
প্রধান বিষয়: প্রয়োগমূলক রক্ষা ও চিকিৎসা—জন্ম, গর্ভধারণ ও দীর্ঘায়ুতে জীবনের স্থিতি প্রতিষ্ঠা করা, এবং মন্ত্র ও ঔষধি/উদ্ভিদ-চিকিৎসার দ্বারা বিষ, রোগ ও অন্তর্গত সামাজিক-মানসিক উপদ্রব দূর করা। উপবিষয়: (১) পুংসবন ও পুত্র-প্রাপ্তি/পুত্র-রক্ষার জন্য জননশক্তি সুনিশ্চিতকরণ, (২) গর্ভ-দৃংহণ—ভ্রূণ দৃঢ়করণ ও গর্ভাবস্থার স্থিতি, (৩) অকালমৃত্যু ও হিংস্র বধের বিরুদ্ধে মৃত্যুঞ্জয়/শান্তি, (৪) ভৈষজ্য—সাপের বিষ, চক্ষুরোগ, বলাস, জ্বর/যক্ষ্মা ইত্যাদির লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা, (৫) ঔষধি ও বৃক্ষ-সহায়ক—চিকিৎসায় কল্যাণকর মিত্র।
অথর্ববেদ ৬.১১ একটি সংক্ষিপ্ত পুংসবন (পুত্র-প্রাপ্তি) মন্ত্র, যার উদ্দেশ্য নারীদের মধ্যে জননশক্তি সঞ্চার ও প্রতিষ্ঠা করে “পুত্রলাভ” নিশ্চিত করা। এতে শমী-লতার অশ্বত্থে অবস্থান—এই উদ্ভিদ-প্রতীককে প্রজাপতির বিধান/আদেশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, এবং অনুমতি ও সিনীবালী প্রভৃতি সম্মতি-ও-উর্বরতার শক্তিকে আহ্বান করে গর্ভফলকে পুত্রের দিকে প্রবাহিত করা হয়।
অথর্ববেদ ৬.১২ একটি সংক্ষিপ্ত অথর্বণীয় চিকিৎসামন্ত্র, যা বিশ্বজনীন শোধক শক্তি ও পবিত্র জ্ঞানের সর্বাধিকার আহ্বান করে সাপের বিষকে দূরে সরায়। এর পরিণতি ঘটে জল ও নামোল্লিখিত নদীগুলির ‘মধু’—অর্থাৎ শান্তিদায়ক মাধুর্য—দ্বারা, ফলে চিকিৎসা ‘শান্তি’তে প্রসারিত হয়: মুখ (আহার/বাক্) এবং হৃদয় (প্রাণ-আবেগকেন্দ্র) এর কল্যাণের জন্য। এই সূক্তের শক্তি রোগী থেকে বিষকে পৃথক করার মধ্যে (সূর্যের সর্বব্যাপী পবিত্রতার ন্যায়) এবং মধুময়, মঙ্গলজনক জলের দ্বারা পুনরায় সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা করার মধ্যে নিহিত।
অথর্ববেদ ৬.১৩ একটি সংক্ষিপ্ত মৃত্যুজয়-শান্তি সূক্ত, যা মৃত্যু (মৃত্যু)-কে নমস্কার (নমস্) নিবেদন করে এবং যে সব সামাজিক ও মহাজাগতিক পথে—দৈব, রাজকীয় ও সামুদায়িক—বধ (হত্যা/সংহার) এসে পৌঁছাতে পারে, সেগুলিকে সম্মান জানিয়ে অকালমৃত্যু নিবারণ করে। সূক্তটি মৃত্যুকে আক্রমণ করে না; বরং তাকে প্রশমিত করে তার অভিপ্রায়কে ‘ফিরিয়ে’ দেয়—ঘাতক বাক্য, শত্রুভাবাপন্ন রায়/দণ্ডাদেশ এবং দানবীয়/অশুভ শক্তিকে নিষ্ক্রিয় করে, এবং ঔষধি ও ব্রাহ্মণিক শক্তি (ব্রহ্মবল)-কে জীবন ও আরোগ্যলাভের দিকে সংযুক্ত করে।
অথর্ববেদ ৬.১৪ একটি সংক্ষিপ্ত অথর্বণীয় ভৈষজ্য-মন্ত্র, যেখানে ‘বলাস’কে অস্থি, সন্ধি, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং এমনকি হৃদয়-অঞ্চলেও গেঁথে থাকা, শিথিলকারী রোগরূপে লক্ষ্য করা হয়েছে। তিনটি অনুষ্টুভ্ ছন্দের মন্ত্রে প্রথমে এই ব্যাধির পরিচয় নির্ণয় করা হয়, তারপর তার ‘বন্ধন’ ও ‘মূল’ কেটে সম্পূর্ণ উৎখাত করার আদেশ দেওয়া হয়, এবং শেষে তাকে দুর্বল ও নিরীহ করে দূরে তাড়িয়ে দেওয়া হয়—যাতে সে আর ফিরে আসতে না পারে।
এই সংক্ষিপ্ত অথর্ববৈদিক অভিচার/রক্ষা-মন্ত্রে রক্ষাকারী শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ওষধি—ব্যক্তিরূপে প্রধান ‘ঔষধি’—কে আহ্বান করা হয়েছে; তার সহচর হিসেবে মিত্র বৃক্ষসমূহ এক উদ্ভিদ-পরিবার (retinue) রূপে সমর্থন জোগায়। উদ্ভিদের স্বাভাবিক শ্রেণিবিন্যাস (ঔষধিদের মধ্যে সোম, বৃক্ষদের মধ্যে তালাশ) এখানে আচারগত উপমায় রূপান্তরিত হয়ে সামাজিক ও আধ্যাত্মিক উত্কর্ষের প্রতীক হয়, যাতে যে-কোনো আক্রমণকারী—এমনকি আত্মীয়ও—নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। স্তোত্রের শক্তি ‘উত্তমত্ব’ (সর্বোচ্চ হওয়া)কে ঢাল/কবচ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করায়: শ্রেষ্ঠত্বই রক্ষা হয়ে ওঠে।
অথর্ববেদ ৬.১৬ অক্ষি-রোগ (চোখের রোগ) নিরাময়ের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত অথর্বণীয় ভৈষজ্য-মন্ত্র। এতে ভৈষজ্য-শক্তি (চিকিৎসাশক্তি) আহ্বান করে রোগের নামধারী কার্যকারকদের জোরালোভাবে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। করম্ভ (প্রস্তুত খাদ্য-আধার) মাধ্যমে ঔষধের প্রবল ‘রস’ (সার/সত্তা) সক্রিয় করা হয় এবং একই সঙ্গে রোগের নানা রূপ ও আত্মিক/ভূতাত্ম নামগুলি তালিকাভুক্ত করে সেগুলিকে বেঁধে/ধরে বিদায় করা হয়।
এই সংক্ষিপ্ত অথর্ববৈদিক সূক্তটি একটি ‘গর্ভদৃংহণ’ মন্ত্র—অর্থাৎ ‘গর্ভকে দৃঢ় করা’। এতে গর্ভধারণকে পৃথিবীর অতুলনীয় ধারণক্ষমতা ও স্থিতিশীলতার আদর্শে স্থাপন করা হয়েছে। পৃথিবীকে বারবার সকল জীব, পর্বত এবং সুশৃঙ্খল জগতের অচল ভিত্তি হিসেবে আহ্বান করে প্রার্থনা করা হয়—সাবিতৃর প্রাণ-প্রেরক শক্তির অধীনে ভ্রূণ যেন যথাযথ প্রসবকাল পর্যন্ত নিরাপদে ও দৃঢ়ভাবে ধারণ হয়ে থাকে।
এই সংক্ষিপ্ত অথর্ববৈদিক ভৈষজ্য-চিকিৎসামন্ত্রে ঈর্ষ্যা (হিংসা/ডাহ)কে হৃদয়ে গেঁথে থাকা, মনোজাত এক উত্তাপ রূপে দেখা হয়েছে—যা জ্বলে উঠে শোক ও সামাজিক অনিষ্ট ডেকে আনে। অন্তর্গত অগ্নিকে শান্ত/নিভিয়ে দেওয়ার চিত্র, ঈর্ষাকাতর মনকে পৃথিবী ও মৃতের মতো জড় করে দেওয়া, এবং চামড়ার থলি থেকে তাপ বের করে দেওয়ার প্রতীকের মাধ্যমে স্তোত্রটি শত্রুভাবাপন্ন আবেগকে আচারগতভাবে ‘শীতল’ করে এবং পারস্পরিক সৌহার্দ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।
অথর্ববেদ ৬.১৯ একটি সংক্ষিপ্ত শুদ্ধি-সূক্ত, যেখানে পবমান—‘স্বয়ং-শুদ্ধ’ সোম-তত্ত্ব—এবং তার সহচর শুদ্ধিকারকদের (দেবগণ, পিতৃ-মনু-রূপসমূহ ও সকল জীব) আহ্বান করা হয়, যাতে তারা পাঠককে সর্বস্তরে নির্মল করেন। এই শুদ্ধি কেবল আচারগত নয়; এর লক্ষ্য শুভ-সামর্থ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা—সঠিক সংকল্প (ক্রতু), দক্ষতা/ক্ষমতা (দক্ষ), প্রাণশক্তি (জীব), অরিষ্টতা/নিরাপত্তা, এবং শেষে সবিতৃর অভিষেককারী প্রেরণায় স্পষ্ট দৃষ্টি (চক্ষুস) লাভ।
অথর্ববেদ সংহিতা ৬.২০ তক্ষ্মণ (জ্বর)-বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত সূক্ত, যেখানে জ্বর ও ক্ষয়রোগ (যক্ষ্মা)কে ব্যক্তিস্বরূপ শক্তি হিসেবে ধরে তাকে তুষ্ট করা হয়, নাম ধরে সম্বোধন করা হয় এবং তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে চিকিৎসামূলক উদ্দেশ্যের সঙ্গে মৃদু অভিচারিক ‘পুনর্নির্দেশ’ ভাবও আছে: জ্বর-তাপকে বলা হয় রোগীকে ছেড়ে ‘অব্রত’ (ব্রত/নিয়মিত জীবন থেকে বাইরে থাকা ব্যক্তি)-এর দিকে যেতে, আর গৃহস্থ পক্ষ বারংবার ‘নমো’ উচ্চারণে প্রণাম/উপাসনা করে নিজেদের সুরক্ষা স্থির করে।
Read Atharva Veda in the Vedapath app
Scan the QR code to open this directly in the app, with word-by-word meanings, Sanskrit recitation where available, and more.