Adhyaya 2
Upodghata PadaAdhyaya 2317 Verses

Adhyaya 2

Ābhūta-saṃplava & Loka-vibhāga (Dissolution Threshold and the Fourteen Abodes)

এই অধ্যায়টি উপদেশমূলক সংলাপরূপে রচিত—ঋষিগণ প্রশ্ন করেন, বায়ু উত্তর দেন। ধর্মে প্রতিষ্ঠিত ও সূক্ষ্মদর্শী সত্তাদের জন্য মহর্লোককে প্রধান মানদণ্ড ধরে তিনি বিশ্ব-‘স্থান’/লোকসমূহের শ্রেণিবিভাগ করেন। মোট চৌদ্দটি স্থান স্পষ্টভাবে গণনা করা হয়েছে—সাতটি ‘কৃত/ব্যক্ত’ লোক এবং সাতটি ‘প্রাকৃত/অকৃত’ স্থান। এরপর ভূ থেকে ঊর্ধ্বের পরিচিত সাত লোক—ভূ, ভুবঃ, স্বঃ, মহঃ, জন, তপঃ ও সত্য—বর্ণনা করে প্রলয়ভেদে তাদের স্থায়িত্বের পার্থক্য, বিশেষত আভূত-সম্প্লব (ভূত/তত্ত্বপর্যন্ত প্রলয়-সীমা) প্রসঙ্গে, নির্দেশ করা হয়। মন্বন্তর-সমাপ্তি, দেব-ঋষি-মনু-পিতৃ প্রভৃতি জনবর্গ এবং বর্ণাশ্রমধর্মানুগদের একত্রে এক মহাজাগতিক ভূগোল-কাল-জনবিন্যাসে যুক্ত করা হয়েছে। মহর্লোককে মন্বন্তরান্ত পর্যন্ত উন্নত সত্তাদের আবাস বলে দেখিয়ে কোন লোক নৈমিত্তিক আর কোনটি অধিক স্থায়ী/একান্তিক—তাও প্রলয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত করে স্পষ্ট করা হয়েছে।

Shlokas

Verse 1

इति श्रीब्रह्माण्डे महापुराणे वायुप्रोक्ते उत्तरभागे चतुर्थ उपसंहारपादे आभूतसंप्लवाख्यवर्णनं नाम प्रथमो ऽध्यायः वायुरुवाच असाधारणवृत्तैस्तु हुतशेषादिभिर्जनैः / धर्मा वैशेषिकाश्चैव आचीर्णाः सूक्ष्मदर्शिभिः

এইভাবে শ্রীব্রহ্মাণ্ড মহাপুরাণের বায়ুপ্রোক্ত উত্তরভাগের চতুর্থ উপসংহারপাদে ‘আভূত-সম্প্লব’ নামক বর্ণনার প্রথম অধ্যায়। বায়ু বললেন—হুতশেষ প্রভৃতি অসাধারণ আচরণসম্পন্ন লোকেরা, সূক্ষ্মদর্শী হয়ে, বিশেষ ধর্মসমূহ আচরণ করেছে।

Verse 2

ते देवैः सह तिष्ठन्ति महर्लोकनिवासिनः / चतुर्दशैते मनवः कीर्तिताः कीर्तिवर्द्धनाः

তাঁরা মহর্লোকে নিবাসী হয়ে দেবতাদের সঙ্গে অবস্থান করেন। এই চৌদ্দ মনু কীর্তিত, যাঁরা কীর্তি বৃদ্ধি করেন।

Verse 3

अतीता वर्त्तमानाश्च तथैवानागताश्च ये / देवाश्च ऋषयश्चैव मनवः पितरस्तथा

যাঁরা অতীত, যাঁরা বর্তমান, এবং যাঁরা ভবিষ্যৎ—তাঁরাই দেব, ঋষি, মনু এবং পিতৃগণও বটে।

Verse 4

सर्वे ह्युक्ता मयातीत महर्लोकं समाश्रिताः / ब्राह्मणैः क्षत्रियैर्वैश्यैर्धार्मिकैः सहितैः सरैः

আমি যাদের বলেছি, তারা সকলেই মহর্লোকে আশ্রয় নিয়েছে। ধর্মপরায়ণ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যরা একত্রে সেখানে ছিল।

Verse 5

तैस्तथाकारिभिर्युक्तैः श्रद्धावद्भिरदर्पितैः / वर्णाश्रमाणान्धर्मेषु श्रौतस्मार्त्तेषु संस्थितैः / विनिवृत्ताधिकारास्ते यावन्मन्वन्तरक्षयः

তারা তদনুরূপ আচরণকারী, শ্রদ্ধাবান ও নিরহংকারী ছিল। বর্ণাশ্রমের শ্রৌত-স্মার্ত ধর্মে প্রতিষ্ঠিত থেকে মন্বন্তরের ক্ষয় পর্যন্ত তাদের অধিকার নিবৃত্ত ছিল।

Verse 6

ऋषय ऊचुः महर्ल्लोकेति यत्प्रोक्तं मातरिश्वंस्त्वया विभोः

ঋষিরা বললেন—হে বিভু মাতরিশ্বন! আপনি যে ‘মহর্লোক’ বললেন, তার তাৎপর্য কী?

Verse 7

प्रतिलोके तु कर्त्तव्यं तत्रकिं समधिष्ठितम् / प्रोवाच मधुरं वाक्यं यथा तत्त्वेन तत्त्ववित्

প্রত্যেক লোকে কী করণীয়, আর সেখানে কার অধিষ্ঠান? তখন তত্ত্ববিদ তত্ত্বানুসারে মধুর বাক্য বললেন।

Verse 8

वायुरुवाच चतर्दशैव स्थानानि निर्मितानि महर्षिभिः / लोकाख्यानि तु यानि स्युर्येषां तिष्ठन्ति मानवाः

বায়ু বললেন—মহর্ষিরা চৌদ্দটি স্থানই নির্মাণ করেছেন। যেসব স্থানে মানুষ বাস করে, সেগুলিই ‘লোক’ নামে পরিচিত।

Verse 9

सप्त तेषु कृतान्याहुरकृतानि तु सप्त वै / भूरादयस्तु सत्यान्ताः सप्त लोकाः कृतास्त्विह

তাদের মধ্যে সাতটি লোক ‘কৃত’ বলা হয়, আর সাতটি ‘অকৃত’। ভূলোক থেকে সত্যলোক পর্যন্ত এই সাত লোক এখানে সৃষ্ট বলে স্মৃত।

Verse 10

अकृतानि तु सप्तैव प्राकृतानि तु यानि वै / स्थानानि स्थानिभिः सार्द्धं कृतानि तु निबन्धनम्

যে সাতটি ‘অকৃত’, সেগুলিই প্রকৃতিজাত (প্রাকৃত)। সেই স্থানগুলি তাদের অধিষ্ঠাতাদের সঙ্গে ‘কৃত’ রূপে বিধিবদ্ধ (নিবন্ধন) করা হয়েছে।

Verse 11

पृथिवी चान्तरीक्षं च दिव्यं यच्च महः स्मृतम् / स्थानान्येतानि चत्वारि स्मृतान्यावर्णकानि च

পৃথিবী, অন্তরীক্ষ, দিব্যলোক এবং যা ‘মহঃ’ নামে স্মৃত—এই চারটি স্থান স্মৃতিতে বলা হয়েছে; এগুলিকে ‘আবর্ণক’ও বলা হয়।

Verse 12

क्षयातिशययुक्तानि तथायुक्तानि चक्षते / यानि नैमित्तिकानि स्युस्तिष्ठन्त्याभूतसंप्लवात्

কিছু স্থান ক্ষয় ও অতিশয়ের সঙ্গে যুক্ত বলা হয়, আর কিছু তদ্রূপ যুক্ত। যেগুলি ‘নৈমিত্তিক’, সেগুলি ভূত-সম্প্লব (প্রলয়) পর্যন্ত স্থিত থাকে।

Verse 13

जनस्तपश्च सत्यं च स्थानान्येतानि त्रीणि तु / एकान्तिकानि तानि स्युस्तिष्ठन्तीहाप्रसंयमात्

জন, তপ এবং সত্য—এই তিনটি স্থান। এগুলি ‘একান্তিক’ বলা হয়; এবং এখানে অসংযম না থাকায় স্থিত থাকে।

Verse 14

व्यक्तानि तु प्रवक्ष्यामि स्थानान्येतानि सप्त वै / भूर्लोकः प्रथमस्तेषां द्वितीयस्तु भुवः स्मृतः

এখন আমি এই প্রকাশিত সাতটি লোকস্থানের কথা বলছি। তাদের মধ্যে প্রথম ভূর্লোক, আর দ্বিতীয়টি ভুবঃ (ভুবর্লোক) নামে স্মৃত।

Verse 15

स्वस्तृतीयस्तु विज्ञेयश्चतुर्थो वै महः स्मृतः / जनस्तु पञ्चमो लोकस्तपः षष्ठो विभाव्यते

তৃতীয়টি স্বর্লোক বলে জ্ঞেয়, আর চতুর্থটি মহঃ (মহর্লোক) নামে স্মৃত। পঞ্চম জনলোক, ষষ্ঠ তপোলোক বলে বিবেচিত।

Verse 16

सत्यस्तु सप्तमो लोको निरालोकस्ततः परम् / भूरिति व्याहृतेः पूर्व भूर्लोकश्च ततो ऽभवत्

সপ্তম লোক সত্যলোক; তার পর আছে নিরালোক (আলোকশূন্য অবস্থা)। ‘ভূঃ’ এই ব্যাহৃতির পূর্বে ভূর্লোক তখনই উৎপন্ন হল।

Verse 17

द्वीतीयो भुव इत्युक्त अन्तरिक्षं ततो ऽभवत् / तृतीयं स्वरितीत्युक्तो दिवं प्रादुर्बभूव ह

দ্বিতীয়টি ‘ভুবঃ’ বলা হলে অন্তরীক্ষ তখন সৃষ্টি হল। তৃতীয়টি ‘স্বঃ’ বলা হলে দিব্যলোক (দিব) প্রকাশ পেল।

Verse 18

व्याहारैस्त्रिभिरेतैस्तु ब्रह्मा लोकमकल्पयत् / ततो भूः पार्थिवो लोको ह्यन्तरिक्षं भूवः स्मृतम्

এই তিন ব্যাহৃতির দ্বারা ব্রহ্মা লোকসমূহ কল্পনা করলেন। তখন ‘ভূঃ’ হলো পার্থিব লোক, আর ‘ভুবঃ’ অন্তরীক্ষ বলে স্মৃত।

Verse 19

स्वर्लोकं वै दिवं ह्येष पुराणे निश्चयो गतः / भूतस्याधिपतिश्चाग्निस्ततो भूतपतिः स्मृतः

পুরাণে স্থির সিদ্ধান্ত এই যে স্বর্লোকই দিব্যলোক। ভূতসমূহের অধিপতি অগ্নি; তাই তাঁকে ‘ভূতপতি’ বলা হয়।

Verse 20

वायुर्भुवश्चाधिपतिस्तेन वायुर्भुवस्पतिः / दिवस्य सूर्यो ऽधिपतिस्तेन सूर्यो दिवस्पतिः

ভুবর্লোকের অধিপতি বায়ু; তাই বায়ু ‘ভুবস্পতি’ নামে খ্যাত। দিব্যলোকের অধিপতি সূর্য; তাই সূর্য ‘দিবস্পতি’ বলে স্মৃত।

Verse 21

महेति व्यात्दृतेनैव महर्लोकस्ततो ऽभवत् / विनिवृत्ताधिकारणां देवानां तत्र वै क्षयः

‘মহঃ’ এই ব্যাহৃতির উচ্চারণে মহর্লোক উৎপন্ন হল। যাদের অধিকার নিবৃত্ত হয়েছে, সেই দেবতাদের সেখানে নিশ্চিতই ক্ষয় ঘটে।

Verse 22

जनस्तु पञ्चमो लोकस्तस्माज्जायन्ति वै जनाः / तासां स्वायंभुवाद्यानां प्रजानां जननाज्जनः

জনলোক পঞ্চম লোক; সেখান থেকেই জীবসমূহ জন্ম লাভ করে। স্বায়ম্ভুব প্রভৃতি প্রজাদের জননের কারণে তার নাম ‘জন’।

Verse 23

ये ते स्वायंभुवाद्या हि पुरस्तात्परिकीर्त्तिताः / कल्प एते यदा लोके प्रतिष्ठन्ति तदा तपः

যে স্বায়ম্ভুব প্রভৃতি পূর্বে কীর্তিত হয়েছে—যখন তারা কল্পকালে লোকসমূহে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তপস্যা প্রবৃত্ত হয়।

Verse 24

ऋभुः सनत्कुमाराद्या यत्रासन्नूर्द्ध्वरेतसः / तपसा भावितात्मानस्तत्र संतीति वा तपः

যেখানে ঋভু ও সনৎকুমার প্রভৃতি ঊর্ধ্বরেতস তপস্বীরা ছিলেন, তপস্যায় ভাবিত আত্মারা সেখানেই বাস করতেন—সেই স্থানই তপঃক্ষেত্র বলে খ্যাত।

Verse 25

सत्येति ब्रह्मणः शब्दः सत्तामात्रस्तु स स्मृतः / ब्रह्मलोकस्ततः सत्यः सप्तमः स तु भास्वरः

‘সত্য’ ব্রহ্মের নাম; তা কেবল অস্তিত্ব-স্বরূপ বলে স্মৃত। অতএব ব্রহ্মলোক সত্য নামে খ্যাত; সে সপ্তম এবং দীপ্তিময় লোক।

Verse 26

गन्धर्वाप्सरसो यक्षा गुह्यकास्तु सराक्षसाः / सर्वभूतपिशाचाश्च नागाश्च सह मानुषैः

গন্ধর্ব-অপ্সরা, যক্ষ, গুহ্যক ও রাক্ষস; আর সকল ভূত-পিশাচ, নাগ—এরা সকলেই মানুষের সঙ্গে (সেখানে আছে)।

Verse 27

स्वर्लोकवासिनः सर्वे देवा भुवि निवासिनः / मरुतो मातरिश्वानो रुद्रा देवास्तथाश्विनौ

স্বর্লোকে বাসকারী সকল দেবতা, এবং ভুবিতে নিবাসকারী দেবগণ; মরুত, মাতরিশ্বা, রুদ্রদেব এবং দুই অশ্বিন—(সকলেই সেখানে)।

Verse 28

अनिकेतान्तरिक्षास्ते भुवर्लोका दिवौकसः / आदित्या ऋभवो विश्वे साध्याश्च पितरस्तथा

তাঁরা আকাশে গৃহহীন (অনিকেট)—ভুবর্লোকের দিবৌকস। আদিত্য, ঋভু, বিশ্বেদেব, সাধ্য এবং পিতৃগণও (সেখানে আছেন)।

Verse 29

ऋषयोङ्गिर सश्चैव भुवर्लोकं समाश्रिताः / एते वैमानिका देवास्ताराग्रहनिवासिनः

ঋষি ও অঙ্গিরা প্রভৃতি ভুবর্লোকে আশ্রিত। এরা বৈমানিক দেবতা, তারা ও গ্রহে নিবাসী।

Verse 30

आरंभन्ते तु तन्मात्रैः शुद्धास्तेषां परस्परम् / शुक्राद्याश्चक्षुषान्ताश्च ये व्यतीता भुवं श्रिताः

তারা তন্মাত্রা থেকে আরম্ভ করে এবং পরস্পরে শুদ্ধ। শুক্র প্রভৃতি থেকে চক্ষুষ পর্যন্ত, যারা ভুবকে অতিক্রম করে আশ্রিত।

Verse 31

महर्लोकश्चतुर्थस्तु तस्मिंस्ते कल्पवासिनः / इत्येते क्रमशः प्रोक्ता ब्रह्मव्याहारसंभवाः

চতুর্থ হলো মহর্লোক; সেখানে তারা কল্পকালব্যাপী বাস করে। এভাবে ক্রমে এরা ব্রহ্ম-ব্যাহার থেকে উৎপন্ন বলে কথিত।

Verse 32

भूर्लोकप्रथमा लोका महरन्ताश्च ते स्मृताः / तान्सर्वान्सप्तसूर्यास्ते अर्चिभिर्निर्दहन्ति वै

ভূর্লোক থেকে শুরু করে মহর্লোক পর্যন্ত এই লোকসমূহ স্মৃত। তাদের সকলকে সেই সাত সূর্য নিজ জ্যোতিশিখায় দগ্ধ করে।

Verse 33

मारीचिः कश्यपो दक्षस्तथा स्वायंभुवोङ्गिराः / भृगुः पुलस्त्यः पुलहः क्रतुरित्येवमादयः

মারীচি, কশ্যপ, দক্ষ এবং স্বায়ম্ভুব অঙ্গিরা; ভৃগু, পুলস্ত্য, পুলহ, ক্রতু—ইত্যাদি।

Verse 34

प्रजानां पतयः सर्वे वर्त्तंन्ने तत्र तैः सह / निःसत्त्वा निर्ममाश्चैव तत्र ते ह्यूर्द्वरेतसः

সেখানে প্রজাদের সকল অধিপতি তাদের সঙ্গে অবস্থান করেন; তারা নিঃসত্ত্ব, নির্মম এবং ঊর্ধ্বরেতস্ (ব্রহ্মচর্যনিষ্ঠ) বলে স্মৃত।

Verse 35

ऋभुः सनत्कुमाराद्या वैराजास्ते तपोधनाः / मन्वन्तराणां सर्वेषां सावर्णानां ततः स्मृताः

ঋভু, সনৎকুমার প্রভৃতি সেই বৈরাজ তপোধন; তারা সকল মন্বন্তরের ‘সাবর্ণ’ বলে স্মৃত।

Verse 36

चतुर्दशानां सर्वेषां पुनरावृत्तिहेतवः / योगं तपश्च सत्त्वं च समाधाय तदात्मनि

তারা চৌদ্দটির (মন্বন্তরের) পুনরাবৃত্তির কারণ; কারণ যোগ, তপস্যা ও সত্ত্বকে সেই আত্মায় সমাধিস্থ করেন।

Verse 37

षष्ठे काले निवर्त्तते तदा प्राहुर्विपर्ययात् / सत्यस्तु सप्तमो लोको ह्यपुनर्मार्गगामिनाम्

ষষ্ঠ কালে (জীব) বিপর্যয়ে প্রত্যাবর্তন করে—এমন বলা হয়; কিন্তু যারা পুনর্জন্মের পথ অতিক্রম করে, তাদের জন্য সপ্তম লোক সত্যলোক।

Verse 38

ब्रह्मलोकः समाख्यातो ह्यप्रतीघातलक्षणः / पर्यासपरिमाणेन भूर्लोकः समभिस्मृतः

ব্রহ্মলোককে ‘অপ্রতীঘাত’—অবরোধহীন লক্ষণযুক্ত বলা হয়েছে; আর ‘পর্যাস’ পরিমাপ অনুসারে ভূর্লোকও স্মৃতিতে বর্ণিত।

Verse 39

भूम्यन्तरं यदादित्यादन्तरिक्षं भुवः स्मृतम् / सूर्यध्रुवान्तरं यच्च स्वर्गलोको दिवः स्मृतः

পৃথিবী ও আদিত্যের মধ্যবর্তী যে অন্তরাল, তাকেই ‘ভুবঃ’ অর্থাৎ অন্তরিক্ষ বলা হয়। আর সূর্য ও ধ্রুবের মধ্যবর্তী যে অঞ্চল, সেটিই ‘দিবঃ’ অর্থাৎ স্বর্গলোক বলে স্মৃত।

Verse 40

ध्रुवाज्जनान्तरं यच्च महर्लोकः स उच्यते / व्याख्याताः सप्तलोकास्तु तेषां वक्ष्यामि सिद्धयः

ধ্রুব থেকে জনলোক পর্যন্ত যে অন্তরাল, তাকেই মহর্লোক বলা হয়। এভাবে সাত লোক ব্যাখ্যা করা হলো; এখন আমি তাদের সিদ্ধিসমূহ বলব।

Verse 41

भूर्लोकवासिनः सर्वे उन्नादास्तु रसात्मकाः / भुवि स्वर्गे च ये सर्वे सोमपा आज्यपाश्च ते

ভূর্লোকে বসবাসকারী সকলেই রসাত্মক উল্লাসময়। আর ভুবঃ ও স্বর্গে যারা আছেন, তারা সকলেই সোমপায়ী ও আজ্যপায়ী।

Verse 42

चतुर्थे ये ऽपि वर्त्तन्ते महर्लोकं समाश्रिताः / विज्ञेया मानसी तेषां सिद्धिर्वै पञ्चलक्षणा

যারা চতুর্থ লোকেই অবস্থান করে মহর্লোককে আশ্রয় করে, তাদের সিদ্ধি ‘মানসী’ বলে জানতে হবে; তা পাঁচ লক্ষণযুক্ত।

Verse 43

सद्यश्चोत्पद्यते तेषां मनसा सर्वमीप्सितम् / एते देवा यजन्ते वै यज्ञैः सर्वैः परस्परम्

তাদের ক্ষেত্রে মনেই যা কাম্য, তা তৎক্ষণাৎ উৎপন্ন হয়। এই দেবগণ পরস্পরকে সকল প্রকার যজ্ঞ দ্বারা পূজা করেন।

Verse 44

अतीता वर्त्तमानाश्च तथा ये चाप्यनागताः / प्रथमानन्तरोद्दिष्टा अन्तराः सांप्रतैः पुनः

যারা অতীত, যারা বর্তমান এবং যারা ভবিষ্যৎ—তাঁদের প্রথমে ও পরে ক্রমে নির্দেশ করা হয়েছে; পরে বর্তমানদের দ্বারা অন্তর-কাল আবার বলা হয়েছে।

Verse 45

निवर्त्तते हि संबन्धो ऽतीते देवगणे तपः / विनिवृत्ताधिकाराणां सिद्धस्तेषां तु मानसी

দেবগণ অতীত হলে তপস্যার সঙ্গে সম্পর্কও নিবৃত্ত হয়; যাঁদের অধিকার শেষ, তাঁদের সিদ্ধি মানসিকভাবেই সম্পন্ন বলে গণ্য।

Verse 46

तषां तु मानसी ज्ञेया शुद्धा सिद्धिः परस्परात् / उक्ता लोकास्तु चत्वारो जनस्यानुविधिस्तथा / समासेन मया विप्रा भूयस्तं वर्त्तयामि वः

তাঁদের সিদ্ধি মানসিক বলে জানতে হবে, যা পরস্পরের দ্বারা শুদ্ধ হয়; চার লোক এবং জনের অনুসরণীয় বিধিও বলা হয়েছে। হে বিপ্রগণ, সংক্ষেপে আমি তা আবার তোমাদের বলছি।

Verse 47

वायुरुवाच मरीचिः कश्यपो दक्षो वसिष्ठश्चाङ्गिरा भृगुः

বায়ু বললেন—মরীচি, কশ্যপ, দক্ষ, বশিষ্ঠ, অঙ্গিরা ও ভৃগু।

Verse 48

पुलस्त्यः पुलहस्छैव क्रतुरित्येवामादयः / पूर्वं ते संप्रसूयन्ते ब्रह्मणो मानसा इह

পুলস্ত্য, পুলহ ও ক্রতু—ইত্যাদি; এঁরা সকলেই এখানে প্রথমে ব্রহ্মার মানস-পুত্ররূপে প্রসূত হন।

Verse 49

ततः प्रजाः प्रतिष्ठाप्य जनमेवाश्रयन्ति ते / कल्पदाहेषु तु सदा तथा कालेषु तेषु वै

তখন প্রজাদের প্রতিষ্ঠা করে তারা জনলোককেই আশ্রয় করে; কল্পদাহের সময় সর্বদা সেই সকল কালে তাই হয়।

Verse 50

भूरादिषु महान्तेषु भृशं व्याप्ते यथाग्निना / शिखाः संवर्त्तकाग्नेर्याः प्राप्नुवन्ति सवासनाः

ভূ প্রভৃতি মহান লোকসমূহ যখন অগ্নিতে প্রবলভাবে ব্যাপ্ত হয়, তখন সংবর্তক অগ্নির শিখাগুলি বাসনাসহ সেখানে পৌঁছে যায়।

Verse 51

यामादयो गणाः सर्वे महर्लोकनिवासिनः / महर्लोकेषु दीप्तेषु जनमेवाश्रयन्ति ते

যাম প্রভৃতি সকল গণ, যারা মহর্লোকে বাস করে, মহর্লোক জ্বলে উঠলে জনলোককেই আশ্রয় করে।

Verse 52

सर्वे सूक्ष्मशरीरास्ते तत्रस्थाश्च भवन्ति ते / तेषां ते तुल्यसामर्थ्या स्तुल्यमूर्त्तिधरास्तथा

তারা সকলেই সূক্ষ্ম শরীরধারী হয়ে সেখানে অবস্থান করে; তাদের শক্তি সমান এবং তারা সমরূপ ধারণ করে।

Verse 53

जनलोके विवर्त्तन्ते संवर्त्तः प्लवते जगत् / व्युष्टायां तु रजन्यां वै ब्रह्मणो ऽव्यक्तयोनितः

তারা জনলোকেই অবস্থান করে; সংবর্তে জগৎ প্লাবিত/ডুবে যায়। আর রাত্রি শেষ হলে, অব্যক্ত-যোনি ব্রহ্মা থেকে (পুনঃ সৃষ্টির প্রবাহ ওঠে)।

Verse 54

अहरादौ प्रसूयन्ते पूर्ववत्क्रमशस्त्विह / स्वायंभुवादयः सर्वे मरीच्यन्तास्तु साधकाः

এখানে অহরাত্রির আদিতে পূর্ববৎ ক্রমে স্বায়ম্ভুবাদি সকলেই, মरीচি-পর্যন্ত সাধকগণ প্রসূত হন।

Verse 55

देवास्ते वै पुनस्तेषां जायन्ते निधनेष्विह / यामादयः क्रमेणैव कनिष्ठाद्याः प्रजापतेः

তাঁদেরই দেবগণ এখানে তাদের নিধনকালে পুনরায় জন্ম নেন; প্রজাপতির কনিষ্ঠাদি যামাদি দেবতারা ক্রমে ক্রমে উৎপন্ন হন।

Verse 56

पूर्वं पूर्वे प्रसूयन्ते पश्चिमे पश्चिमास्तथा / देवान्वये देवता हि सप्त संभूत यः स्मृताः

পূর্বে পূর্ববর্তীরাই আগে প্রসূত হন, পশ্চিমে পশ্চিমবর্তীরাও তেমনি; দেববংশে সাত দেবতা উৎপন্ন হয়েছেন—এমনই স্মৃতি।

Verse 57

व्यतीताः कल्पजास्तेषां तिस्रः शिष्टास्तथापरे / आवर्त्तमाना देवास्ते क्रमेणैतेन सर्वशः

তাদের কল্পজাত চক্রের তিনটি অতীত হয়েছে, আর অপর তিনটি অবশিষ্ট; সেই দেবগণ এই ক্রমেই সর্বতোভাবে আবর্তিত হন।

Verse 58

गत्वा जव जवीभावं दशकृत्वाः पुनः पुनः / ततस्ते वै गणाः सर्वे दृष्ट्वा भावेष्वनित्यताम्

তারা বারংবার দশবার পর্যন্ত বেগ ও অতিবেগের অবস্থায় গিয়ে, তারপর সেই সকল গণ ভাবসমূহে অনিত্যতা দেখে (বৈরাগ্য লাভ করে)।

Verse 59

भाविनोर्ऽथस्य च बलात्पुण्यख्यातिबलेन च / निवृत्तवृत्त्यः सर्वे ऽत्रस्थाः सुमनसस्तथा

ভবিষ্যৎ উদ্দেশ্যের বল ও পুণ্যখ্যাতির প্রভাবে, এখানে অবস্থানকারী সকলেই কর্মপ্রবৃত্তি ত্যাগ করে প্রসন্নচিত্ত হলেন।

Verse 60

वैराजमुपपद्यन्ते लोकानुत्सृज्य तं गताः / ततो ऽनेनैव कालेन नित्ययुक्तास्तपस्विनः

তাঁরা লোকসমূহ ত্যাগ করে সেই বৈরাজ লোক প্রাপ্ত হন; তারপর সেই একই কালে তপস্বীরা নিত্যযোগে স্থিত থাকেন।

Verse 61

कथनाच्चैव धर्मस्य तेषां ते जज्ञिरे ऽन्वये / इहोत्पन्नास्ततस्ते वै स्थानान्यापूरयन्त्युत

ধর্মকথনের ফলেই তারা তাদের বংশে জন্ম নিল; এখানে উৎপন্ন হয়ে তারা নিশ্চয়ই নিজ নিজ স্থান পূর্ণ করে।

Verse 62

देवत्वे च ऋषित्वे च मनुष्यत्वे च सर्वशः / एवं देवगणाः सर्वे दशकृत्वो निवर्त्यवै

দেবত্বে, ঋষিত্বে এবং মনুষ্যত্বেও—এইভাবে সকল দেবগণ দশবার করে প্রত্যাবর্তন করেন।

Verse 63

वैराजेषूपपन्नास्ते दश तिष्ठन्त्युपप्लवान् / पूर्णोपूर्णो ततः कल्पेस्थित्वा वैराजके पुनः

তাঁরা বৈরাজ লোকসমূহে উপপন্ন হয়ে দশ উপপ্লব পর্যন্ত অবস্থান করেন; তারপর কল্পে পূর্ণ-অপূর্ণ কাল স্থিত থেকে পুনরায় বৈরাজ অবস্থায় গমন করেন।

Verse 64

ब्रह्मलोके विवर्त्तन्ते पूर्वपूर्वक्रमेण तु / एतस्मिन्ब्रह्मलोके तु कल्पे वैराजके गते

ব্রহ্মলোকে পূর্ব-পূর্ব ক্রম অনুসারে সবই বিবর্তিত হয়; এই ব্রহ্মলোকেই বৈরাজক কল্প অতীত হলে।

Verse 65

वैराजः पुनरव्यक्ते कल्पस्थानमकल्पयत् / एवं पूर्वानुपूर्व्येण ब्रह्मलोकगतेन वै

বৈরাজ আবার অব্যক্তে কল্পের স্থান স্থাপন করলেন; এভাবে ব্রহ্মলোকে গমন করে পূর্বানুপূর্ব ক্রমে তা চলতে থাকে।

Verse 66

वैराजेषूपपद्यन्ते दशकृत्वो विवर्त्यत / एवं देवयुगानीह व्यतीतानि सहस्रशः

বৈরাজ পর্যায়ে তা দশবার করে পুনঃপুনঃ বিবর্তিত হয়; এভাবে এখানে দেবযুগ সহস্র সহস্র অতিক্রান্ত হয়েছে।

Verse 67

निधनं ब्रह्मलोके तु गतानामृषिभिः सह / न शक्यमानुपूर्व्येण तेषां वक्तुं प्रविस्तरम्

ব্রহ্মলোকে ঋষিদের সঙ্গে গমনকারীদেরও নিধন ঘটে; তাদের বিস্তার ক্রমানুসারে বলা সম্ভব নয়।

Verse 68

अनादित्वाच्च कालस्य ह्यसंख्यानाच्च सर्वशः / एवमेव न संदेहो यथावत्कथितं मया

কালের অনাদিত্ব এবং সর্বত্র অসংখ্যতার কারণে—এটাই সত্য, এতে সন্দেহ নেই; যেমন আমি যথাযথভাবে বলেছি।

Verse 69

तदुपश्रुत्य वाक्यार्थमृषयः संशयान्विताः / सूतमाहुः पुराणज्ञं व्यासशिष्यं महामतिम्

বাক্যের অর্থ শুনে সংশয়যুক্ত ঋষিগণ পুরাণজ্ঞ, ব্যাসশিষ্য মহামতি সূতকে বললেন।

Verse 70

ऋषय ऊचुः वैराजास्ते यदाहारा यत्सत्त्वाश्च यदाश्रयाः / तिष्ठन्ति चैव यत्कालं तन्नो ब्रूहि यथातथम्

ঋষিরা বললেন—সেই বৈরাজদের আহার কী, তাদের স্বভাব কী, তাদের আশ্রয় কী? তারা কতকাল স্থিত থাকে, তা আমাদের যথাযথ বলুন।

Verse 71

तदुक्तमृषिभिर्वाक्यं श्रुत्वा लोकार्थतत्त्ववित् / सूतः पौराणिको वाक्यं विनयेनेदम ब्रवीत्

ঋষিদের কথা শুনে, লোকার্থ-তত্ত্ববিদ পৌরাণিক সূত বিনয়ের সঙ্গে এই বাক্য বললেন।

Verse 72

ततः प्राप्य तु सर्वेशं शुद्धबुद्धिं तमाश्रयत् / आभूतसंप्लवास्तत्र दश तिष्ठन्ति ते ऽज्वराः

তারপর তারা সর্বেশ্বরকে প্রাপ্ত হয়ে শুদ্ধবুদ্ধি হয়ে তাঁরই আশ্রয় নেয়; সেখানে মহাপ্রলয় পর্যন্ত সেই দশজন নিরোগ অবস্থায় থাকে।

Verse 73

सर्वे सूक्ष्मशरीरास्ते विद्वांसो घनमूर्तयः / स्थितलोकस्थितत्वाच्च तेषां भूतं न विद्यते

তারা সকলেই সূক্ষ্মশরীরধারী, জ্ঞানী এবং দীপ্ত মূর্তিসম্পন্ন; লোকস্থিতিতে স্থিত থাকার ফলে তাদের মধ্যে ভৌতিক বিকার নেই।

Verse 74

ऊचुः सनत्कुमाराद्याः सिद्धास्ते योगधर्मिणः / एवमेव महाभागाः प्रणवं संप्रविश्य ह

সনৎকুমার প্রমুখ যোগধর্মী সিদ্ধগণ বললেন—“হে মহাভাগ্যবানগণ, আমরাও এইরূপে প্রণব (ওঁ)-এ প্রবেশ করি।”

Verse 75

ब्रह्मलोके प्रवर्त्तामस्तन्नः श्रेयो भविष्यते / एवमुक्त्वा तदा सर्वे ब्रह्माण्डाध्यवसायि नः

“চলো আমরা ব্রহ্মলোকে প্রবৃত্ত হই; তাতেই আমাদের শ্রেয় হবে।” এ কথা বলে তখন তারা সকলেই ব্রহ্মাণ্ডে মনোনিবেশ করল।

Verse 76

याजयित्वा तदात्मानो वर्त्तन्ते योगधर्मिणः / तत्रैव संप्रलीयन्ते शान्ता दीपर्चिषो यथा

নিজ আত্মাকে যজ্ঞরূপে অর্পণ করে যোগধর্মীরা স্থিত থাকে; এবং সেখানেই শান্ত হয়ে দীপশিখার ন্যায় লীন হয়ে যায়।

Verse 77

ब्रह्मकायमवर्त्तन्त पुन रावृत्तिदुर्लभम् / लोकं तं समनुप्राप्य सर्वे ते भावनामयम्

তারা ব্রহ্মকায়ে প্রবেশ করল, যেখান থেকে পুনরাগমন দুর্লভ; সেই লোক লাভ করে তারা সকলেই ভাবনাময় হয়ে উঠল।

Verse 78

आनन्दं ब्रह्मणः प्राप्य अमृतत्वाय ते गताः / वैराजेभ्यस्तथैवोर्द्ध्व मन्तरे षड्गुणे ततः

ব্রহ্মের আনন্দ লাভ করে তারা অমৃতত্বে গমন করল; এবং বৈরাজ লোকসমূহেরও ঊর্ধ্বে, পরে ষড্গুণ-মণ্ডলের অন্তরে প্রবেশ করল।

Verse 79

ब्रह्मलोकः समाख्यातो यत्र ब्रह्मा पुरोहितः / ते सर्वे प्रणवात्मानो बुद्धिशुद्धतया स्थिताः

যে লোককে ‘ব্রহ্মলোক’ বলা হয়, সেখানে ব্রহ্মা পুরোহিত। সেখানে সকলেই প্রণব-স্বরূপ, বুদ্ধির শুদ্ধতায় প্রতিষ্ঠিত।

Verse 80

आनन्दं ब्रह्मणः प्राप्य ह्यमृतत्वं भजन्त्युत / द्वन्द्वैस्ते नाभिभूयन्ते भावत्रयविवर्जिताः

ব্রহ্মের আনন্দ লাভ করে তারা অমৃতত্ব ভোগ করে। দ্বন্দ্ব তাদের জয় করতে পারে না, কারণ তারা ত্রিগুণ-ভাব থেকে মুক্ত।

Verse 81

आधिपत्यं विना तुल्या ब्रह्मणस्ते महौजसः / प्रभावविजयैश्वर्यस्थितिवैराग्यदर्शनः

অধিপত্য ব্যতীত তারা মহাতেজস্বী ব্রহ্মার সমান; তাদের মধ্যে প্রভাব, বিজয়, ঐশ্বর্য, স্থিতি ও বৈরাগ্যের দর্শন দেখা যায়।

Verse 82

ते ब्रह्मलौकिकाः सर्वे गतिं प्राप्यानिवर्त्तिनीम् / ब्रह्मणा सहदेवैश्च संप्राप्ते प्रतिसंचरे

ব্রহ্মলোকবাসী তারা সকলেই অনাবর্তনীয় গতি লাভ করে; এবং ব্রহ্মা ও দেবগণের সঙ্গে যখন প্রতিসঞ্চার ঘটে, তখনও তারা সেই অবস্থায়ই থাকে।

Verse 83

तपसोंऽते क्रियात्मानो बुद्धावस्था मनीषिणः / अव्यक्ते संप्रलीयन्ते सर्वे ते क्षणदर्शिनः

তপস্যার অন্তে, ক্রিয়াময় সেই মুনিগণ বুদ্ধ-অবস্থা লাভ করে অব্যক্তে লীন হন; তারা সকলেই ক্ষণিকতার দর্শক।

Verse 84

इत्येतदमृतं शुक्रं नित्यमक्षयव्ययम् / देवर्षयो ब्रह्मसत्रं सनातनमुपासते

এইভাবে এই অমৃতময়, দীপ্ত তত্ত্ব নিত্য, অক্ষয় ও অব্যয়; দেবর্ষিগণ সনাতন ব্রহ্মসত্রের উপাসনা করেন।

Verse 85

अपुनर्मारकादीनां तेषां चैवोद्ध्वरेतसाम् / कर्माभ्यासकृतां श्रद्धां वेदान्तेषूपलक्ष्यते

আপুনর্মারক প্রভৃতি এবং ঊর্ধ্বরেতস সাধকদের কর্ম-অভ্যাসজাত শ্রদ্ধা বেদান্তে স্পষ্টভাবে লক্ষিত হয়।

Verse 86

तत्र ते ऽभ्यासिनो युक्ताः परां काष्ठामुपासते / हित्वा शरीरं पाप्मानममृतत्वाय ते गाताः

সেখানে অনুশীলনে যুক্ত সাধকেরা পরম শিখরকে উপাসনা করে; দেহরূপ পাপ্মান ত্যাগ করে তারা অমৃতত্বে গমন করে।

Verse 87

वीतरागा जितक्रोधा निर्मोहाः सत्यवादिनः / शान्ताः प्रणिहितात्मानो दयावन्तो जितेन्द्रियाः

তারা আসক্তিহীন, ক্রোধজয়ী, মোহমুক্ত, সত্যবাদী; শান্ত, সংযতচিত্ত, দয়াবান ও ইন্দ্রিয়জয়ী।

Verse 88

निःसंगाः शुचयश्चैव ब्रह्मसायुज्यगाः स्मृताः / अकामयुक्तैर्ये वीरास्तपोभिर्दग्धकिल्बिषाः

তারা নিঃসঙ্গ ও শুচি, এবং ব্রহ্মসায়ুজ্যপ্রাপ্ত বলে স্মৃত; যে বীরেরা নিষ্কামভাবে তপস্যায় পাপ দগ্ধ করেছে।

Verse 89

तेषांमभ्रंशिनो लोका अप्रमेयसुखाः स्मृताः / एतद्ब्रह्मपदं दिव्यं परमे व्योम्नि भास्वरम् / यत्र गत्वा न शोचन्ति ह्यमरा ब्रह्मणा सह

তাদের লোকসমূহ অবিনশ্বর বলে স্মৃতিতে কথিত, সুখ অপরিমেয়। এটাই দিব্য ব্রহ্মপদ, পরম ব্যোমে দীপ্তিমান। সেখানে গিয়ে অমরগণ ব্রহ্মার সঙ্গে আর শোক করে না।

Verse 90

ऋषय ऊचुः कस्मादेषु परार्द्धंश्च कश्चैव पर उच्यते / एतद्वेदितुमिच्छामस्तन्नो निगद सत्तम

ঋষিগণ বললেন— এদের মধ্যে ‘পরার্ধ’ কেন বলা হয় এবং ‘পর’ কাকে বলা হয়? আমরা এটি জানতে চাই; হে শ্রেষ্ঠ, আমাদের বলুন।

Verse 91

सूत उवाच शृणुध्वं मे परार्द्धस्य परिसंख्यां परस्यच

সূত বললেন— শোনো, আমি ‘পরার্ধ’ ও ‘পর’-এর গণনা বলছি।

Verse 92

एकं दशशतं चैव सहस्रं चैव संख्याया / विज्ञेयमासहस्रं तु सहस्राणि दशायुतम्

গণনায় এক, দশ, শত ও সহস্র আছে। ‘অসহস্র’ বলতে দশ সহস্র (দশ হাজার) বোঝো; আর ‘দশায়ুত’ বলতে দশ সহস্রসমূহ (অর্থাৎ এক লক্ষ) বুঝো।

Verse 93

एकं शतसहस्रं तु नियुतं प्रोच्यते बुधैः / तथा शतसहस्राणां दशप्रयुतमुच्यते

এক শত-সহস্র (এক লক্ষ)কে পণ্ডিতেরা ‘নিযুত’ বলেন। আর শত-সহস্রগুলির দশগুণকে ‘দশপ্রযুত’ বলা হয়।

Verse 94

तथा दशसहस्राणामयुतं कोटिरुच्यते / अर्बुदं दशकोट्यस्तु ह्यब्जं कोटिशतं विदुः

এইভাবে দশ-সহস্রের সমষ্টিকে ‘অযুত’ বলা হয়, এবং তাকে ‘কোটি’ও বলা হয়। দশ কোটি ‘অর্বুদ’, আর শত কোটি ‘অব্জ’ নামে পরিচিত।

Verse 95

सहस्रमापि कोटीनां खर्वमाहुर्मनीषिणः / दशकोटिसहस्राणि निखर्वमिति तं विदुः

কোটির এক সহস্রকে মনীষীরা ‘খর্ব’ বলেন। আর দশ-কোটি সহস্র (অর্থাৎ কোটির দশ সহস্র) ‘নিখর্ব’ নামে পরিচিত।

Verse 96

शतं कोटि सहस्राणां शङ्कुरित्यभिधीयते / सहस्रं तु सहस्राणां कोटीनां पद्ममुच्यते

কোটি-সহস্রের শতকে ‘শঙ্কু’ বলা হয়। আর কোটি-সহস্রের সহস্রকে ‘পদ্ম’ বলা হয়।

Verse 97

सहस्राणि सहस्राणां कोटीनां दशधा पुनः / गुणितानि समुद्रं वै प्राहुः संख्याविदो जनाः

কোটির সহস্রসমূহকে আবার দশগুণে গুণিত করলে—সংখ্যাবিদেরা তাকে ‘সমুদ্র’ বলে থাকেন।

Verse 98

कोटीसहस्रनियुतमन्त्यमित्यभिधीयते / कोटीसहस्रप्रयुतं मध्यमित्यभिसंज्ञितम्

কোটি-সহস্র-নিযুতকে ‘অন্ত্য’ বলা হয়। আর কোটি-সহস্র-প্রযুতকে ‘মধ্যম’ নামে অভিহিত করা হয়।

Verse 99

कोटिकोटिसहस्रं तु परार्द्ध इति कीर्त्यते / परार्द्धं द्विगुणं चापि परमाहुर्मनीषिणः

কোটি-কোটি সহস্রকে ‘পরার্ধ’ বলা হয়। আর পরার্ধের দ্বিগুণকে মনীষীগণ ‘পরম’ নামে অভিহিত করেন।

Verse 100

शतमाहुः परिवृढं सहस्रं परिपद्मकम् / विज्ञेयमयुतं तस्मान्नियुतं प्रयुतं ततः

শতকে ‘পরিবৃঢ়’ বলা হয়, সহস্রকে ‘পরিপদ্মক’। তার পর ‘অযুত’ জ্ঞেয়; তারপর ‘নিযুত’ এবং পরে ‘প্রযুত’।

Verse 101

अर्बुदं न्यर्बुदं चैव खर्बुदं च ततः स्मृतम् / खर्वं चैव निखर्वं च शङ्कुः पद्मन्तथैव च

এর পরে ‘অর্বুদ’, ‘ন্যর্বুদ’ ও ‘খর্বুদ’ স্মৃত। তারপর ‘খর্ব’, ‘নিখর্ব’, ‘শঙ্কু’ এবং ‘পদ্ম’ও আছে।

Verse 102

समुद्रमन्त्यं मध्यं च परार्द्धं च परं ततः / एवमष्टादशैतानि स्थानानि गणनाविधौ

এর পরে ‘সমুদ্র’, ‘অন্ত্য’, ‘মধ্য’, ‘পরার্ধ’ এবং তারপর ‘পর’। এভাবে গণনাবিধিতে এই আঠারোটি স্থান।

Verse 103

शतादीनि विजानीयात्संज्ञितानि महर्षिभिः / कल्पसंख्याप्रवृत्तस्य परार्द्धो ब्रह्ममः स्मृतः

শত প্রভৃতি সংখ্যাগুলি মহর্ষিদের প্রদত্ত সংজ্ঞাসহ জেনে নিতে হবে। কল্প-সংখ্যার প্রবাহে ‘পরার্ধ’কে ‘ব্রহ্মম’ বলা হয়েছে।

Verse 104

तावच्छेषो ऽपि कालो ऽस्य तस्यान्ते प्रतितिष्ठते / पर एव परार्द्धश्च संख्यातः संख्याया मया

তার অবশিষ্ট কালও তারই অন্তে স্থিত থাকে; আর ‘পর’ ও ‘পরার্ধ’—এই দুইটি আমি সংখ্যার বিধানে গণনা করেছি।

Verse 105

यस्मादस्य परं विर्यं परमायुः परं तपः / परा शक्तिः परो धर्मः पराविद्या परा धृतिः

কারণ এতে আছে পরম বীর্য, পরম আয়ু, পরম তপস্যা; পরা শক্তি, পরম ধর্ম, পরা বিদ্যা ও পরা ধৃতি।

Verse 106

परं ब्रह्म परं ज्ञानं परमैश्वर्यमेव च / तस्मात्परतरं भूतं ब्रह्मणो यन्न विद्यते

তিনি পরম ব্রহ্ম, পরম জ্ঞান এবং পরম ঐশ্বর্যও; অতএব ব্রহ্মের ঊর্ধ্বে আর কোনো সত্তা নেই।

Verse 107

परे स्थितो ह्येष परः सर्वार्थेवु ततः परम् / संख्यातस्तु परो ब्रह्मा तस्यार्द्धस्य परार्द्धता

এই ‘পর’ পরমে স্থিত এবং সকল অর্থে তারও অতীত; সংখ্যাবিধানে তাকে ‘পरो ব্রহ্মা’ বলা হয়, আর তার অর্ধের নাম ‘পরার্ধ’।

Verse 108

संख्येयं चाप्यसंख्येयं सततं चापि तान्त्रिकम् / संख्येयं संख्यया दृष्टमपरार्द्धाद्विभाष्यते

গণনীয় ও অগণনীয়—এবং তান্ত্রিক ধারায় সদা প্রবাহমান—যা গণনীয়, তা সংখ্যার দ্বারা নির্ণীত হয়ে ‘অপরার্ধ’ থেকে পরবর্তীভাবে ব্যাখ্যাত হয়।

Verse 109

राशौ दृष्टे न संख्यास्ति तदसंख्यास्तु लक्ष्णम् / आनन्त्यं सिकता द्येषु हृष्टं चान्यं त्वलक्षणम्

রাশি (সমষ্টি) দর্শনে তার সংখ্যা থাকে না; ‘অসংখ্যতা’ই তার লক্ষণ। বালুকাকণা প্রভৃতিতে যে অনন্ততা দেখা যায়, তা ভিন্ন এবং লক্ষণ নয়।

Verse 110

ईश्वरैस्तत्प्रसंख्यानं शुद्धत्वाद्दिव्यदृष्टिभिः / एवं ज्ञानप्रतिष्ठत्वात्सर्वं ब्रह्मानुपश्यति

শুদ্ধতার কারণে দিব্যদৃষ্টিসম্পন্ন ঈশ্বরগণ তার পরিগণনা করেন। এভাবে জ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত হয়ে তিনি সর্বত্র ব্রহ্মকেই প্রত্যক্ষ করেন।

Verse 111

एतच्छ्रुत्वा तु ते सर्वे नैमिषेयास्तपस्विनः / बाष्पपर्याकुलाक्षास्तु प्रहर्षाद्गद्गदस्वराः

এ কথা শুনে নৈমিষারণ্যের সকল তপস্বী, অশ্রুতে আচ্ছন্ন নয়নে, আনন্দে গদ্গদ কণ্ঠ হয়ে উঠলেন।

Verse 112

पप्रच्छुर्मातारिश्वानं सर्वे ते ब्रह्मवादिनः / ब्रह्मलोकस्तु भगवन्यावन्मात्रान्तरे प्रभो

তাঁরা সকল ব্রহ্মবাদী মাতারিশ্বানকে জিজ্ঞাসা করলেন—হে ভগবন, হে প্রভু! ব্রহ্মলোক কত দূর অন্তরে অবস্থিত?

Verse 113

योजनाग्रेण संख्यातः साधनं योजनस्य तु / क्रोशस्य च परीमाणं श्रोतुमीच्छाम तत्त्वतः

যোজনের দ্বারা যে গণনা হয়, সেই যোজনের প্রকৃত মান কী? আর ক্রোশের পরিমাপও—আমরা তা তত্ত্বত শুনতে চাই।

Verse 114

तेषां तद्वचनं श्रुत्वा मातरिश्वा विनीतवत् / उवाच मधुरं वाक्यं यथादृष्टं यथाक्रमम्

তাদের সেই বাক্য শুনে মাতরিশ্বা (বায়ু) বিনীতভাবে, যেমন দেখেছেন তেমনই ও যথাক্রমে মধুর বাক্য বললেন।

Verse 115

वायुरुवाच एतद्वो ऽहं प्रवक्ष्यामि श्रुणुध्वं मे विवक्षितम् / अव्यक्ताद्व्यक्तभागो वै महान्स्थूलो विभाष्यते

বায়ু বললেন—আমি তোমাদের এ কথা বলছি; আমার বক্তব্য শোনো। অব্যক্ত থেকে যে ব্যক্ত অংশ প্রকাশ পায়, তাকেই ‘মহান্’ স্থূলরূপে বলা হয়।

Verse 116

दशैव महतो भागा भूतादिः स्थूल उच्यते / दशभागाधिकं चापि भूतादिपरिमाणकम्

মহানের দশ ভাগের এক ভাগকে ‘ভূতাদি’ স্থূল বলা হয়; আর ভূতাদির পরিমাণ আরও দশ ভাগ অধিক বলেও বলা হয়েছে।

Verse 117

परमाणुः सुसूक्ष्मस्तु भावग्राह्यो न चक्षुषा / यदभेद्यतमं लोके विज्ञेयं परमाणुवत्

পরমাণু অতি সূক্ষ্ম; তা চোখে নয়, ভাব-বুদ্ধিতে গ্রাহ্য। জগতে যা সর্বাধিক অভেদ্য, তা পরমাণুর ন্যায় জ্ঞেয়।

Verse 118

जालान्तरगते भानैं यत्सूक्ष्मं दृश्यते रजः / प्रथमं तत्प्रमाणानां परमाणुं प्रचक्षते

জালের ফাঁক দিয়ে আসা সূর্যরশ্মিতে যে সূক্ষ্ম ধূলিকণা দেখা যায়, তাকেই পরিমাপগুলির মধ্যে প্রথম ‘পরমাণু’ বলা হয়।

Verse 119

अष्टानां परमाणूनां समावायो यदा भवेत् / त्रसरेणुः समाख्यातस्तत्पद्मरज उच्यते

যখন আটটি পরমাণু একত্র সমবায়ে যুক্ত হয়, তখন তাকে ‘ত্রসরণু’ বলা হয়; সেই-ই ‘পদ্মরজ’ নামে কথিত।

Verse 120

त्रसरेणवो ऽथ ये ऽप्यष्टौ रथरेणुस्तु सस्मृतः / ते ऽप्यष्टौ समवायस्था बालाग्रं तत्स्मृतं बुधैः

আবার আটটি ত্রসরণু একত্র হলে তাকে ‘রথরেণু’ বলা হয়; এবং সেই রথরেণুরও আটটির সমবায়কে পণ্ডিতেরা ‘বালাগ্র’ (চুলের অগ্রভাগ) বলেছেন।

Verse 121

बालाग्राण्यष्टलिक्षा स्याद्यूकालिक्षाष्टकं भवेत् / यूकाष्टकं यवप्राहुरङ्गुलं तु यवाष्टकम्

আটটি বালাগ্র মিলে এক ‘লিক্ষা’ হয়; আট লিক্ষা মিলে এক ‘ইউকা’ হয়। আট ইউকাকে ‘যব’ বলা হয়; আর আট যবকে ‘অঙ্গুল’ বলা হয়।

Verse 122

द्वादशाङ्गुलपर्वाणि वितस्तिस्थानमुच्यते / रत्निश्चागुलिपर्वाणि विज्ञेयो ह्येकविंशतिः

বারো অঙ্গুল-পর্বের পরিমাপকে ‘বিতস্তি’ বলা হয়; আর ‘রত্নি’ হলো একুশ অঙ্গুল-পর্ব—এমনই জ্ঞেয়।

Verse 123

चत्वारो विंशतिश्चैव हस्तः स्यादङ्गुलानि तु / किष्कुर्द्विरत्निर्विज्ञेयो द्विचत्वारिंशदङ्गुलः

চব্বিশ অঙ্গুলের পরিমাপ ‘হস্ত’ হয়; আর ‘কিষ্কু’ দুই রত্নির সমান—অর্থাৎ আটচল্লিশ অঙ্গুল—জানতে হবে।

Verse 124

षण्णवत्यङ्गुलं चैव धनुराहुर्मनीषिणः / एतद्गव्यूतिसंख्यायामादानं धनुषः स्मृतम्

মনীষীরা বলেন—ছিয়ানব্বই অঙ্গুল পরিমাপই ‘ধনু’। গব্যূতির সংখ্যায় ধনুর এই ‘আদান’ স্মৃত।

Verse 125

धनुर्दण्डयुगं नाली तुल्यान्यस्तैस्तथाङ्गुलैः / धनुषां त्रिशतं नल्वमाहुः संख्याविदो जनाः

ধনুর দণ্ডের যুগলকে ‘নালী’ বলা হয়, এবং তা ঐ অঙ্গুল পরিমাপেই সমান স্মৃত। সংখ্যাবিদেরা তিনশো ধনুকে ‘নল্ব’ বলেন।

Verse 126

धनुः सहस्रे द्वे चापि गव्यूतिरुपदिश्यते / अष्टौ धनुः सहस्राणि योजनं तु विधीयते

দুই হাজার ধনু পরিমাণকে ‘গব্যূতি’ বলা হয়। আর আট হাজার ধনু পরিমাণকে ‘যোজন’ নির্ধারিত করা হয়েছে।

Verse 127

एतेन धनुषा चैव योजनं तु समाप्यते / एतत्सहस्रं विज्ञेयं शक्रकोशान्तरं तथा

এই ধনু-মান দিয়েই ‘যোজন’ সম্পূর্ণ হয়। এবং এটিই ‘শক্র-কোষ’ এক সহস্রের অন্তর বলেও জেনে রাখা উচিত।

Verse 128

योजनानां च संख्यातं संख्याज्ञानविशारदैः / एतेन योजनाग्रेण शृणुध्वं ब्रह्मणोंऽतरे

সংখ্যাজ্ঞানে পারদর্শীরা যোজনের এই গণনা নিরূপণ করেছেন। এখন এই যোজন-মানকে ভিত্তি করে ব্রহ্মার অন্তর (কালপরিমাপ) শোনো।

Verse 129

महीतलात्सहस्राणां रातादूर्ध्वं दिवाकरः / दिवाकरात्सहस्रे तु शते चौर्द्ध्वं निशाकरः

পৃথিবীতল থেকে সহস্র যোজন ঊর্ধ্বে দিবাকর (সূর্য) স্থিত; আর সূর্য থেকে সহস্র ও শত যোজন ঊর্ধ্বে নিশাকর (চন্দ্র) আছে।

Verse 130

पूर्णं शतसहस्रं तु योजनानां निशाकरात् / नक्षत्रमण्डलं कृत्स्नमुपरिष्टात्प्रकाशत

চন্দ্র থেকে পূর্ণ এক লক্ষ যোজন ঊর্ধ্বে উপরদিকে সমগ্র নক্ষত্রমণ্ডল দীপ্ত হয়ে প্রকাশিত।

Verse 131

शतं सहस्रं संख्यातमेतद्द्विगुणितं पुनः / ग्रहान्तरमथैकैकमूर्द्ध्वं नक्षत्रमण्डरात्

এই দূরত্ব এক লক্ষ বলে গণ্য; আবার এটিকে দ্বিগুণ করলে, নক্ষত্রমণ্ডলের ঊর্ধ্বে একে একে অন্যান্য গ্রহের ব্যবধান নির্ধারিত।

Verse 132

ताराग्रहाणां सर्वेषामध्यस्ताच्चरते बुधः / तस्योर्द्ध्वं चरते शुक्रस्तस्मादूर्द्ध्वं च लोहितः

সমস্ত তারাগ্রহের মধ্যভাগে বুধ বিচরণ করে; তার ঊর্ধ্বে শুক্র, আর তারও ঊর্ধ্বে লোহিত (মঙ্গল) গমন করে।

Verse 133

ततो बृहस्पतिश्चोर्द्ध्वं तस्मादूर्द्ध्वं शनैश्चरः / उर्द्ध्वं शतसहस्रं तु योजनानां शनैश्चरात्

তারপর ঊর্ধ্বে বৃহস্পতি, আর তার ঊর্ধ্বে শনৈশ্চর (শনি); এবং শনির থেকে এক লক্ষ যোজন ঊর্ধ্বে (আরও উচ্চ স্তর) আছে।

Verse 134

सप्तर्षिमण्डलं कृत्स्नमुपरिष्टात्प्रकाशते / ऋषिभ्यस्तु सहस्राणां शतादूर्द्ध्वं विभाष्यते

ঊর্ধ্বদিকে সমগ্র সপ্তর্ষিমণ্ডল প্রকাশিত হয়; আর ঋষিদের সহস্রের মধ্যে শতাধিক ঊর্ধ্বে তার বর্ণনা করা হয়।

Verse 135

यो ऽसौ तारामये दिव्ये विमाने ह्रस्वरूपके / उत्तानपादपुत्रो ऽसौ मेढीभूतो ध्रुवो दिवि

যে তারাময় দিব্য, ক্ষুদ্রাকৃতির বিমান—তাতেই উত্তানপাদের পুত্র ধ্রুব স্বর্গে ধুরির ন্যায় স্থির হয়ে আছেন।

Verse 136

त्रैलोक्यस्यैष उत्सेधो व्याख्यातो योजनैर्मया / मन्वन्तरेषु देवानामिज्या यत्रैव लौकिकी

ত্রিলোকের এই উচ্চতা আমি যোজনায় ব্যাখ্যা করেছি; মন্বন্তরে যেখানে দেবতাদের পূজা লোকাচারেই সম্পন্ন হয়।

Verse 137

वर्णाश्रमेभ्य इष्टा तु लोके ऽस्मिन्संप्रवर्त्तते / सर्वासां देवयोनीनां स्थितिहेतुः स वै स्मृतः

এই জগতে বর্ণ ও আশ্রমের দ্বারা নির্ধারিত ইষ্টি-যজ্ঞ প্রবর্তিত হয়; সেটিই সকল দেবযোনির স্থিতির কারণ বলে স্মৃত।

Verse 138

त्रैलोक्यमेतद्व्याख्यातमत ऊर्द्ध्वं निबोधत / ध्रुवादूर्द्ध्वं महर्लोको यस्मिंस्ते कल्पवासिनः

এই ত্রিলোক ব্যাখ্যা করা হলো; এখন ঊর্ধ্বের কথা শোনো—ধ্রুবের ঊর্ধ্বে মহর্লোক, যেখানে কল্পবাসীরা বাস করেন।

Verse 139

एकायोजनकोटीशा इत्येवं निश्चयोगतः / द्वीकोट्यां तु महर्लोकाज्जनलोको व्यवस्थितः

নিশ্চয়ই বলা হয়েছে—এক কোটি যোজন দূরে; আর দুই কোটি যোজন দূরে মহর্লোকের ঊর্ধ্বে জনলোক প্রতিষ্ঠিত।

Verse 140

यत्र ते ब्रह्मणः पुत्रा दक्षाद्याः साधकाः स्मृताः

যেখানে ব্রহ্মার পুত্রগণ—দক্ষ প্রভৃতি—সাধক বলে স্মৃত।

Verse 141

वै राजा यत्र ते देवा भूतदाहविवर्जिताः / षड्गुणं तु तपोलोकात्सत्यलोकान्तरं स्मृतम्

হে রাজন, যেখানে সেই দেবগণ ভূতদাহ থেকে মুক্ত; আর তপোলোকের তুলনায় ছয়গুণ দূরে সত্যলোকের অন্তর স্মৃত।

Verse 142

अपुनर्मारको नाम ब्रह्मलोकः स उच्यते / यस्मिन्न च्यवते भूयो ब्रह्मणं य उपासते

সেই ব্রহ্মলোক ‘অপুনর্মারক’ নামে কথিত; যেখানে ব্রহ্মার উপাসক আর কখনও পতিত হন না।

Verse 143

एककोटिर्योजनानां पञ्चाशन्नियुतानि तु / ऊर्द्ध्वभागस्ततोंऽडस्य ब्रह्मलोकात्परः स्मृतः

এক কোটি যোজন ও পঞ্চাশ নিয়ুত (পঞ্চাশ লক্ষ) ঊর্ধ্বে; সেখান থেকে ব্রহ্মাণ্ডের ঊর্ধ্বভাগ ব্রহ্মলোকের পর বলে স্মৃত।

Verse 144

चतुर्दशैव कोट्यस्तु नियुतानि च पञ्च षट् / स चौर्द्ध्व संप्रचारो ऽस्य गत्यन्तश्चपरः स्मृतः

চৌদ্দ কোটি এবং পাঁচ-ছয় নিয়ুত; এটিই এর ঊর্ধ্বগতি ও গতির পরম সীমা বলে স্মৃত।

Verse 145

ध्रुवाग्रमेतद्व्याख्यातं योजनग्राद्यथाश्रुतम् / अधोगतीनां वक्ष्यामि भूतानां स्थानकल्पनाम्

ধ্রুবের অগ্রভাগের এই ব্যাখ্যা, যোজন-পরিমাপসহ যেমন শোনা গেছে তেমনই বলা হল; এখন অধোগামী জীবদের স্থানবিন্যাস বলছি।

Verse 146

गच्छन्ति घोरकर्माणः प्राणिनो यत्र कर्मभिः / नरको रौरवो घोरः शूकरस्ताल एवं च

যেখানে ভয়ংকর কর্মকারী প্রাণীরা নিজেদের কর্মফলে যায়—সেই নরকসমূহ: রৌরব, ঘোর, শূকর ও তাল প্রভৃতি।

Verse 147

तप्तकुम्भो महाज्वालः शबलो ऽथ विमोहनः / कृमी च कृमिभक्षश्च लालाभक्षो विशंसनः

তপ্তকুম্ভ, মহাজ্বাল, শবল, বিমোহন; আর কৃমী, কৃমিভক্ষ, লালাভক্ষ ও বিশংসন—এগুলোও নরক।

Verse 148

अधःशिराः पूयवहो रुधिरान्धुस्तथैवच / विष्टाकीर्णश्च नरको मूत्रकीर्ण स्तथैव च

অধঃশির, পূয়বহ, রুধিরান্ধু; আর বিষ্টাকীর্ণ নরক ও মূত্রকীর্ণ নরকও আছে।

Verse 149

तथा वैतरणी कृष्णमसिपत्रवनं तथा / अग्निज्वालो महाघोरः संदंशो ऽथाश्वभोजनः

তথা বৈতরণী, এবং ‘কৃষ্ণ’ নামক নরক, তদ্রূপ অসিপত্রবন। অগ্নিজ্বালা মহাভয়ংকর; পরে সন্দংশ ও অশ্বভোজন।

Verse 150

तमश्चकृष्णसूत्रश्च लोहश्चाप्यभिजस्तथा / अप्रतिष्ठो ऽथ वीचिश्च नरका ह्येवमादयः

তম, কৃষ্ণসূত্র, লোহ, তদ্রূপ অভিজ; আবার অপরতিষ্ঠ ও বীচি—এইরূপ প্রভৃতি নরকসমূহ।

Verse 151

तामसा नरकाः सर्वे यमस्य विषये स्थिताः / येषु दुष्कृतकर्माणः पतन्तीह वृथक्पृथक्

এই সকল তামস নরক যমের অধিক্ষেত্রে অবস্থিত; যেখানে দুষ্কর্মকারীরা এখানে পৃথক পৃথকভাবে পতিত হয়।

Verse 152

भूमेरधस्तात्ते सर्वे रौरवाद्यः प्रकीर्त्तिताः / रौरवे कूटसाक्षे तुमिथ्या यश्चाभिशसति

রৌরব প্রভৃতি নরকসমূহ ভূ-পৃষ্ঠের নীচে কথিত। রৌরবে যায় সে, যে কূটসাক্ষী হয়ে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে।

Verse 153

क्रूरग्रह पक्षवादी ह्यसक्तः पतते नरः / राधो गोध्रो भ्रूणहा च ह्यग्निदाता पुरस्य च

যে নিষ্ঠুর হয়ে পক্ষপাতদুষ্ট তর্ক করে ও সত্যে অনাসক্ত থাকে, সে নরকে পতিত হয়; তদ্রূপ রাধ (চোর), গোধ্র (গোহন্তা), ভ্রূণহন্তা এবং নগরে অগ্নিদাতা।

Verse 154

शूकरे ब्रह्महा मज्जेत्सुरापः स्वर्णतस्करः / ताले पतेत्क्षत्रियहा हत्वा वैश्यं च मज्जति

ব্রাহ্মণহন্তা শূকরের যোনিতে নিমজ্জিত হয়; সুরাপায়ী ও স্বর্ণচোরও তেমনি। ক্ষত্রিয়হন্তা তালগাছে পতিত হয়, আর বৈশ্যবধকারী জলে ডুবে যায়।

Verse 155

ब्रह्महत्या च यः कुर्याद्यश्च स्याद्गुरुतल्पगः / सप्तकुम्भेष्वसौ गामी तथा राजभटश्च यः

যে ব্রহ্মহত্যা করে এবং যে গুরুপত্নীগমনকারী—সে সপ্তকুম্ভ নামক নরকে গমন করে; আর যে রাজভট হয়ে অধর্মে লিপ্ত, সেও তদ্রূপ।

Verse 156

संताप्यते वाश्वणिक्तथाच धनरक्षिता / साध्वीविक्रयकर्त्ता च यस्तु भक्तं परित्यजेत्

অশ্বব্যবসায়ী, ধনরক্ষক (লোভী ধনপাল) এবং সাধ্বীকে বিক্রয়কারী—এরা সকলেই দগ্ধ যন্ত্রণা ভোগ করে; আর যে ভক্তকে ত্যাগ করে, সেও।

Verse 157

महाज्वाले दुहितरं स्नुषां गच्छति यस्तु वै / वेदं विक्रीणतेये च वेदं वै दूषयन्ति ये

যে কন্যা বা পুত্রবধূর সঙ্গে গমন করে, সে মহাজ্বালা নরকে যায়। যারা বেদ বিক্রি করে এবং যারা বেদকে কলুষিত করে, তারাও তদ্রূপ যায়।

Verse 158

गुरुंश्चैवावमन्यन्ते वाक्शरैस्ताडयन्ति च / अगम्यगामी च नरो नरकं शबलं व्रजेत्

যারা গুরুজনকে অবমাননা করে এবং বাক্যবাণে আঘাত করে, আর যারা নিষিদ্ধ গমন (অগম্যগামী) করে—তারা শবল নরকে গমন করে।

Verse 159

विमोहे पतते घोरे मर्यादां योभिनत्ति वै / दुरिष्टं कुरुते यस्तु कीडलोहं प्रपद्यते

যে ভয়ংকর মোহে পতিত হয়ে মর্যাদা ভাঙে এবং দুষ্ট কর্ম করে, সে কীট-লোহ নরকে গমন করে।

Verse 160

देवब्राह्मणविद्वेष्टा गुरूणां वाप्यपूजकः / रत्नं दूषयते यस्तु कृमिभक्षे प्रपद्यते

যে দেব ও ব্রাহ্মণদের বিদ্বেষ করে, গুরুদের পূজা করে না এবং রত্নকে কলুষিত করে, সে কৃমিভক্ষ নরকে যায়।

Verse 161

पर्यश्नाति य एको ऽन्नं ब्राह्मणान्सुहृदो विना / लालाभक्षे स तिष्ठेत्तु दुर्गन्धे नरके गतः

যে ব্রাহ্মণ ও সুহৃদদের বাদ দিয়ে একাই অন্ন ভক্ষণ করে, সে দুর্গন্ধময় লালাভক্ষ নরকে বাস করে।

Verse 162

काण्डकर्त्ता कुलालश्च निष्कहर्ता चिकित्सकः / आरामे ऽप्यग्निदाता यः पतते स विशंसनि

কাণ্ডকর্তা, কুমোর, নিষ্কহর্তা, চিকিৎসক এবং যে উদ্যানেও আগুন লাগায়—সে বিশংসন নরকে পতিত হয়।

Verse 163

असत्प्रतिग्रही यश्च तथैवायाज्ययाजकः / नक्षत्रैर्जीवते यश्च नरो गच्छत्यधोमुखम्

যে অযোগ্য থেকে দান গ্রহণ করে, অযাজ্যকে যজ্ঞ করায় এবং নক্ষত্রের ভরসায় জীবিকা চালায়—সে অধোমুখ নরকে যায়।

Verse 164

क्षीरं सुरां च लवणं लाक्षां गन्धं रसं तिलान् एवमादीनि विक्रीणन्घोरे पूयवहे पतेत्

যে দুধ, মদ, লবণ, লাখ, সুগন্ধি, রস ও তিল প্রভৃতি বিক্রি করে, সে ভয়ংকর পূয়বহ নরকে পতিত হয়।

Verse 165

यः कुक्कुटान्निबद्नाति मार्जारान्सूकरांस्तथा / पक्षिणश्च मृगाञ्छागान्सो ऽप्येनं नरकं व्रजेत्

যে মোরগ বেঁধে রাখে, বিড়াল ও শূকরও; আর পাখি, হরিণ ও ছাগলকে বেঁধে রাখে—সেও এই নরকে যায়।

Verse 166

अजाविको माहिषिकस्तथा चक्रध्वजी च यः / रङ्गोपजीवको विप्रः शाकनिर्ग्रामयाजकः

যে ছাগল-ভেড়ার পালক/ব্যবসায়ী, মহিষ-পালক, চক্র-ধ্বজধারী; রঙ্গমঞ্চে জীবিকা নির্বাহকারী ব্রাহ্মণ, এবং শাক-নির্গ্রাম যাজক—(এমন লোক)।

Verse 167

अगारदाही गरदः कुण्डाशी सोमविक्रयी / सुरापो मासभक्षश्च तथा च पशुघातकः

যে ঘর পোড়ায়, বিষ দেয়, কুণ্ডের অন্ন ভক্ষণ করে, সোম বিক্রি করে; মদ্যপ, মাংসভোজী ও পশুহন্তাও (দোষী)।

Verse 168

विशस्ता महिषादीनां मृगहन्ता तथैव च / पर्वकारश्च मूची च यश्च स्यान्मित्रघातकः

মহিষ প্রভৃতি জবাইকারী কসাই, এবং মৃগহন্তা; পর্বকার ও মুচি; আর যে বন্ধু-ঘাতক—(এদেরও দোষ আছে)।

Verse 169

रुधिरान्धौ पतन्त्येते ह्येवमाहुर्मनीषिणः / उपविष्टं भोक्तुमथ पङ्क्त्यां वै वञ्चयन्ति ये

মনীষীরা বলেন—যারা ভোজনপংক্তিতে বসা ভক্তকে প্রতারণা করে, তারা রক্তান্ধ কূপে পতিত হয়।

Verse 170

पतन्ति नरके घोरे विड्भुजे नात्र संशयः / मृषावादी नरो यश्च तथा प्राक्रोशको ऽशुभः

তারা ভয়ংকর ‘বিদ্ভুজ’ নরকে পতিত হয়—এতে সন্দেহ নেই। মিথ্যাবাদী মানুষ এবং অশুভ গালাগালি-চিৎকারকারীও সেখানে পড়ে।

Verse 171

पतते नरके घोरे मूत्राकीर्णे स पापकृत / मधुग्राहाभिहन्तारो यान्ति वैतग्णीं नराः

সে পাপী ভয়ংকর ‘মূত্রাকীর্ণ’ নরকে পতিত হয়। আর মধু-গ্রাহ (মধু সংগ্রাহক/মৌমাছি) হত্যাকারীরা ‘বৈতগ্ণী’ নরকে যায়।

Verse 172

उन्मत्ताश्चित्तभग्नाश्चशौचाचारविवर्जिताः / क्रोधना दुःखदा ये च कुहकाः कृष्णगामिनः

যারা উন্মত্ত, চিত্তভগ্ন, শৌচ-আচারবর্জিত, ক্রোধী ও দুঃখদায়ক, আর কুহকী হয়ে কৃষ্ণপথে (অধর্মে) গমন করে।

Verse 173

असिपत्र वनच्छदकृतो ह्योरभ्रिकाश्च ये / कर्त्तनषु विकृत्यन्त मृगव्याधः सुदारुणैः

যারা ‘অসিপত্র’ বনের ছেদনকারী ও ‘ওরভ্রিক’ (নির্দয়) তারা অতিশয় নিষ্ঠুর মৃগব্যাধদের দ্বারা কর্তন-ছেদন যন্ত্রণায় বিকৃত হয়।

Verse 174

आश्रम प्रत्यवसिता ह्यग्निज्वाले पतन्ति वै / भक्ष्यन्ते श्यामशबलैरयस्तुडश्व वायसैः

আশ্রমধর্ম থেকে বিচ্যুতরা সত্যই অগ্নিশিখায় পতিত হয়; পরে শ্যাম-ছোপছোপ লৌহঠোঁট কাকদের দ্বারা ভক্ষিত হয়।

Verse 175

इष्टापूर्तव्रतालोपात्संदंशे नरके पतेत् / स्कन्दन्ते ये दिवास्वप्ने व्रतिनो ब्रह्मचारिणः

ইষ্ট-পুর্ত ও ব্রত লঙ্ঘনের ফলে মানুষ ‘সন্দংশ’ নরকে পতিত হয়; আর যে ব্রতী ব্রহ্মচারীরা দিনে ঘুমে স্খলিত হয়।

Verse 176

पुत्रैरध्यापिता ये च पुत्रैराक्षापिताश्च ये / ते सर्व नरकं यान्ति नियतं तु श्वभोजनम्

যারা পুত্রদের দ্বারা শিক্ষিত হয়েছে এবং যারা পুত্রদের দ্বারা জুয়ায় বাজি রাখা হয়েছে—তারা সকলেই নরকে যায়; তাদের নির্দিষ্ট গতি কুকুরের খাদ্য হওয়া।

Verse 177

वर्णाश्रमविरुद्धा ये क्रोधहर्षसमन्विताः / कर्माणि ये तु कुर्वन्ति सर्वे निरयवासिनः

যারা বর্ণাশ্রমের বিরুদ্ধ, ক্রোধ ও হর্ষে যুক্ত হয়ে কর্ম করে—তারা সকলেই নিরয় (নরক)-বাসী হয়।

Verse 178

उपरिष्टात्स्थितो घोर उष्णात्मा रौरवो महान् / सुदारुणस्तु शीतात्मा तस्याधस्तात्तपः स्मृतः

উপরে অবস্থিত ভয়ংকর, উষ্ণস্বভাব মহা ‘রৌরব’; আর তার নীচে অতিদারুণ, শীতস্বভাব ‘তপ’ নরক স্মৃত।

Verse 179

एवमादिक्रमेणैव वर्ण्यमानान्निबोधत / भूमेरधस्तात्सप्तैव नरकाः परिकीर्त्तिताः

এইভাবে আদিক্রমে যে বর্ণনা করা হচ্ছে, তা শোনো; ভূমির অধস্তলে সাতটি নরক কীর্তিত হয়েছে।

Verse 180

अधर्मसूतयस्ते स्युरन्धतामिस्रकादयः / रौरवः प्रथमस्तेषां महारौरव एव च

সেগুলি অধর্মজাত—অন্ধতামিস্র প্রভৃতি; তাদের মধ্যে প্রথম রৌরব, এবং মহারৌরবও আছে।

Verse 181

अस्याधः पुनरप्यन्यः शीतस्तप इति स्मृतः / तृतीयः कालसूत्रः स्यान्महाहिर्विविधः स्मृतः

এর নীচে আবার আরেকটি আছে, যা ‘শীততপ’ নামে স্মৃত; তৃতীয়টি ‘কালসূত্র’, আর ‘মহাহি’ও নানাবিধ বলে স্মৃত।

Verse 182

अप्रतिष्ठश्चतुर्थः स्याद वीचिः पञ्चमः स्मृतः / लोहः षष्ठः स्मृतस्तेषामविधेयस्तु सप्तमः

চতুর্থটি ‘অপ্রতিষ্ঠ’; পঞ্চমটি ‘অবীচি’ নামে স্মৃত; ষষ্ঠটি ‘লোহ’, আর সপ্তমটি ‘অবিধেয়’ বলে স্মৃত।

Verse 183

घोरात्वाद्रौरवः प्रोक्तः सोष्णको दहनः स्मृतः / सुदारुणस्तु शीतात्मा त्स्याधस्तात्तपो ऽधमः

ভয়ংকরতার কারণে তাকে ‘রৌরব’ বলা হয়, উষ্ণ দহনকারী বলে স্মৃত; কিন্তু তারও নীচে ‘তপ’ অত্যন্ত কঠোর, শীতস্বভাব।

Verse 184

सवां निकृन्तनः प्रोक्तो कालसूत्रो ऽतिदारुणः / अप्रतिष्ठे स्थितिर्नास्ति भ्रमस्तस्मिन्सदा स्मृतः

এটিকে ‘সবা নিকৃন্তন’ নামে অতিদারুণ ‘কালসূত্র’ বলা হয়েছে। সেখানে কোনো প্রতিষ্ঠা নেই, স্থিতি নেই; সেখানে সদা ভ্রমই স্মৃত।

Verse 185

अवीचिर्दारुणः प्रोक्तो यन्त्रसंपीडनाच्च सः / तस्मात्सुदारुणो लोहः कर्मणां श्रयणाच्च सः

‘অবীচি’ দারুণ বলা হয়েছে, কারণ সেখানে যন্ত্রের চাপে পীড়ন হয়। তাই ‘লোহ’ও অতিদারুণ, কেননা তা কর্মের আশ্রয়-ফল।

Verse 186

तथाभूतशरीत्वादविधेयस्तु स स्मृतः / पीडाबन्धवधासंगादप्रतीकारलक्षणः

এমন দেহ-অবস্থার কারণে তাকে অবিধেয় (অবশ্যম্ভাবী/অবশে না-আসা) বলা হয়েছে। পীড়া, বন্ধন ও বধের সংসর্গে সে প্রতিকারহীন লক্ষণযুক্ত।

Verse 187

ऊर्द्ध्वलोकैः समावेतौ निरालोकौ च तावुभौ / कूटागारप्र माणैश्च शरीरैस्तत्र नारकाः

সে দুইটি ঊর্ধ্বলোক দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং আলোকহীন। সেখানে নরকবাসীরা কূটাগারের মতো বিশাল দেহধারী হয়।

Verse 188

उपभोगसमर्थैस्तु सद्यो जायन्ति कर्मभिः / दुःखप्रकर्षश्चोग्रस्तु तेषु सर्वेषु वै स्मृतः

কর্মের ফলে ভোগ-সমর্থ দেহ তৎক্ষণাৎ জন্মায়। তাদের সকলের মধ্যেই দুঃখের তীব্রতা অত্যন্ত উগ্র বলে স্মৃত।

Verse 189

उपभोगसमर्थैस्तु सद्यो जायन्ति कर्मभिः / दुःखप्रकर्षश्चोग्रस्तु तेषु सर्वेषु वै स्मृतः

ভোগের যোগ্য কর্মের দ্বারা দেহ তৎক্ষণাৎ জন্মায়; তাদের সকলের মধ্যেই তীব্র দুঃখের প্রাবল্য স্মৃত।

Verse 190

यातनाश्चाप्यसंख्येया नारकाणां तथा स्मृताः / तत्रानुभूयते दुःखं क्षीणे कर्मणि वै पुनः

নরকদের যাতনাও অসংখ্য বলা হয়েছে; সেখানে দুঃখ ভোগ হয়, আর কর্ম ক্ষয় হলে পুনরায় (অন্য গতি) ঘটে।

Verse 191

तिर्यग्योनौ प्रसूयन्ते कर्मशेषेण तेंऽततः / देवांश्च तारकाश्चैव ह्यूर्द्ध्वं चाधश्च संस्थिताः

কর্মের অবশিষ্টাংশে তারা শেষে তির্যক্-যোনিতে জন্মায়; এবং ঊর্ধ্ব ও অধঃস্থিত দেব ও তারকাদের (দেখে)।

Verse 192

धर्माधर्मनिमित्तेन सद्यो जायन्ति मूर्त्तयः / उपभोगार्थमुत्पत्तिरौपपत्तिककर्मतः

ধর্ম-অধর্মের নিমিত্তে দেহরূপ তৎক্ষণাৎ জন্মায়; ভোগের জন্য এই উৎপত্তি ঔপপত্তিক কর্ম থেকে হয়।

Verse 193

पश्यन्ति नारकान्देवा ह्यधोवक्त्रा ह्यघोगतान् / नारकांश्च तथा देवान्सर्वान्पश्यं त्यधेमुखान्

দেবগণ অধোমুখ হয়ে অধোগত নারকদের দেখেন; আর নারকরাও অধোমুখ হয়ে সকল দেবকে দেখেন।

Verse 194

अनयोस्तुल्यता यस्माद्धारमाश्च स्वभावतः / तस्मादूर्द्ध्वमधोभावो लोकालोके न विद्यते

এই উভয়ের স্বভাবগত সমতা ও ধারণশক্তির কারণে লোকালোক অঞ্চলে ঊর্ধ্ব-অধঃ ভেদ নেই।

Verse 195

एषा स्वाभाविकी संज्ञा लोकालोके प्रवर्त्तते / अथाब्रुवन्पुनर्वायुंब्राह्मणाः सत्रिणस्तदा

লোকালোক অঞ্চলে এই নামকরণ স্বভাবতই প্রচলিত। তখন যজ্ঞসত্রে বসা ব্রাহ্মণরা পুনরায় বায়ুকে বললেন।

Verse 196

ऋषय ऊचुः सर्वेषामेव भूतानां लोकालोकनिवासिनाम् / संसारे संसरन्तीह यावन्तः प्राणिनश्च ते

ঋষিরা বললেন—লোকালোক-নিবাসী সকল ভূতের মধ্যে, যারা এই সংসারে ঘুরে বেড়ায়, সেই সকল প্রাণী।

Verse 197

संख्याया परिसंख्याय तान्नः प्रब्रूहि कृत्स्नशः / ऋषीणां तद्वचः श्रुत्वा मरुतो वाक्यमब्रवीत्

তাদের সংখ্যা সম্পূর্ণভাবে গণনা করে আমাদের বিস্তারিত বলুন। ঋষিদের কথা শুনে মরুত (বায়ু) উত্তর দিলেন।

Verse 198

वायुरुवाच न शक्यं दिव्यया दृष्ट्या ज्ञातुं ज्ञानेन वा पुनः / चक्षुषा वै प्रसंख्यातुमतो ह्यन्ते न च द्विजाः

বায়ু বললেন—দিব্য দৃষ্টিতে, জ্ঞান দ্বারা, কিংবা চোখে দেখে তাদের সঠিক গণনা করা সম্ভব নয়; হে দ্বিজগণ, তাদের কোনো অন্ত নেই।

Verse 199

अनाध्यानादमेयत्वान्नैव प्रश्नो विधीयते / ब्रह्मणा संज्ञितं यत्तु संख्यया तन्निबोधत

অধ্যয়নের অযোগ্য ও অমেয় হওয়ায় এখানে প্রশ্নও স্থির করা হয় না। কিন্তু ব্রহ্মা যে নাম ও সংখ্যায় নির্দিষ্ট করেছেন, তা জেনে নাও।

Verse 200

यः सहस्रतमो भागः स्थावराणां भवेदिह / पार्थिवाः कृमयस्तावत्संसेकाद्येषु संभवः

এখানে স্থাবরদের যে সহস্রতম অংশ, ততটাই পার্থিব কৃমি; তাদের উৎপত্তি সেঁচ, আর্দ্রতা ইত্যাদিতে হয়।

Frequently Asked Questions

It systematizes fourteen sthānas (stations), differentiating seven manifest lokas (Bhū–Satya) from seven prākṛta/‘unmade’ stations, and links them to how long each realm persists through dissolution phases.

Maharloka is presented as a significant residence associated with elevated beings (including sages and dhārmic communities) and is discussed in relation to manvantara duration and the chapter’s broader loka-hierarchy.

Primarily cosmology: it focuses on loka lists, world-types, and dissolution-resilience; genealogical data appears indirectly via the mention of fourteen Manus as time-cycle administrators rather than as a full dynastic catalog.