Adhyaya 24
Vishnu KhandaVasudeva MahatmyaAdhyaya 24

Adhyaya 24

নারায়ণ ‘জ্ঞান’-এর স্বরূপ নির্ধারণ করেন—যে বিবেকবুদ্ধির দ্বারা ক্ষেত্র (দেহ-প্রকৃতি) ও সংশ্লিষ্ট তত্ত্বসমূহ যথার্থভাবে জানা যায়। এরপর বাসুদেবকে পরম ব্রহ্ম রূপে স্থাপন করা হয়—আদি অবস্থায় এক, অদ্বিতীয়, নির্গুণ; পরে কালশক্তিসহ মায়ার উদ্ভব ও আন্দোলনে অসংখ্য ব্রহ্মাণ্ড জন্মায়। এক ব্রহ্মাণ্ডে মহৎ, অহংকার ও ত্রিগুণ-বিন্যাস থেকে তন্মাত্রা, মহাভূত, ইন্দ্রিয় এবং দেবতাস্বরূপ কার্য প্রকাশ পায়; এদের সমষ্টিই বিরাট দেহ, যা স্থাবর-জঙ্গম জগতের আধার। বিরাট থেকে ব্রহ্মা (রজঃ), বিষ্ণু (সত্ত্ব) ও হর (তমঃ) এবং তাঁদের শক্তি—দুর্গা, সাবিত্রী ও শ্রী—প্রকাশিত হন; তাঁদের অংশরূপ নানা ভাবে বিস্তার লাভ করে। একমাত্র মহাসাগরের মধ্যে পদ্মাসনে বসা ব্রহ্মা প্রথমে বিভ্রান্ত হন; ‘তপো তপো’—এই অদৃশ্য আদেশে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তপস্যা করে তিনি বৈকুণ্ঠ দর্শন লাভ করেন, যেখানে গুণের বন্ধন ও মায়াভয় নেই। সেখানে তিনি চতুর্ভুজ বাসুদেবকে দিব্য পার্ষদসহ দর্শন করেন, প্রজাবিসর্গ-শক্তির বর পান এবং বিরাট-ভাব স্মরণে রেখে সৃষ্টি করতে নির্দেশিত হন। তারপর ব্রহ্মা ঋষি, ক্রোধজাত রুদ্রের আবির্ভাব, প্রজাপতি, বেদ, বর্ণাশ্রম, জীব ও লোকসমূহের বিন্যাস করেন এবং দেব, পিতৃ প্রভৃতির জন্য হবি/কব্য ইত্যাদির যথোচিত বিভাগ স্থির করেন। অধ্যায়ের শেষে বলা হয়—কল্পভেদে সৃষ্টির রূপান্তর ঘটে, সীমা ভঙ্গ হলে বাসুদেব অবতার নিয়ে ধর্ম-ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করেন, এবং ক্ষেত্র-ক্ষেত্রজ্ঞ, প্রকৃতি-পুরুষ, মায়া, কালশক্তি, অক্ষর ও পরমাত্মার লক্ষণ-বিবেকই প্রকৃত ‘জ্ঞান’।

Shlokas

No shlokas available for this adhyaya yet.