Opening the text

अयोध्यायां शोकविलापः · Lamentation in Ayodhya after Daśaratha’s death
अयोध्याकाण्ड
দশরথের স্বর্গারোহণের পর অযোধ্যায় শোকের ঘন আবহ নেমে আসে। কৌশল্যা দুঃখে বিহ্বল হয়ে রাজার মস্তক নিজের কোলে তুলে নেন এবং কৈকেয়ীকে দোষারোপ করে করুণ বিলাপ করেন। তিনি বিপর্যয়কে তীব্র উপমায় প্রকাশ করেন—নিভে যাওয়া অগ্নি, জলশূন্য সমুদ্র, কিরণহীন সূর্যের মতো অযোধ্যা নিস্তেজ হয়ে গেছে। তাঁর কথায় দুঃখের পরিধি বাড়ে—অরণ্যে সীতার অসহায়তা ও ভয়ের আশঙ্কা, এবং জনকেরও শোকে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা। বিধবা-বেদনার চরমে কৌশল্যা স্বামীর দেহের সঙ্গে অগ্নিতে প্রবেশ করার সংকল্প প্রকাশ করেন। দাসীরা তাঁকে নিবৃত্ত করে সরিয়ে নিয়ে যায়। জ্যেষ্ঠদের নির্দেশে মন্ত্রীরা রাজদেহকে তেলের দ्रोণীতে সংরক্ষণ করেন এবং পুত্র উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত অন্ত্যেষ্টি স্থগিত রাখেন—বংশধর্ম ও শ্রাদ্ধবিধির নিয়ম রক্ষার্থে। অন্তঃপুরের নারীরা একত্রে বিলাপ করে, আর অযোধ্যা চাঁদহীন রাত্রি বা সূর্যহীন দিনের মতো ম্লান ও বিশৃঙ্খল দেখায়। নগরবাসীর মন কৈকেয়ীর নিন্দায় রূপ নেয়—রাজপ্রাসাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত যে সমগ্র নগরের শোক ও নৈতিক বিচারে পরিণত হয়, তা স্পষ্ট হয়।
Verses 1-2
तमग्निमिव संशान्तमम्बुहीनमिवार्णवम् ।हतप्रभमिवाऽऽदित्यं स्वर्गस्थं प्रेक्ष्य पार्थिवम् ॥१॥कौसल्या बाष्पपूर्णाक्षी विविधां शोककर्शिता ।उपगृह्य शिरो राज्ञः कैकेयीं प्रत्यभाषत ॥२॥
রাজাকে স্বর্গগত দেখে—যেন নিভে যাওয়া অগ্নি, যেন জলশূন্য সমুদ্র, যেন কান্তিহীন সূর্য—কৌসল্যা অশ্রুপূর্ণ নয়নে, নানা শোকে ক্ষীণ হয়ে, রাজার মস্তক তুলে ধরে কৈকেয়ীকে বললেন।
Verse 3
सकामा भव कैकेयि भुङ्क्ष्व राज्यमकण्टकम् ।त्यक्त्वा राजानमेकाग्रा नृशंसे दुष्टचारिणि ॥३॥
তৃপ্ত হও, হে কৈকেয়ী—কণ্টকরহিত রাজ্য ভোগ কর। একাগ্রচিত্তে রাজাকে পরিত্যাগকারী, হে নিষ্ঠুরে, হে দুষ্টাচারিণী!
Verse 4
विहाय मां गतो रामः भर्ता च स्वर्गतो मम ।विपथे सार्थहीनेव नाहं जीवितुमुत्सहे ॥४॥
আমাকে রেখে রাম চলে গেছেন, আর আমার স্বামীও স্বর্গে গেছেন। সঙ্গহীন পথভ্রষ্ট যাত্রীর মতো আমি আর বাঁচতে ইচ্ছা করি না।
Verse 5
भर्तारं तं परित्यज्य का स्त्री दैवतमात्मनः ।इच्छेज्जीवितुमन्यत्र कैकेय्यास्त्यक्तधर्मणः ॥५॥
নিজের স্বামীকে—যিনি স্ত্রীর কাছে জীবন্ত দেবতা—ত্যাগ করে কোন নারী আর বাঁচতে চাইবে? কেবল কৈকেয়ী, যে ধর্ম ত্যাগ করেছে।
Verse 6
न लुब्धो बुध्यते दोषान् किम्पाकमिव भक्षयन् ।कुब्जानिमित्तं कैकेय्या राघवाणां कुलं हतम् ॥६॥
লোভী ব্যক্তি কিম্পাক ফল খেতে খেতে তার দোষ বোঝে না। তেমনি কুব্জার প্ররোচনায় কৈকেয়ী রাঘববংশকে সর্বনাশের পথে ঠেলে দিয়েছে।
Verse 7
अनियोगे नियुक्तेन राज्ञा रामं विवासितम् ।सभार्यं जनकश्श्रुत्वा परितप्स्यत्यहं यथा ॥७॥
অধর্মপথে বাধ্য হয়ে রাজা রামকে পত্নীসহ নির্বাসিত করেছেন—এ কথা শুনে জনকও আমার মতোই দুঃখে দগ্ধ হবেন।
Verse 8
स मामनाथां विधवां नाद्य जानाति धार्मिकः ।रामः कमलपत्राक्षः जीवन्नाशमितो गतः ॥८॥
কমলনয়ন ধর্মাত্মা রাম আজ জানেন না যে আমি আশ্রয়হীনা বিধবা হয়ে পড়েছি। তিনি জীবিত, তবু আমার কাছে তিনি যেন আশাহীনভাবে হারিয়ে গেছেন।
Verse 9
विदेहराजस्य सुता तथा सीता तपस्विनी ।दुःखस्यानुचिता दुःखं वने पर्युद्विजिष्यति ॥९॥
বিদেহরাজের কন্যা তপস্বিনী সীতা—যিনি এমন দুঃখ সহিবার যোগ্যা নন—বনে দুঃখে অত্যন্ত বিচলিত হইবেন।
Verse 10
नदतां भीमघोषाणां निशासु मृगपक्षिणाम् ।निशम्य नूनं सन्त्रस्ता राघवं संश्रयिष्यति ॥१०॥
রাতে ভয়ংকর ধ্বনিতে ডাকতে থাকা পশু-পাখির শব্দ শুনে, সীতা নিশ্চয়ই সন্ত্রস্ত হয়ে রাঘবের শরণ নেবে।
Verse 11
वृद्धश्चैवाल्पपुत्रश्च वैदेहीमनुचिन्तयन् ।सोऽपि शोकसमाविष्टो ननु त्यक्ष्यति जीवितम् ॥११॥
বৃদ্ধ ও পুত্রহীন জনকও, বৈদেহীকে অবিরত স্মরণ করতে করতে, শোকে আচ্ছন্ন হয়ে নিশ্চয়ই প্রাণ ত্যাগ করবেন।
Verse 12
साऽहमद्यैव दिष्टान्तं गमिष्यामि पतिव्रता ।इदं शरीर मालिङ्ग्य प्रवेक्ष्यामि हुताशनम् ॥१२॥
আমি পতিব্রতা নারী আজই মৃত্যুপথে গমন করব; এই দেহকে আলিঙ্গন করে আমি হুতাশনে প্রবেশ করব।
Verse 13
तां ततस्सम्परिष्वज्य विलपन्तीं तपस्विनीम् ।व्यपनीय सुदुःखार्तां कौसल्यां व्यावहारिकाः ॥१३॥
বিলাপরত সেই তপস্বিনী কৌশল্যাকে আলিঙ্গন করে, গভীর দুঃখে কাতর রাণীকে পরিচারিকা-নারীরা স্নেহে সরিয়ে নিয়ে গেল।
Verse 14
तैलद्रोण्यामथामात्या सम्वेश्य जगतीपतिम् ।राज्ञस्सर्वाण्यथादिष्टाश्चक्रुः कर्माण्यनन्तरम् ॥१४॥
তারপর মন্ত্রীরা আদেশমতো জগতীপতি রাজাকে তেল-দ্রোণীতে শুইয়ে দিলেন এবং তৎক্ষণাৎ করণীয় সকল বিধিকর্ম সম্পন্ন করলেন।
Verse 15
न तु सङ्कलनं राज्ञो विना पुत्रेण मन्त्रिणः ।सर्वज्ञाः कर्तुमीषुस्ते ततो रक्षन्ति भूमिपम् ॥१५॥
কিন্তু মন্ত্রীরা—যাঁরা বিধিবিধানে সুপণ্ডিত—পুত্র ব্যতীত রাজার অন্ত্যেষ্টি-সংকলন করতে চাননি; তাই তাঁরা ভূমিপের দেহ রক্ষা করে প্রহরা দিলেন।
Verse 16
तैलद्रोण्यां तु सचिवैश्शायितं तं नराधिपम् ।हा मृतोऽयमिति ज्ञात्वा स्त्रियस्ताः पर्यदेवयन् ॥१६॥
সচিবদের দ্বারা তেল-দ্রোণীতে শায়িত সেই নরাধিপকে দেখে, ‘হায়, তিনি তো মৃত’ জেনে সেই নারীরা করুণ বিলাপ করতে লাগল।
Verse 17
बाहूनुद्यम्य कृपणाः नेत्रप्रस्रवणैर्मुखैः ।रुदन्त्य श्शोकसन्तप्ताः कृपणं पर्यदेवयन् ॥१७॥
তারা করুণভাবে বাহু উঁচিয়ে, অশ্রুধারায় ভেজা মুখে, শোকে দগ্ধ হয়ে কাঁদতে কাঁদতে অসংযতভাবে করুণ বিলাপ করতে লাগল।
Verse 18
हा महाराज रामेण सततं प्रियवादिना ।विहीनास्सत्यसन्धेन किमर्थं विजहासि नः ॥१८॥
হায় মহারাজ! সদা প্রিয়বাক্যভাষী ও সত্যসংকল্প রামের থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি—এখন আপনি কেন আমাদেরও পরিত্যাগ করছেন?
Verse 19
कैकेय्या दुष्टभावायाः राघवेण वियोजिताः ।कथं पतिघ्नया वत्स्याम स्समीपे विधवा वयम् ॥१९॥
দুষ্টভাবাপন্ন কৈকেয়ী আমাদের রাঘব থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে; আর এখন স্বামীঘ্নীর নিকটে বিধবা হয়ে আমরা কীভাবে বাঁচব?
Verse 20
स हि नाथस्सदास्माकं तव च प्रभुरात्मवान् ।वनं रामो गतश्श्रीमान्विहाय नृपतिश्रियम् ॥२०॥
শ্রীমান রামই ছিলেন সদা আমাদেরও তোমারও নাথ, আত্মসংযমী প্রভু; তিনি রাজলক্ষ্মী ত্যাগ করে বনে গমন করেছেন।
Verse 21
त्वया तेन च वीरेण विना व्यसनमोहिताः ।कथं वयं निवत्स्यामः कैकेय्या च विदूषिताः ॥२१॥
তোমাকে এবং সেই বীর রামকে ছাড়া, বিপদ ও শোকে মোহিত হয়ে, আর কৈকেয়ীর দ্বারা অপমানিত হয়ে, আমরা কীভাবে বেঁচে থাকব?
Verse 22
यया तु राजा रामश्च लक्ष्मणश्च महाबलः ।सीतया सह सन्त्यक्ता स्साकमन्यं न हास्यति ॥२२॥
যে রানি রাজাকে, রামকে, মহাবলী লক্ষ্মণকে এবং সীতাসহ সকলকে ত্যাগ করতে পারে—সে কৈকেয়ী আর কাকে ত্যাগ করবে না?
Verse 23
ता बाष्पेण च संवीताश्शोकेन विपुलेन च ।व्यवेष्टन्त निरानन्दा राघवस्य वरस्त्रियः ॥२३॥
রাঘবের শ্রেষ্ঠ রাণীরা অশ্রুতে আচ্ছন্ন ও গভীর শোকে নিমগ্ন হয়ে, আনন্দহীন অবস্থায় কাতরাতে লাগলেন।
Verse 24
निशा चन्द्रविहीनेव स्त्रीव भर्तृविवर्जिता ।पुरी नाराजतायोध्या हीना राज्ञा महात्मना ॥२४॥
মহাত্মা রাজা-বিহীন অযোধ্যা নগরী আর শোভা পেত না—যেমন চন্দ্রহীন রাত্রি, যেমন স্বামী-বিহীনা নারী।
Verse 25
बाष्पपर्याकुलजना हाहाभूतकुलाङ्गना ।शून्यचत्वरवेश्मान्ता न बभ्राज यथापुरम् ॥२५॥
অশ্রুতে ব্যাকুল জনতা, ‘হায় হায়’ করে কাঁদতে থাকা গৃহবধূরা, আর শূন্য চত্বর ও গৃহপ্রাঙ্গণ—নগরী আর আগের মতো শোভিত ছিল না।
Verse 26
गते तु शोकात् त्रिदिवं नराधिपे महीतलस्थासु नृपाङ्गनासु च ।निवृत्तचारस्सहसा गतो रविः प्रवृत्तचारा रजनी ह्युपस्थिता ॥२६॥
শোকবশে নরাধিপ স্বর্গে গমন করলে এবং রাজনারীরা ভূমিতলে শয়ন করলে, যেন সূর্য হঠাৎই নিজের গতি থামিয়ে অস্ত গেল; আর অন্ধকারচারীদের অনুকূল রজনী তৎক্ষণাৎ উপস্থিত হল।
Verse 27
ऋते तु पुत्राद्धहनं महीपतेर्नरोचयन्ते सुहृदस्समागताः ।इतीव तस्मिन् शयने न्यवेशयन् वनिचिन्त्य राजानमचिन्त्य दर्शनम् ॥२७॥
কিন্তু পুত্রের অনুপস্থিতিতে সমবেত সুহৃদগণ রাজাধিরাজের দাহকার্য করতে সম্মত হলেন না; তাই পরামর্শ করে, অপ্রত্যাশিত অবস্থায় থাকা রাজাকে সেই শয্যাতেই শুইয়ে দিলেন।
Verse 28
गतप्रभा द्यौरिव भास्करं विना व्यपेतनक्षत्रगणेव शर्वरी ।पुरी बभासे रहिता महात्मना न चास्रकण्ठाऽकुलमार्गचत्वरा ॥२८॥
সেই মহাত্মা রাজার অভাবে নগরীর দীপ্তি ক্ষীণ হল—যেমন সূর্যহীন আকাশ, যেমন নক্ষত্রশূন্য রজনী; আর তার পথ ও চত্বরগুলো অশ্রুতে কণ্ঠরুদ্ধ জনতার ক্রন্দনে ব্যাকুল হয়ে উঠল।
Verse 29
नराश्च नार्यश्च समेत्य सङ्घशः विगर्हमाणा भरतस्य मातरम् ।तदा नगर्यां नरदेवसङ्क्षये बभूवुरार्ता न च शर्म लेभिरे ॥२९॥
তখন দেবতুল্য রাজার বিনাশের পর নগরীতে নারী-পুরুষ দলবদ্ধ হয়ে সমবেত হল এবং ভরত-এর মাতাকে নিন্দা করতে লাগল; তারা শোকে কাতর ছিল, একটুও শান্তি পেল না।
The sarga highlights the dharma-protocol of antyeṣṭi: ministers refuse to perform the king’s funeral obsequies without the presence of a son, so they preserve the body in a tailadroṇī (oil trough) while awaiting rightful ritual agency.
Grief is portrayed as both personal and political: private choices (boons, exile) generate cascading suffering across family, allies, and city; the text implies that dharma must be safeguarded even amid emotional collapse, yet it records the moral cost of adharma through communal lament.
Ayodhyā is the central civic landmark, depicted through deserted squares and courtyards; culturally, the oil-trough preservation of the corpse and the deferred cremation rites foreground courtly funerary practice tied to dynastic legitimacy.
Answers come straight from the texts, with the shlokas they draw on. Ask in your own words.
A free sign-in with Google or Apple keeps your chat saved across web and the app.
Read Valmiki Ramayana in the Vedapath app
Scan the QR code to open this directly in the app, with word-by-word meanings, Sanskrit recitation where available, and more.