
মূল বিষয়: জল, ঔষধি ও বৃক্ষ—এই জীবন্ত ঔষধের দ্বারা ভৈষজ্য ও শান্তি, এবং গৃহ-নিরাপত্তার জন্য অশকুন-নিবারণ। উপবিষয়: (১) আপঃ—বৃষ্টি, সঙ্গমস্থান ও প্রবহমান জল—দিব্য ও সর্বব্যাপী ঔষধরূপে বন্দনা। (২) ভূমি/পৃথিবীতে নিহিত ঔষধশক্তি—বৃদ্ধি, পুষ্টি ও সমৃদ্ধির ভিত্তি। (৩) পাপ্মান ও দেহের স্থানীয় ব্যাধির অপসারণ। (৪) মধুমিশ্রিত যব/উদ্ভিদ-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যাগীয় সমৃদ্ধি। (৫) অরিষ্ট-নিবারণ—কবুতর, পেঁচা প্রভৃতি অশকুনকারী পাখি ও গৃহস্থালির অমঙ্গললক্ষণ প্রশমন।
এই সংক্ষিপ্ত চিকিৎসা-ও-পুষ্টিদায়ক সূক্ত কেশবর্ধনী (চুল-বাড়ানো) ওষধিকে শক্তি প্রদান করে এবং তার ক্ষমতাকে ভূমি/পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করে—যিনি উদ্ভিদজীবন ও ঔষধির সর্বোচ্চ আশ্রয়। এতে পৃথিবীর বাহ্য ত্বক (ত্বচ্) থেকে সেই প্রতিকারকে “সংগ্রহ” করা হয়; তারপর ওষধিকে সকল প্রতিকারের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে মহিমান্বিত করা হয়; এবং শেষে ওষধিদের উদার, অজেয় কর্মশক্তি হিসেবে সম্বোধন করা হয়, যারা দেহবল বাড়ায় ও চুলের বৃদ্ধি ঘটায়।
অথর্ববেদ ৬.২২ একটি সংক্ষিপ্ত ‘আপাম্-ভৈষজ্য’ সূক্ত, যেখানে জল—বিশেষত মরুত্-শক্তিতে সঞ্জীবিত বৃষ্টি—কে জীবন্ত ঔষধ রূপে দেখা হয়েছে, যা পৃথিবী ও দেহকে উন্মুক্ত করে, সিক্ত করে এবং পুনরুজ্জীবিত করে। এটি মহাজাগতিক জলচক্র (মেঘ, বৃষ্টি, ঋত)–কে ব্যবহারিক চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত করে: জল ভেষজ/ওষধি উদ্ভিদে রস সঞ্চার করে, পুষ্টি বৃদ্ধি করে এবং শুষ্কতা ও বিশৃঙ্খলা ধুয়ে দূর করে। জলধারার নিয়মবদ্ধ অবতরণ ও তার মধুরতা-দায়ী শক্তির স্তবের মাধ্যমে সূক্তটি আরোগ্যকে ‘সঠিক প্রবাহ’ পুনঃপ্রতিষ্ঠা হিসেবে ব্যাখ্যা করে—ভূমি, উদ্ভিদ ও মানুষের মধ্যে।
অথর্ববেদ ৬.২৩ একটি সংক্ষিপ্ত চিকিৎসামন্ত্র, যেখানে দিব্য ‘আপঃ’ (জল)কে সদা-উপলব্ধ ঔষধরূপে আহ্বান করা হয়—দিনে ও রাতে অবিরাম প্রবাহিত—যাতে তারা শুদ্ধ করে, শীতল করে এবং পুনরুদ্ধার ঘটায়। এখানে জলকে কেবল পদার্থ নয়, বরং আচার-অনুষ্ঠানে ‘বোনা’ শক্তি হিসেবে দেখা হয়েছে, যা দুঃখ/রোগকে সঙ্গে সঙ্গে শিথিল করে বাইরে বের করে দেয়। শেষে এই ক্রিয়াকে সবিতৃর পবিত্র প্রেরণার অধীনে স্থাপন করা হয়, যাতে জল ও ওষধি কল্যাণের জন্য মঙ্গলভাবে কার্য করে।
এই সংক্ষিপ্ত ভৈষজ্য সূক্তে জলদেবী আপঃ-কে আহ্বান করা হয়েছে—তাঁদের দিব্য চিকিৎসক রূপে—যাঁদের প্রবহমান, সঞ্চিত এবং সঙ্গম-উৎপন্ন শক্তি স্পর্শযোগ্য ঔষধে পরিণত হয়। বিশেষভাবে সঙ্গম-জল এবং সিন্ধুর অধীন নদী-ব্যবস্থার জল প্রার্থিত, যাতে দাহজনিত যন্ত্রণা ধুয়ে যায় এবং ‘হৃদয়-আলোকদায়ী’ প্রতিকার লাভ হয়, যা অন্তরের স্বস্তি ও স্বচ্ছতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।
অথর্ববেদ ৬.২৫ একটি সংক্ষিপ্ত অথর্বণীয় নির্বাসন-মন্ত্র, যা ‘বাকাঃ’ নামে গুচ্ছাকারে জড়ো হওয়া উপদ্রব/রোগ-কারককে—ঝাঁক বেঁধে আক্রমণকারী শক্তি হিসেবে কল্পিত—দূরে তাড়িয়ে দেয়। এগুলি শরীরের নির্দিষ্ট সন্ধিস্থান (ঘাড়, কাঁধ) ‘চাপ দেয়’ বলে ধরা হয়, তাই রোগীর পরিসর থেকে তাদের বিতাড়ন জরুরি। মন্ত্রটি এই এজেন্টদের ক্রমবর্ধমান দলে গণনা করে (পাঁচ/পঞ্চাশ; সাত/সত্তর; নয়/নব্বই) আচারগতভাবে ‘গুনে বের করে’ ছত্রভঙ্গ করে দেয়, এবং ব্রহ্মন—অর্থাৎ কার্যকর বাক্/মন্ত্রশক্তি—এর কর্মক্ষম বল দিয়ে আরোগ্যকে স্থির করে। এর শক্তি অপোত্রপায়িক: রোগের সঙ্গে দরকষাকষি নয়, বরং কঠোর বিতাড়ন-সূত্রে তাকে আদেশ করা হয় ‘এখান থেকে’ অদৃশ্য হয়ে যেতে।
অথর্ববেদ ৬.২৬ একটি সংক্ষিপ্ত অথর্বণীয় অপসারণ‑মন্ত্র, যেখানে পাপ্মান (অশুভতা, রোগ, দুর্ভাগ্য)‑কে সরাসরি সম্বোধন করে রোগীকে ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হয়। এতে আরোগ্যের লক্ষ্য—ভুক্তভোগীকে “শুভের জগতে” পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা—এবং একই সঙ্গে কঠোর স্থানান্তর‑যুক্তি যুক্ত: অশুভটি যদি আঁকড়ে থাকে, তবে তাকে সরিয়ে অন্যদিকে ঠেলে দেওয়া হয়—শেষ পর্যন্ত শত্রুর দিকে—এবং এই প্রয়োগ কার্যকর হয় “সহস্র‑নয়ন অমর”-এর বলপ্রয়োগে।
এই সংক্ষিপ্ত অথর্ববৈদিক শান্তি-মন্ত্রটি ঘরে বা ঘরের ভিতরে কবুতরের অশুভ আবির্ভাবকে নিষ্ক্রিয় করে, যা নিরৃতি (বিপর্যয়)-এর দূত বলে ধরা হয়। দেবতাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সম্ভাব্য শুভ লক্ষণ হিসেবে পাখিটিকে পুনর্ব্যাখ্যা করে এবং গৃহাগ্নি (অগ্নি)-তে রক্ষাকে প্রতিষ্ঠিত করে, এই সূক্তটি গৃহকে সেই অমঙ্গলের গ্রাস থেকে “মুক্ত” করে এবং মানুষ ও গবাদিপশু—উভয়ের জন্য শম্ (কল্যাণ) নিশ্চিত করে।
এই সংক্ষিপ্ত অরিষ্ট-ক্ষয়ণ সূক্ত গৃহে “লেগে থাকা” অশুভ লক্ষণকে—কপোত (পায়রা) রূপে কল্পিত—ঋচ্ (কার্যকর ছন্দোবদ্ধ বাক্)-এর শক্তিতে, টোপ/দানা-প্রলোভনের সহায়তায়, তাড়িয়ে বের করে নিষ্ক্রিয় করে। এরপর এটি অগ্নি ও গবাদিপশুর চারদিকে রক্ষাবৃত্ত/পরিক্রমা স্থাপন করে গৃহপরিসরকে সুরক্ষিত করে, এবং শেষে যম/মৃত্যুকে প্রসন্ন করে যাতে অমঙ্গলের গতি ছিন্ন হয়, কিন্তু ঘরের ঊর্জ (জীবনীশক্তি-সমৃদ্ধি) ক্ষয় না পায়। তিনটি সংক্ষিপ্ত গতিতে এই সূক্ত অশুভকে প্রস্থানে, বিপদকে রক্ষিত প্রতিপত্তি (শ্রবস্)-তে, এবং মৃত্যুর ছায়াকে প্রশমিত দূরত্বে রূপান্তরিত করে।
অথর্ববেদ ৬.২৯ একটি সংক্ষিপ্ত অরিষ্ট-নিবারণ সূক্ত, যা গৃহে অশুভ লক্ষণ সৃষ্টিকারী शकুন-পাখিদের—বিশেষত উলূক (পেঁচা)-এর ডাক এবং কপোত (কবুতর)-এর গার্হপত্য/গৃহ্য অগ্নির সঙ্গে অমঙ্গলস্পর্শ—জনিত দুষ্প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় করে। এটি এই লক্ষণগুলিকে ‘মোঘ’ (নিষ্ফল/শূন্য) বলে পুনর্ব্যাখ্যা করে, নিরৃতির ‘দূত’দের মাধ্যমে তার প্রবেশ রোধ করে, এবং আচারগতভাবে সেই ভীতিকর শক্তিকে এক বছরের জন্য গৃহ থেকে দূরে, যম-সম্পর্কিত নির্বাসন-গন্তব্যের দিকে প্রেরণ করে।
অথর্ববেদ ৬.৩০ একটি সংক্ষিপ্ত অথর্বণীয় মন্ত্র-চক্র, যেখানে উদ্ভিদ-শক্তিকে দুইভাবে কাজে লাগানো হয়েছে: মধুমিশ্রিত যব-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায়শ্চিত্ত ও সমৃদ্ধি, এবং ব্যক্তিত্বপ্রাপ্ত শমী-বৃক্ষের বিভ্রান্তিকর ‘মাদ’ দ্বারা প্রতিদ্বন্দ্বী-নিয়ন্ত্রণ। এটি একদিকে শত্রুতাপূর্ণ বা প্রতিযোগী ‘বৃদ্ধি’ (প্রতীকী ও বাস্তব উভয়ই) অপসারণ করে, অন্যদিকে গৃহের অনুকূলতা নিশ্চিত করে—বিশেষত শিশুদের সুরক্ষা এবং সামাজিক দুর্বলতার কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত চুল/রূপ-সজ্জাকে শান্ত ও নিরাপদ করা।
Read Atharva Veda in the Vedapath app
Scan the QR code to open this directly in the app, with word-by-word meanings, Sanskrit recitation where available, and more.