
অধ্যায় ৬-এ সাৱর্ণি স্কন্দকে জিজ্ঞাসা করেন—রাজা মহান্ বসু কীভাবে পৃথিবী/পাতালে পতিত হলেন, তাঁর শাপ ও মুক্তির কারণ কী। স্কন্দ পূর্বকথা বলেন—ইন্দ্র (বিশ্বজিত নামে) অশ্বমেধ-সদৃশ মহাযজ্ঞ শুরু করেন; সেখানে বহু পশু বাঁধা থাকে এবং আর্তনাদ করে। তখন দীপ্তিমান ঋষিগণ এসে সম্মান গ্রহণ করেও যজ্ঞে নিহিত হিংসা দেখে বিস্মিত ও করুণ হয়ে দেবতাদের ধর্মোপদেশ দেন। ঋষিরা বলেন, সনাতনধর্মে অহিংসাই শ্রেষ্ঠ নীতি; বেদের উদ্দেশ্য পশুবধ নয়, বরং ধর্মের ‘চার পা’ প্রতিষ্ঠা করা, হিংসায় তাকে ভাঙা নয়। রজ-তমসপ্রবণ ভুল ব্যাখ্যার সমালোচনা করে তাঁরা জানান—‘অজ’ শব্দকে কেবল ‘ছাগল’ ধরে বধ করা বেদের তাত্পর্য নয়; তা বীজ/ঔষধি প্রভৃতি প্রযুক্ত অর্থেও গ্রহণীয়। সাত্ত্বিক দেবগণ বিষ্ণুর অনুগত; বিষ্ণুপূজার সঙ্গে অহিংস যজ্ঞই যথাযথ—এ কথাও তাঁরা জোর দিয়ে বলেন। কিন্তু দেবতারা ঋষিদের কর্তৃত্ব মানতে চান না; অহংকার, ক্রোধ ও মোহে অধর্মের ফাঁকফোকর বাড়ে। তখন রাজোপচারিচর বসু উপস্থিত হন; দেব ও ঋষি তাঁকে বিচার করতে বলেন—যজ্ঞ পশু দিয়ে হবে, না শস্য-ঔষধি দিয়ে। দেবদের ইচ্ছা জেনে বসু পশুবলির পক্ষ নেন; এই বাক্যদোষে তিনি আকাশ থেকে পতিত হয়ে পৃথিবীতে প্রবেশ করেন, তবু নারায়ণাশ্রয়ে স্মৃতি অটুট থাকে। হিংসার ফলভয়ে দেবতারা পশু ছেড়ে চলে যায়, ঋষিরা আশ্রমে ফেরেন; অধ্যায়টি শাস্ত্রব্যাখ্যা, নৈতিক আচার ও কর্তৃত্বপূর্ণ বাক্যের কর্মফল সম্পর্কে সতর্ক দৃষ্টান্ত।
No shlokas available for this adhyaya yet.