
मोक्षसंन्यासयोग
The Yoga of Liberation through Renunciation
অধ্যায় ১৮ ভগবদ্গীতার সমন্বয়মূলক উপসংহার। অর্জুন সন্ন্যাস (পরিত্যাগ) ও ত্যাগ (কর্মফল-ত্যাগ)–এর পার্থক্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা চান। শ্রীকৃষ্ণ কর্তব্যধর্মের নৈতিক কাঠামোর মধ্যে ত্যাগকে সুসংবদ্ধ করে বলেন: নিয়ত কর্ম পরিত্যাজ্য নয়; আসক্তি ও ‘আমি কর্তা’—এই অধিকারবোধ ত্যাগ করে, ফলের প্রত্যাশা ছাড়া কর্ম সম্পাদন করতে হবে। এই অধ্যায়ে মানব-কার্যকারণকে পঞ্চকারণ বিশ্লেষণে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং জ্ঞান, কর্ম, কর্তা, বুদ্ধি, ধৃতি ও সুখ—এসবকে ত্রিগুণ (সত্ত্ব-রজস-তমস) অনুসারে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। ফলে প্রেরণা, সিদ্ধান্ত ও মানসিক প্রবণতার এক সূক্ষ্ম নির্ণায়ক অধ্যাত্ম-মনোবিজ্ঞান উদ্ভাসিত হয়। স্বভাবজাত কর্ম (স্বধর্ম) ঈশ্বরার্পণ করে করলে তা-ই মুক্তির পথ হতে পারে—সাধারণ দায়িত্ব ও অন্তর্মুক্তি একসূত্রে বাঁধা পড়ে। দার্শনিক পরিণতি ভক্তিতে—পরমেশ্বরকে জানার সর্বাধিক প্রত্যক্ষ উপায়। শেষে ‘শরণাগতি’র চূড়ান্ত উপদেশ: সর্বধর্ম পরিত্যাগ করে ভগবানে সম্পূর্ণ আশ্রয়, চিত্তস্থৈর্য এবং ঈশ্বরকেন্দ্রিক কর্ম—এতেই সাধকের দ্বিধা প্রশমিত হয়ে মোক্ষের দিকে অগ্রসর হয়।
Verse 1
अर्जुन उवाच । संन्यासस्य महाबाहो तत्त्वमिच्छामि वेदितुम् त्यागस्य च हृषीकेश पृथक्केशिनिषूदन ॥ १८.१ ॥
অর্জুন বললেন— হে মহাবাহো! সন্ন্যাসের তত্ত্ব আমি জানতে চাই; আর হে হৃষীকেশ! ত্যাগের তত্ত্বও পৃথকভাবে জানতে চাই, হে কেশিনিষূদন!
Verse 2
श्रीभगवानुवाच । काम्यानां कर्मणां न्यासं संन्यासं कवयो विदुः सर्वकर्मफलत्यागं प्राहुस्त्यागं विचक्षणाः ॥ १८.२ ॥
শ্রীভগবান বললেন— কাম্য কর্মের ন্যাসকে পণ্ডিতেরা ‘সন্ন্যাস’ বলেন; আর সকল কর্মফলের ত্যাগকে বিবেকীজন ‘ত্যাগ’ বলেন।
Verse 3
त्याज्यं दोषवदित्येके कर्म प्राहुर्मनीषिणः । यज्ञदानतपःकर्म न त्याज्यमिति चापरे ॥ १८.३ ॥
কিছু মনীষী কর্মকে দোষযুক্ত মনে করে ত্যাজ্য বলেন; আর অন্যেরা বলেন— যজ্ঞ, দান ও তপস্যার কর্ম ত্যাজ্য নয়।
Verse 4
निश्चयं शृणु मे तत्र त्यागे भरतसत्तम । त्यागो हि पुरुषव्याघ्र त्रिविधः संप्रकीर्तितः ॥ १८.४ ॥
হে ভরতশ্রেষ্ঠ! ত্যাগ সম্বন্ধে সেখানে আমার সিদ্ধান্ত শোন; কারণ হে পুরুষব্যাঘ্র! ত্যাগ তিন প্রকার বলে প্রচারিত হয়েছে।
Verse 5
यज्ञदानतपःकर्म न त्याज्यं कार्यमेव तत् । यज्ञो दानं तपश्चैव पावनानि मनीषिणाम् ॥ १८.५ ॥
যজ্ঞ, দান ও তপস্যার কর্ম ত্যাজ্য নয়; তা অবশ্যই করণীয়। কারণ যজ্ঞ, দান ও তপস্যা মনীষীদের পবিত্রকারী।
Verse 6
एतान्यपि तु कर्माणि सङ्गं त्यक्त्वा फलानि च । कर्तव्यानीति मे पार्थ निश्चितं मतमुत्तमम् ॥ १८.६ ॥
কিন্তু হে পার্থ! এই কর্মগুলিও আসক্তি ও ফল ত্যাগ করে করা উচিত— এটাই আমার স্থির, উত্তম মত।
Verse 7
नियतस्य तु संन्यासः कर्मणो नोपपद्यते । मोहात्तस्य परित्यागस्तामसः परिकीर्तितः ॥ १८.७ ॥
নিয়ত কর্মের সন্ন্যাস যুক্তিসঙ্গত নয়; মোহবশত তার পরিত্যাগ ‘তামস’ বলে কীর্তিত।
Verse 8
दुःखमित्येव यत्कर्म कायक्लेशभयात्त्यजेत् । स कृत्वा राजसं त्यागं नैव त्यागफलं लभेत् ॥ १८.८ ॥
যে ব্যক্তি কর্মকে ‘দুঃখরূপ’ মনে করে কেবল দেহক্লেশের ভয়ে তা ত্যাগ করে, সে রাজস ত্যাগ করে ত্যাগের ফল লাভ করে না।
Verse 9
कार्यमित्येव यत्कर्म नियतं क्रियतेऽर्जुन । सङ्गं त्यक्त्वा फलं चैव स त्यागः सात्त्विको मतः ॥ १८.९ ॥
হে অর্জুন! ‘এটি কর্তব্য’ এই বোধে যে নিয়ত কর্ম করা হয় এবং আসক্তি ও ফল ত্যাগ করে করা হয়, সেই ত্যাগকে সাত্ত্বিক বলা হয়।
Verse 10
न द्वेष्ट्यकुशलं कर्म कुशले नानुषज्जते । त्यागी सत्त्वसमाविष्टो मेधावी छिन्नसंशयः ॥ १८.१० ॥
যে অশুভ কর্মকে ঘৃণা করে না এবং শুভ কর্মে আসক্ত হয় না, সেই ত্যাগী সাত্ত্বিক ভাবসম্পন্ন, বুদ্ধিমান ও সংশয়হীন।
Verse 11
न हि देहभृता शक्यं त्यक्तुं कर्माण्यशेषतः । यस्तु कर्मफलत्यागी स त्यागीत्यभिधीयते ॥ १८.११ ॥
দেহধারী মানুষের পক্ষে সমস্ত কর্ম সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করা সম্ভব নয়; কিন্তু যে কর্মফল ত্যাগ করে, তাকেই ত্যাগী বলা হয়।
Verse 12
अनिष्टमिष्टं मिश्रं च त्रिविधं कर्मणः फलम् । भवत्यत्यागिनां प्रेत्य न तु संन्यासिनां क्वचित् ॥ १८.१२ ॥
কর্মের ফল অনিষ্ট, ইষ্ট ও মিশ্র—এই তিন প্রকার; ত্যাগ না করা লোকদের তা মৃত্যুর পরে প্রাপ্ত হয়, কিন্তু সন্ন্যাসীদের কখনও নয়।
Verse 13
पञ्चैतानि महाबाहो कारणानि निबोध मे । सांख्ये कृतान्ते प्रोक्तानि सिद्धये सर्वकर्मणाम् ॥ १८.१३ ॥
হে মহাবাহো! সর্ব কর্মের সিদ্ধির জন্য সাংখ্য (বিবেক) সিদ্ধান্তে যে পাঁচটি কারণ বলা হয়েছে, তা আমার কাছ থেকে জেনে নাও।
Verse 14
अधिष्ठानं तथा कर्ता करणं च पृथग्विधम् । विविधाश्च पृथक्चेष्टा दैवं चैवात्र पञ्चमम् ॥ १८.१४ ॥
অধিষ্ঠান (শরীর), কর্তা, নানাবিধ পৃথক পৃথক করণ (ইন্দ্রিয়সমূহ), বিভিন্ন ও স্বতন্ত্র চেষ্টাসমূহ, এবং দैব—এখানে এই পাঁচটি কারণের মধ্যে দैব পঞ্চম।
Verse 15
शरीरवाङ्mनोभिर्यत्कर्म प्रारभते नरः । न्याय्यं वा विपरीतं वा पञ्चैते तस्य हेतवः ॥ १८.१५ ॥
মানুষ শরীর, বাক্ ও মন দ্বারা যে কর্মই আরম্ভ করে—তা ন্যায়্য হোক বা বিপরীত—তার এই পাঁচটিই কারণ।
Verse 16
तत्रैवं सति कर्तारमात्मानं केवलं तु यः । पश्यत्यकृतबुद्धित्वान्न स पश्यति दुर्मतिः ॥ १८.१६ ॥
এভাবে থাকা সত্ত্বেও, অকর্তৃত্ব-বুদ্ধির অভাবে যে নিজেকেই কেবল কর্তা বলে দেখে, সেই দুর্মতি প্রকৃতপক্ষে দেখে না।
Verse 17
यस्य नाहंकृतो भावो बुद्धिर्यस्य न लिप्यते । हत्वापि स इमाँल्लोकान्न हन्ति न निबध्यते ॥ १८.१७ ॥
যার মধ্যে ‘আমি করি’ এই অহংকারভাব নেই এবং যার বুদ্ধি লিপ্ত হয় না, সে এই লোকসমূহকে (প্রাণীদের) বিনাশ করলেও প্রকৃতপক্ষে না হত্যা করে, না বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
Verse 18
ज्ञानं ज्ञेयं परिज्ञाता त्रिविधा कर्मचोदना । करणं कर्म कर्तेति त्रिविधः कर्मसंग्रहः ॥ १८.१८ ॥
জ্ঞান, জ্ঞেয় (জানবার যোগ্য), এবং পরিজ্ঞাতা (জ্ঞাতা)—এই তিন প্রকার কর্মপ্রেরণা; আর করণ, কর্ম ও কর্তা—এই তিন প্রকার কর্মসঙ্গ্ৰহ (কর্মের সমষ্টি)।
Verse 19
ज्ञानं कर्म च कर्ता च त्रिधैव गुणभेदतः । प्रोच्यते गुणसंख्याने यथावच्छृणु तान्यपि ॥ १८.१९ ॥
জ্ঞান, কর্ম এবং কর্তা—এই তিনটিই গুণভেদের দ্বারা তিন প্রকার বলে কথিত; গুণসম্বন্ধীয় বিবেচনায় শাস্ত্রে যেমন যথাযথ বলা হয়েছে, তেমনই সেগুলিও যথার্থভাবে শোন।
Verse 20
सर्वभूतेषु येनैकं भावमव्ययमीक्षते । अविभक्तं विभक्तेषु तज्ज्ञानं विद्धि सात्त्विकम् ॥ १८.२० ॥
যে জ্ঞানের দ্বারা মানুষ সকল ভূতে এক অব্যয় সত্তাকে দেখে—যা বিভক্তদের মধ্যে অবিভক্ত—সে জ্ঞানকে সাত্ত্বিক বলে জান।
Verse 21
पृथक्त्वेन तु यज्ज्ञानं नानाभावान्पृथग्विधान् । वेत्ति सर्वेषु भूतेषु तज्ज्ञानं विद्धि राजसम् ॥ १८.२१ ॥
কিন্তু যে জ্ঞানের দ্বারা মানুষ সকল ভূতে নানাবিধ পৃথক পৃথক ভাবকে আলাদা আলাদা করে জানে, সে জ্ঞানকে রাজস বলে জান।
Verse 22
यत्तु कृत्स्नवदेकस्मिन्कार्ये सक्तमहैतुकम् । अतत्त्वार्थवदल्पं च तत्तामसमुदाहृतम् ॥ १८.२२ ॥
কিন্তু যে জ্ঞান একটিমাত্র কার্য (বা বস্তু)তেই সবকিছু আছে বলে ধরে তাতে আসক্ত হয়ে পড়ে, যা অযুক্ত/কারণহীন, যা তত্ত্বার্থবিহীন ও তুচ্ছ—তাকে তামস বলা হয়।
Verse 23
नियतं सङ्गरहितमरागद्वेषतः कृतम् । अफलप्रेप्सुना कर्म यत्तत्सात्त्विकमुच्यते ॥ १८.२३ ॥
যে কর্ম নিয়ত (কর্তব্য), যা আসক্তিহীন, যা রাগ-দ্বেষবর্জিত হয়ে করা হয় এবং যা ফলের আকাঙ্ক্ষা না রাখা ব্যক্তি দ্বারা সম্পন্ন হয়—তাকে সাত্ত্বিক কর্ম বলা হয়।
Verse 24
यत्तु कामेप्सुना कर्म साहंकारेण वा पुनः । क्रियते बहुलायासं तद्राजसमुदाहृतम् ॥ १८.२४ ॥
কিন্তু ফললাভের কামনায় অথবা অহংকারযুক্ত হয়ে, অত্যধিক পরিশ্রমসহ যে কর্ম করা হয়—তাই রাজস বলা হয়।
Verse 25
अनुबन्धं क्षयं हिंसामनवेक्ष्य च पौरुषम् । मोहादारभ्यते कर्म यत्तत्तामसमुच्यते ॥ १८.२५ ॥
পরিণামের বন্ধন (অনুবন্ধ), ক্ষতি (ক্ষয়), হিংসা এবং নিজের সামর্থ্য (পৌরুষ) বিবেচনা না করে, মোহবশত যে কর্ম আরম্ভ করা হয়—তাই তামস বলা হয়।
Verse 26
मुक्तसङ्गोऽनहंवादी धृत्युत्साहसमन्वितः । सिद्ध्यसिद्ध्योर्निर्विकारः कर्ता सात्त्विक उच्यते ॥ १८.२६ ॥
আসক্তিমুক্ত, ‘আমি’ বলে অহংকার না করা, ধৈর্য ও উৎসাহে সমন্বিত এবং সিদ্ধি-অসিদ্ধিতে নির্বিকার থাকা কর্তা—সাত্ত্বিক বলা হয়।
Verse 27
रागी कर्मफलप्रेप्सुर्लुब्धो हिंसात्मकोऽशुचिः । हर्षशोकान्वितः कर्ता राजसः परिकीर्तितः ॥ १८.२७ ॥
রাগযুক্ত, কর্মফলের আকাঙ্ক্ষী, লোভী, হিংসাত্মক, অশুচি (অসংযমী) এবং হর্ষ-শোকে যুক্ত কর্তা—রাজস বলা হয়েছে।
Verse 28
अयुक्तः प्राकृतः स्तब्धः शठो नैष्कृतिकोऽलसः । विषादी दीर्घसूत्री च कर्ता तामस उच्यते ॥ १८.२८ ॥
অযুক্ত (অসংযমী), প্রাকৃত, স্তব্ধ (হঠী), শঠ (কপট), নৈষ্কৃতিক (দুষ্ট/অপকারী), অলস, বিষণ্ণ এবং দীর্ঘসূত্রী কর্তা—তামস বলা হয়।
Verse 29
बुद्धेर्भेदं धृतेश्चैव गुणतस्त्रिविधं शृणु । प्रोच्यमानमशेषेण पृथक्त्वेन धनंजय ॥ १८.२९ ॥
ধনঞ্জয়, গুণ অনুসারে বুদ্ধি ও ধৃতির ত্রিবিধ ভেদ আমি সম্পূর্ণভাবে পৃথকভাবে ব্যাখ্যা করছি—আমার কাছ থেকে তা শোন।
Verse 30
प्रवृत्तिं च निवृत्तिं च कार्याकार्ये भयाभये । बन्धं मोक्षं च या वेत्ति बुद्धिः सा पार्थ सात्त्विकी ॥ १८.३० ॥
হে পার্থ, যে বুদ্ধি প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তি, কার্য ও অকার্য, ভয় ও অভয়, বন্ধন ও মোক্ষকে যথার্থভাবে জানে—সেই বুদ্ধি সাত্ত্বিক।
Verse 31
यया धर्ममधर्मं च कार्यं चाकार्यमेव च । अयथावत्प्रजानाति बुद्धिः सा पार्थ राजसी ॥ १८.३१ ॥
হে পার্থ, যে বুদ্ধি ধর্ম-অধর্ম এবং কার্য-অকার্যকে অযথার্থভাবে বোঝে—সেই বুদ্ধি রাজসিক।
Verse 32
अधर्मं धर्ममिति या मन्यते तमसावृता । सर्वार्थान्विपरीतांश्च बुद्धिः सा पार्थ तामसी ॥ १८.३२ ॥
হে পার্থ, তমসে আচ্ছন্ন যে বুদ্ধি অধর্মকেই ধর্ম মনে করে এবং সকল বিষয়কে বিপরীতভাবে দেখে—সেই বুদ্ধি তামসিক।
Verse 33
धृत्या यया धारयते मनःप्राणेन्द्रियक्रियाः । योगेनाव्यभिचारिण्या धृतिः सा पार्थ सात्त्विकी ॥ १८.३३ ॥
হে পার্থ, অব্যভিচারিণী যোগের দ্বারা যে ধৃতি মন, প্রাণ ও ইন্দ্রিয়ের ক্রিয়াগুলিকে স্থিরভাবে ধারণ করে—সেই ধৃতি সাত্ত্বিক।
Verse 34
यया तु धर्मकामार्थान्धृत्या धारयतेऽर्जुन । प्रसङ्गेन फलाकाङ्क्षी धृतिः सा पार्थ राजसी ॥ १८.३४ ॥
হে অর্জুন, যে ধৃতির দ্বারা আসক্তিসহ ধর্ম, কাম ও অর্থকে আঁকড়ে ধরা হয় এবং ফলের আকাঙ্ক্ষা থাকে—হে পার্থ—সে ধৃতি রাজসিক।
Verse 35
यया स्वप्नं भयं शोकं विषादं मदमेव च । न विमुञ्चति दुर्मेधा धृतिः सा पार्थ तामसी ॥ १८.३५ ॥
হে পার্থ, যে ধৃতির দ্বারা দুর্মেধা ব্যক্তি স্বপ্ন, ভয়, শোক, বিষাদ ও মদ (মোহজনিত মত্ততা) ত্যাগ করে না—সে ধৃতি তামসিক।
Verse 36
सुखं त्विदानीं त्रिविधं शृणु मे भरतर्षभ । अभ्यासाद्रमते यत्र दुःखान्तं च निगच्छति ॥ १८.३६ ॥
হে ভারতশ্রেষ্ঠ, এখন আমার কাছ থেকে ত্রিবিধ সুখ শোন; যার মধ্যে মানুষ অভ্যাসের দ্বারা আনন্দ পায় এবং দুঃখের অন্তে পৌঁছে যায়।
Verse 37
यत्तदग्रे विषमिव परिणामेऽमृतोपमम् । तत्सुखं सात्त्विकं प्रोक्तमात्मबुद्धिप्रसादजम् ॥ १८.३७ ॥
যে সুখ প্রথমে বিষের মতো, কিন্তু পরিণামে অমৃতের মতো—আত্মবুদ্ধির প্রসাদ (আত্মজ্ঞানজনিত স্বচ্ছতা) থেকে উৎপন্ন—তাকে সাত্ত্বিক সুখ বলা হয়েছে।
Verse 38
विषयेन्द्रियसंयोगाद्यत्तदग्रेऽमृतोपमम् । परिणामे विषमिव तत्सुखं राजसं स्मृतम् ॥ १८.३८ ॥
বিষয় ও ইন্দ্রিয়ের সংযোগ থেকে যে সুখ উৎপন্ন হয়, যা প্রথমে অমৃতের মতো মনে হয় কিন্তু পরিণামে বিষের মতো হয়—তাকে রাজস সুখ বলা হয়।
Verse 39
यदग्रे चानुबन्धे च सुखं मोहनमात्मनः । निद्रालस्यप्रमादोत्थं तत्तामसमुदाहृतम् ॥ १८.३९ ॥
যে সুখ আরম্ভে এবং পরিণামেও আত্মাকে মোহিত করে এবং নিদ্রা, আলস্য ও প্রমাদ থেকে উৎপন্ন হয়, তাকে তামস সুখ বলা হয়।
Verse 40
न तदस्ति पृथिव्यां वा दिवि देवेषु वा पुनः । सत्त्वं प्रकृतिजैर्मुक्तं यदेभिः स्यात्त्रिभिर्गुणैः ॥ १८.४० ॥
পৃথিবীতে বা স্বর্গে, এমনকি দেবলোকেও, প্রকৃতি-জাত এই তিন গুণ থেকে মুক্ত কোনো সত্তা নেই।
Verse 41
ब्राह्मणक्षत्रियविशां शूद्राणां च परन्तप । कर्माणि प्रविभक्तानि स्वभावप्रभवैर्गुणैः ॥ १८.४१ ॥
হে পরন্তপ! ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্রদের কর্ম স্বভাবজাত গুণ অনুসারে বিভক্ত করা হয়েছে।
Verse 42
शमो दमस्तपः शौचं क्षान्तिरार्जवमेव च । ज्ञानं विज्ञानमास्तिक्यं ब्रह्मकर्म स्वभावजम् ॥ १८.४२ ॥
শম, দম, তপ, শৌচ, ক্ষান্তি, আর্জব (সরলতা), জ্ঞান, বিজ্ঞান ও আস্তিক্য—এগুলো ব্রাহ্মণের স্বভাবজাত কর্ম।
Verse 43
शौर्यं तेजो धृतिर्दाक्ष्यं युद्धे चाप्यपलायनम् । दानमीश्वरभावश्च क्षात्रं कर्म स्वभावजम् ॥ १८.४३ ॥
শৌর্য, তেজ, ধৃতি, দক্ষতা, যুদ্ধে পলায়ন না করা, দান এবং ঈশ্বরভাব—এগুলো ক্ষত্রিয়ের স্বভাবজাত কর্ম।
Verse 44
कृषिगौरक्ष्यवाणिज्यं वैश्यकर्म स्वभावजम् । परिचर्यात्मकं कर्म शूद्रस्यापि स्वभावजम् ॥ १८.४४ ॥
কৃষি, গো-রক্ষা ও বাণিজ্য—এগুলি বৈশ্যের স্বভাবজাত কর্ম; আর পরিচর্যা-রূপ সেবা-কর্ম শূদ্রেরও স্বভাবজাত।
Verse 45
स्वे स्वे कर्मण्यभिरतः संसिद्धिं लभते नरः । स्वकर्मनिरतः सिद्धिं यथा विन्दति तच्छृणु ॥ १८.४५ ॥
নিজ নিজ কর্মে নিবিষ্ট মানুষ পরম সিদ্ধি লাভ করে। স্বকর্মে নিরত থেকে সে কীভাবে সিদ্ধি পায়, তা শোনো।
Verse 46
यतः प्रवृत्तिर्भूतानां येन सर्वमिदं ततम् । स्वकर्मणा तमभ्यर्च्य सिद्धिं विन्दति मानवः ॥ १८.४६ ॥
যাঁর থেকে সকল প্রাণীর প্রবৃত্তি উদ্ভূত হয় এবং যাঁর দ্বারা এই সমস্তই ব্যাপ্ত—সেই পরমেশ্বরকে স্বকর্ম দ্বারা আরাধনা করে মানুষ সিদ্ধি লাভ করে।
Verse 47
श्रेयान्स्वधर्मो विगुणः परधर्मात्स्वनुष्ठितात् । स्वभावनियतं कर्म कुर्वन्नाप्नोति किल्बिषम् ॥ १८.४७ ॥
নিজের স্বধর্ম গুণহীন হলেও তা সু-অনুষ্ঠিত পরধর্মের চেয়ে শ্রেয়। স্বভাবনিয়ত কর্ম করতে করতে মানুষ পাপে পতিত হয় না।
Verse 48
सहजं कर्म कौन्तेय सदोषमपि न त्यजेत् । सर्वारम्भा हि दोषेण धूमेनाग्निरिवावृताः ॥ १८.४८ ॥
হে কৌন্তেয়! স্বভাবপ্রাপ্ত সহজ কর্ম দোষযুক্ত হলেও ত্যাগ করা উচিত নয়; কারণ সকল উদ্যোগই কোনো না কোনো দোষে আচ্ছন্ন থাকে—যেমন ধোঁয়ায় অগ্নি আবৃত থাকে।
Verse 49
असक्तबुद्धिः सर्वत्र जितात्मा विगतस्पृहः । नैष्कर्म्यसिद्धिं परमां संन्यासेनाधिगच्छति ॥ १८.४९ ॥
যে পুরুষ সর্বত্র আসক্তিহীন বুদ্ধিসম্পন্ন, জিতাত্মা এবং স্পৃহাহীন, সে সন্ন্যাসের দ্বারা পরম নৈষ্কর্ম্যসিদ্ধি (কর্মবন্ধনহীনতার পরম সিদ্ধি) লাভ করে।
Verse 50
सिद्धिं प्राप्तो यथा ब्रह्म तथाप्नोति निबोध मे । समासेनैव कौन्तेय निष्ठा ज्ञानस्य या परा ॥ १८.५० ॥
হে কৌন্তেয়! সিদ্ধি লাভ করা পুরুষ যেভাবে ব্রহ্মকে লাভ করে, জ্ঞানের যে পরা নিষ্ঠা, তা সংক্ষেপে আমার কাছ থেকে বুঝে নাও।
Verse 51
बुद्ध्या विशुद्ध्या युक्तो धृत्यात्मानं नियम्य च । शब्दादीन्विषयांस्त्यक्त्वा रागद्वेषौ व्युदस्य च ॥ १८.५१ ॥
বিশুদ্ধ বুদ্ধিতে যুক্ত হয়ে, ধৃতির দ্বারা আত্মাকে (মনকে) নিয়ন্ত্রণ করে, শব্দাদি বিষয়সমূহ ত্যাগ করে এবং রাগ-দ্বেষ দূর করে—
Verse 52
विविक्तसेवी लघ्वाशी यतवाक्कायमानसः । ध्यानयोगपरो नित्यं वैराग्यं समुपाश्रितः ॥ १८.५२ ॥
একান্তসেবী, অল্পাহারী, বাক্-শরীর-মন সংযমকারী, নিত্য ধ্যানযোগে পরায়ণ এবং বৈরাগ্যকে দৃঢ়ভাবে আশ্রয়কারী—
Verse 53
अहंकारं बलं दर्पं कामं क्रोधं परिग्रहम् । विमुच्य निर्ममः शान्तो ब्रह्मभूयाय कल्पते ॥ १८.५३ ॥
অহংকার, বল, দর্প, কাম, ক্রোধ এবং পরিগ্রহ (সঞ্চয়াসক্তি) ত্যাগ করে, নির্মম ও শান্ত পুরুষ ব্রহ্মভাব লাভের যোগ্য হয়।
Verse 54
ब्रह्मभूतः प्रसन्नात्मा न शोचति न काङ्क्षति । समः सर्वेषु भूतेषु मद्भक्तिं लभते पराम् ॥ १८.५४ ॥
ব্রহ্মভাবপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রসন্নচিত্ত হয়; সে না শোক করে, না কামনা করে। সর্বভূতে সমদৃষ্টি রেখে সে আমার পরাভক্তি লাভ করে।
Verse 55
भक्त्या मामभिजानाति यावान्यश्चास्मि तत्त्वतः । ततो मां तत्त्वतो ज्ञात्वा विशते तदनन्तरम् ॥ १८.५५ ॥
ভক্তির দ্বারা সে আমাকে তত্ত্বতঃ জানে—আমি কতটা এবং কেমন। তারপর আমাকে তত্ত্বতঃ জেনে তদনন্তর তাতে প্রবেশ করে।
Verse 56
सर्वकर्माण्यपि सदा कुर्वाणो मद्व्यपाश्रयः । मत्प्रसादादवाप्नोति शाश्वतं पदमव्ययम् ॥ १८.५६ ॥
সর্বদা সকল কর্ম করলেও যে আমার আশ্রয়ে থাকে, সে আমার প্রসাদে অবিনাশী শাশ্বত পদ লাভ করে।
Verse 57
चेतसा सर्वकर्माणि मयि संन्यस्य मत्परः । बुद्धियोगमुपाश्रित्य मच्चित्तः सततं भव ॥ १८.५७ ॥
চিত্তে সকল কর্ম আমাকে অর্পণ করে, আমাকে পরম লক্ষ্য জেনে, বুদ্ধিযোগের আশ্রয় নিয়ে সর্বদা আমার মধ্যে চিত্ত স্থাপন কর।
Verse 58
मच्चित्तः सर्वदुर्गाणि मत्प्रसादात्तरिष्यसि । अथ चेत्त्वमहंकारान्न श्रोष्यसि विनङ्क्ष्यसि ॥ १८.५८ ॥
আমাতে চিত্ত স্থাপন করলে আমার প্রসাদে তুমি সকল দুর্গতি অতিক্রম করবে; কিন্তু অহংকারবশে যদি না শোনো, তবে তুমি বিনষ্ট হবে।
Verse 59
यदहंकारमाश्रित्य न योत्स्य इति मन्यसे । मिथ्यैष व्यवसायस्ते प्रकृतिस्त्वां नियोक्ष्यति ॥ १८.५९ ॥
অহংকারের আশ্রয় নিয়ে যদি তুমি ভাবো—‘আমি যুদ্ধ করব না’, তবে তোমার এই সংকল্প মিথ্যা; তোমার প্রকৃতি তোমাকে কর্মে নিয়োজিত করবে।
Verse 60
स्वभावजेन कौन्तेय निबद्धः स्वेन कर्मणा । कर्तुं नेच्छसि यन्मोहात्करिष्यस्यवशोऽपि तत् ॥ १८.६० ॥
হে কৌন্তেয়! স্বভাবজাত নিজের কর্ম দ্বারা আবদ্ধ তুমি, মোহবশত যা করতে চাও না, তা-ই তুমি বাধ্য হয়ে করবেই।
Verse 61
ईश्वरः सर्वभूतानां हृद्देशेऽर्जुन तिष्ठति । भ्रामयन्सर्वभूतानि यन्त्रारूढानि मायया ॥ १८.६१ ॥
হে অর্জুন! ঈশ্বর সকল ভূতের হৃদয়দেশে অবস্থান করেন এবং নিজের মায়ায় যন্ত্রে আরূঢ়ের ন্যায় সকল প্রাণীকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে চালিত করেন।
Verse 62
तमेव शरणं गच्छ सर्वभावेन भारत । तत्प्रसादात्परां शान्तिं स्थानं प्राप्स्यसि शाश्वतम् ॥ १८.६२ ॥
হে ভারত! সর্বভাব দিয়ে কেবল তাঁরই শরণ গ্রহণ কর; তাঁর প্রসাদে তুমি পরম শান্তি এবং শাশ্বত স্থান লাভ করবে।
Verse 63
इति ते ज्ञानमाख्यातं गुह्याद्गुह्यतरं मया । विमृश्यैतदशेषेण यथेच्छसि तथा कुरु ॥ १८.६३ ॥
এইভাবে, গুহ্য থেকেও অধিক গুহ্য জ্ঞান আমি তোমাকে বললাম; এ সব সম্পূর্ণভাবে বিবেচনা করে, যেমন ইচ্ছা তেমন কর।
Verse 64
सर्वगुह्यतमं भूयः शृणु मे परमं वचः । इष्टोऽसि मे दृढमिति ततो वक्ष्यामि ते हितम् ॥ १८.६४ ॥
এবার আবার আমার পরম বচন—অত্যন্ত গুহ্য—শোন। তুমি আমার অত্যন্ত প্রিয়; তাই তোমার হিতার্থে আমি তোমাকে এই কথা বলছি।
Verse 65
मन्मना भव मद्भक्तो मद्याजी मां नमस्कुरु । मामेवैष्यसि सत्यं ते प्रतिजाने प्रियोऽसि मे ॥ १८.६५ ॥
মনে আমাকে ধারণ কর, আমার ভক্ত হও, আমার যজন-উপাসনা কর এবং আমাকে নমস্কার কর। তুমি নিশ্চয়ই আমাকে প্রাপ্ত হবে—আমি তোমাকে সত্য প্রতিজ্ঞা করছি, কারণ তুমি আমার প্রিয়।
Verse 66
सर्वधर्मान्परित्यज्य मामेकं शरणं व्रज । अहं त्वां सर्वपापेभ्यो मोक्षयिष्यामि मा शुचः ॥ १८.६६ ॥
সমস্ত ধর্ম ত্যাগ করে একমাত্র আমার শরণে এসো। আমি তোমাকে সকল পাপ থেকে মুক্ত করব; শোক কোরো না।
Verse 67
इदं ते नातपस्काय नाभक्ताय कदाचन । न चाशुश्रूषवे वाच्यं न च मां योऽभ्यसूयति ॥ १८.६७ ॥
এই উপদেশ কখনও তপস্যাহীনকে, অভক্তকে বলা উচিত নয়; যে শুনতে চায় না তাকে, এবং যে আমার নিন্দা করে তাকেও বলা উচিত নয়।
Verse 68
य इमं परमं गुह्यं मद्भक्तेष्वभिधास्यति । भक्तिं मयि परां कृत्वा मामेवैष्यत्यसंशयः ॥ १८.६८ ॥
যে আমার ভক্তদের মধ্যে এই পরম গুহ্য উপদেশ প্রচার করবে, সে আমার প্রতি পরম ভক্তি স্থাপন করে, নিঃসন্দেহে আমাকে প্রাপ্ত হবে।
Verse 69
न च तस्मान्मनुष्येषु कश्चिन्मे प्रियकृत्तमः । भविता न च मे तस्मादन्यः प्रियतरो भुवि ॥ १८.६९ ॥
মানুষদের মধ্যে তার চেয়ে অধিক আমাকে প্রিয় করে এমন কেউ নেই; এবং পৃথিবীতে তার চেয়ে অধিক আমার প্রিয় আর কেউ হবে না।
Verse 70
अध्येष्यते च य इमं धर्म्यं संवादमावयोः । ज्ञानयज्ञेन तेनाहमिष्टः स्यामिति मे मतिः ॥ १८.७० ॥
যে ব্যক্তি আমাদের উভয়ের এই ধর্মময় সংলাপ অধ্যয়ন করবে, সে জ্ঞান-যজ্ঞের দ্বারা আমার পূজা করবে—এটাই আমার মত।
Verse 71
श्रद्धावाननसूयश्च शृणुयादपि यो नरः । सोऽपि मुक्तः शुभाँल्लोकान्प्राप्नुयात्पुण्यकर्मणाम् ॥ १८.७१ ॥
যে শ্রদ্ধাবান এবং দোষদৃষ্টি-রহিত ব্যক্তি এটি শুনবে, সেও মুক্ত হয়ে পুণ্যকর্মীদের শুভ লোকসমূহ লাভ করবে।
Verse 72
कच्चिदेतच्छ्रुतं पार्थ त्वयैकाग्रेण चेतसा । कच्चिदज्ञानसंमोहः प्रनष्टस्ते धनंजय ॥ १८.७२ ॥
হে পার্থ! তুমি কি একাগ্রচিত্তে এটি শুনেছ? হে ধনঞ্জয়! তোমার অজ্ঞানজনিত মোহ কি নষ্ট হয়েছে?
Verse 73
अर्जुन उवाच । नष्टो मोहः स्मृतिर्लब्धा त्वत्प्रसादान्मयाच्युत । स्थितोऽस्मि गतसन्देहः करिष्ये वचनं तव ॥ १८.७३ ॥
অর্জুন বলল: হে অচ্যুত! আপনার প্রসাদে আমার মোহ নষ্ট হয়েছে, স্মৃতি লাভ হয়েছে। আমি সংশয়হীন হয়ে স্থির হয়েছি; আমি আপনার বাক্য পালন করব।
Verse 74
संजय उवाच । इत्यहं वासुदेवस्य पार्थस्य च महात्मनः संवादमिममश्रौषमद्भुतं रोमहर्षणम् ॥ १८.७४ ॥
সঞ্জয় বললেন: এইভাবে বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ ও মহাত্মা পার্থের এই অদ্ভুত, রোমাঞ্চকর সংলাপ আমি শ্রবণ করলাম।
Verse 75
व्यासप्रसादाच्छ्रुतवानेतद्गुह्यमहं परम् । योगं योगेश्वरात्कृष्णात्साक्षात्कथयतः स्वयम् ॥ १८.७५ ॥
ব্যাসমুনির প্রসাদে আমি এই পরম গুহ্য যোগ, যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং সाक्षাৎ বলছেন—এভাবে শ্রবণ করেছি।
Verse 76
राजन्संस्मृत्य संस्मृत्य संवादमिममद्भुतम् । केशवार्जुनयोः पुण्यं हृष्यामि च मुहुर्मुहुः ॥ १८.७६ ॥
হে রাজন! কেশব ও অর্জুনের এই অদ্ভুত, পুণ্যময় সংলাপ বারবার স্মরণ করে আমি পুনঃপুনঃ হর্ষিত হই।
Verse 77
तच्च संस्मृत्य संस्मृत्य रूपमत्यद्भुतं हरेः । विस्मयो मे महान् राजन्हृष्यामि च पुनः पुनः ॥ १८.७७ ॥
আর হে রাজন! হরির সেই অতিশয় অদ্ভুত রূপ বারবার স্মরণ করলে আমার মহা বিস্ময় জাগে এবং আমি পুনঃপুনঃ হর্ষিত হই।
Verse 78
यत्र योगेश्वरः कृष्णो यत्र पार्थो धनुर्धरः । तत्र श्रीर्विजयो भूतिर्ध्रुवा नीतिर्मतिर्मम ॥ १८.७८ ॥
যেখানে যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ আছেন এবং যেখানে ধনুর্ধর পার্থ আছেন, সেখানেই নিশ্চিতভাবে শ্রী, বিজয়, ভূতি (কল্যাণ) ও ধ্রুব নীতি থাকে—এটাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
It offers a practical psychology of decision-making: anxiety and confusion are reduced by shifting from egoic ownership to disciplined action, evaluating one’s motives through the guṇas, and practicing tyāga—working without compulsive attachment to outcomes.
The chapter emphasizes that the Supreme abides as the inner guide in the heart, while wise action recognizes multi-causal agency and relinquishes the false claim of isolated doership; liberation is aligned with knowing the Divine through devotion and inner purification.
Arjuna’s uncertainty is resolved by distinguishing abandonment from renunciation: prescribed responsibility should be fulfilled as an offering, with detachment from results and surrender to the Divine, culminating in the assurance of refuge (śaraṇāgati).
Use Chapter 18 as a leadership and resilience framework: do your role (svadharma) with clear standards, reduce stress by focusing on process over outcome, audit choices via sāttvika/ rājasa/ tāmasa patterns, and cultivate steadiness through devotion, reflection, and ethical self-regulation.
Read Bhagavad Gita in the Vedapath app
Scan the QR code to open this directly in the app, with audio, word-by-word meanings, and more.