
স্কন্দ বলেন, কালের প্রবল প্রভাবে ধর্মের বিপর্যয় দেখা দিল। তখন ত্রিলোক থেকে শ্রী—সমৃদ্ধি—সরে গেল, দেবলোকও যেন ম্লান হয়ে পড়ল। অন্ন, ঔষধ, দুগ্ধ, ধনরত্ন ও সুখসামগ্রীর ক্ষয়ে দুর্ভিক্ষ নেমে আসে, সমাজে বিশৃঙ্খলা বাড়ে। ক্ষুধার তাড়নায় বহু প্রাণী পশুহত্যা করে মাংস ভক্ষণ করতে থাকে; কিন্তু কিছু সদ্ধর্মনিষ্ঠ মুনি মৃত্যুমুখেও এমন আহার গ্রহণ করেন না। বৃদ্ধ ঋষিরা বেদ-উদ্ধৃতি দিয়ে “আপদ্ধর্ম” শেখান, কিন্তু কাহিনি দেখায় কীভাবে অর্থভ্রান্তি ঘটে—অস্পষ্ট শব্দ ও পরোক্ষ বৈদিক ভাষা আক্ষরিকভাবে ধরা হলে হিংসাত্মক যজ্ঞ স্বাভাবিক বলে প্রতিষ্ঠা পায়। পশুবলি বৃদ্ধি পায়, “মহাযাগ” প্রভৃতি প্রতীকী বৃহৎ ক্রিয়াও চলতে থাকে; যজ্ঞশিষ্টকে খাদ্যের যুক্তি করা হয়, আর উদ্দেশ্য ধন, গৃহস্থ-স্বার্থ ও টিকে থাকার দিকে সরে যায়। এর পরিণামে সামাজিক নিয়ম ক্ষয় হয়, দারিদ্র্য ও বিপর্যয়ে মিশ্র বিবাহ বাড়ে, অধর্ম বিস্তার লাভ করে; এবং পরবর্তীকালে কিছু গ্রন্থ পরম্পরার নামে এই সংকট-নীতিকেই প্রামাণ্য বলে মান্য করে। দীর্ঘ সময় পরে দেবরাজ বাসুদেবের আরাধনায় পুনরায় শ্রী লাভ করেন; হরির কৃপায় সদ্ধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়, যদিও কেউ কেউ পুরনো জরুরি বিধানকেই অগ্রাধিকার দেয়। কাহিনি শেষে বোঝায়—হিংসাত্মক যজ্ঞের প্রসার ছিল দুর্যোগ-নির্ভর, পরিস্থিতিজনিত ইতিহাস।
No shlokas available for this adhyaya yet.