithi–Nakṣatra Offerings (Weekday, Lunar-Day, and Asterism-Based Pūjā)
এই অধ্যায়ে সময়-নির্ভর বিধানে অরুণাচল-শিবপূজার বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথমে বারভিত্তিক পূজায় নির্দিষ্ট ফুল—পদ্মের নানা প্রকার, করবীর, চম্পক, মল্লিকা, জাতি ইত্যাদি—অর্পণ ও তার ফলপ্রাপ্তির কথা বলা হয়েছে, যা বার-অনুসারী ভক্তি-সূচি রূপে কাজ করে। এরপর প্রতিপদ থেকে পূর্ণিমা ও কুহূ পর্যন্ত তিথি-অনুসারে নৈবেদ্য নির্ধারিত—পায়স, দধ্যান্ন, আপূপ, নানা চাল/গমের প্রস্তুতি এবং পনস প্রভৃতি ফল—এবং এগুলির দ্বারা সমৃদ্ধি, সামাজিক মর্যাদা, স্বাস্থ্য ও ভয়মুক্তির মতো ফল উল্লেখ করা হয়েছে। নক্ষত্রভিত্তিক দানেও বস্ত্র, অলংকার, দীপ, রৌপ্য, চন্দন, কর্পূর, মুক্তা, যানবাহন ইত্যাদি বলা হয়েছে এবং ‘মহাপূজা’কে সমাপ্তিমূলক বিশেষ কাঠামো হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গ্রহণ, অয়ন-পরিবর্তন ও বিষুবকালে বিশেষ স্নান/অভিষেক-ক্রম নির্দিষ্ট, যেখানে পঞ্চামৃত, পঞ্চগব্য, দুধ, জল ইত্যাদি দ্রব্যকে পঞ্চাক্ষর, ষড়ক্ষর ও প্রণব মন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। দিনভাগ অনুযায়ী ফুলের উপযোগিতা, শিবরাত্রিতে বিল্বাদি অর্পণসহ পূজা, মাসভিত্তিক উৎসব-ব্রত এবং শেষে অরুণক্ষেত্রের মাহাত্ম্য—স্মরণ/শ্রবণ/দর্শন/স্তবেই দ্রুত শুদ্ধি—এইভাবে প্রতিপাদিত হয়েছে।

Śoṇādri-Śiva-māhātmya Prastāvaḥ (Prologue on the Greatness of Śiva at Śoṇādri)
অধ্যায় ৮-এ মাৰ্কণ্ডেয় মুনির অনুরোধে অরুণাচলের মাহাত্ম্য বিস্তারে বলার জন্য নন্দিকেশ্বর কথা শুরু করেন। তিনি জানান, শোণাদ্রি/শোণাচলের শৈব-চরিত সম্পূর্ণভাবে বর্ণনা করা অত্যন্ত কঠিন; জ্ঞানীরাও তার বিস্ময় শেষ করতে পারেন না। তবু তিনি অংশে অংশে তা বলবেন বলে সম্মতি দেন। এরপর বর্ণনা মহাজাগতিক প্রেক্ষিতে যায়। দিব্য যুগের আদিতে মহেশ্বরকে নির্বিকল্প হয়েও স্বেচ্ছায় বিশ্ব প্রকাশকারী বলা হয়েছে। সৃষ্টির ও রক্ষার জন্য তিনি ব্রহ্মা ও বিষ্ণুকে উৎপন্ন করেন; ব্রহ্মাকে রজোগুণ, বিষ্ণুকে সত্ত্বগুণ প্রদান করে লোক-ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব স্থির করেন। পরে ব্রহ্মার সৃষ্টিক্রমের সংক্ষিপ্ত বংশবর্ণনা আসে—মরীচি প্রমুখ ঋষি, বর্ণাশ্রম, নানা জীবগোষ্ঠী জন্ম নিয়ে তাদের সন্ততিতে জগৎ পূর্ণ হয়। শেষে নৈতিক-ধর্মীয় টানাপোড়েন দেখা দেয়: কালের প্রবাহে ব্রহ্মা এবং (লৌকিক রূপে প্রবৃত্ত) বিষ্ণু মহেশ্বরকে বিস্মৃত হন, স্বাতন্ত্র্যের অহংকার জন্মায়—যার ফলে শিবের পরমত্ব ও শোণাদ্রির পবিত্রতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা প্রতিষ্ঠিত হয়।

Brahmā–Viṣṇu Garva-vivāda and the Disruption of Cosmic Order (ब्रह्मविष्ण्वोर्गर्वविवादः)
এই অধ্যায়ে নন্দিকেশ্বর মোহ ও তীব্র গর্ব থেকে উদ্ভূত ব্রহ্মা (বিরঞ্চি/ধাতা) ও বিষ্ণু (নারায়ণ/কেশব)-এর ধর্মতাত্ত্বিক বিরোধের বিবরণ দেন। ব্রহ্মা সৃষ্টিকর্ম, বেদের উদ্ভব এবং বিশ্ব-প্রশাসনের কর্তৃত্ব দেখিয়ে নিজ শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করেন; বিষ্ণু নাভি-পদ্মজাত ব্রহ্মার নির্ভরতা স্মরণ করিয়ে মধু-কৈটভ বধ ও ধর্মস্থাপনার জন্য অবতারধারণসহ নিজের উদ্ধারক কর্মের কথা তুলে ধরেন। বিতর্ক দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় গিয়ে বিশ্বলয়ের অনুকরণ সৃষ্টি করে—জ্যোতিষ্ক ম্লান হয়, বায়ু থেমে যায়, অগ্নি জ্বলে না, দিক ও পৃথিবী অস্পষ্ট হয়, সমুদ্র উত্তাল হয়, পর্বত কাঁপে, উদ্ভিদ শুকিয়ে যায়, দিন-রাত্রি ও ঋতুচক্র ভেঙে পড়ে। এই সংকটে ভূতনাথ শিব উপলব্ধি করেন—এ মায়ার আবরণ, যা উচ্চ দেবতাকেও পরম শক্তির উৎস ভুলিয়ে দেয়। জীবরক্ষা ও লোককল্যাণের তাগিদে তিনি তাদের মোহ দূর করার সংকল্প করেন; অধ্যায় শেষ হয় চন্দ্রশেখর প্রভুর করুণার প্রশংসায়—অপরাধী হলেও তিনি অনুগ্রহ করতে এগিয়ে আসেন।

तेजःस्तम्भ-वर्णनम् (Description of the Pillar of Radiance) — Chapter 10
এই অধ্যায়ে মার্কণ্ডেয় জিজ্ঞাসা করেন—বৈকুণ্ঠ (বিষ্ণু) ও পরমেষ্টি (ব্রহ্মা)-র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে চিরন্তন শম্ভু কীভাবে কৃপা প্রদর্শন করলেন। নন্দিকেশ্বর বলেন, তাঁদের বিবাদের মাঝখানে হঠাৎ এক বিশ্বব্যাপী জ্যোতিস্তম্ভ আবির্ভূত হয়, যা দিগন্তকে স্তব্ধ করে দেয় এবং দিক্সমূহ, সমুদ্র ও পৃথিবীকে রক্তিম-সোনালি দীপ্তিতে ভরিয়ে তোলে। আকাশ গাঢ় হয়ে ওঠে, সমুদ্র শান্ত ও স্থির, ভূদৃশ্য সর্বত্র সেই তেজে রঞ্জিত—এই বিস্তৃত বর্ণনা দেবপ্রকাশের অচিন্ত্য মহিমা বোঝায়। বিষ্ণু ও ব্রহ্মা বুদ্ধিতে অভিভূত হয়ে একে শ্রেষ্ঠত্ব পরীক্ষার ‘কষ্ঠিপাথর’ মনে করেন, কিন্তু স্বীকার করেন যে এর আদি ও অন্ত সাধারণ উপায়ে জানা যায় না। অধ্যায়ের শিক্ষা—অতীন্দ্রিয় সত্যের সামনে জ্ঞান-নম্রতা, এবং এই যে মহাশক্তির প্রকাশও ধ্বংস নয়; তা অনুগ্রহ ও করুণারই চিহ্ন।

Tejastambha-anveṣaṇa: Viṣṇoḥ Varāhāvatāreṇa Mūlānveṣaṇam (Search for the Pillar of Light: Viṣṇu as the Boar Seeks the Base)
নন্দিকেশ্বর এক তাত্ত্বিক উপাখ্যান বর্ণনা করেন, যেখানে দীপ্তিময় তেজঃস্তম্ভের সীমা নির্ণয় করতে মহাজাগতিক কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী হয়। ব্রহ্মা হাঁস-রূপে ঊর্ধ্বে আরোহণ করেন, আর বিষ্ণু দৃঢ়দেহ বরাহ-অবতারে অধঃপাতে নেমে স্তম্ভের মূল অনুসন্ধান করেন। বিষ্ণুর পাতালযাত্রায় সাত পাতাল—অতল থেকে মহাতল—ক্রমে বর্ণিত হয়। তিনি আদিকচ্ছপ, দিগ্গজ, মহাদর্দুর-প্রতীক এবং শेष ও কূর্ম প্রভৃতি ধারকদের ধারণকারী অধার-শক্তির আভাস প্রত্যক্ষ করেন। সহস্র সহস্র বছর চেষ্টা করেও স্তম্ভের মূল পাওয়া যায় না; ক্লান্তিতে অহং ভাঙে এবং প্রতিযোগিতার বদলে জ্ঞানগত বিনয় প্রতিষ্ঠিত হয়। শেষে বিষ্ণু শিবের শরণ গ্রহণের সংকল্প করেন—অতীতাতীতের স্বীকৃতি ও আত্মসমর্পণই এই অধ্যায়ের শিক্ষা।

तेजोमयस्तम्भानुसरणं तथा केतकीच्छदसंवादः (Pursuit of the Pillar of Light and the Ketakī Leaf Dialogue)
এই অধ্যায়ে নন্দিকেশ্বর তেজোময় স্তম্ভের তত্ত্বকথা অব্যাহত রাখেন। সেই আলোকস্তম্ভ সাধারণ জাগতিক পরিমাপের অতীত, অনন্ত ও অবিচ্ছিন্ন বলে প্রতীয়মান। ব্রহ্মা হাঁস (হংস) রূপ ধারণ করে আকাশপথে ঊর্ধ্বে উঠতে থাকেন স্তম্ভের শিখর খুঁজতে; কিন্তু অসীম বেগ ও দীর্ঘ সাধনার পরও স্তম্ভের শেষ দেখা যায় না। ক্লান্তি, সন্দেহ এবং বিষ্ণুর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের আশঙ্কা ব্রহ্মার মনে দোলায়। ধীরে ধীরে তাঁর অন্তর্মন প্রতিযোগিতা থেকে আত্মসমালোচনায় ফেরে; অহংকার ক্ষয়ের আকাঙ্ক্ষা ও সত্যধর্মের ভাবনা জাগে। তখন তিনি আকাশে চাঁদের রেখার মতো এক নির্মল রেখা দেখেন—কেতকী ফুল/পাতা। কেতকী শিবের আজ্ঞায় সচেতন হয়ে জানায়, সে দীর্ঘকাল স্তম্ভশিখরে শিবশিরে অবস্থান করেছিল এবং এখন পৃথিবীলোকের দিকে অবতরণ করছে। ব্রহ্মা তার কাছে স্তম্ভান্তের দূরত্ব জিজ্ঞাসা করেন—এভাবেই সাক্ষ্য, প্রামাণ্য ও সত্যনীতির প্রসঙ্গের ভূমিকা রচিত হয়।

Tejaḥstambha-viṣaye Brahmaṇaḥ Vinayaḥ (Humility of Brahmā before the Pillar of Radiance)
এই অধ্যায়ে তেজঃস্তম্ভ (আলোকস্তম্ভ) প্রসঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে অহংকার ও জ্ঞানের সীমা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। কেতকী নন্দিকেশ্বরকে বিদ্রূপ করে বলে—যে মহাতত্ত্বে অসংখ্য ব্রহ্মাণ্ড আশ্রিত, তার পরিমাপ কোনো সীমিত মানদণ্ডে নির্ণয় করা যায় না। এরপর ব্রহ্মা ভক্তিভরে এসে অহং ত্যাগ করে স্বীকার করেন যে বিষ্ণুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও শিব-মহিমা বিস্মরণই তাঁর অপরাধের মূল। তিনি বলেন, স্তম্ভের ঊর্ধ্ব-অধঃ সীমা খুঁজতে নানা রূপ ধারণ করেও তিনি ক্লান্ত হয়ে ব্যর্থ হন। তবু ব্রহ্মা কেতকীর কাছে অনুরোধ করেন—বিষ্ণুর সামনে এমনভাবে কথা বলতে, যেন ব্রহ্মা শিখর দেখেছেন; যাতে শ্রেষ্ঠতা বা অন্তত সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। নন্দিকেশ্বর শেষে জানান, কেতকী ব্রহ্মার বারবার প্রার্থনায় প্রভাবিত হয়ে তেজঃস্তম্ভের নিকটে বিষ্ণুকে ব্রহ্মার কথা পৌঁছে দেয়; এতে পুরাণ অহংকার-নিন্দা ও বাক্য-সাক্ষ্যের নৈতিক জটিলতা প্রকাশ করে।
Aruṇācala is presented as a manifestation of Śiva’s luminous reality—often framed as an immeasurable tejas (divine light) that functions as both metaphysical proof and sacred-site identity.
The section emphasizes purification through remembrance, hearing, and devotion; pilgrimage is framed as ethically transformative—reducing egoic pride and orienting the seeker toward surrender and Śiva-centered contemplation.
A central legend is the appearance of Śiva as a limitless pillar of fire/light between Brahmā and Viṣṇu, functioning as a narrative demonstration of divine supremacy and a charter-myth for the site’s sanctity.