
Nārada Explains the Allegory of King Purañjana (Deha–Indriya–Manaḥ Mapping and the Remedy of Bhakti)
রাজা প্রাচীনবর্ষি পুরঞ্জন-উপাখ্যানের মর্ম ধরতে না পারলে নারদ মুনি ধাপে ধাপে দেহধারী জীবনের মানচিত্র উন্মোচন করেন—জীবই পুরঞ্জন, ‘অজ্ঞাত বন্ধু’ স্বয়ং ভগবান, আর মানব/দেবদেহ নবদ্বার-নগরী যেখানে ইন্দ্রিয়, মন, প্রাণ ও বুদ্ধি মিলিত হয়ে ভোগ ও দুঃখ ভোগায়। তিনি প্রতিটি ‘দ্বার’ ও ‘নগরী’-কে ইন্দ্রিয়ক্রিয়া ও বিষয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেন, পরে দেহকে রথরূপে দেখান—বুদ্ধি সারথি, মন রজ্জু; কাল (চণ্ডবেগ) দিন-রাতে আয়ু ক্ষয় করে এবং জরা (কালকন্যা) মৃত্যুর সহচরী। নারদ কর্মকাণ্ডের অহংকার নিন্দা করে বলেন, কর্মের পুনর্বিন্যাসে বন্ধন কাটে না; কেবল কৃষ্ণচেতনার জাগরণ—বিশেষত ভক্তসঙ্গ ও শ্রবণ—সংসার-স্বপ্ন ভাঙে। রাজা উপদেশ গ্রহণ করে দেহান্তরে কর্মধারার প্রশ্ন করেন; নারদ মন, সংস্কার ও বাসনার দ্বারা সূক্ষ্মদেহের গমন ব্যাখ্যা করেন। অধ্যায়ের শেষে রাজার বৈরাগ্য ও মুক্তি, এবং মনোযোগী শ্রোতার দেহাভিমানমুক্তির ফলশ্রুতি ঘোষিত হয়।
Verse 1
प्राचीनबर्हिरुवाच भगवंस्ते वचोऽस्माभिर्न सम्यगवगम्यते । कवयस्तद्विजानन्ति न वयं कर्ममोहिता: ॥ १ ॥
রাজা প্রাচীনবরহি বললেন— হে ভগবান, আপনার বলা পুরঞ্জন-রূপক কাহিনির তাত্পর্য আমরা সম্পূর্ণ বুঝতে পারছি না। আত্মজ্ঞান-সিদ্ধ কবিগণই তা জানেন; আমরা কর্মমোহে আবদ্ধ, তাই এর উদ্দেশ্য উপলব্ধি করা দুষ্কর।
Verse 2
नारद उवाच पुरुषं पुरञ्जनं विद्याद्यद् व्यनक्त्यात्मन: पुरम् । एकद्वित्रिचतुष्पादं बहुपादमपादकम् ॥ २ ॥
নারদ বললেন— পুরঞ্জন বলতে জীবাত্মাকেই বোঝো, যে নিজের কর্মানুসারে দেহ-নগর গ্রহণ করে। সে এক-পা, দুই-পা, তিন-পা, চার-পা, বহু-পা কিংবা পা-হীন দেহে প্রবেশ করে সংসারে ঘোরে; ভোক্তা-ভাবেই সে ‘পুরঞ্জন’ নামে পরিচিত।
Verse 3
योऽविज्ञाताहृतस्तस्य पुरुषस्य सखेश्वर: । यन्न विज्ञायते पुम्भिर्नामभिर्वा क्रियागुणै: ॥ ३ ॥
যাকে আমি ‘অবিজ্ঞাত’ বলেছি, তিনিই পরম পুরুষোত্তম ভগবান— জীবের অধীশ্বর ও নিত্য সখা। জড় নাম, কর্ম বা গুণের দ্বারা তাঁকে জানা যায় না; তাই বদ্ধ জীবের কাছে তিনি চিরকাল অজ্ঞেয়ই থাকেন।
Verse 4
यदा जिघृक्षन् पुरुष: कार्त्स्न्येन प्रकृतेर्गुणान् । नवद्वारं द्विहस्ताङ्घ्रि तत्रामनुत साध्विति ॥ ४ ॥
যখন জীব প্রকৃতির গুণসমূহকে সম্পূর্ণভাবে ভোগ করতে চায়, তখন বহু দেহের মধ্যে নয় দ্বারবিশিষ্ট, দুই হাত ও দুই পা-যুক্ত দেহকে ‘উত্তম’ মনে করে গ্রহণ করে। এভাবে সে মানুষ বা দেবতার দেহ লাভ করে।
Verse 5
बुद्धिं तु प्रमदां विद्यान्ममाहमिति यत्कृतम् । यामधिष्ठाय देहेऽस्मिन् पुमान् भुङ्क्तेऽक्षभिर्गुणान् ॥ ५ ॥
এখানে ‘প্রমদা’ বলতে জড়বুদ্ধি—অর্থাৎ অজ্ঞান—কে বোঝো, যা ‘আমি’ ও ‘আমার’ ভাব সৃষ্টি করে। এই বুদ্ধির আশ্রয়ে মানুষ দেহে ইন্দ্রিয়ের দ্বারা গুণসমূহ ভোগ ও দুঃখ ভোগ করে, আর এভাবেই সে বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
Verse 6
सखाय इन्द्रियगणा ज्ञानं कर्म च यत्कृतम् । सख्यस्तद्वृत्तय: प्राण: पञ्चवृत्तिर्यथोरग: ॥ ६ ॥
পাঁচ কর্মেন্দ্রিয় ও পাঁচ জ্ঞানেন্দ্রিয় পুরঞ্জনী-পুরুষের পুরুষ-মিত্র। তাদের সহায়তায় জীব জ্ঞান অর্জন করে ও কর্মে প্রবৃত্ত হয়। ইন্দ্রিয়বৃত্তিগুলি সখীর ন্যায়, আর পাঁচ-মস্তক সাপের মতো প্রাণ পাঁচ প্রকার প্রবাহে চলিত হয়।
Verse 7
बृहद्बलं मनो विद्यादुभयेन्द्रियनायकम् । पञ्चाला: पञ्च विषया यन्मध्ये नवखं पुरम् ॥ ७ ॥
একাদশ সেবক, যিনি সকলের অধিনায়ক, তিনি মন; জ্ঞানেন্দ্রিয় ও কর্মেন্দ্রিয়—উভয়েরই নেতা। পাঁচ বিষয়ই পাঁচাল-রাজ্য, যেখানে ভোগ সংঘটিত হয়। সেই পাঁচালের মধ্যেই নয়-দ্বারবিশিষ্ট দেহ-নগর অবস্থিত।
Verse 8
अक्षिणी नासिके कर्णौ मुखं शिश्नगुदाविति । द्वे द्वे द्वारौ बहिर्याति यस्तदिन्द्रियसंयुत: ॥ ८ ॥
দুটি চোখ, দুটি নাসারন্ধ্র ও দুটি কান—এগুলি যুগল দ্বার। মুখ, জননেন্দ্রিয় ও গুদও পৃথক দ্বার। এই নয় দ্বারবিশিষ্ট দেহে স্থিত জীব বাহির্জগতে ক্রিয়া করে এবং রূপ-রসাদি বিষয় ভোগ করে।
Verse 9
अक्षिणी नासिके आस्यमिति पञ्चपुर: कृता: । दक्षिणा दक्षिण: कर्ण उत्तरा चोत्तर: स्मृत: । पश्चिमे इत्यधोद्वारौ गुदं शिश्नमिहोच्यते ॥ ९ ॥
দুটি চোখ, দুটি নাসারন্ধ্র ও মুখ—এই পাঁচটি দ্বার সম্মুখে। ডান কান দক্ষিণ দ্বার, আর বাঁ কান উত্তর দ্বার বলে মানা হয়। পশ্চিমদিকে নীচে অবস্থিত দুই দ্বার হলো গুদ ও জননেন্দ্রিয়।
Verse 10
खद्योताविर्मुखी चात्र नेत्रे एकत्र निर्मिते । रूपं विभ्राजितं ताभ्यां विचष्टे चक्षुषेश्वर: ॥ १० ॥
খদ্যোতা ও আবির্মুখী নামে যে দুই দ্বার বলা হয়েছে, তা এক স্থানে নির্মিত দুই চোখ। ‘বিভ্রাজিত’ নামক নগর হলো রূপ—দৃশ্যবস্তু। এভাবে চক্ষুর অধীশ্বর সর্বদা নানাবিধ রূপ দর্শন করে।
Verse 11
नलिनी नालिनी नासे गन्ध: सौरभ उच्यते । घ्राणोऽवधूतो मुख्यास्यं विपणो वाग्रसविद्रस: ॥ ११ ॥
নলিনী ও নালিনী নামে দুই দ্বার হলো দুই নাসারন্ধ্র, আর সৌরভ নামের নগরী হলো সুগন্ধ। অবধূত নামে সঙ্গী হলো ঘ্রাণেন্দ্রিয়। মুখ্যা দ্বার হলো মুখ, বিপণ হলো বাক্শক্তি, আর রসবিদ্রস হলো রসজ্ঞা—স্বাদেন্দ্রিয়।
Verse 12
आपणो व्यवहारोऽत्र चित्रमन्धो बहूदनम् । पितृहूर्दक्षिण: कर्ण उत्तरो देवहू: स्मृत: ॥ १२ ॥
আপণ নামের নগরী জিহ্বার বাক্ব্যবহারকে বোঝায়, আর বহূদন হলো নানাবিধ খাদ্য। ডান কান পিতৃহূ দ্বার, আর বাঁ কান দেবহূ দ্বার বলে স্মৃত।
Verse 13
प्रवृत्तं च निवृत्तं च शास्त्रं पञ्चालसंज्ञितम् । पितृयानं देवयानं श्रोत्राच्छ्रुतधराद्व्रजेत् ॥ १३ ॥
প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তির নির্দেশক শাস্ত্রকে পঞ্চাল নামে বলা হয়েছে। দুই কানের দ্বারা জীব শ্রুতি ধারণ করে; সেই শ্রবণশক্তির ফলে কেউ পিতৃযানে পিতৃলোকে, কেউ দেবযানে দেবলোকে গমন করে।
Verse 14
आसुरी मेढ्रमर्वाग्द्वार्व्यवायो ग्रामिणां रति: । उपस्थो दुर्मद: प्रोक्तो निऋर्तिर्गुद उच्यते ॥ १४ ॥
আসুরী নামে নিম্নদ্বার হলো জননেন্দ্রিয়; সেই দ্বার দিয়ে গ্রামক নামের নগরে প্রবেশ, যা মৈথুনের জন্য এবং মূঢ় গ্রাম্য লোকদের কাছে অতিশয় প্রিয়। উপস্থ—প্রজননশক্তি—দুর্মদ নামে কথিত, আর গুদকে নিরৃতি বলা হয়।
Verse 15
वैशसं नरकं पायुर्लुब्धकोऽन्धौ तु मे शृणु । हस्तपादौ पुमांस्ताभ्यां युक्तो याति करोति च ॥ १५ ॥
যখন বলা হয় পুরঞ্জন বৈশসে যায়, তখন তা নরকে গমন বোঝায়—এটি পায়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত। তার সঙ্গী লুব্ধক হলো পায়ুর কর্মেন্দ্রিয়। পূর্বে উল্লিখিত দুই অন্ধ সঙ্গী হলো হাত ও পা। হাত-পায়ের সাহায্যে জীব নানাবিধ কাজ করে এবং এদিক-ওদিক গমন করে।
Verse 16
अन्त:पुरं च हृदयं विषूचिर्मन उच्यते । तत्र मोहं प्रसादं वा हर्षं प्राप्नोति तद्गुणै: ॥ १६ ॥
‘অন্তঃপুর’ বলতে হৃদয়কে বোঝায়, আর ‘বিষূচী’—সর্বত্রগামী—বলে মনকে বলা হয়। সেই মনেই জীব প্রকৃতির গুণের প্রভাবে কখনও মোহ, কখনও প্রশান্তি, কখনও আনন্দ লাভ করে।
Verse 17
यथा यथा विक्रियते गुणाक्तो विकरोति वा । तथा तथोपद्रष्टात्मा तद्वृत्तीरनुकार्यते ॥ १७ ॥
যেমন যেমন জীব কলুষিত বুদ্ধির প্রভাবে বিকৃত হয় বা কর্ম করে, তেমন তেমন সে যেন উপদ্রষ্টা-আত্মা হয়ে বুদ্ধিরই নানা বৃত্তি অনুকরণ করে। জাগ্রত বা স্বপ্নে বুদ্ধি নানা অবস্থা রচনা করে।
Verse 18
देहो रथस्त्विन्द्रियाश्व: संवत्सररयोऽगति: । द्विकर्मचक्रस्त्रिगुणध्वज: पञ्चासुबन्धुर: ॥ १८ ॥ मनोरश्मिर्बुद्धिसूतो हृन्नीडो द्वन्द्वकूबर: । पञ्चेन्द्रियार्थप्रक्षेप: सप्तधातुवरूथक: ॥ १९ ॥ आकूतिर्विक्रमो बाह्यो मृगतृष्णां प्रधावति । एकादशेन्द्रियचमू: पञ्चसूनाविनोदकृत् ॥ २० ॥
নারদ মুনি বললেন—আমি যে রথের কথা বলেছিলাম, তা আসলে এই দেহ; ইন্দ্রিয়গুলি তার অশ্ব। বছর-পর-বছর কালের বেগে তারা বাধাহীন দৌড়ায়, তবু প্রকৃত অগ্রগতি হয় না। পুণ্য ও পাপ দুই চাকা, তিন গুণ ধ্বজা, পাঁচ প্রাণ বদ্ধতার বন্ধন; মন লাগাম, বুদ্ধি সারথি। হৃদয় আসন, আর সুখ-দুঃখাদি দ্বন্দ্ব গাঁট বাঁধার স্থান। সাত ধাতু আবরণ, পাঁচ কর্মেন্দ্রিয় বাহ্য ক্রিয়া, আর এগারো ইন্দ্রিয় সৈন্যদল। বিষয়াসক্ত জীব রথে বসে মৃগতৃষ্ণার মতো মিথ্যা কামনা পূরণে জন্মে জন্মে ছুটে বেড়ায়।
Verse 19
देहो रथस्त्विन्द्रियाश्व: संवत्सररयोऽगति: । द्विकर्मचक्रस्त्रिगुणध्वज: पञ्चासुबन्धुर: ॥ १८ ॥ मनोरश्मिर्बुद्धिसूतो हृन्नीडो द्वन्द्वकूबर: । पञ्चेन्द्रियार्थप्रक्षेप: सप्तधातुवरूथक: ॥ १९ ॥ आकूतिर्विक्रमो बाह्यो मृगतृष्णां प्रधावति । एकादशेन्द्रियचमू: पञ्चसूनाविनोदकृत् ॥ २० ॥
নারদ মুনি বললেন—আমি যে রথের কথা বলেছিলাম, তা আসলে এই দেহ; ইন্দ্রিয়গুলি তার অশ্ব। বছর-পর-বছর কালের বেগে তারা বাধাহীন দৌড়ায়, তবু প্রকৃত অগ্রগতি হয় না। পুণ্য ও পাপ দুই চাকা, তিন গুণ ধ্বজা, পাঁচ প্রাণ বদ্ধতার বন্ধন; মন লাগাম, বুদ্ধি সারথি। হৃদয় আসন, আর সুখ-দুঃখাদি দ্বন্দ্ব গাঁট বাঁধার স্থান। সাত ধাতু আবরণ, পাঁচ কর্মেন্দ্রিয় বাহ্য ক্রিয়া, আর এগারো ইন্দ্রিয় সৈন্যদল। বিষয়াসক্ত জীব রথে বসে মৃগতৃষ্ণার মতো মিথ্যা কামনা পূরণে জন্মে জন্মে ছুটে বেড়ায়।
Verse 20
देहो रथस्त्विन्द्रियाश्व: संवत्सररयोऽगति: । द्विकर्मचक्रस्त्रिगुणध्वज: पञ्चासुबन्धुर: ॥ १८ ॥ मनोरश्मिर्बुद्धिसूतो हृन्नीडो द्वन्द्वकूबर: । पञ्चेन्द्रियार्थप्रक्षेप: सप्तधातुवरूथक: ॥ १९ ॥ आकूतिर्विक्रमो बाह्यो मृगतृष्णां प्रधावति । एकादशेन्द्रियचमू: पञ्चसूनाविनोदकृत् ॥ २० ॥
নারদ মুনি বললেন—আমি যে রথের কথা বলেছিলাম, তা আসলে এই দেহ; ইন্দ্রিয়গুলি তার অশ্ব। বছর-পর-বছর কালের বেগে তারা বাধাহীন দৌড়ায়, তবু প্রকৃত অগ্রগতি হয় না। পুণ্য ও পাপ দুই চাকা, তিন গুণ ধ্বজা, পাঁচ প্রাণ বদ্ধতার বন্ধন; মন লাগাম, বুদ্ধি সারথি। হৃদয় আসন, আর সুখ-দুঃখাদি দ্বন্দ্ব গাঁট বাঁধার স্থান। সাত ধাতু আবরণ, পাঁচ কর্মেন্দ্রিয় বাহ্য ক্রিয়া, আর এগারো ইন্দ্রিয় সৈন্যদল। বিষয়াসক্ত জীব রথে বসে মৃগতৃষ্ণার মতো মিথ্যা কামনা পূরণে জন্মে জন্মে ছুটে বেড়ায়।
Verse 21
संवत्सरश्चण्डवेग: कालो येनोपलक्षित: । तस्याहानीह गन्धर्वा गन्धर्व्यो रात्रय: स्मृता: । हरन्त्यायु: परिक्रान्त्या षष्ट्युत्तरशतत्रयम् ॥ २१ ॥
যাকে পূর্বে চণ্ডবেগ বলা হয়েছে, সেই প্রবল কাল দিন-রাত্রির দ্বারা চিহ্নিত। তার দিনগুলি ‘গন্ধর্ব’ এবং রাত্রিগুলি ‘গন্ধর্বী’ নামে স্মৃত; এদের ৩৬০ বার আবর্তনে দেহের আয়ু ক্রমে হ্রাস পায়।
Verse 22
कालकन्या जरा साक्षाल्लोकस्तां नाभिनन्दति । स्वसारं जगृहे मृत्यु: क्षयाय यवनेश्वर: ॥ २२ ॥
যাকে ‘কালকন্যা’ বলা হয়েছে, সে-ই প্রত্যক্ষ জরা (বার্ধক্য); লোক তাকে গ্রহণ করতে চায় না। কিন্তু যবনেশ্বর—মৃত্যু—ক্ষয়ের জন্য জরাকে নিজের ভগিনী রূপে গ্রহণ করে।
Verse 23
आधयो व्याधयस्तस्य सैनिका यवनाश्चरा: । भूतोपसर्गाशुरय: प्रज्वारो द्विविधो ज्वर: ॥ २३ ॥ एवं बहुविधैर्दु:खैर्दैवभूतात्मसम्भवै: । क्लिश्यमान: शतं वर्षं देहे देही तमोवृत: ॥ २४ ॥ प्राणेन्द्रियमनोधर्मानात्मन्यध्यस्य निर्गुण: । शेते कामलवान्ध्यायन्ममाहमिति कर्मकृत् ॥ २५ ॥
আধি ও ব্যাধিই তার যবন-চর সৈনিক; ভূত-উপসর্গ ও অসুর-প্রভাবও তেমনই। ‘প্রজ্বার’ দুই প্রকার জ্বরের প্রতীক। এভাবে দৈব, ভূত ও আত্ম (নিজ দেহ-মন) থেকে উৎপন্ন নানাবিধ দুঃখে ক্লিষ্ট হয়ে, তমসে আচ্ছন্ন দেহী এই দেহে শতবর্ষ যন্ত্রণা ভোগ করে। যদিও সে নির্গুণ, তবু প্রাণ-ইন্দ্রিয়-মনধর্ম আত্মায় আরোপ করে, কামনায় অন্ধ হয়ে ‘আমি’ ও ‘আমার’—এই মিথ্যা অহংকারে কর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে থাকে।
Verse 24
आधयो व्याधयस्तस्य सैनिका यवनाश्चरा: । भूतोपसर्गाशुरय: प्रज्वारो द्विविधो ज्वर: ॥ २३ ॥ एवं बहुविधैर्दु:खैर्दैवभूतात्मसम्भवै: । क्लिश्यमान: शतं वर्षं देहे देही तमोवृत: ॥ २४ ॥ प्राणेन्द्रियमनोधर्मानात्मन्यध्यस्य निर्गुण: । शेते कामलवान्ध्यायन्ममाहमिति कर्मकृत् ॥ २५ ॥
এইভাবে দৈব, ভূত ও আত্ম (নিজ দেহ-মন) থেকে উৎপন্ন নানাবিধ দুঃখে ক্লিষ্ট হয়ে, তমসে আচ্ছন্ন দেহী এই দেহে শতবর্ষ কষ্ট ভোগ করে।
Verse 25
आधयो व्याधयस्तस्य सैनिका यवनाश्चरा: । भूतोपसर्गाशुरय: प्रज्वारो द्विविधो ज्वर: ॥ २३ ॥ एवं बहुविधैर्दु:खैर्दैवभूतात्मसम्भवै: । क्लिश्यमान: शतं वर्षं देहे देही तमोवृत: ॥ २४ ॥ प्राणेन्द्रियमनोधर्मानात्मन्यध्यस्य निर्गुण: । शेते कामलवान्ध्यायन्ममाहमिति कर्मकृत् ॥ २५ ॥
যদিও সে নির্গুণ, তবু প্রাণ-ইন্দ্রিয়-মনধর্ম আত্মায় আরোপ করে, কামনায় অন্ধ হয়ে ‘আমি’ ও ‘আমার’—এই ভাব নিয়ে কর্ম করতে করতে পড়ে থাকে।
Verse 26
यदात्मानमविज्ञाय भगवन्तं परं गुरुम् । पुरुषस्तु विषज्जेत गुणेषु प्रकृते: स्वदृक् ॥ २६ ॥ गुणाभिमानी स तदा कर्माणि कुरुतेऽवश: । शुक्लं कृष्णं लोहितं वा यथाकर्माभिजायते ॥ २७ ॥
যে জীব আত্মস্বরূপ না জেনে পরম গুরু ভগবানকে বিস্মৃত হয়, সে প্রকৃতির গুণে আসক্ত হয়। গুণাভিমানী হয়ে সে অবশভাবে কর্ম করে, আর কর্মানুসারে শ্বেত, কৃষ্ণ বা লোহিত—বিভিন্ন দেহ লাভ করে।
Verse 27
यदात्मानमविज्ञाय भगवन्तं परं गुरुम् । पुरुषस्तु विषज्जेत गुणेषु प्रकृते: स्वदृक् ॥ २६ ॥ गुणाभिमानी स तदा कर्माणि कुरुतेऽवश: । शुक्लं कृष्णं लोहितं वा यथाकर्माभिजायते ॥ २७ ॥
গুণের অভিমানী জীব তখন অবশ হয়ে কর্ম করে; তাই কর্মানুসারে শ্বেত, কৃষ্ণ বা লোহিত—নানাবিধ দেহে জন্ম গ্রহণ করে এবং প্রকৃতির গুণে নানা যোনিতে ঘুরে বেড়ায়।
Verse 28
शुक्लात्प्रकाशभूयिष्ठाँल्लोकानाप्नोति कर्हिचित् । दु:खोदर्कान् क्रियायासांस्तम:शोकोत्कटान् क्वचित् ॥ २८ ॥
সত্ত্বগুণ থেকে কখনও আলোকময় উচ্চ লোক লাভ হয়; রজোগুণ থেকে পরিশ্রমসাধ্য কর্ম ও দুঃখফল আসে; আর তমোগুণ থেকে অন্ধকার, শোক ও তীব্র ক্লেশ ভোগ করতে হয়।
Verse 29
क्वचित्पुमान् क्वचिच्च स्त्री क्वचिन्नोभयमन्धधी: । देवो मनुष्यस्तिर्यग्वा यथाकर्मगुणं भव: ॥ २९ ॥
তমোগুণে আচ্ছন্ন বুদ্ধির জীব কখনও পুরুষ, কখনও নারী, কখনও নপুংসক; কখনও দেবতা, কখনও মানুষ, কখনও পাখি-পশু ইত্যাদি হয়। এভাবে কর্ম ও গুণ অনুসারে সে সংসারে ঘুরে বেড়ায়।
Verse 30
क्षुत्परीतो यथा दीन: सारमेयो गृहं गृहम् । चरन्विन्दति यद्दिष्टं दण्डमोदनमेव वा ॥ ३० ॥ तथा कामाशयो जीव उच्चावचपथा भ्रमन् । उपर्यधो वा मध्ये वा याति दिष्टं प्रियाप्रियम् ॥ ३१ ॥
যেমন ক্ষুধায় কাতর দীন কুকুর ঘরে ঘরে ঘুরে ভাগ্যক্রমে কখনও প্রহার পায়, কখনও সামান্য অন্ন; তেমনি কামনায় পূর্ণ জীব নানা পথে ঘুরে কখনও ঊর্ধ্বে, কখনও অধঃপাতে, কখনও মধ্যলোকে—দৈববশে প্রিয় বা অপ্রিয় ফল ভোগ করে।
Verse 31
क्षुत्परीतो यथा दीन: सारमेयो गृहं गृहम् । चरन्विन्दति यद्दिष्टं दण्डमोदनमेव वा ॥ ३० ॥ तथा कामाशयो जीव उच्चावचपथा भ्रमन् । उपर्यधो वा मध्ये वा याति दिष्टं प्रियाप्रियम् ॥ ३१ ॥
যেমন ক্ষুধায় কাতর দীন কুকুর ঘরে ঘরে ঘুরে বেড়ায় এবং ভাগ্যক্রমে কখনও প্রহার পায়, কখনও সামান্য অন্ন পায়, তেমনি জীব নানা কামনার প্রভাবে নিয়তির অনুসারে নানা যোনিতে ঘুরে বেড়ায়—কখনও উচ্চে, কখনও নীচে; কখনও স্বর্গে, কখনও নরকে, কখনও মধ্যলোকসমূহে, এবং প্রিয়-অপ্রিয় ফল ভোগ করে।
Verse 32
दु:खेष्वेकतरेणापि दैवभूतात्महेतुषु । जीवस्य न व्यवच्छेद: स्याच्चेत्तत्तत्प्रतिक्रिया ॥ ३२ ॥
দৈব, অন্য জীব এবং দেহ-মনজনিত দুঃখ দূর করতে জীব নানাবিধ প্রতিকার করে; তবু প্রকৃতির বিধানে আবদ্ধ থাকায়, যতই প্রতিক্রিয়া করুক, সে সেই নিয়মের বন্ধন ছিন্ন করতে পারে না।
Verse 33
यथा हि पुरुषो भारं शिरसा गुरुमुद्वहन् । तं स्कन्धेन स आधत्ते तथा सर्वा: प्रतिक्रिया: ॥ ३३ ॥
যেমন একজন মানুষ মাথায় ভারী বোঝা বহন করে, অতিভার মনে হলে তা মাথা থেকে কাঁধে সরিয়ে রাখে, তেমনি সব প্রতিকার কেবল বোঝাকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরায়; বোঝা আসলে দূর হয় না।
Verse 34
नैकान्तत: प्रतीकार: कर्मणां कर्म केवलम् । द्वयं ह्यविद्योपसृतं स्वप्ने स्वप्न इवानघ ॥ ३४ ॥
নারদ বললেন—হে নিষ্পাপ! কর্মের ফলকে কেবল আরেক কর্ম রচনা করে, বিশেষত কৃষ্ণচেতনা-বিহীন কর্ম দ্বারা, সম্পূর্ণরূপে নিবারণ করা যায় না; কারণ উভয়ই অজ্ঞানের আশ্রিত। যেমন দুঃস্বপ্নকে আরেক দুঃস্বপ্ন দিয়ে দূর করা যায় না—জাগরণেই তা দূর হয়। তেমনি এই সংসার অজ্ঞান-মোহের স্বপ্ন; কৃষ্ণচেতনায় জাগলেই চূড়ান্ত সমাধান।
Verse 35
अर्थे ह्यविद्यमानेऽपि संसृतिर्न निवर्तते । मनसा लिङ्गरूपेण स्वप्ने विचरतो यथा ॥ ३५ ॥
বস্তু বাস্তবে না থাকলেও সংসার-ভ্রম দূর হয় না; যেমন স্বপ্নে মন সূক্ষ্ম রূপ ধারণ করে বিচরণ করে। স্বপ্নে বাঘ বা সাপ দেখে আমরা কষ্ট পাই, কিন্তু বাস্তবে না বাঘ আছে না সাপ; সূক্ষ্ম কল্পনায় দুঃখ জন্মায়, আর জাগরণ ছাড়া তা প্রশমিত হয় না।
Verse 36
अथात्मनोऽर्थभूतस्य यतोऽनर्थपरम्परा । संसृतिस्तद्वयवच्छेदो भक्त्या परमया गुरौ ॥ ३६ ॥ वासुदेवे भगवति भक्तियोग: समाहित: । सध्रीचीनेन वैराग्यं ज्ञानं च जनयिष्यति ॥ ३७ ॥
জীবের প্রকৃত কল্যাণ হলো অজ্ঞানে জন্ম-মৃত্যুর পুনরাবৃত্তি থেকে মুক্ত হওয়া। তার একমাত্র উপায়—ভগবানের প্রতিনিধি সদ্গুরুর শরণে পরম ভক্তি; ভগবান বাসুদেবে স্থিত ভক্তিযোগই যথার্থ বৈরাগ্য ও জ্ঞান উৎপন্ন করে।
Verse 37
अथात्मनोऽर्थभूतस्य यतोऽनर्थपरम्परा । संसृतिस्तद्वयवच्छेदो भक्त्या परमया गुरौ ॥ ३६ ॥ वासुदेवे भगवति भक्तियोग: समाहित: । सध्रीचीनेन वैराग्यं ज्ञानं च जनयिष्यति ॥ ३७ ॥
ভগবান বাসুদেবে একাগ্র ভক্তিযোগই যথার্থ বৈরাগ্য ও সত্য জ্ঞান জন্ম দেয়; তা ছাড়া পূর্ণ বিরাগ বা তত্ত্বজ্ঞান প্রকাশ পায় না।
Verse 38
सोऽचिरादेव राजर्षे स्यादच्युतकथाश्रय: । शृण्वत: श्रद्दधानस्य नित्यदा स्यादधीयत: ॥ ३८ ॥
হে রাজর্ষি! যে শ্রদ্ধাবান হয়ে নিত্য অচ্যুতের কথার আশ্রয় নেয়, সদা শ্রবণ ও মনন করে, সে অচিরেই ভগবানের সाक्षাৎ দর্শনের যোগ্য হয়।
Verse 39
यत्र भागवता राजन् साधवो विशदाशया: । भगवद्गुणानुकथनश्रवणव्यग्रचेतस: ॥ ३९ ॥ तस्मिन्महन्मुखरिता मधुभिच्चरित्र- पीयूषशेषसरित: परित: स्रवन्ति । ता ये पिबन्त्यवितृषो नृप गाढकर्णै- स्तान्न स्पृशन्त्यशनतृड्भयशोकमोहा: ॥ ४० ॥
হে রাজন! যেখানে ভাগবত ভক্তেরা—নির্মলচিত্ত সাধুগণ—ভগবানের গুণকথা কীর্তন ও শ্রবণে ব্যাকুল থাকে, সেখানে মহাপুরুষদের মুখ থেকে মধুর প্রভুচরিত্রের অমৃতধারা নদীর স্রোতের মতো চারদিকে প্রবাহিত হয়। যারা তৃষ্ণাহীন হয়ে গভীর কর্ণে তা পান করে, তাদের ক্ষুধা-পিপাসা, ভয়, শোক ও মোহ স্পর্শ করে না।
Verse 40
यत्र भागवता राजन् साधवो विशदाशया: । भगवद्गुणानुकथनश्रवणव्यग्रचेतस: ॥ ३९ ॥ तस्मिन्महन्मुखरिता मधुभिच्चरित्र- पीयूषशेषसरित: परित: स्रवन्ति । ता ये पिबन्त्यवितृषो नृप गाढकर्णै- स्तान्न स्पृशन्त्यशनतृड्भयशोकमोहा: ॥ ४० ॥
সেই স্থানে মহাপুরুষদের মুখ থেকে মধুর প্রভুচরিত্রের অমৃতধারা নদীর স্রোতের মতো চারদিকে প্রবাহিত হয়। হে নৃপ! যারা তৃষ্ণাহীন হয়ে গভীর কর্ণে তা পান করে, তাদের ক্ষুধা-পিপাসা, ভয়, শোক ও মোহ স্পর্শ করে না।
Verse 41
एतैरुपद्रुतो नित्यं जीवलोक: स्वभावजै: । न करोति हरेर्नूनं कथामृतनिधौ रतिम् ॥ ४१ ॥
ক্ষুধা‑তৃষ্ণা প্রভৃতি দেহগত প্রয়োজনের দ্বারা জীব সর্বদা ব্যাকুল; তাই সে শ্রীহরির অমৃতময় কথার ভাণ্ডারে রতি স্থাপন করতে পারে না।
Verse 42
प्रजापतिपति: साक्षाद्भगवान् गिरिशो मनु: । दक्षादय: प्रजाध्यक्षा नैष्ठिका: सनकादय: ॥ ४२ ॥ मरीचिरत्र्यङ्गिरसौ पुलस्त्य: पुलह: क्रतु: । भृगुर्वसिष्ठ इत्येते मदन्ता ब्रह्मवादिन: ॥ ४३ ॥ अद्यापि वाचस्पतयस्तपोविद्यासमाधिभि: । पश्यन्तोऽपि न पश्यन्ति पश्यन्तं परमेश्वरम् ॥ ४४ ॥
প্রজাপতিদের অধিপতি স্বয়ং ভগবান ব্রহ্মা, গিরিশ ভগবান শঙ্কর, মনু, দক্ষ প্রভৃতি প্রজাধ্যক্ষ, সনক‑সনাতনাদি নিষ্ঠাবান ব্রহ্মচারী; এবং মरीচি, অত্রি, অঙ্গিরা, পুলস্ত্য, পুলহ, ক্রতু, ভৃগু, বশিষ্ঠ ও আমি (নারদ)— এরা সকলেই বেদবাণীর প্রামাণ্য বক্তা শক্তিমান ব্রাহ্মণ। তপস্যা, বিদ্যা ও সমাধিতে বলবান হয়েও, পরমেশ্বরকে দেখেও, আমরা আজও তাঁকে সম্পূর্ণরূপে জানতে পারি না।
Verse 43
प्रजापतिपति: साक्षाद्भगवान् गिरिशो मनु: । दक्षादय: प्रजाध्यक्षा नैष्ठिका: सनकादय: ॥ ४२ ॥ मरीचिरत्र्यङ्गिरसौ पुलस्त्य: पुलह: क्रतु: । भृगुर्वसिष्ठ इत्येते मदन्ता ब्रह्मवादिन: ॥ ४३ ॥ अद्यापि वाचस्पतयस्तपोविद्यासमाधिभि: । पश्यन्तोऽपि न पश्यन्ति पश्यन्तं परमेश्वरम् ॥ ४४ ॥
প্রজাপতিদের অধিপতি স্বয়ং ভগবান ব্রহ্মা, গিরিশ ভগবান শঙ্কর, মনু, দক্ষ প্রভৃতি প্রজাধ্যক্ষ, সনক‑সনাতনাদি নিষ্ঠাবান ব্রহ্মচারী; এবং মরিীচি, অত্রি, অঙ্গিরা, পুলস্ত্য, পুলহ, ক্রতু, ভৃগু, বশিষ্ঠ ও আমি (নারদ)— এরা সকলেই বেদবাণীর প্রামাণ্য বক্তা শক্তিমান ব্রাহ্মণ। তপস্যা, বিদ্যা ও সমাধিতে বলবান হয়েও, পরমেশ্বরকে দেখেও, আমরা আজও তাঁকে সম্পূর্ণরূপে জানতে পারি না।
Verse 44
प्रजापतिपति: साक्षाद्भगवान् गिरिशो मनु: । दक्षादय: प्रजाध्यक्षा नैष्ठिका: सनकादय: ॥ ४२ ॥ मरीचिरत्र्यङ्गिरसौ पुलस्त्य: पुलह: क्रतु: । भृगुर्वसिष्ठ इत्येते मदन्ता ब्रह्मवादिन: ॥ ४३ ॥ अद्यापि वाचस्पतयस्तपोविद्यासमाधिभि: । पश्यन्तोऽपि न पश्यन्ति पश्यन्तं परमेश्वरम् ॥ ४४ ॥
প্রজাপতিদের অধিপতি স্বয়ং ভগবান ব্রহ্মা, গিরিশ ভগবান শঙ্কর, মনু, দক্ষ প্রভৃতি প্রজাধ্যক্ষ, সনক‑সনাতনাদি নিষ্ঠাবান ব্রহ্মচারী; এবং মরিীচি, অত্রি, অঙ্গিরা, পুলস্ত্য, পুলহ, ক্রতু, ভৃগু, বশিষ্ঠ ও আমি (নারদ)— এরা সকলেই বেদবাণীর প্রামাণ্য বক্তা শক্তিমান ব্রাহ্মণ। তপস্যা, বিদ্যা ও সমাধিতে বলবান হয়েও, পরমেশ্বরকে দেখেও, আমরা আজও তাঁকে সম্পূর্ণরূপে জানতে পারি না।
Verse 45
शब्दब्रह्मणि दुष्पारे चरन्त उरुविस्तरे । मन्त्रलिङ्गैर्व्यवच्छिन्नं भजन्तो न विदु: परम् ॥ ४५ ॥
অসীম ও দুরতিক্রম শব্দ‑ব্রহ্ম (বেদ)‑এ বিচরণ করে, এবং মন্ত্রলক্ষণ অনুসারে নানা দেবতার পূজা করলেও, মানুষ পরম পুরুষ—সর্বশক্তিমান ভগবানকে জানতে পারে না।
Verse 46
यदा यस्यानुगृह्णाति भगवानात्मभावित: । स जहाति मतिं लोके वेदे च परिनिष्ठिताम् ॥ ४६ ॥
যখন ভগবান আত্মভাবিত হয়ে কারও প্রতি অনুগ্রহ করেন, তখন জাগ্রত ভক্ত লোকিক কর্ম ও বেদোক্ত যজ্ঞ-কর্মকাণ্ডের আসক্তি ত্যাগ করে নির্মল ভক্তিতে স্থিত হয়।
Verse 47
तस्मात्कर्मसु बर्हिष्मन्नज्ञानादर्थकाशिषु । मार्थदृष्टिं कृथा: श्रोत्रस्पर्शिष्वस्पृष्टवस्तुषु ॥ ४७ ॥
অতএব, হে রাজা বহিষ্মান, অজ্ঞতাবশত বেদোক্ত কর্মকাণ্ড বা ফলকামী কর্মকে—যা শুনতে মনোরম—নিজস্ব পরম স্বার্থের লক্ষ্য বলে মনে কোরো না; এগুলো জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়।
Verse 48
स्वं लोकं न विदुस्ते वै यत्र देवो जनार्दन: । आहुर्धूम्रधियो वेदं सकर्मकमतद्विद: ॥ ४८ ॥
যারা কম বুদ্ধিমান তারা বেদোক্ত কর্মকাণ্ডকেই সর্বস্ব মনে করে। তারা জানে না তাদের নিজ গৃহ—যেখানে দেব জনার্দন বিরাজ করেন; তাই মোহগ্রস্ত হয়ে অন্য ঘরের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়।
Verse 49
आस्तीर्य दर्भै: प्रागग्रै: कार्त्स्न्येन क्षितिमण्डलम् । स्तब्धो बृहद्वधान्मानी कर्म नावैषि यत्परम् । तत्कर्म हरितोषं यत्सा विद्या तन्मतिर्यया ॥ ४९ ॥
হে রাজা, তুমি কুশঘাসের তীক্ষ্ণ অগ্রে যেন সমগ্র ভূমণ্ডল আচ্ছাদিত করেছ এবং যজ্ঞে বহু প্রাণী বধ করে গর্বে স্থব্ধ হয়েছ; কিন্তু তুমি জানো না—পরম কর্ম সেই, যা হরিকে তুষ্ট করে। সেই-ই বিদ্যা, সেই-ই বুদ্ধি, যা কৃষ্ণচেতনা বৃদ্ধি করে।
Verse 50
हरिर्देहभृतामात्मा स्वयं प्रकृतिरीश्वर: । तत्पादमूलं शरणं यत: क्षेमो नृणामिह ॥ ५० ॥
শ্রীহরি দেহধারী সকল জীবের অন্তরাত্মা ও পথপ্রদর্শক; তিনি প্রকৃতিরও পরম ঈশ্বর। তাই সকলের উচিত তাঁর পদপদ্মের আশ্রয় নেওয়া, কারণ তাতেই মানুষের মঙ্গল ও ক্ষেম হয়।
Verse 51
स वै प्रियतमश्चात्मा यतो न भयमण्वपि । इति वेद स वै विद्वान्यो विद्वान्स गुरुर्हरि: ॥ ५१ ॥
যিনি ভক্তিসেবায় নিয়োজিত, তাঁর ভৌতিক সংসারে অণুমাত্রও ভয় থাকে না, কারণ শ্রীহরি সকলের পরমাত্মা ও পরম বন্ধু। এই গূঢ় তত্ত্ব যিনি জানেন তিনিই প্রকৃত বিদ্বান; সেই বিদ্বানই জগতের গুরু হতে পারেন। কৃষ্ণের সত্য প্রতিনিধি সদ্গুরু কৃষ্ণ থেকে অভিন্ন।
Verse 52
नारद उवाच प्रश्न एवं हि सञ्छिन्नो भवत: पुरुषर्षभ । अत्र मे वदतो गुह्यं निशामय सुनिश्चितम् ॥ ५२ ॥
নারদ মুনি বললেন: হে পুরুষশ্রেষ্ঠ! আপনার প্রশ্নের যথাযথ উত্তর আমি দিয়েছি। এখন আমার মুখে আরেকটি গূঢ়, সাধুজনে স্বীকৃত, অত্যন্ত গোপনীয় আখ্যান নিশ্চিতভাবে শ্রবণ করুন।
Verse 53
क्षुद्रं चरं सुमनसां शरणे मिथित्वा रक्तं षडङ्घ्रिगणसामसु लुब्धकर्णम् । अग्रे वृकानसुतृपोऽविगणय्य यान्तं पृष्ठे मृगं मृगय लुब्धकबाणभिन्नम् ॥ ५३ ॥
হে রাজন! সেই হরিণটিকে খুঁজে দেখুন, যে তার হরিণীর সঙ্গে সুন্দর পুষ্পবাগানে ঘাস খাচ্ছে। সে নিজের ভোগে আসক্ত হয়ে ভ্রমরদের মধুর গানে কান পেতে আছে। সে জানে না—সামনে মাংসাশী ব্যাঘ্র, আর পেছনে শিকারি তীক্ষ্ণ বাণে বিদ্ধ করতে উদ্যত; তাই তার মৃত্যু সন্নিকট।
Verse 54
सुमन:समधर्मणां स्त्रीणां शरण आश्रमे पुष्पमधुगन्धवत्क्षुद्रतमं काम्यकर्मविपाकजं कामसुखलवं जैह्व्यौपस्थ्यादि विचिन्वन्तं मिथुनीभूय तदभिनिवेशितमनसंषडङ्घ्रिगणसामगीत वदतिमनोहरवनितादिजनालापेष्वतितरामतिप्रलोभितकर्णमग्रे वृकयूथवदात्मन आयुर्हरतोऽहोरात्रान्तान् काललवविशेषानविगणय्य गृहेषु विहरन्तं पृष्ठत एव परोक्षमनुप्रवृत्तो लुब्धक: कृतान्तोऽन्त:शरेण यमिह पराविध्यति तमिममात्मानमहो राजन् भिन्नहृदयं द्रष्टुमर्हसीति ॥ ५४ ॥
হে রাজন! নারীর আশ্রয় প্রথমে ফুলের মতো মনোহর, কিন্তু শেষে অত্যন্ত অশান্তিদায়ক। জীব কাম্যকর্মের ফল থেকে জন্ম নেওয়া ইন্দ্রিয়সুখ—জিহ্বা থেকে উপস্থ পর্যন্ত—সংগ্রহ করে, স্ত্রীর সঙ্গে একাত্ম হয়ে গৃহস্থজীবনে সুখী মনে করে। স্ত্রী-পুত্রের মধুর কথাবার্তা, যা ভ্রমরের গানের মতো, তার কানে অতিশয় লোভ জাগায়। সে ভুলে যায় যে সামনে কাল দাঁড়িয়ে আছে, দিন-রাত্রির প্রবাহে আয়ু হরণ করছে; আর পেছন থেকে অদৃশ্যভাবে মৃত্যুরূপ শিকারি অন্তঃশরে তাকে বিদ্ধ করতে ধেয়ে আসে। অতএব, হে রাজন, এই অবস্থাকে দেখো—তুমি সর্বদিক থেকে বিপন্ন।
Verse 55
स त्वं विचक्ष्य मृगचेष्टितमात्मनोऽन्त- श्चित्तं नियच्छ हृदि कर्णधुनीं च चित्ते । जह्यङ्गनाश्रममसत्तमयूथगाथं प्रीणीहि हंसशरणं विरम क्रमेण ॥ ५५ ॥
হে রাজন! হরিণের এই দৃষ্টান্তমূলক আচরণ বুঝে নিজের অন্তঃচেতনা সংযত করুন, আর কানে মধুর লাগা ধ্বনিকে মনে আশ্রয় দেবেন না। কামময় গৃহস্থ-আশ্রম ও তার কাহিনি ত্যাগ করুন, এবং মুক্ত হংসস্বরূপ মহাত্মাদের কৃপায় ভগবানের শরণ নিন। এভাবে ক্রমে ভৌতিক আসক্তি থেকে বিরত হন।
Verse 56
राजोवाच श्रुतमन्वीक्षितं ब्रह्मन् भगवान् यदभाषत । नैतज्जानन्त्युपाध्याया: किं न ब्रूयुर्विदुर्यदि ॥ ५६ ॥
রাজা বলল—হে ব্রাহ্মণ! আপনি ভগবানের যে বাণী বললেন, আমি তা গভীর মনোযোগে শুনে বিচার করেছি। যে আচার্যরা আমাকে কর্মফলে প্রবৃত্ত করেছিল, তারা এই গূঢ় জ্ঞান জানত না; জানলে কেন আমাকে বলত না?
Verse 57
संशयोऽत्र तु मे विप्र सञ्छिन्नस्तत्कृतो महान् । ऋषयोऽपि हि मुह्यन्ति यत्र नेन्द्रियवृत्तय: ॥ ५७ ॥
হে বিপ্র! আপনার উপদেশে আমার মহান সংশয় ছিন্ন হয়েছে। এখন আমি ভক্তি, জ্ঞান ও বৈরাগ্যের পার্থক্য বুঝেছি। জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্যে যেখানে ইন্দ্রিয়বৃত্তি নেই, সেখানেও ঋষিরা বিভ্রান্ত হন—এ কথাও আমি উপলব্ধি করেছি; ইন্দ্রিয়সুখের প্রশ্নই ওঠে না।
Verse 58
कर्माण्यारभते येन पुमानिह विहाय तम् । अमुत्रान्येन देहेन जुष्टानि स यदश्नुते ॥ ५८ ॥
এই জীবনে জীব যে কর্ম করে, তার ফল সে পরজন্মে অন্য দেহে ভোগ করে।
Verse 59
इति वेदविदां वाद: श्रूयते तत्र तत्र ह । कर्म यत्क्रियते प्रोक्तं परोक्षं न प्रकाशते ॥ ५९ ॥
বেদতত্ত্ববিদদের এই মত সর্বত্র শোনা যায় যে পূর্বকর্মের ফল ভোগ করতে হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, পূর্বজন্মের যে দেহে কর্ম করা হয়েছিল তা তো লুপ্ত; তবে অন্য দেহে সেই কর্মফল ভোগ বা দুঃখ কীভাবে প্রকাশ পায়?
Verse 60
नारद उवाच येनैवारभते कर्म तेनैवामुत्र तत्पुमान् । भुङ्क्ते ह्यव्यवधानेन लिङ्गेन मनसा स्वयम् ॥ ६० ॥
নারদ বললেন—যে জীব এই স্থূল দেহে কর্ম আরম্ভ করে, সেই জীবই পরজন্মে তার ফল ভোগ করে। স্থূল দেহ সূক্ষ্ম দেহ—মন, বুদ্ধি ও অহংকার—দ্বারা প্রেরিত হয়ে কাজ করে। স্থূল দেহ নষ্ট হলেও সূক্ষ্ম দেহ থাকে এবং সেই-ই সুখ-দুঃখ ভোগ করে; তাই কোনো পরিবর্তন নেই।
Verse 61
शयानमिममुत्सृज्य श्वसन्तं पुरुषो यथा । कर्मात्मन्याहितं भुङ्क्ते तादृशेनेतरेण वा ॥ ६१ ॥
যেমন স্বপ্নে মানুষ শয়নরত অবস্থায় এই স্থূল দেহ ত্যাগ করে মন-বুদ্ধির ক্রিয়ায় অন্য দেহে দেবতা বা কুকুররূপে আচরণ করে, তেমনি স্থূল দেহ ছেড়ে জীব পূর্বকর্মফল ভোগের জন্য এ লোক বা পরলোকে পশু বা দেবদেহ গ্রহণ করে।
Verse 62
ममैते मनसा यद्यदसावहमिति ब्रुवन् । गृह्णीयात्तत्पुमान् राद्धं कर्म येन पुनर्भव: ॥ ६२ ॥
জীব মন দিয়ে ‘আমি এই, আমি সেই; এ আমার কর্তব্য’—এভাবে যা যা বলে, সেই সংস্কার অনুযায়ী সে কর্মের সঞ্চিত অংশ গ্রহণ করে, যার ফলে পুনর্জন্ম হয়। ভগবানের কৃপায় সে নিজের মনোকল্পনাগুলিও কার্যকর করার সুযোগ পায় এবং আরেক দেহ লাভ করে।
Verse 63
यथानुमीयते चित्तमुभयैरिन्द्रियेहितै: । एवं प्राग्देहजं कर्म लक्ष्यते चित्तवृत्तिभि: ॥ ६३ ॥
জ্ঞানেন্দ্রিয় ও কর্মেন্দ্রিয়—এই দুই প্রকার ইন্দ্রিয়ক্রিয়ার দ্বারা জীবের চিত্তস্থিতি অনুমেয় হয়। তেমনি চিত্তবৃত্তির দ্বারাই পূর্বদেহজাত কর্ম এবং পূর্বজন্মের অবস্থাও বোঝা যায়।
Verse 64
नानुभूतं क्व चानेन देहेनादृष्टमश्रुतम् । कदाचिदुपलभ्येत यद्रूपं यादृगात्मनि ॥ ६४ ॥
কখনও কখনও এই বর্তমান দেহে চোখে না দেখা ও কানে না শোনা বিষয়ও হঠাৎ অনুভূত হয়; আবার কখনও এমনই বিষয় স্বপ্নে আকস্মিকভাবে দেখা যায়।
Verse 65
तेनास्य तादृशं राजँल्लिङ्गिनो देहसम्भवम् । श्रद्धत्स्वाननुभूतोऽर्थो न मन: स्प्रष्टुमर्हति ॥ ६५ ॥
অতএব, হে রাজন, সূক্ষ্ম লিঙ্গশরীরযুক্ত এই জীব পূর্বদেহের সংস্কার থেকেই নানা ভাব ও চিত্র রচনা করে—এ কথা নিশ্চিত জেনে গ্রহণ করুন। পূর্বদেহে অননুভূত কোনো বিষয় মন কল্পনা বা স্পর্শ করতে পারে না।
Verse 66
मन एव मनुष्यस्य पूर्वरूपाणि शंसति । भविष्यतश्च भद्रं ते तथैव न भविष्यत: ॥ ६६ ॥
হে রাজন, তোমার মঙ্গল হোক। মনই জীবের পূর্ব ও ভবিষ্যৎ দেহের লক্ষণ জানায়। প্রকৃতি-সংগ অনুসারে মনের গঠন যেমন, তেমনই দেহলাভ হয়; তাই মন থেকে পূর্বজন্ম ও আগামী দেহ বোঝা যায়।
Verse 67
अदृष्टमश्रुतं चात्र क्वचिन्मनसि दृश्यते । यथा तथानुमन्तव्यं देशकालक्रियाश्रयम् ॥ ६७ ॥
কখনও স্বপ্নে মনে এমন কিছু দেখা যায় যা এ জীবনে না দেখা, না শোনা; কিন্তু তা সবই ভিন্ন দেশ-কাল ও অবস্থায় পূর্বে অভিজ্ঞত হয়েছে—এভাবেই অনুমান করা উচিত।
Verse 68
सर्वे क्रमानुरोधेन मनसीन्द्रियगोचरा: । आयान्ति बहुशो यान्ति सर्वे समनसो जना: ॥ ६८ ॥
ইন্দ্রিয়গোচর বিষয়গুলি ক্রমানুসারে মনে বারবার আসে-যায়। সমমনস্ক জীবের মনে এগুলি নানা সংযোজনে একসঙ্গে প্রকাশ পায়; তাই কখনও না-দেখা না-শোনা রূপও দেখা দেয়।
Verse 69
सत्त्वैकनिष्ठे मनसि भगवत्पार्श्ववर्तिनि । तमश्चन्द्रमसीवेदमुपरज्यावभासते ॥ ६९ ॥
যখন মন সত্ত্বে একনিষ্ঠ হয়ে ভগবানের সান্নিধ্যে স্থিত থাকে, তখন ভক্ত জগতকে ভগবানের দৃষ্টির মতো দেখতে পারে। তা সর্বদা নয়; কিন্তু পূর্ণচন্দ্রের কাছে রাহুর অন্ধকার যেমন ধরা পড়ে, তেমনি তা প্রকাশ পায়।
Verse 70
नाहं ममेति भावोऽयं पुरुषे व्यवधीयते । यावद् बुद्धिमनोऽक्षार्थगुणव्यूहो ह्यनादिमान् ॥ ७० ॥
যতক্ষণ বুদ্ধি, মন, ইন্দ্রিয়, বিষয় ও গুণের কর্মফলসমষ্টি-রূপ অনাদি সূক্ষ্ম দেহ থাকে, ততক্ষণ ‘আমি’ ও ‘আমার’ এই ভ্রান্ত ভাব এবং তার আশ্রয় স্থূল দেহের অভিমানও থাকে।
Verse 71
सुप्तिमूर्च्छोपतापेषु प्राणायनविघातत: । नेहतेऽहमिति ज्ञानं मृत्युप्रज्वारयोरपि ॥ ७१ ॥
গভীর নিদ্রা, মূর্ছা, প্রবল আঘাত, মৃত্যু বা তীব্র জ্বরে প্রাণবায়ুর গতি স্তব্ধ হয়; তখন জীবের ‘আমি এই দেহ’—এই দেহাত্মবুদ্ধি নষ্ট হয়ে যায়।
Verse 72
गर्भे बाल्येऽप्यपौष्कल्यादेकादशविधं तदा । लिङ्गं न दृश्यते यून: कुह्वां चन्द्रमसो यथा ॥ ७२ ॥
গর্ভাবস্থা ও শৈশবে অপূর্ণতার কারণে একাদশবিধ লিঙ্গ—দশ ইন্দ্রিয় ও মন—প্রকাশ পায় না; যেমন অমাবস্যার অন্ধকারে চাঁদ আচ্ছন্ন থাকে।
Verse 73
अर्थे ह्यविद्यमानेऽपि संसृतिर्न निवर्तते । ध्यायतो विषयानस्य स्वप्नेऽनर्थागमो यथा ॥ ७३ ॥
স্বপ্নে বিষয়বস্তু বাস্তবে থাকে না, তবু বিষয়-চিন্তায় তা প্রকাশ পেয়ে অনর্থ আনে; তেমনি বিষয়-সংসর্গের ফলে জীবের সংসার, বিষয়ের প্রত্যক্ষ অনুপস্থিতিতেও, থামে না।
Verse 74
एवं पञ्चविधं लिङ्गं त्रिवृत् षोडश विस्तृतम् । एष चेतनया युक्तो जीव इत्यभिधीयते ॥ ७४ ॥
পাঁচ বিষয়, পাঁচ কর্মেন্দ্রিয়, পাঁচ জ্ঞানেন্দ্রিয় ও মন—এই ষোলোটি ভৌতিক বিস্তার; ত্রিগুণে আবৃত হয়ে চেতনার সঙ্গে যুক্ত হলে তাকেই বদ্ধ জীব বলা হয়।
Verse 75
अनेन पुरुषो देहानुपादत्ते विमुञ्चति । हर्षं शोकं भयं दु:खं सुखं चानेन विन्दति ॥ ७५ ॥
এই সূক্ষ্ম-লিঙ্গ (সূক্ষ্ম দেহ) দ্বারাই জীব স্থূল দেহ গ্রহণ করে ও ত্যাগ করে; এবং এর দ্বারাই সে হর্ষ, শোক, ভয়, দুঃখ ও সুখ অনুভব করে।
Verse 76
यथा तृणजलूकेयं नापयात्यपयाति च । न त्यजेन्म्रियमाणोऽपि प्राग्देहाभिमतिं जन: ॥ ७६ ॥ यावदन्यं न विन्देत व्यवधानेन कर्मणाम् । मन एव मनुष्येन्द्र भूतानां भवभावनम् ॥ ७७ ॥
যেমন তৃণজলূকা (শুঁয়োপোকা) এক পাতা না ধরে অন্য পাতায় যায় না, তেমনই জীব পূর্বকর্মানুসারে অন্য দেহ না পেলে বর্তমান দেহাভিমান ত্যাগ করে না, মৃত্যুকালেও।
Verse 77
यथा तृणजलूकेयं नापयात्यपयाति च । न त्यजेन्म्रियमाणोऽपि प्राग्देहाभिमतिं जन: ॥ ७६ ॥ यावदन्यं न विन्देत व्यवधानेन कर्मणाम् । मन एव मनुष्येन्द्र भूतानां भवभावनम् ॥ ७७ ॥
হে নরেন্দ্র! কর্মের ধারাবাহিকতায় যতক্ষণ না জীব অন্য দেহ লাভ করে, ততক্ষণ মনই সকল জীবের ভব-ভাবনার কারণ ও সকল বাসনার আশ্রয়।
Verse 78
यदाक्षैश्चरितान् ध्यायन् कर्माण्याचिनुतेऽसकृत् । सति कर्मण्यविद्यायां बन्ध: कर्मण्यनात्मन: ॥ ७८ ॥
ইন্দ্রিয়ের ভোগ্য বিষয়গুলি বারবার ধ্যান করতে করতে মানুষ বারবার কর্ম সঞ্চয় করে। অবিদ্যাযুক্ত কর্মেই বন্ধন; অনাত্ম-ভাবের কর্মেই শৃঙ্খল।
Verse 79
अतस्तदपवादार्थं भज सर्वात्मना हरिम् । पश्यंस्तदात्मकं विश्वं स्थित्युत्पत्त्यप्यया यत: ॥ ७९ ॥
অতএব সেই বন্ধন নিবারণের জন্য সর্বাত্মভাবে হরির ভজন কর। কারণ তাঁর ইচ্ছাতেই বিশ্ব সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয় লাভ করে; তাই বিশ্বকে তাঁর আত্মরূপে ব্যাপ্ত দেখে জ্ঞানী হও।
Verse 80
मैत्रेय उवाच भागवतमुख्यो भगवान्नारदो हंसयोर्गतिम् । प्रदर्श्य ह्यमुमामन्त्र्य सिद्धलोकं ततोऽगमत् ॥ ८० ॥
মৈত্রেয় বললেন—শ্রেষ্ঠ ভাগবত ভগবান নারদ হংসযোগের গতি প্রদর্শন করে রাজাকে আমন্ত্রণ জানালেন; তারপর তিনি সিদ্ধলোকে গমন করলেন।
Verse 81
प्राचीनबर्ही राजर्षि: प्रजासर्गाभिरक्षणे । आदिश्य पुत्रानगमत्तपसे कपिलाश्रमम् ॥ ८१ ॥
মন্ত্রীদের সম্মুখে রাজর্ষি প্রাচীনবর্হি পুত্রদের প্রজা-রক্ষার আদেশ দিয়ে গৃহ ত্যাগ করে তপস্যার জন্য কপিলাশ্রমে গেলেন।
Verse 82
तत्रैकाग्रमना धीरो गोविन्दचरणाम्बुजम् । विमुक्तसङ्गोऽनुभजन् भक्त्या तत्साम्यतामगात् ॥ ८२ ॥
কপিলাশ্রমে ধীর প্রাচীনবর্হি একাগ্রচিত্তে গোবিন্দের চরণকমলে ভক্তিসহ নিরন্তর সেবা করলেন; আসক্তিমুক্ত হয়ে তিনি মুক্তি লাভ করে ভগবানের সদৃশ গুণগত অবস্থায় পৌঁছালেন।
Verse 83
एतदध्यात्मपारोक्ष्यं गीतं देवर्षिणानघ । य: श्रावयेद्य: शृणुयात्स लिङ्गेन विमुच्यते ॥ ८३ ॥
হে নিষ্পাপ বিদুর! দেবর্ষি নারদ গীত এই অধ্যাত্ম-পরোক্ষ জ্ঞান যে শোনে বা অন্যকে শোনায়, সে দেহাভিমানরূপ লিঙ্গ থেকে মুক্ত হয়।
Verse 84
एतन्मुकुन्दयशसा भुवनं पुनानं देवर्षिवर्यमुखनि:सृतमात्मशौचम् । य: कीर्त्यमानमधिगच्छति पारमेष्ठ्यं नास्मिन् भवे भ्रमति मुक्तसमस्तबन्ध: ॥ ८४ ॥
দেবর্ষিশ্রেষ্ঠ নারদের মুখনিঃসৃত এই কাহিনি মুকুন্দের যশে পরিপূর্ণ; তা জগতকে পবিত্র করে ও অন্তঃকরণ শোধন করে। যে ভক্তিভরে এর কীর্তন-শ্রবণ করে, সে পরম পদ লাভ করে; সর্ববন্ধনমুক্ত হয়ে আর এই সংসারে ভ্রমণ করে না।
Verse 85
अध्यात्मपारोक्ष्यमिदं मयाधिगतमद्भुतम् । एवं स्त्रियाश्रम: पुंसश्छिन्नोऽमुत्र च संशय: ॥ ८५ ॥
এই আশ্চর্য অধ্যাত্ম-পরোক্ষ জ্ঞান আমি আমার গুরুর কাছ থেকে শুনেছি। যে এই উপাখ্যানের উদ্দেশ্য বোঝে, সে দেহাভিমান থেকে মুক্ত হয়ে মৃত্যুর পরের জীবন স্পষ্টভাবে জানে; আত্মার গমনাগমনের তত্ত্বও এই কাহিনি অধ্যয়নে সুস্পষ্ট হয়।
Purañjana represents the jīva (living entity) who enters and ‘enjoys’ within material bodies while identifying as the doer and enjoyer. His wanderings across one-legged, two-legged, four-legged, many-legged, or legless forms illustrate transmigration driven by karma and guṇa-association. The allegory is meant to expose how the self becomes bound by sense-centered life and how that bondage can be ended by turning toward the Supreme Lord.
The ‘unknown friend’ is the Supreme Personality of Godhead as Paramātmā—master, witness, and eternal well-wisher of the jīva. He is ‘unknown’ to the conditioned soul because material naming, qualities, and activities cannot capture Him, and because the jīva—absorbed in “I” and “mine”—fails to recognize the Lord’s guiding presence within the heart.
The nine gates are the body’s outlets of interaction: two eyes, two nostrils, two ears, mouth, genitals, and rectum. Nārada correlates these with sensory objects and functions (seeing form, smelling aroma, hearing instruction, tasting/speaking, sex, and evacuation), showing how embodied life becomes a network of sense engagements that reinforces identification with the body.
Nārada explains that actions are performed in the gross body but are impelled and recorded by the subtle body (mind, intelligence, and ego). When the gross body is lost, the subtle body persists and carries impressions (saṁskāras), desires, and karmic momentum, thereby enabling the jīva to enjoy or suffer reactions in a new gross body—much like the continuity seen in dreaming and waking transitions.
The criticism is not of the Veda itself but of mistaking ritual and fruitive elevation as the ultimate goal. Nārada argues that activities ‘manufactured’ without Kṛṣṇa consciousness merely shift burdens rather than end bondage. The Vedas’ purpose is to lead one to the Lord (Vāsudeva); when rituals foster pride or violence (e.g., animal sacrifice as prestige), they obscure the real telos—bhakti and inner awakening.