Adhyaya 3
Vishnu KhandaVasudeva MahatmyaAdhyaya 3

Adhyaya 3

অধ্যায় ৩‑এ নারদের স্তব ও প্রশ্ন দিয়ে তত্ত্বসংলাপ শুরু হয়—যদি বেদ‑পুরাণে বাসুদেবকে নিত্য স্রষ্টা‑নিয়ন্তা বলা হয় এবং সকল বর্ণ‑আশ্রম নানা রূপে তাঁকে পূজা করে, তবে বাসুদেব নিজে পিতা বা দেবতা রূপে কাকে উপাসনা করেন? শ্রীনারায়ণ বলেন, বিষয়টি সূক্ষ্ম; উপনিষদীয়ভাবে পরম ব্রহ্মকে ‘সত্য‑জ্ঞান‑অনন্ত’, ত্রিগুণাতীত বলে সেই এক পরম পুরুষকেই মহাপুরুষ, বাসুদেব, নারায়ণ, বিষ্ণু ও কৃষ্ণ নামে প্রকাশিত ঘোষণা করেন। তিনি লোক‑মর্যাদা স্থির করে বলেন—দৈব ও পিতৃকর্ম পালনীয়, কিন্তু তাদের চূড়ান্ত নিবেদনও সেই এক প্রভুর প্রতিই, যিনি সকলের আত্মা। এরপর বৈদিক কর্মকে দুই ভাগে দেখানো হয়—প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তি। প্রবৃত্তিতে বিবাহ, ধর্ম্য অর্থার্জন, কাম্য যজ্ঞ, জনকল্যাণমূলক কর্ম ইত্যাদি; ফল স্বর্গাদি সীমিত, পুণ্যক্ষয়ে পুনরাগমন। নিবৃত্তিতে সন্ন্যাস, সংযম, তপস্যা এবং ব্রহ্ম‑যোগ‑জ্ঞান‑জপ প্রভৃতি উচ্চ যজ্ঞ; এতে ত্রিলোকাতীত উচ্চ লোক লাভ হয়, তবু প্রলয়ে সেগুলিও ক্ষয়প্রাপ্ত। মূল সিদ্ধান্ত—গুণময় কর্মও যদি ‘বিষ্ণু‑সম্বন্ধে’, অর্থাৎ ভগবানে সমর্পিত হয়ে করা হয়, তবে তা নির্গুণ হয়ে অক্ষয় ফল দেয় এবং শেষে ভগবদ্ধামে পৌঁছায়। প্রবৃত্তির উদাহরণ প্রজাপতি, দেবতা ও ঋষিগণ; নিবৃত্তির উদাহরণ সনকাদি ও নৈষ্ঠিক মুনিগণ—সবাই নিজ নিজ শাস্ত্রাচারে সেই এক প্রভুকেই আরাধনা করেন। অধ্যায়ের শেষে ভগবানের সৌলভ্য বলা হয়—ভক্তিসহ ক্ষুদ্র কর্মও মহৎ ও স্থায়ী ফল দেয়; একান্ত ভক্তরা দিব্য সেবায় অধিষ্ঠিত হন, এবং তাঁর সঙ্গে সত্য সম্পর্ক সংসারবন্ধন রোধ করে কর্মযোগ‑জ্ঞানযোগে সাফল্য দান করে।

Shlokas

No shlokas available for this adhyaya yet.