
এই অধ্যায়ে শ্রীনারায়ণ মুনিকে বৈরাগ্যের লক্ষণ বোঝান—নশ্বর বিষয়ের প্রতি দীর্ঘস্থায়ী অনাসক্তি। প্রত্যক্ষ, অনুমান ও শাস্ত্রপ্রমাণের দ্বারা তিনি স্থির করেন যে শর্তাধীন রূপ-রসাদি অবিশ্বাস্য; দেহ-জগত সর্বদা পরিবর্তনশীল এবং দুঃখের পুনরাবৃত্তি ঘটায়। এরপর কালের দ্বারা পরিচালিত প্রলয়ের চার প্রকার ব্যাখ্যা করা হয়—(১) দেহের পরিবর্তন ও নিত্য ক্ষয়ের মধ্যে দৃশ্য ‘দৈনন্দিন/নিত্য’ প্রলয়, (২) ব্রহ্মার দিন-রাত্রি চক্রসংলগ্ন নৈমিত্তিক প্রলয়, যেখানে চৌদ্দ মনুর ক্রম, লোকশোষণ, প্রলয়াগ্নি ও পরে মহাপ্লাবন ঘটে, (৩) প্রাকৃতিক প্রলয়—তত্ত্ব ও ইন্দ্রিয়সমূহের ধাপে ধাপে প্রকৃতিতে লয়, এবং (৪) আত্যন্তিক প্রলয়—মায়া, পুরুষ ও কালও অক্ষরে লীন হয়ে কেবল এক পরমেশ্বর অবশিষ্ট থাকেন। এই অনিত্যতা প্রতিষ্ঠার পর সাধনার উপদেশ আসে—বাসুদেবে একান্ত ভক্তির সংজ্ঞা, নবধা ভক্তি (শ্রবণাদি) গণনা, এবং মুক্তিমুখী ‘একান্তিক ধর্ম’কে সর্বোত্তম বলা হয়। শেষে বাসুদেব-নামের মহিমা দৃঢ়ভাবে ঘোষিত—অপূর্ণ উচ্চারণেও নামস্মরণ পরিত্রাণদায়ক ফল প্রদান করে।
No shlokas available for this adhyaya yet.