
এই অধ্যায়ে হরির (রাধা-কৃষ্ণসহ) মহাপূজার ধাপে ধাপে বিধান বর্ণিত। প্রথমে মানসিক শ্রদ্ধা ও পূজা, তারপর আবাহন ও প্রতিমায় স্থাপন, এবং অঙ্গ-দেবতাদের আহ্বান করা হয়। এরপর ঘণ্টা-বাদ্যের মঙ্গলধ্বনি, পাদ্য-অর্ঘ্য-আচমন প্রভৃতি অতিথি-সেবার মতো উপাচার এবং অর্ঘ্যদ্রব্য প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। তারপর স্নানবিধি—সুগন্ধি জল, তেলমর্দন, উড্বর্তন এবং পঞ্চামৃতাভিষেক (দুধ, দই, ঘি, মধু, শর্করা) মন্ত্রসহ; সঙ্গে শ্রীসূক্ত, বিষ্ণুসূক্ত ইত্যাদি বৈদিক/পুরাণিক স্তোত্র ও মহাপুরুষ-বিদ্যার পাঠ। বস্ত্র, যজ্ঞোপবীত, অলংকার, ঋতু-তিলক, পুষ্প-তুলসী দ্বারা নামোচ্চারণপূর্বক অর্চনা, ধূপ-দীপ, নানা মহানৈবেদ্য (খাদ্যতালিকা সহ), জলার্পণ, হস্তপ্রক্ষালন, নির্মাল্য-ব্যবস্থা, তাম্বূল, ফল, দক্ষিণা ও সঙ্গীতসহ আরতি নির্দিষ্ট। শেষে স্তব, কীর্তন, নৃত্য, প্রদক্ষিণা ও প্রণাম (অষ্টাঙ্গ/পঞ্চাঙ্গ, নারী-পুরুষভেদে) দ্বারা পূজা সম্পন্ন হয়। সংসার-রক্ষা প্রার্থনা, নিত্য স্বাধ্যায়, আবাহিত রূপের বিসর্জন ও বিগ্রহ-শয়নও বলা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বিষ্ণুর পার্ষদত্ব/সান্নিধ্য, গোলোকপ্রাপ্তি এবং কাম্যভাবেও পূজায় ধর্ম-কাম-অর্থ-মোক্ষ লাভের কথা আছে; মন্দিরনির্মাণ ও পূজাব্যবস্থার দানে বিশেষ পুণ্য, যজমান-পুরোহিত-সহায়ক-অনুমোদকের যৌথ কর্মফল, এবং পূজার দান অপহরণের নিন্দা করা হয়েছে। একাগ্রতা না থাকলে বাহ্য আচার ফলহীন হয়, এবং হরিপূজা ছাড়া বিদ্বান তপস্বীরও সিদ্ধি হয় না—এ কথাও জোর দিয়ে বলা হয়েছে।
No shlokas available for this adhyaya yet.