Adhyaya 35
Kotirudra SamhitaAdhyaya 35132 Verses

Śiva-nāma-sahasraka-kathana (The Recital/Teaching of the Thousand Names of Śiva)

অধ্যায় ৩৫-এ সূত মুনিগণকে জানান যে বিষ্ণুর প্রার্থনায় পরমেশ্বর শিব প্রসন্ন হন এবং সেই পুণ্যদায়ক “শিব-নাম-সহস্রক” উপদেশরূপে প্রাপ্ত হয়েছে। এরপর “শ্রীবিষ্ণুরুবাচ” শিরোনামে শিবের সহস্র নামের স্তব শুরু হয়, যা স্তোত্রকে দেববাণী-প্রমাণ ও জপযোগ্য করে তোলে। নামগুলিতে শিবের প্রতীকী রূপ (পিনাকী, নীলকণ্ঠ, বৃষবাহন), তত্ত্বগত মহিমা (অপরিচ্ছেদ্য, পরাত্পর), যোগসাধনায় উপলব্ধি (সমাধিবেদ্য) এবং বিশ্বব্যাপী স্বরূপ (বিশ্বরূপ, বিশ্বম্ভরেশ্বর) প্রকাশিত। গূঢ় শিক্ষা—নামই সংক্ষিপ্ত তত্ত্ব-সার; ধ্যানসহ জপে সাধক রূপাতীত অনন্ত তত্ত্বে অগ্রসর হয় এবং ভক্তিভরে পাঠে পুণ্য সঞ্চয় হয়।

Shlokas

Verse 1

सूत उवाच । श्रूयतामृषयः श्रेष्ठाः कथयामि यथा श्रुतम् । विष्णुना प्रार्थितो येन संतुष्टः परमेश्वरः । तदाहं कथयाम्यद्य पुण्यं नाम सहस्रकम्

সূত বললেন—হে শ্রেষ্ঠ ঋষিগণ, শোনো; আমি যেমন শুনেছি তেমনই বলছি। যে জপে বিষ্ণুর প্রার্থনায় পরমেশ্বর শিব সম্পূর্ণ তুষ্ট হয়েছিলেন, আজ সেই পুণ্যময় সহস্রনাম আমি ঘোষণা করব।

Verse 2

श्रीविष्णुरुवाच । शिवो हरो मृडो रुद्रः पुष्करः पुष्पलोचनः । अर्थिगम्यः सदाचारः शर्वः शंभुर्महेश्वरः

শ্রীবিষ্ণু বললেন—তিনি শিব, হর, মৃড়, রুদ্র, পুষ্কর ও পুষ্পলোচন; শরণার্থী-আর্তের কাছে সহজলভ্য, সদাচারস্বরূপ, শর্ব, শম্ভু ও মহেশ্বর।

Verse 3

चंद्रापीडश्चंद्रमौलिर्विश्वं विश्वंभरेश्वरः । वेदांतसारसंदोहः कपाली नीललोहितः

তিনি চন্দ্র-মুকুটধারী, চন্দ্রমৌলি; তিনিই বিশ্ব এবং বিশ্বধারক ঈশ্বর। তিনি বেদান্তসারের সঞ্চিত রূপ, কপালধারী ও নীল-লোহিত স্বরূপ।

Verse 4

ध्यानाधारोऽपरिच्छेद्यो गौरीभर्त्ता गणेश्वरः । अष्टमूर्तिर्विश्वमूर्तिस्त्रिवर्गस्वर्गसाधनः

তিনি ধ্যানের আশ্রয়, অপরিসীম; গৌরীর পতী ও গণেশ্বর। তিনি অষ্টমূর্তি, বিশ্বমূর্তি; ত্রিবর্গ—ধর্ম, অর্থ, কাম—এবং স্বর্গলাভের সাধন।

Verse 5

ज्ञानगम्यो दृढप्रज्ञो देवदेवस्त्रिलोचनः । वामदेवो महादेवः पटुः परिवृढो दृढः

তিনি সত্য জ্ঞানে প্রাপ্য, দৃঢ় প্রজ্ঞাসম্পন্ন; দেবদেব, ত্রিনয়ন প্রভু। তিনি বামদেব, মহাদেব—দক্ষ, শক্তিতে পরিপূর্ণ পরিণত এবং অচঞ্চল স্থির।

Verse 6

विश्वरूपो विरूपाक्षो वागीशः शुचिसत्तमः । सर्वप्रमाणसंवादी वृषाङ्को वृषवाहनः

তিনি বিশ্বরূপ, বিস্ময়কর সর্বদর্শী নয়নধারী; বাক্‌-ঈশ্বর, পবিত্রদের মধ্যে পরম পবিত্র। তিনি সকল প্রমাণের সঙ্গে সঙ্গত; বৃষচিহ্নধারী এবং বৃষবাহন।

Verse 7

ईशः पिनाकी खट्वांगी चित्रवेषश्चिरंतनः । तमोहरो महायोगी गोप्ता ब्रह्मा च धूर्जटिः

তিনি ঈশ— পিনাকধারী, খট্বাঙ্গধারী, বিচিত্রবেশী, চিরন্তন। তিনি অন্ধকার-নাশক, মহাযোগী, রক্ষক, সৃষ্টিসূত্ররূপ ব্রহ্মা, এবং জটাধারী ধূর্জটি।

Verse 8

कालकालः कृत्तिवासाः सुभगः प्रणवात्मकः । उन्नध्रः पुरुषो जुष्यो दुर्वासाः पुरशासनः

তিনি কালেরও কাল, কৃত্তিবাসা (চর্মবস্ত্রধারী), সুভগ, এবং প্রণব (ওঁ) স্বরূপ। তিনি উন্নত ও অচল আশ্রয়; শরণ্য পরম পুরুষ; প্রিয় ও আরাধ্য; তপস্বী দুর্বাসা; এবং ত্রিপুর-দমনকারী পুরশাসন।

Verse 9

दिव्यायुधः स्कंदगुरुः परमेष्ठीः परात्परः । अनादिमध्यनिधनो गिरीशो गिरिजाधवः

তিনি দিব্য অস্ত্রধারী; স্কন্দের গুরু; পরমেষ্ঠী, পরাত্পর। তিনি অনাদি, অমধ্য, অনিধন; তিনি গিরীশ, এবং গিরিজা (পার্বতী)-র প্রিয় স্বামী।

Verse 10

कुबेरबंधुः श्रीकंठो लोकवर्णोत्तमो मृदुः । समाधिवेद्यः कोदंडी नीलकंठः परस्वधीः

তিনি কুবেরের বন্ধু ও সহায়, শ্রীকণ্ঠ—লোকসমূহে প্রশংসিত সর্বোত্তম ও কোমল কৃপাময়। তিনি সমাধিতে বেদ্য, কোদণ্ডধারী, নীলকণ্ঠ এবং পরম পরশুধারী শিব—বন্ধনগ্রস্ত জীবের মোচক।

Verse 11

विशालाक्षो मृगव्याधः सुरेशः सूर्यतापनः । धर्मधाम क्षमाक्षेत्रं भगवान्भगनेत्रभित्

তিনি বিশালাক্ষ; মৃগব্যাধ—মনের উন্মত্ততা দমনকারী; দেবগণের ঈশ্বর এবং সূর্যকেও অতিক্রমকারী তেজস্বী। তিনি ধর্মের ধাম, ক্ষমার পবিত্র ক্ষেত্র, এবং ভগের চক্ষু বিনাশকারী ভগবান।

Verse 12

उग्रः पशुपतिस्तार्क्ष्यः प्रियभक्तः परंतपः । दाता दयाकरो दक्षः कर्मंदीः कामशासनः

তিনি উগ্র, পশুপতি, তার্ক্ষ্যসম দ্রুত; ভক্তকে অতি প্রিয় মানেন, শত্রুদমনকারী। তিনি দাতা, দয়াকার, দক্ষ; কর্মে নিয়োজিত বুদ্ধিসম্পন্ন এবং কামকে শাসনকারী।

Verse 13

श्मशाननिलयः सूक्ष्मः श्मशानस्थो महेश्वरः । लोककर्त्ता मृगपतिर्महाकर्त्ता महौषधिः

যাঁর নিবাস শ্মশান, যিনি সূক্ষ্ম ও অগোচর—তিনি শ্মশানস্থ মহেশ্বর। তিনি লোকসৃষ্টিকর্তা, সকল জীবের মৃগপতি, মহাকর্তা এবং সংসারবন্ধন-নাশক মহৌষধি।

Verse 14

उत्तरो गोपतिर्गोप्ता ज्ञानगम्यः पुरातनः । नीतिः सुनीतिः शुद्धात्मा सोमः सोमरतः सुखी

তিনি পরম উত্তারক, সকল জীবের গোপতি ও রক্ষক; সত্য জ্ঞানে গম্য, প্রাচীনতম। তিনি নীতি ও সুনীতি, শুদ্ধাত্মা; তিনি সোম, সোমে রত, সদা সুখময়।

Verse 15

सोमपोऽमृतपः सौम्यो महातेजा महाद्युतिः । तेजोमयोऽमृतमयोऽन्नमयश्च सुधापतिः

তিনি সোমপায়ী ও অমৃতপায়ী; সৌম্য, মহাতেজস্বী ও মহাদ্যুতিময়। তিনি তেজোময়, অমৃতময়, অন্নময়ও; এবং সুধার অধিপতি।

Verse 16

अजातशत्रुरालोकः संभाव्यो हव्यवाहनः । लोककरो वेदकरः सूत्रकारः सनातनः

তিনি অজাতশত্রু, জ্ঞান-আলোকস্বরূপ, সদা ধ্যানযোগ্য ও হব্যবাহন। তিনি লোককর, বেদপ্রকাশক, পবিত্র সূত্রের প্রণেতা এবং সনাতন।

Verse 17

महर्षिकपिलाचार्यो विश्वदीप्तिस्त्रिलोचनः । पिनाकपाणिर्भूदेवः स्वस्तिदः स्वस्तिकृत्सुधीः

তিনি মহর্ষি ও আচার্য কপিল, বিশ্বকে আলোকিতকারী দিব্য দীপ্তি, ত্রিনয়ন প্রভু। পিনাকধারী ভূদেব, তিনি মঙ্গলদাতা ও কল্যাণস্রষ্টা, পরম প্রজ্ঞাবান।

Verse 18

धातृधामा धामकरः सर्वगः सर्वगोचरः । ब्रह्मसृग्विश्वसृक्सर्गः कर्णिकारः प्रियः कविः

তিনি ধাত্রার ধাম এবং সকল দীপ্তির নির্মাতা; সর্বব্যাপী হয়েও সকলের গোচর। তিনি ব্রহ্মাকে প্রসবকারী, বিশ্ব ও সৃষ্টিপ্রবাহের স্রষ্টা; কর্ণিকার-সম উজ্জ্বল, প্রিয়তম ও দিব্য কবি-ঋষি।

Verse 19

शाखो विशाखो गोशाखः शिवो भिषगनुत्तमः । गंगाप्लवोदको भव्यः पुष्कलः स्थपतिः स्थिरः

তিনি শাখা ও বিশাখা—শাখাময় ও বহুশাখী; তিনি গোশাখা—সকল জীবের আশ্রয়-শাখা। তিনি শিব, বন্ধনরোগের পরম বৈদ্য। তিনি গঙ্গার পবিত্র প্লাবনের জল; ভব্য, পুষ্কল কৃপাময়—দিব্য স্থপতি ও অচল, স্থির প্রভু।

Verse 20

विजितात्मा विधेयात्मा भूतवाहनसारथिः । सगणो गणकायश्च सुकीर्तिच्छिन्नसंशयः

তিনি আত্মজয়ী ও সম্পূর্ণ সংযত; ভূত-যানবাহনের সারথি। গণসহিত এবং গণসমষ্টিরই স্বরূপ, তিনি নির্মল কীর্তিমান—যিনি সকল সংশয় ছিন্ন করেন।

Verse 21

कामदेवः कामपालो भस्मोद्धूलितविग्रहः । भस्मप्रियो भस्मशायी कामी कांतः कृतागमः

তিনি কামদেব, কামের পালনকর্তা; যাঁর দেহ পবিত্র ভস্মে ধূসরিত। ভস্মপ্রিয়, ভস্মে শয়নকারী; কামের নিয়ন্তা-ভোক্তা, প্রিয়তম, এবং আগম-প্রতিষ্ঠাতা।

Verse 22

समावर्तोऽनिवृत्तात्मा धर्मपुंजः सदाशिवः । अकल्मषश्च पुण्यात्मा चतुर्बाहुर्दुरासदः

তিনি সম্পূর্ণ পরিপূর্ণ, রক্ষার জন্য সদা প্রবৃত্ত, অন্তরে অচঞ্চল; তিনি ধর্মের পুঞ্জ—স্বয়ং সদাশিব। তিনি নিষ্কলুষ, পরম পুণ্যাত্মা, চতুর্ভুজ ও দুর্জয়।

Verse 23

दुर्लभो दुर्गमो दुर्गः सर्वायुधविशारदः । अध्यात्मयोगनिलयः सुतंतुस्तंतुवर्धनः

তিনি দুর্লভ, দুর্গম, তবু তিনিই অজেয় দুর্গ-আশ্রয়; তিনি সর্ব অস্ত্রে পারদর্শী। তিনি অধ্যাত্ম-যোগের নিলয়; তিনি সূক্ষ্ম তন্তু এবং বিশ্বতন্তুর বর্ধক-ধারক।

Verse 24

शुभांगो लोकसारंगो जगदीशो जनार्दनः । भस्मशुद्धिकरो मेरुरोजस्वी शुद्धविग्रहः

তাঁর অঙ্গ শুভ; তিনি লোকসমূহের সার; তিনি জগতের ঈশ্বর ও জনের আশ্রয়। তিনি ভস্ম দ্বারা শুদ্ধিদাতা, মেরুর ন্যায় অচল, তেজস্বী এবং শুদ্ধ দিব্য দেহধারী।

Verse 25

असाध्यः साधुसाध्यश्च भृत्यमर्कटरूपधृक् । हिरण्यरेताः पौराणो रिपुजीवहरो बली

তিনি অসাধ্য, তবু সাধুজনের সাধনায় সাধ্য; তিনি ভৃত্যরূপও, মর্কটরূপও ধারণ করেন। তিনি হিরণ্যরেতা, পুরাণপুরুষ, শত্রুর প্রাণশক্তি হরণকারী, এবং পরাক্রমী।

Verse 26

महाह्रदो महागर्तस्सिद्धोवृंदारवंदितः । व्याघ्रचर्मांबरो व्याली महाभूतो महानिधिः

তিনি মহাপবিত্র হ্রদ ও মহাগহ্বর; সিদ্ধগণ ও দেবগণের দ্বারা বন্দিত। ব্যাঘ্রচর্ম পরিধানকারী, সর্পধারী—তিনি মহাভূত, সর্বোচ্চ নিধি (আশ্রয়)।

Verse 27

अमृतोऽमृवपुः श्रीमान्पाञ्चजन्यः प्रभंजनः । पंचविंशतितत्त्वस्थः पारिजातः परात्परः

তিনি অমৃত, অব্যয় দেহধারী ও শ্রীসম্পন্ন; পাঞ্চজন্য-নাদস্বরূপ এবং প্রবল প্রভঞ্জন। পঁচিশ তত্ত্বের অতীত স্থিত, তিনি কামনা-ফলদায়ী পারিজাত এবং পরাত্পর পরম।

Verse 28

सुलभस्सुव्रतश्शूरो वाङ्मयैकनिधिर्निधिः । वर्णाश्रमगुरुर्वर्णी शत्रुजिच्छत्रुतापनः

তিনি সুলভ, সুব্রতধারী ও বীর; বাণীময় একমাত্র নিধি এবং নিজেই নিধিস্বরূপ। তিনি বর্ণ-আশ্রমধর্মের গুরু-আচার্য; শত্রুজয়ী ও শত্রুদমনকারী।

Verse 29

आश्रमः क्षपणः क्षामो ज्ञानवानचलेश्वरः । प्रमाणभूतो दुर्ज्ञेयः सुपर्णो वायुवाहनः

তিনি আশ্রয়স্বরূপ, পাপনাশক, তপস্বী ও সংযমী; অচলেশ্বরদের অধিপতি, পূর্ণ জ্ঞানসম্পন্ন। তিনি প্রমাণস্বরূপ, দুর্জ্ঞেয়; সুপর্ণস্বরূপ এবং বায়ুবাহনে আরূঢ়।

Verse 30

धनुर्धरो धनुर्वेदो गुणः शशिगुणाकरः । सत्यस्सत्यपरोऽदीनो धर्मो गोधर्मशासनः

তিনি ধনুর্ধর এবং ধনুর্বেদস্বরূপ; তিনি গুণস্বরূপ এবং চন্দ্রসম শীতল গুণের আধার। তিনি সত্য, সত্যপরায়ণ, কখনও দীন নন; তিনি ধর্ম এবং ধর্মশাসনের নিয়ন্তা।

Verse 31

अनंतदृष्टिरानंदो दंडो दमयिता दमः । अभिचार्य्यो महामायो विश्वकर्म विशारदः

যাঁর দৃষ্টি অনন্ত, যিনি স্বয়ং আনন্দস্বরূপ; যিনি দণ্ডদাতা ও শাসক, এবং স্বয়ং সংযম। তিনি অভিচারবিদ্যার অধীশ, মহামায়ার অধিপতি, বিশ্বকর্মা—জগতের কারিগর—এবং পরম দক্ষ।

Verse 32

वीतरागो विनीतात्मा तपस्वीभूतभावनः । उन्मत्तवेषः प्रच्छन्नो जितकामोऽजितप्रियः

তিনি ছিলেন বিরাগী, বিনীতচিত্ত, তপস্বী এবং সকল ভূতকে পবিত্রকারী। উন্মত্তের বেশে গোপনে বিচরণ করতেন; কাম জয় করে তিনি অজিত-প্রিয়—অজিত (শিব)-এর প্রিয়—হলেন।

Verse 33

कल्याणप्रकृतिः कल्पः सर्वलोकप्रजापतिः । तरस्वी तारको धीमान्प्रधानः प्रभुरव्ययः

তিনি কল্যাণময় স্বভাবের; তিনিই কল্প-নিয়ম। তিনি সকল লোকের প্রজাপতি। তিনি পরাক্রমশালী, তারক (ভবসাগর পার করান), সর্বজ্ঞ, আদিতত্ত্ব, প্রভু ও অব্যয়।

Verse 34

लोकपालोंऽतर्हितात्मा कल्पादिः कमलेक्षणः । वेदशास्त्रार्थतत्त्वज्ञोऽनियमो नियताश्रयः

তিনি লোকপাল, নিজ স্বরূপে অন্তর্হিত আত্মা; কল্পের আদিস্বরূপ, কমলনয়ন। তিনি বেদ-শাস্ত্রের অর্থতত্ত্বজ্ঞ; নিয়মাতীত হয়েও তিনি নিয়ত ধর্মাচরণের দৃঢ় আশ্রয়।

Verse 35

इति श्रीशिवमहापुराणे चतुर्थ्यां कोटिरुद्रसंहितायां शिवसहस्रनामवर्णनं नाम पञ्चत्रिंशोध्यायः

এইভাবে শ্রীশিবমহাপুরাণের চতুর্থ ভাগ, কোটিরুদ্রসংহিতায় “শিবসহস্রনাম-বর্ণন” নামক পঁয়ত্রিশতম অধ্যায় সমাপ্ত হল।

Verse 36

अद्रिरद्र्यालयः कांतः परमात्मा जगद्गुरुः । सर्वकर्मालयस्तुष्टो मंगल्यो मंगलावृतः

তিনি পর্বত এবং পর্বতবাসী; প্রিয় প্রভু, পরমাত্মা ও জগতগুরু। তিনি সকল পুণ্যকর্মের আশ্রয়—সদা তুষ্ট, মঙ্গলময়, মঙ্গলে আবৃত।

Verse 37

महातपा दीर्घतपाः स्थविष्ठ स्थविरो ध्रुवः । अहः संवत्सरो व्याप्तिः प्रमाणं परमं तपः

তিনি মহাতপস্বী, দীর্ঘতপস্যার অধিকারী—অতিবৃহৎ, অতিপ্রাচীন ও ধ্রুব। তিনিই দিন ও বছর; তিনিই সর্বব্যাপী সত্তা, সকলের সত্য পরিমাপ, এবং পরম তপস্যা।

Verse 38

संवत्सरकरो मंत्रः प्रत्ययः सर्वतापनः । अजः सर्वेश्वरस्सिद्धो महातेजा महाबलः

তিনি সংवत্সর সম্পূর্ণকারী মন্ত্র; বিশ্বাসের ভিত্তি এবং সকল দুঃখতাপ দগ্ধকারী। তিনি অজ, সর্বেশ্বর, সদাসিদ্ধ—মহাতেজস্বী ও মহাবলী।

Verse 39

योगी योग्यो महारेता सिद्धिः सर्वादिरग्रहः । वसुर्वसुमनाः सत्यः सर्वपापहरो हरः

তিনি যোগী, এবং যোগের দ্বারা লাভযোগ্য; দিব্য শক্তির মহান ধারক। তিনিই সিদ্ধি, সকলের আদিস্রোত ও অগ্রাহ্য। তিনি বসু—অন্তর্নিহিত জ্যোতি—সুমনস্ক, সত্যস্বরূপ; আর হর রূপে সকল পাপ হরণ করেন।

Verse 40

सुकीर्ति शोभनस्स्रग्वी वेदांगो वेदविन्मुनिः । भ्राजिष्णुर्भोजनं भोक्ता लोकनाथो दुराधरः

তিনি সুকীর্তি, শোভন মালায় ভূষিত; বেদের অঙ্গ এবং বেদজ্ঞ মুনি। তিনি দীপ্তিমান; তিনিই ভোজন এবং তিনিই ভোক্তা; তিনি লোকনাথ—তবু দুর্ধর, দুঃসাধ্য।

Verse 41

अमृतश्शाश्वतश्शांतो बाणहस्तः प्रतापवान् । कमंडलुधरो धन्वी ह्यवाङ्मनसगोचरः

তিনি অমৃত, শাশ্বত ও পরম শান্ত। হাতে বাণ ধারণকারী প্রতাপশালী, কমণ্ডলু-ধারী ধনুর্ধর; তিনি বাক্য ও মনের অগোচর।

Verse 42

अतींद्रियो महामायस्सर्ववासश्चतुष्पथः । कालयोगी महानादो महोत्साहो महाबलः

তিনি ইন্দ্রিয়াতীত; মহামায়া (এবং মায়াতীতও); সকল আবাসে অন্তর্বর্তী উপস্থিতি, চতুষ্পথের অধিপতি। তিনি কালযোগী, মহানাদ-স্বরূপ, মহোৎসাহী ও মহাবলী।

Verse 43

महाबुद्धिर्महावीर्यो भूतचारी पुरं दरः । निशाचरः प्रेतचारी महाशक्तिर्महाद्युतिः

তিনি মহাবুদ্ধিমান ও মহাবীর্যবান; ভূতসমূহের মধ্যে বিচরণকারী এবং দুর্গভেদী। তিনি নিশাচর, প্রেতগণের মধ্যে গমনকারী; মহাশক্তিমান ও মহাদ্যুতিতে দীপ্ত।

Verse 44

अनिर्देश्यवपुः श्रीमान्सर्वाचार्यमनोगतिः । बहुश्रुतिर्महामायो नियतात्मा ध्रुवोऽध्रुवः

তিনি শ্রীময় প্রভু, যাঁর রূপ অনির্দেশ্য; সকল আচার্য ও সাধনার অন্তর্লক্ষ্য-প্রেরণা। তিনি বহুশ্রুতির সার, মহামায়ার অধিপতি; সংযতচিত্ত, ধ্রুব এবং লীলায় অধ্রুবের ন্যায়ও।

Verse 45

तेजस्तेजो द्युतिधरो जनकः सर्वशासकः । नृत्यप्रियो नृत्यनित्यः प्रकाशात्मा प्रकाशकः

তিনি তেজেরও তেজ, দিব্য দ্যুতিধারী; জনক ও সর্বশাসক। তিনি নৃত্যপ্রিয়, নৃত্যে নিত্য প্রতিষ্ঠিত; স্বয়ং প্রকাশস্বরূপ এবং সকলকে আলোকিতকারী।

Verse 46

स्पष्टाक्षरो बुधो मंत्रः समानः सारसंप्लवः । युगादिकृद्युगावर्तो गंभीरो वृषवाहनः

তিনি স্পষ্টাক্ষরযুক্ত, বুদ্ধিমান—স্বয়ং মন্ত্রস্বরূপ; সমদর্শী, সার-স্রোতের প্লাবন। যুগের আদিকর্তা ও যুগচক্রের আবর্তক, গভীর ও অগাধ, বৃষভবাহন মহাদেব।

Verse 47

इष्टो विशिष्टः शिष्टेष्टः सुलभः सारशो धनः । तीर्थरूपस्तीर्थनामा तीर्थादृश्यस्तु तीर्थदः

তিনি ইষ্ট, বিশিষ্ট, শিষ্টজনের প্রিয় ও সংযমীদের আরাধ্য। সহজলভ্য, সারস্বরূপ ও সত্য ধন। তিনি সকল তীর্থের রূপ, তীর্থনামে খ্যাত; সাধারণ দৃষ্টিতে অদৃশ্য হলেও তীর্থফলদাতা।

Verse 48

अपांनिधिरधिष्ठानं विजयो जयकालवित् । प्रतिष्ठितः प्रमाणज्ञो हिरण्यकवचो हरिः

তিনি জলের নিধি ও অধিষ্ঠানস্বরূপ ভিত্তি। তিনি স্বয়ং বিজয় এবং জয়ের যথোচিত কালজ্ঞ। সদা প্রতিষ্ঠিত, প্রমাণজ্ঞ; স্বর্ণ-কবচধারী হরি-স্বরূপ প্রভু।

Verse 49

विमोचनस्सुरगणो विद्येशो बिंदुसंश्रयः । वातरूपोऽमलोन्मायी विकर्ता गहनो गुहः

তিনি বিমোচন—মুক্তিদাতা; দেবগণের সমষ্টি ও দেবাধিপতি; বিদ্যেশ—আধ্যাত্মিক বিদ্যার প্রভু, সূক্ষ্ম বিন্দুতে প্রতিষ্ঠিত। তিনি বায়ুরূপ, অগোচর ও সর্বব্যাপী; নির্মল, মায়াতীত; রূপান্তরকারী; অগাধ, এবং হৃদয়-গুহায় অন্তর্বাসী।

Verse 50

करणं कारणं कर्ता सर्वबंधविमोचनः । व्यवसायो व्यवस्थानः स्थानदो जगदादिजः

তিনি উপায়ও, কারণও, এবং কর্তা; তিনি সকল বন্ধন থেকে মুক্তিদাতা। তিনি সৎপ্রচেষ্টা ও বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা; তিনি যথার্থ স্থান প্রদানকারী, এবং জগতের আদিস্রোত।

Verse 51

गुरुदो ललितोऽभेदो भावात्मात्मनि संस्थितः । वीरेश्वरो वीरभद्रो वीरासनविधिर्गुरुः

তিনি গুরু-প্রদাতা, ললিত লীলাময় প্রভু, পরম তত্ত্বের সঙ্গে অভেদ, এবং ভাব-স্বরূপ হয়ে আত্মার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত। তিনিই বীরেশ্বর, তিনিই বীরভদ্র, এবং তিনিই বীরাসনের বিধি শেখানো গুরু।

Verse 52

वीरचूडामणिर्वेत्ता चिदानंदो नदीधरः । आज्ञाधारस्त्रिशूली च शिपिविष्टः शिवालयः

তিনি বীরদের শিরোমণির জ্ঞাতা, চিত্-আনন্দ-স্বরূপ, এবং নদীধারী। তিনি আজ্ঞার আধার, ত্রিশূলধারী, সর্বব্যাপী, এবং কল্যাণময় শিবের নিজ আবাস।

Verse 53

बालखिल्यो महावीरस्तिग्मांशुर्बधिरः खगः । अभिरामः सुशरणः सुब्रह्मण्यः सुधापतिः

তিনি বালখিল্য—সূক্ষ্ম তপস্বী, মহাবীর, তীক্ষ্ণ কিরণময় দীপ্তিমান, (ইন্দ্রিয়াতীত) বধির, এবং আকাশগামী। তিনি অভিরাম, শ্রেষ্ঠ আশ্রয়, ধার্মিক ও ব্রাহ্মণদের কৃপালু রক্ষক, এবং অমৃতের অধিপতি।

Verse 54

मघवान्कौशिको गोमान्विरामः सर्वसाधनः । ललाटाक्षो विश्वदेहः सारः संसारचक्रभृत्

তিনি মঘবান, পরাক্রমশালী প্রভু; কৌশিক; গোধন ও ঐশ্বর্যে সমৃদ্ধ; সকল অশান্তির বিরাম এবং সকল সাধনের উপায়স্বরূপ। তিনি ললাটনেত্রধারী, বিশ্বদেহ, পরম সারতত্ত্ব, এবং সংসারচক্রের ধারক ও নিয়ন্তা।

Verse 56

रुचिर्बहुरुचिर्वेद्यो वाचस्पतिरहस्पतिः । रविर्विरोचनः स्कंदः शास्ता वैवस्वतो यमः

তিনি স্বয়ং দীপ্তি এবং বহুবিধ জ্যোতিতে বিভূষিত; বেদ ও উপলব্ধির দ্বারা জ্ঞেয়। তিনি পবিত্র বাণীর অধিপতি এবং দিবসের প্রভু। তিনি রবি, বিরোচন, স্কন্দ; এবং শাস্তা—বিবস্বানের পুত্র যম, সংযমের অধিপতি।

Verse 57

युक्तिरुन्नतकीर्तिश्च सानुरागः पुरंजयः । कैलासाधिपतिः कांतः सविता रविलोचनः

তিনি স্বয়ং যুক্তি ও উচ্চ কীর্তি; স্নেহময় করুণ, পুরজয়ী। তিনি কৈলাসাধিপতি, প্রিয়তম, স্বয়ং সবিতা, এবং সূর্যসম নয়নধারী।

Verse 58

विश्वोत्तमो वीतभयो विश्वभर्त्ताऽनिवारितः । नित्यो नियतकल्याणः पुण्यश्रवणकीर्त्तनः

তিনি বিশ্বোত্তম, নির্ভয়; সমগ্র জগতের ধারক, অপ্রতিরোধ্য। তিনি নিত্য, কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত; যাঁর শ্রবণ ও কীর্তন পুণ্যদায়ক।

Verse 59

दूरश्रवो विश्वसहो ध्येयो दुःस्वप्ननाशनः । उत्तारणो दुष्कृतिहा विज्ञेयो दुःसहोऽभवः

তিনি দূরশ্রবণ, বিশ্বসহ; ধ্যানযোগ্য, দুঃস্বপ্ননাশক। তিনি উত্তারণকারী, দুষ্কৃতি-সংহারক; তাঁকে অব্যয়, অজন্মা, অধর্মের পক্ষে অসহ্য প্রভু বলে জানো।

Verse 60

अनादिर्भूर्भुवो लक्ष्मीः किरीटी त्रिदशाधिपः । विश्वगोप्ता विश्वकर्त्ता सुवीरो रुचिरांगदः

তিনি অনাদি; ভূঃ ও ভুবঃ-লোকের ভিত্তিস্বরূপ। তিনি স্বয়ং লক্ষ্মীরূপ মঙ্গলময় সমৃদ্ধি। মুকুটধারী, দেবগণের অধিপতি, বিশ্বরক্ষক ও বিশ্বস্রষ্টা; পরম বীর, দীপ্তিময় বাহুবন্ধে বিভূষিত।

Verse 61

जननो जनजन्मादिः प्रीतिमान्नीतिमान्ध्रुवः । वशिष्ठः कश्यपो भानुर्भीमो भीमपराक्रमः

তিনি জনক, সকল জন্মের আদিসূত্র; প্রেমময়, নীতিমান, ধ্রুব ও অচল। তিনি (এছাড়াও) বশিষ্ঠ, কশ্যপ এবং দীপ্তিমান ভানু; তিনি ভীম, যার পরাক্রম ভয়ংকর।

Verse 62

प्रणवः सत्पथाचारो महाकोशो महाधनः । जन्माधिपो महा देवः सकलागमपारगः

তিনিই প্রণব (ॐ), তিনিই সত্যপথের আচরণ; তিনিই মহাভাণ্ডার ও মহাধন। তিনিই জন্ম ও সমগ্র দেহধারী অস্তিত্বের অধিপতি মহাদেব, যিনি সকল আগমের পারগামী।

Verse 63

तत्त्वं तत्त्वविदेकात्मा विभुर्विष्णुर्विभूषणः । ऋषिर्ब्राह्मण ऐश्वर्यजन्ममृत्युजरातिगः

তিনিই পরম তত্ত্ব, তত্ত্ববিদদের একাত্ম স্বরূপ; সর্বব্যাপী ও পালনকারী, জগতের সত্য অলংকার। তিনি ঋষি, শুদ্ধ ব্রাহ্মণ-তত্ত্ব, ঐশ্বর্যবান, জন্ম-মৃত্যু ও জরা অতিক্রমকারী।

Verse 64

पंचयज्ञसमुत्पत्तिर्विश्वेशो विमलोदयः । आत्मयोनिरनाद्यंतो वत्सलो भक्तलोकधृक्

তিনিই পঞ্চযজ্ঞের উৎপত্তির মূল; তিনি বিশ্বেশ, যাঁর প্রকাশ নির্মল ও পবিত্র। স্বয়ম্ভূ, অনাদি-অনন্ত, তিনি স্নেহময় এবং ভক্তলোককে ধারণ ও রক্ষা করেন।

Verse 65

गायत्रीवल्लभः प्रांशुर्विश्वावासः प्रभाकरः । शिशुर्गिरिरतः सम्राट् सुषेणः सुरशत्रुहा

তিনি গায়ত্রীর প্রিয়তম, উচ্চ ও মহিমান্বিত, বিশ্ব-আবাস এবং দীপ্তির স্রষ্টা। তিনি নিত্য-শিশু, গিরিরত (কৈলাস-রসিক), সম্রাট, শ্রেষ্ঠ সেনানায়ক এবং দেবশত্রুনাশক।

Verse 66

अनेमिरिष्टनेमिश्च मुकुन्दो विगतज्वरः । स्वयंज्योतिर्महाज्योतिस्तनुज्योतिरचंचलः

তিনি অनेমি (সীমাহীন) ও ইষ্টনেমি (নির্দোষ সীমাধারী); তিনি মুকুন্দ, জ্বর-দুঃখহীন। তিনি স্বয়ংজ্যোতি—মহাজ্যোতি—যাঁর দেহই জ্যোতি, অচঞ্চল ও অটল।

Verse 67

पिंगलः कपिलश्मश्रुर्भालनेत्रस्त्रयीतनुः । ज्ञानस्कंदो महानीतिर्विश्वोत्पत्तिरुपप्लवः

তিনি পিঙ্গল, কপিল-দাড়িধারী, ললাট-নয়নধারী, যাঁর দেহ ত্রয়ী-বেদময়। তিনি জ্ঞানস্তম্ভ, মহা-নীতির পথপ্রদর্শক, বিশ্বোৎপত্তির কারণ ও উপপ্লব-নাশক শিব।

Verse 68

भगो विवस्वानादित्यो गतपारो बृहस्पतिः । कल्याणगुणनामा च पापहा पुण्यदर्शनः

তিনি ভগ, তিনি বিবস্বান্ আদিত্য; তিনি সীমা অতিক্রান্ত এবং বৃহস্পতিস্বরূপ। তাঁর নামই কল্যাণগুণময়; তিনি পাপহর ও পুণ্যদর্শী শিব।

Verse 69

उदारकीर्तिरुद्योगी सद्योगी सदसत्त्रपः । नक्षत्रमाली नाकेशः स्वाधिष्ठानः षडाश्रयः

তিনি উদারকীর্তি, সদা উদ্যোগী, নিত্য-যোগযুক্ত; সৎ ও অসৎ উভয়েই পূজ্য। তিনি নক্ষত্রমালাধারী, স্বর্গাধিপতি, স্বাধিষ্ঠানস্বরূপ, এবং ষড়াশ্রয়ের আশ্রয় শিব।

Verse 70

पवित्रः पापहारी च मणिपूरो नभोगतिः । हृत्पुंडरीकमासीनः शक्रः शांतो वृषाकपिः

তিনি পবিত্র ও পাপহর; তিনি মণিপূরস্বরূপ এবং আকাশগামী। হৃদয়-পদ্মে আসীন, তিনি শক্রসম শক্তিমান, শান্ত, এবং বৃষাকপি—বৃষভচিহ্নধারী শিব।

Verse 71

उष्णो गृहपतिः कृष्णः समर्थोऽनर्थनाशनः । अधर्मशत्रुरज्ञेयः पुरुहूतः पुरुश्रुतः

তিনি উষ্ণতাস্বরূপ, গৃহপতি (যজ্ঞাগ্নির অধিপতি), কৃষ্ণবর্ণ, সর্বসমর্থ ও অনর্থনাশক। তিনি অধর্মের শত্রু, অজ্ঞেয়, বহুজনে আহূত, এবং বহুশ্রুতিতে কীর্তিত শিব।

Verse 72

ब्रह्मगर्भो बृहद्गर्भो धर्मधेनुर्धनागमः । जगद्धितैषी सुगतः कुमारः कुशलागमः

তিনি ব্রহ্মবীজধারী, সর্বসত্তার মহাগর্ভ; ধর্মের ধেনু ও ধন-সমৃদ্ধির উৎস। তিনি জগতের হিতকামী, সুগতিস্বরূপ, দিব্য কুমার এবং কল্যাণের আগমন।

Verse 73

हिरण्यवर्णो ज्योतिष्मान्नानाभूतरतो ध्वनिः । आरोग्यो नमनाध्यक्षो विश्वामित्रो धनेश्वरः

তিনি স্বর্ণবর্ণ ও জ্যোতির্ময়; নানাবিধ ভূতসমূহে রত এবং স্বয়ং ধ্বনিস্বরূপ। তিনি আরোগ্য, নমস্কারের অধিপতি, বিশ্বমিত্র ও ধনের ঈশ্বর।

Verse 74

ब्रह्मज्योतिर्वसुधामा महाज्योतिरनुत्तमः । मातामहो मातरिश्वा नभस्वान्नागहारधृक्

তিনি স্বয়ং ব্রহ্মজ্যোতি, পৃথিবীর দীপ্ত আশ্রয়, সর্বোত্তম ও অতুল মহাজ্যোতি। তিনিই ভুতগণের মাতামহ, অন্তঃপ্রাণরূপ মাতরিশ্বা, আকাশব্যাপী নভস্বান, এবং নাগহারধারী শিব।

Verse 75

पुलस्त्यः पुलहोऽगस्त्यो जातूकर्ण्यः पराशरः । निरावरणनिर्वारो वैरंच्यो विष्टरश्रवाः

পুলস্ত্য, পুলহ, অগস্ত্য, জাতূকর্ণ্য ও পরাশর; তদুপরি নিরावरण, নির্বার, বৈরঞ্চ্য ও বিষ্টরশ্রবা—এই পূজ্য ঋষিগণও এই পবিত্র আখ্যানে গণ্য ও স্মৃত।

Verse 76

आत्मभूरनिरुद्धोऽत्रिर्ज्ञानमूर्तिर्महायशाः । लोकवीराग्रणीर्वीरश्चण्डः सत्यपराक्रमः

এখানে আত্মভূ (ব্রহ্মা), অনিরুদ্ধ ও অত্রি; এবং মহাযশস্বী জ্ঞানমূর্তির নাম উচ্চারিত। তদুপরি লোকবীরদের অগ্রগণ্য বীর, পরাক্রমী, উগ্র চণ্ড—যাঁর বীর্য সত্যে প্রতিষ্ঠিত—তাঁরও উল্লেখ আছে।

Verse 77

व्यालकल्पो महाकल्पः कल्पवृक्षः कलाधरः । अलंकरिष्णुरचलो रोचिष्णुर्विक्रमोन्नतः

তিনি ব্যালকল্প, মহাকল্প; তিনি কল্পবৃক্ষ এবং সকল কলার ধারক। তিনি সকলকে অলংকৃতকারী, অচল প্রভু; সদা দীপ্তিমান এবং পরাক্রমী বিক্রমে উন্নত।

Verse 78

आयुः शब्दपतिर्वाग्मी प्लवनश्शिखिसारथिः । असंसृष्टोऽतिथिश्शत्रुः प्रमाथी पादपासनः

তিনি স্বয়ং আয়ু, শব্দ ও বাক্যের অধিপতি, পরম বাগ্মী; সংসারসাগর পার করানো প্লবন, অগ্নিজ শক্তির সারথি। তিনি অসংসৃষ্ট ও অস্পৃষ্ট; অতিথির ন্যায় পূজ্য এবং শত্রুতা-নাশক; প্রবল প্রমাথী, যাঁর চরণে সকলের আসন ও শরণ।

Verse 79

वसुश्रवा कव्यवाहः प्रतप्तो विश्वभोजनः । जप्यो जरादिशमनो लोहितश्च तनूनपात्

তিনি বসুশ্রবা—খ্যাতিমান ও সমৃদ্ধ; কব্যবাহ—পিতৃলোকের উদ্দেশে হবি বহনকারী; প্রতপ্ত—অতিশয় দীপ্তিমান; এবং বিশ্বভোজন—সমগ্র জগতের পোষক। তিনি জপ্য—জপে আরাধ্য; জরা-আদি ক্লেশশমন; লোহিত—অরুণবর্ণ প্রভু; এবং তনূনপাত—দেহধারীদের অন্তরে স্থিত স্বয়ম্ভূ অগ্নি।

Verse 80

पृषदश्वो नभोयोनिः सुप्रतीकस्तमिस्रहा । निदाघस्तपनो मेघभक्षः परपुरंजयः

তিনি পৃষদশ্ব; नभোয়োনি—আকাশের গর্ভ; সুপ্রতীক—শুভ ও দীপ্তিময় রূপ; তমিস্রহা—অন্ধকার-নাশক। তিনি নিদাঘ—গ্রীষ্মের দহন; তপন—সবকিছু পক্বকারী সূর্য; মেঘভক্ষ—মেঘ গ্রাসকারী; এবং পরপুরঞ্জয়—শত্রুপুর-বিজয়ী।

Verse 81

सुखानिलस्सुनिष्पन्नस्सुरभिश्शिशिरात्मकः । वसंतो माधवो ग्रीष्मो नभस्यो बीजवाहनः

তিনি সুখানিল—সুখস্পর্শ বায়ু; সুনিষ্পন্ন—সম্পূর্ণ প্রকাশিত; সুরভি—সুগন্ধিময়; এবং শিশিরাত্মক—শীতল স্বভাব। তিনি বসন্ত, তিনি মাধব মাস; তিনি গ্রীষ্ম, তিনি নভস্য ঋতু; এবং তিনি বীজবাহন—সৃষ্টির বীজ বহনকারী।

Verse 82

अंगिरा गुरुरात्रेयो विमलो विश्वपावनः । पावनः पुरजिच्छक्रस्त्रैविद्यो नववारण

তিনি অঙ্গিরা, পূজনীয় গুরু, আত্রেয়, নির্মল ও বিশ্ব-পাবন। তিনি পবিত্রকারী, পুরবিজয়ী মহাশক্তিমান প্রভু, ত্রিবেদজ্ঞ এবং নববিধ বাধা-নিবারক।

Verse 83

मनोबुद्धिरहंकारः क्षेत्रज्ञः क्षेत्रपालकः । जमदग्निर्बलनिधिर्विगालो विश्वगालवः

তিনি মন, বুদ্ধি ও অহংকার স্বরূপ। তিনি ক্ষেত্রজ্ঞ এবং ক্ষেত্রপালক—দেহ ও জগতের অধীশ্বর। তিনি জমদগ্নি, বলের ভাণ্ডার, বিগাল এবং সর্বব্যাপী বিশ্বগালব।

Verse 84

अघोरोऽनुत्तरो यज्ञः श्रेयो निःश्रेयसप्रदः । शैलो गगनकुंदाभो दानवारिररिंदमः

তিনি অঘোর, অনুত্তম যজ্ঞস্বরূপ; তিনি শ্রেয় ও নিঃশ্রেয়স—মোক্ষ—দাতা। তিনি পর্বতসম প্রভু, আকাশ ও কুন্দফুলের ন্যায় দীপ্ত, দেবশত্রু-দমনকারী এবং দানববৈরী-নাশক।

Verse 85

चामुण्डो जनकश्चारुर्निश्शल्यो लोकशल्यधृक् । चतुर्वेदश्चतुर्भावश्चतुरश्चतुर प्रियः

তিনি চামুণ্ড, জনক, চারু, নিশ্শল্য এবং লোক-শল্য-ধৃক্—জগতের ভার ও বেদনা ধারণকারী। তিনি চতুর্বেদস্বরূপ, চতুর্ভাবস্বরূপ, পরম চতুর এবং চার দিকেই প্রিয়—সর্বত্র বন্দিত।

Verse 86

आम्नायोऽथ समाम्नायस्तीर्थदेवशिवालयः । बहुरूपो महारूपस्सर्वरूपश्चराचरः

তিনি আম্নায়—পবিত্র শ্রুতি—এবং সমাম্নায়—সুপ্রতিষ্ঠিত পরম্পরা। তিনি তীর্থ, দেবতা এবং শিবালয়—শিবের ধাম। তিনি বহুরূপ, মহারূপ, এবং সর্বরূপ হয়ে চর-অচর সর্বত্র ব্যাপ্ত।

Verse 87

न्यायनिर्मायको नेयो न्यायगम्यो निरंजनः । सहस्रमूर्द्धा देवेंद्रस्सर्वशस्त्रप्रभंजनः

তিনি ধর্ম-ন্যায়ের নির্মাতা; তিনিই জ্ঞেয়, এবং ন্যায়-সত্যের পথে উপলব্ধ। তিনি নিরঞ্জন, সহস্রশির দেবেন্দ্র, সকল অস্ত্রের ভঞ্জক।

Verse 88

मुंडी विरूपो विकृतो दंडी नादी गुणोत्तमः । पिंगलाक्षो हि बह्वयो नीलग्रीवो निरामयः

তিনি মুণ্ডিতমস্তক, বিস্ময়কর ও ভয়মিশ্রিত রূপধারী, নানাবিধ বিকার গ্রহণকারী; দণ্ডধারী, নাদস্বরূপ, গুণোত্তম। তাঁর চোখ পিঙ্গল; তিনি বহুরূপী, নীলগ্রীব, নিরাময়।

Verse 89

सहस्रबाहुस्सर्वेशश्शरण्यस्सर्वलोकधृक् । पद्मासनः परं ज्योतिः पारम्पर्य्यफलप्रदः

তিনি সহস্রবাহু সর্বেশ্বর, সকলের শরণ্য এবং সর্বলোকের ধারক। পদ্মাসনে অধিষ্ঠিত তিনি পরম জ্যোতি, যিনি পরম্পরাগত ভক্তির ফল দান করেন।

Verse 90

पद्मगर्भो महागर्भो विश्वगर्भो विचक्षणः । परावरज्ञो वरदो वरेण्यश्च महास्वनः

তিনি পদ্মগর্ভ (ব্রহ্মার উৎস), মহাগর্ভ, বিশ্বগর্ভ ও সর্ববিচক্ষণ। তিনি পরা‑অপরের জ্ঞাতা, বরদাতা, বরণীয় এবং মহাধ্বনিময়।

Verse 91

देवासुरगुरुर्देवो देवासुरनमस्कृतः । देवासुरमहा मित्रो देवासुरमहेश्वरः

তিনি দেব, দেব ও অসুর উভয়ের গুরু, এবং দেব‑অসুর সকলেরই নমস্কৃত। তিনি দেব‑অসুরের মহামিত্র এবং উভয়েরই মহেশ্বর।

Verse 92

देवासुरेश्वरो दिव्यो देवासुरमहाश्रयाः । देवदेवोऽनयोऽचिंत्यो देवतात्मात्मसंभवः

তিনি দেব ও অসুর উভয়েরই দিব্য ঈশ্বর, সকলের মহাশ্রয় ও অবলম্বন। তিনি দেবদেরও দেব—উভয় পক্ষের—অচিন্ত্য তত্ত্ব; সকল দেবতার অন্তরাত্মা-স্বরূপ আত্মা থেকেই স্বয়ম্ভূরূপে উদ্ভূত।

Verse 93

सद्यो महासुरव्याधो देवसिंहो दिवाकरः । विबुधामचरः श्रेष्ठः सर्वदेवोत्तमोत्तम

ক্ষণমাত্রে তিনি মহাসুর-সংহারক হলেন—দেবসিংহ, সূর্যসম দীপ্তিমান; বিদ্বজ্জনদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচরণকারী, সকল দেবের মধ্যে উত্তমোত্তম।

Verse 94

शिवज्ञानरतः श्रीमाञ्शिखी श्रीपर्वतप्रियः । वज्रहस्तस्सिद्धखङ्गो नरसिंहनिपातनः

তিনি শিবজ্ঞানে রত, মঙ্গলশ্রীতে দীপ্ত, শিখাধারী এবং পবিত্র পর্বতের প্রিয়। হাতে বজ্রধারী, সিদ্ধ খড়্গধারী, নরসিংহ-নিপাতক।

Verse 95

ब्रह्मचारी लोकचारी धर्मचारी धनाधिपः । नन्दी नंदीश्वरोऽनंतो नग्नव्रतधरश्शुचिः

তিনি ব্রহ্মচারী, লোকলোকান্তরে নির্ভয়ে বিচরণকারী; ধর্মপথের অনুগামী এবং ধনের অধিপতি। তিনি নন্দী, নন্দীশ্বর, অনন্ত—শুদ্ধ, এবং নগ্নব্রত (পরম ত্যাগ) ধারণকারী।

Verse 96

लिंगाध्यक्षः सुराध्यक्षो युगाध्यक्षो युगापहः । स्वधामा स्वगतः स्वर्गी स्वरः स्वरमयः स्वनः

তিনি লিঙ্গের অধিপতি, দেবগণের অধিপতি, যুগের নিয়ন্তা এবং যুগের অন্তকারক। তিনি নিজেই নিজের ধাম, স্বয়ংস্থিত ও স্বয়ংনিষ্ঠ, স্বর্গদাতা; তিনি আদ্য স্বর, নাদতত্ত্ব এবং প্রতিধ্বনি স্বরূপ।

Verse 97

बाणाध्यक्षो बीजकर्ता कर्मकृद्धर्मसंभवः । दंभो लोभोऽथ वै शंभुस्सर्व भूतमहेश्वरः

তিনি বাণের অধিপতি, বীজের কর্তা, কর্মের বিধাতা এবং ধর্মের উৎস। জীবেরা যাকে ‘দম্ভ’ ও ‘লোভ’ বলে, তাও তাঁর অধীন; তিনিই শম্ভু—সকল ভূতের মহেশ্বর।

Verse 98

श्मशाननिलयस्त्र्यक्षस्स तुरप्रतिमाकृतिः । लोकोत्तरस्फुटोलोकः त्र्यंबको नागभूषणः

তিনি শ্মশানে নিবাসী, ত্রিনয়নধারী—অতুলনীয় রূপস্বরূপ। তিনি লোকাতীত প্রকাশমান মহিমা; সেই নাগভূষণ ত্র্যম্বকই পরম ধ্যান ও পূজার যোগ্য।

Verse 99

अंधकारि मखद्वेषी विष्णुकंधरपातनः । हीनदोषोऽक्षयगुणो दक्षारिः पूषदंतभित्

তিনি অন্ধকবধকারী, যজ্ঞের অহংকারের শত্রু, এবং বিষ্ণুর মস্তক নত করিয়েছেন। তিনি দোষহীন, অক্ষয় গুণসম্পন্ন; দক্ষের গর্বের বৈরী ও পূষার দাঁতভঙ্গকারী।

Verse 100

पूर्णः पूरयिता पुण्यः सुकुमारः सुलोचनः । सन्मार्गमप्रियो धूर्त्तः पुण्यकीर्तिरनामयः

তিনি পূর্ণ, সকল কামনা পূরণকারী, পবিত্র ও পুণ্যস্বরূপ; কোমল এবং সুলোচন। সৎপথবিমুখদের কাছে অপ্রিয়, মায়াকেও পরাভূতকারী; তাঁর কীর্তি পুণ্যময়, তিনি নিরাময়।

Verse 101

मनोजवस्तीर्थकरो जटिलो नियमेश्वरः । जीवितांतकरो नित्यो वसुरेता वसुप्रदः

তিনি মনসম বেগবান, তীর্থের প্রতিষ্ঠাতা, জটাধারী তপস্বী ও নিয়ম-ধর্মের ঈশ্বর। তিনি জীবনের অন্তকারী, নিত্য, ধন-রেতাস্বরূপ এবং ঐশ্বর্যদাতা।

Verse 102

सद्गतिः सिद्धिदः सिद्धिः सज्जातिः खलकंटकः । कलाधरो महाकालभूतः सत्यपरायणः

তিনি সদ্গতি ও পরম লক্ষ্য; সিদ্ধিদাতা এবং স্বয়ং সিদ্ধিস্বরূপ; সজ্জাতিদাতা ও দুষ্ট-কণ্টকনাশক। তিনি চন্দ্রকলাধারী, মহাকালস্বরূপ, সর্বভূতের আধার এবং সত্যনিষ্ঠ।

Verse 103

लोकलावण्यकर्ता च लोकोत्तरसुखालयः । चंद्रसंजीवनश्शास्ता लोकग्राहो महाधिपः

তিনি জগতের লাবণ্য-স্রষ্টা এবং লোকাতীত সুখের ধাম। তিনি চন্দ্রকে সংজীবিতকারী, শাস্তা (নিয়ন্তা-গুরু), লোকধারক এবং মহাধিপতি।

Verse 104

लोकबंधुर्लोकनाथः कृतज्ञः कृतिभूषितः । अनपायोऽक्षरः कांतः सर्वशस्त्रभृतां वरः

তিনি লোকের বন্ধু ও লোকনাথ; কৃতজ্ঞ এবং সৎকর্মে ভূষিত। তিনি অবিচ্যুত, অক্ষয়, প্রিয়; এবং সকল শস্ত্রধারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

Verse 105

तेजोमयो श्रुतिधरो लोकमानी घृणार्णवः । शुचिस्मितः प्रसन्नात्मा ह्यजेयो दुरतिक्रमः

তিনি তেজোময়, শ্রুতিধারী, লোকসম্মানিত এবং করুণার সাগর। পবিত্র মৃদু হাস্য ও প্রসন্ন অন্তঃকরণে তিনি অজেয় ও অতিক্রমাতীত—সেই পরম পতি ভগবান শিব, যিনি ভক্তদের রক্ষা ও মুক্তি দান করেন।

Verse 106

ज्योतिर्मयो जगन्नाथो निराकारो जलेश्वरः । तुम्बवीणो महाकायो विशोकश्शोकनाशनः

তিনি শুদ্ধ জ্যোতির্ময় জগন্নাথ, নিরাকার এবং জলে অধিষ্ঠিত ঈশ্বর। তুম্বা-বীণা ধারণকারী, বিরাট দেহধারী; নিজে শোকহীন এবং জীবের শোকনাশক।

Verse 107

त्रिलोकपस्त्रिलोकेशः सर्वशुद्धिरधोक्षजः । अव्यक्तलक्षणो देवो व्यक्तोऽव्यक्तो विशांपतिः

তিনি ত্রিলোকের পালনকর্তা ও ত্রিলোকেশ্বর; সর্বতোভাবে শুদ্ধ, ইন্দ্রিয়াতীত অধোক্ষজ। সেই দেব অব্যক্ত-লক্ষণধারী, তবু ব্যক্ত ও অব্যক্ত—সমস্ত জীবের অধিপতি।

Verse 108

परः शिवो वसुर्नासासारो मानधरो यमः । ब्रह्मा विष्णुः प्रजापालो हंसो हंसगतिर्वयः

তিনি পরম—স্বয়ং শিব; দীপ্তিমান বসু, প্রাণ-নাসিকার সার, মানধারী এবং যম (নিয়ন্তা)। তিনিই ব্রহ্মা ও বিষ্ণু, প্রজাপালক; তিনিই হংস (পরমাত্মা) ও হংসের গতি—তিনিই কাল/বয়স।

Verse 109

वेधा विधाता धाता च स्रष्टा हर्त्ता चतुर्मुखः । कैलासशिखरावासी सर्वावासी सदागति

তিনি বিধাতা, বিধানকর্তা ও ধারক; স্রষ্টা এবং সংহারকও—চতুর্মুখ প্রভু। তিনি কৈলাস-শিখরে বাস করেন, তবু সর্বত্র অধিষ্ঠিত; সর্বদা সকলের পরম আশ্রয় ও পরম গতি।

Verse 110

हिरण्यगर्भो द्रुहिणो भूतपालोऽथ भूपतिः । सद्योगी योगविद्योगीवरदो ब्राह्मणप्रिय

তিনি হিরণ্যগর্ভ, দ্রুহিণ (ব্রহ্মা), ভূতসমূহের পালনকর্তা ও পৃথিবীর অধিপতি। তিনি সদা যোগে প্রতিষ্ঠিত, যোগবিদ, যোগীদের বরদাতা এবং ব্রাহ্মণদের প্রিয়—এইভাবে প্রভুর স্তব করা হয়।

Verse 111

देवप्रियो देवनाथो देवको देवचिंतकः । विषमाक्षो विरूपाक्षो वृषदो वृषवर्धनः

তিনি দেবগণের প্রিয় এবং দেবনাথ; দিব্য সত্তা, যিনি সর্বদা দেবদের মঙ্গল চিন্তা করেন। তিনি বিষমাক্ষ, বিরূপাক্ষ প্রভু; ধর্মদাতা ও ধর্মবর্ধক।

Verse 112

निर्ममो निरहंकारो निर्मोहो निरुपद्रवः । दर्पहा दर्पदो दृप्तः सर्वार्थपरिवर्त्तकः

তিনি মমতাহীন, অহংকারহীন; মোহহীন এবং উপদ্রবে অস্পর্শিত। তিনি দম্ভনাশক, সত্য মর্যাদাদাতা; তেজস্বী পরাক্রমী, সকল উদ্দেশ্য ও ফলকে স্বইচ্ছায় পরিবর্তনকারী।

Verse 113

सहस्रार्चिर्भूतिभूषः स्निग्धाकृतिरदक्षिणः । भूतभव्यभवन्नाथो विभवो भूतिनाशनः

তিনি সহস্র শিখায় দীপ্ত; ভস্ম-বিভূতিতে ভূষিত। তাঁর রূপ স্নিগ্ধ, শান্ত ও দীপ্তিময়, এবং তিনি কখনও অমঙ্গলকারী নন। তিনি অতীত-ভবিষ্যৎ-বর্তমানের নাথ; মহাবিভবে সমৃদ্ধ, এবং বন্ধনকারী ভোগসমৃদ্ধি বিনাশক।

Verse 114

अर्थोऽनर्थो महाकोश परकायैकपंडित । निष्कंटकः कृतानंदो निर्व्याजो व्याजमर्दनः

তিনি অর্থও, আবার অনর্থনিবারকও; মহাকোষ, এবং সকল দেহধারীর একমাত্র পরম জ্ঞানী। তিনি নিষ্কণ্টক (ক্লেশহীন), কৃতানন্দ (পূর্ণানন্দদাতা), সম্পূর্ণ নির্ভেজাল; এবং কপট-ছল চূর্ণকারী।

Verse 115

सत्त्ववान्सात्त्विकः सत्यः कृतस्नेहः कृतागमः । अकंपितो गुणग्राही नैकात्मानैककर्मकृत्

তিনি সত্ত্বসম্পন্ন, সাত্ত্বিক স্বভাবের, সত্যস্বরূপ; সুদৃঢ় স্নেহযুক্ত এবং আগম-শাস্ত্রে প্রতিষ্ঠিত। তিনি অচঞ্চল, গুণগ্রাহী; তিনি বিভক্তচিত্ত নন, বহুমুখী বিক্ষিপ্ত কর্মকারীও নন।

Verse 116

सुप्रीतः सुखदः सूक्ष्मः सुकरो दक्षिणानिलः । नंदिस्कंदो धरो धुर्यः प्रकटः प्रीतिवर्धनः

তিনি পরম প্রসন্ন, সুখদাতা, সূক্ষ্মস্বরূপ ও সহজলভ্য; কল্যাণময় দক্ষিণ বায়ুর ন্যায়। তিনি নন্দির স্কন্দ, ধারক, শ্রেষ্ঠ ভারবাহক, প্রকাশিত এবং ভক্তদের প্রীতি-বর্ধক।

Verse 117

अपराजितः सर्वसहो गोविंदः सत्त्ववाहनः । अधृतः स्वधृतः सिद्धः पूतमूर्तिर्यशोधनः

তিনি অপরাজিত, সর্বসহিষ্ণু, জগতের গোবিন্দ (পালক) এবং শুদ্ধ সত্ত্ববাহন। তিনি অধৃত হয়েও স্বধৃত, সিদ্ধ, সম্পূর্ণ পবিত্র মূর্তি এবং পবিত্র যশ বর্ধনকারী।

Verse 118

वाराहशृंगधृक् शृंगी बलवानेकनायकः । श्रुतिप्रकाशः श्रुतिमाने कबंधुरनेकधृक्

তিনি বরাহের শৃঙ্গধারী, শৃঙ্গী, বলবান ও একমাত্র নায়ক। তিনি শ্রুতির প্রকাশক, শ্রুতিসম্পন্ন; কবন্ধু (রহস্যময় শিরোহীন) এবং বহু রূপ ও আধার ধারণকারী।

Verse 119

श्रीवत्सलः शिवारंभः शांतभद्रः समो यशः । भूयशो भूषणो भूतिर्भूतिकृद्भूतभावनः

তিনি শ্রী-এর প্রিয়, শিবত্বের আরম্ভ (কল্যাণের মূল); শান্ত-ভদ্র, সমভাবসম্পন্ন এবং যশের মূর্তি। তিনি ক্রমবর্ধমান মহিমাময়, সকলের ভূষণ, স্বয়ং সমৃদ্ধি—কল্যাণকারী ও সকল জীবকে পোষণকারী।

Verse 120

अकंपो भक्तिकायस्तु कालहानिः कलाविभुः । सत्यव्रती महात्यागी नित्यशांतिपरायणः

তিনি অচঞ্চল; তাঁর সমগ্র সত্তা ভক্তিময়। তিনি কালের দমন হ্রাস করেন এবং সকল কলার অধীশ্বর। সত্যব্রতী, মহাত্যাগী, এবং নিত্য শান্তিতে নিবিষ্ট।

Verse 121

परार्थवृत्तिर्वरदो विरक्तस्तु विशारदः । शुभदः शुभकर्ता च शुभनामा शुभः स्वयम्

তিনি পরহিতপরায়ণ, বরদাতা, বিরাগী ও বিশারদ। তিনি শুভ দান করেন এবং শুভ কর্ম সিদ্ধ করেন; তাঁর নামই শুভ—তিনি স্বয়ং শুভস্বরূপ।

Verse 122

अनर्थितो गुणग्राही ह्यकर्ता कनकप्रभः । स्वभावभद्रो मध्यस्थ शत्रुघ्नो विघ्ननाशनः

তিনি অনর্থিত হয়েও গুণগ্রাহী; কর্তা-ভাবহীন হয়েও স্বর্ণসম দীপ্তিমান। স্বভাবত ভদ্র ও নিরপেক্ষ; তিনি শত্রুনাশক এবং বিঘ্নবিনাশক।

Verse 123

शिखंडी कवची शूली जटी मुंडी च कुंडली । अमृत्युः सर्वदृक् सिंहस्तेजोराशिर्महामणिः

তিনি শিখণ্ডধারী, কবচধারী, ত্রিশূলধারী; জটাধারী, মুণ্ডিত-সন্ন্যাসী ও কুণ্ডলভূষিত। তিনি অমৃত্যু-স্বরূপ, সর্বদ্রষ্টা, সিংহসম প্রভু; দিব্য তেজের রাশি ও মহামণি।

Verse 124

असंख्येयोऽप्रमेयात्मा वीर्यवान् वीर्यकोविदः । वेद्यश्च वै वियोगात्मा सप्तावरमुनीश्वरः

তিনি সংখ্যাতীত ও অপরিমেয় আত্মস্বরূপ; পরম শক্তিসম্পন্ন এবং সেই শক্তির পূর্ণ জ্ঞাতা। তিনিই জ্ঞেয়, তবু স্বভাবে সর্ববন্ধন-অতীত, বিরক্ত; স্থাবর-জঙ্গম সকলের উপর অধিষ্ঠিত মুনীশ্বর।

Verse 125

अनुत्तमो दुराधर्षो मधुरः प्रियदर्शनः । सुरेश स्मरणः सर्वः शब्दः प्रतपतां वरः

তিনি অনুত্তম ও দুর্ধর্ষ; স্বভাবে মধুর এবং দর্শনে মনোহর। তিনি সুরেশ্বরের স্মরণ; তিনি সর্বস্ব—তপস্যারতদের জন্য পরম শ্রেষ্ঠ ‘শব্দ’।

Verse 126

कालपक्षः कालकालः सुकृती कृतवासुकिः । महेष्वासो महीभर्ता निष्कलंको विशृंखल

তিনি কালের পর্ব ও কালেরও কাল; পুণ্যকর্মের কর্তা এবং বাসুকি-বিজয়ী। তিনি মহাধনুর্ধর, পৃথিবীর ধারক, কলঙ্কহীন ও সম্পূর্ণ বন্ধনমুক্ত।

Verse 127

द्युमणिस्तरणिर्धन्यः सिद्धिदः सिद्धिसाधनः । विश्वतस्संवृतस्तु व्यूढोरस्को महाभुजः

তিনি দিব্য মণি ও সূর্যের ন্যায় দীপ্তিমান, পরম ধন্য। তিনি সিদ্ধির দাতা এবং সিদ্ধি-লাভের উপায়। সর্বদিকে বিশ্বকে পরিব্যাপ্ত করে তিনি প্রশস্ত বক্ষ ও মহাবাহু।

Verse 128

सर्वयोनिर्निरातंको नरनारायणप्रियः । निर्लेपो यतिसंगात्मा निर्व्यंगो व्यंगनाशनः

তিনি সকল যোনির মূল, নির্ভয় এবং নর-নারায়ণের প্রিয়। তিনি নির্লেপ, অমলিন; সন্ন্যাসীদের সঙ্গ ও অন্তঃস্থিতির সঙ্গে যুক্ত। নিজে নির্দোষ হয়ে শরণাগতদের দোষ বিনাশ করেন।

Verse 129

स्तव्यः स्तवप्रियः स्तोता व्यासमूर्तिर्निरंकुलः । निरवद्यमयोपायो विद्याराशिश्च सत्कृतः

তিনি স্তবনীয়, স্তোত্রপ্রিয়, এবং নিজেই সত্য স্তোতা। তিনি ব্যাসমূর্তি, সদা নিরাকুল ও অবিচল। তিনি নির্দোষ উপায়, বিদ্যার ভাণ্ডার, এবং সজ্জনদের দ্বারা সমাদৃত।

Verse 130

प्रशांतबुद्धिरक्षुण्णः संग्रहो नित्यसुंदरः । वैयाघ्रधुर्यो धात्रीशः संकल्पः शर्वरीपतिः

যাঁর বুদ্ধি সম্পূর্ণ প্রশান্ত ও অচঞ্চল; যিনি সকলকে সংগ্রহ ও ধারণ করেন, নিত্যসুন্দর প্রভু; ব্যাঘ্রসম পরাক্রমীদের মধ্যে অগ্রগণ্য; ধাত্রীরও অধীশ্বর; পবিত্র সংকল্প-শক্তি স্বয়ং; এবং রাত্রির অধিপতি।

Verse 131

परमार्थगुरुर्दत्तः सूरिराश्रितवत्सलः । सोमो रसज्ञो रसदः सर्वसत्त्वावलंबनः

তিনি পরমার্থ দানকারী সদ্‌গুরু; দীপ্তিমান প্রভু, শরণাগতদের প্রতি স্নেহশীল। তিনি সোম—রসের জ্ঞাতা, ভক্তিরসের দাতা, এবং সকল জীবের আশ্রয় ও অবলম্বন।

Verse 132

एवं नाम्नां सहस्रेण तुष्टाव हि हरं हरिः । प्रार्थयामास शम्भुं वै पूजयामास पंकजः

এইভাবে সহস্র নামে হরি হর (শিব)-এর স্তব করলেন। তারপর পদ্মজ (ব্রহ্মা) নিশ্চয়ই শম্ভুর কাছে প্রার্থনা করলেন এবং তাঁর পূজা করলেন।

Verse 133

ततः स कौतुकी शम्भुश्चकार चरितं द्विजाः । महाद्भुतं सुखकरं तदेव शृणुतादरात्

তারপর কৌতুকপ্রবৃত্ত শম্ভু, হে দ্বিজগণ, এক মহাচরিত সম্পাদন করলেন—অতিশয় আশ্চর্য ও সুখদায়ক। সেই কথাই শ্রদ্ধাভরে শোনো।

Frequently Asked Questions

The chapter’s framing claim is theological authorization: Viṣṇu petitions and praises Śiva, and the resulting satisfaction of Parameśvara validates the nāma-sahasraka as a potent, meritorious recitation. The argument is that divine names are not ornamental; they are sanctioned vehicles of access to Śiva.

Iconic epithets function as meditative code: Nīlakaṇṭha signals the metabolization of poison into compassion and stability; Vṛṣavāhana/Vṛṣāṅka encodes dharma-support and steadfastness; Samādhivedya marks Śiva as known through contemplative absorption; Aparicchedya/Parātpara indicates the limit-transcending absolute behind all forms.

The litany foregrounds Śiva as Maheśvara/Parameśvara (supreme lord), as yogic lord (Mahāyogī), as the bearer of distinctive iconography (Pinākī, Kṛttivāsā, Kapālī, Dhūrjaṭi, Nīlakaṇṭha), and as relationally situated (Gaurī-bhartṛ; Gaṇeśvara; Skanda-guru), integrating family-theology with transcendence.