Adhyaya 23
Vishnu KhandaVasudeva MahatmyaAdhyaya 23

Adhyaya 23

এই অধ্যায়ে শ্রীনারায়ণ তৃতীয় ও চতুর্থ আশ্রম—বানপ্রস্থ এবং সন্ন্যাস/যতি—ধর্মের বিধান ব্যাখ্যা করেন। বানপ্রস্থকে তৃতীয় জীবনপর্যায় বলে স্থির করে প্রবেশের শর্ত বলা হয়েছে: স্ত্রী যদি আধ্যাত্মিকভাবে উপযুক্ত হন তবে সঙ্গে যাবেন, নচেৎ তাঁর ভরণ‑পোষণ ও রক্ষার ব্যবস্থা করে বনবাস গ্রহণ করতে হবে। এরপর বনবাসীর তপস্যা ও জীবনযাপন—নির্ভয়তা ও সতর্কতা, সরল আশ্রয়, ঋতুচর্যা (গ্রীষ্মে তাপ‑তপ, শীতে শীত‑সহিষ্ণুতা, বর্ষায় নিয়মিত আচরণ), বাকল/চর্ম/পাতার বস্ত্র, বনজ ফল‑মূল ও ঋষিধান্যে আহার, আহার সংগ্রহ‑রান্নার সময়নিয়ম, এবং প্রয়োজন ছাড়া চাষের অন্ন বর্জনের কথা বিস্তারিত বলা হয়েছে। দণ্ড‑কমণ্ডলু ও অগ্নিহোত্র‑সামগ্রী রক্ষা, অল্প পরিচর্যা, ভূমিশয়ন, এবং দেশ‑কাল‑শরীরবল অনুযায়ী তপস্যা নির্ধারণের নির্দেশও আছে। বানপ্রস্থের চার প্রকার—ফেনপ, ঔদুম্বর, বালখিল্য, বৈখানস—এবং কতকাল পরে সন্ন্যাস গ্রহণ করা উচিত তার বিকল্প দেওয়া হয়েছে; তীব্র বৈরাগ্য হলে তৎক্ষণাৎ সন্ন্যাসও অনুমোদিত। পরে যতি‑ধর্মে অল্প বস্ত্র, নিয়ত ভিক্ষাচরণ, স্বাদাসক্তি ত্যাগ, শুচিতা‑নিয়ম, নিত্য বিষ্ণুপূজা, দ্বাদশাক্ষর/অষ্টাক্ষর মন্ত্রজপ, মিথ্যা বাক্য ও জীবিকার জন্য কাহিনি‑কথন বর্জন, বন্ধন‑মোক্ষ বিষয়ক শাস্ত্র অধ্যয়ন, অপরিগ্রহ (মঠকেও সম্পত্তি না ধরা), এবং অহংকার‑মমতা ত্যাগের কথা বলা হয়েছে। নারী‑সংসর্গ, ধন, অলংকার, সুগন্ধ ও ইন্দ্রিয়লোভ থেকে কঠোর সাবধানতা নির্দেশ করে কাম, লোভ, রসাস্বাদ, স্নেহ, মান, ক্রোধ—এই ছয় দোষকে সংসার‑জনক বলে পরিত্যাজ্য বলা হয়েছে। শেষে ঘোষণা করা হয়েছে—যাঁরা ভক্তিভরে শ্রীবিষ্ণুর প্রতি এই বিধান পালন করেন, তাঁরা দেহান্তে বিষ্ণুলোক লাভ করেন।

Shlokas

No shlokas available for this adhyaya yet.